اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علم السياسة والإدارة العامة
[রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন]
বিষয় কোড: ২০১৩০৭ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن سؤالين من كل قسم من الأقسام الأربعة-
[দ্রষ্টব্য: চারটি বিভাগের প্রত্যেকটি বিভাগ থেকে ২টি করে মোট ৮টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
قسم علم السياسة – রাষ্ট্রবিজ্ঞান অংশ
مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٢ = ٣٠
[যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
١- مَا الْمُرَادُ بِالْمُجْتَمَعِ الْإِسْلَامِيِّ؟ تَحَدَّثْ عَنْ أَوْصَافِ الْمُجْتَمَعِ الْإِسْلَامِيِّ فِي ضَوْءِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ –
[১. ইসলামি সমাজ বলতে কী বোঝায়? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সামষ্টিক ও সামাজিক জীবনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। একটি সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণই ইসলামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
ইসলামি সমাজের সংজ্ঞা
যে সমাজ তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতের বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যেখানকার পারস্পরিক সম্পর্ক, কৃষ্টি-কালচার, অর্থনীতি ও বিচারব্যবস্থা কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় তাকে ইসলামি সমাজ বলে। এটি কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা জাতিগত পরিচয়ের অধীন নয়, বরং ঈমানি ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এক আদর্শিক সমাজ।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ
- তাওহিদভিত্তিক ঐক্য: ইসলামি সমাজের মূল ভিত্তি হলো এক আল্লাহর ইবাদত। মহান আল্লাহ বলেন: إِنَّ هَٰذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ — “নিশ্চয় তোমাদের এই উম্মত তো একই উম্মত, আর আমি তোমাদের রব; অতএব আমারই ইবাদত কর।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৯২)।
- সার্বজনীন ভ্রাতৃত্ব ও সমতা: বর্ণ, ভাষা বা বংশের ভিত্তিতে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কুরআন ঘোষণা করে: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ — “নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১০)। বিদায় হজের ভাষণে নবীজী (স.) বলেন, “কোনো আরবের ওপর অনারবের এবং অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি তাকওয়া।”
- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ (আমর বিল মা’রুফ): এ সমাজের প্রতিটি সদস্য সক্রিয়ভাবে কল্যাণ প্রচার ও অন্যায় প্রতিরোধ করে: كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ (সূরা আলে ইমরান: ১১০)।
- সামাজিক সুবিচার (আদল ও ইনসাফ): শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি ইনসাফ নিশ্চিত করা। আল্লাহ বলেন: “কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।” (সূরা আল-মায়িদা: ৮)।
- সহানুভূতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় মুমিনদের দৃষ্টান্ত একটি দেহের মতো, যার একটি অঙ্গ ব্যথিত হলে সমগ্র দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।” (সহীহ মুসলিম)।
- নৈতিক পবিত্রতা ও পারিবারিক বন্ধন: বিবাহকে উৎসাহিত করা, অশ্লীলতা ও ব্যভিচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা।
٢- تَحَدَّثْ عَنِ الْحُرِّيَّةِ – اشْرَحْ طَبِيعَةَ الْحُرِّيَّةِ فِي نَظَرِ الْإِسْلَامِ –
[২. স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোচনা কর। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাধীনতার প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
স্বাধীনতা মানব জীবনের পরম কাঙ্ক্ষিত সম্পদ। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা। ইসলাম মানুষকে সকল প্রকার তাগুত ও মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে একমাত্র স্রষ্টার দাসত্বের অধীনে প্রকৃত স্বাধীনতা দান করেছে।
স্বাধীনতার স্বরূপ ও প্রকৃতি
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা হলো কোনো প্রকার জবরদস্তি বা বাধা ছাড়া নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ক্ষমতা। তবে লাগামহীন স্বাধীনতা অরাজকতা ডেকে আনে। তাই ইসলাম স্বাধীনতাকে নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ঐশী আইনের শৃঙ্খলে সুষম করেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বাধীনতার মূল প্রকৃতি ও ক্ষেত্রসমূহ
- চিন্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা: ইসলাম কাউকে জোরপূর্বক ইসলামে দীক্ষিত করা সমর্থন করে না। কুরআন বলে: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ (সূরা বাকারা: ২৫৬)। অমুসলিমদের তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সত্যের ঘোষণা: সৎ কাজের পরামর্শ দেওয়া এবং শাসকের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করাকে ইসলাম সর্বোত্তম জিহাদ ঘোষণা করেছে। রাসূল (স.) বলেন, “অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলাই সর্বোত্তম জিহাদ।” (আবু দাউদ)।
- নাগরিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: বিনা বিচারে কাউকে বন্দি করা বা কারো বাড়িতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা নিষিদ্ধ: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّىٰ تَسْتَأْنِسُوا (সূরা নূর: ২৭)।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: হালাল উপায়ে অর্থ উপার্জন ও সম্পদ ভোগ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তবে সুদ ও চোরাচালানের মতো শোষক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ।
٣- نَاقِشْ بِالتَّفْصِيلِ تَعْرِيفَ الدَّوْلَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ وَخَصَائِصَهَا وَأَهَمِّيَّتَهَا –
[৩. ইসলামি রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, এর বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামি রাষ্ট্র কোনো সাধারণ ধর্মনিরপেক্ষ বা স্বৈরাচারী রাষ্ট্র নয়; এটি এমন এক আদর্শিক রাষ্ট্র যার মূল লক্ষ্য দুনিয়ার কল্যাণ সাধন এবং আখেরাতের মুক্তি অর্জন।
ইসলামি রাষ্ট্রের সংজ্ঞা
যে রাষ্ট্র মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে চূড়ান্ত বলে স্বীকার করে এবং যেখানে সরকার ও জনগণ কুরআন-সুন্নাহর বিধানের অনুসারী হয়ে খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে তাকে ইসলামি রাষ্ট্র বলে।
ইসলামি রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
- সার্বভৌমত্ব আল্লাহর: শাসন ও বিধান প্রণয়নের চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর: إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ (সূরা ইউসুফ: ৪০)। মানুষ কেবল তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রতিনিধি।
- সংবিধান হিসেবে কুরআন ও সুন্নাহ: রাষ্ট্রের সকল আইন ও নীতি কুরআন ও সুন্নাহর মৌলিক নির্দেশনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।
- শুরা বা পরামর্শভিত্তিক শাসন: রাষ্ট্রপ্রধান একনায়ক হতে পারবেন না, বরং যোগ্য পরামর্শ সভার সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্র চালাবেন।
- আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার: রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে অতি সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত একই আইনের অধীন। কোনো বিশেষ ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- কল্যাণমুখী অর্থনীতি: যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা, বায়তুলমালের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা এবং সম্পদের পুঞ্জীভবন রোধ করা।
ইসলামি রাষ্ট্রের গুরুত্ব
ইসলামি অনুশাসন, দণ্ডবিধি (হুদুদ), যাকাত বণ্টন, ধর্মীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পাহারা কোনো ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয় না; এর জন্য রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রয়োজন। ইমাম গাযযালী (রহ.) যথার্থই বলেছেন: “দ্বীন ও রাষ্ট্র হলো জমজ ভাই; দ্বীন হলো ভিত্তি আর রাষ্ট্র হলো তার পাহারাদার।”
٤- مَا الْمَقْصُودُ بِالْمُجْتَمَعِ؟ وَنَاقِشْ خَصَائِصَهُ وَمُكَوَّنَاتِهِ، وَحَدِّدِ الْعَلَاقَةَ بَيْنَ الْفَرْدِ وَالْمُجْتَمَعِ –
[৪. সমাজ বলতে কী বোঝায়? এর বৈশিষ্ট্য ও উপাদানসমূহ আলোচনা কর এবং ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় কর।]
ভূমিকা
মানুষ একা বাস করতে পারে না। গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, “মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব; যে সমাজে বাস করে না সে হয় দেবতা, না হয় পশু।” সমাজ মানুষের সহজাত প্রয়োজনের ফসল।
সমাজের সংজ্ঞা ও উপাদানসমূহ
নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় সাধারণ লক্ষ্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে সুসংগঠিত মানবগোষ্ঠীকে সমাজ (Society) বলে।
সমাজের প্রধান উপাদান:
- জনগোষ্ঠী (Human Population)
- পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা (Mutual Interaction & Cooperation)
- ঐক্য ও একতাবোধ (Likeness & Unity)
- সাধারণ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ (Shared Culture & Norms)
ব্যক্তি ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক
| দৃষ্টিভঙ্গি | মূল বক্তব্য | ইসলামি সমন্বয় |
|---|---|---|
| ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ | ব্যক্তিই প্রধান, সমাজের কাজ ব্যক্তির সুবিধার নিশ্চয়তা দেওয়া। | ইসলাম ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে। ব্যক্তিকে সম্মান ও স্বাধিকার দেয়, কিন্তু সামষ্টিক কল্যাণে ব্যক্তির স্বার্থকে কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য করে। ব্যক্তি সমাজের ভিত্তি, আর সমাজ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। |
| সমাজতান্ত্রিক দর্শন | সমাজই সবকিছু, ব্যক্তির কোনো পৃথক সত্তা নেই। |
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٢ = ١٠
[যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
٥- بَيِّنْ مَزَايَا دُسْتُورِ الْعَامِ ۱۹۷۲ م بِالْإِيجَازِ –
[৫. ১৯৭২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের সংবিধান একটি ঐতিহাসিক দলিল। এর প্রধান সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
- লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়: এটি একটি সুসংবদ্ধ লিখিত দলিল, যার সংশোধন জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে করতে হয়।
- মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা: সংবিধানের ৩য় ভাগে নাগরিকদের চলাফেরা, মতপ্রকাশ, ধর্ম ও আইনের আশ্রয়ের ১৮টি মৌলিক অধিকার আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য করা হয়েছে।
- সংসদীয় গণতন্ত্র: সরকার ব্যবস্থা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদীয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়।
- সার্বজনীন ভোটাধিকার: ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব সকল নাগরিকের জন্য একক নির্বাচকমণ্ডলীর ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
٦- حَدِّدِ الْفَرْقَ بَيْنَ الْحُكُومَةِ الرِّئَاسِيَّةِ وَالْحُكُومَةِ الْوِزَارِيَّةِ –
[৬. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ও সংসদীয়/মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।]
| তুলনার বিষয় | রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার (Presidential) | সংসদীয়/মন্ত্রীপরিষদ শাসিত সরকার (Parliamentary) |
|---|---|---|
| প্রধান নির্বাহী | রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান। | প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। |
| জবাবদিহিতা | মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে না। | মন্ত্রিসভা যৌথভাবে আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। |
| ক্ষমতা বণ্টন | কঠোর ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসৃত হয়। | শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মেলবন্ধন থাকে। |
| উদাহরণ | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। | বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ভারত। |
٧- مَا الْمَقْصُودُ بِالدِّبْلُومَاسِيَّةِ؟ وَفَسِّرْ وُجْهَةَ نَظَرِ الْإِسْلَامِ حَوْلَ الدِّبْلُومَاسِيَّةِ –
[৭. কূটনীতি বলতে কী বোঝায়? কূটনীতি সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা কর।]
কূটনীতির পরিচয়: কোনো রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও স্বার্থ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে অন্য রাষ্ট্রের সাথে আলোচনা, চুক্তি ও যোগাযোগ রক্ষা করার শিল্পকে কূটনীতি (Diplomacy) বলে।
ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:
- ইসলামে কূটনীতি কোনো প্রতারণা বা চক্রান্তের নাম নয়, বরং তা সত্য, শান্তি ও চুক্তি পালনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- রাসূলুল্লাহ (স.) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজন্যবর্গের (রোম, পারস্য, আবিসিনিয়া, মিসর) কাছে দূত পাঠিয়েছিলেন এবং হুদায়বিয়ার সন্ধির মাধ্যমে বিশ্বের সেরা কূটনৈতিক প্রজ্ঞার নিদর্শন স্থাপন করেছিলেন।
- ইসলামে দূতের জীবন সম্পূর্ণ নিরাপদ (Diplomatic Immunity) এবং চুক্তি সবসময় বিশ্বস্ততার সাথে রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
٨- بَيِّنْ جَوَانِبَ الْمُسَاوَاةِ فِي الدَّوْلَةِ الْمِثَالِيَّةِ –
[৮. একটি আদর্শ রাষ্ট্রে সাম্যের বিভিন্ন দিক বর্ণনা কর।]
একটি আদর্শ রাষ্ট্রে সাম্যের প্রধান দিকগুলো হলো:
- আইনগত সাম্য: আইনের চোখে সবাই সমান, কাউকে বিশেষ কোনো বিশেষাধিকার দেওয়া যাবে না।
- রাজনৈতিক সাম্য: প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোট দেওয়ার ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সমান সুযোগ থাকা।
- অর্থনৈতিক সাম্য: সম্পদের ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন ও প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধান।
- সামাজিক সাম্য: ধর্ম, বর্ণ বা বংশের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না থাকা।
قسم الإدارة العامة – লোক প্রশাসন অংশ
مجموعة (ج) – গ-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٢ = ٣٠
[যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
٩- مَا النَّظَرِيَّةُ الْإِسْلَامِيَّةُ فِي الْإِدَارَةِ الْعَامَّةِ؟ تَحَدَّثْ عَنِ الْهَيْكَلِ الْإِدَارِيِّ لِخِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ –
[৯. লোক প্রশাসনে ইসলামি তত্ত্ব কী? আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতকালের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা কর।]
লোক প্রশাসনে ইসলামি তত্ত্ব
ইসলামি লোক প্রশাসনের মূল তত্ত্বটি চারটি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: ১. আল-আমানাহ (পাবলিক অফিস হলো পবিত্র আমানত), ২. আল-আদল (সকলের প্রতি সমমর্যাদা ও সুবিচার), ৩. আশ-শুরা (গণতান্ত্রিক ও যৌথ পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ), এবং ৪. আল-মুহাসাবাহ (জনগণ ও স্রষ্টার নিকট কঠোর জবাবদিহিতা)।
হযরত আবু বকর (রা.)-এর প্রশাসনিক কাঠামো
- খলিফা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: হযরত আবু বকর (রা.) ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ভাষণেই তিনি বলেন: “যতক্ষণ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করি ততক্ষণ তোমরা আমার আনুগত্য কর; যদি অবাধ্য হই তবে আমার প্রতি তোমাদের আনুগত্য নেই।”
- মজলিসে শুরা: রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি বিশিষ্ট সাহাবীদের নিয়ে গঠিত পরামর্শ পরিষদের সাথে আলোচনা করতেন।
- প্রাদেশিক প্রশাসন: তিনি সমগ্র আরব উপদ্বীপকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করে বিশ্বস্ত ও যোগ্য সাহাবীদের ওয়ালী (গভর্নর) হিসেবে নিয়োগ করেন (যেমন: মক্কায় ইত্তাব ইবনে উসাইদ, ইয়েমেনে মুহাজির ইবনে আবি উমাইয়্যা)।
- সেনাবাহিনীর সংস্কার ও নেতৃত্ব: রিদ্দার যুদ্ধ ও বাইজেন্টাইন অভিযানের জন্য তিনি ওসামা ইবনে যায়েদ, খালিদ ইবনে ওয়ালীদ প্রমুখের অধীনে দক্ষ সেনাবহর প্রেরণ করেন।
- বায়তুলমাল ও রাজস্ব বণ্টন: যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও যাকাতের অর্থ সমানভাবে জনগণের মধ্যে বণ্টন করতেন। এতে কোনো ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য করা হতো না।
- কুরআন সংকলনের যুগান্তকারী প্রশাসনিক পদক্ষেপ: ইয়ামামার যুদ্ধে হাফেজদের শাহাদাতের পর সরকারি উদ্যোগে যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.)-এর মাধ্যমে কুরআন সংকলন করান।
١٠- اكْتُبِ الشُّرُوطَ اللَّازِمَةَ لِلْقُضَاةِ الْمُسْلِمِينَ وَالْإِدَارِيِّينَ فِي مَنْظُورِ الشَّرِيعَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ مُفَصَّلًا –
[১০. ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসলিম বিচারক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আবশ্যকীয় শর্তাবলি বিস্তারিত লেখ।]
ভূমিকা
প্রশাসক ও বিচারকদের ওপর রাষ্ট্রের সার্বিক শান্তি, স্থায়িত্ব ও সুবিচার নির্ভর করে। ইসলাম কোনো অযোগ্য ও চরিত্রহীন ব্যক্তির হাতে প্রশাসনিক পদ অর্পণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিচারকদের আবশ্যকীয় শর্তাবলি
- ঈমান ও তাকওয়া: আল্লাহভীতি এবং আখেরাতে জবাবদিহিতার অনুভূতি থাকা প্রথম শর্ত। তাকওয়াহীন কর্মকর্তা সহজেই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়।
- যোগ্যতা ও দক্ষতা (আল-কুউয়্যাহ): সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের মতো প্রয়োজনীয় শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। কুরআন বলে: إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ — “নিশ্চয়ই আপনার কর্মচারী হিসেবে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।” (সূরা ক্বাসাস: ২৬)।
- আমানতদারি ও সততা (আল-আমানাহ): সরকারি সম্পত্তি ও জনগণের তহবিলকে সম্পূর্ণ পবিত্র মনে করা। ঘুষ, হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
- শরিয়তি জ্ঞান ও দূরদর্শিতা (বিচারকদের জন্য): কুরআন, সুন্নাহ ও উসূলে ফিকহের ওপর পর্যাপ্ত পাণ্ডিত্য থাকা এবং ইজতিহাদের যোগ্যতা থাকা।
- পক্ষপাতহীনতা ও মানসিক ভারসাম্য: কোনো অবস্থাতেই আত্মীয়তা বা রাজনৈতিক আনুগত্য দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। রাসূল (স.) বলেছেন, বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় বিচার না করেন।
- উত্তম চরিত্র ও শালীনতা: জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী হওয়া।
١١- اشْرَحْ بِالتَّفْصِيلِ تَعْرِيفَ النِّظَامِ الْإِدَارِيِّ، وَخَصَائِصَهُ وَمُمَيَّزَاتِهِ –
[১১. প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংজ্ঞা, এর বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য বিশদভাবে ব্যাখ্যা কর।]
প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংজ্ঞা
কোনো সরকার বা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা বাস্তবায়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য দায়িত্ব, ক্ষমতা ও যোগাযোগের যে কাঠামোগত বিন্যাস কাজ করে তাকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা (Administrative System) বলে।
প্রশাসনিক ব্যবস্থার সাধারণ ও ইসলামি বৈশিষ্ট্যসমূহ
- পদসোপান নীতি (Hierarchy): প্রশাসন স্তরে স্তরে বিভক্ত থাকে, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা দেন।
- শ্রমবিভাগ ও বিশেষায়ন: কাজের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরে দায়িত্ব বণ্টন করা।
- স্থায়ী নিয়মকানুন: কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক নিয়মাবলি অপরিবর্তিত থাকে।
- নথিবদ্ধকরণ ও লিখিত দলিল: প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বজায় রাখতে লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণ করা।
ইসলামি প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য
- আধ্যাত্মিক জবাবদিহিতা: পার্থিব অডিট ছাড়াও আল্লাহর কাছে অণু পরিমাণ কাজেরও হিসাব দেওয়ার চেতনা।
- উম্মাহর সেবা (জনকল্যাণ): প্রশাসক নিজেকে জনগণের সেবক (খাদেম) মনে করেন, শাসক বা প্রভু নয়।
- নমনীয়তা ও সহানুভূতি: আইনের অন্ধ প্রয়োগ না করে মানবিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা।
١٢- مَا هُوَ إِدَارَةُ الْإِيرَادَاتِ؟ وَوَضِّحِ الْهَيْكَلَ الْأَسَاسِيَّ أَوِ الْإِطَارَ الْعَامَّ لِإِدَارَةِ الْإِيرَادَاتِ فِي الْإِسْلَامِ –
[১২. রাজস্ব প্রশাসন কী? ইসলামে রাজস্ব প্রশাসনের মৌলিক কাঠামো বা সাধারণ রূপরেখা ব্যাখ্যা কর।]
রাজস্ব প্রশাসনের সংজ্ঞা
রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় মেটানো এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও সুষম বণ্টনের প্রশাসনকে রাজস্ব প্রশাসন (Revenue Administration) বলে।
ইসলামে রাজস্ব প্রশাসনের মৌলিক কাঠামো (বায়তুলমালের রূপরেখা)
ইসলামে রাজস্ব প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হলো **বায়তুলমাল** (পাবলিক ট্রেজারি)। এর মূল রাজস্ব খাতসমূহ নিম্নরূপ:
- যাকাত ও উশর: মুসলমানদের ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর নির্ধারিত ২.৫% যাকাত এবং কৃষিজমির ফসলের ওপর ৫% বা ১০% উশর আদায় করা। এটি নির্দিষ্ট ৮টি খাতে ব্যয় হয়।
- জিজিয়া: ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম সক্ষম পুরুষ নাগরিকদের জানমাল ও সামরিক নিরাপত্তার বিনিময়ে গৃহীত কর।
- খারাজ: অমুসলিমদের অধিকৃত কৃষি জমির ওপর ধার্যকৃত ভূমি রাজস্ব।
- আল-ফাই ও গনিমত: যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গনিমত)-এর এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা হয় এবং যুদ্ধ ছাড়া অর্জিত সম্পদ (ফাই) সরাসরি বায়তুলমালে যায়।
- আল-উশুর (বাণিজ্য শুল্ক): বৈদেশিক বাণিজ্যের পণ্যের ওপর ধার্যকৃত শুল্ক।
مجموعة (د) – ঘ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٢ = ١٠
[যে-কোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
١٣- أَوْضِحِ الْفَرْقَ بَيْنَ الْإِدَارَةِ الْعَامَّةِ الْإِسْلَامِيَّةِ وَالْإِدَارَةِ الْعَامَّةِ الْغَرْبِيَّةِ –
[১৩. ইসলামি লোক প্রশাসন ও পাশ্চাত্য লোক প্রশাসনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট কর।]
| তুলনার বিষয় | ইসলামি লোক প্রশাসন | পাশ্চাত্য লোক প্রশাসন |
|---|---|---|
| মূল দর্শন | ঐশী দিকনির্দেশনা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। | ধর্মনিরপেক্ষ বস্তুবাদ ও জাগতিক উপযোগিতা। |
| জবাবদিহিতা | জনগণের পাশাপাশি আল্লাহর নিকট দ্বিমুখী জবাবদিহি। | কেবলমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পার্থিব আইনের কাছে দায়বদ্ধ। |
| নৈতিকতা | নীতি ও মূল্যবোধ অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। | অনেক সময় নীতিহীন দক্ষতা ও আমলাতান্ত্রিক অনমনীয়তায় ভোগে। |
١٤- اذْكُرِ الْفَرْقَ بَيْنَ الْإِدَارَةِ الْعَامَّةِ وَعِلْمِ الِاجْتِمَاعِ –
[১৪. লোক প্রশাসন ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।]
- বিষয়বস্তু: সমাজবিজ্ঞান সমগ্র মানব সমাজ, সামাজিক সম্পর্ক ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আচরণ অধ্যয়ন করে; পক্ষান্তরে লোক প্রশাসন রাষ্ট্রের সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করে।
- পরিধি: সমাজবিজ্ঞানের পরিধি অনেক ব্যাপক ও সার্বজনীন; লোক প্রশাসনের পরিধি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ।
- প্রকৃতি: সমাজবিজ্ঞান মূলত একটি তাত্ত্বিক ও বর্ণনামূলক বিজ্ঞান; লোক প্রশাসন একটি ফলিত ও প্রায়োগিক বিজ্ঞান।
١٥- مَا هُوَ دَوْرُ الْإِدَارَةِ الْعَامَّةِ فِي إِدَارَةِ الْوَظَائِفِ الْعَامَّةِ؟
[১৫. সরকারি চাকরি ও পদ ব্যবস্থাপনায় লোক প্রশাসনের ভূমিকা কী?]
সরকারি চাকরি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় লোক প্রশাসন নিচের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে:
- মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও বাছাই: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দান।
- প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবামুখী মনোভাবের প্রশিক্ষণ প্রদান।
- পদোন্নতি ও প্রণোদনা: কাজের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে পদোন্নতি ও উপযুক্ত বেতন-ভাতা নির্ধারণ।
- শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ: সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও দুর্নীতির তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
١٦- اكْتُبْ مَزَايَا الْإِدَارَةِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ –
[১৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের প্রশাসনের সুবিধাসমূহ ও বৈশিষ্ট্য লেখ।]
রাসূলুল্লাহ (স.)-এর মদিনা প্রশাসনের প্রধান সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
- মদিনা সনদ: এটি বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান, যা বহুজাতিক রাষ্ট্রে সব ধর্মের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছিল।
- সরলতা ও অহংকারহীনতা: জটিল কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল না, সাধারণ মানুষ সরাসরি রাসূল (স.)-এর কাছে পৌঁছাতে পারত।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন: বংশমর্যাদা ভুলে যোগ্যতার ভিত্তিতে সেনাপতি ও কর্মকর্তা নিয়োগ (যেমন: তরুণ ওসামা ইবনে যায়েদকে প্রধান সেনাপতি নিয়োগ)।
- ইনসাফের রাজত্ব: স্বজনপ্রীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ধনী ও দরিদ্রের জন্য সমসুবিচার প্রতিষ্ঠা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন বিষয়ের কোড কত এবং এর গুরুত্ব কী?
এ পত্রের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৭। এটি অধ্যয়নের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্রচিন্তা, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসনিক নীতি ও ইসলামি লোক প্রশাসনের ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জিত হয়।
২. ইসলামি সমাজের মূল ভিত্তি কী?
ইসলামি সমাজের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ, ঈমানি ভ্রাতৃত্ব, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং সামাজিক সুবিচার কায়েম করা।
৩. ইসলামে খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা কী?
ইসলামে খলিফা কোনো স্বৈরাচারী শাসক বা চূড়ান্ত ক্ষমতার মালিক নন, বরং তিনি আল্লাহর প্রতিনিধি এবং জনগণের সেবক (আমেল), যিনি মজলিসে শুরার পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
৪. ইসলামি রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান প্রতিষ্ঠান কোনটি?
ইসলামি রাজস্ব প্রশাসনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হলো বায়তুলমাল, যেখানে যাকাত, উশর, জিজিয়া, খারাজ ও গনিমতের রাজস্ব জমা হয় এবং জনকল্যাণে ব্যয় হয়।
৫. সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের প্রধান পার্থক্য কী?
সংসদীয় সরকারে মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে এবং প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত সরকারপ্রধান হন; পক্ষান্তরে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি একক নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করেন এবং আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
৬. ২০২৪ সালের পরীক্ষার জন্য কোন অধ্যায়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
ইসলামি রাষ্ট্র ও সমাজের স্বরূপ, স্বাধীনতার প্রকৃতি, আবু বকর (রা.)-এর খেলাফত ও প্রশাসন, সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারকদের যোগ্যতা এবং ইসলামি রাজস্ব প্রশাসন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।