জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

তারিখুল আদাবিল আরাবী-২ (Tarikhul-Adabil-Arabi-2) – 204308, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৯ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আরবি সাহিত্যের ইতিহাস-২ (تاريخ الأدب العربي-٢ – العصر العباسي)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৮ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা


المجموعة (أ)

[মৌলিক ও বিস্তারিত রচনামূলক প্রশ্নাবলি – পূর্ণমান: ৬০]

١- ما المراد بالعصر العباسي في تاريخ الأدب العربي؟ تحدث عن الخصائص العامة للأدب العربي في هذا العصر-

[১. আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে আব্বাসী যুগ বলতে কী বোঝায়? এ যুগের আরবি সাহিত্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।]

উত্তর:
১. আব্বাসী যুগের পরিচয় ও সময়সীমা:
আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে ১৩২ হিজরি (৭৫০ খ্রি.) উমাইয়া খেলাফতের পতনের পর আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ কর্তৃক আব্বাসী খেলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে স্বর্ণযুগের সূচনা হয় এবং ৬৫৬ হিজরিতে (১২৫৮ খ্রি.) হালাকু খানের বাগদাদ ধ্বংসের মাধ্যমে যার সমাপ্তি ঘটে—সেই সুদীর্ঘ পাঁচ শতাব্দীকালকে ‘আব্বাসী যুগ’ (العصر العباسي) বলা হয়। সাহিত্যের দৃষ্টিতে এ যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:
প্রথম আব্বাসী যুগ (العصر العباسي الأول – ১৩২-২৩২ হি.): সাহিত্য, বিজ্ঞান, অনুবাদ ও সংস্কৃতির চরম বিকাশ ও সমৃদ্ধির স্বর্ণযুগ।
দ্বিতীয় আব্বাসী যুগ (العصر العباسي الثاني – ২৩২-৬৫৬ হি.): রাজনৈতিক বিভক্তি ও আঞ্চলিক সালতানাত (বুওয়াইহিদ, সেলজুক, ফাতেমী) গড়ে ওঠার কাল, যাতে সাহিত্যের বহু নতুন রূপ ও ধারার সৃষ্টি হয়।

২. আব্বাসী সাহিত্যের সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. বিদেশি সংস্কৃতির গভীর প্রভাব: অনারব বিশেষত পারসিক, গ্রিক ও ভারতীয় দর্শন ও বিজ্ঞানের সাথে আরবি সাহিত্যের অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটে।
২. জ্ঞানের বিস্তার ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ: বাইতুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠা ও বিশাল তরজমা আন্দোলনের ফলে যুক্তিবাদ, কালামশাস্ত্র ও দর্শন সাহিত্যের অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলে।
৩. নতুন কাব্যধারার উন্মেষ: প্রাচীন মরুচারী বেদুঈন ধারার বিপরীতে শহুরে বিলাসিতা, প্রকৃতি বর্ণনা (الوصف), সুরার বন্দনা (الخمريات), ভাববাদী বৈরাগ্য ও জুহদ (الزهديات), এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ কবিতা (الحكمة) শীর্ষস্থান লাভ করে।
৪. গদ্য সাহিত্যের নবজন্ম ও শাখা-প্রশাখা বিস্তার: শিল্পসম্মত গদ্যের যুগান্তকারী বিকাশ ঘটে। মাকামাত, তৌকিআত, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পত্রসাহিত্য, এবং বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক গদ্যের চূড়ান্ত রূপ এ যুগেই প্রতিষ্ঠিত হয়।
৫. সহজ ও সাবলীল ভাষাভঙ্গি: কঠিন ও জটিল মরুভাষার বদলে শহুরে মার্জিত, সুমধুর ও অলংকারপূর্ণ (بديع) ভাষারীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


٢- من ألّف ديوان الحماسة؟ اكتب نبذة من حياته مع ذكر خصائص هذا الديوان مفصلاً-

[২. ‘আল-হামাসাহ’ কাব্যগ্রন্থটি কে সংকলন করেছেন? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনকথাসহ কাব্যগ্রন্থটির বৈশিষ্ট্যাবলি বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর:
১. সংকলকের পরিচয়:
বিশ্ববিখ্যাত কাব্যসংকলন দিওয়ানুল হামাসাহ (ديوان الحماسة)-এর সংকলক হলেন আব্বাসী যুগের শ্রেষ্ঠ কবি ও ভাষাবিদ আবু তাম্মাম হাবীব ইবনে আওস আত-তাঈ (১৮৮-২৩১ হি. / ৮০৪-৮৪৫ খ্রি.)।

২. আবু তাম্মামের সংক্ষিপ্ত জীবনকথা:
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন: তিনি সিরিয়ার দামেস্কের নিকটবর্তী ‘জাসিম’ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনে মিশরে গিয়ে মসজিদে পানি পান করানোর কাজ করতেন এবং জামে আমর ইবনুল আস-এ ভাষাবিদদের সান্নিধ্যে কাব্য ও ব্যাকরণ চর্চা করেন।
সাহিত্য প্রতিভা ও খলিফাদের সান্নিধ্য: অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও গভীর প্রতিভার অধিকারী আবু তাম্মাম বাগদাদে এসে খলিফা আল-মুতাসিমের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন। মুতাসিমের ঐতিহাসিক আম্মুরিয়া বিজয়ের ওপর রচিত তাঁর কাসিদা আরবি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজয়গাঁথা।
ইন্তেকাল: জীবনের শেষ ভাগে তিনি মসুল শহরের ডাক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২৩১ হিজরিতে সেখানেই ইন্তেকাল করেন।

৩. ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ সংকলনের প্রেক্ষাপট ও বৈশিষ্ট্য:
খোরাসান থেকে বাগদাদ ফেরার পথে তীব্র তুষারপাতের কারণে আবু তাম্মাম হামাদানের বিশিষ্ট সাহিত্যপ্রেমী আবু সাহল ইবনে সালামার লাইব্রেরিতে আটকা পড়েন। সেই অবসরে তিনি প্রাচীন কবিদের অজস্র দুর্লভ কবিতা মন্থন করে এই সংকলনটি প্রস্তুত করেন।
গ্রন্থটির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. দশটি অধ্যায়ে বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস: এতে হামাসাহ (বীরত্বগাথা), মারাসী (শোকগাথা), আদব (শিষ্টাচার), নাসীব (প্রেম-ভালোবাসা), হিজা (ব্যঙ্গ), সিফাত (প্রকৃতি বর্ণনা) ইত্যাদি ১০টি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে কবিতা বিন্যস্ত।
২. বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রাধান্য: গ্রন্থের প্রথম ও সর্ববৃহৎ অধ্যায় হলো ‘বাবুল হামাসাহ’ (বীরত্বের অধ্যায়); যা আরবের আত্মমর্যাদা ও শৌর্যের প্রতীক। এজন্য সমগ্র বইটিই ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ নামে পরিচিত হয়।
৩. উচ্চাঙ্গের সাহিত্যিক রুচিবোধ: আল-মারজুকীসহ প্রখ্যাত সমালোচকদের মতে—আবু তাম্মামের নিজের কবিতার চেয়েও তাঁর এই সংকলন তাঁর কাব্যিক রুচি ও প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ («اختيار أبي تمام خير من شعره»)।


٣- من الشاعر الزاهد؟ تحدث عن خصائص شعره-

[৩. الشاعر الزاهد (বৈরাগ্য বা জুহদের কবি) কে? তার কবিতার বৈশিষ্ট্যাবলি আলোচনা কর।]

উত্তর:
১. আশ-শা’ইরুজ জাহেদ (الشاعر الزاهد)-এর পরিচয়:
আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে ‘আশ-শা’ইরুজ জাহেদ’ বা জুহদ (দুনিয়াবিমুখতা ও বৈরাগ্য)-এর কবি হিসেবে খ্যাত হলেন বিশিষ্ট আব্বাসী কবি আবু ইসহাক ইসমাইল ইবনুল কাসিম, যিনি আবু আল-আতাহিয়াহ (أبو العتاهية) নামে সর্বজনবিদিত (১৩০-২১১ হি. / ৭৪৭-৮২৬ খ্রি.)।

২. তাঁর রূপান্তরের পটভূমি:
প্রাথমিক জীবনে তিনি কুফায় মৃৎপাত্র তৈরি করতেন এবং প্রণয়ধর্মী গজল ও লৌকিক কবিতা লিখতেন। খলিফা মাহদীর দাসী ‘উতবাহ’-র প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি পার্থিব জীবনের মোহ ত্যাগ করেন। তিনি সুফিদের মতো পশমি পোশাক পরিধান করে আজীবন মৃত্যুচিন্তা, পরকাল, আল্লাহভীতি ও ত্যাগের কবিতা রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।

৩. তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যাবলি:
১. সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা (سهولة الألفاظ): তিনি প্রাচীন জটিল ও দুর্লভ শব্দ পরিহার করে অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও সাধারণের বোধগম্য ভাষায় কবিতা লিখেছেন, যা সকলের হৃদয়ে সহজে প্রবেশ করত।
২. মৃত্যু ও পরকালের অবিরাম স্মরণ: তাঁর কবিতার মূল সুর হলো—পার্থিব জীবনের অনিত্যতা, কবরের একাকিত্ব, ধনসম্পদের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং কিয়ামতের হিসাব-নিকাশের ভয়।
৩. প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ (الحكمة والموعظة): তিনি মানুষের লোভ-লালসা ও অহংকারের অন্তঃসারশূন্যতা ফুটিয়ে তুলে আত্মশুদ্ধি ও অল্পে তুষ্টির (القناعة) উপদেশ দিয়েছেন।
৪. স্বতঃস্ফূর্ত ছন্দময়তা: তিনি প্রথাগত ছন্দশাস্ত্রের কঠিন নিয়মের প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে স্বাভাবিক আবেগ থেকে কবিতা বলতেন; এমনকি বলতেন: «أنا أكبر من العروض» (আমি নিজেই ছন্দশাস্ত্রের চেয়ে বড়)।
৫. সমাজে নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি: আব্বাসী যুগের চরম ভোগবিলাস, সুরাপান ও নৈতিক পতনের মুখে তাঁর জুহদীয় কবিতা সমাজের বিবেককে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।


٤- ما أشهر مؤلفات الجاحظ؟ وما موضوعاتها وميزاتها؟ بين مفصلاً-

[৪. জাহিজের প্রসিদ্ধ রচনাসমূহ কী কী? এগুলোর বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্য কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর:
১. আল-জাহিজের পরিচয়:
আবু উসমান আমর ইবনে বাহর আল-জাহিজ (১৬৩-২৫৫ হি. / ৭৭৬-৮৬৯ খ্রি.) ছিলেন আব্বাসী স্বর্ণযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ গদ্যশিল্পী, বিশ্বকোষীয় পণ্ডিত ও মুতাজিলা চিন্তাবিদ। শারীরিক গঠনের কারণে (চোখ দুটি কোটর থেকে কিছুটা বের হওয়া) তাঁকে ‘আল-জাহিজ’ বলা হতো।

২. জাহিজের বিখ্যাত রচনাবলি ও সেগুলোর বিষয়বস্তু:
১. কিতাবুল হাইওয়ান (كتاب الحيوان): সাত খণ্ডে সমাপ্ত এই গ্রন্থটি কেবল প্রাণীবিজ্ঞানের গ্রন্থ নয়; বরং এটি প্রাণীজগতের মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, চিকিৎসা, প্রাচীন কবিতা ও প্রবাদের এক বিশাল বিশ্বকোষ। এতে প্রাণীদের স্বভাব ও অভিযোজন ক্ষমতার বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা করা হয়েছে।
২. আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন (البيان والتبيين): আরবি অলংকারশাস্ত্র, বাগ্মিতা ও বক্তৃতার ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ মৌলিক গ্রন্থ। এতে বিশুদ্ধ আরবি উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, সাহাবী ও কবিদের শ্রেষ্ঠ ভাষণ ও খুতবা সংকলিত হয়েছে।
৩. কিতাবুল বুখালা (كتاب البخلاء): কৃপণ ব্যক্তিদের অদ্ভুত আচরণ, মানসিকতা ও যুক্তি নিয়ে রচিত এক অনবদ্য সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্য। বাস্তব জীবনের চরিত্রগুলো নিখুঁত হাস্যরসের সাথে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন।
৪. রিসালাতুল উসমানিয়্যাহ (الرسالة العثمانية): খেলাফত ও রাজনৈতিক ইমামতের দার্শনিক বিতর্ক বিষয়ক তাত্ত্বিক গ্রন্থ।

৩. জাহিজের গদ্যশৈলীর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ:
হাস্যরস ও প্রজ্ঞার সংমিশ্রণ (الجد في الهزل): পাঠককে একঘেয়েমি থেকে বাঁচাতে তিনি গুরুগম্ভীর আলোচনার মাঝে সূক্ষ্ম হাস্যরস ও কৌতুহলকর কৌতুক জুড়ে দিতেন।
প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তর (الاستطراد): এক বিষয় আলোচনা করতে করতে প্রাসঙ্গিক বহু ঐতিহাসিক উপাখ্যান ও কবিতার অবতারণা করতেন।
যুক্তিবাদ ও পর্যবেক্ষণ: অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও যুক্তির ওপর নির্ভর করতেন।


٥- عرف أدب المقامة ثم تحدث عن نشأته وتطوره في العصر العباسي-

[৫. ‘মাকামা’ সাহিত্যের পরিচয় দাও। অতঃপর আব্বাসী যুগে এ সাহিত্যের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোকপাত কর।]

উত্তর:
১. মাকামা (المقامة)-এর সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থ: ‘মাকামা’ শব্দটি এসেছে ‘মাকাম’ থেকে, যার অর্থ সমাবেশ, মজলিস বা সম্মেলন।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: আরবি সাহিত্যের পরিভাষায় মাকামা হলো—একটি নির্দিষ্ট মজলিসে দাঁড়িয়ে উপস্থাপিত ছোট নাটকীয় গল্প, যা ছন্দোময় অলংকৃত গদ্যে (السجع) রচিত হয় এবং যাতে একজন নির্দিষ্ট কথক বা বর্ণনাকারী (الراوي) এবং একজন চতুর ও ভবঘুরে কেন্দ্রীয় চরিত্র (البطل) থাকে, যে নিজ বুদ্ধিমত্তা ও ভাষাজ্ঞানের মাধ্যমে মানুষকে চমৎকৃত করে জীবিকা নির্বাহ করে।

২. আব্বাসী যুগে মাকামার উৎপত্তি:
চতুর্থ হিজরি শতকে আব্বাসী সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ভাঙন ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার যুগে ভবঘুরে বুদ্ধিজীবী শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে। এই পটভূমিতে বদিউজ্জামান আল-হামাদানি (৩৫৮-৩৯৮ হি.) হিজরি ৩৭৫ সালে মাকামা সাহিত্যের সূচনা করেন। তিনি ‘ঈসা ইবনে হিশাম’-কে বর্ণনাকারী এবং ‘আবু আল-ফাতাহ আল-ইসকান্দারী’-কে নায়ক বানিয়ে প্রায় চারশত মাকামা রচনা করেন, যার মধ্যে মাত্র ৫২টি টিকে রয়েছে।

৩. মাকামার ক্রমবিকাশ ও আল-হারিরির অবদান:
হামাদানির পর মাকামা শিল্পে পূর্ণাঙ্গ উৎকর্ষ সাধন করেন আবু মুহাম্মদ আল-কাসেম আল-হারিরি (৪৪৬-৫১৬ হি.)। তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘মাকামাতে হারিরি’-তে ‘হারিস ইবনে হাম্মাম’-কে কথক এবং ‘আবু যায়েদ আস-সারুজি’-কে নায়ক করে ৫০টি কালজয়ী মাকামা রচনা করেন। হারিরি এই শিল্পে অভিধান, ব্যাকরণ, ধাঁধা ও বিরল শব্দের এমন অসাধারণ সমাবেশ ঘটিয়েছেন যে এটি শত শত বছর ধরে উচ্চতর আরবি শিক্ষার অপরিহার্য পাঠ্য হিসেবে সমাদৃত হয়েছে।


٦- ما الخمريات؟ من الشاعر الذي اشتهر بهذا الفن الشعري؟ اكتب نبذة من حياته مع ذكر مساهمته في الشعر العربي-

[৬. الخمريات কী? এ কাব্য শিল্পে কোন কবি বিখ্যাত ছিলেন? তার সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং আরবি কবিতায় তার অবদান বর্ণনা কর।]

উত্তর:
১. খামরিয়্যাত (الخمريات)-এর পরিচয়:
আরবি কাব্যসাহিত্যে ‘খামরিয়্যাত’ বলতে শরাব বা সুরার রূপ, গুণ, বর্ণ, পাত্র, পানশালার পরিবেশ, সাকির সৌন্দর্য এবং মদের প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত কবিতাকে বোঝায়। জাহেলি ও উমাইয়া যুগে এটি গজল বা ফখরের অংশ হিসেবে থাকলেও আব্বাসী যুগে এটি একটি স্বতন্ত্র কাব্যশিল্পের রূপ নেয়।

২. এ শিল্পের শ্রেষ্ঠ কবি:
খামরিয়্যাত কাব্যশিল্পে অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ কবি হলেন আব্বাসী যুগের বিদ্রোহী প্রতিভা আবু নুওয়াস আল-হাসান ইবনে হানি আল-হাকামী (১৪৫-১৯৮ হি. / ৭৬২-৮১৪ খ্রি.)।

৩. আবু নুওয়াসের সংক্ষিপ্ত জীবনী:
– তিনি ইরানের আহওয়াজে এক আরব পিতা ও পারসিক মাতার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন এবং বসরায় লালিত-পালিত হন।
– তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ আবু উবাইদাহ ও খালাফ আল-আহমারের নিকট বিশুদ্ধ ভাষা ও কাব্যবিদ্যা শেখেন।
– পরবর্তীতে বাগদাদে খলিফা হারুনুর রশিদ এবং আল-আমিনের রাজদরবারে স্থান পান। তাঁর লাগামহীন জীবনযাপন ও অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য তাঁকে কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়। জীবনের শেষভাগে তিনি তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে মর্মস্পর্শী তাওবার কবিতা রচনা করেন।

৪. আরবি কবিতায় তাঁর অবদান:
১. মরুভূমির স্মৃতিচারণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ: প্রাচীন জাহেলি কবিতার মতো বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে প্রেমিকার ভগ্নাবশেষের ওপর কান্নাকাটি (بكاء الأطلال) করার ধারাকে কঠোর উপহাস করে তিনি জীবন্ত শহুরে রূপায়নের ভিত্তি গড়েন।
২. সুরার নিখুঁত চিত্রায়ন: সুরার রং, পাত্রে ঢালার সময় বুদবুদের নাচ এবং এর মানসিক প্রতিক্রিয়া তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আরবি সাহিত্যে তা অনন্য।
৩. শব্দ চয়নে আধুনিকতা: কঠিন বেদুঈন শব্দের বদলে তিনি সহজ ও সুরেলা নাগরিক ভাষা ব্যবহার করে আরবি কবিতাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।


٧- من الفاطميون؟ بين دورهم في رعاية الأدب العربي-

[৭. ফাতেমী কারা? আরবি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের অবদান আলোচনা কর।]

উত্তর:
১. ফাতেমীদের পরিচয়:
ফাতেমীয়রা হলো শিয়া ইসমাইলি মতবাদের অনুসারী একটি পরাক্রমশালী রাজবংশ (২৯৭-৫৬৭ হি. / ৯০৯-১১৭১ খ্রি.), যারা নিজেদেরকে হযরত আলী (রা.) ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা হযরত ফাতিমা (রা.)-এর বংশধর দাবি করত। উবাইদুল্লাহ আল-মাহদী ২৯৭ হিজরিতে উত্তর আফ্রিকায় এই খেলাফত প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ৩৫৮ হিজরিতে তাদের সেনাপতি জওহর আস-সিকিল্লি মিশর বিজয় করে কায়রো শহর প্রতিষ্ঠা করেন।

২. আরবি সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় ফাতেমীদের ঐতিহাসিক অবদান:
১. আল-আজহার মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: ৩৫৯ হিজরিতে জওহর আস-সিকিল্লি কায়রোতে জামে আল-আজহার নির্মাণ করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বের প্রাচীনতম ও শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয় এবং আরবি ভাষার সবচেয়ে বড় দুর্গে রূপ নেয়।
২. দারুল হিকমাহ বা দারুল ইলম প্রতিষ্ঠা: ৩৯৫ হিজরিতে ফাতেমী খলিফা আল-হাকিম বিআমরিল্লাহ কায়রোতে সুবিশাল লাইব্রেরি ‘দারুল ইলম’ প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে লক্ষাধিক দুর্লভ আরবি পাণ্ডুলিপি সংগৃহীত ছিল।
৩. কবি ও সাহিত্যিকদের বিপুল পৃষ্ঠপোষকতা: ফাতেমী দরবারে কবিদের বিপুল অর্থ ও সম্মাননা প্রদান করা হতো। তাঁদের যুগে ইবনুল হানি আল-আন্দালুসি (যাঁকে পশ্চিমাদের মুতানাব্বী বলা হতো), আল-আমীর তামীম ইবনুল মুইয্য, এবং উমারা আল-ইয়ামানী প্রমুখ শ্রেষ্ঠ কবিরা আবির্ভূত হন।
৪. ধর্মীয় ও প্রচারণামূলক সাহিত্য: ইসমাইলি দাওয়াত ও আকিদা প্রচারের জন্য গদ্যে প্রাতিষ্ঠানিক চিঠিপত্র (দিওয়ানুর রাসায়েল) এবং আল-কাদি আন-নুমানের মতো পণ্ডিতদের আইন ও ইতিহাস গ্রন্থ রচিত হয়।
৫. উৎসবাদি ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা: ঈদে মিলাদুন্নবী, মহরম ও বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক রাষ্ট্রীয় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে কবিরা সমবেত হয়ে নতুন নতুন কাসিদা আবৃত্তি করতেন।


٨- تحدث عن عوامل ازدهار النثر وخصائصه في العصر العباسي-

[৮. আব্বাসী যুগে গদ্য সাহিত্যের সমৃদ্ধির কারণ ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]

উত্তর:
১. আব্বাসী যুগে গদ্যের অভূতপূর্ব সমৃদ্ধির কারণসমূহ:
১. অনুবাদ আন্দোলন (حركة الترجمة): গ্রিক, ফারসি, সংস্কৃত ও সিরিয়াক ভাষা থেকে দর্শন, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও যুক্তিবিদ্যার সহস্রাধিক গ্রন্থ আরবিতে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে আরবি গদ্য নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ও যুক্তিগ্রাহ্যতায় সমৃদ্ধ হয়।
২. কাগজশিল্পের প্রসার: বাগদাদে কাগজের কারখানা (مصانع الورق) স্থাপিত হওয়ায় গ্রন্থ রচনা ও অনুলিপিকরণ অত্যন্ত সহজ ও সুলভ হয়ে ওঠে।
৩. প্রশাসনিক দিওয়ানের প্রয়োজনীয়তা: বিশাল আব্বাসী সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক চিঠি ও ফরমান লেখার জন্য ‘দিওয়ানুর রাসায়েল’-এর সৃষ্টি হয়, যেখানে শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকদের সচিব (الكتاب) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো।
৪. জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উদ্ভব: হাদিস সংকলন, তাফসির, ফিকহ, ইতিহাস, ভূগোল ও অভিধান রচনার মাধ্যমে গদ্য এক বিশাল পরিসরে বিকাশ লাভ করে।

২. আব্বাসী গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সহজ ও প্রাঞ্জল গদ্যরীতি (الأسلوب السهل الممتنع): ইবনুল মুকাফফা ও জাহিজের হাত ধরে গদ্য কৃত্রিমতা মুক্ত হয়ে গভীর অর্থবহ ও প্রাঞ্জল রূপ ধারণ করে।
২. যুক্তি ও দর্শনের অনুপ্রবেশ: চিন্তা ও বক্তব্যের সমর্থনে যৌক্তিক প্রমাণ ও বিচার-বিশ্লেষণ উপস্থাপনের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
৩. পরবর্তী যুগে ছন্দময় অলংকার (السجع والبديع)-এর প্রাচুর্য: দ্বিতীয় আব্বাসী যুগে কাজী ফাদিল, আস-সাবি এবং ইবনুল আমীদের মাধ্যমে গদ্যে মাত্রাতিরিক্ত অন্ত্যমিল ও অলংকারের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
৪. নতুন সাহিত্যরীতির উদ্ভব: মাকামাত, তৌকিআত, রূপক কাহিনী ও মুনাজারা সাহিত্যের মতো নতুন নতুন ধারার বিকাশ ঘটে।


٩- ما المراد بفترة الانخفاض أو الانحطاط في تاريخ الأدب العربي؟ تحدث عن ثلاثة من أدباء هذه الفترة وأعمالهم الأدبية-

[৯. আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে পতনের যুগ বলতে কী বোঝায়? এ সময়ের তিনজন সাহিত্যিক এবং তাদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা কর।]

উত্তর:
১. পতনের যুগ (عصر الانحطاط)-এর পরিচয়:
৬৫৬ হিজরিতে (১২৫৮ খ্রি.) তাতারদের দ্বারা বাগদাদের পতন থেকে শুরু করে ১২১৩ হিজরি (১৭৯৮ খ্রি.) মিশরে নেপোলিয়নের আক্রমণ পর্যন্ত সময়কে আরবি সাহিত্যের ইতিহাসে ‘পতনের যুগ’ বা ‘অবনতির যুগ’ বলা হয়। এতে মামলুক ও উসমানীয় শাসনকাল অন্তর্ভুক্ত।
এ যুগে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং অনারব শাসকদের আধিপত্যের কারণে কবিতার মৌলিকত্ব বিনষ্ট হয় এবং কবিরা নিছক শব্দের মারপ্যাঁচ, ইতিহাস-তারিখ গণনা (حساب الجمل) ও অলংকারের বাহ্যিক কারুকার্যে মেতে ওঠে। তবে মৌলিক সৃজনশীলতা হ্রাস পেলেও বিশাল বিশাল বিশ্বকোষ ও অভিধান রচনার মাধ্যমে জ্ঞান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ যুগ অনন্য ছিল।

২. এ যুগের তিনজন শ্রেষ্ঠ মনীষী ও সাহিত্যিক:
১. ইবনে মানজুর (৬৩০-৭১১ হি. / ১২৩২-১৩১১ খ্রি.):
আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠ অভিধানবিদ। তাঁর অমর কীর্তি লিসানুল আরব (لسان العرب), যা ২০ খণ্ডে সমাপ্ত আরবি ভাষার সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে প্রামাণ্য অভিধান। তিনি পূর্ববর্তী সকল প্রধান অভিধানকে এতে সুবিন্যস্ত করেন।
২. ইমাম আল-বুসিরি (৬০৮-৬৯৬ হি. / ১২১৩-১২৯৬ খ্রি.):
নবীপ্রেম ও প্রশংসাগীতি রচনার শ্রেষ্ঠ রূপকার। তাঁর রচিত কাসিদাতুল বুরদাহ (قصيدة البردة – الكواكب الدرية في مدح خير البرية) বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রশংসাগীতি হিসেবে কোটি কোটি মানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছে।
৩. আল-কালকাশান্দি (৭৫৮-৮২১ হি. / ১৩৫৫-১৪১৮ খ্রি.):
মামলুক যুগের শ্রেষ্ঠ সচিব ও গবেষক। তাঁর কালজয়ী ১৪ খণ্ডের বিশ্বকোষ সুবহুল আশা ফি সিনাআতিল ইনশা (صبح الأعشى في صناعة الإنشا) তৎকালীন প্রশাসন, ভূগোল, ইতিহাস, ডাকব্যবস্থা ও গদ্য রীতির অমূল্য তথ্যভাণ্ডার।


المجموعة (ب)

[সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণমূলক প্রশ্নাবলি – পূর্ণমান: ২০]

١٠- ما الموشحات؟ اذكر أسماء بعض رواد هذا الفن الشعري-

[১০. মুওয়াশশাহাত কী? এ কাব্য-শিল্পের কয়েকজন পথকৃৎ-এর নাম উল্লেখ কর।]

উত্তর:
১. মুওয়াশশাহাত (الموشحات)-এর পরিচয়:
‘মুওয়াশশাহ’ শব্দটি এসেছে ‘বিশাহ’ (وشاح – অলংকারখচিত বেল্ট বা ওড়না) থেকে। এটি স্পেনের মুসলিম আন্দালুসে উদ্ভাবিত এক বিশেষ সংগীতধর্মী আধুনিক কাব্যরূপ। প্রথাগত আরবি কাসিদার একক ছন্দ ও অন্ত্যমিলের বাধ্যবাধকতা ভেঙে বিভিন্ন স্তবক (دور) ও আলাদা আলাদা অন্ত্যমিলে রচিত হতো, যা তৎকালীন আন্দালুসীয় সুর ও লোকগীতির সাথে তাল মিলিয়ে গাওয়া যেত।
২. এ শিল্পের পথকৃৎ ও প্রধান কবিগণ:
মুকাদ্দাম ইবনে মুআফা আল-ক্বাবরী (مقدم بن معافى القبري): হিজরি তৃতীয় শতকের শেষভাগে আন্দালুসে সর্বপ্রথম মুওয়াশশাহ আবিষ্কারক হিসেবে খ্যাত।
উবাদাহ ইবনে মাউস সামা (عبادة بن ماء السماء): এই ধারাকে অলংকৃত ও সুশৃঙ্খল করেন।
ইবনু সাহল আল-আন্দালুসি ও লিসানুদ্দীন ইবনুল খতীব: পরবর্তীতে এই শিল্পের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।


١١- من المتنبي؟ ولماذا سمي بذلك؟

[১১. মুতানাব্বী কে? তার এ নামকরণের কারণ কী?]

উত্তর:
১. মুতানাব্বীর পরিচয়:
মুতানাব্বী হলেন আরবি সাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান কবি আবু আত-তাইয়্যিব আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-জু’ফী (৩০৩-৩৫৪ হি. / ৯১৫-৯৬৫ খ্রি.)। তিনি কুফার কিন্দা মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন এবং আলেপ্পোর হামদানী শাসক সাইফুদ্দৌলার দরবারে প্রধান কবির মর্যাদা লাভ করেন।
২. তাঁর ‘মুতানাব্বী’ নামকরণের কারণ:
‘মুতানাব্বী’ শব্দের অর্থ হলো ‘যে নবুয়তের দাবি করে’। এই নামকরণের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
ঐতিহাসিক কারণ: যৌবনে তিনি ইরাক ও সিরিয়ার সীমান্তে বেদুঈনদের মাঝে গিয়ে নিজের বিশেষ প্রভাব ও সংস্কারমূলক আন্দোলনের জন্য নবুয়ত দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে; যার ফলে হিমসের গভর্নর তাঁকে কিছুদিন কারারুদ্ধ করে রাখেন।
রূপক বা সাহিত্যিক কারণ: তাঁর অসাধারণ কাব্যপ্রতিভা ও ভাষার অলৌকিক ক্ষমতার কারণে কবিরা তাঁকে কাব্যাঙ্গনের ‘নবী’ বা শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক বলে আখ্যায়িত করেছিল।


١٢- تحدث عن الأسلوب القصصي لابن المقفع في كتابه ‘كليلة ودمنة’-

[১২. ইবনুল মুকাফফা রচিত ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ গ্রন্থে অনুসৃত গল্পশৈলী সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর:
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা রচিত ‘কালিলাহ ওয়া দিমনা’ গ্রন্থে অনুসৃত গল্পশৈলী বিশ্বসাহিত্যের এক অনুপম সৃষ্টি:
১. রূপক চরিত্রায়ন (الرمزية الحيوانية): মানুষের চরিত্র, স্বভাব ও রাজনৈতিক কূটচাল ফুটিয়ে তুলতে তিনি সিংহ, শিয়াল (কালিলা ও দিমনা), ষাঁড়, কচ্ছপ ও কাকের মতো পশুপাখির রূপক চরিত্র ব্যবহার করেছেন।
২. ফ্রেম ন্যারেটিভ বা গল্পের ভেতর গল্প (القصة الإطارية): দার্শনিক বাইদাবা এবং রাজা দাবশালীমের মূল কথপোকথনের মধ্য থেকে এক গল্পের পেটে অন্য গল্পের জন্ম হয়।
৩. সহজ ও প্রাঞ্জল গদ্য (السهل الممتنع): কোনো প্রকার কৃত্রিম অন্ত্যমিল ছাড়া সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত বাক্যে গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নীতিশিক্ষা উপস্থাপন করেছেন।


١٣- ما الفنون النثرية المستحدثة في العصر العباسي؟ بين موجزاً-

[১৩. আব্বাসী যুগে গদ্য সাহিত্যের নবসৃষ্ট ধরনগুলো কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর:
আব্বাসী যুগে সভ্যতা ও নাগরিক সংস্কৃতির বিকাশের ফলে বেশ কিছু নতুন গদ্যরীতির সৃষ্টি হয়:
১. মাকামাত (المقامات): সুরভিত অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যে চতুর ভবঘুরে চরিত্রের নাটকীয় গল্প, যা হামাদানি ও হারিরি প্রবর্তন করেন।
২. দিওয়ানি ও ইখওয়ানি পত্রসাহিত্য (الرسائل الإخوانية والديوانية): প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক চিঠি এবং বন্ধুদের মধ্যে আবেগঘন ও সাহিত্যিক ভাব বিনিময়ের বিশেষ শৈলী।
৩. তৌকিআত (التوقيعات): খলিফা ও মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে প্রজাদের আবেদনের ওপর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ভাবগর্ভ আরবিতে লিখিত সরকারি সিদ্ধান্ত।
৪. দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক গদ্য: যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে লেখা জাহিজের প্রবন্ধ ও ইখওয়ানুস সাফার পত্রাবলি।
৫. কাল্পনিক ভ্রমণ ও বিতর্ক সাহিত্য (المناظرات): দুই বিপরীত ধারণার মধ্যে যুক্তিপূর্ণ সাহিত্যিক বিতর্ক।


١٤- اذكر موضوعات الشعر العربي في الأندلس في العصر الأموي موجزاً-

[১৪. উমাইয়্যা যুগে স্পেনের আরবি কবিতার বিষয়বস্তুসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর:
আন্দালুসে উমাইয়া শাসনামলে (১৩৮-৪২২ হি.) আরবি কবিতা প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য ও বিশেষ পরিবেশের কারণে নতুন মাত্রা লাভ করে। প্রধান বিষয়বস্তুগুলো হলো:
১. প্রকৃতি বর্ণনা (وصف الطبيعة): স্পেনের নদী, উপত্যকা, ঝর্ণা, বরফাবৃত পাহাড় ও সুরম্য উদ্যানের জীবন্ত রূপায়ন।
২. স্বদেশ ও প্রাচ্যের প্রতি ব্যাকুলতা (الحنين إلى الوطن): দামেস্ক ও প্রাচ্যের ফেলে আসা মাতৃভূমির স্মরণে আবেগঘন কবিতা।
৩. গজল ও প্রেমগাথা: মার্জিত ও গভীর অনুভূতিশীল প্রেমের কাব্যচর্চা।
৪. জিহাদ ও বীরত্বগাথা (الحماسة والجهاد): উত্তরের খ্রিষ্টান রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে সীমান্ত পাহারা ও যুদ্ধের শৌর্যবীর্য।
৫. মুওয়াশশাহ ও সংগীতধর্মী কবিতা: স্তবকভিত্তিক সুরপ্রধান নতুন কবিতা।


١٥- من أبو العلاء المعري؟ اذكر مساهمته في النثر العربي موجزاً-

[১৫. আবুল আ’লা আল মা’আররি কে? আরবি গদ্য সাহিত্যে তার অবদান সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]

উত্তর:
১. আবুল আ’লার পরিচয়:
আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মা’আররি (৩৬৩-৪৪৯ হি. / ৯৭৩-১০৫৭ খ্রি.) ছিলেন আব্বাসী যুগের বিশ্বখ্যাত দার্শনিক কবি ও সাহিত্যিক। শৈশবে গুটিবসন্তে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে তিনি সারাজীবন নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন এবং নিজেকে ‘রাহীনুল মাহবাসায়ন’ (দুই কারাগারের বন্দি—অন্ধত্ব ও নিজ গৃহ) বলে আখ্যায়িত করতেন।
২. আরবি গদ্যে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান:
১. রিসালাতুল গুফরান (رسالة الغفران): বিশ্বসাহিত্যের এক শ্রেষ্ঠ মাস্টারপিস। এক কাল্পনিক পরকালীন ভ্রমণের কাহিনী যাতে তিনি জান্নাত ও জাহান্নামে গিয়ে প্রাচীন কবিদের সাথে সাহিত্যিক বিতর্কে লিপ্ত হন। এটিকে ইতালির দান্তের ‘ডিভাইন কমেডি’-র প্রধান অনুপ্রেরণা মনে করা হয়।
২. রিসালাতুস সাহিল ওয়াল শাহিহ (رسالة الصاهل والشاحج): ঘোড়া ও খচ্চরের রূপক সংলাপে সমকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অন্যায়ের তীব্র দার্শনিক সমালোচনা।
৩. আল-ফুসুল ওয়াল গায়াত (الفصول والغايات): গভীর আধ্যাত্মিকতা, আল্লাহর একত্ববাদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশমালায় সমৃদ্ধ ছন্দোময় গদ্যগ্রন্থ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’-এর সংকলক কে এবং এতে মোট কয়টি অধ্যায় রয়েছে?

উত্তর: ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’-এর সংকলক হলেন প্রখ্যাত আব্বাসী কবি আবু তাম্মাম হাবীব ইবনে আওস এবং এতে বীরত্ব, শোকগাথা ও শিষ্টাচারসহ মোট দশটি অধ্যায় রয়েছে।

প্রশ্ন ২: আরবি সাহিত্যে কাকে ‘আশ-শা’ইরুজ জাহেদ’ বলা হয় এবং কেন?

উত্তর: আব্বাসী কবি আবু আল-আতাহিয়াহকে ‘আশ-শা’ইরুজ জাহেদ’ বলা হয়, কারণ তিনি ভোগবিলাস পরিত্যাগ করে সারাজীবন মৃত্যু, পরকাল ও বৈরাগ্যের কবিতা রচনা করেছিলেন।

প্রশ্ন ৩: আল-জাহিজের শ্রেষ্ঠ দুটি সাহিত্যকর্মের নাম কী?

উত্তর: তাঁর শ্রেষ্ঠ দুটি সাহিত্যকর্ম হলো ‘কিতাবুল হাইওয়ান’ (প্রাণী ও সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ক) এবং ‘আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন’ (অলংকারশাস্ত্র ও বাগ্মিতা বিষয়ক)।

প্রশ্ন ৪: মাকামাত সাহিত্যের জনক কে এবং এতে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

উত্তর: মাকামাত সাহিত্যের প্রবর্তক হলেন বদিউজ্জামান আল-হামাদানি এবং এই শিল্পকে ৫০টি মাকামায় পূর্ণাঙ্গ অলংকৃত রূপ দান করেন আল-কাসেম আল-হারিরি।

প্রশ্ন ৫: আবুল আ’লা আল-মা’আররির ‘রিসালাতুল গুফরান’-এর বিশেষ গুরুত্ব কী?

উত্তর: এটি একটি কাল্পনিক পরকালীন জান্নাত-জাহান্নাম ভ্রমণের আখ্যান, যা বিশ্বসাহিত্যে দান্তের ‘ডিভাইন কমেডি’-র পথপ্রদর্শক হিসেবে স্বীকৃত।

প্রশ্ন ৬: আরবি সাহিত্যের ইতিহাস-২ পরীক্ষায় সফলতার গোপন কৌশল কী?

উত্তর: যুগভিত্তিক রাজনৈতিক পটভূমি, বিভিন্ন সাহিত্যধারা ও আন্দোলনের প্রভাব এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের বিখ্যাত রচনাবলির উদ্ধৃতি নির্ভুল আরবি ও বাংলায় উপস্থাপন করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *