اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۴ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
العقائد الإسلامية
[আল-আক্বাইদুল ইসলামিয়্যাহ]
বিষয় কোড: ২০১৩০৫ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: اجب عن اربعة من مجموعة (الف) وعن اربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (الف) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠
١- ما المراد بالفرق الإسلامية؟ بين أسباب نشوء الفرق في التاريخ الإسلامي –
[১. আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ বলতে কী বোঝায়? ইসলামের ইতিহাসে বিভিন্ন ফিরকার উদ্ভবের কারণগুলো বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসলাম একটি অখণ্ড, পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন জীবনব্যবস্থা। রাসূলুল্লাহ (স.) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মুসলিম উম্মাহ একটিমাত্র অভিন্ন জামাআতের ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উম্মতের মধ্যে নানা দল ও উপদলের উদ্ভব ঘটে, যা ইসলামি ইতিহাসে ‘আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ’ (الفرق الإسلامية) নামে পরিচিত।
আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহর সংজ্ঞা
সংজ্ঞা: “ইসলামের ইতিহাসে আক্বীদাহ, ইমামত-খেলাফত কিংবা শরিয়তের মৌলিক মূলনীতির ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে কতিপয় নিজস্ব অভিনব মূলনীতির ওপর গড়ে ওঠা দল বা সম্প্রদায়কে ইসলামি ফিরকাসমূহ বলে।” যেমন: খারেজী, শিয়া, মু’তাযিলা, মুরজিয়া, জাবারিয়া ইত্যাদি।
ফিরকাসমূহ উদ্ভবের প্রধান ঐতিহাসিক কারণসমূহ
- রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও খেলাফতকেন্দ্রিক মতভেদ: ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মতভেদের সূত্রপাত ঘটে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে। হযরত উসমান (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাত এবং জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধের পর মুসলিম উম্মাহ রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই রাজনৈতিক বিভাজন থেকেই পরবর্তীতে খারেজী ও শিয়াদের মতো চরমপন্থী ধর্মীয় আকিদার জন্ম হয়।
- অনৈসলামিক দর্শন ও বহিরাগত সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ: উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে সিরিয়া, পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্যের বিপুল সংখ্যক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে। তাদের পূর্ববর্তী প্রাচীন গ্রিক দর্শন, ভারতীয় চিন্তা ও জরথুস্ত্রীয় দ্বৈতবাদী ধারণার সাথে ইসলামি আকিদার সংমিশ্রণ ঘটাতে গিয়ে বহু পথভ্রষ্ট ফিরকা (যেমন মু’তাযিলা, বাতেনী) মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
- কুরআন ও সুন্নাহর গভীর মর্ম অনুধাবনে ব্যর্থতা: একদল লোক কুরআনের ‘মুতাশাবিহ’ (রূপক বা রহস্যময়) আয়াতসমূহের প্রকাশ্য বা মনগড়া ব্যাখ্যা গ্রহণ করে পথভ্রষ্ট হয়। যেমন আল্লাহর হাত, চেহারা ইত্যাদি গুণাবলিকে মানুষের মতো তুলনা করে ‘মুজাসসিমা’ ও ‘মুশাব্বিহা’ ফিরকা গড়ে ওঠে, আবার সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ‘মু’আত্তিূলা’ তৈরি হয়।
- ইসলামের গোপন শত্রুদের ষড়যন্ত্র (যিন্দিকদের অনুপ্রবেশ): প্রকাশ্য যুদ্ধে মুসলিমদের পরাজিত করতে ব্যর্থ হয়ে ইহুদি ও পারসিক চক্রান্তকারীরা (যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা) বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে উম্মতের ভেতর বিভেদ ও চরমপন্থী আকিদা ছড়িয়ে দেয়।
- তাকদীর ও মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক: তাকদীরের মতো একটি সূক্ষ্ম ঈমানী বিষয়ে অহেতুক দার্শনিক বাহাস শুরু করার ফলে ‘কাদারিয়া’ (তাকদীর অস্বীকারকারী) ও ‘জাবারিয়া’ (মানুষের ইচ্ছাশক্তি অস্বীকারকারী) ফিরকার জন্ম হয়।
উপসংহার
রাসূলুল্লাহ (স.) পূর্বেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন যে উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে এবং এর মধ্যে কেবল তাঁর ও সাহাবাদের অনুসৃত মূলধারা (আহলে সুন্নাত) নাজাত লাভ করবে।
٢- ما أول فرقة ظهرت في التاريخ الإسلامي؟ اكتب خلفية ظهور هذه الفرقة مع ذكر بعض عقائدها الباطلة –
[২. ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন ফিরকার উদ্ভব হয়েছিল? এ ফিরকার উদ্ভবের প্রেক্ষাপট লেখ এবং তাদের কিছু ভ্রান্ত আকিদাহ উল্লেখ কর।]
সর্বপ্রথম উদ্ভূত ফিরকা: আল-খাওয়ারিজ (الخوارج)
ইসলামের ইতিহাসে রাজনৈতিক ও আকিদাগতভাবে সর্বপ্রথম যে দলটির আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, তা হলো ‘খারেজী’ (الخوارج) সম্প্রদায়।
খারেজী ফিরকার উদ্ভবের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
- সিফফিনের যুদ্ধ ও তাহকীম (সালিশী): ৩৭ হিজরীতে হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুআবিয়া (রা.)-এর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধে যখন মুআবিয়া (রা.)-এর বাহিনী বর্শার মাথায় কুরআন বেঁধে যুদ্ধবিরতি ও সালিশীর প্রস্তাব দেয়, তখন হযরত আলীর বাহিনীর একদল চরমপন্থী তাঁকে সালিশী মেনে নিতে বাধ্য করে।
- বিদ্রোহ ও দলত্যাগ: সালিশীর রায় প্রকাশের পর এই চরমপন্থীরাই উল্টো সুর ধরে বলে—মানুষকে সালিশ মানা শিরক ও কুফরি। তারা إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ (আল্লাহ ছাড়া কোনো বিচারক নেই) স্লোগান দিয়ে হযরত আলীর বাহিনী থেকে বের হয়ে যায়। প্রায় বারো হাজার বিদ্রোহী কুফার নিকটবর্তী ‘হারূরা’ নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে। দলত্যাগ ও বিদ্রোহ করার কারণে তাদের ‘খারেজী’ বলা হয়। পরবর্তীতে তারা নিরপরাধ মুসলমানদের হত্যা করতে শুরু করলে ৩৮ হিজরীতে হযরত আলী (রা.) নাহরাওয়ানের যুদ্ধে তাদের চরমভাবে পরাজিত করেন।
খারেজীদের প্রধান ভ্রান্ত আকিদাসমূহ
- কবিরা গোনাহগারকে কাফের গণ্য করা: তারা মনে করে ঈমান একটি অবিভাজ্য একক। কোনো ব্যক্তি একটিমাত্র কবিরা গোনাহ করলেই সে কাফের ও মুরতাদ হয়ে যায় এবং তার রক্ত ও সম্পদ হালাল হয়ে যায়।
- জলিলুল ক্বদর সাহাবাদের কাফের আখ্যা দেওয়া: তারা হযরত আলী, উসমান, মুআবিয়া, আয়েশা ও তালহা (রা.)-সহ বহু সাহাবীকে কাফের আখ্যা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণকে সওয়াব মনে করত।
- কুরআনের মনগড়া ও চরমপন্থী ব্যাখ্যা: তারা কুরআনের আপাত শব্দের ওপর অন্ধভাবে আমল করত এবং রাসূল (স.)-এর সুন্নাহ ও সাহাবাদের ফাহমকে অবজ্ঞা করত।
- অমুসলিমদের নিরাপত্তা দিয়ে মুসলমানদের হত্যা করা: তারা অমুসলিম জিম্মিদের নিরাপত্তা দিত কিন্তু কোনো মুসলিম তাদের চরমপন্থী আকিদা গ্রহণ না করলে তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত (যেমন সাহাবী খুব্বাব রা.-এর পুত্রকে হত্যা করেছিল)।
٣- عرف فرقة الشيعة؟ ثم بين الأسباب السياسية والفكرية التي ساهمت في ظهورها مفصلا –
[৩. শিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উদ্ভবের পেছনে থাকা রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কারণগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]
শিয়া সম্প্রদায়ের পরিচয়
‘শিয়া’ (الشيعة) শব্দের অর্থ দল, সমর্থক বা অনুসারী। পরিভাষায়, “যারা বিশ্বাস করে যে রাসূলুল্লাহ (স.)-এর ওফাতের পর হযরত আলী (রা.) এবং তাঁর বংশধরগণই ছিলেন খেলাফত ও ইমামতের একমাত্র বৈধ, ঐশী মনোনীত ও নিষ্পাপ উত্তরাধিকারী এবং তারা সাহাবায়ে কিরামের সাধারণ খেলাফতকে অস্বীকার করে—তাদের শিয়া বলা হয়।”
উদ্ভবের পেছনে রাজনৈতিক কারণসমূহ
- খেলাফত বনাম বংশীয় উত্তরাধিকারের বিতর্ক: আরব সংস্কৃতিতে কুরাইশদের মর্যাদা এবং আহলে বাইতের প্রতি সাধারণ মুসলমানদের অপরিসীম শ্রদ্ধা ছিল। একদল লোক খেলাফতকে শুরা বা যোগ্যতার ভিত্তির পরিবর্তে কেবল বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের মতো আহলে বাইতের একমাত্র অধিকার হিসেবে দাবি করে।
- গৃহযুদ্ধ ও কারবালার মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনা: ৬১ হিজরীতে কারবালার প্রান্তরে হযরত হুসাইন (রা.)-এর নির্মম শাহাদাত মুসলিম জাহানকে স্তব্ধ করে দেয়। কুফাবাসী যারা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তারা তীব্র অনুশোচনা (তাওয়াবীন আন্দোলন) ও উমাইয়াদের বিরুদ্ধে চরম রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে এক স্থায়ী রাজনৈতিক-ধর্মীয় আন্দোলনে রূপ নেয়।
- আব্বাসীয়দের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: উমাইয়াদের পতনের জন্য শিয়ারা বনু হাশিমের নামে আন্দোলন গড়ে তুললেও আব্বাসীয়রা ক্ষমতা দখল করে নেয়, ফলে শিয়ারা স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে সক্রিয় থাকে।
উদ্ভবের পেছনে বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাত্ত্বিক কারণসমূহ
- আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার চক্রান্ত: ইয়েমেনের এক ইহুদি চক্রান্তকারী আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে পারস্য ও মিশরে এক অভিনব তত্ত্ব প্রচার করে—প্রতিটি নবীর একজন ‘ওয়াসী’ (উইলকৃত উত্তরসূরি) থাকেন এবং মুহাম্মদ (স.)-এর ওয়াসী হলেন আলী (রা.)। সে হযরত আলীর মধ্যে খোদায়ী নূর থাকার চরম ভ্রান্ত আকিদা ছড়িয়ে দেয়।
- প্রাচীন পারস্যের বংশানুক্রমিক রাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা: পারস্যের প্রাচীন সাসানীয় সংস্কৃতিতে রাজাকে ‘ঈশ্বরের ছায়া’ এবং রাজবংশকে অলঙ্ঘনীয় বংশীয় মর্যাদাসম্পন্ন ভাবা হতো। বিপুল সংখ্যক ইরানী ইসলাম গ্রহণের পর তাদের সেই পুরনো রাজতান্ত্রিক ও ইমামকেন্দ্রিক ভক্তিকে ইসলামি পোশাকে শিয়া মতবাদে রূপান্তরিত করে।
٤- تحدث عن أوجه الشبه والاختلاف بين الجبرية والمعتزلة في باب القدر –
[৪. ‘কদর’ (নিয়তি) বিষয়ে ‘জাবারিয়া’ ও ‘মু’তাযিলা’ ফিরকার মধ্যে সাদৃশ্য ও পার্থক্যের দিকগুলো আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামি কালামশাস্ত্রে তাকদীর ও মানুষের স্বাধীন কর্মক্ষমতা নিয়ে সবচেয়ে বিপরীতমুখী দুটি চরমপন্থী দল হলো ‘জাবারিয়া’ এবং ‘মু’তাযিলা’। উভয়েই সঠিক মধ্যমপন্থা (আহলে সুন্নাত) থেকে বিচ্যুত হয়ে দুই চরম মেরুতে অবস্থান নিয়েছে।
উভয়ের মধ্যকার মৌলিক বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য
| মানদণ্ড | জাবারিয়া সম্প্রদায় (الجبرية) | মু’তাযিলা সম্প্রদায় (المعتزلة / القدرية) |
|---|---|---|
| মানুষের কর্মক্ষমতা | মানুষ সম্পূর্ণ বাধ্য (مجبور); মানুষের কোনো ইচ্ছা, শক্তি বা কর্মক্ষমতা নেই। | মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ; মানুষ নিজেই নিজের সমস্ত ভালো ও মন্দ কাজের স্রষ্টা (خالق أفعاله)। |
| আল্লাহর কুদরত ও ইরাদা | আল্লাহ মানুষকে দিয়ে জোরপূর্বক ভালো-মন্দ করান। মানুষের পাপের জন্য আল্লাহই দায়ী (নাউযুবিল্লাহ)। | মানুষের ইচ্ছাধীন কাজে আল্লাহর কোনো কুদরত বা হস্তক্ষেপ নেই। আল্লাহ বান্দার কাজের ওপর ক্ষমতাহীন। |
| কুরআনের আয়াত ব্যবহার | কেবল জবরদস্তিমূলক আয়াতসমূহ (যেমন: والله خلقكم وما تعملون) গ্রহণ করে। | কেবল মানুষের দায়িত্বশীলতার আয়াতসমূহ (যেমন: فمن شاء فليؤمن) গ্রহণ করে। |
উভয়ের মধ্যকার সাদৃশ্যের দিক
- উভয় দলই বুদ্ধিকে ওহির ওপর প্রাধান্য দিয়ে চরম একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।
- উভয়েই আহলে সুন্নাতের সুষম মধ্যমপন্থা ‘কাসব’ (বান্দার ইচ্ছা ও আল্লাহর সৃষ্টি)-এর তত্ত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে।
- উভয় দলের আকিদাই শরিয়তের ভারসাম্য নষ্ট করে উম্মতের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
٥- لماذا تعد القاديانية خارجة عن الإسلام؟ وما موقف أهل السنة والجماعة منهم؟ بين موضحا بالأدلة –
[৫. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে কেন ইসলাম বহির্ভূত বলে গণ্য করা হয়? তাদের সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান কী? দলিল প্রমাণসহ বিশদভাবে আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ছত্রছায়ায় ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান নিবাসী মির্জা গোলাম আহমদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘কাদিয়ানী’ বা তথাকথিত ‘আহমদিয়া’ জামাত ইসলামের সর্বসম্মত আকিদা ধ্বংসকারী এক কুফরি ফেতনা।
কাদিয়ানীদের ইসলাম বহির্ভূত হওয়ার মৌলিক কারণসমূহ
- খতমে নবুওয়তের অকাট্য আকিদা অস্বীকার: মির্জা গোলাম আহমদ নিজেকে যিল্ল ও বুরূযী নবী, প্রতিশ্রুত মসীহ ও মাহদী দাবি করেছে। অথচ হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পর যে কোনো প্রকার নবুওয়তের দাবিদার এবং তার অনুসারী চিরতরে কাফের।
- ঈসা (আ.)-এর আসমানী জীবন ও পুনরাগমন অস্বীকার: কুরআন ও সহীহ হাদীসের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা সত্ত্বেও তারা বিশ্বাস করে ঈসা (আ.) কাশ্মীরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মির্জা গোলাম আহমদই নাকি রূপক ঈসা।
- ইসলামের ফরজ জিহাদ রহিত করার ঘোষণা: ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভুদের স্বার্থে মির্জা গোলাম আহমদ ঘোষণা করেছিল যে ইসলামে সশস্ত্র জিহাদ চিরতরে হারাম ও রহিত করা হয়েছে।
- সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে কাফের ফতোয়া দেওয়া: মির্জা কাদিয়ানীর প্রতি যারা ঈমান আনে না, তারা গোটা বিশ্বের কোটি কোটি তাওহীদপন্থী মুসলমানকে জাহান্নামী কাফের বলে গণ্য করে।
কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিলসমূহ
- পবিত্র কুরআন: مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ — “মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।” (সূরা আল-আহযাব: ৪০)।
- সহীহ হাদিস: রাসূলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন: إِنَّ الرِّسَالَةَ وَالنُّبُوَّةَ قَدِ انْقَطَعَتْ فَلَا رَسُولَ بَعْدِي وَلَا نَبِيَّ — “নিশ্চয় রিসালাত ও নবুওয়তের ধারা সমাপ্ত হয়েছে; অতএব আমার পর আর কোনো রাসূল নেই এবং কোনো নবী নেই।” (তিরমিযী: ২২৭২)।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান ও বৈশ্বিক ফতোয়া
বিশ্ব মুসলিমের শীর্ষ ফিকহ একাডেমি (রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামী, ওআইসি ফিকহ একাডেমি, মিসরের আল-আজহার এবং দেওবন্দসহ বিশ্বের সমস্ত মুসলিম পণ্ডিত) সর্বসম্মতভাবে ফতোয়া দিয়েছেন যে: কাদিয়ানী বা আহমদিয়ারা ইসলামের মৌলিক আকিদা অস্বীকারকারী কাফের, অমুসলিম এবং যিন্দিক। রাষ্ট্রীয় ও আইনগতভাবে তাদের অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করা আবশ্যক।
٦- عرف المعتزلة – ثم بين فروعهم وعقائدهم وبعض رجالهم مفصلا –
[৬. মু’তাযিলার পরিচয় দাও। অতঃপর তাদের শাখা, আকিদাসমূহ ও কতিপয় অনুসারীদের বর্ণনা দাও।]
মু’তাযিলাদের পরিচয়
‘ই’তিযাল’ (الاعتزال) অর্থ পৃথক বা বিচ্ছিন্ন হওয়া। হিজরী দ্বিতীয় শতকের প্রারম্ভে বসরার মসজিদে তাবেঈ ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর দারসে কবিরা গোনাহগারের বিধান নিয়ে মতবিরোধ করে তাঁর ছাত্র ওয়াসিল ইবনে আতা মজলিস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক নতুন দল গঠন করে। ইমাম হাসান বসরী বলেছিলেন: اعْتَزَلَ عَنَّا وَاصِلٌ (ওয়াসিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে)। সেখান থেকেই তাদের নাম হয় ‘মু’তাযিলা’ (المعتزلة)।
মু’তাযিলাদের পঞ্চ মূলনীতি (الأصول الخمسة)
- আত-তাওহীদ (التوحيد): আল্লাহর সিফাতসমূহকে অস্বীকার করা এবং কুরআনকে সৃষ্টি (মাখলূক) বিশ্বাস করা।
- আল-আদল (العدل): মানুষকে তার কর্মের একক স্রষ্টা বিশ্বাস করে তাকদীর অস্বীকার করা।
- আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়াইদ (الوعد والوعيد): আল্লাহ নেককারকে প্রতিদান দিতে এবং পাপীকে শাস্তি দিতে বাধ্য, তিনি কাউকে ক্ষমা করতে পারেন না বলে দাবি করা।
- আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন (المنزلة بين المنزلتين): কবিরা গোনাহগার মুমিনও নয়, কাফেরও নয়; বরং এক মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকে।
- আল-আমর বিল মারূফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার: প্রয়োজনে শাসকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ ও অস্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের মতবাদ চাপিয়ে দেওয়া।
শাখা ও প্রধান ব্যক্তিত্ববৃন্দ
- শাখা: প্রধানত দুটি ধারায় বিভক্ত ছিল—১. বসরার মু’তাযিলা সম্প্রদায় এবং ২. বাগদাদের মু’তাযিলা সম্প্রদায়।
- শীর্ষ ব্যক্তিত্ব: ওয়াসিল ইবনে আতা, আমর ইবনে উবাইদ, আবুল হুযাইল আল-আল্লাফ, ইবরাহীম আন-নাজ্জাম, আল-জাহিজ, কাদী আব্দুল জব্বার এবং তাফসীরে কাশশাফের রচয়িতা আল-যমখশরী।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠
٧- اكتب آية قرآنية في أهمية الاتحاد وآية أخرى فى ذم الاختلاف ثم ترجمهما بالبنغالية –
[৭. ঐক্যের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি এবং মতবিরোধের নিন্দা সম্পর্কে একটি কুরআনের আয়াত লেখ এবং অর্থ আলোচনা কর।]
ঐক্যের গুরুত্বে পবিত্র আয়াত
وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا
[আর তোমরা সকলে সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জুকে (কুরআন ও দ্বীনকে) সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পরে বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়ো না।] (সূরা আলে ইমরান: ১০৩)।
অনৈক্য ও মতবিরোধের নিন্দায় পবিত্র আয়াত
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
[আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি আসার পরও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে এবং পরস্পরে মতভেদ করেছে; আর তাদের জন্যই রয়েছে মহাশাস্তি।] (সূরা আলে ইমরান: ১০৫)।
٨- بين عقيدة الشيعة في الإمامة –
[৮. শিয়াদের ইমামত সম্পর্কিত আক্বীদাহ ব্যাখ্যা কর।]
শিয়াদের ইমামত আকিদা
শিয়াদের নিকট ‘ইমামত’ নবুওয়তের মতোই এক অলঙ্ঘনীয় ঐশী স্তম্ভ। তাদের মতে:
- ইমাম সাধারণ মানুষের শুরা বা নির্বাচনের বিষয় নন, বরং আল্লাহ কর্তৃক সরাসরি নির্ধারিত ও মনোনীত।
- ইমামগণ নবীদের মতোই সম্পূর্ণ নিষ্পাপ (মাসূম), তাঁদের কোনো ভুলত্রুটি বা বিচ্যুতি হতে পারে না।
- ইমামগণ গায়েবের জ্ঞান রাখেন এবং মহাবিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণুর ওপর তাঁদের অলৌকিক কর্তৃত্ব রয়েছে। আহলে সুন্নতের দৃষ্টিতে এই আকিদা সুস্পষ্ট অতিরঞ্জন ও চরম বিভ্রান্তি।
٩- ما عقيدة الجبرية في أفعال العباد؟ بين –
[৯. বান্দার কর্ম বিষয়ে জাবারিয়াদের আক্বীদাহ কী? বর্ণনা কর।]
জাবারিয়াদের মূল আকিদা
জাবারিয়াদের মতে বান্দার নিজস্ব কোনো ইচ্ছা, এখতিয়ার বা কর্মক্ষমতা নেই। মানুষ যা কিছু করে—নামাজ পড়া থেকে শুরু করে চুরি বা পাপাচার পর্যন্ত—সবকিছুই আল্লাহ তাকে দিয়ে বাধ্য করে করান। তারা মানুষকে জড়পদার্থের সাথে তুলনা করে বলে যেমন বাতাসে গাছের পাতা নড়ে, মানুষও তেমনি ভাগ্যের অসহায় ক্রীড়নক। এই আকিদা শরিয়ত ও পরকালীন জবাবদিহিতার ভিত্তিকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ করে দেয়।
١٠- ما العقيدة الصحيحة في أسماء الله وصفاته؟ وضح –
[১০. আল্লাহর নাম ও সিফাতের বিষয়ে বিশুদ্ধ আক্বীদাহ কী? ব্যাখ্যা কর।]
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা
কুরআন ও সহীহ হাদীসে আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে সমস্ত নাম ও গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করেছেন, কোনো প্রকার সাদৃশ্য দান (তাশবীহ), অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কল্পনা (তামসীল), পরিবর্তন (তাহরীফ) বা অর্থহীনতা (তা’তীল) ছাড়াই সেগুলোর ওপর অটল বিশ্বাস স্থাপন করা। ইমাম মালেক (রহ.)-এর সেই সুপ্রসিদ্ধ মূলনীতি: الِاسْتِوَاءُ مَعْلُومٌ، وَالْكَيْفُ مَجْهُولٌ، وَالإِيمَانُ بِهِ وَاجِبٌ، وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ — “ইস্তিওয়া সুবিদিত, এর রূপ বা প্রকৃতি অজ্ঞাত, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এর ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিদআত।”
١١- ما المقصود بفرقة المرجئة؟ ولماذا سميت بهذا الإسم؟
[১১. মুরজিয়া ফিরকা বলতে কী বোঝায়? এবং এ নামটি কেন দেওয়া হয়েছে?]
পরিচয় ও নামকরণের কারণ
পরিচয়: যারা দাবি করে যে কেবল বিশ্বাসের নামই ঈমান, আমলের সাথে ঈমানের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ঈমান থাকলে কোনো কবিরা গোনাহের কারণে শাস্তি হবে না—তাদের মুরজিয়া বলে।
নামকরণের কারণ: ‘ইরজা’ শব্দের দুটি অর্থ:
- বিলম্বিত করা (التأخير): তারা আমলকে ঈমানের স্থান থেকে পিছিয়ে দেয় বলে তাদের মুরজিয়া বলা হয়।
- আশা দেওয়া (إعطاء الرجاء): তারা সমস্ত গোনাহগারকে জান্নাতের নিশ্চয়তার মিথ্যা আশা দেয় বলে তাদের এ নাম হয়েছে।
١٢- علق على واحد مما يلي : (أ) أهل القرآن ، (ب) العقيدة –
[১২. নিচের যে কোনো একটি বিষয়ে টীকা লেখ: (ক) আহলুল কুরআন, (খ) আল-আক্বীদাহ।]
(ক) আহলুল কুরআন (أهل القرآن)
উনিশ শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবে আত্মপ্রকাশকারী চরম বিভ্রান্ত এক দল যারা দাবী করে যে দ্বীনের জন্য কেবল কুরআনই যথেষ্ট এবং রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও হাদীসের কোনো প্রামাণিক মূল্য নেই। হাদীস অস্বীকারের মাধ্যমে তারা ইসলামের নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত ইত্যাদির সমস্ত প্রায়োগিক রূপ বিকৃত করেছে। উম্মতের আলিমদের সর্বসম্মত ফতোয়ায় হাদীস অস্বীকারকারী এই দলটি কাফের ও ইসলাম বহির্ভূত।
(খ) আল-আক্বীদাহ (العقيدة)
‘আকদ’ (العقد) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সুদৃঢ় গিঁট বা বন্ধন। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমানী কিতাবসমূহ, নবী-রাসূলগণ, পরকাল ও তাকদীরের প্রতি অন্তরের যে অবিচল, সন্দেহাতীত ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপিত হয়, তাকে আকিদা বলে। বিশুদ্ধ আকিদাই হলো মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের সার্বিক নাজাতের মূল চাবিকাঠি।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. আল-আক্বাইদুল ইসলামিয়্যাহ বিষয়ের বিষয় কোড কত?
আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আল-আক্বাইদুল ইসলামিয়্যাহ বিষয়ের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৫ এবং পরীক্ষা কোড হলো ২০৩।
২. ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন রাজনৈতিক ও আকিদাগত ফিরকার উদ্ভব হয়েছিল?
সিফফিনের যুদ্ধের পর সালিশী মানার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘খারেজী’ (الخوارج) ফিরকার উদ্ভব হয়েছিল।
৩. মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা কে?
দ্বিতীয় হিজরীর প্রারম্ভে তাবেঈ ইমাম হাসান বসরী (রহ.)-এর দারস থেকে মতবিরোধ করে বিচ্ছিন্ন হওয়া ওয়াসিল ইবনে আতা হলো মু’তাযিলাদের প্রতিষ্ঠাতা।
৪. জাবারিয়া ও মু’তাযিলাদের তাকদীর বিষয়ে মূল বৈপরীত্য কী?
জাবারিয়াদের মতে মানুষ সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন ও বাধ্য; আর মু’তাযিলাদের মতে মানুষ তার কর্মের স্বাধীন স্রষ্টা এবং সেখানে আল্লাহর কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
৫. কাদিয়ানীদের কাফের হওয়ার প্রধান কারণ কী?
কাদিয়ানীরা পবিত্র কুরআনের অকাট্য ‘খাতামুন্নাবিয়্যীন’ আকিদা অস্বীকার করে মির্জা গোলাম আহমদকে মিথ্যা নবী মানায় তারা ইসলাম বহির্ভূত।
৬. আহলুল কুরআন নামধারী দলের মূল ভ্রান্তি কী?
তারা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর পবিত্র সুন্নাহ ও হাদীসকে শরিয়তের হুজ্জত হিসেবে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে, যা সুস্পষ্ট কুফরি ও গোমরাহি।