জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আস সহীহ লি মুসলিম (As-Sahih li Muslim) – 202302, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ মডেল টেস্ট ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৭ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৮০

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲٤ م

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪

الحديث والدراسات الإسلامية (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)

الصحيح لمسلم (আস সহীহ লি মুসলিম)

বিষয় কোড: ২০২৩০২

সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : اجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) [ক অংশ] (মান: ৫ × ১৪ = ৭০)

১ নম্বর প্রশ্ন

حَدَّثَنِيْ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُوْ إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِيْ قِلَابَةَ عَنْ قَبِيْصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَبِيْ سَلَمَةَ وَقَدْ شَقَّ بَصَرُهُ فَأَغْمَضَهُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الرُّوْحَ إِذَا قُبِضَ تَبِعَهُ الْبَصَرُ فَضَجَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِهِ فَقَالَ : لَا تَدْعُوْا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِلَّا بِخَيْرٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُوْنَ عَلَى مَا تَقُوْلُوْنَ، ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِأَبِيْ سَلَمَةَ وَارْفَعْ دَرَجَتَهُ فِي الْمَهْدِيِّيْنَ وَاخْلُفْهُ فِيْ عَقِبِهِ فِي الْغَابِرِيْنَ وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهُ يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ وَافْسَحْ لَهُ فِيْ قَبْرِهِ وَنَوِّرْ لَهُ فِيْهِ –

(أ) هَلْ يَكُوْنُ الْعَذَابُ عَلَى الْجَسَدِ أَمْ عَلَى الرُّوْحِ؟ بَيِّنْ –

(ب) بَيِّنْ شِدَّةَ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ فِيْ ضَوْءِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ –

[১. যুহাইর ইবনে হারব (র.) … উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সালামা (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় স্থির হয়ে গিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চোখ বন্ধ করে দিলেন, অতঃপর বললেন: রুহ যখন কবজ করা হয়, তখন দৃষ্টি তার অনুসরণ করে। এতে পরিবারের লোকেরা কান্নাকাটি ও চিৎকার করতে লাগল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: তোমরা নিজেদের জন্য ভালো দোয়া ছাড়া অন্য কিছু বলো না; কেননা তোমরা যা বল ফিরিশতাগণ তাতে আমিন বলেন। অতঃপর তিনি দোয়া করলেন: হে আল্লাহ! আপনি আবু সালামাকে ক্ষমা করে দিন, হেদায়েতপ্রাপ্তদের মাঝে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তাঁর বংশধরদের জন্য উত্তম অভিভাবক হোন, হে রাব্বুল আলামীন! আমাদের এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত করুন এবং তা আলোকোজ্জ্বল করে দিন।]

[(ক) কবরের আজাব কি দেহের ওপর হয় নাকি রুহের ওপর? বর্ণনা কর।]

[(খ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মৃত্যুর যন্ত্রণার (সাকরাতুল মাউত) তীব্রতা আলোচনা কর।]

(ক) কবরের আজাব দেহ না রুহের ওপর?

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকিদা অনুযায়ী, বারযাখ বা কবরের শান্তি ও শাস্তি মূলত রুহ এবং দেহ উভয়ের ওপর যুগপৎ সংঘটিত হয়:

  1. জমহুর উলামার মত: কবরে সওয়াল-জবাবের সময় মৃতদেহের সাথে রুহের এমন এক বিশেষ নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে দেহ আজাব বা আরামের তীব্র অনুভূতি লাভ করে। এটি পার্থিব জীবনের জৈবিক অনুভূতির চেয়ে ভিন্ন এক পরাবাস্তব অনুভূতি।
  2. ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (র.)-এর বিশ্লেষণ: কবরের মূল আজাব রুহের ওপর ঘটে এবং রুহের মাধ্যমে দেহে তার প্রভাব সঞ্চারিত হয়। কখনো কখনো সরাসরি দেহের ওপরেও আজাব বা শান্তি প্রকাশ পায়। আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত বা পানিতে তলিয়ে যাওয়া মৃতদেহের ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে রুহ ও দেহের অণু-পরমাণুর সংযোগ ঘটিয়ে আজাব দেন।

(খ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সাকরাতুল মাউত

মৃত্যুর অবধারিত মুহূর্ত অত্যন্ত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন: وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ (মৃত্যুর তীব্র যন্ত্রণা নিশ্চিতভাবে এসে গেছে, এ থেকেই তো তুমি পলায়ন করতে চাইতে – সূরা কাফ: ১৯)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর সময় একটি পানির পাত্রে হাত ভিজিয়ে নিজ পবিত্র মুখমণ্ডল মুছে বলতেন: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ (আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই মৃত্যুর রয়েছে তীব্র যন্ত্রণা)। মুমিনের জন্য এ যন্ত্রণা তার অবশিষ্ট গুনাহের কাফফারা ও মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ; আর কাফের ও পাপিষ্ঠের জন্য এটি জাহান্নামের অগ্রিম শাস্তির সূচনা।

২ নম্বর প্রশ্ন

حَدَّثَنَا أَبُوْ بَكْرِ بْنُ أَبِيْ شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ جَمِيْعًا عَنْ أَبِيْ مُعَاوِيَةَ قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ أَبُوْ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيْرِيْنَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ لَمَّا مَاتَتْ زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اِغْسِلْنَهَا وِتْرًا ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا وَاجْعَلْنَ فِي الْخَامِسَةِ كَافُوْرًا أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُوْرٍ فَإِذَا غَسَلْتُنَّهَا فَأَعْلِمْنَنِيْ قَالَ فَأَعْلَمْنَاهُ، فَأَعْطَانَا حَقْوَهُ وَقَالَ ‘أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ’ –

(أ) مَا مَعْنَى الْجَنَازَةِ لُغَةً وَشَرْعًا؟ وَكَيْفَ يُغَسَّلُ الْمَيِّتُ؟ وَضِّحْ –

(ب) اكْتُبْ أَسْمَاءَ أَوْلَادِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ –

[২. আবু বকর ইবনে আবি শায়বা (র.) … উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা যায়নব (রা.) ইন্তেকাল করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন: তোমরা তাকে বেজোড় সংখ্যায় তিনবার বা পাঁচবার গোসল দাও এবং পঞ্চমবারে কিছুটা কর্পূর ব্যবহার কর। যখন গোসল সম্পন্ন করবে তখন আমাকে খবর দিও। আমরা তাঁকে খবর দিলে তিনি তাঁর চাদর (লুঙ্গি) আমাদের দিলেন এবং বললেন: এটি তাঁর গায়ে জড়িয়ে দাও।]

[(ক) জানাজার আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ কী? মৃত ব্যক্তিকে কীভাবে গোসল দিতে হয়? ব্যাখ্যা কর।]

[(খ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানদের নামসমূহ লেখ।]

(ক) জানাজার অর্থ ও মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পদ্ধতি

জানাজা (الجنازة)-এর অর্থ: ‘জীমে’ যবর দিয়ে (জানাজা) অর্থ মৃতদেহ বা লাশ; আর ‘জীমে’ যের দিয়ে (জিনাজা) অর্থ লাশ বহনের খাটিয়া। শরীয়তের পরিভাষায়, মৃত মুসলিম ব্যক্তির কাফন-দাফন ও মাগফিরাতের দোয়ার সমষ্টিকে জানাজা বলে।

গোসল দেওয়ার সুন্নাত পদ্ধতি:

  1. মৃতদেহকে একটি উঁচু তক্তায় রেখে লজ্জাস্থান ঢেকে অন্যান্য পোশাক খুলে নেওয়া।
  2. প্রথমে ইস্তিনজা করিয়ে সাধারণ নামাজের ন্যায় ওযু করানো (তবে মুখে বা নাকে পানি না দিয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে সাফ করা)।
  3. কুলগাছের পাতা মিশ্রিত ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে মাথা ও দাড়ি ধৌত করা।
  4. প্রথমে বাম কাতে শুইয়ে ডান পাশে তিনবার পানি ঢালা, অতঃপর ডান কাতে শুইয়ে বাম পাশে তিনবার পানি ঢালা যাতে সারা দেহে পানি পৌঁছে।
  5. সর্বশেষ ধৌতকরণের পানিতে কিছুটা সুগন্ধি কর্পূর মিশ্রিত করা। সর্বশেষে শুকনো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে কাফন পরানো।

(খ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানগণের নাম

পুত্রসন্তান (৩ জন) কন্যাসন্তান (৪ জন)
১. আল-কাসিম (তাঁর নামানুসারেই রাসুলুল্লাহর উপনাম আবুল কাসিম) ১. যায়নব (রা.) (জ্যেষ্ঠা কন্যা, আবুল আসের স্ত্রী)
২. আব্দুল্লাহ (তাঁর উপাধি ছিল আত-ত্বইয়্যিব ও আত-ত্বাহির) ২. রুকাইয়্যাহ (রা.) (হযরত উসমান রা.-এর প্রথমা স্ত্রী)
৩. ইব্রাহীম (মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভে জন্মগ্রহণকারী কনিষ্ঠ পুত্র) ৩. উম্মে কুলসুম (রা.) (হযরত উসমান রা.-এর দ্বিতীয়া স্ত্রী)
৪. ফাতিমাতুয যাহরা (রা.) (হযরত আলী রা.-এর মহীয়সী স্ত্রী)

(ইব্রাহীম ব্যতীত সকল সন্তানই উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রা.-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন)।

৩ নম্বর প্রশ্ন

عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ (رض) أَنَّهُ قَالَ نَهَانَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَلِبْسَتَيْنِ، نَهَى عَنِ الْمُلَامَسَةِ وَالْمُنَابَذَةِ فِي الْبَيْعِ، وَالْمُلَامَسَةُ لَمْسُ الرَّجُلِ ثَوْبَ الْآخَرِ بِيَدِهِ بِاللَّيْلِ أَوْ بِالنَّهَارِ وَلَا يَقْلِبُهُ إِلَّا بِذٰلِكَ، الْمُنَابَذَةُ أَنْ يَنْبِذَ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ بِثَوْبِهِ وَيَنْبِذَ الْآخَرُ إِلَيْهِ ثَوْبَهُ وَيَكُوْنُ ذٰلِكَ بَيْعَهُمَا عَنْ غَيْرِ نَظَرٍ وَلَا تَرَاضٍ –

(أ) مَا الْمُرَادُ بِـ “بَيْعَتَيْنِ وَلِبْسَتَيْنِ”؟ بَيِّنْ مُوَضَّحًا –

(ب) كَمْ وَجْهًا فِيْ تَأْوِيْلِ الْمُلَامَسَةِ وَالْمُنَابَذَةِ؟ وَمَا هُوَ؟ بَيِّنْ –

[৩. আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দুই ধরনের বেচাকেনা এবং দুই ধরনের পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বেচাকেনায় মুলামাসা ও মুনাবাযা করতে নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হলো এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কাপড়ে দিনে বা রাতে হাত ছোঁয়ায় এবং এভাবেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়, ভালোভাবে উল্টেপাল্টে দেখতে পারে না। আর মুনাবাযা হলো এক ব্যক্তি অপরের দিকে কাপড় ছুঁড়ে মারে এবং অন্যজনও তার দিকে কাপড় ছুঁড়ে দেয়, ভালোভাবে না দেখেই এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ ছাড়াই তা বিক্রয় সম্পন্ন মনে করা হতো।]

[(ক) “বায়য়াতাইনে ওয়া লিবসাতাইনে” দ্বারা কী উদ্দেশ্য? সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]

[(খ) মুলামাসা ও মুনাবাযার ব্যাখ্যায় কয়টি অভিমত রয়েছে এবং সেগুলো কী কী? বর্ণনা কর।]

(ক) বায়য়াতাইনে ও লিবসাতাইনে-এর ব্যাখ্যা

  • বায়য়াতাইন (নিষিদ্ধ দুই বেচাকেনা): জাহেলি যুগের দুই প্রকার ধোঁকাযুক্ত বেচাকেনা—’মুলামাসা’ (শুধুমাত্র কাপড় স্পর্শ করলেই চুক্তি বাধ্যতামূলক হওয়া) এবং ‘মুনাবাযা’ (কাপড় ছুঁড়ে দিলেই চুক্তি পাকা হওয়া)।
  • লিবসাতাইন (নিষিদ্ধ দুই পোশাক পরিধান): (১) ‘ইশতিমালুস সাম্মা’—একটিমাত্র কাপড়ে পুরো শরীর এমনভাবে পেঁচিয়ে ফেলা যাতে হাত বের করার সুযোগ থাকে না এবং লজ্জাস্থান উন্মুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (২) ‘ইহতিবা’—একটিমাত্র চাদর হাঁটু পর্যন্ত পেঁচিয়ে এমনভাবে বসা যার নিচে কোনো বস্ত্র থাকে না এবং সতর প্রকাশ পেয়ে যায়।

(খ) মুলামাসা ও মুনাবাযার ব্যাখ্যায় ফকিহগণের দৃষ্টিভঙ্গি

মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ এর ব্যাখ্যায় দুটি প্রধান রূপ উল্লেখ করেছেন:

  1. প্রথম ব্যাখ্যা (ইমাম শাফেঈ ও মুহাদ্দিসগণের মত): পণ্যের স্পর্শ করা বা ছুঁড়ে দেওয়াকেই ইজাব ও কবুল (চুক্তি সম্পাদন) হিসেবে গণ্য করা হতো; অর্থাৎ স্পর্শ করলেই আর পছন্দ বা অপছন্দের সুযোগ (খিয়ার) থাকত না। এটি বাতিল; কারণ বায় হতে হবে সুস্পষ্ট প্রস্তাব ও সম্মতির মাধ্যমে।
  2. দ্বিতীয় ব্যাখ্যা (ইমাম আবু হানিফা ও হানাফীদের মত): কোনো আবদ্ধ বা লুকানো কাপড়ে হাত দেওয়া বা ছুঁড়ে দেওয়াকে ‘দেখা’র স্থলাভিষিক্ত ধরে নিয়ে দেখার অধিকার (খিয়ারুর রুয়াত) বাতিল করা হতো। এটিও ফাসিদ; কারণ পণ্য না দেখে খিয়ার বাতিল করা যায় না।

৪ নম্বর প্রশ্ন

عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا يَتَلَقَّى الرُّكْبَانَ لِبَيْعٍ وَلَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلَا تَنَاجَشُوْا وَلَا يَبِيْعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَلَا تُصَرُّوا الْإِبِلَ وَالْغَنَمَ فَمَنِ ابْتَاعَهَا بَعْدَ ذٰلِكَ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ بَعْدَ أَنْ يَحْلِبَهَا فَإِنْ رَضِيَهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ سَخِطَهَا رَدَّهَا وَصَاعًا مِنْ تَمْرٍ –

(أ) مَا مَعْنَى تَلَقَّى الرُّكْبَانِ وَبَيْعِ الْحَاضِرِ لِبَادٍ وَالنَّجْشِ؟ بَيِّنْ أَحْكَامَهَا –

(ب) عَرِّفِ الْبَيْعَ الْبَاطِلَ وَالْبَيْعَ الْفَاسِدَ مَعَ بَيَانِ الْفَرْقِ بَيْنَهُمَا –

[৪. আল-আরাজ … আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তোমরা সওদা কেনার উদ্দেশ্যে পথিমধ্যে কাফেলার সাথে অগ্রিম সাক্ষাৎ করতে যেও না, তোমাদের কেউ যেন অপরের বেচাকেনার ওপর দরদাম না করে, কেউ কৃত্রিম দর বাড়ানোর দালালি (নাজাশ) করো না, কোনো শহরবাসী যেন গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে দালালি করে মাল বিক্রি না করে এবং গাভী, উষ্ট্রী বা ছাগলের ওলানে দুধ জমিয়ে ধোঁকা দিও না। যে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে, সে দোহনের পর দুটি বিকল্পের অধিকারী হবে: পছন্দ হলে রেখে দেবে, আর অপছন্দ হলে তা ফেরত দিয়ে সাথে এক সা’ খেজুর প্রদান করবে।]

[(ক) তালাক্কির রুকবান, বায়উল হাদির লি-বাদিন এবং নাজাশ-এর অর্থ কী? এগুলোর শরয়ি বিধান বর্ণনা কর।]

[(খ) বায়ে বাতিল ও বায়ে ফাসিদের পরিচয় দিয়ে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধর।]

(ক) বাণিজ্যিক পরিভাষাত্রয়ের অর্থ ও বিধান

  1. তালাক্কির রুকবান (تلقي الركبان): বাইরে থেকে আসা বাণিজ্যিক কাফেলা বাজারে পৌঁছার আগেই শহরের বাইরে গিয়ে পথিমধ্যে কম মূল্যে তাদের পণ্য কিনে নেওয়া। বিধান: এটি মাকরূহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ; বিক্রেতা বাজারে এসে ঠকেছে বুঝতে পারলে চুক্তি বাতিল করার অধিকার পাবে (খিয়ারুল গবন)।
  2. বায়উল হাদির লি-বাদিন (بيع الحاضر لباد): শহরের মধ্যস্বত্বভোগী দালাল কর্তৃক কোনো গ্রাম্য ব্যবসায়ীকে বলা—তুমি মাল বাজারে সরাসরি কম দামে বিক্রি করো না, আমার কাছে রেখে যাও আমি ধীরে ধীরে চড়া মূল্যে বিক্রি করব। বিধান: এটি নিষিদ্ধ; কারণ এতে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্য মূল্যে খাদ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।
  3. আন-নাজাশ (النجش): নিজে পণ্য কেনার কোনো ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও কেবল ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করে পণ্যের কৃত্রিম দর বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিলামে বেশি দাম হাঁকা। বিধান: নাজাশকারী চরম পাপিষ্ঠ ও অভিশপ্ত।

(খ) বায়ে বাতিল ও বায়ে ফাসিদের পার্থক্য

বায়ে বাতিল: শরীয়তের মূল কাঠামো (রুকন ও বিষয়বস্তু) অবৈধ হওয়ায় যা সম্পূর্ণরূপে অস্তিত্বহীন; যেমন মদের কেনাবেচা। এতে ক্রেতার কোনো স্বত্ব আসে না।

বায়ে ফাসিদ: চুক্তির মূল কাঠামো বৈধ হলেও কোনো অবৈধ শর্ত বা অজ্ঞানতার কারণে ত্রুটিপূর্ণ হওয়া; যেমন পণ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট গুণ গোপন রাখা। এ ক্ষেত্রে অবৈধ শর্ত দূর করলে চুক্তিটি বৈধতায় ফিরে আসে।

৫ নম্বর প্রশ্ন

عَنْ أَبِي جُرَيْجٍ قَالَ أَمْلَى عَلَيَّ نَافِعٌ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ يَقُوْلُ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا تَبَايَعَ الْمُتَبَايِعَانِ بِالْبَيْعِ فَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالْخِيَارِ مِنْ بَيْعِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا أَوْ يَكُوْنَ بَيْعُهُمَا عَنْ خِيَارٍ فَقَدْ وَجَبَ –

(أ) مَا مَعْنَى الْخِيَارِ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ وَمَا هُوَ الْمُرَادُ فِيْ هٰذَا الْمَقَامِ؟ بَيِّنْ –

(ب) تَحَدَّثْ عَنْ أَرْكَانِ الْبَيْعِ وَشُرُوْطِهِ –

[৫. নাফে (র.) … আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যখন ক্রেতা-বিক্রেতা কোনো কেনাবেচায় অংশ নেয়, তখন যতক্ষণ না তারা পরস্পর পৃথক হয় ততক্ষণ উভয়েরই চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের অধিকার (খিয়ার) থাকে; অথবা চুক্তি যদি শর্তযুক্ত অধিকারের (খিয়ারুশ শর্ত) ওপর হয়, তবে চুক্তিটি কার্যকর হয়ে যায়।]

[(ক) খিয়ারের অর্থ কী? এটি কত প্রকার? এখানে কোন খিয়ার উদ্দেশ্য? বর্ণনা কর।]

[(খ) বায়ের রুকনসমূহ ও শর্তাবলি আলোচনা কর।]

(ক) খিয়ার (الخيار)-এর পরিচয়, প্রকারভেদ ও হাদিসের উদ্দেশ্য

খিয়ারের অর্থ: আভিধানিক অর্থে খিয়ার হলো পছন্দ করা বা বেছে নেওয়া। শরীয়তের পরিভাষায়, ক্রেতা বা বিক্রেতার জন্য চুক্তিটি বহাল রাখা অথবা বাতিল করার যে আইনি স্বাধীনতা শরীয়ত প্রদান করে, তাকে খিয়ার বলা হয়।

খিয়ারের প্রকারভেদ: ফিকহে ইসলামিতে খিয়ার প্রধানত সাত প্রকার: (১) খিয়ারুল মজলিস, (২) খিয়ারুশ শর্ত, (৩) খিয়ারুল আইব (ত্রুটিজনিত অধিকার), (৪) খিয়ারুর রুয়াত (না দেখে কেনার পর দেখার অধিকার), (৫) খিয়ারুত তায়য়ীন, (৬) খিয়ারুল গবন, এবং (৭) খিয়ারুল ওয়াসফ।

হাদিসের উদ্দেশ্য: আলোচ্য হাদিসে প্রধানত ‘খিয়ারুল মজলিস’ (বৈঠককালীন চুক্তি বাতিলের স্বাধীনতা) এবং ‘খিয়ারুশ শর্ত’ উদ্দেশ্য। ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদের মতে মজলিস থেকে শারীরিকভাবে পৃথক না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বাতিলের সুযোগ থাকে; তবে হানাফী মতে চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গেলে মজলিসেই তা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়, যদি না শর্তযুক্ত খিয়ার থাকে।

(খ) বায়ের রুকন ও শর্তাবলি

  • বায়ের রুকন: ইজাব (বিক্রেতার প্রস্তাব) এবং কবুল (ক্রেতার সম্মতি)।
  • চুক্তিকারীদের শর্ত: আকল (সুস্থ বিবেক), বালেগ হওয়া এবং উভয়পক্ষের পারস্পরিক পূর্ণ সন্তুষ্টি থাকা (إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُم)।
  • পণ্যের শর্ত: পণ্যটি অস্তিত্বশীল হতে হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মূল্যবান (মালুল মুতাকাওউয়াম) হতে হবে, বিক্রেতার পূর্ণ মালিকানায় থাকতে হবে এবং তাৎক্ষণিক হস্তান্তরে সক্ষম হতে হবে।

৬ নম্বর প্রশ্ন

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ (رض) أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ : إِنَّ اللهَ وَرَسُوْلَهُ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيْرِ وَالْأَصْنَامِ، فَقِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ! أَرَأَيْتَ شُحُوْمَ الْمَيْتَةِ فَإِنَّهَا تُطْلَى بِهَا السُّفُنُ، وَتُدْهَنُ بِهَا الْجُلُوْدُ، وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ؟ فَقَالَ لَا هُوَ حَرَامٌ، ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذٰلِكَ قَاتَلَ اللهُ الْيَهُوْدَ، إِنَّ اللهَ لَمَّا حَرَّمَ عَلَيْهِمْ شُحُوْمَهَا جَمَلُوْهُ ثُمَّ بَاعُوْهُ فَأَكَلُوْا ثَمَنَهُ –

(أ) مَا مَعْنَى الْخَمْرِ لُغَةً وَشَرْعًا؟ بَيِّنْ مَرَاحِلَ تَحْرِيْمِ الْخَمْرِ –

(ب) هَلْ يَجُوْزُ الْاِنْتِفَاعُ بِالْخَمْرِ فِي التَّدَاوِيْ؟ اذْكُرْ أَقْوَالَ الْعُلَمَاءِ فِيْهِ –

[৬. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কায় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল মদ, মৃত প্রাণী, শূকর ও মূর্তির কেনাবেচা হারাম করেছেন। বলা হলো: হে আল্লাহর রাসুল! মৃত পশুর চর্বি সম্পর্কে কী হুকুম? কেননা তা দ্বারা নৌকায় প্রলেপ দেওয়া হয়, চামড়া মসৃণ করা হয় এবং লোকেরা প্রদীপে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে? তিনি বললেন: না, তা হারাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: আল্লাহ ইহুদিদের ধ্বংস করুন! আল্লাহ যখন তাদের ওপর চর্বি হারাম করলেন, তখন তারা তা গলিয়ে তেল বানাল এবং বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করল।]

[(ক) মদের আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ কী? মদ হারাম হওয়ার পর্যায়সমূহ বর্ণনা কর।]

[(খ) চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মদের ব্যবহার কি জায়েয? এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মতামত উল্লেখ কর।]

(ক) মদের পরিচয় ও হারাম হওয়ার ধারাবাহিক পর্যায়সমূহ

মদের পরিচয়: আভিধানিক অর্থে ‘খমর’ (الخمر) হলো যা কোনো কিছুকে ঢেকে ফেলে বা আচ্ছন্ন করে। শরীয়তের পরিভাষায়, যে পানীয় মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন ও মাতাল করে তোলে তাকে খমর বা মদ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: كل مسكر خمر وكل خمر حرام (প্রত্যেক মাদকদ্রব্যই মদ এবং সকল প্রকার মদই হারাম)।

মদ হারাম হওয়ার ৪টি পর্যায়:

  1. প্রথম পর্যায়: সূক্ষ্ম সতর্কীকরণ (تَتَّخِذُونَ مِنْهُ سَكَرًا وَرِزْقًا حَسَنًا)—নেশাজাতীয় পানীয়কে উত্তম রিজিক থেকে আলাদা হিসেবে উল্লেখ করা।
  2. দ্বিতীয় পর্যায়: পাপের আধিক্য ঘোষণা (قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا)—এর অপকারিতা উপকারের চেয়ে অনেক বেশি বলা।
  3. তৃতীয় পর্যায়: সালাতের সময় নিষিদ্ধকরণ (لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنتُمْ سُكَارَىٰ)—মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
  4. চতুর্থ পর্যায়: চূড়ান্ত ও সার্বিক হারাম ঘোষণা (إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ – সূরা মায়িদাহ: ৯০)—মদকে শয়তানের অপবিত্র কাজ আখ্যা দিয়ে চিরতরে হারাম ও বর্জনের নির্দেশ।

(খ) চিকিৎসায় মদের ব্যবহার সংক্রান্ত উলামায়ে কেরামের মত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ইরশাদ করেছেন: إنه ليس بدواء ولكنه داء অর্থাৎ “মদ কোনো ওষুধ নয়, বরং এটি স্বয়ং একটি ব্যাধি।”

  • জমহুর উলামার মত: রোগ নিরাময়ে মদ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ হারাম বস্তুর মধ্যে মানুষের কোনো শিফা বা আরোগ্য রাখেননি।
  • জরুরি অপারগতার শর্তে ব্যতিক্রম: যদি কোনো মুসলিম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য হালাল কোনো বিকল্প একেবারেই না থাকে, কেবল তখনই জীবন রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পরিমিত পরিমাণে ক্ষতিকারক উপাদানমুক্ত ব্যবহার মুবাহ হতে পারে।

৭ নম্বর প্রশ্ন

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ (رض) أَنَّهُ قَالَ لِمَرْوَانَ : أَحْلَلْتَ بَيْعَ الرِّبَا؟ فَقَالَ مَرْوَانُ : مَا فَعَلْتُ، فَقَالَ أَبُوْ هُرَيْرَةَ (رض) أَحْلَلْتَ بَيْعَ الصِّكَاكِ وَقَدْ نَهَى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الطَّعَامِ حَتَّى يُسْتَوْفَى فَخَطَبَ مَرْوَانُ النَّاسَ فَنَهَى عَنْ بَيْعِهَا قَالَ سُلَيْمَانُ فَنَظَرْتُ إِلَى حَرَسٍ يَأْخُذُوْنَهَا مِنْ أَيْدِي النَّاسِ –

(أ) اشْرَحْ قَوْلَهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ “أَنَّهُ قَالَ لِمَرْوَانَ : أَحْلَلْتَ بَيْعَ الرِّبَا”؟

(ب) مَا مَعْنَى الصِّكَاكِ لُغَةً وَشَرْعًا؟ وَمَا الْاِخْتِلَافُ فِي بَيْعِ الصِّكَاكِ؟ بَيِّنْ مُفَصَّلًا –

[৭. সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রা.) মারওয়ানকে বললেন: আপনি কি সুদি কারবার হালাল করে দিলেন? মারওয়ান বললেন: আমি তা করিনি। আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: আপনি যে রসিদের বেচাকেনা (বায়উস সিকাক) বৈধ করেছেন! অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদ্য পুরোপুরি হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর মারওয়ান লোকজনকে ডেকে তা বিক্রি করতে নিষেধ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি দেখলাম প্রহরীরা মানুষের হাত থেকে সেই রসিদগুলো বাজেয়াপ্ত করছে।]

[(ক) আবু হুরায়রা (রা.)-এর উক্তি: “আপনি কি সুদি কারবার হালাল করলেন?”—এর ব্যাখ্যা দাও।]

[(খ) সিকাকের আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ কী? বায়উস সিকাকের বিধানে মতপার্থক্য বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

(ক) “আপনি কি সুদ হালাল করলেন?” উক্তির ব্যাখ্যা

উমাইয়া খলিফা মারওয়ানের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের রসিদ (সুকূক) জনগণের মাঝে বিতরণ করা হতো। জনগণ সেই বরাদ্দকৃত খাদ্য গুদাম থেকে মেপে নিজের কবজায় নেওয়ার আগেই রসিদটি অন্যের কাছে কম মূল্যে নগদে বিক্রি করে দিত। আবু হুরায়রা (রা.) এটিকে কঠোরভাবে সুদের সাথে তুলনা করেছেন; কারণ খাদ্য হস্তান্তরহীন রেখে কম-বেশিতে টাকার লেনদেন মূলত সুদেরই (রিবা) একটি রূপান্তর।

(খ) সিকাকের অর্থ ও বায়ে সিকাকের শরয়ি বিধান

সিকাক (الصكاك): এটি ‘সাক্কুন’ (صك)-এর বহুবচন; যার অর্থ সিলমোহরকৃত রসিদ, লিখিত চেক বা সরকারি বরাদ্দপত্র।

বায়উস সিকাকের বিধান:

  • খাদ্যশস্যের রসিদ হলে: সকল ফকিহগণের মতে খাদ্যদ্রব্য নিজ আয়ত্তে আনার পূর্বে কেবল কাগজ বা রসিদ বিক্রি করা নাজায়েয ও বাতিল।
  • আধুনিক সুকূক বা শরিয়াহ বন্ড: যদি সুকূক কোনো বাস্তব সম্পদের মালিকানা নির্দেশ করে এবং শরীয়তের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পদের ঝুঁকি ক্রেতার ওপর বর্তায়, তবে নির্দিষ্ট শর্তে আধুনিক সুকূক লেনদেন বৈধ হতে পারে। কিন্তু নিছক ঋণের কাগজের কম দামে বাট্টাকরণ (Discounting) সুদ হিসেবে নিষিদ্ধ।

৮ নম্বর প্রশ্ন

عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيْجٍ (رض) عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيْثٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيْثٌ وَكَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيْثٌ – وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ (رض) أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَهُ –

(أ) الْحَدِيْثُ الْأَوَّلُ يُخَالِفُ الثَّانِيَ – فَكَيْفَ التَّوْفِيْقُ بَيْنَهُمَا؟

(ب) مَاذَا قَالَ الْعُلَمَاءُ فِي ثَمَنِ الْكَلْبِ؟ بَيِّنْ –

[৮. রাফে ইবনে খাদীজ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: কুকুরের মূল্য অপবিত্র, ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক অপবিত্র এবং রক্তমোক্ষণকারীর (শিংগা লাগানো) উপার্জন অপবিত্র। আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিংগা লাগিয়েছিলেন এবং শিংগাকারীকে তার পারিশ্রমিক প্রদান করেছিলেন।]

[(ক) প্রথম হাদিসটির সাথে দ্বিতীয় হাদিসের আপাত বৈপরীত্য কীভাবে দূর করবে? সমন্বয় কর।]

[(খ) কুকুরের মূল্যের ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম কী বলেছেন? বর্ণনা কর।]

(ক) দুটি হাদিসের মধ্যকার আপাত বৈপরীত্য নিরসন ও সমন্বয়

প্রথম হাদিসে শিংগাকারীর উপার্জনকে ‘খবিস’ (নিকৃষ্ট বা অপবিত্র) বলা হয়েছে, পক্ষান্তরে দ্বিতীয় হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে শিংগাকারীকে পারিশ্রমিক দিয়েছেন। এর সমন্বয় নিম্নরূপ:

  1. ‘খবিস’ শব্দের অর্থ হারাম নয়: আরবি ভাষায় ‘খবিস’ শব্দটি কখনো কখনো হারাম অর্থে আসে (যেমন ব্যভিচারিণীর অর্থ), আবার কখনো নিম্নমানের বা অনুত্তম কাজের ক্ষেত্রে আসে। শিংগা লাগানোর পেশাটি রক্ত ও ময়লার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় ভদ্রোচিত রুচির বিপরীত হিসেবে এটিকে ‘খবিস’ বলা হয়েছে, হারাম অর্থে নয়।
  2. উপার্জন হালাল কিন্তু অনুত্তম: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে পারিশ্রমিক দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে এই পারিশ্রমিক নেওয়া সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ; তবে এটি পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার চেয়ে অন্যান্য উন্নত পেশা বেছে নেওয়া উত্তম।

(খ) কুকুরের মূল্যের ব্যাপারে ফকিহগণের অভিমত

  • জমহুর উলামার মত (ইমাম শাফেঈ, মালেক ও আহমদ): কোনো কুকুরের বেচাকেনা এবং তার মূল্য গ্রহণ করা বৈধ নয়। হাদিসে কুকুরের মূল্যকে সুস্পষ্ট খবিস বলা হয়েছে।
  • হানাফী মাযহাবের মত: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিকারী কুকুর এবং বাড়ি বা পাহারার কাজে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কুকুর ক্রয়-বিক্রয় করা এবং তার মূল্য গ্রহণ করা বৈধ; কেননা শরীয়ত এগুলোকে মানুষের সেবায় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। তবে সাধারণ অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর কুকুরের লেনদেন নাজায়েয।

مجموعة (ب) [খ অংশ] (মান: ১ × ১০ = ১০)

৯ নম্বর প্রশ্ন

اكْتُبْ تَرْجَمَةَ الْإِمَامِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ الْقُشَيْرِيِّ ثُمَّ اكْتُبْ خِدْمَاتِهِ فِي عِلْمِ الْحَدِيْثِ –

[৯. ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী (র.)-এর জীবনচরিত লেখ এবং ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান আলোচনা কর।]

ইমাম মুসলিম (র.)-এর জীবনচরিত

হাদিস জগতের দ্বিতীয় শীর্ষ নক্ষত্র ইমাম আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আন-নিশাপুরী (র.) ২০৬ হিজরিতে ইরানের নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অগাধ স্মৃতিশক্তি ও তাকওয়ার অধিকারী। যৌবনের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিসগণের দরবারে ঘুরে হাদিস সংগ্রহ করেন। তিনি আমৃত্যু হাদিসের খেদমতে মশগুল থেকে ২৬১ হিজরিতে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন।

ইলমে হাদিসে তাঁর ঐতিহাসিক খিদমাত

  1. সহীহ মুসলিম সংকলন: প্রায় তিন লক্ষ হাদিস থেকে ১৫ বছর সাধনায় যাচাই-বাছাই করে তিনি প্রায় ৪,০০০ (পুনরাবৃত্তিমুক্ত) বিশুদ্ধ হাদিসের এই কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেন।
  2. সহজ ও নিখুঁত বিন্যাসপদ্ধতি: প্রতিটি হাদিসের সকল সূত্র ও সনদকে তিনি এক জায়গায় সন্নিবেশিত করেছেন, যা হাদিস গবেষকদের জন্য সময় ও শ্রমের বিপুল সাশ্রয় করে।
  3. উসুলুল হাদিসে অবদান: তাঁর রচিত ‘মুকাদ্দিমায়ে মুসলিম’ হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি এবং রাবিদের শ্রেণিবিভাগের ওপর রচিত প্রথম প্রামাণ্য শাস্ত্রীয় সনদ।

১০ নম্বর প্রশ্ন

وَازِنْ بَيْنَ الصَّحِيْحِ لِمُسْلِمٍ وَالصَّحِيْحِ لِلْبُخَارِيِّ، أَيُّهُمَا أَرْجَحُ وَأَصَحُّ عِنْدَكَ وَدَلِّلْ عَلَى مَا تَقُوْلُ –

[১০. সহীহ মুসলিম ও সহীহ বুখারীর মধ্যে তুলনামূলক মূল্যায়ন কর। তোমার দৃষ্টিতে কোনটি অধিক অগ্রগণ্য ও বিশুদ্ধ? দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ কর।]

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের তুলনামূলক মূল্যায়ন ও প্রাধান্য

তুলনার ক্ষেত্র সহীহ বুখারী (الإمام البخاري) সহীহ মুসলিম (الإمام مسلم)
সনদের শর্তের কঠোরতা রাবিগণের সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি উভয়ের নিশ্চিত সরাসরি সাক্ষাৎ ও হাদিস শ্রবণ অপরিহার্য শর্ত। রাবিগণের সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাতের যৌক্তিক সম্ভাবনা (মুআসারাত ও ইমকানুল লিকা) থাকাই যথেষ্ট।
রাবিদের মর্যাদা ইমাম বুখারীর এককভাবে বর্ণিত রাবিদের সংখ্যা কম এবং তাঁদের সততা ও মেধা সর্বজনবিদিত। ইমাম মুসলিমের কিছু রাবির ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা থাকলেও সামগ্রিক সনদের শক্তিতে তা পূরণ করা হয়েছে।
অধ্যায় ও সনদ বিন্যাস ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবনে হাদিস বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত। একটি হাদিসের সকল সূত্র এক জায়গায় একত্রিত ও অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও দলিল

জমহুর মুহাদ্দিসীন ও উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো—বিশুদ্ধতা ও সনদের প্রামাণ্যতায় সহীহ বুখারী সর্বাগ্রে (صحيح البخاري أصح من صحيح مسلم)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) বলেন, বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহীহ বুখারী শ্রেষ্ঠ; তবে বিন্যাস, সাহিত্যিক রূপ ও সাবলীলতায় সহীহ মুসলিমের সৌন্দর্য অতুলনীয়। উত্তর আফ্রিকার কিছু আলেম সহীহ মুসলিমের বিন্যাসশৈলীর কারণে একে পছন্দ করলেও সনদের সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে বুখারীর শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সহীহ মুসলিম গ্রন্থটি রচনায় ইমাম মুসলিমের কত বছর সময় লেগেছিল?

ইমাম মুসলিম (র.) দীর্ঘ ১৫ বছর নিরলস সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে তাঁর এই বিখ্যাত হাদিস সংকলন ‘সহীহ মুসলিম’ সম্পন্ন করেন।

২. ‘সাকরাতুল মাউত’ বলতে কী বোঝায়?

মৃত্যুর অবধারিত মুহূর্তে মানুষের রুহ যখন দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে, তখনকার চরম শারীরিক ও মানসিক কষ্ট ও যন্ত্রণাকে সাকরাতুল মাউত বলা হয়।

৩. ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য কর্পূর ব্যবহারের হেকমত কী?

সুগন্ধি কর্পূর ব্যবহারের ফলে মৃতদেহের শীতলতা ও শুভ্রতা বজায় থাকে, দুর্গন্ধ দূর হয় এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে দেহ সুরক্ষিত থাকে।

৪. ইসলামে পণ্যে ভেজাল ও কৃত্রিমভাবে দর বাড়ানো নিষিদ্ধ কেন?

কারণ ধোঁকা ও মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে উপার্জিত সম্পদ হারাম এবং এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।

৫. হাদিস অনুযায়ী মদের কেনাবেচা কেন চিরতরে হারাম?

কারণ মদ মানুষের হিতাহিত জ্ঞান বিনষ্টকারী যাবতীয় মন্দের মূল (উম্মুল খাবায়েছ); যে বস্তু পান করা হারাম, তার বেচাকেনা ও মূল্য ভক্ষণ করাও ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের তুলনামূলক প্রশ্ন কীভাবে লেখা উচিত?

ইমামদ্বয়ের সনদের শর্ত, রাবিদের স্তর, সংকলন পদ্ধতি এবং উম্মাহর ঐকমত্যের দলিলসমূহ পয়েন্ট ও ছক আকারে উপস্থাপন করলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *