ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: কম্পিউটার (الحاسوب)
বিষয় কোড: ২০৪৩০২ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান)
১। কম্পিউটার কাকে বলে? গঠন ও কার্যনীতির ভিত্তিতে কম্পিউটার কত প্রকার ও কি কি? এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের পার্থক্য লিখ।
[1. What is a computer? How many types of computers are there based on construction and working principles? Differentiate between analog and digital computers.]
উত্তর:
কম্পিউটারের সংজ্ঞা:
‘Computer’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Compute’ থেকে এসেছে, যার অর্থ গণনা করা। সুতরাং শাব্দিক অর্থে কম্পিউটার হলো গণনাকারী যন্ত্র। আধুনিক ধারণায়, কম্পিউটার একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন ও নির্ভুল ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর নিকট থেকে ইনপুট হিসেবে ডেটা গ্রহণ করে, মেমরিতে সংরক্ষিত নির্দেশনানুযায়ী তা প্রক্রিয়াকরণ করে এবং অর্থপূর্ণ ফলাফল বা ইনফরমেশন আউটপুট আকারে প্রদান করে।
গঠন ও কার্যনীতির ভিত্তিতে কম্পিউটারের প্রকারভেদ:
গঠন, কার্যপদ্ধতি ও পরিমাপের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer): যে কম্পিউটার কোনো অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক ভৌত পরিমাণ (যেমন: তাপমাত্রা, চাপ, ভোল্টেজ ইত্যাদি) পরিমাপ করে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে, তাকে এনালগ কম্পিউটার বলে।
২. ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer): যে কম্পিউটার বাইনারি সংকেত অর্থাৎ ০ (শূন্য) ও ১ (এক)-এর সাহায্যে বিচ্ছিন্ন সংকেত বা ডিজিট গণনা করে গাণিতিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে। বর্তমানের প্রচলিত সকল পিসি ডিজিটাল কম্পিউটার।
৩. হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer): এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কম্পিউটারকে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে। এটি এনালগ সংকেত গ্রহণ করে ডিজিটালে রূপান্তর করে ফলাফল দেয় (যেমন: হাসপাতালের আইসিইউ বা আবহাওয়া অফিসের কম্পিউটার)।
এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্য | এনালগ কম্পিউটার | ডিজিটাল কম্পিউটার |
|---|---|---|
| ডেটার প্রকৃতি | অবিচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক সংকেত (Continuous Signals)। | বিচ্ছিন্ন ও বাইনারি ডিজিট ০ এবং ১ (Discrete Signals)। |
| পরিমাপের ভিত্তি | ভৌত পরিবর্তন (চাপ, তাপ, বিদ্যুৎ প্রবাহ) পরিমাপ করে। | সংখ্যা ও সাংখ্যিক সংকেত গণনা করে। |
| নির্ভুলতা ও সূক্ষ্মতা | ফলাফলের নির্ভুলতা তুলনামূলকভাবে কম। | অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ১০০% নির্ভুল ফলাফল প্রদান করে। |
| মেমরি বা স্মৃতি | মেমরি ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। | বিশাল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মেমরি থাকে। |
| ব্যবহারের ক্ষেত্র | বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার, রাসায়নিক প্ল্যান্ট, তেল শোধনাগার। | ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, অফিস, প্রকাশনা ও সাধারণ সকল কাজে। |
২। মেমরি বা স্মৃতি কাকে বলে? কম্পিউটার মেমরি কত প্রকার ও কি কি? RAM ও ROM-এর পার্থক্য লিখ।
[2. What is memory? How many types of computer memory are there? Write the differences between RAM and ROM.]
উত্তর:
মেমরি বা স্মৃতির সংজ্ঞা:
কম্পিউটারে প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রদত্ত ডেটা, প্রোগ্রাম কোড এবং প্রক্রিয়াকরণের অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত ফলাফল ধারণ বা সংরক্ষণ করে রাখার স্থানকে মেমরি বা স্টোরেজ ইউনিট বলে।
কম্পিউটার মেমরির শ্রেণিবিভাগ:
কম্পিউটারের মেমরিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রধান মেমরি বা প্রাথমিক স্মৃতি (Primary/Main Memory): এটি সরাসরি প্রসেসরের সাথে যুক্ত থাকে। যেমন: RAM এবং ROM।
২. সহায়ক মেমরি বা গৌণ স্মৃতি (Secondary Memory): ডেটা স্থায়ীভাবে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন: হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (HDD), সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD), অপটিক্যাল ডিস্ক (CD/DVD), পেনড্রাইভ ইত্যাদি।
এছাড়া দ্রুতগতির জন্য প্রসেসরের ভেতরে ক্যাশ মেমরি (Cache Memory) ও রেজিস্টার (Register) ব্যবহৃত হয়।
RAM ও ROM-এর পার্থক্য:
| তুলনার বিষয় | RAM (Random Access Memory) | ROM (Read Only Memory) |
|---|---|---|
| পূর্ণরূপ | Random Access Memory। | Read Only Memory। |
| স্থায়িত্বের প্রকৃতি | অস্থায়ী বা ভোলাটাইল (Volatile); বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেটা মুছে যায়। | স্থায়ী বা নন-ভোলাটাইল (Non-volatile); বিদ্যুৎ চলে গেলেও ডেটা সংরক্ষিত থাকে। |
| কাজের ধরন | এতে রিড (Read) এবং রাইট (Write) উভয় কাজই করা যায়। | এতে কেবল সংরক্ষিত ডেটা পড়া (Read) যায়, সাধারণ অবস্থায় রাইট করা যায় না। |
| সংরক্ষিত ডেটা | চলমান প্রোগ্রাম ও সাময়িক কার্যপ্রণালী জমা থাকে। | কম্পিউটার বুটিং ও বায়োস (BIOS)-এর স্থায়ী নির্দেশনা সংরক্ষিত থাকে। |
| গতি | ROM-এর তুলনায় অত্যন্ত দ্রুতগতির মেমরি। | RAM-এর তুলনায় কিছুটা মন্থরগতির। |
৩। এমএস এক্সেল (MS Excel) কি? স্প্রেডশীটের প্রধান প্রধান কাজ ও এক্সেলে গাণিতিক সূত্রের ব্যবহার সংক্ষেপে আলোচনা কর।
[3. What is MS Excel? Briefly discuss the main functions of spreadsheets and the use of mathematical formulas in Excel.]
উত্তর:
এমএস এক্সেল (MS Excel)-এর পরিচয়:
এমএস এক্সেল হলো মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি জনপ্রিয় ও শক্তিশালী স্প্রেডশীট অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম। এটি রো (Row) ও কলাম (Column)-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি সুবিশাল ওয়ার্কশীট, যার মাধ্যমে গাণিতিক, আর্থিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং চার্ট বা গ্রাফের মাধ্যমে ডেটা উপস্থাপন করা যায়।
স্প্রেডশীটের প্রধান প্রধান কাজ:
১. জটিল গাণিতিক হিসাব: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ও শতাংশ নির্ণয় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা।
২. বেতন ও বিল প্রস্তুত: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন তালিকা, পে-রোল ও গ্রাহকদের বিদ্যুৎ/পানির বিল প্রস্তুত করা।
৩. পরীক্ষার ফলাফল তৈরি: মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র, গ্রেড শীট ও মেধা তালিকা তৈরি করা।
৪. বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনা: যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়-ব্যয়, ব্যালেন্স শীট ও মুনাফার পূর্বাভাস প্রণয়ন।
৫. ডেটা ফিল্টারিং ও বাছাই: বিপুল ডেটা থেকে নির্দিষ্ট শর্তানুযায়ী তথ্য খুঁজে বের করা (Sort & Filter)।
৬. গ্রাফ ও চার্ট তৈরি: সংখ্যামূলক ডেটাকে পাই চার্ট, বার চার্ট বা লাইন গ্রাফে রূপান্তর করে ভিজ্যুয়াল রিপোর্ট প্রস্তুত করা।
এক্সেলে গাণিতিক সূত্রের ব্যবহার:
এক্সেলে যেকোনো ফর্মুলা বা সূত্র লেখার পূর্বে অবশ্যই সমান চিহ্ন (=) দিয়ে শুরু করতে হয়। কয়েকটি মৌলিক সূত্রের উদাহরণ:
১. যোগের সূত্র (SUM): A1 থেকে A10 পর্যন্ত ঘরের যোগফল নির্ণয়ে: =SUM(A1:A10)
২. গড় নির্ণয়ের সূত্র (AVERAGE): B1 থেকে B10 ঘরের গড় নির্ণয়ে: =AVERAGE(B1:B10)
৩. সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান (MAX / MIN): =MAX(C1:C20) এবং =MIN(C1:C20)
৪. শর্তযুক্ত সূত্র (IF): কোনো ছাত্র পাস না ফেল নির্ধারণে: =IF(D1>=33, "Pass", "Fail")
৪। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সংজ্ঞা দাও। বিভিন্ন প্রকার সফটওয়্যারের পরিচয় দাও এবং এদের গুরুত্ব আলোচনা কর।
[4. Define hardware and software. Introduce different types of software and discuss their importance.]
উত্তর:
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সংজ্ঞা:
হার্ডওয়্যার (Hardware): কম্পিউটারের দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য এবং কাঠামোগত সকল যান্ত্রিক, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক অংশকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি।
সফটওয়্যার (Software): কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সচল করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কাজ সুচারুভাবে সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার প্রোগ্রাম, নির্দেশনাবলি ও ডেটার সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। এটি স্পর্শ করা যায় না, এটি হলো কম্পিউটারের প্রাণশক্তি।
সফটওয়্যারের শ্রেণিবিভাগ:
সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার:
১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software): যে সফটওয়্যার কম্পিউটারের সকল হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও সমন্বয় সাধন করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চলার পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে।
– অপারেটিং সিস্টেম (OS): যেমন- Windows, Linux, macOS, Android।
– ইউটিলিটি প্রোগ্রাম: যেমন- Antivirus, Disk Cleanup।
– ডিভাইস ড্রাইভার: যেমন- প্রিন্টার বা সাউন্ড ড্রাইভার।
২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software): ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধান বা বিশেষ কার্য সম্পাদনের জন্য যে প্রোগ্রামগুলো তৈরি করা হয়, তাকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে।
– প্যাকেজ সফটওয়্যার: MS Word, MS Excel, Adobe Photoshop।
– কাস্টমাইজড সফটওয়্যার: ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সফটওয়্যার।
সফটওয়্যারের গুরুত্ব:
সফটওয়্যার ছাড়া আধুনিক কম্পিউটার নিছক একটি নির্জীব লোহার বাক্স। সফটওয়্যারের মাধ্যমেই মানুষ যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে, জটিল বৈজ্ঞানিক গণনা পরিচালনা করে, আধুনিক যোগাযোগ রক্ষা করে এবং শিক্ষামূলক ও গবেষণা কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করে।
৫। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে? ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (LAN, MAN, WAN) আলোচনা কর।
[5. What is a computer network? Discuss the types of computer networks based on geographical distribution (LAN, MAN, WAN).]
উত্তর:
কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সংজ্ঞা:
পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার রিসোর্স (যেমন: ফাইল, প্রিন্টার, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি) শেয়ার করার উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে কোনো মাধ্যম (তারযুক্ত বা তারবিহীন) দ্বারা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করার ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।
ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ:
বিস্তৃতি ও দূরত্বের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:
১. PAN (Personal Area Network): কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিসরে (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে) ব্লুটুথ বা হটস্পটের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্ক।
২. LAN (Local Area Network):
– বিস্তৃতি: একটি নির্দিষ্ট কক্ষ, বাড়ি, অফিস ভবন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসের মধ্যে (১ কিমি এর মধ্যে) সীমাবদ্ধ নেটওয়ার্ক।
– বৈশিষ্ট্য: এটি খুব দ্রুতগতির (10 Mbps থেকে 10 Gbps পর্যন্ত) এবং টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল বা ওয়াই-ফাই (WLAN)-এর মাধ্যমে তৈরি হয়। ডেটা স্থানান্তরে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
৩. MAN (Metropolitan Area Network):
– বিস্তৃতি: একটি সম্পূর্ণ শহর বা পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত একাধিক ল্যান বা অফিসের মধ্যে স্থাপিত নেটওয়ার্ক।
– বৈশিষ্ট্য: অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল বা মাইক্রোওয়েভ দ্বারা যুক্ত থাকে। যেমন: ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক বা একটি শহরের সব ব্যাংক শাখার অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক।
৪. WAN (Wide Area Network):
– বিস্তৃতি: একটি দেশ, মহাদেশ কিংবা সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।
– বৈশিষ্ট্য: টেলিফোন লাইন, ফাইবার অপটিক সাবমেরিন ক্যাবল এবং কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) সাহায্যে এই নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। ইন্টারনেট (Internet) হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়ান-এর সবচেয়ে বড় ও প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
৬। মাকতাবাতুশ শামেলা (المكتبة الشاملة) কী? ইসলামি গবেষণা ও হাদিস চর্চায় এর কার্যকারিতা ও ব্যবহার পদ্ধতি লিখ।
[6. What is Al-Maktaba Al-Shamela? Write about its effectiveness and methods of use in Islamic research and Hadith studies.]
উত্তর:
মাকতাবাতুশ শামেলার পরিচয়:
মাকতাবাতুশ শামেলা (المكتبة الشاملة) হলো আরবি ভাষা ও ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সবচেয়ে সমৃদ্ধ, নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল সার্চেবল লাইব্রেরি সফটওয়্যার। এতে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, আকীদাহ, ইতিহাস, রিজাল শাস্ত্র এবং আরবি ব্যাকরণ ও সাহিত্যের হাজার হাজার প্রাচীন ও আধুনিক নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থ মূল কিতাবের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ সংরক্ষিত রয়েছে।
ইসলামি গবেষণা ও হাদিস চর্চায় এর কার্যকারিতা:
১. দ্রুত হাদিস তাখরিজ (تخريج الحديث): কোনো হাদিসের একটি শব্দ বা বাক্য লিখে অনুসন্ধান দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কুতুবে সিত্তাহসহ সমস্ত হাদিস গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট হাদিস, সনদ ও মতন সামনে চলে আসে।
২. হাদিসের মান যাচাই ও রাবীদের জীবনী (علم الرجال): তাহযিবুল কামাল বা সিয়ারু আ’লামিন নুবালা গ্রন্থ থেকে বর্ণনাকারীদের জীবনী ও জারহ-তাদিল দ্রুত যাচাই করা যায়।
৩. চার মাজহাবের ফিকহি রায় পর্যালোচনা: কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি মাসআলায় হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী ও হাম্বলি ফিকহের মূল গ্রন্থের উদ্ধৃতি মুহূর্তেই সংগ্রহ করা যায়।
৪. মুদ্রিত কিতাবের সাথে হুবহু মিল: শামেলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপা কিতাবের মতোই অবিকল থাকে, ফলে গবেষণাপত্রে রেফারেন্স দেওয়া অত্যন্ত সহজ হয়।
৫. ব্যক্তিগত বই ও নোট সংযোজন: গবেষক চাইলে নিজের কোনো কিতাব বা গবেষণা নোট এই সফটওয়্যারে যুক্ত করতে পারেন।
ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি:
– সার্চ উইন্ডো ওপেন করা: উপরের মেনুবার থেকে ‘بحث’ (সার্চ) আইকনে ক্লিক করতে হয়।
– বিষয় বা কিতাব নির্বাচন: বাঁ পাশের তালিকা থেকে কিতাবের বিভাগ (যেমন: متون الحديث) অথবা নির্দিষ্ট কিতাব সিলেক্ট করতে হয়।
– শব্দ টাইপ করা: সার্চ বক্সে হাদিস বা বিষয়ের যেকোনো শব্দ লিখে এন্টার চাপলে মুহূর্তেই ফলাফল চলে আসে।
খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান)
৭। (ক) কম্পিউটারের মৌলিক কার্যপদ্ধতি (IPO Cycle) আলোচনা কর।
[7. (a) Discuss the basic operational cycle of a computer (IPO Cycle).]
উত্তর:
কম্পিউটারের মৌলিক কার্যপদ্ধতি মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়, যাকে সংক্ষেপে IPO চক্র (Input-Process-Output Cycle) বলা হয়:
১. ইনপুট (Input): কীবোর্ড, মাউস বা স্ক্যানারের মাধ্যমে কাঁচামাল বা ডেটা কম্পিউটারে প্রবেশ করানো।
২. প্রক্রিয়াকরণ (Process): সিপিইউ (CPU) মেমরি থেকে নির্দেশ নিয়ে ডেটাকে প্রক্রিয়াজাত করে এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণ সম্পাদন করে।
৩. আউটপুট (Output): প্রক্রিয়াকৃত অর্থপূর্ণ ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা বা প্রিন্টারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সরবরাহ করা। প্রয়োজনে তা স্টোরেজে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ (Storage) করা হয়।
৭। (খ) ALU (Arithmetic Logic Unit)-এর কাজ কি?
[7. (b) What are the functions of the Arithmetic Logic Unit (ALU)?]
উত্তর:
ALU-এর পূর্ণরূপ হলো ‘Arithmetic Logic Unit’ বা গাণিতিক যুক্তি ইউনিট। এটি সিপিইউ-এর একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
১. গাণিতিক কাজ (Arithmetic Operations): যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি সকল প্রকার অংক ও গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করা।
২. যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Logical Operations): দুটি মানের মধ্যে তুলনা করা, যেমন: কোনটি বড় (>), কোনটি ছোট (<), সমান (=) কি না বা শর্ত যাচাই করা (AND, OR, NOT গেটের কার্যাবলি)।
৭। (গ) এমএস ওয়ার্ডে টেবিল তৈরি ও সম্পাদনার নিয়ম লিখ।
[7. (c) Write the rules for creating and editing tables in MS Word.]
উত্তর:
এমএস ওয়ার্ডে টেবিল তৈরির ধাপসমূহ:
১. মেনুবার থেকে Insert ট্যাবে ক্লিক করতে হবে।
২. Table অপশনে ক্লিক করে মাউস টেনে প্রয়োজনীয় রো (Row) ও কলাম (Column) নির্বাচন করতে হবে অথবা Insert Table-এ ক্লিক করে রো ও কলামের সংখ্যা লিখে OK দিতে হবে।
টেবিল সম্পাদনা: টেবিলের দাগে মাউস রেখে ড্র্যাগ করে কলাম বা রো-এর সাইজ বড়-ছোট করা যায়, রাইট ক্লিক করে নতুন রো/কলাম সংযোজন (Insert) বা মুছে ফেলা (Delete) যায় এবং Merge Cells দিয়ে একাধিক সেলকে একত্র করা যায়।
৭। (ঘ) ইন্টারনেটের সুবিধা ও আধুনিক যোগাযোগে এর ভূমিকা কি?
[7. (d) What are the advantages of the Internet and its role in modern communication?]
উত্তর:
ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মহাজাল। এর প্রধান সুবিধাসমূহ:
১. মুহূর্তের মধ্যে ইমেইল, মেসেঞ্জার বা অডিও-ভিডিও কলের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে তথ্য আদান-প্রদান।
২. বিশ্বকোষীয় জ্ঞানভাণ্ডার, অনলাইন লাইব্রেরি ও শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মে সহজে প্রবেশাধিকার।
৩. ই-কমার্স, অনলাইন ব্যাংকিং, টিকিট বুকিং ও টেলিমেডিসিন সেবার সুফল গ্রহণ।
আধুনিক যোগাযোগে ইন্টারনেট সমগ্র পৃথিবীকে একটি ছোট্ট ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ বা বিশ্বগ্রামে পরিণত করেছে।
৭। (ঙ) কম্পিউটারের উৎপত্তি ও ইতিহাস সংক্ষেপে লিখ।
[7. (e) Write briefly about the origin and history of computers.]
উত্তর:
কম্পিউটারের ইতিহাসের সূত্রপাত ঘটে প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে চীনে আবিষ্কৃত প্রাচীন গণনাকারী যন্ত্র ‘অ্যাবাকাস’ (Abacus)-এর মাধ্যমে। সপ্তদশ শতকে ব্লেইজ প্যাসকেল প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে চার্লস ব্যাবেজ ‘ডিফারেন্স ইঞ্জিন’ ও ‘অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন’-এর নকশা প্রণয়ন করেন, যাতে ইনপুট, প্রসেসিং ও আউটপুটের আধুনিক ধারণা ছিল। তাই ব্যাবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভালভ ও ট্রানজিস্টরভিত্তিক প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার (যেমন: ENIAC) নির্মিত হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোপ্রসেসর আবিষ্কারের ফলে আধুনিক কম্পিউটার বিপ্লবের সূচনা ঘটে।
৭। (চ) ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেমের উপাদানসমূহ কি কি?
[7. (f) What are the components of a data communication system?]
উত্তর:
একটি সফল ডেটা কমিউনিকেশন সিস্টেম মূলত পাঁচটি মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়:
১. উৎস বা প্রেরক (Sender): যে ডিভাইস থেকে ডেটা পাঠানো হয় (যেমন: কম্পিউটার বা মোবাইল)।
২. গ্রাহক (Receiver): যে ডিভাইস তথ্য গ্রহণ করে।
৩. মাধ্যম (Medium/Channel): যে পথের মধ্য দিয়ে ডেটা পরিবাহিত হয় (যেমন: ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা রেডিও তরঙ্গ)।
৪. বার্তা বা মেসেজ (Message): যে ডেটা বা তথ্য পাঠানো হচ্ছে (টেক্সট, ভয়েস, ছবি বা ভিডিও)।
৫. প্রোটোকল (Protocol): ডেটা আদান-প্রদানের জন্য প্রেরক ও গ্রাহকের মাঝে স্বীকৃত নিয়ম-নীতির সমষ্টি (যেমন: TCP/IP, HTTP)।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: কম্পিউটারের মস্তিষ্ক কাকে বলা হয় এবং কেন?
উত্তর: CPU (Central Processing Unit)-কে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়; কারণ এটি কম্পিউটারের সমস্ত ডেটা প্রক্রিয়াজাত করে, সকল যন্ত্রাংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রশ্ন ২: ১ গিগাবাইট (1 GB) সমান কত মেগাবাইট?
উত্তর: ডিজিটাল মেমরি পরিমাপে ১ গিগাবাইট (1 GB) সমান ১০২৪ মেগাবাইট (1024 MB)।
প্রশ্ন ৩: অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কাজ কী?
উত্তর: অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কাজ হলো কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মাঝে সংযোগ স্থাপন করা, মেমরি ও ফাইল ম্যানেজমেন্ট করা এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার পরিচালনায় সার্বিক পরিবেশ সৃষ্টি করা।
প্রশ্ন ৪: ল্যান (LAN) ও ওয়ান (WAN)-এর মূল ব্যবধান কী?
উত্তর: ল্যান একটি ক্ষুদ্র ভৌগোলিক এলাকা যেমন একটি ভবন বা ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, পক্ষান্তরে ওয়ান দেশ বা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক (যেমন: ইন্টারনেট)।
প্রশ্ন ৫: ইসলামি গবেষণায় মাকতাবাতুশ শামেলার সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?
উত্তর: হাজার হাজার প্রাচীন দুর্লভ আরবি কিতাব ও হাদিস গ্রন্থের যেকোনো শব্দ বা বাক্য দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সার্চ করা যায় এবং মূল কিতাবের পৃষ্ঠা ও খণ্ড নম্বরসহ নির্ভুল রেফারেন্স পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৬: কম্পিউটারে ভাইরাস কী এবং এর প্রতিকার কী?
উত্তর: ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের ফাইল বিনষ্ট করে এবং কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। এর প্রতিকার হলো নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা ও নিয়মিত আপডেট রাখা।