اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۲
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الدعوة والدعاة في العصر الحديث
[আদ-দা’ওয়াতু ওয়াদ-দু’আতু ফিল আসরিল হাদীস]
বিষয় কোড: ২০৩৮০৪ | পরীক্ষা কোড: ২০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৩২
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
مجموعة (الف) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
١- من سليمان القانوني؟ تحدث عن أحوال التعليم أيام خلافته مفصلا-
[১. সুলাইমান কানুনী কে? তাঁর খিলাফতকালে শিক্ষার অবস্থা বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুবর্ণ যুগের মহান খলিফা সুলতান সুলাইমান কানুনী (১৫২০-১৫৬৬ খ্রি.) ছিলেন মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দূরদর্শী শাসক, সমরনায়ক ও ন্যায়পরায়ণ আইনপ্রণেতা। তাঁর শাসনামলে উসমানীয় খিলাফত সামরিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা-সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ পরাশক্তিতে পরিণত হয়।
সুলতান সুলাইমান কানুনী (سليمان القانوني)-এর পরিচয়
জন্ম ও বংশ: তিনি ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণসাগরের তীরবর্তী ত্রাবজোনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন পরাক্রমশালী সুলতান প্রথম সেলিম (Selim I) এবং মাতা আয়েশা হাফসা সুলতান।
উপাধি: পাশ্চাত্যে তিনি ‘সোলাইমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট’ (Suleiman the Magnificent) এবং মুসলিম বিশ্বে সাম্রাজ্যের জন্য সুশৃঙ্খল আইনশাস্ত্র ও শাসনতন্ত্র প্রণয়নের কারণে ‘আল-কানুনী’ (القانوني – আইনপ্রণেতা) নামে খ্যাত।
শাসনকাল: তিনি ১৫২০ থেকে ১৫৬৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৬ বছর উসমানীয় সাম্রাজ্য অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালনা করেন। তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য ইউরোপের বুদাপেস্ট থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
সুলাইমান কানুনীর খিলাফতকালে শিক্ষার সার্বিক অবস্থা (أحوال التعليم في عهده)
- মাদ্রাসা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন: সুলতান সুলাইমান সাম্রাজ্যজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে আনেন। মাদ্রাসার শিক্ষাকে প্রাথমিক (মক্তব), মাধ্যমিক এবং উচ্চতর (দারুল ফুনুন/মাদরাসায়ে আলিয়া) এই তিন স্তরে সুবিন্যস্ত করা হয়।
- সুলাইমানিয়া কমপ্লেক্স ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: ১৫৫০-১৫৫৭ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত স্থপতি মিমার সিনানের নকশায় ইস্তাম্বুলে প্রতিষ্ঠিত ‘সুলাইমানিয়া মসজিদ কমপ্লেক্স’ ছিল তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ। এতে ছিল চারটি উচ্চতর মাদ্রাসা, একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা বিদ্যালয় (তিব্বিয়া), দারুল হাদিস এবং একটি সুবিশাল গণগ্রন্থাগার।
- বিজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়: সুলাইমানী পাঠ্যক্রমে কুরআন, তাফসির, হাদিস ও ফিকহের পাশাপাশি গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান (ফালাকিয়াত), চিকিৎসাশাস্ত্র, ভূগোল ও দর্শনের পাঠ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
- বিনামূল্যে শিক্ষা ও সরকারি বৃত্তি: শিক্ষা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ও সম্পূর্ণ অবৈতনিক ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি খাবার, কিতাবপত্র, চিকিৎসা ও মাসিক উপবৃত্তি প্রদান করা হতো। ওয়াকফ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদ্রাসাসমূহের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল।
- আইন ও বিচার বিভাগীয় শিক্ষা (মাদ্রাসা-ই ক্বুযাত): সাম্রাজ্যের সুবিশাল আদালতগুলোর জন্য যোগ্য কাজী ও মুফতি তৈরিতে আইন শিক্ষার জন্য উচ্চতর গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়, যেখানে কানুননামা ও ফিকহুল মুআমালাত পড়ানো হতো।
উপসংহার
সুলতান সুলাইমান কানুনীর পৃষ্ঠপোষকতায় উসমানীয় শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইসলামী ঐতিহ্যের এক অভূতপূর্ব মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল, যা সাম্রাজ্যকে পরবর্তী শতাব্দীগুলোতেও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব দান করেছিল।
٢- ما التغيرات الاخيرة التي حدثت في الساحة الدينية والاجتماعية في المملكة العربية السعودية؟ بين موضحا-
[২. সৌদি আরবে ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক কী কী পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে? স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে সৌদি আরব সালাফি ভাবাদর্শ এবং ঐতিহ্যবাহী ইসলামী অনুশাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তবে ২০১৬ সালে ‘ভিশন ২০৩০’ (Saudi Vision 2030) ঘোষণার পর ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
ধর্মীয় অঙ্গনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহ (التغيرات الدينية)
- মধ্যপন্থার নীতি ঘোষণা (الإسلام الوسطي المعتدل): ঐতিহ্যবাহী কট্টর সালাফি বা ওয়াহাবি নীতি থেকে সরে এসে সহনশীল ও মধ্যপন্থী ইসলাম বাস্তবায়নের রাষ্ট্রীয় ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা সংকোচন: ‘আমির বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ (হায়আতুল আমর বিল মারূফ)-এর সদস্যদের গ্রেফতার ও বিচারিক ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় কড়াকড়ি বিলোপ করা হয়েছে।
- আযান ও সালাতের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ততা: পূর্বে সালাতের ওয়াক্তে সকল দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলক বন্ধ রাখতে হতো; বর্তমানে ঐচ্ছিকভাবে তা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও পরমতসহিষ্ণুতা: খ্রিস্টান, ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিদলের সাথে সংলাপ এবং অমুসলিম পর্যটক ও গবেষকদের জন্য মক্কা-মদিনার উন্মুক্ত সীমানা প্রশস্ত করা হয়েছে।
সামাজিক অঙ্গনে পরিবর্তনসমূহ (التغيرات الاجتماعية)
- নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাধীনতা:
- ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- পুরুষ অভিভাবকত্ব (ওয়ালী)-এর অনুমতি ব্যতীত নারীদের কর্মসংস্থান, পাসপোর্ট গ্রহণ ও একক ভ্রমণের সুযোগ প্রদান।
- সর্বজনীন ক্ষেত্রে আবায়া (বোরকা) পরিধানের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা।
- বিনোদন ও পর্যটন খাতের উন্মোচন: বিনোদন কর্তৃপক্ষ (General Entertainment Authority) গঠনের মাধ্যমে ৩৫ বছর পর সিনেমা হল পুনরায় চালু করা হয়েছে। কনসার্ট, আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলা এবং রিয়াদ সিজনসহ বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
- পর্যটন ও ভিসা উদারীকরণ: ‘ট্যুরিস্ট ভিসা’ চালুর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ও বিনোদনমূলক স্থানগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে।
মুসলিম বিশ্বে প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন
এই পরিবর্তনসমূহ আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে ভূমিকা রাখলেও, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পবিত্র দুই মসজিদের দেশের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বৈশ্বিক আলেম সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনা রয়েছে।
٣- اذكر احوال جهاد فلسطين لاستقلال وطنهم عن سيطرة الغاصبين- بين بالتفصيل-
[৩. দখলদারদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য ফিলিস্তিনের জিহাদের সার্বিক অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ফিলিস্তিন কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদুল আকসা’ এবং মিরাজের স্মৃতিবিজড়িত বরকতময় পবিত্র ভূমি। ১৯৪৮ সালে অবৈধ ইহুদিবাদী ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফিলিস্তিনি মুসলমানরা তাদের স্বাধীনতা ও পবিত্র ভূমি রক্ষার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সশস্ত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক জিহাদ চালিয়ে আসছে।
ফিলিস্তিন জিহাদের ঐতিহাসিক পর্যায়ক্রম (مراحل جهاد فلسطين)
- প্রারম্ভিক প্রতিরোধ (১৯৩৬-১৯৪৮): ব্রিটিশ ম্যান্ডেট ও ইহুদি অভিবাসনের বিরুদ্ধে শায়খ ইজ্জুদ্দীন আল-কাসসামের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লব সূচিত হয়। ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’ (মহাবিপর্যয়)-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়।
- প্রথম ইন্তিফাদা (১৯৮৭): পাথরের বিপ্লব (ثورة الحجارة) নামে পরিচিত এ গণআন্দোলনের মাধ্যমে সমগ্র ফিলিস্তিনি জনতা ইসরায়েলি ট্যাংকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এ সময়ই শায়খ আহমাদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে ‘হামাস’ (حركة المقاومة الإسلامية) আত্মপ্রকাশ করে।
- দ্বিতীয় ইন্তিফাদা (২০০০): এরিয়েল শ্যারনের মসজিদুল আকসায় উসকানিমূলক প্রবেশের পর ‘আল-আকসা ইন্তিফাদা’ শুরু হয়, যা প্রতিরোধকে সামরিক সক্ষমতায় রূপ দেয়।
ফিলিস্তিন জিহাদের বর্তমান অবস্থা (الأحوال الراهنة للجهاد)
- গাজা উপত্যকার সামরিক প্রতিরোধ: ২০০৬ সাল থেকে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গাজার আল-কাসসাম ব্রিগেড ও আল-কুদস ব্রিগেড নিজস্ব প্রযুক্তিতে রকেট, ড্রোন এবং সুড়ঙ্গপথ (Tunnels) নির্মাণ করে ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করছে।
- অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড (طوفان الأقصى – ২০২৩): ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে আকস্মিক অভিযান ইসরায়েলের অপরাজিত থাকার মিথ ভেঙে দেয়। ইসরায়েলি বর্বর গণহত্যা ও বোমাবর্ষণের মুখেও ফিলিস্তিনি মুজাহিদ ও সাধারণ জনগণের অবিচল ধৈর্য (সাবার) বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন।
- পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের সংগ্রাম: জেনিন, নাবলুস এবং জেরুজালেমে তরুণ প্রজন্মের ‘লায়ন্স ডেন’ ও নতুন গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, যারা বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের আগ্রাসন প্রতিহত করছে।
- সাইবার ও কূটনৈতিক প্রতিরোধ: সামরিক যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ফিলিস্তিনের পক্ষে বয়কট আন্দোলন (BDS) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চলমান।
ফিলিস্তিন জিহাদের গুরুত্ব ও দায়িত্ব
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: “অনুমতি দেওয়া হলো তাদেরকে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে।” (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৯)। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল স্থানীয় সংগ্রাম নয়, বরং বৈশ্বিক মুসলিম উম্মাহর ঈমানী দায়িত্ব।
٤- متى أسست منظمة التعاون الاسلامي؟ وما خلفيتها وأهدافها بين-
[৪. ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC) কখন প্রতিষ্ঠিত হয়? এর পটভূমি ও উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের সমন্বয়ে গঠিত দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন’ (OIC – منظمة التعاون الإسلامي)। এটি মুসলিম উম্মাহর সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতিষ্ঠার তারিখ ও সদর দপ্তর
ওআইসি প্রতিষ্ঠিত হয় ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে। এর স্থায়ী সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত। বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৭।
ওআইসি প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পটভূমি (خلفية التأسيس)
- মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ (২১ আগস্ট ১৯৬৯): ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ান এক উগ্র ইহুদি ডেনিস মাইকেল রোহান কর্তৃক ঐতিহাসিক মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর ঐতিহাসিক মিম্বর পুড়ে যায়।
- মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ: এই বর্বরোচিত ঘটনার পর গোটা মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
- রাবাত শীর্ষ সম্মেলন: মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান এবং সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজের উদ্যোগে ১৯৬৯ সালের ২২-২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ২৪টি মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলনেই সম্মিলিতভাবে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার জন্য OIC প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওআইসির প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ (أهداف المنظمة)
- মুসলিম সংহতি সুদৃঢ় করা: সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
- পবিত্র স্থানসমূহের সুরক্ষা: মসজিদুল আকসা, জেরুজালেম এবং অন্যান্য ইসলামী পবিত্র নিদর্শন রক্ষা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠা।
- বর্ণবাদ ও বৈষম্য দূরীকরণ: বিশ্ব থেকে উপনিবেশবাদ, নব্য-উপনিবেশবাদ এবং বর্ণবাদ নির্মূলের জন্য যৌথ সংগ্রাম পরিচালনা করা।
- আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা: জাতিসংঘ সনদের মূলনীতিকে সমর্থন করে বিশ্বে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করা।
- অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়ন: মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি (যেমন: ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক – IDB)।
- ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধ: বিশ্বে ইসলামের প্রকৃত মানবিক রূপ তুলে ধরা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের যৌক্তিক জবাব প্রদান।
٥- بين احوال الدعوة الاسلامية الراهنة في دول اوربا وامريكا-
[৫. ইউরোপ ও আমেরিকার দেশসমূহে ইসলামি দাওয়াতের বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
বর্তমান বিশ্বে আধুনিক পাশ্চাত্য সমাজে ইসলাম দ্রুততম বিকাশমান ধর্ম। মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ও ইসলামোফোবিয়ার ঝড় উপেক্ষা করে ইউরোপ ও আমেরিকায় ইসলামের দাওয়াত অভাবনীয় গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
ইউরোপের দেশসমূহে দাওয়াতের বর্তমান অবস্থা
- দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি: পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬%)। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং বেলজিয়ামে ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম।
- স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ: যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা, পারিবারিক পবিত্রতা এবং আত্মিক প্রশান্তির সন্ধানে উচ্চশিক্ষিত শ্বেতাঙ্গ নারী-পুরুষের ইসলাম গ্রহণের হার আশাতীতভাবে বাড়ছে।
- মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার: লন্ডন, বার্লিন, প্যারিসের মতো প্রধান শহরগুলোতে বিশাল ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদ নির্মিত হয়েছে, যা দাওয়াহ ও সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
- চ্যালেঞ্জসমূহ:
- চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থান ও অভিবাসনবিরোধী আইন।
- হিজাব, নিকাব ও হালাল খাদ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ (যেমন ফ্রান্সে আবায়া ও হিজাব নিষিদ্ধকরণ)।
- মিডিয়া কর্তৃক ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করার অপচেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রে দাওয়াতের বর্তমান অবস্থা
- প্রাতিষ্ঠানিক দাওয়াহ কার্যক্রম: আমেরিকায় ISNA (Islamic Society of North America), ICNA (Islamic Circle of North America), CAIR (Council on American-Islamic Relations) এর মতো শক্তিশালী সংস্থা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দাওয়াহ কাজ পরিচালনা করছে।
- আফ্রো-আমেরিকানদের মধ্যে প্রসার: আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ ইসলামের সাম্য ও বর্ণবাদহীন নীতিতে আকৃষ্ট হয়ে ইসলাম গ্রহণ করছে।
- ডিজিটাল ও বুদ্ধিবৃত্তিক দাওয়াত: ইয়াক্বীন ইনস্টিটিউট (শায়খ ওমর সুলাইমান), আল-মাগরিব ইনস্টিটিউট প্রমুখের মাধ্যমে পশ্চিমা মানসিকতার উপযোগী করে আধুনিক যুবসমাজকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে।
- নাগরিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: মার্কিন কংগ্রেসে মুসলিম সদস্যদের (যেমন ইলহান ওমর, রশিদা তালিব) অন্তর্ভুক্তি এবং মূলধারার সমাজকল্যাণে মুসলমানদের অবদান দাওয়াহর ক্ষেত্র প্রশস্ত করেছে।
উপসংহার
পশ্চিমে ইসলামের প্রসার প্রমাণ করে যে, সত্যের আলো কখনো মিথ্যার চক্রান্তে নিভে যায় না। সুপরিকল্পিত ও হিকমতপূর্ণ দাওয়াত ইউরোপ-আমেরিকায় এক বিশাল পরিবর্তনের দ্বার উন্মোচন করছে।
٦- اكتب نبذة عن حياة شاه جلال رحمه الله – ثم بين مساهمته في تبليغ الاسلام في بنغلاديش-
[৬. শাহ জালাল (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ, অতঃপর বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে তাঁর অবদান তুলে ধর।]
ভূমিকা
হযরত শাহ জালাল মুজাররাদ আল-ইয়ামানী (রহ.) ছিলেন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সাধক ও যুগান্তকারী মুবাল্লিগ। চতুর্দশ শতাব্দীতে শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) অঞ্চলে তাঁর আগমন এ অঞ্চলের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে।
শায়খ শাহ জালাল (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
জন্ম ও বংশ: তিনি ১২৭১ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের কুনিয়ায় (মতান্তরে হেজাজের মক্কায়) এক সম্ভ্রান্ত কুরাইশ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শায়খ মাহমুদ।
শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দীক্ষা: বাল্যকালেই মাতাপিতা হারিয়ে তিনি মাতুল সাইয়্যিদ আহমাদ কবীর সোহরাওয়ার্দীর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় কামালাত অর্জন করেন।
বাংলার পথে যাত্রা: মুর্শিদ তাঁকে এক মুষ্টি মাটি দিয়ে বললেন, “যে স্থানের মাটির বর্ণ, স্বাদ ও গন্ধ এই মাটির সাথে হুবহু মিলবে, সেখানেই তুমি ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র স্থাপন করবে।” তিনি ৩৬০ জন আওলিয়া সাথী নিয়ে হিন্দুস্তানে আসেন এবং দিল্লির নিজামুদ্দীন আউলিয়ার সাথে সাক্ষাৎ শেষে বাংলায় আগমন করেন।
ওফাত: তিনি ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে (৭৪৬ হিজরি) সিলেটে ইন্তেকাল করেন। সেখানেই তাঁর ঐতিহাসিক মাজার শরিফ অবস্থিত।
বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে তাঁর অবদান (مساهمته في تبليغ الإسلام)
- গৌড় গোবিন্দের অত্যাচার থেকে মুক্তি: সিলেটের অত্যাচারী রাজা গৌড় গোবিন্দ বুরহানউদ্দীন নামক এক মুসলিমের সন্তানকে কুরবানি করার অপরাধে হত্যা করেছিল। সুলতান শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহের সেনাপতি সিকান্দার গাজীর অনুরোধে শাহ জালাল (রহ.) অভিযানে অংশ নেন এবং অত্যাচারী রাজাকে পরাজিত করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন।
- মাটির সন্ধান ও ইসলামি মারকাজ স্থাপন: সিলেটের মাটির সাথে মুর্শিদের দেওয়া মাটির হুবহু মিল পেয়ে তিনি সেখানে তাঁর খানকাহ ও দাওয়াহ মারকাজ স্থাপন করেন।
- আউলিয়াদের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ: তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ জন আওলিয়াকে তিনি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে (ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী ইত্যাদি) ইসলাম প্রচারের জন্য পাঠিয়ে সমগ্র ভূখণ্ডে তাওহিদের আলো প্রজ্বলিত করেন।
- আদর্শ চরিত্র দ্বারা অমুসলিমদের মন জয়: তাঁর সততা, ত্যাগ, নিঃস্বার্থ সেবা এবং খোদাভীতি দেখে স্থানীয় হাজার হাজার হিন্দু ও বৌদ্ধ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।
- সামাজিক সাম্য ও মানবিক সমাজ গঠন: বর্ণপ্রথায় জর্জরিত তৎকালীন সমাজে অস্পৃশ্য ও নির্যাতিত নিম্নবর্ণের মানুষদের বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি মানবতার সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।
٧- اذكر الاحوال الراهنة للدعوة الاسلامية في أندونيسيا مفصلا-
[৭. ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি দাওয়াতের বর্তমান অবস্থা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৭ কোটির ৮৭ শতাংশের বেশি মুসলমান। কোনো সামরিক বিজয় ব্যতীত কেবল মুসলিম বণিক ও সূফীদের দাওয়াতের মাধ্যমে সেখানে ইসলামের প্রসার ঘটেছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি দাওয়াতের বর্তমান অবস্থা (الأحوال الراهنة)
- শক্তিশালী ধর্মীয় সংগঠনসমূহের ভূমিকা:
- নাহদাতুল উলামা (Nahdlatul Ulama – NU): বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি ইসলামী সংগঠন (সদস্য প্রায় ৯ কোটি)। এরা মূলত ঐতিহ্যবাহী শাফেয়ী ফিকহ ও সূফী ভাবধারাভিত্তিক মধ্যপন্থী ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে।
- মুহাম্মাদিয়া (Muhammadiyah): ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন (সদস্য প্রায় ৫ কোটি)। এরা আধুনিক শিক্ষা, হাসপাতাল, এতিমখানা এবং সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক সালাফি-সংস্কারবাদী দাওয়াত পরিচালনা করে।
- পেসানত্রেন (Pesantren) শিক্ষাব্যবস্থা: ইন্দোনেশিয়াজুড়ে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি ঐতিহ্যবাহী আবাসিক ইসলামিক মাদ্রাসা বা ‘পেসানত্রেন’ রয়েছে। এখান থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ দক্ষ দাঈ ও আলেম তৈরি হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাওয়াহ পরিচালনা করছেন।
- রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ও ধর্ম মন্ত্রণালয়: দেশটির ‘ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ এবং ‘ইন্দোনেশিয়ান ওলামা কাউন্সিল’ (MUI) রাষ্ট্রীয়ভাবে হালাল সনদ প্রদান, যাকাত ও হজ্জ ব্যবস্থাপনা এবং ফতোয়া প্রদানের মাধ্যমে ইসলামী দাওয়াতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
- আচেহ প্রদেশে শরীয়াহ আইন: ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে স্থানীয়ভাবে ইসলামী শরীয়াহ আইন কার্যকর রয়েছে, যা দাওয়াহ ও বিচারিক ক্ষেত্রে একটি অনন্য মডেল।
- ডিজিটাল ও মিডিয়া দাওয়াহ: সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব এবং টেলিভিশনে জনপ্রিয় তরুণ দাঈদের মাধ্যমে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক ইসলামিক জাগরণ (Hijrah Movement) সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ
- খ্রিস্টান মিশনারিদের অর্থনৈতিক প্রলোভন ও ধর্মান্তরিত করার অপচেষ্টা।
- উদারতাবাদ (Liberal Islam) ও ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন।
- জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের মধ্যে ইসলামী অনুশাসনের ভারসাম্য রক্ষা।
٨- اكتب مقالة على الحركة الاسلامية في الجزائر-
[৮. আলজেরিয়ায় ইসলামি আন্দোলনের ওপর একটি প্রবন্ধ লেখ।]
ভূমিকা
উত্তর আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ আলজেরিয়া। দেশটিতে ফরাসিদের ১৩২ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন, নির্মম গণহত্যা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামি চেতনা ও আন্দোলনই ছিল স্বাধীনতার প্রধান চালিকাশক্তি।
আলজেরিয়ার ইসলামি আন্দোলনের পটভূমি
১৮৩০ সালে ফ্রান্স আলজেরিয়া দখল করে। ফরাসিরা মসজিদগুলো গির্জায় রূপান্তর করে এবং আরবি ভাষা ও ইসলামী শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করে আলজেরিয়াকে ফরাসি সংস্কৃতির অংশ বানানোর অপচেষ্টা চালায়। এর বিরুদ্ধে আলজেরীয় জনগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
ইসলামি আন্দোলনের মূল পর্যায়সমূহ (مراحل الحركة الإسلامية)
- আমির আব্দুল কাদির আল-জাযায়েরীর সশস্ত্র জিহাদ (১৮৩২-১৮৪৭): তিনি ছিলেন আধুনিক আলজেরিয়ার জনক। তিনি ফরাসি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৫ বছর সুসংগঠিত সশস্ত্র জিহাদ পরিচালনা করেন।
- শায়খ আব্দুল হামিদ ইবনে বাদিস ও জমিয়তে উলামা (১৯৩১): ১৯৩১ সালে শায়খ ইবনে বাদিস প্রতিষ্ঠা করেন ‘জমিয়তুল উলামাইল মুসলিমীন আল-জাযায়েরিয়্যীন’ (جمعية العلماء المسلمين الجزائريين)। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ছিল:
“الإسلام ديننا، والعربية لغتنا، والجزائر وطننا”
(“ইসলাম আমাদের দ্বীন, আরবি আমাদের ভাষা, আর আলজেরিয়া আমাদের স্বদেশ।”)তিনি হাজার হাজার মক্তব ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মধ্যে ঈমানী ও জাতীয়তাবাদী চেতনা পুনরুজ্জীবিত করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ (১৯৫৪-১৯৬২): ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (FLN)-এর নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। এতে প্রায় ১৫ লাখ আলজেরীয় মুসলমান শহীদ হন, যার ফলে একে ‘লাখ শহীদের দেশ’ (بلد مليون ونصف شهيد) বলা হয়। ১৯৬২ সালে দেশ স্বাধীন হয়।
- আধুনিক ইসলামি রাজনীতি ও এফআইএস (FIS): ১৯৮৯ সালে শায়খ আব্বাসি মাদানী ও আলী বেলহাজের নেতৃত্বে ‘ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট’ (FIS) গঠিত হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তারা বিপুল বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে সেনাবাহিনী নির্বাচন বাতিল করে সামরিক শাসন জারি করে, যা দেশটিকে দশ বছরের গৃহযুদ্ধে ঠেলে দেয়।
বর্তমান অবস্থা ও প্রভাব
বর্তমানে আলজেরিয়ায় ‘হারাকাতু মুজতামাআস সিলম’ (MSP)-এর মতো দলগুলো সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সংস্কারবাদী দাওয়াহ পরিচালনা করছে। আলজেরিয়ার সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষিত রয়েছে।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
٩- اذكر أحوال المسلمين في الهند-
[৯. ভারতে মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা উল্লেখ কর।]
উত্তর: ভারতে মুসলমানরা সর্ববৃহৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাদের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটির বেশি। বর্তমানে তারা অত্যন্ত সংকটজনক ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি:
- রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণ: হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানের ফলে আইনসভা ও রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
- আইনি বৈষম্য: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC)-এর মাধ্যমে মুসলমানদের নাগরিকত্ব সংকটের মুখে ফেলার অপচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)-এর মাধ্যমে মুসলিম পার্সোনাল ল’ খর্ব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- সামাজিক ও অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা: সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী শিক্ষা, সরকারি চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধায় ভারতীয় মুসলমানরা দলিতদের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে।
- ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত: হিজাব বিতর্ক, ওয়াকফ সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন, গো-রক্ষার নামে মুসলিমদের ওপর মব লিঞ্চিং এবং ঐতিহাসিক মসজিদগুলোর মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
١٠- اكتب خدمات مولانا عبد الرحيم في دعوة الإسلام في بنغلاديش-
[১০. বাংলাদেশে ইসলামি দাওয়াতে মাওলানা আব্দুর রহীমের অবদান আলোচনা কর।]
উত্তর: মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম (১৯১৮-১৯৮৭ খ্রি.) ছিলেন বাংলাদেশের আধুনিক ইসলামী পুনর্জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ, ক্ষণজন্মা আলেম, সুলেখক ও দাঈ। বাংলাদেশে ইসলামি দাওয়াতে তাঁর অসামান্য অবদানসমূহ নিম্নরূপ:
- ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি প্রতিষ্ঠা: তিনি ঢাকায় ‘ইসলামিক রিসার্চ একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলাদেশে ইসলামী গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
- বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্যের সমৃদ্ধি: তিনি সাইয়্যিদ আবুল আ’লা মওদূদীসহ বহু মহান আলেমের গুরুত্বপূর্ণ বই বাংলায় অনুবাদ করেন। পাশাপাশি তিনি নিজে ‘কুরআন ও হাদিসের আলোকে মানবজীবন’, ‘ইসলামের অর্থনীতি’, ‘সুন্নাত ও বিদয়াত’ ইত্যাদি কালজয়ী মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- সাংগঠনিক দাওয়াহ: তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রথম আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে দ্বীনের সামগ্রিক দাওয়াতের জন্য ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ’ (IDL) গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
- উলামা ও তরুণদের সমন্বয়: আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার আলেমদের সাথে সাধারণ শিক্ষিত তরুণদের মেলবন্ধন ঘটাতে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন।
١١- أكتب نبذة عن حياة الصوفي نور محمد نظامبوري مختصرا-
[১১. সূফী নূর মুহাম্মদ নিজামপুরী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর: হযরত মাওলানা সূফী নূর মুহাম্মদ নিজামপুরী (রহ.) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের চিশতিয়া-সাবিরিয়া তরিকার এক মহান আধ্যাত্মিক সাধক ও আলেম।
- জন্ম ও পরিচয়: তিনি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার নিজামপুর পরগণার মোল্লাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দীক্ষা: তিনি উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হযরত মিয়াঁজী নূর মুহাম্মদ ঝানঝানভী (রহ.)-এর কাছে বাইয়াত গ্রহণ করে তরীকতের খেলাফত লাভ করেন।
- কর্মজীবন ও দাওয়াত: তিনি চট্টগ্রাম ও সংলগ্ন অঞ্চলে শিরক, বিদয়াত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। কুরআন-সুন্নাহর সঠিক অনুসারী হতে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন।
- শিষ্যবর্গ: তাঁর বিখ্যাত খলিফা ও শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা কারামত আলী জৈনপুরী (রহ.)-এর সংস্পর্শপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলার বহু প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম।
- ওফাত: তিনি নিজ জন্মভূমিতেই ইন্তেকাল করেন এবং সেখানে তাঁর স্মৃতি আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
١٢- اذكر خدمات مولانا قاسم النانوتوي في الهند-
[১২. ভারতে মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.)-এর অবদান উল্লেখ কর।]
উত্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানুতবী (১৮৩২-১৮৮০ খ্রি.) ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের মহান নেতা। তাঁর অবদানসমূহ:
- দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা (১৮৬৬ খ্রি.): ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার পর ভারতের মুসলিম ঐতিহ্য ও দ্বীনিয়াত রক্ষা করতে তিনি ১৮৬৬ সালের ৩০ মে সাহারানপুরের দেওবন্দে ছাত্তা মসজিদের ডালিম গাছের নিচে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ এশিয়ার বৃহত্তম ইসলামী জ্ঞানকেন্দ্র।
- জনগণের চাঁদায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নীতিমালা: সরকারের কোনো আর্থিক অনুদান গ্রহণ না করে সাধারণ মুসলমানদের সহযোগিতায় মাদ্রাসা পরিচালনার ৮ মূলনীতি (উসূলে হাশতগানা) প্রণয়ন করেন।
- খ্রিস্টান ও আর্য সমাজীদের সাথে মোনাজারা: মেলা চন্ডাপুরসহ বিভিন্ন প্রকাশ্য বিতর্কে খ্রিস্টান মিশনারি ও আর্য সমাজের পণ্ডিতদের যুক্তির মাধ্যমে পরাজিত করে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন।
- রচিত গ্রন্থাবলি: ‘আবে হায়াত’, ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’, ‘তাকরিরে দিলপজির’ ইত্যাদি তাত্ত্বিক গ্রন্থ রচনা করেন।
١٣- من الشهيد السيد احمد بريلوى؟ اذكر سبب استشهاده-
[১৩. শহীদ সাইয়্যিদ আহমদ বেরলভী (রহ.) কে? তাঁর শাহাদাতের কারণ উল্লেখ কর।]
উত্তর: সাইয়্যিদ আহমদ বেরলভী (১৭৮৬-১৮৩১ খ্রি.) ছিলেন উপমহাদেশের ঐতিহাসিক ‘মুজাহিদীন আন্দোলন’-এর প্রধান নেতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান বীর সেনানী। তিনি শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর সুযোগ্য পুত্র শাহ আব্দুল আজিজের শিষ্য ছিলেন।
শাহাদাতের কারণ ও বালাকোটের যুদ্ধ:
- পাঞ্জাব ও সীমান্ত অঞ্চলে শিখ শাসক রঞ্জিত সিং মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত, মসজিদে আজান নিষিদ্ধ করেছিল এবং নারীদের সম্মানহানি করত।
- সাইয়্যিদ আহমদ বেরলভী ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা ও মজলুম মুসলমানদের রক্ষার জন্য হাজার হাজার মুজাহিদ নিয়ে জিহাদ ঘোষণা করেন এবং পেশোয়ার মুক্ত করেন।
- পরবর্তীতে কিছু মুনাফিক স্থানীয় সর্দারদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং শিখদের বিশাল বাহিনীর সাথে ১৮৩১ সালের ৬ মে ঐতিহাসিক বালাকোটের ময়দানে অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। বীর বিক্রমে লড়াই করে তিনি এবং তাঁর প্রধান সেনাপতি শাহ ইসমাইল শহীদ (রহ.) শাহাদাত বরণ করেন।
١٤- اكتب خدمات مولانا حسين أحمد المدني في الحديث النبوي-
[১৪. হাদিস শাস্ত্রে মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর অবদান লেখ।]
উত্তর: শায়খুল ইসলাম মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী (১৮৭৯-১৯৫৭ খ্রি.) ছিলেন বিশ্ববরেণ্য মুহাদ্দিস ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আপসহীন নেতা। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর প্রধান অবদানসমূহ:
- মসজিদে নববীতে হাদিসের দরস: তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর মদিনা মুনাওয়ারার মসজিদে নববীতে অত্যন্ত সুনামের সাথে সহিহ বুখারী ও অন্যান্য সিহাহ সিত্তাহর দরস প্রদান করেন। আরব-অনারব হাজার হাজার শিক্ষার্থী তাঁর থেকে হাদিসের সনদ গ্রহণ করে। এ কারণে তাঁকে ‘শায়খুল হারাম’ ও ‘শায়খুল আরব ওয়াল আজম’ বলা হয়।
- দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস: ১৯২৭ সাল থেকে আমৃত্যু প্রায় ৩০ বছর তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসীন ও প্রধান শায়খুল হাদিস ছিলেন। তাঁর দরসে বুখারী ছিল জ্ঞানের এক মহাসমুদ্র।
- সিলেট আলিয়া মাদ্রাসায় হাদিসের পাঠদান: আসাম ও সিলেট অঞ্চলে এসে তিনি হাদিসের শিক্ষা বিস্তার করেন এবং সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় হাদিস পাঠদান করেন।
- হাদিসভিত্তিক গ্রন্থ ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা: তাঁর রচিত ‘নাখশ-ই হায়াত’, ‘মুত্তাহিদা ক্বওমিয়্যাত আওর ইসলাম’ ইত্যাদি গ্রন্থে হাদিসের আলোকে সমকালীন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন।
١٥- قيم كتاب “رجال الفكر والدعوة” لأبي الحسن الندوي مؤلفا دعويا-
[১৫. দাওয়াহ গ্রন্থ হিসেবে আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর “রিজালুল ফিকর ওয়াদ-দাওয়াহ” মূল্যায়ন কর।]
উত্তর: বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) রচিত ‘রিজালুল ফিকর ওয়াদ-দাওয়াহ ফিল ইসলাম’ (رجال الفكر والدعوة في الإسلام) বা ‘সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস’ একটি অনন্যসাধারণ ও কালজয়ী দাওয়াহ গ্রন্থ।
গ্রন্থটির দাওয়াহভিত্তিক মূল্যায়ন:
- ইতিহাস থেকে দাওয়াহর রসদ সংগ্রহ: লেখক প্রমাণ করেছেন যে, ইসলামের ইতিহাসে যখনই কোনো ফিতনা বা ধর্মীয় অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তখনই মহান কোনো মুজাদ্দিদ ও দাঈর আগমন ঘটেছে যিনি দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন।
- আলোচিত মনীষীগণ: এতে উমর বিন আব্দুল আজিজ, হাসান বসরী, আহমদ বিন হাম্বল, আবু হামিদ আল-গাজালী, ইবনে তাইমিয়্যাহ, জালালুদ্দীন রূমী, মুজাদ্দিদে আলফে সানী এবং শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ.) প্রমুখের সংগ্রামী দাওয়াহ কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- দাঈদের জন্য পাথেয়: গ্রন্থটি অধ্যয়ন করলে একজন দাঈ জানতে পারেন কীভাবে যুক্তি, দর্শন, সমকালীন রাজনীতি ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাতিল মতবাদের মুকাবিলা করতে হয়।
- সাবলীল আরবি সাহিত্যমান: বইটির উচ্চাঙ্গের আরবি ভাষা ও মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গি পাঠককে দাওয়াহর ময়দানে আত্মনিয়োগ করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
١٦- علق على اثنين مما يلي: (ألف) المسلمون الصين؛ (ب) المؤسسات الإسلامية في بنغلاديش؛ (ج) مولانا مفتى شفيع؛ (د) العلامة نثار الدين أحمد-
[১৬. টিকা লেখ (যেকোনো দুটি): (ক) চীনের মুসলিম সম্প্রদায়; (খ) বাংলাদেশের ইসলামি প্রতিষ্ঠানসমূহ; (গ) মাওলানা মুফতী শফী (রহ.); (ঘ) আল্লামা নেছারুদ্দীন আহমদ (রহ.)।]
(ক) চীনের মুসলিম সম্প্রদায় (المسلمون الصين)
চীনে ইসলামের আগমন ঘটে সপ্তম শতাব্দীতে হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর মাধ্যমে। চীনে প্রায় আড়াই কোটি মুসলমান বসবাস করে, যাদের প্রধান দুটি দল হলো ‘হুই’ (Hui) মুসলিম এবং জিনজিয়াং প্রদেশের তুর্কি বংশোদ্ভূত ‘উইঘুর’ (Uyghur) মুসলিম। চীনা মুসলিমরা ঐতিহাসিকভাবে কুংফু, বাণিজ্য ও কৃষিতে পারদর্শী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন, দাড়ি রাখা ও কুরআন শিক্ষায় কঠোর সরকারি বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে তারা ব্যাপক আলোচিত ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিতে বিবেচিত হচ্ছে।
(খ) বাংলাদেশের ইসলামি প্রতিষ্ঠানসমূহ (المؤسسات الإسلامية في بنغلاديش)
বাংলাদেশে ইসলামি আদর্শের প্রচার, দ্বীনি শিক্ষা ও দাওয়াহর প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অসামান্য অবদান রাখছে। এর মধ্যে প্রধান হলো—
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (IFB): ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থা বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ পরিচালনা, ইমাম প্রশিক্ষণ, ইসলামী বিশ্বকোষ ও তাফসির-হাদিস প্রকাশনায় শীর্ষ ভূমিকা পালন করে।
- ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাসমূহের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী বিদ্যাপীঠ।
- মাদ্রাসা শিক্ষাধারা: আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসাসমূহ লক্ষ লক্ষ আলেম ও দাঈ গড়ে তুলে দেশের দ্বীনি পরিবেশ সমুন্নত রেখেছে।
(গ) মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী (رحمة الله عليه)
হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী দেওবন্দী (১৮৯৭-১৯৭৬ খ্রি.) ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত ফকীহ ও মুফাসসির। তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের প্রধান মুফতি ছিলেন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পর করাচিতে সুবিখ্যাত ‘দারুল উলূম করাচি’ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বিশ্ববিখ্যাত বাংলা-অনূদিত ৮ খণ্ডের তাফসির গ্রন্থ ‘মাআরিফুল কুরআন’ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এ ছাড়া তাঁর সংকলিত ‘জাওয়াহিরুল ফিকহ’ ফিকহ শাস্ত্রের অমূল্য রত্ন। তিনি ছিলেন জাস্টিস আল্লামা তকী উসমানী ও মুফতী রফী উসমানীর শ্রদ্ধেয় পিতা।
(ঘ) আল্লামা শাহ নেছারুদ্দীন আহমদ (رحمة الله عليه)
হযরত মাওলানা শাহ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (১৮৭৩-১৯৫২ খ্রি.) ছিলেন বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সাধক ও বিখ্যাত ছারছীনা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সাহেব। তিনি ফুরফুরার পীর হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রহ.)-এর প্রধান খলিফা ছিলেন। তিনি ১৯১৫ সালে ছারছীনা দারুসসুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলাদেশে বিশুদ্ধ সুন্নাহর প্রচার, পীর-মুরিদী সংস্কার এবং ইসলামের দাওয়াতে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব সাধন করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. সুলাইমান কানুনীকে ‘কানুনী’ কেন বলা হয়?
উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা, আদালত ও নাগরিকদের অধিকার সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য তিনি সর্বপ্রথম ব্যাপক ও সুসংহত আইনবিধি (কানুননামা) প্রণয়ন করেন বিধায় তাঁকে ‘আল-কানুনী’ বা আইনপ্রণেতা বলা হয়।
২. OIC প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ কারণ কী ছিল?
১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ান এক উগ্র ইহুদি কর্তৃক মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগের বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষাপটেই মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হয়ে OIC প্রতিষ্ঠা করে।
৩. শাহ জালাল (রহ.)-এর সাথে কতজন আউলিয়া বাংলায় এসেছিলেন?
ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী হযরত শাহ জালাল (রহ.)-এর সাথে ৩৬০ জন আধ্যাত্মিক সাধক ও আউলিয়া বাংলায় আগমন করেছিলেন।
৪. মাওলানা কাসেম নানুতবী (রহ.) কত সালে দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন?
তিনি ১৮৬৬ সালের ৩০ মে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দে ঐতিহাসিক দারুল উলূম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
৫. ‘রিজালুল ফিকর ওয়াদ-দাওয়াহ’ গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু কী?
ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে উদ্ভূত সংকটকালে যেসব মহান মুজাদ্দিদ ও মনীষী নিজ চিন্তা ও দাওয়াহর মাধ্যমে দ্বীনকে সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করেছেন, তাঁদের জীবন ও সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ।
৬. আলজেরিয়াকে কেন ‘লাখ শহীদের দেশ’ বলা হয়?
ফরাসিদের ১৩২ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তিলাভের ঐতিহাসিক স্বাধীনতা যুদ্ধে (১৯৫৪-১৯৬২) প্রায় ১৫ লাখ আলজেরীয় মুসলমান শাহাদাত বরণ করার কারণে আলজেরিয়াকে এই নামে ভূষিত করা হয়।