ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: প্রাচীন গদ্য-২ (النثر القديم-2)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৪ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
مجموعة (أ) – রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান
١- ترجم ثلاث قطعات من التالية:
[১. নিচের অনুচ্ছেদগুলো থেকে যেকোনো তিনটির প্রাঞ্জল অর্থ ও মর্মার্থ তুলে ধর (এখানে সকল অনুচ্ছেদের পূর্ণাঙ্গ অর্থ ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলো):]
(أ) ينبغى للعاقل ألا يغفل عن التماس ما نفس أهله وولده وإخوانه وصديقه عند كل أمر، وفي كل لحظة وكلمة وعند القيام والقعود وعلى كل حال فإن ذلك كله يشهد على ما فى القلوب، وقد قالت العلماء إذا دخل قلب الصديق من صديقه ريبة، فليأخذ بالحزم فى الحفظ منه، وليتفقد ذلك فى لحظاته وحالاته، فإن كان ما يظن حقا ظفر بالسلامة، وإن كان باطلا ظفر بالحزم، ولم يضره ذلك-
[১ (ক). বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত যে, সে যেন তার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, ভাই-বেরাদর ও বন্ধুদের অন্তরের মনোভাব ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে উদাসীন না হয়—প্রতিটি কাজে, প্রতিটি মুহূর্তে ও কথায়, উঠা-বসা এবং সর্বাবস্থায়। কেননা এই সবকিছুই অন্তরের ভেতরের অবস্থার সাক্ষ্য দেয়। আর প্রজ্ঞাবান পণ্ডিতগণ বলেছেন: যখন কোনো বন্ধুর অন্তরে তার অপর বন্ধু সম্পর্কে সন্দেহের উদ্রেক হয়, তখন তার উচিত সতর্কতা অবলম্বন করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং তার চাহনি ও চালচলনে তা গভীরভাবে পরীক্ষা করা। অতঃপর তার ধারণা যদি সত্য হয় তবে সে অপকার থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে; আর যদি তা ভিত্তিহীন হয় তবে সে অন্তত দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার মর্যাদা লাভ করবে, এতে তার কোনো ক্ষতি হবে না।]
(ب) ولبثنا على ذلك برهة، ينشئ لى كل يوم نزهة، ويدرأ عن قلبي شبهة، إلى أن جرحت له يد الإملاق، كأس الفراق، وأغراه عدم العراق، بتطليق العراق، ولفظته فعاوزَ الإرفاق، إلى مفاوز الآفاق، ونظمه في سلك الرفاق، خفوق راية الإخفاق، فشحذ للرحلة غرار عزمته وظعن يقتاد القلب بأزمته-
[১ (খ). আমরা এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত করলাম; সে প্রতিদিন আমার জন্য নতুন আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা করত এবং আমার অন্তর থেকে সংশয় দূর করত। অবশেষে চরম অভাব-অনটনের হাত তার জন্য বিচ্ছেদের বিষাদময় পেয়ালা ঢেলে দিল এবং হাড়ভাঙা দারিদ্র্য তাকে প্রিয় ইরাককে চিরবিদায় জানাতে প্রলুব্ধ করল। ফলে দারিদ্র্যের সংকট ও সহযোগিতার অভাব তাকে প্রত্যন্ত প্রান্তরের মরুপথে নির্বাসনে পাঠাল এবং ব্যর্থতার পতাকার দুলুনি তাকে পথচারী মুসাফিরদের সারিতে যুক্ত করল। অতঃপর সে সফরের উদ্দেশ্যে তার দৃঢ় সংকল্পের তলোয়ারকে শাণিত করল এবং প্রস্থান করল, অথচ আমার মন-প্রাণকে তার লাগামে বেঁধে সাথে টেনে নিয়ে গেল।]
(ج) فقال: يا أخاير الذخائر، وبَشَائر العشائر، عموا صباحا، وأنعموا اصطباحا، وانظروا إلى من كان ذا ندى وندى، وجدة وجدا، وعقار وقرى، ومقار وقرى، فما زال به قطوب الخطوب، وحروب الكروب، وشرر شر الحسود، وانتياب النوب السود حتى صفرت الراحة، وقرعت الساحة، وغار المنبع، ونبا المربع، وأقوى المجمع، وأقض المضجع، واستحالت الحال-
[১ (গ). অতঃপর সে বলল: হে শ্রেষ্ঠ সম্বল ও গোত্রের শুভসংবাদবাহী মহোদয়গণ! আপনাদের সকাল শুভ হোক, প্রভাত আনন্দময় হোক! আপনারা এমন এক ব্যক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করুন, যিনি অতীতে ছিলেন সুমিষ্ট সুরের অধিকারী ও অবারিত দানশীল, সম্পদের প্রাচুর্যে ধন্য ও সৌভাগ্যবান, অঢেল স্থাবর সম্পত্তি ও মেহমানদারির অধিকারী, সম্মানিত আশ্রয়ের মালিক ও পরম আতিথেয়তাপূর্ণ। কিন্তু একের পর এক কঠিন বিপদের ভ্রুকুটি, সংকটময় দুঃখ-বেদনার সংঘাত, হিংসুকের হিংসার স্ফুলিঙ্গ এবং দুর্ভাগ্যজনক কালো দুর্যোগের অবিরাম আগমন তাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে তার হাতের তালু রিক্ত হয়ে গেছে, তার আঙিনা জনশূন্য হয়েছে, তার উপার্জনের উৎস শুকিয়ে গেছে, তার আবাসভূমি তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তার মিলনমেলা ভেঙে গেছে, তার শয্যা কণ্টকময় হয়েছে এবং তার অবস্থার আমূল অবনতি ঘটেছে।]
(د) وينبغى للعاقل أن لا يرى إلا في إحدى ثلاث خصال: تزود لمعاد، أو مرمة لمعاش أو لذة في غير محرم- وينبغى للعاقل أن يكون عارفا بزمانه، حافظا للسانه، مُقبلا على شأنه، قال: حدثني أبو حاتم عن الأصمعي ……. قال عمرو بن العاص: ليس العاقل الذى يعرف الخير من الشر، ولكنه الذى يعرف خير الشرين، وليس الواصل الذى يصل من يصله، ولكنه الذى يصل من قطعه، وقال زياد: ليس العاقل الذى يحتال للأمر إذا وقع، ولكنه الذى يحتال للأمر ألا يقع فيه-
[১ (ঘ). বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য সংগত হলো যে, তাকে যেন কেবল তিনটি গুণের কোনো একটিতে লিপ্ত দেখা যায়: পরকালের পাথেয় সংগ্রহ, জীবিকার সুব্যবস্থা ও উন্নয়ন, অথবা হালাল ও বৈধ আনন্দ উপভোগ। আর বুদ্ধিমানের উচিত সে যেন তার কাল ও যুগ সম্পর্কে সচেতন থাকে, নিজের জিহ্বা সংযত রাখে এবং নিজের কাজে মনোযোগী থাকে। বর্ণনাকারী বলেন: আবু হাতিম আল-আসমাঈ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন… আমর ইবনুল আস (রা.) বলেছেন: সেই ব্যক্তি প্রকৃত বুদ্ধিমান নয় যে কেবল ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোঝে, বরং প্রকৃত বুদ্ধিমান সে-ই যে দুটি মন্দের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর বা উত্তমটি বেছে নিতে পারে। আর সেই ব্যক্তি প্রকৃত আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী নয় যে শুধু তার সাথেই সুসম্পর্ক রাখে যে তার সাথে রাখে, বরং প্রকৃত সম্পর্ক রক্ষাকারী সে-ই যে সম্পর্ক ছিন্নকারীর সাথেও সম্পর্ক জুড়ে দেয়। আর যিয়াদ বলেছেন: সেই ব্যক্তি প্রকৃত বুদ্ধিমান নয় যে কোনো বিপদে পতিত হওয়ার পর তা থেকে উদ্ধারের কৌশল খোঁজে, বরং প্রকৃত বুদ্ধিমান সে-ই যে পূর্ব থেকেই এমন কৌশল অবলম্বন করে যাতে সে বিপদে পতিতই না হয়।]
(هـ) ثلاثة تحكم عليهم بالدناءة حتى يعرفوا: رجل شممت منه رائحة نبيذ فى محفل أو سمعته يتكلم فى مصر عربي بالفارسية أو رأيته على ظهر الطريق ينازع فى القدر، قال ميمون بن ميمون: أول المروءة طلاقة الوجه، والثانى التودد، والثالث قضاء الحوائج- وقال: من فاته حسب نفسه لم ينفعه حسب أبيه- قال مسلمة بن عبد الملك: مروءتان ظاهرتان: الرياسة والفصاحة- وقال عمر بن الخطاب: المروءة الظاهرة الثياب الطاهرة-
[১ (ঙ). তিনজন ব্যক্তি এমন যাদেরকে অপদার্থ ও হীন বলে গণ্য করা হয় যতক্ষণ না তাদের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়: এমন ব্যক্তি কোনো জনসমাবেশে যার মুখ থেকে মদের গন্ধ পাওয়া যায়, অথবা যাকে কোনো আরব জনপদে আরবি থাকা সত্ত্বেও ফারসি ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়, অথবা যাকে প্রকাশ্য রাজপথে ভাগ্যের ফয়সালা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত দেখা যায়। মায়মুন ইবনে মায়মুন বলেছেন: পৌরুষত্ব ও ভদ্রতার প্রথম লক্ষণ হলো প্রফুল্ল মুখমণ্ডল, দ্বিতীয়টি হলো মানুষের সাথে হৃদ্যতা প্রদর্শন, এবং তৃতীয়টি হলো মানুষের অভাব-অনটন দূর করা। তিনি আরও বলেন: যার নিজের অর্জিত মর্যাদা নেই, তার পিতার বংশমর্যাদা তার কোনো কাজে আসে না। মাসলামা ইবনে আব্দুল মালিক বলেছেন: দুটি পৌরুষত্ব প্রকাশ্যে ফুটে ওঠে—নেতৃত্ব এবং বাগ্মিতা। আর হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: প্রকাশ্য ভদ্রতা ও শালীনতা হলো পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা।]
(و) حدث أشعب قال: ولى المدينة رجل من ولد عامر بن لؤى، وكان أبخل الناس وأنكدهم، وأغراه الله بي يطلبنى فى ليله ونهاره- فإن هربت منه هجم على منزلى بالشرط، وإن كنت فى موضع بعث إلى من أكون معه أو عنده يطلبنى منه، فيطالبنى بأن أحدثه وأضحكه، ثم لا أسكت ولا أنام ولا يطعمنى ولا يعطينى شيئا، فلقيت منه جهداً عظيما، وبلاءً شديدًا-
[১ (চ). প্রখ্যাত বিদূষক আশ’আব বর্ণনা করে বলেন: আমির ইবনে লুয়াই বংশের এক ব্যক্তি মদিনার শাসক নিযুক্ত হয়েছিল। সে ছিল মানুষের মধ্যে চরম কৃপণ ও সবচেয়ে কুটিল স্বভাবের। আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার পেছনে এমনভাবে লেলিয়ে দিয়েছিলেন যে সে দিনরাত আমাকে খুঁজত। আমি যদি তার হাত থেকে পালিয়ে যেতাম, তবে সে পুলিশ ও কোতোয়াল নিয়ে আমার বাড়িতে চড়াও হতো। আর যদি আমি কোথাও আত্মগোপন করে কারও সাথে থাকতাম, তবে সে তার কাছে দূত পাঠিয়ে আমাকে তলব করত। অতঃপর সে আমাকে নির্দেশ দিত যেন আমি তাকে মজার মজার গল্প শুনিয়ে হাসাই; অথচ সে আমাকে কথা বন্ধ করতে দিত না, ঘুমাতে দিত না, কোনো খাবার খেতে দিত না এবং কোনো পারিশ্রমিক বা পুরস্কারও দিত না! এভাবে তার হাত থেকে আমি চরম কষ্ট ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলাম।]
٢- اشرح اثنين مما يلى:
[২. নিচের যে কোনো দুটির ব্যাখ্যা কর (এখানে চারটিরই পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো):]
(أ) لولا التقى لقلت جلّت قدرته-
[২ (ক). খোদাভীতি ও তাকওয়া যদি বাধা না হতো, তবে আমি বলতাম—তাঁর কুদরত ও মহিমা কতই না মহান!]
ব্যাখ্যা:
উক্তিটি আরবি সাহিত্যের অলঙ্কারশাস্ত্রের এক চরম পরাকাষ্ঠা ও ভাবাবেগের গভীর বহিঃপ্রকাশ। কোনো মানুষের অতুলনীয় রূপ-লাবণ্য, জ্ঞানগর্ভ কথা বা মহৎ গুণাবলি প্রত্যক্ষ করে বক্তা এতটাই অভিভূত হয়ে পড়েছেন যে তাঁর মুখ দিয়ে প্রায় খোদায়ী প্রশংসাসূচক শব্দ উচ্চারিত হতে যাচ্ছিল। কিন্তু অন্তরে আল্লাহর ভয়, তাওহিদের পবিত্র চেতনা ও তাকওয়া জাগ্রত থাকার কারণে তিনি নিজেকে সংবরণ করেছেন। এটি মূলত চরম প্রশংসার এক শৈল্পিক অভিব্যক্তি (مبالغة مقبولة), যেখানে আল্লাহর একত্ববাদকে অক্ষুণ্ণ রেখে কোনো সৃষ্টির অসাধারণ বৈশিষ্ট্যের প্রতি সর্বোচ্চ বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে।
(ب) إنه من لم يكن فى أمره متثبتا لم يزل نادمًا-
[২ (খ). যে ব্যক্তি কোনো কাজে ধীরস্থির ও যাচাই-বাছাইকারী হয় না, সে সর্বদা অনুতপ্ত ও লজ্জিত থাকে।]
ব্যাখ্যা:
উক্তিটি ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের নীতিশিক্ষার এক কালজয়ী ভিত্তিপ্রস্তর। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্বে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা এবং দূরদর্শিতার সাথে ধীরস্থিরভাবে চিন্তা করা অপরিহার্য। হঠকারিতা, আবেগতাড়িত ক্ষিপ্রতা বা গুজবের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত পদক্ষেপ প্রায়শই ধ্বংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। যেমনটি আবেদের উপাখ্যানে দেখা যায়, যে আবেগে অন্ধ হয়ে সত্য না জেনেই নিজের উপকারী পোষা বেজিটিকে হত্যা করে চিরজীবনের জন্য আফসোস ও অনুশোচনার আগুনে দগ্ধ হয়েছিল। তাই কুরআনুল কারিমেও আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: ﴿فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ﴾।
(ج) أحيوا الحياء بمجالسة من يستحى منه-
[২ (গ). যাঁদের দেখলে অন্তরে লজ্জা ও সম্ভ্রম জাগে, তাঁদের সাহচর্যে থেকে লজ্জাশীলতার গুণকে পুনরুজ্জীবিত রাখো।]
ব্যাখ্যা:
এটি মানবচরিত্র গঠন ও আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় মনস্তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা। লজ্জাশীলতা হলো ঈমানের অন্যতম প্রধান শাখা। মানুষের নৈতিক চেতনা তার পারিপার্শ্বিক সঙ্গের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়। যখন মানুষ নীতিবান, খোদাভীরু ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থাকে, তখন তাদের আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতির কারণে অন্তরে স্বাভাবিকভাবেই অন্যায় কাজের প্রতি সংকোচ ও লজ্জা জাগ্রত থাকে। পক্ষান্তরে নির্লজ্জ ও পাপাচারী লোকদের সাথে উঠাবসা করলে অন্তরের পবিত্র লজ্জাবোধ বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই নেককার ও শ্রদ্ধেয় বুজুর্গদের সংশ্রব মানুষের লজ্জাশীলতাকে সজীব রাখার সর্বোত্তম রক্ষাকবচ।
(د) إذا اتخذكم الناس رؤوسا فكونوا أذنابا-
[২ (ঘ). যখন মানুষ তোমাদেরকে তাদের প্রধান বা নেতা বানায়, তখন তোমরা নিজেদেরকে অনুগামী ও সেবক হিসেবে গণ্য করো।]
ব্যাখ্যা:
উক্তিটি ইসলামি নেতৃত্ব ও সমাজদর্শনের এক বিপ্লবী মূলনীতি উপস্থাপন করে। জাগতিক সমাজে নেতা হওয়া মানে অহংকার, প্রভুত্ব বিস্তার ও সুবিধা ভোগের অধিকার মনে করা হয়। কিন্তু প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের মতে, নেতৃত্ব হলো এক বিশাল আমানত ও দায়িত্বের বোঝা। জনগণ যখন কাউকে নেতা হিসেবে বরণ করে নেয়, তখন তার দায়িত্ব হলো আত্মঅহংকার চূর্ণ করে নিজেকে জনগণের সবচেয়ে বিনয়ী খাদেম বা লেজ (অধিভুক্ত অংশ) মনে করা। যে নেতা নিজেকে জনগণের প্রভু না ভেবে বিনম্র সেবক মনে করে, সেই সমাজের সবচেয়ে সফল ও ইনসাফভিত্তিক নেতা হতে পারে।
٣- اشرح اثنين مما يلى بالعربية:
[৩. নিচের যে কোনো দুটির আরবিতে ব্যাখ্যা কর (এখানে চারটিরই পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যা দেওয়া হলো):]
(أ) فأمطرت لؤلؤا من نرجس وسقت وردًا وعضت على العَنَاب بالبَرَد-
[৩ (ক). সে রূপসী নারী নার্গিস ফুল সদৃশ চোখ থেকে মুক্তো সদৃশ অশ্রুবিন্দু বর্ষণ করল, গোলাপ সদৃশ গালকে ভিজিয়ে দিল এবং বরফ সদৃশ শুভ্র দাঁত দিয়ে রক্তিম বরই সদৃশ আঙুল কামড়ে ধরল।]
الشرح بالعربية:
هذا البيت الشعري من أروع وأشهر أبيات الاستعارة التصريحية والتشبيه البليغ في تاريخ الأدب العربي، ويُنسب للخليفة الأموي يزيد بن معاوية أو للوأواء الدمشقي. جمع الشاعر في شطرين خمس استعارات تصريحية بارعة في وصف بكاء المحبوبة وتألمها الشديد، وبيان ذلك:
١- اللؤلؤ: استعارة تصريحية للدموع الصافية البراقة.
٢- النرجس: استعارة تصريحية للعيون الجميلة الذابلة حزناً.
٣- الورد: استعارة تصريحية للخدود الحمراء الناعمة.
٤- العُنّاب: استعارة تصريحية لأطراف الأصابع والأنامل المخضوبة بالحناء.
٥- البَرَد: استعارة تصريحية للأسنان البيضاء الناصعة كحبات البرد المتساقط من السحاب.
والمعنى الإجمالي: أن الحبيبة بكت حزناً على الفراق، فسالت دموعها الشبيهة باللؤلؤ من عينيها الشبيهتين بالنرجس، فبللت خديها الأحمرين الشبيهين بالورد، وعضت من شدة الوجد والأسى بأناملها الحمراء كالعناب بأسنانها البيضاء النقية كالبَرَد.
(ب) الحياء والإيمان مقرونان جميعا-
[৩ (খ). লজ্জা এবং ঈমান সর্বদা পরস্পর সংযুক্ত ও অবিচ্ছেদ্য।]
الشرح بالعربية:
هذا الأثر الشريف يقرر أصلاً عقائدياً وسلوكياً عظيماً؛ وهو التلازم التام والارتباط الوثيق بين الحياء والإيمان في قلب المؤمن. فالحياء خلق نبيل يحث على التحلي بالفضائل والتخلي عن الرذائل صيانةً لكرامة النفس وخوفاً من الله تعالى، والإيمان هو التصديق الجازم والعمل الصالح ومراقبة الله في السر والعلن. ولما كان كل منهما يقتضي الكف عن المعاصي واجتناب الفواحش، صارا كالجناحين للطائر أو كالوصف والموصوف؛ فإذا رُفع أحدهما من القلب وزال سلطانه، تبعه الآخر حتماً، كما جاء في بقية الحديث: «فإذا رُفع أحدهما رُفع الآخر». فالذي لا يستحي من ربه ولا من خلقه لا يبقى في قلبه رادع إيماني يعصمه من ارتكاب الموبقات.
(ج) أحيوا الحياء بمجالسة من يستحيا منه-
[৩ (গ). যাঁদের দেখলে অন্তরে লজ্জা ও সম্ভ্রম জাগে, তাঁদের সাহচর্যে থেকে লজ্জাশীলতার গুণকে জীবিত রাখো।]
الشرح بالعربية:
توضح هذه الحكمة التربوية تأثيراً نفسياً واجتماعياً بالغ الأهمية؛ فإن الأخلاق الفاضلة كالنبات الحي، تحتاج إلى رعاية وسقيا مستمرة حتى لا تذبل وتموت في النفس. ومجالسة أهل الفضل، والورع، والشرف، وكبار العلماء، وأهل الهيبة والمروءة تورث في القلب مهابة واستحياءً يمنع النفس من الاسترسال في اللهو ومحقرات الذنوب، وتجعل المرء يراقب تصرفاته وسكناته استحياءً منهم. أما مخالطة السفهاء وأهل الخلاعة والمجون فإنها ترفع الحشمة وتزيل غشاء الحياء وتطبع القلب بالقسوة، فكانت مجالسة الصالحين هي الإكسير الذي يُحيي موات الحياء في الضمائر.
(د) يا أهل الشام أنتم الجنة والرداء وأنتم العدة والغطاء-
[৩ (ঘ). হে সিরিয়াবাসী! তোমরাই আমার ঢাল ও পরিধেয় বস্ত্র, তোমরাই আমার সম্বল ও আচ্ছাদন।]
الشرح بالعربية:
هذه العبارة البليغة قالها معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه مخاطباً أهل الشام ومبيناً مكانتهم الخاصة وثقته المطلقة في ولائهم ونصرتهم. وقد وظف فيها معاوية فنون الاستعارة والكناية السياسية؛ فشبه أهل الشام بـ “الجُنّة” وهي الدرع والترس الواقي الذي يدفع به المقاتل ضربات الأعداء في ساحات الوغى، وبـ “الرداء” وهو الثوب اللصيق بجسد الإنسان الملازم له في حله وترحاله، وبـ “العُدّة” وهي السلاح والعتاد المدخر لمواجهة الشدائد والنوائب، وبـ “الغطاء” الذي يستره ويقيه تقلبات الدهر. والمعنى: أنتم سندي المنيع، وجيشي الوفي، وحصني الحصين الذي أحتمي به في كل نازلة، وكان هذا الخطاب المؤثر حافزاً لأهل الشام على بذل أرواحهم وطاعته في كل ميدان.
مجموعة (ب) – সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও সমাধান
٤- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالعربية:
[৪. নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর আরবিতে দাও (এখানে চারটিরই পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেওয়া হলো):]
(أ) عرف المقامة وما دور أبي السروجي في المقامة؟
[৪ (ক). মাকামার সংজ্ঞা দাও এবং মাকামায় আবু যায়েদ সারুজীর ভূমিকা কী তা বর্ণনা কর।]
الجواب:
١- تعريف المقامة: المقامة في الاصطلاح الأدبي هي فن قصصي عربي أصيل، عبارة عن حكاية قصيرة خيالية تدور أحداثها حول بطل محتال وراوٍ يتعقبه، وتُكتب بأسلوب أدبي رفيع مشحون بالسجع المتوازن، والجناس، وغرائب الألفاظ، وبدائع البلاغة، وتنتهي غالباً بنيل البطل لمالٍ أو منفعة عبر الحيلة والبيان (الكدية). وقد ابتكر هذا الفن بديع الزمان الهمذاني وبلغ ذروته على يد الحريري.
٢- دور أبي زيد السروجي: هو البطل المحوري والأسطوري لجميع مقامات الحريري الخمسين. يمثل شخصية الشيخ الأديب الفصيح، الشاعر العبقري الذي شردته غارات الروم على بلدته (سروج)، فاتخذ من لسانه البليغ وفصاحته النادرة وسيلة للتكسب والتحايل على عقول الناس وعواطفهم، متلوناً في كل مقامة في هيئة جديدة؛ فتارة يكون واعظاً زاهداً في المقبرة، وتارة شاعراً مستجدياً في مجلس الحكم، وتارة فقيهاً مناظراً، ويُعجب به الراوي (الحارث بن همام) ويفتضح أمره في ختام كل قصة ثم يعفو عنه لبراعته الأدبية.
(ب) اكتب بعض صفات الإمام أحمد بن حنبل من مكارم الأخلاق فى ضوء ما وصفه ابن حبان البستى-
[৪ (খ). ইবনে হিব্বান আল-বুস্তীর বর্ণনার আলোকে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের মহান চরিত্র ও নৈতিক গুণাবলি সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]
الجواب:
ذكر الإمام ابن حبان البستي في كتابه عن مناقب الإمام المبجل أحمد بن حنبل رحمه الله جملة من مكارم أخلاقه الشريفة التي جعلته إمام أهل السنة وقدوة الأمة، ومن أبرزها:
١- الصبر العظيم والصلابة في الحق: ثباته الراسخ كالجبال الرواسي في محنة خلق القرآن أمام بطش الخلفاء وسياط الجلادين، فلم يداهن ولم يتنازل عن معتقده قيد أنملة.
٢- الزهد التام والورع الشديد: كان زاهداً في الدنيا ومناصبها وأموال السلاطين، يكتفي باليسير من طعامه ولباسه، وكان يمتنع عن قبول عطايا الخلفاء والأمراء تورعاً لله تعالى.
٣- التواضع الجم وسعة الحلم: كان شديد التواضع للفقراء وطلبة العلم، خافض الجناح، حليماً لا ينتقم لنفسه قط، وقد عفا عن كل من ضربه وظلمه في المحنة لوجه الله تعالى.
٤- دوام العبادة والذكر: كان كثير الصلاة والصيام وتلاوة القرآن، مخلصاً في تعليمه ونشره لسنة النبي ﷺ، وقوراً في مجلسه تسوده السكينة والهيبة.
(ج) اكتب المثال الذى ضربته المرأة للناسك-
[৪ (গ). নারী তার আবেদ স্বামীর সামনে যে শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছিল তা উল্লেখ কর।]
الجواب:
المثال الذي ضربته المرأة لزوجها الناسك حين تمنى الغنى وتكلم في أمور الغيب والمستقبل بيقين هو: “مثل الناسك الذي كسر جرة السمن والعسل وأهراقهما على رأسه ولحيته”، وخلاصته:
كان لرجل عابد جرة من سمن وعسل علقها في بيته، فجلس يوماً وبيده عصا، فأخذ يفكر ويحسب في خياله: سأبيع هذه الجرة بعشرة دراهم وأشتري بها خمس شياه، فتلد كل عام مرتين، حتى يصير لي بعد سنوات قطيع عظيم من الغنم، ثم أشتري بها عقاراً وخيلاً، وأبني قصراً، وأتزوج امرأة حسناء حسيبة تلد لي ولداً صالحاً، فإذا بلغ أشده أدبته، فإن عصاني ضربته بهذه العصا! فضرب بعصاه وهو ساهٍ في أحلامه، فأصابت الجرة فكسرها، وسال السمن والعسل على رأسه ووجهه وضاع كل شيء؛ فضربت الزوجة هذا المثل لتبين لزوجها قبح الاعتماد على الأوهام والتحدث بما لا يعلم كونه.
(د) اكتب بعض مزايا للمروءة كما وصف صاحب عيون الأخبار-
[৪ (ঘ). উয়ূনুল আখবার গ্রন্থের রচয়িতার বর্ণনা অনুযায়ী ‘মুরুওয়াত’ বা পৌরুষত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।]
الجواب:
أورد الإمام ابن قتيبة في كتابه النفيس «عيون الأخبار» في باب المروءة جملة من المزايا والخصال العظيمة التي لا تتم المروءة إلا بها، ومنها:
١- طهارة الظاهر والباطن: كما قال أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه: “المروءة الظاهرة الثياب الطاهرة”، وحفظ الباطن من الأحقاد والدنايا.
٢- طلاقة الوجه وبذل المعروف: بشاشة اللقاء للناس، والتودد إليهم، والمسارعة في قضاء حوائج المحتاجين والضعفاء.
٣- عفة النفس وصيانة اللسان: الترفع عن سفاسف الأمور والجدال العقيم، وكف الأذى عن الجار، وعفة الفرج والبطن عما حرم الله.
٤- علو الهمة والشرف الذاتي: الاعتماد على كسب المرء لفضائله بنفسه لا على حسب آبائه وأجداده؛ لأن “من فاته حسب نفسه لم ينفعه حسب أبيه”، والتحلي بالفصاحة والرياسة الحكيمة.
٥- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:
[৫. নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও (এখানে আটটি প্রশ্নেরই পূর্ণাঙ্গ সমাধান দেওয়া হলো):]
(أ) اكتب نبذة عن ابن قتيبة-
[৫ (ক). প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও পণ্ডিত ইবনে কুতায়বার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লেখ।]
উত্তর:
১. নাম ও বংশপরিচয়: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী (ابن قتيبة)। তিনি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ বহুশাস্ত্রবিদ, সাহিত্যিক, ভাষাবিদ, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ছিলেন।
২. জন্ম ও জীবনকাল: তিনি ২১৩ হিজরিতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আব্বাসীয় খেলাফতের রাজধানী বাগদাদে তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আলেমদের অধীনে শিক্ষা অর্জন করেন। পরবর্তীকালে তিনি দিনাওয়ার শহরের প্রধান বিচারক (কাজী) হিসেবে নিয়োজিত হন।
৩. সাহিত্যকর্ম: তিনি আরবি গদ্য ও গবেষণামূলক সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ:
– উয়ূনুল আখবার (عيون الأخبار): আরবি সাহিত্যের একটি বিখ্যাত বিশ্বকোষীয় সংকলন।
– আদাবুল কাতিব (أدب الكاتب): লেখকদের ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ক দিকনির্দেশনা।
– আশ-শিরু ওয়াশ শুয়ারা (الشعر والشعراء): প্রাক-ইসলামি ও ইসলামি যুগের কবিদের মূল্যায়ন।
– আল-মাআরিফ (المعارف): ইসলামের ইতিহাস ও বংশপরিচয় বিষয়ক গ্রন্থ।
৪. ওফাত: এই মহান মনীষী ২৭৬ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
(ب) اكتب دور ابن المقفع في الترجمة إلى العربية-
[৫ (খ). কালিলহ ওয়া দিমনাহ আরবিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইবনে আল-মুক্বাফ্ফার অনন্য ভূমিকা মূল্যায়ন কর।]
উত্তর:
আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুক্বাফ্ফা (১০৬-১৪২ হি.) আরবি অনুবাদ সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব। তাঁর অবদানসমূহ নিম্নরূপ:
১. কালিল্লাহ ওয়া দিমনা রূপান্তর: তিনি সংস্কৃত থেকে প্রাচীন পাহলভি (ফারসি) ভাষায় রূপান্তরিত ‘পঞ্চতন্ত্র’ গ্রন্থটিকে ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’ (كليلة ودمنة) নামে আরবিতে অনুবাদ করেন, যা আরবি সাহিত্যের এক অমর ক্লাসিক উপাখ্যানে পরিণত হয়।
২. ফারসি ইতিহাস ও সাহিত্যের রূপান্তর: তিনি ফারসি রাজকীয় ইতিহাস ‘খুদায়নামাহ’ (তারিখু মুলুকিল ফুরস), ‘আইননামাহ’ এবং যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের বহু মূল্যবান পাণ্ডুলিপি আরবিতে রূপান্তর করেন।
৩. আরবি গদ্যরীতির আধুনিকায়ন: আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে তিনি আরবি ভাষার স্বাভাবিক অলঙ্কার ও বাগধারার সাথে মিলিয়ে এমন এক সুললিত ও প্রাঞ্জল গদ্যশৈলী প্রবর্তন করেন, যা আরবি সাহিত্যের গদ্যভাষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়।
(ج) ماذا قال ابن قتيبة في التواضع؟
[৫ (গ). ইবনে কুতায়বা বিনয় ও নম্রতা (التواضع) সম্পর্কে কী আলোচনা করেছেন?]
উত্তর:
ইবনে কুতায়বা তাঁর ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থের ‘কিতাবুত্তাওয়াযু’ (বিনয় ও নম্রতা অধ্যায়)-এ বিনয়ের গুরুত্ব ও এর রূপরেখা বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন:
১. উচ্চ মর্যাদার ভিত্তি: বিনয় হলো এমন এক অভ্যন্তরীণ অলঙ্কার যা মানুষের মর্যাদা ও সম্মানকে আল্লাহর কাছে এবং সৃষ্টির চোখে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২. ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত: তিনি খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের ঘটনা উল্লেখ করে দেখান যে, খলিফা নিজের মেহমানদারির সময় বাতি নিভে গেলে মেহমান বা দাসকে আদেশ না দিয়ে নিজেই বাতি ঠিক করেন এবং বলেন: “আমি যখন গেলাম তখনো ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ ছিলাম, যখন ফিরে এলাম তখনো ওমরই রইলাম, আমার কিছুই কমেনি।”
৩. অহংকারের বিপরীত রূপ: বিনয় হলো সত্যকে অকপটে মেনে নেওয়া এবং মানুষের সাথে নিজেকে সমকক্ষ মনে করা; কোনো পদমর্যাদা বা বংশের অহংকার অন্তরে পোষণ না করা।
(د) ماذا تعرف عن العلامة السيد أبي الحسن علي الندوى؟ اكتب موجزا-
[৫ (ঘ). আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. পরিচিতি: আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী আল-হাসানী আন-নদভী (১৯১৪-১৯৯৯ খ্রি.) বিংশ শতাব্দীর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ, ঐতিহাসিক ও আরবি সাহিত্যিক ছিলেন।
২. জন্ম ও শিক্ষা: তিনি ভারতের রায়বেরেলির এক সম্ভ্রান্ত পীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লখনউয়ের ঐতিহাসিক নাদওয়াতুল ওলামায় শিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে সেখানকার প্রধান ও রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৩. সাহিত্যকর্ম: তিনি আরবি ও উর্দুতে বহু অবিস্মরণীয় গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে সর্বাধিক বিখ্যাত:
– মা যা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন (ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين): মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?
– মুখতারাত মিন আদাবিল আরব (مختارات من أدب العرب): প্রাচীন ও আধুনিক আরবি সাহিত্যের এক অনন্য পাঠ্য সংকলন।
– আল-ক্বিরাআতুর রাশিদাহ ও কাসাসুন নাবিয়্যিন: আরবি ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেষ্ঠ পাঠ্যবই।
৪. অবদান: তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে হীনমন্যতা থেকে মুক্ত করতে এবং খাঁটি ইসলামী রেনেসাঁ জাগ্রত করতে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর জুমার দিনে তিনি ওফাত বরণ করেন।
(هـ) اكتب بعض خصائص ‘لكليلة ودمنة’-
[৫ (ঙ). ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধর।]
উত্তর:
ইবনে আল-মুক্বাফ্ফা অনূদিত বিশ্বখ্যাত নীতিকথামূলক গ্রন্থ ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. রূপক ও প্রতীকধর্মিতা (الرمزية): পশু-পাখি ও বন্য জীবজন্তুর রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের স্বভাব, লোভ-লালসা, কূটকৌশল ও ন্যায়পরায়ণতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. রাষ্ট্রশাসন ও রাজনীতির দর্শন: রাজা কীভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, ধূর্ত মন্ত্রীদের কূটচাল কীভাবে চিহ্নিত করবেন এবং সংকটকালে কীভাবে মৈত্রী বজায় রাখবেন তার নিখুঁত কৌশল এতে সন্নিবেশিত।
৩. গল্পের ভেতর গল্পের বিন্যাস (القصة الإطارية): একটি প্রধান কাহিনীর ভেতর থেকে প্রাসঙ্গিক নৈতিক শিক্ষার অংশ হিসেবে একের পর এক ক্ষুদ্র শিক্ষণীয় কাহিনীর অবতারণা করা হয়েছে।
৪. সার্বজনীন শিক্ষণীয় চরিত্র: এটি কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং সব যুগের শাসক, চিন্তাবিদ ও সাধারণ মানুষের নৈতিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার চিরন্তন আধার।
(و) اكتب خلاصة المقامة الحلوانية للحريرى-
[৫ (চ). আল-হারিরী রচিত ‘মাকামায়ে হুলওয়ানিয়া’-এর মূল বক্তব্য বা সারসংক্ষেপ লেখ।]
উত্তর:
‘মাকামায়ে হুলওয়ানিয়া’ আল-কাসিম ইবনে আলী আল-হারিরীর ৫০টি মাকামার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ও বাস্তবধর্মী রচনা। এর সারসংক্ষেপ:
১. হারেস ইবনে হাম্মামের হুলওয়ান গমন: রাবী হারেস ইবনে হাম্মাম দূর সফর শেষে ক্লান্তি দূর করার উদ্দেশ্যে প্রাচীন ‘হুলওয়ান’ শহরে প্রবেশ করেন এবং একটি গণগোসলখানায় (হাম্মামে) যান।
২. গোসলখানায় বিড়ম্বনা: সেখানে গোসলখানার খাদেমরা তার সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে এবং একজন নাপিত তার মাথা কামাতে এসে এমন অসহ্য যন্ত্রণা ও আনাড়িপনা প্রদর্শন করে যে তিনি কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন।
৩. সাহিত্য আসরে গমন ও আবু যায়েদের উপস্থিতি: এরপর তিনি মন ভালো করতে শহরের একটি সাহিত্য মজলিসে যান। সেখানে এক জীর্ণশীর্ণ বৃদ্ধকে দেখতে পান, যিনি তার বাগ্মিতা, অসাধারণ কাব্য ও ব্যাকরণিক পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে গোটা মজলিসকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন।
৪. পরিচয় উদ্ঘাটন: সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের পর হারেস বুঝতে পারেন যে এই পণ্ডিত ব্যক্তিটি আর কেউ নন, বরং ছদ্মবেশী ধূর্ত সাহিত্যিক আবু যায়েদ সারুজী! তিনি আবু যায়েদকে চিনে ফেললে আবু যায়েদ তার চাতুর্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে কাব্য আবৃত্তি করেন এবং হাদিয়া সংগ্রহ করে অদৃশ্য হয়ে যান।
(ز) اكتب بعض خصائص الكتاب ‘مختارات من أدب العرب’-
[৫ (ছ). আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী রচিত ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]
উত্তর:
আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) সংকলিত ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ একটি অতুলনীয় সাহিত্য সংকলন। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. উচ্চমার্গীয় ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষা: কুরআন, হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের ভাষণ এবং প্রাচীন ও আধুনিক যুগের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সাহিত্যিকদের শ্রেষ্ঠ গদ্য ও পদ্য নির্বাচন করা হয়েছে।
২. ইসলামি চিন্তা ও নৈতিকতার প্রাধান্য: অশ্লীলতা ও অনর্থক বাক্যালাপমুক্ত খাঁটি তাওহিদি চেতনা, চারিত্রিক আত্মমর্যাদাবোধ ও মানবকল্যাণের বাণী সমৃদ্ধ পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৩. বিভিন্ন যুগের সাহিত্যের সমন্বয়: জাহেলি যুগ, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ, উমাইয়া, আব্বাসীয় ও আধুনিক যুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের রচনা স্থান পাওয়ায় এটি সাহিত্যের ধারাবাহিক বিকাশ বুঝতে সাহায্য করে।
৪. ভাষাশিক্ষার আদর্শ পাঠ্য: মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষা ও সাহিত্যের সঠিক রুচি ও সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যে এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রচিত।
(ح) تحدث عن باب المروءة لابن قتيبة موجزا-
[৫ (জ). ইবনে কুতায়বার ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থের ‘বাবুল মুরুওয়াত’ (পৌরুষত্ব ও মানবতাবোধ অধ্যায়) সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
উত্তর:
ইবনে কুতায়বা তাঁর ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থে ‘বাবুল মুরুওয়াত’ বা পৌরুষত্ব অধ্যায়ে মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব ও চরিত্রের নিখুঁত রূপরেখা তুলে ধরেছেন:
১. মুরুওয়াতের সংজ্ঞা: মুরুওয়াত কেবল শারীরিক পুরুষত্ব নয়; বরং এটি হলো লজ্জা, দানশীলতা, সত্যবাদিতা, আত্মমর্যাদাবোধ এবং নীচতা থেকে আত্মরক্ষার সামগ্রিক মানসিক রূপ।
২. বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ মুরুওয়াত: বাহ্যিক মুরুওয়াত হলো পরিচ্ছন্ন শালীন পোশাক, মিষ্টভাষী হওয়া এবং মানুষের সাথে প্রফুল্ল চিত্তে সাক্ষাৎ করা; আর অভ্যন্তরীণ মুরুওয়াত হলো গোপন পাপ বর্জন এবং আত্মার পবিত্রতা।
৩. স্বীয় যোগ্যতার মূল্যায়ন: পিতার বংশমর্যাদার ওপর গর্ব না করে নিজের ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে মর্যাদা অর্জন করা মুরুওয়াতের মূল দাবি।
৪. আতিথেয়তা ও পরোপকার: অভাবগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং মেহমানের সম্মান রক্ষা করাকে মুরুওয়াতের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: প্রাচীন গদ্য-২ (২০৪৩০৪) পত্রে কোন কোন মূল গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
উত্তর: এ পত্রে ইবনে আল-মুক্বাফ্ফার ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’, ইবনে কুতায়বার ‘উয়ূনুল আখবার’, আল-হারিরীর ‘মাকামাত’ এবং আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভীর ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশ্ন ২: ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের মূল রচয়িতা কে ছিলেন এবং কে এটি আরবিতে অনুবাদ করেন?
উত্তর: গ্রন্থটির মূল সংস্কৃত রচয়িতা ছিলেন ভারতীয় দার্শনিক বাইদাবা (বিষ্ণু শর্মা) এবং হিজরি দ্বিতীয় শতকে প্রখ্যাত সাহিত্যিক আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুক্বাফ্ফা পাহলভি ভাষা থেকে এটি আরবিতে অনুবাদ করেন।
প্রশ্ন ৩: আরবি সাহিত্যে ‘মাকামা’ ধারার সূচনা কে করেন এবং কে এতে পূর্ণতা দান করেন?
উত্তর: হিজরি চতুর্থ শতকে আল্লামা বাদীউজ্জামান আল-হামাদানী সর্বপ্রথম মাকামা সাহিত্যের সূচনা করেন এবং পঞ্চম শতকে আল-কাসিম ইবনে আলী আল-হারিরী একে চরম সাহিত্যিক পূর্ণতা দান করেন।
প্রশ্ন ৪: ইবনে কুতায়বার ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
উত্তর: এটি আরবি সাহিত্যের একটি ক্লাসিক বিশ্বকোষ, যেখানে শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি, নেতৃত্ব, বুদ্ধি-বিবেক, ভদ্রতা, বিনয়, ভাষা ও বাগ্মিতা ইত্যাদি বিষয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা ও উপাখ্যান সংকলিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: ‘মাকামায়ে হুলওয়ানিয়া’-এর প্রধান দুই চরিত্র কারা?
উত্তর: ‘মাকামায়ে হুলওয়ানিয়া’-এর কাহিনী বর্ণনাকারী হলেন হারেস ইবনে হাম্মাম এবং এর মূল ছদ্মবেশী নায়ক হলেন ধূর্ত পণ্ডিত আবু যায়েদ সারুজী।
প্রশ্ন ৬: আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) কোন বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন?
উত্তর: আল্লামা নদভী (রহ.) ভারতের লখনউয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা’-এর শীর্ষ রেক্টর ও মহাসচিব ছিলেন।