ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০
বিভাগ: দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কম্পিউটার লিটারেসি (Computer Literacy)
বিষয় কোড: ২০৩২০৭
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
ক বিভাগ: রচনামূলক প্রশ্নাবলী
১। দাওয়াহ সম্প্রসারণে কম্পিউটারের ভূমিকা আলোচনা কর।
[Discuss the role of computers in the expansion of Da’wah.]
ভূমিকা
বর্তমান যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। ইসলাম একটি সার্বজনীন ও শাশ্বত জীবনব্যবস্থা হওয়ায় এর দাওয়াত বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব। আধুনিক বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ইসলামী দাওয়াহর বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণে এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। স্থান, কাল ও ভৌগোলিক দূরত্বের সীমানা পেরিয়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকরভাবে ইসলামের অনুপম বাণী পৌঁছানোর জন্য কম্পিউটার এক অপরিহার্য মাধ্যম।
১. দাওয়াহ সম্প্রসারণে কম্পিউটারের বহুমুখী ভূমিকা
- পবিত্র কুরআন ও হাদিসের ডিজিটাল সংরক্ষণ ও গবেষণা: কম্পিউটারের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের তাফসির, হাদিসের সুবিশাল সংকলন (সিহাহ সিত্তাহ) এবং ফিকহি কিতাবসমূহ ডেটাবেজ আকারে সংরক্ষিত হয়েছে। আল-মাকতাবাতুশ শামেলা (Al-Maktaba Al-Shamela), কুরআন একাডেমি সফটওয়্যার ইত্যাদির মাধ্যমে আলেম ও দাঈগণ মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো আয়াত বা হাদিসের সূত্র খুঁজে বের করে নির্ভুল রেফারেন্স প্রদান করতে পারছেন।
- মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক দ্বীনি প্রেজেন্টেশন ও আলোচনা: কম্পিউটার ও প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার (যেমন- MS PowerPoint) ব্যবহারের মাধ্যমে মাহফিল, সেমিনার ও ইসলামিক ওয়ার্কশপে স্লাইড, ইনফোগ্রাফিক্স ও অডিও-ভিডিও ক্লিপ সহযোগে দ্বীনের শিক্ষাকে আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।
- অনলাইন দাওয়াহ প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট পরিচালনা: দাওয়াতি প্রতিষ্ঠান ও আলেমগণ নিজস্ব ইসলামিক ওয়েবসাইট ও পোর্টাল পরিচালনা করে বিভিন্ন ভাষায় ইসলামের পরিচয়, ফতোয়া, প্রবন্ধ ও গবেষণাপত্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যেমন- ইসলামকিউএ (IslamQA), আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ইত্যাদির অনলাইন সেবা।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল মিডিয়া প্রোডাকশন: কম্পিউটার গ্রাফিক্স ও ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার (Photoshop, Premiere Pro) দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন পোস্টার, হাদিসের বাণী, ছোট ছোট শর্টস ও ডকুমেন্টারি ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটারে প্রচার করে তরুণ প্রজন্মের অন্তরে ইসলামের চেতনা জাগ্রত করা হচ্ছে।
- বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়াল শিক্ষা ও ইসলামিক কোর্স: কম্পিউটারের সাহায্যে পরিচালিত জুম (Zoom), গুগল মিট (Google Meet) ও লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (LMS)-এর মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঘরে বসেই দক্ষ আলেমদের নিকট হিফজুল কুরআন, আরবি ভাষা ও ইলমে দ্বীন শিক্ষা লাভ করতে পারছে।
- ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার তাৎক্ষণিক খণ্ডন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে ছড়ানো অপপ্রচার, সন্দেহ ও বিভ্রান্তির উপযুক্ত ও তথ্যবহুল দাঁতভাঙা জবাব দ্রুত লিখিত বা ভিডিও আকারে তৈরি করে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- ইসলামিক প্রকাশনা ও মুদ্রণ শিল্পের আধুনিকায়ন: কম্পিউটারাইজড কম্পোজ, পেজ সেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইনের ফলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে ও নিখুঁতভাবে ধর্মীয় বই-পুস্তক, সাময়িকী ও দাওয়াতি লিফলেট প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে।
উপসংহার
কম্পিউটার ও ইন্টারনেট আধুনিক দাঈদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত। কুরআন মাজিদের নির্দেশ “ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ” (আপনার রবের পথে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন)—বাস্তবায়ন করার জন্য আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে দাওয়াহর কাজে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা সময়ের দাবি।
২। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বলতে কী বুঝায়? কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের প্রধান প্রধান ইউনিটগুলোর বর্ণনা কর।
[What does hardware and software mean? Describe the main units of computer hardware.]
ভূমিকা
একটি কম্পিউটার ব্যবস্থা মূলত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের নিখুঁত সমন্বয়ে গঠিত। এই দুটির সম্পর্ক মানুষের দেহ ও প্রাণের মতো; একটি ছাড়া অন্যটি সম্পূর্ণ অচল ও নিষ্ক্রিয়।
১. হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার-এর পরিচয়
- হার্ডওয়্যার (Hardware): কম্পিউটারের যেসব যন্ত্রাংশ বা ভৌত অবকাঠামোকে স্পর্শ করা যায়, চোখে দেখা যায় এবং যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন করে, তাকে হার্ডওয়্যার বলে। উদাহরণ: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক, মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি।
- সফটওয়্যার (Software): কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সচল ও নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী করার জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রাম, নির্দেশনাবলি বা ডেটার সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। এটি মূলত অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য নির্দেশমালার সেট। উদাহরণ: উইন্ডোজ (Windows), এমএস অফিস (MS Office), অ্যান্ড্রয়েড, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি।
২. কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের প্রধান প্রধান ইউনিটসমূহ
জন ভন নিউম্যানের আর্কিটেকচার অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার সিস্টেম মূলত চারটি প্রধান ইউনিটে বিভক্ত:
- ইনপুট ইউনিট (Input Unit): ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ডেটা ও নির্দেশাবলি গ্রহণ করে কম্পিউটারের বোধগম্য বাইনারি ফরম্যাটে রূপান্তর করে প্রসেসরে পাঠানো এ ইউনিটের কাজ। প্রধান উপাদান: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, মাইক্রোফোন, অপটিক্যাল মার্ক রিডার (OMR) ইত্যাদি।
- কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট (Central Processing Unit – CPU): একে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়। এটি ইনপুটকৃত ডেটা বিশ্লেষণ, রূপান্তর ও প্রক্রিয়া করে ফলাফল তৈরি করে। সিপিইউ তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত:
- নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (Control Unit – CU): কম্পিউটারের সকল অংশের কার্যপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ, সিগন্যাল আদান-প্রদান ও নির্দেশনা পরিচালনা করে।
- গাণিতিক ও যুক্তি ইউনিট (Arithmetic Logic Unit – ALU): যাবতীয় যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং যৌক্তিক তুলনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ সম্পাদন করে।
- রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমরি (Registers & Cache Memory): প্রসেসিংয়ের সময় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ডেটা ও নির্দেশনা সাময়িকভাবে ধারণ করে।
- মেমরি বা সংরক্ষণ ইউনিট (Memory/Storage Unit): কম্পিউটারের নির্দেশ, প্রক্রিয়াকৃত ফলাফল ও ডেটা জমা রাখার স্থান। এটি দুই প্রকার:
- প্রধান মেমরি (Primary/Main Memory): র্যাম (RAM) ও রম (ROM)। র্যামে তাৎক্ষণিক প্রসেসিং ডেটা থাকে যা অস্থায়ী, আর রমে সিস্টেমের অপরিহার্য নির্দেশাবলি স্থায়ী থাকে।
- সহায়ক মেমরি (Secondary Storage): হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (HDD), সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD), পেনড্রাইভ, অপটিক্যাল ডিস্ক ইত্যাদি; যেখানে বিপুল পরিমাণ তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে।
- আউটপুট ইউনিট (Output Unit): প্রক্রিয়াকরণ শেষে ফলাফল মানুষের বোধগম্য ভাষায় প্রদর্শন বা প্রকাশ করে। প্রধান উপাদান: মনিটর (VDU), প্রিন্টার, প্রজেক্টর, স্পিকার ইত্যাদি।
উপসংহার
হার্ডওয়্যারের শক্তিশালী কাঠামো এবং সফটওয়্যারের বুদ্ধিদীপ্ত নির্দেশনার যৌথ সমন্বয়েই আধুনিক কম্পিউটার জটিল থেকে জটিলতর কাজ নিমেষেই সমাধান করে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুলেছে।
৩। মাইক্রো কম্পিউটারের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমসমূহের বিস্তারিত বিবরণ দাও।
[Give a detailed description of the popular operating systems of micro-computers.]
ভূমিকা
অপারেটিং সিস্টেম (OS) হলো এমন একটি সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর (User) মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে সমগ্র কম্পিউটারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। মাইক্রো কম্পিউটার (যেমন- ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট) পরিচালনার জন্য বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম উদ্ভাবিত হয়েছে।
১. মাইক্রো কম্পিউটারের প্রধান জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমসমূহ
- মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (Microsoft Windows):
- ইতিহাস ও প্রবক্তা: এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম, যা বিল গেটস প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোসফট কর্পোরেশন ১৯৮৫ সালে প্রথম প্রবর্তন করে। উল্লেখযোগ্য সংস্করণ: Windows 95, Windows XP, Windows 7, Windows 10, Windows 11।
- বৈশিষ্ট্য: চমৎকার গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI), সহজ প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা, অধিকাংশ সফটওয়্যার ও গেমের সাথে উচ্চ সামঞ্জস্যতা এবং মাল্টিটাস্কিং সুবিধা।
- ব্যবহার ক্ষেত্র: গৃহস্থালি কাজ, অফিস ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ব্যবসায়িক পিসিতে এটি সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- লিনাক্স (Linux):
- ইতিহাস ও প্রবক্তা: ১৯৯১ সালে ফিনল্যান্ডের লিনাস টরভাল্ডস (Linus Torvalds) এই ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেমের কার্নেল তৈরি করেন। এর বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশন রয়েছে যেমন- Ubuntu, Fedora, Debian, Linux Mint, Kali Linux।
- বৈশিষ্ট্য: সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স ও বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য, ভাইরাসমুক্ত ও উচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ক্র্যাশ কম হওয়া এবং সিস্টেম রিসোর্সের দক্ষ ব্যবহার।
- ব্যবহার ক্ষেত্র: প্রোগ্রামার, ডেভেলপার, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ওয়েব সার্ভারে এর জনপ্রিয়তা সর্বাধিক।
- ম্যাক ওএস (macOS):
- ইতিহাস ও প্রবক্তা: অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড (Apple Inc.) উদ্ভাবিত এই অপারেটিং সিস্টেমটি কেবল অ্যাপলের নিজস্ব ম্যাকবুক, আইম্যাক ও ম্যাক প্রো কম্পিউটারে চলে। এর মূল ভিত্তি ইউনিক্স (UNIX)।
- বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ইউজার ইন্টারফেস, শক্তিশালী হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন, নিখুঁত নিরাপত্তা ও অ্যাপল ইকোসিস্টেমের (আইফোন, আইপ্যাড) সাথে চমৎকার ইন্টিগ্রেশন।
- ব্যবহার ক্ষেত্র: গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, সাউন্ড প্রোডাকশন ও পেশাদার ক্রিয়েটিভ সেক্টরে এর বিপুল কদর রয়েছে।
- ক্রোম ওএস (ChromeOS):
- ইতিহাস ও প্রবক্তা: প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল (Google) এটি উদ্ভাবন করেছে। এটি মূলত লিনাক্স কার্নেল ভিত্তিক একটি ক্লাউড-কেন্দ্রিক অপারেটিং সিস্টেম।
- বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত হালকা, দ্রুত বুট হয়, গুগল ক্রোম ব্রাউজার ও ক্লাউড অ্যাপসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এবং গুগল প্লে-স্টোরের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সমর্থন করে।
- ব্যবহার ক্ষেত্র: স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ বা ক্রোমবুকে (Chromebook) বিশেষ করে অনলাইন শিক্ষা ও সাধারণ ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য জনপ্রিয়।
- এমএস-ডস (MS-DOS – ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ):
- ইতিহাস: এটি ১৯৮০-এর দশকের কমান্ড লাইন ইন্টারফেস (CLI) ভিত্তিক প্রাথমিক অপারেটিং সিস্টেম। এখানে ব্যবহারকারীকে কীবোর্ডে কমান্ড টাইপ করে কাজ করতে হতো। যদিও বর্তমানে আধুনিক পিসিতে এটি সরাসরি ব্যবহৃত হয় না, তবে উইন্ডোজের ‘Command Prompt’ রূপে এখনো বিদ্যমান।
উপসংহার
মাইক্রো কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম সময়ের সাথে সাথে কমান্ড নির্ভর জটিল ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে দৃষ্টিনন্দন, স্পর্শনির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ ইন্টারফেসে রূপান্তরিত হয়েছে; যা সাধারণ মানুষের জন্য কম্পিউটার চালানোকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে।
৪। MS Powerpoint কী? এটি দিয়ে কী কী কাজ করা যায়? আলোচনা কর।
[What is MS Powerpoint? What can be done by MS Powerpoint? Discuss it.]
ভূমিকা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কোনো ধারণা, তথ্য, গবেষণা বা রিপোর্টকে শ্রোতা ও দর্শকদের সামনে দৃষ্টিনন্দন ও প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরার জন্য প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার অপরিহার্য। মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের তৈরি ‘এমএস পাওয়ারপয়েন্ট’ (Microsoft PowerPoint) বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার।
১. MS PowerPoint-এর পরিচয়
MS PowerPoint হলো এমন একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম যার সাহায্যে পাঠ্য (Text), ছবি (Image), গ্রাফ ও চার্ট, অডিও এবং ভিডিও ক্লিপকে ইলেকট্রনিক স্লাইডে (Slide) সুবিন্যস্ত করে অ্যানিমেশন ও ট্রানজিশনের মাধ্যমে একটি মনোমুগ্ধকর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন বা স্লাইড শো তৈরি করা যায়। এর ফাইল এক্সটেনশন সাধারণত .pptx হয়ে থাকে।
২. MS PowerPoint দিয়ে যেসব কাজ করা যায়
- মাল্টিমিডিয়া স্লাইড শো তৈরি: বিভিন্ন টেক্সট, শিরোনাম ও বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করে প্রাতিষ্ঠানিক, শিক্ষামূলক ও ব্যবসায়িক প্রেজেন্টেশন তৈরি ও বড় স্ক্রিনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা।
- দ্বীনি দাওয়াহ ও তাফসির উপস্থাপন: ইসলামিক সেমিনার, জুম’আর খুতবা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পবিত্র কুরআনের আয়াত, আরবি হাদিস এবং প্রয়োজনীয় বাংলা রূপান্তর সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রদর্শন করা যায়।
- অ্যানিমেশন ও স্লাইড ট্রানজিশন প্রয়োগ: স্লাইডের ভেতরে থাকা লেখা ও ছবির ওপর কাস্টম অ্যানিমেশন (Entrance, Emphasis, Exit) এবং স্লাইড পরিবর্তনের সময় আকর্ষণীয় ট্রানজিশন ইফেক্ট যুক্ত করা যায়।
- ইনফোগ্রাফিক্স, চার্ট ও স্মার্ট আর্ট তৈরি: জটিল পরিসংখ্যান, বংশতালিকা, কর্মপদ্ধতি বা সাংগঠনিক কাঠামো বোঝাতে SmartArt গ্রাফিক্স এবং বিভিন্ন পাই চার্ট, বার চার্ট ইত্যাদি সহজে তৈরি করা যায়।
- অডিও ও ভিডিও সংযোজন: স্লাইডের সাথে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের অডিও রেকর্ড, ব্যাকগ্রাউন্ড নাশিদ বা প্রাসঙ্গিক শিক্ষামূলক ভিডিও ক্লিপ সরাসরি যুক্ত করা যায়।
- হ্যান্ডআউট ও নোটস তৈরি: উপস্থাপক নিজের বক্তব্যের সুবিধার্থে প্রতিটি স্লাইডের নিচে Speaker Notes লিখতে পারেন এবং শ্রোতাদের জন্য প্রেজেন্টেশনের প্রিন্টেড হ্যান্ডআউট তৈরি করতে পারেন।
- ডিজিটাল ব্যানার ও পোস্টার ডিজাইন: পাওয়ারপয়েন্টের স্লাইড সাইজ পরিবর্তন করে খুব সহজেই দাওয়াতি ব্যানার, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও শুভেচ্ছা কার্ড ডিজাইন করা যায়।
- ভিডিও ফাইল ও অ্যানিমেটেড জিআইএফ (GIF) রপ্তানি: তৈরি করা প্রেজেন্টেশনকে সরাসরি এমপিফোর (MP4) ভিডিও ফরম্যাটে রূপান্তর করে ইউটিউব বা অন্যান্য মাধ্যমে শেয়ার করা যায়।
উপসংহার
এমএস পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহারকারীর যোগাযোগ দক্ষতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে শিক্ষাদান, প্রাতিষ্ঠানিক মিটিং এবং দাওয়াহ কার্যক্রমে শ্রোতাদের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পাওয়ারপয়েন্ট একটি অতুলনীয় সফটওয়্যার।
৫। ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস কী? কয়েকটি ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের নাম লেখ এবং এদের সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
[What is the input and output device? Write down some input and output devices and briefly describe them.]
ভূমিকা
কম্পিউটার একটি স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা বাইরে থেকে তথ্য গ্রহণ করে, তা প্রক্রিয়া করে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদর্শন করে। যে যন্ত্রাংশগুলোর মাধ্যমে এই তথ্য গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশের কাজ সম্পাদিত হয়, তাদের ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস বলা হয়।
১. ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইসের সংজ্ঞা
- ইনপুট ডিভাইস (Input Device): যেসব বাহ্যিক হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশের সাহায্যে ব্যবহারকারী ডেটা, নির্দেশ ও সিগন্যাল কম্পিউটারের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে (CPU) প্রেরণ করেন, তাদের ইনপুট ডিভাইস বলে।
- আউটপুট ডিভাইস (Output Device): সিপিইউ কর্তৃক প্রক্রিয়াকরণের পর প্রাপ্ত ফলাফল ও তথ্যকে মানুষের বোধগম্য ভাষায় প্রদর্শন, মুদ্রণ বা শোনানোর জন্য যেসব যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়, তাদের আউটপুট ডিভাইস বলে।
২. প্রধান ইনপুট ডিভাইসসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- কীবোর্ড (Keyboard): এটি কম্পিউটারের প্রধান টেক্সট ইনপুট ডিভাইস। এতে বর্ণমালা, সংখ্যা, ফাংশন কি এবং বিশেষ কমান্ড কি বিন্যস্ত থাকে। টাইপ করে সরাসরি তথ্য প্রবেশ করানো যায়।
- মাউস (Mouse): এটি একটি পয়েন্টিং ডিভাইস। এর মাধ্যমে স্ক্রিনে কার্সর নাড়াচাড়া করে কোনো ফাইল সিলেক্ট, ক্লিক বা ড্র্যাগ করা হয়। এতে সাধারণত দুটি বাটন ও একটি স্ক্রোল হুইল থাকে।
- স্ক্যানার (Scanner): কোনো ছাপানো বই, নথিপত্র বা ছবিকে হুবহু ডিজিটাল চিত্রে রূপান্তর করে কম্পিউটারে সংরক্ষণ করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোফোন (Microphone): মানুষের কণ্ঠস্বর বা শব্দ তরঙ্গকে ইলেকট্রনিক সিগন্যালে রূপান্তর করে কম্পিউটারে অডিও ইনপুট প্রদান করে।
- ওয়েবক্যাম (Webcam): ডিজিটাল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সিং বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ে কম্পিউটারে ইনপুট দেয়।
৩. প্রধান আউটপুট ডিভাইসসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- মনিটর (Monitor/Screen): কম্পিউটারের প্রধান ভিজ্যুয়াল আউটপুট ডিভাইস। প্রক্রিয়াকৃত সকল তথ্য, ছবি ও ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে মনিটরের পর্দায় প্রদর্শিত হয়। প্রধান প্রকারভেদ: LED, LCD, OLED।
- প্রিন্টার (Printer): কম্পিউটারের সফট কপি তথ্য বা ফলাফলকে কাগজে স্থায়ীভাবে মুদ্রণ করে হার্ড কপি আকারে রূপান্তর করে। প্রকারভেদ: লেজার প্রিন্টার, ইঙ্কজেট প্রিন্টার, ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার।
- স্পিকার ও হেডফোন (Speaker/Headphone): কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকৃত অডিও সিগন্যালকে মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দে রূপান্তর করে বাজায়।
- মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর (Projector): কম্পিউটারের মনিটরের দৃশ্যকে বৃহৎ পর্দা বা দেয়ালে বৃহদাকারে প্রক্ষেপণ করার যন্ত্র, যা মিটিং বা ক্লাসরুমে ব্যবহৃত হয়।
- প্লটার (Plotter): প্রকৌশল নকশা, বড় আর্কিটেকচারাল ম্যাপ বা বিশাল সাইজের ফ্লেক্স ব্যানার নিখুঁতভাবে প্রিন্ট করার বিশেষ ধরনের আউটপুট ডিভাইস।
উপসংহার
ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস ব্যতীত কম্পিউটারের কোনো ব্যবহারিক উপযোগিতা সম্ভব নয়। এই ডিভাইসগুলো মানুষ ও কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
৬। ই-মেইল কী? একটি ই-মেইল একাউন্ট খোলার ধাপগুলো বর্ণনা কর।
[What is e-mail? Describe the steps to open an e-mail account.]
ভূমিকা
ইন্টারনেটের অন্যতম প্রাচীন, দ্রুততম ও সর্বাধিক ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যমের নাম হলো ই-মেইল। প্রচলিত ডাক ব্যবস্থার ধীরগতির চিঠিপত্র আদান-প্রদানের আধুনিক ও তাৎক্ষণিক ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে ই-মেইল বিশ্বব্যাপী অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
১. ই-মেইল (E-mail)-এর পরিচয়
ই-মেইল-এর পূর্ণরূপ হলো ‘ইলেকট্রনিক মেইল’ (Electronic Mail)। ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন থেকে অন্য কম্পিউটার বা মোবাইলে ডিজিটাল বার্তা, নথি, ছবি ও ফাইল তাৎক্ষণিকভাবে আদান-প্রদান করার নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিকে ই-মেইল বলা হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ ই-মেইল ঠিকানার দুটি অংশ থাকে—ইউজার নেম (Username) ও ডোমেইন নেম (Domain name), যা ‘@’ (at the rate) চিহ্ন দিয়ে পৃথক করা থাকে (যেমন: example@gmail.com)।
২. একটি জিমেইল (Gmail) একাউন্ট খোলার পূর্ণাঙ্গ ধাপসমূহ
বর্তমানে বিশ্বে গুগল কর্তৃক পরিচালিত জিমেইল সর্বাধিক জনপ্রিয় ই-মেইল সেবা। নিচে নতুন জিমেইল একাউন্ট তৈরির ধাপগুলো তুলে ধরা হলো:
- ব্রাউজার ওপেন ও ওয়েবসাইটে প্রবেশ: কম্পিউটার বা মোবাইলের যেকোনো ব্রাউজার (যেমন- Google Chrome) চালু করে অ্যাড্রেস বারে
www.gmail.comটাইপ করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। - Create Account নির্বাচন: প্রদর্শিত পেজে থাকা “Create account” (একাউন্ট তৈরি করুন) বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে “For my personal use” অপশন সিলেক্ট করতে হবে।
- ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান: পরবর্তী পাতায় নিজের নাম (First Name ও Last Name) সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হবে।
- জন্মতারিখ ও লিঙ্গ নির্বাচন: নিজের জন্মতারিখ (দিন, মাস, বছর) এবং লিঙ্গ (Gender) নির্বাচন করে Next বাটনে ক্লিক করতে হবে।
- ইউজারনেম বা ই-মেইল ঠিকানা নির্বাচন: একটি ইউনিক ও স্বতন্ত্র ইউজার নেম লিখতে হবে (যেমন:
abdullah.dawah2020)। যদি নামটি অন্য কেউ ব্যবহার করে থাকে, তবে ভিন্ন কোনো নাম বা সংখ্যার সমন্বয় নির্বাচন করতে হবে। - শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্ধারণ: একাউন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন (#, @, $) মিলিয়ে একটি শক্তিশালী গোপন পাসওয়ার্ড (Password) দিতে হবে এবং “Confirm” ঘরে তা পুনরায় লিখে নিশ্চিত করতে হবে।
- মোবাইল নম্বর ও ভেরিফিকেশন: নিরাপত্তার জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। গুগলের পক্ষ থেকে উক্ত নম্বরে প্রেরিত ৬ ডিজিটের ওটিপি (Verification Code) নির্ধারিত ঘরে লিখে ভেরিফাই করতে হবে।
- রিকভারি ই-মেইল (ঐচ্ছিক): ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে একাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিকল্প ই-মেইল অ্যাড্রেস যুক্ত করা যায় (না চাইলে Skip করা যায়)।
- শর্তাবলিতে সম্মতি (Privacy & Terms): গুগলের ব্যবহারবিধি ও গোপনীয়তার নীতিমালা স্ক্রোল করে নিচে এসে “I agree” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
- ইনবক্সে প্রবেশ ও সম্পূর্ণতা: সফলভাবে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জিমেইলের মূল ইনবক্স (Inbox) পেজ প্রদর্শিত হবে এবং একাউন্টটি ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হবে।
উপসংহার
বর্তমান সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, সরকারি সেবা এবং যেকোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের জন্য একটি ব্যক্তিগত ই-মেইল একাউন্ট থাকা প্রতিটি সচেতন মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক।
৭। নেটওয়ার্ক কী? নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ এবং লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের সংগঠনসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দাও।
[What is network? Describe network classification and describe details topology of network.]
ভূমিকা
একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান, রিসোর্স শেয়ারিং এবং পারস্পরিক যোগাযোগের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা সংযোগ ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলা হয়। আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তিই হলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং।
১. কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সংজ্ঞা
তথ্য, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সামগ্রী (যেমন- প্রিন্টার, মেমরি) পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগি বা শেয়ার করার উদ্দেশ্যে ক্যাবল বা ওয়্যারলেস মাধ্যমে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে স্থাপিত সমন্বিত সংযোগ ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (Computer Network) বলে।
২. ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ
- প্যান (PAN – Personal Area Network): কোনো ব্যক্তির নিকটবর্তী (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে) ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোর (যেমন- ব্লুটুথ, হটস্পট) মধ্যকার নেটওয়ার্ক।
- ল্যান (LAN – Local Area Network): কোনো একটি নির্দিষ্ট কক্ষ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বা একক ভবনের ভেতরের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে স্থাপিত উচ্চগতির অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক।
- ম্যান (MAN – Metropolitan Area Network): একটি সমগ্র শহর বা নির্দিষ্ট মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত নেটওয়ার্কগুলোকে সংযুক্তকারী মাঝারি আকারের নেটওয়ার্ক (যেমন- ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক)।
- ওয়্যান (WAN – Wide Area Network): ভৌগোলিকভাবে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। সমগ্র পৃথিবীর বৃহত্তম ওয়্যানের বাস্তব উদাহরণ হলো ইন্টারনেট।
৩. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের সংগঠন বা টপোলজি (LAN Network Topology)
লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে যুক্ত কম্পিউটার ও ক্যাবলসমূহ ভৌতভাবে যে জ্যামিতিক নকশায় বিন্যস্ত থাকে, তাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বা সংগঠন বলা হয়। প্রধান প্রধান টপোলজি নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
- বাস টপোলজি (Bus Topology):
- গঠন: এতে একটি মূল পরিবাহী তার বা ব্যাকবোন ক্যাবল (Backbone Cable) থাকে, যার সাথে সকল কম্পিউটার সংযুক্ত থাকে। তারের দুই প্রান্তে টার্মিনেটর ব্যবহার করা হয়।
- সুবিধা: গঠন অত্যন্ত সহজ, স্বল্প তারের প্রয়োজন হয় এবং ব্যয় কম।
- অসুবিধা: মূল ব্যাকবোন ক্যাবল নষ্ট হলে সমগ্র নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।
- স্টার টপোলজি (Star Topology):
- গঠন: একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক ডিভাইস (Hub বা Switch)-এর সাথে প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি পৃথক ক্যাবলের মাধ্যমে তারার মতো যুক্ত থাকে। এটি বর্তমানে ল্যানে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- সুবিধা: যেকোনো একটি কম্পিউটার বা তার নষ্ট হলেও অন্য কম্পিউটার প্রভাবিত হয় না। নতুন নোড যুক্ত করা অত্যন্ত সহজ।
- অসুবিধা: কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচ নষ্ট হয়ে গেলে সমগ্র নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে যায় এবং ক্যাবল বেশি লাগে।
- রিং টপোলজি (Ring Topology):
- গঠন: প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশাপাশি অবস্থিত দুটি কম্পিউটারের সাথে বৃত্তাকারে যুক্ত হয়ে একটি বন্ধ লুপ তৈরি করে। তথ্য একমুখী নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয়।
- সুবিধা: এতে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার লাগে না এবং ডেটা সংঘর্ষ (Collision) হয় না।
- অসুবিধা: নেটওয়ার্কের একটি কম্পিউটার বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে সমগ্র লুপটি অকেজো হয়ে যায়।
- ট্রি টপোলজি (Tree Topology):
- গঠন: একাধিক স্টার টপোলজিকে একটি কেন্দ্রীয় বাসের মাধ্যমে সংযুক্ত করে গাছের শাখা-প্রশাখার মতো অনুক্রমিক বিন্যাস তৈরি করা হয়।
- সুবিধা: বড় আকারের প্রাতিষ্ঠানিক ল্যান নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং সম্প্রসারণ সহজ।
- অসুবিধা: রুট নোড বা মূল কেন্দ্রীয় সুইচ নষ্ট হলে এর অধীনস্থ শাখাগুলো অচল হয়ে পড়ে।
- মেশ টপোলজি (Mesh Topology):
- গঠন: নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার অন্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি পৃথক লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সংযোগ)।
- সুবিধা: অত্যন্ত উচ্চ নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত হয়; একটি লাইন ছিঁড়ে গেলেও বিকল্প পথে যোগাযোগ চলে।
- অসুবিধা: সংযোগ স্থাপন অত্যন্ত জটিল এবং বিপুল পরিমাণ ক্যাবলিংয়ের কারণে খরচ অত্যন্ত বেশি।
- হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology):
- গঠন: বাস, স্টার, রিং বা মেশ—একাধিক ভিন্ন ধরনের টপোলজির সংমিশ্রণে যে বৃহৎ ও বাস্তবমুখী নেটওয়ার্ক গঠিত হয়, তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে।
উপসংহার
নেটওয়ার্কিং ছাড়া আধুনিক কম্পিউটিং অকল্পনীয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন, দূরত্ব ও বাজেটের ওপর নির্ভর করে উপযুক্ত নেটওয়ার্ক প্রকারভেদ ও টপোলজি নির্বাচন করা হয়।
খ বিভাগ: সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নাবলী
৮। (ক) “সফটওয়্যার কম্পিউটারের জীবন”—ব্যাখ্যা কর।
[“Software is the life of computer” – Explain in brief.]
উত্তর:
কম্পিউটারের বাহ্যিক কাঠামো ও যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার বলা হয়, যা দৃশ্যমান হলেও নিজস্ব কোনো চিন্তাশক্তি বা কর্মক্ষমতা নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেও উপযুক্ত নির্দেশাবলি ছাড়া হার্ডওয়্যার কেবল নিথর একরাশ লোহা-লক্কড় ও প্লাস্টিকের স্তূপ মাত্র। সফটওয়্যার হলো সেই অদৃশ্য প্রাণশক্তি বা নির্দেশমালার সেট যা হার্ডওয়্যারকে কখন, কী কাজ কীভাবে করতে হবে তা পরিচালনা করে। মানুষের প্রাণবায়ু (রূহ) বের হয়ে গেলে যেমন সচল দেহ নিথর লাশে পরিণত হয়, তেমনি কম্পিউটার থেকে অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার মুছে ফেললে হার্ডওয়্যার কোনো প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দিতে পারে না। তাই যথার্থভাবেই বলা হয়—“সফটওয়্যার কম্পিউটারের জীবন”।
৮। (খ) অপারেটিং সিস্টেমের কাজ কী?
[What functions of operating system?]
উত্তর:
অপারেটিং সিস্টেম (OS) হলো কম্পিউটারের মাস্টার কন্ট্রোল প্রোগ্রাম। এর প্রধান কাজগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রসেসর ব্যবস্থাপনা (Processor Management): কোন প্রোগ্রাম কখন এবং কত সময় প্রসেসর ব্যবহার করবে তা শিডিউলিং করা।
- মেমরি ব্যবস্থাপনা (Memory Management): র্যাম ও ভার্চুয়াল মেমরিতে প্রোগ্রামগুলোর জন্য স্থান বরাদ্দ ও অবমুক্ত করা।
- ফাইল ও স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট: হার্ডডিস্কে ফাইল তৈরি, মুছে ফেলা, বিন্যস্ত করা ও ব্যাকআপ রাখা।
- ডিভাইস ও ইনপুট-আউটপুট নিয়ন্ত্রণ: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর ও প্রিন্টারের সাথে কম্পিউটারের নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
- ইউজার ইন্টারফেস প্রদান: গ্রাফিক্যাল (GUI) বা কমান্ড লাইনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর জন্য কাজ পরিচালনা সহজ করা।
- নিরাপত্তা বিধান: পাসওয়ার্ড, ইউজার একাউন্ট ও ভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৮। (গ) মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে কী কী মৌলিক তফাৎ রয়েছে?
[What are the fundamental differences between human and computer?]
উত্তর:
মানুষ মহান স্রষ্টার সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাত, আর কম্পিউটার মানুষের উদ্ভাবিত এক জড় ইলেকট্রনিক যন্ত্র। নিচে তাদের মৌলিক পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:
| তুলনার বিষয় | মানুষ | কম্পিউটার |
|---|---|---|
| বুদ্ধিমত্তা ও অনুভূতি | সহজাত বিবেক, আবেগ, অনুভূতি ও ন্যায়-অন্যায়ের বিচারবোধ রয়েছে। | কোনো আবেগ বা অনুভূতি নেই; প্রোগ্রামিং করা নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। |
| কাজের গতি | তুলনামূলক ধীরগতির এবং দীর্ঘক্ষণ কাজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। | অবিশ্বাস্য উচ্চগতি (ন্যানোসেকেন্ড) এবং অক্লান্তভাবে অবিরাম কাজ করতে পারে। |
| ভুলভ্রান্তি | ক্লান্তি ও অমনোযোগের কারণে মানুষের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। | নির্ভুল (নির্দেশ সঠিক হলে কখনো ভুল করে না—GIGO নীতি)। |
| সিদ্ধান্ত গ্রহণ | অভিজ্ঞতা ও উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে তাৎক্ষণিক স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। | প্রোগ্রামের বাইরে নিজে থেকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। |
৮। (ঘ) প্রধান মেমরি ও সহায়ক মেমরির মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[Write the difference between main memory and auxiliary memory.]
উত্তর:
কম্পিউটারের প্রধান মেমরি (Primary Memory) এবং সহায়ক মেমরির (Secondary/Auxiliary Memory) মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো:
| তুলনার বিষয় | প্রধান মেমরি (Main Memory) | সহায়ক মেমরি (Auxiliary Memory) |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | এটি অভ্যন্তরীণ মেমরি যা সিপিইউ-এর সাথে সরাসরি বাসে যুক্ত থাকে। | এটি বাহ্যিক মেমরি যা ডেটা স্থায়ীভাবে ধারণ করে। |
| স্থায়িত্ব | অধিকাংশই অস্থায়ী (যেমন- RAM); বিদ্যুৎ চলে গেলে ডেটা মুছে যায়। | সম্পূর্ণ স্থায়ী (Non-volatile); বিদ্যুৎ চলে গেলেও ডেটা অক্ষত থাকে। |
| গতি | অত্যন্ত দ্রুতগতির মেমরি। | প্রধান মেমরির তুলনায় গতি অনেক ধীর। |
| ধারণক্ষমতা ও খরচ | ধারণক্ষমতা সীমিত (৪ জিবি – ৬৪ জিবি) এবং প্রতি বাইট খরচ বেশি। | ধারণক্ষমতা বিপুল (৫১২ জিবি – কয়েক টেরাবাইট) এবং খরচ কম। |
| উদাহরণ | RAM, ROM। | হার্ডডিস্ক (HDD), SSD, পেনড্রাইভ, অপটিক্যাল ডিস্ক। |
৮। (ঙ) মাইক্রোসফট এক্সেল-এ কী কী কাজ করা যায়?
[What can be done by Microsoft Excel?]
উত্তর:
মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel) হলো একটি শক্তিশালী স্প্রেডশীট অ্যানালাইসিস সফটওয়্যার। এর সাহায্যে যেসব কাজ করা যায়:
- জটিল গাণিতিক হিসাব-নিকাশ: বিভিন্ন ফর্মুলা (SUM, AVERAGE, PRODUCT) ব্যবহার করে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ও শতাংশের বিপুল অংকের হিসাব সেকেন্ডে সম্পন্ন করা যায়।
- বেতন ও বাজেট প্রস্তুতকরণ: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন বিবরণী (Payroll Sheet), প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বাৎসরিক আর্থিক বাজেট তৈরি করা যায়।
- শিক্ষার ফলাফল বা রেজাল্ট শিট প্রণয়ন: মাদরাসা ও স্কুলের গ্রেডিং সিস্টেম, জিপিএ (GPA) ও মেধা তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণয় করা যায় (IF, VLOOKUP ফাংশনের মাধ্যমে)।
- তথ্য ভিজ্যুয়ালাইজেশন ও চার্ট: কলাম চার্ট, পাই চার্ট ও লাইন গ্রাফের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতি ও পরিসংখ্যান দৃষ্টিনন্দনভাবে উপস্থাপন করা যায়।
- ডেটা সর্টিং ও ফিল্টারিং: হাজার হাজার ডেটা থেকে যেকোনো নাম, রোল বা তথ্য বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো বা নির্দিষ্ট শর্তে ফিল্টার করে খুঁজে বের করা যায়।
৮। (চ) সমাজে তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
[Describe briefly the impact of information technology in society.]
উত্তর:
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (IT) মানবসমাজকে একটি বৈশ্বিক গ্রামে (Global Village) রূপান্তর করেছে। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
- ইতিবাচক প্রভাব:
- যোগাযোগের বিপ্লব: ই-মেইল, ভিডিও কল ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে নিমেষেই বিশ্বজুড়ে তথ্য বিনিময় সম্ভব হচ্ছে।
- শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন: ই-বুক, অনলাইন কোর্স ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বমানের শিক্ষা ঘরে বসেই গ্রহণ করা যাচ্ছে।
- চিকিৎসাসেবা ও টেলিমেডিসিন: দূরবর্তী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং কম্পিউটরাইজড টেস্টের মাধ্যমে জটিল রোগ নির্ণয় সহজ হয়েছে।
- ই-কমার্স ও অর্থনীতি: ঘরে বসে কেনাকাটা, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
- নেতিবাচক প্রভাব: সাইবার অপরাধ (হ্যাকিং, আর্থিক প্রতারণা), অপসংস্কৃতির বিস্তার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময়ের অপচয় সমাজের অন্যতম সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: দাওয়াহ প্রচারের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব কী?
উত্তর: আধুনিক প্রযুক্তি ভৌগোলিক দূরত্বের সীমানা পেরিয়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর নির্ভুল জ্ঞান তাৎক্ষণিকভাবে অডিও, ভিডিও ও ডিজিটাল কনটেন্ট আকারে পৌঁছানোর সর্বোত্তম মাধ্যম।
প্রশ্ন ২: কম্পিউটারের জনক কাকে বলা হয়?
উত্তর: ইংরেজ প্রকৌশলী ও গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজকে (Charles Babbage) কম্পিউটারের জনক বলা হয়, কারণ তিনি প্রথম এনালিটিক্যাল ইঞ্জিনের নকশা তৈরি করেছিলেন।
প্রশ্ন ৩: ল্যান (LAN) এবং ওয়্যান (WAN)-এর মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: ল্যান হলো কোনো একক ভবন বা ক্যাম্পাসের সীমাবদ্ধ উচ্চগতির স্থানীয় নেটওয়ার্ক, আর ওয়্যান হলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত কম্পিউটার সংযোগ ব্যবস্থা যার বাস্তব উদাহরণ হলো ইন্টারনেট।
প্রশ্ন ৪: ই-মেইলের পূর্ণরূপ কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
উত্তর: ই-মেইলের পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক মেইল (Electronic Mail)। ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক প্রটোকল ব্যবহার করে এক কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে অন্য ডিভাইসে বার্তা বা ফাইল আদান-প্রদান করা হয়।
প্রশ্ন ৫: মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট কোন কাজে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: পাওয়ারপয়েন্ট মূলত বিভিন্ন সেমিনার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মশালা ও দাওয়াতি মাহফিলে মাল্টিমিডিয়া স্লাইড শো প্রদর্শনের মাধ্যমে বক্তব্য ও তথ্য আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্ন ৬: সফটওয়্যার ছাড়া কি কম্পিউটার চলতে পারে?
উত্তর: না, সফটওয়্যার ছাড়া কম্পিউটার চলতে পারে না। সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের চালিকাশক্তি ও প্রাণস্বরূপ, যা হার্ডওয়্যারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে সচল রাখে।