জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-মাযাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ (Al-Madhahib Al-Fiqhiyyah) – ২০৪৪০২, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
১৩ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আল-মাযাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ (المذاهب الفقهية – Al-Madhahib Al-Fiqhiyyah)
বিষয় কোড: ২০৪৪০২ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা


ক-বিভাগ (المجموعة الأولى): রচনামূলক প্রশ্নাবলি

١- عرف علم الفقه ثم بين نشأته وتطوره بالتفصيل-

[১. ইলমে ফিক্হ এর সংজ্ঞা দাও। ইলমে ফিকহের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

ক. ইলমে ফিকহ (علم الفقه)-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা

১. আভিধানিক অর্থ:
‘ফিকহ’ (الفقه) শব্দটি আরবি মূলধাতু ‘ফা-ক্বা-হা’ (ف-ق-هـ) থেকে নির্গত, যার অর্থ কোনো বিষয়কে সূক্ষ্মভাবে জানা, গভীরভাবে উপলব্ধি করা এবং অন্তর্নিহিত মর্মার্থ অনুধাবন করা (الفَهْمُ الدَّقِيقُ)।
কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে: «قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ» — “তারা বলল, হে শুআইব! তুমি যা বল তার অনেক কথাই আমরা বুঝি না (নাফক্বাহু)।” (সূরা হূদ: ৯১)।
হাদীসে নববীতে প্রজ্ঞাপূর্ণ গভীর বোধ অর্থে ফিকহ ব্যবহৃত হয়েছে: «مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» — “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা ও সঠিক বোধ (ফিকহ) দান করেন।” (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)।

২. পারিভাষিক সংজ্ঞা:
উসূলে ফিকহের শাস্ত্রীয় পরিভাষায় ইলমে ফিকহের বহুল প্রচলিত ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা হলো:
«العِلْمُ بِالأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ العَمَلِيَّةِ المُكْتَسَبُ مِنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ»
“বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট দলীল-প্রমাণ (কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস) থেকে উদ্ভাবিত ও অর্জিত ব্যবহারিক ইসলামি বিধি-বিধান সংক্রান্ত জ্ঞানকে ইলমে ফিকহ বলা হয়।”
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ফিকহের ব্যাপক সংজ্ঞা দিয়ে বলেছিলেন: «مَعْرِفَةُ النَّفْسِ مَا لَهَا وَمَا عَلَيْهَا» — অর্থাৎ “নিজের জন্য কোনটি কল্যাণকর ও কোনটি ক্ষতিকর—তা যথাযথভাবে অবগত হওয়াই হলো ফিকহ।”

খ. ইলমে ফিকহের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ (نشأته وتطوره)

ইলমে ফিকহের ক্রমবিকাশের ইতিহাস মূলত ইসলামী আইন প্রণয়ন ও গবেষণার স্বর্ণালী ইতিহাস। ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় একে পাঁচটি প্রধান যুগে বিন্যস্ত করা যায়:

  1. নবুওয়াত যুগ (عصر النبوة ওহীর যুগ):
    রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবদ্দশাই ছিল ফিকহের আদি উৎস। এ যুগে বিধানের মূল উৎস ছিল ওহীয়ে মাতলূ (কুরআন) এবং ওহীয়ে গাইরে মাতলূ (সুন্নাহ)। সাহাবায়ে কিরাম যেকোনো ধর্মীয়, সামাজিক বা পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হলে সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হতেন এবং ওহীর মাধ্যমে সমাধান প্রাপ্ত হতেন। তবে রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের সীমিত পরিসরে ইজতিহাদের অনুমতিও দিয়েছিলেন, যেমন মু’আজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনের বিচারক করে পাঠানোর সময় রাসুল ﷺ তাঁর ইজতিহাদী ইচ্ছাকে অনুমোদন করেছিলেন।
  2. খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ (عصر الخلفاء الراشدين):
    রাসূল ﷺ-এর ওফাতের পর ওহীর সমাপ্তি ঘটে। সাহাবায়ে কিরামের সামনে নতুন নতুন ভূখণ্ড বিজিত হওয়ার ফলে নিত্যনতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হযরত আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রা.) প্রথমে কুরআনে সমাধান খুঁজতেন; না পেলে হাদিস অনুসন্ধান করতেন। তাতেও না পাওয়া গেলে শীর্ষ সাহাবীদের নিয়ে পরামর্শ করতেন এবং সর্বসম্মত ঐক্যমত্যে (ইজমা) পৌঁছাতেন। আর যেখানে ঐক্যমত্য হতো না, সেখানে কিয়াস ও ইজতিহাদ প্রয়োগ করতেন।
  3. সাহাবা পরবর্তী ও তাবেঈন যুগ (عصر التابعين):
    এ যুগে সাহাবায়ে কিরাম বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন। ফলে দুটি প্রধান ফিকহী ধারার সৃষ্টি হয়:
    ক. আহলুল হাদীস ধারা (মদিনা কেন্দ্রিক): যেখানে নসের প্রচুর প্রাচুর্য ছিল। নেতৃত্বে ছিলেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়া ইবনুয যুবায়েরসহ মদিনার প্রখ্যাত ‘সাত ফকীহ’ (الفقهاء السبعة)।
    খ. আহলুর রায় বা যুক্তিভিত্তিক ধারা (কুফা ও ইরাক কেন্দ্রিক): নাগরিক জটিলতা ও নতুন সমস্যার সমাধানে যুক্তি ও কিয়াসের প্রাধান্য ছিল। নেতৃত্বে ছিলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর যোগ্য শিষ্য আলক্বামাহ ও ইবরাহীম নাখয়ী (রহ.)।
  4. মুজতাহিদ ইমামগণের যুগ ও ফিকহের স্বর্ণযুগ (দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরী শতক):
    এ যুগে ইসলামী আইন সংকলিত ও সুশৃঙ্খল শাস্ত্রীয় রূপ লাভ করে। প্রখ্যাত চার মাযহাবের ইমামগণের আগমন ঘটে—ইমাম আবু হানিফা (৮০-১৫০ হি.), ইমাম মালিক (৯৩-১৭৯ হি.), ইমাম শাফিয়ী (১৫০-২০৪ হি.) এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (১৬৪-২৪১ হি.)। ইমামগণ উসূল ও মূলনীতি নির্ধারণ করেন এবং লাখ লাখ ব্যবহারিক মাসআলা সমাধান করে ফিকহকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষীয় রূপ দান করেন।
  5. সংকলন, তারজীহ ও তাকলীদের যুগ (চতুর্থ হিজরী শতক থেকে বর্তমান):
    চার মাযহাব সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তী ফকীহগণ পূর্বসূরি ইমামদের মাসআলাসমূহের ব্যাখ্যা, পরিমার্জন, প্রাধান্য নির্ধারণ (তারজীহ) এবং ফতোয়া গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমান যুগে আধুনিক সমস্যাবলির সমাধানে ‘ইসলামিক ফিকহ একাডেমি’সমূহের মাধ্যমে সামষ্টিক ইজতিহাদের ধারা চালু রয়েছে।

٢- ما المذهب وكم عددها؟ اكتب أصول المذهب الحنفي مفصلا-

[২. মাযহাব কী ও কয়টি? হানাফি মাযহাবের মূলনীতিসমূহ বিস্তারিতভাবে লেখ।]

ক. মাযহাবের পরিচয় ও সংখ্যা

১. মাযহাবের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ:
‘মাযহাব’ (المذهب) শব্দটি আরবি ‘যাহাবা’ (ذهب) ধাতু থেকে গঠিত যার আভিধানিক অর্থ চলার পথ, মতাদর্শ বা অভিমত।
পারিভাষিক অর্থে: কুরআন ও সুন্নাহর গভীর গবেষণার মাধ্যমে শরীয়তের ব্যবহারিক হুকুম-আহকাম উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ ইমামের অনুসৃত সুশৃঙ্খল পদ্ধতি, মূলনীতি ও ফতোয়াসমগ্রকে ‘মাযহাব’ বলা হয়।

২. আহলুস সুন্নাহর প্রসিদ্ধ মাযহাবের সংখ্যা:
আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সর্বসম্মত ও প্রচলিত মূল মাযহাব হলো চারটি:

  1. হানাফী মাযহাব (ইমাম আবু হানিফা নু’মান ইবনে সাবিত রহ.)
  2. মালেকী মাযহাব (ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহ.)
  3. শাফেয়ী মাযহাব (ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফেয়ী রহ.)
  4. হাম্বলী মাযহাব (ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.)

খ. হানাফী মাযহাবের মূলনীতিসমূহ (أصول المذهب الحنفي)

ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ.) নিজেই তাঁর ফিকহী সিদ্ধান্তের মূলনীতি বর্ণনা করে বলেছিলেন: «إِنِّي آخُذُ بِكِتَابِ اللهِ إِذَا وَجَدْتُهُ، فَمَا لَمْ أَجِدْهُ فِيهِ أَخَذْتُ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ، فَإِذَا لَمْ أَجِدْ فِيهِمَا أَخَذْتُ بِقَوْلِ أَصْحَابِهِ… وَلَا أَخْرُجُ عَنْ قَوْلِهِمْ إِلَى قَوْلِ غَيْرِهِمْ، فَإِذَا انْتَهَى الأَمْرُ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَالشَّعْبِيِّ… فَهُمْ رِجَالٌ اجْتَهَدُوا فَأَجْتَهِدُ كَمَا اجْتَهَدُوا»

উক্ত বর্ণনার আলোকে হানাফী মাযহাবের প্রধান মৌলিক উসূল বা উৎসসমূহ নিম্নরূপ:

  1. কিতাবুল্লাহ (পবিত্র কুরআন): এটি ইসলামী শরিয়তের সর্বপ্রথম ও চূড়ান্ত উৎস। কুরআনের নসকে হানাফী মাযহাবে চূড়ান্ত প্রামাণ্য ভিত্তি মানা হয়। কুরআনের কোনো সাধারণ নির্দেশকে (আম) একক বর্ণনার হাদিস (খবরে ওয়াহেদ) দিয়ে সরাসরি মানসূখ বা বাতিল করা যায় না।
  2. সুন্নাতে রাসূল ﷺ: সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় মূল উৎস। হানাফী উসূলে সুন্নাহকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে—মুতাওয়াতির, মাশহূর এবং খবরে ওয়াহেদ (আহাদ)। মুতাওয়াতির ও মাশহূর হাদিস দিয়ে কুরআনের বিধান স্পষ্টীকরণ বা শর্তযুক্ত করা বৈধ। আর নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণিত খবরে ওয়াহেদকে কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়।
  3. আক্বওয়ালুস সাহাবাহ (সাহাবীগণের ফতোয়া): যে বিষয়ে সরাসরি কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট নস নেই, সেক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের আমল ও ফতোয়াকে ইমাম আবু হানিফা নিজের কিয়াসের চেয়ে অগ্রাধিকার দিতেন। সাহাবীদের ইজতিহাদী মতবিরোধ থাকলে তিনি তাঁদের যেকোনো একজনের মত গ্রহণ করতেন, কিন্তু তাঁদের বাইরে অন্য কারও মতের ওপর নির্ভর করতেন না।
  4. আল-ইজমা (ঐক্যমত্য): কোনো যুগে কোনো দ্বীনী মাসআলায় সমগ্র উম্মতের মুজতাহিদগণের সর্বসম্মত রায়কে ইজমা বলে। হানাফী মাযহাবে ইজমা হলো অলঙ্ঘনীয় হুজ্জাত বা প্রমাণ।
  5. আল-কিয়াস (যৌক্তিক সাদৃশ্যমূলক অনুমান): যখন কোনো নতুন বিষয়ের স্পষ্ট বিধান কুরআন, সুন্নাহ বা সাহাবীদের বাণীতে হুবহু পাওয়া যায় না, তখন মূল বিধানের অন্তর্নিহিত কারণ বা ইল্লতের (العلة) সাথে সাদৃশ্য করে নতুন বিষয়ের সমাধান বের করাকে কিয়াস বলে। ইমাম আবু হানিফা কিয়াসের সূক্ষ্ম প্রয়োগে শীর্ষস্থানে ছিলেন।
  6. আল-ইসতিহসান (কল্যাণকর অগ্রাধিকার): প্রকাশ্য কিয়াসের চেয়ে মানুষের বাস্তব কল্যাণ ও শরীয়তের বৃহত্তর উদ্দেশ্যের স্বার্থে কোনো গভীরতর গোপন যুক্তি বা বিশেষ প্রমাণের ভিত্তিতে সাধারণ নিয়ম শিথিল করাকে ইসতিহসান বলে। যেমন: পানি নাপাক হওয়া সংক্রান্ত সাধারণ নিয়মের ক্ষেত্রে কূপের পানি সেচের বিশেষ বিধান।
  7. আল-উরফ ওয়াল আদাহ (প্রচলিত প্রথা ও লোকাচার): যে সামাজিক রীতি ও লেনদেনের প্রথা কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সুস্পষ্ট বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, তাকে আইনগত বৈধতা দেওয়া হানাফী মাযহাবের অনন্য বৈশিষ্ট্য («الثَّابِتُ بِالعُرْفِ كَالثَّابِتِ بِالنَّصِّ»)।

٣- عرف التقليد- وكم قسما له؟ وما حكم التقليد الشخصى؟ بين موضحا-

[৩. তাকলীদ অর্থ কী? উহা কত প্রকার? تقليد الشخصى এর হুকুম কী বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

ক. তাকলীদের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ

১. আভিধানিক অর্থ:
‘তাকলীদ’ (التقليد) শব্দটি আরবি ‘ক্বিলাদাহ’ (قلادة) শব্দমূল থেকে এসেছে, যার অর্থ গলায় হার বা রশি পরিয়ে দেওয়া।
২. পারিভাষিক অর্থ:
উসূলে ফিকহের পরিভাষায়: «قَبُولُ قَوْلِ الغَيْرِ مِنْ غَيْرِ حُجَّةٍ» অথবা «اتِّبَاعُ مَنْ لَيْسَ قَوْلُهُ حُجَّةً بِلَا حُجَّةٍ» — অর্থাৎ কোনো বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদের ফতোয়া ও সিদ্ধান্তকে তাঁর কুরআন-হাদিসের সূক্ষ্ম দলীল ও গবেষণার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বিনাদ্বিধায় অনুসরণ করাকে তাকলীদ বলে।

৩. তাকলীদের প্রকারভেদ:
তাকলীদ প্রধানত দুই প্রকার:

  • ক. তাকলীদে মুতলাক বা আম (التقليد المطلق/العام): কোনো নির্দিষ্ট ইমামের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন মাসআলায় যেকোনো নির্ভরযোগ্য মুজতাহিদ আলেমের নিকট ফতোয়া জেনে আমল করা। খুলাফায়ে রাশেদীন ও প্রাথমিক তাবেঈন যুগে সাধারণ মানুষ এ ধরনের আমল করত।
  • খ. তাকলীদে শাখসী (التقليد الشخصي): কোনো একজন নির্দিষ্ট মুজতাহিদ ইমামের (যেমন: ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী ইত্যাদি) পূর্ণাঙ্গ ফিকহী মাযহাবকে সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্ঠার সাথে মেনে চলা এবং নিজের মনমতো এক মাযহাব থেকে আরেক মাযহাবে প্রবৃত্তির অনুসরণ না করা।

খ. তাকলীদে শাখসী (ব্যক্তিগত তাকলীদ)-এর শরয়ী হুকুম (حكم التقليد الشخصي)

জমহুর উলামায়ে কিরাম এবং চার মাযহাবের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ ও মুজতাহিদ নন এমন ব্যক্তিদের জন্য চার মাযহাবের যেকোনো একটির তাকলীদে শাখসী অবলম্বন করা ওয়াজিব বা অপরিহার্য। এর কারণ ও দলীলসমূহ নিম্নরূপ:

  1. কুরআনুল কারীমের নির্দেশ:
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা নির্দেশ দেন: «فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ» — “অতএব তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের নিকট জিজ্ঞাসা করে নাও।” (সূরা আন-নাহল: ৪৩)।
  2. কুপ্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশির অনুসরণ (তালাব্বুক্বাত ও তালফীক) রোধ:
    যদি সাধারণ মানুষকে কোনো সুনির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণের বাধ্যবাধকতা না দিয়ে উন্মুক্ত ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তারা সবসময় সুবিধাবাদী হয়ে পড়বে—যে মাযহাবে সহজ মনে হবে সেদিকে ছুটবে। ফলে দ্বীনদারি নষ্ট হয়ে কুপ্রবৃত্তির পূজা কায়েম হবে। এ বিষয়ে উলামাগণ বলেন: «مَنْ تَتَبَّعَ رُخَصَ المَذَاهِبِ فَقَدْ تَزَنْدَقَ» — “যে ব্যক্তি বিভিন্ন মাযহাবের সুবিধাজনক ও ছাড় দেওয়া মতগুলো খুঁজে খুঁজে আমল করে, সে যিন্দীক বা পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।”
  3. সাধারণ মানুষের ইজতিহাদী অক্ষমতা:
    প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষে আরবি ভাষার ব্যাকরণ, নাসিখ-মানসূখ, আসমাউর রিজাল ও হাদিসের সনদ নিজে যাচাই করে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব। যেমন সাধারণ রোগী কখনো নিজে ঔষধ নির্বাচন করতে পারে না, তাকে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মানতেই হয়।
  4. উম্মতের ইজমা:
    ইমাম ইবনে তাইমিয়া, আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) একমত পোষণ করেছেন যে, চতুর্থ হিজরী শতাব্দীর পর থেকে দ্বীনের হেফাযত ও ফেতনা দমনের স্বার্থে চার মাযহাবের কোনো একটির তাকলীদে শাখসী মেনে চলা উম্মতের জন্য সার্বিক কল্যাণের উৎস।

٤- وازن بين الفقه الحنفى و الفقه الشافعي-

[৪. ফিকহে হানাফী ও ফিকহে শাফেয়ীর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।]

ক. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উসূলে বৈসাদৃশ্য

ফিকহে হানাফী হলো কুফা ও ইরাকের ‘আহলুর রায়’ ধারার প্রতিনিধিত্বকারী, যার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফা (রহ.) (৮০-১৫০ হি.)। অপরদিকে ফিকহে শাফেয়ী হলো হেজাজের হাদীস ধারা ও ইরাকের যুক্তি ধারার এক অপূর্ব সমন্বিত রূপ, যার প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফেয়ী (রহ.) (১৫০-২০৪ হি.)।

খ. প্রধান প্রধান উসূলী তুলনামূলক পর্যালোচনা

বিষয় / উসূল ফিকহে হানাফী ফিকহে শাফেয়ী
আম (عام) শব্দের হুকুম কুরআনে বর্ণিত ‘আম’ শব্দ তার অর্থ প্রকাশে قطعي (সুনিশ্চিত)। তাই সাধারণ খবরে ওয়াহেদ হাদিস দিয়ে কুরআনের আম নির্দেশের বিধান পরিবর্তন করা যায় না। ‘আম’ শব্দ মূলত ظني (সম্ভাবনাময়)। তাই যেকোনো সহীহ খবরে ওয়াহেদ দ্বারা কুরআনের আমকে খাছ বা নির্দিষ্ট করা বৈধ।
সাহাবীর বাণী (قول الصحابي) সাহাবীর ফতোয়াকে কিয়াসের চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং তা হুজ্জাত হিসেবে গণ্য। সাহাবীর ব্যক্তিগত মত স্বয়ংসম্পূর্ণ দলীল নয়; কিয়াস সাহাবীর মতের ওপর প্রাধান্য পেতে পারে।
ইসতিহসান (الاستحسان) শরিয়তের একটি অন্যতম শক্তিশালী উসূল হিসেবে স্বীকৃত ও বহুল ব্যবহৃত। ইমাম শাফেয়ী এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: «مَنِ اسْتَحْسَنَ فَقَدْ شَرَّعَ» (যে ইসতিহসান করল সে যেন নতুন শরিয়ত তৈরি করল)।
বিধানের স্তরভেদ (فرض ও واجب) অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত হলে فرض (ফরজ) এবং ধারণামূলক দলীল দ্বারা প্রমাণিত হলে واجب (ওয়াজিব)—এভাবে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ফরজ ও ওয়াজিবের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই; উভয়েই সমার্থক (একমাত্র হজের কয়েকটি মাসআলা ব্যতীত)।

গ. কয়েকটি ব্যবহারিক মাসআলায় তুলনা

  • নারীর স্পর্শে অজু ভঙ্গ: হানাফী মতে কামোদ্দীপক সংস্পর্শ ছাড়া কেবল ছোঁয়ায় অজু ভাঙে না। শাফেয়ী মতে গায়রে মাহরাম পুরুষ ও মহিলার চামড়া স্পর্শ করলেই উভয়ের অজু ভেঙে যাবে।
  • ইমামের পেছনে কিরাত: হানাফী মতে সশব্দ ও নিঃশব্দ সকল নামাজে মুক্তাদীর জন্য কিরাত পড়া মাকরূহে তাহরীমী। শাফেয়ী মতে সব নামাজেই মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ।
  • বিতরের নামাজ: হানাফী মতে ৩ রাকাত এক সালামে ওয়াজিব। শাফেয়ী মতে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ১ রাকাত পড়া উত্তম এবং তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

٥- تحدث عن حكم قراءة الفاتحة خلف الإمام بالإدلة-

[৫. ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার হুকুম দলিলসহ আলোচনা কর।]

ক. ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পাঠ সংক্রান্ত ইমামগণের মতভেদ

ইমামের পেছনে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠ নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে তিনটি প্রধান মাযহাব রয়েছে:

  1. হানাফী মাযহাব (মাকরূহে তাহরীমী / সম্পূর্ণ নিষেধ):
    ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে—নামাজ জাহরী (সশব্দে) হোক বা সিররি (নীরবে) হোক, কোনো অবস্থাতেই মুক্তাদী ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো কিরাত পড়বে না। মুক্তাদীর জন্য সম্পূর্ণ চুপ থাকা ওয়াজিব।
  2. শাফেয়ী মাযহাব (ফরজ):
    ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে—ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী নামাজ আদায়কারী সকলের জন্যই প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ। জাহরী নামাজে ইমামের কিরাত শেষে মুক্তাদী নিঃশব্দে ফাতিহা পড়বে।
  3. মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব (মধ্যমপন্থা):
    সিররি বা নিঃশব্দ নামাজে (যোহর ও আসর) মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পড়া মুস্তাহাব। কিন্তু জাহরী বা সশব্দ নামাজে (ফজর, মাগরিব, এশা) মুক্তাদী চুপ থাকবে, ফাতিহা পড়বে না।

খ. হানাফী মাযহাবের পক্ষে অকাট্য দলীলসমূহ

  • কুরআনুল কারীমের অকাট্য নির্দেশ:
    আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন: «وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ» — “আর যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হতে পারো।” (সূরা আল-আ’রাফ: ২০৪)। মুফাসসির সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদ (রহ.) বলেন, এই আয়াতটি নামাজের কিরাতের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছে।
  • হাদীসে নববীর সুস্পষ্ট দলীল:
    • রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: «مَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَةُ الإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ» — “যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাত বা পাঠই তার কিরাত হিসেবে গণ্য হবে।” (মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে ইবনে মাজাহ)।
    • রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেন: «إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ… وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا» — “নিশ্চয়ই ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাঁর অনুসরণের জন্য… সুতরাং যখন তিনি কিরাত পাঠ করবেন, তখন তোমরা নীরব থাকো।” (সহীহ মুসলিম: ৪০৪)।
  • সাহাবায়ে কিরামের আমল:
    হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: ইমামের সাথে কি কোনো কিরাত পড়তে হবে? তিনি বললেন: «لَا قِرَاءَةَ مَعَ الإِمَامِ فِي شَيْءٍ» — “ইমামের পেছনে কোনো অবস্থাতেই কিরাত নেই।” (সহীহ মুসলিম: ৫৭৭)। হযরত উমর, আলী, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকেও অনুরূপ ফতোয়া বর্ণিত।

গ. শাফেয়ী মাযহাবের দলীল ও তার পর্যালোচনা

ইমাম শাফেয়ী (রহ.) দলীল হিসেবে পেশ করেন বিখ্যাত হাদিস: «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ» — “যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়ল না, তার নামাজ হলো না।” (সহীহ বুখারী)।
হানাফী জবাব: এই হাদিসটি একাকী নামাজ আদায়কারীর (মুন্ফারিদ) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জামাতের ক্ষেত্রে ইমামের কিরাত মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়, যেমনটি সাহাবীগণের আমল দ্বারা প্রমাণিত।


٦- اذكر نبذة عن حياة الإمام الأعظم أبى حنيفة (رح) مع بيان خدماته في علم الفقه-

[৬. ইমাম আবু হানিফা (রহ) এর জীবনী এবং ফিক্হ শাস্ত্রে তাঁর অবদান আলোচনা কর।]

ক. ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  1. নাম, জন্ম ও বংশপরিচয়:
    তাঁর আসল নাম নু’মান, পিতার নাম সাবিত। উপনাম আবু হানিফা এবং উপাধি ‘আল-ইমামুল আযম’ (সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম)। তিনি ৮০ হিজরীতে (৬৯৯ খ্রি.) ইরাকের কুফা নগরীতে এক সম্ভ্রান্ত ও বিত্তবান পারসিক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চারজন সাহাবীর (যেমন: হযরত আনাস ইবনে মালিক রা.) সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন বিধায় তিনি একজন মর্যাদাবান ‘তাবেঈ’ ছিলেন।
  2. জ্ঞানার্জন ও উস্তাদবৃন্দ:
    তিনি প্রাথমিক জীবনে কাপড়ের সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। পরবর্তীতে প্রখ্যাত আলেম ইমাম শাবী (রহ.)-এর অনুপ্রেরণায় পূর্ণকালীন ইলম চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি কুফার শ্রেষ্ঠ ফকীহ হযরত হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান (রহ.)-এর দরবারে দীর্ঘ ১৮ বছর একনিষ্ঠভাবে অবস্থান করে ফিকহের উচ্চতর জ্ঞান অর্জন করেন। এছাড়া তিনি মক্কা-মদিনার প্রায় চার হাজার তাবেঈ উস্তাদের নিকট হাদীস ও আকিদার পাঠ গ্রহণ করেন।
  3. চারিত্রিক গুণাবলি ও তাকওয়া:
    তিনি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য খোদাভীরু, নিরহংকার ও দানশীল। তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর রাতের এশার অজু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। প্রতি রমজানে ৬০ বারের বেশি কুরআন খতম করতেন। সত্য ও শরিয়তের প্রশ্নে তিনি ছিলেন পাহাড়ের মতো অবিচল।
  4. পরীক্ষা ও শাহাদাত:
    উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফারা তাঁকে প্রধান বিচারপতির (ক্বাজীউল কুযাত) লোভনীয় পদ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। কিন্তু নিরপেক্ষ বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করে নির্মম চাবুক মারেন। পরিশেষে ১৫০ হিজরীতে (৭৬৭ খ্রি.) ৭০ বছর বয়সে কারাগারেই বিষপ্রয়োগে এই মহান ইমামকে শহীদ করা হয়। বাগদাদের খাইজুরান কবরস্থানে তাঁর জানাজায় লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়েছিল।

খ. ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর ঐতিহাসিক অবদান

ইসলামী আইনের সংকলন ও আধুনিকায়নে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অবদান তুলনারহিত:

  • ১. প্রাতিষ্ঠানিক ফিকহ একাডেমির প্রতিষ্ঠা: তিনিই সর্বপ্রথম একক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ আলেম ও আইনজ্ঞের সমন্বয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ ‘আইন পরিষদ’ বা ‘মজলিসে শূরা’ গঠন করেন। এতে ইমাম আবু ইউসুফ (বিচারক), ইমাম মুহাম্মদ (লেখক ও হাদিসবিদ), ইমাম জুফার (যুক্তিবিদ) প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কোনো মাসআলা উঠলে কয়েকদিন ধরে তর্ক-বিতর্ক হতো, অতঃপর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ হতো।
  • ২. বাবে ফিকহের বিন্যাস ও অধ্যায়ভিত্তিক সংকলন: তিনিই সর্বপ্রথম ফিকহ শাস্ত্রকে আজকের আধুনিক আইনের মতো অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেন—পবিত্রতা (ত্বহারাত), নামাজ, জাকাত, রোজা, হজ, ক্রয়-বিক্রয় (বুয়ূ’), বিবাহ-তালাক এবং বিচার বিভাগ (ক্বাযা)।
  • ৩. অনুমিত ফিকহ (الفقه التقديري)-এর উদ্ভাবন: তিনি কেবল ঘটে যাওয়া সমস্যার সমাধান করেননি, বরং ভবিষ্যতে মানবজীবনে কী কী জটিলতা আসতে পারে তা অনুমান করে হাজার হাজার কাল্পনিক সমস্যার আইনি সমাধান রচনা করে রেখেছিলেন।
  • ৪. ৮৩ হাজারেরও বেশি মাসআলার সমাধান: তাঁর আইন বোর্ড প্রায় ৮৩ হাজার নির্ভরযোগ্য শরিয়তি মাসআলার লিখিত রূপ দান করেছিল।
  • ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর ঐতিহাসিক মন্তব্য: «النَّاسُ فِي الفِقْهِ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ» — “ফিকহের ক্ষেত্রে গোটা দুনিয়ার সকল মানুষ ইমাম আবু হানিফার মুখাপেক্ষী ও সন্তানতুল্য।” (তারিখে বাগদাদ)।

খ-বিভাগ (المجموعة الثانية): সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি

٧- اكتب أراء الأئمة في موضع وضع اليدين بالأدلة-

[৭. নামাজে হাত বাঁধার স্থানের বিষয়ে ইমামগণের মতামত দলিলসহ লেখ।]

নামাজে তাকবীরে তাহরীমার পর কোথায় হাত বাঁধতে হবে, এ নিয়ে মুজতাহিদ ইমামগণের মধ্যে সুপ্রসিদ্ধ মতামতসমূহ নিম্নরূপ:

  1. হানাফী মাযহাব (নাভির নিচে হাত বাঁধা):
    পুরুষদের জন্য নাভির নিচে হাত বাঁধা সুন্নাত।
    দলীল: হযরত আলী (রা.) বলেন: «مِنَ السُّنَّةِ فِي الصَّلَاةِ وَضْعُ الكَفِّ عَلَى الكَفِّ تَحْتَ السُّرَّةِ» — “নামাজে ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের ওপর রেখে নাভির নিচে স্থাপন করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।” (সুনানে আবু দাউদ: ৭৫৭, মুসনাদে আহমাদ)। হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বাহ)।
  2. শাফেয়ী মাযহাব (নাভির উপরে ও বুকের নিচে):
    হাত নাভির ওপরে এবং বুকের নিচে একটু বাম দিকে হেলিয়ে বাঁধা উত্তম।
    দলীল: ওয়াইল ইবনে হুজর (রা.)-এর অপর রেওয়ায়েত এবং অন্তরের (ক্বলবের) হেফাযতের যুক্তি।
  3. হাম্বলী মাযহাব (উভয়টি বৈধ):
    ইমাম আহমাদের এক বর্ণনামতে নাভির নিচে, অন্য বর্ণনামতে নাভির ওপরে—উভয়টিই সুন্নাতসম্মত।
  4. মালেকী মাযহাব (হাত ছেড়ে দেওয়া – সাদল):
    ফরজ নামাজে হাত না বেঁধে উভয় পাশে ছেড়ে দেওয়া (السدل) মুস্তাহাব। তবে নফলে বাঁধা জায়েয।

٨- ما الاختلاف بين الائمة في حكم رفع اليدين عند الركوع وعند رفع الرأس من الركوع؟ بين مدللا-

[৮. রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে মাথা উঠার সময় رفع اليدين এর হুকুমের ব্যাপারে ইমামগণের মতভেদ দলিলসহ বর্ণনা কর।]

ক. ইমামগণের মাযহাব ও মতভেদ

  • হানাফী ও মালেকী মাযহাব (রফউল ইয়াদাইন না করা সুন্নাত):
    তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া রুকুতে যাওয়া ও রুকু থেকে ওঠার সময় হাত উঠানো (রফউল ইয়াদাইন) করা যাবে না। নামাযে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্থিরতা (সুকুন) বজায় রাখাই উত্তম।
  • শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব (রফউল ইয়াদাইন করা সুন্নাত):
    রুকুতে যাওয়া এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় দুই হাত কাঁধ বা কান বরাবর উত্তোলন করা সুন্নাত।

খ. হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য দলীল

  • হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিস: তিনি সাহাবী ও তাবেঈদের বললেন: «أَلَا أُصَلِّي بِكُمْ صَلَاةَ رَسُولِ اللهِ ﷺ؟ فَصَلَّى، فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلَّا فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ» — “আমি কি তোমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মতো নামাজ পড়ব না? অতঃপর তিনি নামাজ পড়লেন এবং প্রথম তাকবীর ছাড়া আর কোনোবার হাত উঠালেন না।” (জামে তিরমিযী: ২৫৭, সুনানে নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ — ইমাম তিরমিযী বলেন হাদিসটি হাসান)।
  • হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রা.)-এর হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে এসে সাহাবীদের হাত তুলতে দেখে বললেন: «مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ؟ اسْكُنُوا فِي الصَّلَاةِ» — “আমি তোমাদের অবাধ্য ঘোড়ার লেজের মতো কেন নামাজে হাত উঠাতে দেখছি? তোমরা নামাজে স্থিরতা অবলম্বন করো।” (সহীহ মুসলিম: ৪৩০)।
  • হানাফী ফকীহদের সিদ্ধান্ত হলো: ইসলামের প্রাথমিক যুগে রফউল ইয়াদাইন প্রচলিত থাকলেও পরবর্তীতে নামাজের পূর্ণাঙ্গ বিনম্রতা ও একাগ্রতার স্বার্থে তা মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়।

٩- كم ركعة لصلاة الوتر؟ وما الاختلاف فيه؟ بين بالدليل-

[৯. বিতরের নামাজ কত রাকাত? এ বিষয়ে মতভেদ দলিলসহ উল্লেখ কর।]

ক. বিতরের রাকাত সংখ্যা নিয়ে ইমামগণের মতভেদ

  1. হানাফী মাযহাব (৩ রাকাত এক সালামে):
    বিতরের নামাজ মাগরিবের নামাজের ন্যায় এক সালামে ৩ রাকাত আদায় করা ওয়াজিব। দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়াবে এবং ৩য় রাকাতে কিরাতের পর তাকবীর বলে দোআয়ে কুনূত পড়বে।
  2. শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব (সর্বনিম্ন ১ রাকাত, সর্বোচ্চ ১১ রাকাত):
    বিতরের সর্বনিম্ন রাকাত হলো ১ রাকাত এবং ৩ রাকাত পড়া হলে ২ রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে শেষে ১ রাকাত পড়া উত্তম (الفصل بين الشفع والوتر)।
  3. মালেকী মাযহাব: শাফেয়ীদের ন্যায় ২ রাকাতের পর সালাম ফিরিয়ে ১ রাকাত পড়া ওয়াজিব।

খ. হানাফী মাযহাবের পক্ষে অকাট্য দলীল

  • উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা: «كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُوتِرُ بِثَلَاثٍ، لَا يُسَلِّمُ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ» — “রাসূলুল্লাহ ﷺ তিন রাকাত বিতর পড়তেন এবং শেষ রাকাত ছাড়া সালাম ফিরাতেন না।” (মুসতাদরাকে হাকেম, সুনানে নাসাঈ: ১৬৯৮)।
  • হযরত উমর, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও আনাস (রা.) সহ অধিকাংশ প্রবীণ সাহাবী তিন রাকাতের কম বা ১ রাকাত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন এবং একে অপূর্ণ নামাজ বলেছেন।

١٠- بين مذاهب العلماء في عدد تكبيرات العيدين-

[১০. ঈদের নামাজের তাকবিরের ব্যাপারে ইমামগণের মাযহাব বর্ণনা কর।]

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দুই রাকাতে অতিরিক্ত কতটি তাকবীর দিতে হবে, তা নিয়ে ফকীহগণের মধ্যে চমৎকার বৈচিত্র্য রয়েছে:

  1. হানাফী মাযহাব (অতিরিক্ত ৬ তাকবীর):
    মোট অতিরিক্ত তাকবীর ৬টি। ১ম রাকাতে ছানার পর কিরাতের পূর্বে ৩ তাকবীর এবং ২য় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর পূর্বে ৩ তাকবীর।
    দলীল: প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ও কূফার সাহাবীগণের সর্বসম্মত আমল (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ও বায়হাকী)।
  2. শাফেয়ী মাযহাব (অতিরিক্ত ১২ তাকবীর):
    ১ম রাকাতে কিরাতের পূর্বে ৭ তাকবীর এবং ২য় রাকাতে সিজদা থেকে উঠে কিরাতের পূর্বে ৫ তাকবীর—সর্বমোট ১২ তাকবীর।
    দলীল: আমর ইবনে শুআইব সূত্রে বর্ণিত হাদিস।
  3. মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব (অতিরিক্ত ১১ বা ১২ তাকবীর):
    ১ম রাকাতে তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া ৬ তাকবীর এবং ২য় রাকাতে ৫ তাকবীর।

١١- ما حكم خروج النساء إلى المصلى فى زماننا الحاضر؟ بين-

[১১. বর্তমানে মহিলাদের জন্য মসজিদে নামাযের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার হুকুম কী? বর্ণনা কর।]

উত্তর ও শরয়ী পর্যালোচনা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে দ্বীন শিক্ষার প্রাথমিক প্রয়োজন এবং ফেতনামুক্ত নিরাপদ পরিবেশ থাকায় নারীদের শর্তসাপেক্ষে মসজিদে জামাতে অংশ নেওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ ﷺ তখনও ঘরে নামাজ পড়াকেই নারীদের জন্য সর্বোত্তম ঘোষণা করেছিলেন: «صَلَاةُ المَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي حُجْرَتِهَا» (সুনানে আবু দাউদ)।

বর্তমান যুগের হুকুম (মাকরূহে তাহরীমী):
হানাফী মাযহাবের সর্বসম্মত ফতোয়া এবং চার মাযহাবের সমকালীন আলেমদের মতে, বর্তমান ফেতনা-ফাসাদ ও পাপাচারের যুগে যুবতী ও সাধারণ নারীদের জামাতে নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে বের হওয়া মাকরূহে তাহরীমী (নিষিদ্ধতুল্য)।

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর ঐতিহাসিক ফতোয়া:
সাহাবীদের যুগেই পরিবেশের কিছুটা পরিবর্তন দেখে স্বয়ং আয়েশা (রা.) ঘোষণা করেছিলেন:
«لَوْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَى مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ المَسْجِدَ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ»
“নারীরা বর্তমানে (সাজসজ্জা ও ফ্যাশনের) যে নতুন অবস্থা তৈরি করেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ যদি তা প্রত্যক্ষ করতেন, তবে নিশ্চয়ই তিনি নারীদের মসজিদে আসা নিষিদ্ধ করে দিতেন, যেমনটি বনী ইসরাঈলের নারীদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।” (সহীহ বুখারী: ৮৬৯, সহীহ মুসলিম)।
সুতরাং নারীদের জন্য তাদের ঘরে নামাজ আদায় করাই অধিক সওয়াব ও শরিয়তের পবিত্রতা রক্ষার একমাত্র পথ।


١٢- الإقامة شفع أم وتر؟ بين مدللا-

[১২. ইকামতের শব্দাবলি জোড় না কি বেজোড়? দলিলসহ বর্ণনা কর।]

ইকামতের বাক্যগুলো দুবার করে (জোড়/শাফ’আ) নাকি একবার করে (বেজোড়/বিতর) বলতে হবে, এ নিয়ে ইমামদের ফতোয়া নিম্নরূপ:

  1. হানাফী মাযহাব (ইকামতের শব্দাবলি জোড় – مثنى مثنى):
    আজানের ন্যায় ইকামতের প্রতিটি বাক্য দুবার করে (জোড়) বলতে হবে। কেবল ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ দুবার অতিরিক্ত হবে। সর্বমোট বাক্য হবে ১৭টি।
    দলীল: হযরত আবু মাহযূরাহ (রা.) বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে সরাসরি আজানের ১৯টি বাক্য এবং ইকামতের ১৭টি বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন (যেখানে প্রতিটি বাক্য দুবার করে ছিল)। (জামে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.)-এর স্বপ্নের হাদিসেও ইকামত জোড় হওয়ার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
  2. শাফেয়ী ও অন্যান্য মাযহাব (ইকামতের শব্দাবলি বেজোড় – إفراد الإقامة):
    তাকবীর ও ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ ব্যতীত বাকি শব্দগুলো একবার করে (বেজোড়) বলতে হবে। সর্বমোট বাক্য ১১টি।
    দলীল: হযরত আনাস (রা.)-এর হাদিস: “বেলাল (রা.)-কে আজানের বাক্যগুলো জোড় ও ইকামতের বাক্যগুলো বেজোড় বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।” (সহীহ বুখারী)।
    হানাফী জবাব: এর অর্থ হলো ইকামতের সুর ও টান আজানের চেয়ে দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত হবে, বাক্যের সংখ্যা কমানো নয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফাজিল ৪র্থ বর্ষের আল-মাযাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ বিষয়ের কোড কত?

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল-মাযাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ বিষয়ের কোড হলো ২০৪৪০২।

২. চার মাযহাবের যেকোনো একটির তাকলীদ করা কেন জরুরি?

সাধারণ মানুষের পক্ষে সরাসরি কুরআন-হাদিসের জটিল গবেষণার মাধ্যমে বিধান বের করার জ্ঞান না থাকায় এবং সুবিধাবাদ ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট একটি মাযহাবের তাকলীদ ওয়াজিব।

৩. হানাফী মাযহাব অনুসারে নামাজের ইকামতের বাক্য সংখ্যা কতটি?

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ইকামতের বাক্যগুলো আজানের ন্যায় দুবার করে জোড় শব্দে মোট ১৭টি বাক্য হিসেবে পাঠ করতে হয়।

৪. ইমামের পেছনে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পাঠের ব্যাপারে হানাফী ফতোয়া কী?

হানাফী মাযহাব মতে ইমামের কিরাত মুক্তাদীর কিরাত হিসেবে যথেষ্ট হওয়ায় সশব্দ ও নিঃশব্দ সকল নামাজে মুক্তাদীর সূরা ফাতিহা পড়া নিষেধ (মাকরূহে তাহরীমী)।

৫. হানাফী মাযহাবের মূল উৎস ও উসূল কয়টি?

হানাফী মাযহাবের প্রধান উৎস ৭টি: কিতাবুল্লাহ, সুন্নাতে রাসূল, আক্বওয়ালুস সাহাবা, ইজমা, কিয়াস, ইসতিহসান এবং উরফ বা জনস্বীকৃত প্রথা।

৬. হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের প্রধান পার্থক্যকারী উসূল কোনটি?

হানাফী মাযহাবে ফরজ ও ওয়াজিবের সুস্পষ্ট স্তরভেদ রয়েছে এবং ইসতিহসান গৃহীত; অপরদিকে শাফেয়ী মাযহাবে ফরজ ও ওয়াজিব সমার্থক এবং ইসতিহসান প্রত্যাখ্যাত।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন