জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলুমুল কুরআন (Ulumul Quran) – 203205, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা 2019

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثانية لتفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ۲۰۱۹م
الدعوة والدراسات الإسلامية
علوم القرآن [কোর্স কোড: 203205]
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ۸۰


مجموعة (ألف) [ক-বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি]

١- عرف علوم القرآن – ثم اكتب نشأته وتطوره عبر العصور

تعريف علوم القرآن ونشأته وتطوره / উলূমুল কুরআনের পরিচয় এবং এর উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ

১. উলূমুল কুরআনের পরিচয় (تعريف علوم القرآن):
‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (علم)-এর বহুবচন, যার অর্থ জ্ঞান বা বিদ্যাসমূহ। আর ‘আল-কুরআন’ (القرآن) হলো মহান আল্লাহর কালাম। অতএব উলূমুল কুরআন হলো কুরআন সংশ্লিষ্ট যাবতীয় শাস্ত্রের সামগ্রিক রূপ।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম সুয়ূতী ও আল্লামা যারকানী (রহ.) বলেন:

«عُلُومُ الْقُرْآنِ: عِلْمٌ يَتَنَاوَلُ الْأَبْحَاثَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِالْقُرْآنِ الْكَرِيمِ؛ مِنْ حَيْثُ نُزُولُهُ، وَكِتَابَتُهُ، وَجَمْعُهُ، وَتَرْتِيبُهُ، وَمَعْرِفَةُ الْمَكِّيِّ وَالْمَدَنِيِّ، وَالنَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ، وَأَسْبَابِ النُّزُولِ، وَإِعْجَازِهِ، وَأُصُولِ تَفْسِيرِهِ»

ভাষান্তর: “উলূমুল কুরআন হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র যা কুরআন কারীমের নাযিল, লিখন, সংকলন, বিন্যাস, মাক্কী ও মাদানী নির্ধারণ, নাসিখ ও মানসূখ, শানে নুযূল, ই’যায (অলৌকিকত্ব) এবং তাফসিরের মূলনীতি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।”

২. উলূমুল কুরআনের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ (النشأة والتطور):

  • নবীযুগ ও সাহাবীযুগ (মৌখিক চর্চার পর্যায়): প্রাথমিক যুগে এ শাস্ত্র কোনো লিখিত আকারে ছিল না। সাহাবায়ে কিরাম সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে ওহীর ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট জেনে নিতেন। হযরত আলী, ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস ও উবাই ইবনে কাব (রা.) ছিলেন উলূমুল কুরআনের প্রথম শিক্ষক।
  • তাবেয়িযুগ (শাখা শাস্ত্রের সূচনা): সাহাবাদের পর তাবেয়ি তাফসিরবিদরা মক্কা, মদিনা ও কুফায় ইলম বিস্তার করেন। মুজাহিদ, সাঈদ ইবনে জুবাইর, হাসান বসরী ও কাতাদাহ (রহ.) কুরআনের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা মৌখিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন।
  • সংকলন যুগের সূচনা (দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরী): হিজরী দ্বিতীয় শতকে প্রথম স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হতে থাকে। যেমন—ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামার (নুকতা ও হরকত প্রবর্তন), হাসান বসরী (মাক্কী ও মাদানী বিষয়ক গ্রন্থ) এবং আলী ইবনুল মাদীনী (আসবাবুন নুযূল বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ)। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে ‘কিতাবুত তাফসির’ অধ্যায় সংযোজন করেন।
  • চতুর্থ হিজরী ও পরিভাষা রূপায়ণ: আবু বকর ইবনুল আম্বারী ‘আদাবু কিতাবাতিল মাসাহিফ’ এবং আবু বকর আস-সিজিস্তানী ‘গারীবুল কুরআন’ প্রণয়ন করেন। আবু বকর আল-বাকিল্লানী ‘ই’জাযুল কুরআন’ রচনা করেন।
  • পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র হিসেবে সংকলন (সপ্তম ও অষ্টম হিজরী): এ যুগে উলূমুল কুরআনের সমস্ত শাখাকে একত্রিত করে বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ রচিত হয়। ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (রহ.) [মৃ. ৭৯৪ হি.] রচনা করেন সুবিখ্যাত ‘আল-বুরহান ফি উলূমিল কুরআন’ (البرهان في علوم القرآن)।
  • নবম হিজরী ও শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ: ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) [মৃ. ৯১১ হি.] রচনা করেন উলূমুল কুরআনের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ আকরগ্রন্থ ‘আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন’ (الإتقان في علوم القرآن), যাতে উলূমুল কুরআনের ৮০টি প্রধান শাখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
  • আধুনিক যুগ: আধুনিক যুগে শায়খ মুহাম্মদ আব্দুল আজীম যারকানী প্রণীত ‘মানাহিলুল ইরফান ফি উলূমিল কুরআন’ এবং মান্না’উল কাত্তান প্রণীত ‘মাবাহিস ফি উলূমিল কুরআন’ সর্বাধিক সমাদৃত গ্রন্থ।

٢- ما معنى الوحي لغة واصطلاحًا؟ تحدث عن كيفية وصوله إلى الرسل عليهم السلام

حقيقة الوحي وكيفية نزوله على الرسل / ওহীর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং রাসুলদের নিকট ওহী প্রেরণের পদ্ধতিসমূহ

১. ওহীর শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচয়:
‘ওহী’ (الوحي) আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দ্রুত ও গোপনে ইশারা করা (الإشارة السريعة الخفية), গোপনে কারো মনে কোনো ভাব জাগ্রত করা (الإلهام الخفي)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ওহী বলা হয়:

«الْوَحْيُ: كَلَامُ اللَّهِ تَعَالَى الْمُنَزَّلُ عَلَى نَبِيٍّ مِنْ أَنْبِيَائِهِ بِطَرِيقٍ سَرِيعٍ خَفِيٍّ خَارِقٍ لِلْعَادَةِ»

ভাষান্তর: “আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রেরিত নবী-রাসুলগণের নিকট অতি দ্রুত, অলৌকিক ও অপ্রকাশ্য পদ্ধতিতে যে জীবনবিধান, দিকনির্দেশনা ও আসমানী কালাম প্রেরণ করেন, তাকে ওহী বলে।”

২. ওহী প্রেরণের পদ্ধতিসমূহ (كيفية نزوله):
পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শূরার ৫১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ওহী প্রেরণের তিনটি প্রধান মাধ্যম উল্লেখ করেছেন:

﴿وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ اللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ﴾

  1. ইলহাম বা অন্তরে নিক্ষেপ (وَحْيًا – النفث في الروع): কোনো ফেরেশতার মাধ্যম ব্যতীত সরাসরি নবীর অন্তরে কোনো কথা বা আদেশ সুনিশ্চিতভাবে স্থাপন করে দেওয়া অথবা সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে তা অবগত করা। নবীগণের স্বপ্ন ওহী হিসেবে গণ্য (যেমন ইবরাহীম আ.-এর কুরবানির স্বপ্ন)।
  2. পর্দার অন্তরাল থেকে বাক্যালাপ (مِن وَرَاءِ حِجَابٍ): কোনো চাক্ষুষ আকৃতি দেখা না গিয়ে সরাসরি আল্লাহর কালাম শ্রবণ করা। যেমন তূর পর্বতে হযরত মূসা (আ.)-এর সাথে আল্লাহ সরাসরি কথা বলেছিলেন, তাই তাঁকে ‘কালীমূল্লাহ’ বলা হয়। মিরাজের রাতে মহানবী ﷺ-এর সাথেও এ পদ্ধতিতে কথা হয়েছিল।
  3. ফেরেশতা মারফত ওহী প্রেরণ (يُرْسِلَ رَسُولًا): জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে নবীদের কাছে ওহী পৌঁছানো। এটি প্রধান মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর ফেরেশতা মারফত দুটি প্রধান উপায়ে ওহী আসত:
    • ঘণ্টাধ্বনির ন্যায় কঠিন ওহী (مثل صلصلة الجرس): এটি ছিল সবচেয়ে কষ্টদায়ক অবস্থা। প্রচণ্ড শীতের দিনেও নবীজি ঘেমে যেতেন এবং উটের ওপর সওয়ার থাকলে উট ভার সহ্য করতে না পেরে বসে পড়ত।
    • মানব বেশে আগমন: জিবরাঈল (আ.) মানুষের আকৃতিতে আসতেন; অধিকাংশ সময় সাহাবী হযরত দিহয়া আল-কালবী (রা.)-এর রূপ ধারণ করে ওহী পৌঁছে দিতেন (যেমন হাদীসে জিবরীল)।
    • নিজস্ব আসমানী আকৃতিতে: জিবরাঈল (আ.) তাঁর ছয়শত নূরের ডানা বিশিষ্ট আসল আকৃতিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে দু’বার প্রকাশিত হয়েছিলেন—প্রথমবার হেরা গুহা থেকে ফেরার সময় দিগন্তজোড়া আকৃতিতে এবং দ্বিতীয়বার মিরাজে সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে।

٣- تحدث عن جمع القرآن في عهد عثمان رضي الله عنه

جمع القرآن في عهد عثمان بن عفان رضي الله عنه / হযরত উসমান (রা.)-এর যুগে পবিত্র কুরআন সংকলন

১. কুরআন সংকলনের ঐতিহাসিক পটভূমি ও কারণ:
ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে (২৪-৩৫ হি.) ইসলামী সাম্রাজ্য আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, পারস্য, সিরিয়া ও উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বিজিত অঞ্চলের নওমুসলিমগণ বিভিন্ন সাহাবীর নিকট কুরআন শিক্ষা নিচ্ছিলেন। ফলে ইরাকবাসী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কিরাআত এবং সিরিয়াবাসী উবাই ইবনে কাবের কিরাআত অনুযায়ী তিলাওয়াত করছিল।
আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া সীমান্ত অভিযানের সময় প্রখ্যাত সাহাবী হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) লক্ষ্য করেন যে কিরাআতের সামান্য পার্থক্যের কারণে মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে মারাত্মক বিতর্ক ও পরস্পরকে কাফের আখ্যা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত মদিনায় ফিরে এসে খলিফা উসমান (রা.)-কে কাতর কণ্ঠে অনুরোধ করেন: “হে আমীরুল মুমিনীন! ইয়াহুদি ও নাসারারা যেমন নিজেদের কিতাব নিয়ে বিভক্ত হয়েছিল, এই উম্মত কুরআনের কিরাআত নিয়ে বিভক্ত হওয়ার পূর্বেই এদের রক্ষা করুন!”

২. সংকলন পরিষদ গঠন:
উসমান (রা.) শীর্ষস্থানীয় সাহাবায়ে কিরামের পরামর্শক্রমে ২৫ হিজরীতে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সংকলন কমিটি গঠন করেন:

  1. হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত আনসারী (রা.) – প্রধান সমন্বয়ক ও ওহী লেখক।
  2. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর কুরাইশী (রা.)।
  3. হযরত সাঈদ ইবনুল আস কুরাইশী (রা.)।
  4. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে হারিছ ইবনে হিশাম কুরাইশী (রা.)।

৩. সংকলন পদ্ধতি ও গৃহীত নীতিমালা:

  • হযরত উমর (রা.)-এর ওফাতের পর উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রা.)-এর হেফাজতে রক্ষিত হযরত আবু বকর (রা.)-এর মূল প্রামাণ্য পাণ্ডুলিপিটি (মুসহাফ) উসমান (রা.) চেয়ে আনেন।
  • উসমান (রা.) নির্দেশ দেন: “কুরআনের কোনো শব্দের উচ্চারণ বা বানানে যায়েদ (আনসারী) এবং তিন কুরাইশী সদস্যের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তা কুরাইশদের কথ্যরীতিতে লিপিবদ্ধ করবে; কারণ কুরআন কুরাইশদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে।”
  • কমিটি অত্যন্ত সতর্কতা ও সর্বোচ্চ আমানতদারিতার সাথে মূল পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে একাধিক অবিকল কপি প্রস্তুত করেন। হরকত বা নুকতা ব্যতীত এমন এক লিপিরীতিতে (রসমুল খত) লেখা হয় যা আরবের সাতটি অনুমোদিত সহীহ সাব’আ আহরুফকে ধারণ করতে সক্ষম।

৪. মাসাহিফে উসমানী বিতরণ ও বিভ্রান্তি নিরসন:
প্রস্তুতকৃত কপিগুলোকে ‘আল-মুসহাফুল ইমাম’ বলা হয়। উসমান (রা.) এর একটি কপি মদিনায় নিজের কাছে রাখেন এবং অবশিষ্ট কপিগুলো মক্কা, কুফা, বসরা, দামেস্ক, বাহরাইন ও ইয়েমেনে একজন প্রখ্যাত ক্বারী সাহাবীসহ প্রেরণ করেন। এর বাইরে সাহাবাদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি যেখানে অসম্পূর্ণ টিকা বা কিরাআত মিশ্রিত ছিল, উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য ও পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে সাহাবাদের সর্বসম্মত সমর্থনে তা ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়। এর ফলে সমগ্র উম্মাহ একটি একক প্রামাণ্য কুরআনের ওপর চিরতরে ঐক্যবদ্ধ হয়। এজন্য উসমান (রা.)-কে ‘জামেউল কুরআন’ (কুরআন ঐক্যবদ্ধকারী) বলা হয়।


٤- ما معنى النسخ؟ اذكر أركانه وشروطه وحكمته في التشريع

النسخ في القرآن الكريم: تعريفه وأركانه وشروطه وحكمته / নাসখের অর্থ, রুকন, শর্তাবলি এবং শরয়ী হিকমত

১. নাসখের আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয়:
‘নাসখ’ (النَّسْخُ) শব্দের শাব্দিক অর্থ দুটি: ক. দূর করা বা বাতিল করা (الإزالة والرفع); যেমন: نَسَخَتِ الشَّمْسُ الظِّلَّ (সূর্য ছায়াকে অপসারিত করেছে)। খ. নকল করা বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা (النَّقْلُ والتحويل); যেমন: نَسَخْتُ الْكِتَابَ (আমি বইটি নকল করেছি)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: উসূলে ফিকহ ও উলূমুল কুরআনের পরিভাষায় নাসখ বলা হয়:

«النَّسْخُ: رَفْعُ حُكْمٍ شَرْعِيٍّ بِدَلِيلٍ شَرْعِيٍّ مُتَرَاخٍ عَنْهُ»

ভাষান্তর: “পরবর্তী কোনো শরয়ী দলিলের মাধ্যমে পূর্ববর্তী কোনো শরয়ী হুকুম বা বিধানের বিলোপসাধন করাকে নাসখ বলা হয়।”

২. নাসখের রুকনসমূহ (أركان النسخ):
নাসখ সম্পন্ন হওয়ার জন্য চারটি রুকন বিদ্যমান থাকতে হয়:

  1. নাসিখ বা রহিতকারী (النَّاسِخُ): স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা, অথবা যে পরবর্তী আয়াত বা দলিল দ্বারা হুকুম রহিত করা হয়।
  2. মানসূখ বা রহিত বিষয় (الْمَنْسُوخُ): পূর্ববর্তী যে শরয়ী হুকুমটি পরিবর্তন বা বাতিল করা হয়েছে।
  3. মানসূখ আনহু (الْمَنْسُوخُ عَنْهُ): শরীয়তের মুকাল্লাফ বা যাদের ওপর হুকুমটি প্রযোজ্য ছিল (মানবজাতি/মুসলিম উম্মাহ)।
  4. নাসিখের বিলম্বিত হওয়া (تراخي الناسخ عن المنسوخ): নাসিখ দলিলটি মানসূখ দলিলের পরে অবতীর্ণ হওয়া আবশ্যক।

৩. নাসখ শুদ্ধ হওয়ার শর্তাবলি (شروط النسخ):

  • রহিতকৃত হুকুমটি অবশ্যই শরয়ী বিধান (আহকাম) হতে হবে; ঈমান-আকীদা, আল্লাহর গুণাবলি বা অতীতের ঐতিহাসিক সংবাদ (আখবার)-এ কোনো নাসখ হয় না।
  • রহিতকারী দলিলটি কুরআন বা মুতাওয়াতির সুন্নাহ হতে হবে (সমমানের বা শক্তিশালী দলিল)। কিয়াস বা ইজমা দ্বারা কুরআনের বিধান রহিত হতে পারে না।
  • পূর্ববর্তী বিধানটিতে কোনো চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা ‘আবাদান’ (চিরকাল) শব্দ যুক্ত থাকা চলবে না।
  • উভয় বিধানের মধ্যে বিরোধ এমন হতে হবে যে কোনোভাবেই সমন্বয় সাধন সম্ভব নয়।

৪. শরয়ী বিধানে নাসখের হিকমত ও কল্যাণ (حكمة النسخ في التشريع):

  • উম্মতের জন্য পর্যায়ক্রমিক সহজীকরণ (التدرج في التشريع): জাহিলিয়্যাতের অন্ধকার থেকে সদ্য মুক্ত হওয়া মানুষকে অভ্যস্ত করতে আল্লাহ তায়ালা পর্যায়ক্রমিক বিধান দিয়েছেন। যেমন: মদপান প্রথমে নিরুৎসাহিত করা, এরপর সালাতের সময় নিষিদ্ধ করা এবং পরিশেষে চিরতরে হারাম ঘোষণা করা।
  • বান্দার কল্যাণ ও পরীক্ষা: বিভিন্ন যুগে সময়ের চাহিদামাফিক বান্দার কল্যাণ পরিবর্তন হয়। এছাড়া আল্লাহর নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে বান্দার আনুগত্য পরীক্ষা করাও নাসখের উদ্দেশ্য; যেমন বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কাবা শরীফের দিকে কিবলা পরিবর্তন।
  • আল্লাহর অফুরন্ত রহমত প্রকাশ: কঠিন বিধান পরিবর্তন করে সহজ বিধান দান করা (যেমন তাহাজ্জুদের ফরজিয়াত শিথিল করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা)।

٥- كم قسمًا للتفسير وما هي؟ بيّن مع ذكر شروط المفسر وآدابه

أقسام التفسير وشروط المفسر وآدابه / তাফসিরের প্রকারভেদ এবং মুফাসসিরের যোগ্যতা ও আদবসমূহ

১. তাফসিরের প্রকারভেদ (أقسام التفسير):
তাফসিরের ভিত্তি ও কর্মপদ্ধতির দিক থেকে তা প্রধানত তিন শ্রেণীতে বিভক্ত:

  1. তাফসির বিল-মা’ছুর (التَّفْسِيرُ بِالْمَأْثُورِ): কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবা ও তাবেয়িদের নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে যে তাফসির করা হয়। এটি সর্বাধিক প্রামাণ্য ও শ্রেষ্ঠ তাফসির। বিখ্যাত গ্রন্থ: ইমাম তাবারীর ‘জামেউল বায়ান’ এবং ইবনে কাসীরের ‘তাফসীরুল কুরআনিল আজীম’।
  2. তাফসির বির-রায় (التَّفْسِيرُ بِالرَّأْيِ): যে তাফসির বিশুদ্ধ আরবি ভাষা, ব্যাকরণ ও শরয়ী মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ইজতিহাদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার মাধ্যমে রচিত হয়। এটি প্রশংসিত (মাহমূদ) হলে গ্রহণযোগ্য; কিন্তু মনগড়া হলে নিন্দিত (মযমুম)। বিখ্যাত গ্রন্থ: ইমাম ফখরুদ্দীন রাযীর ‘মাফাতিহুল গাইব’ এবং কাযী বায়যাবীর ‘আনওয়ারুত তানযীল’।
  3. তাফসির বিল-ইশারাহ বা ইশারী তাফসির (التَّفْسِيرُ الْإِشَارِيُّ): বাহ্যিক অর্থের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও সূক্ষ্ম ইশারাভিত্তিক ভাবার্থ উদ্ঘাটন করা। বিখ্যাত গ্রন্থ: আলুসী বাগদাদীর ‘রূহুল মাআনী’ এবং তুসতারীর তাফসির।

২. মুফাসসিরের আবশ্যকীয় যোগ্যতাসমূহ ও শর্তাবলি (شروط المفسر):
ইমাম সুয়ূতী (রহ.) আল-ইতকান গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে একজন যোগ্য মুফাসসির হতে হলে অন্তত ১৫টি মৌলিক বিদ্যায় অগাধ পাণ্ডিত্য থাকতে হবে:

  • ১. বিশুদ্ধ ও নিখুঁত আকীদা এবং সুন্নাহর অনুসারী হওয়া।
  • ২. আরবি ভাষার শব্দার্থ ও ব্যাকরণ শাস্ত্র (লুগাত, নাহু ও সারফ)-এ গভীর বুৎপত্তি।
  • ৩. বালাগাত শাস্ত্র অর্থাৎ মা’আনী, বায়ান ও বাদী’ শাস্ত্রে পূর্ণ দখল।
  • ৪. উসূলে ফিকহ এবং হালাল-হারামের গভীর ফিকহী জ্ঞান।
  • ৫. আসবাবুন নুযূল বা শানে নুযূলের প্রামাণ্য জ্ঞান।
  • ৬. নাসিখ ও মানসূখের সুস্পষ্ট ধারণা।
  • ৭. সহীহ ও যয়ীফ হাদিস চেনার যোগ্যতা এবং হাদিসের সনদ ও রিজাল শাস্ত্রের জ্ঞান।
  • ৮. ইলমে মাওহিবাত—আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত আত্মিক অন্তর্দৃষ্টি ও তাকওয়া।

৩. মুফাসসিরের আদব ও নৈতিক বৈশিষ্ট্য (آداب المفسر):

  • বিশুদ্ধ নিয়ত এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাফসির করা।
  • মনগড়া ব্যাখ্যা, উগ্র দলীয় পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্বল ইসরাঈলী রেওয়ায়েত থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকা।
  • নিজের ব্যাখ্যার চেয়ে সালাফে সালেহীনের ব্যাখ্যার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং কোনো বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে দ্বিধাহীনভাবে অজ্ঞতা স্বীকার করা।

٦- عرف إعجاز القرآن – ثم اذكر ثلاث آيات قرآنية تحدى فيها لإعجازه

إعجاز القرآن الكريم وآيات التحدي / ই’যাযুল কুরআনের পরিচয় এবং এর অলৌকিক চ্যালেঞ্জ সংবলিত তিনটি আয়াত

১. ই’যাযুল কুরআনের পারিভাষিক পরিচয়:
‘ই’যায’ (الإعجاز) শব্দের অর্থ অক্ষম বা পরাভূত করা। পরিভাষায়—পবিত্র কুরআন এমন এক আসমানী মুজিযা যা বিশ্বমানব ও জ্বিন জাতিকে অনুরূপ একটি কিতাব, সূরা বা আয়াত রচনা করতে উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাদের চিরতরে অক্ষম ও পরাভূত করেছে। কুরআনের ভাষা, বালাগাত, ব্যাকরণ, অদৃশ্য সংবাদ এবং বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা মানুষের ক্ষমতার সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে।

২. কুরআনের চ্যালেঞ্জ সংবলিত ঐতিহাসিক ৩টি আয়াত (আয়াতে তাহাদী):
আল্লাহ তায়ালা আরবদের শীর্ষ কবি-সাহিত্যিকদের অহংকার চূর্ণ করতে পর্যায়ক্রমে তিনটি স্তরে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন:

স্তম্ভ ১: সমগ্র কুরআনের অনুরূপ আনার চ্যালেঞ্জ:
মক্কায় আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতি ও জ্বিনদের একত্রিত হয়ে কুরআনের মতো একটি গ্রন্থ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন:

﴿قُل لَّئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَىٰ أَن يَأْتُوا بِمِثْلِ هَٰذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا﴾

ভাষান্তর: “বলুন: যদি মানব ও জ্বিন জাতি সকলে মিলে এই কুরআনের অনুরূপ একটি কুরআন আনয়ন করতে সমবেত হয়, তবুও তারা এর সমকক্ষ কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরকে সাহায্য-সহযোগিতা করে।” (সূরা আল-ইসরা: ৮৮)

স্তম্ভ ২: মাত্র দশটি সূরার অনুরূপ আনার চ্যালেঞ্জ:
তারা যখন পুরো কুরআন আনতে ব্যর্থ হলো, তখন আল্লাহ তায়ালা বানিয়ে হলেও মাত্র দশটি সূরা তৈরি করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেন:

﴿أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ﴾

ভাষান্তর: “তারা কি বলে যে, তিনি এটি রচনা করেছেন? বলুন: তবে তোমরাও এর অনুরূপ দশটি সূরা রচনা করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” (সূরা হূদ: ১৩)

স্তম্ভ ৩: মাত্র একটি একক সূরার অনুরূপ আনার চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ:
দশটি সূরায় ব্যর্থ হলে মদিনা মুনাওয়ারায় আল্লাহ তায়ালা কাওসার বা ইখলাসের মতো মাত্র তিন আয়াতবিশিষ্ট একটি একক সূরা বানানোর উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ দেন:

﴿وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ﴾

ভাষান্তর: “আর আমি আমার বান্দার ওপর যা নাযিল করেছি তাতে যদি তোমরা কোনো সংশয়ে থাক, তবে এর মতো একটি সূরা রচনা করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাহায্যকারীকে ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর যদি তা না পারো—এবং তোমরা তা কখনোই পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় কর যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।” (সূরা আল-বাকারা: ২৩-২৪)


مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি]

٧- اذكر فوائد معرفة أول ما نزل وآخر ما نزل من القرآن الكريم

فوائد معرفة أول وآخر ما نزل / প্রথম ও শেষ নাযিলকৃত আয়াত জানার উপকারিতা

কুরআন কারীমের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াত হলো সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত ﴿اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ﴾ এবং সর্বশেষ নাযিলকৃত মতানুযায়ী সূরা বাকারার ২৮১ নম্বর আয়াত ﴿وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ﴾। এটি জানার প্রধান ফায়দাসমূহ নিম্নরূপ:

  • ১. নাসিখ ও মানসূখ নির্ণয়: পূর্বাপর আয়াত জানা থাকলে দুটি বিধানে আপাত বিরোধ দেখা দিলে পরবর্তী নাযিলকৃত আয়াত দ্বারা পূর্ববর্তী আয়াত রহিত হয়েছে বলে সহজে শরয়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
  • ২. দ্বীনের পর্যায়ক্রমিক ক্রমবিকাশ উপলব্ধি: আল্লাহ তায়ালা কীভাবে আকীদা, নৈতিকতা এবং পর্যায়ক্রমে শরয়ী বিধিবিধান দিয়ে সমাজ সংস্কার করেছেন তার বিজ্ঞানসম্মত পাঠ গ্রহণ করা যায়।
  • ৩. কুরআনের সার্বিক নির্ভুল সংরক্ষণ ও প্রামাণ্যতা: কোন আয়াত কখন, কোথায় ও কোন প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা থাকায় প্রমাণিত হয় যে ওহীর প্রতিটি হরফ নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত।
  • ৪. দাওয়াতী কর্মপন্থা নির্ধারণ: আধুনিক দাঈগণ সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ আয়াতের ধারাবাহিকতা দেখে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাওয়াত পরিকল্পনা করতে পারেন।

٨- عرف القرآن – ثم بين الفرق بين القرآن والحديث القدسي

تعريف القرآن والفرق بينه وبين الحديث القدسي / কুরআনের পরিচয় এবং কুরআন ও হাদিসে কুদসীর মৌলিক পার্থক্য

১. কুরআনের পারিভাষিক পরিচয় (تعريف القرآن):
“পবিত্র কুরআন হলো মহান আল্লাহর সেই মোজেযাপূর্ণ কালাম, যা হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর ওপর সুদীর্ঘ তেইশ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে, যা মুসহাফে সংরক্ষিত, মুতাওয়াতির সনদে বর্ণিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য।”

২. কুরআন ও হাদিসে কুদসীর পার্থক্যসমূহ:

পার্থক্যের ক্ষেত্র পবিত্র কুরআনুল কারীম হাদিসে কুদসী
১. শব্দ ও অর্থ শব্দ ও অর্থ উভয়ই হুবহু মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ও সংরক্ষিত। অর্থ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু এর শব্দ ও ভাষা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিজস্ব।
২. সালাতে তিলাওয়াত সালাতে এর তিলাওয়াত ফরজ ও ইবাদত; তিলাওয়াত ব্যতীত সালাত আদায় হয় না। সালাতে হাদিসে কুদসী পাঠ করা জায়েজ নয় এবং সালাত হবে না।
৩. মুজিযা ও চ্যালেঞ্জ কুরআন মানবজাতির মোকাবেলায় এক চিরন্তন মুজিযা ও চ্যালেঞ্জ। হাদিসে কুদসী মোজেযা নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়নি।
৪. পবিত্রতার শর্ত অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা এবং অপবিত্র অবস্থায় পাঠ করা সম্পূর্ণ হারাম। অজু ছাড়াও হাদিসে কুদসী স্পর্শ ও পাঠ করা জায়েজ।
৫. সনদের নির্ভরযোগ্যতা কুরআনের প্রতিটি হরফ মুতাওয়াতির ও قطعي الثبوت (অকাট্য)। হাদিসে কুদসীর সনদ সহীহ, হাসান বা যয়ীফও হতে পারে।

٩- اكتب أحكام النون الساكنة والميم الساكنة ممثلاً

أحكام النون الساكنة والميم الساكنة / নুন সাকিন ও মীম সাকিনের তাজবীদ বিধানসমূহ

১. নুন সাকিন ও তানভীনের বিধান (أحكام النون الساكنة والتنوين):
নুন সাকিন (نْ) বা তানভীন (ً ٍ ٌ)-এর পর হিজায়ী অক্ষর আসার বিবেচনায় এর হুকুম সর্বমোট চারটি:

  1. ইযহার (الإظهار – স্পষ্ট করা): হলক্বী ৬টি হরফ (ء، هـ، ع، ح، غ، خ) আসলে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট পড়া। যেমন: مَنْ آمَنَ, أَنْعَمْتَ।
  2. ইদগাম (الإدغام – মিলিয়ে পড়া): ইয়ারমালুন (ي، ر، م، ل، و، ن)-এর ৬টি হরফ আসলে। ইদগাম দুই প্রকার—গুন্নাহসহ (ي، ن، م، و) যেমন: مَن يَّقُولُ; এবং গুন্নাহ ছাড়া (ل، ر) যেমন: مِن رَّبِّهِمْ।
  3. ইক্বলাব (الإقلاب – পরিবর্তন করা): বা (ب) হরফ আসলে নুন সাকিনকে ছোট মীম দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়া। যেমন: مِن بَعْدِ (মিম বা’দি)।
  4. ইখফা (الإخفاء – গোপন করা): অবশিষ্ট ১৫টি হরফ আসলে নাকের বাঁশিতে নিয়ে গোপন গুন্নাহসহ পড়া। যেমন: مِن تَحْتِهَا, كُنتُمْ।

২. মীম সাকিনের বিধান (أحكام الميم الساكنة):
মীম সাকিন (مْ)-এর পর হরফ আসার বিবেচনায় এর হুকুম তিনটি:

  1. ইখফায়ে শাফাবী (الإخفاء الشفوي): মীম সাকিনের পর বা (ب) আসলে ঠোঁট কোমল রেখে গুন্নাহর সাথে পড়া। যেমন: تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ।
  2. ইদগামে শাফাবী / বা মিসলাইন (الإدغام الشفوي): মীম সাকিনের পর আরেকটি মীম (م) আসলে গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়া। যেমন: لَهُم مَّا يَشَاءُونَ।
  3. ইযহারে শাফাবী (الإظهار الشفوي): বা ও মীম ব্যতীত অবশিষ্ট ২৬টি হরফ আসলে গুন্নাহ ছাড়া মীমকে স্পষ্ট উচ্চারণ করা। যেমন: أَلَمْ تَرَ, هُمْ فِيهَا।

١٠- ما معنى المد؟ بيّن حروفه وأنواعه ممثلاً

معنى المد وحروفه وأقسامه / মদ্দের পরিচয়, হরফ ও প্রকারভেদ

১. মদ্দের শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচয়:
‘মদ্দ’ (الْمَدُّ) শব্দের আভিধানিক অর্থ দীর্ঘ করা বা টেনে পড়া (الزِّيَادَةُ وَالتَّطْوِيلُ)। তাজবীদের পরিভাষায়—মদ্দের হরফ বা লীনের হরফের স্বরধ্বনিকে এক বা একাধিক আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে টেনে পড়াকে মদ্দ বলে।

২. মদ্দের হরফসমূহ (حروف المد):
মদ্দের মূল হরফ তিনটি (শব্দসংক্ষেপ: و – ا – ي):

  • ১. সাকিন ওয়াও যার পূর্বে পেশ থাকে (و ساكنة مضموم ما قبلها); যেমন: يَقُولُ।
  • ২. খালি আলিফ যার পূর্বে যবর থাকে (ألف ساكنة مفتوح ما قبلها); যেমন: قَالَ।
  • ৩. সাকিন ইয়া যার পূর্বে যের থাকে (ي ساكنة مكسور ما قبلها); যেমন: قِيلَ। (পবিত্র কুরআনের نُوحِيهَا শব্দে তিনটি হরফ একত্রিত হয়েছে)।

৩. মদ্দের মৌলিক প্রকারভেদ (أقسام المد):

  • ১. মদ্দে আসলী বা তাবাঈ (المد الأصلي / الطبيعي): মদ্দের হরফের পর হামযা বা সুকুন না থাকলে স্বাভাবিকভাবে এক আলিফ টেনে পড়তে হয়। যেমন: قَالَ, يَقُولُ।
  • ২. মদ্দে ফার’ঈ (المد الفرعي): মদ্দের হরফের পর হামযা, সুকুন বা তাশদীদের কারণে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা। এর প্রধান প্রকারগুলো:
    • মদ্দে মুত্তাসিল (المد المتصل): একই শব্দে মদ্দের হরফের পর হামযা আসলে (৪ বা ৫ আলিফ)। যেমন: جَاءَ, السَّمَاءِ।
    • মদ্দে মুনফাসিল (المد المنفصل): মদ্দের হরফ শব্দের শেষে এবং পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামযা আসলে (৩ বা ৪ আলিফ)। যেমন: يَا أَيُّهَا, إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ।
    • মদ্দে লাযিম (المد اللازم): মদ্দের হরফের পর আসল সুকুন বা তাশদীদ আসলে (৬ হরকত / ৩ আলিফ)। যেমন: الْحَاقَّةُ, الضَّالِّينَ, الآنَ।
    • মদ্দে আরিদ (المد العارض للسكون): ওয়াকফের কারণে শেষ অক্ষরে সাময়িক সাকিন হলে। যেমন: الْعَالَمِينَ, نَسْتَعِينُ।

١١- كم مخرجًا للحروف العربية؟ اكتب ثلاثة مخارج

مخارج الحروف العربية وبيان ثلاثة منها / আরবি বর্ণমালার মাখরাজের সংখ্যা এবং তিনটি মাখরাজের বিস্তারিত বিবরণ

১. মাখরাজের সর্বমোট সংখ্যা:
ইমাম ইবনুল জাযারী ও খলীল ইবনে আহমদ ফরাহীদীর সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও বিশুদ্ধ মতানুযায়ী আরবি হিজায়ী ২৯টি বর্ণের মাখরাজ (উচ্চারণের মূল স্থান) সর্বমোট ১৭টি, যা প্রধান পাঁচটি অঙ্গের (জ্বওফ, হলক্ব, লিসান, শাফাতাইন ও খায়শূম) মধ্যে বিভক্ত।

২. তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মাখরাজের বিশদ বিবরণ:

  1. মাখরাজ ১: আল-জ্বওফ (الجوف – মুখের ভেতরের খালি জায়গা):
    মুখ ও গলার ভেতরের ফাঁকা জায়গা থেকে মদ্দের তিনটি হরফ উচ্চারিত হয়: বা-যবর বা-আলিফ (بَا), পেশযুক্ত ওয়াও সাকিন (بُو) এবং যেরযুক্ত ইয়া সাকিন (بِي)। হাওয়ার সাহায্যে এগুলো দীর্ঘ করা হয়।
  2. মাখরাজ ২: আক্বসায়ে লিসান (أقصى اللسان – জিহ্বার গোড়ার অংশ):
    জিহ্বার একদম গোড়ার অংশ তার বরাবর উপরের নরম তালুর সাথে লাগিয়ে মোটা ও ভারী বর্ণ ক্বাফ (ق) উচ্চারিত হয়। আর তার চেয়ে একটু নিচে শক্ত তালুর সাথে লাগিয়ে কাফ (ك) উচ্চারিত হয়।
  3. মাখরাজ ৩: আশ-শাফাতাইন (الشفتان – উভয় ঠোঁট):
    উভয় ঠোঁটের পারস্পরিক মিলন ও নড়াচড়ায় চারটি বর্ণ উচ্চারিত হয়:

    • উপরের দাঁতের সামনের অংশ নিচের ঠোঁটের পেটের সাথে লাগিয়ে: ফা (ف)।
    • উভয় ঠোঁটের ভিজা অংশ মিলিয়ে: বা (ب)।
    • উভয় ঠোঁটের শুকনা অংশ চেপে: মীম (م)।
    • উভয় ঠোঁটকে গোল বা বৃত্তাকার করে: ওয়াও (و)।

١٢- اكتب من حفظك سورة مما يلي

تحفيظ السور القرآنية الكريمة / নিম্নের তিনটি সূরারই পূর্ণাঙ্গ বিশুদ্ধ আরবি ও অর্থ

(الف) سورة الضحى (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১)

وَالضُّحَىٰ ﴿١﴾ وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ ﴿٢﴾ مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ﴿٣﴾ وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰ ﴿٤﴾ وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ ﴿٥﴾ أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَىٰ ﴿٦﴾ وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ ﴿٧﴾ وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَىٰ ﴿٨﴾ فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ﴿٩﴾ وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ ﴿١٠﴾ وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ﴿١١﴾

অর্থ ও মূলভাব: শপথ পূর্বাহ্নের রৌদ্রোজ্জ্বল আলোর এবং শপথ রাত্রির যখন তা নিঝুম হয়। আপনার প্রতিপালক আপনাকে ত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি। নিশ্চয়ই আপনার পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী অপেক্ষা উত্তম। শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এত প্রাচুর্য দেবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। তিনি কি আপনাকে এতিম পাননি, অতঃপর আশ্রয় দেননি? তিনি আপনাকে পথের সন্ধানী পেয়েছেন, অতঃপর পথ দেখিয়েছেন। তিনি আপনাকে নিঃস্ব পেয়েছেন, অতঃপর সচ্ছল করেছেন। অতএব আপনি এতিমের ওপর কঠোর হবেন না, যাচনাকারীকে ধমক দেবেন না এবং আপনার প্রতিপালকের নিয়ামত কৃতজ্ঞতার সাথে বর্ণনা করুন।

(ب) سورة الطارق (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১৭)

وَالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ ﴿١﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الطَّارِقُ ﴿٢﴾ النَّجْمُ الثَّاقِبُ ﴿٣﴾ إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ ﴿٤﴾ فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ مِمَّ خُلِقَ ﴿٥﴾ خُلِقَ مِن مَّاءٍ دَافِقٍ ﴿٦﴾ يَخْرُجُ مِن بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ ﴿٧﴾ إِنَّهُ عَلَىٰ رَجْعِهِ لَقَادِرٌ ﴿٨﴾ يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ ﴿٩﴾ فَمَا لَهُ مِن قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرٍ ﴿١٠﴾ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الرَّجْعِ ﴿١١﴾ وَالْأَرْضِ ذَاتِ الصَّدْعِ ﴿١٢﴾ إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ ﴿١٣﴾ وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ ﴿١٤﴾ إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا ﴿١٥﴾ وَأَكِيدُ كَيْدًا ﴿١٦﴾ فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْدًا ﴿١٧﴾

অর্থ ও মূলভাব: শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আত্মপ্রকাশকারীর। আপনি কি জানেন রাত্রিতে আত্মপ্রকাশকারী কী? তা এক উজ্জ্বল ভাস্বর তারকা। প্রত্যেক মানুষের ওপর একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত রয়েছে। অতএব মানুষ যেন দেখে তাকে কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে! তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে নির্গত পানি থেকে, যা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষপাঁজরের মধ্যস্থল থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম। যেদিন গোপন রহস্যসমূহ প্রকাশ পাবে, সেদিন তার কোনো শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না। শপথ আকাশ যার রয়েছে বৃষ্টি এবং বিদীর্ণ ভূমি। নিশ্চয়ই এ কুরআন মীমাংসাকারী বাণী, কোনো তামাশা নয়। কাফেররা ষড়যন্ত্র করছে এবং আমিও পরিকল্পনা করছি। অতএব কাফেরদের কিছুটা অবকাশ দিন।

(ج) سورة القارعة (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত সংখ্যা: ১১)

الْقَارِعَةُ ﴿١﴾ مَا الْقَارِعَةُ ﴿٢﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْقَارِعَةُ ﴿٣﴾ يَوْمَ يَكُونُ النَّاسُ كَالْفَرَاشِ الْمَبْثُوثِ ﴿٤﴾ وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ ﴿٥﴾ فَأَمَّا مَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ ﴿٦﴾ فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ ﴿٧﴾ وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ﴿٨﴾ فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ﴿٩﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا هِيَهْ ﴿١٠﴾ نَارٌ حَامِيَةٌ ﴿١١﴾

অর্থ ও মূলভাব: মহাপ্রলয়কারী বজ্রধ্বনি! মহাপ্রলয়কারী বজ্রধ্বনি কী? আপনি কি জানেন সেই বজ্রধ্বনি কী? সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো এবং পাহাড়সমূহ হবে ধুনিত রঙিন পশমের ন্যায়। অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে, সে তো থাকবে পরম সন্তোষজনক চিরসুখের জীবনে। আর যার পাল্লা হালকা হবে, তার ঠিকানা হবে অতল হাবিয়া। আপনি কি জানেন তা কী? তা হলো উত্তপ্ত লেলিহান আগুন!


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: উলূমুল কুরআনের মূল বিষয়বস্তু কী?

উত্তর: উলূমুল কুরআনের মূল বিষয়বস্তু হলো পবিত্র কুরআনের নাযিল, সংরক্ষণ, সংকলন, মাক্কী ও মাদানী নির্ধারণ, শানে নুযূল, নাসিখ ও মানসূখ, অলৌকিকত্ব (ই’যায) এবং তাফসির ও তাজবীদের বিধিসমূহ নিয়ে বিশদ জ্ঞান লাভ করা।

প্রশ্ন ২: হযরত উসমান (রা.)-কে কেন ‘জামেউল কুরআন’ বলা হয়?

উত্তর: কিরাআতের আঞ্চলিক মতভেদের কারণে মুসলিমদের বিভক্তি রোধ করতে তিনি সাহাবাদের পরামর্শে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর নেতৃত্বে একক কুরাইশী লিপিরীতিতে প্রামাণ্য কপি প্রস্তুত করে উম্মাহকে এক মুসহাফে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

প্রশ্ন ৩: কুরআন ও হাদিসে কুদসীর প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত এবং এর তিলাওয়াত সালাতে ফরজ ও ইবাদত; অপরদিকে হাদিসে কুদসীর অর্থ আল্লাহর হলেও ভাষা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এবং তা সালাতে পাঠ করা যায় না।

প্রশ্ন ৪: ই’যাযুল কুরআনের মূল স্তম্ভ কয়টি?

উত্তর: আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায় নির্ধারণ করেছিলেন—প্রথমে সমগ্র কুরআনের মতো একটি কিতাব, ব্যর্থ হলে মাত্র দশটি সূরা এবং সর্বশেষে তিন আয়াতের মাত্র একটি একক সূরার চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন ৫: নুন সাকিন ও তানভীনের হুকুম কয়টি ও কী কী?

উত্তর: নুন সাকিন ও তানভীনের হুকুম চারটি—১. ইযহার (স্পষ্ট করা), ২. ইদগাম (মিলিয়ে পড়া), ৩. ইক্বলাব (মীমে রূপান্তর করা) এবং ৪. ইখফা (নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহসহ পড়া)।

প্রশ্ন ৬: আরবি বর্ণমালার মাখরাজ কয়টি?

উত্তর: জমহুর তাজবীদবিদ ইমাম ইবনুল জাযারীর বিশুদ্ধ মতানুযায়ী আরবি হিজায়ী ২৯টি অক্ষরের উচ্চারণের মাখরাজ বা মূল স্থান সর্বমোট ১৭টি।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *