পরীক্ষা কোড: 204 | প্রশ্নপত্র কোড: 182
اختبار السنة الرابعة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ۲۰۲۱
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২১]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
علم البلاغة وعلم العروض
[ইলমুল বালাগাহ ওয়া ইলমুল আরূদ]
বিষয় কোড: 204409
الوقت — ٤ ساعات | الدرجات الكاملة — ٨٠
[সময় — ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : الأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة
علم البلاغة (ইলমুল বালাগাহ অংশ)
١- أجب عن أربعة من الأسئلة التالية:
[১. নিচের যে-কোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(الف) ما معنى الفصاحة لغة واصطلاحا؟ وما المراد بتنافر الحروف ومخالفة القياس والغرابة؟ بين بالأمثلة موضحا-
[১. (ক) শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ফাসাহাত কী? হরফের পরস্পর বিরোধিতা (তানাফুরুল হুরুফ), কিয়াসের খেলাফ হওয়া ও দুর্বোধ্যতা (গারাবাহ) দ্বারা কী বোঝায়? উদাহরণসহ বিশদ আলোচনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা:
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে (علم البلاغة) ‘ফাসাহাত’ (الفصاحة) ও ‘বালাগাত’ (البلاغة) অত্যন্ত মৌলিক দুটি পারিভাষিক প্রত্যয়। বিশুদ্ধ, প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী অভিব্যক্তির জন্য ফাসাহাত হলো বালাগাতের অপরিহার্য পূর্বশর্ত। নিম্নে ফাসাহাতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ এবং শব্দের ফাসাহাত বিনষ্টকারী দোষত্রুটিসমূহ উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ফাসাহাতের শাব্দিক অর্থ (معنى الفصاحة لغةً):
আরবি অভিধান মতে, ‘ফাসাহাত’ (الفصاحة) শব্দটি মূলত فصُح – يفصُح – فصاحة ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত, যার মূল আভিধানিক অর্থ হলো: الظهور والبيان (সুস্পষ্টতা, প্রকাশ পাওয়া এবং পরিচ্ছন্ন হওয়া)। বলা হয়ে থাকে: فصح الصبح (ভোরের আলো ফুটে উঠেছে/স্পষ্ট হয়েছে)। দুধের ওপর থেকে ফেনা সরে গিয়ে খাঁটি দুধ প্রকাশিত হলে আরবরা বলে: فصح اللبن। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ.)-এর প্রার্থনায় ভাই হারূন (আ.) সম্পর্কে এসেছে: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا} (আমার ভাই হারূন, সে আমার চেয়ে ভাষায় অধিক স্পষ্টভাষী ও প্রাঞ্জল)। অতএব, শাব্দিক অর্থে যে বক্তব্য সুস্পষ্ট, প্রাঞ্জল ও দ্বিধাহীন, তাকেই ফাসীহ বলা হয়।
২. ফাসাহাতের পারিভাষিক সংজ্ঞা (تعريف الفصاحة اصطلاحاً):
অলঙ্কারবিদদের পরিভাষায়, ফাসাহাত শব্দটির প্রয়োগ শব্দ (المفرد), বাক্য (الكلام) এবং বক্তা (المتكلم) — এই তিনটির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। একক শব্দের (المفرد) ক্ষেত্রে ফাসাহাত হলো:
“خلوص الكلمة من تنافر الحروف، ومخالفة القياس الصرفي، والغرابة، مع فصاحة المعنى.”
অর্থাৎ শব্দ এমন হওয়া যা উচ্চারণ করতে সহজ ও শ্রুতিমধুর, সর্বজনবিদিত ব্যাকরণগত নিয়মের অনুসারী এবং যার অর্থ সাধারণ আরবীভাষী পণ্ডিতদের নিকট সুস্পষ্ট।
আর বাক্যের (الكلام) ক্ষেত্রে ফাসাহাত হলো:
“سلامة التركيب من تنافر الكلمات، وضعف التأليف، والتعقيد اللفظي والمعنوي.”
অর্থাৎ বাক্যটি শব্দের অসঙ্গতি, ব্যাকরণিক দুর্বলতা এবং শব্দগত ও ভাবগত জটিলতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া।
৩. একক শব্দের ফাসাহাত বিনষ্টকারী দোষত্রুটির বিবরণ:
প্রশ্নোক্ত তিনটি দোষ একক শব্দের ফাসাহাতকে নষ্ট করে দেয়:
- ক. তানাফুরুল হুরুফ বা হরফের পরস্পর অসঙ্গতি (تنافر الحروف):
শব্দের মধ্যস্থিত বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থল (মাখরাজ) অত্যন্ত নিকটবর্তী বা পরস্পর সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে জিহ্বার ওপর উচ্চারণ করা অত্যন্ত ভারী ও কষ্টসাধ্য হওয়াকে ‘তানাফুরুল হুরুফ’ বলে। এটি দুই প্রকার:- চরম অসঙ্গতি (شديد الثقل): যেমন জনৈক বেদুইন তার উট হারিয়ে যাওয়ার পর বলেছিল: “تركتُ ناقتي تَرعَى الهُعْخُعَ” (আমি আমার উটটিকে ‘হুখখুআ’ নামক তিক্ত ঘাস খেতে রেখে এসেছি)। এখানে (الهُعْخُعَ) শব্দটি উচ্চারণে কন্ঠনালীর মাখরাজগুলো পরস্পর জড়িয়ে যাওয়ায় তা চরম কর্কশ ও তানাফুর সৃষ্টি করেছে।
- মৃদু অসঙ্গতি (خفيف الثقل): যেমন কবি ইমরুল কায়েসের কবিতার শব্দ: “غدائرُه مُسْتَشْزِراتٌ إلى العُلا” (তার কেশদাম ওপরের দিকে বিন্যস্ত/উন্নত)। এখানে (مستشزرات) শব্দটি শীন, তা ও যা বর্ণগুলোর পর্যায়ক্রমিক সন্নিবেশের কারণে উচ্চারণ কিছুটা কষ্টকর ও ভারী।
- খ. মুখালাফাতুল কিয়াস বা ব্যাকরণিক নিয়মের লঙ্ঘন (مخالفة القياس الصرفي):
কোনো শব্দকে গ্রহণযোগ্য আরবি ছরফ বা রূপতত্ত্বের প্রতিষ্ঠিত নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করা। অর্থাৎ শব্দটি আরবের বিশুদ্ধ ভাষাতাত্ত্বিক কিয়াসের বিপরীত হওয়া।
উদাহরণ: কবি আল-ফারাজদাক তাঁর কবিতায় الإدغام (দুটি সমবর্ণকে যুক্ত করা)-এর নিয়ম ভঙ্গ করে ইযহার করেছেন:
الحمدُ للهِ العَلِيِّ الأَجْلَلِ
এখানে নিয়মানুযায়ী (الأَجَلّ) পড়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি নিয়ম ভঙ্গ করে (الأَجْلَلِ) ব্যবহার করেছেন। আরেকটি উদাহরণ হলো (بُوق) এর বহুবচন (أبواق) না বলে (بُوقات) বলা। এরূপ ব্যবহার শব্দকে গায়ের ফাসীহ করে তোলে। - গ. আল-গারাবাহ বা শব্দের দুর্বোধ্যতা ও অপ্রচলিত হওয়া (الغرابة):
শব্দটি এমন দুর্লভ, অপ্রচলিত বা মরুভূমির প্রাচীন বেদুইনদের ব্যবহৃত হওয়া যার অর্থ সাধারণ অভিধান বা পণ্ডিতদের নিকট সুস্পষ্ট নয়, বরং তা বোঝার জন্য গভীর অন্বেষণ প্রয়োজন হয়।
উদাহরণ: ঈসা ইবনে উমর আন-নাহবী যখন গাধা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন এবং লোকেরা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল, তখন তিনি বলেছিলেন:
“مَا لَكُمْ تَكَأْكَأْتُمْ عَلَيَّ كَتَكَأْكُئِكُمْ عَلَى ذِي جِنَّةٍ؟ افْرَنْقِعُوا عَنِّي!”
এখানে (تكأكأتم) অর্থ اجتمعتم (তোমরা জড়ো হয়েছ) এবং (افرنقعوا) অর্থ انصرفوا (তোমরা সরে যাও)। শব্দ দুটি অত্যন্ত অপ্রচলিত ও দুর্বোধ্য হওয়ায় তা ‘গারাবাহ’ দোষে দুষ্ট।
(ب) ما الخبر؟ وكم ركنا له؟ وما أصله وفائدته؟ اكتب أغراض الخبر كلها بالأمثلة-
[১. (খ) খবর কী? এর রুকন কয়টি? খবরের মূল ভিত্তি ও উপকারিতা কী? খবরের যাবতীয় উদ্দেশ্য উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
১. খবরের পরিচয় (تعريف الخبر):
বালাগাত শাস্ত্রে বাক্যকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: খবর (الخبر) ও ইনশা (الإنشاء)।
আল্লামা সাক্কাকী ও খতীব কাযবীনীর মতে খবরের সংজ্ঞা হলো:
“الخبر هو كلام يحتمل الصدق والكذب لذاته.”
অর্থাৎ, যে বক্তব্য স্বগতভাবেই সত্য অথবা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তাকে খবর (সংবাদমূলক উক্তি) বলে। বাস্তব ঘটনার সাথে মিল থাকলে তা সত্য (صدق) এবং অমিল হলে তা মিথ্যা (كذب) বলে গণ্য হয়। যেমন: “العلمُ نافعٌ” (জ্ঞান উপকারী) — এটি সত্য খবর; আর “الجهلُ فضيلةٌ” (অজ্ঞতা একটি গুণ) — এটি মিথ্যা খবর।
২. খবরের রুকনসমূহ (أركان الخبر):
প্রতিটি খবরমূলক বাক্যের মূল রুকন দুটি:
- মুসনাদ ইলাইহি (المسند إليه): যার সম্পর্কে কোনো কিছু সংবাদ দেওয়া হয়। যেমন জুমলা ইসমিয়্যাতে ‘মুবতাদা’ এবং জুমলা ফেলিয়্যাতে ‘ফায়েল’। যেমন: “محمودٌ مسافرٌ” বাক্যে محمودٌ হলো মুসনাদ ইলাইহি।
- মুসনাদ (المسند): যে বিষয়টি বা সংবাদটি মুসনাদ ইলাইহির সাথে সম্পৃক্ত করা হয়। যেমন ‘খবর’ বা ‘ফেয়েল’। উক্ত বাক্যে مسافرٌ হলো মুসনাদ। এই দুটির পারস্পরিক সম্পর্ককে ‘এসনাদ’ (الإسناد) বলা হয়।
৩. খবরের আসল উদ্দেশ্য ও ফায়েদা (أصل الخبر وفائدته):
খবরের মৌলিক উদ্দেশ্য বা ফায়েদা দুটি:
- ১. ফায়েদাতুল খবর (فائدة الخبر): শ্রোতাকে এমন কোনো নতুন বিধান বা সংবাদ জানানো যা সে ইতিপূর্বে জানত না। যেমন: “وُلد النبيُّ ﷺ عامَ الفيلِ” (নবীজী ﷺ হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছিলেন)। শ্রোতা যদি এটি পূর্বে না জেনে থাকে, তবে তা তার জন্য ফায়েদাতুল খবর।
- ২. লাযিমুল ফায়েদা (لازم الفائدة): শ্রোতাকে জানানো যে, বক্তা নিজে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন (যদিও শ্রোতা ঘটনাটি পূর্ব থেকেই জানে)। যেমন কোনো পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ছাত্রকে বলা: “أنتَ نجحتَ في الامتحانِ بتفوقٍ” (তুমি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছ)।
৪. খবরের রূপক ও আনুসঙ্গিক উদ্দেশ্যসমূহ (الأغراض المجازية للخبر):
কখনও কখনও খবর তার মূল উদ্দেশ্য (ফায়েদা ও লাযিমুল ফায়েদা) অতিক্রম করে বক্তার আবেগ ও প্রাসঙ্গিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন রূপক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। প্রধান উদ্দেশ্যগুলো নিম্নে প্রদত্ত হলো:
- ইস্তিহাম ও ইসতি’তাফ (الاسترحام والاستعطاف – দয়া ও করুণা প্রার্থনা): যেমন আল্লাহর দরবারে বান্দার আরজি: “إِنِّي فَقِيرٌ إِلَى عَفْوِ رَبِّي” (নিশ্চয় আমি আমার প্রতিপালকের ক্ষমার প্রতি মুখাপেক্ষী)।
- ইযহারুদ দু’ফ (إظهار الضعف – দুর্বলতা ও অক্ষমতা প্রকাশ): যেমন হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর বাণী: “رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا” (হে আমার রব! আমার অস্থিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং মস্তক বার্ধক্যের শুভ্রতায় উদ্ভাসিত হয়েছে)।
- ইযহারুত তাহাসসুর ওয়াল হুযন (إظهار التحسر والحزن – অনুতাপ ও বিষাদ প্রকাশ): যেমন মারইয়াম (আ.)-এর মাতার উক্তি: “رَبِّ إِنِّي وَضَعْتُهَا أُنثَىٰ” (হে আমার রব! আমি তো এক কন্যা সন্তান প্রসব করেছি)।
- আল-ফাখর (الفخر – আত্মগৌরব প্রকাশ): যেমন কবি আমর ইবনে কুলসুমের পঙক্তি: “إذا بَلَغَ الفِطامَ لنا صَبِيٌّ * تَخِرُّ له الجَبَابِرُ ساجِدِينا” (আমাদের গোত্রের কোনো শিশু যখন স্তন্যপান ত্যাগ করে, তখন পরাক্রমশালী শাসকরাও তার সামনে সিজদাবনত হয়)।
- আল-মাদহ (المدح – প্রশংসা করা): যেমন কবি আন-নাবিগাহ কর্তৃক বাদশাহ নোমানের প্রশংসা: “فإنكَ شمسٌ والملوكُ كواكبٌ * إذا طلعتْ لم يَبْدُ منهنَّ كوكبُ” (আপনি তো সূর্যের ন্যায় আর অপরাপর রাজন্যবর্গ নক্ষত্রতুল্য; সূর্য উদিত হলে কোনো নক্ষত্রই আর দেখা যায় না)।
- তাহরীকুল হিম্মাহ ও তাশজীদ (الحث على الجد والعمل – উৎসাহ ও কর্মপ্রেরণা প্রদান): যেমন: “ليس سواءً عالِمٌ وجهولٌ” (জ্ঞানী ও মূর্খ কখনোই সমকক্ষ হতে পারে না)।
- আত-তাওবীখ (التوبيخ – তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা): যেমন কোনো কৃপণ ধনী ব্যক্তিকে বলা: “المالُ يذهبُ ويبقى الذِّكرُ الجميلُ” (ধন-সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যায়, কিন্তু সৎকীর্তি চিরভাস্বর থাকে)।
(ج) ما الإنشاء؟ وما أنواعه؟ وكم صيغة للأمر؟ اكتب المعانى التى يستعمل فيها الأمر بعد خروجه عن معناه الأصلى مع الأمثلة-
[১. (গ) ইনশা কী? এর প্রকারভেদ কী কী? আদেশের (আমর) রূপ কয়টি? আমর তার মূল অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে যে সকল অর্থে ব্যবহৃত হয় তা উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
১. ইনশার পরিচয় (تعريف الإنشاء):
বালাগাতবিদদের পরিভাষায়, ইনশা (الإنشاء) হলো এমন বাক্য যা উচ্চারণ করার সাথে সাথেই তার অর্থ বাস্তবে সংঘটিত হয় এবং যাকে স্বগতভাবে সত্য বা মিথ্যা বলার সুযোগ থাকে না।
“الإنشاء هو كلام لا يحتمل الصدق والكذب لذاته.”
যেমন: “اجتهدْ في طلب العلم” (জ্ঞান অর্জনে চেষ্টা কর)। এ জাতীয় বাক্যের ক্ষেত্রে সত্য বা মিথ্যা বলার কোনো অবকাশ নেই।
২. ইনশার প্রকারভেদ (أقسام الإنشاء):
ইনশা প্রধানত দুই প্রকার:
- ১. ইনশায়ে তালাবী (الإنشاء الطلبي): যে বাক্যে বক্তা শ্রোতার নিকট থেকে এমন কোনো বিষয় তলব বা দাবি করে যা বাক্য বলার সময় অর্জিত ছিল না। এর পাঁচটি রূপ রয়েছে:
- আমর (الأمر – আদেশ): যেমন {أَقِيمُوا الصَّلَاةَ}।
- নাহী (النهي – নিষেধ): যেমন {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا}।
- ইস্তিফহাম (الاستفهام – প্রশ্নবোধক): যেমন {هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ}।
- তামান্নী (التمني – অবাস্তব/কঠিন আকাঙ্ক্ষা): যেমন “ألا ليتَ الشبابَ يعودُ يوماً”।
- নিদা (النداء – আহ্বান): যেমন {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا}।
- ২. ইনশায়ে গাইরে তালাবী (الإنشاء غير الطلبي): যে বাক্যে কোনো দাবি বা তলব থাকে না। এর রূপগুলো হলো:
- মাদহ ও যাম (المدح والذم – نِعْمَ এবং بِئْسَ দ্বারা প্রশংসা ও নিন্দা)।
- ক্বাসাম (القسم – শপথবাক্য, যেমন: واللهِ)।
- তা’আজ্জুব (التعجب – বিস্ময়, যেমন: ما أحسنَ الصدقَ!)।
- রাজা (الرجاء – প্রত্যাশা, عسى এবং لعل দ্বারা)।
- উকুূদ (صيغ العقود – ক্রয়-বিক্রয় ও চুক্তির বাক্য, যেমন: بعتُ واشتريتُ)।
৩. আমরের মৌলিক পরিচয় ও রূপসমূহ (صيغ الأمر):
উচ্চতর পর্যায় থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কোনো কাজ দাবি করাকে ‘আমর’ বলে। আমরের মৌলিক রূপ বা সিগাহ চারটি:
- ফেয়েলে আমর (فعل الأمر الصريح): যেমন: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ}।
- লামে আমরযুক্ত ফেয়েলে মুযারে (المضارع المقترن بلام الأمر): যেমন: {لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ}।
- ইসমে ফেয়েলে আমর (اسم فعل الأمر): যেমন: “حَيَّ على الصلاة” (নামাজের দিকে এসো) এবং “صَهْ يا غلام” (হে বালক, চুপ কর)।
- ফেয়েলে আমরের স্থলাভিষিক্ত মাসদার (المصدر النائب عن فعل الأمر): যেমন: {فَبِرًّا بِالْوَالِدَيْنِ} এবং {فَضَرْبَ الرِّقَابِ}।
৪. আমরের রূপক ও আলঙ্কারিক অর্থসমূহ (خروج الأمر عن معناه الأصلي):
আমর যখন বাধ্যতামূলক নির্দেশনার মূল অর্থ অতিক্রম করে পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়, তখন তা বহুবিধ অর্থ প্রকাশ করে:
- দু’আ (الدعاء – প্রার্থনা): নিম্নমর্যাদা থেকে পরম প্রভুর দরবারে আবেদন। যেমন: {رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ}।
- ইলতিমাস (الالتماس – সমমর্যাদার অনুরোধ): সমপর্যায়ের দুই ব্যক্তির মধ্যে অনুরোধ। যেমন বন্ধুকে বলা: “أعطني قلمَكَ يا أخي” (ভাই, তোমার কলমটি আমাকে দাও)।
- তাহদীদ (التهديد – ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি): যেমন কাফেরদের উদ্দেশ্যে আল্লাহর বাণী: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ ۖ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} (তোমাদের যা ইচ্ছা কর, নিশ্চয় তিনি সবকিছু দেখছেন)।
- তা’জীয (التعجيز – অক্ষমতা প্রমাণ করা): প্রতিপক্ষের অপারগতা প্রকাশার্থে। যেমন: {فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ} (এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো)।
- তামান্নী (التمني – আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ): অপ্রাণিবাচক বা অসম্ভব বিষয়ের প্রতি সম্বোধন। যেমন কবি ইমরুল কায়েসের উক্তি: “ألا أيها الليلُ الطويلُ ألا انجَلِ * بصبحٍ وما الإصباحُ منكَ بأمثَلِ” (হে দীর্ঘ রজনী, তুমি প্রভাতে রূপান্তরিত হও!)।
- ইবাহাত (الإباحة – বৈধতা দেওয়া): কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া। যেমন: {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ} (তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না সুবহে সাদিক স্পষ্ট হয়)।
- তাখয়ীর (التخيير – দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা): যেমন: “تزوّجْ هنداً أو أختَها” (হিন্দ অথবা তার বোনকে বিবাহ কর)।
- তাসবিয়াহ (التسوية – সমতা প্রকাশ): উভয় বিকল্পের ফলাফল সমান বোঝাতে। যেমন: {اصْلَوْهَا فَاصْبِرُوا أَوْ لَا تَصْبِرُوا سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ}।
- ইহানা ও তাহক্বীর (الإهانة والتحقير – লাঞ্ছনা ও তুচ্ছজ্ঞান করা): যেমন পাপীদের উদ্দেশ্যে: {ذُقْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ} (স্বাদ গ্রহণ কর, তুমি তো ছিলে পরাক্রমশালী ও সম্মানিত!)।
(د) ما التشبيه؟ وما أركانه وأدواته؟ بين مفصلا ممثلا-
[১. (ঘ) তাশবীহ (উপমা) কী? এর রুকন ও উপকরণসমূহ কী কী? উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. তাশবীহের পরিচয় (تعريف التشبيه):
ইলমুল বয়ানের (علم البيان) সর্বাধিক আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘তাশবীহ’ বা উপমালঙ্কার।
শাব্দিক অর্থ: التشبيه শব্দটি التمثيل (সাদৃশ্য দেওয়া, তুলনা করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
“التشبيه هو بيان أن شيئاً أو أشياء شاركت غيرها في صفة أو أكثر، بإحدى أدوات التشبيه، لغرض يقصده المتكلم.”
অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে উপমার কোনো একটি উপকরণের মাধ্যমে এক বা একাধিক বস্তুকে অপর কোনো বস্তুর সাথে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্যে সাদৃশ্যযুক্ত হিসেবে প্রকাশ করাকে তাশবীহ বলে। যেমন: “زيدٌ كالبحرِ في الكرمِ” (দানশীলতায় যায়েদ সমুদ্রের মতো)।
২. তাশবীহের রুকনসমূহ (أركان التشبيه):
তাশবীহের মূল উপাদান বা রুকন চারটি:
- মুশাব্বাহ (المشبه): যে বস্তুকে তুলনা করা হয়। যেমন পূর্বোক্ত বাক্যে (زيدٌ)।
- মুশাব্বাহ বিহি (المشبه به): যার সাথে তুলনা করা হয়। যেমন (البحرُ)।
[নোট: মুশাব্বাহ ও মুশাব্বাহ বিহিকে একত্রে ‘ত্বরাফায়িত তাশবীহ’ (طرفا التشبيه) বা উপমার দুই প্রান্ত বলা হয়।] - ওয়াজহুশ শাবাহ (وجه الشبه): যে সাধারণ গুণ বা বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উভয়ের মাঝে তুলনা করা হয়। এই বৈশিষ্ট্যটি মুশাব্বাহ বিহির মধ্যে অধিক শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেমন পূর্বোক্ত বাক্যে (الكرم – দানশীলতা)।
- আদাতুত তাশবীহ (أداة التشبيه): যে হরফ বা শব্দের মাধ্যমে তুলনার ভাব প্রকাশ করা হয়। যেমন পূর্বোক্ত বাক্যে ‘কাফ’ (كـ)।
৩. তাশবীহের উপকরণসমূহ (أدوات التشبيه):
তাশবীহের উপকরণসমূহ তিন প্রকার হতে পারে:
- ১. হরফ (الحروف): প্রধান হরফ দুটি:
- কাফ (الكاف): এটি সরাসরি মুশাব্বাহ বিহির পূর্বে বসে। যেমন: “العلمُ كالنورِ”।
- কাআন্না (كأنَّ): এটি মুশাব্বাহর পূর্বে বসে এবং সন্দেহ বা নিশ্চিত সাদৃশ্য প্রকাশ করে। যেমন: “كأنَّ المعلمَ أبٌ رحيمٌ” (শিক্ষক যেন এক স্নেহশীল পিতা)।
- ২. ইসমে তাশবীহ (الأسماء): যেমন: (شِبْه، مِثْل، مُشابِه، مُماثِل)। উদাহরণ: “عليٌّ مِثْلُ الأسدِ” (আলী সিংহের ন্যায়)।
- ৩. ফেয়েলে তাশবীহ (الأفعال): যেমন: (يُشْبِهُ، يُمَاثِلُ، يُحَاكِي، يُضَارِعُ)। উদাহরণ: “الطفلُ يُشْبِهُ القمرَ في الجمالِ” (শিশুটির সৌন্দর্য চাঁদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ)।
(هـ) اكتب أقسام التشبيه بالتفصيل والتمثيل-
[১. (ঙ) তাশবীহের প্রকারভেদ বিস্তারিত বিবরণ ও উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
ভূমিকা:
আদাতুত তাশবীহ (উপকরণ) এবং ওয়াজহুশ শাবাহ (সাদৃশ্যের বৈশিষ্ট্য)-এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ভিত্তিতে তাশবীহকে প্রধানত বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা হয়:
১. আদাতুত তাশবীহের উপস্থিতির বিচারে প্রকারভেদ:
- ক. আত-তাশবীহুল মুরসাল (التشبيه المرسل): যে উপমায় তাশবীহের উপাদান (الأداة) স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
উদাহরণ: কবি আল-মুআ’ম্মারীর পঙক্তি:
“أنتَ كالوردِ نضارةً وكالغيثِ انهماراً” (প্রফুল্লতায় তুমি গোলাপের মতো এবং বর্ষণে মেঘমালার মতো)। - খ. আত-তাশবীহুল মুআক্কাদ (التشبيه المؤكد): যে উপমায় তাশবীহের উপকরণ বিলুপ্ত করে সরাসরি সাদৃশ্য দৃঢ় করা হয়।
উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার বাণী:
{وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحَابِ} (আর পাহাড়গুলো মেঘমালার মতো চলতে থাকবে)। এখানে (كَمَرِّ السحاب) থেকে ‘কাফ’ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
২. ওয়াজহুশ শাবাহর উপস্থিতির বিচারে প্রকারভেদ:
- ক. আত-তাশবীহুল মুফাসসাল (التشبيه المفصل): যে উপমায় তুলনার সাধারণ বৈশিষ্ট্যটি (وجه الشبه) স্পষ্টভাবে উল্লিখিত থাকে।
উদাহরণ: “المؤمنُ كالنخلةِ في نفعِها” (উপকার সাধনে মুমিন খেজুর বৃক্ষের ন্যায়)। এখানে (في نفعها) উল্লেখ রয়েছে। - খ. আত-তাশবীহুল মুজমাল (التشبيه المجمل): যে উপমায় তুলনার সাধারণ বৈশিষ্ট্যটি উহ্য রাখা হয়।
উদাহরণ: “الناسُ كأسنانِ المشطِ” (মানুষ চিরুনির দাঁতের মতো)। এখানে সাম্য ও সমতার কথা উহ্য রাখা হয়েছে।
৩. সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাশবীহ: আত-তাশবীহুল বালীগ (التشبيه البليغ):
যে উপমায় আদাতুত তাশবীহ এবং ওয়াজহুশ শাবাহ — উভয়টিই বিলুপ্ত করে কেবল মুশাব্বাহ ও মুশাব্বাহ বিহি উল্লেখ করা হয়, যাতে মনে হয় উভয়টি অভিন্ন এক সত্তা। এটি অলঙ্কারের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠতম পর্যায়।
উদাহরণ:
“العلمُ نورٌ والجهلُ ظلامٌ” (জ্ঞানই আলো এবং অজ্ঞতাই অন্ধকার)।
কবি মুতানাব্বীর উক্তি: “أين أزمعتَ أيُّهذا الهمامُ؟ * نحنُ نبتُ الرُّبا وأنتَ الغمامُ” (হে মহান নেতা! আমরা মাটির উদ্ভিদ আর আপনি হলেন বৃষ্টির মেঘ)।
৪. গঠনগত ও বিশেষ আঙ্গিকের প্রকারভেদ:
- ১. আত-তাশবীহুত তামছীলী (تشبيه التمثيل): যখন তুলনার সাধারণ বৈশিষ্ট্যটি (وجه الشبه) কোনো একক সত্তা নয়, বরং একাধিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত একটি সামগ্রিক চিত্র হয়।
উদাহরণ: আল্লাহর বাণী: {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا} (যাদের তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অতঃপর তারা তা পালন করেনি, তাদের উপমা সেই গাধার ন্যায় যা বহু মূল্যবান গ্রন্থ বহন করে)। - ২. আত-তাশবীহুয যিম্নী (التشبيه الضمني): যেখানে প্রচলিত তাশবীহের কোনো কাঠামো থাকে না, বরং বক্তব্যের ভাবার্থ থেকে বুদ্ধিমান শ্রোতা উপমাটি অনুধাবন করে নেয়।
উদাহরণ: আল-মুতানাব্বীর বিশ্বখ্যাত উক্তি:
“مَنْ يَهُنْ يَسْهُلِ الهَوَانُ عَلَيْهِ * ما لِجُرْحٍ بِمَيِّتٍ إِيْلامُ”
(যে ব্যক্তি নিজেকে অপমানিত করে, তার কাছে অপমান সহজ হয়ে যায়; মৃত দেহের আঘাতে তো আর কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না)। - ৩. আত-তাশবীহুল মাকলূব (التشبيه المقلوب): যেখানে আধিক্য প্রমাণের উদ্দেশ্যে মুশাব্বাহকে মুশাব্বাহ বিহি এবং মুশাব্বাহ বিহিকে মুশাব্বাহ বানিয়ে উল্টে দেওয়া হয়।
উদাহরণ: “وبدا الصباحُ كأنَّ غُرَّتَهُ * وَجْهُ الخليفةِ حينَ يُمْتَدَحُ” (প্রভাত এমন উজ্জ্বল যেন প্রশংসিত হওয়ার মুহূর্তে খলীফার জ্যোতির্ময় মুখমণ্ডল)।
(و) ما الاستعارة؟ وما أقسامها؟ بين مفصلا ممثلا-
[১. (চ) ইসতি’আরাহ (রূপক) কী? এর প্রকারভেদ কী কী? উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]
উত্তর:
১. ইসতি’আরাহর পরিচয় (تعريف الاستعارة):
শাব্দিক অর্থ: الاستعارة শব্দটি العارية (ধার নেওয়া বা ধার চাওয়া) থেকে এসেছে। যেন কোনো শব্দের অর্থকে অপর কোনো অর্থে ধার দেওয়া হয়েছে।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
“الاستعارة هي تشبيهٌ بليغٌ حُذف أحدُ طرفيه (المشبه أو المشبه به) مع وجود قرينة مانعة من إرادة المعنى الحقيقي، وعلاقتها المشابهةُ دائماً.”
অর্থাৎ ইসতি’আরাহ মূলত তাশবীহে বালীগেরই একটি রূপ, যার দুই প্রান্তের (মুশাব্বাহ অথবা মুশাব্বাহ বিহি) যেকোনো একটিকে উহ্য রাখা হয় এবং মূল অর্থকে বাধা প্রদানকারী একটি প্রাসঙ্গিক ইঙ্গিত (ক্বারীনাহ) উপস্থিত থাকে। এর মূল ভিত্তি সর্বদা ‘সাদৃশ্য’ (المشابهة)।
২. ইসতি’আরাহর মূল রুকনসমূহ (أركان الاستعارة):
- মুস্তা’আর লাহূ (المستعار له): যা মূলত মুশাব্বাহ (যার জন্য শব্দ ধার নেওয়া হয়েছে)।
- মুস্তা’আর মিনহু (المستعار منه): যা মূলত মুশাব্বাহ বিহি (যার থেকে শব্দটি নেওয়া হয়েছে)।
- মুস্তা’আর (المستعار): ব্যবহৃত রূপক শব্দটি।
- ক্বারীনাহ (القرينة): এমন আলামত যা প্রমাণ করে যে শব্দটির আভিধানিক অর্থ গ্রহণ করা যাবে না।
৩. ইসতি’আরাহর প্রকারভেদ (أقسام الاستعارة):
ক. طرفي التشبيه (দুই প্রান্তের উল্লেখ ও বিলুপ্তির বিচারে):
- ১. ইসতি’আরাহ তাসরীহিয়্যাহ (الاستعارة التصريحية): যেখানে স্পষ্ট ভাষায় মুশাব্বাহ বিহির (المشبه به) উল্লেখ করা হয় এবং মুশাব্বাহকে সম্পূর্ণ উহ্য রাখা হয়।
উদাহরণ: পবিত্র কুরআনের বাণী:
{كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ}
এখানে ‘কুফর ও অজ্ঞতা’ (মুশাব্বাহ)-কে অন্ধকার (الظلمات) এবং ‘ঈমান ও হেদায়েত’ (মুশাব্বাহ)-কে আলো (النور) দ্বারা রূপক করা হয়েছে এবং মুশাব্বাহ বিহি দুটিকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি উদাহরণ: যুদ্ধে বীর সেনাপতিকে দেখে বলা: “رأيتُ أسداً يحملُ السيفَ” (আমি তরবারি হাতে এক সিংহকে দেখলাম)। - ২. ইসতি’আরাহ মাকনিয়্যাহ (الاستعارة المكنية): যেখানে মুশাব্বাহ বিহি (المشبه به)-কে গোপন বা উহ্য রাখা হয়, তবে তার অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য তার কোনো অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য বা উপাদান (لوازم) উল্লেখ করে দেওয়া হয়।
উদাহরণ: কবি আবু যুয়াইব আল-হাযালীর পঙক্তি:
“وإذا المَنِيَّةُ أَنْشَبَتْ أَظْفَارَهَا * أَلْفَيْتَ كُلَّ تَمِيمَةٍ لا تَنْفَعُ”
(মৃত্যু যখন তার নখর বসিয়ে দেয়, তখন তুমি দেখবে কোনো তাবিজ-কবচই কাজে আসে না)।
এখানে মৃত্যুকে এক হিংস্র শিকারী পশুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। মূল পশুটিকে উহ্য রেখে তার নখর (أظفار)-কে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুরআনী উদাহরণ: {وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ} (তাদের প্রতি পরম মমতায় বিনয়ের ডানা বিছিয়ে দাও)। এখানে বিনয়কে পাখির সাথে তুলনা করে পাখির ডানা যুক্ত করা হয়েছে।
খ. المستعار (ব্যবহৃত শব্দের প্রকৃতির বিচারে):
- ১. ইসতি’আরাহ আসলিয়্যাহ (الاستعارة الأصلية): যদি ব্যবহৃত রূপক শব্দটি ইসমে জিনস বা কোনো অ-উৎপন্ন মূল বিশেষ্য (اسم جامد) হয়। যেমন: পূর্বোল্লিখিত (الأسد) বা (الظلمات والنور)।
- ২. ইসতি’আরাহ তাবা’ইয়্যাহ (الاستعارة التبعية): যদি ব্যবহৃত শব্দটি কোনো ক্রিয়া (فعل) বা কৃদন্ত পদ (اسم مشتق) বা অব্যয় (حرف) হয়। যেমন: {وَلَمَّا سَكَتَ عَن مُّوسَى الْغَضَبُ} (যখন মূসার ক্রোধ নিবৃত্ত/শান্ত হলো)। এখানে ‘শান্ত হওয়া’-কে ‘চুপ করা’ (سكت) ক্রিয়াপদের রূপকে ব্যক্ত করা হয়েছে।
গ. الملائمات (আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতির বিচারে):
- ১. মুরাশ্শাহাহ (المرشحة): যার সাথে মুশাব্বাহ বিহির উপযোগী কোনো অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য উল্লেখ থাকে (এটি সর্বশ্রেষ্ঠ রূপ)। যেমন: “رأيتُ بحراً يجودُ بمالِهِ وتتلاطمُ أمواجُهُ”।
- ২. মুজাররাদাহ (المجردة): যার সাথে মুশাব্বাহর উপযোগী কোনো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ থাকে। যেমন: “رأيتُ بحراً في المسجدِ يلقي موعظةً”।
- ৩. মুত্বলাক্বাহ (المطلقة): যার সাথে কোনো পক্ষেরই অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত থাকে না।
٢- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية:
[২. নিচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(الف) اكتب دواعى تقديم المسند اليه وتأخيره-
[২. (ক) মুসনাদ ইলাইহিকে বাক্যে পূর্বে আনা (তাক্বদীম) ও পশ্চাতে নেওয়ার (তা’খীর) কারণসমূহ লেখ।]
উত্তর:
ভূমিকা:
ইলমুল মা’আনীর (علم المعاني) গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হলো বাক্যের উপাদানের তাক্বদীম ও তা’খীর (অগ্র-পশ্চাতকরণ)। ব্যাকরণগত মূল ধারায় প্রতিটি পদের নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও আলঙ্কারিক সৌন্দর্যের খাতিরে মুসনাদ ইলাইহিকে পূর্বে আনা বা বিলম্বে স্থাপন করা হয়।
১. মুসনাদ ইলাইহি পূর্বে আনার কারণসমূহ (دواعي تقديم المسند إليه):
- আসল নিয়মের অনুসরণ (كونه الأصل): মুসনাদ ইলাইহি বাক্যের সূচনাপদ, তাই কোনো বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া তাকে পূর্বে আনাই ভাষার স্বাভাবিক নিয়ম।
- সুসংবাদ বা আনন্দের দ্রুত প্রকাশ (تعجيل المسرة): যেমন রোগমুক্তির সংবাদ দিতে বলা: “العافيةُ نلتَها” (সুস্থতা তুমি লাভ করেছ)।
- দুঃসংবাদ বা শঙ্কার দ্রুত প্রকাশ (تعجيل المساءة): যেমন অপরাধীকে ভীতি প্রদর্শন করতে বলা: “السجنُ مأواكَ” (কারাগার তোমার ঠিকানা)।
- বরকত লাভ করা (التبرك): আল্লাহর পবিত্র নাম পূর্বে নিয়ে আসা। যেমন: “اللهُ غايتُنا” (আল্লাহই আমাদের পরম উদ্দেশ্য)।
- সম্মান প্রদর্শন (التشريف): মহামহিম ব্যক্তির নাম অগ্রে উল্লেখ করা। যেমন: “الأميرُ حضرَ” (আমীর তাশরীফ এনেছেন)।
- নির্দিষ্টকরণ বা সীমাবদ্ধকরণ (إفادة التخصيص أو القصر): যেমন: “أنا كفلتُ هذا اليتيمَ” (আমিই এই এতিমের দায়িত্ব নিয়েছি, অন্য কেউ নয়)।
- মনোযোগ আকর্ষণ ও গুরুত্বারোপ (الاهتمام به): যার গুরুত্ব সর্বাধিক তাকে আগে স্থাপন করা। যেমন মহানবী ﷺ-কে সামনে রেখে আলোচনা।
২. মুসনাদ ইলাইহি পশ্চাতে নেওয়ার কারণসমূহ (دواعي تأخير المسند إليه):
- উৎকণ্ঠা ও ব্যাকুলতা বৃদ্ধি করা (التشويق إلى المتأخر): প্রথমে মুসনাদ হিসেবে কিছু চিত্তাকর্ষক গুণাগুণ উল্লেখ করে শেষপর্যন্ত শ্রোতার কৌতূহল ধরে রাখা। যেমন কবি আবু তাম্মামের উক্তি:
“ثلاثةٌ تُشرقُ الدنيا ببهجتِها: * شمسُ الضحى، وأبو إسحاقَ، والقمرُ”
(তিনটি সত্তা রয়েছে যার সৌন্দর্যে ধরণী আলোকিত হয়: দ্বিপ্রহরের সূর্য, আবু ইসহাক এবং পূর্ণিমার চাঁদ)। - মুসনাদ ইলাইহির তুচ্ছতা প্রকাশ (الحط من قدره): তাকে এতই নগণ্য মনে করা যে বাক্যের প্রথমে তার নাম না নেওয়া।
- কবিতার ছন্দ ও মিলের সংরক্ষণ (مراعاة الوزن أو السجع): ছন্দ রক্ষার্থে অনেক সময় মুসনাদ ইলাইহিকে পরে আনা হয়। যেমন: “في الدارِ رجلٌ”।
- সীমাবদ্ধতার স্পষ্টতা (إفادة القصر مع النفي والاستثناء): যেমন: “ما فازَ إلا المجدُّ” (পরিশ্রমী ব্যক্তি ছাড়া কেউ সফল হয় না)।
(ب) اكتب أغراض استعمال اسم الإشارة بالأمثلة-
[২. (খ) ইসমে ইশারা ব্যবহারের আলঙ্কারিক উদ্দেশ্যসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
ভূমিকা:
ইসমে ইশারা (اسم الإشارة) দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট সত্তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। তবে বালাগাত শাস্ত্রে সাধারণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ইঙ্গিতের বাইরে এটি বিশেষ কিছু আলঙ্কারিক উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহৃত হয়:
- ইঙ্গিতকৃত সত্তার মর্যাদা ও মহত্ত্ব বৃদ্ধি করা (التعظيم والرفع من شأنه): দূরবর্তী নির্দেশক সর্বনাম ব্যবহার করে কোনো সত্তার সুউচ্চ মর্যাদা প্রকাশ করা।
উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার বাণী:
{ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ}
(ঐ যে কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক)। এখানে কাছে থাকা সত্ত্বেও দূরবর্তী নির্দেশক (ذلك) দ্বারা কুরআনের অতুলনীয় সুউচ্চ সম্মান ব্যক্ত হয়েছে। - লাঞ্ছনা ও তুচ্ছজ্ঞান করা (التحقير والحط من قدره): নিকটবর্তী সূচক ব্যবহার করে কোনো সত্তার হীনতা ও ক্ষুদ্রতা প্রকাশ করা।
উদাহরণ: কাফেরদের উদ্ধত উক্তি:
{أَهَٰذَا الَّذِي يَذْكُرُ آلِهَتَكُمْ}
(এই কি সেই ব্যক্তি যে তোমাদের উপাস্যদের সমালোচনা করে?)। এখানে (هذا) দ্বারা অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে। - শ্রোতাকে পরবর্তী সুসংবাদের উপযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন (التنبيه على جدارة المشار إليه): পূর্বে বর্ণিত গুণাবলির কারণে শ্রোতা বা ব্যক্তি যে পরবর্তী অর্জনের সম্পূর্ণ যোগ্য তা বোঝাতে।
উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার ঘোষণা:
{أُولَٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ}
(তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য পথের ওপর রয়েছে এবং তারাই প্রকৃত সফলকাম)। - শ্রোতার বোধহীনতা ও নির্বুদ্ধিতা ফুটিয়ে তোলা (التعريض بغباوة السامع): কোনো বস্তু অতি স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও যেন শ্রোতা অন্ধ, তা ব্যঙ্গ করে বোঝাতে।
উদাহরণ: কবি আল-ফারাজদাকের উক্তি:
“أولئكَ آبائي فجئني بمثلِهم * إذا جَمَعَتْنا يا جريرُ المجامعُ”
(ঐ মহামানবগণ হলেন আমার পূর্বপুরুষ; হে জারীর, কোনো সম্মিলনে উপস্থিত হলে এদের অনুরূপ কাউকে এনে দেখাও তো!)। - দূরত্ব ও অবস্থানের মাত্রা নির্ণয় (بيان مراتب القرب والبعد): বাস্তব দূরত্বের পরিমাপ বোঝাতে (هنا، هناك، هنالك)।
(ج) عرف التورية والإبهام والتوجيه مع الأمثلة-
[২. (গ) তাওরিয়াহ, ইবহাম ও তাওজীহ-এর সংজ্ঞাসহ উদাহরণ বিশদভাবে আলোচনা কর।]
উত্তর:
ভূমিকা:
ইলমুল বাদী’ (علم البديع)-এর মোহনীয় অর্থালঙ্কারের (المحسنات المعنوية) অন্তর্ভুক্ত তিনটি সূক্ষ্ম কৌশল হলো তাওরিয়াহ, ইবহাম ও তাওজীহ।
১. আত-তাওরিয়াহ (التورية):
সংজ্ঞা: বালাগাতবিদদের মতে তাওরিয়াহ হলো:
“أن يذكر المتكلم لفظاً مفرداً له معنيان: أحدهما قريب ظاهر غير مراد، والآخر بعيد خفي وهو المراد المقصود، مستور بقرينة خفية.”
অর্থাৎ বক্তা এমন একটি শব্দ ব্যবহার করবেন যার দুটি অর্থ রয়েছে; একটি নিকটবর্তী ও প্রকাশ্য যা বক্তার উদ্দেশ্য নয়, অপরটি দূরবর্তী ও অপ্রকাশ্য যা বক্তার প্রকৃত উদ্দেশ্য।
উদাহরণ: কবি সিরাজুদ্দীন আল-ওয়াররাক ও ইবনে নাবাতাহর মধ্যকার সাহিত্যিক কৌতুক:
“والنهرُ يشبهُ مِبْرَداً * فلأجلِ ذا يَجْلُو الصَّدَى”
এখানে (الصدى) শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে:
- নিকটবর্তী অর্থ: লোহার মরিচা (কেননা পূর্বে ‘রেত’ বা মিবরাদ শব্দের উল্লেখ আছে)। এটি উদ্দেশ্য নয়।
- দূরবর্তী আসল অর্থ: প্রচণ্ড তৃষ্ণা (নদী পিপাসা নিবারণ করে)। এটিই কবির প্রকৃত উদ্দেশ্য।
পবিত্র কুরআনের উদাহরণ: {وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُم بِاللَّيْلِ وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُم بِالنَّهَارِ}। এখানে (جرحتم) দ্বারা অঙ্গহানি নয়, বরং গুনাহ বা কৃতকর্ম উদ্দেশ্য।
২. আল-ইবহাম (الإبهام):
সংজ্ঞা:
“هو أن يأتي المتكلم بكلام يحتمل معنيين متضادين على السواء، بحيث لا يتعين أحدهما إلا بقرينة خارجية أو بسياق مستقل.”
বক্তা এমন বাক্য রচনা করেন যা সমানভাবে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ ধারণ করতে পারে, যাতে শ্রোতা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ইতস্তত করে এবং সংশয়ে পতিত হয়। কূটনীতি ও দ্বিমুখী পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে এ ধরনের বাকরীতি ব্যবহৃত হয়।
৩. আত-তাওজীহ (التوجيه):
সংজ্ঞা: এটি ইবহামেরই একটি পরিমার্জিত ও বিশেষ আলঙ্কারিক রূপ।
“هو إيراد الكلام محتملاً لوجهين متضادين كمدح وذم، بحيث يتخلص القائل من الحرج أمام المخاطب.”
অর্থাৎ কোনো অপ্রিয় বা জটিল পরিস্থিতিতে এমন ভারসাম্যপূর্ণ উক্তি করা যার এক দিক দিয়ে পরম প্রশংসা এবং অন্য দিক দিয়ে তীব্র নিন্দা বোঝায়, যাতে বক্তা প্রতিপক্ষের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।
ধ্রুপদী উদাহরণ: এক অন্ধ বা একচক্ষু বিশিষ্ট (ট্যারা) দর্জি যার নাম ছিল ‘আমর’, সে কবি বাশার ইবনে বুরদের একটি জুব্বা সেলাই করে তা নষ্ট করে ফেলেছিল। তখন কবি তাকে সরাসরি গালি না দিয়ে চাতুর্যের সাথে বললেন:
“خاطَ لي عَمْرٌو قَبَاءً * لَيْتَ عَيْنَيْهِ سَوَاءُ!”
(আমর আমার জন্য একটি জুব্বা সেলাই করেছে; আহা! তার চোখ দুটি যদি সমান হয়ে যেত!)
এখানে দুটি বিপরীত অর্থ প্রকাশিত হয়:
- প্রশংসা ও দোয়ার দিক: তার অপর অন্ধ চোখটিও যেন ভালো হয়ে দুই চোখই দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন হয়ে যায়! (দর্জি এটি মনে করে খুশি হবে)।
- অভিশাপ ও নিন্দার দিক: তার ভালো চোখটিও যেন অন্ধ হয়ে দুই চোখই দৃষ্টিহীন হয়ে যায়! (কবির আসল মনের ঝাল)।
علم العروض (ইলমুল আরূদ অংশ)
٣- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية:
[৩. নিচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(الف) ما المراد بعلم العروض؟ وما أهميته ودواعي اختراعه؟ اكتب نبذة عن واضعه-
[৩. (ক) ইলমুল আরূদ দ্বারা কী বোঝায়? এর গুরুত্ব ও উদ্ভাবনের প্রেক্ষাপট কী? এর প্রতিষ্ঠাতার সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
উত্তর:
ভূমিকা:
আরবি কবিতা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও ছন্দময় সাহিত্যিক সম্পদ। আর সেই ছন্দের বিশুদ্ধতা ও গাণিতিক সুষমতার পরিমাপক বিজ্ঞানই হলো ‘ইলমুল আরূদ’ (علم العروض)।
১. ইলমুল আরূদের পরিচয় (مفهوم علم العروض):
আভিধানিক অর্থ: ‘আরূদ’ (العروض) শব্দের বেশ কিছু আভিধানিক অর্থ রয়েছে:
- মক্কা মুকাররমার অপর নাম আরূদ।
- পাহাড়ের মধ্যবর্তী সরু রাস্তা।
- দিক বা প্রান্ত।
- উটের অবাধ্যতা। তবে ছন্দশাস্ত্রে কবিতার প্রথম চরণের শেষ অংশকে ‘আরূদ’ বলা হয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞা:
“علم العروض هو علمٌ بأصولٍ وقواعدَ يُعرف بها صحيحُ أوزانِ الشعرِ العربيِّ وفاسدُها، وما يعتريها من الزحافات والعلل.”
অর্থাৎ যে নিয়মনীতি ও প্রামাণ্য শাস্ত্রের মাধ্যমে আরবি কাব্যছন্দের নির্ভুলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং তাতে সংঘটিত রূপান্তর (যিহাফ ও ইলাল) শনাক্ত করা যায়, তাকে ইলমুল আরূদ বলে।
২. ইলমুল আরূদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা (أهمية علم العروض):
- কাব্যছন্দের বিশুদ্ধতা রক্ষা: কবিতার ছন্দপতন (الكسر) ও ছন্দবিকৃতি রোধ করা।
- কবিতা ও গদ্যের পার্থক্য নিরূপণ: সাধারণ ছন্দোবদ্ধ গদ্য (السجع) এবং প্রকৃত কবিতার মাঝে সীমারেখা নির্ধারণ করা।
- পবিত্র কুরআনের অলৌকিকতা অনুধাবন: কাফেররা কুরআনকে কবিতা আখ্যা দিয়েছিল; আরূদ শাস্ত্রের জ্ঞান প্রমাণ করে যে পবিত্র কুরআন কাব্যছন্দের বহু ঊর্ধ্বে এবং তা কোনো মানুষের কবিতা নয়।
- কাব্যরুচির বিকাশ: আরবি কবিতার অভ্যন্তরীণ সংগীতময়তা ও ঝংকার অনুভব করার সক্ষমতা সৃষ্টি।
৩. আরূদ শাস্ত্র উদ্ভাবনের কারণ ও প্রেক্ষাপট (دواعي اختراع علم العروض):
উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসনামলে ইসলামী সাম্রাজ্যের দিগন্ত বিস্তৃত হলে অনারব জাতিগোষ্ঠীর সাথে আরবদের ব্যাপক মিশ্রণ ঘটে। ফলে আরবদের জন্মগত বিশুদ্ধ ভাষাজ্ঞান ও সহজাত কাব্যপ্রতিভায় (السليقة العربية) দুর্বলতা দেখা দেয় এবং কবিতায় ছন্দপতন ও বিকৃতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এই সংকটময় মুহূর্তে আরবি কবিতার মৌলিক ঐতিহ্যকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই আরূদ শাস্ত্র প্রণয়ন করা হয়।
৪. আরূদ শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতার সংক্ষিপ্ত জীবনী (واضع علم العروض):
ইলমুল আরূদের অবিসংবাদিত জনক হলেন প্রখ্যাত আরবি ভাষাতত্ত্ববিদ ইমাম আল-খালীল ইবনে আহমদ আল-ফারাহীদী আল-আযদী আল-বাসরী (রহ.)।
জন্ম ও জীবনকাল: তিনি ১০০ হিজরি সনে ওমানে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বসরায় স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন। তিনি ১৭০ হিজরিতে (মতান্তরে ১৭৫ হি.) ইন্তেকাল করেন।
পাণ্ডিত্য ও কীর্তি:
- তিনি ছিলেন আরবি ব্যাকরণের প্রধান স্থপতি ইমাম সীবওয়াইহির উস্তাদ।
- তিনি আরবি ভাষার সর্বপ্রথম প্রামাণ্য অভিধান ‘কিতাবুল আইন’ (كتاب العين) রচনা করেন।
- আরবি হরফে নুকতা ও হরকত (যবর, যের, পেশ) বিন্যাসের আধুনিক পদ্ধতির সংস্কারক তিনি।
উদ্ভাবনের ঘটনা: বর্ণিত আছে, তিনি বসরার কামারশালায় কামারদের হাতুড়ির ছন্দময় আঘাতের ঠক-ঠক আওয়াজ শুনে চিন্তা করেন যে, সুর যেমন সুনির্দিষ্ট ছন্দে স্পন্দিত হয়, তেমনি আরব্য কবিতাও নিশ্চয় কোনো সুনির্দিষ্ট ছন্দ কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর তিনি সমগ্র জাহেলী ও প্রাচীন আরবি কবিতা বিশ্লেষণ করে ১৫টি মৌলিক বাহর (ছন্দস্তর) আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে তাঁর ছাত্র আল-আখফাশ আল-আওসাত ষোড়শ বাহর হিসেবে ‘মুহদাস’ বা ‘মুতাদারাক’ বাহরটি সংযোজন করেন।
(ب) كم بحرا يسبح فيه الشعر العربي؟ اكتب البحر المديد والكامل والرجز والسريع والمتدارك بالأمثلة-
[৩. (খ) আরবি কবিতা কয়টি বাহরে বিচরণ করে? মাদীদ, কামিল, রজয, সারী’ এবং মুতাদারাক বাহরগুলো উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
১. আরবি কবিতার বাহরসমূহের সংখ্যা (عدد بحور الشعر العربي):
আরবি কবিতার মোট বাহর হলো ১৬টি। ইমাম খালীল ইবনে আহমদ ১৫টি বাহর বিন্যস্ত করেছিলেন, যথা: (الطويل، المديد، البسيط، الوافر، الكامل، الهزج، الرجز، الرمل، السريع، المنسرح، الخفيف، المضارع، المقتضب، المجتث، المتقارب)। পরবর্তীতে আল-আখফাশ ‘আল-মুতাদারাক’ বাহর যোগ করলে মোট বাহর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬-তে। ছন্দবিজ্ঞানী সাফিউদ্দীন আল-হিল্লী প্রতিটি বাহরের জন্য একটি করে চমৎকার ছন্দচাবি (مفاتيح البحور) রচনা করেছেন।
২. প্রশ্নোক্ত বাহরসমূহের পরিচিতি ও উদাহরণ:
১. আল-বাহরুল মাদীদ (بحر المديد):
ছন্দচাবি: “لِمَدِيدِ الشِّعْرِ عِنْدِي صِفَاتُ * فَاعِلاتُنْ فَاعِلُنْ فَاعِلاتُنْ”
মূল গঠনরীতি (التفاعيل):
فاعلاتن فاعلن فاعلاتن فاعلن / فاعلاتن فاعلن فاعلاتن فاعلن (তবে এটি সর্বদা মুসাদ্দাস বা ছয় চরণে ব্যবহৃত হয়: فاعلاتن فاعلن فاعلاتن)।
কাব্যিক উদাহরণ:
يا لَبَكْرٍ أَنْشِرُوا لي كُلَيْباً * يا لَبَكْرٍ أَيْنَ أَيْنَ الفِرَارُ
২. আল-বাহরুল কামিল (بحر الكامل):
এটি সর্বাধিক সুমিষ্ট ও জনপ্রিয় বাহরগুলোর অন্যতম।
ছন্দচাবি: “كَمَلَ الجَمَالُ مِنَ البُحُورِ الكَامِلُ * مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُ”
মূল গঠনরীতি:
مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ / مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ
কাব্যিক উদাহরণ: কবি অন্তরা ইবনে শাদ্দাদের মুয়াল্লাকার পঙক্তি:
هَلْ غَادَرَ الشُّعَرَاءُ مِنْ مُتَرَدَّمِ * أَمْ هَلْ عَرَفْتَ الدَّارَ بَعْدَ تَوَهُّمِ
৩. আল-বাহরুর রজয (بحر الرجز):
সহজ ছন্দ ও রণহুঙ্কারের জন্য একে ‘হিমারুশ শুয়ারা’ (কবিদের বাহন) বলা হয়।
ছন্দচাবি: “في أَبْحُرِ الأَرْجَازِ بَحْرٌ يَسْهُلُ * مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُ”
মূল গঠনরীতি:
مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ / مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ
কাব্যিক উদাহরণ: বীর সেনানী আলী (রা.)-এর ঐতিহাসিক রণসঙ্গীত:
أَنَا الَّذِي سَمَّتْنِي أُمِّي حَيْدَرَهْ * كَلَيْثِ غَابَاتٍ كَرِيهِ المَنْظَرَهْ
৪. আল-বাহরুস সারী’ (بحر السريع):
ছন্দচাবি: “بَحْرٌ سَرِيعٌ مَالَهُ سَاحِلُ * مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ فَاعِلُ”
মূল গঠনরীতি:
مُسْتَفْعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ مَفْعُولاتُ (রূপান্তরিত হয়ে ضرب ও عروض-এ فاعلن বা فَعِلُن হয়)।
কাব্যিক উদাহরণ:
هَاterminalجَ الهَوَى رَسْمٌ بِذَاتِ الغَضَا * مُخْلَوْلِقٌ سَارٍ بِهِ سَارِي
৫. আল-বাহরুল মুতাদারাক (بحر المتدارك أو الخبب):
ঘোড়ার দ্রুত দৌড়ানোর ছন্দের সাথে মিল থাকায় একে ‘খাবাব’ (الخبب) বলা হয়।
ছন্দচাবি: “حَرَكَاتُ المُحْدَثِ تَنْتَقِلُ * فَعِلُنْ فَعِلُنْ فَعِلُنْ فَعِلُ”
মূল গঠনরীতি:
فَاعِلُنْ فَاعِلُنْ فَاعِلُنْ فَاعِلُنْ / فَاعِلُنْ فَاعِلُنْ فَاعِلُنْ فَاعِلُنْ
কাব্যিক উদাহরণ:
مَا لِي وَلِأَيَّامِي تَعِبَتْ * تَرْمِي بِفُؤَادِي فِي المِحَنِ
(ج) فعولن مفاعيلن فعولن مفاعيلن / فعولن مفاعيلن فعولن مفاعيلن
ما اسم البحر المذكور؟ اكتب أحوال عروضه وضربه وحشوه بالتفصيل والتمثيل-
[৩. (গ) ‘ফাঊলুন মাফাঈলুন ফাঊলুন মাফাঈলুন / ফাঊলুন মাফাঈলুন ফাঊলুন মাফাঈলুন’ — উল্লেখিত বাহরটির নাম কী? এর আরূদ, যারব ও হাশ্ব-এর অবস্থাসমূহ বিস্তারিত বিবরণ ও উদাহরণসহ লেখ।]
উত্তর:
১. উল্লেখিত বাহরটির নাম (اسم البحر المذكور):
প্রশ্নোক্ত ওজনটির নাম হলো আল-বাহরুত তবী’ল (بحر الطويل)।
এটি আরবি সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক ব্যবহৃত ও দীর্ঘতম বাহর। ইমরুল কায়েস, ত্বারফাহ ইবনে আবদ ও যুহায়ের ইবনে আবি সুলমার বিখ্যাত মুয়াল্লাকাসমূহ এই বাহরেই রচিত।
এর ছন্দচাবি হলো: “طَوِيلٌ لَهُ دُونَ البُحُورِ فَضَائِلُ * فَعُولُنْ مَفَاعِيلُنْ فَعُولُنْ مَفَاعِلُ”।
২. বাহরে তবীলের আরূদ ও যারবের অবস্থাসমূহ (أحوال عروضه وضربه):
বাহরে তবীলের একটি মাত্র আরূদ (عروض) রয়েছে এবং তার তিনটি যারব (ضرب) রয়েছে:
- ক. আরূদের অবস্থা (حال العروض):
বাহরে তবীলের আরূদ সর্বদা একটিই এবং তা বাধ্যতামূলকভাবে মাক্ববূযাহ (مقبوضة وجوباً)। অর্থাৎ পঞ্চম সাকিন বর্ণটি লোপ পেয়ে (مَفَاعِيلُنْ) থেকে রূপান্তর ঘটে (مَفَاعِلُنْ) [//0//0] হয়ে যায়। - খ. যারবের তিনটি অবস্থা (أحوال الضرب الثلاثة):
- ১ম যারব: সহীহ (صحيح – مَفَاعِيلُنْ):
যেখানে চরণের শেষ শব্দটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অবিকল বহাল থাকে।
উদাহরণ: কবি আল-মুরক্কিশ আল-আসবাহর উক্তি:
أَبَا مَنْذِرٍ كَانَتْ غُرُوراً صَحِيفَتِي * وَلَمْ أُعْطِكُمْ فِي الطَّوْعِ مَالِي وَلا عِرْضِي
এখানে আরূদ হলো (صَحِيفَتِي – مفاعلن) এবং যারব হলো (وَلا عِرْضِي – مفاعيلن)। - ২য় যারব: মাক্ববূয (مقبوض – مَفَاعِلُنْ):
যেখানে আরূদের ন্যায় যারবটিও মাক্ববূয হয়ে যায় (পঞ্চম বর্ণ ‘ইয়া’ বিলুপ্ত হয়)। এটিই সর্বাধিক ব্যবহৃত রূপ।
উদাহরণ: কবি ত্বারফাহ ইবনে আবদের মুয়াল্লাকা:
سَتُبْدِي لَكَ الأَيَّامُ مَا كُنْتَ جَاهِلاً * وَيَأْتِيكَ بِالأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوِّدِ
এখানে আরূদ (تَ جَاهِلاً – مفاعلن) এবং যারব (تُزَوِّدِ – مفاعلن)। - ৩য় যারব: মাহযূফ (محذوف – مَفَاعِي -> فَعُولُنْ):
যেখানে শেষের হালকা কারণ (السبب الخفيف অর্থাৎ ‘লুন’) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে (مفاعيلن) পরিবর্তিত হয়ে (مفاعي)-তে পরিণত হয়, যা ওজনে (فعولن) [//0/0]-এর সমান।
উদাহরণ: কবি আশ-শানফারার লামিয়্যাতুল আরবের পঙক্তি:
أَقِيمُوا بَنِي أُمِّي صُدُورَ مَطِيِّكُمْ * فَإِنِّي إِلَى قَوْمٍ سِوَاكُمْ لَأَمْيَلُ
এখানে যারব হলো (لَأَمْيَلُ – فعولن)।
- ১ম যারব: সহীহ (صحيح – مَفَاعِيلُنْ):
৩. বাহরে তবীলের হাশ্ব-এর অবস্থা (أحوال حشوه):
আরূদ ও যারব ছাড়া চরণের বাকি অংশকে ‘হাশ্ব’ (الحشو) বলা হয়। বাহরে তবীলের হাশ্ব-এর মৌলিক রুকনগুলো হলো (فعولن) এবং (مفاعيلن)। এগুলোতে যে সকল পরিবর্তন বা যিহাফ (الزحاف) প্রবেশ করতে পারে তা হলো:
- আল-ক্বাবয (القبض): পঞ্চম সাকিন বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া। এটি বাহরে তবীলের হাশ্বে বহুল প্রচলিত ও প্রশংসনীয় যিহাফ। যেমন (فَعُولُنْ) থেকে (فَعُولُ) হওয়া এবং (مَفَاعِيلُنْ) থেকে (مَفَاعِلُنْ) হওয়া।
- আল-কাফ্ফ (الكف): সপ্তম সাকিন বর্ণ বিলুপ্ত হওয়া (مفاعيلُ)। তবে এটি তুলনামূলকভাবে বিরল ও অপছন্দনীয়।
- ছন্দপতন থেকে মুক্তি: বাহরে তবীলের প্রথম রুকন (فعولن)-এর ‘ফা’ হরকত কখনো লোপ পায় না (অর্থাৎ এতে ‘খারাম’ ঘটে না)।
٤- أجب عن اثنين من الأسئلة التالية:
[৪. নিচের যে-কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]
(الف) عرف السبب الخفيف والثقيل والوتد المجموع والمفروق بالأمثلة-
[৪. (ক) উদাহরণসহ সাবাবে খাফীফ, সাবাবে সাক্বীল, ওয়াতাদে মাজমূ’ এবং ওয়াতাদে মাফরূক্ব-এর পরিচয় দাও।]
উত্তর:
ভূমিকা:
আরূদ শাস্ত্রে আরবি কবিতার ছন্দোবদ্ধ রুকন বা তাফঈলাসমূহ (التفاعيل) কতগুলো ক্ষুদ্র ধ্বনিমূল বা উপাদান দ্বারা গঠিত, যেগুলোকে ‘সবব’ (السبب) এবং ‘ওয়াতাদ’ (الوتد) বলা হয়। এগুলো হরকতের সচলতা (متحرك /) ও স্থিরতার (ساكن 0) ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত।
১. আস-সাবাবুল খাফীফ (السبب الخفيف):
পরিচয়: একটি হরকতযুক্ত (متحرك) বর্ণের পর একটি সাকিনযুক্ত (ساكن) বর্ণ যুক্ত হয়ে যে ধ্বনি তৈরি হয়, তাকে সাবাবে খাফীফ বলে।
চিহ্ন ও ওজন: (/0)
উদাহরণ:
قَدْ (/0)، عَنْ (/0)، لَمْ (/0)، هَلْ (/0)، مَنْ (/0)، لا (/0)।
২. আস-সাবাবুস সাক্বীল (السبب الثقيل):
পরিচয়: পরপর দুটি হরকতযুক্ত (متحرك) বর্ণ একত্রিত হয়ে যে ধ্বনি গঠিত হয়, তাকে সাবাবে সাক্বীল বলে।
চিহ্ন ও ওজন: (//)
উদাহরণ:
لَكَ (//)، بِكَ (//)، مَعَ (//)، أَرَى (//)।
৩. আল-ওয়াতাদুল মাজমূ’ (الوتد المجموع):
পরিচয়: পরপর দুটি হরকতযুক্ত বর্ণের পর একটি সাকিন বর্ণ যুক্ত হয়ে যে ত্রিপদী ধ্বনি তৈরি হয়, তাকে ওয়াতাদে মাজমূ’ বলে। একে ‘ওয়াতাদে মুক্বরূন’-ও বলা হয়।
চিহ্ন ও ওজন: (//0)
উদাহরণ:
عَلَى (//0)، نَعَمْ (//0)، إِلَى (//0)، دَعَا (//0)، لَقَدْ (//0)।
৪. আল-ওয়াতাদুল মাফরূক্ব (الوتد المفروق):
পরিচয়: দুটি হরকতযুক্ত বর্ণের মাঝখানে একটি সাকিন বর্ণ ব্যবধান তৈরি করে যে ধ্বনি গঠিত হয়, তাকে ওয়াতাদে মাফরূক্ব বলে।
চিহ্ন ও ওজন: (/0/)
উদাহরণ:
قَالَ (/0/)، بَانَ (/0/)، كَانَ (/0/)، حَيْثُ (/0/)، لَيْتَ (/0/)।
(ب) اكتب تقطيع أحد البيتين الآتيين:
(١) إذا نطق السفيه فلا تجبه * فخير من إجابته السكوت-
(٢) قفانبك من ذكرى حبيب ومنزل * بسقط اللوى بين الدخول فحومل
[৪. (খ) নিচের যে-কোনো একটি চরণের ছান্দিক বিশ্লেষণ (তাক্বত্বী’) প্রস্তুত কর:]
উত্তর:
(পরীক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির স্বার্থে নিম্নে উভয় চরণেরই পুঙ্খানুপুঙ্খ ছান্দিক বিশ্লেষণ বা তাক্বত্বী’ তুলে ধরা হলো)
১ম চরণ বিশ্লেষণ (البيت الأول):
إِذَا نَطَقَ السَّفِيهُ فَلَا تُجِبْهُ * فَخَيْرٌ مِنْ إِجَابَتِهِ السُّكُوتُ
ক. ছান্দিক লেখনী (الكتابة العروضية):
إِذَا نَطَقَسْ سَفِيهُ فَلَا تُجِبْهُو * فَخَيْرُنْ مِنْ إِجَابَتِهِسْ سُكُوتُو
খ. প্রতীক বা ধ্বনিচিহ্ন (الرموز العروضية):
প্রথম চরণ (الصدر):
//0 ///0 //0 /// //0 /0
দ্বিতীয় চরণ (العجز):
//0 /0 /0 //0 ///0 //0 /0
গ. মূল তাফঈলা ও বাহর (التفاعيل والبحر):
এটি আল-বাহরুল ওয়াফির (بحر الوافر)-এর অন্তর্ভুক্ত।
এর মূল ওজন: مُفَاعَلَتُنْ مُفَاعَلَتُنْ فَعُولُنْ / مُفَاعَلَتُنْ مُفَاعَلَتُنْ فَعُولُنْ।
এখানে প্রথমাংশে ‘মুফায়ালাতুন’ সুস্থ রয়েছে এবং শেষে ক্বাত্বফ (القطف) হয়ে ‘ফাঊলুন’ হয়েছে।
২য় চরণ বিশ্লেষণ (البيت الثاني):
قِفَا نَبْكِ مِنْ ذِكْرَى حَبِيبٍ وَمَنْزِلِ * بِسِقْطِ اللِّوَى بَيْنَ الدَّخُولِ فَحَوْمَلِ
ক. ছান্দিক লেখনী (الكتابة العروضية):
قِفَا نَبْكِ مِنْ ذِكْرَى حَبِيبِنْ وَمَنْزِلِي * بِسِقْطِلْ لِوَى بَيْنَ دْدَخُولِ فَحَوْمَلِي
খ. প্রতীক বা ধ্বনিচিহ্ন (الرموز العروضية):
প্রথম চরণ (الصدر):
//0 /0 //0 /0 /0 //0 /0 //0 //0
দ্বিতীয় চরণ (العجز):
//0 /0 //0 /0 /0 //0 /0 //0 //0
গ. মূল তাফঈলা ও বাহর (التفاعيل والبحر):
এটি জগদ্বিখ্যাত আল-বাহরুত তবী’ল (بحر الطويل)-এর অন্তর্ভুক্ত (কবি ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকার উদ্বোধনী চরণ)।
তাফঈলা বিভাজন:
প্রথম চরণ: فَعُولُنْ (قفا نبـ) / مَفَاعِيلُنْ (ـك من ذكرى) / فَعُولُنْ (حبيبن) / مَفَاعِلُنْ (ومنزلِ)
দ্বিতীয় চরণ: فَعُولُنْ (بسقطلـ) / مَفَاعِيلُنْ (ـلوى بيندْ) / فَعُولُنْ (دخولي) / مَفَاعِلُنْ (فحوملِ)
উভয় চরণের শেষ তাফঈলা মাক্ববূয (مَفَاعِلُنْ) হিসেবে এসেছে।
(ج) اكتب بيتين من حفظك مع ذكر بحورهما-
[৪. (গ) তোমার মুখস্থ থেকে দুটি কাব্যচরণ তাদের বাহর উল্লেখপূর্বক লেখ।]
উত্তর:
১ম চরণ: বীরত্ব ও আত্মত্যাগের অমর কবিতা
وَلَقَدْ ذَكَرْتُكِ وَالرِّمَاحُ نَوَاهِلٌ * مِنِّي وَبِيضُ الْهِنْدِ تَقْطُرُ مِنْ دَمِي
“যুদ্ধক্ষেত্রের সেই মুহূর্তেও আমি তোমাকে স্মরণ করেছি, যখন বর্শাগুলো আমাকে বিদ্ধ করতে তৃষ্ণার্ত ছিল এবং ভারতীয় চকচকে তরবারি থেকে আমার রক্ত ঝরছিল।”
রচয়িতা: জাহেলী যুগের বীর কবি অন্তরা ইবনে শাদ্দাদ (عنترة بن شداد)।
বাহর (البحر): এটি আল-বাহরুল কামিল (بحر الكامل)-এর অন্তর্ভুক্ত।
ওজন: مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ / مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ مُتَفَاعِلُنْ
২য় চরণ: জ্ঞান ও কলমের শাশ্বত মহিমা
الخَيْلُ وَاللَّيْلُ وَالبَيْدَاءُ تَعْرِفُنِي * وَالسَّيْفُ وَالرُّمْحُ وَالقِرْطَاسُ وَالقَلَمُ
“ঘোড়া, অন্ধকার রজনী এবং সুবিশাল মরুপ্রান্তর আমাকে সম্যক চেনে; আর তরবারি, বর্শা, কাগজ এবং কলমও আমার বীরত্ব ও পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দেয়।”
রচয়িতা: আব্বাসীয় যুগের মহাকবি আবুল তাইয়েব আল-মুতানাব্বী (أبو الطيب المتنبي)।
বাহর (البحر): এটি আল-বাহরুল বাসীত্ব (بحر البسيط)-এর অন্তর্ভুক্ত।
ওজন: مُسْتَفْعِلُنْ فَاعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ فَعِلُنْ / مُسْتَفْعِلُنْ فَاعِلُنْ مُسْتَفْعِلُنْ فَعِلُ
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
উত্তর: ফাসাহাত হলো শব্দের উচ্চারণগত মাধুর্য, ব্যাকরণিক শুদ্ধতা ও সুস্পষ্টতা; আর বালাগাত হলো শ্রোতা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ দাবি অনুযায়ী সেই ফাসীহ বাক্য যথাযথভাবে প্রয়োগ করা। তাই প্রতিটি বালীগ কালামই ফাসীহ, কিন্তু প্রতিটি ফাসীহ কালাম বালীগ নাও হতে পারে।
প্রশ্ন ২: তাশবীহে বালীগ কাকে বলে এবং এর সাহিত্যিক মর্যাদা কী?
উত্তর: যে তাশবীহে তুলনার উপকরণ (আদাতুত তাশবীহ) এবং তুলনার ভিত্তি (ওয়াজহুশ শাবাহ) উভয়টিই বিলুপ্ত করে কেবল মুশাব্বাহ ও মুশাব্বাহ বিহি উল্লেখ করা হয়, তাকে তাশবীহে বালীগ বলে। যেমন: ‘জ্ঞানই আলো’। এটি অলঙ্কারের সর্বোচ্চ ও শৈল্পিক রূপ।
প্রশ্ন ৩: ইলমুল আরূদের মূল উদ্ভাবক কে এবং কেন এটি আবিষ্কার করা হয়?
উত্তর: ইলমুল আরূদের উদ্ভাবক হলেন প্রখ্যাত আরবী ভাষাতাত্ত্বিক ইমাম আল-খালীল ইবনে আহমদ আল-ফারাহীদী (১০০-১৭০ হি.)। অনারবদের সংমিশ্রণে আরবি কবিতার সহজাত ছন্দ যেন নষ্ট বা বিকৃত না হয়, তা সুরক্ষার লক্ষ্যেই তিনি এটি আবিষ্কার করেন।
প্রশ্ন ৪: আরবি কবিতার সর্বমোট বাহর কয়টি?
উত্তর: আরবি কবিতার মোট বাহর ১৬টি। ইমাম খালীল ইবনে আহমদ ১৫টি বাহর আবিষ্কার করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর সুযোগ্য ছাত্র আল-আখফাশ আল-আওসাত ষোড়শ বাহর হিসেবে ‘আল-মুতাদারাক’ বাহরটি সংযোজন করেন।
প্রশ্ন ৫: সাবাবে খাফীফ ও ওয়াতাদে মাজমূ’-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: সাবাবে খাফীফ দুটি বর্ণ নিয়ে গঠিত (একটি হরকতযুক্ত ও একটি সাকিন, যেমন: قَدْ /0); পক্ষান্তরে ওয়াতাদে মাজমূ’ তিনটি বর্ণ নিয়ে গঠিত (দুটি হরকতযুক্ত বর্ণ ও একটি সাকিন, যেমন: عَلَى //0)।
প্রশ্ন ৬: ফাজিল ৪র্থ বর্ষ পরীক্ষার জন্য ২০৪৪০৯ পত্রের প্রস্তুতি কীভাবে নেওয়া উচিত?
উত্তর: ইলমুল বালাগাহ ও ইলমুল আরূদ পত্রে ভালো ফলাফলের জন্য বালাগাতের প্রধান পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞা ও কুরআনী উদাহরণ মুখস্থ করার পাশাপাশি আরূদ অংশের প্রধান প্রধান বাহরের তাকিয়া ও কবিতার তাক্বত্বী’ (ছান্দিক বিশ্লেষণ) নিয়মিত অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরি।