জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-হাসুব (কম্পিউটার) (Al-Hasub Computer) – 204302, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬০ মিনিট পড়ার সময়
১১ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: কম্পিউটার (الحاسوب)
বিষয় কোড: ২০৪৩০২ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

ক বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান)

১। কম্পিউটার কী? ডিজিটাল কম্পিউটারের প্রকারভেদ উদাহরণসহ আলোচনা কর।

[What is computer? Discuss the classification of digital computer with examples.]


উত্তর:

কম্পিউটারের সংজ্ঞা (Definition of Computer):
কম্পিউটার (Computer) শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Compute’ থেকে এসেছে, যার অর্থ গণনা করা। সুতরাং শাব্দিক অর্থে কম্পিউটার হলো একটি গণনাকারী যন্ত্র। আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞানের পরিভাষায়, কম্পিউটার হলো একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কাঁচা তথ্য বা উপাত্ত (Data) গ্রহণ করে, স্মৃতিতে সংরক্ষিত নির্দেশের ভিত্তিতে তা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ বা প্রক্রিয়াকরণ (Processing) করে এবং প্রয়োজনীয় ফলাফল বা আউটপুট (Information) প্রদান করে।

কম্পিউটারের কাজের মূল চক্র হলো: Input → Process → Output → Storage (IPOS Cycle)।

ডিজিটাল কম্পিউটারের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Digital Computer):
আকার, আকৃতি, মেমোরির ধারণক্ষমতা, কাজের গতি ও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কম্পিউটারকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়:

১. সুপার কম্পিউটার (Supercomputer):
সুপার কম্পিউটার হলো পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতিসম্পন্ন, বিশাল ধারণক্ষমতাযুক্ত ও সর্বাধিক ব্যয়বহুল কম্পিউটার। এটি প্রতি সেকেন্ডে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক গণনা (FLOPS – Floating Point Operations Per Second) সম্পন্ন করতে পারে। এতে হাজার হাজার প্রসেসর সমান্তরালভাবে কাজ করে।
ব্যবহার: মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ন্ত্রণ, পারমাণবিক অস্ত্র সিমুলেশন, বৈশ্বিক আবহাওয়ার নিখুঁত পূর্বাভাস প্রদান ইত্যাদি জটিল গবেষণামূলক কাজে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: Frontier (যুক্তরাষ্ট্র), Fugaku (জাপান), Summit (যুক্তরাষ্ট্র), Sunway TaihuLight (চীন) ইত্যাদি।

২. মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer):
মেইনফ্রেম কম্পিউটার সুপার কম্পিউটারের পরবর্তী স্তরের অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটার। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিশাল মেমরি ও ডেটাসমূহ নিয়ে একসাথে হাজার হাজার টার্মিনাল বা ব্যবহারকারীকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করতে পারে। এটি বছরের পর বছর রিবুট ছাড়া চলতে সক্ষম।
ব্যবহার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যবস্থা, শেয়ার বাজার, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার সেন্ট্রাল রিজার্ভেশন এবং বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মূল সার্ভার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: IBM z16, IBM System z9, UNIVAC 1100 ইত্যাদি।

৩. মিনি কম্পিউটার (Minicomputer / Midrange Computer):
মিনি কম্পিউটার মেইনফ্রেমের চেয়ে ছোট ও কম ব্যয়বহুল কিন্তু মাইক্রোকম্পিউটারের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাধর মাঝারি আকৃতির কম্পিউটার। এটি একই সময়ে অর্ধশত থেকে শত শত ব্যবহারকারীর মাল্টি-ইউজার কাজের চাপ সামলাতে পারে।
ব্যবহার: মাঝারি আকারের শিল্প-কারখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, আঞ্চলিক ব্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বয়ংক্রিয় ডেটা প্রক্রিয়াকরণে এটি ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: PDP-11, VAX-750, IBM AS/400 ইত্যাদি।

৪. মাইক্রো কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার (Microcomputer / PC):
একক মাইক্রোপ্রসেসর চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি স্বল্পমূল্যের, ক্ষুদ্রাকৃতির জনপ্রিয় কম্পিউটারই হলো মাইক্রোকম্পিউটার। এটি ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীর সমস্ত সাধারণ চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে একে পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি (PC) বলা হয়।
প্রকারভেদ: ডেস্কটপ (Desktop), ল্যাপটপ (Laptop), নোটবুক (Notebook), ট্যাবলেট (Tablet), এবং স্মার্টফোন (Smartphone)।
ব্যবহার: অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও গৃহস্থালি দৈনন্দিন কাজে এটি ব্যবহৃত হয়।

২। ইনপুট ডিভাইস কাকে বলে? ইনপুট ডিভাইস কত প্রকার ও কী কী? আলোচনা কর।

[What is input device? How many kinds of input device? Discuss.]


উত্তর:

ইনপুট ডিভাইসের সংজ্ঞা (Definition of Input Device):
যেসব হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটার সিস্টেমে প্রয়োজনীয় উপাত্ত (Data), নির্দেশাবলি (Instructions) বা সংকেত প্রেরণ করে প্রক্রিয়াকরণের জন্য সিপিইউ-তে পাঠায়, সেগুলোকে ইনপুট ডিভাইস (Input Device) বলা হয়। ইনপুট ডিভাইস মানুষের বোধগম্য সংকেতকে কম্পিউটারের বোধগম্য ডিজিটাল সিগন্যালে (বাইনারি ০ ও ১) রূপান্তর করে।

ইনপুট ডিভাইসের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Input Devices):
কাজের ধরন, ডেটা গ্রহণের মাধ্যম ও প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে ইনপুট ডিভাইসকে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়:

১. টেক্সট বা অক্ষর ইনপুট ডিভাইস (Text Input Devices):
যার মাধ্যমে সরাসরি কিবোর্ডের বোতাম চেপে অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন ইনপুট দেওয়া হয়।
– কিবোর্ড (Keyboard): এটি কম্পিউটারের সবচেয়ে মৌলিক ও প্রধান ইনপুট ডিভাইস। স্ট্যান্ডার্ড কিবোর্ডে সাধারণত ১০১ থেকে ১০৫টি কি থাকে (যেমন ফাংশন কি, আলফানিউমেরিক কি, নিউমেরিক কি ইত্যাদি)।

২. পয়েন্টিং ও ড্রয়িং ডিভাইস (Pointing & Drawing Devices):
কম্পিউটার স্ক্রিনের কার্সর বা পয়েন্টার নিয়ন্ত্রণ করে নির্দেশ প্রদান বা গ্রাফিক্স অঙ্কন করার ডিভাইস।
– মাউস (Mouse): অত্যন্ত জনপ্রিয় পয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিক ডিভাইস।
– টাচপ্যাড (Touchpad): ল্যাপটপে ব্যবহৃত স্পর্শ সংবেদনশীল প্যাড।
– গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ও লাইট পেন (Graphics Tablet & Light Pen): ডিজিটাল ড্রয়িং ও স্বাক্ষরের জন্য ব্যবহৃত হয়।
– জয়স্টিক (Joystick): ভিডিও গেম ও সিমুলেশন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

৩. ইমেজ ও অপটিক্যাল রিডিং ডিভাইস (Image & Optical Recognition Devices):
কাগজে মুদ্রিত বা লিখিত বিষয়বস্তু স্ক্যান করে ডিজিটাল চিত্রে বা ডেটায় রূপান্তরকারী ডিভাইস।
– স্ক্যানার (Scanner): যেকোনো ছবি বা নথিকে হুবহু ডিজিটাল ফাইলে রূপান্তর করে।
– ওএমআর (OMR – Optical Mark Reader): পরীক্ষার বহুনির্বাচনী উত্তরপত্রের বৃত্ত ভরাট পড়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
– ওসিআর (OCR – Optical Character Reader): মুদ্রিত কাগজের লেখাকে এডিটেবল টেক্সটে রূপান্তর করে।
– বারকোড রিডার ও কিউআর কোড রিডার (Barcode & QR Code Scanner): পণ্যের প্যাকেটে থাকা কালো রেখা বা কোড পড়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

৪. অডিও ও ভয়েস ইনপুট ডিভাইস (Audio/Voice Input Devices):
মানুষের কথা, শব্দ বা সুরকে ধারণ করে ডিজিটাল অডিও সংকেতে রূপান্তর করে।
– মাইক্রোফোন (Microphone): ভয়েস কমান্ড, অনলাইন ক্লাস, কথা রেকর্ড বা অডিও কলের জন্য ব্যবহৃত হয়।

৫. ভিডিও ও মিডিয়া ইনপুট ডিভাইস (Video Input Devices):
চলমান দৃশ্য বা রিয়েল-টাইম ভিডিও ধারণকারী ডিভাইস।
– ওয়েবক্যাম (Webcam) ও ডিজিটাল ক্যামেরা: ভিডিও কনফারেন্সিং ও ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়।
– বায়োমেট্রিক ডিভাইস: আঙুলের ছাপ (Fingerprint Scanner), চোখের আইরিস বা মুখমণ্ডল স্ক্যান করে পরিচয় শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।

৩। মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট বলতে কী বুঝ? এর কার্যপ্রণালি আলোচনা কর।

[What do you know about MS power point? Discuss its functions.]


উত্তর:

মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্টের পরিচয় (MS PowerPoint):
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (Microsoft PowerPoint) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাইক্রোসফট করপোরেশন কর্তৃক উদ্ভাবিত অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রেজেন্টেশন গ্রাফিক্স সফটওয়্যার (Presentation Software)। এটি মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, গবেষণা প্রবন্ধ, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা শিক্ষামূলক আলোচনাকে লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও, চার্ট এবং অ্যানিমেশনের সাহায্যে স্লাইড আকারে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়ভাবে শ্রোতা বা দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা যায়।

পাওয়ার পয়েন্টের প্রধান কার্যপ্রণালি ও কার্যাবলি (Functions and Working Process):
পাওয়ার পয়েন্টে একটি সম্পূর্ণ প্রেজেন্টেশন তৈরির সুশৃঙ্খল কার্যপ্রণালি নিম্নরূপ:

১. স্লাইড তৈরি ও লেআউট নির্ধারণ (Slide Creation & Layout):
পাওয়ার পয়েন্টের প্রতিটি একক পৃষ্ঠাকে ‘স্লাইড’ (Slide) বলা হয়। ব্যবহারকারী Title Slide, Content with Caption, Blank ইত্যাদি বিভিন্ন পূর্বনির্ধারিত লেআউট নির্বাচন করে নতুন স্লাইড সংযোজন করতে পারেন।

২. টেক্সট ফরমেটিং ও কন্টেন্ট সংযোজন:
স্লাইডে টেক্সট বক্সের মাধ্যমে আকর্ষণীয় শিরোনাম, পয়েন্ট আকারে মূল বক্তব্য সংযোজন করা যায়। এতে ফন্ট সাইজ, রঙ, বোল্ড, ইটালিক এবং প্যারাগ্রাফ বিন্যাস সহজে সম্পন্ন করা যায়।

৩. মাল্টিমিডিয়া উপাদানের সংযোজন (Multimedia Integration):
বক্তব্যকে আরও কার্যকর ও জীবন্ত করতে স্লাইডের ভেতর ছবি (Images), অডিও ক্লিপ, ভিডিও ফাইল, শেপ (Shapes), স্মার্টআর্ট (SmartArt) এবং এক্সেল চার্ট যুক্ত করা যায়।

৪. ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন ইফেক্ট (Transitions & Animations):
– স্লাইড ট্রানজিশন (Slide Transition): একটি স্লাইড থেকে পরবর্তী স্লাইডে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল মোশন ইফেক্ট (যেমন Fade, Wipe, Push) যুক্ত করা যায়।
– কাস্টম অ্যানিমেশন (Custom Animation): স্লাইডের ভেতরের বিভিন্ন লেখা, ছবি বা উপাদান কীভাবে পর্দায় প্রবেশ করবে (Entrance), অবস্থান করবে (Emphasis) এবং বের হবে (Exit) তা সময় ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে অ্যানিমেট করা যায়।

৫. স্লাইড শো প্রদর্শন ও হ্যান্ডআউট প্রস্তুত (Slide Show Presentation):
কিবোর্ডের F5 বোতাম চেপে পুরো স্ক্রিনজুড়ে স্লাইড শো প্রদর্শন করা যায়। বক্তা নিজের সুবিধার জন্য স্লাইডে Speaker Notes লিখতে পারেন এবং শ্রোতাদের বিতরণের জন্য একাধিক স্লাইড এক পৃষ্ঠায় হ্যান্ডআউট (Handouts) হিসেবে প্রিন্ট করতে পারেন।

৪। সফটওয়্যার কী? সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।

[What is software? What are the differences between software and hardware? Discuss.]


উত্তর:

সফটওয়্যারের সংজ্ঞা (Definition of Software):
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। কম্পিউটারকে দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান বা কাজ করানোর জন্য যে সুশৃঙ্খল নির্দেশাবলি, প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রামের সমষ্টি প্রস্তুত করা হয়, তাকে সফটওয়্যার (Software) বলে। সহজ কথায়, হার্ডওয়্যার যদি হয় কম্পিউটারের দেহ, তবে সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ। সফটওয়্যার মূলত দুই প্রকার: সিস্টেম সফটওয়্যার (যেমন Windows, Linux) এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন MS Word, Al-Maktaba Al-Shamela)।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য (Hardware vs Software):

পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য হার্ডওয়্যার (Hardware) সফটওয়্যার (Software)
প্রকৃতি ও সংজ্ঞা কম্পিউটারের সমস্ত স্পর্শযোগ্য ও দৃশ্যমান ভৌত ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ। হার্ডওয়্যার পরিচালনার জন্য লিখিত নির্দেশ, লজিক বা কম্পিউটার প্রোগ্রামসমূহের সেট।
স্পর্শযোগ্যতা সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করা ও চোখে দেখা যায় (যেমন কিবোর্ড, মনিটর)। স্পর্শ করা যায় না; কেবল কাজের ফলাফল বা আউটপুট দেখে এর কার্যকারিতা উপলব্ধি করা যায়।
উৎপাদন প্রক্রিয়া কারখানায় বিভিন্ন ধাতব ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের মাধ্যমে তৈরি (Manufactured) হয়। প্রোগ্রামিং ভাষা (যেমন C, Java, Python) দিয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা রচিত ও ডেভেলপড হয়।
ক্ষতি ও স্থায়িত্ব ব্যবহারের ফলে জীর্ণ হয়, পুড়ে যেতে পারে বা ভেঙে নষ্ট হতে পারে। শারীরিক ক্ষতি হয় না, তবে ভাইরাস বা সফটওয়্যার বাগের (Bug) কারণে ক্র্যাশ করতে পারে।
নির্ভরশীলতা সফটওয়্যারের নির্দেশ ছাড়া হার্ডওয়্যার সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় মৃতদেহের মতো। হার্ডওয়্যার মেমোরি ও প্রসেসর ছাড়া সফটওয়্যার রান করতে পারে না।
পরিবর্তনযোগ্যতা হার্ডওয়্যার পরিবর্তন করা তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও জটিল। সফটওয়্যার কোড সহজে আপডেট, মডিফাই বা রি-ইনস্টল করা যায়।

৫। CPU, RAM এবং স্টোরেজ ডিভাইসের মধ্যে পার্থক্য কী? আলোচনা কর।

[What are the differences between CPU, RAM and storage device? Explain.]


উত্তর:

কম্পিউটার সিস্টেমের মেমোরি ও প্রসেসিং স্থাপত্যে সিপিইউ (CPU), র‍্যাম (RAM) এবং স্টোরেজ ডিভাইস (Storage Device) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ভিন্ন স্তরের উপাদান।

১. সিপিইউ (CPU – Central Processing Unit): কম্পিউটারের ব্রেইন বা মস্তিষ্ক, যা সমস্ত গাণিতিক, যৌক্তিক হিসাব ও কন্ট্রোল পরিচালনা করে।
২. র‍্যাম (RAM – Random Access Memory): কম্পিউটারের প্রধান ও অস্থায়ী মেমোরি, যা চলমান প্রোগ্রাম ও তাৎক্ষণিক উপাত্ত দ্রুত প্রসেসরের কাছে সরবরাহ করে।
৩. স্টোরেজ ডিভাইস (Storage Device): কম্পিউটারের সহায়ক স্থায়ী মেমোরি (যেমন HDD, SSD), যা ব্যবহারকারীর সমস্ত ফাইল, অপারেটিং সিস্টেম ও ডেটা দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করে।

এদের তুলনামূলক পার্থক্য নিম্নের ছকে উপস্থাপন করা হলো:

বৈশিষ্ট্য সিপিইউ (CPU) র‍্যাম (RAM) স্টোরেজ ডিভাইস (HDD/SSD)
মূল কাজ উপাত্ত ও নির্দেশ বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণ (Processing)। চলমান কাজের ডেটা সাময়িকভাবে ধরে রেখে সিপিইউকে দ্রুত সরবরাহ করা। ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য ডেটা ও ফাইল দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা।
স্থায়িত্ব (Volatility) ডেটা সংরক্ষণ করে না (প্রসেসিং শেষে রেজিস্টার খালি হয়)। উদ্বায়ী (Volatile); বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে সমস্ত ডেটা মুছে যায়। অনুদায়ী (Non-Volatile); বিদ্যুৎ চলে গেলেও সংরক্ষিত ডেটা অক্ষত থাকে।
কাজের গতি সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন (গিগাহার্টজ বা ন্যানোসেকেন্ডে পরিমাপ্য)। অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন (স্টোরেজের তুলনায় শতগুণ দ্রুত)। সিপিইউ ও র‍্যামের তুলনায় তুলনামূলক ধীরগতিসম্পন্ন।
ধারণক্ষমতা অভ্যন্তরীণ ক্যাশ মেমরি খুব সামান্য (কয়েক মেগাবাইট)। মাঝারি ধারণক্ষমতা (সাধারণত ৪ জিবি থেকে ৬৪ জিবি)। বিশাল ধারণক্ষমতা (৫১২ জিবি থেকে একাধিক টেরাবাইট)।
প্রতি ইউনিটের খরচ সবচেয়ে ব্যয়বহুল একক চিপ। গিগাবাইট প্রতি মূল্য অনেক বেশি। গিগাবাইট প্রতি মূল্য তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

৬। অপারেটিং সিস্টেম কী? অপারেটিং সিস্টেমের কাজ বর্ণনা কর।

[What is operating system? Explain the activities of operating system.]


উত্তর:

অপারেটিং সিস্টেমের সংজ্ঞা (Definition of Operating System):
অপারেটিং সিস্টেম (Operating System – OS) হলো একগুচ্ছ সমন্বিত সিস্টেম সফটওয়্যার ও প্রোগ্রামের সমষ্টি, যা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর (User) মধ্যে সংযোগ বা ইন্টারফেস (Interface) হিসেবে কাজ করে এবং কম্পিউটারের সামগ্রিক কার্যপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া একটি কম্পিউটার কেবল মূল্যহীন জড় পদার্থ।
উদাহরণ: Microsoft Windows (উইন্ডোজ ১০, ১১), Linux (উবুন্টু, রেডহ্যাট), macOS, Android ইত্যাদি।

অপারেটিং সিস্টেমের প্রধান কার্যাবলি (Functions/Activities of OS):
একটি আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমের মূল দায়িত্বসমূহ নিম্নরূপ:

১. প্রসেসর ব্যবস্থাপনা (Processor Management / Scheduling):
সিপিইউ কোন প্রোগ্রামটি কত সময় ধরে রান করবে তা নির্ধারণ করে। মাল্টিটাস্কিং পরিবেশে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মধ্যে সিপিইউ টাইম ভাগ করে দেওয়া (যেমন Round Robin, Priority Scheduling) ও ডেডলক নিরসন করা এর কাজ।

২. মেমোরি ব্যবস্থাপনা (Memory Management):
প্রাইমারি মেমোরি বা র‍্যামের (RAM) কোন অংশে কোন প্রোগ্রাম অবস্থান করবে তা নির্ধারণ করা এবং প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার সাথে সাথে মেমোরি খালি করে অন্য প্রোগ্রামের জন্য বরাদ্দ করা। এছাড়া ভার্চুয়াল মেমোরি (Virtual Memory) নিয়ন্ত্রণ করা।

৩. ফাইল ব্যবস্থাপনা (File Management):
কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক বা এসএসডিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, কপি, নাম পরিবর্তন, ডিলিট এবং সুরক্ষিত রাখা। এর জন্য বিভিন্ন ফাইল সিস্টেম (যেমন NTFS, FAT32, ext4) ব্যবহার করা হয়।

৪. ইনপুট/আউটপুট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ (Device Management):
কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি সমস্ত এক্সটার্নাল ডিভাইসের জন্য ড্রাইভার সফটওয়্যারের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন এবং বাফারিং (Buffering) ও স্পুলিং (Spooling) নিয়ন্ত্রণ করা।

৫. নিরাপত্তা ও অ্যাক্সেস কন্ট্রোল (Security Management):
অননুমোদিত ব্যবহারকারীর হাত থেকে সিস্টেম ও ডেটাকে রক্ষা করার জন্য ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, ফেসলক এবং ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

৬. ব্যবহারকারী বান্ধব ইন্টারফেস প্রদান (User Interface):
সহজ ও সাবলীল গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) প্রদান করা, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারী আইকন, মেনু ও উইন্ডোজের মাধ্যমে মাউস ক্লিকেই কম্পিউটার পরিচালনা করতে পারে।

৭। Data Presentation কাকে বলে? এর প্রকারভেদ ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

[What is called ‘Data Presentation’? Explain its types and importance.]


উত্তর:

ডেটা প্রেজেন্টেশনের সংজ্ঞা (Definition of Data Presentation):
সংগৃহীত ও প্রক্রিয়াজাত উপাত্তসমূহকে (Data) সহজ-সরল, আকর্ষণীয়, বোধগম্য ও অর্থবহ উপায়ে দর্শক বা সিদ্ধান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সামনে উপস্থাপন করার সুশৃঙ্খল কৌশলকে ডেটা প্রেজেন্টেশন (Data Presentation) বলা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো জটিল ও এলোমেলো সংখ্যামূলক তথ্যের ভেতর থেকে মূল বক্তব্য বা প্যাটার্নকে এক নজরে ফুটিয়ে তোলা।

ডেটা প্রেজেন্টেশনের প্রকারভেদ (Types of Data Presentation):
পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ডেটা উপস্থাপনের প্রধানত তিনটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়:

১. বর্ণনামূলক বা টেক্সচুয়াল উপস্থাপন (Textual/Descriptive Presentation):
এখানে তথ্যাবলিকে লিখিত অনুচ্ছেদ বা বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। স্বল্প পরিমাণ তথ্যের ক্ষেত্রে এটি উপযোগী (যেমন: “২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের হার ছিল ৮৫% এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২০ জন”)।

২. ছক বা সারণিবদ্ধ উপস্থাপন (Tabular Presentation):
উপাত্তসমূহকে সুনির্দিষ্ট সারি (Rows) ও কলামের (Columns) সমন্বয়ে টেবিল আকারে প্রদর্শন করা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংখ্যাগত সরাসরি তুলনা করা সহজ হয়।

৩. চিত্রভিত্তিক বা গ্রাফিক্যাল উপস্থাপন (Graphical/Diagrammatic Presentation):
পরিসংখ্যানের জটিল তথ্যকে ভিজ্যুয়াল চার্ট বা চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা। এটি সর্বাধিক জনপ্রিয় ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি।
– বার চার্ট (Bar Chart): বিভিন্ন ক্যাটাগরির মান উল্লম্ব বা আনুভূমিক স্তম্ভের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
– পাই চার্ট (Pie Chart): একটি বৃত্তকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে শতকরা অনুপাত প্রদর্শন করে।
– লাইন চার্ট (Line Chart): সময়ের সাথে কোনো মানের বৃদ্ধি বা হ্রাসের ধারা (Trend) প্রদর্শন করে।
– হিস্টোগ্রাম (Histogram): অবিচ্ছিন্ন শ্রেণিবিন্যাসের ফ্রিকোয়েন্সি দেখাতে ব্যবহৃত হয়।

ডেটা প্রেজেন্টেশনের গুরুত্ব (Importance of Data Presentation):
– দ্রুত অনুধাবন: হাজার পৃষ্ঠার কাঁচা সংখ্যা পড়ার চেয়ে একটি চার্ট দেখে মানুষ কয়েক সেকেন্ডেই মূল তথ্য বুঝতে পারে。
– সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক নীতিনির্ধারকগণ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত সহজে গ্রহণ করতে পারেন。
– তুলনামূলক বিশ্লেষণ: দুই বা ততোধিক বছরের কাজের ফলাফল বা লাভ-লোকসানের তুলনা সহজে করা যায়。
– স্মৃতিতে স্থায়িত্ব: মানুষের মস্তিষ্ক লেখার চেয়ে ভিজ্যুয়াল বা ছবির তথ্য অনেক বেশি সময় মনে রাখতে পারে。

৮। ইলমে হাদিস চর্চায় আরবি সফটওয়্যারের ভূমিকা কী? ‘মাওসুআতুল হাদিস আশ-শরীফ’ এর ব্যবহারবিধি লেখ।

[What is the role of Arabic Software in the study of Ilme-e-Hadith? Write the rules of use of Mausuatul Hadith Al-Sharif.]


উত্তর:

ইলমে হাদিস চর্চায় আরবি সফটওয়্যারের বৈপ্লবিক ভূমিকা:
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার ও ইসলামিক সফটওয়্যার ইলমে হাদিসের অধ্যয়ন ও গবেষণাকে অবিশ্বাস্য রকম সহজ ও দ্রুততর করেছে। পূর্বে যে হাদিস অনুসন্ধানে গবেষকদের দিন-মাস পার করতে হতো, আজ উন্নত সফটওয়্যারের বদৌলতে তা কয়েক সেকেন্ডের সার্চেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে।
১. তাকরিজ ও দ্রুত অনুসন্ধান (তখরিজুল হাদিস): হাদিসের যেকোনো শব্দ, বাক্য বা রাবীর নাম লিখে সেকেন্ডের মধ্যে সিহাহ সিত্তাহসহ শত শত কিতাব থেকে হাদিসের মূল উৎস ও পৃষ্ঠা বের করা যায়।
২. আসমাউর রিজাল ও সনদ বিশ্লেষণ: হাদিসের বর্ণনাকারীদের জীবনী, তাদের নির্ভরযোগ্যতা (জারহ ও তা’দিল) এবং সনদের সংযোগ বা বিচ্ছিন্নতা তৎক্ষণাৎ নিরীক্ষা করা যায়।
৩. শুরুহাত ও মতভেদ জানা: একই হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থ (যেমন ফাতহুল বারী, শরহে নববী) পাশাপাশি রেখে পাঠ করা যায়।

‘মাওসুআতুল হাদিস আশ-শরীফ’ (موسوعة الحديث الشريف) এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও ব্যবহারবিধি:
মিশরের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘সাকার’ (Sakhr Software) কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘মাওসুআতুল হাদিস আশ-শরীফ’ হাদিস শাস্ত্রের একটি যুগান্তকারী বিশ্বকোষ সফটওয়্যার। এতে সিহাহ সিত্তাহ, মুয়াত্তা মালেক, মুসনাদে আহমদ ও সুনানে দারেমিসহ প্রধান ৯টি হাদিস গ্রন্থের সমস্ত হাদিস সনদ ও ব্যাখ্যাসহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর ব্যবহারবিধি (Rules of Use):
১. সফটওয়্যার ওপেন ও ভাষা নির্বাচন: সফটওয়্যারটি চালু করে ইন্টারফেসের আরবি বা ইংরেজি অপশন সিলেক্ট করতে হয়。
২. হাদিস অনুসন্ধান (البحث عن الحديث):
– শব্দ দ্বারা অনুসন্ধান (البحث اللفظي): সার্চ বক্সে হাদিসের যেকোনো মূল আরবি শব্দ (যেমন: “إنما الأعمال بالنيات”) টাইপ করে এন্টার দিলে উক্ত শব্দযুক্ত সমস্ত হাদিস কিতাব ও অধ্যায়সহ তালিকাভুক্ত হয়。
– বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান (البحث الموضوعي): সালাত, সাওম, যাকাত, জিহাদ ইত্যাদি নির্বাচিত বিষয়ের সূচিপত্র থেকে ক্লিক করে সম্পর্কিত হাদিস দেখা যায়。
– রাবীর নাম দিয়ে অনুসন্ধান (البحث برواة الحديث): কোনো নির্দিষ্ট সাহাবী বা বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণিত হাদিস খুঁজতে রাবীর তালিকা থেকে নাম সিলেক্ট করা যায়。
৩. সনদের বৃক্ষরেখা দেখা (شجرة الأسانيد): সফটওয়্যারের বিশেষ অপশনে ক্লিক করে যেকোনো হাদিসের বর্ণনাকারীদের বংশলতিকা ও সনদের ধারাবাহিক রূপরেখা (Sanad Tree) গ্রাফিক্যাল আকারে দেখা যায়。
৪. জারহ ও তা’দিল নিরীক্ষা: সনদের যেকোনো রাবীর নামের ওপর ক্লিক করলেই তার জন্ম-মৃত্যু, শিক্ষক, ছাত্র এবং মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে তার গ্রহণযোগ্যতার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদর্শিত হয়。
৫. হাদিস কপি ও প্রিন্ট: প্রয়োজনীয় হাদিস ও তাহকিক এমএস ওয়ার্ডে এক্সপোর্ট, কপি বা সরাসরি প্রিন্ট করা যায়。

খ বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও সমাধান)

৯। (ক) ক্যাশ মেমরি (Cache Memory) কী? এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।

[9. (a) What is Cache Memory? Explain its necessity.]


উত্তর:

ক্যাশ মেমরির সংজ্ঞা: ক্যাশ মেমরি (Cache Memory) হলো সিপিইউ (প্রসেসর) এবং প্রধান মেমরির (RAM) মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকার কিন্তু পৃথিবীর দ্রুততম সেমিকন্ডাক্টর মেমরি (SRAM প্রযুক্তির)। এটি মূলত L1, L2 এবং L3 এই তিন স্তরে বিভক্ত থাকে।
প্রয়োজনীয়তা: সিপিইউ-এর কাজের গতি র‍্যামের চেয়ে বহুগুণ বেশি। প্রসেসরকে যেন প্রতিবার তথ্যের জন্য ধীরগতির র‍্যামে যেতে না হয়, সেজন্য ঘনঘন ব্যবহৃত নির্দেশ ও উপাত্ত ক্যাশ মেমরিতে জমা রাখা হয়। ফলে প্রসেসর তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং সিস্টেমের কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

১০। (খ) ইউনিকোড (Unicode) কী? আরবি ও বাংলা ভাষা প্রক্রিয়াকরণে এর সুবিধা কী?

[10. (b) What is Unicode? What are its benefits in processing Arabic and Bengali languages?]


উত্তর:

ইউনিকোডের সংজ্ঞা: ইউনিকোড (Universal Code বা Unicode) হলো বিশ্বের সমস্ত প্রচলিত ভাষার প্রতিটি লিখিত বর্ণ ও চিহ্নের জন্য একটি অনন্য সংখ্যাগত মান (Unique Number) বরাদ্দকারী ১৬ বা ৩২ বিটের আন্তর্জাতিক কোডিং স্ট্যান্ডার্ড।
সুবিধা: পূর্বে ৮-বিটের আসকি (ASCII) কোডে কেবল ২৫৬টি প্রতীক রাখা যেত, ফলে বাংলা বা আরবির মতো সমৃদ্ধ বর্ণমালা কম্পিউটারে সঠিকভাবে প্রকাশ করা যেত না। ইউনিকোড প্রবর্তনের ফলে বাংলা ও আরবি ভাষার হরফ, নুকতা ও হরকতসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে সর্বজনীন মর্যাদা পেয়েছে। ফলে ফন্ট পরিবর্তন ছাড়াই যেকোনো কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে আরবি ও বাংলা কন্টেন্ট বিকৃত না হয়ে হুবহু দৃশ্যমান হয়।

১১। (গ) কম্পাইলার (Compiler) ও ইন্টারপ্রেটার (Interpreter)-এর মধ্যে পার্থক্য লিখ।

[11. (c) Write the differences between a Compiler and an Interpreter.]


উত্তর:

উভয়ই অনুবাদক প্রোগ্রাম (Translator Program), যা হাই-লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজের সোর্স কোডকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। তবে এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে:

তুলনার বিষয় কম্পাইলার (Compiler) ইন্টারপ্রেটার (Interpreter)
অনুবাদ পদ্ধতি সম্পূর্ণ সোর্স প্রোগ্রামটিকে একসাথে পড়ে একবারে অনুবাদ করে। প্রোগ্রামকে এক লাইন এক লাইন করে পড়ে এবং সাথে সাথে রান করে।
ত্রুটি প্রদর্শন পুরো প্রোগ্রাম পড়ার পর শেষে সমস্ত ভুলের তালিকা একসাথে দেখায়। যে লাইনে ভুল পায় সেখানেই থেমে যায়, ভুল সংশোধন না করা পর্যন্ত এগোয় না।
কাজের গতি একবার কম্পাইল হলে প্রোগ্রামটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নির্বাহ হয়। প্রতিবার লাইন বাই লাইন অনুবাদের কারণে কাজের গতি তুলনামূলক ধীর।
উদাহরণ C, C++, Rust ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। Python, JavaScript, PHP ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

১২। (ঘ) কম্পিউটার ভাইরাস কী? এর থেকে সুরক্ষার উপায়সমূহ আলোচনা কর।

[12. (d) What is a computer virus? Discuss the ways to protect against it.]


উত্তর:

কম্পিউটার ভাইরাস: VIRUS-এর পূর্ণরূপ হলো Vital Information Resources Under Siege। এটি এমন এক ধরনের ক্ষতিকারক ও ধ্বংসাত্মক কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতসারে কম্পিউটারে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি (Replicate) তৈরি করে এবং ফাইলের ক্ষতিসাধন, ডেটা মুছে ফেলা বা সিস্টেম ক্র্যাশ করায়।
সুরক্ষার উপায়সমূহ:
১. নির্ভরযোগ্য ও লাইসেন্সকৃত অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার (যেমন Windows Defender, Kaspersky) নিয়মিত আপডেট রাখা。
২. অপরিচিত পেনড্রাইভ ব্যবহারের পূর্বে স্ক্যান করে নেওয়া এবং সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট না খোলা。
৩. পাইরেটেড বা ক্র্যাক সফটওয়্যার ডাউনলোড ও ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকা。
৪. গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিয়মিত ব্যাকআপ আলাদা ড্রাইভে সংরক্ষণ করা。

১৩। (ঙ) মাল্টিমিডিয়া (Multimedia) কাকে বলে? আধুনিক শিক্ষাদানে এর প্রয়োগ আলোচনা কর।

[13. (e) What is multimedia? Discuss its application in modern education.]


উত্তর:

মাল্টিমিডিয়ার সংজ্ঞা: ‘মাল্টি’ অর্থ বহু এবং ‘মিডিয়া’ অর্থ মাধ্যম। সুতরাং তথ্য প্রকাশ ও বিনিময়ের জন্য টেক্সট (লেখা), গ্রাফিক্স (ছবি), অডিও (শব্দ), ভিডিও (চলমান চিত্র) এবং অ্যানিমেশনের সমন্বিত ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডিজিটাল মাধ্যমকেই মাল্টিমিডিয়া বলে।
শিক্ষাদানে প্রয়োগ:
১. মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম: প্রজেক্টরের সাহায্যে স্লাইড, ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সামনে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা যায়。
২. ভিজ্যুয়াল লার্নিং: হাদিসের ইতিহাস, ভৌগোলিক মানচিত্র বা বৈজ্ঞানিক শারীরবিদ্যা বাস্তব ভিডিওর মাধ্যমে দেখে শিক্ষার্থীরা দ্রুত শিখতে ও দীর্ঘকাল মনে রাখতে পারে。
৩. দূরশিক্ষণ ও অনলাইন ক্লাস: ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডিজিটাল কন্টেন্ট দিয়ে ঘরে বসেই দূরবর্তী শিক্ষকের পাঠ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে。

১৪। (চ) ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DBMS) কী? এর সুবিধাগুলো লেখ।

[14. (f) What is Database Management System (DBMS)? Write its advantages.]


উত্তর:

ডিবিএমএস-এর সংজ্ঞা: DBMS (Database Management System) হলো এমন একগুচ্ছ কম্পিউটার সফটওয়্যার ও প্রোগ্রামের সমষ্টি, যা ডেটাবেজ তৈরি, তথ্য সংরক্ষণ, সংশোধন, নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং দ্রুত অনুসন্ধানের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে। উদাহরণ: Oracle, MySQL, Microsoft Access ইত্যাদি।
প্রধান সুবিধাসমূহ:
১. ডেটা রিডানডেন্সি হ্রাস: একই তথ্যের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি রোধ করে স্টোরেজ সাশ্রয় করে。
২. দ্রুত তথ্য অনুসন্ধান: কোটি কোটি তথ্যের মধ্য থেকে কুয়েরি (Query) কমান্ডের সাহায্যে এক সেকেন্ডে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করা যায়。
৩. ডেটার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবহারকারীর ইউজার অ্যাক্সেস ও পাসওয়ার্ড সুরক্ষা বজায় রাখে。
৪. সহজ ব্যাকআপ ও রিকভারি: দুর্ঘটনাজনিত ডেটা হারানোর হাত থেকে স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ ব্যবস্থা প্রদান করে。

১৫। (ছ) মাকতাবা শামেলা (Al-Maktaba Al-Shamela) সফটওয়্যারটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

[15. (g) Give a brief introduction to Al-Maktaba Al-Shamela software.]


উত্তর:

মাকতাবা শামেলার পরিচয়: আল-মাকতাবা আশ-শামেলা (المكتبة الشاملة) হলো বিশ্বখ্যাত একটি উন্মুক্ত ও সুবিশাল ডিজিটাল ইসলামিক লাইব্রেরি সফটওয়্যার। এটি ইসলামিক স্কলার ও গবেষকদের জন্য তৈরি এক অমূল্য গবেষণাগার। এতে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, আকাইদ, আরবি ব্যাকরণ, বালাগাত, আরবি সাহিত্য এবং ইসলামের ইতিহাসের প্রাচীন ও আধুনিক প্রায় ৮ সহস্রাধিক মূল গ্রন্থ অবিকল পৃষ্ঠা নম্বরসহ সংরক্ষিত রয়েছে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
– যে কোনো একক শব্দ বা বাক্যাংশ লিখে একই সাথে শত শত কিতাবে একযোগে মুহূর্তের মধ্যে সার্চ করা যায়。
– মুদ্রিত মূল কিতাবের পৃষ্ঠা ও খণ্ড নম্বর হুবহু উল্লেখ থাকায় গবেষণাপত্রে রেফারেন্স বা ফুটনোট ব্যবহার অত্যন্ত নির্ভুল ও সহজ হয়。
– গবেষক নিজের পছন্দের নতুন কিতাব এই সফটওয়্যারে যুক্ত করতে পারেন এবং ব্যক্তিগত নোট সংরক্ষণ করতে পারেন。

১৬। (জ) লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) ও ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)-এর মধ্যে তুলনা কর।

[16. (h) Compare between Local Area Network (LAN) and Wide Area Network (WAN).]


উত্তর:

ভৌগোলিক বিস্তৃতির ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়, যার মধ্যে ল্যান এবং ওয়ান অন্যতম:

তুলনার বিষয় লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)
ভৌগোলিক বিস্তৃতি একটি নির্দিষ্ট কক্ষ, ভবন বা ছোট ক্যাম্পাসের (১-২ কিমির মধ্যে) সীমাবদ্ধ নেটওয়ার্ক। দেশজুড়ে বা পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত সুবিশাল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।
মালিকানা সাধারণত কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অফিসের একক ব্যক্তিমালিকানাধীন। যৌথ বা আন্তর্জাতিক বহু টেলিকম ও আইআইজি সংস্থার সমন্বিত নেটওয়ার্ক।
ডেটা ট্রান্সমিশন গতি অত্যন্ত উচ্চগতির (১০০ Mbps থেকে ১০ Gbps পর্যন্ত)। ল্যানের তুলনায় গতি তুলনামূলকভাবে কম বা ব্যান্ডউইথের ওপর নির্ভরশীল।
সংযোগ মাধ্যম টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল বা লোকাল ওয়াইফাই (Wi-Fi) দিয়ে যুক্ত। স্যাটেলাইট, ফাইবার অপটিক সাবমেরিন ক্যাবল ও মাইক্রোওয়েভের মাধ্যমে যুক্ত।
বাস্তব উদাহরণ মাদরাসার কম্পিউটার ল্যাব বা কোনো অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ‘ইন্টারনেট’ (Internet) হলো ওয়ান-এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ডিজিটাল কম্পিউটারের চারটি প্রধান শ্রেণি কি কি?

আকার, গতি ও কার্যক্ষমতার ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটার চার প্রকার: সুপার কম্পিউটার, মেইনফ্রেম কম্পিউটার, মিনি কম্পিউটার এবং মাইক্রো কম্পিউটার বা পিসি।

২. ইনপুট ডিভাইস ও আউটপুট ডিভাইসের মূল পার্থক্য কী?

ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কম্পিউটারে উপাত্ত ও নির্দেশ পাঠায় (যেমন কিবোর্ড), আর আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকৃত ফলাফল ব্যবহারকারী দেখতে বা পেতে পারে (যেমন মনিটর, প্রিন্টার)।

৩. ক্যাশ মেমরি (Cache Memory) কেন কম্পিউটারের গতি বাড়ায়?

ক্যাশ মেমরি সরাসরি প্রসেসরের সাথে অতি উচ্চগতিতে যুক্ত থাকে, যা ঘনঘন প্রয়োজনীয় নির্দেশগুলো জমা রেখে প্রসেসরকে অপেক্ষাহীনভাবে দ্রুত ডেটা সরবরাহ করে।

৪. ইউনিকোড ব্যবহারের ফলে আরবি ও বাংলা টাইপিংয়ে কী সুবিধা হয়েছে?

ইউনিকোড আন্তর্জাতিক ১৬/৩২ বিটের স্ট্যান্ডার্ড হওয়ায় বিশ্বের যে কোনো কম্পিউটারে আলাদা কোনো বিশেষ ফন্ট ইনস্টল ছাড়াই বাংলা ও আরবি হরফ ও হরকত অবিকলভাবে প্রদর্শিত ও বিনিময় করা যায়।

৫. সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য কী?

সিস্টেম সফটওয়্যার (যেমন উইন্ডোজ ওএস) কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পরিচালনা ও চালনা করে, আর অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন এমএস ওয়ার্ড, মাকতাবা শামেলা) নির্দিষ্ট ব্যবহারিক কাজ সম্পন্ন করে।

৬. ইসলামিক গবেষণায় ‘আল-মাকতাবা আশ-শামেলা’ ব্যবহারের প্রধান সুবিধা কী?

মাকতাবা শামেলায় মুদ্রিত কিতাবের পৃষ্ঠা ও খণ্ড নম্বরসহ হাজার হাজার মৌলিক আরবি কিতাব সংরক্ষিত রয়েছে, যা যে কোনো হাদিস বা ফিকহি বিষয় মুহূর্তের মধ্যে মূল রেফারেন্সসহ খুঁজে দেয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *