জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-মাযাহিব আল-ফিকহিয়্যাহ (Al-Madhahib al-Fiqhiyyah) – 203806, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৬৩ মিনিট পড়ার সময়
১৪ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۳
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
المذاهب الفقهية
[আল-মাযাহিবুল ফিকহিয়্যাহ]
বিষয় কোড: ২০৩৮০৬ | পরীক্ষা কোড: ২০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৩৪
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

١- ما معنى علم الفقه؟ ثم بين نشأته وتطوره ومصادره مفصلا-

[১. ফিকহ শাস্ত্রের অর্থ কী? অতঃপর এর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং উৎসসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামী জীবনব্যবস্থায় মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের আচার-আচরণ, ইবাদত-বন্দেগী ও পারস্পরিক লেনদেনের বিধিবিধান যে শাস্ত্রের মাধ্যমে সুবিন্যস্ত ও কার্যকর হয়, তার নাম ‘ইলমুল ফিকহ’ (علم الفقه)। ফিকহ হলো পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর প্রায়োগিক ব্যবহারিক আইনের এক সুবিশাল জ্ঞানভাণ্ডার।

ইলমুল ফিকহের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

আভিধানিক অর্থ: ‘ফিকহ’ (الفقه) শব্দের অর্থ গভীর উপলব্ধি, সূক্ষ্ম জ্ঞান ও বোধশক্তি। পবিত্র কুরআনে এসেছে: “তাদের কী হলো যে, তারা কোনো কথাই বুঝতে (يفقهون) পারছে না?” (সূরা আন-নিসা: ৭৮)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:

  1. ইমাম আবু হানিফা (রহ.): “ফিকহ হলো মানুষের জন্য যা কিছু কল্যাণকর এবং যা কিছু অকল্যাণকর ও ক্ষতিকর তা জানা।” (الفقه معرفة النفس ما لها وما عليها)।
  2. জমহুর ফুকাহায়ে কেরামের মতে: “সুনির্দিষ্ট দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরীয়তের ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক হুকুম-আহকাম সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করার নামই ফিকহ।” (العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسبة من أدلتها التفصيلية)।

ফিকহ শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (نشأة الفقه وتطوره)

  1. নবুওয়াত যুগ (প্রথম পর্যায়): সরাসরি ওহী (কুরআন ও সুন্নাহ)-র মাধ্যমে বিধান প্রবর্তিত হতো। কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) ওহীর মাধ্যমে তার তাৎক্ষণিক ফয়সালা দিতেন। এ যুগে মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় ইজতিহাদের ভিত্তি ঘোষিত হয়।
  2. খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবা যুগ (দ্বিতীয় পর্যায়): ওহীর পরিসমাপ্তির পর নতুন নতুন দেশ জয়ের ফলে নতুন সমস্যা দেখা দেয়। খলিফাগণ সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করে ইজমা ও কিয়াস প্রয়োগ করতেন। শীর্ষ ফকিহ ছিলেন ওমর, আলী, ইবনে মাসউদ, আয়েশা ও জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)।
  3. তাবেঈ যুগ (তৃতীয় পর্যায়): মদিনায় ‘ফুকাহায়ে সাবআ’ (সাতজন শীর্ষ ফকিহ) এবং কুফায় ইব্রাহিম নাখয়ী ও আলকামাহর মাধ্যমে ফিকহের প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ঘটে। ফিকহ প্রধানত দুটি ধারায় বিভক্ত হয়: হিজাজের ‘আহলে হাদিস’ এবং ইরাকের ‘আহলে রায়’।
  4. মাজহাব ও ইজতিহাদের স্বর্ণযুগ (চতুর্থ পর্যায় – ২য় ও ৩য় হিজরি শতক): এ যুগে উম্মাহর চার মহান ইমাম—আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ী এবং আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর নেতৃত্বে উসূলুল ফিকহ ও ফিকহের সুবিশাল মূলনীতি রচিত হয় এবং ফিকহি সংকলন পূর্ণতা পায়।

ফিকহের মৌলিক চার উৎস (مصادر الفقه)

  1. আল-কুরআনুল কারীম (القرآن الكريم): শরীয়তের সর্বপ্রথম ও সর্বোচ্চ চূড়ান্ত অকাট্য উৎস।
  2. আস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (السنة النبوية): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতি, যা কুরআনের ব্যাখ্যা ও সম্পূরক আইন।
  3. আল-ইজমা (الإجماع): রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগের মুসলিম মুজতাহিদগণের কোনো শরয়ি বিষয়ে সর্বসম্মত ঐক্যমত।
  4. আল-কিয়াস (القياس): কোনো নতুন বিষয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর কারণ (ইল্লত)-এর সামঞ্জস্যতার ভিত্তিতে কুরআন-সুন্নাহর মূল বিধানে অন্তর্ভুক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

উপসংহার

ইলমুল ফিকহ কুরআন ও সুন্নাহর গতিশীল রূপ। এটি যুগোপযোগী সমাধানের মাধ্যমে মানবজাতিকে কিয়ামত পর্যন্ত শরীয়তের আলোকিত পথে পরিচালনার সার্বিক সক্ষমতা রাখে।


٢- ما معنى التقليد؟ وكم قسما له؟ هل يجوز تقليد الشخص؟ ومتى بدأ عصر التقليد؟ بين مفصلا-

[২. তাকলীদ অর্থ কী? এর কত প্রকার? তাকলীদে শাখসী কি জায়েজ? তাকলীদের যুগ কখন শুরু হয়েছিল? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামী শরীয়তের বিধানাবলি সাধারণ মানুষের জন্য সহজতর করার লক্ষ্যে মুজতাহিদ ফকিহগণের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যার অনুসরণকে ‘তাকলীদ’ (التقليد) বলা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য তাকলীদ দ্বীন পালনের একটি অপরিহার্য বাস্তব মাধ্যম।

তাকলীদের অর্থ ও সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: তাকলীদ শব্দটি ‘ক্বিলাদাহ’ (قلادة) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ গলায় হার বা রশি পরানো, কারো আনুগত্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: উসূলুল ফিকহের পরিভাষায়, দলিল-প্রমাণের পূর্ণাঙ্গ যাচাইয়ের সামর্থ্য না রেখে কোনো মুজতাহিদ আলেমের ফতোয়া বা সিদ্ধান্তকে দলিলের বিশুদ্ধতার সুধারণার ভিত্তিতে বিনাবাক্যে মেনে নেওয়াকে তাকলীদ বলে। (العمل بقول الغير من غير حجة ملزمة)।

তাকলীদের প্রকারভেদ (أقسام التقليد)

  1. তাকলীদে ওয়াজিব (মহতী তাকলীদ): যে ব্যক্তি সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে আহকাম বের করার যোগ্যতাসম্পন্ন নন (আম্মি বা সাধারণ মানুষ), তার জন্য কোনো মুজতাহিদ আলেমের তাকলীদ করা ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন: “অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো।” (সূরা আন-নাহল: ৪৩)।
  2. তাকলীদে হারাম (নিষিদ্ধ তাকলীদ): বাপ-দাদার পৌত্তলিক রীতির অন্ধ অনুসরণ করা, শরীয়তের অকাট্য দলিল সামনে থাকার পরও কোনো ব্যক্তির ভুলের অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করা অথবা মুজতাহিদ ব্যক্তির জন্য অন্যের তাকলীদ করা।
  3. তাকলীদে মুতলাক (আম): কোনো নির্দিষ্ট ফকিহকে নির্দিষ্ট না করে যখন যে বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ফতোয়া পাওয়া যায় তা মানা (প্রাথমিক যুগে যা প্রচলিত ছিল)।
  4. তাকলীদে শাখসী (সুনির্দিষ্ট তাকলীদ): কোনো একজন সুনির্দিষ্ট মুজতাহিদ ইমামের ফিকহি মাজহাবের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা।

তাকলীদে শাখসীর হুকুম (هل يجوز تقليد الشخص؟)

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের জমহুর উলামায়ে কেরাম ও ফুকাহায়ে কেরামের মতে: তাকলীদে শাখসী কেবল জায়েজই নয়, বরং বিশৃঙ্খলা ও খেয়ালখুশির ফতোয়া শিকার হওয়া থেকে বাঁচার জন্য এটি ওয়াজিবের সমতুল্য।
কারণ: কেউ যদি বিভিন্ন মাজহাব থেকে নিজের মনমতো সুবিধা বেছে নেয় (তালফীক্ব), তবে শরীয়ত খেলনায় পরিণত হবে এবং মানুষ নফসের গোলামে পরিণত হবে। কোনো একটি সুসংহত মাজহাব (যেমন হানাফি, শাফেয়ী, মালেকি বা হাম্বলী) মেনে চললে দ্বীন পালনে ধারাবাহিকতা ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত হয়।

তাকলীদের যুগের সূচনা (متى بدأ عصر التقليد؟)

হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগে (আনুমানিক ৩৫০-৪০০ হিজরি) বাগদাদসহ মুসলিম বিশ্বে মুতলাক ইজতিহাদের স্বর্ণযুগ স্তিমিত হয়ে আসে। ফুকাহায়ে কেরাম অনুভব করলেন যে, দ্বীনি মৌলিক মাসআলাসমূহ চার ইমাম ও তাঁদের শিষ্যগণ কর্তৃক সুবিন্যস্তভাবে সংকলিত হয়ে গেছে এবং সমাজে তাকওয়ার অভাব ও আত্মপূজার বিস্তার ঘটছে। ফলে বিভ্রান্তি এড়াতে আলেম সমাজ সর্বসম্মতভাবে চার মাজহাবের তাকলীদকে সুনির্দিষ্ট করেন। সেই থেকে আজও তাকলীদের এ সুশৃঙ্খল ধারা উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করে আসছে।


٣- عرف المذاهب الاربعة- وما الحاجة فى اتباعها؟ ثم بين نشأته وتطوره-

[৩. চার মাজহাবের পরিচয় দাও। এগুলো অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা কী? অতঃপর এদের উৎপত্তি ও বিকাশ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মূলধারার ফিকহি ব্যাখ্যা চারটি সুপ্রতিষ্ঠিত মাজহাবের মাঝে পুঞ্জীভূত হয়েছে। এগুলো হলো হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী এবং হাম্বলী মাজহাব। এগুলো পরস্পর কোনো বিরোধপূর্ণ ধর্ম নয়; বরং একই সত্য কুরআন ও সুন্নাহর চারজন মহান বিশেষজ্ঞ কর্তৃক ভিন্ন ভিন্ন মেজাজে প্রণীত রূপরেখা।

চার মাজহাবের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

  1. হানাফি মাজহাব: ইমামে আজম আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত (রহ.) (৮০-১৫০ হি.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। যুক্তি, কিয়াস, ইস্তিহসান ও পরামর্শভিত্তিক ইজতিহাদের জন্য সুপরিচিত। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মধ্য এশিয়ায় সর্বাধিক অনুসারী।
  2. মালেকি মাজহাব: ইমামু দারিল হিজরাহ মালেক ইবনে আনাস (রহ.) (৯৩-১৭৯ হি.) প্রতিষ্ঠিত। মদিনাবাসীদের আমল (আমালু আহলিল মাদীনা) ও মাসলাহাতুল মুরসালাহর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকায় প্রধান।
  3. শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ী (রহ.) (১৫০-২০৪ হি.) প্রতিষ্ঠিত। তিনি উসূলুল ফিকহের প্রথম গ্রন্থ ‘আর-রিসালাহ’ রচনা করেন এবং হাদিস ও কিয়াসের চমৎকার সমন্বয় ঘটান। মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইয়েমেনে এটি প্রধান।
  4. হাম্বলী মাজহাব: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানী (রহ.) (১৬৪-২৪১ হি.) প্রতিষ্ঠিত। সরাসরি নাস (কুরআন-হাদিস) এবং আসারের ওপর কঠোর নির্ভরতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে এটি কার্যকর।

চার মাজহাব অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা (الحاجة في اتباعها)

  1. সাধারণ মানুষের পক্ষে সরাসরি ইজতিহাদের অসাধ্যতা: কুরআন ও হাদিস থেকে বিধান বের করার জন্য নাসেখ-মানসুখ, আম-খাস, মুতলাক-মুকাইয়্যাদ, আরবি ভাষা ও ইলমে রিজালের যে অগাধ পাণ্ডিত্য প্রয়োজন, তা সাধারণ মানুষের নেই।
  2. ধর্মীয় নৈরাজ্য ও খেয়ালখুশির অনুসরণ রোধ: মাজহাব না থাকলে যে কেউ নিজের খেয়ালখুশিমতো সুবিধাজনক ব্যাখ্যা দিয়ে দ্বীনকে বিকৃত করত।
  3. সুসংহত ফিকহি এনসাইক্লোপিডিয়া: চার মাজহাব কেবল চার ব্যক্তির মত নয়; হাজার হাজার মুহাদ্দিস ও ফকিহ বারো শত বছর ধরে এর প্রতিটি মাসআলা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সংকলন করেছেন।

চার মাজহাবের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

রাসূল (সা.)-এর পর সাহাবীগণের ফতোয়াগুলোকে কেন্দ্র করে মক্কা, মদিনা, কুফা ও বসরায় ইলমি বলয় গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় হিজরি শতকে ইমাম আবু হানিফা কুফায় একটি ৪০ সদস্যের ফিকহ একাডেমি গড়ে তোলেন। এরপর ইমাম মালেক মদিনার আমল সংকলন করেন। ইমাম শাফেয়ী উভয় ধারাকে সমন্বয় করেন এবং সবশেষে ইমাম আহমদ হাদিসের ওপর ভিত্তিশীল মাজহাব সংকলন করেন। পরবর্তী যুগে তাঁদের সুযোগ্য শিষ্যদের মাধ্যমে কিতাবাদি রচিত হয়ে তা বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।


٤- اكتب نبذة من حياة الإمام الاعظم ابى حنيفة (رح)- ثم بين مساهمته فى الفقه وبعض المزايا للفقه الحنفى-

[৪. ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর ফিকহে তাঁর অবদান এবং হানাফি ফিকহের কতিপয় বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ফিকহ শাস্ত্রের মহান স্থপতি ও মুসলিম বিশ্বের অবিসংবাদিত ইমাম হলেন ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.)। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক সত্য উচ্চারণ করেছেন: “ফিকহের ক্ষেত্রে সমস্ত মানুষই আবু হানিফার সন্তান বা নির্ভরশীল।” (الناس في الفقه عيال على أبي حنيفة)।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাম ও জন্ম: তাঁর আসল নাম নোমান, পিতার নাম সাবিত। তিনি ৮০ হিজরিতে (৬৯৯ খ্রি.) ইরাকের কুফা নগরীতে এক সম্ভ্রান্ত ও বিত্তবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাবেঈর মর্যাদা: তিনি আনাস ইবনে মালেক (রা.) সহ একাধিক সাহাবায়ে কেরামকে স্বচক্ষে দেখেছেন, তাই তিনি সর্বসম্মতভাবে একজন মর্যাদাবান ‘তাবেঈ’।

শিক্ষা ও শিক্ষকগণ: তিনি কুফার প্রখ্যাত আলেম হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমানের নিকট একটানা ১৮ বছর ফিকহ অধ্যয়ন করেন। এছাড়া তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ, ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির ও জাফর আস-সাদিকের সান্নিধ্য লাভ করেন।

চরিত্র ও যুহদ: তিনি অত্যন্ত ধনাঢ্য রেশম ব্যবসায়ী ছিলেন, তবে ছিলেন চরম পরহেজগার। রাতের পর রাত তাহাজ্জুদে এক রাকাতে কুরআন খতম করতেন। খলিফা আল-মনসুর কর্তৃক প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয় এবং ১৫০ হিজরিতে বিষপ্রয়োগে শহীদ করা হয়।

ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান

  1. ফিকহ শাস্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংকলন: তিনিই প্রথম ফিকহকে কিতাবুত তাহারাত, কিতাবু সালাত, কিতাবুল বুয়ু ইত্যাদি অধ্যায়ভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিকভাবে লিপিবদ্ধ করান।
  2. পরামর্শমূলক একাডেমি (মজলিসে শুরা): তিনি এককভাবে ফতোয়া দিতেন না; বরং ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ ও জুফারের মতো ৪০ জন শীর্ষ মুহাদ্দিস ও বিশেষজ্ঞকে নিয়ে পরামর্শের মাধ্যমে দীর্ঘ বিতর্কের পর মাসআলা চূড়ান্ত করতেন।
  3. ফিকহে তাকদীরী (কাল্পনিক ফিকহ): ভবিষ্যতে যেসব সমস্যা তৈরি হতে পারে তারও আগাম ফিকহি সমাধান বের করে রেখেছিলেন, যা আধুনিক যুগের জটিল সমস্যার সমাধানে পথ দেখাচ্ছে।

হানাফি ফিকহের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ (مزايا الفقه الحنفي)

  1. সহজসাধ্যতা ও মানবিক অনুকম্পা (التيسير): মানুষের কষ্ট লাঘব ও সহজীকরণের নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া।
  2. কিয়াস ও ইস্তিহসানের প্রাধান্য: বাহ্যিক রূপের চেয়ে শরীয়তের অন্তর্নিহিত হিকমত ও মানবকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
  3. ব্যক্তিগত স্বাধীনতার স্বীকৃতি: প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন নারীকে নিজের বিবাহে অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীতও নিজের পছন্দের অধিকার দেওয়া।
  4. ব্যাপক বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা: উসমানীয় ও মুঘল সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় আইন হানাফি ফিকহের ভিত্তিতে রচিত হওয়ায় এটি আজও বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মুসলমানের অনুসৃত মাজহাব।

٥- وازن بين الفقه الحنفي والفقه الشافعي مفصلا-

[৫. ফিকহে হানাফি এবং ফিকহে শাফেয়ীর তুলনামূলক আলোচনা কর।]

ভূমিকা

আহলুস সুন্নাহর ফিকহি ধারার মধ্যে হানাফি ও শাফেয়ী মাজহাব সর্বাধিক বিস্তৃত ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুবিন্যস্ত। উভয় মাজহাবই কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলেও উসূলি মূলনীতি, দৃষ্টিভঙ্গি এবং পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে শাখাগত মাসআলায় কিছু চমৎকার বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।

উসূলি পদ্ধতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ

  1. হাদিসে আহাদ বনাম কুরআনের আম: হানাফি মাজহাবে কুরআনের সাধারণ নির্দেশ (আম) নিশ্চিত ও অকাট্য (কত’ঈ)। তাই কোনো একাকী বর্ণিত হাদিস (খবরে ওয়াহেদ) দ্বারা কুরআনের আম হুকুমের শর্তযুক্ত করা বা বৃদ্ধি করা যায় না; একে ‘নাসেখ’ ধরা হয়। পক্ষান্তরে শাফেয়ী মাজহাবে খবরে ওয়াহেদ দ্বারা কুরআনের সাধারণ বিধানকে খাস বা শর্তযুক্ত করা সম্পূর্ণ বৈধ।
  2. ফরজ ও ওয়াজিবের বিভাজন: হানাফিগণ অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত বিধানকে ‘ফরজ’ এবং প্রবল ধারণাপ্রসূত (জান্নী) দলিল দ্বারা প্রমাণিত বিধানকে ‘ওয়াজিব’ বলেন। ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর মতে ফরজ ও ওয়াজিব সমার্থক (হজের কিছু ক্ষেত্র ছাড়া)।
  3. ইস্তিহসান বনাম কিয়াস: হানাফিগণ জনকল্যাণে বাহ্যিক কিয়াস ছেড়ে ‘ইস্তিহসান’ (উত্তম সমাধান) গ্রহণ করেন। ইমাম শাফেয়ী ইস্তিহসানকে নফসের ইচ্ছা মনে করে বর্জন করেন (“মানিস্তাহসানা ফাকাদ শারা’আ”)।

শাখা-প্রশাখাগত মাসআলায় তুলনামূলক পার্থক্য

  1. নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠ: শাফেয়ী মাজহাবে ইমাম ও মুক্তাদি সবার ওপর প্রত্যেক রাকাতে ফাতিহা পড়া ফরজ। হানাফি মাজহাবে ইমামের কেরাতই মুক্তাদির কেরাত, তাই জামাতে মুক্তাদির জন্য ফাতিহা পড়া নিষেধ (মাকরূহে তাহরীমী)।
  2. রুকুতে যাওয়া ও ওঠার সময় রফউল ইয়াদাইন: শাফেয়ী মাজহাবে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ; হানাফি মাজহাবে শুধুমাত্র তাকবীরে তাহরীমায় হাত তোলা সুন্নাত।
  3. অজু ভঙ্গের কারণ: শাফেয়ী মাজহাবে বেগানা নারীর ত্বকের সাথে সরাসরি স্পর্শ লাগলেই অজু ভঙ্গ হয় (রক্ত বের হলে ভাঙ্গে না)। হানাফি মাজহাবে স্পর্শে অজু ভাঙ্গে না, তবে শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়লে অজু নষ্ট হয়।
  4. বিতরের নামাজ: হানাফি মাজহাবে বিতর ৩ রাকাত এবং তা ওয়াজিব। শাফেয়ী মাজহাবে ১, ৩ বা তার অধিক রাকাত পড়া যায় এবং তা সুন্নাত।

উপসংহার

হানাফি ও শাফেয়ী ফিকহের এ পার্থক্য কোনো শত্রুতার নয়; বরং তা গবেষণালব্ধ ইজতিহাদের সৌন্দর্য। উভয় মাজহাবই সত্যের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যে কোনো একটির অনুসরণ মুক্তির পথ।


٦- ما معنى النجاسة؟ هل المنى والبول نجاسة ام لا؟ بين بالدلائل-

[৬. النجاسة অর্থ কী? بول ও منى কি نجاسة? দলিলের ভিত্তিতে বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামে তাহারাত বা পবিত্রতা হলো সালাতের প্রাথমিক ও মৌলিক শর্ত। পবিত্রতা অর্জনের জন্য যেসব নাপাক বস্তু থেকে শরীর, কাপড় ও স্থানকে মুক্ত রাখতে হয়, শরীয়তের পরিভাষায় তাকে ‘নাজাসাত’ (النجاسة) বলা হয়।

নাজাসাত (النجاسة)-এর পরিচয়

আভিধানিক অর্থ: অপবিত্রতা, নোংরামি বা মলিনতা।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন কিছু অপবিত্র বস্তু, যা মানুষের শরীর, কাপড় বা নামাজের স্থানে লাগলে নামাজ আদায় শুদ্ধ হয় না এবং তা পানি বা শরয়ি উপায়ে দূর করা আবশ্যক হয়।

প্রস্রাব বা বাউল (البول)-এর হুকুম

সার্বসম্মত সিদ্ধান্ত: মানুষের প্রস্রাব নিঃসন্দেহে নাজাসাতে গাফিজাহ (কঠিন নাপাক)। এতে কোনো ফকিহের মতভেদ নেই।
দলিল:

  1. রাসূলুল্লাহ (সা.) একদা দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইরশাদ করেন: “এদের কবরে আজাব হচ্ছে… তন্মধ্যে একজন প্রস্রাবের ছিটেফোঁটা থেকে সতর্ক হতো না।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
  2. এক বেদুইন মসজিদে নববীতে প্রস্রাব করে দিলে রাসূল (সা.) সেখানে এক বালতি পানি ঢেলে ধৌত করার নির্দেশ দেন।

বীর্য বা মানি (المنى)-এর হুকুম ও ফুকাহায়ে কেরামের মতভেদ

মানি (বীর্য) নাপাক কি না—এ ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে দুটি প্রধান অভিমত রয়েছে:

  1. হানাফি ও মালেকি মাজহাব: মানি হলো নাপাক (নাজাসাত)
    • দলিল: হযরত আয়েশা (রা.) বলেন: “আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পোশাক থেকে বীর্য ধুয়ে ফেলতাম, অতঃপর তিনি সালাতে যেতেন।” (সহীহ মুসলিম)। ধৌত করার নির্দেশ প্রমাণ করে এটি অপবিত্র। তবে হানাফি ফিকহে শুকনো বীর্য নখ দিয়ে ঘষে তুলে ফেলাও পাক হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
  2. শাফেয়ী ও হাম্বলী মাজহাব: মানি হলো পবিত্র (ত্বাহির)
    • দলিল: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে: “আমি রাসূল (সা.)-এর কাপড় থেকে বীর্য শুকিয়ে গেলে তা নখ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতাম।” যদি তা মূলগতভাবে নাপাক হতো তবে শুধু ঘষে পরিষ্কার করার পর ধৌত করা ছাড়া নামাজ পড়া যেত না। এছাড়া মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত, আর মানুষের মূল উপাদান নাপাক হতে পারে না।

উপসংহার

সতর্কতামূলক উত্তম পন্থা হলো বীর্য কাপড়ে লাগলে তা ধুয়ে ফেলা। তবে মতভেদীয় বিষয়ে অন্যের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখাই ফিকহের মূল চেতনা।


٧- ما هى السنة الراتبة؟ وهل سنة الجمعة القبلية والبعدية مشروعة ام لا؟ بين بالدلائل مفصلا-

[৭. السنة الراتبة কী? কবলার জুমা ও বা’দাল জুমা শরীয়ত সমর্থিত কি না? বিস্তারিত দলিলের ভিত্তিতে বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

দৈনন্দিন ফরজ নামাজের পূর্বে বা পরে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত যে সমস্ত সুন্নাত নামাজ আদায় করতেন, তাকে ‘সুন্নাতে রাতেবাহ’ (السنن الراتبة) বলা হয়। এগুলো ফরজের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে এবং কেয়ামতের দিন আমলের পাল্লা ভারী করে।

সুন্নাতে রাতেবাহর পরিচয় ও রাকাত সংখ্যা

উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবিবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ১২ রাকাত সুন্নাত নিয়মিত আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।” (সহীহ মুসলিম)। এগুলো হলো: ফজরের পূর্বে ২ রাকাত, জোহরের পূর্বে ৪ ও পরে ২ রাকাত, মাগরিবের পরে ২ রাকাত এবং এশার পরে ২ রাকাত।

জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত (ক্বাবলাল জুমা)-এর শরয়ি বৈধতা ও দলিল

জুমার খুতবার পূর্বে ৪ রাকাত সুন্নাতে রাতেবাহ আদায় করা হানাফি ও শাফেয়ী মাজহাবে সুন্নাত ও শরীয়তসম্মত
দলিলসমূহ:

  1. ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার পূর্বে চার রাকাত নামাজ আদায় করতেন এবং এর মাঝে কোনো সালাম ফেরাতেন না।” (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, তাবারানী)।
  2. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) জুমার পূর্বে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার রাকাত নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিতেন এবং নিজেও তা নিয়মিত পড়তেন (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)।
  3. রাসূল (সা.) বলেন: “প্রত্যেক আজান ও ইকামতের মাঝে সালাত রয়েছে।” (সহীহ বুখারী)।

জুমার পরবর্তী সুন্নাত (বা’দাল জুমা)-এর শরয়ি বৈধতা ও দলিল

জুমার পর সুন্নাত আদায় করা সকল ফকিহের সর্বসম্মত মতে সুন্নাত ও মুস্তাহাব
দলিলসমূহ:

  1. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজ আদায় করে, সে যেন এরপর চার রাকাত নামাজ পড়ে।” (সহীহ মুসলিম)। হানাফি মাজহাবে জুমার পর ৪ রাকাত সুন্নাত।
  2. ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) জুমার পর নিজ ঘরে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন (সহীহ বুখারী)। ইমাম শাফেয়ীর মতে ঘরে পড়লে ২ রাকাত, মসজিদে পড়লে ৪ রাকাত।

উপসংহার

ক্বাবলাল জুমা ও বা’দাল জুমা উভয়টিই সহীহ হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত ও শরীয়তসম্মত।


٨- ما الاختلاف عن قراءة خلف الامام؟ بين بالدلائل-

[৮. قراءة خلف الامام এর ব্যাপারে মতভেদ কী? দলিলের ভিত্তিতে বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

জামাতে নামাজ আদায়ের সময় ইমামের পেছনে মুক্তাদির কেরাত (সূরা ফাতিহা বা অন্য সূরা) পাঠ করার বিধান নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে একটি অতি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। এটিকে ফিকহের পরিভাষায় ‘কিরাআত খলফাল ইমাম’ (القراءة خلف الإمام) বলা হয়।

ফুকাহায়ে কেরামের তিনটি প্রধান অভিমত ও দলিল

  1. প্রথম অভিমত (হানাফি মাজহাব): ইমামের পেছনে মুক্তাদি কোনো অবস্থাতেই (জেহরি বা সিররি নামাজে) কোনো কেরাত পাঠ করবে না; বরং সম্পূর্ণ চুপ থেকে ইমামের কেরাত শুনবে।
    দলিলসমূহ:

    • কুরআনের নির্দেশ: আল্লাহ ইরশাদ করেন: “যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো, যাতে তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়।” (সূরা আল-আ’রাফ: ২০৪)। মুফাসসিরগণ একমত যে এটি সালাতের কেরাত সম্পর্কে অবতীর্ণ।
    • হাদিসের দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কেরাতই তার কেরাত।” (মুসনাদে আহমদ, ইবনে মাজাহ)।
    • রাসূল (সা.) আরও বলেন: “ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে অনুসরণ করার জন্য… অতএব যখন ইমাম কেরাত পড়ে, তখন তোমরা চুপ থাকো।” (সহীহ মুসলিম)।
  2. দ্বিতীয় অভিমত (শাফেয়ী মাজহাব): মুক্তাদিকে অবশ্যই প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে, চাই তা উচ্চস্বরে (জেহরি) সালাত হোক বা নিঃশব্দে (সিররি) সালাত হোক।
    দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত হলো না।” (সহীহ বুখারী)। শাফেয়ীগণের মতে এটি সাধারণ নির্দেশ যা ইমাম ও মুক্তাদি সবার জন্য প্রযোজ্য।
  3. তৃতীয় অভিমত (মালেকি ও হাম্বলী মাজহাব): জোহর ও আসরের মতো নিঃশব্দ নামাজে মুক্তাদি ফাতিহা পড়বে; কিন্তু মাগরিব, এশা ও ফজরের মতো উচ্চস্বরে পঠিত নামাজে ইমামের কেরাত শুনবে, নিজে পড়বে না।

উপসংহার

উভয় পক্ষের দলিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। হানাফি মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইমামের পেছনে চুপ থাকা কুরআনের সম্মান ও ঐক্যের দাবিদার, তবে কেউ যদি শাফেয়ী মাজহাব মেনে ফাতিহা পড়ে তবে তাকে কটাক্ষ করা সমীচীন নয়।


مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)

٩- ما معنى الزكوة؟ اكتب مصارف الزكوة-

[৯. زكوة কাকে বলে? زكوة এর খাতগুলো উল্লেখ কর।]

উত্তর

জাকাতের অর্থ: ‘জাকাত’ (الزكاة) শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, বৃদ্ধি ও বরকত। শরীয়তের পরিভাষায়, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কোনো মুসলমান কর্তৃক নির্দিষ্ট এক বছর পূর্ণ হলে নিজ সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ (শতকরা আড়াই ভাগ) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্ধারিত হকদারকে নিঃস্বার্থভাবে মালিক বানিয়ে দেওয়াকে জাকাত বলে।

জাকাতের ৮টি খাত (مصارف الزكاة): পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাতের সুনির্দিষ্ট আটটি খাত উল্লেখ করা হয়েছে:

  1. ফকির (الفقراء): যার কিছুই নেই বা সামান্য আছে যা দিয়ে মৌলিক চাহিদা মেটে না।
  2. মিসকিন (المساكين): চরম নিঃস্ব ও পরমুখাপেক্ষী ব্যক্তি।
  3. জাকাত আদায়কারী কর্মচারী (العاملين عليها): রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ।
  4. মন জয় করার জন্য (المؤلفة قلوبهم): নওমুসলিমদের দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখার জন্য।
  5. দাসমুক্তি (في الرقاب): দাস-দাসী মুক্ত করার ক্ষেত্রে (বর্তমানে বন্দি মুক্তির সহায়তায়)।
  6. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (الغارمين): যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে সম্পূর্ণ অক্ষম।
  7. আল্লাহর রাস্তায় (في سبيل الله): দ্বীনের দাওয়াত, এলেম অর্জন ও জিহাদে নিয়োজিত অসচ্ছলদের জন্য।
  8. মুসাফির (ابن السبيل): সফরে বিপদে পড়ে অর্থহীন হয়ে যাওয়া ব্যক্তি।

١٠- ما معنى الروضة؟ هل يوجد اللفظ الروضة فى القرآن والحديث؟ اكتب بالدلائل-

[১০. روضة কাকে বলে? কুরআন ও হাদিসে কি روضة শব্দের উল্লেখ আছে? দলিলসহ উল্লেখ কর।]

উত্তর

রওজার অর্থ: ‘রওজা’ (الروضة) শব্দের আভিধানিক অর্থ বাগান, পুষ্পোদ্যান, শ্যামল শস্যক্ষেত বা জান্নাতময় উদ্যান।

কুরআনে রওজা শব্দের উল্লেখ: হ্যাঁ, পবিত্র কুরআনে রওজা শব্দের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন:
“অতএব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারা একটি বাগানে (روضة – রওজায়) আনন্দিত ও সম্মানিত হবে।” (সূরা আর-রূম: ১৫)।

হাদিসে রওজা শব্দের উল্লেখ: হাদিস শরিফে রওজা শব্দের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে মসজিদে নববীর একটি বিশেষ অংশের ক্ষেত্রে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন:
“আমার ঘর এবং আমার মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থানটি হলো জান্নাতের বাগানগুলোর মধ্য থেকে একটি বাগান (روضة من رياض الجنة – রওজাতুম মির রিয়াদিল জান্নাহ)।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।
এছাড়া হাদিসে এসেছে: নেককারের কবর জান্নাতের একটি বাগিচা (রওজা) হয়ে যায়।


١١- بين اختلاف المطالع؟ ما هو الراجح عندك؟ بين-

[১১. اختلاف المطالع বর্ণনা কর। অতঃপর তোমার কাছে কোনটি অধিক পছন্দনীয়? তা বর্ণনা কর।]

উত্তর

ইখতিলাফুল মাতালি (اختلاف المطالع)-এর পরিচয়: ‘মাতালি’ শব্দটি মাতলা’ (চাঁদ বা সূর্যের উদয়স্থল)-এর বহুবচন। ভৌগোলিক অবস্থানের দূরত্বের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন চাঁদের দৃশ্যমান হওয়ার সময় বা দিগন্তের যে পার্থক্য ঘটে, তাকে ‘ইখতিলাফুল মাতালি’ (উদয়স্থলের ভিন্নতা) বলে।

ফুকাহায়ে কেরামের মতভেদ ও প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (الراجح):

  1. প্রাচীন হানাফি অভিমত: উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণযোগ্য নয় (লা ইবরাতা বিইখতিলাফিল মাতালি)। পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সকল দেশে রোজা ও ঈদ পালন করতে হবে।
  2. শাফেয়ী মাজহাব ও সমসাময়িক ফুকাহায়ে কেরামের রাজেহ (অগ্রগণ্য) মত: উদয়স্থলের ভিন্নতা শরীয়তসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য (معتبر)।
    দলিল: সহীহ মুসলিমে কুরাইব (রহ.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, সিরিয়াবাসী জুমার দিন চাঁদ দেখে রোজা রেখেছিলেন, কিন্তু মদিনায় ইবনে আব্বাস (রা.) শনিবার চাঁদ দেখেন। ইবনে আব্বাস (রা.) সিরিয়ার চাঁদ দেখা অনুযায়ী রোজা ভাঙতে অস্বীকার করেন এবং বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।” (সহীহ মুসলিম)।

অতএব বর্তমান ভৌগোলিক বাস্তবতায় নিজ নিজ দেশের দিগন্তে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমল করাই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও সুন্নাহসম্মত।


١٢- ما هو زيارة القبور؟ وما الاختلاف فيها؟ بين بالدلائل-

[১২. زيارة القبور কাকে বলে? এ ব্যাপারে মতানৈক্য কী? দলিলসহ বর্ণনা কর।]

উত্তর

জিয়ারতে কুবুরের পরিচয়: কবরস্থানে গিয়ে মৃত মুসলমানদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা এবং নিজের মৃত্যুর কথা স্মরণ করে দুনিয়াবিমুখতা অর্জনের উদ্দেশ্যে কবর দর্শন করাকে ‘জিয়ারাতুল কুবুর’ বলে।

জিয়ারতের বিধান ও মতানৈক্য:

  1. পুরুষদের জন্য জিয়ারত: সকল ফকিহের সর্বসম্মত মতে সুন্নাত ও মুস্তাহাব। ইসলামের শুরুতে নিষেধ থাকলেও পরে অনুমতি দেওয়া হয়। রাসূল (সা.) বলেন: “আমি পূর্বে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা কবর জিয়ারত করো; কেননা তা দুনিয়াবিমুখ করে এবং আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” (সহীহ মুসলিম)।
  2. নারীদের জন্য জিয়ারত: জমহুর উলামাদের মতে পর্দা রক্ষা করে এবং কোনো ধরনের আহাজারি বা বিলাপ না করার শর্তে নারীদের জন্য মাঝে মাঝে জিয়ারত করা জায়েজ। তবে বিলাপকারী ও শোরগোল সৃষ্টিকারী নারীদের ওপর হাদিসে অভিসম্পাত করা হয়েছে।
  3. কবরকে কেন্দ্র করে শিরক-বিদআত: কবরে সেজদা করা, তওয়াফ করা, বা কবরের কাছে মানত করা সর্বসম্মতভাবে হারাম ও শিরকের সমতুল্য।

١٣- بين اختلاف الفقهاء عن رفع اليدين قبل الركوع والسجود-

[১৩. রুকু ও সিজদার পূর্বে رفع اليدين এর ব্যাপারে ফোকাহাদের মতানৈক্য বর্ণনা কর।]

উত্তর

সালাতে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে এবং রুকু থেকে ওঠার সময় দু’হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উঠানোকে ‘রফউল ইয়াদাইন’ (رفع اليدين) বলা হয়। সিজদায় যাওয়ার সময়ও একই মাসআলা প্রযোজ্য।

ফুকাহায়ে কেরামের মতভেদ:

  1. শাফেয়ী ও হাম্বলী মাজহাব: রুকুতে যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে ওঠার সময় রফউল ইয়াদাইন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
    দলিল: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সালাত শুরু করতেন তখন হাত তুলতেন, যখন রুকুতে যেতেন এবং রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখনও হাত তুলতেন।” (সহীহ বুখারী)।
  2. হানাফি মাজহাব: শুধুমাত্র নামাজের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত তুলবে, সালাতের অন্য কোথাও হাত তুলবে না।
    দলিল: হযরত আলকামা বর্ণনা করেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: “আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজ দেখাব না? অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং প্রথমবার ছাড়া আর হাত তুললেন না।” (সুনানে তিরমিজি, নাসাঈ—ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)। হানাফিদের মতে পরবর্তীতে এটি রহিত বা মানসুখ হয়ে স্থিরতায় রূপ নিয়েছিল।

١٤- عدد ركعات قيام رمضان-

[১৪. তারাবী নামাযের রাকাত সংখ্যা লেখ।]

উত্তর

রমজান মাসের রাতে এশার নামাজের পর বিতরের পূর্বে জামাতে যে বিশেষ সুন্নাত নামাজ আদায় করা হয় তাকে ‘কিয়ামু রমজান’ বা সালাতুত তারাবীহ বলে।

তারাবীর রাকাত সংখ্যা: ২০ রাকাত।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের চার মাজহাব (হানাফি, শাফেয়ী, হাম্বলী ও মালেকিদের মূল মত)-এর সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী তারাবীর নামাজ বিশ (২০) রাকাত পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়াহ।
দলিলসমূহ:

  1. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরাম যখন হযরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর ইমামতিতে জামাতে একত্রিত হন, তখন থেকে আজ পর্যন্ত পবিত্র মক্কা ও মদিনার হারামাইন শরিফাইনে সাহাবা, তাবেঈন ও সমগ্র উম্মাহ সর্বসম্মতভাবে ২০ রাকাত তারাবীহ আদায় করে আসছেন (মুয়াত্তা মালেক, বায়হাকী)।
  2. ইমাম বায়হাকী সহীহ সনদে সাইব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: “ওমর (রা.)-এর যুগে সাহাবীগণ রমজানে বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করতেন।”

١٥- بين الفرق بين الرجال والنساء في اداء الصلاة-

[১৫. মহিলা ও পুরুষের নামাযের পার্থক্যগুলো বর্ণনা কর।]

উত্তর

ইসলামী শরীয়তের মৌলিক আরকান ও ওয়াজিবের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সালাত অভিন্ন হলেও শারীরিক গঠন ও পর্দার (সতর) স্বার্থে ফিকহে হানাফি ও জমহুর ফুকাহাদের মতে কিছু সুন্নাত ও মুস্তাহাব পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে:

  1. তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত উঠানো: পুরুষগণ কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলবে; কিন্তু মহিলারা সতর ও আবৃত রাখার স্বার্থে কাঁধ বা বুক পর্যন্ত হাত তুলবে এবং চাদরের ভেতর রাখবে।
  2. হাত বাঁধার স্থান: পুরুষগণ নাভির নিচে হাত বাঁধবে; মহিলারা বুকের ওপর হাত রাখবে।
  3. রুকু করার ভঙ্গি: পুরুষগণ পিঠ সোজা করে মাথা সমান রাখবে এবং আঙ্গুলগুলো ফাঁকা করে হাঁটু আঁকড়ে ধরবে; নারীরা সামান্য ঝুঁকবে যাতে হাত হাঁটুর ওপর পৌঁছে এবং আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবে।
  4. সিজদা করার ভঙ্গি: পুরুষগণ পেট উরু থেকে এবং বাহু বগল থেকে পৃথক রাখবে; নারীরা নিজেদের গুটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে বুক উরুর সাথে লাগিয়ে জড়োসড়ো হয়ে সিজদা করবে।
  5. বৈঠকের পদ্ধতি: পুরুষগণ ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের ওপর বসবে; নারীরা উভয় পা ডান দিকে বের করে দিয়ে নিতম্বের ওপর বসবে (তাওয়াররুক)।

١٦- هل تجب الزكوة فى مال الصبى؟ بين بالأدلة-

[১৬. শিশুর সম্পদে যাকাত ওয়াজিব কি না? দলিলসহ বর্ণনা কর।]

উত্তর

নাবালেগ শিশু (সাবী) যদি উত্তরাধিকার বা দানসূত্রে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে তার সম্পদে জাকাত ওয়াজিব হবে কি না—এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে দুটি সুস্পষ্ট মত রয়েছে:

  1. জমহুর ফুকাহায়ে কেরাম (শাফেয়ী, মালেকি ও হাম্বলী মাজহাব): শিশুর সম্পদেও জাকাত ওয়াজিব। তার অভিভাবক (ওয়ালী) তার সম্পদ থেকে জাকাত প্রদান করবে।
    দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “তোমরা এতিমদের সম্পদে ব্যবসা করো, যাতে জাকাত তাদের সম্পদ খেয়ে না ফেলে।” (সুনানে তিরমিজি)। তাঁদের মতে জাকাত হলো সম্পদের হক, ব্যক্তির বয়সের নয়।
  2. হানাফি মাজহাব: শিশুর সম্পদে জাকাত ওয়াজিব নয়।
    দলিল: জাকাত হলো একটি আর্থিক ইবাদত, যার জন্য ঈমান, বালেগ হওয়া এবং আকল থাকা শর্ত। শিশু শরীয়তের কোনো বিধানের জন্য মুখাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) নয়। রাসূল (সা.) বলেন: “তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে: তার মধ্যে অন্যতম হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, যে পর্যন্ত না সে বালেগ হয়।” (সুনানে আবু দাউদ)। তবে তার জমিন থাকলে ওশর দিতে হবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফিকহি মাজহাব মানা কি বাধ্যতামূলক?

সাধারণ মুসলমান যারা সরাসরি কুরআন ও হাদিস থেকে আইন বের করার যোগ্যতা রাখেন না, তাদের জন্য বিভ্রান্তি ও খেয়ালখুশি থেকে বাঁচতে যেকোনো একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নির্ভরযোগ্য মাজহাবের তাকলীদ করা ওয়াজিব।

২. হানাফি ফিকহের মূল রূপকার কে?

হানাফি ফিকহের মূল রূপকার হলেন ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.) এবং তাঁর দুই প্রধান শিষ্য কাজী আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ আশ-শায়বানী (রহ.)।

৩. সালাতে মুক্তাদির সূরা ফাতিহা পাঠের বিধান কী?

হানাফি মাজহাবে ইমামের পেছনে মুক্তাদির ফাতিহা পাঠ নিষেধ; শাফেয়ী মাজহাবে মুক্তাদির ওপরও ফাতিহা পাঠ ফরজ এবং মালেকি ও হাম্বলী মাজহাবে শুধু নিঃশব্দ নামাজে পাঠ করা মুস্তাহাব।

৪. তারাবীহ নামাজের সহীহ রাকাত সংখ্যা কত?

চার মাজহাব ও সাহাবায়ে কেরামের সুপ্রতিষ্ঠিত আমল অনুযায়ী তারাবীহ নামাজ সর্বসম্মতভাবে বিশ (২০) রাকাত।

৫. ক্বাবলাল জুমা নামাজের বিধান কী?

জুমার খুতবার পূর্বে চার রাকাত ক্বাবলাল জুমা আদায় করা সহীহ হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা সুপ্রমাণিত সুন্নাত।

৬. ইখতিলাফুল মাতালি কী?

ইখতিলাফুল মাতালি হলো ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন চাঁদ উদিত হওয়ার দিগন্ত ও সময়ের ভিন্নতা, যার ভিত্তিতে নিজ নিজ দেশে রোজা ও ঈদ পালন শরীয়তসম্মত।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *