اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الإسلام والأديان الأخرى
[আল ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা (ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম)]
বিষয় কোড: ২০১৩০৮ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
المُلاَحَظَةُ: أَجِبْ عَنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ مَجْمُوعَةِ (أَلِف) وَعَنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ مَجْمُوعَةِ (ب) –
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (ألف) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠
[যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
١- مَا هُوَ الدِّيْنُ؟ أَوْضِحْ قَوْلَهُ تَعَالَى “إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ” –
[১. দ্বীন কী? মহান আল্লাহর বাণী “إن الدين عند الله الإسلام” এর ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
দ্বীন হলো মানবজীবনের সার্বিক পথপ্রদর্শক। বিশ্বজগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহ মানবজাতিকে পৃথিবীতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, বরং তাদের আত্মিক ও সামাজিক শান্তির জন্য এক শাশ্বত জীবনব্যবস্থা দান করেছেন, যার নাম দ্বীন।
দ্বীনের পরিচয় ও তাৎপর্য
- শাব্দিক অর্থ: ‘দ্বীন’ (الدين) শব্দের অর্থ আনুগত্য (Submission/Obedience), প্রতিদান (Recompense), নিয়ম-কানুন ও জীবনপদ্ধতি (Way of Life)।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: যে আসমানী বিশ্বাস ও বিধানমালা মানুষের মনন, চরিত্র, ইবাদত এবং সমাজকে পরিচালনা করে ইহকাল ও পরকালের চূড়ান্ত মুক্তি নিশ্চিত করে তাকে দ্বীন বলে।
“إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ” আয়াতের বিশদ ব্যাখ্যা
সূরা আলে ইমরানের ১৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম।”
- সকল নবীর মূল দ্বীন ইসলাম: হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হযরত নূহ, ইব্রাহীম, মূসা, ঈসা (আ.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূল মূলত ইসলামেরই দাওয়াত দিয়েছিলেন। সময়ের ব্যবধানে তাদের উম্মতরা বিকৃতি ঘটিয়েছে।
- অন্যান্য মতবাদের অগ্রহণযোগ্যতা: একই সূরার ৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ — “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
- পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনবিধান: রাসূলুল্লাহ (স.)-এর মাধ্যমে প্রেরিত ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা অঞ্চলের জন্য নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির একমাত্র ত্রুটিহীন জীবনপদ্ধতি।
٢- قَيِّمِ الْإِسْلَامَ بَيْنَ الْأَدْيَانِ الْأُخْرَى عَلَى ضَوْءِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ –
[২. আল-কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে অন্যান্য ধর্মের মাঝে ইসলাম ধর্মের মূল্যায়ন কর।]
ভূমিকা
বিশ্বে প্রচলিত বহু ধর্মের মধ্যে ইসলাম এক অনুপম ও স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত ধর্ম। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে অন্যান্য ধর্মের সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা, যৌক্তিকতা ও সার্বজনীনতা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
তুলনামূলক মূল্যায়নে ইসলামের অনন্য শ্রেষ্ঠত্বসমূহ
- বিশুদ্ধ তাওহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ): অন্যান্য ধর্মে ঈশ্বর ধারণায় চরম শিরক ও ত্রিত্ববাদ রয়েছে (যেমন: খ্রিস্টধর্মের ট্রিনিটি, হিন্দু ধর্মের বহু ঈশ্বর ও পৌত্তলিকতা, জরথুষ্ট্রবাদের দ্বৈতবাদ)। পক্ষান্তরে ইসলামে রয়েছে নিখুঁত তাওহিদ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ — যেখানে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা অংশীদার নেই।
- ধর্মগ্রন্থের অবিকৃত সংরক্ষণ: তাওরাত, ইঞ্জিল, বেদ বা জেন্দাবেস্তা সময়ের পরিক্রমায় মানুষের হাতে পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়েছে। কিন্তু কুরআন গত চৌদ্দশত বছর ধরে একটি হরফ বা নুকতার পরিবর্তন ছাড়াই অপরিবর্তিত রয়েছে: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ (সূরা হিজর: ৯)।
- পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা (Comprehensive): বৌদ্ধ বা জৈন ধর্ম কেবল ত্যাগ ও সন্ন্যাসবাদ শেখায়, ইহুদি ধর্ম কঠোর আচারসর্বস্ব। কিন্তু ইসলাম আধ্যাত্মিকতা, পারিবারিক জীবন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্য রক্ষা করেছে।
- মানবীয় সাম্য ও বর্ণপ্রথাহীনতা: হিন্দু ধর্মের মতো জন্মভিত্তিক বর্ণভেদ বা ইহুদি ধর্মের মতো ‘ঈশ্বরের একমাত্র মনোনীত জাতি’র মতো অহংকার ইসলামে নেই। এখানে আরব-অনারব, সাদা-কালো সকল মানুষ সমমর্যাদার অধিকারী।
- বিজ্ঞান ও যুক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ: ইসলামের কোনো মৌলিক বিশ্বাস সুস্থ বুদ্ধি ও বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে বিরোধপূর্ণ নয়।
٣- عَرِّفِ الدِّيَانَةَ الْيَهُودِيَّةَ – ثُمَّ تَحَدَّثْ عَنْ عَقَائِدِهَا الْأَسَاسِيَّةِ بِالتَّفْصِيلِ –
[৩. ইহুদি ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর মৌলিক আকিদাসমূহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইহুদি ধর্ম (Judaism) হযরত মূসা (আ.) ও বনি ইসরাঈল কেন্দ্রিক একটি সেমেটিক ধর্ম। কালক্রমে তাদের ধর্মগ্রন্থ ও আকিদায় মারাত্মক মানবসৃষ্ট পরিবর্তন ঘটেছে।
ইহুদি ধর্মের পরিচয়
- হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর পুত্র ‘ইয়াহুদা’-এর নামানুসারে তাদের ইহুদি বলা হয়।
- তাদের মূল ধর্মগ্রন্থ তাওরাত (Torah) এবং ব্যাখ্যামূলক ধর্মীয় আইনগ্রন্থ হলো তালমুদ (Talmud)।
ইহুদি ধর্মের মৌলিক আকিদাসমূহ
- ঈশ্বর ধারণা (ইয়াহওয়েহ): তারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী হলেও তাদের বিশ্বাস anthropomorphic বা ঈশ্বরকে মানুষের মতো গুণাবলিসম্পন্ন ভাবা (যেমন: ঈশ্বর সৃষ্টির পর ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেন)। তারা দাবি করে ঈশ্বর কেবল ইসরায়েল জাতির বিশেষ পৃষ্ঠপোষক।
- ঈশ্বরের মনোনীত জাতি (Chosen People Doctrine): তারা নিজেদের ঈশ্বরের প্রিয় সন্তান মনে করে (نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ) এবং অন্যান্য সকল অ-ইহুদি মানুষকে (Gentiles) নিকৃষ্ট মনে করে।
- নবীদের প্রতি অসদাচরণ ও অপবাদ: তারা নিজ নবীদের সম্মান রক্ষা করেনি; বরং অনেক নবীকে হত্যা করেছে এবং লুত, দাউদ, সুলাইমান (আ.)-এর প্রতি জঘন্য চারিত্রিক অপবাদ দিয়েছে।
- হযরত ঈসা ও মুহাম্মদ (স.)-কে অস্বীকার: তারা হযরত ঈসা (আ.)-কে নবী মানতে অস্বীকার করে এবং শেষনবী মুহাম্মদ (স.) বনি ইসরাঈলে না আসায় ঈর্ষার বশে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে।
- তালমুদের কর্তৃত্ব: তারা তাওরাতের চেয়েও রাব্বিদের রচিত তালমুদকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
٤- تَحَدَّثْ عَنِ السَّيْخِيَّةِ مَعَ بَيَانِ عَقَائِدِهَا وَكُتُبِهَا الْمُقَدَّسَةِ مُوَضَّحًا –
[৪. শিখ ধর্মের বিশ্বাস ও পবিত্র গ্রন্থসমূহ বর্ণনপূর্বক এর সম্পর্কে বিশদ আলোচনা কর।]
শিখ ধর্মের পরিচয় ও পটভূমি
শিখ ধর্ম ভারতের পাঞ্জাবে পঞ্চদশ শতাব্দীতে গুরু নানক (১৪৬৯–১৫৩৯ খ্রি.) কর্তৃক প্রবর্তিত হয়। এটি হিন্দু ধর্মের পৌত্তলিকতা ও বর্ণপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ইসলামি একত্ববাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
শিখ ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ
- এক ঈশ্বরবাদ (ওয়াহেগুরু): তারা এক নিরাকার ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, যাকে ‘ওয়াহেগুরু’ (Waheguru) বলা হয়। মূর্তিপূজা তাদের ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- দশ গুরুর প্রতি বিশ্বাস: গুরু নানক থেকে শুরু করে দশম গুরু গোবিন্দ সিংহ পর্যন্ত ১০ জন গুরুকে আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে বিশ্বাস করা।
- লঙ্গর ও সামাজিক সাম্য: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সাথে একই পঙক্তিতে বসে খাবার গ্রহণের প্রথা চালু করে সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
- কর্মবাদ ও পুনর্জন্ম: তারা ভালো কাজের মাধ্যমে পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি পাওয়ার ভারতীয় তত্ত্বে বিশ্বাস করে।
- খালসার পাঁচটি প্রতীক (Panj Kakar): চুল (Kesh), চিরুনি (Kangha), বালা (Kara), কচ্ছপাকৃতির জাঙ্গিয়া (Kachera), এবং তলোয়ার বা কৃপাণ (Kirpan)।
শিখদের পবিত্র গ্রন্থসমূহ
- গুরু গ্রন্থ সাহিব (Guru Granth Sahib): এটি আদি গ্রন্থ নামে পরিচিত এবং শিখদের সর্বোচ্চ ধর্মগ্রন্থ। দশম গুরু গোবিন্দ সিংহ ঘোষণা করেন যে তাঁর পর আর কোনো মানব গুরু হবে না, এই গ্রন্থই চিরন্তন জীবন্ত গুরু। এতে শিখ গুরুদের ছাড়াও কবীর ও বাবা ফরিদের মতো সুফিদের ভক্তিমূলক বাণী রয়েছে।
- দসম গ্রন্থ (Dasam Granth): দশম গুরু গোবিন্দ সিংহের রচিত কবিতা ও ধর্মতত্ত্বের সংকলন।
٥- بَيِّنْ تَارِيخَ نَشْأَةِ الْبُوذِيَّةِ وَعَقَائِدَهَا وَمَبَادِئَهَا مُفَصَّلًا –
[৫. বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস, আকিদাসমূহ ও ভিত্তি বর্ণনা কর।]
বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস
খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে নেপালের লুম্বিনীতে শাক্য রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন সিদ্ধার্থ গৌতম। রাজকীয় বিলাসবহুল জীবন ত্যাগ করে জরা, ব্যাধি, মৃত্যু ও সন্ন্যাসী দেখে তিনি মানবজীবনের দুঃখের কারণ অনুসন্ধানে গৃহত্যাগ (মহাভিনিষ্ক্রমণ) করেন। সুদীর্ঘ ধ্যানের পর গয়ার বোধিবৃক্ষের নিচে তিনি ‘বোধি’ (দিব্যজ্ঞান) লাভ করে ‘বুদ্ধ’ বা জাগ্রত পুরুষে পরিণত হন এবং সারনাথে প্রথম ধর্মপ্রচার শুরু করেন।
বৌদ্ধ ধর্মের মূল ভিত্তি: চারটি আর্য সত্য (Chatvari Arya Satyani)
- সর্বং দুঃখম (জগৎ দুঃখময়): জন্ম, বার্ধক্য, ব্যাধি ও মৃত্যু—সবকিছুই দুঃখের কারণ।
- দুঃখ সমুদয় (দুঃখের কারণ): মানবজীবনের দুঃখের মূল কারণ হলো কামনা, আসক্তি ও তৃষ্ণা।
- দুঃখ নিরোধ (দুঃখের বিনাশ): তৃষ্ণা ও আসক্তি সম্পূর্ণ নির্মূল করার মাধ্যমে দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
- দুঃখ নিরোধ মার্গ (দুঃখমুক্তির পথ): দুঃখমুক্তির একমাত্র উপায় হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করা।
অষ্টাঙ্গিক মার্গ (Noble Eightfold Path)
১. সম্যক দৃষ্টি, ২. সম্যক সংকল্প, ৩. সম্যক বাক্য, ৪. সম্যক কর্ম, ৫. সম্যক জীবিকা, ৬. সম্যক প্রচেষ্টা, ৭. সম্যক স্মৃতি, এবং ৮. সম্যক সমাধি।
বৌদ্ধ ধর্মের অন্যান্য বিশ্বাস
- ঈশ্বরবিহীন ধর্ম: এতে কোনো সৃষ্টিশীল ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়নি।
- অহিংসা: কোনো প্রাণীকে আঘাত বা হত্যা না করা।
- নির্বাণ: কামনা-বাসনা বিলীন করে অস্তিত্বের বন্ধন ছিন্ন করা।
٦- أَثْبِتْ أَنَّ الْإِسْلَامَ صَالِحٌ لِكُلِّ زَمَانٍ وَمَكَانٍ –
[৬. প্রমাণ কর যে, ইসলাম প্রত্যেক যুগ ও স্থানের জন্য উপযুক্ত।]
ভূমিকা
ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট শতাব্দী বা অঞ্চলের জন্য সীমিত ধর্ম নয়; এটি কালজয়ী ও সার্বজনীন। মানবজীবনের যেকোনো যুগ বা যেকোনো ভৌগোলিক অবস্থানে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ সমাধান দিতে সক্ষম।
ইসলামের সর্বকালিনতা ও সর্বজনীনতার অকাট্য প্রমাণসমূহ
- ঐশী উৎস ও অলৌকিক সংরক্ষণ: মানুষের তৈরি আইন যুগের পরিবর্তনে অকেজো হয়ে যায়, কিন্তু ইসলামের প্রণেতা স্বয়ং সর্বজ্ঞানী আল্লাহ। ফলে মানুষের মানবিক দুর্বলতা এতে প্রবেশ করতে পারেনি।
- স্থায়িত্ব ও গতিশীলতার অনুপম সংমিশ্রণ: ইসলামে মূল আকিদা ও মৌলিক নীতিমালা অপরিবর্তনীয় (সাওয়াবিত), আর যুগের চাহিদা পূরণের জন্য ‘ইজতিহাদ’ ও ‘ক্বিয়াস’-এর মতো পরিবর্তনশীল পদ্ধতি (মুতাগায়্যিরাত) রাখা হয়েছে। ফলে যেকোনো আধুনিক সমস্যার ইসলামি সমাধান বের করা সম্ভব।
- সহজসাধ্যতা ও মানবিক প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য: ইসলামের কোনো বিধান মানুষের স্বভাব ও সাধ্যের বাইরে নয়: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا — “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬)। সফরে নামাজ কসর করা, অসুস্থতায় তায়াম্মুম করা এর প্রমাণ।
- বিজ্ঞানের সাথে পরম সামঞ্জস্য: আধুনিক বিজ্ঞানের কোনো প্রতিষ্ঠিত সত্য কুরআনের আয়াতের সাথে বিরোধপূর্ণ নয়; বরং ভ্রূণতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের কুরআন-বর্ণিত তথ্য বিজ্ঞানীদের অভিভূত করেছে।
- সার্বজনীন মানবিক সমাধান: বর্ণবৈষম্য, অর্থনৈতিক অসমতা, পারিবারিক ভাঙন ও মানসিক হতাশার মতো আধুনিক বিশ্বের ব্যাধিগুলোর একমাত্র টেকসই প্রতিষেধক রয়েছে ইসলামে।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠
[যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
٧- أَوْضِحِ الْقَوْلَ “الدِّينُ النَّصِيحَةُ” –
[৭. “الدين النصيحة” কথাটির ব্যাখ্যা কর।]
সহীহ মুসলিমের এক বিখ্যাত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ» — “দ্বীন হলো শুভকামনা বা কল্যাণকামিতা।” সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: কার জন্য? নবীজী (স.) বললেন:
- আল্লাহর প্রতি: আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা এবং খাঁটি অন্তরে তাঁর ইবাদত করা।
- তাঁর কিতাবের প্রতি: কুরআন তিলাওয়াত করা, বিশ্বাস করা এবং তদনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
- তাঁর রাসূলের প্রতি: রাসূল (স.)-এর আনুগত্য করা এবং তাঁর সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করা।
- মুসলিম নেতৃবৃন্দের প্রতি: সত্য ও ন্যায়ের পথে শাসকদের সহযোগিতা করা এবং ভুলত্রুটিতে বিনম্র উপদেশ দেওয়া।
- সাধারণ মুসলিমদের প্রতি: সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণ কামনা করা, অভাবীদের সাহায্য করা এবং ক্ষতি সাধন না করা।
٨- مَا هِيَ مَحَاسِنُ الْإِسْلَامِ؟
[৮. ইসলামের সৌন্দর্যগুলো কী কী?]
ইসলামের প্রধান সৌন্দর্যসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
- খাঁটি একত্ববাদ (তাওহিদ): মানুষ কোনো জড়বস্তু, মূর্তি বা পরাধীন সৃষ্টির গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে সরাসরি বিশ্বজাহানের অধিপতির সাথে যুক্ত হয়।
- ইনসাফ ও সাম্য: ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদ নেই; মসজিদের এক কাতারে বাদশাহ ও ফকির একসাথে দাঁড়ায়।
- নৈতিক পবিত্রতা ও পরিবারতন্ত্র: শালীনতা, সতীত্ব এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা।
- সুষম অর্থব্যবস্থা: সুদের শোষণ নিষিদ্ধ করে যাকাত ও কর্জে হাসানার মাধ্যমে দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটানো।
- রহমত ও সহমর্মিতা: মানবজাতি তো বটেই, পশু-পাখি ও প্রকৃতির প্রতিও দয়া প্রদর্শনের তাগিদ দেওয়া।
٩- مَا الْفَرْقُ بَيْنَ الدِّينِ وَالشَّرِيعَةِ؟
[৯. দ্বীন ও শরিয়তের মধ্যে পার্থক্য কী?]
| তুলনার বিষয় | দ্বীন (Ad-Deen) | শরিয়াহ (Ash-Shariah) |
|---|---|---|
| অর্থ ও পরিধি | দ্বীন হলো মূল বিশ্বাস ও সামগ্রিক জীবনবিধান (তাওহিদ, আখেরাত, নবুওয়াত)। | শরিয়াহ হলো নির্দিষ্ট ব্যবহারিক আদেশ-নিষেধ ও কর্মপদ্ধতি (ইবাদত, মুয়ামালাত ও হুদুদ)। |
| ঐতিহাসিক পরিবর্তন | আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত সকল নবীর দ্বীন এক ও অভিন্ন ছিল (ইসলাম)। | যুগ ও জাতির চাহিদানুযায়ী বিভিন্ন নবীর শরিয়তে বা আহকামে পরিবর্তন হয়েছে। |
| সম্পর্ক | দ্বীন হলো বৃক্ষের মূল কাণ্ড বা ভিত্তি। | শরিয়াহ হলো বৃক্ষের ডালপালা ও ফলমূল। |
١٠- اُكْتُبْ بَعْضَ صِفَاتِ الْيَهُودِ الَّتِي وَرَدَتْ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ –
[১০. আল-কুরআনে বর্ণিত ইহুদিদের কতিপয় গুণাবলি/বৈশিষ্ট্য লেখ।]
পবিত্র কুরআনে ইহুদিদের বহু নৈতিক স্খলন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে:
- চুক্তিভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা: তারা বারবার আল্লাহর সাথে এবং নবীদের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে: فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَاقَهُمْ (সূরা নিসা: ১৫৫)।
- আল্লাহর বাণী বিকৃত করা (তাহরীফ): তারা নিজেদের স্বার্থে আসমানী কিতাবের শব্দ ও অর্থ বিকৃত করত: يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ (সূরা নিসা: ৪৬)।
- সত্য গোপন ও মিথ্যা মিশ্রণ: তারা জেনেশুনে সত্যকে গোপন রাখত (وَتَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ)।
- পার্থিব জীবনের প্রতি চরম লোভ: তারা হাজার বছর বেঁচে থাকার লালসা পোষণ করে: يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ (সূরা বাকারা: ৯৬)।
- হৃদয়ের কঠোরতা: বহু মুজিযা দেখেও তাদের অন্তর পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে গিয়েছিল (ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم)।
١١- مَنْ هُمْ أَشْهَرُ الرِّجَالِ عِنْدَ الْيَهُودِيَّةِ؟ تَحَدَّثْ عَنْهُمْ بِإِيجَازٍ –
[১১. ইহুদিদের নিকট প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব কারা? তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
ইহুদি ধর্মের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও প্রসিদ্ধ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব:
- হযরত মূসা (আ.) / মোজেস: ইহুদি ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিত্ব। তাঁর মাধ্যমে বনি ইসরাঈল ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্তি পায় এবং তাওরাত লাভ করে।
- হযরত দাউদ ও সুলাইমান (আ.): ইহুদিদের ইতিহাসে তাঁরা ছিলেন স্বর্ণযুগের বাদশাহ ও নবী। হযরত সুলাইমান (আ.) জেরুজালেমে প্রথম পবিত্র মন্দির (হায়কালে সুলায়মানী) নির্মাণ করেন।
- হযরত উযায়ের (আ.) / এজরা: ব্যবিলনীয় বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর ধ্বংসপ্রাপ্ত তাওরাত পুনরুজ্জীবিত করার কারণে ইহুদিরা তাঁকে অতিভক্তি দেখিয়ে ‘আল্লাহর পুত্র’ পর্যন্ত দাবি করেছিল।
- মায়মোনাইডস (মুসা বিন মায়মুন): মধ্যযুগীয় স্পেনের বিখ্যাত ইহুদি দার্শনিক ও চিকিৎসক যিনি ইহুদি ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সংকলন করেন।
١٢- عَرِّفِ الْهِنْدُوسِيَّةَ وَالْكُونْفُوشِيُوسِيَّةَ –
[১২. হিন্দুধর্ম ও কনফুসিয়ানিজমের পরিচয় দাও।]
হিন্দুধর্ম (Hinduism):
- এটি কোনো একক ব্যক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং ভারতের সিন্ধু নদের অববাহিকায় হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা বহু মতবাদ, দেব-দেবী পূজা ও রীতিনীতির সংমিশ্রণ (সনাতন ধর্ম)।
- এর মূল বিশ্বাস হলো কর্মফল, জন্মান্তরবাদ ও মোক্ষলাভ। প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো চার বেদ (ঋগ, সাম, যজু, অথর্ব), উপনিষদ, গীতা ও রামায়ণ-মহাভারত।
কনফুসিয়ানিজম (Confucianism):
- প্রাচীন চীনে মহাজ্ঞানী কনফুসিয়াস (খ্রি.পূ. ষষ্ঠ শতক) কর্তৃক প্রবর্তিত সামাজিক, নৈতিক ও রাজনৈতিক আচরণবিধি।
- এটি কোনো অতিলৌকিক ঈশ্বরবাদী ধর্ম নয়; বরং পারিবারিক শান্তি, পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সততার ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার এক ব্যবহারিক জীবনদর্শন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আল ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা পত্রটির মানবণ্টন কী?
এ পত্রের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৮। পূর্ণমান ৮০ এবং পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা। এতে ক-বিভাগ থেকে ৪টি (১৫×৪=৬০) এবং খ-বিভাগ থেকে ৪টি (৫×৪=২০) প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
২. ইসলামকে কেন সর্বকালীন ও সর্বজনীন ধর্ম বলা হয়?
ইসলামের মূলনীতিগুলো ঐশী ও চিরন্তন, মানবীয় প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এতে ‘ইজতিহাদ’-এর মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত উদ্ভূত যেকোনো নতুন সমস্যার সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
৩. বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা কী?
বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা হলো অহিংসা এবং চারটি আর্য সত্য ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণের মাধ্যমে জীবনের সকল দুঃখ ও কামনা-বাসনা বিনাশ করে নির্বাণ লাভ করা।
৪. শিখ ধর্মের পাঁচ কাকার (Panj Kakar) কী কী?
পাঁচ কাকার হলো শিখদের পাঁচটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রতীক: ১. কেশ (চুল না কাটা), ২. কঙ্গা (চিরুনি), ৩. কৃপাণ (ছোট তরবারি), ৪. কারা (লোহার বালা), এবং ৫. কাছেরা (বিশেষ জাঙ্গিয়া)।
৫. ইহুদিদের সাথে মুসলমানদের মৌলিক পার্থক্য কী?
ইহুদিরা হযরত ঈসা ও হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেদের একমাত্র নির্বাচিত জাতি দাবি করে; পক্ষান্তরে মুসলমানগণ সকল সত্য নবীদের স্বীকার করেন এবং বর্ণভেদহীন সার্বজনীন তাওহিদে বিশ্বাস করেন।
৬. ২০২৪ সালের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
দ্বীন ও শরিয়তের পার্থক্য, ইসলামের সর্বকালীনতা, ইহুদি ও শিখ ধর্মের বিশ্বাস ও ধর্মগ্রন্থ, বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি ও চার আর্য সত্য এবং হাদিসে বর্ণিত “দ্বীনুন নাসীহাহ”-এর তাৎপর্য বিশেষভাবে অধ্যয়ন করা উচিত।