জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আক্বায়িদুহা (Al-Firaqul Islamiyyah wa Aqaiduha) – ২০৪৪০৩, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৭ মিনিট পড়ার সময়
১৫ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 204 | প্রশ্নপত্র কোড: 140
اختبار السنة الرابعة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۳
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
الفرق الإسلامية وعقائدها
[আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আক্বায়িদুহা]
বিষয় কোড: 204403
الوقت — ٤ ساعات | الدرجة الكاملة — ٨٠
[সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (أ) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) : الأسئلة المقالية (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات — ١٥ × ٤ = ٦٠


١- عرف العقيدة لغة وشرعا- ثم تحدث عن أهمية العقيدة الإسلامية في الحياة الإنسانية-

[১. العقيدة এর আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয় দাও। মানব জীবনে ইসলামি আকিদার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
মানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং দ্বীন ইসলামের মূল ভিত্তি হলো ‘আল-আকিদাহ’ (العقيدة)। মানুষের যাবতীয় আমল, নৈতিকতা ও পরকালীন মুক্তি একমাত্র বিশুদ্ধ আকিদার ওপরই নির্ভরশীল।

১. আকিদার শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ (مفهوم العقيدة لغةً وشرعاً):

  • শাব্দিক অর্থ: ‘আকিদাহ’ শব্দটি আরবি العَقْد (আক্বদ) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ: الربط والشد والإحكام والتوثيق واليقين الجازم (দৃঢ়ভাবে গিট দেওয়া, শক্তভাবে বাঁধা, মজবুত করা এবং অটল বিশ্বাস স্থাপন করা)। যা মানুষের মনের গভীরে এমন দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে যায় যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না, তাকে আকিদা বলে।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আকিদা হলো:
    “العقيدة هي الإيمان الجازم واليقين الصادق بالله تعالى، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقدر خيره وشره، وبكل ما ثبت من أمور الغيب وأصول الدين ثبوتاً قطعياً.”
    অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত ও গুণাবলিতে, তাঁর সম্মানিত ফেরেশতাকুল, আসমানী কিতাবসমূহ, নবী-রাসূলগণ, পরকাল, তাকদীরের ভালো-মন্দ এবং দ্বীনের যাবতীয় অকাট্য বিষয়ের ওপর হৃদয়ের গভীরে দৃঢ়, অবিচল ও সংশয়হীন বিশ্বাস পোষণ করাকে ইসলামি আকিদা বলে।

২. মানবজীবনে ইসলামি আকিদার গুরুত্ব (أهمية العقيدة الإسلامية في الحياة الإنسانية):

মানবজাতির ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইসলামি আকিদার গুরুত্ব অপরিসীম:

  1. আমল কবুল হওয়ার একমাত্র পূর্বশর্ত: আকিদা বিশুদ্ধ না হলে কোটি কোটি টাকার দান বা পাহাড়সম ইবাদতও আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} (যদি তুমি শিরক কর তবে তোমার সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে) [সূরা আয-যুমার: ৬৫]।
  2. জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের স্পষ্টতা: সঠিক আকিদা মানুষকে জানায় সে কোথা থেকে এসেছে, কেন এই পৃথিবীতে তার আগমন এবং মৃত্যুর পর তার পরিণতি কী হবে। এটি মানুষকে লক্ষ্যহীন জীবনযাপন থেকে রক্ষা করে আল্লাহর খাঁটি গোলামে পরিণত করে।
  3. অন্তরের প্রশান্তি ও মানসিক শক্তি: তাকদীরের আকিদা মানুষকে বিপদ-আপদে ধৈর্যশীল এবং সম্পদে বিনম্র হতে শেখায়। হতাশা, দুশ্চিন্তা ও আত্মহত্যার হাত থেকে মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ওপর দৃঢ় আকিদাই রক্ষা করতে পারে। {أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ}।
  4. নৈতিক চরিত্র গঠন ও জবাবদিহিতা: পরকালে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে— এই বিশ্বাস মানুষের অন্তরে সার্বক্ষণিক সতর্কতা তৈরি করে, যা সমাজকে দুর্নীতি, খুন, জুলুম ও পাপাচার থেকে মুক্ত রাখে।
  5. মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্তি: খাঁটি তাওহীদের আকিদা মানুষকে গাইরুল্লাহর ভয় ও পরমুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত করে এক আল্লাহর সামনে মাথা নত করার অনন্য আত্মমর্যাদা দান করে।

٢- ما الافتراق؟ بين أسبابه وخطورته-

[২. ইফতিরাক কী? ইফতিরাকের কারণ ও ক্ষতিকর দিকসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামী উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি বিনষ্টকারী মারাত্মক ব্যাধির নাম হলো ‘আল-ইফতিরাক্ব’ (الافتراق)। এটি কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিষ্ঠিত মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ার এক ধ্বংসাত্মক রূপ।

১. ইফতিরাক্ব-এর পরিচয় (مفهوم الافتراق):

আভিধানিক অর্থ: الافتراق শব্দটি ‘ফারক্ব’ (الفرق) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া, খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া এবং মতানৈক্য সৃষ্টি করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
“الافتراق هو الخروج عن منهج أهل السنة والجماعة وأصول الدين الثابتة، وتفرق الأمة إلى فرق وشيع وأحزاب يوالي بعضها ويعادي بعضاً على أصول مبتدعة.”
অর্থাৎ কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের সর্বসম্মত মৌলিক আকিদা ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে নতুন কোনো বিদআতী আকিদার ভিত্তিতে উম্মাহর মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন ফিরকায় রূপ নেওয়াকে ইফতিরাক্ব বলে।

২. উম্মাহর মধ্যে ইফতিরাক্বের প্রধান কারণসমূহ (أسباب الافتراق):

  1. প্রবৃত্তিপূজা ও অন্ধ অহংকার (اتباع الهوى): সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও নিজের নেতৃত্ব বা গোঁড়ামি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে হক্কের পথ পরিহার করা।
  2. দ্বীনের অগভীর জ্ঞান ও অজ্ঞতা (الجهل بالشريعة): কুরআন ও হাদীসের সঠিক তাৎপর্য এবং উসূল না জেনে মনগড়া ব্যাখ্যা করা। যেমন খারেজীরা অগভীর জ্ঞানের কারণে তাকফীর করত।
  3. ভ্রান্ত দর্শন ও বিদেশি চিন্তাধারার অনুপ্রবেশ: আব্বাসীয় যুগে গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় দর্শন আরবিতে অনূদিত হলে একদল লোক ওহীর নূরের ওপর মানবীয় অসম্পূর্ণ যুক্তিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে পথভ্রষ্ট হয়।
  4. ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্র: ইহুদি আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা’ এবং পরবর্তীকালে যিন্দিক ও মুনাফিকরা উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য সুকৌশলে বানোয়াট আকিদা ছড়িয়ে দেয়।
  5. মতপার্থক্যের আদব ও শিষ্টাচার না থাকা: গৌণ ও শাখাগত ইজতিহাদী বিষয়ে ভিন্নমতকে সহ্য করতে না পেরে একে অপরকে কাফের ও পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়া।

৩. ইফতিরাক্বের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকসমূহ (خطورة الافتراق):

  • মুসলিমদের শক্তি ও ঐক্যের বিনাশ: দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ার ফলে উম্মাহর অভ্যন্তরীণ শক্তি ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন: {وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ} (তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে) [সূরা আল-আনফাল: ৪৬]।
  • রক্তপাত ও নৈরাজ্য সৃষ্টি: ফিরকাবাজির ফলে একে অপরকে তাকফীর (কাফের ফতোয়া) করার প্রবণতা বাড়ে এবং নিরাপরাধ মুসলমানদের রক্তপাত বৈধ করা হয়, যেমনটি করেছিল খারেজীরা।
  • ইসলামের শত্রুদের আধিপত্য বিস্তার: মুসলিমদের অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ক্রুসেডার ও আধুনিক সাম্রাজ্যবাদীরা মুসলিম দেশগুলোতে আগ্রাসন চালিয়েছে।
  • রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কঠোর সতর্কবার্তা: বিশ্বনবী ﷺ ইরশাদ করেছেন: “আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, তাদের মধ্যে একটি দল ছাড়া বাকি বাহাত্তর দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবিগণ জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি কারা? তিনি বললেন: “مَا أَنَا عَلَيْهِ اليَوْمَ وَأَصْحَابِي” (আমি এবং আমার সাহাবিগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছি)” [তিরমিযী]।

٣- عرف الخوارج- ثم بين نشأتهم وتطورهم مع ذكر عقائدهم الرئيسية-

[৩. খারেজীদের পরিচয় দাও। তাদের উত্থান ও বিকাশ বর্ণনা করত তাদের প্রধান আকিদাসমূহ আলোচনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামের ইতিহাসে আবির্ভূত সর্বপ্রথম চরমপন্থী ও বিভ্রান্ত উপদলের নাম হলো ‘আল-খাওয়ারিজ’ (الخوارج)। অতি-ধার্মিকতার লেবাস সত্ত্বেও তারা উম্মাহর ঐক্যে কুঠারাঘাত করেছিল।

১. খারেজীদের পরিচয় ও নামকরণ (التعريف بالخوارج):

‘খাওয়ারিজ’ শব্দটি বহুবচন, একবচনে ‘খারিজী’ (الخارجي)। এর অর্থ দলত্যাগী, বিদ্রোহী বা বহির্গত।
শরিয়তের পরিভাষায়: যারা ৩৭ হিজরিতে সিফফিনের যুদ্ধের পর আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (রা.)-এর বৈধ খেলাফত ও শাসন মেনে নিতে অস্বীকার করে বিদ্রোহ করেছিল এবং পরবর্তীতে সাধারণ মুসলমানদের কাফের ঘোষণা করেছিল, তাদেরকে ‘খারেজী’ বলা হয়।
তাদের অন্যান্য নাম:

  • আল-মুহাক্কিমাহ (المحكّمة): কারণ তারা স্লোগান তুলত: “لا حُكْمَ إلا للهِ” (আল্লাহ ছাড়া কারো ফয়সালা মানি না)।
  • আল-হারুরিয়্যাহ (الحرورية): কারণ তারা কুফার অদূরে ‘হারূরা’ নামক স্থানে সর্বপ্রথম জমায়েত হয়েছিল।

২. খারেজীদের উত্থান ও ঐতিহাসিক বিকাশ (نشأتهم وتطورهم):

  1. প্রাথমিক বীজ: ওহুদের যুদ্ধের গনীমত বণ্টনের সময় ‘যুল খুওয়াইসিরাহ আত-তামীমী’ নামক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলেছিল: “হে মুহাম্মদ! ইনসাফ কর।” রাসূল ﷺ বলেছিলেন: “এই ব্যক্তির বংশধর থেকে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যাদের নামাজের সামনে তোমরা নিজেদের নামাজকে তুচ্ছ মনে করবে; অথচ তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়।”
  2. সিফফিনের তাহকীম ও বিদ্রোহ: হযরত আলী (রা.) ও মুআবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার সিফফিনের যুদ্ধে রক্তপাত বন্ধে যখন আবু মূসা আশয়ারী ও আমর ইবনুল আস (রা.)-কে সালিস নিযুক্ত করা হলো, তখন বারো হাজার যোদ্ধা আলী (রা.)-এর বাহিনী ত্যাগ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
  3. নাহরাওয়ানের যুদ্ধ: তারা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে খাব্বাব (রা.) এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করলে হযরত আলী (রা.) ৩৮ হিজরিতে ‘নাহরাওয়ানের যুদ্ধে’ তাদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে তাদেরই অন্যতম সদস্য আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম ৪০ হিজরিতে হযরত আলী (রা.)-কে ফজরের নামাজে শহীদ করে।

৩. খারেজীদের প্রধান ভ্রান্ত আকিদাসমূহ (عقائدهم الرئيسية):

  • ১. কবিরা গোনাহগারকে কাফের গণ্য করা: কোনো মুসলমান যেকোনো একটি কবিরা গোনাহ করলেই সে কাফের হয়ে যায় এবং তওবা ছাড়া মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
  • ২. শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কেরামকে কাফের ফতোয়া দেওয়া: তারা হযরত আলী, উসমান, আয়েশা, তালহা, জুবায়ের এবং দুই সালিসকারী সাহাবীকে (নাউযুবিল্লাহ) কাফের বলে আখ্যা দিয়েছিল।
  • ৩. মুসলিমদের রক্ত ও সম্পদ হালাল মনে করা: তাদের মতের বিরোধী সমস্ত আহলে কিবলা মুসলমানকে তারা মুরতাদ মনে করত এবং তাদের হত্যা করা ও সম্পদ লুট করা জায়েয ভাবত।
  • ৪. সশস্ত্র বিদ্রোহ ওয়াজিব মনে করা: শাসকের কোনো ত্রুটি দেখলেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেওয়া তাদের অপরিহার্য দ্বীনি কর্তব্য ছিল।
  • ৫. সুন্নাহর কিছু বিধান অস্বীকার: কুরআনে উল্লেখ নেই দাবি করে তারা ব্যভিচারী বিবাহিতদের জন্য ‘রজম’ (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) এবং মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান অস্বীকার করত।

٤- من الشيعة؟ اكتب نشأتهم وعقائدهم بالإيجاز-

[৪. الشيعة কারা? তাদের উত্থান ও আকিদাসমূহ সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ কর।]

উত্তর:

১. শিয়াদের পরিচয় ও সংজ্ঞা (التعريف بالشيعة):
‘শিয়া’ (الشيعة) শব্দের আভিধানিক অর্থ অনুসারী, দল বা সমর্থক।
পারিভাষিক অর্থে: যারা হযরত আলী (রা.) ও তাঁর বংশধরদের (আহলে বাইত) নবীজীর একমাত্র ন্যায্য উত্তরাধিকারী মনে করে এবং আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-এর খেলাফতকে অনধিকার চর্চা বলে গণ্য করে, তাদেরকে শিয়া বলা হয়। শিয়াদের বহু শাখা রয়েছে; যেমন: যাইদিয়া, ইসমাঈলিয়া এবং বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসনা আশারিয়া বা জা’ফরিয়া (বারো ইমামপন্থী শিয়া)।

২. শিয়াদের উত্থানের ইতিহাস (نشأة الشيعة):

হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাত এবং সিফফিনের যুদ্ধের সময় আলী (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করার নামে মূলত একটি রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। পরবর্তীকালে ‘আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা’ নামক এক ইহুদি মুনাফিক ইসলাম গ্রহণের ভান করে আলী (রা.)-এর মধ্যে দেবত্ব ও নবুওয়াতের অংশ দাবি করে চরমপন্থী শিয়াবাদের বীজ বপন করে। ৬১ হিজরিতে কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনার পর অনুশোচনা ও প্রতিশোধের আগুনে এই রাজনৈতিক দলটি ধীরে ধীরে একটি স্বতন্ত্র ভ্রান্ত ধর্মীয় রূপ ধারণ করে।

৩. শিয়াদের (ইসনা আশারিয়ার) প্রধান আকিদাসমূহ (أبرز عقائد الشيعة):

  1. ইমামত নবুওয়াতের ন্যায় ঐশী স্তম্ভ: তাদের মতে নবুওয়াতের পর ‘ইমামত’ হলো দ্বীনের মূল রুকন। আল্লাহ কর্তৃক ১২ জন নিষ্পাপ ইমাম নির্ধারিত হয়েছেন, যাঁদের প্রথমজন হযরত আলী এবং সর্বশেষজন মুহাম্মদ আল-মাহদী।
  2. ইমামদের নিষ্পাপতা (عصمة الأئمة): তারা বিশ্বাস করে বারো ইমাম গোনাহ ও ভুলত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত (মাসুম) এবং তাঁদের আদেশ আল্লাহর ওহীর সমতুল্য।
  3. সাহাবায়ে কেরামের ওপর অপবাদ ও তাবাররা: তাদের চরমপন্থী আকিদা হলো রাসূল ﷺ-এর ওফাতের পর মাত্র চার-পাঁচজন ব্যতীত সকল সাহাবী মুরতাদ হয়ে গিয়েছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)। তারা আবু বকর, উমর ও আয়েশা (রা.)-কে তীব্র অভিসম্পাত করে।
  4. আত-তাক্বিয়্যাহ (التقية): নিজের আসল আকিদা গোপন রেখে ভিন্ন মত প্রকাশ করাকে তারা দ্বীনের নয়-দশমাংশ মনে করে।
  5. আল-রাজ’আহ (الرجعة): কিয়ামতের পূর্বে তাদের অদৃশ্য ইমাম ফিরে আসবেন এবং আবু বকর, উমর ও আয়েশা (রা.)-কে কবর থেকে তুলে শাস্তি দেবেন বলে তারা কুৎসিত বিশ্বাস পোষণ করে।
  6. কুরআন বিকৃতির দাবি: তাদের প্রাচীন বহু গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে মূল কুরআনের তিনগুণ বড় ‘মুসহাফে ফাতিমা’ ছিল, যা বর্তমান কুরআনে নেই (তবে আধুনিক অনেকে এটি অস্বীকার করে)।

٥- من المعتزلة؟ بين أفكارهم الرئيسية وعقائدهم موضحا-

[৫. المعتزلة কারা? তাদের মৌলিক চিন্তাধারা এবং আকিদাসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামের ইতিহাসে বুদ্ধিবৃত্তিক ও দার্শনিক চরমপন্থার নাম হলো ‘আল-মু’তাযিলাহ’ (المعتزلة)। তারা ওহীর প্রামাণিকতার চেয়ে মানুষের সীমিত যুক্তিবাদকে (العقل) প্রাধান্য দিয়েছিল।

১. মুতাযিলাদের পরিচয় ও উৎপত্তি (نشأة المعتزلة):

হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুতে বসরার প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর দরবারে যখন কবিরা গোনাহগারের বিধান নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন তাঁর ছাত্র ওয়াসিল ইবনে আতা (واصل بن عطاء) ও আমর ইবনে উবাইদ বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন ফতোয়া দেয় যে— সে মুমিনও নয়, কাফেরও নয়; বরং এক মধ্যবর্তী অবস্থানে আছে। অতঃপর তারা হাসান বসরীর মজলিস থেকে এক কোণে গিয়ে বসল। তখন হাসান বসরী (রহ.) বললেন: “اعْتَزَلَنَا وَاصِلٌ” (ওয়াসিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে)। সেখান থেকেই এদের নাম হয় ‘মুতাযিলা’ (বিচ্ছিন্নতাবাদী)।

২. মুতাযিলাদের পঞ্চমূলনীতি ও আকিদাসমূহ (الأصول الخمسة للمعتزلة):

মুতাযিলাদের সমগ্র ধর্মতত্ত্ব পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

  1. ১. আত-তাওহীদ (التوحيد – আল্লাহর গুণাবলি ও দর্শন অস্বীকার):
    তারা আল্লাহর একত্ববাদের অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিয়ে আল্লাহর কুদরত, ইলম, হায়াত প্রভৃতি চিরন্তন গুণাবলিকে (সিফাত) অস্বীকার করে বলেছে গুণাবলি স্বীকার করলে একাধিক চিরন্তন সত্তা মেনে নেওয়া হয়। এর ভিত্তিতেই তারা কুরআনকে আল্লাহর ‘সৃষ্টি’ (خلق القرآن) বলে দাবি করে এবং পরকালে মুমিনদের জান্নাতে আল্লাহকে দেখার (رؤية الله) সম্ভাবনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।
  2. ২. আল-আদল (العدل – তাকদীর অস্বীকার):
    তারা আল্লাহর ইনসাফের যুক্তি দিয়ে বলে, আল্লাহ কোনো মন্দ কাজ সৃষ্টি করেন না। বরং মানুষ নিজেই তার ভালো ও মন্দ কাজের একমাত্র স্রষ্টা। ফলে তারা তাকদীরের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার অকাট্য আকিদাকে অস্বীকার করে ‘ক্বাদরিয়্যাহ’-তে পরিণত হয়।
  3. ৩. আল-ওয়া’দ ওয়াল ওয়াঈদ (الوعد والوعيد – ক্ষমার সুযোগ অস্বীকার):
    আল্লাহ সৎকর্মশীলকে জান্নাত দেওয়া এবং অসৎকর্মশীলকে জাহান্নামে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা পূরণ করা আল্লাহর ওপর ‘ওয়াজিব’। ফলে কবিরা গোনাহগার যদি তওবা ছাড়া মারা যায়, তবে আল্লাহ তাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না এবং সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। তারা শাফায়াতকেও অস্বীকার করে।
  4. ৪. আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (المنزلة بين المنزلتين):
    তাদের মতে, কবিরা গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তি দুনিয়াতে মুমিনও নয়, আবার কাফেরও নয়; বরং সে ঈমান ও কুফরের মাঝামাঝি একটি স্বতন্ত্র ফাসেকী স্তরে অবস্থান করে।
  5. ৫. আল-আমর বিল মারূফ ওয়ান নাহী আনিল মুনকার:
    সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে গিয়ে প্রয়োজনে মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা ও বিদ্রোহ করাকে তারা দ্বীনের ফরজ হিসেবে গণ্য করে। আব্বাসীয় খলীফা মামুন ও মুতাসিমের যুগে তারা আলেমদের ওপর ‘খালকে কুরআনের’ বিশ্বাস চাপিয়ে দিয়ে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়।

٦- من القاديانيون؟ بين عقائدهم مع بيان نشأتهم وتطورهم-

[৬. কাদিয়ানি কারা? তাদের উত্থান ও বিকাশ আলোচনামূলক তাদের আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ছত্রছায়ায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে মারাত্মক ফিতনা ও কুফরি মতবাদের জন্ম হয়েছিল, তার নাম হলো ‘কাদিয়ানিয়াত’ বা তথাকথিত ‘আহমদিয়া জামাত’।

১. কাদিয়ানিদের পরিচয় ও উৎপত্তি (نشأة القاديانية وتطورها):

  • প্রতিষ্ঠাতা: মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি (১৮৩৯-১৯০৮ খ্রি.)। ভারতের পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার ‘কাদিয়ান’ নামক গ্রামে তার জন্ম।
  • ব্রিটিশ চক্রান্তে উত্থান: ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় মুসলমানদের জিহাদী চেতনা ধ্বংস করার জন্য এক চক্রান্ত আঁটে। মির্জা গোলাম আহমদকে ব্রিটিশদের দালাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে ব্রিটিশ রানী ভিক্টোরিয়ার আনুগত্যকে ধর্মীয় ফরজ ঘোষণা করে।
  • ধাপে ধাপে ভণ্ডামির রূপান্তর: মির্জা গোলাম প্রথমে নিজেকে মুজাদ্দিদ ও ইসলাম রক্ষক দাবি করে; পরবর্তীতে সে নিজেকে মুহাদ্দাস, তারপর রূপক ঈসা মসীহ ও ইমাম মাহদী দাবি করে। অবশেষে ১৯০১ সালে সে নিজেকে সরাসরি ‘উম্মতী নবী’ ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর চেয়েও শ্রেষ্ঠ নবী দাবি করে জঘন্যতম কুফরিতে লিপ্ত হয়।

২. কাদিয়ানিদের প্রধান কুফরি আকিদাসমূহ (أبرز عقائد القاديانية):

  1. খতমে নবুওয়াত অস্বীকার: তারা বিশ্বাস করে মুহাম্মদ ﷺ সর্বশেষ নবী নন; বরং তাঁর পরেও নবী আসার দ্বার উন্মুক্ত এবং মির্জা গোলাম আহমদ একজন পূর্ণাঙ্গ নবী ও রাসূল।
  2. ঈসা (আ.)-এর আসমানে জীবিত থাকা অস্বীকার: কুরআন অনুযায়ী হযরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহ সশরীরে আসমানে তুলে নিয়েছেন। কিন্তু কাদিয়ানিরা দাবি করে তিনি ক্রুশবিদ্ধ হয়ে বেঁচে গিয়ে কাশ্মীরের শ্রীনগরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মির্জা গোলামই হলেন সেই প্রতিশ্রুত মসীহ।
  3. জিহাদকে চিরতরে হারাম ঘোষণা: ব্রিটিশ সরকারের স্বার্থ রক্ষার্থে মির্জা গোলাম ঘোষণা করে: “আজ থেকে তরবারির জিহাদ চিরতরে হারাম ও রহিত করা হলো।”
  4. সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে কাফের গণ্য করা: মির্জা গোলাম ও তার পুত্র বাশীরুদ্দীন দাবি করে: যে ব্যক্তি মির্জা গোলামকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করবে না, সে জাহান্নামী কাফের, এমনকি সে যদি নামাজ-রোজা পালনকারী খাঁটি মুসলিমও হয়।
  5. কাদিয়ানকে মক্কার চেয়ে পবিত্র মনে করা: তারা তাদের কাদিয়ান গ্রামকে মক্কা-মদিনার চেয়েও পবিত্র মনে করে এবং সেখানে সম্মেলনকে ‘হজ’ বলে আখ্যায়িত করে।

৩. মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক রায় ও বিধান:

১৯৭৪ সালে মক্কা মুকাররমায় অনুষ্ঠিত রাবেতাতুল আলামিল ইসলামীর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মুসলিম প্রতিনিধিবৃন্দ সর্বসম্মতভাবে কাদিয়ানিদেরকে অমুসলিম ও কাফের সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করেন। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে।


٧- عرف أهل السنة والجماعة- ثم بين عقائدهم موضحا-

[৭. أهل السنة والجماعة এর পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের আকিদাসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
ইসলামের মূলধারা, মধ্যমপন্থা এবং চিরন্তন সত্যের বাহক জামাআতের নাম হলো ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ (أهل السنة والجماعة)। তাঁরাই হলেন রাসূল ﷺ-এর ভবিষ্যদ্বাণীকৃত ‘আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ’ (মুক্তিপ্রাপ্ত দল)।

১. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয় (التعريف بهم):

  • আহলুস সুন্নাহ: যাঁরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রদর্শিত সুন্নাত ও পথকে নিজেদের জীবনের একমাত্র আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং সকল প্রকার বিদআত বর্জন করেছেন।
  • আল-জামাআত: যাঁরা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও উম্মাহর সর্বসম্মত ইমামগণের মূলধারার ঐক্য ও ইজমার সাথে অটুটভাবে যুক্ত রয়েছেন।
  • ইমাম আশয়ারী, ইমাম মাতুরিদী এবং মুহাদ্দিসীন ও ফকীহগণের মূলধারাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত।

২. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মৌলিক আকিদাসমূহ (عقائدهم بالتفصيل):

  1. আল্লাহর তাওহীদ ও সিফাত: আল্লাহ তাআলার সত্তাগত ও গুণগত একত্ববাদে বিশ্বাস করা। তাঁর পবিত্র গুণাবলিকে (যেমন ইলম, কুদরত, কালাম ইত্যাদি) কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরীফ), অস্বীকার (তা’তীল), সাদৃশ্যকরণ (তাশবীহ) বা রূপ নির্ধারণ (তাকীফ) ছাড়াই যথাযথভাবে বিশ্বাস করা।
  2. কুরআন আল্লাহর শাশ্বত কালাম: পবিত্র কুরআন আল্লাহর অবিকৃত ও অলৌকিক বাণী, যা লাওহে মাহফুয থেকে অবতীর্ণ এবং তা কখনোই সৃষ্ট (مخلوق) নয়।
  3. রূইয়াতুল্লাহ বা পরকালে আল্লাহর দর্শন: কিয়ামতের দিন মুমিনগণ জান্নাতে তাঁদের পরম রব আল্লাহ তাআলাকে কোনো প্রকার মাধ্যম ও দিক ব্যতিরেকেই স্বচক্ষে অবলোকন করবেন। কুরআন: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ * إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ}।
  4. তাকদীরের প্রতি সঠিক বিশ্বাস: মহাবিশ্বের ভালো ও মন্দ সবকিছুই আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও ইচ্ছায় নির্ধারিত। তবে আল্লাহ মানুষকে ভালো-মন্দ নির্বাচনের স্বাধীনতা দিয়েছেন, যার ভিত্তিতে পরকালে পুরস্কার ও শাস্তি নির্ধারিত হবে।
  5. ঈমানের স্বরূপ: ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকার এবং অঙ্গে আমল করা। নেক আমলে ঈমান বাড়ে এবং গোনাহে ঈমান হ্রাস পায়। কবিরা গোনাহকারী মুসলমান ঈমানহারা বা কাফের হয় না, বরং সে ফাসেক মুমিন।
  6. সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভালোবাসা: সকল সাহাবীকে ন্যায়পরায়ণ ও জান্নাতী হিসেবে শ্রদ্ধা করা। তাঁদের পারস্পরিক মতবিরোধে নিশ্চুপ থাকা। খোলাফায়ে রাশেদীনের মর্যাদা তাঁদের খেলাফতের ক্রম অনুযায়ী (আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী রা.) বিশ্বাস করা।
  7. শাফায়াত ও আখিরাতের ঘটনাবলি: কবরের সওয়াল-জওয়াব, আযাব-নেয়ামত, হাশর, মীযান, পুলসিরাত এবং নবী করীম ﷺ-এর সুমহান শাফায়াতের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।

٨- عرف المرجئة- ثم بين نشأتهم وعقائدهم الرئيسية-

[৮. المرجئة এর পরিচয় দাও। তাদের উত্থান এবং মৌলিক আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:

ভূমিকা:
খারেজীদের তাকফীরী চরমপন্থার বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে যে শৈথিল্যবাদী ও বিভ্রান্ত দলের জন্ম হয়েছিল, তাদের নাম ‘আল-মুরজিয়া’ (المرجئة)।

১. মুরজিয়াদের পরিচয় ও নামকরণ (التعريف بالمرجئة):

‘মুরজিয়া’ শব্দটি আরবি الإرجاء (ইরজা) থেকে উদ্ভূত, যার দুটি অর্থ রয়েছে:

  • ১. تأخير (বিলম্বিত করা বা পেছনে ফেলা): কারণ তারা মানুষের আমল বা কর্মকাণ্ডকে ঈমানের সংজ্ঞা থেকে পেছনে ফেলে বাদ দিয়েছে।
  • ২. إعطاء الرجاء (আশা দেওয়া): কারণ তারা পাপীদের অতিরিক্ত আশার বাণী শুনিয়ে দাবি করে যে, ঈমান থাকলে কোনো গোনাহ কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

২. মুরজিয়াদের উত্থানের প্রেক্ষাপট (نشأتهم):

সিফফিনের যুদ্ধ ও খারেজীদের তাণ্ডবের পর সমাজে যখন একদল লোক সামান্য গোনাহের কারণেও মুসলমানদের কাফের ঘোষণা করছিল, তখন এর বিপরীতে একদল লোক অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে ঘোষণা করল যে— মানুষের আমলের কোনো মূল্য নেই; যে ব্যক্তি কেবল মুখে বা অন্তরে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে-ই পূর্ণাঙ্গ মুমিন। হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ সর্বপ্রথম ইরজার আলোচনা শুরু করলেও পরবর্তীতে জাহম ইবনে সাফওয়ান ও তার অনুসারীরা একে চূড়ান্ত চরমপন্থী রূপ দেয়।

৩. মুরজিয়াদের প্রধান আকিদাসমূহ (عقائدهم الرئيسية):

  1. আমল ঈমানের অঙ্গ নয়: তাদের মতে ঈমান হলো কেবল অন্তরের জ্ঞান বা স্বীকৃতি। আমল ঈমানের অংশ নয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তি সারাজীবন বেনামাজী, ব্যভিচারী বা মাতাল হলেও তার ঈমানে কোনো ঘাটতি পড়ে না।
  2. ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি পায় না: সকল মুমিনের ঈমান সমান। তাদের জঘন্য দাবি অনুযায়ী— সাধারণ পাপাচারী ফাসেক ব্যক্তির ঈমান এবং নবী-রাসূল ও জিবরীল (আ.)-এর ঈমানের মধ্যে কোনো তফাত নেই।
  3. গোনাহ ঈমানের কোনো ক্ষতি করে না: তাদের মূল স্লোগান হলো: “لا يَضُرُّ مَعَ الإِيمَانِ ذَنْبٌ، كَمَا لا يَنْفَعُ مَعَ الكُفْرِ طَاعَةٌ” (কুফরের সাথে যেমন কোনো নেক আমল উপকারে আসে না, তেমনি ঈমান থাকলে কোনো গোনাহও কোনো ক্ষতি করতে পারে না)।

আহলুস সুন্নাহর খণ্ডন: এই আকিদা মুসলমানদেরকে ইবাদত ও নৈতিকতা বর্জন করে অবাধে পাপাচার করার লাইসেন্স দেয়, যা কুরআনের অগণিত আয়াতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।


مجموعة (ب) : الأسئلة الموجزة (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)

الدرجات — ٥ × ٤ = ٢٠


٩- عرف الجهمية ثم بين عقائدهم-

[৯. জাহমিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের আকিদাগুলো বর্ণনা কর।]

উত্তর:

১. জাহমিয়াদের পরিচয়:
হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুতে ‘জাহম ইবনে সাফওয়ান আত-তিরমিযী’ (১২৮ হি.-তে নিহত)-এর অনুসারীদের ‘আল-জাহমিয়্যাহ’ (الجهمية) বলা হয়। এটি ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম পথভ্রষ্ট ও নাস্তিক্যবাদী দার্শনিক দল।
২. তাদের প্রধান আকিদাসমূহ:

  • আল্লাহর সিফাত সম্পূর্ণ অস্বীকার (تعطيل الصفات): তারা আল্লাহর সমস্ত নাম ও গুণাবলি অস্বীকার করে বলে, সৃষ্টির সাথে মিল থাকায় আল্লাহকে জীবন্ত, সর্বজ্ঞাতা বা সর্বশক্তিমান বলা যাবে না।
  • চরম জাবরিয়্যাহ (الجبر المطلق): মানুষ পুতুলের মতো ক্ষমতাহীন; বাতাসের মুখে গাছের পাতার ন্যায় মানুষ সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে বাধ্য, তার কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই।
  • জান্নাত ও জাহান্নামের অবসান: তারা বিশ্বাস করে একপর্যায়ে জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাবে এবং কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
  • কুরআন সৃষ্টি হওয়ার দাবি (خلق القرآن): জাহম ইবনে সাফওয়ানই সর্বপ্রথম মুসলিম বিশ্বে কুরআনকে আল্লাহর সৃষ্ট বস্তু বলে প্রচার করে।

١٠- ما هي العقيدة الأساسية التي تميز أهل السنة والجماعة عن المعتزلة؟ بين-

[১০. আহলুসুন্নাহ ওয়াল জামায়াত ও মুতাযিলা দলের মধ্যে পার্থক্যকারী মৌলিক আকিদা কী? বর্ণনা কর।]

উত্তর:

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং মুতাযিলাদের মধ্যে পার্থক্যকারী সবচেয়ে মৌলিক ও ঐতিহাসিক আকিদা হলো ‘মাসআলাতু খালক্বিল কুরআন’ (مسألة خلق القرآن – কুরআন সৃষ্ট নাকি অবিনশ্বর কালাম) এবং আল্লাহর গুণাবলির (صفات الله) বাস্তব অস্তিত্ব।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আল-মু’তাযিলাহ
১. কুরআন আল্লাহর চিরন্তন, অবিনশ্বর কালাম; এটি কখনোই মাখলুক বা সৃষ্টি নয়। ১. কুরআন আল্লাহর একটি সৃষ্ট বস্তু (مخلوق), যা পূর্বে ছিল না পরে তৈরি হয়েছে।
২. আল্লাহর কুদরত, ইলম, হায়াত প্রভৃতি সিফাত সত্তার সাথে চিরন্তনভাবে বিদ্যমান। ২. আল্লাহর সত্তা ছাড়া কোনো সিফাত নেই; সিফাত মানলে শিরক হবে।
৩. পরকালে মুমিনগণ আল্লাহকে স্বচক্ষে দর্শন করবেন (রূইয়াতুল্লাহ সত্য)। ৩. আল্লাহকে কখনো স্বচক্ষে দেখা যাবে না; রূইয়াতুল্লাহ সম্পূর্ণ অসম্ভব।
৪. তাকদীরের ভালো ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়। ৪. মানুষ নিজেই তার কর্মের স্বাধীন স্রষ্টা; আল্লাহর কোনো তাকদীর নেই।

١١- ما الفرق بين القدرية والجبرية فى مسألة القضاء والقدر؟ بين-

[১১. القضاء ও القدر বিষয়ে কাদরিয়া ও জাবারিয়া দলের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

উত্তর:

তাকদীরের সূক্ষ্ম রহস্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে দুটি প্রান্তিক ও বিপরীতমুখী বিভ্রান্ত দলের জন্ম হয়েছিল:

  1. আল-ক্বাদরিয়্যাহ (القدرية – তাকদীর অস্বীকারকারী):
    তারা মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে এত বেশি প্রাধান্য দেয় যে আল্লাহর তাকদীর ও কর্তৃত্বকেই অস্বীকার করে বসে। তাদের দাবি হলো— আল্লাহ পূর্ব থেকে মানুষের কোনো কাজ নির্ধারণ করেননি; মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের কাজের ভালো ও মন্দ নিজেই সৃষ্টি করে। হাদীসে রাসূল ﷺ এদেরকে ‘মাজূসু হাযিহিল উম্মাহ’ (এই উম্মতের অগ্নিপূজক) আখ্যা দিয়েছেন।
  2. আল-জাবারিয়্যাহ (الجبرية – অন্ধ ভাগ্যে বিশ্বাসী):
    তারা ক্বাদরিয়াদের বিপরীত প্রান্তে গিয়ে দাবি করে— মানুষের কোনো ইচ্ছাশক্তি, পছন্দ বা স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। মানুষ হলো জড় পদার্থের মতো নিরুপায়। পাপ বা পুণ্য যা-ই ঘটুক, মানুষ বাধ্য হয়েই তা করে।
    আহলুস সুন্নাহর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান: মানুষ সম্পূর্ণ বাধ্যও নয়, আবার সর্বেসর্বা স্রষ্টাও নয়। আল্লাহর ইচ্ছা ও সৃষ্টির অধীনে মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও উপার্জনের স্বাধীনতা (কাসব) রয়েছে।

١٢- اكتب أبرز عقائد القرآنيين وأفكارهم-

[১২. কুরআনিয়্যুন এর প্রধান আকিদা ও চিন্তাভাবনাগুলো লিপিবদ্ধ কর।]

উত্তর:

‘কুরআনিয়্যূন’ বা হাদীস অস্বীকারকারী দলের প্রধান আকিদাসমূহ:
ব্রিটিশ আমলে ভারতে ও মিসরে প্রাচ্যবিদদের প্ররোচনায় একদল লোক দাবি করে যে দ্বীনের জন্য একমাত্র কুরআনই যথেষ্ট, হাদীসের কোনো প্রামাণিকতা নেই। তাদের প্রধান ভ্রান্ত আকিদাগুলো হলো:

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহকে সম্পূর্ণ বর্জন: তারা দাবি করে হাদীস সংরক্ষিত নয় এবং তা ইসলামের কোনো শরিয়তি দলিল হতে পারে না।
  • নামাজ, রোজা ও হজের বিকৃতি: হাদীস অস্বীকার করার ফলে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা, রুকূ-সিজদার তাসবীহ, যাকাতের নেসাব ও হজের তাওয়াফের নিয়ম অস্বীকার করে মনগড়া ব্যাখ্যা দেয়।
  • মুতাওয়াতির বিধানাবলি প্রত্যাখ্যান: মিরাজ, কবরের আযাব, দাজ্জালের আগমন এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর অবতরণকে তারা অলীক গল্প বলে উড়িয়ে দেয়।

আলেমদের রায়: সুন্নাহ অস্বীকারকারী ব্যক্তি কুরআনেরই আয়াত {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ} অস্বীকার করায় সরাসরি ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত কাফের হিসেবে গণ্য হয়।


١٣- تحدث عن الإيمان بالملائكة بالأدلة-

[১৩. ফেরেশতার উপর ঈমান সম্পর্কে দলিলসহ আলোচনা কর।]

উত্তর:

১. ফেরেশতাদের পরিচয় ও ঈমানের মর্যাদা:
ফেরেশতাগণ আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি, যাঁদের আল্লাহ নূর দিয়ে তৈরি করেছেন। তাঁরা পুরুষও নন, নারীও নন। তাঁরা পানাহার ও নিদ্রা থেকে মুক্ত এবং আল্লাহর নির্দেশের বিন্দুমাত্র অবাধ্যতা করেন না। ফেরেশতাদের অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের ছয়টি মূল রুকনের অন্যতম।
২. কুরআন ও হাদীসের দলিল:

  • কুরআন: {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ} [আল-বাক্বারাহ: ২৮৫]।
  • হাদীসে জিবরীল: রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ” [সহীহ মুসলিম]।

৩. প্রধান চার ফেরেশতা ও তাঁদের দায়িত্ব: হযরত জিবরীল (ওহী বহনকারী), হযরত মীকাইল (বৃষ্টি ও রিজিক বণ্টনকারী), হযরত ইসরাফীল (সিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার দায়িত্বে) এবং হযরত আযরাঈল বা মালাকুল মাউত (রূহ কবজকারী)।


١٤- اكتب نبذة عن رجال أهل السنة والجماعة وكتبهم المشهورة-

[১৪. أهل السنة والجماعة এর ব্যক্তিবর্গ ও তাদের প্রসিদ্ধ বইসমূহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।]

উত্তর:

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষায় যে সকল মহান ইমাম অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:

  1. ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (১৬৪-২৪১ হি.): মুতাযিলাদের নির্যাতনের মুখে সুন্নাহর পতাকাকে সমুন্নত রাখেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: ‘কিতাবুস সুন্নাহ’ ও ‘আর-রাদ্দু আলায যানাদিক্বাতি ওয়াল জাহমিয়্যাহ’।
  2. ইমাম আবুল হাসান আল-আশয়ারী (২৬০-৩২৪ হি.): মুতাযিলাদের যুক্তি খণ্ডন করে সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: ‘আল-ইবানাহ আন উসূলিদ দিয়্যানাহ’ এবং ‘মাক্বালাতুল ইসলামিয়্যীন’।
  3. ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদী (২৪০-৩৩৩ হি.): হানাফী উসূলের আলোকে সুন্নাহ ভিত্তিক আকিদা সংকলন করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: ‘কিতাবুত তাওহীদ’।
  4. ইমাম আবু জাফর আত-ত্বাহাবী (২৩৯-৩২১ হি.): সর্বজনবিদিত মূলধারার আকিদা সংকলন করেন। তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ: ‘আল-আকিদাতুত ত্বাহাবিয়্যাহ’।
  5. শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬৬১-৭২৮ হি.): কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ আকিদা পুনরুজ্জীবিত করেন। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ: ‘আল-আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ’ এবং ‘দারউ তাআ’রুযিল আকলি ওয়ান নাক্বল’।

١٥- كيف يمكن الوحدة بين الفرق الإسلامية من جهة التوافق فى العقيدة الأساسية-

[১৫. ইসলামি দলগুলোর মধ্যে মৌলিক আকিদার দিক থেকে কীভাবে ঐক্য স্থাপন করা যেতে পারে?]

উত্তর:

মুসলিম উম্মাহর অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরসন করে মৌলিক আকিদার ভিত্তিতে ঐক্য প্রতিষ্ঠার বাস্তবমুখী উপায়সমূহ:

  1. কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য মূলনীতিতে প্রত্যাবর্তন: কোনো দার্শনিক বা মাযহাবী মতবাদের চেয়ে কুরআন ও সহীহ হাদীসের দ্ব্যর্থহীন দলিলসমূহকে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেওয়া।
  2. আসহাবে রাসূলের মানদণ্ড গ্রহণ: সাহাবায়ে কেরামের সম্মিলিত বুঝ ও আমলকে দ্বীনের মানদণ্ড নির্ধারণ করা, কারণ তাঁরা ছিলেন ওহীর প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
  3. অহেতুক তাকফীর ও গালিগালাজ পরিহার: আহলে কিবলা মুসলমানদের সামান্য মতপার্থক্যেই কাফের বা জাহান্নামী ফতোয়া দেওয়ার চরমপন্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
  4. মৌলিক আকিদা ও শাখাগত মাসয়ালার পার্থক্য অনুধাবন: তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতের মৌলিক স্তম্ভে ঐক্য বজায় রেখে ফিকহী ইজতিহাদী মতভেদকে উদারচিত্তে গ্রহণ করা।
  5. উম্মাহর অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান: সাম্রাজ্যবাদ, ফিলিস্তিন সংকট ও ইসলামবিদ্বেষী শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামের মৌলিক পতাকাতলে একত্রিত হওয়া।

١٦- تحدث عن المصادر الأساسية للعقيدة الإسلامية-

[১৬. ইসলামি আকিদার প্রধান উৎসগুলো সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর:

ইসলামি আকিদার মূল ভিত্তি মানুষের কল্পনা বা দার্শনিক যুক্তি নয়, বরং তা সম্পূর্ণভাবে ওহী-নির্ভর (توقيفية)। এর প্রধান চারটি উৎস হলো:

  1. ১. পবিত্র কুরআনুল কারিম (القرآن الكريم): এটি শরিয়তের প্রথম ও প্রধান উৎস। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি, পরকাল ও গায়েবের যাবতীয় বিবরণ সরাসরি আল্লাহর বাণীতে অকাট্যভাবে বিধৃত রয়েছে।
  2. ২. সহীহ সুন্নাহ (السنة النبوية الصحيحة): রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সহীহ হাদীস হলো কুরআনের ব্যাখ্যা ও দ্বিতীয় উৎস। নবী করীম ﷺ যা সংবাদ দিয়েছেন তা ওহীয়ে মাতলূ বা গাইরে মাতলূর অন্তর্ভুক্ত এবং তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন অপরিহার্য।
  3. ৩. ইজমায়ে সালাফে সালেহীন (إجماع السلف الصالح): সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও হিদায়াতের ইমামগণের সর্বসম্মত আকিদা। আল্লাহ বলেন: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَىٰ وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّىٰ} [আন-নিসা: ১১৫]।
  4. ৪. সুস্থ বিবেক ও ফিতরাত (العقل الصريح والفطرة السليمة): বিবেক আকিদার আবিষ্কারক নয়, বরং ওহীর সত্যতার সত্যায়নকারী। বিশুদ্ধ আকল কখনো সহীহ নাক্বলের (ওহীর) বিরোধী হতে পারে না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলতে কাদের বোঝায়?

উত্তর: রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরামের প্রদর্শিত পথকে আঁকড়ে ধরে সকল প্রকার বিদআত বর্জনকারী এবং মুসলিম উম্মাহর মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত জামাআতকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলা হয়।

প্রশ্ন ২: খারেজীদের মূল পথভ্রষ্টতা কী ছিল?

উত্তর: খারেজীদের মূল ভ্রান্তি ছিল কবিরা গোনাহগার মুসলমানকে কাফের আখ্যা দেওয়া, সাহাবায়ে কেরামকে তাকফীর করা এবং মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহকে ফরজ মনে করা।

প্রশ্ন ৩: শিয়াদের বারো ইমামপন্থী আকিদার মূল ভিত্তি কী?

উত্তর: তারা বিশ্বাস করে নবুওয়াতের পর ইমামত হলো ঐশী নির্দেশিত একটি স্তম্ভ, ইমামগণ নিষ্পাপ এবং তাঁরা সমগ্র সৃষ্টিজগতের ওপর বিশেষ আধ্যাত্মিক কর্তৃত্বের অধিকারী।

প্রশ্ন ৪: মুতাযিলাদের মতে মানুষ কি তার কাজের স্বাধীন স্রষ্টা?

উত্তর: হ্যাঁ, মুতাযিলারা তাকদীর অস্বীকার করে দাবি করে যে মানুষ নিজেই তার ভালো ও মন্দ কাজের একমাত্র স্রষ্টা; এতে আল্লাহর কোনো পূর্বনির্ধারণ বা সৃষ্টি থাকে না।

প্রশ্ন ৫: কাদিয়ানিদের কেন বিশ্ব মুসলিম সর্বসম্মতভাবে কাফের ঘোষণা করেছে?

উত্তর: কারণ তারা মুহাম্মদ ﷺ-কে শেষ নবী হিসেবে অস্বীকার করে মির্জা গোলাম আহমদকে নতুন নবী হিসেবে দাবি করেছে এবং জিহাদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

প্রশ্ন ৬: ফাজিল ৪র্থ বর্ষের ২০৪৪০৩ পরীক্ষার প্রস্তুতির সেরা উপায় কী?

উত্তর: আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ পত্রে ভালো ফলাফলের জন্য প্রাচীন ও আধুনিক বাতিল ফিরকাসমূহের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তাদের ভ্রান্ত আকিদার বিরুদ্ধে আহলুস সুন্নাহর কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দলিলসমূহ নির্ভুলভাবে অধ্যয়ন করা উচিত।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜