জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আন-নাসরুল কাদিম-২ (An-Nasrul-Qadim-2) – 204304, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫১ মিনিট পড়ার সময়
৭ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: প্রাচীন গদ্য-২ (النثر القديم-٢)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৪ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

١- ترجم ثلاث قطعات من التالية:

[১. নিচের অনুচ্ছেদগুলোর প্রাঞ্জল অর্থ ও বিশদ ব্যাখ্যা উপস্থাপন কর:]


الجواب:

(ألف) النص:
«قال الفيلسوف: إنه من لم يكن فى أمره متثبتا لم يزل نادما، ويصير أمره إلى ما صار إليه الناسك من قتل ابن عرس، وقد كان له ودودًا- قال الملك: وكيف كان ذلك؟ قال الفيلسوف: زعموا أن ناسكا من النساك بأرض جرجان، وكانت له امرأة جميلة، فمكثا زمنا لم يرزقا ولدا، ثم حملت منه بعد الإياس، فسرت المرأة وسرّ الناسك بذلك، فحمد الله تعالى وسأله أن يكون الحمل ذكرًا، وقال لزوجته: أبشرى، فإنى أرجو أن يكون غلامًا لنا فيه منافع، وقرة عين، أختار له أحسن الأسماء وأحضر له سائر الأدباء-»

[১ (ক).
দার্শনিক (বায়দাবা) বললেন: যে ব্যক্তি কোনো কাজে অবিচল ও দূরদর্শী হয়ে অনুসন্ধান করে না, সে চিরকাল অনুতপ্ত হয়। আর তার পরিণতি ঠিক সেই আবেদের মতো হয়, যে তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও স্নেহভাজন বেজিকে (নেউল) হত্যা করেছিল। বাদশাহ বললেন: সেই ঘটনাটি কেমন ছিল? দার্শনিক বললেন: বর্ণিত আছে যে, জুরজান দেশের এক আবেদ ছিলেন, তাঁর এক সুন্দরী স্ত্রী ছিল। দীর্ঘদিন তাদের কোনো সন্তানাদি হচ্ছিল না। অতঃপর বার্ধক্যে নিরাশ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী গর্ভধারণ করল। এতে স্ত্রী ও আবেদ উভয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। আবেদ মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং প্রার্থনা করলেন যেন সন্তানটি পুত্রসন্তান হয়। তিনি স্ত্রীকে বললেন: তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর! আমি আশা করছি এটি এমন এক পুত্রসন্তান হবে যাতে আমাদের বহু কল্যাণ ও চোখের প্রশান্তি নিহিত থাকবে। আমি তার জন্য শ্রেষ্ঠ সুন্দর নাম রাখব এবং তাকে শিক্ষিত করার জন্য সকল বিদগ্ধ পণ্ডিতকে সমবেত করব।

(ب) النص:
«أما الحمام ميعادك، فما إعدادك؟ وبالمشيب إنذارك، فما أعذارك؟ وفي اللحد مقيلك، فما قيلك؟ وإلى الله مصيرك، فمن نصيرك؟ طالما أيقظك الدهر فتناعست، وجذبك الوعظ فتقاعست، وتجلت لك العبر فتعاميت، وحصحص لك الحق فتماريت، وأذكرك الموت فتناسيت، وأمكنك أن تواسى، فما أسيت، تؤثر فلسا توعيه، على ذكر تعيه، وتختار قصرًا تعليه، على برّ توليه-»

[১ (খ).
মৃত্যুই কি তোমার অন্তিম সাক্ষাতের দিন নয়? তবে তোমার প্রস্তুতি কোথায়? বার্ধক্যের শুভ্র কেশই কি তোমার সতর্কবার্তা নয়? তবে তোমার অজুহাত কী? অন্ধকার কবরেই কি তোমার চিরবিশ্রাম নয়? তবে তোমার উত্তর কী? আর আল্লাহর দিকেই তোমার প্রত্যাবর্তন, তখন তোমার সাহায্যকারী কে হবে? কতবার কাল তোমাকে জাগ্রত করেছে, অথচ তুমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে রইলে! উপদেশ তোমাকে আকর্ষণ করেছে, কিন্তু তুমি গাফলতিতে পিছিয়ে গেলে! শিক্ষণীয় নিদর্শনাবলি স্পষ্ট হলো, তবুও তুমি অন্ধ সাজলে! সত্য দিবালোকের মতো প্রতিভাত হলো, অথচ তুমি সংশয় ও বিতর্কে লিপ্ত রইলে! মৃত্যু তোমাকে স্মরণ করিয়ে দিল, কিন্তু তুমি ভুলে গেলে! তোমাকে সমবেদনা ও পরোপকারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, অথচ তুমি সান্ত্বনা দাওনি! তুমি একটি সংরক্ষিত পয়সাকে অন্তরে ধারণ করা উপদেশমালার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দাও, আর একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণকে যে কোনো সৎকাজ সম্পাদনের ওপর প্রাধান্য দাও!

(ج) النص:
«روى الحارث بن همام قال: نظمنى وأخدانا لى نادٍ- لم يخب فيه مُنادٍ، ولا كبا قدح زنادٍ، ولا ذكت نار عنادٍ، فبينما نحن نتجاذب أطراف الأناشيد ، ونتوارد طرف الأسانيد، إذ وقف بنا شخص عليه سمل، وفى مشيته قَزَلْ، فقال: يا أخائر الذخائر، وبشائر العشائر، عموا صباحًا، وأنعموا إصطباحًا، وانظروا إلى من كان ذا ندى وندى ووجدا وجدًا وعقار وقرى، ومقار وقرى-»

[১ (গ).
হারিস বিন হাম্মাম বর্ণনা করে বলেন: আমি এবং আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এক মজলিসে সমবেত হয়েছিলাম, যেখানে কোনো আহ্বানকারী নিরাশ হতো না, কোনো চকমকি পাথর স্ফুলিঙ্গহীন হতো না, এবং কোনো একগুঁয়েমির আগুন প্রজ্বলিত হতো না। এমতাবস্থায় আমরা যখন সুরের ছন্দ ও কবিতা আবৃত্তি এবং ঐতিহাসিক চটকদার হাদিস ও কাহিনীর সূত্রে মশগুল ছিলাম, তখন সহসা জীর্ণশীর্ণ বস্ত্র পরিহিত এবং কিছুটা খুঁড়িয়ে হাঁটা এক ব্যক্তি এসে আমাদের সামনে দাঁড়াল। সে বলল: হে শ্রেষ্ঠ মূল্যবান রত্নভাণ্ডার এবং সম্মানিত গোত্রসমূহের আনন্দবার্তা! তোমাদের সকাল কল্যাণময় হোক এবং প্রভাতকাল আনন্দঘন হোক! তোমরা এমন এক ব্যক্তির দিকে তাকাও যে একসময় বিপুল বদান্যতা ও সুগন্ধির অধিকারী ছিল, ধন-সম্পদ ও গভীর প্রেমের অধিকারী ছিল, যার ছিল ভূসম্পত্তি ও নগরী, এবং মেহমানখানা ও আতিথেয়তার বিপুল আয়োজন!

(د) النص:
«عن وهب بن منبّه قال: وجدت في حكمة داؤد: ينبغى للعاقل أن لا يشغل نفسه عن أربع ساعات، ساعة يناجى فيها ربه، وساعة يحاسب فيها نفسه، وساعة يخلو فيها هو وإخوانه والذين ينصحون له فى دينه، ويصدقون عن عيوبه، وساعة يُخلّى بين نفسه وبين لذاتها فيما يحل ويحمد، فإن هذه الساعة عون لهذه الساعات، وفضل بلغة واستجمام للقلوب-»

[১ (ঘ).
ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি দাউদ (আ.)-এর হিকমত গ্রন্থে পেয়েছি—বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য হলো সে যেন নিজেকে চারটি মুহূর্ত বা সময় বণ্টন থেকে বিরত না রাখে: (১) এমন এক মুহূর্ত যাতে সে একান্তে তার প্রভুর সাথে মুনাজাতে রত থাকবে, (২) এমন এক মুহূর্ত যাতে সে নিজের কৃতকর্মের আত্মজিজ্ঞাসা ও হিসাব নেবে, (৩) এমন এক মুহূর্ত যাতে সে তার দ্বীনী ভাই ও বন্ধুদের সাথে নির্জনে বসবে যারা তাকে দ্বীনের ব্যাপারে সৎ উপদেশ দেয় এবং তার ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে সত্য কথা প্রকাশ করে, এবং (৪) এমন এক মুহূর্ত যাতে সে তার আত্মাকে হালাল ও প্রশংসনীয় ভোগ-উপভোগের সুযোগ দেবে। কেননা এই অবসরটুকু অন্য তিন মুহূর্তের দায়িত্ব পালনে প্রভূত সহায়ক হয় এবং তা হৃদয়ের জন্য নব উদ্যম ও বিশ্রামের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

(هـ) النص:
«قال عمر بن الخطاب: تعلموا العربية فإنها تزيد فى المروءة- وتعلموا النسب، فرُبّ رحم مجهولة قد وصلت بنسبها- قال الأصمعى: ثلاثة تحكم لهم بالمروءة حتى يعرفوا: رجل رأيته راكبا، أو سمعته يعرب، أو شممت منه رائحة طيبة- وثلاثة تحكم عليهم بالدناءة حتى يعرفوا: رجل شممت منه رائحة نبيذ فى محفل، أو سمعته يتكلم فى مصر عربى بالفارسية، أو رأيته على الظهر الطريق ينازع فى القدر-»

[১ (ঙ).
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: তোমরা বিশুদ্ধ আরবি ভাষা শেখো, কেননা তা মনুষ্যত্ব ও পৌরুষত্ব (মুরুওয়াত) বৃদ্ধি করে। আর তোমরা বংশমর্যাদা ও বংশতালিকা শেখো, কেননা বহু অপরিচিত আত্মীয়তার বন্ধন এই বংশজ্ঞানের মাধ্যমেই পুনরায় জোড়া লাগানো সম্ভব হয়। আসমাঈ (র.) বলেন: তিন ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পূর্বেই তাদের বাহ্যিক অবস্থায় পৌরুষ ও ভদ্রতার ফয়সালা দেওয়া যায়—(১) যে ব্যক্তিকে তুমি অশ্বারোহী দেখতে পাও, (২) অথবা যাকে বিশুদ্ধ ব্যাকরণসম্মত প্রাঞ্জল আরবি বলতে শোনো, (৩) অথবা যার নিকট থেকে তুমি সুগন্ধি অনুভব করো। পক্ষান্তরে তিন ব্যক্তির পরিচয় পাওয়ার আগেই তাদের নীচতার ফয়সালা দেওয়া যায়—(১) যার নিকট থেকে কোনো সামাজিক সমাবেশে মদের গন্ধ পাওয়া যায়, (২) অথবা যাকে কোনো আরব শহরে বিনা প্রয়োজনে ফারসি ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়, (৩) অথবা যাকে প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়িয়ে ভাগ্যের ফয়সালা (তকদীর) নিয়ে অনর্থক ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতে দেখা যায়।

(و) النص:
«يا أهل العراق! أهل الكفرات والغدرات والتورة بعد والتورات، إن أبعثكم إلى ثغوركم غممتم وخنتم، وإن أمنتم أرجفتم، وإن خفتم نافقتم، لا تذكرون حسنة، ولا تشكرون نعمة، هل استخفكم ناكث، واستغواكم غاوٍ أو استنصركم ظالم أو استعضدكم خالع إلا وثقتموه و آويتموه ونصرتموه ورضيتموه:-»

[১ (চ).
হে ইরাকবাসী! তোমরা তো অকৃতজ্ঞতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং একের পর এক বিদ্রোহের দল! যখনই তোমাদেরকে দেশের সীমান্ত পাহারায় পাঠানো হয়, তোমরা বিষাদগ্রস্ত হয়ে পলায়ন করো ও বিশ্বাসঘাতকতা করো; আর যখন তোমরা নিরাপদে থাকো তখন রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা গুজব ছড়াও; আর যখন ভীতিগ্রস্ত হও তখন মুনাফিকি ও তোষামোদি করো! তোমরা কোনো অনুগ্রহ স্মরণ রাখো না এবং কোনো নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো না! এমন কোনো অঙ্গীকার ভঙ্গকারী কি তোমাদের তুচ্ছজ্ঞান করেছে, কোনো পথভ্রষ্ট কি তোমাদের প্ররোচিত করেছে, কোনো জালেম কি তোমাদের সাহায্য চেয়েছে, অথবা কোনো রাষ্ট্রদ্রোহী কি তোমাদের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে—যার ওপর তোমরা আস্থা রাখোনি, যাকে আশ্রয় দাওনি, যার পক্ষে লড়াই করোনি এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট হওনি?!

٢- اشرح اثنين مما يلى:

[২. নিম্নোক্ত উক্তিগুলোর প্রেক্ষাপট ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর:]


الجواب:

(الف) «عتب الناس على قدر زمانهم»:

[২ (ক). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও প্রেক্ষাপট: এই গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ উক্তিটি বিখ্যাত আরবি সাহিত্যিক ইবনে কুতায়বার ‘উয়ুনুল আখবার’ গ্রন্থের নীতিবাক্য অধ্যায় থেকে গৃহীত।
তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা: উক্তিটির মূল কথা হলো—মানুষ যুগের স্বভাব ও পারিপার্শ্বিক মানসিকতার আলোকেই অভিযোগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে থাকে। প্রতিটি যুগের মানুষের নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধ এবং চাহিদা আলাদা হয়। অতীতের স্বর্ণযুগে মানুষ সামান্য ত্রুটি দেখলেই ব্যথিত হতো, কারণ তখন সমাজে তাকওয়া ও আমানতদারী ছিল প্রবল। কিন্তু পরবর্তী যুগের মানুষ কেবল বৈষয়িক ক্ষতি বা স্বার্থহানি ঘটলেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, সমাজের মানুষের সমালোচনা ও অসন্তুষ্টি তাদের যুগের রুচিবোধ ও নৈতিক মানেরই বহিঃপ্রকাশ।

(ب) «أكره أن أمنّ على الله بما لم أفعل»:

[২ (খ). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও প্রেক্ষাপট: এটি প্রখ্যাত তাবেয়ী ও ন্যায়পরায়ণ খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (র.)-এর মুখনিঃসৃত একটি অনন্য আত্মশুদ্ধিমূলক উক্তি, যা ‘উয়ুনুল আখবার’-এ সংকলিত হয়েছে।
তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা: এই বাণীর মর্মার্থ হলো—মহান আল্লাহর দরবারে এমন কোনো আমল বা অবদানের দাবি করা আমি ঘৃণা করি যা আমি বাস্তবে সম্পাদন করিনি। খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ ছিলেন তাকওয়ার মূর্ত প্রতীক। তিনি মানুষকে দেখানোর জন্য বা প্রশংসার আশায় কোনো কাজ করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ অনেক সময় মুখে দ্বীনের বড় বড় দাবি করে কিন্তু বাস্তবে তা পালন করে না; এটা এক ধরনের রিয়া এবং আল্লাহর প্রতি আত্মপ্রবঞ্চনা। বান্দার উচিত সর্বদা নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে বিনম্র থাকা এবং এমন কোনো কাজ নিজের বলে দাবি না করা যা আল্লাহ তাকে দিয়ে করাননি।

(ج) «من لم يكن فى أمره متثبتا لم يزل نادمًا»:

[২ (গ). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও প্রেক্ষাপট: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা রচিত বিখ্যাত উপদেশমূলক গল্পগ্রন্থ ‘কালিলা ওয়া দিমনা’-এর ‘বাবুন নাসিক ওয়াল ইবনু ইর্স’ (আবেদ ও বেজির কাহিনী) অধ্যায়ে দার্শনিক বায়দাবা রাজা দাবশালীমকে এ উপদেশ প্রদান করেন।
তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি কোনো কাজে পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে ধৈর্য, সত্যানুসন্ধান এবং গভীর দূরদর্শিতা অবলম্বন করে না, তাকে আজীবন অনুশোচনা ও অনুতাপে দগ্ধ হতে হয়। আবেদের রক্তমাখা মুখ দেখে না বুঝে বিশ্বস্ত গৃহপালিত বেজিকে লাঠি দিয়ে হত্যা করার পর যখন সে দেখল যে বেজিটি আসলে তার শিশুকে বিষাক্ত সাপের হাত থেকে রক্ষা করেছে, তখন তার অনুশোচনার শেষ ছিল না। তাড়াহুড়ো শয়তানের স্বভাব এবং যাচাই-বাছাই ও দূরদর্শিতা মুমিনের ভূষণ—উক্তিটিতে এই চিরন্তন সত্য ফুটে উঠেছে।

(د) «كأنما تبسم عن لؤلؤ منضد أو برد أو أقاح»:

[২ (ঘ). ব্যাখ্যা:]

উৎস ও প্রেক্ষাপট: আরবি অলংকারশাস্ত্র ও প্রাচীন গদ্য সাহিত্যের রূপক বর্ণনার অংশ হিসেবে এটি মানুষের শুভ্র, সুন্দর ও উজ্জ্বল দন্তপঙক্তির চমৎকার উপমা।
তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা: বক্তব্যটির অর্থ হলো—তিনি যখন মৃদু হাস্য করেন, তখন তাঁর পবিত্র শুভ্র দন্তরাশি যেন সুবিন্যস্ত মুক্তার মালা, শুভ্র বরফখণ্ড অথবা শুভ্র পাপড়িযুক্ত গুলবাহার ফুলের ন্যায় দ্যুতি ছড়ায়। আরবি আল-বাদি ও বায়ান শাস্ত্রে উপমিতির (তাশবীহ) ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য নিদর্শন। দাঁতের নিখুঁত বিন্যাসকে মুক্তার সাথে, তার উজ্জ্বল শুভ্রতাকে বরফের সাথে এবং হাসির মৃদু স্নিগ্ধতাকে বাগানের সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের সাথে তুলনা করে সাহিত্যের নান্দনিক চরম উৎকর্ষ প্রদর্শন করা হয়েছে।

٣- اشرح اثنين مما يلى بالعربية:

[৩. নিম্নোক্ত বাক্যগুলোর আরবিতে সারগর্ভ সাহিত্যিক ব্যাখ্যা দাও:]


الجواب:

(الف) «إذا اتخذكم الناس رؤوسًا فكونوا أذنابا»:
الشرح والتحليل:
هذه حكمة بليغة وأدب رفيع يربي النفوس على التواضع والهرب من حب الزعامة والرياسة. والمعنى: إذا رفعكم الناس في مجالسهم وجعلوكم قادة ورؤساء وأكابر، فلا تتكبروا عليهم ولا تستطيلوا بجاهكم، بل كونوا في غاية التواضع والخدمة كأنكم أتباع وأذناب لا رؤوس متسلطون. فالرئيس الحقيقي في منطق الشريعة هو خادم القوم، ومصداق ذلك قول النبي ﷺ: «سيد القوم خادمهم». والرياسة أمانة ثقيلة ومسؤولية عظيمة وخزي وندامة يوم القيامة إلا من أخذها بحقها وأدى الذي عليه فيها، فالعاقل من يقدم النفع وينكر ذاته.

(ب) «لا تعمل شيئًا في السيرّ تستحى منه فى العلانية»:
الشرح والتحليل:
هذه الكلمة ميزان دقيق للاستقامة والورع ومراقبة الله تعالى في السر والعلن. ومفادها: أن المسلم الصادق يجب أن تتطابق سريرته مع علانيته، فكل عمل أو معصية يستحي الإنسان أن يراها الناس منه في وضح النهار وأمام أعين الخلق، لا يجوز له بحال أن يرتكبها إذا خلا بنفسه واستتر عن أعين الناس، لأن الله تعالى أحق أن يُستحيا منه، وهو الرقيب الذي يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور. وهذا هو جوهر الإحسان الذي عرفه النبي ﷺ بقوله: «أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك».

(ج) «الحياء والإيمان مقرونان جميع، فإذا رفع احدهما ارتفع الآخر»:
الشرح والتحليل:
هذا المعنى مأخوذ من مشكاة النبوة الشريفة؛ فقد ربط الإسلام بين الحياء والإيمان برباط وثيق لا ينفصم. فالحياء خلق شريف يبعث على فعل كل جميل واجتناب كل قبيح، والإيمان تصديق قلبي وعمل ينهى عن الفحشاء والمنكر. فإذا فقد العبد الحياء تجرأ على المعاصي وظلم العباد ولم يبال بما يفعل، وحينئذ ينثلم إيمانه تدريجياً حتى يتلاشى، لقوله ﷺ: «إذا لم تستح فاصنع ما شئت». لذا فإن بقاء أحدهما ضمان لبقاء الآخر، وزوال أحدهما مؤذن بزوال الثاني.

(د) «إن الله يحب معالى الأمور ويكره سفسافها»:
الشرح والتحليل:
حديث نبوي شريف يضع دستوراً للهمة العالية والسمو الروحي والفكري. ومعالي الأمور هي جلائل الأعمال وفضائل الأخلاق، كطلب العلم، ونصرة الحق، والكرم، والإخلاص، والعبادة الخالصة، وعمارة الأرض بالعدل. أما سفسافها فهو رديء الأعمال وحقيرها وساقطها، كالثرثرة، والتفاهة، والخصومات التافهة، والدناءة، وتضييع الأوقات فيما لا ينفع. فالإسلام يريد من أبنائه أن يكونوا أصحاب همم تناطح السحاب، يترفعون عن الدنايا، ويبنون مجد أمتهم بحسن الخلق والعمل الصالح.

٤- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالعربية:

[৪. নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর আরবিতে পূর্ণাঙ্গ উত্তর দাও:]


الجواب:

(ألف) من هو الحارث بن همام؟ وما دوره فى إعداد المقامات؟
١- التعريف بالحارث بن همام:
الحارث بن همام هو الراوي الخيالي والشخصية الأدبية المبتكرة التي اتخذها الإمام أبو محمد القاسم بن علي الحريري راوياً لجميع مقاماته الخمسين (كما اتخذ الهمذاني عيسى بن هشام راوياً لمقاماته). واسمه مقتبس من الحديث الشريف: «كلكم حارث وكلكم همام»، فالحارث هو الكاسب، والهمام هو كثير العزم والهمة.
٢- دوره في إعداد المقامات:
يقوم الحارث بن همام بدور الراوي الشاهد والرحالة الأديب الممثل للطبقة البرجوازية والمثقفة؛ فهو الذي ينتقل بين الأمصار الإسلامية (صنعاء، حلوان، البصرة، مكة)، ويلتقي في كل مرة ببطل المقامات المحتال والخطيب المفوه «أبي زيد السروجي»، فيستمع إلى خطبه البليغة وشعره الساحر، ويكتشف حيلته في آخر المقامة بعد أن ينخدع به الناس ويعطوه أموالهم، فيوثق الحارث تلك المواقف بأسلوب مسجع فائق البلاغة والجمال اللغوي.

(ب) ما معنى كليلة ودمنة؟ ولماذا سمّى الكتاب بذلك؟ وما الطريقة التى انتهجها ابن المقفع لعرض القصص فى هذا الكتاب؟
١- معنى كليلة ودمنة وسبب التسمية:
كليلة ودمنة هما اسمان لابني آوى (شغالان) كانا في خدمة الأسد (ملك الغابة). وقد سمي الكتاب باسمهما لأنهما البطلان الرئيسيان في أول وأطول وأهم أبواب الكتاب (باب الأسد والثور)، حيث يمثل دمنة رمز المكر والخديعة والدسائس وحب الرياسة، بينما يمثل كليلة رمز الحكمة والاعتدال وحب السلامة.
٢- الطريقة التي انتهجها ابن المقفع في عرض القصص:
انتهج ابن المقفع أسلوب «القصص الرمزي التعاقبي على ألسنة الحيوانات والبهائم والطيور» (Fable). وتبدأ كل حكاية بسؤال يطرحه الملك الفيلسوف «دبشليم» على الحكيم «بيدبا» يطلب منه مثلاً أو عبرة، فيجيبه الفيلسوف بضرب مثل من عالم الحيوان، وتتولد من القصة الأصلية قصص فرعية متداخلة ومترابطة تحمل حكماً سياسية وأخلاقية عميقة موجهة لإصلاح الحكام والولاة وعامة الناس دون تصريح مباشر يثير غضب السلاطين.

(ج) اكتب ما جاء من تواضع عمر بن عبد العزيز فى كتاب عيون الأخبار-
تواضع الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز في عيون الأخبار:
أورد ابن قتيبة في كتابه «عيون الأخبار» مواقف خالدة من تواضع أمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز، ومن أشهرها: أنه كان ذات ليلة يسامر ضيفاً له وكتب بعض الرسائل والعهد، فضعف ضوء السراج وكاد ينطفئ، فقال له الضيف: يا أمير المؤمنين، أقوم إلى السراج فأصلحه؟ فقال له عمر: «ليس من كرم الرجل أن يستخدم ضيفه». فقال الضيف: أفأنبه الغلام؟ فقال عمر: «لا، إنه أول نومته وهو مستريح». ثم قام أمير المؤمنين بنفسه إلى إناء الزيت، فملأ السراج وأصلحه ثم رجع إلى مجلسه وقال بكل هدوء وتواضع: «قمتُ وأنا عمر بن عبد العزيز، ورجعتُ وأنا عمر بن عبد العزيز، ما نقص مني شيء!».

(د) اكتب بعض صفات الإمام أحمد بن حنبل من مكارم الأخلاق فى ضوء ما وصفه ابن حبان البستي-
مكارم أخلاق الإمام أحمد بن حنبل عند ابن حبان البستي:
وصف الإمام ابن حبان البستي الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله بأنه كان إمام أهل السنة ومجمع الفضائل ومكارم الأخلاق، ومن أبرز ما اتصف به:
١- الصبر والثبات الأسطوري: صبره في محنة خلق القرآن الشهيرة تحت وطأة الجلد والسجن والتهديد دون أن يداهن أو يبدل كلمة الحق.
٢- الورع والزهد العظيم: كان زاهداً في الدنيا ومناصبها، يرفض أموال الخلفاء والوزراء، ويقتات من كسب يده وكراء دكان ورثه.
٣- العفو وسعة الصدر: عفا عن كل من جلده وظلمه في المحنة بعد إطلاق سراحه، وقال: «ما ينفعك أن يعذب الله أخاك المسلم بسببك؟!».
٤- التواضع الجم وتوقير العلماء: كان يجلس بين تلامذته بالوقار والسكينة، شديد الحياء، لا يرفع صوته، ويكره المدح والثناء.

٥- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:

[৫. নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্যবহুল উত্তর দাও:]


الجواب:

(ألف) اكتب نبذة عن مساهمة عبد الله ابن المقفع في الأدب العربي-

[৫ (ক). আরবি সাহিত্যে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফার ঐতিহাসিক অবদান:]

১. জন্ম ও পরিচয়: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা (১০৬-১৪২ হি./৭২৪-৭৫৯ খ্রি.) ছিলেন আব্বাসীয় যুগের প্রারম্ভের সর্বশ্রেষ্ঠ আরবি গদ্যশিল্পী ও অনুবাদক। পারসিক বংশোদ্ভূত এই মনীষী ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ‘রোজবেহ’ নামে পরিচিত ছিলেন।
২. সাহিত্যের নব দিগন্ত উন্মোচন: তিনি সংস্কৃত ও পাহলভি (প্রাচীন ফারসি) সাহিত্য থেকে কালজয়ী বহু গ্রন্থ আরবিতে অনবদ্য শিল্পমানে রূপান্তর করেন। তাঁর অনূদিত ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ আরবি নীতিগল্প ও প্রতীকি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মাইলফলক।
৩. মৌলিক গ্রন্থাবলী: তিনি শুধু অনুবাদক ছিলেন না, বরং উচ্চমার্গের মৌলিক গদ্য রচয়িতাও ছিলেন। তাঁর রচিত ‘আল-আদাবুল কাবির’ (রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক) এবং ‘আল-আদাবুস সাগির’ (নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধি বিষয়ক) ও ‘রিসালাতুস সাহাবাহ’ আধুনিক আরবি প্রবন্ধ সাহিত্যের বুনিয়াদ স্থাপন করে।
৪. শৈলী ও ভাষার স্বাতন্ত্র্য: তিনি আরবি গদ্যে কৃত্রিম অলংকারহীন, সাবলীল, প্রাঞ্জল ও চিন্তাশীল গদ্যরীতির জনক ছিলেন যা ‘সাহলুল মুমতানা’ (সহজ অথচ অনুকরণ করা কঠিন) নামে খ্যাত।

(ب) اكتب خلاصة المقامة الصنعانية للحريري-

[৫ (খ). আল-হারিরির ‘মাকামাহ সানআনিয়্যাহ’-এর সারসংক্ষেপ:]

মূল পটভূমি: এটি আল-হারিরির পঞ্চাশটি মাকামাতের মধ্যে প্রথম মাকামাহ। ইয়েমেনের বিখ্যাত প্রাচীন নগরী সানআ-তে এর পটভূমি রচিত।
কাহিনী সংক্ষেপ: বর্ণনাকারী যুবক হারিস বিন হাম্মাম সানআর এক মনোরম জনসমাবেশে উপস্থিত হয়ে সাহিত্যচর্চায় রত ছিলেন। হঠাৎ এক জীর্ণবস্ত্র পরিহিত ভবঘুরে ব্যক্তি সেখানে এসে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও হৃদয়স্পর্শী ভাষায় বক্তৃতা দিতে শুরু করে। সে পার্থিব মোহ ত্যাগ, আখেরাতের জবাবদিহিতা এবং বার্ধক্য ও মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণের এমন এক মর্মস্পর্শী বয়ান দেয় যা শুনে সমবেত শ্রোতারা অশ্রুসিক্ত হয়ে তাকে প্রচুর ধন-দৌলত ও মুদ্রা দান করে। হারিস তার অলৌকিক বাগ্মিতায় মুগ্ধ হয়ে গোপনে তাকে অনুসরণ করেন এবং এক অন্ধকার সরাইখানায় গিয়ে দেখতে পান যে, লোকটি সেখানে সুস্বাদু আহার ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। হারিস তাকে চিনে ফেলেন যে, সে আর কেউ নয় বরং সাহিত্যের চতুর চরিত্র ‘আবু জায়েদ সারুজি’। হারিস তার এই ভণ্ডামির প্রতিবাদ করলে আবু জায়েদ চমৎকার ছন্দময় কবিতার মাধ্যমে জবাব দেয় যে, এই প্রতারণা ও চাতুর্য তার আসল চরিত্র নয়, বরং যুগের কঠোর নিষ্ঠুরতা ও বেঁচে থাকার নিরুপায় প্রয়োজনেই সে এই অভিনয় করেছে।

(ج) تحدث عن باب المروءة لابن قتيبة موجزًا-

[৫ (গ). ইবনে কুতায়বার ‘বাবু আল-মুরুওয়াহ’ (মনুষ্যত্ব ও ভদ্রতা অধ্যায়) এর সারসংক্ষেপ:]

গ্রন্থ পরিচিতি: ইমাম ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী (মৃ. ২৭৬ হি.) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ‘উয়ুনুল আখবার’ গ্রন্থে ‘বাবু আল-মুরুওয়াহ’ শিরোনামে মানব চরিত্র ও নৈতিকতার এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছেন।
মূল আলোচ্য বিষয়:
১. মুরুওয়াতের সংজ্ঞা: মুরুওয়াত হলো এমন এক পূর্ণাঙ্গ পৌরুষত্ব, আত্মমর্যাদাবোধ ও মানবীয় গুণাবলী যা মানুষকে সকল প্রকার পাপ, নীচতা, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে মুক্ত রাখে এবং আত্মত্যাগ ও পরোপকারে উদ্বুদ্ধ করে।
২. ইসলামের সাথে সম্পর্ক: লেখক কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ করেছেন যে, তাকওয়ার পরেই মুমিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অলংকার হলো উন্নত মুরুওয়াত। হযরত উমর (রা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বিশুদ্ধ ভাষা চর্চা ও বংশমর্যাদা রক্ষার তাগিদ দিয়েছেন।
৩. আচরণের মাপকাঠি: ভদ্র ও মার্জিত মানুষের লক্ষণ হলো লজ্জাশীলতা, পরিচ্ছন্ন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার, মিষ্টভাষী হওয়া এবং মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করা; আর নীচ মানুষের লক্ষণ হলো প্রকাশ্য অপকর্ম, অহংকার এবং অশ্লীলতা।

(د) اكتب خلاصة ما جاء فى باب العقل-

[৫ (ঘ). ‘বাবু আল-আকল’ (বুদ্ধিবৃত্তি অধ্যায়)-এর মূল বক্তব্যের সারসংক্ষেপ:]

ইবনে কুতায়বা ‘উয়ুনুল আখবার’-এ মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত বুদ্ধি ও বিবেকের গুরুত্ব অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে বিশ্লেষণ করেছেন:
১. আকলের মর্যাদা: আকল বা প্রজ্ঞাই হলো বান্দার ওপর শরীয়তের বিধিবিধান ফরজ হওয়ার মূল কারণ। বুদ্ধিহীন ব্যক্তি পশুসম এবং জবাবদিহিতামুক্ত।
২. জ্ঞানের দুটি প্রকার: তিনি মানব জ্ঞানকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—(১) আল-আকলুল মাতবু (স্বভাবজাত জন্মগত বুদ্ধি) এবং (২) আল-আকলুল মাসমু (অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত প্রজ্ঞা)। জন্মগত বুদ্ধি ছাড়া অর্জিত জ্ঞান ফলপ্রসূ হয় না।
৩. হযরত দাউদ (আ.)-এর উপদেশ: বুদ্ধিমান মানুষ তার ২৪ ঘণ্টার সময়কে চার ভাগে ভাগ করে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন পরিচালনা করে: আল্লাহর ইবাদত, আত্মপর্যালোচনা, দ্বীনী বন্ধুদের সাহচর্য এবং হালাল বিনোদনের মাধ্যমে ক্লান্তি দূর করা।
৪. রাগ ও প্রবৃত্তির শত্রু: অতিরিক্ত ক্রোধ ও লাগামহীন জৈবিক লালসা বুদ্ধিকে অন্ধ করে দেয়, তাই বুদ্ধিমান ব্যক্তি সর্বদা ধৈর্যের মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ রক্ষা করে।

(هـ) اكتب بعض خصائص لكليلة ودمنة-

[৫ (ঙ). ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:]

১. রূপক ও প্রতীকধর্মিতা (Symbolism & Allegory): সমাজের মানুষ, রাজা ও কর্মচারীদের সরাসরি সমালোচনা না করে পশু-পাখির চরিত্রের আবরণে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
২. নীতি ও প্রজ্ঞার ভাণ্ডার (Moral Wisdom): বইটি শুধুই নিছক বিনোদনমূলক রূপকথা নয়, বরং এতে ন্যায়পরায়ণ শাসনব্যবস্থা, বন্ধু নির্বাচন, বিশ্বাসঘাতকতা পরিহার ও দূরদর্শিতার নীতি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
৩. গল্পের ভেতর গল্প (Story-within-a-Story Technique): একটি মূল কাঠামোর মধ্যে একের পর এক প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্তমূলক উপ-কাহিনীর চমৎকার বিন্যাস ঘটেছে।
৪. উচ্চমার্গের শিল্পিত গদ্যরীতি: জটিল ছন্দ ও কৃত্রিম অনুপ্রাসমুক্ত এক চমৎকার প্রাঞ্জল ও চিত্তাকর্ষক ক্লাসিক্যাল আরবি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে।
৫. সার্বজনীন আবেদন: এর মানবিক আবেদন কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সর্বকালের সকল সমাজের জন্য চিরন্তন পথপ্রদর্শক।

(و) اكتب نبذة عن حياة أبي قاسم الحريري-

[৫ (চ). আবুল কাসিম আল-হারিরির সংক্ষিপ্ত জীবন ও সাহিত্যকর্ম:]

১. নাম ও জন্ম: পুরো নাম আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-হারিরি আল-বাসরি। তিনি ৪৪৬ হিজরি (১০৫৪ খ্রি.) ইরাকের বসরার নিকটবর্তী ‘মাশান’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিল্ক বা রেশম বাণিজ্যের সাথে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর পরিবার ‘আল-হারিরি’ নামে পরিচিত হয়।
২. শিক্ষা ও পদমর্যাদা: তিনি বসরা ও বাগদাদের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের সান্নিধ্যে ব্যাকরণ, সাহিত্য ও হাদিস শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি সরকারি গোয়েন্দা প্রধান ও যোগাযোগ কর্মকর্তা (সাহিবুল বারীদ) হিসেবে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেন।
৩. সাহিত্যিক অবদান ও মাকামাত: আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে বদিয়ুজ্জামানের পর তিনি মাকামাত শিল্পকে পরম উৎকর্ষে পৌঁছে দেন। তাঁর রচিত ৫০টি ‘মাকামাতে হারিরি’ আরবি ভাষার অলংকার, প্রবাদ-প্রবচন ও ছন্দময় সাহিত্যের বিস্ময়কর বিশ্বকোষ।
৪. অন্যান্য গ্রন্থ: তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত রচনার মধ্যে রয়েছে আরবি ব্যাকরণের ভুল সংশোধনী ‘দুররাতুল গাওয়াস ফি আওহামিল খাওয়াস’ এবং ছন্দময় ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘মুলহাতুল ই’রাব’।
৫. ইন্তেকাল: এই মহান সাহিত্যস্রষ্টা ৫১৬ হিজরিতে (১১২২ খ্রি.) বসরায় ইন্তেকাল করেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের মূল চরিত্র দুটি কিসের প্রতীক?

‘কালিলা ওয়া দিমনা’ গ্রন্থে শিয়াল দুটি চরিত্রের মধ্যে ‘কালিলা’ হলো ন্যায়পরায়ণতা, শান্তি ও শুভ বুদ্ধির প্রতীক এবং ‘দিমনা’ হলো চক্রান্ত, লোভ ও মিথ্যা প্ররোচনার প্রতীক।

২. মাকামাতে হারিরির প্রধান চরিত্র ও বর্ণনাকারীর নাম কী?

মাকামাতে হারিরির মূল চতুর নায়ক হলো ‘আবু জায়েদ সারুজি’ এবং এই রোমাঞ্চকর ঘটনাগুলোর কাল্পনিক বর্ণনাকারী হলেন ‘হারিস বিন হাম্মাম’।

৩. আরবি সাহিত্যে ইবনুল মুকাফফার সবচেয়ে বড় অবদান কী?

আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা বিদেশি সাহিত্য অনুবাদ করে এবং নিজস্ব মৌলিক রচনার মাধ্যমে আরবি গদ্যকে কৃত্রিমতামুক্ত, প্রাঞ্জল ও চিন্তাশীল দর্শনে রূপান্তর করেন।

৪. ইবনে কুতায়বার বিখ্যাত ‘উয়ুনুল আখবার’ গ্রন্থটি কোন ধরণের রচনা?

‘উয়ুনুল আখবার’ হলো প্রাচীন আরবি আদব ও নীতিশাস্ত্রের একটি প্রামাণ্য বিশ্বকোষ, যেখানে মানুষের চরিত্র, আকল, মুরুওয়াত ও রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে বিস্তারিত সংকলন রয়েছে।

৫. আবেদের বেজি হত্যার কাহিনী থেকে আমাদের মূল শিক্ষা কী?

কোনো ঘটনা দেখেই সত্যতা যাচাই ছাড়া তাৎক্ষণিক আবেগের বশে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে সারাজীবন চরম অনুতাপ ও অনুশোচনায় ভুগতে হয়।

৬. হযরত উমর (রা.) আরবি ভাষা ও বংশমর্যাদা শিক্ষার কী গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন?

হযরত উমর (রা.) বলেছেন, বিশুদ্ধ আরবি ভাষা চর্চা মানুষের মনুষ্যত্ব ও পৌরুষত্ব বৃদ্ধি করে এবং বংশমর্যাদার জ্ঞান ছিন্ন হওয়া আত্মীয়তার বন্ধনকে পুনঃসংযুক্ত করতে সহায়তা করে।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *