اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دفع الشبهات المزعومة حول القرآن الكريم
[দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ হাওলাল কুরআনিল কারীম]
বিষয় কোড: ২০১৩০৬ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: اجب عن اربعة من مجموعة (أ) وعن اربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠
١- مَا الْمُرَادُ بِالشُّبُهَاتِ حَوْلَ الْقُرْآنِ؟ بَيِّنْ نَشْأَتَهَا وَتَطَوُّرَهَا عَبْرَ الْعُصُورِ –
[১. আল-কুরআন নিয়ে সংশয় ও সন্দেহসমূহ বলতে কী বোঝায়? কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
পবিত্র কুরআন বিশ্বমানবতার জন্য সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন মানদণ্ড (আল-ফুরক্বান)। কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকেই এর নূর নিভিয়ে দেওয়ার জন্য বিরোধী শক্তিগুলো প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। কুরআন বিষয়ক সংশয় নিরসন (দাফউশ শুবুহাত) ইসলামি জ্ঞানজগতের এক অপরিহার্য প্রতিরক্ষা শাস্ত্র।
الشُّبُهَاتُ حَوْلَ الْقُرْآنِ-এর সংজ্ঞা
সংজ্ঞা: “ইসলামের অবিতর্কিত সত্যগ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল কারীম সম্পর্কে বিরোধীরা এর ঐশী উৎস, এর ভাষা, সংকলন, বিজ্ঞান কিংবা বিধানাবলিতে ত্রুটি প্রমাণের লক্ষ্যে যেসব ভিত্তিহীন, অমূলক, কাল্পনিক ও বিকৃত অভিযোগ উত্থাপন করে—সেগুলোকে ‘শুবুহাত হাওলাল কুরআন’ বা কুরআন বিষয়ক সংশয়াবলি বলা হয়।”
কালপরিক্রমায় এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ
- মাক্কী যুগ (প্রথম পর্ব): মক্কার কুরাইশরা কুরআনের সাহিত্যিক অলৌকিকতার সামনে হতভম্ব হয়ে এটিকে ‘যাদু’ (سحر), ‘কবির প্রলাপ’ (شعر), ‘গণকের কথা’ (كهانة) অথবা ‘প্রাচীন রূপকথা’ (أساطير الأولين) বলে আখ্যা দিয়েছিল।
- মাদানী যুগ (আহলে কিতাবদের চক্রান্ত): মদীনার ইহুদি ও খ্রিস্টান পণ্ডিতরা তাদের বিকৃত কিতাবের সাথে কুরআনের মিল না পেয়ে হিংসাবশত বিভিন্ন ইতিহাস ও নাসিখ-মানসূখ বিধান নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে।
- উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগ (দার্শনিক বিতর্ক): পারস্য ও রোম বিজয়ের পর গ্রিক দর্শনে প্রভাবিত হয়ে একদল দার্শনিক ও যিন্দিক কুরআনের শব্দ ও সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করে (যেমন খালক্বে কুরআন বিতর্ক)। এ যুগে ইমাম আহমাদ ও ইমাম আশআরী (রহ.) এদের খণ্ডন করেন।
- উপনিবেশ ও আধুনিক যুগ (প্রাচ্যবিদদের উত্থান): অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাচ্যবিদরা (Orientalists যেমন গোল্ডজিহার, নোলডেকে, মার্গোলিউথ) তথাকথিত বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার আড়ালে আধুনিক মুদ্রণ ও লিখনীর মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে কুরআন, ওহি ও হাদিস নিয়ে তীব্র সংশয় ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়।
٢- بَيِّنِ الشُّبُهَاتِ الْمَزْعُومَةَ حَوْلَ جَمْعِ الْقُرْآنِ مَعَ الرَّدِّ عَلَيْهَا بِالْأَدِلَّةِ –
[২. কুরআন সংকলনের ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ প্রমাণসহ খণ্ডনপূর্বক বর্ণনা কর।]
কুরআন সংকলন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ
- বিরোধীরা দাবি করে যে, হযরত আবু বকর (রা.) ও উসমান (রা.)-এর যুগে সংকলনের সময় বহু আয়াত বাদ পড়ে গেছে বা হাফেজদের মৃত্যুর কারণে কুরআন অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
- তারা আরও অভিযোগ তোলে যে, হযরত উসমান (রা.) নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থে অন্যান্য সাহাবীদের মুসহাফ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।
অকাট্য প্রমাণসহ খণ্ডন
- একক স্মৃতির ওপর নির্ভর করা হয়নি: যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) স্বয়ং শীর্ষ হাফেজ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি আয়াত লিপিবদ্ধ করার জন্য লিখিত দলিল এবং দুই জন বিশ্বস্ত চাক্ষুষ সাক্ষীর কড়া মূলনীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- উম্মতের সর্বসম্মত ঐকমত্য (ইজমা): উসমানী মুসহাফ প্রস্তুতকালে হযরত আলী (রা.), আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-সহ জীবিত সমস্ত সাহাবী উপস্থিত ছিলেন এবং সর্বসম্মতিক্রমে একে পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। হযরত আলী (রা.) স্বয়ং বলেছিলেন: “উসমান কুরআনের ব্যাপারে যা করেছেন, তা আমাদের সকলের পরামর্শ ক্রমেই করেছেন।”
- কুরআন অবিকৃত থাকার ঐতিহাসিক প্রমাণ: সপ্তম শতাব্দীর সেই মূল মুসহাফে উসমানীর প্রতিলিপি আজও ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদ এবং তাসখন্দের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে, যার সাথে আজকের মুদ্রিত কুরআনের প্রতিটি অক্ষরের শতভাগ হুবহু মিল রয়েছে।
٣- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ الْمَزْعُومَةَ حَوْلَ نُزُولِ الْوَحْيِ، ثُمَّ تَحَدَّثْ مَعَ الرَّدِّ عَلَيْهَا –
[৩. ওহি নাযিলের ব্যাপারে উত্থাপিত অমূলক সন্দেহসমূহ উল্লেখ কর। অতঃপর সেগুলো খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]
ওহি নাযিল নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ
প্রাচ্যবিদরা ওহিকে ঐশী সত্য না মেনে দাবি করে যে, এটি ছিল মুহাম্মদ (স.)-এর অভ্যন্তরীণ স্নায়বিক সমস্যা বা মৃগীরোগের ফল; অথবা তিনি নির্জনে ধ্যান করার সময় নিজের অবচেতন মন থেকে এগুলো প্রাপ্ত হয়েছিলেন।
সন্দেহ নিরসন ও যৌক্তিক খণ্ডন
- মৃগীরোগের অসাড়তা: চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন কোনো মৃগীরোগী পাওয়া যায়নি যে রোগের সময় প্রলাপ বকার পর চোখ খুলে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম আইন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অলংকারপূর্ণ সাহিত্য রচনা করতে পারে। রাসূল (স.)-এর প্রতিটি নির্দেশনা ছিল শান্ত, সুবিবেচিত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।
- বহিরাগত ঘটনার সংবাদ: ওহিতে এমন বহু ঐতিহাসিক ঘটনা (যেমন আসহাবে কাহাফ, ইউসুফ আ.-এর অজানা কাহিনী) এবং ভবিষ্যতের নিখুঁত ভবিষ্যৎবাণী (যেমন রোমকদের বিজয়—غُلِبَتِ الرُّومُ) এসেছে যা তৎকালীন কোনো মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না।
- ইচ্ছাধীন না হওয়া: রাসূল (স.) যখনই চাইতেন তখনই ওহি আসত না। যেমন ইফকের অপবাদের সময় এবং ইহুদিদের তিন প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘ এক মাস ওহি বন্ধ ছিল, যার কারণে তিনি চরম মানসিক কষ্টে ছিলেন। কুরআন যদি তাঁর অবচেতন মনের সৃষ্টি হতো, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আয়াত বানিয়ে সংকট নিরসন করতে পারতেন।
٤- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ عِصْمَةِ الْأَنْبِيَاءِ لِلْمُسْتَشْرِقِينَ وَكَيْفَ تَرُدُّ عَلَيْهَا؟
[৪. নবীগণের নিষ্পাপতা (ইসমাতুল আম্বিয়া) সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের সংশয়গুলো উল্লেখ কর এবং সেগুলো তুমি কীভাবে খণ্ডন করবে?]
বিরোধীদের সংশয়
প্রাচ্যবিদরা কুরআনে বর্ণিত নবীদের কিছু মানবীয় ভুলত্রুটি বা আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দাবি করে যে, মুসলিম নবীরা নিষ্পাপ ছিলেন না বরং অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো পাপী ছিলেন।
যৌক্তিক ও শাস্ত্রীয় খণ্ডন
- ইসমাতুল আম্বিয়ার সঠিক মর্ম: ইসলামি আকিদা অনুযায়ী আম্বিয়ায়ে কিরাম ছোট-বড় সমস্ত প্রকার কবিরা ও সগীরা গোনাহ, চারিত্রিক হীনতা এবং ওহি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ ও সংরক্ষিত।
- ‘যাল্লাত’ বা মানবীয় বিস্মৃতি গোনাহ নয়: নবীদের যেসব ঘটনার কথা বলা হয় (যেমন আদম আ.-এর ফল খাওয়া বা ইউনুস আ.-এর ত্বরিত প্রস্থান), তা কোনো পাপ বা বিদ্রোহ ছিল না; বরং তা ছিল ‘যাল্লাত’ (ترک الأولى – উত্তম পন্থাটি বাদ দিয়ে অনুত্তম পন্থা নির্বাচন করা) অথবা ক্ষণিকের বিস্মৃতি।
- উম্মতের জন্য অনুপম শিক্ষা: আল্লাহ নবীদের মাধ্যমে তওবা ও বিনয়ের পরাকাষ্ঠা উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। যদি কোনো নবী পাপ করতেন, তবে আল্লাহ মানুষকে তাঁদের আনুগত্যের শর্তহীন নির্দেশ দিতে পারতেন না।
٥- اكْتُبْ شُبُهَاتِ الزَّاعِمِينَ حَوْلَ الْعُلُومِ الْكَوْنِيَّةِ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ، ثُمَّ رُدَّهَا بِالدَّلَائِلِ –
[৫. আল-কুরআনে বর্ণিত বিশ্বজগতের বিজ্ঞান বিষয়ে সন্দেহবাদীদের সংশয়সমূহ উল্লেখ কর। অতঃপর প্রমাণসহ সেগুলো খণ্ডন কর।]
সংশয় ও তার খণ্ডন
- পৃথিবী সমতল না গোলাকার: বিরোধীরা বলে কুরআনে জমিনকে বিছানা (মাদাদনা-হা, ফিরাশা) বলা হয়েছে, অর্থাৎ কুরআন পৃথিবীকে সমতল মনে করে।
খণ্ডন: বিশাল গোলকের একটি ক্ষুদ্র অংশে মানুষ যখন তাকায় তখন তা সমতল বিছানার মতোই মনে হয় যাতে মানুষ সহজে বসবাস করতে পারে। অপরদিকে কুরআন অন্যত্র ঘোষণা করেছে: يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ (তিনি রাত্রিকে দিবসের ওপর এবং দিবসকে রাত্রির ওপর গোলাকারভাবে জড়িয়ে দেন)। ‘তাকবীর’ শব্দটি বল বা গোলকের ওপর পাগড়ি জড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা পৃথিবীর গোলাকারত্বের সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। - সূর্যের পরিভ্রমণ: আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান পূর্বে মনে করত সূর্য স্থির, কিন্তু কুরআন বলেছে: وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا (সূর্য তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে)। বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে সূর্য মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে তার নিজস্ব কক্ষপথে প্রচণ্ড গতিতে অবিরাম ছুটে চলেছে—যা কুরআনের হুবহু অনুরূপ।
- ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): সূরা আল-মুমিনূনে বর্ণিত শুক্রবিন্দু থেকে আলাক্বা (জোঁকের মতো ঝুলন্ত মাংসপিণ্ড), অতঃপর মুদগাহ (চিবানো মাংস) এবং পরে অস্থি ও মাংসের আবরণ সৃষ্টির নিখুঁত পর্যায়ক্রম কানাডার শীর্ষ অ্যানাটমিস্ট ড. কিথ মুর-সহ আধুনিক বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।
٦- اكْتُبْ خَمْسَ آيَاتٍ مُتَنَاقِضَةٍ بِزَعْمِ الْمُسْتَشْرِقِينَ، ثُمَّ أَثْبِتْ أَنَّهَا غَيْرُ مُتَنَاقِضَةٍ –
[৬. প্রাচ্যবিদদের ধারণা অনুযায়ী পাঁচটি পরস্পর সাংঘর্ষিক আয়াত উল্লেখ কর। অতঃপর প্রমাণ কর যে, এগুলো সাংঘর্ষিক নয়।]
পাঁচটি আয়াত ও তার প্রামাণ্য সমন্বয়
- দিনের হিসাব: এক আয়াতে এক দিন সমান এক হাজার বছর (সূরা সাজদাহ) এবং অন্য আয়াতে পঞ্চাশ হাজার বছর (সূরা মাআরিজ)।
সমন্বয়: এটি সময়ের আপেক্ষিকতা (Theory of Relativity)। সাধারণ সৃষ্টির জন্য হাজার বছর এবং কিয়ামতের দিন কাফেরদের চরম কষ্টের কারণে সেই দিনটি তাদের কাছে পঞ্চাশ হাজার বছরের মতো দীর্ঘ মনে হবে। - কাফেরদের জিজ্ঞাসাবাদ: فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْأَلُ عَن ذَنبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ (সেদিন কোনো মানুষ বা জিনকে পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না) বনাম فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ (তোমার রবের শপথ! আমি তাদের সকলকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করব)।
সমন্বয়: প্রথমটিতে তথ্য জানার জন্য প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ (কারণ আল্লাহ সব জানেন), আর দ্বিতীয়টিতে তিরস্কার ও জবাবদিহিতার জন্য প্রশ্ন করা হবে। - আকাশ না পৃথিবী—কোনটি আগে সৃষ্টি: সূরা বাকারায় পৃথিবীর সৃষ্টির কথা আগে এসেছে, কিন্তু সূরা নাযিয়াতে আসমানের আলোচনার পর পৃথিবী বিস্তারের কথা এসেছে।
সমন্বয়: পৃথিবীর মূল কাঠামো ও উপাদান আগে তৈরি হয়েছে, এরপর আসমান তৈরি হয়েছে, অতঃপর পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে বিস্তার ও পর্বত স্থাপন করা হয়েছে। - শাস্তির হ্রাস-বৃদ্ধি: لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ (তাদের থেকে শাস্তি কমানো হবে না) বনাম অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়ার আয়াত।
সমন্বয়: কোনো অবস্থাতেই শাস্তি লাঘব হবে না, বরং পাপের মাত্রা অনুযায়ী তা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। - হিদায়াত কার হাতে: مَن يَشَاءِ اللَّهُ يُضْلِلْهُ (আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন) বনাম বান্দার ইচ্ছার স্বাধীনতা।
সমন্বয়: বান্দা যখন নিজ ইচ্ছায় সত্য বর্জন করে হঠকারিতা বেছে নেয়, আল্লাহ তখন পরিণতি হিসেবে তার হেদায়াত কেড়ে নেন।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠
٧- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ التَّكْرَارِ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ –
[৭. আল-কুরআনের পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে অমূলক সন্দেহগুলো উল্লেখ কর।]
সন্দেহ ও তার বালাগাতপূর্ণ জবাব
বিরোধীরা অভিযোগ করে কুরআনে একই নবীর কাহিনী বা বাক্য বারবার পুনরুল্লেখ করা হয়েছে।
জবাব: আরবি অলংকারশাস্ত্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তাগিদ, হৃদয়ে সত্যের গভীর দাগ কাটা এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নতুন নতুন উপদেশ তুলে ধরার জন্য তাকরার (পুনরাবৃত্তি) এক অনুপম শৈলী। যেমন সূরা আর-রহমানে ৩১ বার فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ পুনরাবৃত্তি করে প্রতিটি নতুন নতুন নিয়ামতের পর বান্দাকে কৃতজ্ঞতার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
٨- تَحَدَّثْ عَنِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ عِصْمَةِ الْمَلَائِكَةِ مَعَ الرَّدِّ عَلَيْهَا –
[৮. ফেরেশতাদের নিষ্পাপ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহগুলো খণ্ডনপূর্বক আলোচনা কর।]
সন্দেহ ও খণ্ডন
বিরোধীরা দাবি করে যে ইবলিস আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছিল, সুতরাং ফেরেশতারা নিষ্পাপ নয়।
খণ্ডন: ইবলিস কখনোই ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না; পবিত্র কুরআন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে: كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ — “সে জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল, অতঃপর সে তার রবের অবাধ্য হয়।” (সূরা আল-কাহাফ: ৫০)। ফেরেশতাগণ সবসময় আল্লাহর অনুগত এবং তাঁদের কোনো স্বাধীন কুপ্রবৃত্তি নেই।
٩- “أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ” لِمَنْ هَذَا الْقَوْلُ؟ وَمَا الْمُرَادُ بِهِ؟
[৯. “কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে”—এটি কার উক্তি? এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]
উক্তি ও তার মর্ম
এটি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর পবিত্র বাণী (সহীহ বুখারী ও মুসলিমে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত)।
উদ্দেশ্য: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তৎকালীন আরবের বিভিন্ন প্রখ্যাত গোত্রের (যেমন কুরাইশ, হুযাইল, সাকীফ, হাওয়াযিন ইত্যাদি) বাচনভঙ্গি, উচ্চারণ ও শব্দের বৈচিত্র্যের সহজতার জন্য মহান আল্লাহ সাময়িকভাবে সাতটি উপভাষাগত রীতিতে পড়ার অনুমোদন দিয়েছিলেন যাতে সাধারণ মানুষ সহজে কুরআন পড়তে পারে।
١٠- مَاذَا قَالَ الْمُسْتَشْرِقُونَ فِي نِسْيَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟
[১০. রাসূল (স.)-এর ভুলে যাওয়ার ব্যাপারে প্রাচ্যবিদদের মন্তব্য কী? এবং এর জবাব কী?]
প্রাচ্যবিদদের মন্তব্য ও তার সমুচিত জবাব
প্রাচ্যবিদরা সহীহ হাদীসের বর্ণনা—”একবার সালাতে রাসূল স. সাহু বা ভুল করেছিলেন”—তুলে ধরে দাবি করে যে তাঁর দ্বারা ওহি পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও ভুল হওয়া সম্ভব।
জবাব: সালাতে নবী করীম (স.)-এর ক্ষণিকের বিস্মৃতি ছিল উম্মতকে ‘সাহু সিজদা’র শরয়ী বিধান শেখানোর এক ঐশী হিকমত। আর ওহি প্রচার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আল্লাহ স্বয়ং গ্যারান্টি দিয়েছেন: سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنسَىٰ — “আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি কিছুই ভুলবেন না।” (সূরা আল-আ’লা: ৬)। ওহির ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিলেন।
١١- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ الزِّيَادَةِ وَالنُّقْصَانِ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ مَعَ الرَّدِّ عَلَيْهَا –
[১১. পবিত্র কুরআনে সংযোজন ও বিয়োজন সম্পর্কে সংশয়গুলো উল্লেখ করে সেগুলো খণ্ডন কর।]
সংশয় ও তার খণ্ডন
বিরোধীরা দাবি করে যে কুরআনে কিছু মানবীয় সংযোজন বা কিছু আয়াতের বিয়োজন ঘটেছে। এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক অভিযোগ। কুরআন মুখস্থের এমন এক অভূতপূর্ব পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হয়েছে যে, বিশ্বের কোনো একজন ব্যক্তিও যদি একটি অক্ষরের এদিক-সেদিক করার চেষ্টা করে, তবে মুহূর্তের মধ্যে শিশু হাফেজরাও তা ধরে ফেলে। কোনো জাল বা মনগড়া কথা কুরআনে প্রবেশের সুযোগ চিরতরে রুদ্ধ।
١٢- اذْكُرِ الشُّبُهَاتِ حَوْلَ تَحْرِيفِ الْقُرْآنِ مَعَ الْجَوَابِ عَنْهَا –
[১২. কুরআনের তাহরীফ বিষয়ে অমূলক সন্দেহগুলো জবাবসহ আলোচনা কর।]
তাহরীফের অপবাদ ও জবাব
প্রাচীন ও আধুনিক প্রাচ্যবিদরা বাইবেলের মতো কুরআনকেও বিকৃত প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু কুরআন লিখিত পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ হাফেজের বক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবিকল সংরক্ষিত। কুরআনের প্রাচীনতম নুসখা এবং বর্তমান নুসখার মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই। আল্লাহ স্বয়ং এই কিতাবের চিরন্তন সংরক্ষক।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ বিষয়ের বিষয় কোড কত?
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দাফউশ শুবুহাতিল মাযউমাহ বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৬ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।
২. ওহি নাযিল নিয়ে প্রাচ্যবিদদের মূল অভিযোগ কী ছিল?
প্রাচ্যবিদরা দাবি করত ওহি আসমানী নয় বরং তা মৃগীরোগের মতো স্নায়বিক অসুস্থতা বা মনস্তাত্ত্বিক কল্পনা, যা বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
৩. কুরআনে বর্ণিত পৃথিবী ও মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব কি বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক?
না, বরং আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ভূ-তত্ত্বের বহু আবিষ্কার (যেমন পৃথিবীর আবর্তন, পর্বতমালার ভারসাম্য ও ভ্রূণের ক্রমবিকাশ) কুরআনের বর্ণনার সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৪. পবিত্র কুরআনের পুনরাবৃত্তির সাহিত্যিক হিকমত কী?
পুনরাবৃত্তি কোনো দোষ নয়, বরং এটি আরবির উচ্চাঙ্গের অলংকারশাস্ত্রীয় রীতি যা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের গভীর গুরুত্ব ও তাগিদ প্রদানে ব্যবহৃত হয়।
৫. আম্বিয়ায়ে কিরাম কি গোনাহ থেকে মাসূম ছিলেন?
হ্যাঁ, সকল নবী ও রাসূল ছোট-বড় সমস্ত পাপ ও নৈতিক স্খলন থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিষ্পাপ ছিলেন।
৬. ইবলিস কি ফেরেশতা ছিল?
না, পবিত্র কুরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা অনুযায়ী ইবলিস ছিল জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত, সে কোনো ফেরেশতা ছিল না।