ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
বিষয়: আন-নাসরুল হাদীস-১ (النثر الحديث-1 – Modern Arabic Prose-I)
বিষয় কোড: ২০৪৩০৬ | পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
١- ترجم ستا من القطعات التالية إلى البنغالية:
[১. নিচের অনুচ্ছেদগুলো থেকে যেকোনো ছয়টির প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ লেখ:]
(الف) إن مسئلة تقهقر الإسلام بنت ألف عام أو أكثر وما حفظ عن هذا الدين المبين كل هذه القرون المتوالية إلا متانة الأساس مع انحطاط الأمم السائرة عن المسلمين في كل الشؤون إلى أن فاقتنا بعض الأمم في العلوم والفنون المنورة للمدارك فربت قوتها فنشرت نفوذها على أكثر البلاد والعباد من مسلمين وغيرهم-
[১ (ক). ইসলামের পশ্চাদপসরণ ও অবনতির সমস্যাটি আজ বা কালকের নয়, বরং এটি এক হাজার বছর বা তারও অধিক প্রাচীন সংকট। দীর্ঘ শতাব্দী ধরে এই সুস্পষ্ট দ্বীন ইসলামের অস্তিত্ব যে টিকে আছে, তা কেবল এর মূল ভিত্তি ও অবকাঠামোর চরম সুদৃঢ়তার কারণেই সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় অপরাপর জাতিসমূহ দীর্ঘদিন মুসলমানদের চেয়ে সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার পর অবশেষে বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ দানকারী বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। ফলে তাদের শক্তি বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও জাতির ওপর তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছে।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
تقهقر: পশ্চাদপসরণ, অবনতি। متانة الأساس: মূল ভিত্তির সুদৃঢ়তা। المنورة للمدارك: জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিতকারী বিদ্যা। فربت قوتها: তাদের শক্তি বৃদ্ধি পেল। نفوذها: আধিপত্য, প্রভাব।
(ب) ثم يا أيها الإخوان، أظنكم كذلك تستصوبون أن نترك جانبا اختلاف المذاهب التى نحن متبعوها تقليدا، فلا نعرف ونأخذ كثير من أحكامها وأن نعتمد ما نعلم من صريح الكتاب وصحيح السنة وثابت الإجماع، وذلك لكيلا نتفرق في الآراء وليكون ما نقرره مقبولا عند جميع أهل القبلة إذ أن مذهب السلف هو الأصل الذى لا يرد ولا تستنكف الأمة أن ترجع إليه، وتجتمع عليه في بعض أمهات المسائل-
[১ (খ). অতঃপর হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! আমি ধারণা করি আপনারাও এটিকে যুক্তিযুক্ত মনে করবেন যে, যেসব মাযহাব আমরা অন্ধ অনুকরণ করে অনুসরণ করি সেগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য একপাশে সরিয়ে রাখা উচিত। সুতরাং আমরা সেগুলোর বহু খুঁটিনাটি বিধান গ্রহণে নিমগ্ন না হয়ে বরং সরাসরি সুস্পষ্ট কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং অকাট্য ইজমার ওপর নির্ভর করব। যাতে মতামতের ক্ষেত্রে আমরা বিভক্ত না হয়ে পড়ি এবং আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই তা যেন সকল কিবলাপন্থী মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। কেননা সালাফে সালেহীনের নীতিই হলো সেই মূল ভিত্তি যা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে না এবং উম্মাহর কোনো সদস্যই সেদিকে প্রত্যাবর্তন করতে কিংবা মৌলিক সমস্যাবলিতে ঐক্যবদ্ধ হতে কুণ্ঠাবোধ করে না।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
تستصوبون: তোমরা সঠিক ও সমীচীন মনে করবে। تقليداً: অন্ধ অনুকরণে। صريح الكتاب: কুরআনের সুস্পষ্ট বাণী। ثابت الإجماع: সর্বসম্মত ঐক্যমত। لا تستنكف: ঘৃণা বা অনীহা প্রকাশ করে না। أمهات المسائل: মৌলিক ও প্রধান বিষয়সমূহ।
(ج) فيا أيها السادة ما هو سبب ملازمة الفتور منذ قرون للمسلمين، من أى قوم كانوا وأينما وجدوا وكيفما كانت شؤونهم الدينية أو السياسية أو الأفرادية أو المعاشية حتى أننا لا نكاد نجد إقليمين متجاورين أو ناحيتين في إقليم أو قريتين في ناحية أو بيتين في قرية أهل أحدهما مسلمون والآخر غير مسلمين إلا ونجد المسلمين أقل من جيرانهم نشاطا وانتظاما في جميع سؤونهم الحيوية الذاتية والعمومية-
[১ (গ). অতএব হে সুধীমণ্ডলী! শতাব্দীকাল ধরে মুসলমানদের মধ্যে এই অবিচ্ছেদ্য স্থবিরতা ও অকর্মণ্যতার কারণ কী—তা তারা যে জাতিরই হোক না কেন, যেখানেই বসবাস করুক না কেন, এবং তাদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন? পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, পাশাপাশি দুটি অঞ্চল, একই অঞ্চলের দুটি পল্লী, কিংবা একটি গ্রামের দুটি বাড়ি যার একটির অধিবাসী মুসলমান এবং অপরটি অমুসলিম—এমন ক্ষেত্রগুলোতেও আমরা দেখতে পাই মুসলমানরা তাদের অমুসলিম প্রতিবেশীদের তুলনায় সকল ব্যক্তিগত ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে কর্মতৎপরতা ও শৃঙ্খলাবোধে অনেক পিছিয়ে।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
ملازمة الفتور: স্থবিরতা ও নিষ্ক্রিয়তার স্থায়ী অবস্থান। المعاشية: অর্থনৈতিক ও জীবিকাগত। إقليمين متجاورين: দুটি প্রতিবেশী অঞ্চল বা প্রদেশ। نشاطاً وانتظاماً: কর্মচাঞ্চল্য ও নিয়মানুবর্তিতা।
(د) فالدين الصحيح كافل بالنظام والنجاح في الحال والسعادة والفلاح في المآل والباطل والفاسدان بنقصان قد يكون أصحابها على نظام ونجاح في الحياة على مراتب مختلفة وأما الفاسدان بزيادة أو بتخليط فمهلكة محضة، ثم أقول ربما كان تقريري هذا غريبا في بابه فألتمس أن لا يقبل ولا يرد إلا بعد التدقيق والتطبيق لأنه أصل مهم لمسألة الفتور العام المستولى على المسلمين-
[১ (ঘ). সুতরাং বিশুদ্ধ দ্বীন ইহকালে সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা ও সার্বিক সাফল্যের জামিনদার এবং পরকালে অনাবিল সুখ ও চিরস্থায়ী মুক্তির নিশ্চয়তাদাতা। পক্ষান্তরে বাতিল ও ঘাটতিজনিত ভ্রান্ত মতবাদের অনুসারীরাও অনেক সময় ইহলৌকিক জীবনে বিভিন্ন স্তরে কিছুটা শৃঙ্খলা ও পার্থিব সাফল্য অর্জন করতে পারে; কিন্তু মনগড়া বৃদ্ধি কিংবা ভেজাল ও মিশ্রণজনিত ভ্রান্ত দ্বীন নিছক ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নয়। অতঃপর আমি বলব, আমার এই বক্তব্য হয়তো এই ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রমী মনে হতে পারে; তাই আমার সবিনয় নিবেদন—যথাযথ গভীর গবেষণা ও যাচাই-বাছাই ছাড়া এটি গ্রহণও করবেন না, আবার প্রত্যাখ্যানও করবেন না। কেননা মুসলমানদের আচ্ছন্নকারী সর্বগ্রাসী স্থবিরতার অন্তর্নিহিত রহস্য উদঘাটনে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
كافل بالنظام: শৃঙ্খলার জিম্মাদার। الفلاح في المآل: পরকালীন মুক্তি ও সাফল্য। مهلكة محضة: চরম ধ্বংস ও বিনাশ। التدقيق والتطبيق: গভীর অনুসন্ধান ও বাস্তব প্রয়োগ।
(هـ) هذا ولا ريب أن التسعين في المائة من هؤلاء العلماء المتبحرين لا يحسنون قراءة نعوتهم المزورة كما أن الخمسة والتسعين من أولئك المتورعين رافعى أعلام الشريعة والدين يحاربون الله جهارا ويستحقون ما يستحقون من الله وملائكته والمؤمنين ويكفى حجة عليهم تمييزهم جميعا بلباس عروسى محلى بكثير الفضة والذهب فما هو حرام بالإجماع ولا يحتمل التأويل-
[১ (ঙ). আর এতে কোনো সন্দেহই নেই যে, তথাকথিত অগাধ পণ্ডিত আলেমদের শতকরা নব্বই জনই তাদের নিজেদের জন্য রচিত চাটুকারিতাপূর্ণ জাল উপাধিগুলোও শুদ্ধ করে পড়তে জানে না। তেমনিভাবে শরীয়ত ও দ্বীনের ঝাণ্ডাবাহী বকধার্মিকদের শতকরা পঁচানব্বই জনই প্রকাশ্যে আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে চলেছে এবং তারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল ও মুমিনদের পক্ষ থেকে কঠোর অভিসম্পাতের উপযুক্ত। তাদের ভণ্ডামির সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো তারা স্বর্ণ ও রৌপ্যখচিত বরের পোশাকের মতো বিলাসবহুল পোশাকে নিজেদের আলাদা করে রাখে; অথচ তা সর্বসম্মতভাবে হারাম এবং এতে কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ নেই।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
العلماء المتبحرين: অগাধ পাণ্ডিত্যের দাবিদার আলেমগণ। نعوتهم المزورة: তাদের কৃত্রিম ও মিথ্যা প্রশংসাসূচক উপাধিসমূহ। المتورعين: বাহ্যিক পরহেজগারীর ভানকারীরা। جهاراً: প্রকাশ্যে। لباس عروسي: বরের মতো জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক।
(و) وعندى أنه لولا هذا القصور ما وقع المسلمون في هذا الفتور والأمل بعناية الله أنهم بعد زمان قصير أو طويل لابد أن يلتفتوا لهذه العلوم النافعة فيستعيدوا نشأتهم بل يجلبوا إلى دينهم العالم المتمدن لأن نور المعارف على قدر أبعاده العقلاء عن النصرانية وأمثالها يقربهم من الإسلامية لأن الدين المملوء بالخرافات والعقل المتنور لا يجتمعان في دماغ واحد-
[১ (চ). আর আমার দৃষ্টিতে, শিক্ষা ও নির্দেশনার এই চরম ঘাটতি না থাকলে মুসলমানরা কখনোই এই অকর্মণ্যতা ও স্থবিরতায় নিমজ্জিত হতো না। আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর পূর্ণ ভরসা রয়েছে যে, অচিরেই হোক বা বিলম্বে হোক—মুসলমানরা অবশ্যই এসব কল্যাণকর বিজ্ঞান ও আধুনিক জ্ঞানের প্রতি মনোনিবেশ করবে। ফলে তারা তাদের গৌরবময় পুনর্জাগরণ নিশ্চিত করবে, এমনকি আধুনিক সভ্য বিশ্বকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। কারণ বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আলো বুদ্ধিমান বিবেকবান মানুষকে খ্রিষ্টধর্ম ও অনুরূপ বিকৃত ধর্ম থেকে যত দূরে সরিয়ে দেয়, ইসলামের ততটাই কাছে টেনে আনে। কেননা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ধর্মবিশ্বাস এবং আলোকিত যুক্তিবাদী মস্তিষ্ক কখনোই এক পাত্রে একত্রিত হতে পারে না।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
القصور: ত্রুটি, অসম্পূর্ণতা। الفتور: অবসাদ, কর্মহীনতা। يستعيدوا نشأتهم: তাদের নবজীবন ও আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করবে। الخرافات: অলীক কুসংস্কার। العقل المتنور: আলোকোজ্জ্বল ও যুক্তিবাদী প্রজ্ঞা।
(ز) إن الدين الإسلامي ما غادر صغيرة ولا كبيرة إلا أحصاها، ولا ترك الإنسان يمشى في ميدان هذه الحياة خطوة من مهده إلى لحده إلا مد يده إليه، وأنار له مواقع أقدامه، وأرشده إلى سواء السبيل طلعت هذه الشمس المشرقة في سماء العرب، فملأت الكون نورا وإشراقا، واختلف الناس في شأنها ما بين معترف بها، ومنكر لوجودها، ولكنهم كانوا جميعا سواء في الانتفاع بنورها والاستنارة بضيائها-
[১ (ছ). নিশ্চয়ই ইসলাম ধর্ম ছোট-বড় কোনো বিষয়ই বাদ দেয়নি বরং সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত করেছে। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত এই পার্থিব জীবনের ময়দানে পদচারণাকালে মানুষের এমন কোনো একক পদক্ষেপও নেই যেখানে ইসলাম তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি, তার পদচিহ্নকে আলোকিত করেনি এবং তাকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করেনি। আরব আকাশের বুকে যখন এই আলোকোজ্জ্বল সূর্য উদিত হলো, তখন তা সমগ্র জাহানকে নূরের আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলল। এই সূর্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল—কেউ একে অকপটে স্বীকার করল আর কেউ এর অস্তিত্ব অস্বীকার করল; কিন্তু এর কিরণ থেকে উপকৃত হতে এবং এর জ্যোতিতে পথ চলতে তারা সকলেই সমান অংশীদার ছিল।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
ما غادر صغيرة ولا كبيرة إلا أحصاها: ছোট বা বড় কিছুই বাদ দেয়নি বরং সবকিছুকে গণনা করেছে। من مهده إلى لحده: দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত। سواء السبيل: সরল-সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত পথ। الاستنارة بضيائها: এর কিরণ ও প্রভায় আলোকিত হওয়া।
(ح) كانت هذه الخواطر المترددة في عقول أولئك الأذكياء هي الخطوة الأولى التي مشتها أوربا في طريق المدنية والعمران بفضل الإسلام وشرائعه التى عرفها هؤلاء الأفراد من مخالطة المسلمين في أوربا، ومطالعة كتبهم، ومناظرة حضارتهم ومدنيتهم، ثم أخذوا يعلمونها للناس سرا، ويبثونها في نفوس تلاميذهم شيئا فشيئا، ويلقون في سبيل نشرها عناء شديدا-
[১ (জ). ইউরোপের সেই প্রজ্ঞাবান মনীষীদের মস্তিষ্কে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এসব চিন্তাভাবনাই ছিল সভ্যতা ও নগর সংস্কৃতির রাজপথে ইউরোপের ফেলা সর্বপ্রথম কার্যকর পদক্ষেপ। আর তা সম্ভব হয়েছিল ইসলামের অনুগ্রহ এবং এর সুবিচারপূর্ণ জীবনবিধানের বদৌলতে; যা এসব ইউরোপীয় পণ্ডিত ব্যক্তি স্পেনে মুসলমানদের সাথে মেলামেশা, তাদের রচিত বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন এবং তাদের উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে অর্জন করেছিলেন। অতঃপর তারা গোপনে সাধারণ মানুষকে তা শিক্ষা দিতে লাগলেন এবং ধীরে ধীরে তাদের শিষ্যদের হৃদয়ে তা প্রোথিত করতে থাকলেন; আর তা প্রচারের পথে তারা চরম অত্যাচার ও অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হলেন।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
الخواطر المترددة: মনে উদিত বা আলোড়ন সৃষ্টিকারী চিন্তাসমূহ। المدنية والعمران: সভ্যতা ও নগর উন্নয়ন। مخالطة المسلمين: মুসলমানদের সাথে পারস্পরিক মেলামেশা ও সান্নিধ্য। يبثونها: তা প্রচার ও সঞ্চার করতেন। عناءً شديداً: চরম কষ্ট ও ক্লেশ।
(ط) غير أنى لا أنكر مالحق بالمسلمين في هذه القرون الأخيرة من الضعف والفتور، وما أصاب جامعتهم من الوهن والإنحلال، ولكن ليس السبب ذلك الإسلام كما نتوهم، بل المسيحية التي سرت عدواها إليهم على أيدى قوم من المسيحيين أو أشباه المسيحيين لبسوا لباس الإسلام وتزيوا بزيه، ودخلوا بلاده وتمكنوا من نفوس ملوكه الضعفاء وأمرائه الجهلاء، فأمدوهم بشيء من السطوة والقوة تمكنوا به من نشر مذاهبهم السقيمة-
[১ (ঝ). তবে আমি কোনোভাবেই অস্বীকার করি না যে বিগত শতাব্দীগুলোতে মুসলমানদের ওপর চরম দুর্বলতা ও অকর্মণ্যতা চেপে বসেছে এবং তাদের জাতীয় ঐক্যে ভয়াবহ শৈথিল্য ও অবক্ষয় নেমে এসেছে। কিন্তু আমরা যেমনটি ধারণা করি—ইসলাম ধর্ম কখনোই এর কারণ নয়; বরং মূল কারণ হলো সেই বিকৃত খ্রিষ্টীয় মতবাদ যার সংক্রামক ব্যাধি মুসলমানদের ভেতরে অনুপ্রবেশ করেছে এমন কিছু খ্রিষ্টান কিংবা খ্রিষ্টানদের দোসরদের মাধ্যমে, যারা বাহ্যত ইসলামের লেবাস পরেছিল এবং মুসলিম বেশভূষা ধারণ করেছিল। তারা মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করে তাদের দুর্বল বাদশাহ ও অজ্ঞ আমির-ওমরাহদের মানসিকতাকে করায়ত্ব করে ফেলেছিল; ফলে সেসব শাসক তাদের প্রভাব ও শক্তির এমন ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিল যার মাধ্যমে তারা তাদের মারাত্মক রুগ্ন ও ভ্রান্ত মতবাদ ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।]
শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ:
الوهن والانحلال: দুর্বলতা ও চরম অবক্ষয়। سرت عدواها: যার সংক্রামক ব্যাধি সংক্রমিত হয়েছে। تزيوا بزيه: মুসলমানদের পোশাকে সজ্জিত হয়েছিল। مذاهبهم السقيمة: তাদের রুগ্ন ও বিষাক্ত মতবাদসমূহ।
٢- اشرح بالعربية ثلاثا من التالية:
[২. নিচের বাণীগুলো থেকে যেকোনো তিনটির প্রাঞ্জল আরবি ব্যাখ্যা লেখ:]
(الف) «لا إصابة في قول من قال: إذا نزل الضعف في دولة أو أمة لا يرتفع-»
[২ (ক). যারা বলে কোনো রাষ্ট্র বা জাতির মধ্যে দুর্বলতা নেমে এলে তা আর দূর হয় না—তাদের এই বক্তব্য সঠিক নয়…]
الشرح:
يَرُدُّ الكَاتِبُ فِي هَذِهِ العِبَارَةِ عَلَى النَّظَرِيَّاتِ اليَائِسَةِ الَّتِي تَدَّعِي حَتْمِيَّةَ الفَنَاءِ لِلأُمَمِ إِذَا أَصَابَهَا الضَّعْفُ وَالِانْحِطَاطُ؛ فَهَذَا القَوْلُ خَاطِئٌ تَمَامًا وَيُخَالِفُ سُنَنَ التَّارِيخِ وَتَعَالِيمَ الإِسْلَامِ. فَالأُمَمُ كَالكَائِنِ الحَيِّ قَدْ تَمْرَضُ وَتَضْعُفُ، وَلَكِنَّهَا تَمْلِكُ القُدْرَةَ عَلَى النُّهُوضِ وَالشِّفَاءِ إِذَا أَخَذَتْ بِأَسْبَابِ العِلْمِ وَالوَعْيِ وَالإِصْلَاحِ. وَكَمْ مِنْ أُمَّةٍ سَقَطَتْ فِي هُوَّةِ التَّخَلُّفِ ثُمَّ اسْتَعَادَتْ مَجْدَهَا بِالجِدِّ وَالعَزِيمَةِ، فَالضَّعْفُ عَارِضٌ يَزُولُ بِزَوَالِ أَسْبَابِهِ، وَلَيْسَ قَدَرًا مَحْتُومًا لَا فِكَاكَ مِنْهُ.
(ب) «حياء المريض مهلكة-»
[২ (খ). রোগীর লজ্জা ধ্বংসের কারণ…]
الشرح:
هَذَا مَثَلٌ حَكِيمٌ يَضْرِبُهُ الكَوَاكِبِيُّ لِبَيَانِ أَنَّ السُّكُوتَ عَنِ العُيُوبِ وَالتَّسَتُّرَ عَلَى الأَمْرَاضِ الِاجْتِمَاعِيَّةِ وَالسِّيَاسِيَّةِ سَبَبٌ فِي هَلَاكِ الأُمَّةِ. فَالمَرِيضُ إِذَا اسْتَحْيَا أَنْ يَكْشِفَ عِلَّتَهُ لِلطَّبِيبِ تَفَاقَمَ دَاؤُهُ وَأَدَّى بِهِ إِلَى المَوْتِ؛ وَكَذَلِكَ الأُمَّةُ الإِسْلَامِيَّةُ، إِذَا خَافَتْ أَوْ خَجِلَتْ مِنْ مُوَاجَهَةِ عِلَلِهَا (كَالجَهْلِ، وَالِاسْتِبْدَادِ، وَالخُرَافَاتِ) وَامْتَنَعَتْ عَنِ النَّقْدِ الذَّاتِيِّ الصَّرِيحِ، فَلَنْ تَجِدَ الدَّوَاءَ النَّاجِعَ، وَسَيَكُونُ مَصِيرُهَا الِانْهِيَارَ التَّامَّ.
(ج) «المسلم للمسلم كالبنيان يشد بعضه بعضا-»
[২ (গ). এক মুসলমান অপর মুসলমানের জন্য একটি প্রাচীর সদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে…]
الشرح:
هَذَا الحَدِيثُ النَّبَوِيُّ الشَّرِيفُ يُرَسِّخُ أَعْظَمَ قَاعِدَةٍ لِلتَّكَافُلِ وَالتَّضَامُنِ فِي المُجْتَمَعِ الإِسْلَامِيِّ. فَالرَّسُولُ ﷺ شَبَّهَ أَبْنَاءَ الأُمَّةِ بِحِجَارَةِ البِنَاءِ المَرْصُوصِ؛ حَيْثُ لَا قِيمَةَ لِلحَجَرِ المُنْفَرِدِ، وَإِنَّمَا تَبْرُزُ القُوَّةُ وَالهَيْبَةُ حِينَ تَتَرَاصُّ الحِجَارَةُ فَتَصِيرُ حِصْنًا مَنِيعًا. وَالمَعْنَى أَنَّ عَلَى المُسْلِمِينَ أَنْ يَتَعَاوَنُوا عَلَى البِرِّ وَالتَّقْوَى، وَيَنْصُرَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فِي المُلِمَّاتِ، فَيَكُونَ الغَنِيُّ عَوْنًا لِلفَقِيرِ، وَالقَوِيُّ سَنَدًا لِلضَّعِيفِ، لِتَتَحَقَّقَ الوَحْدَةُ الَّتِي لَا تَقْهَرُهَا عَوَاصِفُ الأَيَّامِ.
(د) «فرض عليه الزكاة التى لو جمعت ووضعت في مواضعها المشروعة لما كان في الدنيا بائس ولا فقير-»
[২ (ঘ). তার ওপর যাকাত ফরজ করা হয়েছে, যা যদি সংগৃহীত হতো এবং শরীয়তসম্মত খাতে ব্যয় হতো তবে পৃথিবীতে কোনো নিঃস্ব ও দরিদ্র ব্যক্তি থাকত না…]
الشرح:
يُبْرِزُ الكَاتِبُ فِي هَذِهِ الجُمْلَةِ الحِكْمَةَ الِاقْتِصَادِيَّةَ وَالِاجْتِمَاعِيَّةَ العُظْمَى لِفَرِيضَةِ الزَّكَاةِ فِي الإِسْلَامِ. فَالزَّكَاةُ لَيْسَتْ مُجَرَّدَ إِحْسَانٍ فَرْدِيٍّ، بَلْ هِيَ نِظَامٌ مَالِيٌّ تَكَافُلِيٌّ يَسْتَهْدِفُ إِعَادَةَ تَوْزِيعِ الثَّرْوَةِ وَالقَضَاءَ عَلَى الطَّبَقِيَّةِ المَقِيتَةِ. وَلَوْ أَنَّ المُسْلِمِينَ طَبَّقُوا هَذِهِ الفَرِيضَةَ كَمَا أَمَرَ اللَّهُ بِجَمْعِهَا فِي بَيْتِ المَالِ وَصَرْفِهَا لِمُسْتَحِقِّيهَا بِعَدْلٍ، لَامَّحَتْ ظَاهِرَةُ الفَقْرِ وَالبُؤْسِ مِنَ العَالَمِ، كَمَا حَدَثَ فِي عَهْدِ الخَلِيفَةِ الرَّاشِدِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ حَيْثُ كَانَ الرَّجُلُ يَخْرُجُ بِزَكَاتِهِ فَلَا يَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهَا.
(هـ) «إنما الإعراب ما نطق به العرب-»
[২ (ঙ). আরবরা যা উচ্চারণ করেছে ব্যাকরণ মূলত তাই…]
الشرح:
يُقَرِّرُ هَذَا القَوْلُ المَأْثُورُ قَاعِدَةً تَأْسِيسِيَّةً فِي فِقْهِ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ وَعِلْمِ النَّحْوِ. وَمَفَادُهُ أَنَّ قَوَاعِدَ النَّحْوِ لَمْ تَكُنْ قَوَانِينَ مَفْرُوضَةً بِالعَقْلِ المُجَرَّدِ، وَإِنَّمَا هِيَ تَقْعِيدٌ وَاسْتِقْرَاءٌ لِمَا تَكَلَّمَتْ بِهِ قَبَائِلُ العَرَبِ الفُصَحَاءِ فِي الجَاهِلِيَّةِ وَصَدْرِ الإِسْلَامِ. فَالمِعْيَارُ الحَقِيقِيُّ لِصِحَّةِ الكَلَامِ وَفَصَاحَتِهِ هُوَ السَّمَاعُ الصَّحِيحُ عَنْهُمْ، وَمَا جَاءَ فِي القُرْآنِ الكَرِيمِ الَّذِي نَزَلَ بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ؛ فَالنُّطْقُ العَرَبِيُّ الأَصِيلُ هُوَ المَصْدَرُ، وَالقَوَاعِدُ تَبَعٌ لَهُ.
٣- أجب عن ثلاثة من الأسئلة التالية بالعربية:
[৩. নিচের প্রশ্নগুলো থেকে যেকোনো তিনটির প্রামাণ্য আরবি উত্তর দাও:]
(الف) اكتب خلفية تأليف أم القرى للكواكبي-
[৩ (ক). আব্দুর রহমান আল-কাওয়াকিবীর ‘উম্মুল কুরা’ গ্রন্থ রচনার ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা কর।]
الجواب:
خَلْفِيَّةُ تَأْلِيفِ كِتَابِ «أُمِّ القُرَى»:
عَاشَ المُفَكِّرُ الإِسْلَامِيُّ الشَّهِيدُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ الكَوَاكِبِيُّ (١٨٥٥-١٩٠٢ م) فِي أَوَاخِرِ القَرْنِ التَّاسِعَ عَشَرَ؛ حَيْثُ كَانَ العَالَمُ الإِسْلَامِيُّ يَعِيشُ حَالَةً مُؤْلِمَةً مِنَ التَّرَدِّي وَالتَّفَكُّكِ تَحْتَ وَطْأَةِ الِاسْتِبْدَادِ العُثْمَانِيِّ مِنْ جِهَةٍ، وَالهَجَمَاتِ الِاسْتِعْمَارِيَّةِ الغَرْبِيَّةِ مِنْ جِهَةٍ أُخْرَى.
وَقَدْ أَلَّفَ الكَوَاكِبِيُّ كِتَابَهُ الفَرِيدَ «أُمُّ القُرَى» فِي مِصْرَ سَنَةَ (١٣١٦ هـ / ١٩٠٢ م) بَعْدَ فِرَارِهِ مِنْ حَلَبَ، وَصَاغَهُ فِي أُسْلُوبٍ رَمْزِيٍّ رَائِعٍ عَلَى شَكْلِ «مُؤْتَمَرٍ إِسْلَامِيٍّ سِرِّيٍّ» مُتَخَيَّلٍ عُقِدَ فِي مَكَّةَ المُكَرَّمَةِ (أُمِّ القُرَى) خِلَالَ مَوْسِمِ الحَجِّ. وَكَانَ هَدَفُهُ مِنْ هَذَا التَّأْلِيفِ:
١. تَشْخِيصَ الدَّاءِ الحَقِيقِيِّ الَّذِي أَدَّى إِلَى فُتُورِ المُسْلِمِينَ وَتَأَخُّرِهِمْ، وَحَصَرَهُ فِي الِاسْتِبْدَادِ السِّيَاسِيِّ، وَفَسَادِ العَقِيدَةِ بِالخُرَافَاتِ، وَجُمُودِ العُلَمَاءِ.
٢. وَضْعَ خُطَّةٍ عَمَلِيَّةٍ شَامِلَةٍ لِلنَّهْضَةِ وَالإِصْلَاحِ، وَالدَّعْوَةَ إِلَى تَأْسِيسِ جَمْعِيَّةٍ إِسْلَامِيَّةٍ كُبْرَى لِنَشْرِ التَّعْلِيمِ وَإِحْيَاءِ الِاجْتِهَادِ.
(ب) اكتب بعض الخصائص للنثر العربي الحديث-
[৩ (খ). আধুনিক আরবি গদ্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
الجواب:
خَصَائِصُ النَّثْرِ العَرَبِيِّ الحَدِيثِ:
تَمَيَّزَ النَّثْرُ العَرَبِيُّ فِي العَصْرِ الحَدِيثِ بِتَحَوُّلَاتٍ كَبِيرَةٍ نَقَلَتْهُ مِنَ التَّكَلُّفِ إِلَى الوَاقِعِيَّةِ، وَمِنْ أَبْرَزِ هَذِهِ الخَصَائِصِ:
١. التَّخَلُّصُ مِنَ السَّجْعِ المُتَكَلَّفِ وَالبَدِيعِ الشَّكْلِيِّ: حَيْثُ تَخَلَّى الكُتَّابُ عَنِ الزَّخَارِفِ اللَّفْظِيَّةِ الَّتِي شَاعَتْ فِي عُصُورِ الِانْحِطَاطِ.
٢. سَلَاسَةُ الأُسْلُوبِ وَوُضُوحُ الفِكْرَةِ (السَّهْلُ المُمْتَنِعُ): اعْتِمَادُ العِبَارَةِ المُوجَزَةِ المَفْهُومَةِ الَّتِي تَصِلُ إِلَى القَلْبِ وَالعَقْلِ دُونَ تَعْقِيدٍ.
٣. اسْتِحْدَاثُ فُنُونٍ نَثْرِيَّةٍ جَدِيدَةٍ: مِثْلَ المَقَالَةِ الصَّحَفِيَّةِ، وَالرِّوَايَةِ، وَالمَسْرَحِيَّةِ، وَالقِصَّةِ القَصِيرَةِ، وَالخَاطِرَةِ.
٤. مُعَالَجَةُ القَضَايَا الِاجْتِمَاعِيَّةِ وَالسِّيَاسِيَّةِ: صَارَ النَّثْرُ سِلَاحًا لِمُحَارَبَةِ الِاسْتِعْمَارِ وَالظُّلْمِ وَمُعَالَجَةِ مُشْكِلَاتِ المُجْتَمَعِ كَالفَقْرِ وَتَعْلِيمِ المَرْأَةِ.
٥. التَّأَثُّرُ بِالآدَابِ الغَرْبِيَّةِ مَعَ الحِفَاظِ عَلَى أَصَالَةِ اللُّغَةِ: اسْتِفَادَةُ الأُدَبَاءِ مِنْ مَنَاهِجِ الفِكْرِ الحَدِيثِ مَعَ التَّمَسُّكِ بِفَصَاحَةِ اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ.
(ج) كيف تبادل الشرق والغرب التمدن؟ بين في ضوء ما درست-
[৩ (গ). প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে কীভাবে সভ্যতার আদান-প্রদান ঘটেছে? তোমার পঠিত পাঠের আলোকে স্পষ্ট কর।]
الجواب:
تَبَادُلُ التَّمَدُّنِ بَيْنَ الشَّرْقِ وَالغَرْبِ:
إِنَّ حَرَكَةَ الحَضَارَةِ الإِنْسَانِيَّةِ سُنَّةٌ كَوْنِيَّةٌ قَائِمَةٌ عَلَى الأَخْذِ وَالعَطَاءِ؛ وَقَدْ تَمَّ هَذَا التَّبَادُلُ عَبْرَ مَرْحَلَتَيْنِ تَارِيخِيَّتَيْنِ كَبِيرَتَيْنِ:
١. عَطَاءُ الشَّرْقِ الإِسْلَامِيِّ لِلغَرْبِ (فِي العُصُورِ الوُسْطَى):
حِينَ كَانَتْ أُورُوبَّا تَعِيشُ فِي ظُلُمَاتِ الجَهْلِ، كَانَتِ الحَضَارَةُ الإِسْلَامِيَّةُ فِي أَوْجِ ازْدِهَارِهَا فِي بَغْدَادَ وَالقَاهِرَةِ وَقُرْطُبَةَ. وَنَقَلَ الغَرْبُ هَذَا التَّمَدُّنَ الإِسْلَامِيَّ عَبْرَ الأَنْدَلُسِ، وَصِقِلِّيَّةَ، وَالحُرُوبِ الصَّلِيبِيَّةِ؛ حَيْثُ تَرْجَمُوا كُتُبَ المُسْلِمِينَ فِي الطِّبِّ (كَابْنِ سِينَا)، وَالفَلْسَفَةِ (كَابْنِ رُشْدٍ)، وَالبَصَرِيَّاتِ (كَالحَسَنِ بْنِ الهَيْثَمِ)، فَبَنَوْا عَلَيْهَا نَهْضَتَهُمُ الحَدِيثَةَ.
٢. أَخْذُ الشَّرْقِ عَنِ الغَرْبِ (فِي العَصْرِ الحَدِيثِ):
لَمَّا ضَعُفَ المُسْلِمُونَ وَتَقَدَّمَ الغَرْبُ صِنَاعِيًّا وَتِكْنُولُوجِيًّا، بَدَأَ الشَّرْقُ يَسْتَعِيدُ عَافِيَتَهُ عَبْرَ حَرَكَةِ التَّرْجَمَةِ، وَالبَعَثَاتِ العِلْمِيَّةِ إِلَى أُورُوبَّا (كَبَعْثَةِ رِفَاعَةَ الطَّهْطَاوِيِّ)، وَاقْتِبَاسِ العُلُومِ التَّجْرِيبِيَّةِ وَالصِّنَاعِيَّةِ لِبِنَاءِ النَّهْضَةِ العَرَبِيَّةِ الحَدِيثَةِ.
(د) ما المراد بالقديم والجديد في الأدب؟ بين موضحا-
[৩ (ঘ). সাহিত্যে ‘প্রাচীন’ ও ‘আধুনিক’ বলতে কী বোঝায়? বিশদ ব্যাখ্যা কর।]
الجواب:
المُرَادُ بِالقَدِيمِ وَالجَدِيدِ فِي الأَدَبِ:
١. المُرَادُ بِالقَدِيمِ (الأَصَالَةُ وَالتُّرَاثُ):
يُقْصَدُ بِالأَدَبِ القَدِيمِ: النِّتَاجُ الأَدَبِيُّ الَّذِي وَرِثْنَاهُ عَنِ العُصُورِ الإِسْلَامِيَّةِ الزَّاهِيَةِ (الجَاهِلِيِّ، وَصَدْرِ الإِسْلَامِ، وَالأُمَوِيِّ، وَالعَبَّاسِيِّ). وَيَمْتَازُ بِجَزَالَةِ الأَلْفَاظِ، وَمَتَانَةِ التَّرَاكِيبِ، وَالفَصَاحَةِ اللُّغَوِيَّةِ المُطْلَقَةِ، وَالِالْتِزَامِ بِعَمُودِ الشِّعْرِ وَقَوَاعِدِ البَلَاغَةِ الأَصِيلَةِ. وَيَرَى أَنْصَارُهُ أَنَّهُ الأَسَاسُ الَّذِي لَا غِنَى عَنْهُ لِأَيِّ كَاتِبٍ أَوْ شَاعِرٍ.
٢. المُرَادُ بِالجَدِيدِ (المُعَاصَرَةُ وَالتَّجْدِيدُ):
يُقْصَدُ بِالأَدَبِ الجَدِيدِ: الأَدَبُ الَّذِي نَشَأَ فِي العَصْرِ الحَدِيثِ اسْتِجَابَةً لِمُتَطَلَّبَاتِ العَصْرِ وَتَطَوُّرِ الحَيَاةِ الاجْتِمَاعِيَّةِ وَالفِكْرِيَّةِ. وَيَمْتَازُ بِسُهُولَةِ العِبَارَةِ، وَطَرْقِ مَوْضُوعَاتٍ وَاقِعِيَّةٍ حَيَّةٍ، وَاسْتِحْدَاثِ قَوَالِبَ أَدَبِيَّةٍ كَالقِصَّةِ وَالمَسْرَحِيَّةِ، وَالتَّعْبِيرِ عَنْ وِجْدَانِ الإِنْسَانِ المُعَاصِرِ.
الخُلَاصَةُ: الأَدَبُ الحَقِيقِيُّ هُوَ الَّذِي يَجْمَعُ بَيْنَ «أَصَالَةِ القَدِيمِ» فِي لُغَتِهِ وَبَيَانِهِ، وَبَيْنَ «حَيَوِيَّةِ الجَدِيدِ» فِي فِكْرِهِ وَمُعَالَجَتِهِ لِقَضَايَا العَصْرِ.
(هـ) اكتب الأسباب الرئيسية لمهاجرة السوريين إلى أمريكا-
[৩ (ঙ). সিরীয়দের আমেরিকায় হিজরত বা অভিবাসনের মূল কারণসমূহ আলোচনা কর।]
الجواب:
الأَسْبَابُ الرَّئِيسِيَّةُ لِهِجْرَةِ السُّورِيِّينَ (وَأَهْلِ الشَّامِ) إِلَى أَمْرِيكَا:
شَهِدَتْ أَوَاخِرُ القَرْنِ التَّاسِعَ عَشَرَ وَبِدَايَاتُ القَرْنِ العِشْرِينَ مَوْجَاتٍ كَبِيرَةً مِنْ هِجْرَةِ أَبْنَاءِ سُورْيَا وَلُبْنَانَ إِلَى أَمْرِيكَا الشَّمَالِيَّةِ وَالجَنُوبِيَّةِ (مِمَّا أَسَّسَ لِأَدَبِ المَهْجَرِ). وَكَانَتْ أَبْرَزُ دَوَافِعِ هَذِهِ الهِجْرَةِ:
١. الِاسْتِبْدَادُ السِّيَاسِيُّ وَالقَمْعُ العُثْمَانِيُّ: حَيْثُ عَانَى الشَّامِيُّونَ مِنْ بَطْشِ الوُلَاةِ وَمُصَادَرَةِ الحُرِّيَّاتِ وَمُلَاحَقَةِ الأَحْرَارِ وَالمُثَقَّفِينَ.
٢. سُوءُ الأَحْوَالِ الِاقْتِصَادِيَّةِ: انْتِشَارُ الفَقْرِ، وَفَرْضُ الضَّرَائِبِ البَاهِظَةِ، وَقِلَّةُ فُرَصِ العَمَلِ، وَتَدَهْوُرُ الزِّرَاعَةِ وَالتِّجَارَةِ.
٣. الفِتَنُ الطَّائِفِيَّةُ: خَاصَّةً مَجَازِرَ سَنَةِ (١٨٦٠ م) فِي لُبْنَانَ وَدِمَشْقَ، الَّتِي زَعْزَعَتِ الأَمْنَ وَدَفَعَتِ الكَثِيرِينَ لِلنَّجَاةِ بِأَرْوَاحِهِمْ.
٤. البَحْثُ عَنِ الحُرِّيَّةِ وَالعَيْشِ الكَرِيمِ: الرَّغْبَةُ فِي التَّمَتُّعِ بِالحُرِّيَّةِ الفِكْرِيَّةِ وَالدِّينِيَّةِ وَبِنَاءِ مُسْتَقْبَلٍ مَالِيٍّ مَرْمُوقٍ فِي العَالَمِ الجَدِيدِ.
٤- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:
[৪. নিচের প্রশ্নগুলো থেকে যেকোনো চারটির বিশদ উত্তর দাও:]
(الف) عرف النثر ثم بين أنواع النثر الفنى-
[৪ (ক). গদ্যের সংজ্ঞা দাও এবং শিল্পসম্মত গদ্যের প্রকারভেদ আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. গদ্যের (النثر) সংজ্ঞা:
অভিধানিক অর্থে ‘নাসর’ (النثر) শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু ছড়িয়ে দেওয়া, বিস্তার করা বা নিক্ষেপ করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞায়:
«النَّثْرُ هُوَ الكَلَامُ الخَالِي مِنَ الوَزْنِ وَالقَافِيَةِ، يَعْتَمِدُ عَلَى المَنْطِقِ وَالتَّفْكِيرِ السَّلِيمِ لِلتَّعْبِيرِ عَمَّا فِي النَّفْسِ مِنْ أَفْكَارٍ وَمَشَاعِرَ.»
অর্থাৎ ছন্দ ও অন্ত্যমিল (ওজন ও কাফিয়া)-এর বাধ্যবাধকতা মুক্ত যে সুবিন্যস্ত বাক্যাবলির মাধ্যমে মনের ভাব, চিন্তা ও অনুভূতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয় তাকে গদ্য (النثر) বলে।
২. শিল্পসম্মত গদ্যের (النثر الفني) প্রকারভেদ:
সাহিত্যিক বা শিল্পসম্মত গদ্যকে প্রধানত দুটি ধারায় ভাগ করা হয়:
(ক) প্রাচীন শিল্পসম্মত গদ্য (النثر الفني القديم):
১. বক্তৃতা বা ভাষণ (الخطابة): জনতাকে উদ্বুদ্ধ ও প্রভাবিত করার শক্তিশালী মৌখিক সাহিত্য।
২. পত্রসাহিত্য (الرسائل والترسل): রাষ্ট্রীয়, প্রশাসনিক (দিওয়ানি) কিংবা ব্যক্তিগত ভাব বিনিময়মূলক পত্রাবলি।
৩. মাকামাত (المقامات): ছন্দোময় অলংকৃত ভাষায় রচিত চতুর চরিত্রভিত্তিক ছোট নাটুকে গল্পমালা।
৪. প্রবাদ ও জ্ঞানগর্ভ বাক্য (الأمثال والحكم): মানবজীবনের অভিজ্ঞতানির্ভর সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনামূলক বাণী।
৫. উপকথা ও রূপক গল্প (الحكايات والأساطير): কালিল্লাহ ওয়া দিমনা কিংবা আলিফ লায়লার মতো নীতিকথামূলক কাহিনী।
(খ) আধুনিক শিল্পসম্মত গদ্য (النثر الفني الحديث):
১. প্রবন্ধ ও নিবন্ধ (المقالة): সংবাদপত্র ও সাময়িকীর মাধ্যমে বিকাশ লাভ করা সামাজিক, রাজনৈতিক বা সাহিত্যিক চিন্তামূলক রচনা।
২. উপন্যাস (الرواية): দীর্ঘ ও পূর্ণাঙ্গ প্লটভিত্তিক কাল্পনিক বা বাস্তব জীবনের আখ্যান।
৩. ছোটগল্প (القصة القصيرة): জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত বা অনুভূতিকে কেন্দ্র করে রচিত সংক্ষিপ্ত গল্প।
৪. নাটক (المسرحية): মঞ্চে অভিনয়ের উপযোগী সংলাপভিত্তিক দৃশ্যকাব্য বা গদ্যরূপ।
৫. স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনী (السيرة والترجمة): বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাস্তব জীবন ও স্মৃতিচারণমূলক সাহিত্য।
(ب) اكتب نبذة عن ترجمة عبد الرحمن الكواكبي-
[৪ (খ). আব্দুর রহমান আল-কাওয়াকিবীর সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. জন্ম ও বংশ পরিচয়:
আব্দুর রহমান আল-কাওয়াকিবী ১৮৫৫ সালে সিরিয়ার ঐতিহাসিক আলেপ্পো (حلب) শহরের এক সম্ভ্রান্ত ও বিদ্যানুরাগী সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরাইশ বংশের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন।
২. শিক্ষা ও কর্মজীবন:
তিনি আলেপ্পোর ঐতিহ্যবাহী আল-কাওয়াকিবিয়া মাদরাসায় কুরআন, হাদিস, তাফসির এবং আরবি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। আরবি ভাষার পাশাপাশি তুর্কি ও ফারসি ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংবাদিকতায় যোগ দেন এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ‘আল-ফুরাত’ (الفرات) ও ‘আশ-শাহবা’ (الشهباء) নামক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। স্বৈরাচারী অটোমান সরকার তাঁর পত্রিকা নিষিদ্ধ করে এবং তাঁকে বারবার কারারুদ্ধ করে।
৩. মিশরে হিজরত ও সংস্কার আন্দোলন:
স্বৈরাচারের চরম নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ১৮৯৯ সালে তিনি গোপনে মিশরের কায়রোতে হিজরত করেন। সেখানে তিনি শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ, রশীদ রিদা প্রমুখ সংস্কারকগণের সাথে যুক্ত হয়ে ইসলামী নবজাগরণ ও জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন।
৪. বিখ্যাত রচনাবলি:
তাঁর অমর দুটি গ্রন্থ আরবি ও মুসলিম রাজনীতি সাহিত্যে যুগান্তকারী স্থান দখল করে আছে:
১. উম্মুল কুরা (أم القرى): কাল্পনিক এক গোপন মক্কা সম্মেলনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের পতন ও স্থবিরতার কারণ অনুসন্ধান এবং এর প্রতিকারের রূপরেখা।
২. তাবায়িউল ইসতিবদাদ ওয়া মাসারিয়ুল ইসতিবদাদ (طبائع الاستبداد ومصارع الاستعباد): রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্রের প্রকৃতি, ক্ষতিকর দিক এবং সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার উপায় বিষয়ক শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
৫. শাহাদাত ও ওফাত:
স্বৈরাচারী শক্তির চরম শত্রু এই মহান মুজাহিদ চিন্তাবিদ ১৯০২ সালে কায়রোতে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে রহস্যজনকভাবে বিষপ্রয়োগে শাহাদাতবরণ করেন।
(ج) اكتب دور طه حسين في تطور النثر العربي الجديد-
[৪ (গ). আধুনিক আরবি গদ্যের উন্মেষ ও বিকাশে ড. তাহা হুসাইনের ঐতিহাসিক ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।]
উত্তর:
ড. তাহা হুসাইন (১৮৮৯-১৯৭৩ খ্রি.), যাঁকে আধুনিক আরবি সাহিত্যে ‘ডিন অব অ্যারাবিক লিটারেচার’ বা ‘আমীনু আদাবিল আরাবি’ (عميد الأدب العربي) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, আধুনিক আরবি গদ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী রূপকারদের অন্যতম।
১. সংবেদনশীল ও সংগীতময় গদ্যরীতি (الأسلوب الموسيقي):
তাহা হুসাইনের গদ্যশৈলী ছিল একেবারেই স্বতন্ত্র। অন্ধত্বের কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি ও শব্দ চয়নের অনুভূতি ছিল প্রখর। তিনি ছোট ছোট বাক্য, ছন্দময় পুনরাবৃত্তি এবং গভীর ভাবাবেগ দিয়ে এমন এক জাদুকরী গদ্য নির্মাণ করেন যা পাঠকদের মুগ্ধ করত।
২. আত্মজীবনীমূলক সাহিত্যের নবদিগন্ত (كتاب الأيام):
তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনী আল-আইয়াম (الأيام) আধুনিক আরবি সাহিত্যের প্রথম ধ্রুপদী আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। তৃতীয় পুরুষে (‘তিনি’ সম্বোধনে) নিজের জীবনকে নির্মোহভাবে উপস্থাপন করে তিনি আরবি গদ্যে আধুনিক কথাসাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন।
৩. যুক্তিবাদী ও সমালোচনামূলক গদ্য (النقد الأدبي):
১৯২৬ সালে প্রকাশিত তাঁর ফিল আদাবিল জাহেলি (في الأدب الجاهلي) গ্রন্থে কার্তেসীয় সন্দেহবাদ প্রয়োগ করে প্রাচীন সাহিত্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। এই নির্ভীক ও সমালোচনামূলক গদ্য আরবি সাহিত্যের প্রচলিত চিন্তাধারায় বিপ্লব ঘটায়।
৪. প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন:
আল-আজহার এবং প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের মাধ্যমে তিনি আরবি ঐতিহ্য এবং পশ্চিমা আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটান। তিনি অনুবাদ ও প্রবন্ধের মাধ্যমে আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরবি গদ্যে রূপ দেন।
(د) اكتب نبذة عن حياة المنفلوطي-
[৪ (ঘ). মুস্তফা লুৎফি আল-মানফালূতির সংক্ষিপ্ত জীবন ও কর্ম আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. জন্ম ও পরিচয়:
মুস্তফা লুৎফি আল-মানফালূতি ১৮৭৬ সালে মিশরের উর্ধ্বাঞ্চলের ‘মানফালূত’ শহরের এক সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মিশরীয় এবং মাতা ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত।
২. শিক্ষা ও দীক্ষা:
শৈশবে গ্রামের মকতবে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তিনি ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে দশ বছর অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি যুগশ্রেষ্ঠ সংস্কারক ইমাম মুহাম্মদ আবদুহর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর চিন্তাধারায় গভীরভাবে প্রভাবিত হন।
৩. অনন্য গদ্যশৈলী:
মানফালূতি আরবি গদ্যকে প্রাচীন কৃত্রিম সজ্জা ও জটিলতা থেকে মুক্ত করে এক আশ্চর্য আবেগঘন, প্রাঞ্জল ও কাব্যময় রূপ দান করেন। তাঁর রচিত গদ্য এতটাই বিশুদ্ধ ও চিত্তাকর্ষক ছিল যে তরুণ প্রজন্ম তাঁর লেখার অন্ধ অনুরাগী হয়ে ওঠে।
৪. প্রধান সাহিত্যকর্ম:
১. আন-নাজারাত (النظرات): তিন খণ্ডে সমাপ্ত প্রবন্ধ সংকলন; যাতে সমকালীন সমাজের কুসংস্কার, অবিচার, দারিদ্র্য ও নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে মর্মস্পর্শী আলোচনা স্থান পেয়েছে।
২. আল-আবারাত (العبرات): হৃদয়স্পর্শী নয়টি ছোটগল্পের সংকলন, যা মানুষের দুঃখ-বেদনা ও করুণ পরিণতির চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
৩. ফরাসি থেকে অনূদিত ও আরবিতে রূপান্তরিত উপন্যাস: আল-ফাদিলাহ (গুণবতী), আশ-শা’ইর (কবি), মাজদুলীন ইত্যাদি।
৫. ওফাত:
এই মহান সাহিত্যিক ১৯২৪ সালের ২৫শে জুলাই কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
(هـ) اكتب محاسن الإسلام في ضوء ‘الإسلام والمسيحية’ للمنفلوطي-
[৪ (ঙ). মানফালূতির ‘আল-ইসলাম ওয়াল মাসিহিয়্যাহ’ প্রবন্ধের আলোকে ইসলামের অনুপম সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনা কর।]
উত্তর:
মুস্তফা লুৎফি আল-মানফালূতি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আন-নাজারাত-এ ‘আল-ইসলাম ওয়াল মাসিহিয়্যাহ’ প্রবন্ধে ইসলামের অনুপম বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরেছেন:
১. বুদ্ধিবৃত্তিক ও বাস্তবধর্মী জীবনদর্শন:
ইসলাম অন্ধ বিশ্বাস ও অলীক কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সুস্থ বিবেক ও যুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এক ভারসাম্যপূর্ণ জীবনবিধান পেশ করে। ইসলাম মানুষকে প্রকৃতির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করার ও জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেয়।
২. মানবজীবনের সর্বজনীন পূর্ণাঙ্গতা:
ইসলাম মানবজীবনের কোনো দিককেই উপেক্ষা করেনি। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত—ব্যক্তিগত পবিত্রতা, পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক ন্যায়বিচার, রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সুস্পষ্ট রূপরেখা ইসলামে বিদ্যমান।
৩. সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সমতা:
ইসলাম বর্ণ, গোত্র ও ভৌগোলিক সীমারেখার বৈষম্য চূর্ণ করে তাকওয়া বা খোদাভীতির ভিত্তিতে বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। রাজা ও প্রজা, ধনী ও দরিদ্রকে একই কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
৪. ধর্মীয় সহনশীলতা ও ন্যায়বিচার:
ইসলাম অন্যের ওপর ধর্ম চাপিয়ে দেওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে («لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ»)। মুসলিম শাসনামলে অমুসলিমদের জান-মাল ও উপাসনালয়ের যে পরম নিরাপত্তা ইসলাম নিশ্চিত করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল।
৫. আত্মিক পবিত্রতা ও সামাজিক কল্যাণের সমন্বয়:
নামাজ, রোজা ও হজের মাধ্যমে যেমন অন্তরের তাজকিয়া অর্জিত হয়, তেমনি যাকাত ও সদকার মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও দারিদ্র্য বিমোচন নিশ্চিত হয়।
(و) اكتب أسماء خمسة من العلماء المسلمين الذين لهم دور في الكيمياء والفيزياء والطب والجغرافيا-
[৪ (চ). রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসা ও ভূগোল শাস্ত্রে ঐতিহাসিক অবদান রাখা পাঁচজন মুসলিম বিজ্ঞানীর নাম ও অবদান আলোচনা কর।]
উত্তর:
মধ্যযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আবিষ্কারের ক্ষেত্রে আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। নিম্নে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর অবদান তুলে ধরা হলো:
১. জাবির ইবনে হাইয়ান (৭২১-৮১৫ খ্রি.) – রসায়ন শাস্ত্রের জনক:
রসায়ন বিজ্ঞানে (الكيمياء) বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ ও গবেষণাগার পদ্ধতির প্রবর্তক। তিনি সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, নাইট্রো-মিউরিয়াটিক এসিড (অ্যাকোয়া রেজিয়া) আবিষ্কার করেন এবং পাতন (distillation), ক্রিস্টালাইজেশন ও পরিস্রাবণ পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটান।
২. হাসান ইবনুল হাইসাম (৯৬৫-১০৪০ খ্রি.) – আলোকবিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞান:
পদার্থবিজ্ঞান ও আলোকবিজ্ঞানের (البصريات) পিতা। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ কিতাবুল মানাজির-এ প্রমাণ করেন যে বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখে প্রবেশ করার কারণেই আমরা দেখতে পাই। তিনি ক্যামেরার প্রাচীন রূপ ‘পিনহোল ক্যামেরা’ (ক্বমরাহ) আবিষ্কার করেন।
৩. ইবনে সীনা / আভিসেন্না (৯৮০-১০৩৭ খ্রি.) – চিকিৎসা শাস্ত্র:
চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্রাট। তাঁর রচিত আল-কানুন ফিত-তিব্ব (القانون في الطب) শত শত বছর ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রধান পাঠ্যপুস্তক ছিল। তিনি সংক্রামক রোগের বিস্তার, মেনিনজাইটিস ও বিভিন্ন ভেষজ ওষুধের গুণাগুণ নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেন।
৪. আবু রায়হান আল-বিরুনী (৯৭৩-১০৪৮ খ্রি.) – ভূগোল ও জ্যোতির্বিজ্ঞান:
ভূগোল ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিকপাল। তিনি ত্রিকোণমিতিক সূত্রের সাহায্যে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি প্রায় নির্ভুলভাবে নির্ণয় করেন। তিনি ভারত ভ্রমণ করে ভারতীয় দর্শন ও সমাজ নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ তাহকীক মা লিল-হিন্দ রচনা করেন।
৫. আল-ইদরীসী (১১০০-১১৬৫ খ্রি.) – মানচিত্র ও ভূগোল শাস্ত্র:
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মানচিত্রবিদ ও ভূগোলবিদ। তিনি তৎকালীন পরিচিত পৃথিবীর একটি পূর্ণাঙ্গ গোলক ও অত্যন্ত নিখুঁত রূপার বিশ্বমানচিত্র তৈরি করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ নুযহাতুল মুশতাক ফি ইখতিরাকিল আফাক মধ্যযুগীয় ভূগোলের এক অনন্য দলিল।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ‘উম্মুল কুরা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে এবং এর কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: ‘উম্মুল কুরা’ গ্রন্থটির রচয়িতা প্রখ্যাত সংস্কারক আব্দুর রহমান আল-কাওয়াকিবী; এতে মক্কায় অনুষ্ঠিত একটি কাল্পনিক সম্মেলনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের পতন ও স্থবিরতার কারণ বিশ্লেষণ এবং জাতীয় জাগরণের উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন ২: আধুনিক আরবি গদ্যের জনক হিসেবে কাদের গণ্য করা হয়?
উত্তর: রিফায়া আত-তাহতাহবি, মুস্তফা লুৎফি আল-মানফালূতি, ড. তাহা হুসাইন এবং আহমদ আমিনকে আধুনিক আরবি গদ্যের পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রশ্ন ৩: আল-কাওয়াকিবীর মতে মুসলমানদের অনগ্রসরতার মূল কারণ কী ছিল?
উত্তর: তাঁর মতে রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্র (الاستبداد السياسي), ধর্মীয় অজ্ঞতা ও অলীক কুসংস্কার, এবং সালাফে সালেহীনের বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা ও ইজতিহাদ পরিত্যাগ করাই মূল কারণ।
প্রশ্ন ৪: ড. তাহা হুসাইনের বিখ্যাত আত্মজীবনীর নাম কী?
উত্তর: তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনীর নাম ‘আল-আইয়াম’ (الأيام), যা আধুনিক আরবি সাহিত্যের প্রথম ধ্রুপদী আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস।
প্রশ্ন ৫: আধুনিক আরবি গদ্যে মানফালূতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: প্রাচীন কৃত্রিম সজ্জা ও জটিল অলংকার মুক্ত সহজ, প্রাঞ্জল, ভাবাবেগপূর্ণ ও সংগীতময় গদ্যরীতি (السياق السهل الممتنع)।
প্রশ্ন ৬: আন-নাসরুল হাদীস-১ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেতে কী করণীয়?
উত্তর: অনুচ্ছেদের আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে সাহিত্যিক ভাবার্থ বজায় রাখা, আরবি ব্যাখ্যা বিশুদ্ধ ব্যাকরণে লেখা এবং বড় প্রশ্নগুলোতে পয়েন্ট আকারে ঐতিহাসিক তথ্য উপস্থাপন করা।