জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আস সহীহ লিল বুখারী (As-Sahih lil Bukhari) – 202301, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ মডেল টেস্ট ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৭ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০৩ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭৯

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۳ م

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩

الحديث والدراسات الإسلامية (আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)

الصحيح للبخاري (আস সহীহ লিল বুখারী)

বিষয় কোড: ২০২৩০১

সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

الملاحظة : اجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-

[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) [ক অংশ] (মান: ৫ × ১৪ = ৭০)

১ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا عبد الله بن يوسف قال أخبرنا مالك عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة أم المؤمنين رضى الله عنها أن الحارث بن هشام سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : يا رسول الله! كيف يأتيك الوحى؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أحيانا يأتيني مثل صلصلة الجرس وهو أشدّه على فيفصم عنى وقد وعيت عنه ما قال وأحيانا يتمثل لى الملك رجلا فيكلمنى فأعى ما يقول، قالت عائشة رضى الله عنها ولقد رأيتُهُ ينزل عليه الوحى فى اليوم الشديد البرد فيفصم عنه وأن جبينَهُ ليتفصد عرقا –

(أ) ما معنى الوحى؟ وكم قسما له؟ بين –

(ب) اكتب كيفية نزول الوحى مفصلا-

[১. আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (র.) … উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হারিস ইবনে হিশাম (রা.) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনার নিকট ওহি কীভাবে আসে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: কোনো কোনো সময় তা ঘণ্টার টুংটাং শব্দের মতো আমার নিকট আসে, আর এটিই আমার ওপর সবচেয়ে কষ্টকর হয়। অতঃপর তা যখন সমাপ্ত হয়, তখন তিনি যা বলেছেন তা আমি মুখস্থ করে ফেলি। আবার কখনো ফিরিশতা মানুষের আকৃতি ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা ধারণ করে নিই। আয়িশা (রা.) বলেন: আমি তীব্র শীতের দিনে তাঁর ওপর ওহি নাজিল হতে দেখেছি; ওহি সমাপ্ত হলে তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।]

[(ক) ওহির অর্থ কী? এটি কত প্রকার? বর্ণনা কর।]

[(খ) ওহি নাজিলের পদ্ধতিসমূহ বিস্তারিত লেখ।]

(ক) ওহির আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং প্রকারভেদ

আভিধানিক অর্থ: আরবি ‘ওহি’ (الوحي) শব্দের মূল অর্থ হলো গোপন ইশারা (الإشارة الخفية), দ্রুত বার্তা প্রেরণ (الإلقاء السريع) এবং অন্তরে কোনো ভাব বা জ্ঞান সঞ্চার করা (الإلهام)।

পারিভাষিক অর্থ: শরীয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহ কর্তৃক স্বীয় নবী ও রাসুলগণের ওপর জিবরীল (আ.)-এর মাধ্যমে বা অন্য কোনো উপায়ে দ্বীনি জ্ঞান ও হেদায়েতপূর্ণ বাণী নাজিল করাকে ওহি বলা হয়।

ওহির প্রকারভেদ: ওহি মূলত দুই প্রকার:

  1. ওহিয়ে মাতলু (الوحي المتلو): যে ওহির শব্দ ও অর্থ উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং যা সালাতে তিলাওয়াত করা হয়; অর্থাৎ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারীম।
  2. ওহিয়ে গাইরে মাতলু (الوحي غير المتلو): যে ওহির মূল মর্ম আল্লাহর পক্ষ থেকে কিন্তু প্রকাশ ও ভাষা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখনিঃসৃত; অর্থাৎ রাসুলুল্লাহর হাদিস ও সুন্নাহ।

(খ) ওহি নাজিলের বিভিন্ন পদ্ধতি

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (র.) ‘যাদুল মাআদ’ গ্রন্থে এবং হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) ‘ফাতহুল বারী’তে ওহি নাজিলের সাতটি প্রধান পদ্ধতির উল্লেখ করেছেন:

  • ১. ঘণ্টার টুংটাং শব্দের মতো (مثل صلصلة الجرس): এটি ছিল ওহির সবচেয়ে ভারী ও কষ্টকর মাধ্যম। এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি হতো, শীতের দিনেও তাঁর কপাল বেয়ে মুক্তার দানার ন্যায় ঘাম ঝরতো এবং উটের পিঠে উপবিষ্ট থাকলে উটটি মাটিতে বসে পড়ত।
  • ২. মানুষের আকৃতি ধারণ করে: জিবরীল (আ.) মানবাকারে এসে কথা বলতেন। অধিকাংশ সময় তিনি সুশ্রী সাহাবি দাহিয়াতুল কালবী (রা.)-এর সুরতে বা অপরিচিত পথচারীর বেশে আসতেন (যেমন হাদিসে জিবরীলে বর্ণিত)। এটি রাসুলুল্লাহর জন্য সহজতর ছিল।
  • ৩. জিবরীল (আ.)-এর প্রকৃত স্বর্গীয় আকৃতিতে আগমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরীল (আ.)-কে তাঁর মূল ছয়শত ডানা বিশিষ্ট বিশাল দিগন্তজোড়া আকৃতিতে দুইবার প্রত্যক্ষ করেছেন (হেরা গুহায় প্রথম প্রকাশের সময় এবং মিরাজের রাতে সিদরাতুল মুনতাহার নিকট)।
  • ৪. সত্য স্বপ্ন (الرؤيا الصالحة): নবুওয়তের সূচনালগ্নে ছয় মাস রাসুলুল্লাহ (সা.) যা স্বপ্নে দেখতেন, তা প্রত্যুষের উজ্জ্বল আলোর মতো সত্যে রূপান্তরিত হতো। নবীদের স্বপ্নও ওহির অন্তর্ভুক্ত।
  • ৫. অন্তরে সঞ্চার করা (النفث في الروع): ফিরিশতাকে না দেখে সরাসরি রাসুলুল্লাহর অন্তরে ওহির মর্ম ঢেলে দেওয়া। যেমন তিনি বলেন: “রুহুল কুদুস আমার অন্তরে এ কথা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণী তার নির্ধারিত রিজিক পূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না।”
  • ৬. পর্দার অন্তরাল থেকে প্রত্যক্ষ কথোপকথন: কোনো ফিরিশতার মধ্যস্থতা ব্যতীত জাগ্রত অবস্থায় সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলা; যেমন মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিধান প্রদানের সময় ঘটেছিল।
  • ৭. জাগ্রত অবস্থায় বিশেষ দর্শন: মিরাজের রাতে আল্লাহর নূরানী সান্নিধ্যে বিশেষ বিধান লাভ।

২ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا عبيد الله بن موسى قال أخبرنا حنظلة بن أبى سفيان عن عكرمة بن خالد عن ابن عمر رضى الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : بنى الإسلام علٰى خمس شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة والحج وصوم رمضان –

(أ) ما معنى الإيمان؟ ثم بين أركانهُ بالإيجاز-

(ب) اشرح قولَهُ عليه السلام : “بنى الإسلام علٰى خمس”-

[২. উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা (র.) … ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর স্থাপিত—এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমযানের রোযা রাখা।]

[(ক) ঈমানের অর্থ কী? অতঃপর সংক্ষেপে এর রুকনসমূহ বর্ণনা কর।]

[(খ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “বুনিয়াল ইসলামু আলা খামসিন”-এর ব্যাখ্যা কর।]

(ক) ঈমানের অর্থ ও মৌলিক রুকনসমূহ

আভিধানিক অর্থ: ‘ঈমান’ (الإيمان) শব্দের অর্থ স্বীকৃতি দেওয়া, দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা এবং বিশ্বাসে নির্ভরতা আনা (التصديق والإقرار)।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সর্বসম্মত সংজ্ঞায় ঈমান হলো—الإيمان تصديق بالجنان، وإقرار باللسان، وعمل بالأركان অর্থাৎ অন্তরে আন্তরিক বিশ্বাস, মুখে স্পষ্ট স্বীকৃতি এবং শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা বাস্তবে আমল করা। নেক আমলে ঈমান বাড়ে এবং গুনাহের কাজে ঈমান হ্রাস পায়।

ঈমানের মৌলিক রুকনসমূহ: বিখ্যাত হাদিসে জিবরীলের আলোকে ঈমানের রুকন বা ভিত্তি ৬টি:

  1. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস: তাঁর অস্তিত্ব, রবুবিয়াত, উলুহিয়াত ও পবিত্র নাম ও গুণাবলিতে নিরঙ্কুশ বিশ্বাস।
  2. ফিরিশতাগণের প্রতি বিশ্বাস: আল্লাহর সৃষ্ট নূরানী নিষ্পাপ সত্তা হিসেবে ফিরিশতাদের মান্য করা।
  3. আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস: কুরআনসহ সকল নবীগণের ওপর অবতীর্ণ মূল কিতাবসমূহে বিশ্বাস।
  4. রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস: আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল প্রেরিত নবীদের প্রতি সমভাবে বিশ্বাস।
  5. আখিরাত দিবসে বিশ্বাস: কিয়ামত, কবর, মিজান, পুলসিরাত, জান্নাত ও জাহান্নামে নিশ্চিত বিশ্বাস।
  6. তাকদির বা ভাগ্যে বিশ্বাস: ভালো-মন্দ সকল কিছু মহান আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও ইচ্ছা অনুযায়ী নির্ধারিত।

(খ) “বুনিয়াল ইসলামু আলা খামসিন” বাণীর ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামকে একটি সুদৃঢ় ও বিশাল গম্বুজ বা প্রাসাদের সাথে উপমা দিয়েছেন, যা পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যদি এই খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলা হয়, তবে পুরো প্রাসাদ ধসে পড়ে:

  • ১. শাহাদাতাইন (তাওহিদ ও রেসালাতের সাক্ষ্য): এটি হলো মূল ভিত্তিপ্রস্তর। আল্লাহর একত্ব ও মুহাম্মদ (সা.)-এর রেসালাতকে স্বীকার না করলে কোনো আমলই গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ২. সালাত (নামাজ কায়েম করা): দ্বীনের দ্বিতীয় প্রধান স্তম্ভ ও দৈনিক সংযোগ। এটি ঈমান ও কুফরের মধ্যকার সুস্পষ্ট সীমারেখা।
  • ৩. যাকাত (অর্থনৈতিক স্তম্ভ): ধনী ও বিত্তশালীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট হারে দরিদ্রদের হক প্রদান করা, যা সমাজকে শোষণমুক্ত রাখে।
  • ৪. হজ (শারীরিক ও আর্থিক সমন্বয়): সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য জীবনে একবার বাইতুল্লাহ জিয়ারত ও বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্বের অনন্য সম্মিলন।
  • ৫. সাওম (আত্মশুদ্ধির রোজা): রমযান মাসে কুপ্রবৃত্তি দমন ও তাকওয়া অর্জনের জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার বর্জন।

৩ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا محمد بن المثنى قال حدثنا عبد الوهاب الثقفى قال حدثنا أيوب عن أبى قلابة عن أنس عن النبى صلى الله عليه وسلم قال : ثلاث من كن فيه وجد حلاوة الإيمان : أن يكون الله ورسولُهُ أحبَّ إليه مما سواهما وأن يحب المرءَ لا يحبهُ إلا للهِ وأن يكره أن يعود فى الكفر كما يكره أن يقذف فى النار-

(أ) ما معنى المحبة؟ وكم قسما لها؟ بين موضحا –

(ب) اكتب نبذة عن حياة أنس رضى الله عنه –

[৩. মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (র.) … আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকবে, সে ঈমানের মিষ্টতা ও স্বাদ লাভ করবে—(১) যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবেন; (২) যে কাউকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসবে; এবং (৩) যে কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে যেমন সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।]

[(ক) মুহাব্বাতের অর্থ কী? এটি কত প্রকার? সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]

[(খ) আনাস (রা.)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]

(ক) মুহাব্বাত (ভালোবাসা)-এর পরিচয় ও প্রকারভেদ

মুহাব্বাত (المحبة)-এর পরিচয়: মুহাব্বাত হলো অন্তরের এমন এক গভীর আকর্ষণ ও প্রীতি যা কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, উপকারিতা বা সৌন্দর্যের কারণে সৃষ্টি হয় এবং তার আনুগত্যের প্রতি মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে। ইসলামে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসাই সকল ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু।

মুহাব্বাতের প্রকারভেদ: ইসলামি ফিকহ ও আকীদাবিদগণ ভালোবাসাকে প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:

  1. প্রাকৃতিক বা স্বভাবজাত ভালোবাসা (المحبة الطبيعية): যা মানুষের সহজাত প্রকৃতির দাবি; যেমন সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার ভালোবাসা, খাদ্যের প্রতি ক্ষুধাগ্রস্তের টান বা রূপ-সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধতা। এটি শরীয়তের সীমার মধ্যে থাকলে সম্পূর্ণ মুবাহ ও প্রশংসনীয়।
  2. ইবাদতগত ও ধর্মীয় ভালোবাসা (المحبة الشرعية / التعبدية): যা কেবল আল্লাহর জন্য নিবেদিত হয়। এর মূল দাবি হলো আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ বর্জন। এটি তিনটি স্তরে বিন্যস্ত:
    • আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা: যা বান্দাকে আল্লাহর সামনে বিনম্র আনুগত্যে মস্তক অবনত করায়।
    • রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা: পিতা-মাতা, সন্তান ও নিজের জীবনের চেয়েও রাসুলকে বেশি ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
    • আল্লাহর ওয়াস্তে কাউকে ভালোবাসা (الحب في الله): পার্থিব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল দ্বীনের খাতিরে কোনো মুমিনকে ভালোবাসা।

(খ) হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

বিষয় বিবরণ
নাম ও বংশপরিচয় আনাস ইবনে মালিক ইবনুন নাদর আল-আনসারী আল-খাযরাজী। তাঁর উপনাম আবু হামযাহ। তাঁর মাতা সুপ্রসিদ্ধ সাহাবিয়া উম্মে সুলাইম (রা.)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাদেম হিজরতের সময় মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর মা তাঁকে রাসুলুল্লাহর সেবায় উৎসর্গ করেন। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর রাসুলুল্লাহর ব্যক্তিগত খাদেম হিসেবে পরম নিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করেন। রাসুলুল্লাহ কখনো তাঁর কোনো কাজে বিরক্ত হননি।
রাসুলুল্লাহর বিশেষ দোয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন: “হে আল্লাহ! তাঁর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দিন এবং দীর্ঘায়ু দান করুন।” এ দোয়ার বরকতে তিনি শতাধিক সন্তানের জনক হয়েছিলেন এবং প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হন।
হাদিস বর্ণনা ও ওফাত তিনি অন্যতম প্রধান হাদিস বর্ণনাকারী (মুকছিরুন) সাহাবি; তাঁর বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ২,২৮৬টি। তিনি বসরার সর্বশেষ সাহাবি হিসেবে ৯৩ হিজরিতে ১০৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ নম্বর প্রশ্ন

باب فإن تابوا وأقاموا الصلٰوة وآتوا الزكاة فخلوا سبيلهم : عن ابن عمر رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : أمرت أن أقاتل الناس حتّٰى يشهدوا أن لا إلٰه إلا الله وأن محمدا رسول الله ويقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة فإذا فعلوا ذلك عصموا منى دمائهم وأموالهم إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله –

(أ) ما المناسبة بين الحديث وترجمة الباب؟ بين –

(ب) ما المراد بقوله صلى الله عليه وسلم : “إلا بحق الإسلام وحسابهم على الله”؟ بين –

[৪. পরিচ্ছেদ: অতএব যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে। যখন তারা এ কাজগুলো করবে, তখন তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের রক্ত ও সম্পদ নিরাপদ করে নেবে; তবে ইসলামের হকের কারণে (শাস্তি) ব্যতীত, আর তাদের হিসাব আল্লাহর ওপর অর্পিত।]

[(ক) হাদিস ও পরিচ্ছেদের শিরোনামের (তারজামাতুল বাব) মধ্যে সামঞ্জস্য কী? বর্ণনা কর।]

[(খ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “ইল্লা বি-হাক্কিল ইসলাম ওয়া হিসাবুহুম আলাল্লাহ” দ্বারা কী উদ্দেশ্য? বর্ণনা কর।]

(ক) হাদিস ও পরিচ্ছেদের শিরোনামের (তারজামাতুল বাব) মধ্যে সামঞ্জস্য

ইমাম বুখারী (র.) সূরা আত-তাওবার ৫ নম্বর আয়াতের একাংশ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ দিয়ে পরিচ্ছেদের শিরোনাম নির্ধারণ করেছেন। এ শিরোনাম এবং উল্লেখিত হাদিসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্য (মুনাসাবাত) রয়েছে:

  • আয়াতে ‘তাওবা’ অর্থ: কুফর ও শিরক বর্জন করে তাওহিদ ও রেসালাতের কালিমায় প্রবেশ করা; হাদিসে একে حتّٰى يشهدوا أن لا إلٰه إلا الله দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে।
  • আমলের আবশ্যিকতা: আয়াতে সালাত কায়েম ও যাকাত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; হাদিসেও হুবহু একই নির্দেশ সন্নিবেশিত হয়েছে।
  • রক্ত ও জানমালের নিরাপত্তা: আয়াতে বলা হয়েছে “তাদের পথ ছেড়ে দাও” (তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ কর); হাদিসে বলা হয়েছে “তারা আমার পক্ষ থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করে নেবে।” অতএব কুরআনের আয়াতের ব্যবহারিক ও শরয়ি ব্যাখ্যা হিসেবে হাদিসটি হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

(খ) “ইল্লা বি-হাক্কিল ইসলাম ওয়া হিসাবুহুম আলাল্লাহ”-এর বিশদ ব্যাখ্যা

১. ইসলামের হকের ব্যতিক্রম (إلا بحق الإسلام): কোনো ব্যক্তি কালিমা পাঠ করে বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করলে তার জান ও মাল সাধারণ অবস্থায় স্পর্শ করা হারাম। কিন্তু সে যদি পরবর্তীতে ইসলামের সুনির্দিষ্ট কোনো চরম অপরাধে লিপ্ত হয়, তবে শরিয়তের নির্ধারিত দণ্ডবিধি তার ওপর কার্যকর হবে। যেমন হাদিসে তিন ব্যক্তির রক্তের বৈধতা বর্ণিত হয়েছে: (ক) বিবাহিত ব্যভিচারী (যার শাস্তি রজম), (খ) অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যাকারী (কিসাস), এবং (গ) ধর্মত্যাগী মুরতাদ যে মুসলিম জামায়াত ত্যাগ করে। এছাড়া যাকাত দিতে অস্বীকার করলে রাষ্ট্রপ্রধান তার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন—যে নীতিতে হযরত আবু বকর (রা.) যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

২. হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে (وحسابهم على الله): দুনিয়াতে বিচার হবে মানুষের বাহ্যিক আমল ও ঘোষণার ওপর। অন্তরে সে খাঁটি মুমিন নাকি ভণ্ড মুনাফিক—তার অভ্যন্তরীণ হিসাব মানুষের দেখার বিষয় নয়; তা কিয়ামতের দিন মহাবিচারক আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “আমাকে মানুষের অন্তর চিরে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।”

৫ নম্বর প্রশ্ন

حدثنا عبد الله بن مسلمة عن مالك عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن ابن عباس رضى الله عنه قال قال النبى صلى الله عليه وسلم : أريت النار فإذا أكثر أهلها النساء يكفرن – قيل أيكفرن بالله قال : يكفرن العشير ويكفرن الإحسان – لو أحسنت إلى إحداهن الدهر ثم رأت منك شيئا، قالت : ما رأيت منك خيرا قط –

(أ) اكتب أسباب كون أكثر أهل النار النساء موضحا –

(ب) اكتب نبذة عن حياة عبد الله بن عباس رضى الله عنه –

[৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (র.) … ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: আমাকে জাহান্নাম দেখানো হলো, তখন দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী; তারা কুফরি করে। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরি করে? তিনি বললেন: তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করে এবং অনুগ্রহ অস্বীকার করে। তুমি যদি সারা জীবন তাদের কারও প্রতি সদাচরণ কর, অতঃপর তোমার পক্ষ থেকে সামান্য কিছু অপ্রিয় দেখে, তবে সে বলে ফেলে: আমি তোমার থেকে কখনো কোনো ভালো ব্যবহার দেখিনি।]

[(ক) জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী হওয়ার কারণসমূহ স্পষ্টভাবে লেখ।]

[(খ) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]

(ক) জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী হওয়ার কারণসমূহ

হাদিসের আলোকে জাহান্নামে নারীদের আধিক্যের প্রধান কারণগুলো হলো:

  1. স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা (কফরানে আশির): স্বামীর সারাজীবনের সেবা, ভালোবাসা ও দানশীলতাকে ভুলে গিয়ে সামান্য কোনো অপছন্দনীয় আচরণ ঘটলেই বিগত সকল অনুগ্রহকে বেমালুম অস্বীকার করা।
  2. অভিশাপ দেওয়া ও পরনিন্দা (كثرة اللعن والغيبة): কথায় কথায় অভিশাপ দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের প্রতি কটূক্তি করা এবং গিবত ও চোগলখোরিতে লিপ্ত হওয়া।
  3. সম্পদ বিনষ্ট ও লোকদেখানো স্বভাব: অহংকারবশত অপচয় করা এবং শরীয়তের পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে প্রদর্শনমুখী জীবনযাপন করা।
  4. পার্থিব অস্থিরতা ও অধৈর্য: অভাব-অনটন বা সংকটের মুহূর্তে সবর না করে তাকদিরের প্রতি অভিযোগ উত্থাপন করা।

উল্লেখ্য, এই হাদিস নারীর মর্যাদা হ্রাসের জন্য নয়; বরং নারীদের এই নৈতিক দুর্বলতাসমূহ সংশোধন করে বেশি বেশি দান-সদকা ও ইস্তিগফার করার তাগিদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

(খ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

পরিচিতি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই। হিজরতের তিন বছর পূর্বে শিয়াবে আবি তালিবে অবরুদ্ধ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপাধি ছিল ‘হাবরুল উম্মাহ’ (উম্মাহর শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত) এবং ‘তুর্জুমানুল কুরআন’ (কুরআনের প্রধান ভাষ্যকার)।

রাসুলুল্লাহর বিশেষ দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বুকে হাত রেখে দোয়া করেছিলেন: اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل (হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করুন এবং কুরআনের সঠিক তাফসীর শিখিয়ে দিন)।

জ্ঞানচর্চায় অবদান ও ওফাত: তিনি তাফসীর, হাদিস, ফিকহ ও আরবি সাহিত্যে শীর্ষস্থানীয় মুজতাহিদ ছিলেন। তিনি ১,৬৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৬৮ হিজরিতে ৭১ বছর বয়সে তায়েফে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন।

৬ নম্বর প্রশ্ন

باب قيام ليلة القدر من الإيمان : حدثنا أبو اليمان قال أخبرنا شعيب قال حدثنا أبو الزناد عن الأعرج عن أبى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من يقم ليلة القدر إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه –

(أ) اكتب فضائل ليلة القدر فى ضوء القرآن والسنة –

(ب) اكتب ترجمة أبى هريرة رضى الله عنه مختصرا –

[৬. পরিচ্ছেদ: শবে কদরের রাতে নামাজ আদায় করা ঈমানের অঙ্গ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (ইবাদত) করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।]

[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলতসমূহ লেখ।]

[(খ) আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লেখ।]

(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে লাইলাতুল কদরের ফজিলত

  • কুরআন মাজিদ নাজিলের রজনী: আল্লাহ তাআলা এ রাতে লওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে একযোগে পবিত্র কুরআন নাজিল করেছেন (إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ)।
  • হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ: এ রাতের একটিমাত্র রাতের ইবাদত হাজার মাস (তথা ৮৩ বছর ৪ মাস) অবিরাম ইবাদত করার চেয়েও অধিক সওয়াব ও বরকতময় (لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ)।
  • ফিরিশতাদের অবতরণ ও শান্তি বর্ষণ: এ রাতে জিবরীল (আ.)-এর নেতৃত্বে অসংখ্য ফিরিশতা জমিনে নেমে আসেন এবং ইবাদতরত মুমিনদের জন্য রহমত ও সালাম বর্ষণ করেন ফজর উদয় পর্যন্ত।
  • অতীতের সকল পাপ মোচন: হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী, ঈমান ও সহীহ নিয়তে এ রাতে নফল সালাত, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করলে অতীতের সমুদয় সগিরা গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন।

(খ) হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আবু হুরায়রা (রা.)-এর মূল নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নাম ছিল আবদুশ শামস। বিড়ালের ছানার প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ ও ভালোবাসার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ভালোবেসে ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালছানার পিতা) উপনাম দেন।

তিনি সপ্তম হিজরিতে খায়বার যুদ্ধের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আসহাবে সুফফায় থেকে সার্বক্ষণিক রাসুলুল্লাহর সাহচর্য গ্রহণ করেন। রাসুলুল্লাহর দোয়ার বরকতে তিনি যা শুনতেন তা কখনো ভুলতেন না। সাহাবিদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী (৫,৩৭৪টি হাদিস)। ৫৯ হিজরিতে ৭৮ বছর বয়সে মদিনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৭ নম্বর প্রশ্ন

باب اتباع الجنائز من الإيمان : حدثنا أحمد بن عبد الله بن على المنجوفى قال حدثنا روح قال حدثنا عوف عن الحسن ومحمد عن أبى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : من اتبع جنازة مسلم إيمانا واحتسابا وكان معه حتى يصلى عليها ويفرغ من دفنها فإنه يرجع من الأجر بقيراطين كل قيراط مثل أحد ومن صلى عليها ثم رجع قبل أن تدفن فإنه يرجع من الأجر بقيراط –

(أ) اكتب أهمية صلاة الجنازة مع بيان حكمها –

(ب) ما المناسبة بين الحديث وترجمة الباب؟ بين –

[৭. পরিচ্ছেদ: জানাজায় অংশগ্রহণ করা ঈমানের অংশ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কোনো মুসলিমের জানাজার অনুসরণ করে এবং জানাজার নামাজ আদায় ও দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তার সাথে থাকে, সে দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব নিয়ে ফিরবে; যার প্রতিটি কিরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। আর যে ব্যক্তি কেবল জানাজার নামাজ পড়ে দাফনের পূর্বে ফিরে আসে, সে এক কিরাত সওয়াব নিয়ে ফিরবে।]

[(ক) জানাজার নামাজের গুরুত্ব ও বিধান আলোচনা কর।]

[(খ) হাদিস ও পরিচ্ছেদের শিরোনামের (তারজামাতুল বাব) মধ্যকার সামঞ্জস্য বর্ণনা কর।]

(ক) জানাজার নামাজের গুরুত্ব ও শরয়ি বিধান

শরয়ি বিধান: জানাজার নামাজ আদায় করা মুসলিম উম্মাহর ওপর ‘ফরযে কেফায়াহ’। সমাজের কিছু লোক আদায় করলে বাকিরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ আদায় না করলে সকলেই গুনাহগার হবে।

গুরুত্ব ও তাৎপর্য:

  1. মৃতের জন্য সম্মিলিত দোয়া: জানাজার সালাত মূলত মৃত মুসলিম ভাইয়ের ক্ষমার জন্য জীবিতদের সম্মিলিত শাফায়াত। হাদিসে এসেছে, কোনো জানাজায় ৪০ বা ১০০ জন এমন মুমিন শরিক হয় যারা শিরক করে না, আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করেন।
  2. মৃত্যু ও আখেরাতের স্মরণ: মৃতদেহ সামনে দেখে মানুষের অন্তরে অহংকার চূর্ণ হয় এবং নিজের মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ সৃষ্টি হয়।
  3. অসীম সওয়াব অর্জন: জানাজা ও দাফন পর্যন্ত অবস্থানকারী দুই কিরাত (উহুদ পাহাড়ের সমপরিমাণ) সওয়াব লাভ করে।

(খ) হাদিস ও পরিচ্ছেদের শিরোনামের সামঞ্জস্য

ইমাম বুখারী (র.) পরিচ্ছেদের নাম দিয়েছেন: “জানাজার অনুসরণ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত”। হাদিসে বলা হয়েছে: من اتبع جنازة مسلم إيمانا واحتسابا (যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় জানাজার অনুগমন করে)। ইমাম বুখারী এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক নেক আমলও ঈমানের অঙ্গ এবং আমল বৃদ্ধির সাথে সাথে ঈমান বৃদ্ধি পায়—যা মুতাজিলা ও জাহমিয়াদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের সুস্পষ্ট খণ্ডন।

৮ নম্বর প্রশ্ন

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : من أحق الناس بحسن صحابتي؟ قال : أمك، قال : ثم من؟ قال : أمك، قال ثم من؟ قال أمك، قال ثم من؟ قال أبوك –

(أ) ما هو سبب أفضلية الأم على الأب؟ بين –

(ب) بين حقوق الأولاد على الوالدين –

[৮. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে আরজ করল: হে আল্লাহর রাসুল! আমার উত্তম আচরণের সর্বাধিক হকদার কে? তিনি বললেন: তোমার মা। লোকটি বলল: তারপর কে? তিনি বললেন: তোমার মা। লোকটি বলল: তারপর কে? তিনি বললেন: তোমার মা। লোকটি বলল: তারপর কে? তিনি বললেন: তোমার বাবা।]

[(ক) বাবার ওপর মায়ের অগ্রাধিকারের কারণ কী? বর্ণনা কর।]

[(খ) পিতা-মাতার ওপর সন্তানদের অধিকারসমূহ বর্ণনা কর।]

(ক) বাবার ওপর মায়ের অগ্রাধিকারের কারণ

হাদিসে তিনবার মায়ের কথা উল্লেখ করে চতুর্থবারে বাবার কথা বলা হয়েছে। ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণ মায়ের এই ত্রিগুণ অগ্রাধিকারের তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  1. গর্ভধারণের অসহ্য কষ্ট (حَمَلَتْهُ كُرْهًا): মা দীর্ঘ নয়-দশ মাস সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেন, যা বাবা কখনো অংশীদার হতে পারেন না।
  2. প্রসববেদনার চরম যন্ত্রণা (وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا): সন্তান প্রসবের সময় মা মৃত্যুর মুখোমুখি হন এবং প্রচণ্ড শারীরিক যন্ত্রণা ভোগ করেন।
  3. স্তন্যদান ও শৈশবের দিবারাত্রি সেবা (فِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ): মা নিজ শরীরের রক্ত ক্ষয় করে দুই বছর দুধ পান করান এবং নিজের ঘুম ও শান্তি বিসর্জন দিয়ে সন্তানের লালন-পালন করেন।

(খ) পিতা-মাতার ওপর সন্তানের অধিকারসমূহ

  • সুন্দর নাম রাখা: জন্মের পর অর্থবহ ও সুন্দর ইসলামি নাম নির্ধারণ করা।
  • আকিকা সম্পাদন: সামর্থ্য থাকলে সপ্তম দিনে আকিকা করা ও চুল মুণ্ডন করে সমপরিমাণ রূপা দান করা।
  • দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা: শৈশব থেকেই তাওহিদ, সালাত ও চরিত্র গঠনের প্রাথমিক তালিম দেওয়া।
  • বৈষম্যহীন আচরণ: সকল সন্তানের প্রতি ভালোবাসা ও সম্পদ বণ্টনে পূর্ণ ইনসাফ কায়েম করা।
  • যোগ্য পাত্র-পাত্রীতে বিবাহ দান: বালেগ হলে উপযুক্ত পাত্র বা পাত্রীর সাথে বিবাহের ব্যবস্থা করা।

৯ নম্বর প্রশ্ন

عن المغيرة بن شعبة عن النبى صلى الله عليه وسلم قال : إن الله حرم عليكم عقوق الأمهات ومنعا وهات و وأد البنات وكره لكم قيل وقال وكثرة السؤال وإضاعة المال –

(أ) بين الكبائر فى ضوء القرآن والسنة –

(ب) اكتب خطورة عقوق الوالدين موضحا –

[৯. মুগীরা ইবনে শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য মায়েদের অবাধ্যতা, প্রাপ্যের হক না দেওয়া ও অন্যায় দাবি করা এবং কন্যাসন্তানকে জীবন্ত সমাধিস্থ করা হারাম করেছেন। আর তোমাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় কথা ও পরচর্চা (ক্বিলা ওয়া ক্বালা), অহেতুক অতিরিক্ত প্রশ্ন করা এবং সম্পদ বিনষ্ট করা অপছন্দনীয় করেছেন।]

[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কবিরা গুনাহসমূহ বর্ণনা কর।]

[(খ) পিতা-মাতার অবাধ্যতার ভয়াবহতা বিস্তারিত লেখ।]

(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কবিরা গুনাহের পরিচয় ও বিবরণ

কবিরা গুনাহের সংজ্ঞা: যে সকল পাপের জন্য কুরআন বা হাদিসে জাহান্নামের স্পষ্ট হুমকি, লানত বা দুনিয়াতে শরয়ি হদ ও শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলোকে কবিরা গুনাহ (الكبائر) বলা হয়।

প্রধান প্রধান কবিরা গুনাহ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি ধ্বংসাত্মক কবিরা গুনাহের কথা উল্লেখ করেছেন: (১) আল্লাহর সাথে শিরক করা, (২) জাদু-টোনা করা, (৩) অন্যায়ভাবে কোনো প্রাণ হত্যা করা, (৪) সুদের আদান-প্রদান, (৫) এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ, (৬) যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন এবং (৭) সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর ওপর অপবাদ দেওয়া। এছাড়াও পিতা-মাতার অবাধ্যতা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা শীর্ষস্থানীয় কবিরা গুনাহ।

(খ) পিতা-মাতার অবাধ্যতার (عقوق الوالدين) ভয়াবহতা

  1. শিরকের পরেই দ্বিতীয় ধ্বংসাত্মক অপরাধ: রাসুলুল্লাহ (সা.) কবিরা গুনাহের তালিকায় শিরকের পরই পিতা-মাতার অবাধ্যতাকে উল্লেখ করেছেন।
  2. আমল কবুল না হওয়া: যে সন্তান পিতা-মাতার অবাধ্য হয়, তার কোনো নফল বা ওয়াজিব আমল কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “পিতা-মাতার অবাধ্য ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
  3. আল্লাহর অসন্তুষ্টি: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।”
  4. দুনিয়াতেই দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত হওয়া: সকল পাপের শাস্তি আল্লাহ চাইলে আখেরাত পর্যন্ত পিছিয়ে দেন; কিন্তু পিতা-মাতার অবাধ্যতার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই মৃত্যুর পূর্বে দিয়ে থাকেন।

১০ নম্বর প্রশ্ন

باب إثم القاطع : حدثنى يحيى بن بكير حدثنى الليث عن عقيل عن ابن شهاب أن محمد بن جبير بن مطعم قال : إن جبير بن مطعم أخبره أنه سمع النبى صلى الله عليه وسلم يقول : لا يدخل الجنة قاطع –

(أ) اكتب فضل صلة الرحم فى ضوء القرآن والسنة –

(ب) اكتب حقوق الأقارب والجيران بالإيجاز –

[১০. পরিচ্ছেদ: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর গুনাহ: জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।]

[(ক) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার (সিলাতুর রহিম) ফজিলত লেখ।]

[(খ) সংক্ষেপে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর অধিকারসমূহ লেখ।]

(ক) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার (صلة الرحم) ফজিলত

  • রিজিকে বরকত ও দীর্ঘায়ু লাভ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: مَن سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ في رِزْقِهِ، وَيُنْسَأَ لَهُ في أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ (যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে তার রিজিকে প্রশস্ততা আসুক এবং তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে)।
  • আল্লাহর রহমতের সান্নিধ্য: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন: “যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক জুড়বে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক রাখব; আর যে তা ছিন্ন করবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করব।”
  • জান্নাত লাভের সহজ মাধ্যম: সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিরোধ হলেও যোগাযোগ স্থাপন করা জান্নাত লাভের অন্যতম প্রধান উপায়।

(খ) আত্মীয় ও প্রতিবেশীর অধিকারসমূহ

১. আত্মীয়দের অধিকার: তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, বিপদে আর্থিক সাহায্য করা, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া এবং তারা বিরূপ আচরণ করলেও ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা।

২. প্রতিবেশীর অধিকার: প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া, ক্ষুধার্ত থাকলে খাদ্যের ব্যবস্থা করা, ঘরবাড়ি ও চলাচলে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং তাদের সুখে-দুঃখে অংশীদার হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: “জিবরীল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এত বেশি তাগিদ দিচ্ছিলেন যে, আমার মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।”


مجموعة (ب) [খ অংশ] (মান: ১ × ১০ = ১০)

১১ নম্বর প্রশ্ন

اكتب نبذة عن حياة الإمام البخارى (رح) مع بيان مساهمته فى علم الحديث –

[১১. ইমাম বুখারী (র.)-এর জীবনী সংক্ষেপে তুলে ধর এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অনন্য অবদান আলোচনা কর।]

ইমাম বুখারী (র.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাম ও জন্ম: আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহীম আল-বুখারী (র.)। তিনি ১৯৪ হিজরির ১৩ই শাওয়াল ঐতিহাসিক বুখারা নগরীতে এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষা ও অসাধারণ স্মৃতিশক্তি: শৈশবেই তিনি পিতৃহীন হন। কৈশোরেই সমগ্র কুরআন ও হাজার হাজার হাদিস সনদসহ মুখস্থ করে ফেলেন। তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, বাগদাদ, দামেস্ক ও মিসর পরিভ্রমণ করেন। প্রায় ১,০০০ মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ ও সংকলন করেন।

ওফাত: তিনি ২৫৬ হিজরির ১লা শাওয়াল (ঈদুল ফিতরের রাতে) সমরকন্দের নিকটবর্তী খরতঙ্ক নামক স্থানে ৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

হাদিস শাস্ত্রে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান

  • প্রথম বিশুদ্ধ হাদিসগ্রন্থ সংকলন: তিনিই সর্বপ্রথম কেবলমাত্র সহীহ হাদিস বাছাই করে স্বতন্ত্র গ্রন্থ ‘আল-জামি আস-সহীহ’ (সহীহ বুখারী) প্রণয়ন করেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের সাধনায় ৬ লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই করে এটি রচনা করেন। প্রতিটি হাদিস লেখার পূর্বে তিনি গোসল করে দুই রাকাত নফল সালাত ও ইস্তিখারা করতেন।
  • উচ্চমানের যাচাই পদ্ধতি: রাবি বা বর্ণনাকারীর সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি উভয়ের সরাসরি সাক্ষাৎ (লিকা) প্রমাণ হওয়াকে তিনি শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেন।
  • তারজামাতুল বাবের প্রজ্ঞা: অধ্যায় বিন্যাস ও ফিকহি উদ্ভাবনী শক্তিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ফকিহগণ বলেন: فقه البخاري في تراجمه (বুখারীর ফিকহি প্রজ্ঞা তাঁর পরিচ্ছেদসমূহের শিরোনামে নিহিত)।
  • অন্যান্য কালজয়ী গ্রন্থাবলি: আত-তারিখুল কাবীর, আল-আদাবুল মুফরাদ, খালকু আফআলিল ইবাদ, কিতাবুজ জুআফা ইত্যাদি।

১২ নম্বর প্রশ্ন

اكتب مناهج الإمام البخارى فى صحيحه ثم بين خصائص صحيح البخارى ودرجته بين كتب الحديث النبوية –

[১২. সহীহ বুখারীতে ইমাম বুখারী (র.)-এর সংকলন পদ্ধতি (মানহাজ) লেখ। অতঃপর সহীহ বুখারীর বৈশিষ্ট্য ও সিহাহ সিত্তার মধ্যে এর মর্যাদা ও স্থান বর্ণনা কর।]

সহীহ বুখারীতে ইমাম বুখারী (র.)-এর সংকলন পদ্ধতি (মানহাজ)

  1. কঠোর বিশুদ্ধতার শর্ত: সনদের ধারাবাহিকতা অবিচ্ছিন্ন (মুত্তাসিল) হওয়া, বর্ণনাকারীর সর্বোচ্চ সততা ও ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত), প্রখর স্মৃতিশক্তি (দাবত), এবং সনদের মধ্যে কোনো ধরনের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লত) বা বিচ্ছিন্নতা (শুযূয) না থাকা।
  2. সাক্ষাতের শর্ত (শর্তুল লিকা): উস্তাদ ও ছাত্রের সমসাময়িক হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং নিশ্চিতভাবে উভয়ের সরাসরি সাক্ষাৎ ও হাদিস শ্রবণ প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।
  3. পুনরাবৃত্তি ও বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা: ভিন্ন ভিন্ন ফিকহি মাসআলা প্রমাণের জন্য তিনি একই হাদিস একাধিক পরিচ্ছেদে ভিন্ন সনদে উল্লেখ করেছেন।

সহীহ বুখারীর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা

  • আসমানি কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ: মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো: أصح الكتب بعد كتاب الله صحيح البخاري অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের পরেই সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো সহীহ বুখারী।
  • সিহাহ সিত্তার শীর্ষস্থান: হাদিসের প্রসিদ্ধ ছয়টি কিতাবের মধ্যে সহীহ বুখারীর স্থান সবার শীর্ষে। এতে কোনো মনগড়া বা দুর্বল হাদিস নেই।
  • উম্মাহর ইজমা: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সকল যুগের উলামায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণ এ গ্রন্থের প্রামাণ্যতার ওপর সর্বসম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সহীহ বুখারী গ্রন্থটি সংকলন করতে ইমাম বুখারীর কত বছর সময় লেগেছিল?

ইমাম বুখারী (র.) দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মক্কা, মদিনা ও অন্যান্য জ্ঞানকেন্দ্রে অবস্থান করে প্রায় ৬ লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে এ কালজয়ী গ্রন্থ সংকলন করেন।

২. বুখারী শরীফে কোনো হাদিস অন্তর্ভুক্ত করার পূর্বে ইমাম বুখারীর আমল কী ছিল?

তিনি পবিত্র গোসল সম্পন্ন করে দুই রাকাত নফল সালাত ও ইস্তিখারা আদায় করতেন এবং অন্তরে পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করলেই কেবল হাদিসটি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করতেন।

৩. হাদিস শাস্ত্রে ‘তারজামাতুল বাব’ বলতে কী বোঝায়?

হাদিসগ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের জন্য মুহাদ্দিস কর্তৃক নির্ধারিত শিরোনামকে তারজামাতুল বাব বলা হয়, যার মাধ্যমে সংকলকের নিজস্ব ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়।

৪. ইসলামে ওহির আগমনকে ঘণ্টার শব্দের সাথে কেন তুলনা করা হয়েছে?

ওহির আগমন অত্যন্ত তীব্র, ভারী ও গম্ভীর ছিল যা রাসুলুল্লাহর ইন্দ্রিয়জ চেতনায় গভীর প্রভাব ফেলত এবং সকল মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে ওহির প্রতি নিবদ্ধ করে দিত।

৫. কেন আসমানি কিতাব কুরআনের পরেই সহীহ বুখারীর স্থান?

কারণ ইমাম বুখারী সনদ ও রাবির সত্যতা যাচাইয়ে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর ও বৈজ্ঞানিক শর্তাবলি প্রয়োগ করেছেন, যার ফলে এটি নির্ভুল ও খাঁটি প্রমাণিত হয়েছে।

৬. ফাজিল ৩য় বর্ষের পরীক্ষার জন্য আস-সহীহ লিল বুখারীর উত্তর কীভাবে প্রস্তুত করা উচিত?

মূল হাদিসের পাঠ সুন্দরভাবে উল্লেখ করে তার সরল অনুবাদ, শাব্দিক ও ফিকহি বিশ্লেষণ, রাবির পরিচয় এবং শিক্ষণীয় দিকগুলো ক্রমানুসারে সাজিয়ে উপস্থাপন করা শ্রেয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *