اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠م
ফাযিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০
الحديث والدراسات الإسلامية
আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
تاريخ علم الحديث (Tarikh Ilm al-Hadith)
তারিখু ইলমিল হাদিস
বিষয় কোড: 202201 | সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
الملاحظة: أجب عن خمسة أسئلة من القسم (أ) وعن اثنين من القسم (ب)-
[দ্রষ্টব্য: ক-অংশ হতে ৫টি এবং খ-অংশ হতে ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
القسم (أ) : ক-অংশ (মান: ৫ × ১২ = ৬০)
١- بين تدوين الحديث فى عهد الصحابة، واذكر أسماء المكثرين من رواة الحديث مع بيان مروياتهم-
[১. সাহাবিদের যুগে হাদিস সংকলন আলোচনা কর এবং সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিদের (মুকসিরিন) নাম ও তাদের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা উল্লেখ কর।]
ভূমিকা: ইসলামের দ্বিতীয় মৌলিক উৎস হলো হাদিস শরিফ। নবুওয়াতের যুগে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে থেকে সাহাবায়ে কেরাম হাদিস মুখস্থ রাখা, কর্মে বাস্তবায়ন করা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন। সাহাবিদের যুগে হাদিস সংকলন ও সংরক্ষণের সুসংহত প্রচেষ্টা এবং সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিদের অবদান হাদিস শাস্ত্রের ইতিহাসে চিরভাস্বর।
১. সাহাবিদের যুগে হাদিস সংকলন (تدوين الحديث في عهد الصحابة):
- কুরআনের সাথে মিশ্রণ রোধের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইসলামের সূচনালগ্নে কুরআনের সাথে হাদিস মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণ সাহাবিদের হাদিস লেখার ব্যাপারে সতর্কতা আরোপ করেছিলেন। পরবর্তীতে যখন সাহাবিদের মধ্যে কুরআন ও হাদিসের পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন নবীজী (সা.) স্বয়ং হাদিস লেখার সার্বিক অনুমতি প্রদান করেন। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)-কে লক্ষ্য করে তিনি বলেছিলেন: «اكْتُبْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا خَرَجَ مِنِّي إِلَّا حَقٌّ» (তুমি লেখো, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! আমার মুখ থেকে সত্য ছাড়া কিছুই বের হয় না)।
- সাহাবিদের ব্যক্তিগত সহিফাসমূহ (الصحف الفردية): সাহাবিদের যুগে একাধিক বিশিষ্ট সাহাবি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাদিস লিপিবদ্ধ করে সহিফা তৈরি করেছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- সহিফায়ে সাদিকাহ (الصحيفة الصادقة): হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) কর্তৃক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সরাসরি অনুমোদনে লিখিত সংকলন, যাতে প্রায় এক হাজার হাদিস সংরক্ষিত ছিল।
- সহিফায়ে আলী (رضي الله عنه): হযরত আলী (রা.)-এর নিকট একটি সহিফা ছিল যাতে রক্তপণ (দিয়াত), বন্দিমুক্তি এবং মদিনার হারামের সীমানা সংক্রান্ত বিধিবিধান লিপিবদ্ধ ছিল।
- সহিফায়ে জাবির (رضي الله عنه): হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হজের বিস্তারিত আহকাম সংকলন করে একটি কিতাব প্রণয়ন করেন, যা পরবর্তীতে ইমাম মুসলিমসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ রিওয়ায়াত করেছেন।
- সহিফায়ে সামুরা ইবনে জুনদুব ও সা’দ ইবনে উবাদাহ (رضي الله عنهما): তাঁদের লিখিত সংকলন থেকেও তাদের সন্তান ও শিষ্যগণ হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
- মুখস্থকরণের মাধ্যমে নিখুঁত হিফজ: আরবের স্বাভাবিক স্মৃতিশক্তির অনন্য প্রখরতাকে কাজে লাগিয়ে সাহাবায়ে কেরাম হাজার হাজার হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং পরস্পরের মাঝে মুজাকারা (পরস্পর পুনরাবৃত্তি ও আলোচনা) করতেন।
২. মুকসিরিন (সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিগণ):
যেসব সাহাবি ১,০০০-এর অধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁদের পরিভাষায় মুকসিরিন ফি রিওয়ায়াতিল হাদিস (المكثرون في رواية الحديث) বলা হয়। তাঁরা হলেন মোট ৭ জন বিশিষ্ট সাহাবি:
| ক্রম | সাহাবির নাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) | মৃত্যু সন | বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা |
|---|---|---|---|
| ১ | হযরত আবু হুরায়রা (রা.) | ৫৯ হিজরি | ৫,৩৭৪ টি |
| ২ | হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) | ৭৩ হিজরি | ২,৬৩০ টি |
| ৩ | হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) | ৯৩ হিজরি | ২,২৮৬ টি |
| ৪ | উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) | ৫৮ হিজরি | ২,২১০ টি |
| ৫ | হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) | ৬৮ হিজরি | ১,৬৬০ টি |
| ৬ | হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) | ৭৪ বা ৭৮ হিজরি | ১,৫৪০ টি |
| ৭ | হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) | ৭৪ হিজরি | ১,১৭০ টি |
উপসংহার: সাহাবিদের একাগ্রতা, আত্মত্যাগ ও কঠোর সত্যায়ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হাদিস সংরক্ষিত থেকে পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছেছে। তাঁদের এই নিষ্ঠাপূর্ণ খিদমতই কালক্রমে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ রচনার ভিত্তি স্থাপন করে।
٢- تحدث عن تدوين الحديث فى القرن الثانى الهجرى، وبين ميزات ‘موطأ الإمام مالك’-
[২. হিজরি দ্বিতীয় শতকে হাদিস সংকলন সম্পর্কে আলোচনা কর এবং ‘মুয়াত্তা ইমাম মালিক’-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা কর।]
ভূমিকা: হিজরি দ্বিতীয় শতক হলো হাদিস সংকলনের ইতিহাসের এক বিপ্লবাত্মক পর্যায়। এই শতকেই খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বজনীন সংকলন শুরু হয় এবং পরবর্তীকালে ইমাম মালিক (রহ.) কর্তৃক কালজয়ী গ্রন্থ ‘মুয়াত্তা’ রচিত হয়।
১. হিজরি দ্বিতীয় শতকে হাদিস সংকলনের ইতিহাস:
- উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সরকারি নির্দেশ: হিজরি প্রথম শতকের শেষভাগে এবং দ্বিতীয় শতকের সূচনায় (৯৯-১০১ হিজরি) খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) প্রখ্যাত আলেম ইবনে শিহাব আজ-জুহরি এবং মদিনার গভর্নর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযমকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস সংকলন করার আনুষ্ঠানিক ফরমান পাঠান।
- ইমাম আজ-জুহরি (রহ.)-এর অবদান: তিনিই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় হাদিসের নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন।
- বিষয়ভিত্তিক ও অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস (التبويب والتصنيف): দ্বিতীয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে মুহাদ্দিসগণ বিষয়ভিত্তিক অধ্যায় (যেমন কিতাবুস সালাত, কিতাবুজ যাকাত ইত্যাদি) সাজিয়ে হাদিস সংকলন শুরু করেন। এ যুগে প্রধান সংকলকগণের মধ্যে ছিলেন:
- মক্কায়: ইবনে জুরাইজ (মৃত্যু ১৫০ হি.)
- মদিনায়: ইমাম মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হি.) ও মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (মৃত্যু ১৫১ হি.)
- বসরায়: সাঈদ ইবনে আবি আরুবা (মৃত্যু ১৫৬ হি.) ও হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (মৃত্যু ১৬৭ হি.)
- কুফায়: সুফিয়ান সাওরি (মৃত্যু ১৬১ হি.)
- শামে: ইমাম আওযায়ী (মৃত্যু ১৫৭ হি.)
- ইয়ামেনে: মা’মার ইবনে রাশিদ (মৃত্যু ১৫৩ হি.)
২. মুয়াত্তা ইমাম মালিক-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ (ميزات موطأ الإمام مالك):
- সর্বপ্রথম সুসংবদ্ধ সংকলন: মুয়াত্তা হলো হাদিস শাস্ত্রের ইতিহাসে বিষয়ভিত্তিক প্রথম প্রামাণ্য ও সুসংবদ্ধ কিতাব। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন: «مَا عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ كِتَابٌ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ أَصَحُّ مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ» (আল্লাহর কিতাবের পর ভূপৃষ্ঠে ইমাম মালিকের কিতাবের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ আর কোনো কিতাব নেই—এটি বুখারী রচনার পূর্ববর্তী স্বীকৃতি)।
- সুদৃঢ় সনদ ও ‘সিলসিলাতুয যাহাব’: এতে হাদিসের সুবর্ণ সনদ (Gold Chain) বিদ্যমান, যেমন: মালিক — নাফে — ইবনে উমর — রাসুলুল্লাহ (সা.)।
- মারফু ও আসার-এর অপূর্ব সমন্বয়: এতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মারফু হাদিস ছাড়াও সাহাবিদের ফতোয়া ও তাবেয়ীদের আসার সুবিন্যস্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- মদিনাবাসীর আমলের প্রাধান্য (عمل أهل المدينة): ইমাম মালিক কেবল বর্ণনার ওপর নির্ভর করেননি, বরং মদিনার সম্মিলিত ফিকহ ও অবিচ্ছিন্ন সুন্নাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
- মুয়াত্তা নামের কারণ: ইমাম মালিক ৭০ জন মদিনার ফকিহকে এই কিতাবটি উপস্থাপন করেছিলেন এবং তাঁরা সবাই এর সাথে একমত (واطأني) পোষণ করেছিলেন বিধায় এর নামকরণ করা হয় ‘মুয়াত্তা’ (সহজীকরণ ও সর্বসম্মত)।
উপসংহার: হিজরি দ্বিতীয় শতকের সংকলন প্রয়াস হাদিসের বিশুদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রাখতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে এবং তৃতীয় শতকের সিহাহ সিত্তার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।
٣- ما هو منهج الإمام البخارى فى تدوين الحديث؟ اذكر خصائص صحيحه-
[৩. হাদিস সংকলনে ইমাম বুখারীর পদ্ধতি কী ছিল? তাঁর সহীহ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।]
ভূমিকা: আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.) (১৯৪–২৫৬ হি.) রচিত ‘আল-জামে আল-মুসনাদ আস-সহীহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়্যামিহি’ হলো উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আসাহহুল কুতুব বা কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ।
১. হাদিস সংকলনে ইমাম বুখারীর পদ্ধতি (منهج الإمام البخاري):
- সুদৃঢ় শর্ত ও সাক্ষাৎ প্রমাণ (ثبوت اللقاء والمعاصرة): রাবীদ্বয়ের সমসাময়িক (মুআসারাত) হওয়ার পাশাপাশি তাদের উভয়ের মাঝে সরাসরি সাক্ষাৎ ও শ্রবণ (লিক্বা ওয়া সিমা’) প্রমাণিত হওয়া ইমাম বুখারীর প্রধান শর্ত ছিল।
- রাবীর সর্বোচ্চ স্তরের সততা ও স্মৃতিশক্তি (العدالة والضبط التام): রাবীকে তাকওয়া, সততা এবং নিখুঁত স্মৃতিশক্তির অধিকারী হতে হবে। বর্ণনাকারীদের প্রথম সারির (তবকায়ে উলা) রাবীদের হাদিস তিনি মূল টেক্সটে গ্রহণ করেছেন।
- স্বপ্নের নির্দেশনা ও রূহানি প্রস্তুতি: ইমাম বুখারী প্রতিবার গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তিখারা করে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিটি হাদিস তাঁর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করতেন।
- ফিকহী গভীরতা ও তারজামাতুল বাব (فقه البخاري في تراجمه): ইমাম বুখারীর ফিকহি সূক্ষ্মতা তাঁর অধ্যায় বা অনুচ্ছেদ শিরোনামে ফুটে উঠেছে। প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে: «فِقْهُ الْبُخَارِيِّ فِي تَرَاجِمِهِ» (বুখারীর ফিকহ তাঁর অনুচ্ছেদ বিন্যাসের মধ্যেই নিহিত)।
২. সহীহ বুখারীর বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص صحيح البخاري):
- কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ: সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ঐকমত্য পোষণ করেছে যে বুখারী শরিফের সমস্ত মারফু মুত্তাসিল হাদিস নিশ্চিতভাবে সহীহ।
- সুলাসিয়াত (الثلاثيات): বুখারী শরিফে ২২টি এমন হাদিস রয়েছে যা ইমাম বুখারী ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাঝে মাত্র ৩ জন মাধ্যম নিয়ে গঠিত। এটি সানাদগত সর্বোচ্চ মর্যাদা।
- পুনরাবৃত্তির বৈচিত্র্য (تكرار الحديث لفوائد فقهية): একটি হাদিস একাধিক ফিকহী মাসআলা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন সনদে ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ে প্রাসঙ্গিকভাবে আনা হয়েছে।
- মুআল্লাকাত ও মুতাবাআত: মূল সহীহ হাদিস ছাড়াও ব্যাখ্যা ও সমর্থনের জন্য অনুচ্ছেদের শুরুতে সংক্ষিপ্ত মুআল্লাক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
- উম্মাহর গ্রহণযোগ্যতা (تلقي الأمة بالقبول): যুগে যুগে মুহাদ্দিস ও ফকিহগণ সর্বসম্মতভাবে এর গ্রহণযোগ্যতা স্বীকার করেছেন।
উপসংহার: সহীহ বুখারী মুসলিম উম্মাহর হাদিস গবেষণার সর্বোচ্চ চূড়া, যা আজও ইসলামী জ্ঞানজগতের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত।
٤- هل انحصرت الأحاديث الصحيحة فى الكتب الستة؟ تحدث عن ‘صحيح ابن خزيمة’ و’مستدرك الحاكم’-
[৪. সহীহ হাদিস কি সিহাহ সিত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? ‘সহীহ ইবনে খুযাইমাহ’ ও ‘মুস্তাদরাকে হাকিম’ সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ভূমিকা: সিহাহ সিত্তাহ বা কুতুবুস সিত্তাহ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ) হাদিসের সর্বাধিক প্রামাণ্য গ্রন্থ হলেও সহীহ হাদিস কেবলমাত্র এই ছয় কিতাবেই সীমাবদ্ধ নয়। মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমত্যে এর বাইরেও বহু সহীহ হাদিস বিদ্যমান।
১. সহীহ হাদিস কি কুতুবুস সিত্তাহতেই সীমাবদ্ধ? (هل انحصرت الأحاديث الصحيحة في الكتب الستة؟):
- ইমাম বুখারী ও মুসলিমের বক্তব্য: ইমাম বুখারী (রহ.) নিজেই বলেছেন: «مَا أَدْخَلْتُ فِي الْجَامِعِ إِلَّا مَا صَحَّ، وَتَرَكْتُ مِنَ الصِّحَاحِ مَخَافَةَ الطُّولِ» (আমি এই জামে গ্রন্থে সহীহ ছাড়া কিছুই অন্তর্ভুক্ত করিনি, আর গ্রন্থ দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে বহু সহীহ হাদিস বাদ দিয়েছি)। ইমাম মুসলিমও অনুরূপ বক্তব্য দিয়েছেন।
- মুহাদ্দিসদের সিদ্ধান্ত: আল্লামা ইবনুস সালাহ, ইমাম নববী ও হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে সহীহ হাদিস কুতুবুস সিত্তার বাইরে মুয়াত্তা মালিক, মুসনাদে আহমদ, সহীহ ইবনে হিব্বান, সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, মুস্তাদরাকে হাকিম এবং সুনানে দারিমীসহ বহু গ্রন্থে সংকলিত রয়েছে।
২. সহীহ ইবনে খুযাইমাহ (صحيح ابن خزيمة):
- গ্রন্থকার পরিচিতি: ইমামুল আইম্মাহ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ নিশাপুরী (২২৩–৩১১ হি.)।
- গ্রন্থের প্রকৃতি ও বিশুদ্ধতার মান: বুখারী ও মুসলিমের পর বিশুদ্ধতার বিচারে যে গ্রন্থগুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়, তার মধ্যে সহীহ ইবনে খুযাইমাহ অন্যতম। তিনি রাবীর সামান্যতম দুর্বলতা থাকলেও তা উল্লেখ করতেন এবং মন্তব্য করতেন: “যদি খবরটি সহীহ হয়”।
- বৈশিষ্ট্য: এতে ফিকহি আহকামের সূক্ষ্মতম অধ্যায় বিন্যাস করা হয়েছে। বর্তমানে এর চার ভাগের এক ভাগ বা ইবাদত অংশ সংরক্ষিত রয়েছে।
৩. মুস্তাদরাকে হাকিম (مستدرك الحاكم):
- গ্রন্থকার পরিচিতি: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (৩২১–৪০৫ হি.)।
- গ্রন্থের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী ও মুসলিমের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী যেসব সহীহ হাদিস তাঁরা গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি, সেগুলোকে একত্র করার লক্ষ্যে রচিত ‘আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন’।
- হাকিমের শ্রেণিবিভাগ: তিনি হাদিসগুলোকে চার ভাগে ভাগ করেছেন: (১) বুখারী ও মুসলিম উভয়ের শর্তাধীন, (২) কেবল বুখারীর শর্তাধীন, (৩) কেবল মুসলিমের শর্তাধীন, এবং (৪) তাঁর নিজের দৃষ্টিতে সহীহ সনদ বিশিষ্ট।
- মুহাদ্দিসদের মূল্যায়ন: ইমাম হাকিম কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাদিস সহীহ বলার ক্ষেত্রে শিথিলতা (তাসাহুল) প্রদর্শন করেছেন। পরবর্তীতে ইমাম যাহাবী (রহ.) ‘তালখীসুল মুস্তাদরাক’ লিখে এর সহীহ, যঈফ ও মাওদু হাদিসগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাছাই করে দিয়েছেন।
উপসংহার: অতএব, সহীহ হাদিসের পরিধি সুবিশাল। সিহাহ সিত্তার বাইরেও প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণের কিতাবে অসংখ্য নির্ভরযোগ্য সহীহ হাদিস রয়েছে যা শরীয়তের প্রমাণ হিসেবে গৃহীত।
٥- ماذا تعرف عن كتاب ‘شرح معانى الآثار’ للإمام الطحاوى؟ اذكر منهجه وخصائصه-
[৫. ইমাম তহাবীর ‘শারহু মাআনিল আসার’ গ্রন্থ সম্পর্কে কী জান? এর পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ কর।]
ভূমিকা: হানাফি মাযহাবের প্রখ্যাত ইমাম ও ফকিহ আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তহাবী (রহ.) (২৩৯–৩২১ হি.) রচিত ‘শারহু মাআনিল আসার’ (شرح معاني الآثار) হাদিস ও ফিকহের এক অনুপম আকরগ্রন্থ। আপাতবিরোধী হাদিসসমূহের সমাধান ও আহকামের তাত্পর্য বর্ণনায় এটি এক অনন্য সৃষ্টি।
১. শারহু মাআনিল আসার গ্রন্থ পরিচিতি:
ফিকহি বিধান সম্বলিত যেসব হাদিসের মধ্যে বাহ্যিক বৈপরীত্য বা ইখতিলাফ পরিলক্ষিত হয়, সেগুলোর গভীর তাহকিক, নাসিখ-মানসূখ নির্ণয় এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর সঙ্গীদের গৃহীত মতের সপক্ষে শক্তিশালী হাদিসগত দলিল উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে ইমাম তহাবী এটি রচনা করেন।
২. ইমাম তহাবীর অনুসৃত পদ্ধতি (منهجه في الكتاب):
- প্রথমে বিপরীতমুখী মত ও হাদিস পেশ: ইমাম তহাবী প্রথমে কোনো একটি মাসআলায় বিদ্যমান বিপরীতমুখী মতামত ও তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো নিজ সনদে উল্লেখ করেন।
- সনদ ও মতনের সূক্ষ্ম যাচাই: তিনি প্রত্যেকটি হাদিসের সনদ বিচার-বিশ্লেষণ করে সহীহ ও যঈফ নির্ধারণ করেন।
- নাসিখ-মানসূখ ও ঐতিহাসিক ক্রমধারা: বিভিন্ন হাদিসের সময়কাল বিশ্লেষণ করে কোনটি পূর্ববর্তী এবং কোনটি পরবর্তী নির্দেশ (নাসিখ) তা যুক্তি ও রেওয়ায়েতের সাহায্যে প্রমাণ করেন।
- যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ (النظر والقياس): হাদিসের বর্ণনার পাশাপাশি তিনি গভীর আকলি বা ফিকহি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে কেন নির্দিষ্ট হুকুমটি ইসলামের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৩. গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص الكتاب):
- আপাতবিরোধ নিরসন (دفع التعارض): হাদিসের বাহ্যিক বিরোধ মীমাংসায় এই গ্রন্থের সমকক্ষ গ্রন্থ হাদিস শাস্ত্রে বিরল।
- উচ্চমানের সনদ (علو الإسناد): ইমাম তহাবীর অধিকাংশ সনদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও উচ্চমানের, যা তিনি মিশরের শীর্ষ মুহাদ্দিসদের কাছ থেকে সরাসরি গ্রহণ করেছেন।
- ফিকহে হানাফির হাদিসভিত্তিক প্রামাণিকতা: এই কিতাব প্রমাণ করে যে হানাফি ফিকহের প্রতিটি মাসআলা সুদৃঢ় সহীহ হাদিস ও আসার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
উপসংহার: ‘শারহু মাআনিল আসার’ গ্রন্থটি ইলমে হাদিস ও ফিকহে ইসলামির সেতুবন্ধনকারী এক যুগান্তকারী রচনা, যা ফাজিল ও কামিল স্তরের পাঠ্যসূচির এক অপরিহার্য কিতাব।
٦- ما هو الحديث الموضوع؟ وما هى أسباب الوضع؟ اذكر جهود المحدثين فى مقاومة الوضع-
[৬. জাল (মাওদু) হাদিস কাকে বলে? হাদিস জালকরণের কারণসমূহ কী কী? জাল হাদিস প্রতিরোধে মুহাদ্দিসদের ভূমিকা ও প্রচেষ্টা উল্লেখ কর।]
ভূমিকা: হাদিসের নামে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করা এক মারাত্মক কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ» (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়)। এই মিথ্যা ও বানোয়াট কথাকেই পরিভাষায় হাদিসে মাওদু বলা হয়।
১. হাদিসে মাওদুর সংজ্ঞা (تعريف الحديث الموضوع):
- আভিধানিক অর্থ: الموضوع শব্দটি আরবি وضع ধাতু থেকে নির্গত, যার অর্থ ফেলে দেওয়া, মিথ্যা তৈরি করা বা বানোয়াট রূপ দেওয়া।
- পারিভাষিক সংজ্ঞা: «هُوَ الْمُخْتَلَقُ الْمَصْنُوعُ الْمَنْسُوبُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذِبًا وَزُورًا» অর্থাৎ, যা স্বকপোলকল্পিত, বানোয়াট এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি মিথ্যা ও প্রবঞ্চনামূলকভাবে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রকৃত অর্থে কোনো হাদিস নয়।
২. হাদিস জালকরণের প্রধান কারণসমূহ (أسباب الوضع):
- ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র (الزندقة والعداء للإسلام): জিন্দিক ও ইসলামের শত্রুরা মুসলমানদের বিশ্বাস ও আকিদা বিকৃত করার জন্য হাজার হাজার হাদিস জাল করেছিল (যেমন আব্দুল করিম ইবনে আবিল আওজা)।
- রাজনৈতিক ও মাযহাবি পক্ষপাতিত্ব (التعصب السياسي والمذهبي): শিয়া, খাওয়ারিজ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ নেতার ফজিলত প্রমাণে এবং প্রতিপক্ষের নিন্দা করতে হাদিস বানাত।
- অজ্ঞ আবেদ ও সুফিদের নেক নিয়ত (الترغيب والترهيب بجهل): কিছু অজ্ঞ মানুষ জনগণকে ইবাদতে আগ্রহী করতে কুরআনের বিভিন্ন সুরার মনগড়া ফজিলত বর্ণনা করে হাদিস তৈরি করেছিল।
- শাসকদের তোষামোদ করা (التقرب إلى الحكام): রাজদরবারে সুযোগ-সুবিধা ও পুরস্কার পাওয়ার লোভে দরবারি আলেমরা শাসকদের কুপ্রবৃত্তির অনুকূলে হাদিস বানাত (যেমন গিয়াস ইবনে ইব্রাহিমের ঘটনা)।
- অর্থ উপার্জন ও গল্পবলা (التكسب بالقصص): পেশাদার গল্পকাররা (কুস্সাস) সাধারণ মানুষের আকর্ষণ পেতে আজগুবি কিসসা-কাহিনী হাদিস হিসেবে প্রচার করত।
৩. জাল হাদিস প্রতিরোধে মুহাদ্দিসদের অবদান (جهود المحدثين في مقاومة الوضع):
- সনদ তলব ও যাচাইয়ের কঠোর বিধান: তাবেয়ী মুহাম্মদ ইবনে সিরীন (রহ.) ঘোষণা করেন: «سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ» (তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো)। সনদের সূত্র ছাড়া কোনো হাদিস গ্রহণ করা বন্ধ করা হয়।
- আসমাউর রিজাল ও জারহ-তাদীল শাস্ত্রের উদ্ভব: মুহাদ্দিসগণ প্রতিটি বর্ণনাকারীর জীবনী, সত্যবাদিতা, স্মৃতিশক্তি ও চারিত্রিক অবস্থা লিপিবদ্ধ করে এক অনন্য বিজ্ঞান গড়ে তোলেন।
- জাল হাদিসের পৃথক সংকলন প্রণয়ন: জাল হাদিস চিহ্নিত করতে পৃথক গ্রন্থ রচনা করা হয়, যেমন:
- ইবনুল জাওযীর ‘আল-মাওদুআত’ (الموضوعات لابن الجوزي)
- জালালুদ্দীন সুয়ূতীর ‘আল-লাআলিল মাসনূআহ ফিল আহাদিসিল মাওদূআহ’
- মোল্লা আলী কারীর ‘আল-আসরারুল মারফুআহ ফিল আখবারিল মাওদুআহ’
উপসংহার: মুহাদ্দিসগণের এই অক্লান্ত ত্যাগ ও সুনিপুণ বৈজ্ঞানিক যাচাই পদ্ধতির ফলেই সুন্নাহ অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে।
القسم (ب) : খ-অংশ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও টীকা) (মান: ২ × ১০ = ২০)
٧- اكتب مذكرة موجزة عن اثنين مما يأتى:
[৭. নিচের যে কোনো দুটির ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ:]
(أ) الجامع (আল-জামে)
[(ক) আল-জামে]
সংজ্ঞা ও পরিচিতি: যে হাদিস গ্রন্থে দ্বীনের সকল মৌলিক বিষয়ের হাদিস একত্রে সন্নিবেশিত থাকে তাকে পরিভাষায় ‘আল-জামে’ বলা হয়। একটি জামে গ্রন্থে মূলত ৮টি প্রধান অধ্যায় থাকতে হয়: (১) আকাইদ, (২) আহকাম বা ফিকহি বিধান, (৩) সিয়ার বা নবীজীর জীবনী ও যুদ্ধ, (৪) আদাব ও শিষ্টাচার, (৫) তাফসির, (৬) ফিতান ও কিয়ামতের আলামত, (৭) আশরাত বা পরকালের অবস্থা, এবং (৮) মানাকিব ও ফজিলত। সহীহ বুখারী এবং জামে তিরমিযী এই শ্রেণির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
(ب) المسند (আল-মুসনাদ)
[(খ) আল-মুসনাদ]
সংজ্ঞা ও পরিচিতি: যে গ্রন্থে হাদিসসমূহ বিষয়ভিত্তিক সাজানোর পরিবর্তে সাহাবায়ে কেরামের নাম অনুযায়ী সংকলন করা হয় তাকে ‘মুসনাদ’ বলে। এতে প্রথমে আশারায়ে মুবাশশারাহ, অতঃপর বদরি সাহাবি, এরপর অন্যান্য সাহাবির বর্ণিত হাদিস তাদের নামের অধীনে ক্রমানুসারে একত্র করা হয়। এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ গ্রন্থ হলো ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) রচিত ‘মুসনাদে আহমদ’, যাতে প্রায় ৪০,০০০ হাদিস রয়েছে।
(ج) صحيح ابن خزيمة (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ)
[(গ) সহীহ ইবনে খুযাইমাহ]
সংজ্ঞা ও পরিচিতি: ইমামুল আইম্মাহ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ (রহ.) কর্তৃক সংকলিত উচ্চমানের বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থ। তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য ও সিকাহ রাবীদের হাদিস অন্তর্ভুক্ত করার কঠোর শর্ত আরোপ করেছিলেন। কিতাবটি সনদ বিচার ও ফিকহী ইস্তিম্বাতের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
(د) مؤلفات الإمام البيهقى (ইমাম বায়হাকীর রচনাবলি)
[(ঘ) ইমাম বায়হাকীর রচনাবলি]
সংজ্ঞা ও পরিচিতি: ইমাম আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী (৩৮৪–৪৫৮ হি.) হাদিস শাস্ত্রের এক শীর্ষস্থানীয় সংকলক। তাঁর রচিত কালজয়ী গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘আস-সুনানুল কুবরা’ (১০ খণ্ডে ফিকহি হাদিসের মহাসমুদ্র), ‘শুআবুল ঈমান’, ‘দালাইলুন নবুওয়াহ’, ‘কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত’ এবং ‘মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’।
(هـ) الأطراف (কিতাবুল আতরাফ)
[(ঙ) কিতাবুল আতরাফ]
সংজ্ঞা ও পরিচিতি: ‘আতরাফ’ হলো এমন হাদিস গ্রন্থ যেখানে হাদিসের সম্পূর্ণ মতন উল্লেখ না করে কেবল হাদিসের প্রথমাংশ বা মূল ইঙ্গিতবাহী অংশ উল্লেখ করা হয় এবং এর সকল সনদ ও সূত্রসমূহ একত্রে জমা করা হয়। এর মাধ্যমে কোনো হাদিসের বিভিন্ন সনদ সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন হাফিজ মিযযী রচিত ‘তুহফাতুল আশরাফ বিমা’রিফাতির আতরাফ’।
(و) كتب الأحكام (কুতুবুল আহকাম)
[(চ) কুতুবুল আহকাম]
সংজ্ঞা ও পরিচিতি: যেসব কিতাবে কেবল শরীয়তের হালাল, হারাম, ইবাদত ও মুয়ামালাতের ব্যবহারিক ফিকহি বিধান সম্বলিত হাদিসগুলো ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী সংকলিত হয়, সেগুলোকে ‘কুতুবুল আহকাম’ বলে। যেমন হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানীর ‘বুলুগুল মারাম’, হাফিজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসীর ‘উমদাতুল আহকাম’ এবং আল্লামা শাওকানীর ‘নায়লুল আওতার’।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. তারিখু ইলমিল হাদিস বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়ার মূল কৌশল কী?
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে হাদিস সংকলনের যুগভিত্তিক তথ্য, হিজরি সন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আরবি পরিভাষার নিখুঁত উপস্থাপন করা উচিত। বিশেষ করে মুকসিরিন সাহাবিদের তালিকা ও কিতাবসমূহের নাম সহীহ বানানে লিখলে সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত হয়।
২. মুকসিরিন সাহাবি কাদের বলা হয় এবং তাঁদের সংখ্যা কত?
হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় যেসব সাহাবি এক হাজারেরও বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁদের ‘মুকসিরিন’ বলা হয়। তাঁদের মোট সংখ্যা সাতজন, যার শীর্ষে রয়েছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) (৫,৩৭৪টি হাদিস)।
৩. সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
ইমাম বুখারী হাদিসের সনদে রাবীদের সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি সরাসরি সাক্ষাৎ ও শ্রবণ নিশ্চিত হওয়ার কঠোর শর্তারোপ করেছেন, অন্যদিকে ইমাম মুসলিম নির্ভরযোগ্য সমসাময়িকতাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। এছাড়া বুখারীর ফিকহি অধ্যায় বিন্যাস অত্যন্ত গভীর এবং মুসলিমে সনদের সংহতি অতুলনীয়।
৪. হাদিসে মাওদু চেনার প্রধান লক্ষণগুলো কী কী?
ভাষাগত দুর্বলতা বা অসংগতি, সাধারণ আকল ও ইতিহাসের সরাসরি পরিপন্থী বক্তব্য, সামান্য কাজে অতিরিক্ত সওয়াব বা আজগুবি শাস্তির বিবরণ এবং কুরআনের সুস্পষ্ট বিধানের সাথে সরাসরি বৈপরীত্য থাকা হলো জাল হাদিস চেনার অন্যতম আলামত।
৫. মুসনাদ এবং জামে গ্রন্থের মধ্যে মূল তফাত কী?
জামে গ্রন্থে আকাইদ, আহকাম, সিরাতসহ দ্বীনের ৮টি মৌলিক বিষয়ের অধ্যায়ভিত্তিক হাদিস থাকে, আর মুসনাদ গ্রন্থে বিষয়বস্তু বিবেচনা না করে সাহাবিদের নামের ক্রমানুসারে হাদিস সাজানো হয়।
৬. হিজরি দ্বিতীয় শতকের সংকলন পদ্ধতির বিশেষত্ব কী ছিল?
হিজরি দ্বিতীয় শতকে খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের আদেশে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে প্রথম হাদিস সংকলন হয় এবং সর্বপ্রথম ফিকহি বিষয়ভিত্তিক সুবিন্যস্ত অধ্যায়ে হাদিস ও ফতোয়া লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়, যার সর্বোত্তম উদাহরণ হলো মুয়াত্তা ইমাম মালিক।