ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কম্পিউটার লিটারেসি (Computer Literacy)
বিষয় কোড: ২০৩২০৭
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলী
১. ALU কী? কম্পিউটারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।
[What is ALU? Describe the origin and development of computer elaborately.]
ভূমিকা
আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি হলো কম্পিউটার। কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ বা CPU-এর অভ্যন্তরে যে অংশটি সকল প্রকার গাণিতিক হিসাব-নিকাশ এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ সম্পন্ন করে তাকে ALU বলা হয়। আদিম গণনাযন্ত্র অ্যাবাকাস থেকে শুরু করে আধুনিক সুপারকম্পিউটার পর্যন্ত কম্পিউটারের ইতিহাস মানব মেধার এক বিস্ময়কর অগ্রযাত্রার ফসল।
১. ALU (Arithmetic Logic Unit)-এর পরিচয়
- পূর্ণরূপ: ALU-এর পূর্ণরূপ হলো Arithmetic Logic Unit (গাণিতিক যুক্তি ইউনিট)।
- সংজ্ঞা: কম্পিউটারের প্রসেসর বা CPU-এর যে মূল অংশে যাবতীয় গাণিতিক ক্রিয়া (যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ) এবং যৌক্তিক বা লজিক্যাল সিদ্ধান্তমূলক কার্যক্রম (তুলনা করা, যেমন: সমান, বড়, ছোট, সত্য বা মিথ্যা যাচাই) সম্পাদিত হয়, তাকে ALU বলে।
- কার্যপ্রক্রিয়া: এটি মূলত দুটি ভাগে কাজ করে:
- অ্যারিথমেটিক বা গাণিতিক অংশ: বাইনারি পদ্ধতিতে সকল মৌলিক গাণিতিক অপারেশন সম্পন্ন করে।
- লজিক বা যৌক্তিক অংশ: AND, OR, NOT অপারেশনের মাধ্যমে ডেটার পারস্পরিক তুলনা করে সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
২. কম্পিউটারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
ল্যাটিন শব্দ ‘Computare’ থেকে ‘Computer’ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ গণনা করা। কম্পিউটারের বিকাশকে পাঁচটি প্রজন্মে (Generations) ভাগ করা হয়:
- প্রাচীন যুগ ও উৎপত্তি:
- অ্যাবাকাস (Abacus): খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ অব্দে প্রাচীন চীন ও ব্যবিলনে তৈরি অ্যাবাকাসকে ইতিহাসের প্রথম গণনাযন্ত্র ধরা হয়।
- নেপিয়ারের হাড় (Napier’s Bones): ১৬১৪ সালে জন নেপিয়ার লগারিদম ভিত্তিক গণনা দণ্ড আবিষ্কার করেন।
- প্যাসকেলাইন (Pascaline): ১৬৪২ সালে ফরাসি গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকেল প্রথম যান্ত্রিক যোগ-বিয়োগের ক্যালকুলেটর তৈরি করেন।
- চার্লস ব্যাবেজের অবদান: ১৮২২ সালে ইংরেজ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ ‘ডিফারেন্স ইঞ্জিন’ এবং ১৮৩৩ সালে আধুনিক কম্পিউটারের রূপরেখা সংবলিত ‘অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন’ নকশা করেন। এতে ইনপুট, মেমরি, প্রসেসিং ও আউটপুট—এই চারটি আধুনিক উপাদান ছিল। এ জন্য চার্লস ব্যাবেজকে ‘কম্পিউটারের জনক’ বলা হয়। লেডি অ্যাডা অগাস্টা ব্যাবেজের ইঞ্জিনের জন্য বিশ্বের প্রথম প্রোগ্রাম তৈরি করেন।
- কম্পিউটারের প্রজন্মভিত্তিক ক্রমবিকাশ:
- প্রথম প্রজন্ম (১৯৪০-১৯৫৬): ভ্যাকিউম টিউব (Vacuum Tube) প্রযুক্তির ব্যবহার। আকার ছিল বিশালাকার এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হতো। উদাহরণ: ENIAC, EDVAC, UNIVAC-1।
- দ্বিতীয় প্রজন্ম (১৯৫৬-১৯৬৩): ট্রানজিস্টর (Transistor) আবিষ্কারের ফলে কম্পিউটারের আকার অনেক ছোট হয়, গতি বাড়ে এবং তাপ কম উৎপন্ন হয়। অ্যাসেম্বলি ও ফোরট্রানের মতো উচ্চস্তরের ভাষার সূচনা হয়। উদাহরণ: IBM 1401, CDC 1604।
- তৃতীয় প্রজন্ম (১৯৬৪-১৯৭১): আইসি (Integrated Circuit – IC) চিপের ব্যবহার। কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায় এবং মনিটর ও কি-বোর্ডের প্রচলন শুরু হয়। উদাহরণ: IBM 360, PDP-8।
- চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭১-বর্তমান): মাইক্রোপ্রসেসর (VLSI – Very Large Scale Integration) প্রযুক্তির উদ্ভাবন। একটি মাত্র চিপে লক্ষ লক্ষ ট্রানজিস্টর যুক্ত করে ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসি (PC), ল্যাপটপ তৈরি হয়। ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্কিংয়ের স্বর্ণযুগ সূচিত হয়।
- পঞ্চম প্রজন্ম (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence – AI), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সুপারকন্ডাক্টর এবং অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তির যুগ। কম্পিউটার মানুষের ভাষা বুঝতে পারে এবং নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম।
উপসংহার
গণকযন্ত্র হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও কম্পিউটার আজ মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার অপরিহার্য হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
২. সফটওয়্যার বলতে কী বুঝ? Microsoft office এর MS word ও MS power point এর ব্যবহার কৌশল বিস্তারিত আলোচনা কর।
[What do you know about software? Discuss the technique of Microsoft office’s MS word and MS power point elaborately.]
ভূমিকা
কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বা যান্ত্রিক অংশগুলোকে কার্যকর ও সচল করার জন্য যে নির্দেশনা বা প্রোগ্রামের সমষ্টি ব্যবহৃত হয় তাকে সফটওয়্যার বলে। বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় অফিস অটোমেশন স্যুট হলো মাইক্রোসফট অফিস, যার অন্তর্গত এমএস ওয়ার্ড ও পাওয়ারপয়েন্ট দাপ্তরিক ও একাডেমিক কাজে বিশ্বব্যাপী অপরিহার্য।
১. সফটওয়্যার (Software)-এর ধারণা ও প্রকারভেদ
- সংজ্ঞা: কম্পিউটার হার্ডওয়্যারকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য নির্দেশনাবলী, প্রোগ্রাম বা ডেটার সুশৃঙ্খল সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ আর সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ বা রূহ।
- প্রধান দুই প্রকার:
- সিস্টেম সফটওয়্যার: কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন: Windows, Linux, Android)।
- অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার: ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি অ্যাপ্লিকেশন (যেমন: MS Word, Excel, Photoshop)।
২. মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (MS Word)-এর ব্যবহার কৌশল
এমএস ওয়ার্ড হলো একটি শক্তিশালী ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার, যা যেকোনো ধরনের লেখালেখি, কম্পোজ ও ডকুমেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়:
- ডকুমেন্ট তৈরি ও সংরক্ষণ: MS Word ওপেন করে ‘File’ > ‘New’ > ‘Blank Document’-এ ক্লিক করে নতুন ফাইল তৈরি করা হয় এবং ‘Ctrl + S’ চেপে কম্পিউটারে ফাইল সংরক্ষণ (Save) করা হয়।
- টেক্সট টাইপিং ও ফরম্যাটিং: বাংলা (বিজয় বা অভ্র) বা আরবি ফন্টে টাইপ করার পর ফন্ট সাইজ, বোল্ড (Ctrl+B), ইটালিক (Ctrl+I), আন্ডারলাইন (Ctrl+U) এবং টেক্সট কালার প্রয়োগ করা যায়।
- প্যারাগ্রাফ ও অ্যালাইনমেন্ট: অনুচ্ছেদের লেখা বামে (Left), মাঝে (Center), ডানে (Right) কিংবা জাস্টিফাই (Justify) করার জন্য প্যারাগ্রাফ টুলবার ব্যবহার করা হয়। লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান (Line Spacing) নির্ধারণ করা যায়।
- ইনসার্ট মেনুর ব্যবহার: ‘Insert’ ট্যাবের মাধ্যমে পৃষ্ঠায় টেবিল তৈরি, ছবি (Picture) যুক্ত করা, পৃষ্ঠা নম্বর (Page Number), হেডার ও ফুটার যোগ করা যায়।
- পৃষ্ঠা সেটআপ ও প্রিন্ট: ‘Page Layout’ থেকে মার্জিন, পেপার সাইজ (A4, Legal) নির্ধারণ করে ‘Ctrl + P’ চেপে প্রিন্ট করা হয়।
৩. মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট (MS PowerPoint)-এর ব্যবহার কৌশল
পাওয়ারপয়েন্ট হলো একটি প্রেজেন্টেশন বা তথ্য উপস্থাপনা সফটওয়্যার, যা সেমিনার, ক্লাসরুম ও দাওয়াহ সম্মেলনে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত হয়:
- স্লাইড তৈরি (New Slide): ‘Home’ ট্যাব থেকে ‘New Slide’-এ ক্লিক করে বিভিন্ন লেআউটের স্লাইড যুক্ত করা যায়। স্লাইডে শিরোনাম ও বুলেট পয়েন্টে মূল বক্তব্য সাজানো হয়।
- ডিজাইন ও থিম প্রয়োগ: ‘Design’ ট্যাব থেকে আকর্ষণীয় বিল্ট-ইন থিম ও ব্যাকগ্রাউন্ড কালার নির্বাচন করে স্লাইডের ভিজ্যুয়াল সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়।
- ট্রানজিশন (Transitions): এক স্লাইড থেকে অন্য স্লাইডে যাওয়ার গতিময় ইফেক্ট (যেমন: Fade, Wipe, Push ইত্যাদি) ‘Transitions’ ট্যাব থেকে যুক্ত করা হয়।
- অ্যানিমেশন (Animations): স্লাইডের ভেতরের লেখা, পয়েন্ট ও ছবির ওপর ‘Animations’ ট্যাব থেকে বিভিন্ন গতিময় ইফেক্ট (Fly In, Zoom ইত্যাদি) দেওয়া হয়, যাতে বক্তব্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে পয়েন্ট প্রদর্শিত হয়।
- স্লাইড শো প্রদর্শন (Slide Show): কি-বোর্ডের F5 কী চাপলে পুরো স্ক্রিন জুড়ে পূর্ণাঙ্গ প্রেজেন্টেশন চালু হয়। স্পেসবার বা অ্যারো কী চেপে পরবর্তী স্লাইডে যাওয়া যায়।
উপসংহার
ওয়ার্ড প্রসেসিং ও প্রেজেন্টেশনের এ দুটি টুলস আয়ত্ত করা আধুনিক যুগের যেকোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইসলামি গবেষকের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ দক্ষতা।
৩. ‘Storage device’ কী? বিভিন্ন প্রকার মেমরির তুলনামূলক আলোচনা কর।
[What is storage device? Discuss the comparison of different types of memory.]
ভূমিকা
কম্পিউটার সিস্টেমে প্রক্রিয়াকরণের পূর্বে, প্রক্রিয়াকরণকালে এবং প্রক্রিয়াকরণের পর ডেটা ও ফলাফল ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য যেখানে জমা রাখা হয় তাকে স্টোরেজ ডিভাইস বা মেমরি বলে। মেমরির স্থায়িত্ব, গতি ও ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আধুনিক কম্পিউটার সিস্টেম কাজ করে।
১. স্টোরেজ ডিভাইস (Storage Device)-এর পরিচয়
স্টোরেজ ডিভাইস হলো এমন একটি ডিজিটাল হার্ডওয়্যার বা মাধ্যম যা ডিজিটাল ডেটা, ফাইল, অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যারের নির্দেশনাবলী স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে ধারণ বা সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। যেমন: র্যাম, হার্ডডিস্ক, এসএসডি, পেনড্রাইভ ইত্যাদি।
২. মেমরির মূল শ্রেণিবিভাগ
কম্পিউটারের মেমরিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:
- প্রাথমিক মেমরি (Primary / Main Memory): সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এটি উচ্চগতির কিন্তু ধারণক্ষমতা সীমিত। যেমন: RAM ও ROM।
- মাধ্যমিক মেমরি (Secondary / Auxiliary Storage): তথ্য স্থায়ীভাবে ধারণ করে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন: HDD, SSD, অপটিক্যাল ডিস্ক, পেনড্রাইভ।
৩. বিভিন্ন প্রকার মেমরির তুলনামূলক আলোচনা
| তুলনার ক্ষেত্র | RAM (র্যাম) | ROM (রম) | Secondary Storage (HDD/SSD) |
|---|---|---|---|
| ১. পূর্ণরূপ | Random Access Memory | Read Only Memory | Hard Disk Drive / Solid State Drive |
| ২. মেমরির প্রকৃতি | অস্থায়ী বা ভোলাটাইল (বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেটা মুছে যায়)। | স্থায়ী বা নন-ভোলাটাইল (বিদ্যুৎ গেলেও ডেটা অক্ষুণ্ণ থাকে)। | সম্পূর্ণ স্থায়ী ও পরিবর্তনযোগ্য (নন-ভোলাটাইল)। |
| ৩. কাজের ধরন | চলমান প্রোগ্রাম ও তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়াকরণের ডেটা ধরে রাখে। | কম্পিউটার বুটিং ও বায়োস (BIOS)-এর স্থায়ী নির্দেশনা সংরক্ষণ করে। | ব্যবহারকারীর ফাইল, সফটওয়্যার ও ওএস দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করে। |
| ৪. পঠন ও লিখন | ডেটা পড়া (Read) ও লেখা (Write) উভয়ই অত্যন্ত দ্রুত করা যায়। | সাধারণত শুধুমাত্র পড়া (Read) যায়, সহজে পরিবর্তন করা যায় না। | প্রয়োজনমতো ডেটা সেভ, রিড, এডিট ও ডিলিট করা যায়। |
| ৫. গতি ও ক্ষমতা | অতি দ্রুতগতির; তবে ধারণক্ষমতা কম (সাধারণত ৪ জিবি থেকে ৬৪ জিবি)। | মধ্যম গতির; ধারণক্ষমতা অত্যন্ত কম (কয়েক মেগাবাইট)। | র্যামের চেয়ে ধীরগতির; কিন্তু ধারণক্ষমতা বিশাল (৫১২ জিবি থেকে কয়েক টেরাবাইট)। |
| ৬. প্রতি বিট মূল্য | প্রতি গিগাবাইটের মূল্য অনেক বেশি। | চিপ হিসেবে মাদারবোর্ডে যুক্ত থাকে, মূল্য মধ্যম। | প্রতি গিগাবাইটের খরচ র্যামের তুলনায় অনেক কম। |
উপসংহার
কম্পিউটারের দ্রুত প্রসেসিংয়ের জন্য র্যামের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার কিতাব ও ডেটা সংরক্ষণে সেকেন্ডারি স্টোরেজ অপরিহার্য।
৪. দা’ওয়াহ সম্প্রসারণে কম্পিউটারের ভূমিকা আলোচনা কর।
[Discuss the role of computers in the expansion of Da’wah.]
ভূমিকা
ইসলাম একটি শাশ্বত ও বৈশ্বিক দ্বীন। মানবজাতির প্রতিটি প্রান্তরে ইসলামের শান্তি ও তাওহীদের অমিয় বাণী পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি মুসলিমের ওপর ঈমানী দায়িত্ব। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট দাওয়াতের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বিপ্লব সাধন করেছে, যা পূর্বের যেকোনো যুগের চেয়ে দাওয়াতের পরিধিকে হাজার গুণ সম্প্রসারিত করেছে।
১. দাওয়াহ সম্প্রসারণে কম্পিউটারের যুগান্তকারী ভূমিকা
- ১. ডিজিটাল লাইব্রেরি ও ইসলামিক গবেষণা (Digital Library):
কম্পিউটার সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইসলামের হাজার বছরের গবেষণাকর্ম মুহূর্তের মধ্যে হাতের নাগালে চলে এসেছে। ‘আল-মাকতাবাতুশ শামেলা’ (المكتبة الشاملة)-এর মতো সফটওয়্যারে তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, ইতিহাসসহ কয়েক লক্ষ কিতাব সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে একজন দায়ী যেকোনো জটিল প্রশ্নের উত্তর ও রেফারেন্স কয়েক সেকেন্ডেই খুঁজে পান।
- ২. বিশ্বব্যাপী সাইবার দাওয়াহ ও সোশ্যাল মিডিয়া:
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল মিডিয়া (ইউটিউব, ফেসবুক, এক্স, পডকাস্ট) ব্যবহার করে বিশ্বের অমুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। ডা. জাকির নায়েক বা আহমেদ দিদাতের মতো আন্তর্জাতিক দায়ীদের বক্তব্য আজ কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।
- ৩. বহুভাষিক অনুবাদ ও সাহিত্য প্রকাশনা:
কম্পিউটার টাইপসেটিং ও অনুবাদ টুলের কল্যাণে কুরআনুল কারীম ও সিরাত সাহিত্যের অনুবাদ বিশ্বের শত শত ভাষায় অত্যন্ত দ্রুত মুদ্রণ ও ই-বুক বা পিডিএফ আকারে বিনামূল্যে বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
- ৪. মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা ও কিশোর-তরুণদের আকৃষ্টকরণ:
পাওয়ারপয়েন্ট, ভিডিও এডিটিং ও মোশন গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব উপযোগী দৃষ্টিনন্দন ইসলামি তথ্যচিত্র ও অ্যানিমেশন তৈরি করে শিশুদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া সহজ হয়েছে।
- ৫. দূরশিক্ষণ ও ভার্চুয়াল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি:
অনলাইন জুম বা ওয়েবিনারের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো দেশে বসে শিক্ষার্থীরা প্রখ্যাত আলেমদের নিকট সরাসরি কুরআন হিফজ, কিরাত ও দাওয়াহ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে পারছে।
- ৬. ইসলামোফোবিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক খণ্ডন:
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসলামের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচার, সংশয় ও মিথ্যা অভিযোগের তাৎক্ষণিক তথ্যবহুল ও যৌক্তিক জবাব কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।
উপসংহার
কম্পিউটার আধুনিক যুগের ‘ঐশী বরকত’। এর সঠিক ও নৈতিক ব্যবহারের মাধ্যমে উম্মাহর যুবসমাজকে দ্বীনের পতাকাবাহী হিসেবে বিশ্বজয়ী করে গড়ে তোলা সম্ভব।
৫. মাইক্রোসফট এক্সেল বলতে কী বুঝ? এর প্রয়োজনীয়তা ও পরিধি আলোচনা কর।
[What do you know about Microsoft excel? Discuss its necessity and field of work.]
ভূমিকা
মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত সর্বাধিক বহুল ব্যবহৃত এবং শক্তিশালী স্প্রেডশিট অ্যাপ্লিকেশন হলো মাইক্রোসফট এক্সেল (MS Excel)। এটি মূলত জটিল গাণিতিক হিসাব-নিকাশ, আর্থিক বিশ্লেষণ, পরিসংখ্যান এবং ডেটা ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
১. মাইক্রোসফট এক্সেল-এর পরিচয়
- সংজ্ঞা: মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস সফটওয়্যার, যা সারি (Row) এবং কলাম (Column)-এর সমন্বয়ে গঠিত গ্রিড বা ওয়ার্কশিটে ডেটা সাজিয়ে স্বয়ংক্রিয় গাণিতিক সূত্র ও ফাংশনের সাহায্যে জটিল হিসাব ও চার্ট তৈরি করে।
- ওয়ার্কশিট ও সেল: এক্সেলের প্রতিটি আনুভূমিক লাইনকে Row (সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত: 1, 2, 3…) এবং প্রতিটি উলম্ব লাইনকে Column (অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত: A, B, C…) বলা হয়। রো এবং কলামের মিলনস্থলকে Cell (সেল) বলা হয় (যেমন: A1, B5)।
২. মাইক্রোসফট এক্সেল-এর প্রয়োজনীয়তা
- স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভুল হিসাব-নিকাশ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মতো মৌলিক কাজের পাশাপাশি SUM, AVERAGE, IF, VLOOKUP ইত্যাদি জটিল ফাংশন ব্যবহার করে চোখের পলকে লক্ষ লক্ষ ডেটার নির্ভুল হিসাব করা যায়।
- সময় ও শ্রমের সাশ্রয়: এক্সেলে একবার ফর্মুলা সেট করে দিলে পরবর্তীতে ডেটা পরিবর্তন হলেও ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ (Auto calculate) হয়ে যায়, যা ম্যানুয়াল খাতার হিসাবের চেয়ে শতগুণ দ্রুত।
- ডেটা ফিল্টারিং ও সাজানো (Sorting & Filtering): বিশালাকার ডেটাসেট থেকে নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে বের করা এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো অত্যন্ত সহজ।
- গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন: জটিল সংখ্যাভিত্তিক ডেটাকে কলাম চার্ট, পাই চার্ট বা বার চার্টের মাধ্যমে দৃষ্টিগ্রাহ্য ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা যায়।
- বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনা: প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের বাজেট, ক্যাশ ফ্লো এবং আর্থিক পূর্বাভাসের সঠিক হিসাব রাখা যায়।
৩. মাইক্রোসফট এক্সেল-এর কাজের পরিধি (Field of Work)
- ১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসা প্রশাসন: শিক্ষার্থীদের ভর্তি তালিকা, পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতকরণ, গ্রেড শিট (GPA) তৈরি এবং বেতন আদায়ের হিসাবরক্ষণ।
- ২. ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যাংকিং: পণ্যদ্রব্যের ইনভেন্টরি স্টক ব্যবস্থাপনা, দৈনিক বেচাকেনা, ব্যাংকের সুদমুক্ত আর্থিক হিসাব এবং লাভ-লোকসান বিশ্লেষণ।
- ৩. পেরোল ও বেতন শিট (Salary Sheet): সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ট্যাক্স কর্তনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুতকরণ।
- ৪. বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানিক গবেষণা: যেকোনো গবেষণার জরিপের ডেটা এন্ট্রি, স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন, কো-রিলেশন ইত্যাদি পরিসংখ্যানিক সূত্র প্রয়োগ।
উপসংহার
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে মাইক্রোসফট এক্সেল এক অপরিহার্য ও অনবদ্য প্রযুক্তিগত সমাধান।
৬. কম্পিউটারের ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসগুলো বর্ণনা কর।
[Describe the input and output devices of a computer.]
ভূমিকা
কম্পিউটার একটি ডেটা প্রসেসিং সিস্টেম। যে সকল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারকে ডেটা ও নির্দেশ প্রদান করে সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস এবং প্রক্রিয়াকরণের পর প্রাপ্ত ফলাফল ব্যবহারকারীর কাছে উপস্থাপন করার যন্ত্রগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে।
১. ইনপুট ডিভাইস (Input Devices)-এর বিবরণ
ইনপুট ডিভাইসের প্রধান কাজ হলো মানুষের বোধগম্য সংকেতকে কম্পিউটারের বোধগম্য বাইনারি (০ ও ১) সংকেতে রূপান্তর করে প্রসেসরে পাঠানো:
- কী-বোর্ড (Keyboard): সবচেয়ে মৌলিক ও বহুল ব্যবহৃত টেক্সট ইনপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে বর্ণ, সংখ্যা ও বিশেষ কমান্ড প্রবেশ করানো হয়।
- মাউস (Mouse): একটি নির্দেশক বা পয়েন্টিং ডিভাইস। এর মাধ্যমে স্ক্রিনের কার্সার সরিয়ে ক্লিক, ড্র্যাগ ও ড্রপ করে দ্রুত নির্দেশ দেওয়া হয়।
- স্ক্যানার (Scanner): যে ডিভাইসের সাহায্যে কোনো মুদ্রিত বই, পাণ্ডুলিপি বা ছবির হুবহু ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো যায়।
- ওএমআর (OMR – Optical Mark Reader): পরীক্ষার খাতার বৃত্তাকার কালো দাগ পড়ে বহু নির্বাচনী (MCQ) উত্তরপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যায়নের ডিভাইস।
- ওসিআর (OCR – Optical Character Reader): ছাপানো বা হাতের লেখার অক্ষর স্ক্যান করে এডিটেবল ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তরকারী ডিভাইস।
- মাইক্রোফোন (Microphone): অডিও বা মানুষের কণ্ঠস্বরকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে সাউন্ড ইনপুট প্রদানের ডিভাইস।
- ওয়েবক্যাম ও ডিজিটাল ক্যামেরা: জীবন্ত ভিডিও ও ছবি কম্পিউটারে ক্যাপচার করার ইনপুট ডিভাইস।
২. আউটপুট ডিভাইস (Output Devices)-এর বিবরণ
প্রসেসর কর্তৃক প্রক্রিয়াজাত বাইনারি ফলাফলকে মানুষের বোধগম্য ভাষায়, চিত্রে বা শব্দে রূপান্তর করে প্রদর্শন বা প্রকাশের ডিভাইসগুলো হলো আউটপুট ডিভাইস:
- মনিটর বা ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট (Monitor / VDU): কম্পিউটারের প্রধান আউটপুট ডিভাইস, যা প্রসেসিংয়ের ফলাফল সরাসরি স্ক্রিনে প্রদর্শন করে (যেমন: LED, LCD, OLED মনিটর)।
- প্রিন্টার (Printer): ডিজিটাল ফলাফলকে কাগজের বুকে স্থায়ীভাবে মুদ্রণ (Hard Copy) করে বের করার যন্ত্র। প্রধানত লেজার প্রিন্টার, ইঙ্কজেট প্রিন্টার ও ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- স্পিকার ও হেডফোন (Speaker & Headphone): কম্পিউটারের ডিজিটাল অডিও সিগন্যালকে মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দ তরঙ্গে রূপান্তর করে প্রকাশকারী ডিভাইস।
- মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর (Projector): মনিটরের ছোট পর্দাকে বড় কোনো দেয়াল বা স্ক্রিনে বৃহৎ আকারে প্রদর্শনের আউটপুট ডিভাইস, যা সেমিনার ও শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত হয়।
- প্লটার (Plotter): বিশাল আকারের ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা, আর্কিটেকচারাল ব্লুপ্রিন্ট ও ফ্লেক্স ব্যানার নিখুঁতভাবে মুদ্রণ করার বিশেষ আউটপুট যন্ত্র।
উপসংহার
ইনপুট ডিভাইস কম্পিউটারের কান ও চোখের মতো কাজ করে আর আউটপুট ডিভাইস তার মুখ ও ভাষার মতো কাজ করে পুরো সিস্টেমকে সার্থক রূপ দান করে।
৭. নেটওয়ার্ক কী? নেটওয়ার্ক কত প্রকার ও কী কী? বিস্তারিত আলোচনা কর।
[What is network? How many kinds of network? Discuss elaborately.]
ভূমিকা
বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। দুটি বা ততোধিক কম্পিউটারকে যখন তথ্য, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সম্পদ বিনিময়ের উদ্দেশ্যে একে অপরের সাথে কোনো মাধ্যম দ্বারা যুক্ত করা হয়, তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলা হয়।
১. কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধারণা
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো যোগাযোগ তার (Cable) বা ওয়্যারলেস (Radio wave/Microwave) তরঙ্গের মাধ্যমে একাধিক কম্পিউটারের মধ্যকার এমন এক আন্তঃসংযোগ, যার মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান, প্রিন্টার বা ইন্টারনেট শেয়ারিং এবং দূরবর্তী যোগাযোগ সম্ভব হয়।
২. ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ
ভৌগোলিক সীমানা ও দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়:
- PAN (Personal Area Network – ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক):
- পরিধি: সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- বিবরণ: একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর (যেমন: মোবাইল, ল্যাপটপ, ব্লুটুথ হেডসেট) মধ্যকার নেটওয়ার্ক। ব্লুটুথ, ওয়াইফাই হটস্পট হলো প্যানের প্রধান উদাহরণ।
- LAN (Local Area Network – স্থানীয় নেটওয়ার্ক):
- পরিধি: একটি একক কক্ষ, ভবন, অফিস বা মাদরাসা ক্যাম্পাসের সীমানায় (সাধারণত ১ থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে)।
- বিবরণ: অফিস বা ল্যাবের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে ইথারনেট কেবল বা ওয়াইফাই (WLAN)-এর মাধ্যমে ডেটা ও প্রিন্টার শেয়ার করার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। এর গতি অত্যন্ত দ্রুত (100 Mbps থেকে 1 Gbps)।
- MAN (Metropolitan Area Network – মহানগর নেটওয়ার্ক):
- পরিধি: একটি সম্পূর্ণ শহর বা মহানগরীর এলাকা জুড়ে (সাধারণত ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার)।
- বিবরণ: একটি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা একাধিক ল্যানকে (যেমন একটি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা বা কেবল টিভি নেটওয়ার্ক) অপটিক্যাল ফাইবার বা মাইক্রোওয়েভ দিয়ে যুক্ত করে ম্যান গঠিত হয়।
- WAN (Wide Area Network – দূরবর্তী/বিশ্বজনীন নেটওয়ার্ক):
- পরিধি: একটি পুরো দেশ, মহাদেশ কিংবা সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত।
- বিবরণ: উপগ্রহ (Satellite), সাবমেরিন ক্যাবল ও টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন দেশ ও শহরের নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে ওয়ান তৈরি হয়। বিশ্বের বৃহত্তম WAN-এর বাস্তব উদাহরণ হলো ‘ইন্টারনেট’ (Internet)।
৩. নেটওয়ার্ক টপোলজির সংক্ষিপ্ত রূপ
কম্পিউটারগুলো কীভাবে ভৌগোলিকভাবে তার দ্বারা সাজানো থাকে তার ভিত্তিতে বাস (Bus), স্টার (Star), রিং (Ring), ট্রি (Tree) ও মেশ (Mesh) টপোলজি দেখা যায়; যার মধ্যে স্টার টপোলজি সর্বাধিক জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য।
উপসংহার
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আধুনিক বিশ্বকে একটি বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) পরিণত করেছে, যার মাধ্যমে ভৌগোলিক দূরত্ব আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়েছে।
৮. ইমেজ কী? ইমেজ-এর প্রকারভেদ আলোচনা কর।
[What is image? Describe the classification of image.]
ভূমিকা
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে তথ্য উপস্থাপনের অন্যতম শক্তিশালী ও চিত্তাকর্ষক মাধ্যম হলো ছবি বা ইমেজ (Image)। কোনো দৃশ্য, বস্তু বা ধারণাকে যখন ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দায় আলোকচিত্র বা গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয় তখন তাকে ইমেজ বলে।
১. ইমেজের সংজ্ঞা
ইমেজ হলো কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক দৃশ্যের দ্বিমাত্রিক (2D) বা ত্রিমাত্রিক (3D) রূপায়ন, যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দুর (Pixel) সমন্বয়ে কম্পিউটার মেমরিতে বাইনারি কোড আকারে সংরক্ষিত থাকে এবং ডিসপ্লে ডিভাইসে দৃশ্যমান হয়।
২. গঠনের ভিত্তিতে ডিজিটাল ইমেজের প্রধান দুই প্রকারভেদ
কম্পিউটার গ্রাফিক্সে ইমেজ মূলত দুই প্রকার:
- রাস্টার ইমেজ বা বিটম্যাপ ইমেজ (Raster / Bitmap Image):
- গঠন: রাস্টার ইমেজ গঠিত হয় লাখ লাখ ক্ষুদ্র চতুর্ভুজাকার রঙিন বিন্দুর সমন্বয়ে, যাকে পিক্সেল (Pixel) বলা হয়। প্রতিটি পিক্সেলের সুনির্দিষ্ট কালার ভ্যালু থাকে।
- বৈশিষ্ট্য: এই ইমেজকে বেশি জুম (Zoom) বা বড় করলে ছবি ফেটে যায় বা অস্পষ্ট (Pixelated) হয়ে পড়ে। ক্যামেরায় তোলা ছবি বা স্ক্যান করা ছবি রাস্টার ইমেজের উদাহরণ।
- জনপ্রিয় ফাইল ফরম্যাট: JPEG/JPG, PNG, GIF, BMP, TIFF, WebP।
- ভেক্টর ইমেজ (Vector Image):
- গঠন: এটি পিক্সেল দিয়ে তৈরি নয়; বরং গাণিতিক সূত্র, রেখা (Lines), বক্ররেখা (Curves), বিন্দু ও জ্যামিতিক আকারের সাহায্যে গঠিত হয়।
- বৈশিষ্ট্য: ভেক্টর ইমেজকে যত গুণই বড় বা জুম করা হোক না কেন এর রেজোলিউশন বিন্দুমাত্র নষ্ট হয় না এবং ছবি ফাটে না। লোগো, ফন্ট ও আর্কিটেকচারাল ডিজাইনে এটি ব্যবহৃত হয়।
- জনপ্রিয় ফাইল ফরম্যাট: SVG, AI, EPS, CDR।
৩. রঙের গভীরতার (Color Depth) ভিত্তিতে ইমেজের শ্রেণিবিভাগ
- বাইনারি বা ১-বিট ইমেজ (Monochrome): কেবল দুটি রং থাকে—কালো ও সাদা।
- গ্রেস্কেল ইমেজ (Grayscale): সাদা থেকে কালো রঙের বিভিন্ন শেড সংবলিত (২৫৬টি গ্রে লেভেল)।
- আরজিবি কালার ইমেজ (RGB Color – 24 bit): লাল (Red), সবুজ (Green) ও নীল (Blue)—এই তিনটি মৌলিক রঙের মিশ্রণে তৈরি ১ কোটি ৬৫ লক্ষ রঙের পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ছবি। কম্পিউটার ও ওয়েব ডিসপ্লের জন্য আদর্শ।
- সিএমওয়াইকে ইমেজ (CMYK): সায়ান, ম্যাজেন্টা, হলুদ ও কালো রঙের মিশ্রণে তৈরি ইমেজ, যা বাণিজ্যিক প্রিন্টিং ও প্রেসের জন্য ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার
ইমেজ প্রক্রিয়াকরণ ও গ্রাফিক্সের জ্ঞান আধুনিক মাল্টিমিডিয়া প্রকাশনা এবং ডিজিটাল ইসলামি দাওয়াহর পোস্টার ও ব্যানার ডিজাইনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত উত্তরীয় প্রশ্নাবলী
৯ (ক). কম্পিউটার কী? এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[What is computer? Write down the differences between analog and digital computer.]
উত্তর:
কম্পিউটারের সংজ্ঞা: কম্পিউটার হলো একটি দ্রুতগামী আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর নিকট থেকে নির্দেশ ও ডেটা গ্রহণ করে, মেমরিতে সংরক্ষিত প্রোগ্রামের মাধ্যমে তা প্রক্রিয়াজাত করে এবং নির্ভুল ও তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রকাশ করে।
এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য:
| তুলনার বিষয় | এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer) | ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer) |
|---|---|---|
| ১. সিগন্যালের প্রকৃতি | নিরবচ্ছিন্ন ও পরিবর্তনশীল ভৌত সংকেত (Continuous Signals) নিয়ে কাজ করে। | বিচ্ছিন্ন বাইনারি সংকেত (Discrete Signals: ০ এবং ১) নিয়ে কাজ করে। |
| ২. ডেটার উৎস | তাপমাত্রা, বায়ুর চাপ, ভোল্টেজ বা গতি পরিমাপ করে। | সংখ্যা, অক্ষর, প্রতীক ও লজিক্যাল ডেটা নিয়ে কাজ করে। |
| ৩. ফলাফলের নির্ভুলতা | ফলাফল আনুমানিক বা তুলনামূলক, শতভাগ সূক্ষ্ম নয়। | ফলাফল অত্যন্ত নির্ভুল ও শতভাগ সুনির্দিষ্ট। |
| ৪. মেমরি ক্ষমতা | মেমরি বা ডেটা সংরক্ষণের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। | বিশাল পরিমাণ তথ্য দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে পারে। |
| ৫. বাস্তব উদাহরণ | গাড়ির স্পিডোমিটার, থার্মোমিটার, ভূকম্পন মাপক যন্ত্র। | ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ক্যালকুলেটর। |
৯ (খ). সফটওয়্যারের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।
[Write down the common features of software.]
উত্তর:
কম্পিউটার সফটওয়্যারের প্রধান সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
- অস্পৃশ্যতা (Intangible): সফটওয়্যার কোনো দৃশ্যমান ভৌত বস্তু নয়; একে স্পর্শ করা যায় না, কেবল কার্যকারিতা অনুধাবন করা যায়।
- হার্ডওয়্যার সচলকারী: হার্ডওয়্যারের নিজস্ব কোনো বুদ্ধিমত্তা নেই; সফটওয়্যারই হার্ডওয়্যারকে কর্মক্ষম করে তোলে।
- ক্ষয়হীনতা (Does not wear out): হার্ডওয়্যারের মতো সফটওয়্যারে কোনো মরিচা বা শারীরিক ক্ষয় হয় না; তবে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আপডেট করতে হয়।
- কাস্টমাইজেশন ও নমনীয়তা: ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যারের কোড পরিবর্তন বা নতুন ফিচার যুক্ত করা সম্ভব।
- সহজ অনুলিপিকরণ (Duplication): একটি সফটওয়্যারের অবিকল হাজার হাজার প্রতিলিপি বা কপি খুব দ্রুত ও স্বল্প খরচে তৈরি করা যায়।
৯ (গ). ডেটা কমিউনিকেশন কী? এর উপাদানগুলো বর্ণনা কর।
[What is data communication? Describe the elements of data communication.]
উত্তর:
ডেটা কমিউনিকেশন: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অথবা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সাহায্যে ডেটা বা তথ্যের সফল ও অর্থপূর্ণ বিনিময়কে ডেটা কমিউনিকেশন বলে।
ডেটা কমিউনিকেশনের পাঁচটি অপরিহার্য উপাদান:
- ১. প্রেরক (Sender / Source): যে ডিভাইস থেকে ডেটা তৈরি ও পাঠানো হয় (যেমন: কম্পিউটার, মোবাইল)।
- ২. গ্রাহক (Receiver / Destination): যে ডিভাইস পাঠানো ডেটা গ্রহণ করে (যেমন: সার্ভার, প্রিন্টার বা অন্য কোনো কম্পিউটার)।
- ৩. মাধ্যম (Medium / Communication Channel): যার ভেতর দিয়ে সংকেত পরিবাহিত হয়। এটি তারযুক্ত (যেমন: কো-অ্যাক্সিয়াল ক্যাবল, ফাইবার অপটিক) বা তারবিহীন (যেমন: রেডিও ওয়েভ, স্যাটেলাইট) হতে পারে।
- ৪. বার্তা (Message): যে তথ্য, টেক্সট, অডিও, ভিডিও বা ডেটা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পাঠানো হয়।
- ৫. প্রোটোকল (Protocol): ডেটা বিনিময়ের জন্য উভয় প্রান্ত কর্তৃক মান্য একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও চুক্তি (যেমন: TCP/IP, HTTP, FTP)। প্রোটোকল ছাড়া দুটি ডিভাইস যুক্ত হলেও যোগাযোগ অসম্ভব।
৯ (ঘ). ল্যাপটপ কম্পিউটার কী? এর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
[What is Laptop computer? Write its five characteristics.]
উত্তর:
ল্যাপটপ কম্পিউটার: ‘Lap’ শব্দের অর্থ কোল এবং ‘Top’ অর্থ ওপর। অর্থাৎ কোলে রেখে সহজে ব্যবহার উপযোগী ছোট, হালকা, ব্যাটারিচালিত বহনযোগ্য ব্যক্তিগত কম্পিউটারকে ল্যাপটপ বা নোটবুক কম্পিউটার বলা হয়।
ল্যাপটপের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- বহনযোগ্যতা (Portability): এটি ওজনে অত্যন্ত হালকা (১ থেকে ৩ কেজি) হওয়ায় ব্যাগে ভরে যেকোনো স্থানে সহজে বহন করা যায়।
- রিচার্জেবল ব্যাটারি: সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও নিজস্ব ব্যাটারির সাহায্যে একটানা ৪ থেকে ১০ ঘণ্টা কাজ করা যায়।
- অল-ইন-ওয়ান ডিজাইন: স্ক্রিন, কি-বোর্ড, টাচপ্যাড (মাউস), স্পিকার, ওয়েবক্যাম এবং প্রসেসর একক কাঠামোর মধ্যে ভাঁজ করা অবস্থায় সন্নিবেশিত থাকে।
- স্বল্প বিদ্যুৎ খরচ: সাধারণ ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় ল্যাপটপে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়।
- তারবিহীন যোগাযোগ (Wireless Connectivity): বিল্ট-ইন ওয়াইফাই ও ব্লুটুথ সুবিধা থাকায় যেকোনো স্থান থেকে তাৎক্ষণিক ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়া যায়।
৯ (ঙ). কম্পিউটারের জনক কে? কেন তাকে জনক বলা হয়?
[Who is the father of computer? Why is called the father?]
উত্তর:
কম্পিউটারের জনক হলেন ব্রিটিশ গণিতবিদ ও প্রকৌশলী চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage, 1791-1871)।
তাকে কম্পিউটারের জনক বলার কারণ:
- অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিনের নকশা (১৮৩৩): চার্লস ব্যাবেজ ১৮৩৩ সালে এমন একটি যান্ত্রিক গণনাযন্ত্রের পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়ন করেন, যা আধুনিক ডিজিটাল কম্পিউটারের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
- আধুনিক আর্কিটেকচারের স্বপ্নদ্রষ্টা: বর্তমান কম্পিউটারের চারটি প্রধান অংশ—ইনপুট (Input), মেমরি বা স্টোরেজ (Store), প্রসেসিং ইউনিট (Mill) এবং আউটপুট (Output)—এই ধারণার সর্বপ্রথম সফল রূপরেখা প্রদান করেছিলেন চার্লস ব্যাবেজ।
- স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রামের ধারণা: তাঁর যন্ত্রটিতে পাঞ্চ কার্ডের মাধ্যমে শর্তভিত্তিক নির্দেশনা ও প্রোগ্রাম চালানোর সুযোগ ছিল। যদিও তৎকালীন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি জীবদ্দশায় পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনটি তৈরি সম্পন্ন করতে পারেননি, কিন্তু তাঁর ধারণার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে আধুনিক কম্পিউটারের বিকাশ ঘটেছে। এ জন্যই তাঁকে কৃতজ্ঞতার সাথে ‘কম্পিউটারের জনক’ বলা হয়।
৯ (চ). OCR, OMR ও Printer সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।
[Write down about OCR, OMR and Printer in brief.]
উত্তর:
- OCR (Optical Character Reader):
এটি এমন একটি প্রযুক্তি ও ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজের সাধারণ ছাপানো বা হাতে লেখা বর্ণ ও সংখ্যাকে অপটিক্যাল স্ক্যানারের সাহায্যে পড়ে কম্পিউটারে এডিটেবল টেক্সটে রূপান্তর করতে পারে। এর সাহায্যে পুরোনো বই বা দলিল নতুন করে টাইপ না করেই ডিজিটাল ফাইলে রূপান্তর করা যায়।
- OMR (Optical Mark Reader):
এটি একটি বিশেষ অপটিক্যাল ইনপুট ডিভাইস, যা কাগজের নির্দিষ্ট ঘরে পেনসিল বা কালির বৃত্তাকার ভরাট চিহ্ন শনাক্ত করতে পারে। বিশেষ আলোর প্রতিফলনের মাত্রা মেপে এটি কাজ করে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষার MCQ উত্তরপত্র স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভুলভাবে অতি দ্রুত মূল্যায়নে ওএমআর ব্যবহৃত হয়।
- Printer (প্রিন্টার):
প্রিন্টার হলো একটি বহুল ব্যবহৃত হার্ডকপি আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটার মেমরিতে সংরক্ষিত কোনো ডিজিটাল লেখা, গ্রাফ বা ছবিকে কাগজের বুকে স্থায়ীভাবে মুদ্রণ করে প্রকাশ করাই এর কাজ। যেমন: লেজার প্রিন্টার (টোনালি ভিত্তিক দ্রুত মুদ্রণ) ও ইঙ্কজেট প্রিন্টার (তরল কালির রঙিন মুদ্রণ)।
৯ (ছ). মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে একটি টেবিল তৈরি করার ধাপগুলো লেখ।
[Write down the steps of creating a table in MS word.]
উত্তর:
মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে তথ্যকে সারি (Row) ও কলাম (Column)-এ সাজিয়ে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য টেবিল তৈরি করা হয়। এর প্রধান ধাপগুলো নিম্নরূপ:
- ধাপ ১: ডকুমেন্টের যেখানে টেবিল তৈরি করতে হবে সেখানে কার্সার স্থাপন করতে হবে।
- ধাপ ২: রিবনের ওপরের মেনু থেকে ‘Insert’ ট্যাবে ক্লিক করতে হবে।
- ধাপ ৩: ‘Tables’ গ্রুপ থেকে ‘Table’ আইকনে ক্লিক করতে হবে।
- ধাপ ৪: ড্রপডাউন গ্রিড থেকে মাউস ঘুরিয়ে প্রয়োজনমতো রো এবং কলাম সিলেক্ট করে ক্লিক করলেই ডকুমেন্টে টেবিল ইনসার্ট হয়ে যাবে।
- বিকল্প পদ্ধতি: ‘Table’ ড্রপডাউনে গিয়ে ‘Insert Table…’ অপশনে ক্লিক করে একটি পপআপ উইন্ডো আসবে; সেখানে কলামের সংখ্যা (Number of columns) ও সারির সংখ্যা (Number of rows) নির্দিষ্ট করে টাইপ করে ‘OK’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
- ধাপ ৫: টেবিল তৈরি হওয়ার পর প্রতিটি ঘরের (Cell) ভেতরে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় টেক্সট বা সংখ্যা টাইপ করা যাবে।
৯ (জ). ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুযোগ ও সুবিধাগুলো আলোচনা কর।
[Discuss the facilities and benefits of internet.]
উত্তর:
ইন্টারনেট (International Network) হলো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত কম্পিউটারগুলোর এক মহামিলনমেলা। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রধান সুযোগ-সুবিধাসমূহ হলো:
- তথ্য ও জ্ঞানের অবাধ প্রাপ্তি: গুগল, উইকিপিডিয়াসহ অনলাইন লাইব্রেরিগুলোর মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ে তথ্য, বই, গবেষণা প্রবন্ধ সেকেন্ডের মধ্যে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
- দ্রুততম বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ: ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের অপর প্রান্তে থাকা মানুষের সাথে তাৎক্ষণিক ও প্রায় বিনামূল্যে কথা বলা ও বার্তা বিনিময় করা যায়।
- অনলাইন শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ (E-Learning): ঘরে বসেই বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণ ও লেকচার শোনা সম্ভব হচ্ছে।
- ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যাংকিং: ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা এবং ক্রেডিট কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে মুহূর্তেই বিল ও অর্থ লেনদেন করা যায়।
- ডিজিটাল ইসলামি দাওয়াহ: বিশ্বজুড়ে ইসলামি সাহিত্য, তাফসীর ও ওয়াজ-মাহফিল ছড়িয়ে দেওয়া এবং সরাসরি প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে দ্বীনের আলোয় আলোকিত করা যাচ্ছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: সিপিইউ (CPU)-এর প্রধান তিনটি অংশ কী কী?
উত্তর: সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU)-এর প্রধান তিনটি অংশ হলো—১. গাণিতিক যুক্তি ইউনিট (ALU – Arithmetic Logic Unit), ২. নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (Control Unit – CU), এবং ৩. মেমরি রেজিস্টার (Registers/Cache)।
প্রশ্ন ২: র্যাম (RAM) এবং রম (ROM)-এর মৌলিক পার্থক্য কী?
উত্তর: র্যাম হলো অস্থায়ী বা ভোলাটাইল মেমরি, যা বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেটা হারিয়ে ফেলে এবং এটি রিড ও রাইট উভয় কাজ করতে পারে। পক্ষান্তরে রম হলো স্থায়ী বা নন-ভোলাটাইল মেমরি, যা বিদ্যুৎ গেলেও ডেটা অক্ষুণ্ণ রাখে এবং মূলত কেবল রিড করা যায়।
প্রশ্ন ৩: বিশ্বের বৃহত্তম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কোনটি?
উত্তর: বিশ্বের বৃহত্তম ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN) হলো ‘ইন্টারনেট’ (Internet), যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি, বেসরকারি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করেছে।
প্রশ্ন ৪: রাস্টার ইমেজ ও ভেক্টর ইমেজের প্রধান তফাত কী?
উত্তর: রাস্টার ইমেজ পিক্সেল বিন্দু দিয়ে গঠিত হওয়ায় বড় বা জুম করলে ফেটে যায় (যেমন JPG, PNG); কিন্তু ভেক্টর ইমেজ গাণিতিক সূত্রের রেখা দিয়ে তৈরি হওয়ায় যত বড়ই করা হোক না কেন রেজোলিউশন নষ্ট হয় না (যেমন SVG, AI)।
প্রশ্ন ৫: কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যকার সম্পর্ক কী?
উত্তর: হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের স্পর্শযোগ্য যান্ত্রিক শরীর, আর সফটওয়্যার হলো সেই শরীরকে সচল করার প্রাণশক্তি বা প্রোগ্রামের নির্দেশনা। একে অপর ছাড়া উভয়ই সম্পূর্ণ অচল।
প্রশ্ন ৬: ইসলামি দাওয়াহ প্রচারে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?
উত্তর: কম্পিউটারের মাধ্যমে আল-মাকতাবাতুশ শামেলাসহ ডিজিটাল লাইব্রেরিতে সেকেন্ডে হাদিস-তাফসীর গবেষণা করা যায় এবং ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বহুভাষিক অনুবাদের সাহায্যে বিশ্বময় কোটি মানুষের কাছে নির্ভুল ইসলামি দাওয়াত দ্রুত প্রচার করা যায়।