ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (Qawaidul Lughatil Arabiyyah)
বিষয় কোড: ২০২২০৩
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
১ নং অংশ: ইলমুন নাহু (علم النحو) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান
١. (أ) عرف علم النحو ثم حدث عن موضوعه وغرضه وفائدته مفصلا-
[১ (ক). ইলমুন নাহুর পরিচয় দাও। অতঃপর এর আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও উপকারিতা বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহ অবিকৃতভাবে বুঝতে এবং বিশুদ্ধ আরবি ভাষা লিখতে ও বলতে পারার মূল চাবিকাঠি হলো ইলমুন নাহু। নাহু হলো আরবি ব্যাকরণের মেরুদণ্ড।
১. ইলমুন নাহুর পরিচয় (تعريف علم النحو)
আভিধানিক অর্থ: ‘নাহু’ (نحو) শব্দটি আরবি ভাষায় কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়—যেমন: অভিমুখ বা দিক (القصد والجهة), সাদৃশ্য (المثل), পরিমাণ (المقدار) ইত্যাদি।
পারিভাষিক অর্থ: আল্লামা ইবনে মালিক ও অন্যান্য বৈয়াকরণিকগণের মতে— “هو علم بأصول وقواعد يعرف بها أحوال أواخر الكلم إعرابا وبناء وكيفية تركيب بعضها مع بعض” অর্থাৎ, “যে শাস্ত্রের মাধ্যমে আরবি বাক্যে ব্যবহৃত শব্দসমূহের শেষ অক্ষরের অবস্থা (ইরাব ও মাবনি হওয়া) এবং পরস্পর বাক্য গঠনের নিয়মাবলি জানা যায়, তাকে ইলমুন নাহু বলে।”
২. ইলমুন নাহুর আলোচ্য বিষয় (موضوع علم النحو)
ইলমুন নাহুর মূল আলোচ্য বিষয় হলো— আরবি শব্দ ও বাক্য (الكلمة والكلام বা اللفظ العربي)। অর্থাৎ শব্দের রূপান্তর ও বাক্যস্থিত বিভিন্ন উপাদানের (যেমন ফায়েল, মাফউল, মুবতাদা, খবর ইত্যাদি) পারস্পরিক সম্পর্ক ও শেষাক্ষরের পরিবর্তন নিয়ে এ শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়।
৩. ইলমুন নাহুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (غرض علم النحو)
- আরবি ভাষা পড়ার, বলার ও লেখার ক্ষেত্রে শব্দ ও বাক্যের ব্যাকরণগত ভুল-ভ্রান্তি (লহন) থেকে রসনাকে রক্ষা করা (صيانة اللسان عن الخطأ في الكلام العربي)।
- পবিত্র কোরআন ও হাদিসের সঠিক অর্থ অনুধাবন করা।
৪. ইলমুন নাহুর উপকারিতা ও ফযীলত (فائدته وفضيلته)
- শরীয়তের উৎসের সঠিক অনুধাবন: পবিত্র কোরআন ও হাদিস বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। নাহুর জ্ঞান ব্যতীত এগুলোর মর্ম উপলব্ধি করা অসম্ভব।
- অর্থের বিকৃতি রোধ: আরবি ভাষায় সামান্য যের-যবর-পেশের পরিবর্তনে অর্থের বিশাল পরিবর্তন ঘটে। যেমন— “إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ”-এ ‘আল্লাহ’ শব্দে যবর ও ‘উলামা’ শব্দে পেশ রয়েছে। নাহু না জানলে মারাত্মক কুফরি অর্থ দাঁড়িয়ে যেতে পারে।
- আরবি সাহিত্যের মাধুর্য উপভোগ: আরবি অলংকারশাস্ত্র ও সাহিত্যের নিগূঢ় সৌন্দর্য বোঝার জন্য নাহুর জ্ঞান অপরিহার্য।
١. (ب) ما الكلمة؟ وكم قسما لها؟ عرف كل قسم ممثلا مع ذكر علامات الاسم موضحا-
[১ (খ). কালিমাহ কাকে বলে? উহা কত প্রকার? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা দাও এবং ইসমের আলামতসমূহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ কর।]
১. কালিমাহ (الكلمة)-এর পরিচয়
সংজ্ঞা: আল্লামা ইবনে হিশামের মতে— “الكلمة: قول مفرد” অর্থাৎ, “একক অর্থবোধক বাচক শব্দকে কালিমাহ বলে।”
২. কালিমাহর প্রকারভেদ (أقسام الكلمة)
অর্থ প্রকাশ ও কালের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে কালিমাহ প্রধানত তিন প্রকার:
- ইসম (الاسم – বিশেষ্য/নামপদ): যে শব্দ নিজে থেকেই নিজের পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে এবং তার অর্থের সাথে তিন কালের (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) কোনো কাল জড়িত থাকে না। যেমন: رَجُلٌ (একজন লোক), كِتَابٌ (বই), مَكَّةُ (মক্কা)।
- ফে’ল (الفعل – ক্রিয়াপদ): যে শব্দ নিজে থেকেই নিজের অর্থ প্রকাশ করে এবং তিন কালের যেকোনো একটি কাল তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকে। যেমন: كَتَبَ (সে লিখল – অতীত), يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে – বর্তমান/ভবিষ্যৎ)।
- হরফ (الحرف – অব্যয়): যে শব্দ অন্য শব্দের (ইসম বা ফে’ল) সাহায্য ছাড়া নিজে স্বাধীনভাবে স্পষ্ট অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। যেমন: مِنْ (হতে), إِلَى (পর্যন্ত), فِي (মধ্যে)।
৩. ইসমের বিশিষ্ট আলামতসমূহ (علامات الاسم)
ইমাম ইবনে মালিক তাঁর আলফিয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন: “بالجر والتنوين والندا وأل ومسند للاسم تمييز حصل”। ইসম চেনার প্রধান আলামতগুলো নিম্নরূপ:
- ১. যের বা জর হওয়া (الجر): হরফে জর বা ইজাফতের কারণে শব্দের শেষে যের হওয়া। যেমন: بِسْمِ اللهِ।
- ২. তানভীন হওয়া (التنوين): শব্দের শেষে দুই যবর, দুই যের বা দুই পেশ থাকা। যেমন: كِتَابٌ، رَسُولًا।
- ৩. আলিফ-লাম যুক্ত হওয়া (دخول أل): শব্দের শুরুতে ‘আল’ নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক হরফ যুক্ত হওয়া। যেমন: الْقَمَرُ، الرَّجُلُ।
- ৪. হরফে নিদা প্রবেশ করা (دخول حرف النداء): আহ্বানের অব্যয় পূর্বে বসা। যেমন: يَا رَحْمَنُ، يَا زَيْدُ।
- ৫. মুসনাদ ইলাইহ হওয়া (الإسناد إليه): শব্দটির দিকে কোনো বিধান বা কথা সম্পর্কিত করা (যেমন ফায়েল বা মুবতাদা হওয়া)। যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ (যায়েদ দাঁড়ানো—এখানে যায়েদের দিকে দাঁড়ানোকে সম্পর্কিত করা হয়েছে)।
- ৬. গোল ‘তা’ (التاء المربوطة) থাকা: যেমন: شَجَرَةٌ، مَدْرَسَةٌ।
١. (ج) عرف المعرفة والنكرة ثم اذكر أقسام المعرفة مفصلا-
[১ (গ). মারেফা ও নাকিরাহর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর মারেফার প্রকারভেদসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।]
১. মারেফা ও নাকিরাহর সংজ্ঞা
নাকিরাহ (النكرة – অনির্দিষ্ট বাচক বিশেষ্য): যে শব্দ দ্বারা কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানকে বোঝায় তাকে নাকিরাহ বলে। যেমন: رَجُلٌ (যেকোনো একজন ব্যক্তি), مَدِينَةٌ (যেকোনো একটি শহর)।
মারেফা (المعرفة – নির্দিষ্ট বাচক বিশেষ্য): যে শব্দ দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানকে সুস্পষ্টভাবে বোঝায় তাকে মারেফা বলে। যেমন: مُحَمَّدٌ (নির্দিষ্ট ব্যক্তি মুহাম্মদ সা.), الْكِتَابُ (নির্দিষ্ট বইটি)।
২. মারেফার প্রকারভেদ (أقسام المعرفة)
আরবি ব্যাকরণে মারেফা প্রধানত সাত প্রকার:
- যমীর বা সর্বনাম (الضمير): যা বক্তা, শ্রোতা বা অনুপস্থিত ব্যক্তির পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। যেমন: أَنَا (আমি), أَنْتَ (তুমি), هُوَ (সে)। এটি মারেফার মধ্যে সর্বাধিক নির্দিষ্ট।
- আলম বা বিশিষ্ট নাম (العَلَم): কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, স্থান বা বস্তুর নিজস্ব নাম। যেমন: إِبْرَاهِيمُ، مَكَّةُ، دِجْلَةُ।
- ইসমে ইশারা বা নির্দেশক সর্বনাম (اسم الإشارة): যা দ্বারা কোনো নিকটবর্তী বা দূরবর্তী বস্তুকে নির্দেশ করা হয়। যেমন: هَذَا (ইহা), ذَلِكَ (উহা), هَؤُلَاءِ (এঁরা)।
- ইসমে মাওসুল বা সম্বন্ধবাচক সর্বনাম (الاسم الموصول): যা পরবর্তী বাক্যাংশ (সিলাহ) ছাড়া পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না। যেমন: الَّذِي، الَّتِي، الَّذِينَ।
- আলিফ-লাম যুক্ত ইসম (المُعَرَّف بـ أل): যে নাকিরাহ শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট হয়েছে। যেমন: الْغُلَامُ، الرَّجُلُ।
- মারেফার দিকে মুজাফ বা সম্বন্ধযুক্ত ইসম (المضاف إلى معرفة): যে নাকিরাহ শব্দটি পূর্বোক্ত পাঁচ প্রকার মারেফার যেকোনো একটির দিকে মুজাফ হয়েছে। যেমন: كِتَابُ زَيْدٍ (যায়েদের কিতাব), قَلَمِي (আমার কলম)।
- মুনাদা বা সম্বোধিত ব্যক্তি (المُنَادَى المقصود بالنداء): হরফে নিদার কারণে নির্দিষ্ট ব্যক্তি। যেমন: يَا رَجُلُ (হে নির্দিষ্ট ব্যক্তি)।
١. (د) ما الإعراب؟ وكم نوعا للإعراب الاسم؟ بين إعراب الاسم المقصور والاسم المنقوص ممثلا وموضحا-
[১ (ঘ). ইরাব কী? ইসমের ইরাব কত প্রকার? ইসমে মাকসূর ও ইসমে মানকূসের ইরাব উদাহরণসহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]
১. ইরাব (الإعراب)-এর পরিচয়
সংজ্ঞা: আমেল বা প্রভাবকের পরিবর্তনের ফলে ইসমের শেষ অক্ষরের যে পরিবর্তন (হরকত বা হরফের মাধ্যমে) সাধিত হয়, তাকে ইরাব বলে। আল্লামা ইবনে হিশাম বলেন: “الإعراب هو أثر ظاهر أو مقدر يجلبه العامل في آخر الكلمة”।
২. ইসমের ইরাবের প্রকারভেদ
ইসমের ইরাব মূলত তিন প্রকার:
১. রাফা বা মারফু অবস্থা (الرفع): মূল চিহ্ন পেশ (ضمة)।
২. নসব বা মানসুব অবস্থা (النصب): মূল চিহ্ন যবর (فتحة)।
৩. জর বা মাজরুর অবস্থা (الجر): মূল চিহ্ন যের (كسرة)। (ইসমের মধ্যে জযম নেই)।
৩. ইসমে মাকসূর ও ইসমে মানকূসের ইরাব
- ইসমে মাকসূর (الاسم المقصور):
- পরিচয়: যে ইসমের শেষে আলিফে মাকসূরা (খাড়া যবরযুক্ত ইয়া বা আলিফ) থাকে এবং তার পূর্বাক্ষরে যবর থাকে। যেমন: الْفَتَى (যুবক), مُوسَى (মূসা), الْعَصَا (লাঠি)।
- ইরাব: ইসমে মাকসূরের তিন অবস্থাতেই (রাফা, নসব ও জর) ইরাব উহ্য বা তকদীরী হরকত দ্বারা হয় (مقدرة للتعذر)।
- রাফায়ী অবস্থা: جَاءَ الْفَتَى (যুবকটি এল—উহ্য পেশ দ্বারা মারফু)।
- নাসবায়ী অবস্থা: رَأَيْتُ الْفَتَى (আমি যুবকটিকে দেখলাম—উহ্য যবর দ্বারা মানসুব)।
- জার্রয়ী অবস্থা: مَرَرْتُ بِالْفَتَى (আমি যুবকটির পাশ দিয়ে গেলাম—উহ্য যের দ্বারা মাজরুর)।
- ইসমে মানকূস (الاسم المنقوص):
- পরিচয়: যে ইসমের শেষে স্থায়ী আসলি ইয়া (ي) থাকে এবং তার পূর্বাক্ষরে যের থাকে। যেমন: الْقَاضِي (বিচারক), الدَّاعِي (আহ্বানকারী)।
- ইরাব: ইসমে মানকূসের রাফা ও জরের অবস্থায় ইরাব উহ্য থাকে (উচ্চারণের জটিলতা বা সিক্বালের কারণে), তবে নসবের অবস্থায় যবর প্রকাশ্যে উচ্চারিত হয় (লফযী)।
- রাফায়ী অবস্থা: جَاءَ الْقَاضِي (বিচারক এলেন—ইয়া-র ওপর উহ্য পেশ দ্বারা মারফু)।
- নাসবায়ী অবস্থা: رَأَيْتُ الْقَاضِيَ (আমি বিচারককে দেখলাম—প্রকাশ্য যবর দ্বারা মানসুব)।
- জার্রয়ী অবস্থা: مَرَرْتُ بِالْقَاضِي (আমি বিচারকের নিকট দিয়ে গেলাম—উহ্য যের দ্বারা মাজরুর)।
١. (هـ) عرف المبتداء والخبر- ما الأصل فيهما؟ تحدث عن مسوغات الإبتداء بالنكرة ممثلا-
[১ (ঙ). মুবতাদা ও খবরের সংজ্ঞা দাও। এ দুটির মূল অবস্থা কী? উদাহরণসহ নাকিরাহ দ্বারা মুবতাদা হওয়ার কারণসমূহ (মুসাওবিগাতুল ইবতিদা বিন নাকিরাহ) আলোচনা কর।]
১. মুবতাদা ও খবরের পরিচয়
মুবতাদা (المبتدأ): যে মারফু ইসমটি বাক্যের শুরুতে আসে এবং শাব্দিক আমেল হতে মুক্ত থাকে (المجرد عن العوامل اللفظية للاسناد)। যেমন: اللهُ رَبُّنَا-এ ‘আল্লাহ’ হলো মুবতাদা।
খবর (الخبر): যে মারফু অংশটি মুবতাদার সাথে যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করে এবং মুবতাদা সম্পর্কে সংবাদ দেয়। যেমন: زَيْدٌ عَالِمٌ-এ ‘আলিমুন’ হলো খবর।
মূল অবস্থা (الأصل فيهما): মুবতাদার মূল অবস্থা হলো তা মারেফা (নির্দিষ্ট) হওয়া এবং খবরের মূল অবস্থা হলো তা নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট) হওয়া।
২. নাকিরাহ দ্বারা মুবতাদা হওয়ার কারণসমূহ (مسوغات الابتداء بالنكرة)
সাধারণ নিয়মে নাকিরাহ মুবতাদা হতে পারে না। তবে যখন নাকিরাহর মধ্যে কোনোভাবে অর্থের নির্দিষ্টতা বা ব্যাপকতা তৈরি হয়, তখন তা মুবতাদা হতে পারে। প্রধান কারণসমূহ নিম্নরূপ:
- নাকিরাহটি সিফাতযুক্ত হওয়া (أن توصف النكرة): যেমন: “وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ” (একজন মুমিন দাস মুশরিক অপেক্ষা উত্তম—এখানে ‘আবদুন’ নাকিরাহ হলেও ‘মুমিনুন’ সিফাতের কারণে মুবতাদা হয়েছে)।
- মুবতাদাটি ইজাফতযুক্ত হওয়া (أن تضاف النكرة): যেমন: طَالِبُ عِلْمٍ حَاضِرٌ (জ্ঞানের অন্বেষণকারী উপস্থিত)।
- খবরটি যার-মাজরুর বা জরফ হয়ে পূর্বে আসা (أن يتقدم الخبر الظرف أو الجار والمجرور): যেমন: “فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ” (তাদের অন্তরে রোগ আছে), عِنْدِي كِتَابٌ (আমার নিকট একটি কিতাব আছে)।
- নফি বা না-বোধক অব্যয়ের পরে আসা (أن تقع بعد النفي): যেমন: مَا أَحَدٌ عِنْدَنَا (আমাদের কাছে কেউ নেই)।
- ইস্তিফহাম বা প্রশ্নবোধক হরফের পরে আসা (أن تقع بعد الاستفهام): যেমন: “أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ” (আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে?)।
- দোয়া বা বদদোয়ার অর্থ প্রদান করা (أن تفيد الدعاء): যেমন: “سَلَامٌ عَلَى آلِ يَاسِينَ”, “وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ”।
١. (و) ما النعت؟ وكم قسما له؟ ما الأشياء التي يجب فيها التطابق بين النعت والمنعوت؟ بين مفصلا-
[১ (চ). না’ত (সিফাত) কাকে বলে? উহা কত প্রকার? না’ত ও মান’উতের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে মিল থাকা আবশ্যক? বিস্তারিত ব্যাখ্যা কর।]
১. না’ত (النعت)-এর পরিচয় ও প্রকারভেদ
সংজ্ঞা: না’ত বা সিফাত হলো এমন এক অনুগামী শব্দ (তাবে), যা তার পূর্ববর্তী পদ (মান’উত বা মাওসুফ)-এর কোনো গুণ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করে। যেমন: جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ (একজন জ্ঞানী ব্যক্তি এলেন)।
প্রকারভেদ: না’ত প্রধানত দুই প্রকার:
১. না’তে হাকীকী (النعت الحقيقي): যা সরাসরি নিজের মাওসুফের দোষ বা গুণ বর্ণনা করে। যেমন: قَرَأْتُ كِتَابًا مُفِيدًا (আমি একটি উপকারী বই পড়লাম)।
২. না’তে সাবাবী (النعت السببي): যা মাওসুফের সাথে সম্পর্কিত অন্য কোনো ব্যক্তির বা বস্তুর গুণ প্রকাশ করে। যেমন: جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ أَبُوهُ (এমন এক ব্যক্তি এল যার পিতা একজন আলেম)।
২. না’ত ও মান’উতের মধ্যকার আবশ্যকীয় সাদৃশ্য (أوجه التطابق)
না’তে হাকীকী তার মান’উতের সাথে মোট ১০টি বিষয়ের মধ্য থেকে ৪টি বিষয়ে অবশ্যই মিল রাখবে:
- ইরাব বা শেষাক্ষরের অবস্থায় (الرفع والنصب والجر): মান’উত মারফু হলে না’ত মারফু হবে (جَاءَ زَيْدٌ الْفَاضِلُ), মানসুব হলে মানসুব (رَأَيْتُ زَيْدًا الْفَاضِلَ), মাজরুর হলে মাজরুর (مَرَرْتُ بِزَيْدٍ الْفَاضِلِ)।
- মারেফা ও নাকিরাহ হওয়ার ক্ষেত্রে (التعريف والتنكير): মান’উত মারেফা হলে না’ত মারেফা (الرَّجُلُ الصَّالِحُ), আর নাকিরাহ হলে না’ত নাকিরাহ (رَجُلٌ صَالِحٌ)।
- লিঙ্গভেদে (التذكير والتأنيث): পুংলিঙ্গে পুংলিঙ্গ (طَالِبٌ مُجْتَهِدٌ), স্ত্রীলিঙ্গে স্ত্রীলিঙ্গ (طَالِبَةٌ مُجْتَهِدَةٌ)।
- বচনভেদে (الإفراد والتثنية والجمع): একবচনে একবচন (مُسْلِمٌ صَادِقٌ), দ্বিবচনে দ্বিবচন (مُسْلِمَانِ صَادِقَانِ), বহুবচনে বহুবচন (مُسْلِمُونَ صَادِقُونَ)।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মান’উত যদি গায়রে আকিল বা অপ্রাণিবাচক বহুবচন হয়, তবে না’ত সাধারণত একবচন স্ত্রীলিঙ্গ হয়। যেমন: بُيُوتٌ عَالِيَةٌ বা كُتُبٌ قَيِّمَةٌ)।
২ নং অংশ: ইলমুস সরফ ও কিতাবাত (علم الصرف والإملاء)
٢. (أ) ما الفعل؟ وكم قسما له من حيث الزمن؟ عرف كل قسم موضحا ثم اذكر كيفية صياغة الفعل المضارع-
[২ (ক). ফে’ল কাকে বলে? কালের দিক থেকে ফে’ল কত প্রকার? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের পরিচয় দাও এবং ফে’লে মুজারে গঠনের নিয়ম উল্লেখ কর।]
১. ফে’ল (الفعل)-এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
সংজ্ঞা: যে শব্দ নিজে থেকেই নিজের অর্থ প্রকাশ করে এবং তিন কালের যেকোনো একটি কাল তার সাথে সম্পৃক্ত থাকে তাকে ফে’ল বলে। যেমন: نَصَرَ (সে সাহায্য করল)।
কালের দিক থেকে প্রকারভেদ: কালের দিক থেকে ফে’ল তিন প্রকার:
১. ফে’লে মাযী (الفعل الماضي – অতীতকাল): যা দ্বারা অতীতকালে কোনো কাজ সম্পন্ন হওয়া বোঝায়। যেমন: ذَهَبَ (সে গেল), قَرَأَ (সে পড়ল)।
২. ফে’লে মুজারে (الفعل المضارع – বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল): যা দ্বারা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়। যেমন: يَذْهَبُ (সে যাচ্ছে বা যাবে)।
৩. ফে’লে আমর (فعل الأمر – আদেশসূচক ক্রিয়া): যা দ্বারা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজের আদেশ বা অনুরোধ করা হয়। যেমন: اِذْهَبْ (তুমি যাও), اِقْرَأْ (তুমি পড়)।
২. ফে’লে মুজারে গঠনের নিয়ম (صياغة الفعل المضارع)
- প্রথমে ফে’লে মাযীর মারুফের রূপটি নিতে হবে (যেমন: فَعَلَ)।
- এর শুরুতে মুজারের চারটি আলামতের (أ، ت، ي، ن – আতাইনা বা আনাইতু) যেকোনো একটি আলামত যোগ করতে হবে।
- মুজারের আলামতটি তিন বা পাঁচ বা ছয় অক্ষরের মাযীতে যবরযুক্ত হবে (যেমন: يَفْعَلُ، يَنْصُرُ)। কিন্তু চার অক্ষরের মাযীতে তা পেশযুক্ত হবে (যেমন: أَكْرَمَ -> يُكْرِمُ، دَحْرَجَ -> يُدَحْرِجُ)।
- মাযীর ফা-কালেমায় সাকিন (জযম) দিতে হবে (যেমন: فـْ)।
- আইন-কালেমায় ভাব (বাব)-এর নিয়ম অনুযায়ী যের, যবর বা পেশ হবে (যেমন: يَفْعُلُ، يَفْعِلُ، يَفْعَلُ)।
- লাম-কালেমায় (শেষাক্ষরে) আমেল না থাকলে স্বাভাবিক অবস্থায় পেশ (যম্মা) হবে (যেমন: يَفْعَلُ)।
٢. (ب) عرف الفعل الثلاثى والرباعى ثم اذكر أوزان الثلاثى المزيد فيه والرباعى المزيد فيه مع إعطاء مثالين لكل وزن-
[২ (খ). সুলাসী ও রুবায়ী ফে’লের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর সুলাসী মাযীদ ফীহ ও রুবায়ী মাযীদ ফীহ-এর ওযানসমূহ প্রতিটি ওযানের দুটি করে উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
১. সুলাসী ও রুবায়ী ফে’লের পরিচয়
সুলাসী (الثلاثي): যার মাযীর প্রথম সীগাহয় মূল বর্ণ (হুরুফে আসলিয়া) তিনটি থাকে। যেমন: ضَرَبَ।
রুবায়ী (الرباعي): যার মাযীর প্রথম সীগাহয় মূল বর্ণ চারটি থাকে। যেমন: دَحْرَجَ।
২. সুলাসী মাযীদ ফীহ-এর প্রসিদ্ধ ওযান ও উদাহরণ
সুলাসী মাযীদ ফীহ হলো যার মূল তিন বর্ণের সাথে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হয়। এর প্রধান ওযানসমূহ:
- ১. أَفْعَلَ (ইফ’আল): উদাহরণ: أَكْرَمَ (সম্মান করল), أَحْسَنَ (উত্তম করল)।
- ২. فَعَّلَ (তাফ’ঈল): উদাহরণ: عَلَّمَ (শিক্ষা দিল), صَدَّقَ (সত্যায়ন করল)।
- ৩. فَاعَلَ (মুফা’আলাহ): উদাহরণ: قَاتَلَ (যুদ্ধ করল), جَاهَدَ (প্রচেষ্টা চালাল)।
- ৪. تَفَعَّلَ (তাফা’উল): উদাহরণ: تَعَلَّمَ (শিখল), تَقَبَّلَ (কবুল করল)।
- ৫. تَفَاعَلَ (তাফা’উল): উদাহরণ: تَقَابَلَ (সাক্ষাৎ করল), تَعَاوَنَ (সহযোগিতা করল)।
- ৬. اِفْتَعَلَ (ইফতি’আল): উদাহরণ: اِجْتَمَعَ (একত্রিত হলো), اِكْتَسَبَ (উপার্জন করল)।
- ৭. اِنْفَعَلَ (ইনফি’আল): উদাহরণ: اِنْكَسَرَ (ভেঙে গেল), اِنْفَطَرَ (বিদীর্ণ হলো)।
- ৮. اِسْتَفْعَلَ (ইসতিফ’আল): উদাহরণ: اِسْتَغْفَرَ (ক্ষমা চাইল), اِسْتَخْرَجَ (বের করল)।
৩. রুবায়ী মাযীদ ফীহ-এর প্রসিদ্ধ ওযান ও উদাহরণ
- ১. تَفَعْلَلَ: উদাহরণ: تَدَحْرَجَ (গড়িয়ে পড়ল), تَزَلْزَلَ (কম্পিত হলো)।
- ২. اِفْعَنْلَلَ: উদাহরণ: اِحْرَنْجَمَ (ভিড় জমাল)।
- ৩. اِفْعَلَلَّ: উদাহরণ: اِقْشَعَرَّ (রোমাঞ্চিত হলো), اِطْمَأَنَّ (প্রশান্ত হলো)।
٢. (ج) ما الإبدال والإعلال؟ وما الفرق بينهما؟ اذكر المواضع التى تحذف فيها الواو والياء موضحا بالأمثلة-
[২ (গ). ইবদ্যাল ও ই’লাল কী? এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কী? যেসব স্থানে ওয়াও ও ইয়া বিলুপ্ত (হযফ) হয় তা উদাহরণসহ আলোচনা কর।]
১. ই’লাল ও ইবদ্যালের সংজ্ঞা ও পার্থক্য
ই’লাল (الإعلال): উচ্চারণের সহজতার জন্য হরফে ইল্লত (ওয়াও, আলিফ, ইয়া)-কে অন্য হরফে রূপান্তর করা, সাকিন করা বা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত (হযফ) করাকে ই’লাল বলে। যেমন: قَوَلَ -> قَالَ।
ইবদ্যাল (الإبدال): যেকোনো একটি বর্ণকে (তা হরফে ইল্লত হোক বা সহীহ বর্ণ হোক) অন্য একটি বর্ণ দ্বারা প্রতিস্থাপন করাকে ইবদ্যাল বলে। যেমন: اِصْتَبَرَ (মূলত ছিল اِصْتَبَرَ-এর তা বর্ণটি ত্বোয়া দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে)।
পার্থক্য: ই’লাল কেবল হরফে ইল্লতের মধ্যে সীমাবদ্ধ, পক্ষান্তরে ইবদ্যাল হরফে ইল্লত ও হরফে সহীহ উভয়ের মাঝেই সাধিত হয়। অর্থাৎ প্রতিটি ই’লালই ইবদ্যাল, কিন্তু প্রতিটি ইবদ্যাল ই’লাল নয়।
২. ওয়াও ও ইয়া বিলুপ্ত (حذف) হওয়ার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ
- মিছালে ওয়াভী থেকে মুজারে গঠনে: ফে’লে মাযী যদি মিছালে ওয়াভী হয় এবং বাবটি যেরবিশিষ্ট হয়, তবে মুজারেতে ওয়াওটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: وَعَدَ -> يَعِدُ (মূলত ছিল يَوْعِدُ), وَقَى -> يَقِي।
- আমরের সীগাহয়: ফে’লে আমরের শেষে যদি হরফে ইল্লত থাকে তবে তা ওয়াজিবভাবে বিলুপ্ত হয়। যেমন: اِدْعُ (মূলত ছিল اُدْعُو), اِرْمِ (মূলত ছিল اِرْمِي)।
- দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে (التقاء الساكنين): হরফে ইল্লতের পরে অন্য সাকিন বর্ণ আসলে হরফে ইল্লত পড়ে যায়। যেমন: قَالَ -> قُلْنَ, بَاعَ -> بِعْنَ, لَمْ يَقُلْ (মূলত يَقُولُ ছিল)।
٢. (د) اكتب قواعد كتابة الهمزة المتوسطة والهمزة المتطرفة وقواعد كتابة الألف اللينة في الأسماء والأفعال والحروف-
[২ (ঘ). হামযা মুতাওয়াসসিতাহ (মধ্যবর্তী হামযা) ও হামযা মুতাতাররিফাহ (প্রান্তিক হামযা) লেখার নিয়ম এবং ইসমে, ফে’লে ও হরফে আলিফে লাইয়্যেনাহ লেখার নিয়মাবলী আলোচনা কর।]
১. মধ্যবর্তী হামযা (الهمزة المتوسطة) লেখার নিয়ম
আরবি বানানে হরকতের শক্তির তারতম্য অনুযায়ী মধ্যবর্তী হামযা লেখা হয়। হরকতের শক্তির ক্রম হলো: কাসরাহ (যের) > যম্মা (পেশ) > ফাতহাহ (যবর) > সুকূন।
– হামযা বা তার পূর্বের বর্ণে যদি যের থাকে তবে হামযা ইয়া (ئـ)-এর ওপর বসবে। যেমন: سُئِلَ، رَئِيسٌ।
– যের না থেকে যদি পেশ প্রধান হয় তবে হামযা ওয়াও (ؤ)-এর ওপর বসবে। যেমন: مُؤْمِنٌ، سُؤَالٌ।
– পেশ না থেকে যদি যবর প্রধান হয় তবে হামযা আলিফ (أ)-এর ওপর বসবে। যেমন: سَأَلَ، مَسْأَلَةٌ।
২. প্রান্তিক হামযা (الهمزة المتطرفة) লেখার নিয়ম
শব্দের শেষাক্ষরে হামযা লেখার ক্ষেত্রে কেবল তার পূর্ববর্তী অক্ষরের হরকত দেখতে হয়:
– পূর্বের বর্ণে যের থাকলে ইয়া-র ওপর (شَاطِئ)।
– পূর্বের বর্ণে পেশ থাকলে ওয়াও-এর ওপর (تَبَاطُؤ)।
– পূর্বের বর্ণে যবর থাকলে আলিফের ওপর (قَرَأَ)।
– পূর্বের বর্ণে সাকিন বা হরফে মদ্দ থাকলে সরাসরি লাইনের ওপর বসবে (جَزَاء، شَيْء، وُضُوء)।
৩. আলিফে লাইয়্যেনাহ (الألف اللينة) লেখার নিয়ম
শব্দের শেষে অনুচ্চারিত নরম আলিফ লেখার নিয়ম:
– হরফে: চারটি হরফ ছাড়া (إِلَى، عَلَى، حَتَّى، بَلَى) সকল হরফে সোজা আলিফ (ا) লেখা হয় (যেমন: لَا، مَا، إِلَّا)।
– ইসম ও ফে’লে: মূল তিন অক্ষরের হলে এবং আলিফটি ওয়াও থেকে রূপান্তরিত হলে সোজা আলিফ লেখা হয় (যেমন: دَعَا، عَصَا)। আর যদি ইয়া থেকে রূপান্তরিত হয় তবে খাড়া ইয়া রূপে লেখা হয় (যেমন: رَمَى، فَتَى)। চার বা ততোধিক অক্ষরের হলে সাধারণত খাড়া ইয়া লেখা হয় (যেমন: مُسْتَشْفَى، صَلَّى), তবে পূর্বে ইয়া থাকলে সোজা আলিফ লেখা হয় (যেমন: دُنْيَا، يَحْيَا)।
৩ নং অংশ: আরবি অনুবাদ (الترجمة إلى العربية الفصحى)
٣. ترجم النص الآتى إلى العربية الفصحى:
[৩. নিম্নের অনুচ্ছেদটি বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদ কর:]
মূল বাংলা পাঠ:
“আল-কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এটি একসাথে অবতীর্ণ হয়নি। বরং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে তেইশ বছর ধরে অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআন তেলাওয়াত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। প্রত্যেক হরফ তেলাওয়াতের বিনিময়ে আল্লাহ তা’য়ালা দশটি নেকী দান করেন। কুরআন শেখা ও শিখানো উত্তম কাজ। নবি (স) বলেছেন— ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে কুরআন শিখে এবং শিখায়।'”
الترجمة إلى العربية الفصحى:
“الْقُرْآنُ الْكَرِيمُ هُوَ آخِرُ الْكُتُبِ السَّمَاوِيَّةِ وَأَعْظَمُهَا. وَلَمْ يَنْزِلْ جُمْلَةً وَاحِدَةً، بَلْ نَزَلَ مُنَجَّمًا عَلَى مَدَارِ ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ سَنَةً حَسَبَ الْوَقَائِعِ وَالْأَحْدَاثِ. وَتِلَاوَةُ الْقُرْآنِ مِنْ أَفْضَلِ الْعِبَادَاتِ، حَيْثُ يُعْطِي اللَّهُ تَعَالَى عَشْرَ حَسَنَاتٍ بِكُلِّ حَرْفٍ يُتْلَى مِنْهُ. وَتَعَلُّمُ الْقُرْآنِ وَتَعْلِيمُهُ مِنْ أَحْسَنِ الْأَعْمَالِ. قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ».”
৪ নং অংশ: দরখাস্ত ও পত্রলিখন (الرسالة والطلب)
٤. اكتب طلبا إلى مدير المدرسة تطلب فيه تعيينك محاضرًا-
[৪. প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য মাদরাসার অধ্যক্ষের নিকট একটি আবেদনপত্র লিখ:]
بسم الله الرحمن الرحيم
التاريخ: ٢١ سبتمبر ٢٠٢٣م
إلى: فضيلة المدير المحترم
المدرسة العالية الإسلامية، دكا.
الموضوع: طلب التعيين في وظيفة محاضر في قسم الحديث الشريف وعلومه.
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:
فإني أرفع إلى فضيلتكم هذا الطلب راجيًا التكرم بالنظر فيه بعين العناية والاهتمام. لقد علمتُ من إعلانكم المنشور في الصحف اليومية عن حاجتكم إلى تعيين محاضر مؤهل في قسم الحديث الشريف بالمدرسة الموقرة.
وأفيد فضيلتكم بأنني قد أتممتُ دراستي لمرحلة الفاضل (مع مرتبة الشرف) والكامل في الحديث الشريف وعلومه بدرجة الامتياز، ولي إلمام تام باللغة العربية تدريسًا وكتابة، ولدي الرغبة الصادقة في خدمة دين الله وتدريس سنة نبيه المصطفى صلى الله عليه وسلم.
لذا، أرجو من عطفكم وكرمكم منحي فرصة للالتحاق بهذا الصرح العلمي المبارك، وأعدكم ببذل قصارى جهدي وأداء واجبي بكل إخلاص وأمانة.
وتفضلوا بقبول فائق الاحترام والتقدير.
مقدم الطلب:
محمد عبد الله بن أحمد
خريج قسم الحديث الشريف
الهاتف: 01700000000
(অথবা: ছোট ভাইয়ের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব জানিয়ে চিঠি)
رسالة إلى الأخ الصغير تحثه على تعلم اللغة العربية:
أخي الحبيب/ أحمد، حفظك الله ورعاك.
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:
فإني أكتب إليك هذه الرسالة لأوصيك بالاهتمام البالغ بتعلم اللغة العربية؛ فإنها لغة القرآن الكريم ولغة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم ولغة أهل الجنة. إن إتقانك لهذه اللغة الشريفة يفتح لك أبواب الفهم العميق لكتاب الله وسنة رسوله، ويجعلك قادرًا على التزود من كنوز التراث الإسلامي الأصيل. فاحرص يا أخي على قراءة كتبها وممارسة التحدث بها يوميًا. وفقك الله وسدد خطاك.
أخوك المخلص/ عبد الرحمن.
৫ নং অংশ: প্রবন্ধ রচনা (المقالة)
٥. اكتب مقالة أدبية عن واحد مما يلى:
[৫. নিম্নের যে কোনো একটি বিষয়ে সাহিত্যিক প্রবন্ধ রচনা কর:]
(أ) قيمة الوقت (সময়ের মূল্য)
الوقت هو رأس مال الإنسان في هذه الحياة، وهو أثمن ما يملكه العبد وأغلى من الذهب والفضة. إن الوقت إذا مضى لا يعود أبدًا، وكل يوم يمر على ابن آدم ينقص من عمره ويقربه إلى أجله. ولذلك أقسم الله تعالى بالوقت في مواضع عديدة من كتابه العزيز تنبيهًا على شرفه، فقال: “وَالْعَصْرِ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ”، وقال: “وَالضُّحَى وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَى”.
وقد حث رسول الله صلى الله عليه وسلم على اغتنام الأوقات قبل فواتها، فقال: «اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ، وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ، وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ، وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ». وكان سلفنا الصالح أحرص الناس على أوقاتهم، فكانوا يملؤونها بالقراءة والتدوين والعبادة والعمل الصالح حتى تركوا لنا تراثًا علميًا باهرًا. فالواجب على الطالب والمسلم تنظيم وقته واستثماره فيما ينفع في دينه ودنياه.
(ب) الخلق الحسن (সচ্চরিত্র)
الخلق الحسن هو جوهر الدين وثمرة الإيمان وروح الشريعة الإسلامية الغراء. لقد بعث النبي صلى الله عليه وسلم ليتمم مكارم الأخلاق، كما قال عليه الصلاة والسلام: «إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ». وقد أثنى الله تعالى على نبيه الكريم بأعظم ثناء فقال: “وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ”.
وحسن الخلق يعني طلاقة الوجه، وبذل المعروف، وكف الأذى، والصدق في الحديث، والوفاء بالعهود، والتواضع والرحمة بالناس. وهو أثقل شيء في ميزان العبد يوم القيامة، وسبب لمحبة الله ورسوله ودخول الجنة. بالمقابل، فإن سوء الخلق يفسد العمل الصالح كما يفسد الخل العسل. فعلى كل مسلم أن يتأسى بالرسول الأكرم في خلقه وتعامله.
(ج) الجامعة الإسلامية العربية (ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়)
تعد الجامعة الإسلامية العربية صرحًا تعليميًا شامخًا ورمزًا بارزًا للنهضة العلمية والثقافية الإسلامية في بنغلاديش. لقد تأسست هذه الجامعة المباركة لتلبي تطلعات الأمة الإسلامية في تطوير التعليم الديني وربط المدارس الفاضلة والكاملة بنظام جامعي معترف به محليًا ودوليًا.
تهدف الجامعة إلى ترقية مناهج الدراسات الإسلامية واللغة العربية وتخريج جيل من العلماء والدعاة يجمعون بين الأصالة والمعاصرة، قادرين على خدمة المجتمع الإسلامي ومواجهة التحديات الفكرية المعاصرة. إن هذه الجامعة هي حلم العلماء والصالحين، وتسهم مساهمة فعالة في نشر رسالة السلام والتسامح وعلوم القرآن والحديث النبوي الشريف في جميع أرجاء البلاد.
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ইলমুন নাহুর প্রধান আলোচ্য বিষয় কী?
উত্তর: ইলমুন নাহুর প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো আরবি শব্দ ও বাক্য (الكلمة والكلام) এবং বাক্যে ব্যবহৃত পদের শেষ অক্ষরের ইরাব ও গঠনগত অবস্থান নির্ণয় করা।
প্রশ্ন ২: কালিমাহ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: কালিমাহ প্রধানত তিন প্রকার: ১. ইসম (বিশেষ্য), ২. ফে’ল (ক্রিয়া), এবং ৩. হরফ (অব্যয়)।
প্রশ্ন ৩: ইসমে মাকসূর ও ইসমে মানকূসের ইরাবের মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: ইসমে মাকসূরের তিন অবস্থাতেই (রাফা, নসব, জর) তাকদীরী বা উহ্য ইরাব হয়; পক্ষান্তরে ইসমে মানকূসের রাফা ও জরে উহ্য হলেও নসবের অবস্থায় প্রকাশ্য ফাতহাহ (যবর) হয়।
প্রশ্ন ৪: ই’লাল ও ইবদ্যালের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: ই’লাল কেবল হরফে ইল্লত (ওয়াও, আলিফ, ইয়া)-এর মধ্যে ঘটে; কিন্তু ইবদ্যাল হরফে ইল্লত এবং সাধারণ সহীহ বর্ণ উভয়ের মধ্যেই সংঘটিত হতে পারে।
প্রশ্ন ৫: না’তে হাকীকী ও মান’উতের মধ্যে কতটি বিষয়ে মিল থাকা আবশ্যক?
উত্তর: না’তে হাকীকী ও মান’উতের মধ্যে ১০টি সম্ভাব্য বিষয়ের মধ্য থেকে ৪টি বিষয়ে (ইরাব, মারেফা-নাকিরাহ, লিঙ্গ ও বচন) মিল থাকা আবশ্যক।
প্রশ্ন ৬: মধ্যবর্তী হামযা লেখার সাধারণ মূলনীতি কী?
উত্তর: হরকতের শক্তি অনুসারে (যের > পেশ > যবর > সাকিন) মধ্যবর্তী হামযা যথাক্রমে ইয়া, ওয়াও বা আলিফের ওপর লিখিত হয়।