اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۳
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الفرق الإسلامية وعقائدها
[আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আকাইদুহা]
বিষয় কোড: ২০৩৮০৮ | পরীক্ষা কোড: ২০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৩৬
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
١- تحدث عن مفهوم العقيدة وأهميتها وحاجة الناس إليها-
[১. আকিদা এর মর্মার্থ, গুরুত্ব ও এর প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী শরীয়তের মূল ভিত্তি এবং মানব জীবনের চালিকাশক্তি হলো ‘আল-আকিদা’ (العقيدة)। মানুষের সমস্ত আমল, ইবাদত ও নৈতিকতা নির্ভর করে তার অন্তরের বিশ্বাসের ওপর। সহীহ আকিদা হলো এমন এক দৃঢ় নোঙ্গর, যা মানবাত্মাকে বিভ্রান্তির ঘূর্ণাবর্ত থেকে রক্ষা করে শান্তির অনাবিল তীরে পৌঁছে দেয়।
আকিদার মর্মার্থ ও সংজ্ঞা (مفهوم العقيدة)
আভিধানিক অর্থ: ‘আকিদা’ শব্দটি ‘আকদ’ (عقد) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ শক্ত করে বাঁধা, গিট দেওয়া, অটল সংকল্প ও সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্ব ও রবুবিয়্যাত, ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ, নবী-রাসূলগণ, তাকদির এবং পরকালের ওপর অন্তরে কোনো প্রকার সন্দেহ-সংশয় ব্যতিরেকে অটল ও অকাট্যভাবে বিশ্বাস স্থাপন করার নামই আকিদা।
ইমাম আবুল হাসান আল-আশয়ারী (রহ.)-এর মতে: “আকিদা হলো সেই সমস্ত মৌলিক ঈমানী বিষয়, যার ওপর মানুষের হৃদয় নিশ্চিত প্রত্যয় স্থাপন করে এবং যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ থাকে না।”
মানবজীবনে আকিদার গুরুত্ব (أهمية العقيدة)
- আমল কবুলের মৌলিক শর্ত: আকিদা বিশুদ্ধ না হলে পাহাড়সম নেক আমলও আল্লাহর দরবারে ধূলিকণার ন্যায় উড়ে যাবে। আল্লাহ বলেন: “যদি তারা শিরক করত, তবে তাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যেত।” (সূরা আল-আন’আম: ৮৮)।
- মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য: একমাত্র আল্লাহকে রব ও মাবুদ হিসেবে বিশ্বাস করে তাঁর দাসত্ব করাই মানবজীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য (সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬)।
- পরকালীন নাজাতের নিশ্চয়তা: শিরকমুক্ত সহীহ আকিদা পোষণকারী ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করবে।
আকিদার প্রতি মানুষের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা (حاجة الناس إليها)
- সৃষ্টি ও জীবনের মৌলিক প্রশ্নের উত্তর: আমি কোথা থেকে এসেছি? আমার জীবনের লক্ষ্য কী? মৃত্যুর পর কোথায় যাব?—মানব বিবেকের এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর একমাত্র সন্তোষজনক জবাব দেয় সহীহ আকিদা।
- আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভ: বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী মানুষ হতাশা ও আত্মহত্যার শিকার হয়; কিন্তু ভাগ্যে ও আখেরাতে বিশ্বাসী মুমিন যেকোনো সংকটে অবিচল ও শান্ত থাকে।
- নৈতিক সমাজের ভিত রচনা: আল্লাহর সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পরকালের জবাবদিহিতার বিশ্বাসই মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে যাবতীয় অন্যায়, দুর্নীতি ও পাপাচার থেকে বিরত রাখে। কোনো পুলিশ বা আইন যা করতে পারে না, তাকওয়ার আকিদা তা সহজেই নিশ্চিত করে।
উপসংহার
আকিদা হলো বৃক্ষের শিকড়, আর আমল হলো তার শাখা-প্রশাখা। শিকড়হীন গাছ যেমন বাঁচতে পারে না, তেমনি সহীহ আকিদাহীন কোনো ইবাদত বা ধর্মের কল্পনাও ইসলামে করা যায় না।
٢- تحدث عن سبب الإفتراق ونشأته وتطوره-
[২. الإفتراق এর কারণ, ক্রমবিকাশ ও উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় মুসলিম উম্মাহ ছিল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও মতভেদহীন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক সংঘাত এবং বহিরাগত অনৈসলামিক দর্শনের অনুপ্রবেশের ফলে মুসলিম মিল্লাতের মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভক্তি ও উপদলীয় বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, যাকে ইসলামী ইতিহাসে ‘আল-ইফতিরাক’ (الإفتراق) বলা হয়।
উম্মাহর মাঝে বিভক্তির উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ (نشأته وتطوره)
- নবীজির ভবিষ্যৎবাণী: রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহর বিভক্তির ব্যাপারে স্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করে ইরশাদ করেছিলেন: “ইয়াহুদিরা ৭১ দলে এবং খ্রিস্টানরা ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল; আর আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একটি দল ব্যতীত সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন: সেই দলটি কারা ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।” (সুনানে তিরমিজি, আবু দাউদ)।
- উসমান (রা.)-এর শাহাদাত ও ফেতনার সূচনা: আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার গোপন ষড়যন্ত্রে ৩৫ হিজরিতে তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর মুসলিম জাহানে রাজনৈতিক ফাটল ধরে।
- সিফফিনের যুদ্ধ ও তাহকীমের ঘটনা (৩৭ হি.): হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে আবু মুসা আশআরী ও আমর ইবনুল আস (রা.)-কে সালিস (তাহকীম) নিযুক্ত করা হলে একদল চরমপন্থী একে আল্লাহর বিধানের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে দলত্যাগ করে। এভাবেই সর্বপ্রথম প্রকাশ্য দল ‘খারেজি’ সম্প্রদায়ের জন্ম হয়।
- শিয়া সম্প্রদায়ের চরম রূপ পরিগ্রহ: আলী (রা.)-এর বংশধরদের প্রতি অতিরিক্ত ভক্তি ও ভালোবাসার নামে ধীরে ধীরে ইমামতের আকিদা বানিয়ে শিয়াদের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- দর্শন ও কালামের যুগে নতুন দলের উত্থান: দ্বিতীয় হিজরি শতকে গ্রিক দর্শন অনুবাদের ফলে কাদরিয়া, জাবারিয়া, জাহমিয়া এবং ওয়াসিল ইবনে আতার নেতৃত্বে মু’তাযিলা দলের উৎপত্তি ঘটে। পরবর্তীতে ইমাম আবুল হাসান আশআরী ও আবু মনসুর মাতুরিদী আহলুস সুন্নাহর পক্ষে এসব বিদআতি দলের জোরালো খণ্ডন করেন।
উপদল সৃষ্টির মূল কারণসমূহ (أسباب الإفتراق)
- কুরআন-সুন্নাহর সঠিক পথ ও সাহাবায়ে কেরামের মানহাজ বর্জন: আয়াতের রূপক ও মনগড়া অপব্যাখ্যা করা।
- অন্ধ দলীয় অন্ধত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতার লিপ্সা: খিলাফত ও নেতৃত্ব নিয়ে স্বার্থপর দ্বন্দ্ব।
- অতিরিক্ত দার্শনিক চুলচেরা বিশ্লেষণ: তাকদির ও সিফাতুল্লাহর মতো গায়েবি বিষয়ে বিবেককে চূড়ান্ত মানদণ্ড বানানো।
- ইহুদি ও পারসিক চক্রান্ত: ইসলামকে ভেতর থেকে ধ্বংস করতে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা প্রমুখের পরিকল্পিত অনুপ্রবেশ।
উপসংহার
বিভক্তি উম্মাহর শক্তিক্ষয় ডেকে এনেছে। সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত মূলধারা তথা আহলুস সুন্নাহর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই এ বিভক্তি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।
٣- من هم الخوارج؟ اذكر عقائدهم وبعض كتبهم المشهورة-
[৩. খারেজি কারা? তাদের আকিদা ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী ইতিহাসের সর্বপ্রথম রাজনৈতিক ও আকিদাগত বিভ্রান্ত চরমপন্থী উপদলের নাম হলো ‘খাওয়ারেজ’ বা খারেজি সম্প্রদায়। অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক ইবাদতগুজার হওয়া সত্ত্বেও চরম উগ্রতা, অজ্ঞতা ও তাকফীরী মানসিকতার কারণে তারা উম্মাহর জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছিল।
খারেজিদের পরিচয় (من هم الخوارج؟)
‘খাওয়ারেজ’ শব্দটি ‘খারেজ’ (خارج)-এর বহুবচন, যার অর্থ বের হয়ে যাওয়া বা দলত্যাগ করা। ৩৭ হিজরিতে সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.) যখন যুদ্ধবিরতি ও সালিসির সিদ্ধান্ত নেন, তখন কূফার নিকটবর্তী ‘হারুরা’ নামক স্থানে প্রায় বারো হাজার ব্যক্তি আলী (রা.)-এর নেতৃত্ব অস্বীকার করে বের হয়ে যায়। এ কারণে তাদেরকে ‘খাওয়ারেজ’ বা ‘হারুরিয়্যাহ’ বলা হয়। তাদের মূল স্লোগান ছিল: “লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ” (إن الحكم إلا لله – আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেওয়ার অধিকার নেই)।
খারেজিদের প্রধান ভ্রান্ত আকিদাসমূহ (عقائدهم)
- কবিরা গুনাহগারকে কাফের গণ্য করা: যে ব্যক্তি কোনো কবিরা গুনাহ (যেমন চুরি, মিথ্যা, জিনা ইত্যাদি) করে এবং তওবা না করে মারা যায়, সে কাফের ও চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
- আমলকে ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা: আমল ছাড়া ঈমানের অস্তিত্ব নেই, আমল নষ্ট হলে ঈমান বিলুপ্ত হয়।
- সাহাবায়ে কেরামের ওপর কুফরের হুকুম (তাকফীর): তারা হযরত আলী, উসমান, মুয়াবিয়া, আমর ইবনুল আস এবং আবু মুসা আশআরী (রা.)-সহ তাহকীমে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণকে কাফের ফতোয়া দেয় এবং তাঁদের হত্যা করা বৈধ মনে করে। খারেজি আব্দুর রহমান ইবনে মুলজামই আলী (রা.)-কে শহীদ করেছিল।
- শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ওয়াজিব মনে করা: শাসকের সামান্য অবিচার দেখলেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা ফরজ জ্ঞান করে।
- ইমামতের শর্ত কুরাইশ নয়: যেকোনো দাস বা হাবশী যোগ্য ব্যক্তি খলিফা হতে পারে।
খারেজিদের প্রসিদ্ধ কিছু শাখা ও গ্রন্থাবলি
শাখা-প্রশাখা: আজারিকাহ (নাফে ইবনে আজরাকের দল), নজদাত, সুফরিয়্যাহ এবং ইবাদিয়্যাহ (যা বর্তমানে ওমানে শান্তিবাদী রূপে টিকে আছে)।
তাদের প্রসিদ্ধ কিছু গ্রন্থ:
- কিতাবুল ইতিসাম (كتاب الاعتصام) – আল্লামা আবু আমর দানীর সংকলন।
- মুসনাদু আর-রাবি ইবনে হাবীব (مسند الربيع بن حبيب) – ইবাদি খারেজিদের প্রধান হাদিস গ্রন্থ।
- আল-মুওয়াজ্জাহ (الموضح) – ইবাদি ফিকহ ও আকিদার প্রাচীন গ্রন্থ।
- কাওয়াইদুল ইসলাম (قواعد الإسلام) – ইসমাইল ইবনে মুসা আল-জায়িতী রচিত।
উপসংহার
রাসূলুল্লাহ (সা.) খারেজিদের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন: “তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না; ধনুক থেকে তীর যেভাবে বের হয়ে যায় তারা ইসলাম থেকে সেভাবে বের হয়ে যাবে।” (সহীহ বুখারী)। বর্তমান যুগের উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীরাও এই খারেজি চিন্তারই উত্তরসূরি।
٤- متى نشأت فرقة الشيعة؟ تحدث عن فروعهم مفصلا-
[৪. শিয়া সম্প্রদায়ের উৎপত্তি কখন হয়েছে? তাদের শাখাপ্রশাখা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী উপদল হলো ‘শিয়া’ (الشيعة)। তারা আহলে বাইত তথা হযরত আলী (রা.) ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অতিরিক্ত ভক্তি ও রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের আকিদা ও শাস্ত্র গড়ে তুলেছে।
শিয়া সম্প্রদায়ের উৎপত্তি (متى نشأت؟)
‘শিয়া’ শব্দের অর্থ সমর্থক বা দল। শিয়াদের উৎপত্তির তিনটি পর্যায় রয়েছে:
- রাজনৈতিক সূচনা (৩৫-৩৭ হি.): উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর আলী (রা.)-কে রাজনৈতিকভাবে সমর্থনকারী দলকে শুরুতে ‘শিয়াতু আলী’ (আলীর সমর্থক) বলা হতো, যা কোনো ভ্রান্ত আকিদা ছিল না।
- ইহুদি ষড়যন্ত্র ও রূপান্তর: চরমপন্থী আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা আলী (রা.)-এর মধ্যে দেবত্ব বা নবুওয়াতের অলৌকিক ক্ষমতা আরোপের বিষবাষ্প ছড়ায়।
- কারবালার ট্র্যাজেডি (৬১ হি.): ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতের পর এই রাজনৈতিক দলীয় সহানুভূতি একটি সুসংহত আবেগঘন ধর্মীয় মতবাদে রূপান্তরিত হয়।
শিয়াদের প্রধান প্রধান শাখাপ্রশাখা (فروع الشيعة)
ইতিহাসে শিয়াদের বহু শাখা তৈরি হলেও প্রধানত তিনটি শাখা সর্বাধিক পরিচিত:
- ইসনাইয়া আশারিয়া বা জাফরিয়া (الإثنا عشرية / الجعفرية):
- এটি বর্তমান শিয়াদের মূল ও সর্ববৃহৎ ধারা (ইরান, ইরাক, লেবানন ও আজারবাইজানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া)।
- তারা বারো জন নির্দিষ্ট নিষ্পাপ (মাসুম) ইমামে বিশ্বাস করে, যার দ্বাদশ ইমাম ‘মুহাম্মদ আল-মাহদী’ শৈশবে গুহায় আত্মগোপন করেছেন এবং কিয়ামতের পূর্বে ফিরে আসবেন।
- আকিদা: সাহাবায়ে কেরাম (আবু বকর, ওমর ও উসমান রা.)-এর প্রতি বিদ্বেষ ও গালিগালাজ (তাবাররা), তাকিয়্যাহ (অকপটে মিথ্যা বলে বিশ্বাস গোপন করা), মুতা বিবাহ এবং কুরআন বিকৃত হওয়ার কুফরি বিশ্বাস পোষণ।
- ইসমাইলিয়া বা বাতেনিয়া (الإسماعيلية / الباطنية):
- ষষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদিকের পর তারা মুসা আল-কাজিমের পরিবর্তে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইলকে সপ্তম ইমাম মানে।
- তারা শরীয়তের প্রকাশ্য বিধানকে অস্বীকার করে গোপন আধ্যাত্মিক অর্থ (বাতেন) দাবি করে। অতীতে ফাতেমী খিলাফত এবং কারামিতা চরমপন্থীরা এই মতের ছিল। বর্তমানে আগা খান ও বোহরা সম্প্রদায় এর অন্তর্ভুক্ত।
- জায়েদিয়া সম্প্রদায় (الزيدية):
- চতুর্থ ইমাম জয়নুল আবেদিনের পুত্র ইমাম জায়েদ ইবনে আলীর অনুসারী (বর্তমানে ইয়েমেনে বসবাসকারী হুছিরা এই ধারার)।
- তারা শিয়াদের মধ্যে সবচেয়ে সহনশীল ও সুন্নিদের কাছাকাছি। তারা আবু বকর ও ওমর (রা.)-এর খেলাফতকে বৈধ মানে এবং কোনো সাহাবীকে গালি দেয় না। তবে তারা আলীকে শ্রেষ্ঠ মনে করে।
- গুলাত বা চরমপন্থী শিয়া (الغلاة): সাবায়িয়্যাহ, নুসাইরিয়া (সিরিয়ার আলাভী) প্রভৃতি দল, যারা আলীকে খোদা মনে করত। এরা সর্বসম্মতভাবে কাফের।
উপসংহার
শিয়াদের মূল বিভ্রান্তি হলো তারা ইমামতকে নবুওয়াতের মতো ঈমানের স্তম্ভ বানিয়েছে এবং রাসূলের বিশ্বস্ত সাহাবায়ে কেরামের চরিত্র হনন করেছে, যা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী।
٥- تحدث عن أصول عقائد المعتزلة وفروعهم مفصلا-
[৫. মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের আকিদার মূলনীতি ও তাদের শাখাপ্রশাখা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরুতে ইসলামী বিশ্বে যুক্তিবাদী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে আত্মপ্রকাশকারী বিখ্যাত কালামি উপদলটির নাম ‘আল-মু’তাযিলাহ’ (المعتزلة)। তারা ওহীর বিপরীতে মানবীয় যুক্তি ও বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে আকিদার বিকৃতি ঘটিয়েছিল।
মু’তাযিলাদের উৎপত্তি
ইমাম হাসান আল-বসরী (রহ.)-এর মজলিসে যখন কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির ঈমানি অবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন তাঁর শিষ্য ওয়াসিল ইবনে আতা (৮০-১৩১ হি.) উস্তাদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন—কবিরা গুনাহগার মুমিনও নয়, কাফেরও নয়; বরং সে মধ্যবর্তী এক অবস্থানে (আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন) থাকবে। এ কথা বলে সে মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি খুঁটির পাশে গিয়ে বসে। তখন ইমাম হাসান বসরী বলেছিলেন: “ই’তাযালা আন্না ওয়াসিল” (ওয়াসিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে)। সেখান থেকেই এদের নাম ‘মু’তাযিলা’ হয়।
মু’তাযিলাদের আকিদার মৌলিক পঞ্চনীতি (الأصول الخمسة)
- আত-তাওহীদ (التوحيد): আল্লাহর একত্ববাদ প্রমাণের নামে তারা আল্লাহর চিরন্তন সিফাত বা গুণাবলিকে (যেমন ইলম, কুদরত, হায়াত) অস্বীকার করে। তাদের মতে সিফাত স্বীকার করলে একাধিক চিরন্তন সত্তা (তায়াদ্দুদুল কুদামা) মানতে হয়। এ নীতির কারণেই তারা ‘খালক্বে কুরআন’ (কুরআন আল্লাহর সৃষ্টি) এর কুফরি মতবাদ প্রচার করে এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলকে নির্যাতন করে। তারা আখেরাতে মুমিনদের আল্লাহকে দর্শন (রু’ইয়াতুল্লাহ) অস্বীকার করে।
- আল-আদল (العدل – ন্যায়বিচার): আল্লাহর ন্যায়বিচার প্রমাণের জন্য তারা দাবি করে যে, মানুষ নিজেই নিজের ভালো-মন্দ কাজের একক স্রষ্টা। আল্লাহ মানুষের ভাগ্যে কোনো খারাপি লেখেন না। এর মাধ্যমে তারা তাকদিরকে কার্যত অস্বীকার করে।
- আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (الوعد والوعيد – প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি): তাদের মতে, আল্লাহ নেককারকে জান্নাত দিতে এবং কবিরা গুনাহগারকে চিরস্থায়ী জাহান্নামে দিতে বাধ্য। আল্লাহ ইচ্ছা করলে কাউকে ক্ষমা করতে পারেন—এ বিশ্বাস তারা মানে না এবং নবীর শাফায়াত অস্বীকার করে।
- আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন (المنزلة بين المنزلتين): কবিরা গুনাহগার ব্যক্তি ঈমান থেকে বের হয়ে যায় কিন্তু কুফরে প্রবেশ করে না; সে ফাসেক এবং তওবা ছাড়া মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
- আল-আমরু বিল মারূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার: প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে রাষ্ট্রীয় শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করাকে তারা আবশ্যক মনে করে।
মু’তাযিলাদের প্রধান প্রধান শাখাসমূহ (فروع المعتزلة)
মু’তাযিলাদের মূলত দুটি বৃহৎ ভৌগোলিক বলয় ছিল:
- বসরা ধারা (মুতাজিলাতু বাসরিয়্যাহ): এর নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াসিল ইবনে আতা, আমর ইবনে উবাইদ, আল-আল্লাফ ও জাহিয। এরা দার্শনিক সূক্ষ্মতা নিয়ে আলোচনা করতেন।
- বাগদাদ ধারা (মুতাজিলাতু বাগদাদিয়্যাহ): এর নেতৃত্বে ছিলেন বিশর ইবনে মুতামির, সুমামা ইবনে আশরাস ও আহমাদ ইবনে আবি দুয়াদ। তারা আব্বাসীয় খলিফা মামুন, মুতাসিম ও ওয়াসিক বিল্লাহর দরবারে প্রভাব খাটিয়ে ‘মিহনা’ (ইনকুইজিশন) সৃষ্টি করেছিলেন।
উপসংহার
মু’তাযিলা মতবাদ যুক্তিকে অন্ধভাবে পূজা করতে গিয়ে ওহীর সীমানা অতিক্রম করেছিল। ইমাম আবুল হাসান আশআরীর জোরালো খণ্ডনের মুখে কালক্রমে এ মতবাদ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
٦- عرف الأشعرية ثم بين عقيدتها فى الأسماء والصفات الله تبارك وتعالى مفصلا ومدللا-
[৬. الأشعرية এর পরিচয় দাও। আল্লাহ তা’আলার নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাদের আকিদা দলিলসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা সংরক্ষণ ও কালাম শাস্ত্রীয় প্রতিরক্ষায় ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশয়ারী (রহ.) (২৬০-৩২৪ হি.)-এর প্রতিষ্ঠিত ধারাকে ‘আল-আশয়ারিয়্যাহ’ (الأشعرية) বলা হয়। মু’তাযিলা, জাহমিয়া ও মুশাব্বিহাদের বিভ্রান্তির খণ্ডন করে সালাফে সালেহীনের মধ্যপন্থী আকিদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ ধারা বিশ্বজুড়ে আহলুস সুন্নাহর মূলধারায় রূপ নেয়।
ইমাম আবুল হাসান আল-আশয়ারীর সংক্ষিপ্ত পরিচয়
তিনি প্রখ্যাত সাহাবী আবু মুসা আশআরী (রা.)-এর বংশধর ছিলেন। জীবনের প্রথম ৪০ বছর তিনি মু’তাযিলাদের প্রধান গুরু আবু আলী জুব্বায়ীর কাছে মু’তাযিলা কালাম অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে মু’তাযিলা দর্শনের অন্তঃসারশূন্যতা বুঝতে পেরে তিনি এক জুমার দিনে বসরার জামে মসজিদে মিম্বারে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মু’তাযিলা মতবাদ বর্জনের ঘোষণা দেন এবং কুরআন-সুন্নাহর মূলধারায় ফিরে আসেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-ইবানা আন উসূলিদ দিয়ানা’ ও ‘মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন’।
আল্লাহর আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে আশয়ারীদের আকিদা
- সিফাত সাব্যস্তকরণ (اثبات الصفات): মু’তাযিলাদের মতো তারা সিফাত অস্বীকার করেন না; বরং তারা প্রমাণ করেন যে আল্লাহ তা’আলার সত্তাগত ও কর্মগত পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি চিরন্তন ও সত্য।
- সাতটি মৌলিক সিফাতে ওয়াজিব (الصفات السبع): আশয়ারীগণের মতে বুদ্ধি ও শরীয়তের সমন্বয়ে আল্লাহর সাতটি মূল গুণাবলি অকাট্যভাবে সাব্যস্ত: হায়াত (জীবন), ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা), ইরাদা (ইচ্ছা), সামা’ (শ্রবণ), বাসার (দর্শন) এবং কালাম (কথা)।
- সাদৃশ্যহীনতা (তানযীহ – التنزيه): আল্লাহ তা’আলা কোনো সৃষ্টির মতো নন। আল্লাহ ইরশাদ করেন: “কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।” (সূরা আশ-শুরা: ১১)।
- খবরী বা রূপক সিফাতসমূহের ব্যাখ্যা (তাফউইদ ও তাবীল):
- কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত আল্লাহর ইয়াদ (হাত), ওয়াজহ (চেহারা), আইন (চোখ), ইসতিওয়া আলাল আরশ (আরশে সমাসীন হওয়া) ইত্যাদি আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে তাদের প্রধান নীতি হলো ‘তাফউইদ’ (التفويض): কোনো সৃষ্টির অঙ্গের সাদৃশ্য কল্পনা না করে এর মূল হাকিকত ও অর্থ আল্লাহর জ্ঞানের ওপর সোপর্দ করা (বেলা কাইফা ওয়ালা তাশবীহ)।
- পরবর্তী আশয়ারী উলামায়ে কেরাম অজ্ঞ জনসাধারণের ঈমান বাঁচাতে আরবি ভাষার অলঙ্কার ও রূপক প্রয়োগের ভিত্তিতে সম্মানজনক ‘তাবীল’ (التأويل) করেছেন; যেমন: ইয়াদ দ্বারা আল্লাহর কুদরত বা নেয়ামত এবং ইসতিওয়া দ্বারা আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্য ও সার্বভৌমত্ব ব্যাখ্যা করেছেন।
- কুরআন আল্লাহর কালাম: তারা বিশ্বাস করেন কুরআন আল্লাহর চিরন্তন কালাম (কালামে নাফসী), যা সৃষ্টি নয়।
উপসংহার
আশয়ারী আকিদা চরমপন্থী জাহমিয়া ও মুশাব্বিহাদের মধ্যবর্তী ইনসাফপূর্ণ পথ। ইমাম গাজ্জালী, ফখরুদ্দীন রাজি, ইমাম নববী ও ইবনে হাজার আসকালানীর মতো শ্রেষ্ঠ উলামায়ে কেরাম এ ধারারই অনুসারী ছিলেন।
٧- متى نشأت فرقة المشبهة والمجسمة واذكر عقائدهم المشهورة-
[৭. المشبهة والمجسمة সম্প্রদায়ের উৎপত্তি কখন হয়েছে? তাদের প্রসিদ্ধ আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী আকিদার ইতিহাসে মু’তাযিলাদের বিপরীত মেরুতে অবস্থানকারী এক বিভ্রান্ত উপদল হলো ‘মুশাব্বিহা’ (المشبهة) এবং ‘মুজাসসিমা’ (المجسمة)। আল্লাহর পবিত্র সত্তাকে মানবীয় আকৃতি, রক্ত-মাংস ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করে তারা আকিদার চরম বিকৃতি ঘটিয়েছিল।
মুশাব্বিহা ও মুজাসসিমার উৎপত্তি (متى نشأت؟)
হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমার্ধে এই চরমপন্থী উপদলের উৎপত্তি ঘটে। চরমপন্থী শিয়াদের নেতা হিশাম ইবনুল হাকাম, হিশাম ইবনে সালিম জাওয়ালীকী, মুকাতিল ইবনে সুলাইমান এবং বায়ান ইবনে সামআন এ ভ্রান্ত মতবাদের সূচনা করে। জাহমিয়া ও মু’তাযিলারা যখন আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করছিল, তখন তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এরা আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে সৃষ্টি ও মানুষের সাথে তুলনা শুরু করে।
মুশাব্বিহা ও মুজাসসিমাহদের আভিধানিক পরিচয়
- মুশাব্বিহা (المشبهة): যারা আল্লাহর সিফাতকে সৃষ্টির সিফাতের সাথে তুলনা (তাশবীহ) করে। যেমন বলা: আল্লাহর হাত মানুষের হাতের মতো।
- মুজাসসিমা (المجسمة): যারা আল্লাহর জন্য শারীরিক আকার, শরীর (জিসম), দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, ওজন ও স্থান গ্রহণ আবশ্যক মনে করে।
তাদের প্রসিদ্ধ ভ্রান্ত আকিদাসমূহ (عقائدهم المشهورة)
- আল্লাহর শারীরিক অবয়ব কল্পনা: হিশাম ইবনুল হাকাম দাবি করত: “আল্লাহ হলেন এমন এক আলোকোজ্জ্বল শরীর (জিসম), যার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা রয়েছে এবং তিনি সাত বিঘত লম্বা।” (নাউজুবিল্লাহ)।
- আল্লাহর জন্য মানুষের ন্যায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাব্যস্তকরণ: তারা বিশ্বাস করত আল্লাহর মাথা, চুল, চোখ, কান, দাঁত, হাত ও পা রয়েছে যা রক্ত-মাংসের ন্যায় বাস্তব অঙ্গ।
- আল্লাহর গতিবিধি ও স্থান পরিগ্রহ: তারা দাবি করত আল্লাহ আরশের ওপর সরাসরি উপবিষ্ট আছেন, আরশ তাঁর ভারে ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে এবং তিনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শারীরিকভাবে ওঠানামা করেন।
- আদমকে আল্লাহর অবয়বে সৃষ্টি সংক্রান্ত হাদিসের অপব্যাখ্যা: “আল্লাহ আদমকে তাঁর সুরতে সৃষ্টি করেছেন”—এ হাদিসের বিকৃত ব্যাখ্যা করে তারা খালিক ও মাখলুকের মাঝে কোনো পার্থক্য রাখেনি।
আহলুস সুন্নাহর অবস্থান ও খণ্ডন
মুশাব্বিহা ও মুজাসসিমারা কাফের ও মুশরিকদের মতো পৌত্তলিক মানসিকতার শিকার। কুরআন দ্ব্যর্থহীনভাবে তাদের মত বাতিল করেছে: “কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়” (সূরা আশ-শুরা: ১১) এবং “কোনো কিছুই তাঁর সমকক্ষ নয়” (সূরা আল-ইখলাস: ৪)। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে কাফের হয়ে গেল।”
٨- عرف الفرقة الناجية ثم بين خصائصها ومعيارها مفصلا-
[৮. الفرقة الناجية এর পরিচয় দাও। এদের বৈশিষ্ট্য ও মানদণ্ড বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ৭৩ দলের মাঝে যে একমাত্র দলটি জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করবে, ইসলামী পরিভাষায় তাকে ‘আল-ফিরক্বাতুন নাজিয়াহ’ (الفرقة الناجية – মুক্তিপ্রাপ্ত দল) বলা হয়। এরা হলেন সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীনের অনুসারী সুমহান কাফেলা ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত’।
আল-ফিরক্বাতুন নাজিয়াহর পরিচয় (تعريف الفرقة الناجية)
হাদিস শরিফে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের পরিচয় দিতে গিয়ে বিশ্বনবী (সা.) দুটি অকাট্য মানদণ্ড ঘোষণা করেছেন:
- হাদিসের ভাষ্য ১: সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল কারা? তিনি উত্তর দিলেন: “মা আনা আলাইহি ওয়া আসহাবী” (ما أنا عليه وأصحابي) – “আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছি।” (সুনানে তিরমিজি)।
- হাদিসের ভাষ্য ২: অপর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বললেন: “আল-জামাআহ” (الجماعة) – “উম্মাহর মূল সুসংহত জামায়াত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম সমাজ।” (সুনানে আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।
মুক্তিপ্রাপ্ত দলের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص الفرقة الناجية)
- কুরআন ও সুন্নাহর একনিষ্ঠ অনুসরণ (الاتباع لا الابتداع): তারা ধর্মে কোনো নতুন বিদআত উদ্ভাবন করে না; বরং রাসূল (সা.) ও সাহাবীগণের খাঁটি সুন্নাহকে অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করে।
- সাহাবায়ে কেরামের মানহাজের প্রতি আনুগত্য: তারা সাহাবায়ে কেরামকে দ্বীন বোঝার ও আমলের সর্বশ্রেষ্ঠ মাপকাঠি মনে করে এবং তাঁদের সকলকে ন্যায়পরায়ণ (উদুল) বিশ্বাস করে অন্তরে সম্মান পোষণ করে।
- চরমপন্থা ও শৈথিল্যবাদের মাঝে মধ্যপন্থা (الوسطية): তারা খারেজিদের মতো উগ্র তাকফিরে লিপ্ত হয় না, আবার মুরজিয়াদের মতো আমলহীন নিষ্ক্রিয়তায় বিশ্বাস করে না। তারা মু’তাযিলাদের মতো সিফাত অস্বীকার করে না, আবার মুশাব্বিহাদের মতো সাদৃশ্যও দেয় না।
- উম্মাহর সামগ্রিক ঐক্য সংরক্ষণ: কোনো মতভেদীয় শাখাগত বিষয়ে অন্য মুসলমানকে কাফের ফতোয়া দেয় না এবং দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব ও মুসলিম জামায়াতের ঐক্য রক্ষা করে।
- আমির বিল মারূফ ও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ: সমাজে ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের প্রতিরোধ এবং দ্বীনকে বিজয়ী করার সংগ্রামে অবিচল থাকা।
মুক্তিপ্রাপ্ত দল চেনার অকাট্য মানদণ্ড (معيارها)
- আকিদার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন, ইমাম আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ী, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম তাহাবী, আশআরী ও মাতুরিদীর সুপ্রতিষ্ঠিত মূলধারার অনুসারী হওয়া।
- রাসূলের কোনো সহীহ হাদিসের বিপরীতে নিজের বিবেক বা পীরের মতকে প্রাধান্য না দেওয়া।
- সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইতের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা।
উপসংহার
ফিরক্বাতুন নাজিয়াহ কোনো বিশেষ বংশ বা অঞ্চলের নাম নয়; যে ব্যক্তিই সহীহ আকিদা নিয়ে সাহাবীগণের পথে চলবে, সে-ই এই মুক্তিপ্রাপ্ত কাফেলার সম্মানিত সদস্য।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
٩- من هم القرآنية (أهل القرآن)؟ صفهم بالإيجاز-
[৯. আল-কুরআনিয়া (আহলে কুরআন) কারা? সংক্ষেপে তাদের পরিচয় দাও।]
উত্তর
পরিচয়: ‘আল-কুরআনিয়া’ বা আহলে কুরআন হলো আধুনিক যুগের একটি ভয়াবহ বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট দল, যারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস ও সুন্নাহকে শরীয়তের উৎস হিসেবে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং কেবল কুরআনের ওপর আমল করার মিথ্যা দাবি করে।
তাদের বিভ্রান্তি ও হুকুম:
- ব্রিটিশ আমলে ভারতে আবদুল্লাহ চক্রালভী ও গোলাম আহমদ পারভেজ এ মতবাদের বিষবাষ্প ছড়ায়।
- হাদিস অস্বীকার করলে সালাতের রাকাত সংখ্যা, রুকু-সিজদা, জাকাতের নিসাব ও হজের কোনো নিয়মই পালন করা সম্ভব নয়। হাদিস ছাড়া কুরআন বোঝা অসম্ভব।
- মুহাদ্দিস ও ফুকাহায়ে কেরামের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী হাদিস অস্বীকারকারী কুরআনিয়্যাহরা ইসলামের গণ্ডি বহির্ভূত ও কাফের।
١٠- عرف المرجئة-
[১০. المرجئة সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও।]
উত্তর
মুর্জিয়াদের পরিচয়: ‘মুরজিয়া’ শব্দটি ‘ইরজা’ (إرجاء) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পিছিয়ে দেওয়া বা বিলম্বিত করা। শরীয়তের পরিভাষায়, যারা আমলকে ঈমানের অংশ মনে করে না এবং বলে যে—ঈমান থাকলে কোনো গুনাহ মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, তাদেরকে মুরজিয়া বলা হয়।
তাদের মূল আকিদা:
- তাদের মূল স্লোগান হলো: “কুফরের সাথে যেমন নেক আমল কোনো উপকারে আসে না, তেমনি ঈমানের সাথে কোনো পাপও ঈমানের ক্ষতি করতে পারে না।” (لا يضر مع الإيمان معصية)।
- তাদের মতে সবচেয়ে পাপাচারী ফাসেক ব্যক্তি এবং জিবরাইল (আ.)-এর ঈমান সমান। এ মতবাদ মানুষকে আমলহীন ও চরম পাপাচারী হতে উৎসাহিত করে।
١١- اكتب أسماء فرق الخوارج-
[১১. খারেজি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দলের নামগুলো লেখ।]
উত্তর
ঐতিহাসিক বিভক্তির পর খারেজি সম্প্রদায় বহু উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আব্দুল কাহির আল-বাগদাদী ও শাহরাস্তানী (রহ.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী তাদের প্রধান দলগুলো নিম্নরূপ:
- আল-আজারিকাহ (الأزارقة): নাফে ইবনে আজরাকের অনুসারী (সর্বাপেক্ষা রক্তপিপাসু ও চরমপন্থী শাখা)।
- আন-নাজদাত (النجدات): নাজদা ইবনে আমির আল-হানাফীর দল।
- আস-সুফরিয়্যাহ (الصفرية): জিয়াদ ইবনুল আসফারের অনুসারী।
- আল-ইবাদিয়্যাহ (الإباضية): আব্দুল্লাহ ইবনে ইবাদ আল-মুররীর দল (খারেজিদের মধ্যে সবচেয়ে মধ্যপন্থী, যারা এখনও ওমানে বিদ্যমান)।
- আল-হারুরিয়্যাহ (الحرورية): হারুরায় জমায়েত হওয়া আদি খারেজি দল।
- আল-মুহাক্কিমাহ (المحكمة): যারা ‘লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ’ স্লোগান তুলেছিল।
١٢- عرف الجبرية-
[১২. الجبرية সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও।]
উত্তর
জাবারিয়াদের পরিচয়: ‘জাবারিয়া’ (الجبرية) শব্দটি ‘জবর’ (বাধ্যবাধকতা) থেকে উদ্ভূত। এটি এমন একটি চরমপন্থী আকিদাগত দল, যারা বিশ্বাস করে মানুষের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা, স্বাধীনতা বা কর্মক্ষমতা নেই; মানুষ বাতাসের মুখে গাছের শুকনো পাতার মতো সম্পূর্ণ নিরুপায় ও বাধ্য।
তাদের আকিদার কুফল:
- এদের প্রতিষ্ঠাতা ছিল জাহম ইবনে সাফওয়ান ও জাদ ইবনে দিরহাম।
- তারা দাবি করে মানুষ ভালো কাজ বা গুনাহ করতে বাধ্য। এর ফলে তারা প্রকারান্তরে মানুষের পাপের দায় আল্লাহর ওপর চাপিয়ে দেয়, যা চরম কুফরি।
- আহলুস সুন্নাহর মতে মানুষ বাধ্যও নয়, আবার স্বাধীন স্রষ্টাও নয়; বরং আল্লাহ মানুষকে ইচ্ছা ও ক্ষমতা দিয়েছেন যার ভিত্তিতে মানুষ কর্ম উপার্জন (কাসব) করে এবং শাস্তি বা পুরস্কার পায়।
١٣- عرف فرقة الجهمية مع بيان عقائدهم-
[১৩. الجهمية সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও এবং তাদের আকিদাগুলো বর্ণনা কর।]
উত্তর
জাহমিয়ার পরিচয়: দ্বিতীয় হিজরি শতকে জাহম ইবনে সাফওয়ান (১২৮ হি.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এক চরম বিভ্রান্ত উপদলকে ‘জাহমিয়া’ (الجهمية) বলা হয়।
তাদের প্রধান আকিদাসমূহ:
- আল্লাহর সমস্ত সিফাত অস্বীকার (তা’তীল): তারা আল্লাহর সমস্ত নাম ও গুণাবলিকে অস্বীকার করত। এ জন্য সালাফগণ তাদের কাফের বলেছেন।
- কুরআন সৃষ্টি হওয়ার দাবি (খালক্বে কুরআন): কুরআন আল্লাহর কালাম নয়, বরং সৃষ্ট বস্তু।
- জান্নাত ও জাহান্নামের বিনাশ: তারা বিশ্বাস করত একসময় জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস হয়ে যাবে এবং কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
- চরম ইরজা ও জবর: অন্তরে শুধু চেনার নামই ঈমান, কোনো আমলের প্রয়োজন নেই।
١٤- تحدث عن ضلالة القاديانية بالإيجاز-
[১৪. কাদিয়ানীদের পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
উত্তর
কাদিয়ানীদের পরিচয়: ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান নিবাসী মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮ খ্রি.) ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলমানদের জিহাদী চেতনা ধ্বংস করার লক্ষ্যে নিজেকে ‘নবী’, ‘প্রতিশ্রুত মসীহ’ ও ‘মাহদী’ দাবি করে যে ভণ্ড দলের জন্ম দেয়, তাকে কাদিয়ানী (আহমদিয়া) সম্প্রদায় বলা হয়।
তাদের প্রধান কুফরি আকিদাসমূহ:
- খতমে নবুওয়াত অস্বীকার: মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে অস্বীকার করে মির্জা কাদিয়ানীকে উম্মতী নবী মানা।
- ঈসা (আ.)-এর প্রতি কুৎসা রটনা: হযরত ঈসা (আ.)-কে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী দাবি করা এবং কাশ্মীরে তাঁর কবর কল্পনা করা।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জিহাদ হারাম ঘোষণা: দখলদার ইংরেজদের আনুগত্যকে ইসলামের অংশ ঘোষণা করা।
- হুকুম: ১৯৭৪ সালে রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী এবং পাকিস্তানের জাতীয় সংসদসহ সমগ্র মুসলিম জাহানের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী কাদিয়ানীরা ইসলামের গণ্ডি বহির্ভূত অমুসলিম কাফের ও মুরতাদ।
١٥- عرف الإيمان بالقدر-
[১৫. الإيمان بالقدر এর পরিচয় দাও।]
উত্তর
তাকদিরে ঈমানের পরিচয়: ‘কদর’ (القدر) অর্থ পরিমাপ, নির্ধারণ ও ভাগ্য। শরীয়তের পরিভাষায়, মহাবিশ্বের সৃষ্টি থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে ও ঘটবে, তা সবই মহান আল্লাহ তাঁর অনাদি জ্ঞানে জানেন, লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন, তাঁর ইচ্ছায় নির্ধারিত করেছেন এবং তাঁর শক্তিতেই সৃষ্টি করেছেন—এ বিশ্বাসকে তাকদিরে ঈমান বলা হয়। এটি ঈমানের ছয়টি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম।
তাকদিরে ঈমানের চারটি স্তর (مراتب القدر):
- ইলম (العلم): আল্লাহর সর্বব্যাপী অনাদি জ্ঞান।
- কিতাবাত (الكتابة): সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে রাখা।
- মাশিয়্যাত (المشيئة): আল্লাহর সার্বভৌম ইচ্ছা; তিনি যা চান তা হয়, যা চান না তা কখনো হয় না।
- খালক্ব (الخلق): আল্লাহই সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র স্রষ্টা।
١٦- اكتب أسماء خمسة كتب لأهل السنة والجماعة-
[১৬. আকিদা সংক্রান্ত আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখ।]
উত্তর
সহীহ আকিদা সংরক্ষণে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ইমামগণ বহু কালজয়ী কিতাব রচনা করেছেন। তন্মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ পাঁচটি গ্রন্থ নিম্নরূপ:
- আল-আকিদাতুত তাহাবিয়্যাহ (العقيدة الطحاوية): ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাহাবী (রহ.) (২৩৯-৩২১ হি.) রচিত আহলুস সুন্নাহর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সার্বজনীন আকিদা গ্রন্থ।
- আল-ফিকহুল আকবার (الفقه الأكبر): ইমামে আজম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত (রহ.) (৮০-১৫০ হি.) রচিত আকিদার প্রাচীনতম নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ।
- আল-ইবানা আন উসূলিদ দিয়ানা (الإبانة عن أصول الديانة): ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশয়ারী (রহ.) (২৬০-৩২৪ হি.) রচিত।
- আল-আকিদাতুল ওয়াসেতিয়্যাহ (العقيدة الواسطية): শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) (৬৬১-৭২৮ হি.) রচিত।
- কিতাবুত তাওহীদ (كتاب التوحيد): ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব (রহ.) রচিত তাওহীদের বিশুদ্ধতার এক অনন্য সংকলন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ইসলামি দলসমূহ ও তাদের আকিদা পাঠের মূল উদ্দেশ্য কী?
ইতিহাসে কীভাবে সহীহ আকিদা থেকে বিভিন্ন দল বিচ্যুত হয়েছিল তা জানা এবং বিভ্রান্তিকর মতবাদগুলো শনাক্ত করে আহলুস সুন্নাহর সঠিক পথে অবিচল থাকা।
২. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত কাদের বলা হয়?
যারা রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরামের বিশ্বাস ও আমলের মূলধারার ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত, তাদেরকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত বলা হয়।
৩. খারেজিদের প্রধান ভ্রান্তি কী ছিল?
তারা যেকোনো কবিরা গুনাহগার মুসলমানকে কাফের মনে করত এবং মুসলিম শাসক ও সাহাবীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে রক্তপাত ঘটাত।
৪. মু’তাযিলাদের ‘খালক্বে কুরআন’ মতবাদ কী?
মু’তাযিলাদের দাবি ছিল আল-কুরআন আল্লাহর চিরন্তন কালাম নয়, বরং এটি একটি সৃষ্ট বস্তু; যা আহলুস সুন্নাহর দৃষ্টিতে স্পষ্ট কুফরি।
৫. কাদিয়ানী সম্প্রদায় কেন অমুসলিম?
কারণ তারা ইসলামের অন্যতম মৌলিক অকাট্য আকিদা ‘খতমে নবুওয়াত’ অস্বীকার করে মির্জা গোলাম আহমদকে নতুন নবী হিসেবে দাবি করে।
৬. আল-ফিরক্বাতুন নাজিয়াহ বা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মানদণ্ড কী?
বিশ্বনবী (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত কুরআন ও সুন্নাহর পথকে কোনো সংযোজন-বিয়োজন ছাড়া খাঁটিভাবে আঁকড়ে ধরাই মুক্তিপ্রাপ্ত দলের একমাত্র মানদণ্ড।