اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة الحديث النبوي
[দিরাসাতুল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০১৩০৪ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: اجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن واحد من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে পাঁচটি এবং (খ) অংশ থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٤ × ٥ = ٧٠
(ترجم الأحاديث الكريمة ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
١- حَدَّثَنَا الْحُمَيْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ عَلْقَمَةَ ابْنَ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ إِلَى امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ –
[১. হুমায়দী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী বলেছেন, আমাকে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আত-তাইমী অবহিত করেছেন যে, তিনি আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লায়ছীকে বলতে শুনেছেন: আমি হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে মিম্বরের ওপর বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (স.)-কে ইরশাদ করতে শুনেছি: নিশ্চয় সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল তা-ই লাভ করবে যার নিয়ত সে করেছে। অতএব যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।]
(أ) مَا مَعْنَى الْوَحْيِ؟ بَيِّنْ كَيْفِيَّةَ نُزُولِ الْوَحْيِ –
[(ক) ওহির অর্থ কী? ওহি নাযিল হওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা কর।]
ওহির পরিচয় ও নাযিলের পদ্ধতি
অর্থ: ওহি শব্দের অর্থ দ্রুত ও গোপন সংকেত, গোপনে কথা বলা বা অন্তরে কোনো বিষয়ে ধারণা দেওয়া। শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর নবীদের কাছে যে আসমানী হেদায়াত ও বাণী পাঠানো হয় তাকে ওহি বলে।
নাযিলের পদ্ধতি: ওহি প্রধানত ঘণ্টার মতো অবিরাম টুংটাং শব্দের সাথে প্রচণ্ড ভারসহকারে আসত, যা ছিল রাসূল (স.)-এর জন্য সর্বাধিক কষ্টকর। এছাড়া জিবরীল (আ.) মানুষের বেশে (বিশেষ করে দিহইয়া কালবী রা.-এর সুরতে) এসে কথা বলতেন, সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে আসত অথবা সরাসরি অন্তরে ভাব সঞ্চার করা হতো।
(ب) مَا مَعْنَى النِّيَّةِ؟ هَلِ النِّيَّةُ شَرْطٌ لِكُلِّ عَمَلٍ؟ بَيِّنْ –
[(খ) নিয়তের অর্থ কী? প্রতিটি কাজের জন্য কি নিয়ত শর্ত কি না? বর্ণনা কর।]
নিয়ত ও এর হুকুম
অর্থ: আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত বা কাজের জন্য অন্তরের সুদৃঢ় সংকল্পকে নিয়ত বলে।
হুকুম: সমস্ত ইবাদত মাকসুদা (যেমন নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত)-এর বিশুদ্ধতা ও সওয়াবের জন্য নিয়ত অপরিহার্য শর্ত। তবে যে সমস্ত কাজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয় (যেমন নাপাক কাপড় ধৌত করা), সেখানে কাপড় পবিত্র হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত না হলেও পরলৌকিক সওয়াব অর্জনের জন্য নিয়ত আবশ্যক।
٢- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : خَمْسٌ مِنَ الْفِطْرَةِ : الْخِتَانُ وَالْحَلْقُ الْعَانَةِ وَنَتْفُ الْإِبْطِ وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ وَأَخْذُ الشَّارِبِ –
[২. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (স.) ইরশাদ করেছেন: পাঁচটি বিষয় স্বভাবজাত সুন্নত (ফিতরাত)-এর অন্তর্ভুক্ত: খতনা করা, নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা, বগলের লোম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা এবং গোঁফ ছোট করা।]
(أ) عَرِّفِ الْفِطْرَةَ – اشْرَحْ قَوْلَهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ” –
[(ক) ফিতরাতের পরিচয় দাও। রাসূল (স.)-এর বক্তব্য: “প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে”—ব্যাখ্যা কর।]
ফিতরাতের পরিচয় ও হাদীসের ব্যাখ্যা
ফিতরাতের পরিচয়: ‘ফিতরাত’ হলো সেই নিষ্কলুষ মানবিক স্বভাব ও সৃষ্টিগত স্বভাবজাত ধর্ম যার ওপর আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ফিতরাত হলো ইসলামের বিশুদ্ধ স্বভাব এবং আম্বিয়ায়ে কিরামের প্রাচীন সুন্নাত।
হাদীসের ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন: “প্রতিটি নবজাতক শিশু জন্মগতভাবে তাওহীদ ও ইসলামের সহজ-সরল সত্য স্বভাবের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান কিংবা অগ্নিপূজক বানায়।” অর্থাৎ মানুষের মূল সৃষ্টি সত্যপন্থী, কিন্তু পারিপার্শ্বিক শিক্ষা ও পরিবেশ তাকে বিপথগামী করে।
(ب) مَنْ هُوَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ؟ اكْتُبْ نُبْذَةً مِنْ حَيَاتِهِ –
[(খ) হযরত আবু হুরায়রা (রা.) কে? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর জীবনী
তাঁর আসল নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসী। তিনি ইয়েমেনের দাওস গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরী ৭ম সনে ইসলাম গ্রহণ করেন। বিড়ালছানার প্রতি বিশেষ ভালোবাসার জন্য রাসূল (স.) তাঁকে ‘আবু হুরায়রা’ উপাধি দেন। তিনি ছিলেন আসহাবুস্ সুফফাহর শীর্ষ সদস্য এবং রাসূল (স.)-এর দোয়ার বরকতে সর্বাধিক ৫,৩৭৪টি হাদীস মুখস্থ রেখে উম্মতকে উপহার দিয়েছেন। হিজরী ৫৯ সনে মদীনায় ইনতিকাল করেন।
٣- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ – وَفِي حَدِيثٍ وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ –
[৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: তোমাদের কারও পাত্রে যদি কুকুর মুখ দেয়, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে; এবং অপর বর্ণনায় এসেছে: অষ্টম বার যেন তা মাটি দিয়ে মেজে নেয়।]
(أ) عَرِّفِ الْكَلْبَ الْمُعَلَّمَ ثُمَّ بَيِّنْ حُكْمَ اقْتِنَاءِ الْكَلْبِ –
[(ক) প্রশিক্ষিত কুকুরের পরিচয় প্রদানপূর্বক কুকুর পোষার হুকুম বর্ণনা কর।]
প্রশিক্ষিত কুকুরের পরিচয় ও কুকুর পোষার হুকুম
প্রশিক্ষিত কুকুর: যে কুকুরকে শিকারের শরিয়তসম্মত নিয়মকানুনে পারদর্শী করা হয়েছে, মালিকের নির্দেশে শিকার ধরে নিজে না খেয়ে মালিকের জন্য সংরক্ষণ করে, তাকে প্রশিক্ষিত কুকুর বলা হয়।
কুকুর পোষার শরয়ী হুকুম: শরিয়তের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেবল শখের বশে ঘরে কুকুর পোষা হারাম। হাদীসে এসেছে, ঘরে কুকুর থাকলে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না এবং প্রতিদিন এক বা দুই ক্বীরাত পরিমাণ সাওয়াব হ্রাস পায়। তবে তিনটি বিশেষ প্রয়োজনে কুকুর পোষা জায়েজ: ১. শিকারের উদ্দেশ্যে, ২. কৃষিক্ষেত ও ফসলের পাহারার জন্য, এবং ৩. গবাদিপশুর নিরাপত্তার জন্য।
(ب) مَا الْحِكْمَةُ فِي التَّعْفِيرِ؟ بَيِّنْ –
[(খ) মাটি দিয়ে ঘষার মধ্যে হেকমত কী? বর্ণনা কর।]
মাটি ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক হেকমত
- কুকুরের লালায় এমন কিছু অতি সূক্ষ্ম ক্ষতিকর জীবাণু, পরজীবী ও বিষাক্ত রেবিজ ভাইরাসের উপাদান থাকে যা কেবল সাধারণ পানিতে দূরীভূত হয় না।
- মাটির কণার মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা কুকুরের লালার বিষাক্ত আঠালো পদার্থকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস ও শোষণ করে নেয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও এই সত্যের স্বীকৃতি দিয়েছে।
٤- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : سَأَلْنَا جَابِرًا عَنْ وَقْتِ صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا كَثُرَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا قَلُّوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ بِغَلَسٍ –
[৪. মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা হযরত জাবির (রা.)-কে নবী করীম (স.)-এর সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তিনি দ্বিপ্রহরের পর প্রচণ্ড উত্তাপের সময় জোহর আদায় করতেন, আসর এমন সময় পড়তেন যখন সূর্য উজ্জ্বল ও সজীব থাকত, সূর্যাস্তের পর মাগরিব পড়তেন, আর ইশা যখন লোক বেশি হতো তখন তাড়াতাড়ি এবং লোক কম হলে বিলম্বে পড়তেন, আর ফজরের সালাত রাতের শেষ অন্ধকারের মধ্যে (গালাস) আদায় করতেন।]
(أ) بَيِّنْ أَوْقَاتَ الصَّلَاةِ بِالْأَدِلَّةِ –
[(ক) নামাজের ওয়াক্তসমূহ দলিলের সাথে বর্ণনা কর।]
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সীমা
- জোহর: সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া থেকে প্রতিটি বস্তুর ছায়া মূল ছায়া ছাড়া একগুণ বা দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত। দলিল: أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ।
- আসর: জোহরের সময় শেষ হওয়া থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত।
- মাগরিব: সূর্যাস্তের সাথে সাথে পশ্চিমাকাশের লাল আভা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত।
- ইশা: লাল আভা অস্তমিত হয়ে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত (রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করা মুস্তাহাব)।
- ফজর: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যােদয়ের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত।
(ب) حَقِّقْ : سَأَلْنَا، صَلَّى، غَرَبَتْ، عَجَّلَ –
[(খ) তাহকীক কর: سَأَلْنَا، صَلَّى، غَرَبَتْ، عَجَّلَ]
শব্দ বিশ্লেষণ ও তাহকীক
| শব্দ | সীগাহ ও বাহাস | বাব ও মাদ্দাহ | অর্থ |
|---|---|---|---|
| سَأَلْنَا | متكلم مع الغير، فعل ماض معروف | فتح (س – أ – ل) | আমরা জিজ্ঞাসা করলাম |
| صَلَّى | واحد مذكر غائب، فعل ماض معروف | التفعيل (ص – ل – و) | তিনি সালাত আদায় করলেন |
| غَرَبَتْ | واحد مؤنث غائب، فعل ماض معروف | نصر (غ – ر – ب) | অস্তমিত হলো |
| عَجَّلَ | واحد مذكر غائب، فعل ماض معروف | التفعيل (ع – ج – ل) | তিনি দ্রুত সম্পন্ন করলেন |
٥- عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا رَأَيْتُمُ الْهِلَالَ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ (رض) يَصُومُ قَبْلَ الْهِلَالِ بِيَوْمٍ –
[৫. ইমাম যুহরী থেকে, তিনি সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে এবং তিনি হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: যখন তোমরা নতুন চাঁদ দেখবে তখন রোজা রাখবে এবং যখন (পরবর্তী) নতুন চাঁদ দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ (ঈদ উদযাপন) করবে। আর আকাশ যদি মেঘলা থাকে তবে তার ত্রিশ দিনের হিসাব পূর্ণ করবে। আর ইবনে ওমর (রা.) চাঁদের একদিন পূর্বে (সন্দেহের দিনে) রোজা রাখতেন।]
(أ) مَا مَعْنَى الصَّوْمِ لُغَةً وَشَرْعًا؟ بَيِّنْ حِكْمَةَ فَرْضِيَّةِ الصَّوْمِ –
[(ক) সাওমের শাব্দিক ও শরয়ী অর্থ কী? রোজা ফরজ হওয়ার হেকমত বর্ণনা কর।]
সাওমের সংজ্ঞা ও হেকমত
অর্থ: শাব্দিক অর্থ আত্মসংযম ও বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা।
হেকমত: অন্তরে তাকওয়া ও খোদাভীতি জাগ্রত করা, কুপ্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্তি, দরিদ্রের ক্ষুধার কষ্ট উপলব্ধি করে দানশীল হওয়া এবং শারীরিক সুস্থতা অর্জন।
(ب) اشْرَحْ قَوْلَهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ : “فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ” –
[(খ) রাসূল (স.)-এর বক্তব্য: “যদি তোমাদের মেঘে আচ্ছন্ন থাকে তবে দিন গণনা পূরণ কর”—ব্যাখ্যা কর।]
তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা
যদি ২৯ রমজান বা ২৯ শাবানের সন্ধ্যায় মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায়, তবে শাবান বা রমজান মাসকে ত্রিশ দিন পূর্ণ (ইকমালু ইদ্দাহ) করে হিসাব নির্ধারণ করতে হবে। ইসলাম দৃষ্টির ওপর ভিত্তি করে শরিয়তের বিধান সহজ করেছে, জটিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর চাঁদ দেখাকে নির্ভরশীল করেনি।
٦- عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ –
[৬. হযরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: মানুষ সর্বদা কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সময় হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ইফতার করবে।]
(أ) مَا الْحِكْمَةُ فِي تَعْجِيلِ الْفِطْرِ؟ بَيِّنْ –
[(ক) ইফতার দ্রুত করার ক্ষেত্রে হেকমত কী? বর্ণনা কর।]
তাড়াতাড়ি ইফতার করার হেকমতসমূহ
- সুন্নাতের অনুসরণ: রাসূলুল্লাহ (স.) সূর্যাস্তের পরপরই সামান্য খেজুর বা পানি দিয়ে বিলম্ব না করে ইফতার করতেন।
- আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধাচরণ: ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আকাশে তারা উদিত না হওয়া পর্যন্ত ইফতার বিলম্ব করত। তাদের কুপ্রথার বিপরীতে মুসলিম উম্মাহকে সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ: বান্দা যে চরম তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় ছিল, তা প্রমাণ করতেই সময় হওয়ামাত্র আল্লাহর নেয়ামত গ্রহণ করা অধিক প্রশংসনীয়।
(ب) حَقِّقْ : لَا يَزَالُ، بِخَيْرٍ، التَّعْجِيلُ، الْفِطْرُ –
[(খ) তাহকীক কর: لَا يَزَالُ، بِخَيْرٍ، التَّعْجِيلُ، الْفِطْرُ]
শব্দ বিশ্লেষণ ও তাহকীক
| শব্দ | সীগাহ ও ব্যাকরণিক পরিচয় | বাব ও মাদ্দাহ | অর্থ |
|---|---|---|---|
| لَا يَزَالُ | فعل مضارع ناقص (واحد مذكر غائب) | السمع (ز – و – ل) | সর্বদা অব্যাহত থাকবে |
| بِخَيْرٍ | جار ومجرور (اسم تفضيل / مصدر) | (خ – ي – ر) | কল্যাণ ও মঙ্গলে |
| التَّعْجِيلُ | مصدر (اسم معرف بأل) | التفعيل (ع – ج – ل) | তাড়াতাড়ি বা দ্রুত করা |
| الْفِطْرُ | مصدر / اسم | الفتح (ف – ط – ر) | রোজা ভঙ্গ করা / ইফতার |
٧- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ –
[৭. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স.) ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল; আর রমজান মাসে যখন জিবরীল (আ.) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরও অধিক দানশীল হতেন। আর জিবরীল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসূল (স.) তাঁকে কুরআন শোনাতেন। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (স.) কল্যাণ বিতরণে প্রবাহিত প্রবল বাতাসের চেয়েও অধিক দ্রুতগামী ও মুক্তহস্ত দানশীল ছিলেন।]
(أ) اذْكُرْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ (رض) –
[(ক) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ কর।]
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জীবনী
তিনি রাসূল (স.)-এর চাচাতো ভাই। হিজরতের তিন বছর পূর্বে শিয়াবে আবি তালিবে তাঁর জন্ম। রাসূলুল্লাহ (স.) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন: اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيلَ — “হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা এবং কুরআনের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন।” তিনি ‘রইসুল মুফাসসিরীন’ ও ‘বাহরুল উলূম’ (জ্ঞানের মহাসমুদ্র) উপাধিতে ভূষিত হন। হিজরী ৬৮ সনে তায়েফে তিনি ইনতিকাল করেন।
(ب) اشْرَحْ : “كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ فِي رَمَضَانَ” –
[(খ) রাসূলুল্লাহ (স.) রমজান মাসে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ছিলেন—ব্যাখ্যা কর।]
তাৎপর্য ও শিক্ষা
রাসূলুল্লাহ (স.) সারা বছরই ছিলেন জগতের শ্রেষ্ঠ দানশীল। কিন্তু রমজান মাস এলে কুরআন চর্চা ও জিবরীল (আ.)-এর সান্নিধ্যের প্রভাবে তাঁর দানশীলতা প্রবাহিত বাতাসের রূপ নিত—যা কোনো বাধা না মেনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার কাছে কল্যাণ পৌঁছে দেয়। এ থেকে উম্মতের শিক্ষা হলো রমজানে ব্যাপক দান-সাদকা ও কুরআন তিলাওয়াত করা।
٨- عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النُّعْمَانُ بْنُ قَوْقَلٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَرَأَيْتَ إِذَا صَلَّيْتُ الْمَكْتُوبَةَ وَأَحْرَمْتُ الْحَرَامَ وَأَحْلَلْتُ الْحَلَالَ أَأَدْخُلُ الْجَنَّةَ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ –
[৮. হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নু’মান ইবনে কাওকাল নবী করীম (স.)-এর নিকট এসে আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন—আমি যদি ফরজ নামাজ আদায় করি, হারামকে বর্জন করি এবং হালালকে গ্রহণ করি, তবে কি আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব? নবী করীম (স.) ইরশাদ করলেন: হ্যাঁ।]
(أ) مَا مَعْنَى الْحَرَامِ وَالْحَلَالِ؟ بَيِّنْ –
[(ক) হালাল ও হারামের অর্থ কী? বর্ণনা কর।]
হালাল ও হারামের সংজ্ঞা
- আল-হালাল (الحلال): যা শরিয়তে বৈধ ও উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং যার ব্যবহার বা ভক্ষণে কোনো পাপ নেই।
- আল-হারাম (الحرام): অকাট্য শরয়ী দলিল (কুরআন ও মুতাওয়াতির সুন্নাহ) দ্বারা যা দ্ব্যর্থহীনভাবে নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় ঘোষণা করা হয়েছে এবং যা সম্পাদন করলে কঠিন শাস্তি অবধারিত হয়।
(ب) رَكِّبْ : صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ –
[(খ) তারকীব কর: صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ]
তারকীব ও বাক্য বিশ্লেষণ
- صَلَّى: فعل ماض مبني على الفتح المقدر।
- اللَّهُ: اسم جلالة، فاعل مرفوع بالضمة الظاهرة।
- عَلَيْهِ: جار ومجرور (على – حرف جر، والهاء – ضمير متصل مبني في محل جر)، متعلق بالفعل (صلى)।
- وَ: حرف عطف।
- سَلَّمَ: فعل ماض، وفاعله ضمير مستتر تقديره ‘هو’ يعود إلى الله تعالى، معطوف على جملة (صلى)।
- সারসংক্ষেপ: ক্রিয়া ও কর্তা মিলে جملة فعلية إنشائية (دعائية) হিসেবে গঠিত।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত ও তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٠ × ١ = ١٠
(أجب عن سؤال واحد فقط)
٩- اكْتُبْ تَرْجَمَةَ الْإِمَامِ الْبُخَارِيِّ (رح) مَعَ بَيَانِ مَزَايَا صَحِيحِهِ –
[৯. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং তাঁর সহীহ কিতাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
ইমাম বুখারী (রহ.)-এর জীবনী
আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী ১৯৪ হিজরীতে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই পিতৃহীন হয়ে মায়ের স্নেহে বড় হন এবং অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে দশ বছর বয়সেই হাজার হাজার হাদীস মুখস্থ করেন। মক্কা, মদীনা, বাগদাদ, বসরা ও কুফায় ভ্রমণ করে ১৬ বছর কঠোর সাধনায় ছয় লক্ষ হাদীস থেকে বাছাই করে তাঁর সহীহ সংকলন তৈরি করেন। হিজরী ২৫৬ সনে সমরকন্দের খরতাঙ্গে ইনতিকাল করেন।
সহীহ বুখারীর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
- কুরআনের পর পৃথিবীর সর্বাধিক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ।
- রাবীদের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ ও সর্বোচ্চ স্মৃতিশক্তির কঠোর শর্ত বজায় রাখা।
- অধ্যায় বিন্যাস বা তারাজিমুল আবওয়াবের মাধ্যমে গভীর ফিকহী ইজতিহাদ প্রকাশ।
١٠- اكْتُبْ تَرْجَمَةَ الْإِمَامِ مُسْلِمٍ (رح) مَعَ بَيَانِ الْمُوَازَنَةِ بَيْنَ الصَّحِيحِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ –
[১০. ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর জীবনী এবং সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।]
ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর জীবনী
আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী আন-নায়সাবুরী ২০৬ হিজরীতে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম বুখারীর প্রিয় ও একনিষ্ঠ শিষ্য ছিলেন। হিজরী ২৬১ সনে নিশাপুরে ইনতিকাল করেন।
বুখারী ও মুসলিমের তুলনামূলক পর্যালোচনা
| মানদণ্ড | সহীহ বুখারী | সহীহ মুসলিম |
|---|---|---|
| বিশুদ্ধতার মাত্রা | উম্মতের ঐক্যমতে সনদের কঠোরতায় বুখারী শ্রেষ্ঠ। | বুখারীর ঠিক পরেই এর মর্যাদা। |
| সংকলন পদ্ধতি | একই হাদীসের বিভিন্ন অংশ ফিকহী কারণে একাধিক অধ্যায়ে বিভক্ত। | একটি হাদীসের সমস্ত সনদ ও পাঠ এক জায়গায় সন্নিবেশিত, ফলে হাদীস তল্লাশিতে সহজতর। |
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. দিরাসাতুল হাদীস বিষয়ের বিষয় কোড কত?
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দিরাসাতুল হাদীস বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৪ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।
২. ফিতরাতের স্বভাবজাত পাঁচটি আমল কী কী?
খতনা করা, নাভির নিচের অবাঞ্ছিত লোম কাটা, বগলের পশম উপড়ানো, নখ কাটা এবং গোঁফ ছোট করে ছাঁটা।
৩. কুকুর পাত্রে মুখ দিলে মাটি দিয়ে ধৌত করার হেকমত কী?
কুকুরের লালার বিষাক্ত আঠালো রেবিজ জীবাণু সাধারণ পানিতে ধ্বংস হয় না, মাটির প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক উপাদানে তা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়।
৪. দ্রুত ইফতার করার গুরুত্ব কী?
দ্রুত ইফতার করা সুন্নাত, এতে আহলে কিতাবদের কুপ্রথার বিরোধিতা হয় এবং উম্মতের কল্যাণ অব্যাহত থাকে।
৫. রইসুল মুফাসসিরীন কাকে বলা হয়?
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে রইসুল মুফাসসিরীন বলা হয়।
৬. সহীহ বুখারী রচনায় ইমাম বুখারীর কত বছর সময় লেগেছিল?
ইমাম বুখারী (রহ.) দীর্ঘ ষোল বছর ধরে কঠোর সাধনা ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তাঁর সহীহ গ্রন্থ সংকলন সম্পন্ন করেছিলেন।