জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আস সহীহ লিল বুখারী (As-Sahih lil Bukhari) – 202301, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ মডেল টেস্ট ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৭ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৯

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲٤ م

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪

الحديث والدراسات الإسلامية (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)

الصحيح للبخاري (আস সহীহ লিল বুখারী)

বিষয় কোড: ২০২৩০১

সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : اجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) [ক অংশ] (মান: ৫ × ১৪ = ৭০)

১ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا الحميدي قال حدثنا سفيان قال حدثنا يحيى بن سعيد الأنصاري قال أخبرني محمد بن ابراهيم التيمي أنه سمع علقمة بن وقاص الليثي يقول سمعت عمر بن الخطاب رضى الله عنه على المنبر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : “إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو إلى إمرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه” –

(أ) لم أورد البخاري (رح) هذا الحديث فى أول كتابه وما هو شأن ورود الحديث؟ بين بالاختصار –

(ب) عرف الهجرة مع ذكر أقسامها وحكمها فى هذا الزمان –

[১. আল-হুমাইদী (র.) … উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই সমুদয় আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রতিটি মানুষ তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত পার্থিব স্বার্থ অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।]

[(ক) ইমাম বুখারী (র.) কেন এ হাদিসটিকে তাঁর কিতাবের শুরুতে এনেছেন এবং হাদিসটি অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট (শানুল উরূদ) কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

[(খ) হিজরতের সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকারভেদ ও বর্তমান যুগে হিজরতের শরয়ি বিধান উল্লেখ কর।]

(ক) সহীহ বুখারীর শুরুতে হাদিসটি আনার কারণ ও প্রেক্ষাপট

কিতাবের শুরুতে আনার তাৎপর্য: ইমাম বুখারী (র.) কোনো খুতবা বা ভূমিকা ব্যতীত সরাসরি এ হাদিস দিয়ে তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘সহীহ বুখারী’ শুরু করেছেন। এর পেছনে মুহাদ্দিসগণ কয়েকটি গভীর কারণ উল্লেখ করেছেন:

  1. নিয়তের বিশুদ্ধতা ঘোষণা: ইমাম বুখারী প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর এই বিশাল গ্রন্থ সংকলনের পেছনে কোনো পার্থিব খ্যাতি বা স্বার্থ নেই; বরং এটি নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে লিখিত।
  2. পাঠক ও শিক্ষার্থীর জন্য নসিহত: ইলম অন্বেষণকারী প্রত্যেক তালেবে ইলমকে সতর্ক করা যে, দ্বীনি জ্ঞানার্জনের সূচনাতেই নিয়তকে লোকদেখানো মনোভাব থেকে খাঁটি করতে হবে।
  3. আমলের মূল মাপকাঠি: ইমাম শাফেঈ ও ইমাম আহমদের মতে, এ হাদিসটি ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ ইলমকে ধারণ করে; কারণ মানুষের আমল হয় অন্তরের, নয় জিহ্বার, নয় শারীরিক অঙ্গের—যার ভিত্তি নিয়ত।

হাদিসের প্রেক্ষাপট (শানুল উরূদ): ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি ‘উম্মে কায়েস’ নাম্নী এক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। উক্ত নারী শর্ত দিয়েছিলেন যে, সে যদি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে আসে তবেই সে তাকে বিবাহ করবে। লোকটি কেবল সেই নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হিজরত করেছিল। সাহাবিদের মাঝে সে ‘মুহাজিরে উম্মে কায়েস’ নামে পরিচিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়তের গুরুত্ব স্পষ্ট করতে এ ঐতিহাসিক মূলনীতি ঘোষণা করেন।

(খ) হিজরতের পরিচয়, প্রকারভেদ ও বর্তমান যুগের বিধান

হিজরতের সংজ্ঞা: আভিধানিক অর্থে হিজরত (الهجرة) মানে ত্যাগ করা বা পরিত্যাগ করা। শরীয়তের পরিভাষায়, দ্বীন ও ঈমান রক্ষার তাগিদে কুফর ও ফিতনার স্থান ত্যাগ করে দ্বীন পালনের উপযোগী নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর হওয়াকে হিজরত বলা হয়।

হিজরতের প্রকারভেদ:

  • স্থানান্তরিত হিজরত (الهجرة المكانية): দারুল কুফর বা দারুল হরব থেকে যেখানে প্রকাশ্যে দ্বীন পালন করা যায় না, সেখান থেকে দারুল ইসলামে হিজরত করা।
  • আধ্যাত্মিক ও মানসিক হিজরত (الهجرة المعنوية): সকল প্রকার পাপ, অন্যায় ও নিষিদ্ধ বিষয়াদি বর্জন করে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه (প্রকৃত মুহাজির সে, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা পরিহার করে)।

বর্তমান যুগে হিজরতের বিধান: ফকিহগণের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, মক্কা বিজয়ের পর মক্কা থেকে মদিনার বিশেষ হিজরতের আবশ্যিকতা শেষ হলেও সাধারণ হিজরতের বিধান কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। যদি কোনো মুসলিম এমন দেশে বা অঞ্চলে বসবাস করে যেখানে তাকে কুফরিতে বাধ্য করা হয় বা মৌলিক দ্বীন পালনে সরাসরি বাধা দেওয়া হয় এবং সে তা প্রতিহত করতে অক্ষম হয়, তবে তার জন্য ঈমান রক্ষার্থে নিরাপদ ভূমিতে হিজরত করা আজো ওয়াজিব।

২ নম্বর প্রশ্ন

عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الكبائر أو سئل عن الكبائر – فقال الشرك بالله وقتل النفس وعقوق الوالدين فقال ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ قال قول الزور أو قال شهادة الزور-

(أ) كم عدد الكبائر وما هي؟ بين-

(ب) كيف التوبة عن الكبائر والصغائر؟ بين-

[২. আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবিরা গুনাহসমূহের কথা উল্লেখ করলেন অথবা তাঁকে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। অতঃপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তিনি বললেন: মিথ্যা কথা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।]

[(ক) কবিরা গুনাহের সংখ্যা কত এবং সেগুলো কী কী? বর্ণনা কর।]

[(খ) কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে তওবা করার পদ্ধতি কী? বর্ণনা কর।]

(ক) কবিরা গুনাহের সংখ্যা ও বিবরণ

কবিরা গুনাহের সংখ্যা: কবিরা গুনাহের সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা নেই। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কবিরা গুনাহ কি সাতটি? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: هي إلى سبعين أقرب منها إلى سبع (এটি সাতের চেয়ে সত্তরের অধিক নিকটবর্তী)। ইমাম যাহাবী (র.) তাঁর বিখ্যাত ‘কিতাবুল কাবায়ের’ গ্রন্থে ৭০টি কবিরা গুনাহ চিহ্নিত করেছেন এবং ইবনে হাজার হাইসামী ‘আয-যাওয়াজির’ গ্রন্থে চার শতাধিক কবিরা গুনাহ উল্লেখ করেছেন।

শীর্ষস্থানীয় কবিরা গুনাহসমূহ:

  1. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা (সবচেয়ে মারাত্মক ও ক্ষমার অযোগ্য গুনাহ)।
  2. অন্যায়ভাবে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা।
  3. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া ও তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা।
  4. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং মিথ্যা শপথের মাধ্যমে অন্যের হক বিনষ্ট করা।
  5. সুদ খাওয়া, সুদের হিসাব রাখা ও সাক্ষী থাকা।
  6. এতিমের সম্পদ জোরপূর্বক বা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করা।
  7. ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া ও সতী নারীর ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।

(খ) তওবার পদ্ধতি ও শর্তাবলি

সগিরা গুনাহের কাফফারা: নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জুমার সালাত, রমযানের রোজা, ওযু ও সাধারণ নেক আমলের বরকতে আল্লাহ তাআলা সগিরা গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন (إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ)।

কবিরা গুনাহ থেকে তওবার আবশ্যিক শর্তাবলি: কবিরা গুনাহ কেবল নেক আমল দ্বারা মাফ হয় না; এর জন্য সুনির্দিষ্ট তওবা (তওবাতুন নাসুহা) আবশ্যক:

  • আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত: (১) পাপ কাজ থেকে অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে বিরত হওয়া, (২) কৃতকর্মের জন্য অন্তরে গভীর অনুশোচনা ও লজ্জা প্রকাশ করা, এবং (৩) ভবিষ্যতে এই পাপে আর কখনো লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
  • বান্দার হকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চতুর্থ শর্ত: যদি পাপটি কোনো মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট হয় (যেমন অর্থ আত্মসাৎ, গিবত বা শারীরিক ক্ষতি), তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাওনা পরিশোধ করতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে মাফ করিয়ে নিতে হবে।

৩ নম্বর প্রশ্ন

باب أمور الإيمان وقول الله عز وجل : ليس البر أن تولوا وجوهكم قبل المشرق والمغرب ولكن البر من آمن بالله الخ – عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال الإيمان بضع وستون شعبة والحياء شعبة من الإيمان –

(أ) عرف الإيمان ثم اذكر الفرق بينه وبين الإسلام –

(ب) ما معنى الحياء؟ لم خص الحياء بالذكر من جملة شعب الإيمان؟ بين –

[৩. পরিচ্ছেদ: ঈমানের শাখাসমূহ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ঈমানের ষাটের অধিক (কিংবা সত্তরের অধিক) শাখা-প্রশাখা রয়েছে; আর লজ্জা ও শালীনতাবোধ হলো ঈমানের অন্যতম বিশেষ একটি শাখা।]

[(ক) ঈমানের পরিচয় দাও। অতঃপর ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ কর।]

[(খ) লজ্জার অর্থ কী? ঈমানের সমুদয় শাখার মধ্য থেকে কেন লজ্জাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে? বর্ণনা কর।]

(ক) ঈমানের পরিচয় এবং ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য

ঈমানের পরিচয়: অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং কর্মে বাস্তবায়নের সমন্বিত রূপই ঈমান।

ঈমান ও ইসলামের সূক্ষ্ম পার্থক্য: যখন ঈমান ও ইসলাম পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন একটি অপরটিকে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু যখন একই সাথে উভয় শব্দ উল্লেখিত হয়, তখন তাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য থাকে:

তুলনার বিষয় ঈমান (الإيمان) ইসলাম (الإسلام)
কার্যক্ষেত্র অন্তরের অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক প্রত্যয়। শারীরিক ও দৃশ্যমান বাহ্যিক আনুগত্য ও আমল।
মৌলিক স্তম্ভ আল্লাহ, ফিরিশতা, কিতাব, রাসুল ও আখেরাতে বিশ্বাস। কালিমা, সালাত, যাকাত, রোজা ও হজ পালন করা।
কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি সূরা হুজুরাতে বেদুঈনদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: قُولُوا أَسْلَمْنَا وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ অর্থাৎ তোমরা বল ‘আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি’, কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। বাহ্যিক আত্মসমর্পণ যা প্রকাশ্যে আইনের আওতায় প্রকাশ পায়।

(খ) ‘হায়া’ (লজ্জা)-এর তাৎপর্য এবং বিশেষ উল্লেখের কারণ

হায়ার অর্থ: হায়া (الحياء) হলো অন্তরের এমন এক মহৎ নৈতিক গুণ যা মানুষকে যাবতীয় মন্দ, অশ্লীল ও নিন্দনীয় কাজ থেকে নিবৃত্ত রাখে এবং ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ সম্পাদনে উদ্বুদ্ধ করে।

লজ্জাকে বিশেষভাবে উল্লেখের কারণ: ঈমানের ষাট বা সত্তরের অধিক শাখার মধ্যে একমাত্র লজ্জাকে হাদিসে আলাদাভাবে তুলে ধরার কারণ হলো:

  • সকল নেক আমলের চালিকাশক্তি: লজ্জা হলো অন্যান্য সকল সৎগুণের উৎস। যার লজ্জা থাকে, সে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর নাফরমানি করতে সংকোচ বোধ করে।
  • পাপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ঢাল: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: إذا لم تستح فاصنع ما شئت (যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পার)। অর্থাৎ লজ্জা বিলুপ্ত হলে মানুষ পশুর চেয়েও অধম হয়ে পড়ে।
  • ঈমানের সাথে অঙ্গাঙ্গি সম্পর্ক: হাদিসে এসেছে: “লজ্জা ও ঈমান দুটি অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী; এর একটি উঠে গেলে অপরটিও উঠে যায়।”

৪ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا قتيبة قال حدثنا الليث عن يزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير عن عبد الله بن عمرو (رض) أن رجلاً سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أى الإسلام خير؟ قال تطعم الطعام وتقرأ السلام على من عرفت ومن لم تعرف –

(أ) تحدث عن دور إطعام الطعام وإفشاء السلام فى تنمية المجتمع –

(ب) اكتب نبذة من ترجمة عبد الله بن عمرو رضي الله عنه –

[৪. কুতায়বা (র.) … আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল: ইসলামের কোন কাজটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: তুমি অনাহারীকে অন্ন দান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম প্রদান করবে।]

[(ক) সমাজ বিনির্মাণে খাদ্য দান ও সালামের ব্যাপক প্রসারের ভূমিকা আলোচনা কর।]

[(খ) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]

(ক) সমাজ বিনির্মাণে অন্নদান ও সালামের ব্যাপক প্রসারের ভূমিকা

একটি শান্তিময়, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে খাদ্য দান এবং সালামের ব্যাপক প্রচার দুটি অনন্য সামাজিক হাতিয়ার:

  1. ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ: সমাজে ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের অন্নদান ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে। মানুষ যখন দেখে বিত্তবানরা তাদের ক্ষুধার অন্ন জোগাচ্ছে, তখন সমাজে অপরাধ প্রবণতা ও চুরি-ছিনতাই অনেকাংশে হ্রাস পায়।
  2. পারস্পরিক হৃদ্যতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “তোমরা ততক্ষণ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনবে, আর ততক্ষণ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন কাজের কথা বলব না যা করলে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের বিস্তার ঘটাও।”
  3. অহংকার ও শ্রেণিভেদ নির্মূল: কেবল পরিচিত বা পদস্থ ব্যক্তিদের সালাম না দিয়ে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দিলে মানুষের ভেতর থেকে অহংকার চূর্ণ হয় এবং সমাজে সমতার পরিবেশ তৈরি হয়।
  4. নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দান: ‘সালাম’ শব্দের অর্থই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা। সালাম দেওয়ার অর্থ হলো—আমার হাত ও মুখ থেকে আপনি সম্পূর্ণ নিরাপদ। এটি সমাজে আস্থার বাতাবরণ তৈরি করে।

(খ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-এর পরিচিতি

নাম ও জন্ম: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস আল-কুরাশী আস-সাহমী। তিনি তাঁর পিতা বিখ্যাত সেনানায়ক আমর ইবনুল আস (রা.)-এর চেয়ে মাত্র বারো বছরের ছোট ছিলেন। তিনি পিতার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেন।

হাদিস লিপিবদ্ধকরণ: তিনি ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হাদিস লেখক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যক্ষ অনুমতি নিয়ে তিনি যা শুনতেন তা লিখে রাখতেন। তাঁর এই সুপ্রসিদ্ধ হাদিস সংকলনের নাম ছিল ‘আস-সহীফাতুস সাদিকাহ’ (الصحيفة الصادقة)।

ইবাদত ও ওফাত: তিনি অত্যন্ত পরহেজগার সাহাবি ছিলেন; নিয়মিত রোজা রাখতেন ও রাতে দীর্ঘ সালাত আদায় করতেন। তিনি মোট ৭০০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৬৫ হিজরিতে তায়েফে বা মিসরে ৭২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

৫ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا سليمان قال حدثنا اسماعيل بن جعفر قال حدثنا نافع بن مالك بن ابى عامر أبو سهيل عن أبيه عن أبى هريرة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال : آية المنافق ثلاث إذا حدث كذب وإذا وعد اخلف وإذا اؤتمن خان –

(أ) ما معنى النفاق وكم قسما له؟ بين بالتفصيل –

(ب) تحدث عن أضرار النفاق فى الحياة الاجتماعية –

[৫. সুলাইমান (র.) … আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি—যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার নিকট আমানত রাখা হয় সে তাতে খিয়ানত করে।]

[(ক) নিফাকের অর্থ কী এবং এটি কত প্রকার? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

[(খ) সামাজিক জীবনে নিফাকের ক্ষতিকর প্রভাব ও অপকারিতা আলোচনা কর।]

(ক) নিফাকের অর্থ ও প্রকারভেদ

আভিধানিক অর্থ: ‘নিফাক’ (النفاق) শব্দটি ইঁদুরের গর্তের বিশেষ সুরঙ্গ (النافقاء) থেকে গৃহীত; যা দিয়ে ইঁদুর একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হয়ে আত্মগোপন করে।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: অন্তরে কুফর বা শত্রুতা গোপন রেখে মুখে বা প্রকাশ্যে ইসলাম ও আনুগত্যের কৃত্রিম ভান করাকে নিফাক বলা হয়।

নিফাকের প্রকারভেদ: নিফাক মূলত দুই প্রকার:

  1. আকীদা বা বিশ্বাসগত নিফাক (النفاق الاعتقادي / النفاق الأكبر): অন্তরে ইসলামকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা অথচ সমাজে সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য প্রকাশ্যে মুসলমান দাবি করা (যেমন মদিনার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের নিফাক)। এর কারণে মানুষ চিরতরে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় এবং আখেরাতে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে (দরকুল আসফাল) নিক্ষিপ্ত হবে।
  2. আমলি বা ব্যবহারিক নিফাক (النفاق العملي / النفاق الأصغر): বিশ্বাসে ইসলামকে সত্য মনে করা সত্ত্বেও চরিত্রে মুনাফিকদের বদভ্যাস থাকা; যেমন কথায় মিথ্যা বলা, ওয়াদা খেলাফ করা বা আমানতে খিয়ানত করা। এ ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ হয় না, তবে মারাত্মক কবিরা গুনাহগার ও ফাসিক বলে গণ্য হয়।

(খ) সামাজিক জীবনে নিফাকের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব

  • বিশ্বাস ও আস্থার সংকট: মিথ্যাচার ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে সমাজে মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়; ফলে পারস্পরিক চুক্তি ও অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যাহত হয়।
  • সামাজিক সংহতি বিনষ্ট: মুনাফিকের দ্বিমুখী স্বভাব সমাজে পরস্পরের বিরুদ্ধে গিবত, চোগলখোরি ও ষড়যন্ত্রের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ধ্বংস করে।
  • অর্থনৈতিক ক্ষতি ও খিয়ানত: আমানতে খিয়ানত করার কারণে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, রাষ্ট্রীয় আমানত ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্নীতির কবলে পড়ে।
  • উম্মাহর গোপন ক্ষতিসাধন: প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে গোপনে থাকা কপট মুনাফিক সমাজের জন্য বেশি বিপজ্জনক; কারণ তারা মুসলিম বেশে ভেতর থেকে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা সৃষ্টি করে।

৬ নম্বর প্রশ্ন

عن عامر قال سمعت النعمان بن بشير يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول : الحلال بين والحرام بين وبينهما مشتبهات لا يعلمها كثير من الناس فمن اتقى المشبهات استبرأ لدينه وعرضه ومن وقع فى الشبهات كراع يرعى حول الحمى يوشك أن يواقعه ألا وإن لكل ملك حمى ألا إن حمى الله فى أرضه محارمه ألا وإن فى الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله وإذا فسدت فسد الجسد كله ألا وهى القلب –

(أ) ما معنى الحمى؟ ثم وضح قوله عليه السلام “ألا إن حمى الله فى أرضه محارمه” –

(ب) ما هي معنى المضغة ولم سمى القلب بها؟ بين موضحا –

[৬. নুমান ইবনে বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট; আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহযুক্ত বিষয়, যা অনেক মানুষ জানে না। অতএব যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে নিষ্কলুষ রাখল। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত কাজে লিপ্ত হলো, সে হারামে পতিত হলো; যেমন কোনো রাখাল তার পশুপালকে কোনো সংরক্ষিত চারণভূমির কিনারে চরায়, যার সেখানে প্রবেশের প্রবল আশঙ্কা থাকে। জেনে রাখ! প্রত্যেক বাদশাহর একটি সংরক্ষিত এলাকা থাকে; আর আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহ। জেনে রাখ! শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে; তা যখন সুস্থ ও শুদ্ধ থাকে তখন পুরো শরীর শুদ্ধ থাকে, আর তা যখন কলুষিত হয় তখন পুরো শরীর কলুষিত হয়ে যায়; জেনে রাখ, সেটি হলো অন্তর (কালব)।]

[(ক) ‘হিমা’র অর্থ কী? অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “জেনে রাখ, আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর হারামকৃত বিষয়সমূহ”—এর ব্যাখ্যা দাও।]

[(খ) ‘মুদগাহ’ শব্দের অর্থ কী এবং অন্তরকে কেন এ নামে অভিহিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।]

(ক) ‘হিমা’র অর্থ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর তাৎপর্য

‘হিমা’ (الحمى)-এর অর্থ: প্রাচীন আরবে রাজা-বাদশাহগণ সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে নিজেদের বিশেষ পশুপালের জন্য যে চারণভূমি নির্দিষ্ট করে রাখতেন, তাকে ‘হিমা’ বা সংরক্ষিত চারণভূমি বলা হতো। সেখানে কোনো সাধারণ রাখালের পশুপাল ঢুকলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো।

“আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা তাঁর হারামসমূহ”: রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর সীমারেখাকে বাদশাহর সংরক্ষিত চারণভূমির সাথে রূপকভাবে তুলনা করেছেন। মহান আল্লাহও মানুষের জন্য কিছু বিষয়কে হারাম বা নিষিদ্ধ করে এক দুর্ভেদ্য সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ের সীমানায় বিচরণ করে, সে যেকোনো মুহূর্তে হারামের নিষিদ্ধ সীমানায় পা রেখে আল্লাহর গজবের মুখোমুখি হতে পারে। তাই মুত্তাকী ব্যক্তির দায়িত্ব হলো সন্দেহজনক বিষয়াদি থেকে বহু দূরে অবস্থান করা।

(খ) ‘মুদগাহ’ শব্দের অর্থ ও অন্তরকে এ নামে অভিহিত করার রহস্য

‘মুদগাহ’ (المضغة)-এর অর্থ: আরবিতে এক লোকমা বা এক চর্বণ পরিমাণ গোশতের টুকরাকে ‘মুদগাহ’ বলা হয়।

অন্তরকে এ নামে ডাকার কারণ: মানবদেহে হৃদপিণ্ড বা অন্তর আকারে অতি ক্ষুদ্র—একটি মাংসপিণ্ড সদৃশ। কিন্তু দৈহিক ক্ষুদ্রতা সত্ত্বেও এটিই সমগ্র মানবদেহের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও আত্মার রাজধানী। চোখ, কান, হাত ও পা সবই অন্তরের নির্দেশ পালনকারী সেবক মাত্র। অন্তরে যখন তাকওয়া, ইখলাস ও খোদাভীতি বিরাজ করে, তখন সমগ্র দেহ নেক আমলে পরিচালিত হয়। আর অন্তরে যখন কুফর, অহংকার ও লোভের বিষাক্ত ব্যাধি বাসা বাঁধে, তখন শারীরিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাপাচার ও বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত হয়।

৭ নম্বর প্রশ্ন

عن أسماء بنت أبى بكر رضى الله عنهما قالت أتتنى أمى راغبة فى عهد النبى صلى الله عليه وسلم فسألت النبى صلى الله عليه وسلم أصلها؟ قال نعم – قال ابن عيينة فأنزل الله تعالى فيها : “لا ينهاكم الله عن الذين لم يقاتلوكم فى الدين” –

(أ) تحدث عن أهمية صلة الأرحام وفوائدها –

(ب) اكتب نبذة من ترجمة أسماء بنت أبى বكر رضى الله عنهما –

[৭. আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমার মা (যিনি অমুসলিম ছিলেন) কিছু পাওয়ার আশায় আমার নিকট আসলেন। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: আমি কি আমার মায়ের সাথে সদাচরণ করব ও সম্পর্ক রাখব? তিনি বললেন: হ্যাঁ। ইবনে উয়াইনা (র.) বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে আয়াত নাজিল করলেন: “দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেনি তাদের সাথে সদাচরণ করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না।”]

[(ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব ও উপকারিতা আলোচনা কর।]

[(খ) আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]

(ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব ও উপকারিতা

  • অমুসলিম আত্মীয়ের প্রতিও সদাচরণের শিক্ষা: ইসলাম মানবতার ধর্ম। আত্মীয় যদি অমুসলিমও হয় এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধে লিপ্ত না থাকে, তবে তার সাথেও রক্তসম্পর্কের কারণে সদাচরণ করা, খাদ্য ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করা ইসলামের অনন্য সৌন্দর্য।
  • আয়ু ও রিজিকে বরকত: হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে আল্লাহ তাআলা হায়াত ও জীবিকায় অলৌকিক প্রবৃদ্ধি ও বরকত দান করেন।
  • পারিবারিক সুখ ও সামাজিক শান্তি: আত্মীয়দের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখলে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয় এবং সামাজিক সংহতি সুদৃঢ় থাকে।
  • পরকালে জান্নাত ও আল্লাহর সান্নিধ্য: যে ব্যক্তি সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথেও নিজে যেচে সম্পর্ক গড়ে তোলে, সে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করে।

(খ) হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

পরিচয় ও উপাধি: ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর জ্যেষ্ঠা কন্যা এবং উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.)-এর সহোদরা বোন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের সময় সাওর গুহায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি নিজ কোমরবন্ধনী দুই টুকরো করে ঝুলিয়েছিলেন; ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ‘যাতুন নিতাক্বাইন’ (দুই কোমরবন্ধনীর অধিকারিণী) উপাধিতে ভূষিত করেন।

বীরত্ব ও পরিবার: তিনি প্রখ্যাত সাহাবি ও আশারায়ে মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা.)-এর স্ত্রী এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-এর মহীয়সী মাতা। তিনি হিজরতের পর মদিনায় প্রথম মুসলিম নবজাতক আব্দুল্লাহকে জন্ম দেন। চরম বার্ধক্যে শতবর্ষ বয়সেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি অটুট ছিল। ৭৩ হিজরিতে মক্কায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

৮ নম্বর প্রশ্ন

عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يؤذ جاره ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليكرم ضيفه ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا أو ليصمت –

(أ) تحدث عن حقوق الجار فى الإسلام –

(ب) من هو الضيف الذى يجب إكرامه؟ بين بالاختصار –

[৮. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়; যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।]

[(ক) ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকারসমূহ আলোচনা কর।]

[(খ) কোন মেহমানকে আপ্যায়ন করা ওয়াজিব? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

(ক) ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার ও মর্যাদা

ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকারকে ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেশীর প্রধান প্রধান অধিকারগুলো হলো:

  1. কষ্ট না দেওয়া: কোনো ধরনের শব্দদূষণ, আবর্জনা ফেলা বা তাদের গোপনীয়তায় উঁকি দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনবার শপথ করে বলেছেন: “আল্লাহর কসম সে মুমিন নয়, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না।”
  2. ক্ষুধার্ত প্রতিবেশীর খাবার নিশ্চিত করা: নিজে তৃপ্তিসহকারে পেট পুরে খাওয়া অথচ প্রতিবেশী অভুক্ত থাকা—ইসলামে চরম অমানবিক ও ঈমানহীন আচরণ।
  3. বিপদ-আপদে সহযোগিতা: প্রতিবেশী অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, ঋণ চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করা এবং তার বিপদে পাশে দাঁড়ানো।
  4. প্রতিবেশীর প্রকারভেদ অনুযায়ী হক: ফকিহগণ বলেন প্রতিবেশী তিন প্রকার: (১) অমুসলিম প্রতিবেশী—যার একটি হক (প্রতিবেশী হিসেবে), (২) মুসলিম প্রতিবেশী—যার দুটি হক (প্রতিবেশী ও মুসলিম ভাই হিসেবে), এবং (৩) মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী—যার তিনটি হক (প্রতিবেশী, মুসলিম ও আত্মীয়তার হক)।

(খ) মেহমান আপ্যায়নের শরয়ি বিধান ও সীমা

ইসলামে মেহমানদারি এক মহান সুন্নাত ও অপরিহার্য নৈতিক দায়িত্ব:

  • প্রথম দিনের বিশেষ আপ্যায়ন (ওয়াজিব): রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: মেহমানের বিশেষ আতিথেয়তা হলো প্রথম দিন ও রাত। কোনো মুসাফির বা দূরবর্তী মেহমান আসলে প্রথম দিন সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম খাদ্য দিয়ে আপ্যায়ন করা ওয়াজিব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
  • দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন: পরবর্তী দুই দিন ও রাত সাধারণ মেহমানদারি হিসেবে গণ্য। তিন দিন পর্যন্ত মেহমানকে সঙ্গ ও খাবার দেওয়া সুন্নাত।
  • তিন দিনের পর: তিন দিনের অতিরিক্ত মেহমানদারি সদকা হিসেবে গণ্য হবে। তবে মেহমানের উচিত নয় তিন দিনের বেশি অবস্থান করে গৃহকর্তাকে বিব্রত বা কষ্টে ফেলা।

مجموعة (ب) [খ অংশ] (মান: ১ × ১০ = ১০)

৯ নম্বর প্রশ্ন

اكتب نبذة عن حياة الإمام البخارى (رح) ثم اذكر مزايا صحيح البخارى –

[৯. ইমাম বুখারী (র.)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ এবং সহীহ বুখারীর অনন্য বৈশিষ্ট্যাবলি উল্লেখ কর।]

ইমাম বুখারী (র.)-এর জীবনী সংক্ষেপ

হাদিস জগতের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (র.) ১৯৪ হিজরিতে বর্তমান উজবেকিস্তানের বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে অন্ধ হয়ে গেলে তাঁর মহীয়সী মায়ের আন্তরিক দোয়ায় আল্লাহ তাঁকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। বাল্যকালেই তিনি অসামান্য স্মৃতিশক্তির পরিচয় দেন এবং হাজার হাজার হাদিস মুখস্থ করেন। তিনি ইলমে হাদিসের সন্ধানে ইসলামী বিশ্বের সকল প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র চষে বেড়ান। ২৫৬ হিজরির ঈদুল ফিতরের রাতে সমরকন্দের নিকট খরতঙ্কে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সহীহ বুখারীর অনন্য বৈশিষ্ট্যাবলি

বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা ও মাহাত্ম্য
সর্বোচ্চ সনদের বিশুদ্ধতা বর্ণনাকারীদের সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত সরাসরি সাক্ষাৎ (লিকা) ও শ্রবণ প্রমাণিত হওয়া অপরিহার্য শর্ত।
সুবিশাল সংকলন প্রক্রিয়া ১৬ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ৬ লক্ষ হাদিস থেকে মাত্র ৭,৫৬৩টি (পুনরাবৃত্তিসহ) বিশুদ্ধতম হাদিস নির্বাচন করেন।
তারজামাতুল বাবের গভীরতা পরিচ্ছেদসমূহের নামকরণে ফিকহি সমাধান ও কুরআনের আয়াতের সমন্বয় ঘটিয়ে অনন্য মুজতাহিদের স্বাক্ষর রেখেছেন।
উম্মাহর সর্বসম্মত মান্যতা কুরআনুল কারীমের পরেই মানবজাতির নিকট সর্বাধিক নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য আসমানি মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব হিসেবে স্বীকৃত।

১০ নম্বর প্রশ্ন

تحدث عن أهمية الوالدين وفضله فى ضوء القرآن والسنة –

[১০. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পিতা-মাতার গুরুত্ব, মর্যাদা ও ফজিলত আলোচনা কর।]

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পিতা-মাতার মর্যাদা ও গুরুত্ব

ইসলামে মহান আল্লাহর ইবাদতের পরেই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কুরআন ও হাদিসে পিতা-মাতার অপরিসীম মর্যাদা নিম্নরূপ:

  1. আল্লাহর তাওহিদের সাথে পিতা-মাতার হকের সংযুক্তি: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا (আপনার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার কর – সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)।
  2. বার্ধক্যে সেবা ও দোয়ার তাগিদ: পিতা-মাতার কোনো একজন বা উভয় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সামান্য বিরক্তি প্রকাশ করে ‘উহ’ শব্দ পর্যন্ত বলতে নিষেধ করা হয়েছে; বরং বিনম্রভাবে তাদের জন্য দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا (হে আমার রব! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন)।
  3. জিহাদের চেয়েও পিতা-মাতার সেবার অগ্রাধিকার: এক সাহাবি রাসুলুল্লাহর নিকট জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: “তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত আছেন?” সাহাবি বললেন, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: “তবে তাদের সেবায় আত্মনিয়োগ কর; এটিই তোমার জিহাদ।”
  4. জান্নাত ও জাহান্নামের চাবিকাঠি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “পিতা হলো জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা; তুমি চাইলে তা সংরক্ষণ করতে পার অথবা বিনষ্ট করতে পার।” আর হাদিসে মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাতের কথা বলা হয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ‘ইন্নামাল আমালু বিন নিয়্যাত’ হাদিসটিকে ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ ইলম বলা হয় কেন?

কারণ মানুষের সমুদয় আমল হয় অন্তরের বিশ্বাস, নয় জিহ্বার উচ্চারণ, নয় শারীরিক কর্মের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়; আর এ তিনটির মূল চালিকাশক্তি হলো অন্তরের নিয়ত।

২. কবিরা গুনাহ ও সগিরা গুনাহের মূল পার্থক্য কী?

যে পাপে সরাসরি জাহান্নামের হুমকি বা দুনিয়ার নির্ধারিত শাস্তির বিধান রয়েছে তা কবিরা গুনাহ, যা তওবা ছাড়া মাফ হয় না; পক্ষান্তরে সাধারণ ত্রুটি-বিচ্যুতি সগিরা গুনাহ যা নিয়মিত নেক আমল দ্বারা মোচন হয়।

৩. সহীহ বুখারীতে একই হাদিস বারবার উল্লেখ করার কারণ কী?

ইমাম বুখারী (র.) একটি হাদিসের মধ্যে নিহিত একাধিক ফিকহি মাসআলা ও বিধান প্রমাণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সনদে সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে পুনরাবৃত্তি করেছেন।

৪. ইসলামে মেহমানদারির সর্বোচ্চ সীমা কত দিন?

মেহমানের জন্য বিশেষ আপ্যায়ন প্রথম দিন ও রাত; সাধারণ মেহমানদারি তিন দিন পর্যন্ত সুন্নাত। তিন দিনের অতিরিক্ত অবস্থান করা মেহমানের জন্য সমীচীন নয়।

৫. কেন হাদিসে পিতাকে জান্নাতের মধ্যবর্তী দরজা বলা হয়েছে?

পিতার বাধ্যতা ও সেবার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশের সর্বোত্তম ও প্রশস্ত পথ লাভ করা যায়; আর তাঁর অসন্তুষ্টি মানুষকে সরাসরি জাহান্নামের মুখে ঠেলে দেয়।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের বুখারী পরীক্ষার উত্তরপত্রে হাদিসের ব্যাখ্যা কীভাবে সাজানো উচিত?

হাদিসের মূল আরবি পাঠ, সরল তরজমা, শানুল উরূদ (প্রেক্ষাপট), শব্দার্থ ও ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং সর্বশেষে হাদিস থেকে প্রাপ্ত শরয়ি হুকুম ও সামাজিক শিক্ষা ক্রমানুসারে লেখা বাঞ্ছনীয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *