ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: ভারত উপমহাদেশ ও বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের ইতিহাস (Tarikh Ilm al-Hadith fi Shibh al-Qarrah al-Hindiyyah wa Bangladesh)
বিষয় কোড: ২০২২০২
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
ক বিভাগ (القسم الأول) – পূর্ণাঙ্গ প্রশ্ন সমাধান
١. اكتب تاريخ دخول علم الحديث في شبه القارة الهندية ثم تحدث عن نشأته وتطوره فيها-
[১. ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের আগমনের ইতিহাস লেখ। অতঃপর এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার এবং ইলমুল হাদিসের চর্চা এক ঐতিহাসিক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আরব বণিক, মুজাহিদ সাহাবী, তাবেঈন ও সুফী-সাধকদের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের সূচনা ঘটে এবং পরবর্তীতে যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের অক্লান্ত সাধনায় উপমহাদেশ পরিণত হয় বিশ্ব হাদিস চর্চার প্রধান প্রাণকেন্দ্রে।
১. ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের আগমনের ইতিহাস
- সাহাবায়ে কিরামের শুভাগমন: প্রথম হিজরি শতাব্দীতে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খেলাফতকালে ১৫ হিজরিতে উসমান ইবনে আবিল আস আস-সাকাফীর নেতৃত্বে আরবের মুসলিম নাবিক ও মুজাহিদগণ ভারতের পশ্চিম উপকূলে (থানে, ভরুচ ও দেবল) পদার্পণ করেন। পরবর্তীতে হযরত আলী ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর যুগেও সাহাবী ও তাবেঈদের আগমন ঘটে। সিন্ধু ও বেলুচিস্তানে বহু সাহাবী ও তাবেঈনের সরাসরি আগমন ঘটেছিল।
- মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় (৯৩ হি.): মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধু বিজয়ের ফলে স্থায়ীভাবে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং অসংখ্য আলেম ও মুহাদ্দিস সিন্ধুতে হিজরত করেন। মনসুরা ও দেবলে হাদিসের দরস প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমাম মনসুরী ও ইমাম আওযায়ীর ছাত্রগণ এখানে হাদিসের আলো ছড়ান।
- সুফী-সাধক ও মুসলিম শাসকদের যুগ: সুলতান মাহমুদ গজনভী, শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরী এবং পরবর্তীতে ইলতুতমিশ ও বলবানদের যুগে দিল্লী, লাহোর ও মুলতানে হাদিস চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার ঘটে।
২. উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের পর্যায়সমূহ
ইতিহাসবিদগণ উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের বিকাশকে প্রধানত চারটি ঐতিহাসিক যুগে বিভক্ত করেছেন:
- প্রথম যুগ (প্রারম্ভিক যুগ – হিজরি ১ম থেকে ৮ম শতক): সিন্ধু, মুলতান ও গুজরাটে হাদিসের প্রাথমিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এ যুগের বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ছিলেন রবী’ ইবনে সাবীহ আস-সাদী (ওফাত: ১৬০ হি.), যিনি বসরা থেকে এসে সিন্ধুতে সমাহিত হন। এ যুগে শেখ রযীউদ্দীন হাসান আস-সাঘানী লাহোরী (ওফাত: ৬৫০ হি.) রচনা করেন বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ‘মাশারিকুল আনওয়ারিন নাবাবিয়্যাহ’।
- দ্বিতীয় যুগ (মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভীর যুগ – হিজরি ১০ম ও ১১শ শতক): শেখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (৯৫৮–১০৫২ হি.) হিজায সফর করে শায়খ আব্দুল ওহাব মুত্তাকী মক্কীর নিকট থেকে হাদিসের সনদ নিয়ে দিল্লীতে আগমন করেন। তিনিই প্রথম দিল্লীতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিহাহ সিত্তাহর দরস চালু করেন এবং ‘আশি’আতুল লামা’আত’ (মিশকাতের ফারসি ব্যাখ্যা) রচনা করেন।
- তৃতীয় যুগ (শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী ও তাঁর খান্দান – ১২শ ও ১৩শ শতক): এ যুগটি উপমহাদেশের হাদিস চর্চার স্বর্ণযুগ। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (১১১৪–১১৭৬ হি.) হারামাইন থেকে সনদ অর্জন করে ফিরে এসে হাদিস গবেষণায় নবজাগরণ ঘটান। তাঁর রচিত ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’ এবং মুয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মুসাফ্ফা’ ও ‘মুসাওওয়া’ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী, শাহ ইসহাক দেহলভী এবং শাহ মুহাম্মদ ইসমাঈল শহীদ এ ধারাকে চূড়ান্ত রূপ দান করেন।
- চতুর্থ যুগ (প্রাতিষ্ঠানিক ও মাদরাসা যুগ – ১৯শ শতক থেকে বর্তমান): দারুল উলুম দেওবন্দ (১৮৬৬ খ্রি.), মাযাহিরুল উলুম সাহারানপুর, আলিয়া মাদরাসা কাঠামো এবং বিভিন্ন সালাফী ও আহলে হাদিস মারকাযসমূহের মাধ্যমে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর মাঝে হাদিসের পাঠদান বাধ্যতামূলক করা হয়।
উপসংহার
আরব উপদ্বীপ থেকে সূচিত হাদিসের জ্যোতি ভারতীয় উপমহাদেশে এমনভাবে প্রোথিত হয়েছিল যে, বর্তমান বিশ্বে দরসে নিযামী মাদরাসাসমূহের মাধ্যমে উপমহাদেশই হয়ে উঠেছে হাদিস শিক্ষার বৃহত্তম বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দু।
٢. اكتب مأثرة المحدث عبد الحق الدهلوى فى نشر علم الحديث فى شبه القارة الهندية موجزا- ثم اكتب نبذة عن حياته-
[২. ভারত উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের প্রসারে মুহাদ্দিস আব্দুল হক দেহলভী (রহ) এর অবদান সংক্ষেপে লেখ। অতঃপর তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]
ভূমিকা
উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের বিধিবদ্ধ পঠন-পাঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে যে মহান মনীষীর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.)। তিনি এ অঞ্চলের বুকে হাদিস বিজ্ঞানের পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছিলেন বলেই তাঁকে ‘মুহাদ্দিসে দেহলভী’ উপাধিতে স্মরণ করা হয়।
১. শায়খ আব্দুল হক দেহলভী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম আব্দুল হক, উপনাম আবু আব্দুল হক, পিতার নাম সাইফুদ্দীন আত-তুর্ক। বংশপরম্পরায় তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত।
- জন্ম ও শিক্ষা: তিনি ৯৫৮ হিজরিতে দিল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র আট বছর বয়সে কুরআন হিফয সমাপ্ত করেন এবং অতি অল্প বয়সেই ফিকহ, উসূল, কালাম ও সাহিত্য শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- হিজায সফর ও হাদিসের উচ্চশিক্ষা: উচ্চতর জ্ঞানার্জনের প্রবল তৃষ্ণা নিয়ে তিনি ৯৯৬ হিজরিতে হারামাইন শরীফাইন সফর করেন। মক্কা মুকাররমায় বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল ওহাব মুত্তাকী মক্কী (রহ.)-এর সোহবতে দীর্ঘ কয়েক বছর কাটান এবং কুতুবে সিত্তাহসহ সমস্ত মূল হাদিস গ্রন্থের সনদ ও ইজাযত লাভ করেন।
- স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ও কর্মজীবন: ১০০১ হিজরিতে তিনি দিল্লীতে ফিরে আসেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী যাবত হাদিসের পাঠদান, গ্রন্থ রচনা ও গবেষণায় নিয়োজিত থাকেন।
- ওফাত: ১০৫২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তিনি দিল্লীতে ওফাত বরণ করেন। দিল্লীর ‘হওযে শামসী’-র তীরে তাঁকে দাফন করা হয়।
২. উপমহাদেশে হাদিস প্রচারে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানসমূহ
- দিল্লীতে হাদিসের স্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা: মক্কা থেকে ফিরে তিনি দিল্লীতে নিজস্ব খানকাহ ও মাদরাসায় হাদিসের দরস চালু করেন। তৎকালীন সময়ে উপমহাদেশে দর্শনের প্রভাব বেশি ছিল, তিনি তা পরিবর্তন করে কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষাকে মূলধারায় নিয়ে আসেন।
- কুতুবে সিত্তাহর ব্যাপক প্রচলন: তিনিই সর্বপ্রথম উত্তর ভারতে কুতুবে সিত্তাহ (সিহাহ সিত্তাহ)-এর নিয়মিত পাঠদান ও সনদ বিতরণের ধারাবাহিকতা কায়েম করেন।
- অনবদ্য গ্রন্থাবলি রচনা: তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় প্রায় শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। হাদিস বিষয়ে তাঁর শীর্ষ গ্রন্থসমূহ:
- আশি’আতুল লামা’আত ফী শারহিল মিশকাত (أشعة اللمعات): মিশকাতুল মাসাবীহের অত্যন্ত তথ্যবহুল ও প্রামাণ্য ফারসি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (চার খণ্ডে সমাপ্ত)।
- লুম’আতু তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ (لمعات التنقيح): মিশকাতুল মাসাবীহের উন্নত মানের আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- মুকাদ্দামা ফী উসূলিল হাদিস (مقدمة في أصول الحديث): হাদিস বিজ্ঞানের পরিভাষা ও মূলনীতির ওপর রচিত এক অনবদ্য গ্রন্থ।
- মাদারিজুন নবুওয়াত (مدارج النبوة): রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সীরাতের ওপর ফারসি ভাষায় রচিত প্রামাণ্য সীরাত গ্রন্থ।
- সুন্নাহর অনুসারী আলেম সমাজ গঠন: তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় একদল নিষ্ঠাবান মুহাদ্দিস তৈরি হন, যাঁরা ভারতের আনাচে-কানাচে হাদিসের আলো ছড়িয়ে দেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর পরিবারও শায়খ আব্দুল হকের রোপণ করা হাদিসের বৃক্ষ থেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন।
উপসংহার
শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশে হাদিস শাস্ত্রের আলোকবর্তিকা। তিনি দর্শন-আক্রান্ত ভারতীয় মুসলিম সমাজে হাদিসের শ্রেষ্ঠত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছেন।
٣. كيف كان حال علم الحديث فى شبه القارة الهندية فى عهد الصحابة رضوان الله تعالى عليهم اجمعين؟ اكتب بعض أشهر المحدثين فى هذا العصر-
[৩. সাহাবা (রা) এর যুগে ভারত উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের অবস্থা কেমন ছিল? সে যুগের কয়েকজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসের নাম লেখ।]
ভূমিকা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পরপরই সাহাবায়ে কিরামের পবিত্র জামাত সত্য দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে পৃথিবীর দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়েন। এ ধারাবাহিকতায় প্রথম হিজরি শতাব্দীতেই ভারতের জল ও স্থল সীমান্তে তাঁদের পদচিহ্ন পড়ে এবং তাঁরা উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের প্রথম বীজ বপন করেন।
১. সাহাবা যুগে ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমুল হাদিসের অবস্থা
সাহাবা যুগে উপমহাদেশের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক মূলত তিনটি পর্যায়ে বিস্তৃত ছিল:
- বাণিজ্যিক ও দাওয়াতী সফর: ইসলামের আগমনের বহু পূর্ব থেকেই আরব বণিকরা ভারতের মালাবার ও গুজরাট উপকূলে বাণিজ্য করতে আসতেন। ইসলাম গ্রহণের পর সাহাবী ও তাঁদের সঙ্গী বণিকগণ শুধু ব্যবসাই করেননি; বরং তাদের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে হাদিস ও সুন্নাহর বাস্তব আমল প্রত্যক্ষ হয়।
- সরকারি অভিযান ও মুজাহিদদের আগমন:
- হযরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকাল: ১৫ হিজরিতে ওমানের গভর্নর উসমান ইবনে আবিল আস আস-সাকাফী তাঁর ভাই হাকাম ইবনে আবিল আসকে ভারতের ‘থানে’ (মুম্বাইয়ের নিকটবর্তী) এবং মুগীরা ইবনে আবিল আসকে ‘দেবল’ (সিন্ধু) ও ‘ভরুচে’ নৌ-অভিযানে পাঠান।
- হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকাল: তিনি হাকিম ইবনে জাবালাহ আল-আবদীকে ভারতের ভৌগোলিক ও সামাজিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠান।
- হযরত আলী (রা.)-এর খেলাফতকাল: ৩৮ হিজরিতে হারিস ইবনে মুররা আল-আবদী ভারতের সীমান্তে আগমন করেন এবং বহু মানুষ তাঁর মাধ্যমে হাদিস ও ইসলামের আলো পায়।
- হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর যুগ: ৪৪ হিজরিতে মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরাহ সিন্ধুর লাহোর ও বান্নু পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন।
- হাদিসের মৌখিক বর্ণনা ও তালিম: এ যুগে কোনো লিখিত মাদরাসা কাঠামো না থাকলেও উপস্থিত সাহাবী ও তাবেঈগণ স্থানীয় নওমুসলিমদের কুরআন তিলাওয়াত, সালাতের নিয়ম এবং রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন। স্থানীয় অধিবাসীরা তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি হাদিস শুনে তা মুখস্থ রাখতেন।
২. এ যুগে ভারতে আগমনকারী কয়েকজন প্রসিদ্ধ সাহাবী ও তাবেঈ মুহাদ্দিস
- হযরত সিনান ইবনে সালামাহ আল-হুজালী (রা.): তিনি মক্কা বিজয়ের বছর জন্মগ্রহণকারী কমবয়সী সাহাবী ছিলেন। তিনি সিন্ধু ও মাকরান অঞ্চলে বহু সামরিক ও দাওয়াতী কার্যক্রমে অংশ নেন এবং সেখানে হাদিসের তালিম দেন।
- হযরত হাকিম ইবনে জাবালাহ আল-আবদী (রা.): তিনি হযরত উসমান (রা.) কর্তৃক প্রেরিত হয়ে ভারতের মাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং সুন্নাহর দাওয়াত দিয়েছিলেন।
- হযরত সা’দ ইবনে মালিক আল-ফারূকী (রা.): ভারতের মালাবার উপকূলে যে সাহাবী ইসলাম প্রচার ও হাদিসের শিক্ষাদানে অনন্য ভূমিকা পালন করেন।
- হযরত সুহাইব আর-রূমী (রা.)-এর আযাদকৃত গোলাম আবু নসর আস-সিন্ধী: তিনি সিন্ধু অঞ্চলের অধিবাসী হয়েও মদিনায় গিয়ে হাদিস শিক্ষা করেন এবং ভারতে হাদিস প্রচার করেন।
- রবী’ ইবনে সাবীহ আস-সাদী (রহ.): প্রখ্যাত বসরী তাবেঈ ও মুহাদ্দিস। তিনি কিতাব রচয়িতা প্রাচীনতম তাবেঈদের একজন। তিনি ১৬০ হিজরিতে সিন্ধু অভিযানে এসে সেখানেই ইনতিকাল করেন এবং ভারতের মাটিতে সমাহিত হন।
- ইমাম আওযায়ীর ছাত্র সিন্ধুর মুহাদ্দিসগণ: সিন্ধুর রাজধানী মনসুরায় ইমাম আবু হাফস উমর ইবনে ঈসা আস-সিন্ধী ও আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আস-সিন্ধী প্রমুখ উচ্চস্তরের হাদিস বিশারদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
উপসংহার
সাহাবায়ে কিরামের যুগে প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসা না থাকলেও তাঁদের পবিত্র সাহচর্য, চরিত্র এবং মৌখিক বর্ণনার মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের যে সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, তা পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে মহীরুহে পরিণত হয়।
٤. من هو المجدد الالف الثانى؟ اكتب نبذة عن حياته مع ذكر خدماته فى علم الحديث-
[৪. মুজাদ্দিদে আলফে সানি কে? ইলমুল হাদিসে তাঁর অবদান উল্লেখসহ জীবনী আলোচনা কর।]
ভূমিকা
হিজরি একাদশ শতাব্দীর শুরুতে যখন মুঘল সম্রাট আকবরের তথাকথিত সর্বধর্ম সমন্বয়বাদী কুফরী মতবাদ ‘দ্বীনে ইলাহী’ এবং ভ্রান্ত তাসাউফের ছদ্মাবরণে ইসলাম ও সুন্নাহর মূল ভিত্তি হুমকির মুখে পড়েছিল, তখন এক অকুতোভয় মহান সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটে। তিনি হলেন মুজাদ্দিদে আলফে সানী শায়খ আহমদ সিরহিন্দী (রহ.)।
১. মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহ.)-এর পরিচয় ও সংক্ষিপ্ত জীবনী
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম আহমদ, উপনাম আবুল বারাকাত, লকব বদরুদ্দীন, মুজাদ্দিদে আলফে সানী। তাঁর বংশধারা আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর সাথে মিলিত হয়েছে, এজন্য তিনি ‘ফারূকী’ নামে পরিচিত।
- জন্ম: তিনি ৯৭১ হিজরিতে ভারতের পাঞ্জাবের ‘সিরহিন্দ’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন: পিতা শায়খ আব্দুল আহাদের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি শিয়ালকোটের প্রখ্যাত আলেম কামালুদ্দীন কাশ্মিরীর নিকট হাদিস ও ফিকহের উচ্চতর জ্ঞান লাভ করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি সমস্ত প্রচলিত জ্ঞানে পূর্ণ পারদর্শিতা অর্জন করেন।
- আধ্যাত্মিক দীক্ষা: তিনি দিল্লীতে নকশবন্দিয়া তরিকার প্রখ্যাত শায়খ খাজা বাকিবিল্লাহ (রহ.)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন এবং অল্প সময়েই খেলাফত লাভ করেন।
- কারাবরণ ও দ্বীনি দৃঢ়তা: সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে সিজদা দিতে অস্বীকার করায় তিনি গোয়ালিয়র দুর্গে দীর্ঘ সময় কারারুদ্ধ থাকেন। তাঁর আপসহীন অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁর নিকট অনুতপ্ত হয়ে বায়আত গ্রহণ করেন।
- ওফাত: ১০৩৪ হিজরির সফর মাসে তিনি সিরহিন্দে ওফাত বরণ করেন এবং সেখানেই সমাহিত হন।
২. উপাধি ‘মুজাদ্দিদে আলফে সানী’-এর তাৎপর্য
‘মুজাদ্দিদে আলফে সানী’ (مجدد الألف الثاني) অর্থ হলো ‘দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মহান সংস্কারক’। হিজরি প্রথম সহস্রাব্দ পূর্ণ হওয়ার পর ইসলামের দ্বিতীয় সহস্রাব্দের শুরুতে তিনি ইসলামকে কুফর, বিদআত এবং আকবরের বিভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করে সুন্নাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বলেই সমকালীন উলামায়ে কিরাম তাঁকে এই সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করেন।
৩. ইলমুল হাদিস ও সুন্নাহ সুরক্ষায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদান
- বেদআতের মূলোৎপাটন ও সুন্নাহর পুনরুজ্জীবন: তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ ব্যতীত কোনো ইবাদত বা তাসাউফ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন: “সুন্নাহর অনুকরণে একটি ধূলিকণাও হাজার বছরের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম।”
- মাকতূবাত শরিফ (مكتوبات إمام رباني): তাঁর লিখিত ঐতিহাসিক পত্রাবলি (মাকতূবাত) হাদিস ও সুন্নাহর গভীর তাৎপর্যে ভরপুর। তিনি সম্রাট, সেনাপতি, আমীর এবং আলেমদের নিকট প্রেরিত চিঠিতে হাদিসের অকাট্য দলিলের মাধ্যমে বিদআতি প্রথা ও অনৈসলামিক রসম-রেওয়াজ বন্ধের নির্দেশ দেন।
- ‘বিদআতে হাসানা’র বিভ্রান্তি নিরসন: সমকালীন সমাজে বিদআতের ব্যাপক প্রসারের বিরুদ্ধে তিনি হাদিসের ভিত্তিতে প্রমাণ করেন যে, দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো সংযোজনই কল্যাণকর নয়; সকল বিদআতই গোমরাহী।
- হাদিস শাস্ত্রের প্রতি তালেবে ইলমদের উৎসাহ দান: তিনি তাঁর মুরিদ ও খলিফাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা দর্শন ও যুক্তিশাস্ত্রের অতিরিক্ত চর্চা ত্যাগ করে কুরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ জ্ঞানে গভীর মনোনিবেশ করেন।
উপসংহার
মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের দ্বীনি ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট। তিনি সুন্নাহভিত্তিক সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশকে ঈমানহারা হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন।
٥. كيف دخل علم الحديث في بنغلاديش؟ ثم تحدث عن ترجمة الشيخ شرف الدين أبى توامه-
[৫. বাংলাদেশে কীভাবে ইলমুল হাদিস প্রবেশ করে? অতঃপর শাইখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামার জীবনী আলোচনা কর।]
ভূমিকা
সুজলা-সুফলা বাংলাদেশের বুকে ইসলামের আগমন এবং হাদিস চর্চার ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন ও সমৃদ্ধ। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের নৌপথ ধরে সুফী-মুহাদ্দিসগণের পদার্পণ এবং সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বাংলায় ইলমুল হাদিসের সুবর্ণ যুগের সূচনা হয়েছিল।
১. বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের আগমনের ইতিহাস
বাংলাদেশে হাদিস শাস্ত্রের আগমন মূলত তিনটি প্রধান ধারায় সম্পন্ন হয়েছিল:
- আরব বণিক ও প্রাচীন সুফীদের মাধ্যমে (৮ম-১১শ খ্রিষ্টাব্দ): চট্টগ্রামের বন্দর দিয়ে প্রাক-ইসলামিক যুগ থেকেই আরব বণিকদের যাতায়াত ছিল। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁরা সুন্নাহর বাস্তব চরিত্র নিয়ে চট্টগ্রামে আগমন করেন। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও সুন্দরবন উপকূলে তাঁরা প্রাথমিক দ্বীনি কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
- সুলতানী আমল ও সোনারগাঁও শিক্ষা কেন্দ্র (১৩শ খ্রিষ্টাব্দ): ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গ বিজয়ের পর বাংলায় মুসলিম শাসনের বিকাশ ঘটে। এ যুগে বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.) সোনারগাঁওয়ে এসে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল পূর্ব ভারতে হাদিস শিক্ষার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদ্যাপীঠ।
- আলিয়া ও কওমি মাদরাসা শিক্ষা বিপ্লব: ১৮শ শতকে কলকাতা আলিয়া মাদরাসা এবং পরবর্তীতে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ও দারুল উলুম হাটহাজারী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলায় হাদিস পাঠদানের প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার আধুনিক রূপ লাভ করে।
২. শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর বিশদ জীবনী ও অবদান
- নাম ও পরিচয়: শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা আল-বুখারী। তিনি তৎকালীন মধ্য এশিয়ার প্রখ্যাত ইলমি কেন্দ্র বুখারার অধিবাসী ছিলেন।
- দিল্লীতে আগমন: বুখারা থেকে তিনি ইলম অর্জনের জন্য দিল্লীতে আসেন। তিনি একাধারে তাফসীর, হাদিস, ফিকহ, রসায়ন, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় অসামান্য পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। দিল্লীতে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা ও জ্ঞান দেখে তৎকালীন শাসক ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে দিল্লী ত্যাগ করার অনুরোধ জানান।
- সোনারগাঁওয়ে হিজরত (১২৭৭ খ্রি.): ১২৭৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি পরিবার ও বহু শিষ্যসহ পূর্ব বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে আগমন করেন। এখানে তিনি একটি বিশাল খানকাহ, জামে মসজিদ এবং একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
- হাদিস চর্চায় সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়: তাঁর প্রতিষ্ঠিত সোনারগাঁও মাদরাসা ছিল তৎকালীন এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। চীন, মধ্য এশিয়া, পারস্য ও দিল্লী থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে জ্ঞানার্জন করতে আসত। এখানে কুতুবে সিত্তাহর হাদিস সরাসরি সনদসহ পাঠদান করা হতো।
- শীর্ষ ছাত্র—মাখদুমুল মুলক শায়খ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মানেরী (রহ.): ভারতের বিহারের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও সুফী শায়খ মানেরী (রহ.) দীর্ঘ ২২ বছর সোনারগাঁওয়ে আবু তাওয়ামার পদপ্রান্তে বসে হাদিস ও ফিকহের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
- রচিত গ্রন্থাবলি: তিনি ফিকহ ও তাসাউফের ওপর বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তন্মধ্যে ফারসি ভাষায় রচিত ফিকহী গ্রন্থ ‘ফতোয়ায়ে মাগাযিন’ এবং ‘নামায়ে হক’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ওফাত: প্রায় দীর্ঘ আড়াই দশক সোনারগাঁওয়ে হাদিসের খেদমত শেষে ৭০০ হিজরিতে (১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি ওফাত বরণ করেন। সোনারগাঁওয়ে প্রাচীন মোগরাপাড়ায় তাঁর মাযার শরীফ আজও বিদ্যমান।
উপসংহার
শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.) ছিলেন বাংলার বুকে হাদিস শিক্ষার আদি স্থপতি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সোনারগাঁও কেন্দ্রটি বাংলাকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করে বিশ্বমঞ্চে ইলমের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করেছিল।
٦. اذكر نبذة عن ترجمة المفتى عميم الإحسان (رح) مع بيان خدماته في نشر علم الحديث-
[৬. ইলমুল হাদিস প্রসারে মুফতি আমীমুল ইহসান (রহ) এর অবদান উল্লেখপূর্বক তাঁর জীবনী উল্লেখ কর।]
ভূমিকা
বিংশ শতাব্দীতে বাংলাদেশের যে সকল মহান আলেম ইলমুল হাদিসের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মুফতিয়ে আযম আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান আল-মুজাদ্দেদী আল-বারকাতী (রহ.) ছিলেন এক শীর্ষস্থানীয় দিকপাল। ঢাকা আলিয়া মাদরাসার হেড মাওলানা এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতীব হিসেবে তিনি হাদিসের খেদমতে জীবন উৎসর্গ করেন।
১. মুফতি আমীমুল ইহসান (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
- নাম ও বংশপরিচয়: নাম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীমুল ইহসান, উপনাম আবু নঈম, উপাধি মুফতিয়ে আযম। তিনি প্রখ্যাত সুফী পরিবারের সন্তান এবং তাঁর বংশধারা রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
- জন্ম ও শিক্ষা: তিনি ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি ভারতের বিহারের মুঙ্গের জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি কুরআনে কারীম হিফয করেন। এরপর কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে হাদিস, তাফসীর, ফিকহ ও আদবে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে কামিল ও ফখরে মুহাদ্দিসীন ডিগ্রি অর্জন করেন।
- শায়েখ ও উস্তাদগণ: তিনি মুশতাক আহমদ কানপুরী, মাওলানা আব্দুল আহাদ জৌনপুরী এবং হাফিজ আব্দুস সামাদ বিহারী প্রমুখের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন।
- কর্মজীবন: প্রথমে তিনি কলকাতা আলিয়া মাদরাসার প্রধান মুফতি পদে নিয়োজিত হন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ঢাকা আলিয়া মাদরাসার হেড মাওলানা হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত হাদিসের পাঠদান করেন। ১৯৬৪ সালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা খতীব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- ওফাত: ১৯৭৪ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি ঢাকায় ইনতিকাল করেন। বায়তুল মুকাররম সংলগ্ন এলাকায় এবং ঢাকার কুলুটোলা মসজিদে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
২. ইলমুল হাদিস চর্চা ও প্রসারে তাঁর ঐতিহাসিক অবদানসমূহ
- দীর্ঘ তিন দশক বুখারী শরিফের সফল দরস: তিনি কলকাতা ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর সহীহ বুখারীর দরস প্রদান করেন। তাঁর দরস ছিল সনদ, মতন, রিজাল ও ফিকহের গভীর বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ। বর্তমান বাংলাদেশের শত শত শীর্ষ মুহাদ্দিস ছিলেন তাঁর সরাসরি ছাত্র।
- হাদিস বিজ্ঞানের অমর গ্রন্থাবলি প্রণয়ন: তিনি আরবি ও উর্দু ভাষায় প্রায় অর্ধ শতাধিক মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর কালজয়ী গ্রন্থসমূহ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে:
- ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার (فقه السنن والآثار): এটি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এই গ্রন্থে তিনি আহকাম সংক্রান্ত সমস্ত হাদিস বিষয়ভিত্তিক সংকলন করে ফিকহে হানাফীর দালিলিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এটি মিসর ও বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাদৃত হয়েছে।
- মিযানুল আখবার (ميزان الأخبار): এটি মূলত ‘বুলূগুল মারাম’-এর সুবিন্যস্ত ব্যাখ্যা এবং আহকামের হাদিসের তাহকীক।
- মুকাদ্দামায়ে সুনানে নিসাঈ ও মুকাদ্দামায়ে কানযুদ দাকায়িক: উসূলে হাদিসের জটিল বিষয়সমূহ সহজভাবে উপস্থাপনে অতুলনীয়।
- আত-তানকীহ ফি কাউলি মান লাম য়াফক্বাহ: হাদিস শাস্ত্রের গবেষণামূলক আলোচনা।
- ফতোয়া ও হাদিসের সমন্বয়: প্রধান মুফতি হিসেবে তিনি প্রতিটি ফতোয়ায় কুরআনের পাশাপাশি হাদিসের বিশুদ্ধ রেফারেন্স প্রদান করতেন।
উপসংহার
মুফতি আমীমুল ইহসান (রহ.) ছিলেন আন্তর্জাতিক মানের এক প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস। তাঁর রচিত ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ইলমি যোগ্যতার অহংকার হয়ে বেঁচে থাকবে।
٧. أول من ترجم الجامع الصحيح للإمام البخارى (رح) باللغة البنغالية؟ اكتب نبذة عن حياته مع بيان ميزات ترجمته-
[৭. ইমাম বুখারী (রহ) এর “আল-জামি’উস সহিহ” গ্রন্থ কে সর্বপ্রথম বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন? তাঁর অনুবাদের বৈশিষ্ট্যাবলি বর্ণনাসহ তাঁর জীবনী লেখ।]
ভূমিকা
বাংলা ভাষাভাষী কোটি কোটি সাধারণ মুসলমানের ঘরে ঘরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সহীহ হাদিস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহীহ বুখারীর বাংলা তরজমা ছিল এক যুগান্তকারী বিপ্লব। আর এই ঐতিহাসিক কাজের অগ্রদূত ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীন শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)।
১. সর্বপ্রথম অনুবাদকের পরিচয়: হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)
ইমাম বুখারী (রহ.) রচিত ‘আল-জামি’উস সহীহ’-এর সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ ও প্রামাণ্য বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা রচনার মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেন হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.), যিনি উম্মতের মাঝে ‘সদর সাহেব’ নামে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণীয়। তিনি ১৯৫০-এর দশকে লালবাগ কেল্লা জামে মসজিদের হুজরায় বসে তাঁর সুযোগ্য শিষ্যদের সহায়তায় এই অনুবাদ কর্মটি সম্পন্ন করেন।
২. মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী
- জন্ম ও বংশপরিচয়: তিনি ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা জীবন: প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি ভারতের প্রখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দে গমন করেন। সেখানে তিনি শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী, আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী এবং আল্লামা শাব্বীর আহমদ উসমানী (রহ.)-এর সান্নিধ্যে হাদিসের সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করেন।
- আধ্যাত্মিক দীক্ষা: তিনি হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করে তাসাউফের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হন।
- বাংলাদেশে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন: তিনি জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ (ঢাকা), বড় কাটরা মাদরাসা এবং জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জসহ অসংখ্য শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ওফাত: ১৯৬৯ সালের ৮ এপ্রিল এই মহান সাধক ঢাকায় ওফাত বরণ করেন। লালবাগ মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হয়।
৩. তাঁর অনুবাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যাবলি
- সাবলীল ও বিশুদ্ধ বাংলা ভাষা: তৎকালীন সময়ে ধর্মীয় বইয়ের ভাষা যখন দুর্বোধ্য সাধুরীতির ছিল, তখন তিনি অত্যন্ত সহজ, প্রাঞ্জল ও গতিশীল ভাষায় হাদিসের বাংলা রূপান্তর করেন, যা সাধারণ পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।
- সহিহ বুখারীর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও টিকা সংযোজন: এটি কেবল আক্ষরিক অনুবাদ ছিল না; বরং প্রতিটি হাদিসের নিচে প্রয়োজনীয় শানে নুযুল, ফিকহী বিশ্লেষণ এবং সমকালীন সমস্যার সমাধান সম্বলিত সারগর্ভ টিকা (হাশিয়া) প্রদান করা হয়।
- ইমাম বুখারীর তারাজিমুল আবওয়াবের নিপুণ বিশ্লেষণ: ইমাম বুখারীর অধ্যায় শিরোনামের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফিকহী ইস্তিম্বাতগুলোকে বাংলা ভাষায় সহজবোধ্য করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদার প্রতিফলন: অনুবাদে কোনো প্রকার বিকৃতি বা বিভ্রান্তিকর মতবাদের স্থান দেওয়া হয়নি; বরং সালাফে সালেহীনের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা হয়েছে।
- সম্মিলিত সম্পাদনা পরিষদ: সদর সাহেব ফরিদপুরী তাঁর সুযোগ্য খলিফা ও ছাত্র মাওলানা সাখাওয়াতুল্লাহ, হাফেজ্জী হুজুর এবং মাওলানা আজিজুল হক (যিনি পরবর্তীতে ‘বুখারীর বাংলা তরজমা ও ব্যাখ্যা’ পূর্ণতা দেন)-কে সাথে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পাণ্ডুলিপি যাচাই করেছিলেন।
উপসংহার
মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর হাত ধরে বাংলায় সহীহ বুখারী অনুবাদের যে ধারা সূচিত হয়েছিল, তা বাংলাভাষী মুসলিম সমাজে সহীহ সুন্নাহর প্রচার ও প্রসারে এক চিরস্থায়ী বিপ্লব সাধন করেছে।
٨. قيم مساهمات المدارس الإسلامية فى نشر علوم الحديث فى بنغلاديش-
[৮. বাংলাদেশে ইলমে হাদিসের প্রসারে ইসলামি মাদরাসাসমূহের অবদান মূল্যায়ন কর।]
ভূমিকা
বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের চর্চা, প্রচার এবং অস্তিত্ব সংরক্ষণে ইসলামি মাদরাসাসমূহের ভূমিকা অবিসংবাদিত। এ দেশের শত শত আলিয়া ও কওমি মাদরাসা হাজার বছর ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহর মশাল প্রজ্জ্বলিত রেখে চলেছে। এই মাদরাসাসমূহ না থাকলে এ দেশে হাদিসের বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে যেত।
১. বাংলাদেশে ইসলামি মাদরাসা কাঠামোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে প্রধানত দুটি ধারায় ইসলামি মাদরাসা পরিচালিত হয়: (১) আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা ধারা (সরকারি সিলেবাসভুক্ত), এবং (২) কওমি মাদরাসা শিক্ষা ধারা (ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দের আদলে দরসে নিযামী ভিত্তিক)। উভয় ধারাই স্ব-স্ব ক্ষেত্রে হাদিসের প্রচারে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে।
২. হাদিসের প্রসারে আলিয়া মাদরাসাসমূহের অবদান
- সরকারি স্তরে কামিল হাদিস বিভাগ: ঢাকা আলিয়া মাদরাসা, সিলেট সরকারি আলিয়া, পাবনা আলিয়া, চরমোনাই আলিয়া এবং ছারছীনা আলিয়াসহ বিভিন্ন মাদরাসায় কামিল স্তরে ‘হাদিস বিভাগ’ চালু রয়েছে, যেখানে সিহাহ সিত্তাহসহ মূল হাদিস গ্রন্থসমূহ গভীরতার সাথে পড়ানো হয়।
- গবেষণাধর্মী প্রকাশনা: আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক ও গবেষকগণ হাদিসের বহু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা এবং বাংলায় অসংখ্য প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি: ফাজিল ও কামিল স্তরের হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে আধুনিক কারিকুলামে উলুমুল হাদিসের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান প্রদান করা হচ্ছে।
৩. হাদিসের প্রসারে কওমি মাদরাসাসমূহের অবদান
- দরসে নিযামী ও দাওরায়ে হাদিস: দারুল উলুম হাটহাজারী (১৯০১ খ্রি.), পটিয়া মাদরাসা, লালবাগ মাদরাসা, জামিয়া ইমদাদিয়া ফরিদাবাদ ইত্যাদি কওমি মাদরাসায় সর্বোচ্চ স্তর হলো ‘দাওরায়ে হাদিস’ (যা বর্তমানে মাস্টার্সের সমমান প্রাপ্ত)। এখানে এক শিক্ষাবর্ষে কুতুবে সিত্তাহ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ) এবং মুয়াত্তা মালেক, মুয়াত্তা মুহাম্মদ ও তাহাবী শরিফ পূর্ণাঙ্গভাবে আদ্যোপান্ত পাঠদান করা হয়।
- অবিচ্ছিন্ন সনদ সংরক্ষণ: কওমি মাদরাসার শায়খুল হাদিসগণ রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সনদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সনদে হাদিসের ইজাযত প্রদান করছেন।
- সুন্নাহর বাস্তব আমলি পরিবেশ: মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের ২৪ ঘণ্টার জীবনধারা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর বাস্তব নমুনায় পরিচালিত হয়, যা সমাজকে সুন্নাহমুখী করতে উদ্বুদ্ধ করে।
৪. অনুবাদ, তাফসীর ও গবেষণায় অবদান
মাদরাসার আলেম সমাজের নেতৃত্বেই সিহাহ সিত্তাহর প্রতিটি কিতাব প্রাঞ্জল বাংলা ভাষায় পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও ব্যাখ্যাসহ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া মসজিদসমূহে জুমার খুতবা, ওয়াজ মাহফিল ও তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে হাদিসের সঠিক শিক্ষা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো হচ্ছে।
উপসংহার
সংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশে ইসলামি মাদরাসাসমূহ হলো হাদিস বিজ্ঞানের সুরক্ষিত দুর্গ। প্রতিকূল পরিবেশেও এ সকল মাদরাসা কোটি কোটি মুমিনের হৃদয়ে নবীপ্রেম ও সহীহ সুন্নাহর আলো প্রজ্বলিত রেখে চলেছে।
খ বিভাগ (القسم الثاني) – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন সমাধান
٩. اكتب عشرة مصنفات للشيخ المحدث شاه ولى الله الدهلوى-
[৯. শাইখ শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি (রহ) এর দশটি গ্রন্থের নাম লেখ।]
উপমহাদেশের মুজাদ্দিদ ও শীর্ষ মুহাদ্দিস শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (১১১৪–১১৭৬ হি.) রচিত দশটি জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
- হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (حجة الله البالغة): ইসলামের দর্শন ও হাদিসের নিগূঢ় রহস্য নিয়ে রচিত তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ মাস্টারপিস।
- আল-মুসাওওয়া শারহুল মুয়াত্তা (المسوى شرح الموطأ): মুয়াত্তা ইমাম মালেকের অত্যন্ত প্রামাণ্য আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- আল-মুসাফ্ফা শারহুল মুয়াত্তা (المصفى شرح الموطأ): মুয়াত্তা ইমাম মালেকের সারগর্ভ ফারসি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- আল-ফাউযুল কাবীর ফী উসূলিত তাফসীর (الفوز الكبير في أصول التفسير): তাফসীর শাস্ত্রের উসূল নিয়ে রচিত বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ।
- ফাতহুর রহমান ফী তারজামাতিল কুরআন (فتح الرحمن في ترجمة القرآن): পবিত্র কুরআনের ফারসি অনুবাদ।
- ইনসাফ ফী বায়ান সাবাবিল ইখতিলাফ (الإنصاف في بيان سبب الاختلاف): ফিকহী মাযহাবসমূহের মতপার্থক্যের কারণ বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ।
- আযالہতুল খিফা আন খিলাফাতিল খুলাফা (إزالة الخفاء عن خلافة الخلفاء): খোলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফত ও মর্যাদার প্রামাণ্য দলিল।
- আল-আরবাঈন (الأربعين): সনদসহ সংকলিত চল্লিশটি সহীহ হাদিস।
- আত-তাফহীমাতুল ইলাহিয়্যাহ (التفهيمات الإلهية): আধ্যাত্মিক তত্ত্ব ও দর্শনের ওপর রচিত কিতাব।
- তারাযিমু আবওয়াবিল বুখারী (تراجم أبواب البخاري): ইমাম বুখারীর তারাজিম ও অধ্যায় বিন্যাসের রহস্য উদ্ঘাটনমূলক গ্রন্থ।
١٠. اكتب نبذة عن حياة الشيخ أنوار شاه الكشميرى (رح)-
[১০. শাইখ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ) এর জীবনী সংক্ষেপে লেখ।]
পরিচয় ও জন্ম: আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (১২৯২–১৩৫২ হি. / ১৮৭৫–১৯৩৩ খ্রি.) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও প্রখর স্মৃতিশক্তির বিস্ময়কর প্রতিভা। তিনি কাশ্মীরের এক সম্ভ্রান্ত সাইয়্যেদ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা ও অসাধারণ স্মৃতিশক্তি: মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কুরআন পড়া শেষ করেন। দারুল উলুম দেওবন্দে শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান (রহ.)-এর নিকট হাদিসের সর্বোচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি এত তীব্র ছিল যে, একবার কোনো কিতাব পাঠ করলে তা তাঁর স্মৃতিতে চিরতরে গেঁথে যেত। স্বয়ং আল্লামা শিবলী নোমানী ও কবি আল্লামা ইকবাল তাঁর ইলমি গভীরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
কর্মজীবন ও হাদিসের পাঠদান: তিনি দীর্ঘ বারো বছর দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসীন (প্রধান অধ্যাপক ও শায়খুল হাদিস) হিসেবে সহীহ বুখারীর দরস প্রদান করেন। পরবর্তীকালে গুজরাটের জামিয়া ইসলামিয়া ডাভেলে হাদিসের খেদমত করেন। কাদিয়ানী ফিতনা নিরসনে তাঁর গবেষণা ছিল ঐতিহাসিক।
রচিত কিতাবাবলি: তাঁর মুখনিঃসৃত বুখারীর সারগর্ভ লেকচার সংকলন ‘ফায়যুল বারী আলা সহীহিল বুখারী’ (চার খণ্ড) হাদিস সাহিত্যের এক অমর সম্পদ। এছাড়া ‘মুশকিলতুল কুরআন’ ও ‘ইকফারুল মুলহিদীন’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। ১৩৫২ হিজরিতে দেওবন্দে তিনি ইনতিকাল করেন।
١١. اكتب طبقات المحدثين فى بنغلاديش-
[১১. বাংলাদেশের মুহাদ্দিসগণের স্তরসমূহ লেখ।]
বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের প্রচার ও প্রসারে যে সকল মুহাদ্দিস ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের সময়কাল ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে প্রধানত চারটি স্তরে (ত্ববাকাতে) বিভক্ত করা যায়:
- প্রথম স্তর (সূচনাকালীন ও সুলতানী আমল – ১৩শ থেকে ১৬শ শতক): এ স্তরের শীর্ষ মুহাদ্দিস হলেন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা আল-বুখারী (রহ.) এবং তাঁর শীর্ষ ছাত্রগণ।
- দ্বিতীয় স্তর (মুঘল আমল ও সংস্কার যুগ – ১৭শ থেকে ১৯শ শতক): এ যুগে আগমন করেন মুহাদ্দিস নিয়াজ মাখদুম খতানী (রহ.), হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর এবং মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী (রহ.), যাঁরা সুন্নাহর দাওয়াত ও বিদআত উচ্ছেদে কাজ করেন।
- তৃতীয় স্তর (প্রাতিষ্ঠানিক বিপ্লব ও ২০শ শতকের প্রথমার্ধ): কলকাতা ও ঢাকা আলিয়া এবং হাটহাজারী প্রতিষ্ঠার যুগ। এ স্তরের মুহাদ্দিসগণ হলেন: মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ বাঙ্গালী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ কুরাইশী, মুফতি আমীমুল ইহসান, মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী, মাওলানা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.)।
- চতুর্থ স্তর (আধুনিক ও সমকালীন যুগ): শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক (বুখারীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদক), আল্লামা নূর উদ্দীন গহরপুরী, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, আল্লামা আশরাফ আলী ধর্মপুরী এবং বর্তমান আলিয়া ও কওমি মাদরাসার প্রথিতযশা মুহাদ্দিস মণ্ডলী।
١٢. اذكر أشهر المؤلفات فى علم الحديث فى بنغلاديش-
[১২. বাংলাদেশে ইলমে হাদিসের উপর রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]
বাংলাদেশের আলেম ও মুহাদ্দিসগণ হাদিস শাস্ত্রে বহু মৌলিক ও প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তন্মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ কয়েকটি নিম্নরূপ:
- ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার (فقه السنن والآثار): মুফতি সাইয়্যেদ আমীমুল ইহসান (রহ.) রচিত আহকামুল হাদিসের বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ।
- ফজলুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী (فضل الباري شرح صحيح البخاري): শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক (রহ.) রচিত সহীহ বুখারীর অমর বাংলা ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
- মিযানুল আখবার (ميزان الأخبار): মুফতি আমীমুল ইহসান রচিত হাদিসের বিশুদ্ধতা পরিমাপের মানদণ্ড বিষয়ক কিতাব।
- আত-তানকীহ ফি উসূলিল হাদিস: উলুমুল হাদিসের ওপর রচিত প্রামাণ্য গ্রন্থ।
- বুখারী শরিফের প্রথম বাংলা তরজমা: মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) প্রণীত।
- দরসে তিরমিযী ও দরসে আবু দাউদ: বাংলাদেশের বিভিন্ন শায়খুল হাদিসগণের দরসী লেকচারের সংকলন।
- আল-কাউসার ফিল হাদিস: হাদিসের সূক্ষ্ম গবেষণামূলক বাংলা সাময়িকী ও গ্রন্থমালা।
١٣. تحدث عن المدرسة العالية بداكا ودورها فى نشر علم الحديث-
[১৩. বাংলাদেশে ইলমুল হাদিসের প্রসারে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অবদান উল্লেখপূর্বক এ মাদ্রাসা সম্পর্কে আলোচনা কর।]
ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক কলকাতা আলিয়া মাদরাসাই ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়ে ‘সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এটি বাংলা ও আসামের প্রাচীনতম ইসলামি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
হাদিস প্রসারে ঢাকা আলিয়ার ভূমিকা:
- কামিল হাদিস বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা: বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কামিল হাদিস বিভাগ চালু করে সিহাহ সিত্তাহর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এই মাদরাসা।
- যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের পদচারণা: আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী, মুফতি আমীমুল ইহসান, মাওলানা আব্দুর রহমান কাশগড়ী, মাওলানা ফখরুদ্দীন প্রমুখ বিশ্ববিখ্যাত আলেম এখানে শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- গবেষণামূলক লাইব্রেরি: মাদরাসার কুতুবখানায় সংরক্ষিত রয়েছে হাদিস ও উলুমুল হাদিসের বহু দুর্লভ প্রাচীন পাণ্ডুলিপি।
- জাতীয় নেতৃত্ব সৃষ্টি: এ মাদরাসা থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী মুহাদ্দিসগণ দেশের হাজার হাজার আলিয়া ও কওমি মাদরাসায় হাদিসের সফল পাঠদান পরিচালনা করছেন।
١٤. اكتب تأثير دار العلوم بديوبند فى نشر علوم الحديث فى بنغلاديش-
[১৪. বাংলাদেশে ইলমে হাদিসের প্রসারে দারুল উলুম দেওবন্দ এর প্রভাব লেখ।]
১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের সাহারানপুরে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ বাংলাদেশের হাদিস শিক্ষায় সবচেয়ে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছে:
- দরসে নিযামী সিলেবাসের প্রবর্তন: দেওবন্দের কারিকুলাম অনুসরণ করেই বাংলাদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যেখানে দাওরায়ে হাদিস জামাতে কুতুবে সিত্তাহর প্রতিটি গ্রন্থ লাইন বাই লাইন পড়ানো হয়।
- হাটহাজারী ও অন্যান্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠা: দেওবন্দের প্রত্যক্ষ ছাত্র মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ বাঙ্গালী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ কুরাইশী এবং আল্লামা জমিরুদ্দীন আহমদ (রহ.) ১৯০১ সালে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলাদেশে ‘দ্বিতীয় দেওবন্দ’ নামে পরিচিত।
- সনদের বিশ্বস্ততা: বাংলাদেশের দেওবন্দি ধারার আলেমগণ আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী ও হুসাইন আহমদ মাদানীর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত স্বর্ণালি সনদ লাভ করেন।
- বিদআত বিরোধী ভূমিকা: দেওবন্দের প্রভাবেই এ দেশে হাদিসের আলোকে শিরক ও বিদআতের মূলোৎপাটন করে সুন্নাহসম্মত দ্বীন কায়েমের আন্দোলন সফল হয়েছে।
١٥. اكتب مأثرة المحدث نياز مخدوم الختنى فى نشر علم الحديث فى بنغلاديش-
[১৫. বাংলাদেশে ইলমে হাদিসের প্রসারে মুহাদ্দিস নিয়াজ মাখদুম খতানী (রহ) এর অবদান লেখ।]
পরিচয়: মুহাদ্দিস নিয়াজ মাখদুম আল-খতানী (রহ.) ছিলেন মধ্য এশিয়ার অন্তর্গত তুর্কিস্তানের খতান অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত আলেম ও হাদিস বিশারদ। তিনি ১৭শ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশে আগমন করেন।
অবদান:
- তিনি রাজশাহী ও বাঘা অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে একটি সুবিশাল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।
- তৎকালীন সময়ে বাংলায় যখন ফারসি ভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রবল প্রভাব ছিল, তিনি সেখানে বিশুদ্ধ আরবি ভাষা ও হাদিস শাস্ত্রের পঠন-পাঠন চালু করেন।
- তিনি উত্তরবঙ্গে হাদিসের আলো ছড়িয়ে বহু স্থানীয় আলেমকে হাদিসের সনদে ভূষিত করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাকেন্দ্রে দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এসে হাদিসের জ্ঞানার্জন করত। বাংলাদেশে সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
١٦. اكتب أسماء أشهر المحدثين فى بنغلاديش فى القرن التاسع عشر-
[১৬. উনিশ শতকে বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের নাম লেখ।]
উনিশ শতকে (১৮০১–১৯০০ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলাদেশে যে সকল মহান আলেম ইলমুল হাদিসের খেদমতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
- মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী (রহ.) (১৮০০–১৮৭৩ খ্রি.): যিনি বাংলায় দীর্ঘ চার দশক ঘুরে ঘুরে হাদিসের ভিত্তিতে হাজার হাজার মানুষকে বেদআত মুক্ত করে সুন্নাহর অনুসারী করেন। রংপুরে তাঁর মাযার রয়েছে।
- মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদ বাঙ্গালী (রহ.): দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম যুগের ছাত্র এবং বাংলাদেশে দেওবন্দি সিলসিলার হাদিস চর্চার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- মাওলানা সুফী নুর মুহাম্মদ নিজামপুরী (রহ.): চট্টগ্রাম অঞ্চলে হাদিস ও সুন্নাহর বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী।
- মাওলানা কারী মুহাম্মদ বশীরুল্লাহ (রহ.): ঢাকার বিশিষ্ট মুহাদ্দিস।
- মাওলানা উবাইদুল্লাহ আল-উবাইদী সোহরাওয়ার্দী (রহ.): ঢাকা মাদরাসার প্রথম সুপারিনটেনডেন্ট এবং বিশিষ্ট আরবি সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস।
- মাওলানা আব্দুল কাদির রামপুরী (রহ.): সিলেটের অঞ্চলে হাদিস শিক্ষাদাতা বিশিষ্ট আলেম।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমুল হাদিস প্রথম কাদের মাধ্যমে আসে?
প্রথম হিজরি শতাব্দীতে আরব বণিক, উসমান ইবনে আবিল আস আস-সাকাফী (রা.)-এর নেতৃত্বে প্রেরিত সাহাবী দল এবং পরবর্তীতে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের শুভ সূচনা হয়।
২. শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.)-এর মূল অবদান কী?
তিনি হিজায থেকে সনদ অর্জন করে দিল্লীতে স্থায়ীভাবে কুতুবে সিত্তাহর নিয়মিত পাঠদান চালু করেন এবং মিশকাতুল মাসাবীহের অমর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আশি’আতুল লামা’আত’ রচনা করেন।
৩. বাংলায় ইলমুল হাদিসের আদি বিদ্যাপীঠ কোনটি?
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা (রহ.) কর্তৃক সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলায় হাদিস শিক্ষার আদি প্রাণকেন্দ্র।
৪. মুফতি আমীমুল ইহসান (রহ.) রচিত শ্রেষ্ঠ হাদিস গ্রন্থ কোনটি?
মুফতি আমীমুল ইহসান রচিত আহকামুল হাদিসের ওপর শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো চার খণ্ডে সমাপ্ত বিশ্ববিখ্যাত ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’ (فقه السنن والآثار)।
৫. বাংলায় সহীহ বুখারীর প্রথম অনুবাদক কে?
মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (সদর সাহেব) ১৯৫০-এর দশকে সহীহ বুখারীর প্রথম প্রামাণ্য বাংলা অনুবাদ ও ব্যাখ্যা রচনার ঐতিহাসিক সূচনা করেন।
৬. বাংলাদেশের হাদিস শিক্ষায় দারুল উলুম দেওবন্দের প্রভাব কী?
দারুল উলুম দেওবন্দের কারিকুলামের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশে দাওরায়ে হাদিস শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এবং এ দেশের কওমি মাদরাসাসমূহ অবিচ্ছিন্ন সনদের ধারা রক্ষা করে চলেছে।