জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আশ-শিরুল হাদিস-১ (Ash-Shirul-Hadith-1) – 204307, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৯৩ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আধুনিক কবিতা-১ (الشعر الحديث-1 – Modern Arabic Poetry-I)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৭ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা


١- ترجم سبع قطعات شعرية مما يلي:

[১. নিচের কবিতাংশগুলো থেকে যেকোনো সাতটির প্রাঞ্জল বাংলা ভাবার্থ লেখ:]

(أ) من الهمزية النبوية لأحمد شوقي:

يَا خَيْرَ مَنْ جَاءَ الوُجُودَ تَحِيَّةً * مِنْ مُرْسَلِينَ إِلَى الهُدَى بِكَ جَاؤُوا
بَيْتُ النَّبِيِّينَ الَّذِي لَا يَلْتَقَى * إِلَّا الحَنَائِفُ فِيهِ وَالحُنَفَاءُ

[১ (ক). হে অস্তিত্বের জগতে শুভাগমনকারী সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব! পথহারা মানবতাকে সত্য ও হেদায়েতের পথে আহ্বানের লক্ষ্যে আপনার পূর্বে প্রেরিত সমস্ত নবী-রাসূলগণের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অগণিত সালাম ও সাদর সম্ভাষণ। আপনিই নবীগণের সেই পবিত্র গৃহ ও মহিমান্বিত ঐতিহ্যের সর্বোচ্চ চূড়া, যেখানে একমাত্র একনিষ্ঠ তাওহিদবাদী ও সত্যপন্থী ছাড়া আর কারো সমাবেশ ঘটে না।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
خير من جاء الوجود: অস্তিত্বের জগতে আগত সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি (রাসূলুল্লাহ ﷺ)। تحية: অভিবাদন ও সালাম। الحنائف والحنفاء: দ্বীনে হানিফ বা ইবরাহিমি একত্ববাদের একনিষ্ঠ অনুসারীবৃন্দ।
আমীরুশ শুআরা আহমদ শাওকী ইমাম আল-বুসিরির বিখ্যাত কাসিদায়ে হামজিয়্যাহর অনুসরণে রচিত তাঁর অমর নাতে রাসূল ﷺ-এর এ অংশে সকল নবীদের ইমাম হিসেবে বিশ্বনবী ﷺ-এর অনুপম মর্যাদা ও তাওহিদের শ্বাশত ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন।


(ب) من الهمزية النبوية لأحمد شوقي:

يَوْمٌ يَتِيهُ عَلَى الزَّمَانِ صَبَاحُهُ * وَمَسَاؤُهُ بِمُحَمَّدٍ وَضَّاءُ
الحَقُّ عَالِي الرُّكْنِ فِيهِ مُظَفَّرٌ * فِي المُلْكِ لَا يَعْلُو عَلَيْهِ لِوَاءُ

[১ (খ). এটি এমন এক অনন্য ও চিরস্মরণীয় দিন, যার শুভ প্রভাত কালের বুকে পরম গর্বভরে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, আর হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর পবিত্র নূরের পরশে যার সন্ধ্যা চির সমুজ্জ্বল ও আলোকোজ্জ্বল। এ দিনে সত্যের সুউচ্চ স্তম্ভ সুপ্রতিষ্ঠিত ও চিরবিজয়ী হয়েছে; আর সাম্রাজ্য ও সৃষ্টিজগতের মাঝে এমন কোনো পতাকা নেই যা এই সত্যের পতাকাকে অতিক্রম করতে পারে।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
يتيه: গর্বভরে দম্ভ প্রকাশ করা বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করা। وضاء: জ্যোতির্ময়, সমুজ্জ্বল। عالي الركن: সুউচ্চ ও সুদৃঢ় স্তম্ভবিশিষ্ট। مظفر: বিজয়ী ও সাহায্যপ্রাপ্ত। لواء: জাতীয় পতাকা বা সেনাপতির ঝাণ্ডা।
কবি এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শুভাগমনের দিনটিকে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মোড় পরিবর্তনকারী ক্ষণ হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন, যার মাধ্যমে মিথ্যার অন্ধকার দূরীভূত হয়ে সত্যের বিজয়পতাকা চিরতরে সমুন্নত হয়েছে।


(ج) لحافظ إبراهيم في قصيدة «النيل»:

أَيُّهَا النِّيلُ كَيْفَ نُمْسَى عِطَاشًا * فِي بِلَادٍ رَوَيْتَ فِيهَا الأَنَامَا
يَرِدُ الوَاغِلُ الغَرِيبُ فَيُرْوَى * وَبَنُوكَ الكِرَامُ تَشْكُو الأُوَامَا

[১ (গ). ওহে নীল নদ! আমরা কীভাবে এমন দেশে পিপাসার্ত সন্ধ্যা যাপন করি যেখানে তুমি সমগ্র সৃষ্টি ও মানবকুলকে সিক্ত ও পরিতৃপ্ত করেছ?! অথচ কোনো অজ্ঞাতপরিচয় অনাহূত বিদেশী এসে তোমার সুশীতল জলে তৃষ্ণা নিবারণ করে তৃপ্ত হয়, আর তোমারই সম্মানিত ও খাঁটি সন্তানরা তীব্র তৃষ্ণা ও তৃষ্ণার যন্ত্রণায় হাহাকার করে!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
عطاشاً: পিপাসার্ত অবস্থায়। رويت: তৃষ্ণা মিটিয়ে সিক্ত করেছ। الأنام: সমগ্র সৃষ্টিজগৎ বা মানবজাতি। الواغل: বিনা আমন্ত্রণে উপস্থিত অনাহূত ব্যক্তি (এখানে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসক ও দখলদারদের রূপক)। الأوام: তীব্র পিপাসা ও দহনজ্বালা।
কবি হাফিজ ইবরাহীম মিশরের নীল নদের অফুরন্ত প্রাচুর্যের সাথে মিশরীয় জনতার চরম দারিদ্র্য ও শোষণের মর্মস্পর্শী বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। দেশের ধনসম্পদ দখলদার ইংরেজরা ভোগ করছে আর প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিকেরা বঞ্চিত হচ্ছে।


(د) لحافظ إبراهيم في قصيدة «النيل»:

ضَاقَ فِي مِصْرَ قِسْمُنَا فَاعْذِرُونَا * إِنْ حَسَدْنَا عَلَى الجَلَاءِ الشَّآمَا
قَدْ شَقِينَا— وَنَحْنُ كَرَّمَنَا اللَّهُ * بِعَصْرٍ يُكَرِّمُ الأَنْعَامَا

[১ (ঘ). মিশরে আমাদের প্রাপ্য অধিকার ও বেঁচে থাকার রসদ সংকুচিত হয়ে পড়েছে, কাজেই আমাদের ক্ষমা করো—যদি আমরা দখলদারদের বিতাড়ন ও মুক্তির ক্ষেত্রে সিরিয়াবাসীকে দেখে ঈর্ষান্বিত হই। হায়! আমরা চরম দুর্দশা ও লাঞ্ছনায় নিমজ্জিত হয়েছি—অথচ মহান আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছিলেন—এমন এক আধুনিক যুগে যেখানে চতুষ্পদ জন্তু-জানোয়ারও সম্মান ও যত্ন লাভ করে!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
ضاق قسمنا: আমাদের ভাগ বা অধিকার সংকুচিত হয়েছে। الجلاء: দখলদার সৈন্য প্রত্যাহার ও স্বাধীনতা লাভ। الشآم: বৃহত্তর সিরিয়া অঞ্চল। شقينا: আমরা দুর্দশাগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়েছি। الأنعام: চতুষ্পদ গৃহপালিত পশুপাখি।
ব্রিটিশ আধিপত্যে পরাধীন মিশরের দুর্দশা দেখে কবি আফসোস করেছেন। তৎকালীন পশ্চিমা বিশ্বে পশুদের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করা হলেও মিশরীয় স্বাধীনচেতা মানুষদের পশুর চেয়েও অধম গণ্য করা হতো।


(هـ) لحافظ إبراهيم في قصيدة «غادة اليابان»:

كُنْتُ أَهْوَى فِي زَمَانِي غَادَةً * وَهَبَ اللَّهُ لَهَا مَا وَهَبَا
ذَاتَ وَجْهٍ مَزَجَ الحُسْنُ بِهِ * صُفْرَةً تُنْسِي اليَهُودَ الذَّهَبَا

[১ (ঙ). আমি আমার যৌবনকালে এক অনিন্দ্যসুন্দরী রূপসী তরুণীকে ভালোবাসতাম, যাকে মহান আল্লাহ অফুরন্ত রূপ-লাবণ্য ও গুণাবলি দান করেছিলেন। সে ছিল এমন এক উজ্জ্বল মোহময় চেহারার অধিকারিণী, যার নিখুঁত সৌন্দর্যের সাথে এক মনকাড়া সোনালী আভা মিশ্রিত ছিল—যা দেখে স্বর্ণপ্রেমী ইহুদিরাও নিজেদের সঞ্চিত খাঁটি স্বর্ণের কথা ভুলে যেত!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
أهوى: আমি ভালোবাসতাম। غادة: কমনীয় ও রূপবতী তরুণী। مزج: মিশ্রিত করেছে। صفرة: সোনালী বা হলদে আভা (পূর্ব এশীয় মঙ্গোলীয় গাত্রবর্ণের রূপক প্রশংসা)।
১৯০৪ সালে রুশ-জাপান যুদ্ধে জাপানের আধুনিকায়ন ও জাতীয় বীরত্ব দেখে প্রাচ্যপ্রেমী হাফিজ ইবরাহীম জাপানি জাতির প্রতীক হিসেবে এক দেশপ্রেমিক জাপানি কন্যার রূপক অঙ্কন করেছেন।


(و) لحافظ إبراهيم في قصيدة «غادة اليابان»:

بَعَثَ الأُمَّةَ مِنْ مَرْقَدِهَا * وَدَعَاهَا لِلعُلَا أَنْ تَدْأَبَا
قَسَمَتْ لِلمَجْدِ تَبْغِي شَأْوَهُ * وَقَضَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَأْرَبَا

[১ (চ). সেই মহান সম্রাট নিজ জাতিকে দীর্ঘকালের গাফলতের নিদ্রা থেকে জাগ্রত করলেন এবং আত্মমর্যাদা ও সর্বোচ্চ মর্যাদায় আরোহণের জন্য নিরলস পরিশ্রমের আহ্বান জানালেন। ফলে জাতি গৌরবের শীর্ষ সীমায় পৌঁছার শপথ করল এবং সফলতার প্রতিটি স্তর থেকে নিজ কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন করে নিল।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
بعث الأمة: জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করলেন। مرقدها: শয়নকক্ষ বা নিষ্ক্রিয়তার ঘুম। تدأب: অবিরাম ও নিরলস পরিশ্রম করা। شأوه: লক্ষ্য বা চূড়া। مأرباً: উদ্দেশ্য ও অভীষ্ট লক্ষ্য।
জাপানের সম্রাট মেইজির আধুনিকায়ন ও শিক্ষা বিপ্লবের ফলে একটি এশীয় জাতি কীভাবে ইউরোপীয় পরাশক্তিকে পরাজিত করে শীর্ষস্থানে পৌঁছেছিল, তা তুলে ধরে হাফিজ নিজ মিশরীয় ও আরব জাতিকে জাগরণের আহ্বান জানিয়েছেন।


(ز) لعمر أبو ريشة في قصيدة «النسر»:

وَهَوَى جُثَّةً عَلَى الذِّرْوَةِ الشَّمَّاءِ * فِي حِضْنِ وَهْجِهَا المُسْتَطِيرِ
أَيُّهَا النَّسْرُ هَلْ أَعُودُ كَمَا عُدْتَ * أَمِ السَّفْحُ قَدْ أَمَاتَ شُعُورِي

[১ (ছ). আর সেই ঈগলটি সুউচ্চ ও দুর্ভেদ্য পর্বতশৃঙ্গের ওপর এক নিথর দেহে পতিত হলো—তার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা লেলিহান সূর্যের উত্তপ্ত আলোর কোলে। হে মহাবীর ঈগল! তুমি যেভাবে বিজয়ের চূড়ায় ফিরে এসেছ, আমিও কি সেভাবে ফিরে আসতে পারব? নাকি উপত্যকার এই নিচু পাদদেশ আমার আত্মমর্যাদা ও অনুভূতির প্রদীপকে চিরতরে নিভিয়ে দিয়েছে?!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
هوى: পতিত হলো। الذروة الشماء: সুউচ্চ ও দুর্গম পর্বতচূড়া। وهجها المستطير: সর্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রচণ্ড উত্তাপ ও কিরণ। السفح: পর্বতের নিচু পাদদেশ (হীনতা ও দাসত্বের প্রতীক)। شعوري: আমার আবেগ ও মানবিক চেতনা।
সিরিয়ার জাতীয়তাবাদী কবি উমর আবু রীশাহ আহত ঈগলের মৃত্যুর মাধ্যমে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বীর পুরুষের উপমা দিয়েছেন, যে হীন উপত্যকায় বেঁচে থাকার চেয়ে পর্বতচূড়ায় স্বাধীনতা নিয়ে মৃত্যুবরণ করাকে শ্রেয় মনে করে।


(ح) لعمر أبو ريشة في قصيدة «النسر»:

إِنَّهُ لَمْ يَعُدْ يَكْحَلُ جَفْنَ النَّجْمِ * تِيهًا بِرِيشِهِ المَنْثُورِ
هَجَرَ الوَكْرَ ذَاهِلًا وَعَلَى عَيْنَيْهِ * شَيْءٌ مِنَ الوَدَاعِ الأَخِيرِ

[১ (জ). সে আর আগের মতো অহংকার ও বীরদর্পে নিজের ডানা ও পালক মেলে তারার পাতায় সুরমার স্পর্শ বুলিয়ে দেয় না। সে চরম বিহ্বল ও আত্মহারা অবস্থায় নিজ নিরাপদ নীড় পরিত্যাগ করেছে, আর তার তীক্ষ্ণ চোখের কোণে ফুটে উঠেছে চিরবিদায়ের এক শেষ অশ্রুসিক্ত চাহনি।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
يكحل جفن النجم: তারার চোখে সুরমা পরিয়ে দেওয়া (সুউচ্চ আকাশে ওড়ার অনবদ্য রূপক)। ريشه المنثور: ছড়িয়ে থাকা পালক বা ডানা। هجر الوكر: বাসা বা নীড় ত্যাগ করল। ذاهلاً: মোহগ্রস্ত, উদভ্রান্ত বা শোকাহত অবস্থায়।
বার্ধক্য ও আঘাতে ক্লান্ত একটি মুক্তিকামী ঈগলের বিদায়লগ্নের মর্মস্পর্শী রূপায়ণ; যা প্রকৃতপক্ষে পরাধীন ও শোষিত জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের করুণ ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের প্রতীক।


(ط) لبدوي الجبل في قصيدة «الطفولة»:

إِذَا أُذِيَتْ نَفْسِي صَرَخْتُ وَلَمْ أُبَلْ * وَدَاوَيْتُ نَفْسِي الأَسَى بِبُكَائِيَا
وَمَا كُنْتُ أَدْرِي الهَمَّ كَيْفَ مَذَاقُهُ * وَلَا كَانَ شَيْءٌ عَازِبًا عَنْ رَجَائِيَا

[১ (ঝ). শৈশবে আমার আত্মা সামান্য আঘাত পেলেই আমি পরোয়াহীনভাবে চিৎকার করে উঠতাম, আর দু’চোখের কান্নার ধারা দিয়েই আমার সমস্ত অন্তর্জ্বালা ও শোক নিরাময় করে নিতাম। তখন আমি জানতামই না যে দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণার স্বাদ কেমন তিক্ত হয়, আর আমার ছোট্ট কোনো ইচ্ছাই আমার আশার পরিমণ্ডলের বাইরে অধরা থাকত না।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
لم أبل: আমি পরোয়া করতাম না। داويت الأسى: দুঃখ-বেদনা নিরাময় করতাম। الهم: মনঃকষ্ট ও পার্থিব জটিল চিন্তা। عازباً عن رجائيا: আমার প্রত্যাশার দিগন্তের বাইরে বা অপূর্ণ।
সিরিয়ার সুফি-রোমান্টিক কবি বাদাবী আল-জাবাল (মুহাম্মদ সুলাইমান আল-আহমাদ) তাঁর বিখ্যাত ‘আত-তুফুলাহ’ কবিতায় শৈশবের নিষ্কলুষ সারল্য, মানসিক প্রশান্তি এবং পার্থিব জটিলতাহীন পরম সুখের স্মৃতিচারণ করেছেন।


(ي) لبدوي الجبل في قصيدة «الطفولة»:

وَأَثْقَلَنِي هَمِّي وَأَقْعَدَنِي فَمَا * أُصَعِّدُ طَرْفِي مَرَّةً فِي سَمَائِيَا
بَلِيتُ كَمَا تَبْلَى الطُّلُولُ وَهَلْ تَرَى * عَلَى عَنَتِ الأَيَّامِ يَا قَلْبُ نَاجِيَا

[১ (ঞ). কিন্তু আজ বার্ধক্যে জীবনের গভীর দুশ্চিন্তা আমাকে এতটাই ভারাক্রান্ত ও অচল করে দিয়েছে যে আমি একবারের জন্যও আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারি না। প্রাচীন পরিত্যক্ত গৃহের ধ্বংসাবশেষ যেভাবে ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিশ্চিহ্ন হয়, আমিও সেভাবে জরাজীর্ণ হয়েছি; ওহে আমার ব্যথিত হৃদয়! কালের এই নিষ্ঠুর আঘাত ও বিপদের মুখে তুমি কি কাউকে রেহাই বা মুক্তি পেতে দেখেছ?!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
أثقلني وأقعدني: আমাকে ভারাক্রান্ত ও পঙ্গু করে দিল। أُصعد طرفي: চোখ তুলে দৃষ্টিপাত করা। الطلول: প্রাচীন বাসস্থানের ভগ্নাবশেষ। عنت الأيام: ভাগ্যের চরম কঠোরতা ও কালের প্রতিকূলতা। ناجياً: উদ্ধারপ্রাপ্ত বা পরিত্রাণপ্রাপ্ত।
শৈশবের মুক্ত জীবনের সাথে বার্ধক্যের শারীরিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক নির্বাসন ও ব্যক্তিগত দুঃখের এক বিষাদঘন দার্শনিক তুলনা।


(ك) لميخائيل نعيمة في قصيدة «الساعة»:

كَمْ سَاعَةٍ آلَمَنِي مَسُّهَا * وَأَزْعَجَتْنِي يَدُهَا القَاسِيَةُ
فَتَّشْتُ فِيهَا جَاهِدًا لَمْ أَجِدْ * هُنَيْهَةً وَاحِدَةً صَافِيَةً

[১ (ট). জীবনের কত না ঘণ্টা ও মুহূর্তের তিক্ত স্পর্শ আমাকে নিদারুণ বেদনা দিয়েছে, আর সময়ের নিষ্ঠুর ও নির্মম হাত আমাকে চরমভাবে অশান্ত ও ক্লিষ্ট করেছে! আমি সেইসব অতিবাহিত মুহূর্তের মাঝে ব্যাকুল হয়ে অবিরাম খুঁজেছি, কিন্তু একটিবারের জন্যও নিষ্কণ্টক, সম্পূর্ণ নির্মল ও প্রশান্তিময় কোনো ক্ষণ খুঁজে পাইনি।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
آلمني مسها: তার স্পর্শ আমাকে ব্যথিত করেছে। يدها القاسية: তার নির্দয় ও নিষ্ঠুর হাত। فتشت جاهداً: আপ্রাণ অনুসন্ধান করেছি। هنيهة صافية: এক নিমেষের নির্মল প্রশান্তি।
মাহজার আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় দার্শনিক কবি মিখাইল নুয়াইমাহ ঘড়ির কাঁটার গতি এবং সময়ের নিষ্ঠুরতার রূপকে মানবজীবনের ক্লান্তি, উদ্বেগ ও চিরন্তন অতৃপ্তির চিত্র এঁকেছেন।


(ل) لميخائيل نعيمة في قصيدة «الساعة»:

هَذَا هُوَ العَيْشُ فَقُلْ لِلَّذِي * تَجْرَحُهُ السَّاعَةُ وَالثَّانِيَةُ
يَا شَاكِيَ السَّاعَاتِ اسْمَعْ عَسَى * تُنْجِيكَ مِنْهَا السَّاعَةُ القَاضِيَةُ

[১ (ঠ). এটিই হলো মানুষের পার্থিব জীবনের প্রকৃত বাস্তবতা! অতএব যার হৃদয় প্রতিটি ঘণ্টা ও প্রতি সেকেন্ডের টিকটিক শব্দে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত হয়, তাকে জানিয়ে দাও: হে সময়ের অভিযোগকারী ব্যাকুল মানুষ! তুমি মন দিয়ে শোনো, সম্ভবত মৃত্যুর সেই চূড়ান্ত ও পরিসমাপ্তকারী ঘণ্টাই তোমাকে সময়ের এই অনন্ত যন্ত্রণা থেকে চিরতরে নিষ্কৃতি দেবে!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
العيش: জীবনধারণের বাস্তবতা। تجرحه: ক্ষতবিক্ষত করে। شاكي الساعات: সময়ের বিরুদ্ধে নালিশকারী। الساعة القاضية: কিয়ামত বা নিশ্চিত মৃত্যুর চূড়ান্ত মুহূর্ত।
কবি একটি সুগভীর জীবনদর্শনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন—পার্থিব সময়ের যন্ত্রণাময় শৃঙ্খল থেকে মানুষের চূড়ান্ত মুক্তি কেবল মৃত্যুই নিশ্চিত করতে পারে, যা নশ্বর জীবনকে অবিনশ্বর আত্মিক প্রশান্তিতে রূপ দেয়।


(م) لحافظ إبراهيم في قصيدة «غلاء الأسعار»:

فَقَالُوا خُمُورٌ مَا تُبَرِّدُ غُلَّةً * فَتَمْتَمْتُ وَاهًا أَكْبُدَ الشُّعَرَاءِ
أَيُنْكَرُ حَتَّى البُؤْسُ مَا فِيكَ مِنْ غِنَى * وَأَيَّدَ غِذَاءٌ أَتَتْ لِلبُؤَسَاءِ

[১ (ড). সম্পদশালীরা তাচ্ছিল্যভরে বলল: এগুলো তো কেবল অলীক সুরার বুদবুদ, যা কখনো তৃষ্ণার্তের পিপাসা মেটাতে পারে না! তখন আমি বিড়বিড় করে আফসোস করে বললাম: হায় কবিদের দগ্ধ কলিজা! চরম দুর্ভাগ্য ও দারিদ্র্যও কি তোমার ভেতরের সুপ্ত আত্মিক মহত্ত্ব ও ঐশ্বর্যকে অস্বীকার করবে? অথচ তুমিই ছিলে সেই পরম আশ্রয় ও শক্তিশালী হাত, যা দুঃখী-দরিদ্র মানুষের জন্য খাবার ও সান্ত্বনা বয়ে নিয়ে আসত!]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
غلة: অন্তরের তীব্র তৃষ্ণা বা ক্ষুধা। تمتمت: মৃদুস্বরে বিড়বিড় করলাম। واهاً: হায় বা বিস্ময় ও পরিতাপসূচক অব্যয়। البؤس: চরম দারিদ্র্য ও ক্লেশ। أيد غذاء: খাদ্য ও রসদের সহায়ক হাত।
হাফিজ ইবরাহীম মিশরের অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের তীব্র ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে রচিত এই সামাজিক কবিতায় সমাজের ধনীক শ্রেণির নিষ্ঠুরতা এবং কবিতার প্রতি তাদের অনীহার বিপরীতে দরিদ্র জনতার প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ ফুটিয়ে তুলেছেন।


(ن) لحافظ إبراهيم في قصيدة «غلاء الأسعار»:

فَمَالُوا جَمِيعًا عَنْ إِنَائِي وَغَمْغَمُوا * إِنَاءُكَ مَحْظُورٌ عَلَى الزُّعَمَاءِ
وَذَوَّبْتُ قَلْبِي فِي إِنَاءٍ مِنَ الهَوَى * وَأَدْنَيْتُهُ مِنْ مَرْشَفِ السُّجَفَاءِ

[১ (ঢ). ফলে সমাজের সমস্ত ধনিক নেতা ও প্রভাবশালীরা একযোগে আমার পাত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং অস্ফুট স্বরে বলল: তোমার ভালোবাসার এই পাত্র তো সমাজের নেতৃবৃন্দের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! অথচ আমি আমার সমগ্র হৃদয়কে খাঁটি ভালোবাসার পাত্রে গলিয়ে দিয়েছিলাম এবং তা অন্তঃপুরের দীন-দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের পিপাসিত ওষ্ঠাধরের সান্নিধ্যে পৌঁছে দিয়েছিলাম।]

শব্দার্থ ও ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
مالوا: মুখ ফিরিয়ে নিল বা উপেক্ষা করল। غمغموا: অস্পষ্ট বা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ফিসফিস করল। محظور: নিষিদ্ধ। الزعماء: নেতা ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ। مرشف: চুমুক দেওয়ার স্থান বা অধর। السجفاء: পর্দানশীন, অবহেলিত ও দুর্বল জনসাধারণ।
জনগণের কবি হাফিজ ইবরাহীম শাসক ও ধনীদের খোশামোদ করার বদলে সাধারণ মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোকেই কবির সর্বোচ্চ নৈতিক আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।


٢- اشرح بالعربية اثنين مما يلي:

[২. নিচের চরণগুলো থেকে যেকোনো দুটির প্রাঞ্জল আরবি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ কর:]

(أ) الروح والملأ الملائك حوله * للدين والدنيا به بشراء

[২ (ক). ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:]

الشرح والتحليل الأدبي بالعربية:
هذا البيت المنيف من درر «الهمزية النبوية» لأمير الشعراء أحمد شوقي، يصور فيه المشهد الكوني المهيب لولادة سيد المرسلين وخاتم النبيين محمد ﷺ.
١. المعنى العام: يذكر الشاعر أن روح القدس جبريل عليه السلام ومعه وفود الملائكة المقربين قد أحاطوا بمولد النبي ﷺ، مبشرين أهل السماوات والأرض بمقدم هذا النور الخالد الذي جاء مصلحاً ومجدداً لأمر الدين والدنيا معاً.
٢. الاستبشار الديني والدنيوي: استبشر الدين ببعثته؛ لأنه كشف ظلمات الشرك وأقام صرح التوحيد الخالص، واستبشرت الدنيا؛ لأن رسالته أرست قواعد العدالة والمساواة والرحمة العامة للبشرية جمعاء، مصداقاً لقوله تعالى: ﴿وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ﴾.
٣. الجمال البلاغي: في البيت جناس واشتقاق لطيف بين «الدين والدنيا»، وطباق معنوي يجمع بين عالم الغيب (الملأ الأعلى) وعالم الشهادة، واستعمال لفظ «بشراء» مبالغة في عموم الفرح والسرور الكوني بهذا الميلاد الأغر.
বাংলা তাৎপর্য: আহমদ শাওকী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শুভাগমনকে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য এক পরম সৌভাগ্য হিসেবে রূপায়িত করেছেন। হযরত জিবরাইল (আ.) ও অগণিত ফেরেশতাকুল এই পবিত্র ধরণীতে অবতীর্ণ হয়ে দ্বীন ও দুনিয়ার শান্তি ও মুক্তির বার্তা ঘোষণা করেছিলেন।


(ب) تؤثر الموت في ربا النيل جوعا * وترى العار أن تعاف المقاما

[২ (খ). ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:]

الشرح والتحليل الأدبي بالعربية:
هذا البيت من عيون شعر حافظ إبراهيم في قصيدته الوطنية الشهيرة «النيل»، يصور فيه أصالة الوجدان المصري وشدة تعلقه بتراب وطنه الخالد.
١. المعنى العام: يؤكد الشاعر أن أبناء مصر المخلصين يفضلون الموت جوعاً وفقراً على ربا النيل وضفافه، على أن يتركوا وطنهم ويهجروه طلباً للرزق في ديار الغربة؛ لأنهم يرون في مغادرة الوطن والهروب من أزماته عاراً كبيراً لا يمحى، ونقيصة تأباها النفوس الحرة الكريمة.
٢. التحليل الوطني: يعكس البيت مدى رسوخ عقيدة حب الوطن لدى الشعب المصري في مواجهة ويلات الاحتلال البريطاني وسياسات التجويع والاضطهاد. فالصبر على شظف العيش في حمى الوطن أكرم عند الأحرار من العيش في النعيم تحت سماء المنفى.
٣. القيمة البلاغية: في قوله «تؤثر الموت جوعاً» مبالغة مقبولة تكشف عن قمة الوفاء والفداء، والمقابلة بين «الموت جوعاً في الوطن» و«العار في مفارقته» تبرز عظمة النفس الإنسانية حين تعتز بأصلها وهويتها.
বাংলা তাৎপর্য: কবি হাফিজ ইবরাহীম মিশরীয়দের গভীর দেশপ্রেম ফুটিয়ে তুলে বলেছেন যে, দেশপ্রেমিক নাগরিকেরা নিজ দেশের মাটিতে অনাহারে মৃত্যুবরণ করাকেও পরম সৌভাগ্য মনে করে, কিন্তু মাতৃভূমি ছেড়ে অন্য কোথাও পালিয়ে যাওয়াকে চিরন্তন কলঙ্ক ও অসম্মান বিবেচনা করে।


(ج) وامرح كما يَمرح ذو نشوة * في قلة من تحتها الهاوية

[২ (গ). ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:]

الشرح والتحليل الأدبي بالعربية:
هذا البيت الحكيم للشاعر والفيلسوف المهجري ميخائيل نعيمة من قصيدته التأملية «الساعة»، يجسد فيه الغفلة الإنسانية القاتلة تجاه حقيقة الفناء وحتمية الموت.
١. المعنى والتشبيه: يخاطب الشاعر الإنسان المغرور بالدنيا قائلاً: عش في مرحك ولهوك كأنك شارب خمر سكران، يرقص طرباً فوق قمة جبل شاهقة، غير مدرك أن تحت قدميه هاوية سحيقة وهلاكاً محتوماً ينتظره في أي لحظة.
٢. البعد الفلسفي: يحمل البيت بعداً وجودياً عميقاً ينبه الإنسان إلى سرعة انقضاء الساعات والأنفاس. فالأفراح الدنيوية الزائلة ليست إلا سكرة تحجب عن المرء رؤية الهاوية، وهي حافة القبر التي يقف عليها كل حي.
٣. الجمال الفني: وظف الشاعر الصورة الحركية المخيفة «ذو نشوة في قلة من تحتها الهاوية» لبيان التناقض الصارخ بين نشوة الغفلة وسقوط الفناء، وهي استعارة تمثيلية بارعة تهز الوجدان الإنساني وتحثه على اليقظة.
বাংলা তাৎপর্য: মিখাইল নুয়াইমাহ মানুষের পার্থিব মোহাচ্ছন্নতার এক রূপক চিত্র এঁকেছেন। মানুষ পাহাড়ের খাড়া চূড়ায় মদ্যপের মতো আনন্দোল্লাসে মেতে থাকে, অথচ সে খেয়াল করে না যে তার পায়ের নিচেই রয়েছে অতল গহ্বর বা নিশ্চিত মৃত্যু।


(د) وإذا ما أتى الغياهب واجتاز * مدى الظن من ضمير الأثير

[২ (ঘ). ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ:]

الشرح والتحليل الأدبي بالعربية:
هذا البيت الرائع من قصيدة «النسر» للشاعر السوري الكبير عمر أبي ريشة، يرسم فيه صورة العظمة والكبرياء لنسره الأبي المحلق في أعالي الفضاء.
١. المعنى والرمزية: يصف الشاعر النسر عندما يخترق حلكة الظلمات والغياهب المتراكمة، ويصل في علوه وتحليقه إلى ما وراء حدود الأوهام والظنون في أعماق الأثير اللانهائي. هذا العلو الشاهق يرمز إلى سمو الروح الإنسانية الحرة التي ترفض القيود ولا ترضى بغير معانقة المجد والخلود بديلاً.
٢. المضمون الثوري: النسر في شعر عمر أبي ريشة ليس مجرد طائر جارح، بل هو رمز للأمة العربية الثائرة، وللإنسان المبدع الذي يتحدى ظلمات الواقع المرير، ويتسامى فوق سفاسف الأرض وضعتها ليعيش في عالم الحرية والسيادة المطلقة.
٣. الخصائص الأسلوبية: استعمل الشاعر ألفاظاً فخمة موحية مثل «الغياهب»، «اجتاز»، «ضمير الأثير»؛ مما أضفى على المشهد هيبة وجلالاً، وجعل التحليق يكتسب صبغة فلسفية وروحية سامية تتجاوز المألوف.
বাংলা তাৎপর্য: উমর আবু রীশাহ মুক্তিকামী আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তির প্রতীক হিসেবে ঈগলের সুউচ্চ উড্ডয়নের চিত্র এঁকেছেন। ঈগল যেমন অন্ধকারের ঘনঘটা ভেদ করে মহাশূন্যের অদৃশ্য দিগন্ত অতিক্রম করে যায়, তেমনি স্বাধীনচেতা মানুষও সকল প্রতিকূলতা ছিন্ন করে সম্মানের শিখরে আরোহণ করে।


٣- أجب عن ثلاثة من الأسئلة التالية بالعربية:

[৩. নিচের যেকোনো তিনটি প্রশ্নের আরবিতে বিশদ উত্তর দাও:]

(أ) اكتب أغراض الشعر العربي الحديث-

[৩ (ক). আধুনিক আরবি কবিতার প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু আলোচনা কর:]

الجواب بالعربية:
مرّ الشعر العربي في العصر الحديث بنهضة كبرى؛ فانتقل من مرحلة الجمود والانحطاط التي سادت في العصر العثماني إلى مرحلة الإحياء والبعث ثم التجديد والابتكار. وتعددت أغراضه وموضوعاته لتواكب النهضة الفكرية والاجتماعية والسياسية، ومن أبرز تلك الأغراض ما يلي:
١. الشعر الوطني والقومي (الدفاع عن الأوطان والتحرر): صار الشعر لسان الثورات وصوت الجماهير ضد الاستعمار الغربي، فدعا الشعراء إلى التضحية ومقاومة المحتل وإشعال الحماسة القومية، كما نجد عند البارودي، وشوقي، وحافظ، وعمر أبي ريشة.
٢. الشعر الاجتماعي: نزل الشعر من أبراج المديح الزائف إلى الشارع لمعالجة هموم الناس وقضاياهم؛ مثل مكافحة الفقر والجهل، ومحاربة الغلاء، والدعوة إلى تعليم المرأة ونيل حقوقها المشروعة، ومساندة العمال والفلاحين.
٣. الشعر الوجداني والرومانسي: ظهر هذا الغرض بقوة مع مدرسة الديوان، وجماعة أبولو، ومدرسة المهجر، حيث عبّر الشعراء عن ذواتهم الفردية، وآلامهم النفسية، وتأملاتهم في أسرار النفس والطبيعة والحب العذري.
٤. الشعر التأملي والفلسفي: اهتم شعراء المهجر بمناقشة قضايا الوجود، وأصل الحياة والموت، وسر الروح، وقسوة الزمن، كما يتجلى في قصائد ميخائيل نعيمة وإيليا أبي ماضي.
٥. المديح النبوي والإسلاميات: أعاد شعراء الإحياء (خاصة أحمد شوقي في نهج البردة وهمزيته) المديح النبوي إلى مكانته الرفيعة كوسيلة لتذكير المسلمين بأمجادهم وحثهم على استعادة عزتهم.
٦. الشعر المسرحي والملحمي: غرض مبتكر أدخله أمير الشعراء أحمد شوقي في الأدب العربي؛ حيث كتب مسرحيات شعرية تاريخية وأخلاقية مثل: «مصرع كليوباترا»، و«مجنون ليلى»، و«علي بك الكبير».
বাংলা নোট: আধুনিক আরবি কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি দরবারি তোষামোদ ছেড়ে জনগণের জাতীয় স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, আত্মিক অনুভূতি এবং দার্শনিক ভাবনার বাহন হয়ে উঠেছে।


(ب) اكتب خلاصة القصيدة ‘غلاء الأسعار’-

[৩ (খ). ‘গালাউল আস’আর’ (দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি) কবিতার সারসংক্ষেপ লেখ:]

الجواب بالعربية:
قصيدة «غلاء الأسعار» لشاعر النيل والشعب حافظ إبراهيم هي وثيقة شعرية واجتماعية خالدة، تنبض بآلام الشعب المصري ومعاناته في ظل الأزمة الاقتصادية الخانقة والاحتكار الأجنبي.
١. الفكرة المحورية: تدور القصيدة حول المعاناة الشديدة التي كابدها الفقراء وأصحاب الدخل المحدود جراء الارتفاع الجنوني في أسعار المواد الأساسية من طعام وكساء ودواء، مع تدني الأجور وعجز الآباء عن توفير لقمة العيش لأطفالهم الجياع.
٢. السخرية اللاذعة: استخدم حافظ أسلوب السخرية المرة والتهكم لتصوير حجم الكارثة؛ حيث يقول إن الغلاء قد طال كل شيء حتى كاد يمس الهواء والماء، وأصبح الفقير محاصراً بالبؤس من كل جانب دون أن يجد من يغيثه من أصحاب الثروات والقرار.
٣. موقف الشاعر الإنساني: يظهر الشاعر نفسه كصوت حقيقي للمحرومين والمساكين، رافضاً أن يسخر قريحته في نيل رضا الأغنياء والزعماء المتنكرين لجوع شعوبهم، مؤكداً أن دموع الأيتام وأنين الجياع هي الدافع الأقدس لكتابة الشعر المقاوم.
٤. الأثر الأدبي: نجحت القصيدة في إثارة الرأي العام المصري، وأثبتت أن الشعر الحديث أصبح سلاحاً فعالاً للنقد الاجتماعي ومحاسبة السلطة المستبدة.
বাংলা নোট: হাফিজ ইবরাহীম এই কবিতায় তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মিশরের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কোটিপতিদের উদাসীনতার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন এবং নিজেকে মেহনতি মানুষের মুখপাত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।


(ج) بين خلاصة القصيدة ‘الطفولة’-

[৩ (গ). বাদাবি আল-জাবাল রচিত ‘আত-তুফুলাহ’ (শৈশব) কবিতার সারসংক্ষেপ আলোচনা কর:]

الجواب بالعربية:
تعد قصيدة «الطفولة» للشاعر السوري الكبير بدوي الجبل (محمد سليمان الأحمد) من أرقّ وأبدع ما قيل في الشعر العربي المعاصر في تصوير عالم الطفولة البريء، وقد نظمها بدافع الشوق والحنين لحفيده وهو في ديار الغربة والمنفى السياسي.
١. المضمون الأساسي: يستهل الشاعر قصيدته باسترجاع ذكريات طفولته الصافية الخالية من الهموم والأحزان؛ حيث كان البكاء دواءه الوحيد لأي ألم عارض، وما كانت نفسه تعرف طعم القلق أو الحرمان، وكانت آماله كلها حاضرة وقريبة المنال.
٢. المفارقة بين الصغر والشيخوخة: يقارن بدوي الجبل بحسرة مؤلمة بين طمأنينة الطفولة وقسوة الكبر والشيخوخة؛ فقد أثقلت هموم السياسة والمنفى كاهله، وأقعدته عن التطلع إلى الآفاق الرحبة، وبات قلبه كالأطلال الدارسة التي تصارع عواصف الدهر ونوائبه.
٣. النزعة الإنسانية والروحية: تتجلى في القصيدة عاطفة جياشة ورؤية صوفية رقيقة ترى في الأطفال ملائكة رحمة ونفحات إلهية تملأ الكون سعادة وسلاماً، متمنياً أن يعم هذا الصفاء الطفولي أرجاء العالم ليطفئ نيران الحروب والأحقاد.
বাংলা নোট: কবি শৈশবের নির্মল সুখ ও বর্তমান বার্ধক্যের রাজনৈতিক দুঃখ-কষ্টের তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে শিশুদের নিষ্পাপতাকে পৃথিবীর সকল অশান্তি ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক স্বর্গীয় শান্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।


(د) تحدث عن ميلاد الرسول (ص) في ضوء القصيدة ‘الهمزية النبوية’-

[৩ (ঘ). ‘আল-হামজিয়্যাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ কাসিদার আলোকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিলাদত আলোচনা কর:]

الجواب بالعربية:
رسم أمير الشعراء أحمد شوقي في «الهمزية النبوية» لوحة كونية إعجازية لميلاد النبي محمد ﷺ، واعتبره الحدث الأعظم الذي بدّل مسار التاريخ الإنساني ونقله من ظلمات الجاهلية إلى نور الإيمان.
١. ابتهاج الأكوان بمولده: يفتتح شوقي همزيته ببيته التاريخي الخالد:
«وُلِدَ الهُدَى فَالكَاَئِنَاتُ ضِيَاءُ * وَفَمُ الزَّمَانِ تَبَسُّمٌ وَثَنَاءُ»
حيث صوّر الكون كله كائناً حياً مبتهجاً؛ فالعرش يزهو، والجنة تزدان، والزمان ينطق بالحمد والابتسام لاستقبال رسول الرحمة.
٢. بشارة الملائكة والأنبياء: أشار الشاعر إلى نزول جبريل والملائكة الأبرار حاملين البشائر لأهل الأرض، مؤكداً أن الأنبياء السابقين (كموسى وعيسى عليهما السلام) قد بشروا بهذا الميلاد المبارك واهتزت السماء فرحاً بنور أحمد ﷺ.
٣. تهاوي عروش الطغيان والظلم: ارتبط هذا الميلاد بتصدع إيوان كسرى وانطفاء نيران فارس المجوسية، في إشارة رمزية بليغة إلى سقوط قوى الشرك والاستبداد وبزوغ فجر العدل والحرية والكرامة الإنسانية.
٤. رسالة الإنسانية الكبرى: لم يكن الميلاد مجرد حدث تاريخي عابر، بل كان تجسيداً لإرادة الله في تطهير البشرية من الوثنية وعبادة الأصنام، وإقامة مجتمع التوحيد والأخوة الإنسانية القائم على العلم والعمل الصالح.
বাংলা নোট: আহমদ শাওকী রাসূল ﷺ-এর পবিত্র বিলাদতকে সৃষ্টিজগতের মহামুক্তির দিন হিসেবে দেখিয়েছেন, যাঁর আগমনে কিসরার রাজপ্রাসাদ ধসে পড়েছিল এবং বিশ্বময় তাওহিদ ও মানবীয় সমতার আলো ছড়িয়ে পড়েছিল।


(هـ) اكتب نبذة من حياة الشاعر حافظ إبراهيم-

[৩ (ঙ). কবি হাফিজ ইবরাহীমের সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত ও সাহিত্যকর্ম আলোচনা কর:]

الجواب بالعربية:
١. المولد والنشأة: هو محمد حافظ بن إبراهيم فهمي، ولد في ٢٤ فبراير ١٨٧٢م على متن سفينة ذهبية راسية في نهر النيل قرب مدينة «ديروط» بمحافظة أسيوط في صعيد مصر، ولذلك لُقّب بـ «شاعر النيل». توفي والده وهو رضيع، فنشأ يتيماً في كنف خاله بالقاهرة وعاش حياة عسيرة ذاق فيها مرارة الفقر واليتم.
٢. تعليمه وحياته العملية: التحق بالمدرسة الحربية وتخرج فيها ضابطاً عام ١٨٩١م، وشارك في حملة السودان العسكرية مع الجيش المصري، لكنه فُصل من الخدمة بعد مشاركته في حركة تمرد وطنية للضباط ضد السياسة الاستعمارية البريطانية، فعاد إلى مصر وعكف على الأدب والشعر. وفي عام ١٩١١م عُيّن رئيساً للقسم الأدبي في «دار الكتب المصرية»، وظل فيها حتى تقاعده.
٣. مكانته الأدبية وألقابه: اشتهر بلقبين عظيمين: «شاعر النيل» لعشقه لبلاده، و«شاعر الشعب» لأنه كان لسان حال الجماهير، يشاركهم أفراحهم وأتراحهم ويقف في وجه الاستعمار والظلم الاجتماعي.
٤. آثاره ومؤلفاته: ترك «ديوان حافظ إبراهيم» في جزأين، وهو حافل بالقصائد الوطنية والاجتماعية والسياسية، كما كتب كتاباً نثرياً بعنوان «ليالي سطيح» نقد فيه أوضاع المجتمع المصري، وترجم ببراعة رواية «البؤساء» (Les Misérables) للأديب الفرنسي فيكتور هوجو إلى العربية.
٥. وفاته: وافته المنية في القاهرة في ٢١ يوليو ١٩٣২م عن عمر يناهز ستين عاماً، مخلفاً ثروة أدبية خالدة وتراثاً وطنياً ساطعاً.
বাংলা নোট: হাফিজ ইবরাহীম ছিলেন মিশরের জাতীয় জাগরণের কবি, যিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা পালন করেন এবং আরবি ভাষার মর্যাদা রক্ষায় অমর কাসিদা রচনা করেন।


(و) تحدث خلاصة القصيدة ‘الهمزية النبوية’-

[৩ (চ). আহমদ শাওকী রচিত ‘আল-হামজিয়্যাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ কাসিদার পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ লেখ:]

الجواب بالعربية:
تعد «الهمزية النبوية» (التي مطلعها: ولد الهدى فالكائنات ضياء) من أعظم روائع المديح النبوي في العصر الحديث، وتقع في ١٣١ بيتاً على بحر البسيط بروي الهمزة، عارض بها شوقي همزية الإمام البوصيري الخالدة.
١. أقسام القصيدة وموضوعاتها:
المقدمة والتهنئة بالمولد الشريف: استهلها بوصف الابتهاج الكوني العام لميلاد النبي ﷺ، وفرحة الملائكة والعرش والكون كله بقدوم رسول الهداية.
معجزات المولد والرسالة: استعرض الشاعر المعجزات الباهرة المقترنة بمولده الشريف؛ مثل انكسار إيوان كسرى وغيض بحيرة ساوة، ثم معجزة الإسراء والمعراج وحادثة الغار، ونزول القرآن الكريم المعجز.
الشمائل والصفات المحمدية: أبدع شوقي في تصوير أخلاق المصطفى ﷺ العالية؛ كالجود، والرحمة، والعفو عند المقدرة، والتواضع، والشجاعة، والعدل الذي ساوى به بين السيد والعبد.
بناء الدولة والحضارة الإسلامية: بيّن كيف بنى النبي ﷺ من قبائل العرب المتناحرة أمة عظيمة قادت العالم بالعلم والتقوى وحررت الشعوب من ربقة الظلم والاستعباد.
الدعاء والاستشفاع والختام: اختتم شوقي قصيدته بطلب الشفاعة النبوية، والتضرع إلى الله أن يفرّج كرب الأمة الإسلامية ويعيد لها مجدها المسلوب ووحدتها السليبة.
বাংলা নোট: এই কাসিদায় আহমদ শাওকী অত্যন্ত অলংকৃত ও তেজস্বী ভাষায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিলাদত, মুজিযা, অনুপম চরিত্রমাধুরী এবং একটি বর্বর জাতিকে শ্রেষ্ঠ সভ্যতায় রূপান্তরের বিস্ময়কর ইতিহাস তুলে ধরেছেন।


٤- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:

[৪. নিচের প্রশ্নাবলি থেকে যেকোনো চারটির বিশদ উত্তর দাও:]

(أ) من هو أمير الشعراء في العصر الحديث؟ قدر خدماته في الشعر العربي-

[৪ (ক). আধুনিক যুগে ‘আমীরুশ শুআরা’ (কবিসম্রাট) কে? আরবি কবিতায় তাঁর অবদান মূল্যায়ন কর:]

১. আমীরুশ শুআরার পরিচয়:
আধুনিক আরবি সাহিত্যের অবিসংবাদিত কবিসম্রাট বা ‘আমীরুশ শুআরা’ (أمير الشعراء) হলেন মিশরের মহাকবি আহমদ শাওকী (১৮৬৮-১৯৩২ খ্রি.)। ১৯২৭ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে সমগ্র আরব বিশ্বের প্রতিনিধি কবি ও সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমীরুশ শুআরা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
২. আরবি কবিতায় আহমদ শাওকীর অবদান:
১. কাব্যরীতির পুনরুজ্জীবন ও ক্লাসিক্যাল মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা: তুর্কি ও মামলুক শাসনামলের চরম স্থবিরতা থেকে আরবি কবিতাকে আব্বাসী স্বর্ণযুগের ভাষা, শব্দশৈলী ও অলংকারের উচ্চতায় ফিরিয়ে এনে তিনি নব্য-ক্লাসিক্যাল (ইহইয়া ও বা’স) ধারার পূর্ণতা দান করেন।
২. কাব্যনাট্যের প্রবর্তন (الشعر المسرحي): তিনি আরবি সাহিত্যে সর্বপ্রথম পশ্চিমা ধাঁচের ছন্দময় কাব্যনাটক রচনা করে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘মাজনু লাইলা’ (مجنون ليلى), ‘মিসরা কিলিয়ুবাত্রা’ (مصرع كليوباترا), ‘কামবীজ’ (قمبيز), ‘আন্তারাহ’ (عنترة) এবং ‘আমীরাতুল আন্দালুস’ (أميرة الأندلس)।
৩. ইসলামি কবিতা ও নাতে রাসূলের অমর রূপায়ন: ইমাম আল-বুসিরির অনুকরণে তাঁর রচিত ‘নাহজুল বুরদাহ’ (نهج البردة) এবং ‘আল-হামজিয়্যাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ (الهمزية النبوية) আধুনিক আরবি নাত সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ।
৪. ইতিহাস ও জাতীয়তাবাদের জাগরণ: ‘কিবারুল হাওয়াদিস ফী ওয়াদিন নীল’ (كبار الحوادث في وادي النيل) মহাকাব্যে তিনি মিশরের সুপ্রাচীন ইতিহাস, ফারাওনিক সভ্যতা ও ইসলামি যুগের বীরত্বগাথা জীবন্ত করে তুলেছেন।
৫. শিশুতোষ ও নীতিশিক্ষামূলক কবিতা: লা ফঁতেনের অনুকরণে পশুপাখির চরিত্রের মাধ্যমে নীতিশিক্ষামূলক রূপক কবিতা রচনা করে তিনি শিশুদের উপযোগী আধুনিক আরবি কাব্যের ভিত্তি স্থাপন করেন।


(ب) من كان شاعر النيل؟ اكتب نبذة من حياته-

[৪ (খ). ‘শায়িরুন নীল’ (নীল নদের কবি) কে ছিলেন? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লেখ:]

১. শায়িরুন নীলের পরিচয়:
আধুনিক আরবি সাহিত্যে ‘শায়িরুন নীল’ (شاعر النيل) এবং ‘শায়িরুশ শা’ব’ (شاعر الشعب) নামে খ্যাত হলেন মিশরের অবিসংবাদিত জাতীয় কবি মুহাম্মদ হাফিজ ইবরাহীম (১৮৭২-১৯৩২ খ্রি.)। নীল নদের ভাসমান নৌকায় তাঁর জন্ম এবং আজীবন নীল নদ ও মিশরীয় জনগণের সুখ-দুঃখ ও জাতীয় অধিকার নিয়ে উদ্দীপনাময় কবিতা রচনার কারণে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
২. সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত:
জন্ম ও বাল্যকাল: ১৮৭২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি উচ্চ মিশরের আসয়ুত প্রদেশের দায়রুত নামক স্থানে নীল নদে নোঙর করা একটি হাউসবোটে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই পিতাকে হারিয়ে মাতুলালয়ে পরম দারিদ্র্যে প্রতিপালিত হন।
শিক্ষা ও সামরিক জীবন: কায়রোতে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি সামরিক কলেজে (المدرسة الحربية) ভর্তি হন এবং ১৮৯১ সালে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন লাভ করেন। ১৮৯৬ সালে তিনি সুদানে ব্রিটিশ-মিশরীয় যৌথ অভিযানে অংশ নেন।
জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম ও চাকরিচ্যুতি: সুদানে মিশরীয় সেনাদের ওপর ব্রিটিশ অবিচারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্রিটিশরা তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। এরপর তিনি সার্বক্ষণিক সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় যুক্ত হন।
দারুল কুতুব ও সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড: ১৯১১ সালে তিনি মিশরের জাতীয় গ্রন্থাগার ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’-র সাহিত্য বিভাগের মহাপরিচালক নিযুক্ত হন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
ইন্তেকাল: ১৯৩২ সালের ২১ জুলাই কায়রোতে এই মহান কবি ইন্তেকাল করেন। কাকতালীয়ভাবে একই বছর কয়েক মাসের ব্যবধানে কবিসম্রাট আহমদ শাওকীও মৃত্যুবরণ করেন।


(ج) اكتب خمسة أبيات من حفظك (دون ما ذكر في ورقة السؤال)-

[৪ (গ). তোমার মুখস্থ থেকে যেকোনো পাঁচটি কাব্যচরণ লেখ (যা প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত হয়নি):]

رَجَعْتُ لِنَفْسِي فَاتَّهَمْتُ حَصَاتِي * وَنَادَيْتُ قَوْمِي فَاحْتَسَبْتُ حَيَاتِي
رَمَوْنِي بِعُقْمٍ فِي الشَّبَابِ وَلَيْتَنِي * عَقِمْتُ فَلَمْ أَجْزَعْ لِقَوْلِ عُدَاتِي
وَلَدْتُ وَلَمَّا لَمْ أَجِدْ لِعَرَائِسِي * رِجَالًا وَأَكْفَاءً وَأَدْتُ بَنَاتِي
وَسِعْتُ كِتَابَ اللَّهِ لَفْظًا وَغَايَةً * وَمَا ضِقْتُ عَنْ آيٍ بِهِ وَعِظَاتِ
فَكَيْفَ أَضِيقُ اليَوْمَ عَنْ وَصْفِ آلَةٍ * وَتَنْسِيقِ أَسْمَاءٍ لِمُخْتَرَعَاتِ

[১. আমি আপন সত্তার গভীরে দৃষ্টিপাত করে নিজের জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকেই অভিযুক্ত করলাম; আর নিজ জাতিকে ব্যাকুল হয়ে ডাকলাম, কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে নিজের জীবনকেই আল্লাহর সোপর্দ করলাম।
২. তারা আমার এই ভরা যৌবনেই আমাকে বন্ধ্যাত্বের অপবাদ দিল! হায়! আমি যদি বাস্তবিকই বন্ধ্যা হতাম, তবে শত্রুদের এই ব্যঙ্গোক্তি ও অপবাদে এতটা মর্মাহত হতাম না!
৩. আমি তো অতীতে অজস্র নববধূরূপী অনুপম শব্দের জন্ম দিয়েছি; কিন্তু যখন আমার সেই কন্যাদের যোগ্য বর ও মর্যাদাশীল পুরুষ খুঁজে পেলাম না, তখন আমি নিজ হাতেই তাদের জীবন্ত দাফন করলাম!
৪. আমি তো মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী কুরআন মাজিদকে তার সমস্ত শব্দসম্ভার ও গভীরতম লক্ষ্য-উদ্দেশ্যসহ নিজের বুকে ধারণ করেছি, এবং তার কোনো আয়াত ও উপদেশ ধারণে কখনো সংকীর্ণতা অনুভব করিনি;
৫. তবে কীভাবে আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে সামান্য একটি যন্ত্রের বিবরণ দিতে কিংবা নিত্যনতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পরিভাষা তৈরিতে আমি সংকীর্ণ ও অক্ষম হতে পারি?!]

উৎস ও কবি পরিচিতি:
উক্ত অমর পাঁচটি চরণ কবি হাফিজ ইবরাহীমের কালজয়ী কাসিদা «اللغة العربية تنعى حظها بين أهلها» (স্বজাতির অবহেলায় আরবি ভাষার আত্মবিলাপ) থেকে চয়ন করা হয়েছে। এতে কবি আরবি ভাষার রূপকে পশ্চিমানুকরণকারী আরবদের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং আরবি ভাষার অলৌকিক প্রাচুর্য ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।


(د) عرف الشعر لغة واصطلاحًا-

[৪ (ঘ). কবিতার আভিধানিক ও পারিভাষিক পরিচয় দাও:]

১. কবিতার আভিধানিক অর্থ (الشعر لغة):
আরবি ‘শি’র’ (الشعر) শব্দটি এসেছে ‘শা’আরা’ (شعر – يشعر) মূলধাতু থেকে, যার আভিধানিক অর্থ হলো: জানা, উপলব্ধি করা, অনুভব করা ও সূক্ষ্ম অনুভূতি লাভ করা (الفطنة، الدراية، والشعور الدقيق)। আর কবিকে ‘শা’ইর’ (شاعر) বলা হয়; কারণ তিনি সাধারণ মানুষের চেয়েও গভীর অনুভূতি ও সূক্ষ্ম প্রজ্ঞার অধিকারী («لأنه يشعر بما لا يشعر به غيره»)।
২. কবিতার পারিভাষিক সংজ্ঞা (الشعر اصطلاحًا):
ধ্রুপদী সাহিত্যের সংজ্ঞা (تعريف القدماء): প্রাচীন আরবি ছন্দবিদ ও সাহিত্যিকদের মতে কবিতা হলো:
«الشِّعْرُ هُوَ الكَلَامُ المَوْزُونُ المَقَفَّى الدَّالُّ عَلَى مَعْنًى بِالقَصْدِ»
অর্থাৎ: “সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে রচিত সুষম ছন্দবদ্ধ এবং অন্ত্যমিলযুক্ত অর্থবহ বাণীই হলো কবিতা।”
আধুনিক সাহিত্যের সংজ্ঞা (تعريف المحدثين): আধুনিক সমালোচকদের দৃষ্টিতে কবিতা কেবল ছন্দ ও অন্ত্যমিলের যোগফল নয়; বরং এটি হলো:
«الشِّعْرُ تَعْبِيرٌ فَنِّيٌّ صَادِقٌ عَنِ العَاطِفَةِ الإنْسَانِيَّةِ وَالخَيَالِ المُبْدِعِ بِلُغَةٍ إِيْحَائِيَّةٍ مُؤَثِّرَةٍ»
অর্থাৎ: “কবিতা হলো প্রভাবশালী দ্যোতনাময় ভাষার মাধ্যমে মানুষের আন্তরিক আবেগ ও সৃজনশীল কল্পনার এক নিখুঁত ও সত্যনিষ্ঠ শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ।”
৩. কবিতার মৌলিক উপাদানসমূহ:
একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতার প্রধান পাঁচটি ভিত্তি রয়েছে: ১. শব্দ ও বাকরীতি (اللفظ والأسلوب), ২. ভাব ও মূল সুর (المعنى والغرض), ৩. ছন্দ ও অন্ত্যমিল (الوزن والقافية), ৪. আবেগ ও অনুভূতি (العاطفة والوجدان), এবং ৫. কল্পনা ও উপমা (الخيال والصورة الشعرية)।


(هـ) لخص القصيدة ‘النسر’ لعمر أبي ريشة-

[৪ (ঙ). উমর আবু রীশাহ রচিত ‘আন-নিসর’ (ঈগল) কবিতার সারসংক্ষেপ লেখ:]

১. পটভূমি ও প্রতীকী চরিত্র:
সিরিয়ার জাতীয়তাবাদী মহাকবি উমর আবু রীশাহ (১৯১০-১৯৯০ খ্রি.) রচিত ‘আন-নিসর’ (النسر – ঈগল) আধুনিক আরবি প্রতীকী ও রোমান্টিক কবিতার এক কালজয়ী মাস্টারপিস। বাহ্যত এটি একটি আহত বৃদ্ধ ঈগলের গল্প হলেও প্রকৃতপক্ষে তা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বাধীনচেতা মানুষ ও ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলমুক্ত আরব জাতির সুমহান প্রতীক।
২. কবিতার মূল বিষয়বস্তুর সারাংশ:
১. পর্বতচূড়ার মহিমা ও উপত্যকার নীচতা: ঈগল চিরকাল আকাশ ও সুউচ্চ পর্বতচূড়ায় (الذروة الشماء) রাজত্ব করে। সে পর্বত পাদদেশের নীচু উপত্যকায় (السفح) থাকা অলস মুরগি, কীট ও শিকারিদের নোংরা পরিবেশকে চরম ঘৃণা করে।
২. আঘাত ও আত্মমর্যাদাবোধ: সময়ের আবর্তে ঈগলটি বার্ধক্য ও তীরের আঘাতে রক্তাক্ত হলেও সে মাটির দিকে নেমে নিচু জীবনে বেঁচে থাকতে রাজি হয়নি। সহচরদের তাচ্ছিল্য উপেক্ষা করে সে রক্তাক্ত ডানা ঝাপটে আবার আকাশের সর্বোচ্চ শিখরে উড়ে যায়।
৩. সূর্যকে আলিঙ্গন করে বীরোচিত মৃত্যু: ঈগলটি উপত্যকায় পড়ে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচার চেয়ে পর্বতচূড়ায় প্রখর সূর্যের তেজস্বী কিরণকে বরণ করে বীরের মতো মৃত্যুকে বেছে নেয়। তার নিথর দেহটি চূড়ার ওপর পড়ে থাকে—যা দাসত্বের চেয়ে শাহাদাতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
৩. সাহিত্যিক তাৎপর্য:
কবি এই রূপকের মাধ্যমে আরব জনতাকে আহ্বান জানিয়েছেন যে, দাসত্ব ও পরাধীনতার গ্লানি নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো সার্থকতা নেই; বরং শত যন্ত্রণা সত্ত্বেও মাথা উঁচু করে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে অবিচল থাকাই বীরের ধর্ম।


(و) اكتب أسماء الأدباء المشهورين في العصر الحديث-

[৪ (চ). আধুনিক যুগের বিখ্যাত সাহিত্যিক ও কবিগণের নাম উল্লেখ কর:]

আধুনিক আরবি সাহিত্যের পুনর্জাগরণ ও বিকাশে যেসকল প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের প্রধান প্রধান শাখার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হলো:
১. শীর্ষস্থানীয় কবিবৃন্দ (الشعراء الكبار):
মাহমুদ সামি আল-বারুদী (محمود سامي البارودي): আধুনিক আরবি কবিতার জনক ও পুনরুজ্জীবক (رب السيف والقلم)।
আহমদ শাওকী (أحمد شوقي): আমীরুশ শুআরা ও আধুনিক কাব্যনাট্যের জনক।
হাফিজ ইবরাহীম (حافظ إبراهيم): শায়িরুন নীল ও গণমানুষের জাতীয় কবি।
খলিল মুতরান (خليل مطران): শায়িরুল কুতরাইন ও আধুনিক রোমান্টিক ধারার পথিকৃৎ।
উমর আবু রীশাহ (عمر أبو ريشة): সিরিয়ার শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদী ও প্রতীকী কবি।
বাদাবী আল-জাবাল (بدوي الجبل): আধ্যাত্মিক ও শৈশব কাব্যের অনন্য কারিগর।
মারূফ আর-রুসাফী ও জামিল সিদকী আজ-জাহাবী: ইরাকের প্রখ্যাত সমাজসংস্কারক কবিদ্বয়।
২. মাহজার বা প্রবাসী কবি-সাহিত্যিকবৃন্দ (أدباء المهجر):
জিবরান খলিল জিবরান (جبران خليل جبران): আল-রাবিতাহ আল-কালামিয়্যাহর প্রতিষ্ঠাতা ও কালজয়ী দার্শনিক সাহিত্যিক।
মিখাইল নুয়াইমাহ (ميخائيل نعيمة): শীর্ষ সমালোচক, গল্পকার ও গভীর জীবনবাদী কবি।
ইলিয়া আবু মাদী (إيليا أبو ماضي): আশাবাদ ও দার্শনিক ভাবনার শ্রেষ্ঠ মাহজার কবি।
৩. গদ্যশিল্পী, ঔপন্যাসিক ও গবেষকবৃন্দ (أعلام النثر والرواية):
মোস্তফা লুৎফী আল-মানফালূতী (مصطفى لطفي المنفلوطي): প্রাঞ্জল ও আবেগঘন আধুনিক আরবি গদ্যের রূপকার।
আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ (عباس محمود العقاد): দিওয়ান স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অনন্য চিন্তাবিদ।
ড. ত্বাহা হুসাইন (د. طه حسين): ‘আমীদুল আদাবিল আরাবী’ (আরবি সাহিত্যের অভিভাবক) ও আধুনিক সমালোচনার পথপ্রদর্শক।
তাওফিক আল-হাকিম (توفيق الحكيم): আধুনিক আরবি নাট্যসাহিত্যের প্রাণপুরুষ।
নাগিব মাহফুজ (نجيب محفوظ): আরবি সাহিত্যে প্রথম নোবেল বিজয়ী বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক।


(ز) عرف القصيدة- وما الفرق بين النظم والشعر؟

[৪ (ছ). কাসিদা (القصيدة)-র পরিচয় দাও এবং নজম (النظم) ও কবিতা (الشعر)-র মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর:]

১. কাসিদা (القصيدة)-র পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: ‘কাসিদা’ শব্দটি ‘কাসদ’ (قصد) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ইচ্ছা করা, সংকল্প করা বা কোনো লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা। যেহেতু কবি সুনির্দিষ্ট চিন্তা ও গভীর শ্রম দিয়ে এটি রচনা করেন, তাই একে কাসিদা বলা হয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: আরবি ছন্দশাস্ত্র ও সাহিত্যের পরিভাষায় কাসিদা হলো—একটি সুনির্দিষ্ট বহর বা ছন্দে এবং একটি একক অন্ত্যমিলে (قافية موحدة) রচিত পূর্ণাঙ্গ কাব্যসংকলন, যার শ্লোক সংখ্যা কমপক্ষে সাতটি বা দশটি হয়ে থাকে এবং যা একটি সমন্বিত ভাব ও কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
২. নজম (النظم) ও কবিতা (الشعر)-র মৌলিক পার্থক্য:
আরবি সাহিত্যে বাহ্যিক কাঠামোগত মিল থাকা সত্ত্বেও নজম এবং শি’রের মধ্যে গভীর গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান:
| তুলনার বিষয় | নজম (النظم – পদ্য/ছন্দোবদ্ধ রচনা) | কবিতা (الشعر – প্রকৃত কাব্য) |
| :— | :— | :— |
| মূল উদ্দেশ্য | তথ্য, বিজ্ঞান, ব্যাকরণ বা ইতিহাস ছন্দের মাধ্যমে মুখস্থ করানো। | হৃদয়গ্রাহী আবেগ, সৌন্দর্য ও শৈল্পিক আনন্দ সৃষ্টি করা। |
| কল্পনা ও আবেগ | এতে কল্পনা (خيال) ও অনুভূতির (عاطفة) কোনো স্থান থাকে না। | এটি তীব্র মানবিক অনুভূতি ও সৃজনশীল কল্পনার ওপর প্রতিষ্ঠিত। |
| উদাহরণ | ইবনে মালিকের ব্যাকরণ গ্রন্থ ‘আলফিয়্যাহ’ বা ছন্দশাস্ত্রের ছক। | মুয়াল্লাকা, শাওকীর নাতে রাসূল কিংবা আবু রীশার কবিতা। |
| রচয়িতা | এর রচয়িতাকে ‘নাযেম’ (নাযিম বা ছন্দকার) বলা হয়। | এর রচয়িতাকে প্রকৃত ‘শা’ইর’ (কবি) বলা হয়। |
| স্থায়িত্ব | প্রয়োজনীয়তা শেষ হলে এর সাহিত্যিক আবেদন ফুরিয়ে যায়। | এটি যুগে যুগে মানব অন্তরে চিরন্তন রস ও প্রেরণা জোগায়। |
সারকথা: প্রতিটি কবিতাই গঠনগতভাবে ছন্দোবদ্ধ (নজম), কিন্তু প্রতিটি ছন্দোবদ্ধ রচনাই প্রকৃত কবিতা (শি’র) নয় («كل شعر نظم وليس كل نظم شعراً»)।


(ح) كيف وصف حافظ إبراهيم قومه في قصيدته ‘غادة اليابان’؟

[৪ (জ). হাফিজ ইবরাহীম তাঁর ‘গাদাতুল ইয়াবান’ কবিতায় নিজ জাতিকে কীভাবে চিত্রায়িত করেছেন?]

১. কবিতার পটভূমি ও তুলনা পদ্ধতি:
১৯০৪-১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক রুশ-জাপান যুদ্ধে একটি ক্ষুদ্র প্রাচ্য দেশ জাপানের হাতে ইউরোপের পরাশক্তি রাশিয়ার পরাজয় প্রাচ্যের চিন্তাশীলদের মাঝে বিপুল আশাবাদের সৃষ্টি করে। কবি হাফিজ ইবরাহীম এই পটভূমিতে রচিত ‘গাদাতুল ইয়াবান’ (غادة اليابان – জাপানের রূপসী তরুণী) কবিতায় জাপানি কন্যার দেশপ্রেমের বিপরীতে নিজ মিশরীয় ও প্রাচ্যের আরব জাতির করুণ অবস্থার আত্মজিজ্ঞাসামূলক তুলনামূলক চিত্র এঁকেছেন।
২. নিজ জাতির করুণ চিত্র ও সমালোচনা:
১. দীর্ঘকালের অসচেতনতার ঘুম (الغفلة والسبات): কবি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, যেখানে জাপান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও একনিষ্ঠ দেশপ্রেমের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, সেখানে তাঁর নিজ মিশরীয় ও আরব জাতি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অজ্ঞতা, আলস্য ও পরাধীনতার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
২. স্বার্থপরতা বনাম আত্মত্যাগ: জাপানি কন্যা হাসিমুখে তার স্বামী, সন্তান ও ভাইদের দেশের স্বাধীনতার জন্য রণাঙ্গনে পাঠিয়ে দিচ্ছে এবং নিজের গহনা রাষ্ট্রের তহবিলে বিলিয়ে দিচ্ছে। অথচ কবির নিজ জাতির মানুষ সামান্য ব্যক্তিগত স্বার্থ, বিলাসিতা ও দলাদলিতে লিপ্ত হয়ে জাতীয় স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়েছে।
৩. শিক্ষা ও বিজ্ঞানে অনীহা: জাপান সম্রাট মেইজির নেতৃত্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়েছে, কিন্তু মিশরীয়রা ঐতিহ্য নিয়ে অহংকার করলেও আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণাগার তৈরি এবং শিল্প বিপ্লব সাধনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
৪. জাতির বিবেকের প্রতি কবির বার্তা: কবি প্রকৃতপক্ষে জাপানের প্রশংসার ছলে নিজ জাতির বিবেকে এক তীব্র চাবুক মেরেছেন। তিনি মিশরীয়দের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে—পরনির্ভরশীলতা ও হাহাকার ত্যাগ করে জাপানের মতো কর্মনিষ্ঠ, ঐক্যবদ্ধ ও শিক্ষিত না হলে চিরকাল পশ্চিমাদের দাসত্বই করতে হবে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: আধুনিক আরবি কবিতার পুনর্জাগরণে মাহমুদ সামি আল-বারুদীর অবদান কী?

উত্তর: মাহমুদ সামি আল-বারুদী (১৮৩৯-১৯০৪ খ্রি.) উসমানীয় ও মামলুক যুগের দুর্বলতা ও কৃত্রিম অলংকার থেকে আরবি কবিতাকে মুক্ত করে আব্বাসী স্বর্ণযুগের সাবলীল ভাষা, তেজস্বী ছন্দ ও বীরত্বপূর্ণ ভাবধারায় ফিরিয়ে আনেন। এজন্য তাঁকে আধুনিক আরবি কবিতার জনক ও ‘মুহযিউশ শি’র’ (কবিতার পুনরুজ্জীবক) বলা হয়।

প্রশ্ন ২: আহমদ শাওকীকে কেন ‘আমীরুশ শুআরা’ বলা হয়?

উত্তর: ক্লাসিক্যাল কবিতার শৈল্পিক উৎকর্ষ, ইসলামি ভাবধারার মহাকাব্যিক রূপায়ন এবং আরবি সাহিত্যে সর্বপ্রথম ইউরোপীয় মানের ঐতিহাসিক কাব্যনাট্য রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯২৭ সালে সমগ্র আরব বিশ্বের কবি-সাহিত্যিকরা তাঁকে সর্বসম্মতভাবে ‘আমীরুশ শুআরা’ (কবিসম্রাট) উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রশ্ন ৩: হাফিজ ইবরাহীমকে ‘শায়িরুন নীল’ বলার কারণ কী?

উত্তর: হাফিজ ইবরাহীমের জন্ম নীল নদের নৌকায় এবং তিনি আজীবন মিশরীয় মাটি, নীল নদ এবং বঞ্চিত সাধারণ মানুষের জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামকে কবিতার প্রধান উপজীব্য করেছিলেন বলে তাঁকে ‘শায়িরুন নীল’ ও ‘শায়িরুশ শা’ব’ বলা হয়।

প্রশ্ন ৪: ‘আল-হামজিয়্যাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ কোন বিখ্যাত কাসিদার অনুসরণে রচিত?

উত্তর: আহমদ শাওকী রচিত ‘আল-হামজিয়্যাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ কাসিদাটি মধ্যযুগের বিশ্ববিখ্যাত নাত বিশেষজ্ঞ ইমাম শরফুদ্দিন মুহাম্মদ আল-বুসিরি (রহ.)-এর কালজয়ী ‘কাসিদায়ে হামজিয়্যাহ’-র সফল কাব্যিক অনুসরণ (মুআরাযাহ) হিসেবে রচিত।

প্রশ্ন ৫: মাহজার সাহিত্য বা ‘আদাবুল মাহজার’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমানো অভিবাসী কবি-সাহিত্যিকদের (যেমন: জিবরান খলিল জিবরান, মিখাইল নুয়াইমাহ, ইলিয়া আবু মাদী) দ্বারা সৃষ্ট আধুনিক, মানবিক ও দার্শনিক সাহিত্যধারাকে মাহজার সাহিত্য বলা হয়।

প্রশ্ন ৬: আধুনিক আরবি কবিতার মূল আন্দোলন বা স্কুলগুলো কী কী?

উত্তর: আধুনিক আরবি কবিতার প্রধান চারটি ধারা বা আন্দোলন হলো: ১. আল-মাদরাসাতুল ইহয়াইয়্যাহ (পুনর্জাগরণবাদী ধারা – বারুদী, শাওকী, হাফিজ), ২. মাদরাসাতুদ দিওয়ান (আক্কাদ, মাজিনী, শুকরী), ৩. জামাআতু আবোলো (আহমদ জাকি আবু শাদী, ইব্রাহিম নাজী), এবং ৪. মাদরাসাতুল মাহজার (জিবরান, নুয়াইমাহ)।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *