জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-ইকতিসাদ ওয়াল ইকতিসাদুল ইসলামী (Al-Iqtisad wal-Iqtisadul-Islami) – 204301, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৩ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: অর্থনীতি ও ইসলামিক অর্থনীতি (الاقتصاد والاقتصاد الإسلامي)
বিষয় কোড: ২০৪৩০১ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

المجموعة (أ) – রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান

١- عرف الاقتصاد الإسلامى ثم اشرح مفهوم المال فى نظر الاقتصاد التقليدى والاقتصاد الاسلامى-

[১. ইসলামি অর্থনীতির সংজ্ঞা দাও। অতঃপর ইসলামি অর্থনীতি ও প্রচলিত অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদের স্বরূপ ব্যাখ্যা কর।]


উত্তর:

১. ইসলামি অর্থনীতির পরিচয় ও সংজ্ঞা (تعريف الاقتصاد الإسلامي):
ইসলামি অর্থনীতি হলো মানবজীবনের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমস্যার এমন এক সমাধান পদ্ধতি, যা কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াসের আলোকে মানুষের বৈষয়িক সম্পদ উপার্জন, ভোগ, বণ্টন ও পুনর্বণ্টনের যাবতীয় নীতিমালা নির্ধারণ করে। এটি শুধু বস্তুগত সমৃদ্ধি অর্জনের বিজ্ঞান নয়, বরং দুনিয়ার শান্তি ও আখিরাতের অনন্ত সফলতার সুসমন্বিত রূপরেখা।

প্রখ্যাত ইসলামিক অর্থনীতিবিদ ড. এম. এ. মান্নান বলেন:
“الاقتصاد الإسلامي هو علم اجتماعي يدرس المشكلات الاقتصادية للناس في ضوء القيم الإسلامية.”
(ইসলামি অর্থনীতি হলো এমন এক সামাজিক বিজ্ঞান, যা ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে মানুষের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমস্যাবলি অধ্যয়ন করে)।

ড. নেজাতুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, ইসলামি অর্থনীতি হলো সেই বিজ্ঞান যা মানুষের কল্যাণ (ফাল্লাহ) অর্জনের লক্ষ্যে শরিয়াহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে।

২. প্রচলিত অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদের স্বরূপ (مفهوم المال في نظر الاقتصاد التقليدي):
প্রচলিত পুঁজিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সম্পদকে সম্পূর্ণ পার্থিব ও বৈষয়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়।
ক. উপযোগিতা ও বিনিময় মূল্য: প্রচলিত অর্থনীতিতে সম্পদ (Wealth/Asset) বলতে এমন সব বস্তুগত দ্রব্য ও সেবাকে বোঝায় যার অর্থনৈতিক উপযোগিতা (Utility), দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity), হস্তান্তরযোগ্যতা (Transferability) এবং বাহ্যিক রূপ রয়েছে।
খ. নৈতিকতাবিমুখ ধারণা: প্রচলিত অর্থনীতিতে দ্রব্যের নৈতিক বা হালাল-হারাম মান বিচার করা হয় না। মদ, জুয়া, ক্যাসিনো, ক্ষতিকর মাদক বা পর্নোগ্রাফি যদি অর্থনৈতিক উপযোগ ও বাজার মূল্য সৃষ্টি করে, তবে প্রচলিত অর্থনীতির দৃষ্টিতে তা সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।
গ. সম্পূর্ণ মানবিক মালিকানা: প্রচলিত অর্থনীতি বিশ্বাস করে মানুষই সম্পদের পরম স্রষ্টা ও নিরঙ্কুশ মালিক, ফলে মানুষ তার ইচ্ছামতো সম্পদ অপচয় বা একচেটিয়া মজুত করার অধিকার রাখে।

৩. ইসলামি অর্থনীতির দৃষ্টিতে সম্পদের স্বরূপ (مفهوم المال في نظر الاقتصاد الإسلامي):
ইসলামি অর্থনীতিতে ‘মাল’ (المال) বা সম্পদের ধারণা সম্পূর্ণ পবিত্র, নৈতিক ও ভারসাম্যপূর্ণ।
ক. আমানতস্বরূপ মালিকানা: ইসলামে সম্পদের সার্বভৌম ও প্রকৃত মালিক হলেন একমাত্র মহান আল্লাহ। ইরশাদ হয়েছে:
﴿لِّلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ﴾ (সূরা আল-বাকারা: ২৮৪)
মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে কেবল এর তত্ত্বাবধায়ক বা আমানতদার।
খ. ‘মালুল মুতাকাওওয়াম’ (المال المتقوّم): ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পদ হতে হলে তা হালাল ও পবিত্র হতে হবে। মদ, শূকরের মাংস, সুদের অর্থ বা জুয়ার উপকরণকে ইসলাম কখনোই ‘মাল’ বা বৈধ সম্পদ বলে স্বীকার করে না।
গ. সামাজিক দায়িত্ব ও ভারসাম্য: ইসলামে সম্পদ এক জায়গায় কুক্ষিগত করে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইরশাদ হয়েছে:
﴿كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ﴾ (সূরা আল-হাশর: ৭)
সম্পদ উপার্জনে ইনসাফ এবং ব্যয়ে অপচয় ও কৃপণতার মধ্যবর্তী ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক।

٢- قم بدراسة مقارنة بين الربح والربا فى الاقتصاد الإسلامى-

[২. ইসলামি অর্থনীতিতে সুদ ও মুনাফার মধ্যে একটি তুলনামূলক আলোচনা কর।]


উত্তর:

ইসলামি অর্থনীতিতে সুদ (الربا) সম্পূর্ণ হারাম এবং ব্যবসার মুনাফা (الربح) সম্পূর্ণ হালাল। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এ পার্থক্যের মূল সূত্র ঘোষণা করেছেন:
﴿وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾ (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
(আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম)।

নিম্নে সুদ ও মুনাফার মৌলিক তুলনামূলক পার্থক্যসমূহ আলোচনা করা হলো:

তুলনার বিষয় সুদ (الربا – Riba/Interest) মুনাফা (الربح – Profit)
শরিয়াহর হুকুম সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবিরা গুনাহ। এর বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। সম্পূর্ণ হালাল ও পবিত্র উপার্জন, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক ফলাফল।
ঝুঁকি ও দায়ভার (Risk Sharing) সুদে পুঁজি বিনিয়োগকারী কোনো ব্যবসায়িক ঝুঁকি বা লোকসানের দায় নেয় না; ঋণগ্রহীতার লোকসান হলেও সুদ দিতেই হয়। মুনাফা ঝুঁকি ও লোকসানের সম্ভাবনার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। ইসলামি মূলনীতি হলো: “الخراج بالضمان” (দায় বহন ছাড়া লাভ নেই)।
আয়ের নিশ্চয়তা ও পূর্বনির্ধারণ মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট হারে পূর্বনির্ধারিত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়, যা সুনিশ্চিত। ব্যবসায় লাভের হার শতকরা অনুপাতে নির্ধারিত হলেও বাস্তব মুনাফার পরিমাণ কাজের ফলাফল ও বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
উৎপাদনশীলতা ও উপযোগ টাকার সময়ের মূল্যের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়, যা কোনো বাস্তব পণ্য বা শ্রমের উৎপাদনশীলতার সাথে যুক্ত নয়। বাস্তব পণ্য ও সেবার উৎপাদন, বিপণন ও গ্রাহকের প্রয়োজনীয় উপযোগ সৃষ্টি থেকে অর্জিত হয়।
সামাজিক প্রভাব ধনীকে আরও ধনী এবং দরিদ্রকে নিঃস্ব করে; সমাজে অর্থনৈতিক শোষণ, বৈষম্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ায়। কর্মসংস্থান তৈরি করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখে এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে।

٣- كيف يختلف مفهوم الملكية فى الإسلام عن مفهومها فى النظم الاقتصادية الاخرى كالرأسمالية والاشتراكية؟ بين-

[৩. ইসলামে মালিকানার ধারণাটি কীভাবে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মতো অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধারণা থেকে ভিন্ন? বর্ণনা কর।]


উত্তর:

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে মালিকানা (الملكية) একটি অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ। পুঁজিতন্ত্র (Capitalism), সমাজতন্ত্র (Socialism) এবং ইসলামের মালিকানা দর্শনের মধ্যে সুদূরপ্রসারী পার্থক্য বিদ্যমান।

১. পুঁজিতান্ত্রিক অর্থনীতিতে মালিকানা (الملكية في الرأسمالية):
পুঁজিবাদে ব্যক্তিগত মালিকানাকে অবাধ, নিরঙ্কুশ ও পবিত্র অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়। রাষ্ট্র সাধারণত এতে হস্তক্ষেপ করে না। ব্যক্তি তার খেয়ালখুশিমতো যেকোনো উপায়ে সম্পদ উপার্জন, ভোগ, এমনকি ধ্বংস বা মজুত করতে পারে। এর ফলে সমাজে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে জাতীয় সম্পদ পুঞ্জীভূত হয় এবং শ্রমজীবী মানুষ চরম শোষণের শিকার হয়।

২. সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে মালিকানা (الملكية في الاشتراكية):
সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিগত মালিকানাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়। জমি, কল-কারখানা ও উৎপাদনের যাবতীয় উপাদান রাষ্ট্রের মালিকানাধীন থাকে। ব্যক্তি কেবল তার শ্রম অনুযায়ী সরকারের কাছ থেকে জীবনধারণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পায়। এর ফলে ব্যক্তির কর্মোদ্যম, মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণ খর্ব হয়।

৩. ইসলামি অর্থনীতিতে মালিকানা দর্শন (مفهوم الملكية في الإسلام):
ইসলাম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের দুটি চরমপন্থার বিপরীতে এক অনন্য মধ্যপন্থা (Centrist approach) অবলম্বন করেছে:
ক. প্রকৃত ও পরম মালিকানা (الملكية الحقيقية المطلقة): জগতের সমস্ত দৃশ্য ও অদৃশ্য সম্পদের প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। ইরশাদ হয়েছে: ﴿وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ﴾ (সূরা আলে ইমরান: ১৮৯)।
খ. প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যক্তিগত মালিকানা (الملكية الفردية المقيدة): ইসলাম মানুষকে ব্যক্তিগত মালিকানার অধিকার দিয়েছে, তবে তা শর্তহীন নয়; বরং তা আল্লাহর প্রদত্ত আমানত। মানুষ কেবল শরিয়াহসম্মত হালাল উপায়ে সম্পদ অর্জন করতে পারবে এবং শরিয়াহর সীমার মধ্যে তা ভোগ করতে পারবে।
গ. রাষ্ট্রীয় ও যৌথ মালিকানা (الملكية العامة والدولية): যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ সমগ্র জনগণের জীবনধারণের সাথে জড়িত (যেমন নদী, চারণভূমি, খনিজ সম্পদ, বনাঞ্চল), সেগুলোতে ইসলাম ব্যক্তিমালিকানা নিষিদ্ধ করে জনসাধারণের যৌথ বা রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “المسلمون شركاء في ثلاث: في الماء والكلإ والنار” (মুসলিমরা তিনটি বিষয়ে অংশীদার: পানি, চারণভূমি ও আগুন)।
ঘ. সামাজিক দায়িত্ব: ব্যক্তিগত সম্পদে সমাজের দরিদ্রদের বাধ্যতামূলক অধিকার (যাকাত, উশর, সদকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।

٤- تحدث عن نظام الضرائب فى الإسلام مفصلاً-

[৪. ইসলামে কর ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।]


উত্তর:

ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দ্বীন হিসেবে মানবসমাজের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সুবিন্যস্ত রাজস্ব ও কর ব্যবস্থার রূপরেখা প্রদান করেছে। ইসলামি রাষ্ট্রে কর ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং জনগণের ওপর জুলুম না করা।

১. কর ব্যবস্থার শরিয়াহ দৃষ্টিভঙ্গি:
ইসলামে যাকাত, উশর, খারাজ, জিযিয়া ইত্যাদি হলো রাজস্বের স্থায়ী ও নির্ধারিত উৎস। তবে বিশেষ জাতীয় প্রয়োজনে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে কিংবা চরম আর্থিক সংকটে রাষ্ট্রপ্রধান সাময়িকভাবে অতিরিক্ত শুল্ক বা কর (ضرائب عادلة / نوائب) আরোপ করতে পারেন। ফকিহগণের ঐকমত্য হলো, ইসলামে জুলুমমূলক ও অন্যায় কর (যেমন মাকস বা المكاس) কঠোরভাবে হারাম, কিন্তু জনকল্যাণে ন্যায্য কর আরোপ করা মুবাহ বা জায়েজ।

২. ইসলামি রাজস্ব ও করের প্রধান প্রকারভেদ:
ক. যাকাত (الزكاة): মুসলমানদের নিসাব পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর নির্ধারিত বার্ষিক বাধ্যতামূলক ইবাদতমূলক প্রদেয় (সাধারণত ২.৫%)।
খ. উশর (العشر): কৃষি ফসলের ওপর ধার্যকৃত বিশেষ যাকাত বা কর (সেচহীন জমিতে ১০% এবং সেচকৃত জমিতে ৫%)।
গ. খারাজ (الخراج): অমুসলিমদের অধীনস্থ বা উন্মুক্ত ভূমির ওপর নির্ধারিত ভূমি রাজস্ব কর। খলিফা উমর (রা.) এটি সুবিন্যস্ত করেন।
ঘ. জিযিয়া (الجزية): ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী সক্ষম অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মি) জীবন, সম্পদ ও ধর্মের নিরাপত্তার বিনিময়ে ধার্যকৃত প্রতীকী কর। নারী, শিশু, বৃদ্ধ, পঙ্গু ও ধর্মীয় পুরোহিতরা এ কর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
ঙ. উশুর (العشور – Custom Duties): বহির্বাণিজ্যের ওপর ধার্যকৃত শুল্ক। খলিফা উমর (রা.) অমুসলিম বিদেশি বণিকদের পণ্যের ওপর ১০%, জিম্মিদের ওপর ৫% এবং মুসলিম ব্যবসায়ীদের ওপর ২.৫% উশুর নির্ধারণ করেছিলেন।
চ. খুমুস (الخمس): খনিজ সম্পদ, ভূগর্ভস্থ গুপ্তধন (রিকাজ) এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (২০%) রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নেওয়া কর।

৩. কর ধার্যের ইসলামি মূলনীতি:
– কর কেবল সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর ধার্য করা যাবে。
– করের উদ্দেশ্য হতে হবে সার্বজনীন জনকল্যাণ, প্রতিরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা。
– কর আদায় প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অত্যাচার বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না。

٥- ما العشر؟ فى أى الحالات يجب إخراج العشر؟ وما الفرق بين العشر والزكاة؟ بين موضحاً-

[৫. উশর কী? কোন অবস্থায় উশর ওয়াজিব হয়? উশর ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য কী? বিশদভাবে আলোচনা কর।]


উত্তর:

১. উশরের পরিচয় (مفهوم العُشْر):
‘উশর’ (العشر) আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হলো এক-দশমাংশ (১০%)। ইসলামি শরিয়াহর পরিভাষায়, উশর হলো উৎপাদিত কৃষি ফসলের ওপর নির্ধারিত বাধ্যতামূলক যাকাত। মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন:
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ﴾ (সূরা আল-বাকারা: ২৬৭)
এবং সূরা আল-আনআমে ইরশাদ করেছেন: ﴿وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ﴾ (ফসল কাটার দিনই তার হক আদায় করো)।

২. যেসব অবস্থায় উশর ওয়াজিব হয়:
ক. বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক পানির জমিতে: যেসব জমি প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টি, নদী, ঝরনা বা মাটির আর্দ্রতায় কোনো অতিরিক্ত অর্থ ও সেচ খরচ ছাড়াই উৎপাদিত হয়, সেগুলোর উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ (১০% বা উশর) প্রদান করা ওয়াজিব।
খ. কৃত্রিম সেচের জমিতে (অর্ধেক উশর): যেসব জমিতে সেচযন্ত্র, পাম্প, কূলী বা শ্রমিকের মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করে পানি সরবরাহ করতে হয়, সেগুলোতে ফসলের এক-বিংশতিংশ বা বিশ ভাগের এক ভাগ (৫% বা নিসফ আল-উশর) ওয়াজিব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
“فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا الْعُشْرُ، وَمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ” (সহীহ বুখারী)।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, মাটি থেকে উৎপন্ন যেকোনো খাদ্যশস্য ও ফলের মধ্যেই উশর ওয়াজিব, এতে নির্দিষ্ট নিসাব বা এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়।

৩. উশর ও সাধারণ যাকাতের মধ্যে পার্থক্য:

পার্থক্যকারী বিষয় উশর (العشر) সাধারণ যাকাত (الزكاة العامة)
সম্পদের প্রকৃতি কেবল উৎপাদিত কৃষি ফসল ও ফলের ওপর ধার্য হয়। নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, বাণিজ্যিক পণ্য ও গৃহপালিত পশুর ওপর ধার্য হয়।
হার বা শতকরা পরিমাণ ১০% (প্রাকৃতিক সেচে) অথবা ৫% (কৃত্রিম সেচে)। সাধারণত ২.৫% বা এক-চল্লিশাংশ।
এক বছর অতিক্রম (হাওলানুল হাওল) এক বছর অতিবাহিত হওয়ার শর্ত নেই; ফসল তোলার সাথেই ওয়াজিব হয়। সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবছর ব্যক্তির মালিকানায় নিসাব পরিমাণ থাকা আবশ্যক।
ঋণ ও ব্যয় কর্তন ফসল উৎপাদনের সাথে সাথে মোট উৎপাদন থেকে উশর ধার্য হয় (অধিকাংশ ফকিহর মতে)। মৌলিক ঋণ ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নিসাব গণনা করা হয়।

٦- ما هى أنواع الأراضى فى الاسلام؟ وما حكم الارض الموات؟ وكيف يتم إحياءها؟ بين-

[৬. ইসলামে জমির ধরনগুলো কী কী? মৃত জমির বিধান কী? এটি কীভাবে জীবিত করা হয়? বর্ণনা কর।]


উত্তর:

ইসলামি অর্থনীতিতে ভূমি হলো উৎপাদনের অন্যতম প্রধান মৌলিক উপাদান। শরিয়াহর দৃষ্টিতে জমির মালিকানা ও ব্যবহারের ভিত্তিতে ভূমিকে সুনির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে।

১. ইসলামে ভূমির প্রধান প্রকারভেদ (أنواع الأراضي في الإسلام):
ক. উশরি জমি (الأرض العشرية): যেসব জমির মালিক স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে অথবা বিজিত হওয়ার পর মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে কিংবা মুসলিমরা মৃত পতিত জমি আবাদ করেছে। এসব জমির উৎপাদিত ফসলে উশর দিতে হয়।
খ. খারাজি জমি (الأرض الخراجية): যেসব অমুসলিম ভূখণ্ড যুদ্ধের মাধ্যমে বা চুক্তির ভিত্তিতে জয় করা হয়েছে এবং জমিগুলো তাদের দখলে বহাল রেখে নিয়মিত ভূমি কর (খারাজ) ধার্য করা হয়েছে।
গ. ওয়াকফ বা সংরক্ষিত জমি (أراضي الوقف والحمى): মসজিদ, মাদরাসা, সাধারণ মুসলিমদের কল্যাণ অথবা রাষ্ট্রীয় জনস্বার্থে সংরক্ষিত জমি。
ঘ. মৃত জমি (الأرض الموات): অনাবাদী, পতিত ও মালিকানাহীন পরিত্যক্ত জমি。

২. মৃত জমির পরিচয় ও বিধান (حكم الأرض الموات):
‘আরদুল মাওয়াত’ বা মৃত জমি হলো এমন নিষ্ফলা ও পতিত জমি, যার কোনো নির্দিষ্ট মালিক নেই, পানির অভাবে চাষাবাদ হয় না এবং যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
শরিয়াহর বিধান: ইসলাম পতিত জমিকে ফেলে না রেখে আবাদ করার কঠোর তাগিদ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি যুগান্তকারী বিধান জারি করেন:
“مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ” (যে ব্যক্তি কোনো মৃত পতিত জমিকে আবাদ করবে, সে জমি তারই হয়ে যাবে – তিরমিযী, আবু দাউদ)।
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে মৃত জমি আবাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি নেওয়া উত্তম।

৩. মৃত জমি জীবিত বা আবাদ করার পদ্ধতি (كيفية إحياء الموات):
ফকিহগণের মতে, নিম্নের যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে একটি মৃত জমিকে জীবিত হিসেবে গণ্য করা হয়:
– জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা (নহর বা কূপ খনন করে পানি পৌঁছানো)।
– চাষাবাদ করা ও ফসল ফলানো কিংবা ফলবান বৃক্ষ রোপণ করা。
– জমির চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বা বেড়া দেওয়া。
– পাথর, জঙ্গল বা জঞ্জাল পরিষ্কার করে জমিকে চাষোপযোগী বা বাসোপযোগী করা。
যদি কেউ জমি ঘিরে রাখে কিন্তু তিন বছর পর্যন্ত কোনো আবাদ না করে, তবে জমি তার হাত থেকে বাজেয়াপ্ত করে অন্য কাউকে বরাদ্দ দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রপ্রধানের রয়েছে (হযরত উমর রা.-এর ফয়সালা)।

٧- ما هو نظام المصرفية الاسلامية؟ تحدث عن خصائص الخدمات المصرفية الاسلامية-

[৭. ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা কী? ইসলামি ব্যাংকিং সেবাসমূহের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।]


উত্তর:

১. ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সংজ্ঞা (مفهوم المصرفية الإسلامية):
ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা হলো এমন এক শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক মধ্যস্থতাকারী ব্যবস্থা, যা সুদ (রিবা), জুয়া (কিমার), অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা (গারার) এবং অনৈতিক লেনদেন সম্পূর্ণ পরিহার করে অংশীদারি, ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারার ভিত্তিতে আমানত সংগ্রহ ও অর্থায়ন পরিচালনা করে। এটি মানুষের বৈষয়িক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।

২. ইসলামি ব্যাংকিং সেবাসমূহের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص الخدمات المصرفية الإسلامية):
ক. সুদমুক্ত লেনদেন (المعاملات الخالية من الربا): ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূলভিত্তি হলো সুদের সম্পূর্ণ বিলোপ। এখানে জমাকারীকে নির্ধারিত সুদ দেওয়া হয় না এবং ঋণগ্রহীতার ওপর চক্রবৃদ্ধি সুদ চাপানো হয় না。
খ. লাভ-লোকসান বণ্টন নীতি (تقاسم الربح والخسارة – PLS): ইসলামি ব্যাংক মুদারাবা ও মুশারাকা চুক্তির অধীনে আমানতকারী ও উদ্যোক্তার মাঝে প্রকৃত ব্যবসায়িক লাভ বা লোকসান অনুপাতে বণ্টন করে。
গ. বাস্তব সম্পদভিত্তিক অর্থায়ন (Asset-backed Financing): ইসলামি ব্যাংকিংয়ে অর্থকে সরাসরি পণ্য হিসেবে কেনাবেচা করা যায় না। অর্থায়নের পেছনে বাস্তব পণ্য বা সেবা থাকা বাধ্যতামূলক (যেমন মুরাবাহা বা বাকিতে ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা বা ভাড়া, বাই-সালাম ইত্যাদি)।
ঘ. শরিয়াহ বোর্ড ও তদারকি (الرقابة الشرعية): প্রতিটি ইসলামি ব্যাংকে একটি স্বাধীন শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি থাকে, যা ব্যাংকের প্রতিটি লেনদেন, চুক্তি ও নীতিমালা শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত নিরীক্ষা করে。
ঙ. অনৈতিক খাতে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ: অ্যালকোহল, তামাক, জুয়া, সিনেমা, অস্ত্র বা যেকোনো ইসলামবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামি ব্যাংক কোনো অর্থায়ন করে না。
চ. সামাজিক দায়িত্ব ও যাকাত আদায়: ইসলামি ব্যাংক কেবল মুনাফাকেন্দ্রিক নয়; বরং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR), যাকাত তহবিল গঠন ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

٨- تحدث عن دور المصرفية الاسلامية فى الاقتصاد الوطنى لبنغلاديش-

[৮. বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার ভূমিকা আলোচনা কর।]


উত্তর:

১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে ইসলামি ব্যাংকিং জাতীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

নিম্নে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা হলো:

১. বিপুল আমানত সংগ্রহ ও মূলধন গঠন:
দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা সুদের ভয়ে প্রচলিত ব্যাংকে অর্থ রাখতে অনিচ্ছুক ছিলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো তাদের সুপ্ত সঞ্চয় ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ব্যাংকিং আমানতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (২৭%-৩০%) ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধারণ করে।

২. তৈরি পোশাক ও শিল্প খাতে বৃহৎ অর্থায়ন:
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত তৈরি পোশাক (RMG), টেক্সটাইল, স্পিনিং মিল এবং ভারী শিল্প কারখানায় প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ইসলামি ব্যাংকগুলোর ‘মুরাবাহা’ ও ‘মুশারাকা’ অর্থায়ন দেশের শিল্পায়নকে দ্রুততর করেছে।

৩. প্রবাসী আয় (Remittance) আহরণ:
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ ও নিরাপদ চ্যানেলে দেশে আনার ক্ষেত্রে ইসলামি ব্যাংকগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের মোট রেমিট্যান্সের সিংহভাগই ইসলামি ব্যাংকের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

৪. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন:
পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (RDS) এবং ক্ষুদ্রঋণ মডেলের মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংকগুলো প্রান্তিক চাষী, মৎস্যচাষী ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়ন দিয়ে গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

৫. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এসএমই অর্থায়ন:
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (SME) সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করে লাখ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ইসলামি ব্যাংকগুলোতে লক্ষাধিক দক্ষ জনবল সরাসরি কর্মরত রয়েছে।

৬. বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ:
আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালনায় ইসলামি ব্যাংকগুলোর এলসি (Letter of Credit) এবং অফশোর ব্যাংকিং দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

المجموعة (ب) – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান

٩- ما هى مصارف الزكاة المذكورة فى القرآن الكريم؟

[৯. কুরআনে বর্ণিত যাকাত প্রদানের খাতসমূহ কী?]


উত্তর:

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ যাকাতের ৮টি নির্দিষ্ট খাত (مصارف الزكاة) ঘোষণা করেছেন:

﴿إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ﴾

খাতসমূহ নিম্নরূপ:
১. ফকির (الفقراء): যাদের অতি সামান্য সম্পদ আছে কিন্তু তা মৌলিক প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
২. মিসকিন (المساكين): যাদের কোনো সহায়-সম্বল বা সম্পদ নেই, যারা অন্যের কাছে হাত পাততেও পারে না।
৩. যাকাতকর্মী বা প্রশাসক (العاملين عليها): যাকাত সংগ্রহ, হিসাবরক্ষণ ও বিতরণে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
৪. মন জয় করার উদ্দেশ্যে (المؤلفة قلوبهم): নওমুসলিমদের ইসলামে অবিচল রাখা বা ইসলামের শত্রুদের ক্ষতি থেকে বাঁচার প্রয়োজনে।
৫. দাসমুক্তি (في الرقاب): ক্রীতদাসকে মুক্ত করা বা অন্যায়ভাবে বন্দি মুসলমানদের মুক্ত করার জন্য।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (الغارمين): যারা বৈধ প্রয়োজনে ঋণগ্রস্ত হয়ে পরিশোধ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম।
৭. আল্লাহর পথে (في سبيل الله): দ্বীন রক্ষা, ইসলাম প্রচার ও জিহাদের প্রয়োজনে নিয়োজিতদের জন্য।
৮. মুসাফির (ابن السبيل): সফরকালে নিঃস্ব বা বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়া প্রবাসী বা পথিক।

١٠- ما هى المبادئ الاساسية لتوزيع الثروة فى الاسلام؟ بين موجزاً-

[১০. ইসলামে সম্পদ বণ্টনের মৌলিক নীতিমালা কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]


উত্তর:

ইসলামে সম্পদ বণ্টনের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক সাম্য, ইনসাফ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর প্রধান নীতিমালা হলো:
১. সম্পদের পুঞ্জীভবন রোধ (منع احتكار الثروة): সম্পদ যেন কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়, তা নিশ্চিত করা (﴿كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ﴾)।
২. উৎপাদনের উপাদানের ন্যায্য হিস্যা: ভূমির জন্য ন্যায্য ভাড়া, শ্রমিকের জন্য দ্রুত ও উপযুক্ত মজুরি এবং পুঁজি ও উদ্যোক্তার জন্য লাভ-লোকসান বণ্টনের ইনসাফভিত্তিক নীতি।
৩. বাধ্যতামূলক পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা (إعادة التوزيع الإجباري): যাকাত, উশর, খুমুস ও ফিতরার মাধ্যমে ধনীদের সম্পদ থেকে নির্ধারিত অংশ দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে বণ্টন করা।
৪. ইসলামি উত্তরাধিকার আইন (نظام الميراث): মৃত ব্যক্তির সম্পদ কোনো একজন ব্যক্তির হাতে না রেখে ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী, পিতা-মাতাসহ সকল নিকটাত্মীয়ের মধ্যে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেওয়া।
৫. ঐচ্ছিক দান ও পরোপকার (الإنفاق التطوعي): নফল সদকা, ওয়াকফ ও অসিয়তের মাধ্যমে সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সম্পদ ব্যয় করা।

١١- بين حقوق المزارعين فى نظام الارض الاسلام باختصار-

[১১. ইসলামি ভূমি ব্যবস্থায় কৃষকদের অধিকারসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]


উত্তর:

ইসলামি শরিয়াহ মেহনতি কৃষক সমাজের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে:
১. মালিকানার নিরাপত্তা: কৃষকের আবাদি জমির মালিকানা পূর্ণ সুরক্ষিত; বিনা ক্ষতিপূরণে বা জোরপূর্বক রাষ্ট্র বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি কৃষকের জমি দখল করতে পারে না。
২. মৃত জমি আবাদের মাধ্যমে মালিকানা লাভ: কোনো কৃষক পতিত জমি আবাদ করলে সেই জমির মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অধিকারে আসে。
৩. বর্গা চাষে (মুযারাআ) ইনসাফ: ফসলের নির্দিষ্ট অংশ (যেমন অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ) অনুপাতে চুক্তি করতে হবে; কোনো সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা খরা-বন্যার ঝুঁকিমুক্ত একতরফা চুক্তি নিষিদ্ধ。
৪. ন্যায্য কর নির্ধারণ: কৃষকের ফসলের ওপর কেবল বাস্তব উৎপাদনের ভিত্তিতে উশর (১০% বা ৫%) প্রযোজ্য; ফসল না হলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হলে কোনো কর বা উশর দিতে হয় না。
৫. রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও সেচ সুবিধা: কৃষকদের জন্য বাঁধ নির্মাণ, খাল খনন ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা ইসলামি রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।

١٢- ما معنى الصدقات؟ وكم قسماً لها؟ بين-

[১২. সাদকা অর্থ কী? এটি কত প্রকার? আলোচনা কর।]


উত্তর:

১. সাদকার আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ (معنى الصدقات):
‘সাদকা’ (الصدقة) শব্দটি আরবি ‘সিদক’ (الصدق) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সত্যবাদিতা বা সততা। পারিভাষিক অর্থে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং ঈমানের সত্যতার প্রমাণস্বরূপ নিজের সম্পদ থেকে কোনো প্রতিদান ছাড়া নিঃস্বার্থভাবে দান করাকে সাদকা বলে।

২. সাদকার প্রকারভেদ (أقسام الصدقات):
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী সাদকা প্রধানত দুই প্রকার:
ক. বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব সাদকা (الصدقة الواجبة):
যা আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবানের ওপর শরিয়ত কর্তৃক ফরজ বা ওয়াজিব। যেমন: ফরজ যাকাত, সদকাতুল ফিতর, মান্নতের কাফফারা, কসমের কাফফারা এবং ফিদয়া। এগুলো আদায় না করলে মানুষ গুনাহগার হবে।
খ. ঐচ্ছিক বা নফল সাদকা (الصدقة التطوعية):
যা মানুষের দয়া, পরোপকার ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য স্বেচ্ছায় প্রদান করা হয়। যেমন: গরিবকে খাবার খাওয়ানো, বস্ত্রদান, চিকিৎসায় সহায়তা করা কিংবা ওয়াকফ করা। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণকর দানকে ‘সাদকায়ে জারিয়া’ (الصدقة الجارية) বলা হয়, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কারো সাথে হাসিমুখে কথা বলা বা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াও সাদকার অন্তর্ভুক্ত।

١٣- كيف يوجه الاسلام المسلم لكسب الدخل بطريقة حلال؟

[১৩. ইসলাম কীভাবে একজন মুসলিমকে হালাল উপায়ে আয় করতে নির্দেশ দেয়?]


উত্তর:

ইসলামে হালাল রিজিক অন্বেষণ করাকে অন্যতম প্রধান ফরজ ইবাদত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ” (ফরজ ইবাদতের পর হালাল জীবিকা সন্ধান করা একটি ফরজ দায়িত্ব – শুআবুল ঈমান)।

হালাল উপায়ে আয়ের জন্য ইসলামের মূল দিকনির্দেশনাসমূহ হলো:
১. শ্রমের মর্যাদা ও স্বাবলম্বিতা: নিজ হাতে উপার্জন করাকে সর্বোত্তম উপার্জন ঘোষণা করা হয়েছে। নবীগণ কাঠমিস্ত্রি, পশুপালন বা ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন।
২. প্রতারণা ও ওজনে কম দেওয়া বর্জন: ব্যবসায় মিথ্যা শপথ, পণ্যের দোষ গোপন করা এবং মাপে কম দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. হারাম পেশা বর্জন: সুদ, ঘুষ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি, মাদক ব্যবসা, ভাগ্যগণনা ও কালোবাজারি থেকে উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ হারাম ও জাহান্নামের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৪. চুক্তি ও আমানতদারিতা রক্ষা: চাকুরি বা পেশাগত দায়িত্ব বিশ্বস্ততার সাথে পালন করা এবং কর্মঘণ্টা ও অর্পিত দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করা আবশ্যক।

١٤- ما هى النفقات الواجبة على المسلم الالتزام بها؟

[১৪. একজন মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যয়গুলো কী?]


উত্তর:

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী একজন সচ্ছল মুসলমানের উপার্জিত অর্থ থেকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যয় বা খোরপোশ বহন করা আইনত ও ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক (النفقات الواجبة)। এগুলো হলো:
১. নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ (نفقة النفس والزوجة والأولاد): নিজের স্বাভাবিক জীবনধারণ, স্ত্রীর মোহরানা ও খোরপোশ (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের লালন-পালনের ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর ওপর সর্বাগ্রে ফরজ।
২. অসহায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ (نفقة الوالدين): পিতা-মাতা যদি উপার্জনক্ষম না হন বা দরিদ্র হন, তবে সামর্থ্যবান সন্তানের ওপর তাদের ভরণপোষণের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করা ওয়াজিব।
৩. ফরজ আর্থিক দায়িত্ব (الفرائض المالية): নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বার্ষিক যাকাত আদায় করা, ফসলের উশর দেওয়া এবং ঈদুল ফিতরে পরিবারের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর প্রদান করা।
৪. ঋণ পরিশোধ (قضاء الديون): কারো কাছ থেকে বৈধ ঋণ নিয়ে থাকলে তা নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে দেওয়া অপরিহার্য ওয়াজিব।
৫. কাফফারা ও মান্নত (الكفارات والنذور): কসম ভঙ্গ, রোজা ভঙ্গের ফিদয়া বা শরিয়তসম্মত মান্নত পূরণ করা।

١٥- أوضح الفرق بين التكافل الاسلامى والتকافل التقليدى-

[১৫. ইসলামি বিমা ও প্রচলিত বিমার মধ্যে পার্থক্য বিশদভাবে বর্ণনা কর।]


উত্তর:

ইসলামি বিমা বা ‘তাকাফুল’ (التكافل الإسلامي) হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সুদমুক্ত বিমা ব্যবস্থা। অপরদিকে প্রচলিত বাণিজ্যিক বিমা (التأمين التقليدي) মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

এদের মূল পার্থক্যসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো:

তুলনার ক্ষেত্র ইসলামি বিমা (তাকাফুল – Takaful) প্রচলিত বিমা (Conventional Insurance)
চুক্তির ধরন দান ও সহযোগিতার চুক্তি (عقد التبرع والتعاون)। গ্রাহকরা একটি অভিন্ন তহবিলে তাবাররু হিসেবে প্রিমিয়াম জমা রাখেন। ক্রয়-বিক্রয়ের বাণিজ্যিক চুক্তি (عقد المعاوضة المالية)। বিমা কোম্পানি ঝুঁকির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বিক্রয় করে।
রিবা, গারার ও কিমার সুদ (রিবা), অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা (গারার) এবং জুয়া বা লটারি (কিমার) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এতে সুদ, অনিশ্চিত লাভ-ক্ষতি এবং জুয়াসুলভ উপাদান বিদ্যমান থাকায় ইসলামি শরিয়াহতে এটি নাজায়েজ।
তহবিলের মালিকানা তাকাফুল তহবিলের প্রকৃত মালিক পলিসি গ্রাহকগণ যৌথভাবে; কোম্পানি কেবল নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকে এর মুদারিব বা ওয়াকিল। প্রিমিয়ামের সমস্ত অর্থ বিমা কোম্পানির নিজস্ব মালিকানায় চলে যায়।
উদ্বৃত্ত বণ্টন (Surplus Sharing) দাবি পরিশোধ ও যাবতীয় খরচ বাদে তহবিলে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকলে তা গ্রাহকদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যাবতীয় উদ্বৃত্ত বা লাভ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের পকেটে যায়; গ্রাহক কোনো অংশ পায় না।
বিনিয়োগ খাত তহবিলের অর্থ কেবল শরিয়াহ অনুমোদিত হালাল ব্যবসায় বা সুদমুক্ত সুকুক ও ইসলামি ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়। বিনিয়োগ সরকারি সুদী বন্ড বা প্রচলিত ব্যাংক ও সুদী খাতে করা হয়।

١٦- علق على واحد مما يلى:

[১৬. নিচের যে কোনো একটি বিষয়ে টীকা লেখ:]


(أ) المضاربة (মুদারাবা):
পরিচয়: মুদারাবা হলো ইসলামি অর্থায়ন ব্যবস্থার একটি বিশেষ চুক্তি, যেখানে একপক্ষ মূলধন বা পুঁজি সরবরাহ করে (যাকে ‘রব্বুল মাল’ বা صاحب المال বলা হয়) এবং অপরপক্ষ তার মেধা, শ্রম ও ব্যবসায়িক দক্ষতা দিয়ে কারবার পরিচালনা করে (যাকে ‘মুদারিব’ বা المضارب বলা হয়)।
লাভ-লোকসানের বিধান: অর্জিত মুনাফা উভয়পক্ষের মধ্যে পূর্বচুক্তির শতকরা অনুপাতে (যেমন: ৬০:৪০ বা ৫০:৫০) বণ্টিত হয়। তবে ব্যবসায় স্বাভাবিক কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে তা সম্পূর্ণ পুঁজিদাতার ওপর বর্তাবে; মুদারিব কেবল তার দেওয়া শ্রমের কোনো পারিশ্রমিক পাবে না (যদি না ক্ষতিটি মুদারিবের অবহেলা বা বিশ্বাসভঙ্গের কারণে ঘটে)। ইসলামি ব্যাংকিংয়ের আমানত সংগ্রহ ও অর্থায়নে মুদারাবা বহুল ব্যবহৃত একটি মূলনীতি।

(ب) الاحتكار (মজুতদারি):
পরিচয়: অধিক মুনাফা লাভের হীন উদ্দেশ্যে মানুষের প্রয়োজনীয় নিত্যব্যবহার্য পণ্য ও খাদ্যদ্রব্য বাজার থেকে কিনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে গুদামজাত করে রাখাকে শরিয়াহর পরিভাষায় ‘ইহতিকার’ বা মজুতদারি বলা হয়।
শরিয়াহর বিধান: ইসলামে মজুতদারি কঠোরভাবে হারাম ও সামাজিক অভিশাপ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
“لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ” (পাপী ছাড়া অন্য কেউ মজুতদারি করে না – সহীহ মুসলিম)।
অন্য হাদিসে মজুতদারকে অভিশপ্ত ও কুষ্ঠরোগ এবং দারিদ্র্যে আক্রান্ত হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মজুতদারের গুদাম থেকে পণ্য বের করে বাজারে ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় নিশ্চিত করা।

(ج) الإنتاج الإسلامي (ইসলামি উৎপাদন):
পরিচয়: ইসলামি অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে কেবল বস্তুগত রূপান্তর নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে মানুষের মেধা ও হালাল শ্রমের সমন্বয়ে মানুষের বৈধ প্রয়োজন পূরণের উপযোগী হালাল দ্রব্য ও সেবা সৃষ্টি করাকে বোঝায়।
মূল বৈশিষ্ট্য:
১. উৎপাদিত সামগ্রী অবশ্যই পবিত্র ও কল্যাণকর (তৈয়্যিবাত) হতে হবে; মদ, শূকর, বা ক্ষতিকর সামগ্রীর উৎপাদন ইসলামে বৈধ নয়。
২. উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং অপচয় ও অতিব্যবহার পরিহার করতে হবে。
৩. উৎপাদনের পেছনে নিছক ব্যক্তিস্বার্থ বা চরম মুনাফাবাজির বদলে সামাজিক মানবকল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্য থাকতে হবে。

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. প্রচলিত অর্থনীতির সাথে ইসলামি অর্থনীতির সম্পদের সংজ্ঞায় মৌলিক পার্থক্য কী?

প্রচলিত অর্থনীতিতে কেবল উপযোগিতা ও বিনিময় মূল্য থাকলেই সম্পদ হিসেবে গণ্য হয় (তা মদ বা ক্ষতিকর বস্তু হলেও), কিন্তু ইসলামে কেবল হালাল ও পবিত্র বস্তুকেই ‘মাল’ বা সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

২. সুদের বিপরীতে ব্যবসায়ের মুনাফা কেন ইসলামে হালাল করা হয়েছে?

ব্যবসায়ের মুনাফা শ্রম, মেধা ও ব্যবসায়িক ঝুঁকির (Risk sharing) বিনিময়ে অর্জিত হয়, যা অর্থনীতিকে গতিশীল করে; কিন্তু সুদ কোনো ঝুঁকি বা বাস্তব উৎপাদনশীলতা ছাড়াই অলস অর্থের ওপর জোরপূর্বক আদায় করা শোষণমূলক অতিরিক্ত অর্থ।

৩. উশর ও সাধারণ যাকাতের মধ্যে মূল ব্যবধান কী?

উশর কেবল কৃষিজ ফসলের ওপর ফসল তোলার সাথে সাথে প্রযোজ্য (১০% বা ৫%), এতে বছর অতিক্রান্তের শর্ত নেই; আর সাধারণ যাকাত নগদ অর্থ ও বাণিজ্যিক পণ্যে পূর্ণ এক বছর নিসাব থাকার পর ২.৫% হারে ধার্য হয়।

৪. আরদুল মাওয়াত বা মৃত জমি আবাদের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাধারণ বিধান কী?

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মালিকানাহীন মৃত বা পতিত জমি শ্রম ও সেচের মাধ্যমে আবাদ করবে, সেই জমির মালিকানা তারই হয়ে যাবে।

৫. ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মুদারাবা চুক্তিতে লোকসান হলে কে বহন করে?

মুদারাবা চুক্তিতে বাস্তব ব্যবসায়িক আর্থিক লোকসান হলে তা এককভাবে পুঁজিদাতা (রব্বুল মাল) বহন করেন, আর পরিচালক (মুদারিব) তার শ্রমের পারিশ্রমিক হারান।

৬. ইসলামি বিমা বা তাকাফুলের মূলভিত্তি কী?

তাকাফুলের মূলভিত্তি হলো ‘তাবাররু’ বা পারস্পরিক নিঃস্বার্থ সহযোগিতা ও দান, যেখানে গ্রাহকরা যৌথ তহবিল গঠন করে বিপদগ্রস্ত সদস্যকে সাহায্য করে এবং এটি সুদ ও জুয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *