اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠م
ফাযিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০
الحديث والدراسات الإسلامية
আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
تاريخ علم الحديث فى شبه القارة الهندية وبنغلاديش
ভারত উপমহাদেশ ও বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের ইতিহাস
বিষয় কোড: 202202 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن خمسة أسئلة من مجموعة (أ) وعن اثنين من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: ক-অংশ হতে ৫টি এবং খ-অংশ হতে ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ) : ক-অংশ (রচনামূলক প্রশ্নাবলী) (মান: ৫ × ১২ = ৬০)
١- بين دخول علم الحديث فى شبه القارة الهندية ونشأته-
[১. ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের আগমন ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।]
ভূমিকা: ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ও ইলমুল হাদিসের বিকাশ এক গৌরবময় ঐতিহাসিক অধ্যায়। সাহাবা ও তাবেয়ীদের আগমন, আরব বণিকদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং পরবর্তীকালে মুহাদ্দিসগণের নিরলস প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলে হাদিসের পবিত্র আলো ছড়িয়ে পড়ে।
১. ভারতীয় উপমহাদেশে হাদিসের আগমন (دخول الحديث في شبه القارة):
- সাহাবায়ে কেরামের শুভাগমন: খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে ১৫ হিজরিতে উসমান ইবনে আবিল আস আস-সাক্বাফীর নেতৃত্বে বাহরাইন ও ওমান থেকে ভারতের পশ্চিম উপকূল (থানে ও ভরুচ)-এ নৌ অভিযান প্রেরিত হয়। পরবর্তীতে সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের উপকূলে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবি আগমন করেন, যাঁদের মাধ্যমে উপমহাদেশবাসী প্রথম হাদিসের অমিয় বাণীর সাথে পরিচিত হয়।
- মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় (৯৩ হিজরি): উমাইয়া সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের ফলে বহু আলেম ও মুহাদ্দিস সিন্ধুতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মনসুরা ও দেবাল ইলমে হাদিসের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়।
- মুহাদ্দিস তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের ভূমিকা: ইমাম আবু মা’শার আস-সিন্ধি (রহ.) এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস রবী’ ইবনে সাবীহ আস-সাদী (রহ.) ভারতে আগমন করেন এবং ১৬০ হিজরিতে ভারতেই ইনতিকাল করেন। তিনি ছিলেন প্রাচীন যুগের অন্যতম হাদিস সংকলক।
২. উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ (نشأته وتطوره):
- প্রাথমিক যুগ (১ম-৬ষ্ঠ হিজরি শতক): সিন্ধু, গুজরাট ও লাহোর কেন্দ্রিক হাদিস চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল। এ সময় কেবল মৌলিক হাদিস ও আসার বর্ণনা চলত।
- সুলতানি আমল ও শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার যুগ (৭ম-১০ম শতক): দিল্লির সুলতানি আমলে ইলমুল হাদিসের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ সগানী লাহোরী ‘মাশারিকুল আনওয়ার’ সংকলন করে এ অঞ্চলে হাদিসের পাঠ্যক্রম চালু করেন।
- মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.)-এর যুগ: তিনিই উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সিহাহ সিত্তাহর পাঠদান শুরু করেন এবং ‘মিশকাতুল মাসাবিহ’-এর ফারসি ও আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করে ইলমে হাদিসকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন।
- শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.) ও তাঁর বিপ্লব: দ্বাদশ হিজরি শতকে শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) হিজায থেকে হাদিসের উচ্চ সনদ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করে দিল্লিতে ফিরে আসেন। তিনি ও তাঁর সুযোগ্য পুত্রগণ (শাহ আব্দুল আজিজ, শাহ রফিউদ্দীন, শাহ আব্দুল কাদির) পুরো উপমহাদেশে হাদিস ভিত্তিক দাওয়াহ ও শিক্ষার নবজাগরণ সৃষ্টি করেন।
উপসংহার: প্রাথমিক যুগের মুহাদ্দিসদের এই আত্মত্যাগ ও সিলসিলার ফলশ্রুতিতেই আজকের ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী হাদিস শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
٢- من هو المجدد للألف الثانى؟ بين خدماته فى نشر الحديث فى شبه القارة-
[২. মুজাদ্দিদে আলফে সানী কে? উপমহাদেশে হাদিস প্রচারে তাঁর অবদান আলোচনা কর।]
ভূমিকা: হিজরি দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে যখন মুঘল সম্রাট আকবরের ‘দ্বীনে ইলাহী’ এবং বিভ্রান্ত সূফিবাদের প্রভাবে উপমহাদেশের আকিদা ও সুন্নাহর পথ বিপথগামী হচ্ছিল, তখন এক মহান মনীষী ইসলামের বিশুদ্ধ রূপ পুনরুজ্জীবিত করেন। তিনিই হলেন মুজাদ্দিদে আলফে সানী শায়খ আহমদ সিরহিন্দী (রহ.)।
১. মুজাদ্দিদে আলফে সানী পরিচিতি:
- নাম ও বংশ: শায়খ আহমদ আল-ফারুকী আস-সিরহিন্দী (রহ.)। তিনি খলিফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ফারুক (রা.)-এর বংশধর।
- জন্ম ও ওফাত: জন্ম ৯৭১ হিজরি (১৫৬৪ খ্রি.) ভারতের পাঞ্জাবের সিরহিন্দে; ওফাত ১০৩৪ হিজরি (১৬২৪ খ্রি.)।
- উপাধি: হিজরি দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক হওয়ায় প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল হাকিম শিয়ালকোটি (রহ.) তাঁকে ‘মুজাদ্দিদে আলফে সানী’ (দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ) উপাধিতে ভূষিত করেন।
২. হাদিস ও সুন্নাহ প্রচারে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান:
- বেদয়াত উচ্ছেদ ও সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন: তিনি ঘোষণা করেন যে সুন্নাহর অনুসরণ ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জন অসম্ভব। মনগড়া কাশফ বা কাশফভিত্তিক বিভ্রান্তির বদলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহীহ হাদিসকেই তিনি সকল সত্যের চূড়ান্ত কষ্টিপাথর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট আকবরের দ্বীনে ইলাহীর পতন: আকবরের অনৈসলামিক রীতিনীতি, সিজদায়ে তাহিয়্যাহ ও ইসলামবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে তিনি নির্ভীকভাবে সংগ্রাম করেন। তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরকে শরীয়ত ও সুন্নাহর অনুশাসনে ফিরিয়ে আনেন।
- মাকতুবাত শরীফ (চিঠিপত্র সংকলন): তাঁর লিখিত ৫৩৪টি ফারসি চিঠি সম্বলিত ‘মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী’ গ্রন্থটি হাদিস ও সুন্নাহর গভীর দর্শন, আকিদায়ে আহলে সুন্নাত এবং তাসাউউফের সাথে হাদিসের সামঞ্জস্যের অনন্য দলিল।
- হাদিসের আলোকে ওয়াহদাতুশ শুহুদ তত্ত্ব: ইবনুল আরাবীর দর্শন ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’-এর বিভ্রান্তিকর দিক সংশোধন করে তিনি কুরআনী ও হাদিসভিত্তিক ‘ওয়াহদাতুশ শুহুদ’ দর্শন পেশ করেন।
উপসংহার: মুজাদ্দিদে আলফে সানীর আপসহীন সংগ্রামের ফলেই ভারতে হাদিস ও সুন্নাহর প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীকালে শাহ ওয়ালিউল্লাহর মতো মহান মুহাদ্দিসদের আগমন সহজতর হয়।
٣- كيف دخل علم الحديث فى بنغلاديش؟ وما هى جهود الشيخ شرف الدين أبى توأمة فى نشر الحديث؟
[৩. বাংলাদেশে কীভাবে ইলমুল হাদিসের আগমন ঘটে? হাদিস প্রচারে শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার অবদান কী?]
ভূমিকা: প্রাচীন বঙ্গভূমি বা বর্তমান বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের সূচনা ঘটেছিল আরব বণিক ও সুফি-দরবেশদের মাধ্যমে। কিন্তু একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে উচ্চতর আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পেছনে সর্বাগ্রে যাঁর নাম উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.)।
১. বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের আগমন:
- উপকূলীয় বাণিজ্যিক যোগাযোগ: চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সুন্দরবন উপকূলে অষ্টম-নবম শতক থেকেই আরব বণিকেরা ইসলাম প্রচার করেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আরবদের বসতি গড়ে ওঠে, যাদের মুখে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী উচ্চারিত হতো।
- সুফি ও সাধকদের আগমন: হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহ মাখদুম (রহ.), বাবা আদম শহীদ (রহ.) প্রমুখ আধ্যাত্মিক সাধকগণ বাংলায় আগমন করে সুন্নাহর ভিত্তিতে সমাজ সংস্কার করেন।
- প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা: ত্রয়োদশ শতকে সোনারগাঁওয়ে শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার মাদ্রাসার মাধ্যমে বাংলার বুকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাদিস শাস্ত্রের গভীর অধ্যয়ন ও গবেষণা শুরু হয়।
২. শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার অবদান:
- পরিচিতি: তিনি ছিলেন বুখারার অধিবাসী এক মহান মুহাদ্দিস ও ফকিহ। ১২৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লি হয়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন।
- সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও হাদিস কেন্দ্র: তিনি সোনারগাঁওয়ে একটি বিশাল আবাসিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা তখনকার দিনে সমগ্র উপমহাদেশ ও মধ্য এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসে হাদিস, ফিকহ ও উলুমুল কুরআন অধ্যয়ন করত।
- মাকামাতে মাহমুদ ও শায়খুল আলম মাখদুমুল মুলক: ভারতের বিহারের বিখ্যাত বুজুর্গ ও মুহাদ্দিস শায়খ শারফুদ্দীন ইয়াহইয়া মনেরী (রহ.) সোনারগাঁওয়ে আবু তাওয়ামার নিকট দীর্ঘ ২২ বছর ইলমে হাদিস অধ্যয়ন করেন।
- রচনাবলি: আবু তাওয়ামা ফিকহ ও হাদিসের ওপর ‘ফতোয়ায়ে নামা’ নামক বিখ্যাত গ্রন্থ ফারসি ভাষায় কাব্যাকারে রচনা করেন, যা বহু শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলের ফতোয়া ও হাদিসের আকর হিসেবে পাঠ্য ছিল।
উপসংহার: শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা হলেন বাংলাদেশের হাদিস চর্চার আদি পিতা। সোনারগাঁও থেকে প্রজ্বলিত তাঁর সেই হাদিসের প্রদীপ আজও বাংলার আনাচে-কানাচে আলো ছড়াচ্ছে।
٤- اكتب ترجمة موجزة للعلامة المفتى عميم الإحسان وبين خدماته لخدمة الحديث-
[৪. আল্লামা মুফতী আমীমুল এহসানের সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং হাদিস চর্চায় তাঁর অবদান বর্ণনা কর।]
ভূমিকা: বিংশ শতাব্দীর ভারতীয় উপমহাদেশ ও স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস ও ফকিহ ছিলেন বাহরুল উলুম আল্লামা মুফতী মুহাম্মদ আমীমুল এহসান আল-মুজাদ্দেদী আল-বারকাতী (রহ.)। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতী ও হেড মুহাদ্দিস হিসেবে তাঁর হাদিসের খিদমত অবিস্মরণীয়।
১. সংক্ষিপ্ত জীবনী:
- জন্ম: ২২ মুহররম ১৩২৯ হিজরি (১৯১১ খ্রি.) ভারতের বিহারের মুঙ্গের জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা: তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে টাইটেল ও ফিকহ সম্পন্ন করেন। তাঁর অন্যতম প্রধান ওস্তাদ ছিলেন মুশতাক আহমদ কানপুরী।
- কর্মজীবন: ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন হেড মুহাদ্দিস ও প্রধান মুফতী হিসেবে হাদিস ও ফতোয়ার খিদমত আঞ্জাম দেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- ওফাত: ২৭ অক্টোবর ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় ইনতিকাল করেন।
২. হাদিস চর্চায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদান:
- হাদিস শাস্ত্রের মৌলিক গ্রন্থ প্রণয়ন:
- কাওয়াইদুল হাদিস (قواعد الحديث): উসুলুল হাদিসের ওপর আরবি ভাষায় রচিত এক কালজয়ী কিতাব, যা আন্তর্জাতিক মানের এবং বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাদৃত।
- ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার (فقه السنن والآثار): হাদিসের আলোকে ফিকহি আহকামের প্রামাণ্য বিশ্লেষণধর্মী কিতাব।
- মিনহাজুস সিরাজ ফি শারহি সহীহ মুসলিম: সহীহ মুসলিমের এক অনন্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- হাদিস শিক্ষকতা: সুদীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি হাজার হাজার ছাত্রকে বুখারী ও মুসলিমসহ কুতুবুস সিত্তাহর দরস প্রদান করেছেন। তাঁর বহু ছাত্র বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফিকহুত তারিখ ও রিজাল শাস্ত্র: তিনি ‘তারিখে ইলমে হাদিস’ এবং ‘তারিখে ইলমে ফিকহ’ রচনা করে ইতিহাস ও রাবীদের পরিচিতি সহজ করে তুলে ধরেন।
উপসংহার: মুফতী আমীমুল এহসান ছিলেন বাংলার ইলমি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাঁর রচিত হাদিস গ্রন্থাবলি যুগ যুগ ধরে গবেষকদের পথ দেখাবে।
٥- من هو أول من ترجم صحيح البخارى باللغة البنغالية؟ اذكر جهوده فى خدمة الحديث-
[৫. বাংলা ভাষায় সহীহ বুখারীর প্রথম অনুবাদক কে? হাদিসের খেদমতে তাঁর অবদান উল্লেখ কর।]
ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাদিস ভাণ্ডার মাতৃভাষায় রূপান্তরের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনি ইলম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়। এই মহতী উদ্যোগের অগ্রদূত ছিলেন মৌলভী মুহাম্মদ আমীরুদ্দীন ও পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ অনুবাদক মাওলানা আব্দুল আজিজ রাহিমাহুল্লাহ।
১. বাংলা ভাষায় সহীহ বুখারীর প্রথম অনুবাদক পরিচিতি:
- আংশিক অনুবাদে প্রথম পথিকৃৎ: বাংলা ভাষায় সহীহ বুখারীর প্রথম আংশিক অনুবাদক হলেন রংপুরের মৌলভী মুহাম্মদ আমীরুদ্দীন (রহ.)। তিনি ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম সহীহ বুখারীর ১ম পারার বাংলা তরজমা প্রকাশ করেন। এরপর খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ (রহ.) কিছু নির্বাচিত হাদিস অনুবাদ করেন।
- পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক অনুবাদক: আধুনিক বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহীহ বুখারীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্ভরযোগ্য অনুবাদ ও ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং লালবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল আজিজ (রহ.) ও মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজমী (রহ.)। মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজমী রচিত ‘মিশকাতুল মাসাবিহ’-এর অনুবাদ ও ভূমিকা হাদিস চর্চায় অনন্য।
২. হাদিসের খেদমতে তাঁদের অবদান:
- মাতৃভাষায় হাদিস বোঝার সুযোগ সৃষ্টি: আরবি না-জানা সাধারণ বাংলাভাষী কোটি কোটি মুসলমানের ঘরে ঘরে বুখারী শরিফের সহীহ হাদিস পৌঁছে দেওয়ার পথ সুগম হয়।
- সরাসরি সুন্নাহভিত্তিক আমলের প্রসার: শিরক, বেদয়াত ও কুসংস্কার দূর করে মানুষ সরাসরি সহীহ হাদিসের আলোকে নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতসহ দৈনন্দিন জীবন পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ হয়।
- বাংলায় হাদিস পরিভাষার মানদণ্ড স্থাপন: সনদ, মতন, মুত্তাসিল, মুরসাল, মারফু ইত্যাদি হাদিস শাস্ত্রের জটিল পরিভাষাগুলো প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বাংলা রূপ লাভ করে।
উপসংহার: মাতৃভাষায় হাদিসের এই প্রথম অনুবাদকগণ বাঙালি মুসলিম জাতির অনন্ত কৃতজ্ঞতার পাত্র, যাঁদের হাত ধরে বাংলা ভাষায় আজ হাদিস সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার গড়ে উঠেছে।
٦- اكتب نبذة من حياة الشيخ شمس الحق فريدبورى مع بيان خدماته لخدمة الحديث فى بنغلاديش-
[৬. বাংলাদেশে হাদিসের খেদমতে শায়খ শামসুল হক ফরিদপুরীর অবদানসহ তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
ভূমিকা: বাংলার মুসলিম সমাজে কুরআন-সুন্নাহর দাওয়াত প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বিস্তার এবং আধ্যাত্মিক সংস্কারের ক্ষেত্রে যাঁর নাম অবিস্মরণীয়, তিনি হলেন সদরুল মুদাররিসীন আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) (যিনি ‘মুজাহিদে মিল্লাত’ নামে সমধিক পরিচিত)।
১. সংক্ষিপ্ত জীবনী:
- জন্ম: ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার গওহরডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা: তিনি ভারতের বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। তাঁর উস্তাদ ছিলেন শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) এবং হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা ছিলেন তিনি।
- কর্মজীবন ও প্রতিষ্ঠান গঠন: তিনি ঢাকার জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ এবং ফরিদপুরের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসাসহ শত শত মাদ্রাসা ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন।
- ওফাত: ৯ মার্চ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।
২. হাদিস চর্চায় তাঁর অবদান:
- দরসে হাদিস পরিচালনা: তিনি লালবাগ মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন সহীহ বুখারীর দরস প্রদান করেন। তাঁর পাঠদান ছিল অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী।
- হাদিসের গ্রন্থ রচনা ও তরজমা: তিনি ফারসি ও উর্দু থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বাংলায় রূপান্তর করেন এবং সুন্নাহভিত্তিক চরিত্র গঠনের জন্য ‘বোখারী শরীফের সহজ সরল ব্যাখ্যা’ ও ‘হাদিসের আলো’ ইত্যাদি কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করেন।
- সুন্নাহর বাস্তবায়ন ও বেদয়াত প্রতিরোধ: সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, পীরপূজা ও অনৈসলামিক রীতির বিরুদ্ধে হাদিসের সুদৃঢ় দলিল উপস্থাপন করে তিনি তৌহিদ ও সুন্নাহর পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
উপসংহার: আল্লামা ফরিদপুরীর হাত ধরেই বাংলাদেশে কওমি ও দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষায় হাদিস পঠন-পাঠনের এক শক্তিশালী মজবুত ভিত্তি রচিত হয়।
مجموعة (ب) : খ-অংশ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী ও টীকা) (মান: ২ × ১০ = ২০)
٧- مساهمات المدارس الإسلامية فى نشر الحديث فى بنغلاديش-
[৭. বাংলাদেশে হাদিস প্রচারে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা সমূহের অবদান।]
উত্তর: বাংলাদেশে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা হলো হাদিস চর্চার মূল প্রাণকেন্দ্র। কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শ্রেণি ‘দাওরায়ে হাদিস’ (মাস্টার্স সমমান) এবং আলিয়া মাদ্রাসার কামিল হাদিস বিভাগে প্রতি বছর হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী সিহাহ সিত্তাহসহ প্রায় ১০টি মূল হাদিস গ্রন্থ আদ্যোপান্ত পাঠ ও সনদ অর্জন করে। লালবাগ মাদ্রাসা, হাটহাজারী মাদ্রাসা, ঢাকা আলিয়া, পটিয়া মাদ্রাসা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান শতাব্দীকাল ধরে বিশুদ্ধ সনদে হাদিস শিক্ষা দিয়ে লাখ লাখ আলেম ও মুহাদ্দিস তৈরি করছে, যাঁরা সমাজে সুন্নাহর প্রচার ও প্রসার অব্যাহত রেখেছেন।
٨- مساهمات الجامعات فى دراسة الحديث الشريف فى بنغلاديش-
[৮. বাংলাদেশে হাদিস চর্চায় পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অবদান।]
উত্তর: বাংলাদেশের সাধারণ ও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে উচ্চতর হাদিস গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (IU), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU)-এর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে ইলমে হাদিসের ওপর যুগোপযোগী থিসিস ও গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে দেশের সকল ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় হাদিসের পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে।
٩- الشيخ أنور شاه الكشميرى وجهوده فى خدمة الحديث-
[৯. শায়খ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী এবং হাদিসের খেদমতে তাঁর অবদান।]
উত্তর: ইমামুল আসর আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.) (১২৯২–১৩৫২ হি.) ছিলেন উপমহাদেশের হাদিস জগতের বিস্ময়কর প্রতিভা ও চলন্ত কিতাবখানা। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে দীর্ঘকাল শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল নজিরবিহীন। সহীহ বুখারীর ওপর তাঁর প্রদত্ত দরসের অমূল্য সংকলন ‘ফয়জুল বারী আলা সহীহিল বুখারী’ (৪ খণ্ডে) সমগ্র বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিসদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। তিনি কাদিয়ানী ফিতনাসহ বাতিল মতবাদের বিরুদ্ধে হাদিস শাস্ত্রের অকাট্য দলিল পেশ করে সুন্নাহর ঝাণ্ডা সমুন্নত রাখেন।
١٠- أشهر المؤلفات فى علم الحديث فى بنغلاديش-
[১০. বাংলাদেশে রচিত হাদিস শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থাবলি।]
উত্তর: বাংলাদেশে রচিত হাদিস সাহিত্যের প্রধান গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: (১) আল্লামা মুফতী আমীমুল এহসান রচিত ‘কাওয়াইদুল হাদিস’ ও ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’, (২) মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজমী রচিত ‘হাদিসের তত্ত্ব ও ইতিহাস’, (৩) আল্লামা আজিজুল হক রচিত ‘সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা ও ভূমিকা’, (৪) মাওলানা আব্দুর রহিম রচিত ‘হাদিস সংকলনের ইতিহাস’, (৫) ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত সিহাহ সিত্তাহর বাংলা অনুবাদ ও বিশদ ব্যাখ্যা। এসব গ্রন্থ এ অঞ্চলের হাদিস গবেষণায় প্রামাণ্য মাইলফলক।
١١- جهود علماء بنغلاديش فى ترجمة كتب الحديث وشروحها-
[১১. হাদিসের কিতাব ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ অনুবাদে বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের ভূমিকা।]
উত্তর: বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম অত্যন্ত নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সাথে সিহাহ সিত্তাহর ছয়টি মূল গ্রন্থ এবং মিশকাতুল মাসাবিহ, রিয়াযুস সালিহীন, আদাবুল মুফরাদ ও বুলুগুল মারামের সম্পূর্ণ অনুবাদ ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যা প্রস্তুত করেছেন। শায়খুল হাদিস আজিজুল হক (রহ.) কর্তৃক অনূদিত বুখারী শরিফ, বায়তুশ শরফের ওলামাদের হাদিস অনুবাদ এবং আধুনিক যুগের বহু তরুণ আলেমের তাহকিকভিত্তিক প্রাঞ্জল অনুবাদ সাধারণ পাঠক ও গবেষকদের জন্য হাদিসের জ্ঞানকে অত্যন্ত সহজলভ্য করে তুলেছে।
١٢- المدرسة العالية بداكا ودورها فى تعليم الحديث الشريف-
[১২. হাদিস শিক্ষায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ঐতিহাসিক ভূমিকা।]
উত্তর: ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ১৯৪৭ সালে স্থানান্তরিত হয়ে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি পূর্ব বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক হাদিস শিক্ষার প্রাচীনতম প্রাণকেন্দ্র। এখানে শামসুল উলামা বেলায়েত হোসেন, আল্লামা মুফতী আমীমুল এহসান এবং মাওলানা আব্দুর রহমান কাশগড়ীর মতো প্রখ্যাত মনীষীগণ হাদিসের পাঠদান করেছেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই লক্ষাধিক আলেম ও গবেষক সনদ লাভ করে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে সুন্নাহর বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ভারত উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের প্রধান যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব কে?
উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈপ্লবিক প্রসারের প্রধান স্থপতি হলেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (রহ.), যাঁর সুযোগ্য বংশধর ও শিষ্যদের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে সিহাহ সিত্তাহর দরস সর্বজনীন রূপ লাভ করে।
২. বাংলাদেশে হাদিস চর্চার প্রাচীনতম কেন্দ্র কোনটি?
বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক হাদিস শিক্ষার প্রাচীনতম কেন্দ্র হলো নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.) প্রতিষ্ঠিত সপ্তম হিজরির আন্তর্জাতিক ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র।
৩. মুফতী আমীমুল এহসানের ‘কাওয়াইদুল হাদিস’ গ্রন্থের বিশেষত্ব কী?
এটি আরবি ভাষায় রচিত উসুলুল হাদিস ও পরিভাষা বিজ্ঞানের এক অনন্য প্রামাণ্য গ্রন্থ, যা কেবল বাংলাদেশেই নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বখ্যাত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাদৃত।
৪. আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরীর বুখারী শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থের নাম কী?
তাঁর কালজয়ী বুখারী শরিফের দরসের আরবি সংকলনের নাম হলো ‘ফয়জুল বারী আলা সহীহিল বুখারী’ (فيض الباري على صحيح البخاري), যা চার খণ্ডে মুদ্রিত।
৫. বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের গুরুত্ব কী?
দাওরায়ে হাদিস হলো কওমি মাদ্রাসা ধারার সর্বোচ্চ ডিগ্রি যেখানে কুতুবুস সিত্তাহসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল মূল হাদিস গ্রন্থ সনদসহ পূর্ণাঙ্গ পাঠদান করা হয় এবং এটি সরকারিভাবে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রাপ্ত।
৬. বাংলা ভাষায় হাদিস অনুবাদ আন্দোলনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল?
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মৌলভী মুহাম্মদ আমীরুদ্দীন ও খান বাহাদুর আহছানউল্লার আংশিক অনুবাদের মাধ্যমে এর সূত্রপাত হয় এবং বিংশ শতাব্দীতে আল্লামা নূর মুহাম্মদ আজমী ও মাওলানা আজিজুল হকের মাধ্যমে তা পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।