ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আল-ইকতিসাদ ওয়াল ইকতিসাদুল ইসলামী (الاقتصاد والاقتصاد الإسلامي)
বিষয় কোড: ২০৪৩০১ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
مجموعة (أ) : الأسئلة المقالية (ক-অংশ: রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
١- عرّف الاقتصاد ثم بين نطاقه وطبيعته وموضوعه-
[১. অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও এবং এর পরিধি, প্রকৃতি ও মূল আলোচ্য বিষয় আলোচনা কর।]
ক. অর্থনীতির আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা (تعريف الاقتصاد)
১. শাব্দিক বিশ্লেষণ:
‘ইকতিসাদ’ (الاقتصاد) শব্দটি আরবি ‘ক্বাসদ’ (قَصْدٌ) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, মিতব্যয়িতা, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সঠিক পথ অনুসরণ করা। আল-কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: «وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ» — “তোমার পদচারণায় মধ্যপন্থা অবলম্বন কর।” (সূরা লোকমান: ১৯)। ইংরেজি Economics শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘Oikonomia’ থেকে, যার অর্থ গৃহস্থালি পরিচালনা (Household management)।
২. পারিভাষিক সংজ্ঞা:
সাধারণ অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতি হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অসীম অভাব পূরণের কলাকৌশল ও মানবীয় আচরণ পর্যালোচনা করে।
- অ্যাডাম স্মিথ (Adam Smith): অর্থনীতির জনক অ্যাডাম স্মিথ তাঁর ‘The Wealth of Nations’ গ্রন্থে বলেন—”Economics is the science of wealth.” অর্থাৎ অর্থনীতি হলো সম্পদের বিজ্ঞান।
- আলফ্রেড মার্শাল (Alfred Marshall): মার্শালের মতে, অর্থনীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কার্যাবলি ও বস্তুগত কল্যাণের উপায় অনুসন্ধান করে।
- লায়োনেল রবিন্স (Lionel Robbins): রবিন্সের প্রদত্ত সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞানুসারে—”Economics is the science which studies human behavior as a relationship between ends and scarce means which have alternative uses.” অর্থাৎ অর্থনীতি মানুষের আচরণকে এমন এক বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করে যা অসীম লক্ষ্য এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সীমিত সম্পদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
খ. অর্থনীতির পরিধি (نطاق علم الاقتصاد)
অর্থনীতির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল পরিধিকে প্রধানত পাঁচটি স্তম্ভে বিন্যস্ত করা যায়:
- উৎপাদন (الإنتاج): প্রাকৃতিক ও মানবীয় উপাদান ব্যবহার করে উপযোগ সৃষ্টির সামগ্রিক প্রক্রিয়া।
- উপভোগ (الاستهلاك): মানুষের বস্তুগত ও অবস্তুগত অভাব মেটাতে দ্রব্যের উপযোগের প্রত্যক্ষ নিঃশেষকরণ।
- বিনিময় (التبادل): উৎপাদিত পণ্য ও সেবাসমূহের সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা ও মুদ্রার মাধ্যমে লেনদেন।
- বণ্টন (التوزيع): উৎপাদনের চারটি উপাদান—ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠনের মধ্যে অর্জিত আয়ের ন্যায্য বিভাজন (খাজনা, মজুরি, সুদ/মুনাফা ও লাভ)।
- সরকারি অর্থব্যবস্থা (المالية العامة): রাষ্ট্রের সামগ্রিক আয়, ব্যয়, রাজস্ব নীতি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা।
গ. অর্থনীতির প্রকৃতি ও মূল বিষয়বস্তু (طبيعته وموضوعه)
অর্থনীতি কি নিছক একটি বিজ্ঞান (Science) নাকি কলা (Art)? আধুনিক তাত্ত্বিকদের মতে অর্থনীতি যুগপৎ বাস্তবনিষ্ঠ বিজ্ঞান (Positive Science) এবং আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান (Normative Science)। এটি যেমন সম্পদের কার্যকারণ নির্ণয় করে, তেমনি সমাজের সামাজিক ন্যায়বিচার ও কল্যাণের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অর্থনীতির মূল বিষয়বস্তু হলো মানবসমাজের দুষ্প্রাপ্য সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন এবং মানবিক জীবনযাত্রার সার্বিক উৎকর্ষ সাধন।
٢- ما الاقتصاد الإسلامي؟ بين طبيعته ومصادره مفصلا-
[২. ইসলামী অর্থনীতি কাকে বলে? এর প্রকৃতি ও মৌলিক উৎসসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ক. ইসলামী অর্থনীতির পরিচিতি ও সংজ্ঞা (مفهوم الاقتصاد الإسلامي)
ইসলামী অর্থনীতি হলো মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা এবং শরীয়তের বিধিমালার আলোকে পরিচালিত এমন এক অর্থব্যবস্থা, যা মানুষের বৈষয়িক কল্যাণ এবং পরকালীন মুক্তির সমন্বয় সাধন করে।
- ড. মান্নান (M.A. Mannan)-এর সংজ্ঞা: “Islamic economics is a social science which studies the economic problems of a people imbued with the values of Islam.” অর্থাৎ ইসলামী অর্থনীতি হলো একটি সামাজিক বিজ্ঞান যা ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যাবলি পর্যালোচনা করে।
- মুহাম্মদ বাখির আস-সদর (রহ.): তাঁর ‘ইকতিসাদুনা’ গ্রন্থে বলেন, ইসলামী অর্থনীতি হলো ইসলামী আকিদা ও নৈতিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে মানবজাতির অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা।
খ. ইসলামী অর্থনীতির প্রকৃতি ও অনন্য বৈশিষ্ট্য (طبيعة الاقتصاد الإسلامي)
- ঐশী দিকনির্দেশনা ও নৈতিকতা: এটি বস্তুবাদী নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জবাবদিহিতার চেতনায় পরিচালিত।
- দ্বিমুখী কল্যাণ (দুনিয়া ও আখিরাত): সাধারণ অর্থনীতি কেবল পার্থিব বস্তুগত সমৃদ্ধি খোঁজে, কিন্তু ইসলামী অর্থনীতি দুনিয়ার স্বচ্ছলতার পাশাপাশি আখিরাতের নাজাতকে অগ্রাধিকার দেয়।
- সুদমুক্ত ও শোষণহীন কাঠামো: রিবা (সুদ), জুয়া (ক্বিমার) ও ফটকাবাজির মূলোৎপাটন করে বাস্তব উৎপাদনমুখী ব্যবস্থার বিকাশ সাধন।
- সম্পদের সুষম আবর্তন: কুরআন ঘোষণা করেছে: «كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ» — “যাতে ধনসম্পদ কেবল তোমাদের ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না থাকে।” (সূরা আল-হাশর: ৭)।
গ. ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক উৎসসমূহ (مصادر الاقتصاد الإسلامي)
ইসলামী অর্থব্যবস্থার ভিত্তি চারটি প্রামাণ্য শরয়ী উৎসের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
- ১. কুরআনুল কারীম (القرآن الكريم): প্রধান ও অকাট্য উৎস। বাণিজ্য হালাল ও সুদ হারামকরণ (সূরা বাক্বারা: ২৭৫), অপচয় নিষিদ্ধকরণ (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৬-২৭), এবং যাকাত ও ইনসাফের বিধান কুরআনেই নির্দেশিত।
- ২. সুন্নাতে নববী (السنة النبوية): রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী, আমল ও মৌন সম্মতি। মদিনা বাজারে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, পণ্য মজুতদারি (ইহতিকার) নিষিদ্ধকরণ এবং মুদারাবা ও মুশারাকার অনুমোদন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।
- ৩. ইজমা (الإجماع): কোনো নির্দিষ্ট যুগে উম্মতের মুজতাহিদ ফকীহগণের ঐকমত্য। সাহাবা ও তাবেঈনদের যুগে বাণিজ্যের আধুনিক রূপরেখা ও কর ব্যবস্থাপনায় ইজমার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
- ৪. কিয়াস ও ইজতিহাদ (القياس والاجتهاد): পরিবর্তিত যুগে উদ্ভূত জটিল অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (যেমন আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিং, সুকুক ও শেয়ারবাজারের শরীয়াহ স্ক্রিনিং)।
٣- اكتب الفروق بين الاقتصاد الإسلامي والاقتصاد التقليدي-
[৩. ইসলামী অর্থনীতি এবং প্রচলিত অর্থনীতির মধ্যকার মৌলিক পার্থক্যসমূহ আলোচনা কর।]
তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও প্রধান পার্থক্যসমূহ
প্রচলিত পুঁজিবাদী (Capitalism) ও সমাজতান্ত্রিক (Socialism) অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামী অর্থব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ তুলনামূলক ছকে সাজানো যায়:
- ১. মূল দর্শনের দিক থেকে:
প্রচলিত অর্থনীতি: চরম বস্তুবাদী ও ভোগবাদী দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পার্থিব মুনাফা অর্জন ও বস্তুগত ভোগবিলাসই একমাত্র লক্ষ্য।
ইসলামী অর্থনীতি: তাউহীদ, খিলাফত ও আখিরাতের জবাবদিহিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতিটি সম্পদ মহান আল্লাহর পবিত্র আমানত। - ২. সম্পদের মালিকানার দিক থেকে:
পুঁজিবাদে: সম্পদে ব্যক্তির নিরঙ্কুশ ও সীমাহীন ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত, যা সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করে।
সমাজতন্ত্রে: ব্যক্তির ব্যক্তিমালিকানা কেড়ে নিয়ে সবকিছু রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়, যা ব্যক্তির উদ্যোগকে ধ্বংস করে।
ইসলামী অর্থনীতি: মৌলিক মালিকানা একমাত্র মহান আল্লাহর (সূরা আলে ইমরান: ১৮৯)। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে সুনির্দিষ্ট শরয়ী সীমার মধ্যে ব্যক্তিগত মালিকানা ভোগ করে। - ৩. আর্থিক কাঠামো ও লেনদেন:
প্রচলিত অর্থব্যবস্থা: সম্পূর্ণ সুদের (Interest/Usury) ওপর নির্ভরশীল, যেখানে ঋণদাতার ঝুঁকিহীন নিশ্চিত মুনাফা নিশ্চিত থাকে এবং ঋণগ্রহীতা শোষিত হয়।
ইসলামী অর্থব্যবস্থা: সুদ কঠোরভাবে হারাম। এর মূল ভিত্তি হলো লাভ-ক্ষতির অংশীদারিত্ব (Profit and Loss Sharing – PLS) এবং পণ্যভিত্তিক বাস্তব লেনদেন (Asset-backed financing)। - ৪. সামাজিক ভারসাম্য ও পুনর্বণ্টন:
প্রচলিত অর্থনীতি: সম্পদ পুনর্বণ্টনের বাধ্যতামূলক নৈতিক কাঠামো নেই; কর ফাঁকি ও পুঁজি পুঞ্জীভূতকরণ সাধারণ চিত্র।
ইসলামী অর্থনীতি: যাকাত, উশর, সদকা, ওয়াকফ এবং মীরাস ব্যবস্থার মাধ্যমে ধনী থেকে দরিদ্রের দিকে সম্পদের অবিরাম পুনর্প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়।
٤- بين دور الزكاة في الاقتصاد الإسلامي-
[৪. ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাতের ভূমিকা ও অর্থনৈতিক প্রভাব আলোচনা কর।]
ক. যাকাতের পরিচয় ও শরয়ী মর্যাদা
‘যাকাত’ (الزكاة) শব্দের অর্থ পবিত্রতা, প্রবৃদ্ধি ও আধিক্য লাভ। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী স্বাধীন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির ওপর নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ২.৫%) দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদের মাঝে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পদ হস্তান্তর করাকে যাকাত বলে। যাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম অর্থনৈতিক স্তম্ভ।
খ. যাকাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কার্যকারিতা
- দারিদ্র্য বিমোচন ও নিরাপত্তা বেষ্টনী: যাকাতের আটটি খাতের মধ্যে প্রথম দুটিই হলো ফকির ও মিসকিনদের কল্যাণে। মদিনা সনদের পর এবং খলীফা উমর ইবনে আবদুল আজিজের শাসনামলে যাকাতের কার্যকর ব্যবহারের ফলে গোটা মুসলিম জাহানে একজনও যাকাত গ্রহণের লোক খুঁজে পাওয়া যেত না।
- সম্পদের পুঞ্জীভূতকরণ রোধ: অলস পড়ে থাকা ধনের ওপর প্রতি বছর ২.৫% হারে যাকাত আরোপিত হওয়ায় ধনী ব্যক্তিরা সম্পদ অলস না রেখে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হয়। এতে অলস পুঁজি বাজারে প্রবাহিত হয়।
- সামগ্রিক চাহিদা ও ভোগ বৃদ্ধি: প্রান্তিক দরিদ্র মানুষের ভোগপ্রবণতা (Marginal Propensity to Consume – MPC) বেশি থাকে। যাকাতের অর্থ দরিদ্রদের হাতে গেলে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, যা জাতীয় বাজারে সামগ্রিক চাহিদা ও উৎপাদনের চাকাকে সচল রাখে।
- সামাজিক শ্রেণি-সংঘাত নিরসন: পুঁজিবাদে ধনী ও শ্রমিকের মধ্যে শ্রেণি-শোষণ চরম রূপ নেয়। যাকাত ধনীর প্রতি দরিদ্রের হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে।
٥- اشرح مفهوم الملكية في الإسلام-
[৫. ইসলামে মালিকানার ধারণা ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।]
ক. মালিকানার তাত্ত্বিক ভিত্তি (حقيقة الملكية في الإسلام)
ইসলামী অর্থব্যবস্থায় মালিকানার ধারণা পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের চরমপন্থার বিপরীতে এক অনন্য ভারসাম্য রক্ষা করে। ইসলামে মালিকানার দুটি স্তর রয়েছে:
- ১. প্রকৃত ও নিরঙ্কুশ মালিকানা (الملكية الحقيقية): আসমান-জমিন এবং এদের মাঝে যা কিছু আছে তার নিরঙ্কুশ সার্বভৌম মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: «لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا فِيهِنَّ» (সূরা আল-মায়িদাহ: ১২০)।
- ২. প্রতিনিধিত্বমূলক বা অর্পিত মালিকানা (الملكية المجازية/الاستخلاف): মানুষ আল্লাহর খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবে এই পার্থিব সম্পদ ভোগ ও পরিচালনা করার অধিকারপ্রাপ্ত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে: «وَأَنْفِقُوا مِمَّا جَعَلَكُمْ مُسْتَخْلَفِينَ فِيهِ» — “আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছুর খলীফা বা প্রতিনিধি বানিয়েছেন তা থেকে ব্যয় কর।” (সূরা আল-হাদীদ: ৭)।
খ. ইসলামে মালিকানার প্রকারভেদ (أقسام الملكية)
- ব্যক্তিগত মালিকানা (الملكية الفردية): হালাল উপায়ে উপার্জিত সম্পদে ব্যক্তির স্বাধীন মালিকানা ইসলাম পুরোপুরি স্বীকার করে। তবে তা জনস্বার্থবিরোধী কাজে অপচয় করা যাবে না।
- পাবলিক বা যৌথ মালিকানা (الملكية العامة): যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ সমগ্র মানবজাতির অপরিহার্য প্রয়োজন, তাতে একক ব্যক্তির একচেটিয়া মালিকানা নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে: «المُسْلِمُونَ شُرَكَاءُ فِي ثَلَاثٍ: فِي المَاءِ، وَالكَلَإِ، وَالنَّارِ» — “মুসলিমগণ তিনটি বিষয়ে সম-অংশীদার: পানি, চারণভূমি ও আগুন (জ্বালানি/শক্তি)।” (আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)।
- রাষ্ট্রীয় মালিকানা (ملكية الدولة): বায়তুলমাল, খনিজ সম্পদ, শত্রুপরিত্যক্ত সম্পত্তি এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে সংরক্ষিত ভূসম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।
٦- بين نظام المصرفية الإسلامية وخصائصها-
[৬. ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও এর মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
ক. ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার ধারণা (مفهوم المصرفية الإسلامية)
ইসলামী ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো ইসলামী শরীয়তের নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন, সুদের মূলোৎপাটন এবং হালাল ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব ও বিনিয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজ ও মানবতার অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
খ. ইসলামী ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص المصرفية الإسلامية)
- ১. সম্পূর্ণ সুদমুক্ত লেনদেন: আমানত গ্রহণ বা ঋণ প্রদান—উভয় ক্ষেত্রেই সুদ (Interest) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- ২. লাভ-ক্ষতি বণ্টনভিত্তিক পদ্ধতি (PLS System): মুদারাবা (এক পক্ষের পুঁজি ও অন্য পক্ষের শ্রম) এবং মুশারাকা (যৌথ মূলধনী বিনিয়োগ)-এর মাধ্যমে বাস্তব লাভ-ক্ষতির অংশীদার হওয়া।
- ৩. বাস্তব সম্পদভিত্তিক বিনিয়োগ (Asset-backed financing): কাল্পনিক অর্থের কারবার না করে মুরাবাহা (লাভযুক্ত বিক্রয়), ইজারা (ভাড়া ও ইজারা চুক্তি) এবং সালাম ও ইস্তিসনা চুক্তির মাধ্যমে বাস্তব পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে অর্থায়ন করা হয়।
- ৪. শরীয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড: প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকে বিজ্ঞ মুফতি ও ফকীহগণের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন শরীয়াহ বোর্ড থাকে, যা ব্যাংকের প্রতিটি লেনদেন শরীয়াহসম্মত কি না তা পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করে।
- ৫. সামাজিক ন্যায়বিচার ও যাকাত তহবিল পরিচালনা: ব্যবসায়িক মুনাফার পাশাপাশি গরিব-অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে কর্জে হাসানা এবং যাকাত তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব পালন।
مجموعة (ب) : الأسئلة الموجزة (খ-অংশ: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
٧- ما العُشر والخَراج؟ اذكر الفرق بينهما-
[৭. উশর ও খারাজ কী? এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা কর।]
ক. উশর ও খারাজের সংজ্ঞা
উশর (العشر): উশর শব্দের অর্থ এক-দশমাংশ (১০%)। ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ওপর আরোপিত যাকাতই হলো উশর। প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টি বা নদীর পানিতে উৎপাদিত ফসলে ১০% এবং কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলে ৫% (অর্ধ-উশর) বায়তুলমালে প্রদান করতে হয়।
খারাজ (الخراج): অমুসলিম নাগরিকদের অধিকারভুক্ত কৃষিভূমির ওপর আরোপিত বার্ষিক ভূমিকরকে খারাজ বলে। ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারুক (রা.) ইরাক ও সিরিয়া বিজয়ের পর সেখানকার জমি সাহাবীদের মাঝে বণ্টন না করে ভূমির মালিকদের কাছে বহাল রাখেন এবং তার ওপর বার্ষিক খাজনা ধার্য করেন, যা খারাজ নামে খ্যাত।
খ. উশর ও খারাজের মৌলিক পার্থক্য
- ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা: উশর হলো সরাসরি ইবাদত ও ফসলের যাকাত; কেবল মুসলিমদের ওপর প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে খারাজ হলো একটি চুক্তিভিত্তিক ভূমিকর, যা মূলত অমুসলিম নাগরিকদের জমির ওপর ধার্য হয়।
- ব্যয়ের খাত: উশরের অর্থ কেবল যাকাতের আটটি সুনির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা যায়। কিন্তু খারাজের অর্থ রাষ্ট্রের সাধারণ জনকল্যাণমূলক খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
- ফসলের নির্ভরতা: ফসল নষ্ট হলে উশর মাফ হয়ে যায়, কিন্তু খারাজ জমির উৎপাদন ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বার্ষিক নির্ধারিত হয়।
٨- بين مفهوم الصدقات واذكر أقسامها-
[৮. সদকার ধারণা ও এর বিভিন্ন প্রকারভেদ আলোচনা কর।]
ক. সদকার সংজ্ঞা (مفهوم الصدقة)
‘সদকা’ (الصدقة) শব্দটি আরবি ‘সিদক’ (صدق) ধাতু থেকে আগত, যার অর্থ সত্যবাদিতা। আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্য ও ঈমানের সত্যতা প্রমাণের জন্য যে দান করা হয় তাকে সদকা বলে।
খ. সদকার প্রকারভেদ (أقسام الصدقات)
- ওয়াজিব বা ফরজ সদকা (الصدقة الواجبة):
- ফরজ যাকাত।
- সদকাতুল ফিতর (ঈদুল ফিতরের দিন নির্দিষ্ট পরিমাণের খাদ্য বা সমমূল্যের দান)।
- মানত ও কাফফারার সদকা।
- নফল বা ঐচ্ছিক সদকা (الصدقة النافلة): অসহায় মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় দান করা।
- সদকায়ে জারিয়াহ (الصدقة الجارية): চিরস্থায়ী কল্যাণমূলক দান, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে (যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, নলকূপ, সড়ক ও হাসপাতাল নির্মাণ)।
- আত্মিক ও সামাজিক সদকা: মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ এবং সৎকাজের নির্দেশ ও অসৎ কাজে বাধাদানও হাদিসের দৃষ্টিতে সদকা।
٩- ما مفهوم النفقات في الاقتصاد الإسلامي؟
[৯. ইসলামী অর্থনীতিতে ব্যয়ের (নাফাক্বাত) নীতিমালা ও রূপরেখা বর্ণনা কর।]
ইসলামী অর্থনীতিতে নাফাক্বাত বা ব্যয়ের রূপরেখা
‘নাফাক্বাত’ (النفقات) শব্দটি ‘নাফাক্বা’ (النفقة)-এর বহুবচন, যার অর্থ ব্যয় বা খরচ। ইসলামে সম্পদ উপার্জনের মতো ব্যয়ের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট নীতিমালা বিদ্যমান:
- হালাল খাতে ব্যয়: ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রকে অবশ্যই শরীয়তসম্মত ও হালাল হতে হবে। হারাম ও অশ্লীল কাজে ব্যয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- অপচয় ও কৃপণতার মধ্যপন্থা: মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: «وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَامًا» — “আর যখন তারা ব্যয় করে, তখন অপচয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং উভয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করে।” (সূরা আল-ফুরকান: ৬৭)।
- দায়িত্বশীল পারিবারিক ব্যয়: স্ত্রী-সন্তান ও নির্ভরশীল আত্মীয়দের জন্য সাধ্যমতো ব্যয় করা সওয়াবের কাজ ও স্বামীর আবশ্যিক দায়িত্ব।
- ফি-সাবিলিল্লাহ ব্যয়: দীনের দাওয়াত, মানবসেবা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষায় মুক্তহস্তে সম্পদ ব্যয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
١٠- عدد مصادر دخل الدولة في الإسلام-
[১০. ইসলামী রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়ের প্রধান প্রধান উৎসসমূহ উল্লেখ কর।]
ইসলামী রাষ্ট্রের আয়ের মৌলিক উৎসসমূহ (مصادر إيرادات الدولة الإسلامية)
ইসলামী রাষ্ট্রের বায়তুলমালের প্রধান রাজস্ব উৎসসমূহ নিম্নরূপ:
- যাকাত ও উশর (الزكاة والعشر): ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ ও কৃষিপণ্যের ওপর সংগৃহীত বাধ্যতামূলক তহবিল।
- জিযিয়া (الجزية): ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক সক্ষম পুরুষদের সামরিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে আরোপিত নিরাপত্তা কর।
- খারাজ (الخراج): অমুসলিমদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমির ওপর ধার্যকৃত ভূমিকর।
- উশুর (العشور): আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শুল্ক বা কাস্টমস ডিউটি (খলীফা উমর রা. প্রবর্তিত)।
- ফাই ও গনীমত (الفيء والغنائم): যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (যার এক-পঞ্চমাংশ বা খুমুস রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়)।
- রিকাজ ও মা’দিন (الركاز والمعادن): ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ ও প্রাপ্ত গুপ্তধনের ২০% রাষ্ট্রীয় অংশ।
- লাক্বীত ও ওয়ারিশহীন সম্পত্তি: কোনো উত্তরাধিকারী না রেখে মারা যাওয়া ব্যক্তির সকল পরিত্যক্ত সম্পত্তি।
١١- بين ضرورة الخدمات المصرفية الإسلامية-
[১১. আধুনিক সমাজ ও অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।]
ইসলামী ব্যাংকিং সেবার সমকালীন আবশ্যকতা
- হারাম সুদ থেকে সুরক্ষা: প্রচলিত ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ সুদের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মুসলিমদের ঈমান ও আমল ধ্বংস করে। সুদমুক্ত বিকল্প সেবা প্রদানের মাধ্যমে মুসলিমদের হালাল আর্থিক জীবনযাপন নিশ্চিত করা।
- অর্থনৈতিক ইনসাফ কায়েম: প্রচলিত ব্যবস্থায় ঋণদাতা নির্দিষ্ট সুদ আদায় করে ধনী হয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা-মুশারাকা ইনসাফ নিশ্চিত করে।
- বাস্তব বিনিয়োগের সম্প্রসারণ: ইসলামী ব্যাংক কেবল কাগজের মুদ্রায় কারবার করে না, বরং উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা, কৃষি ও সেবা খাতে বাস্তব পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: মাদক, জুয়া, তামাক বা ইসলামবিরোধী কোনো ব্যবসায়িক প্রকল্পে ইসলামী ব্যাংক অর্থায়ন করে না; ফলে সমাজে ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধ হয়।
١٢- اكتب مذكرات قصيرة عن اثنين مما يلي : (أ) مفهوم الربح (ب) ما الربا وأضراره؟ (ج) التأمين الإسلامي-
[১২. যে কোনো দুটির ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ: (ক) মুনাফার ধারণা (খ) রিবা ও এর কুফল (গ) ইসলামী বীমা বা তাকাফুল।]
(ক) মুনাফার ধারণা (مفهوم الربح في الاقتصاد الإسلامي)
ইসলামে মুনাফা (Profit) হলো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিয়োগের মাধ্যমে উপার্জিত হালাল উদ্বৃত্ত। সুদের বিপরীতে ইসলাম ব্যবসায়ী মুনাফাকে পরম উৎসাহিত করেছে (সূরা বাক্বারা: ২৭৫)। মুনাফা অর্জনে মূলধন ও শ্রমের ঝুঁকি (Risk) বিদ্যমান থাকে। হাদিসে এসেছে: «الخَرَاجُ بِالضَّمَانِ» — “মুনাফা হলো দায়-ঝুঁকির প্রতিফল।” ইসলামে অতিরিক্ত মুনাফাখোরি ও মজুতদারি নিষিদ্ধ, তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে স্বাভাবিক মুনাফা শতভাগ বৈধ।
(খ) রিবা (সুদ) ও এর ভয়াবহ কুফল (الربا وأضراره)
সংজ্ঞা: ‘রিবা’ শব্দের অর্থ প্রবৃদ্ধি বা অতিরিক্ত। শরীয়তের পরিভাষায় ঋণ চুক্তিতে কোনো বিনিময় বা ঝুঁকি ছাড়া মূলধনের ওপর পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করাই রিবা।
কুফল ও ক্ষতিসমূহ:
১. আধ্যাত্মিক ক্ষতি: সুদ গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর বিরুদ্ধে স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে (সূরা বাক্বারা: ২৭৯)।
২. অর্থনৈতিক বৈষম্য: সুদ ধনীকে আরও ধনী এবং গরিবকে সর্বস্বান্ত করে। এটি সমাজে বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি করে।
৩. মানবিক সহমর্মিতা ধ্বংস: সুদ মানুষের মধ্য থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা, কর্জে হাসানা ও দানশীলতার মনস্তত্ত্ব চিরতরে বিনষ্ট করে দেয়।
(গ) ইসলামী বীমা বা তাকাফুল (التأمين الإسلامي / التكافل)
‘তাকাফুল’ (التكافل) হলো পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ ও যৌথ সহায়তা। প্রচলিত বীমা ব্যবস্থা জুয়া (ক্বিমার), অনিশ্চয়তা (গারার) ও সুদের (রিবা) কারণে শরীয়তবিরোধী। এর বিপরীতে ইসলামী তাকাফুল হলো একটি সমবায়ী ও দানভিত্তিক (তাবাররু’) আর্থিক কাঠামো। গ্রাহকগণ নির্দিষ্ট তহবিলে অনুদান জমা করেন এবং কোনো সদস্য আকস্মিক বিপদ, দুর্ঘটনা বা ক্ষতির সম্মুখীন হলে সেই সঞ্চিত তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। কোনো উদ্বৃত্ত অবশিষ্ট থাকলে তা সদস্যদের মাঝে লাভ হিসেবে আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ৩য় বর্ষের আল-ইকতিসাদ ওয়াল ইকতিসাদুল ইসলামী বিষয়ের বিষয় কোড কত?
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল (অনার্স) ৩য় বর্ষের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আল-ইকতিসাদ ওয়াল ইকতিসাদুল ইসলামী পত্রের কোড হলো ২০৪৩০১।
২. ইসলামে রিবা ও মুনাফার প্রধান পার্থক্য কী?
রিবা হলো ঝুঁকিহীন মূলধনের ওপর পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত অংশ যা কঠোরভাবে হারাম; আর মুনাফা হলো পণ্য বেচাকেনা ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত হালাল লাভ।
৩. কৃষি ফসলের যাকাতকে কী বলা হয় এবং এর হার কত?
কৃষি ফসলের যাকাতকে ‘উশর’ বলা হয়। প্রাকৃতিকভাবে সেচকৃত ফসলে ১০% এবং কৃত্রিম সেচে ৫% হারে উশর আদায় করতে হয়।
৪. ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দুটি প্রধান লাভ-ক্ষতি বণ্টনভিত্তিক পদ্ধতি কী কী?
মুদারাবা (এক পক্ষের পুঁজি ও অন্য পক্ষের শ্রম) এবং মুশারাকা (যৌথ অংশীদারি বিনিয়োগ)।
৫. ইসলামী রাষ্ট্রে ভূমিকর হিসেবে পরিচিত রাজস্বের নাম কী?
ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের ভূমি বা বিজিত অঞ্চলের জমির ওপর আরোপিত ভূমিকরকে ‘খারাজ’ বলা হয়।
৬. ইসলামী বীমাকে কী পরিভাষায় অভিহিত করা হয়?
ইসলামী বীমাকে ‘তাকাফুল’ (التكافل) বলা হয়, যা পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ ও তাবাররু’ (দান) নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।