ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: প্রাচীন গদ্য-২ (النثر القديم-2)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৪ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
مجموعة (أ) – রচনামূলক প্রশ্ন ও সমাধান
١- ترجم ثلاث قطعات مما يلي:
[১. নিচের অনুচ্ছেদগুলো থেকে যেকোনো তিনটির প্রাঞ্জল অর্থ ও মর্মার্থ তুলে ধর:]
(الف) قال دبشليم الملك لبيدبا الفيلسوف: قد سمعت هذا المثل، اضرب لي مثل الرجل يطلب الحاجة فإذا ظفر بها أضاعها- قال الفيلسوف: إن طلب الحاجة أهون من الاحتفاظ بها ومن ظفر بحاجة ثم لم يحسن القيام بها أصابه ما أصاب الغيلم- قال الملك: وكيف ذلك؟ قال بيدبا: زعموا أن قردا يقال له ماهر، كان ملك القردة، وكان قد كبر وهرم فوثب عليه قرد شاب من بيت المملكة فتغلب عليه، وأخذ مكانه، فخرج هاربا على وجهه حتى انتهى إلى الساحل-
[১ (ক). বাদশাহ দাবশালিম দার্শনিক বাইদাবাকে বললেন: আমি এই দৃষ্টান্তটি শুনেছি, এখন আমাকে এমন ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিন যে কোনো বস্তু কামনা করে, অতঃপর তা লাভ করার পর হারিয়ে ফেলে। দার্শনিক বললেন: কোনো বস্তু অন্বেষণ করা তা সংরক্ষণ করার চেয়ে সহজ। আর যে ব্যক্তি কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করে তা সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে না, তার পরিণতি কচ্ছপের মতোই হয়। বাদশাহ বললেন: তা কীভাবে? বাইদাবা বললেন: জনশ্রুতি রয়েছে যে, ‘মাহির’ নামের এক বানর ছিল, যে ছিল বানরদের রাজা। সে বৃদ্ধ ও জরাগ্রস্ত হয়ে পড়লে রাজবংশের এক যুবক বানর তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে পরাজিত করল এবং তার সিংহাসন দখল করে নিল। ফলে সে দিশেহারা হয়ে পালিয়ে সমুদ্রের উপকূলে এসে উপস্থিত হলো।]
(ب) فلم يلبث أن جاءه رسول الملك يستدعيه، ولم يجد من يخلفه عند ابنه غير ابن عرس داجن عنده كان قد رباه صغيرا فهو عنده عديل ولده، فتركه الناسك عند الصبي وأغلق عليهما البيت، وذهب مع الرسول، فخرج من بعض أحجار البيت حية سوداء فدنت من الغلام فضربها ابن عرس ثم وثب عليها فقتلها ثم قطعها وامتلأ فمه من دمها- ثم جاء الناسك وفتح الباب فالتقاه ابن عرس كالمبشر له بما صنع من قتل الحية-
[১ (খ). কিছুক্ষণের মধ্যেই বাদশাহর দূত এসে সাধু ব্যক্তিকে ডেকে পাঠাল। তিনি তাঁর শিশুপুত্রের কাছে রেখে যাওয়ার মতো পোষা বেজিটি ছাড়া আর কাউকে পেলেন না, যাকে তিনি ছোটবেলা থেকেই লালন-পালন করেছিলেন এবং সে তাঁর কাছে নিজের সন্তানের মতোই প্রিয় ছিল। সুতরাং সাধু ব্যক্তি বেজিটিকে শিশুর কাছে রেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে দূতের সাথে চলে গেলেন। ইতিমধ্যে ঘরের পাথরের ফাঁক থেকে একটি কালো সাপ বের হয়ে শিশুর দিকে অগ্রসর হলো। বেজিটি সাপের ওপর আক্রমণ করে তাকে হত্যা করল এবং টুকরো টুকরো করে ফেলল, ফলে তার মুখ রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল। এরপর সাধু ফিরে এসে দরজা খুলতেই বেজিটি সাপ মারার সুসংবাদ দেওয়ার ভঙ্গিতে তাঁর সামনে উপস্থিত হলো।]
(ج) أيها السادر في غلوائه، السادل ثوب خيلائه، الجامح في جهالاته- الجانح إلى خز عبلاته- إلام تستمر على غيك وتستمرئ مرعى بغيك؟ وحتام تتناهى في زهوك؟ ولا تنتهي عن لهوك؟ تبارز بمعصيتك مالك ناصيتك! وتجترئ بقبح سيرتك على عالم سريرتك! وتتوارى عن قريبك- وأنت بمرأى رقيبك، وتستخفي من مملوكك وما تخفى خافية على مليكك! أتظن أن ستنفعك حالك إذا آن ارتحالك؟
[১ (গ). হে আপন পথভ্রষ্টতায় বিভোর, অহংকারের চাদর পরিহিত, মূর্খতায় লাগামহীন, মূল্যবান রেশমি পোশাকে মুগ্ধ ব্যক্তি! কতকাল তুমি তোমার এই গোমরাহির ওপর অবিচল থাকবে এবং অন্যায়ের চারণভূমিতে সুখ খুঁজবে? আর কতকাল তুমি তোমার আত্মম্ভরিতার চূড়ায় থাকবে এবং তোমার অনর্থক খেল-তামাশা থেকে বিরত হবে না? তুমি পাপাচারে লিপ্ত হয়ে তোমার ভাগ্যবিধাতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছ! তোমার অন্তরের গোপন খবর যিনি জানেন তাঁর সামনে অবলীলায় দুঃসাহস দেখাচ্ছ! মানুষের চোখ থেকে নিজেকে লুকাও, অথচ তোমার সংরক্ষক ফেরেশতার দৃষ্টির সামনেই তুমি আছ; গোলামের কাছ থেকে নিজেকে গোপন করো, অথচ তোমার আসল বাদশাহর কাছে কোনো গোপনীয়তাই গোপন নয়! তুমি কি ভেবেছ যে, যখন তোমার মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে আসবে তখন তোমার এই পার্থিব প্রাচুর্য ও সম্পদ কোনো উপকারে আসবে?]
(د) حكى الحارث بن همام قال: كلفت مذ ميطت عني التمائم، ونيطت بي العمائم- بأن أغشى معان الأدب وأنضي إليه ركاب الطلب- لأعلق منه بما يكون لي زينة بين الأنام، ومزنة عند الأوام، وكنت لفرط اللهج باقتباسه، والطمع في تقمص لباسه، أباحث كل من جلّ وقلّ، وأستسقي الوبل والطل وأتعلل بعسى ولعل- فلما حللت حلوان- وقد بلوت الإخوان وسبرت الأوزان، وجزت ما شان وزان- ألفيت بها أبا زيد السروجي يتقلب في قوالب الإنشاب-
[১ (ঘ). হারেস ইবনে হাম্মাম বর্ণনা করেন: যখন থেকে আমার শরীর থেকে ছেলেবেলার তাবিজ সরানো হয়েছে এবং মাথায় মর্যাদার পাগড়ি বাঁধা হয়েছে, তখন থেকেই আমি সাহিত্যের আঙিনায় বিচরণ করতে এবং জ্ঞানার্জনের সওয়ারিকে দ্রুত ধাবিত করতে ব্যাকুল ছিলাম; যেন সাহিত্য থেকে এমন কিছু অর্জন করতে পারি যা মানুষের মাঝে আমার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে এবং তৃষ্ণার মুহূর্তে সুশীতল বৃষ্টির মেঘ হবে। সাহিত্য অর্জনে আমার চরম অনুরাগ এবং এর পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করার গভীর লোভে আমি ছোট-বড় সবার সাথে জ্ঞানালোচনা করতাম, মুষলধারে কিংবা গুঁড়ি গুঁড়ি সর্বাবস্থায় বৃষ্টির সন্ধান করতাম এবং ‘হতে পারে’, ‘সম্ভবত’ আশায় নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম। অবশেষে যখন আমি ‘হুলওয়ান’ নগরে পৌঁছালাম—বন্ধুদের পরীক্ষা করে, সাহিত্যের মানদণ্ড যাচাই করে এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য চিনে—সেখানে আমি আবু যায়েদ সারুজীকে কাব্য ও চাতুর্যের নানা রূপ ধারণ করতে দেখতে পেলাম।]
(هـ) وكان معي دريهمات وفرقتها عليهم، وجعلت أحدثهم حتى أنسوا بي، ثم قلت: من منكم ضرب أكثر؟ قال: فأخذوا يتفاخرون حتى اتفقوا على واحد منهم أنه أكثرهم ضربا، وأشدهم صبرا، قال: فقلت له: أسألك عن شيء؟ قال: هات، فقلت: شيخ ضعيف ليس صناعته كصناعتكم، ضرب على الجوع للقتل سياط يسيرة، إلا أنه لم يمت، وعالجوه وبرأ، إلا أن موضعا في صلبه يوجعه وجعا ليس له عليه صبر-
[১ (ঙ). আমার সাথে কিছু দিরহাম ছিল, যা আমি তাদের মাঝে বণ্টন করে দিলাম এবং তাদের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম যাতে তারা আমার প্রতি আশ্বস্ত হয়। তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম: তোমাদের মধ্যে কার ওপর সবচেয়ে বেশি চাবুক মারা হয়েছে? তিনি বললেন: তারা গর্ব করতে লাগল এবং অবশেষে তাদের একজনের ব্যাপারে সবাই একমত হলো যে, সে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল। বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাকে বললাম, আমি তোমাকে একটি বিষয় জিজ্ঞেস করতে পারি? সে বলল: বলো। আমি বললাম: এক দুর্বল বৃদ্ধ মানুষ, যার পেশা তোমাদের মতো চাবুক খাওয়া নয়, হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাকে অল্প কিছু চাবুক মারা হয়েছে। কিন্তু তিনি মারা যাননি এবং চিকিৎসা করায় সুস্থ হয়েছেন; তবে তাঁর পিঠের একটি স্থানে এমন অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে যা সহ্য করা যায় না—এর সমাধান কী?]
(و) عن ابن عمر قال: الحياء والإيمان مقرونان جميعا فإذا رفع أحدهما ارتفع الآخر- وكان يقال: أحيوا الحياء بمجالسة من يستحيا منه- ذكر أعرابي رجلا فقال: لا تراه الدهر إلا وكأنه لا غنى به عنك وإن كنت إليه أحوج، فإن أذنبت غفر وكأنه المذنب وإن أسأت إليه أحسن وكأنه المسيء-
[১ (চ). হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: লজ্জা ও ঈমান সর্বদাই একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত; সুতরাং যখন একটি তুলে নেওয়া হয়, অপরটিও উঠে যায়। আর প্রাচীন প্রবাদ ছিল: যাঁদের দেখলে লজ্জা অনুভূত হয় তাঁদের সাহচর্যে বসে লজ্জাশীলতার গুণকে জীবিত রাখো। এক বেদুইন এক মহান ব্যক্তির গুণগান করতে গিয়ে বলেছিল: তুমি তাকে সর্বদা এমন দেখতে পাবে যেন সে তোমার মুখাপেক্ষী, অথচ প্রকৃতপক্ষে তুমিই তার প্রতি সর্বাধিক মুখাপেক্ষী। তুমি যদি কোনো ভুল করো সে তা ক্ষমা করে দেয় যেন সে নিজেই অপরাধী, আর তুমি তার সাথে দুর্ব্যবহার করলেও সে তোমার সাথে উত্তম আচরণ করে যেন সে নিজেই অন্যায়কারী।]
٢- اشرح اثنين مما يلي:
[২. নিচের যে কোনো দুটির ব্যাখ্যা কর:]
(الف) أحيوا الحياء بمجالسة من يستحيى منه-
[২ (ক). যাঁদের দেখে লজ্জা ও সম্ভ্রম জাগে তাঁদের সাহচর্যে থেকে লজ্জাশীলতার গুণকে জীবিত রাখো।]
ব্যাখ্যা:
উক্তিটি মানবচরিত্রের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য প্রকাশ করে। মানুষের চারিত্রিক গুণাবলি পরিবেশ ও সঙ্গের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। যখন কোনো ব্যক্তি সৎ, খোদাভীরু, সম্ভ্রান্ত এবং মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সংশ্রবে থাকে, তখন তাদের ব্যক্তিত্ব ও তাকওয়ার প্রভাবে তার অন্তরে স্বাভাবিকভাবেই অন্যায় ও নির্লজ্জতার প্রতি ঘৃণা এবং লজ্জাবোধ জাগ্রত থাকে। পক্ষান্তরে নির্লজ্জ ও বেহায়া লোকদের সাথে উঠাবসা করলে অন্তরের লজ্জাশীলতার আলো নিভে যায়। তাই সচ্চরিত্রবান ও শ্রদ্ধেয় বুজুর্গদের সান্নিধ্য অন্তরের লজ্জাশীলতাকে সতেজ রাখার সর্বোত্তম উপায়।
(ب) ما يحملك أيها الرجل على أن تتكلم بما لا تدري أيكون أم لا؟
[২ (খ). হে ব্যক্তি! এমন বিষয়ে কথা বলতে তোমাকে কীসে বাধ্য করল যা আদৌ ঘটবে কি না তুমি জানো না?]
ব্যাখ্যা:
এটি কালিল্লাহ ওয়া দিমনা গ্রন্থের আবেদ ও বেজির উপাখ্যানে আবেদের স্ত্রীর এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য। মানুষ যখন দূরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে অলীক কল্পনা বা ধারণাপ্রসূত ধারণার ওপর নির্ভর করে নিশ্চিত বিশ্বাসের মতো কথা বলে, তখন তা মূর্খতার পরিচায়ক হয়। অনাগত ভবিষ্যতের জ্ঞান একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। যে বিষয়ে নিশ্চিত বাস্তবতা নেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা দম্ভোক্তি করা বিচক্ষণ ব্যক্তির কাজ নয়। মানুষের উচিত বর্তমানের দায়িত্বে মনোনিবেশ করা এবং অনিশ্চিত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো কাজ না করা।
(ج) هون عليك فإنما أنا ابن امرأة من قريش كانت تأكل القديد-
[২ (গ). নিজেকে শান্ত করো! নিশ্চয় আমি কুরাইশ বংশের এমন এক সাধারণ নারীর সন্তান, যিনি শুকনা গোশত খেতেন।]
ব্যাখ্যা:
হাদিস শরিফের এই অমিয় বাণীটি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর অতুলনীয় বিনয় ও নিরহংকার চরিত্রের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একদা এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সম্মুখে এসে ভয়ে ও শ্রদ্ধায় কাঁপতে লাগলেন। তখন রাহমাতুল্লিল আলামীন ﷺ তাঁকে আশ্বস্ত করে এই কথা বলেন। মক্কার দরিদ্র মানুষেরা রোদে শুকানো মাংস (কাদিদ) খেত। রাসূল ﷺ নিজেকে একজন সাধারণ মানুষের মায়ের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিশ্ববাসীকে শিক্ষা দিলেন যে, ইসলামের রাষ্ট্রপ্রধান বা নবী কোনো স্বেচ্ছাচারী বাদশাহ নন, বরং তিনি মানবজাতির ভাই ও বিনম্র সেবক।
(د) إذا اتخذكم الناس رؤوسًا فكونوا أذنابا-
[২ (ঘ). যখন মানুষ তোমাদের নেতা বানাবে, তখন তোমরা অনুগামী বা লেজ হয়ে থেকো।]
ব্যাখ্যা:
এটি ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও নৈতিক নেতৃত্বের এক অনন্য মূলনীতি। যখন জনগণ কাউকে নেতা বা প্রধান হিসেবে নির্বাচন করে, তখন তার আত্মগর্বে মত্ত হওয়া উচিত নয়, বরং সে নিজেকে জনগণের সেবক ও অনুসারী মনে করবে। ক্ষমতার অহংকার মানুষের পতন ডেকে আনে। নেতা যদি নিজেকে সবচেয়ে ক্ষুদ্র ও বিনয়ী মনে করে দায়িত্ব পালন করে, তবেই সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ নেতৃত্ব হলো এক বিরাট আমানত ও সেবার দায়িত্ব, অহংকার প্রকাশের কোনো মাধ্যম নয়।
٣- اشرح اثنين مما يلي بالعربية:
[৩. নিচের যে কোনো দুটির আরবিতে ব্যাখ্যা কর:]
(الف) الحياء والإيمان مقرونان جميعًا-
[৩ (ক). লজ্জা এবং ঈমান সর্বদা পরস্পর সংযুক্ত ও অবিচ্ছেদ্য।]
الشرح بالعربية:
هذا القول الشريف يقرر حقيقة إيمانية وتربوية عظيمة، وهي أن الحياء والإيمان قرينان متلازمان في نفس المسلم لا ينفصل أحدهما عن الآخر بحال. فالحياء خلق كريم يبعث على اجتناب القبيح والمنكر ويحث على مكارم الأخلاق، والإيمان هو التصديق بالله وامتثال أوامره واجتناب نواهيه. فإذا وجد الإيمان في القلب أثمر حياءً صادقاً من الله يمنع صاحبه من المعصية، وحياءً من الناس يصونه عن الدنايا. وإذا سُلب الحياء من قلب المرء، انفرط عقد إيمانه تدريجياً حتى يتجاهر بالمعاصي؛ ولذا قال النبي ﷺ في الحديث الصحيح: «إذا لم تستحِ فاصنع ما شئت».
(ب) كان أفضل من أن يخدع وأعقل من أن يُخدع-
[৩ (খ). তিনি মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেয়ে অনেক উত্তম ছিলেন এবং কারও দ্বারা প্রতারিত হওয়ার চেয়ে অধিকতর বুদ্ধিমান ছিলেন।]
الشرح بالعربية:
تصف هذه العبارة البليغة كمال الفطنة والذكاء المقترنين بالتقوى والشرف في شخصية المؤمن الحق، وقد قيلت في وصف أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وفي معناها قال عمر: “لستُ بالخب ولا الخب يخدعني”. والمعنى: أن الرجل الصالح النبيل يمنعه دينه وورعه وخوفه من الله عن خديعة الناس أو الغدر بهم، ففضله وأخلاقه أسمى من أن يمكر بأحد. وفي الوقت نفسه ليس بالمغفل ولا بالساذج الذي ينطلي عليه مكر الماكرين، بل هو يقظ، بصير بمداخل الأمور، ذو بصيرة نافذة تدرك عواقب الحيل؛ فهو يجمع بين سلامة الصدر ودقة الفراسة.
(ج) أتظن أن ستنفعك حالك إذا آن ارتحالك؟
[৩ (গ). তুমি কি মনে করো যে তোমার মৃত্যুক্ষণ উপস্থিত হলে এই পার্থিব অবস্থা তোমার কোনো উপকারে আসবে?]
الشرح بالعربية:
هذا الاستفهام الاستنكاري البليغ ورد في مقامات الحريري في مقام الموعظة والتذكير بالآخرة. يخاطب به الأديب الإنسان الغافل المغرور بثرائه، وسلطانه، وجاهه العريض في الدنيا. والمعنى: أيها الراكض وراء الشهوات والمفتون بزخرف الحياة الفانية، هل تتوهم حقاً أن هذه الأموال التي جمعتها من الحلال والحرام، وتلك الدور والقصور والخدم والحشم، ستدفع عنك سكرات الموت أو تخلصك من ضمة القبر وعذاب الآخرة؟ كلا والله! فحين ينزل ملك الموت لا ينفع المرء إلا ما قدم من عمل صالح وخبيئة صادقة مع ربه: ﴿يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ﴾.
(د) يا أهل الشام! أنتم الجنة والرداء وأنتم العدة والغطاء-
[৩ (ঘ). হে সিরিয়াবাসী! তোমরাই আমার ঢাল ও পরিধেয় বস্ত্র, তোমরাই আমার সম্বল ও আচ্ছাদন।]
الشرح بالعربية:
هذه المقولة صدرت عن معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه في الثناء على أهل الشام وبيان مكانتهم الاستراتيجية عنده. استخدم فيها استعارات بلاغية رائعة؛ فشبههم بـ “الجُنّة” وهي الدرع الواقي الذي يتقي به المقاتل ضربات العدو، وبـ “الرداء” اللصيق بجسده، وبـ “العدة” أي السلاح والعتاد الحاضر لوقت الشدائد، وبـ “الغطاء” الذي يستره ويحميه. والمعنى: أنتم سندي الوثيق، وحصني المنيع، وقوتي الضاربة التي اعتمد عليها في الشدائد والملمات، وكان هذا الأسلوب الحكيم من أسباب استقرار حكمه والتفاف أهل الشام الصادق حوله وطاعتهم له في المنشط والمكره.
مجموعة (ب) – সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও সমাধান
٤- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية بالعربية:
[৪. নিচের যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর আরবিতে দাও:]
(الف) اكتب المثال الذي ضربته المرأة للناسك-
[৪ (ক). নারী তার আবেদ স্বামীর সামনে যে দৃষ্টান্তটি উপস্থাপন করেছিল তা আরবিতে লেখ।]
الجواب:
المثال الذي ضربته المرأة لزوجها الناسك حين تمنى الغنى وتحدث بما لا يعلم وقوعه، هو مثل “الناسك الذي أهرق السمن والعسل على رأسه”. وتلخيصه:
كان لرجل ناسك جرة معلقة فوق رأسه فيها سمن وعسل يأتيه من رزق السلطان والمحسنين. ففكر يوماً وقال في نفسه: سأبيع هذه الجرة بعشرة دراهم، وأشتري بها خمسة أعنز، فتلد كل سنة مرتين، فيصير لي بعد سنوات قطيع عظيم من الغنم، ثم أشتري بها بقراً وأرضاً، وأبني داراً فاخرة، وأتزوج امرأة حسيبة جميلة، وتلد لي ابناً صالحاً أسميه كذا، وأؤدبه بأحسن الأدب، فإن عصاني ضربته بهذه العصا! وأشار بعصاه وهو ساهٍ في خياله، فأصاب جرة السمن والعسل فكسرها، وسال السمن والعسل على وجهه ولحيته فخاب أمله؛ فضربت المرأة هذا المثل تحذيراً من التمني الأجوف والحديث بما لم يقع.
(ب) عرف المقامة وما دور أبي زيد السروجي في المقامة-
[৪ (খ). মাকামার সংজ্ঞা দাও এবং মাকামায় আবু যায়েদ সারুজীর ভূমিকা আলোচনা কর।]
الجواب:
١- تعريف المقامة (মাকামার সংজ্ঞা): المقامة في الاصطلاح الأدبي هي قصة قصيرة خيالية أو واقعية، تدور حول بطل محتال وراوٍ يروي مغامراته، كُتبت بأسلوب أدبي رفيع يعتمد على السجع البديع، والجناس، والتضمين، وغرائب اللغة، وتهدف إلى إبراز البلاغة وتحقيق الكدية (الشحاذة بالحيلة والأدب). رائدها الأول بديع الزمان الهمذاني، ثم بلغ بها الحريري قمة النضج.
٢- دور أبي زيد السروجي (আবু যায়েদ সারুজীর ভূমিকা): هو البطل الرئيس في مقامات الحريري الخمسين. يمثل شخصية الأديب العبقري المتشرد، الشيخ الفصيح الشحاذ الذي سلبته الحروب ثروته وسكنه (سروج)، فيتخذ من فصاحته، وشعره، وقوة بيانه، وتلاعبه بعواطف الناس وسيلة لكسب الرزق والتحايل، متخفياً في كل مقامة في هيئة جديدة (واعظ، شاعر، ضرير، سائل).
(ج) اكتب ما جاء من تواضع عمر بن عبد العزيز في كتاب عيون الأخبار-
[৪ (গ). উয়ূনুল আখবার গ্রন্থে হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের বিনয় সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা লেখ।]
الجواب:
روى ابن قتيبة في كتاب «عيون الأخبار» موقفاً فريداً يجسد قمة التواضع النبوي لأمير المؤمنين عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه:
قَدِمَ عليه ضيف في ليلة من الليالي، وكان عمر يكتب في مصالح المسلمين، فكاد السراج ينطفئ، فقال الضيف: يا أمير المؤمنين، أقوم إلى السراج فأصلحه؟ فقال عمر: «ليس من كرم الرجل أن يستخدم ضيفه». فقال الضيف: أأنبه الغلام؟ فقال: «لا، إنه أول نومته». فقام عمر بنفسه إلى إناء الزيت، فأصلح السراج وملأه زيتاً ثم عاد إلى مجلسه وقال بابتسامة وتواضع جم: «قمتُ وأنا عمر بن عبد العزيز، ورجعتُ وأنا عمر بن عبد العزيز، ما نقص مني شيء؛ وخير الناس عند الله من كان متواضعاً».
٥- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:
[৫. নিচের যে কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(الف) اكتب نبذة عن ابن قتيبة-
[৫ (ক). প্রখ্যাত সাহিত্যিক ইবনে কুতায়বার সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
১. নাম ও পরিচয়: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী (ابن قتيبة)। তিনি হিজরি তৃতীয় শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আরবি সাহিত্যিক, ভাষাবিদ, মুহাদ্দিস ও চিন্তাবিদ।
২. জন্ম ও লালন-পালন: তিনি ২১৩ হিজরিতে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি কিছুকাল দিনাওয়ার শহরে বিচারক (কাজী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৩. সাহিত্যকর্ম: তিনি বহু কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
– উয়ূনুল আখবার (عيون الأخبار): আরবি সাহিত্যের এক অনন্য বিশ্বকোষ।
– আদাবুল কাতিব (أدب الكاتب): লেখকদের ভাষাগত দিকনির্দেশক মূল গ্রন্থ।
– আশ-শিরু ওয়াশ শুয়ারা (الشعر والشعراء): প্রাচীন কবিদের জীবন ও কবিতার সমালোচনা।
– তাওয়িলু মুখতালিফিল হাদিস (تأويل مختلف الحديث): হাদিসের অপব্যাখ্যা খণ্ডনকারী গ্রন্থ।
৪. ওফাত: এই মহান সাহিত্যিক ২৭৬ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
(ب) اكتب خلاصة ما جاء في باب العقل-
[৫ (খ). কিতাবুল আদাবের ‘বুদ্ধি ও বিবেক’ (باب العقل) অধ্যায়ের মূল বক্তব্য সংক্ষেপে লেখ।]
উত্তর:
ইবনে কুতায়বা তাঁর ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থে ‘বাবুল আকল’ বা বিবেক-বুদ্ধি অধ্যায়ে বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব আলোচনা করেছেন:
১. সর্বশ্রেষ্ঠ মানবীয় নেয়ামত: আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যেসব গুণাবলি দান করেছেন তার মধ্যে ‘আকল’ বা বিবেক-বুদ্ধি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ। বুদ্ধির কারণেই মানুষ সৃষ্টির সেরা এবং শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ।
২. বুদ্ধির প্রকারভেদ: তিনি বুদ্ধিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন—(ক) আকলু তাবি’ঈ (স্বভাবজাত বুদ্ধি): যা জন্মগতভাবে অর্জিত; এবং (খ) আকলু মুকতাসাব (অর্জিত প্রজ্ঞা): যা অভিজ্ঞতা, অধ্যয়ন ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গ থেকে অর্জিত হয়।
৩. জ্ঞানের সাথে বুদ্ধির সম্পর্ক: জ্ঞান হলো তলোয়ারের মতো আর বুদ্ধি হলো তা চালনাকারীর মতো। বিবেকহীন প্রচুর জ্ঞান মানুষকে বিপথগামী করতে পারে।
৪. মৌনতা ও ভাবনার গুরুত্ব: বুদ্ধিমানের প্রধান ভূষণ হলো চিন্তা করে কথা বলা এবং অনর্থক বাক্যালাপ বর্জন করা।
(ج) اكتب بعض خصائص لكليلة ودمنة-
[৫ (গ). কালিল্লাহ ওয়া দিমনা গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
উত্তর:
বিশ্ববিখ্যাত নীতিকথামূলক গ্রন্থ ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. রূপক ও পশুপাখির প্রতীকী ভাষা (الرمزية): পশুপাখির সংলাপ ও চরিত্রের মাধ্যমে মানবচরিত্রের দোষ-ত্রুটি, লোভ, হিংসা ও প্রজ্ঞা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
২. রাজনীতি ও কূটনীতির বাস্তব পাঠ: বাদশাহ কীভাবে রাজকার্য চালাবেন, শত্রুর কূটচাল কীভাবে রুখবেন এবং অযোগ্য উপদেষ্টাদের হাত থেকে কীভাবে আত্মরক্ষা করবেন তার ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা রয়েছে।
৩. গল্পের ভেতরে গল্পের বিন্যাস (القصة الإطارية): একটি মূল গল্পের ভেতর থেকে প্রসঙ্গক্রমে একের পর এক প্রাসঙ্গিক উপকথা উপস্থাপন করা হয়েছে।
৪. সহজ ও প্রাঞ্জল আরবি গদ্য: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা অত্যন্ত অলংকারসমৃদ্ধ অথচ সাবলীল আরবি গদ্যে বইটি রূপান্তর করেছেন।
(د) اكتب نبذة من حياة العلامة السيد أبي الحسن علي الندوي-
[৫ (ঘ). আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. জন্ম ও বংশ পরিচয়: সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী ১৯১৪ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলির এক সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মাওলানা হাকিম সাইয়েদ আব্দুল হাই হাসানী।
২. শিক্ষা ও শিক্ষকতা: তিনি নদওয়াতুল উলামা লখনউতে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে দীর্ঘকাল আরবি সাহিত্য ও হাদিসের পাঠদান করেন। তিনি নদওয়ার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৩. সাহিত্য ও খেদমত: তিনি আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আরবি লেখক ও সংস্কারক ছিলেন। তাঁর বিশ্ববিখ্যাত আরবি গ্রন্থ ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল) মুসলিম উম্মাহকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। আরবি ভাষা শিক্ষার জন্য তাঁর রচিত আল-কিরাআতুর রাশেদাহ ও কাসাসুন নাবিয়্যীন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
৪. ওফাত: এই মহান মনীষী ১৯৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর (১৪২০ হিজরি) জুমার দিনে ইন্তেকাল করেন।
(هـ) اكتب مميزات “مختارات من أدب العرب”-
[৫ (ঙ). ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ সংকলনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
উত্তর:
আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) সংকলিত ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ আরবি সাহিত্যের এক অনন্য পাঠ্যসংকলন। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. বিশুদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি: এতে জাহেলি যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত কেবল সেসব গদ্য ও পদ্য স্থান পেয়েছে যা সাহিত্যমানের সাথে সাথে নৈতিকতা ও তাওহীদের আদর্শকে সমুন্নত রাখে।
২. ভাষা ও শৈলীর বৈচিত্র্য: কুরআন, হাদিস, সাহাবায়ে কেরামের ভাষণ, প্রাচীন আরবের প্রবাদ, কালিল্লাহ ওয়া দিমনা এবং মাকামাত সাহিত্যের সর্বোত্তম নমুনা এতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
৩. শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি: সাহিত্যের স্বাদ আস্বাদনের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের বাগ্মিতা ও লেখনীশক্তি বিকাশের জন্য এটি চমৎকার সংকলন।
(و) اكتب دور ابن المقفع في الترجمة إلى العربية-
[৫ (চ). আরবিতে ফারসি সাহিত্য রূপান্তরের ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফার ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধর।]
উত্তর:
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা (১০৬-১৪২ হি.) আরবি অনুবাদ সাহিত্যের জনক ও আধুনিক আরবি গদ্যের পথিকৃৎ। তাঁর অবদান:
১. কালিল্লাহ ওয়া দিমনা রূপান্তর: পাহলভি (প্রাচীন ফারসি) ভাষা থেকে ভারতীয় পঞ্চতন্ত্রের এই গল্প সংকলনটি এমন জাদুকরী ও প্রাঞ্জল আরবিতে অনুবাদ করেন যা মৌলিক আরবি সাহিত্যের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়।
২. যুক্তিবিদ্যা ও দর্শনের তরজমা: এরিস্টটলের যুক্তিবিদ্যার কিছু গ্রন্থ এবং পারস্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ ‘খোদায়নামা’ (আদ-দুররাতুল ইয়াতীমা) আরবিতে স্থানান্তর করেন।
৩. আরবি গদ্যরীতির নবজন্ম: প্রাচীন জটিল ও কৃত্রিম গদ্যের বিপরীতে সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল ও সাবলীল গদ্যশৈলী (السياق السهل الممتنع) তিনিই প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ‘কালিল্লাহ ওয়া দিমনা’ গ্রন্থের মূল রচয়িতা কে এবং এটি আরবিতে কে রূপান্তর করেন?
উত্তর: এর মূল রচয়িতা প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক বাইদাবা (বিষ্ণুশর্মা) এবং এটি সংস্কৃত ও পাহলভি থেকে আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন আব্বাসীয় যুগের প্রখ্যাত সাহিত্যিক আব্দুল্লাহ ইবনুল মুকাফফা।
প্রশ্ন ২: মাকামাত সাহিত্যের জনক কে এবং এতে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: মাকামাত সাহিত্যের প্রবর্তক হলেন বদিউজ্জামাল আল-হামাদানি এবং এই ধারাকে চূড়ান্ত শিল্পরূপ ও অলংকারে সমৃদ্ধ করেন আল-কাসেম আল-হারিরি।
প্রশ্ন ৩: ‘উয়ূনুল আখবার’ গ্রন্থের রচয়িতা কে এবং এর মূল বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: ‘উয়ূনুল আখবার’-এর রচয়িতা বিখ্যাত ভাষাবিদ ও মুহাদ্দিস ইবনে কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী; এতে রাজনীতি, যুদ্ধ, নেতৃত্ব, সচ্চরিত্রতা, বাগ্মিতা ও বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রাচীন প্রবাদ ও উপাখ্যান সংকলিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৪: মাকামাতে হুলওয়ানিয়্যাহ-র প্রধান নায়কের নাম কী?
উত্তর: মাকামাতে হুলওয়ানিয়্যাহ-র কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম আবু যায়েদ সারুজি এবং বর্ণনাকারীর নাম হারেস ইবনে হাম্মাম।
প্রশ্ন ৫: আবেদ ও বেজির উপাখ্যান থেকে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয় কী?
উত্তর: কোনো বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান ছাড়া দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া বা আবেগের বশবর্তী হয়ে পদক্ষেপ নেওয়া চরম ক্ষতির কারণ হয়; ধৈর্যের সাথে সত্য উদঘাটন করা উচিত।
প্রশ্ন ৬: ফাজিল অনার্স পরীক্ষায় প্রাচীন গদ্যের অনুবাদে ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল কী?
উত্তর: হুবহু আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে মূল ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে সাহিত্যিক ও প্রাঞ্জল ভাষায় অনুবাদ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ ও ব্যাকরণগত দিক স্পষ্ট করা।