পরীক্ষা ২০২১
আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
السنن للنسائي والسنن لأبي داؤد (সুনানে নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদ)
নির্দেশাবলি: (الف) অংশ হতে ৩টি, (ب) অংশ হতে ২টি এবং (ج) অংশ হতে ১টি করে মোট ৬টি প্রশ্নের উত্তর দাও।
مجموعة (الف) : (ক) অংশ — السنن للنسائي (সুনানে নাসাঈ)
যেকোনো ৩টি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ১৪ × ৩ = ৪২
১
تأويل قوله عز وجل (إذا قمتم إلى الصلاة فاغسلوا وجوهكم وايديكم إلى المرافق) عن ابى هريرة (رض) أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يغمس يده فى وضوئه حتى يغسلها ثلاثا فإن أحدكم لا يدرى أين باتت يده-
[১. মহান আল্লাহর বাণী: “হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো।” হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা) ইরশাদ করেছেন: যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন অজু করার পাত্রে হাত না ডোবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধুয়ে নেয়; কেননা সে জানে না যে রাতে তার হাত কোথায় অবস্থান করেছিল।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما معنى الوضوء، والتيمم؟ بين فرائضهما- [মান: ৪]
[(ক) অজু ও তায়াম্মুমের অর্থ কী? উভয়ের ফরজসমূহ বর্ণনা কর।]
(ب) ما معنى الطهارة لغة وشرعًا؟ ثم بين أقسامها با الاختصار- [মান: ৪]
[(খ) শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে তাহারাত (পবিত্রতা) কী? সংক্ষেপে এর প্রকারভেদ আলোচনা কর।]
২
عن ابى هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لولا أن اشق على امتى لامرتهم بالسواك عند كل صلاة-
[২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন: যদি না আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য মনে করতাম, তবে নিশ্চয়ই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের পূর্বে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما معنى السواك؟ وما هى الأحوال التى يستحب فيها السواك؟ [মান: ৪]
[(ক) মেসওয়াকের অর্থ কী? এবং কোন্ কোন্ অবস্থায় মেসওয়াক করা মুস্তাহাব?]
(ب) بين حكم السواك عند كل صلاة- [মান: ৪]
[(খ) প্রত্যেক সালাতের পূর্বে মেসওয়াক করার শরয়ী হুকুম আলোচনা কর।]
৩
عن أبى هريرة رضى الله عنه عن رسول الله صلى عليه وسلم قال: الفطرة خمس: الاختنان والاستحداد وقص الشارب وتقليم الأظفار ونتف الإبط-
[৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন: স্বভাবগত সুন্নত বা স্বভাবজাত মানবীয় পরিচ্ছন্নতা পাঁচটি: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলা।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما معنى الفطرة وما هى؟ بين- [মান: ৪]
[(ক) ফিতরাত (স্বভাবগত সুন্নত)-এর অর্থ কী এবং তা কী কী? বর্ণনা কর।]
(ب) اكتب نبذة عن حياة أبى هريرة رضى الله عنه- [মান: ৪]
[(খ) হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত লেখ।]
৪
عن عبد الله بن المغفل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بقتل الكلاب ورخص فى كلب الصيد والغنم- وقال إذا ولغ الكلب فى الإناء فاغسلوه سبع مرات وعفّروه بالثمانية بالتراب-
[৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) কুকুর নিধনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং শিকারী কুকুর ও গবাদিপশু পাহারাদার কুকুর পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছেন: কুকুর যদি কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তবে তোমরা তা সাতবার ধৌত করবে এবং অষ্টমবারে মাটি দিয়ে মেজে নেবে।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما هى أقوال العلماء فى حكم سور الكلب وكيفية التطهير؟ اكتب- [মান: ৪]
[(ক) কুকুরের এঁটো পাত্রের বিধান ও তা পবিত্র করার পদ্ধতি সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতামত কী?]
(ب) بين حكم صيد الكلب المعلم- [মান: ৪]
[(খ) প্রশিক্ষিত শিকারী কুকুরের শিকারকৃত প্রাণীর শরয়ী বিধান কী? আলোচনা কর।]
৫
عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنما الأعمال بالنيات وإنما لامرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله وإلى رسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر اليه-
[৫. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই যাবতীয় আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। অতএব, যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে; আর যার হিজরত কোনো পার্থিব সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যে বা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما المعنى النية؟ وما الفرق بين النية والإرادة؟ بين- [মান: ৪]
[(ক) নিয়তের অর্থ কী? এবং নিয়ত ও এরাদার (ইচ্ছার) মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]
(ب) اكتب أهمية النية قبل العبادة بين بالأدلة- [মান: ৪]
[(খ) ইবাদতের পূর্বে নিয়তের গুরুত্ব দলিলসহ আলোচনা কর।]
مجموعة (ب) : (খ) অংশ — السنن لأبي داؤد (সুনানে আবু দাউদ)
যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ১৪ × ২ = ২৮
৬
عن ابن عباس قال جاء اعرابى إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقال: إنى رأيت الهلال قال الحسن فى حديثه يعنى رمضان، فقال اتشهد أن لا إله إلا الله؟ قال نعم، قال اتشهد أن محمدا رسول الله؟ قال نعم، قال يا بلال! أذن فى الناس فليصوموا غدًا-
[৬. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, এক বেদুঈন নবী করীম (সা)-এর দরবারে এসে বলল: আমি চাঁদ দেখেছি (হাসান তাঁর বর্ণনায় বলেন, অর্থাৎ রমজানের চাঁদ)। নবীজি (সা) বললেন: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? সে বলল: হ্যাঁ। তখন নবীজি (সা) বললেন: হে বিলাল! মানুষের মাঝে ঘোষণা করে দাও, তারা যেন আগামীকাল রোজা রাখে।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما معنى الصوم لغة وشرعًا؟ بين حكم الصوم بالأدلة- [মান: ৪]
[(ক) শাব্দিক ও শরয়ী পরিভাষায় সাওম (রোজা)-এর অর্থ কী? দলিলসহ সাওমের বিধান বর্ণনা কর।]
(ب) بين حكم قبول شهادة الواحد فى الإمساك والإفطار- [মান: ৪]
[(খ) রোজা শুরু করা (ইমসাক) এবং ইফতার বা ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে একজনের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান আলোচনা কর।]
৭
عن أبى هريرة (رض) قال اتى النبى صلى الله عليه وسلم رجل فقال هلكت، قال وما أهلكت؟ قال وقعت على امرأتى فى رمضان، فقال النبى صلى الله عليه وسلم أعتق رقبة- قال لا أجد، قال صم شهرين متتابعين، قال لا أطيق- قال أطعم ستين مسكينًا-
[৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম (সা)-এর নিকট এসে বলল: আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি! তিনি বললেন: কিসে তোমাকে ধ্বংস করল? সে বলল: আমি রমজান মাসে (রোজা অবস্থায়) স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলেছি। নবীজি (সা) বললেন: একজন দাস মুক্ত করো। সে বলল: আমার কাছে নেই। তিনি বললেন: তবে একটানা দুই মাস রোজা রাখো। সে বলল: আমার সামর্থ্য নেই। তিনি বললেন: তবে ষাটজন মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াও।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) متى فرض الصوم؟ بين فضائل الصوم بالادلة- [মান: ৪]
[(ক) রোজা কখন ফরজ হয়েছে? দলিলসহ রোজার ফজিলতসমূহ আলোচনা কর।]
(ب) ما هى كفارات الصوم؟ بين بالتفصيل- [মান: ৪]
[(খ) রোজার কাফফারা কী কী? বিস্তারিত ব্যাখ্যা কর।]
৮
عن ابن عمر أن النبى صلى الله عليه وسلم كان يعتكف العشر الاواخر من رمضان-
[৮. হযরত ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।]
الأسئلة الملحقة:
(الف) ما معنى الإعتكاف؟ وما حكمه؟ بين- [মান: ৪]
[(ক) ইতিকাফের অর্থ কী এবং এর শরয়ী বিধান কী? বর্ণনা কর।]
(ب) هل الإعتكاف خاصة مسجد جامع؟ بين- [মান: ৪]
[(খ) ইতিকাফ কি কেবল জামে মসজিদের সাথেই নির্দিষ্ট? ব্যাখ্যা কর।]
مجموعة (ج) : (গ) অংশ — গ্রন্থ ও রচয়িতা পর্যালোচনা
যেকোনো ১টি প্রশ্নের উত্তর দাও: মান ১০ × ১ = ১০
৯
اكتب نبذة عن حياة أبى داؤد (رح) ثم بين منزلة كتابه بين السنن-
أو
اكتب خصائص سنن أبى داؤد بالاختصار-
[৯. ইমাম আবু দাউদ (রহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং সুনান গ্রন্থসমূহের মাঝে তাঁর কিতাবের মর্যাদা বর্ণনা কর। অথবা: সুনানে আবু দাউদের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
প্রশ্নপত্রের গঠন ও বিশ্লেষণ
২০২১ সালের সুনানে নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদ (২০২৩০৩) প্রশ্নপত্রে তাহারাত ও সিয়াম অধ্যায়ের মৌলিক ফেকহী বিধানগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। নাসাঈ অংশে ঘুম থেকে জেগে পাত্রে হাত দেওয়া, মেসওয়াকের আহকাম, ফিতরাতের পাঁচটি স্বভাব এবং কুকুরের লালাজনিত পাত্রের পবিত্রতার হাদিসসমূহ যাচাই করা হয়েছে। আবু দাউদ অংশে রমজানের চাঁদ দেখা, রোজার কাফফারা এবং শেষ দশকের ইতিকাফের হাদিস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গ্রন্থ পর্যালোচনা অংশে সুনানে আবু দাউদের বৈশিষ্ট্য ও মুহাদ্দিস মহলে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মূল্যায়ন রয়েছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. সুনানে নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদের প্রশ্নের উত্তরের বৈশিষ্ট্য কী হওয়া উচিত?
ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিস থেকে মাসআলা বের করার পদ্ধতি (ইস্তিম্বাতুল আহকাম) এবং মুজতাহিদ ইমামগণের দলিলের ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ উল্লেখ করা শ্রেয়।
২. রমজানের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সাক্ষ্য কি গ্রহণযোগ্য?
বেশিরভাগ ফকীহ ও ইমাম আবু হানিফা (রহ)-এর মতে রমজানের রোজার সূচনার ক্ষেত্রে একজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিমের সাক্ষ্যই যথেষ্ট। তবে ঈদুল ফিতরের চাঁদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর প্রয়োজন।
৩. রোজা ভঙ্গের কাফফারার ধারাবাহিকতা কীভাবে রক্ষা করতে হয়?
প্রথমে একজন দাস মুক্ত করা (বর্তমানে অপ্রচলিত), সামর্থ্য না থাকলে একনাগাড়ে দুই মাস বিরতিহীন রোজা রাখা, আর রোজা রাখতে অক্ষম হলে ষাটজন মিসকিনকে দুই বেলা তৃপ্তিসহকারে খাবার খাওয়ানো আবশ্যক।
৪. ইতিকাফের জন্য জামে মসজিদ কি অপরিহার্য শর্ত?
হানাফী মাযহাব অনুযায়ী যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত আজান ও জামাত অনুষ্ঠিত হয় সেখানেই পুরুষের জন্য ইতিকাফ শুদ্ধ। তবে জুমআ আদায়ের সুবিধার্থে জামে মসজিদে ইতিকাফ করা অধিক উত্তম।
৫. সুনানে আবু দাউদকে কেন ফিকহী হাদিসের প্রধান উৎস বলা হয়?
ইমাম আবু দাউদ (রহ) তাঁর গ্রন্থে মূলত ফেকাহ ও আহকাম সংশ্লিষ্ট সহীহ, হাসান ও সালেহ হাদিসগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সুবিন্যস্ত করেছেন, যা মুজতাহিদ ফকীহগণের জন্য অনন্য দলিলের উৎস।
৬. এই পত্রের প্রস্তুতির জন্য কোন ভাষ্যগ্রন্থগুলো সহায়ক?
আউনুল মা’বুদ (শামসুল হক আজিমাবাদী), বাযলুল মাজহুদ (খলিল আহমদ সাহারানপুরী) এবং সুনানে নাসাঈর ক্ষেত্রে হাসিয়াতুস সিন্ধী অত্যন্ত ফলপ্রসূ।