ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আন-নাসরুল কাদীম-২ (النثر القديم-2 – Classical Arabic Prose-II)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৪ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
١- ترجم ثلاث قطع مما يلي إلى البنغالية:
[১. নিচের অনুচ্ছেদগুলো থেকে যেকোনো তিনটির প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ লেখ:]
(أ) النص الأول: من المقامة الصنعانية للحريري
«رَنَّقَتْ لِي يَدُ الشَّتَاتِ بِصَنْعَاءِ اليَمَنِ، فَسُقْتُ إِلَيْهَا جِيَادَ المِهَنِ، فَلَمَّا دَخَلْتُهَا وَأَنَا خِلْوُ الوِفَاضِ، كَاسِفُ البَالِ مِنَ الإِنْفَاضِ، وَجَدْتُهَا قَدْ أَجْدَبَتْ سَاحَتُهَا، وَتَنَكَّرَتْ لِلغَرِيبِ رَاحَتُهَا…»
[১. (ক) আল-হারিস ইবনে হাম্মাম বলেন: ছিন্নভিন্নতার হাত আমাকে ইয়েমেনের সানআয় নিক্ষেপ করল। ফলে আমি আমার উৎকৃষ্ট পেশাসমূহ নিয়ে সেদিকে রওয়ানা হলাম। কিন্তু যখন আমি সেখানে প্রবেশ করলাম, তখন আমার থলি ছিল সম্পূর্ণ শূন্য এবং চরম কপর্দকহীনতার কারণে আমার মন ছিল বিষণ্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। সেখানে পৌঁছে দেখলাম এর প্রাঙ্গণটি দুর্ভিক্ষপীড়িত হয়ে পড়েছে এবং পরদেশী মুসাফিরের প্রতি এর স্বস্তি ও বদান্যতা সম্পূর্ণ অপরিচিত ও নিষ্ঠুর রূপ ধারণ করেছে।]
(ب) النص الثاني: تواضع عمر بن عبد العزيز (رواه رجاء بن حيوة)
«سَمِرْتُ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ ذَاتَ لَيْلَةٍ، فَعَشِيَ السِّرَاجُ، وَكَانَ عِنْدَهُ رَجُلٌ، فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، أَلَا أَقُومُ إِلَى السِّرَاجِ فَأُصْلِحَهُ؟ فَقَالَ عُمَرُ: لَيْسَ مِنْ كَرَمِ الرَّجُلِ أَنْ يَسْتَخْدِمَ ضَيْفَهُ، فَقَالَ: أَفَلَا أُوقِظُ الغُلَامَ؟ قَالَ: لَا، إِنَّهَا أَوَّلُ نَوْمَتِهِ، ثُمَّ قَامَ بِنَفْسِهِ فَمَلَأَهُ زَيْتًا وَأَصْلَحَهُ، ثُمَّ رَجَعَ وَقَالَ: قُمْتُ وَأَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ، وَرَجَعْتُ وَأَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ!»
[১. (খ) রাজা ইবনে হাইওয়াহ বর্ণনা করেন: এক রাতে আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজের নিকট সান্ধ্যকালীন মজলিসে আলাপরত ছিলাম। হঠাৎ চেরাগের আলো নিভু নিভু হয়ে গেল। তখন তাঁর কাছে এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। সে বলল: হে আমীরুল মুমিনীন! আমি কি উঠে গিয়ে চেরাগটি ঠিক করে দেব? উমর (রহ.) বললেন: কোনো ব্যক্তির জন্য এটা ভদ্রতা নয় যে সে তার মেহমানকে দিয়ে কাজ করাবে। লোকটি বলল: তবে কি আমি গোলামকে জাগিয়ে দেব? তিনি বললেন: না, এই মাত্র সে ঘুমিয়েছে। অতঃপর উমর নিজেই উঠে গিয়ে চেরাগে তেল ঢাললেন এবং তা ঠিক করলেন। তারপর ফিরে এসে বললেন: আমি যখন উঠে গিয়েছিলাম তখনও আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজ ছিলাম, আর যখন ফিরে এসেছি এখনও আমি সেই উমর ইবনে আবদুল আজিজই আছি (আমার কোনো মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়নি)!]
(ج) النص الثالث: في الحياء والإيمان (عن ابن عمر)
«عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِنَّ الحَيَاءَ وَالإِيمَانَ قُرَنَاءُ جَمِيعًا، فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الآخَرُ.»
[১. (গ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই লজ্জা ও ঈমান একে অপরের চিরসঙ্গী। অতএব যখন এ দুটির একটি উঠিয়ে নেওয়া হয়, তখন অপরটিও আপনা-আপনি উঠে যায়।]
(د) النص الرابع: من حديث مجاشع
«قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا العَقْلُ وَمَا الخُلُقُ وَمَا المُرُوءَةُ وَمَا التَّقْوَى؟ فَقَالَ ﷺ: أَمَّا العَقْلُ فَالتَّفَكُّرُ فِي أَمْرِ الآخِرَةِ، وَأَمَّا الخُلُقُ فَبَذْلُ النَّدَى وَكَفُّ الأَذَى، وَأَمَّا المُرُوءَةُ فَإِصْلَاحُ المَالِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ، وَأَمَّا التَّقْوَى فَمَخَافَةُ اللهِ فِي السِّرِّ وَالعَلَانِيَةِ.»
[১. (ঘ) মুজাশী’র হাদিস থেকে বর্ণিত: আরজ করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! বুদ্ধি কী, চরিত্র কী, পৌরুষত্ব বা সদ্ব্যবহার কী এবং তাকওয়া কী? নবী করীম ﷺ ইরশাদ করলেন: বুদ্ধি হলো আখেরাতের বিষয়ে গভীর চিন্তা করা; চরিত্র হলো দানশীলতার হাত প্রসারিত করা এবং অন্যের কষ্ট দূর করা; পৌরুষত্ব হলো ধন-সম্পদের সদ্ব্যবহার ও মানুষকে অন্নদান করা; আর তাকওয়া হলো গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।]
(هـ) النص الخامس: من خطبة الحجاج بن يوسف الثقفي
«يَا أَهْلَ العِرَاقِ! يَا أَهْلَ الشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَمَسَاوِئِ الأَخْلَاقِ! إِنِّي لَأَرَى رُؤُوسًا قَدْ أَيْنَعَتْ وَحَانَ قِطَافُهَا، وَإِنِّي لَصَاحِبُهَا، وَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى الدِّمَاءِ بَيْنَ العَمَائِمِ وَاللِّحَى!»
[১. (ঙ) হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফীর ভাষণ থেকে: হে ইরাকবাসী! হে অবাধ্যতা, কপটতা ও দুশ্চরিত্রের দল! নিশ্চয়ই আমি এমন সব মস্তক দেখতে পাচ্ছি যা পেকে গেছে এবং তা কেটে ফেলার সময় ঘনিয়ে এসেছে; আর নিশ্চয়ই আমিই তার যোগ্য কাণ্ডারী! আমি যেন পাগড়ি ও দাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে প্রবাহিত রক্তের স্রোত প্রত্যক্ষ করছি!]
٢- اشرح بالبنغالية اثنين مما يلى:
[২. নিচের বাণীগুলো থেকে যেকোনো দুটির ভাবার্থ বাংলায় ব্যাখ্যা কর:]
(أ) «إِنَّ اللهَ تَعَالَى يُحِبُّ مَعَالِيَ الأُمُورِ وَيَكْرَهُ سَفْسَافَهَا»
[২. (ক) “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মহৎ ও সুউচ্চ বিষয়কে ভালোবাসেন এবং নিকৃষ্ট ও অসার বিষয়কে ঘৃণা করেন।”]
ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:
এই অমর নববী বাণীতে মানবজীবনের লক্ষ্য ও চরিত্রের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘মা’আলিয়াল উমূর’ অর্থ হলো উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সত্যনিষ্ঠা, ইলম অর্জন, আত্মমর্যাদা এবং মানবতার কল্যাণ সাধন। অন্যদিকে ‘সাফসাফ’ হলো তুচ্ছ, অসার, পরনিন্দা ও অনর্থক কর্মকাণ্ড। মুমিন ব্যক্তি কখনো তুচ্ছ বস্তু বা নীচ কর্মে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে পারে না; বরং সে সর্বদা নিজেকে উন্নত আদর্শ ও মহৎ কর্মে নিয়োজিত রাখবে।
(খ) «لَيْسَ مِنَ المُرُوءَةِ كَثْرَةُ الِالْتِفَاتِ وَلَا سُرْعَةُ المَشْيِ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ»
[২. (খ) “বিনা প্রয়োজনে বারবার এদিক-সেদিক তাকানো কিংবা অহেতুক দ্রুত হাঁটা ভদ্রতা ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক নয়।”]
ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:
ইবনে কুতাইবা তাঁর ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থে ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদার (মুরুওয়াহ) আদব আলোচনা করতে গিয়ে এই উক্তি উল্লেখ করেছেন। একজন মর্যাদাবান ও গম্ভীর মানুষের চালচলনে স্থিরতা, গাম্ভীর্য ও বিনয় প্রকাশ পেতে হবে। পথে চলার সময় অহেতুক চঞ্চলভাবে চারদিকে তাকানো চিত্তচাঞ্চল্যের লক্ষণ এবং অনর্থক দৌড়াদৌড়ি ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী।
(গ) «يَنْبَغِي لِلْعَاقِلِ أَنْ يَكُونَ عَارِفًا بِزَمَانِهِ، مُمْسِكًا لِلِسَانِهِ، مُقْبِلًا عَلَى شَأْنِهِ»
[২. (গ) “জ্ঞানবান ব্যক্তির উচিত সে তার সমসাময়িক কাল সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকবে, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখবে এবং নিজের কাজে আত্মনিয়োগ করবে।”]
ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ বর্ণিত এই হিতোপদেশটি মানুষের সফলতার মূল সূত্র। প্রথমত, নিজের যুগ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সচেতন হওয়া; দ্বিতীয়ত, অনর্থক বাক্যব্যয় পরিহার করে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা; এবং তৃতীয়ত, অন্যের গোপনীয়তা বা অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে নাক না গলিয়ে নিজের দায়িত্ব ও কাজে একনিষ্ঠ থাকা।
(ঘ) «إِذَا لَمْ تَسْتَحِ فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ»
[২. (ঘ) “যখন তোমার মধ্যে লজ্জা অবশিষ্ট থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পার।”]
ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য:
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি বিশ্ববিখ্যাত হাদিস। লজ্জা হলো মানুষের যাবতীয় পাপ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখার একমাত্র আত্মিক বর্ম। মানুষ যখন লজ্জাহীন হয়ে পড়ে, তখন তার ওপর কোনো নৈতিক অনুশাসন কাজ করে না; সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যেকোনো জঘন্য পাপ করতে দ্বিধাবোধ করে না।
٣- اشرح بالعربية اثنين مما يلي:
[৩. নিচের উক্তিগুলো থেকে যেকোনো দুটির বিশদ আরবি ব্যাখ্যা লেখ:]
(أ) «التَّوَاضُعُ أَحَدُ مَصَايِدِ الشَّرَفِ، وَكُلُّ نِعْمَةٍ يُحْسَدُ عَلَيْهَا صَاحِبُهَا إِلَّا التَّوَاضُعَ»
[৩. (ক) বিনয় সম্মানের প্রধান ফাঁদ…]
الشرح والتحليل:
يُعَدُّ التَّوَاضُعُ مِنْ أَعْظَمِ الفَضَائِلِ الإِنْسَانِيَّةِ وَالأَخْلَاقِ الإِسْلَامِيَّةِ. وَمَعْنَى قَوْلِهِ «مَصَايِدِ الشَّرَفِ» أَنَّ الإِنْسَانَ يَنَالُ بِالتَّوَاضُعِ رِفْعَةَ المَقَامِ وَمَحَبَّةَ القُلُوبِ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُ، كَمَا يَصِيدُ الصَّائِدُ الصَّيْدَ بِشَبَكَتِهِ. وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «مَنْ تَوَاضَعَ لِلَّهِ رَفَعَهُ اللَّهُ». وَأَمَّا الشَّطْرُ الثَّانِي فَيَدُلُّ عَلَى أَنَّ الحَسَدَ دَاءٌ يُلَازِمُ كُلَّ ذِي نِعْمَةٍ، سَوَاءٌ كَانَتْ مَالًا أَوْ جَاهًا، إِلَّا نِعْمَةَ التَّوَاضُعِ؛ لِأَنَّ المُتَوَاضِعَ لَا يُنَافِسُ النَّاسَ عَلَى الشُّهْرَةِ، بَلْ يَخْضَعُ لِلْحَقِّ وَيَحْتَرِمُ الخَلْقَ، فَيَسْلَمُ مِنْ أَعْيُنِ الحَاسِدِينَ.
(ب) «ذُو العَقْلِ لَا تَبْطُرُهُ المَنْزِلَةُ كَالجَبَلِ لَا تُزَعْزِعُهُ الرِّيَاحُ، وَالسَّخِيفُ تَبْطُرُهُ أَدْنَى مَرْتَبَةٍ كَالحَشِيشِ يُحَرِّكُهُ النَّسِيمُ»
[৩. (খ) বিবেকবান মানুষকে পদমর্যাদা অহংকারী করে না…]
الشرح والتحليل:
يُشَبِّهُ الحَكِيمُ الإِنْسَانَ العَاقِلَ الرَّزِينَ بِالجَبَلِ الأَشَمِّ الَّذِي لَا تُحَرِّكُهُ العَوَاصِفُ الهَوْجَاءُ، فَإِذَا نَالَ جَاهًا أَوْ مَنْصِبًا رَفِيعًا لَمْ يَطْغَ وَلَمْ يَبْطَرْ، بَلْ يَزْدَادُ حِلْمًا وَعَدْلًا وَتَوَاضُعًا. أَمَّا السَّخِيفُ خَفِيفُ العَقْلِ، فَإِنَّهُ إِذَا نَالَ أَدْنَى مَرْتَبَةٍ أَوْ رِفْعَةٍ طَاشَ لُبُّهُ وَتَكَبَّرَ عَلَى النَّاسِ، تَمَامًا كَالحَشِيشِ الضَّعِيفِ الَّذِي تُهَفْهِفُهُ أَدْنَى هَبَّةٍ مِنَ النَّسِيمِ لِعَدَمِ ثَبَاتِهِ وَرُسُوخِهِ.
(ج) «أَتَظُنُّ أَنْ سَتَنْفَعُكَ حَالُكَ إِذَا آنَ ارْتِحَالُكَ، أَوْ يُنْجِيكَ مَالُكَ حِينَ تُوبِقُكَ أَفْعَالُكَ؟»
[৩. (গ) المقامة الصنعانية – توبيخ أبي زيد السروجي]
الشرح والتحليل:
هَذِهِ الكَلِمَاتُ مِنْ مَوَاعِظِ أَبِي زَيْدٍ السَّرُوجِيِّ فِي المَقَامَةِ الصَّنْعَانِيَّةِ لِلحَرِيرِيِّ، حَيْثُ يَسْتَفْهِمُ اسْتِفْهَامًا إِنْكَارِيًّا يُنَبِّهُ فِيهِ الغَافِلِينَ عَلَى سَكَرَاتِ المَوْتِ وَحَقِيقَةِ الدُّنْيَا الفَانِيَةِ. يُرِيدُ أَنَّ الإِنْسَانَ مَهْمَا كَانَ ذَا مَالٍ وَسُلْطَانٍ، فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَدْفَعُ عَنْهُ هَوْلَ المَنِيَّةِ، وَلَا يَنْفَعُهُ مَالُهُ حِينَ تُهْلِكُهُ ذُنُوبُهُ وَأَعْمَالُهُ السَّيِّئَةُ، بَلْ لَا يُنَجِّيهِ إِلَّا العَمَلُ الصَّالِحُ.
٤- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالعربية:
[৪. নিচের প্রশ্নগুলো থেকে যেকোনো দুটির প্রামাণ্য আরবি উত্তর দাও:]
(أ) ماذا قال وهب بن منبه عما ينبغي للعاقل؟
[৪. (ক) বুদ্ধিমান ব্যক্তির করণীয় সম্পর্কে ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ কী বলেছেন?]
الجواب:
قَالَ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ رَحِمَهُ اللَّهُ: «مَكْتُوبٌ فِي حِكْمَةِ آلِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ: حَقٌّ عَلَى العَاقِلِ أَلَّا يَغْفُلَ عَنْ أَرْبَعِ سَاعَاتٍ: سَاعَةٍ يُنَاجِي فِيهَا رَبَّهُ، وَسَاعَةٍ يُحَاسِبُ فِيهَا نَفْسَهُ، وَسَاعَةٍ يُفْضِي فِيهَا إِلَى إِخْوَانِهِ الَّذِينَ يُخْبِرُونَهُ بِعُيُوبِهِ وَيَصْدُقُونَهُ عَنْ نَفْسِهِ، وَسَاعَةٍ يُخَلِّي فِيهَا بَيْنَ نَفْسِهِ وَبَيْنَ لَذَّاتِهَا فِيمَا يَحِلُّ وَيَجْمُلُ؛ فَإِنَّ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ عَوْنًا عَلَى تِلْكَ السَّاعَاتِ، وَإِجْمَامًا لِلْقُلُوبِ. كَمَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَكُونَ عَارِفًا بِزَمَانِهِ، حَافِظًا لِلِسَانِهِ، مُقْبِلًا عَلَى شَأْنِهِ».
(ب) تحدث عن شخصية أبي زيد السروجي في المقامة الصنعانية للحريري-
[৪. (খ) হরিরীর সানআনীয় মাকামায় আবু যায়েদ সারুজীর চরিত্র বিশ্লেষণ কর।]
الجواب:
أَبُو زَيْدٍ السَّرُوجِيُّ هُوَ البَطَلُ الأَسَاسِيُّ فِي مَقَامَاتِ الحَرِيرِيِّ. وَشَخْصِيَّتُهُ شَخْصِيَّةٌ أَدَبِيَّةٌ فَرِيدَةٌ تَجْمَعُ بَيْنَ الفَصَاحَةِ النَّادِرَةِ، وَالعِلْمِ الغَزِيرِ، وَسِحْرِ البَيَانِ، وَفِي الوَقْتِ نَفْسِهِ بَيْنَ الِاحْتِيَالِ وَالتَّسَوُّلِ الأَدَبِيِّ لِكَسْبِ المَالِ. فَفِي المَقَامَةِ الصَّنْعَانِيَّةِ يَظْهَرُ أَبُو زَيْدٍ فِي مَظْهَرِ الشَّيْخِ الوَاعِظِ الزَّاهِدِ الَّذِي يُبْكِي الجَمَاهِيرَ بِفَصَاحَتِهِ وَتَذْكِيرِهِ بِالمَوْتِ، حَتَّى إِذَا جَمَعَ الصَّدَقَاتِ انْصَرَفَ إِلَى مَأْوَاهُ لِيَتَمَتَّعَ بِهَا، كَاشِفًا عَنْ بَرَاعَتِهِ فِي التَّنَكُّرِ وَالتَّلَوُّنِ لِتَحْقِيقِ مَآرِبِهِ.
(ج) ما معنى كليلة ودمنة؟ وما هي طريقة ابن المقفع في تأليفه؟
[৪. (গ) কালিল্লাহ ওয়া দিমনা অর্থ কী? ইবনুল মুকাফফা কীভাবে এটি রচনা করেছেন?]
الجواب:
المعنى: «كَلِيلَة وَدِمْنَة» اسْمَانِ لِابْنَيْ آوَى (شَغَالَيْنِ) مِنْ حَيَوَانَاتِ الغَابَةِ، كَانَا فِي خِدْمَةِ المَلِكِ (الأَسَدِ)؛ فَكَانَ «كَلِيلَةُ» يُمَثِّلُ جَانِبَ الخَيْرِ وَالحِكْمَةِ وَالعَدْلِ، بَيْنَمَا كَانَ «دِمْنَةُ» يُمَثِّلُ جَانِبَ الشَّرِّ وَالمَكْرِ وَالحَسَدِ وَالدَّسِيسَةِ.
طريقة ابن المقفع: قَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ المُقَفَّعِ بِنَقْلِ هَذَا الكِتَابِ مِنْ لُغَةِ الفَهْلَوِيَّةِ الفَارِسِيَّةِ (وَأَصْلُهُ سَنْسِكْرِيتِيٌّ هِنْدِيٌّ وُضِعَ عَلَى لِسَانِ الفَيْلَسُوفِ بَيْدَبَا لِلْمَلِكِ دَبْشَلِيمَ) إِلَى العَرَبِيَّةِ بِأُسْلُوبٍ نَثْرِيٍّ بَدِيعٍ. وَطَرِيقَتُهُ أَنَّهُ جَعَلَ الحِكَمَ السِّيَاسِيَّةَ وَالأَخْلَاقِيَّةَ وَالنَّصَائِحَ لِلْمُلُوكِ مَسْرُودَةً عَلَى أَلْسِنَةِ الحَيَوَانَاتِ وَالطُّيُورِ (الرَّمْزِيَّةِ الأَدَبِيَّةِ)، خَوْفًا مِنْ بَطْشِ الحُكَّامِ، وَلِتَكُونَ أَقْرَبَ إِلَى فَهْمِ العَامَّةِ وَتَشْوِيقِ القَارِئِ.
٥- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:
[৫. নিচের প্রশ্নগুলো থেকে যেকোনো চারটির বিশদ উত্তর দাও:]
(أ) اكتب نبذة عن حياة عبد الله بن المقفع وآثاره الأدبية-
[৫. (ক) আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফার জীবন ও সাহিত্যকর্ম আলোচনা কর।]
জন্ম ও বংশপরিচয়: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা আনুমানিক ১০৬ হিজরীতে পারস্যের ফুরয অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মূল ফারসি নাম ছিল ‘রুজবাহ’। উমাইয়া যুগে তাঁর পিতা কর আদায়ের দায়িত্ব পালনকালে তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে প্রহৃত হন এবং তাঁর হাত বাঁকা হয়ে যায়, এজন্য তাঁকে ‘মুকাফফা’ (বাঁকা হাতের অধিকারী) বলা হতো। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করে নাম রাখেন আব্দুল্লাহ।
সাহিত্যকর্ম: তিনি আরবি গদ্য সাহিত্যের অন্যতম স্থপতি। তাঁর বিখ্যাত রচনাবলি হলো: ১. কালীলাহ ওয়া দিমনা (كليلة ودمنة), ২. আল-আদাবুল কাবীর (الأدب الكبير), ৩. আল-আদাবুস সাগীর (الأدب الصغير), এবং ৪. রিসালাতুস সাহাবাহ (رسالة الصحابة)।
মৃত্যু: দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলীফা আল-মনসুরের শাসনামলে রাজনৈতিক কূটকৌশলের শিকার হয়ে বসরায় আনুমানিক ১৪২ হিজরীতে তিনি মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
(খ) اذكر مثل بيدبا الفيلسوف للرجل الذي يطلب الحاجة فلا يدركها-
[৫. (খ) দার্শনিক বায়দাবার দৃষ্টান্ত: যে ব্যক্তি কোনো উদ্দেশ্য অন্বেষণ করে কিন্তু ব্যর্থ হয়।]
দার্শনিক বায়দাবা ‘কালীলাহ ওয়া দিমনা’ গ্রন্থে এমন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিয়েছেন যে নিজের সাধ্য ও সক্ষমতা বিচার না করে অবাস্তব লক্ষ্যে ছুটে চলে। বায়দাবা বলেন, সে ব্যক্তি সেই শিকারী বকের মতো, যে মাছ শিকার করতে গিয়ে অতিরিক্ত লোভের বশে কাঁকড়ার ফাঁদে পা দেয় এবং নিজের জীবন হারায়। অথবা সেই বানরের মতো, যে ছুতারের অনুপস্থিতিতে কাঠে গোঁজ ঠোকার কাজে হাত দেয় এবং গোঁজ খুলে ফেলে নিজের লেজ আটকে ফেলে নিদারুণ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের যোগ্যতা ও সীমা জেনে কাজ করা।
(গ) ناقش باب المروءة لابن قتيبة في كتابه-
[৫. (গ) ইবনে কুতাইবার ‘মুরুওয়াহ’ (ভদ্রতা ও পৌরুষত্ব) অধ্যায়ের সারসংক্ষেপ।]
ইমাম ইবনে কুতাইবা আদ-দীনূরী তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘উয়ূনুল আখবার’-এ ‘বাবু আল-মুরুওয়াহ’ নামে একটি অনন্য অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি মুরুওয়াহকে মানুষের শ্রেষ্ঠ আত্মমর্যাদা ও পূর্ণাঙ্গ নৈতিকতার মাপকাঠি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাঁর মতে মুরুওয়াহর মূল উপাদানগুলো হলো: ১. লজ্জাশীলতা বজায় রাখা, ২. আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা ও পরোপকার, ৩. গীবত ও অশ্লীল বাক্য থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা, ৪. বিপদে ধৈর্য ধারণ ও ক্রোধ দমন করা, এবং ৫. চালচলন ও পোশাকে ভদ্রতা বজায় রাখা।
(ঘ) بين آراء ابن قتيبة في باب التواضع-
[৫. (ঘ) বিনয় ও নম্রতা সম্পর্কে ইবনে কুতাইবার দৃষ্টিভঙ্গি।]
ইবনে কুতাইবা বিনয়কে (التواضع) মানব চরিত্রের অলঙ্কার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, সত্যিকারের মহৎ ব্যক্তিরা ফলবান বৃক্ষের মতো বিনম্র হন। বৃক্ষে যত বেশি ফল ধরে, তার ডালপালা তত বেশি মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ে। তেমনি মানুষের জ্ঞান ও মর্যাদা যত বৃদ্ধি পাবে, তার বিনয় তত বেশি প্রকাশ পাবে। পক্ষান্তরে অজ্ঞ ও নীচ ব্যক্তিরা শূন্য পাত্রের মতো সামান্যতেই অহংকারে অন্ধ হয়ে পড়ে।
(هـ) بين خصائص كتاب ‘مختارات من أدب العرب’ للعلامة الندوي-
[৫. (ঙ) সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রচিত ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ।]
বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) আরবি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য এই অতুলনীয় সংকলনটি প্রস্তুত করেন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. জাহেলী যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত নির্ভেজাল ইসলামী ভাবধারাপুষ্ট শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের গদ্য ও পদ্যের চয়ন, ২. অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা মুক্ত খাঁটি সাহিত্যপাঠ, ৩. প্রাঞ্জল ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষার অপূর্ব প্রয়োগ, এবং ৪. সাহিত্যের মাধ্যমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করা।
(و) اكتب نبذة عن حياة العلامة السيد أبي الحسن علي الندوي وجهوده الأدبية-
[৫. (চ) আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর জীবন ও সাহিত্য অবদান।]
জন্ম ও শিক্ষা: তিনি ১৯১৪ সালে ভারতের রায়বেরেলির তাকিয়া কালানে এক অভিজাত ইলমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং নদওয়াতুল ওলামার প্রধান পরিচালক হিসেবে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেন।
সাহিত্য অবদান: আরবি ভাষায় তিনি অর্ধশতাধিক বিশ্বমানের গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অমর কীর্তি «مَاذَا خَسِرَ العَالَمُ بِانْحِطَاطِ المُسْلِمِينَ» (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল?), যা গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এছাড়া ‘কাসাসুন নাবিয়্যীন’, ‘আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ’ এবং ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ আরবি গদ্যের ক্লাসিক রচনা। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জুমার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াতরত অবস্থায় এই মহান মনীষী ইন্তেকাল করেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ফাজিল ৩য় বর্ষের আন-নাসরুল কাদীম-২ বিষয়ের বিষয় কোড কত?
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল (অনার্স) ৩য় বর্ষের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আন-নাসরুল কাদীম-২ পত্রের কোড হলো ২০৪৩০৪।
২. মাকামাত সাহিত্যের মূল চরিত্র কে?
আল-হারিরীর মাকামাতে মূল কথক হলেন আল-হারিস ইবনে হাম্মাম এবং কেন্দ্রীয় মূল চরিত্র বা নায়ক হলেন আবু যায়েদ সারুজী।
৩. কালীলাহ ওয়া দিমনা গ্রন্থটি ফারসি থেকে আরবিতে কে অনুবাদ করেন?
বিখ্যাত আব্বাসীয় আরবি গদ্যশিল্পী আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা এটি পাহলভি ফারসি থেকে বিশুদ্ধ আরবি গদ্যে রূপান্তর করেন।
৪. ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থের প্রণেতা কে?
বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত ও সাহিত্যিক ইমাম ইবনে কুতাইবা আদ-দীনূরী (রহ.)।
৫. ‘মাযা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমীন’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)।
৬. ‘কালীলাহ ওয়া দিমনা’ কোন প্রাণীর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে?
এটি দুটি শিয়ালের (ابن آوى) নাম, যাদের একজন সত্য ও ন্যায়ের এবং অন্যজন প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের প্রতীক।