জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-হাসুব (কম্পিউটার) (Al-Hasub Computer) – 204302, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬২ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: কম্পিউটার (الحاسوب)
বিষয় কোড: ২০৪৩০২ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান)

১। আকার, আকৃতি ও কার্যক্ষমতার ভিত্তিতে কম্পিউটারকে কয় ভাগে ভাগ করা যায় ও কি কি? এদের বিবরণ দাও।

[1. How many types of computers are there based on size, shape, and performance, and what are they? Give a description of them.]


উত্তর:

কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Computer):
আকার, আকৃতি, প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কম্পিউটারকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:

১. সুপার কম্পিউটার (Supercomputer):
সুপার কম্পিউটার হলো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন, শক্তিশালী এবং ব্যয়বহুল কম্পিউটার। এটি প্রতি সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গাণিতিক হিসাব বা ফ্লোটিং-পয়েন্ট অপারেশনস (FLOPS) সম্পন্ন করতে পারে। এতে হাজার হাজার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর সমান্তরালভাবে (Parallel Processing) যুক্ত থাকে।
ব্যবহার: আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা, ভূকম্পন বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: Frontier, Fugaku, Summit, Cray-1 ইত্যাদি।

২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
মেইনফ্রেম কম্পিউটার সুপার কম্পিউটারের চেয়ে সামান্য কম শক্তিশালী কিন্তু বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে একসাথে সেবা (Multi-user processing) দিতে সক্ষম। এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং বছরের পর বছর একটানা চলতে পারে।
ব্যবহার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা, বিমান ও রেলওয়ের কেন্দ্রীয় রিজার্ভেশন ব্যবস্থা, সরকারি জাতীয় ডেটা সেন্টার ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এটি কেন্দ্রীয় সার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: IBM z16, IBM System z9, UNIVAC 1100 ইত্যাদি।

৩. মিনি কম্পিউটার (Minicomputer / Midrange Computer):
মিনি কম্পিউটার মেইনফ্রেম ও মাইক্রোকম্পিউটারের মধ্যবর্তী পর্যায়ের মাঝারি আকারের কম্পিউটার। এটি একসাথে কয়েক ডজন থেকে শত শত টার্মিনাল বা ব্যবহারকারীর কাজের চাপ সামলাতে পারে।
ব্যবহার: মাঝারি ব্যাংক শাখা, বিশ্ববিদ্যালয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার এবং শিল্প কারখানার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: PDP-11, VAX, AS/400 ইত্যাদি।

৪. মাইক্রো কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার (Microcomputer / PC):
মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের ফলে উদ্ভাবিত একক ব্যবহারকারীর জন্য তৈরি স্বল্পমূল্যের জনপ্রিয় কম্পিউটারই হলো মাইক্রোকম্পিউটার। এটি আকারে ছোট, বহনযোগ্য এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
প্রকারভেদ: ডেস্কটপ কম্পিউটার (Desktop), ল্যাপটপ (Laptop), নোটবুক (Notebook), ট্যাবলেট (Tablet), এবং স্মার্টফোন (Smartphone)।
ব্যবহার: অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ব্যক্তিগত গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়।

২। কম্পিউটারের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।

[2. Discuss in detail the main characteristics and advantages of computers.]


উত্তর:

কম্পিউটার আধুনিক সভ্যতার চালিকাশক্তি। অন্যান্য ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক গণনাযন্ত্রের তুলনায় কম্পিউটারের নিজস্ব কতগুলো অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা একে অপরিহার্য করে তুলেছে। নিম্নে কম্পিউটারের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. দ্রুতগতি (High Speed):
কম্পিউটার অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন যন্ত্র। এটি প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি নির্দেশ ও জটিল গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। কম্পিউটারের কাজের গতি ন্যানোসেকেন্ড ($10^{-9}$ সেকেন্ড) বা পিকোসেকেন্ড ($10^{-12}$ সেকেন্ড) এমনকি ফেমটোসেকেন্ডে পরিমাপ করা হয়। এর প্রসেসরের গতি গিগাহার্টজ (GHz) বা MIPS (Million Instructions Per Second) এককে মাপা হয়।

২. নির্ভুলতা (Accuracy):
কম্পিউটার শতভাগ নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। প্রদত্ত নির্দেশ এবং ইনপুট ডেটা যদি সঠিক হয়, তবে কম্পিউটারের দেওয়া আউটপুট কখনো ভুল হয় না। কম্পিউটার বিজ্ঞানে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে—”Garbage In, Garbage Out” (GIGO), অর্থাৎ ভুল ইনপুট দিলে ভুল ফলাফল আসবে, কিন্তু কম্পিউটার নিজে থেকে কোনো হিসাবের ভুল করে না।

৩. ক্লান্তিহীনতা ও বিশ্বস্ততা (Diligence & Consistency):
মানুষ দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি, একঘেয়েমি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। কিন্তু কম্পিউটার বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে একটানা কাজ করলেও এর কর্মক্ষমতা, গতি বা নির্ভুলতায় বিন্দুমাত্র হেরফের হয় না।

৪. বিশাল স্মৃতি ও তথ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা (Huge Storage Capacity):
কম্পিউটারের স্মৃতিভাণ্ডার অত্যন্ত বিশাল। সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইসের (HDD, SSD, Cloud Storage) মাধ্যমে টেরাবাইট (TB) বা পেটাবাইট (PB) পরিমাণ তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে তা পুনরুদ্ধার (Retrieve) করা সম্ভব।

৫. বহুমুখী কর্মক্ষমতা (Versatility):
কম্পিউটার বহুমুখী কাজের উপযোগী একটি যন্ত্র। একই কম্পিউটার দিয়ে এক মুহূর্তে জটিল বৈজ্ঞানিক সমীকরণ সমাধান করা যায়, পরের মুহূর্তেই গান শোনা, ভিডিও এডিটিং, অ্যাকাউন্টস পরিচালনা বা টাইপিংয়ের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

৬. স্বয়ংক্রিয়তা (Automation):
একবার প্রোগ্রামের নির্দেশ ও প্রয়োজনীয় ডেটা সরবরাহ করে স্টার্ট কমান্ড দিলে কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধাপে ধাপে জটিল হিসাব সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে। এতে মানুষের সার্বক্ষণিক তদারকির প্রয়োজন হয় না।

৩। কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রজন্মের (Computer Generations) তুলনামূলক আলোচনা কর।

[3. Make a comparative discussion of the different generations of computers.]


উত্তর:

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, সার্কিটের উপাদান এবং প্রসেসিং ক্ষমতার পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের ইতিহাসকে পাঁচটি প্রজন্মে বিভক্ত করা হয়েছে। নিম্নে এদের তুলনামূলক বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রজন্ম ও সময়কাল মূল ইলেকট্রনিক উপাদান মেমরি ও ভাষা গতি ও আকার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ
১ম প্রজন্ম
(১৯৪৬-১৯৫৮)
ভ্যাকুয়াম টিউব (Vacuum Tube)। ম্যাগনেটিক ড্রাম; মেশিন ভাষা ও অ্যাসেম্বলি ভাষা। অত্যধিক বড় আকার, ধীরগতি, প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ ও অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি। ENIAC, EDVAC, UNIVAC-1, IBM 650।
২য় প্রজন্ম
(১৯৫৯-১৯৬৪)
ট্রানজিস্টর (Transistor)। ম্যাগনেটিক কোর মেমরি; উচ্চস্তরের ভাষা (FORTRAN, COBOL)। ১ম প্রজন্মের চেয়ে ছোট, দ্রুততর ও কম তাপ নির্গমনকারী। IBM 1401, IBM 1620, CDC 1604।
৩য় প্রজন্ম
(১৯৬৫-১৯৭১)
সমন্বিত বর্তনী বা আইসি (Integrated Circuit – IC)। সেমিকন্ডাক্টর মেমরি (RAM/ROM); অপারেটিং সিস্টেমের সূচনা, BASIC, Pascal। আকারে অনেক ছোট, নির্ভরযোগ্য ও উচ্চ গতিসম্পন্ন। IBM 360, PDP-8, PDP-11।
৪র্থ প্রজন্ম
(১৯৭১-বর্তমান)
মাইক্রোপ্রসেসর ও VLSI / LSI চিপ। উচ্চ ক্ষমতার সেমিকন্ডাক্টর মেমরি; C, C++, Java, RDBMS, GUI। অত্যন্ত ক্ষুদ্র, সহজে বহনযোগ্য, সুপারফাস্ট এবং কম বিদ্যুৎ খরচ। IBM PC, Apple Macintosh, আধুনিক Core i-সিরিজ পিসি।
৫ম প্রজন্ম
(বর্তমান ও ভবিষ্যৎ)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ULSI চিপ ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং। অপটিক্যাল মেমরি, ক্লাউড স্টোরেজ; স্বাভাবিক ভাষা (Natural Language), প্রোলগ। মানব মস্তিষ্কের মতো চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা ও স্বশিক্ষণ ক্ষমতা। রোবোটিক্স, সুপারকম্পিউটার Fugaku, কোয়ান্টাম প্রসেসর।

৪। সংখ্যা পদ্ধতি (Number System) কাকে বলে? কম্পিউটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার সংখ্যা পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনা কর।

[4. What is a number system? Make a comparative discussion of the different types of number systems used in computers.]


উত্তর:

সংখ্যা পদ্ধতির সংজ্ঞা (Definition of Number System):
কোনো সংখ্যা গণনা, প্রকাশ এবং হিসাব-নিকাশ করার জন্য বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন বা মৌলিক অঙ্ক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল নিয়মপদ্ধতিকে সংখ্যা পদ্ধতি (Number System) বলে। সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি (Base বা Radix) হলো ওই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট মৌলিক চিহ্নের সংখ্যা।

কম্পিউটারে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি:
ডিজিটাল কম্পিউটারে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ এবং মানব-কম্পিউটার মিথস্ক্রিয়ার সুবিধার্থে প্রধানত চার প্রকার পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়:

১. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary Number System):
ভিত্তি (Base): ২।
মৌলিক প্রতীক: দুটি (০ এবং ১)।
কম্পিউটারে গুরুত্ব: ডিজিটাল সার্কিটের সুইচিং অবস্থা (On = 1, Off = 0) অথবা ভোল্টেজের উপস্থিতি (+5V) ও অনুপস্থিতি (0V) সরাসরি বাইনারি ০ ও ১ দ্বারা প্রকাশ করা যায়। তাই কম্পিউটার অভ্যন্তরীণ সকল কার্যক্রমে কেবল বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে।
উদাহরণ: $(101101)_2$।

২. অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal Number System):
ভিত্তি (Base): ৮।
মৌলিক প্রতীক: আটটি (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭)।
কম্পিউটারে গুরুত্ব: বাইনারি সংখ্যার বড় বড় ধারা সংক্ষেপ করার জন্য প্রতি ৩টি বাইনারি বিট ($2^3 = 8$) মিলে একটি অক্টাল ডিজিট গঠন করা হয়। এটি মাইক্রোপ্রসেসর প্রোগ্রামিং ও মেমরি অ্যাড্রেসিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: $(752)_8$।

৩. ডেসিমাল বা দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal Number System):
ভিত্তি (Base): ১০।
মৌলিক প্রতীক: দশটি (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯)।
গুরুত্ব: এটি মানবজাতির প্রাত্যহিক জীবনের সার্বজনীন গণনার পদ্ধতি। কম্পিউটারে ইনপুট গ্রহণ এবং চূড়ান্ত আউটপুট প্রদর্শনে ব্যবহারকারীর বোধগম্য করার জন্য দশমিক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: $(958)_{10}$।

৪. হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal Number System):
ভিত্তি (Base): ১৬।
মৌলিক প্রতীক: ষোলোটি (০ থেকে ৯ পর্যন্ত দশটি অঙ্ক এবং A=10, B=11, C=12, D=13, E=14, F=15—এই ছয়টি বর্ণ)।
কম্পিউটারে গুরুত্ব: কম্পিউটারের মূল মেমরি অ্যাড্রেস (RAM Address), কালার কোড (যেমন: #FFFFFF) এবং IPv6 অ্যাড্রেস প্রকাশের জন্য হেক্সাডেসিমাল পদ্ধতি অপরিহার্য। প্রতিটি হেক্সাডেসিমাল ডিজিট ঠিক ৪টি বাইনারি বিটের ($2^4 = 16$) সমতুল্য।
উদাহরণ: $(2A5F)_{16}$।

৫। (ক) হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা (AB.CD)₁₆ কে বাইনারি ও অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর কর।
(খ) বাইনারি যোগ ও বিয়োগ সম্পন্ন কর: (i) (1011.11)₂ + (101.11)₂ এবং (ii) (1011.11)₂ – (101.11)₂

[5. (a) Convert hexadecimal number (AB.CD)₁₆ into binary and octal. (b) Perform binary addition and subtraction: (i) (1011.11)₂ + (101.11)₂ and (ii) (1011.11)₂ – (101.11)₂.]


উত্তর:

(ক) হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা $(AB.CD)_{16}$ এর রূপান্তর:

১. বাইনারিতে রূপান্তর:
হেক্সাডেসিমাল সংখ্যার প্রতিটি অঙ্কের সমতুল্য ৪-বিট বাইনারি মান নিচে বসাই:
$A = 1010$
$B = 1011$
.
$C = 1100$
$D = 1101$
অতএব, $(AB.CD)_{16} = (10101011.11001101)_2$।

২. অক্টালে রূপান্তর:
প্রাপ্ত বাইনারি সংখ্যা $(10101011.11001101)_2$ কে রেডিক্স পয়েন্ট থেকে ৩-বিট করে গ্রুপে বিন্যস্ত করি:
– পূর্ণাংশের ক্ষেত্রে (ডান থেকে বামে): $010$ $101$ $011$ (বামে শূন্য যোগ করে ৩-বিট পূর্ণ করা হয়েছে)
$010_2 = 2$
$101_2 = 5$
$011_2 = 3$
সুতরাং পূর্ণাংশ = $253$
– ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে (বাম থেকে ডানে): $110$ $011$ $010$ (ডানে শূন্য যোগ করে ৩-বিট পূর্ণ করা হয়েছে)
$110_2 = 6$
$011_2 = 3$
$010_2 = 2$
সুতরাং ভগ্নাংশ = $.632$
অতএব, $(AB.CD)_{16} = (253.632)_8$।

(খ) বাইনারি যোগ ও বিয়োগ:

(i) বাইনারি যোগ: $(1011.11)_2 + (101.11)_2$

    ১ ১ ১ ১ ১   (Carry)
    ১ ০ ১ ১ . ১ ১
  + ০ ১ ০ ১ . ১ ১
  ----------------
    ১ ০ ০০০ . ১ ০

বিশ্লেষণ:
– দশমিক ভগ্নাংশের শেষ ঘরে: $1 + 1 = 10_2$ (যোগফল 0, কেরি 1)।
– পরের ঘরে: $1 ( ext{কেরি}) + 1 + 1 = 11_2$ (যোগফল 1, কেরি 1)।
– পূর্ণাংশের এককের ঘরে: $1 ( ext{কেরি}) + 1 + 1 = 11_2$ (যোগফল 1, কেরি 1)।
– দ্বিতীয় ঘরে: $1 ( ext{কেরি}) + 1 + 0 = 10_2$ (যোগফল 0, কেরি 1)।
– তৃতীয় ঘরে: $1 ( ext{কেরি}) + 0 + 1 = 10_2$ (যোগফল 0, কেরি 1)।
– চতুর্থ ঘরে: $1 ( ext{কেরি}) + 1 = 10_2$ (যোগফল 0, কেরি 1)।
– পঞ্চম ঘরে কেরি 1 বসে যায়।
অতএব, যোগফল = $(10001.10)_2$ বা $(10001.1)_2$ (ডেসিমাল যাচাই: $11.75 + 5.75 = 17.50$)।

(ii) বাইনারি বিয়োগ: $(1011.11)_2 – (101.11)_2$

    ১ ০ ১ ১ . ১ ১
  - ০ ১ ০ ১ . ১ ১
  ----------------
    ০ ১ ১ ০ . ০ ০

বিশ্লেষণ:
– ভগ্নাংশের ঘরে: $.11 – .11 = .00$।
– এককের ঘরে: $1 – 1 = 0$।
– দ্বিতীয় ঘরে: $1 – 0 = 1$।
– তৃতীয় ঘরে: $0 – 1 = 1$ (বাম থেকে ১ ধার নেওয়ার পর)।
– চতুর্থ ঘরে ধার শোধ করার পর: $0 – 0 = 0$।
অতএব, বিয়োগফল = $(110.00)_2$ বা $(110)_2$ (ডেসিমাল যাচাই: $11.75 – 5.75 = 6.00$)।

৬। কম্পিউটারের ব্লক ডায়াগ্রাম (Block Diagram) অঙ্কন কর এবং এর বিভিন্ন অংশের কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।

[6. Draw the block diagram of a computer and explain the functions of its various parts.]


উত্তর:

কম্পিউটারের ব্লক ডায়াগ্রাম (Block Diagram of Computer System):
জন ভন নিউম্যানের স্থাপত্য অনুযায়ী কম্পিউটারের প্রধান কার্যপ্রণালী চারটি মূল ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত:

   +-------------------------------------------------------------+
   |                     সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU)           |
   |                                                             |
   |   +-----------------------+      +----------------------+   |
   |   |  কন্ট্রোল ইউনিট (CU)    |<---->| রেজিস্টারস (Registers)|   |
   |   +-----------------------+      +----------------------+   |
   |              |                              |               |
   |              v                              v               |
   |   +-----------------------------------------------------+   |
   |   |        অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (ALU)                 |   |
   |   +-----------------------------------------------------+   |
   +-------------------------------------------------------------+
               ^                                 |
               |                                 v
+------------------+                   +--------------------+    +-------------------+
| ইনপুট ইউনিট      |                   | প্রধান মেমরি       |--->| আউটপুট ইউনিট      |
| (Keyboard, Mouse)|                   | (RAM / ROM)        |    | (Monitor, Printer)|
+------------------+                   +--------------------+    +-------------------+
                                                 ^
                                                 |
                                                 v
                                       +--------------------+
                                       | সহায়ক স্টোরেজ      |
                                       | (SSD / HDD)        |
                                       +--------------------+

প্রধান অংশসমূহের কার্যাবলি:

১. ইনপুট ইউনিট (Input Unit):
ব্যবহারকারীর দেওয়া বিভিন্ন ডেটা এবং নির্দেশাবলী গ্রহণ করে তা কম্পিউটারের বোধগম্য ডিজিটাল বাইনারি সংকেতে রূপান্তর করে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে প্রেরণ করে। উদাহরণ: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার।

২. সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (Central Processing Unit – CPU):
সিপিইউকে কম্পিউটারের ‘মস্তিষ্ক’ বলা হয়। এটি তিনটি অংশে বিভক্ত:
কন্ট্রোল ইউনিট (Control Unit – CU): কম্পিউটারের সকল অংশের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং নির্দেশনার সময় ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (Arithmetic Logic Unit – ALU): সকল প্রকার গাণিতিক কাজ (যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ) এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত (তুলনা করা, সত্য/মিথ্যা যাচাই) সম্পন্ন করে।
রেজিস্টারস (Registers): সিপিইউর অভ্যন্তরীণ অতিক্ষুদ্র ও দ্রুততম অস্থায়ী স্মৃতি যেখানে প্রক্রিয়াকরণ চলাকালীন তাৎক্ষণিক ডেটা জমা থাকে।

৩. মেমরি ইউনিট (Memory Unit):
প্রধান মেমরি (Primary Memory – RAM/ROM): প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা ও প্রোগ্রাম সাময়িকভাবে ধারণ করে।
সহায়ক মেমরি (Secondary Storage – HDD/SSD): বিপুল পরিমাণ ডেটা ও ফলাফল ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে।

৪. আউটপুট ইউনিট (Output Unit):
প্রক্রিয়াকরণ শেষে প্রাপ্ত বাইনারি ফলাফলকে মানুষের পাঠযোগ্য ভাষায় (টেক্সট, গ্রাফিক্স, সাউন্ড) রূপান্তর করে প্রদর্শন করে। উদাহরণ: মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার।

৭। সফটওয়্যার (Software) কাকে বলে? সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।

[7. What is software? Discuss the differences between System software and Application software.]


উত্তর:

সফটওয়্যারের সংজ্ঞা (Definition of Software):
কম্পিউটার হার্ডওয়্যারকে কার্যকর করা এবং সুনির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রোগ্রামিং ভাষায় লিখিত ধারাবাহিক নির্দেশাবলীর সমষ্টি বা প্রোগ্রামের সেটকে সফটওয়্যার (Software) বলে। হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ এবং সফটওয়্যার হলো তার প্রাণশক্তি। সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার কেবল একখণ্ড নিষ্ক্রিয় ধাতু মাত্র।

সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:

তুলনার বিষয় সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software)
উদ্দেশ্য ও কাজ কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কাজের পরিবেশ তৈরি করা। ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট প্রাত্যহিক বা করপোরেট কাজ (যেমন টাইপিং, হিসাব) সম্পন্ন করা।
নির্ভরশীলতা এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং কম্পিউটার চালুর সাথে সাথে সক্রিয় হয়। সিস্টেম সফটওয়্যার ছাড়া এটি রান বা এক্সিকিউট হতে পারে না।
ব্যবহারকারীর মিথস্ক্রিয়া ব্যবহারকারী সরাসরি এর সাথে যোগাযোগ করে না, এটি নেপথ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে। ব্যবহারকারী সরাসরি ইন্টারফেসে এর সাথে কাজ করে।
স্থাপনের সময় কম্পিউটার তৈরির সময় বা অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোড হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারকারী নিজ ইচ্ছায় ইনস্টল বা আনইনস্টল করে।
জটিলতা তৈরি করা অত্যন্ত জটিল এবং নিম্নস্তরের ভাষায় লেখা হয়। তুলনামূলক সহজ এবং উচ্চস্তরের প্রোগ্রামিং ভাষায় তৈরি করা হয়।
শ্রেণিবিভাগ অপারেটিং সিস্টেম, ডিভাইস ড্রাইভার, ইউটিলিটি সফটওয়্যার ইত্যাদি। সাধারণ অ্যাপ্লিকেশন (MS Office) ও বিশেষায়িত সফটওয়্যার (ব্যাংকিং সফটওয়্যার)।
উদাহরণ Windows, Linux, macOS, BIOS, Device Drivers। MS Word, MS Excel, Adobe Photoshop, Web Browser।

৮। ইনপুট ডিভাইস হিসেবে কীবোর্ড (Keyboard), মাউস (Mouse) এবং স্ক্যানারের (Scanner) গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা কর।

[8. Discuss the structure and functions of Keyboard, Mouse, and Scanner as input devices.]


উত্তর:

১. কীবোর্ড (Keyboard):
গঠন: কীবোর্ড হলো কম্পিউটারের সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রধান টেক্সট ইনপুট ডিভাইস। এতে সাধারণত ১০১ থেকে ১০৫টি কি (Key) থাকে। আধুনিক কীবোর্ডে কি-গুলোকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়: (১) টাইপরাইটার/আলফানিউমেরিক কি (A-Z, 0-9), (২) ফাংশন কি (F1-F12), (৩) নিউমেরিক কিপ্যাড, (৪) কার্সর নিয়ন্ত্রণ/অ্যারো কি, এবং (৫) বিশেষ কন্ট্রোল কি (Ctrl, Alt, Shift, Enter, Esc)।
কার্যাবলি: কোনো কি চাপলে নিচে থাকা ইলেকট্রনিক সার্কিটে একটি সংযোগ পূর্ণ হয় এবং কীবোর্ড কন্ট্রোলার সেই কি-এর জন্য নির্দিষ্ট আসকি (ASCII) বা স্ক্যান কোড সিপিইউতে প্রেরণ করে। ফলে সংশ্লিষ্ট অক্ষর মনিটরে প্রদর্শিত হয়।

২. মাউস (Mouse):
গঠন: মাউস হলো একটি জনপ্রিয় পয়েন্ট অ্যান্ড ড্র (Point & Draw) ডিভাইস। বর্তমানে অপটিক্যাল ও লেজার মাউস ব্যবহৃত হয়, যাতে এলইডি (LED) আলো এবং লাইট সেন্সর থাকে। এতে সাধারণত দুটি বোতাম (লেফট ও রাইট ক্লিক) এবং মাঝে একটি স্ক্রল হুইল (Scroll Wheel) থাকে।
কার্যাবলি: সমতল জায়গায় মাউস নাড়ালে স্ক্রিনের কার্সর বা পয়েন্টার একই সাথে স্থানান্তরিত হয়। এর সাহায্যে ক্লিক, ডাবল ক্লিক, রাইট ক্লিক, ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ এবং পেজ স্ক্রল করার মাধ্যমে দ্রুত কোনো ফাইল খোলা ও মেনু নির্দেশ কার্যকর করা যায়।

৩. স্ক্যানার (Scanner):
গঠন: স্ক্যানার হলো একটি অপটিক্যাল ইনপুট ডিভাইস যা যেকোনো মুদ্রিত কাগজ, ছবি বা হাতের লেখার হুবহু ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি (ইমেজ) কম্পিউটারে রূপান্তর করে। এতে একটি ফ্ল্যাট গ্লাস বেড, সিসিডি (Charge-Coupled Device) সেন্সর এবং একটি শক্তিশালী আলোর উৎস থাকে।
কার্যাবলি: ডকুমেন্টের ওপর দিয়ে আলোক রশ্মি সঞ্চালিত হয়ে প্রতিফলিত আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। এই সংকেতকে ডিজিটাইজ করে কম্পিউটারে জেপিজি (JPG), পিএনজি (PNG) বা পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হয়। ওসিআর (OCR) প্রযুক্তির সাহায্যে স্ক্যান করা টেক্সটকে এডিটযোগ্য ফাইলে রূপান্তর করা যায়।

খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান)

৯। দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

[9. Briefly describe the use of computers in daily life and education.]


উত্তর:

দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটারের ব্যবহার:
১. যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান: ইমেইল, মেসেঞ্জার ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তথ্য ও ফাইল বিনিময় করা যায়।
২. আর্থিক লেনদেন ও কেনাকাটা: অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স ও মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ঘরে বসেই কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
৩. বিনোদন: চলচ্চিত্র দেখা, গান শোনা, গেমস খেলা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে কম্পিউটার অপরিহার্য।
শিক্ষা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার:
১. ই-লার্নিং ও স্মার্ট ক্লাসরুম: মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, অ্যানিমেশন এবং ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে জটিল পাঠদান সহজ ও আকর্ষণীয় করা যায়।
২. ডিজিটাল লাইব্রেরি ও গবেষণা: ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাজার হাজার ই-বুক, আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল এবং আর্টিকেল মুহূর্তেই অনুসন্ধান ও পাঠ করা যায়।
৩. পরীক্ষা ও ফলাফল মূল্যায়ন: ওএমআর (OMR) শিট মূল্যায়ন, অনলাইন পরীক্ষা গ্রহণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুততম সময়ে নির্ভুল ফলাফল তৈরি করা যায়।

১০। একটি নতুন ইমেইল অ্যাকাউন্ট (Email Account) খোলার পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো লিখ।

[10. Write the step-by-step procedure for opening a new email account.]


উত্তর:

একটি নতুন ইমেইল অ্যাকাউন্ট (যেমন: Gmail) তৈরির পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১. ব্রাউজার ওপেন ও ওয়েবসাইটে প্রবেশ: যেকোনো ওয়েব ব্রাউজার (Chrome/Firefox) চালু করে অ্যাড্রেস বারে www.gmail.com লিখে এন্টার চাপতে হবে।
২. অ্যাকাউন্ট খোলার অপশন নির্বাচন: হোমপেজ থেকে ‘Create account’ অপশনে ক্লিক করে ‘For my personal use’ সিলেক্ট করতে হবে।
৩. ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান: নির্ধারিত বক্সে নিজের প্রথম নাম (First name), শেষ নাম (Last name) এবং জন্মতারিখ ও লিঙ্গ সঠিকভাবে লিখতে হবে।
৪. ইউজারনেম বা ইমেইল অ্যাড্রেস নির্বাচন: পছন্দমতো একটি অনন্য ইউজারনেম (যেমন: yourname2022@gmail.com) টাইপ করতে হবে যা পূর্বে অন্য কেউ ব্যবহার করেনি।
৫. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি: অক্ষর (বড় ও ছোট হাতের), সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয়ে কমপক্ষে ৮ অক্ষরের একটি গোপন পাসওয়ার্ড দিয়ে কনফার্ম করতে হবে।
৬. ফোন নম্বর যাচাই: অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে এবং মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) কোডটি ইনপুট দিয়ে ভেরিফাই করতে হবে।
৭. শর্তাবলিতে সম্মতি: গুগল প্রাইভেসি পলিসি ও টার্মস অব সার্ভিস পড়ে নিচে ‘I agree’ বাটনে ক্লিক করলেই নতুন ইমেইল অ্যাকাউন্টটি সফলভাবে চালু হয়ে যাবে।

১১। ২-এর পরিপূরক (2’s Complement) পদ্ধতি ব্যবহার করে ৩২ – ১৮ বিয়োগ সম্পন্ন কর।

[11. Perform the subtraction 32 – 18 using the 2’s complement method.]


উত্তর:

কম্পিউটার বিয়োগের কাজও যোগের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য ২-এর পরিপূরক (2’s Complement) পদ্ধতি ব্যবহার করে।
এখানে, অপারেশনটি হলো: $৩২ – ১৮ = ৩২ + (-১৮)$।
আমরা ৮-বিট রেজিস্টার বিবেচনা করে হিসাব করব:

ধাপ ১: ৩২ এর ৮-বিট বাইনারি নির্ণয়:
$+৩২ = ০০১০০০০০$

ধাপ ২: ১৮ এর ৮-বিট বাইনারি নির্ণয়:
$+১৮ = ০০০১০১১০$

ধাপ ৩: ১৮ এর ২-এর পরিপূরক (-১৮) নির্ণয়:
১৮ এর বাইনারি মানের প্রতিটি বিট উল্টিয়ে ১-এর পরিপূরক পাওয়া যায়:
১-এর পরিপূরক = $১১১০১১০১$
এর সাথে ১ যোগ করে ২-এর পরিপূরক পাই:
$১১১০১১০১ + ১ = ১১১০১১১০$
অতএব, $-১৮ = ১১১০১১১০$

ধাপ ৪: (+৩২) এবং (-১৮) যোগ করা:

    ০ ০ ১ ০ ০ ০ ০ ০   (+৩২)
  + ১ ১ ১ ০ ১ ১ ১ ০   (-১৮)
  -----------------
  ১ ০ ০ ০ ০ ১ ১ ১ ০

ফলাফল বিশ্লেষণ:
এখানে ৯ম বিটটি (Carry bit) হলো ১, যা ৮-বিট রেজিস্টার থেকে বাদ (Discard) দেওয়া হয়।
অবশিষ্ট ৮-বিট মান হলো: $০০০০১১১০$।
এর সাইন বিট (৮ম বিট) ০, অর্থাৎ ফলাফলটি ধনাত্মক।
$০০০০১১১০_২ = (০ imes ২^৭) + … + (১ imes ২^৩) + (১ imes ২^২) + (১ imes ২^১) + (০ imes ২^০) = ৮ + ৪ + ২ = ১৪$।
যেহেতু $৩২ – ১৮ = ১৪$, সুতরাং ফলাফল সম্পূর্ণ নির্ভুল।

১২। ইউনিকোড (Unicode) কী? আসকি (ASCII) কোডের তুলনায় এর সুবিধাসমূহ লিখ।

[12. What is Unicode? Write its advantages compared to ASCII code.]


উত্তর:

ইউনিকোড (Unicode – Universal Code):
ইউনিকোড হলো বিশ্বের প্রচলিত সকল ভাষার সমস্ত লিখিত বর্ণ, চিহ্ন ও গাণিতিক প্রতীককে কম্পিউটারে সমরূপভাবে কোডভুক্ত করার জন্য প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক ১৬-বিট বা ৩২-বিট কোডিং স্ট্যান্ডার্ড।

ASCII কোডের তুলনায় ইউনিকোডের সুবিধাসমূহ:
১. অধিক ধারণক্ষমতা: আসকি হলো ৭ বা ৮ বিটের কোড, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ২৫৬টি ($2^8$) প্রতীক কোডভুক্ত করা যেত। পক্ষান্তরে ইউনিকোড ১৬ বিটের হওয়ায় ৬৫,৫৩৬টি ($2^{16}$) এবং ৩২ বিটে ৪ বিলিয়নেরও বেশি চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
২. সকল ভাষার সার্বজনীন স্বীকৃতি: আসকি কোডে কেবল ইংরেজি ভাষা প্রকাশ করা যেত। ইউনিকোডে বিশ্বের সমস্ত ভাষা (যেমন: আরবি, বাংলা, হিন্দি, চীনা ইত্যাদি) সমান মর্যাদা নিয়ে প্রকাশ করা যায়।
৩. বাংলা ও আরবি ভাষার বিস্তার: ইউনিকোড প্রবর্তনের ফলেই কম্পিউটারে সরাসরি বাংলা ও আরবি টাইপিং, ইন্টারনেট সার্চিং ও ওয়েবসাইট তৈরি সম্ভব হয়েছে।
৪. ক্রস-প্ল্যাটফর্ম সামঞ্জস্যতা: ইউনিকোড ব্যবহৃত ফাইল যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমে (Windows, Mac, Android) ফন্ট নষ্ট হওয়া ছাড়াই অবিকল প্রদর্শিত হয়।

১৩। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (যেমন: ফেসবুক)-এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো আলোচনা কর।

[13. Discuss the positive and negative aspects of social media (e.g., Facebook).]


উত্তর:

ইতিবাচক দিক (সুফল):
১. দ্রুত যোগাযোগ: দূরদূরান্তে থাকা আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সাথে তাৎক্ষণিক বার্তা ও ভিডিও কলে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।
২. তথ্য ও শিক্ষার প্রসার: শিক্ষামূলক গ্রুপ, গবেষণার তথ্য এবং দেশ-বিদেশের সমসাময়িক সংবাদ মুহূর্তেই জানা যায়।
৩. ব্যবসা ও কর্মসংস্থান (F-Commerce): ফেসবুক পেইজ ব্যবহার করে তরুণ উদ্যোক্তারা স্বল্প পুঁজিতে পণ্য বিপণন ও সফল ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
৪. জনমত গঠন ও সামাজিক সচেতনতা: যেকোনো সামাজিক অন্যায় বা দুর্যোগের সময় দ্রুত জনমত তৈরি ও তহবিল সংগ্রহ করা যায়।
নেতিবাচক দিক (কুফল):
১. সময়ের অপচয় ও আসক্তি: অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান পড়াশোনার সময় নষ্ট হয়।
২. গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো: ভুয়া আইডি থেকে অসত্য খবর ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়।
৩. সাইবার নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি ঝুঁকি: ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, হ্যাকিং এবং সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৪. মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি: একাকীত্ব, বিষণ্ণতা এবং চোখের ক্ষতি ও অনিদ্রা দেখা দেয়।

১৪। অপারেটিং সিস্টেমের (Operating System) প্রধান কাজগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ কর।

[14. Briefly mention the primary functions of an Operating System.]


উত্তর:

অপারেটিং সিস্টেম (OS) হলো কম্পিউটারের মাস্টার কন্ট্রোল প্রোগ্রাম যা হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
১. প্রসেসর ও প্রসেস ম্যানেজমেন্ট: সিপিইউর সময় বিভিন্ন চলমান প্রোগ্রামের মধ্যে সুষমভাবে বণ্টন (CPU Scheduling) করে।
২. মেমরি ম্যানেজমেন্ট: র‍্যামের (RAM) কোন অংশে কোন প্রোগ্রাম অবস্থান করবে তা নির্ধারণ করে এবং কাজ শেষে মেমরি মুক্ত করে।
৩. ফাইল সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ: হার্ডডিস্কে ডেটা সংরক্ষণ, ফোল্ডার তৈরি, ফাইল রিড/রাইট এবং মুছে ফেলার কাজ পরিচালনা করে।
৪. ইনপুট/আউটপুট ডিভাইস ব্যবস্থাপনা: কীবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদি পেরিফেরাল ডিভাইসের ড্রাইভারের মাধ্যমে যোগাযোগ নিশ্চিত করে।
৫. ইউজার ইন্টারফেস প্রদান: ব্যবহারকারীকে কমান্ড লাইন (CLI) বা গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস (GUI) প্রদান করে কম্পিউটার পরিচালনার সুবিধা দেয়।
৬. নিরাপত্তা ও ত্রুটি শনাক্তকরণ: পাসওয়ার্ড সুরক্ষা প্রদান এবং সিস্টেমে কোনো সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার ত্রুটি ঘটলে ওয়ার্নিং মেসেজ দেয়।

১৫। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে? ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে এর শ্রেণিবিভাগ লিখ।

[15. What is a computer network? Write its classification based on geographical distribution.]


উত্তর:

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সংজ্ঞা (Definition of Computer Network):
পরস্পরের মধ্যে তথ্য ও হার্ডওয়্যার রিসোর্স (যেমন: ফাইল, ইন্টারনেট সংযোগ, প্রিন্টার) আদান-প্রদান করার উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে কোনো মাধ্যম (তারযুক্ত বা তারবিহীন) দ্বারা সংযুক্ত করার ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ:
ভৌগোলিক দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্যান (PAN – Personal Area Network): একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিসরে (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে) ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই ডিরেক্ট দ্বারা সংযুক্ত নেটওয়ার্ক।
২. ল্যান (LAN – Local Area Network): একটি নির্দিষ্ট কক্ষ, ভবন, স্কুল বা ক্যাম্পাসের (১ কিলোমিটারের মধ্যে) কম্পিউটারগুলোর মধ্যকার নেটওয়ার্ক। যেমন: অফিসের কম্পিউটার ল্যাব।
৩. ম্যান (MAN – Metropolitan Area Network): একটি সম্পূর্ণ শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন শাখা অফিসের মধ্যে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। যেমন: কেবল টিভি নেটওয়ার্ক বা কোনো ব্যাংকের এক শহরের সব শাখার নেটওয়ার্ক।
৪. ওয়ান (WAN – Wide Area Network): দেশজুড়ে বা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত বিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট (Internet) হলো ওয়ান-এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

১৬। প্রধান মেমরি (RAM/ROM) ও সহায়ক মেমরির (Secondary Memory) মধ্যে পার্থক্য লিখ।

[16. Write the differences between Primary Memory (RAM/ROM) and Secondary Memory.]


উত্তর:

বৈশিষ্ট্য প্রধান মেমরি (Primary Memory – RAM/ROM) সহায়ক মেমরি (Secondary Memory – HDD/SSD)
সিপিইউর সাথে সংযোগ সিপিইউ সরাসরি এই মেমরির ডেটা রিড ও রাইট করতে পারে। সিপিইউ সরাসরি সংযুক্ত হতে পারে না, প্রধান মেমরির মাধ্যমে তথ্য যায়।
প্রকৃতি ও স্থায়িত্ব র‍্যাম উদ্বায়ী (Volatile) অর্থাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেটা মুছে যায়। অনুদায়ী (Non-volatile) অর্থাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলেও ডেটা স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে।
গতি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন (High Speed)। প্রধান মেমরির তুলনায় অনেক ধীরগতিসম্পন্ন।
ধারণক্ষমতা ধারণক্ষমতা সীমিত (সাধারণত ৪ জিবি থেকে ৩২ জিবি)। ধারণক্ষমতা অত্যন্ত বিশাল (৫১২ জিবি থেকে কয়েক টেরাবাইট)।
প্রতি বিটের মূল্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ব্যয়বহুল। প্রতি গিগাবাইটের মূল্য তুলনামূলক অনেক সস্তা।
উদাহরণ RAM (SRAM, DRAM), ROM (PROM, EEPROM)। হার্ডডিস্ক (HDD), সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD), পেনড্রাইভ, অপটিক্যাল ডিস্ক।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আকার ও ক্ষমতার ভিত্তিতে কম্পিউটারের চারটি প্রধান শ্রেণি কি কি?

আকার ও কার্যক্ষমতার ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটার চার প্রকার: সুপার কম্পিউটার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার এবং মাইক্রো কম্পিউটার বা পিসি।

২. কম্পিউটারের কোন অংশকে তার মস্তিষ্ক বলা হয় এবং কেন?

সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ-কে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়, কারণ এটি কম্পিউটারের সমস্ত গাণিতিক, যৌক্তিক সিদ্ধান্ত এবং সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ কার্য পরিচালনা করে।

৩. হেক্সাডেসিমাল (AB.CD)₁₆ এর সমতুল্য বাইনারি মান কত?

হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা (AB.CD)₁₆ এর সমতুল্য বাইনারি মান হলো (১০১০১০১১.১১০০১১০১)₂ এবং এর অক্টাল রূপান্তর হলো (২৫৩.৬৩২)₈।

৪. ইউনিকোড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা কি?

ইউনিকোড হলো ১৬ বা ৩২ বিটের আন্তর্জাতিক কোডিং পদ্ধতি, যার মাধ্যমে বিশ্বের সমস্ত প্রচলিত ভাষা (যেমন বাংলা ও আরবি) কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই কম্পিউটারে সমমর্যাদায় ব্যবহার করা যায়।

৫. সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মূল পার্থক্য কি?

সিস্টেম সফটওয়্যার (যেমন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম) কম্পিউটার হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার কাজ করে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন এমএস ওয়ার্ড) ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করে।

৬. ২-এর পরিপূরক পদ্ধতিতে বিয়োগ করার সুবিধা কি?

২-এর পরিপূরক পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর মাধ্যমে আলাদা কোনো বিয়োগ বর্তনী বা সাবট্রাক্টর ছাড়াই শুধুমাত্র যোগের বর্তনীর (অ্যাডার) সাহায্যে সহজে ও দ্রুত বিয়োগ সম্পন্ন করা যায়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *