জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (Qawaidul Lughatil Arabiyyah) – ২০২২০৩, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫৯ মিনিট পড়ার সময়
১২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (Qawaidul Lughatil Arabiyyah)
বিষয় কোড: ২০২২০৩
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

১ নং প্রশ্ন (النحو – নাহু অংশ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান

١. (ألف) عرف الاسم ثم بين علاماته مع ذكر أقسامه من حيث التذكير والتأنيث والتعريف والتنكير مفصلا وممثلا-

[১. (ক) ইসমের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর আলামতসমূহ এবং মুযাক্কার-মুয়ান্নাস ও মারেফা-নাকেরার দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে কালেমাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ইসম (বিশেষ্য/নামবাচক শব্দ), ফে’ল (ক্রিয়া) এবং হরফ (অব্যয়)। এর মধ্যে ‘ইসম’ হলো ভাষার মূল বুনিয়াদ।

১. ইসম (الاسم)-এর সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: নাম, আলামত বা উচ্চতা।

পারিভাষিক অর্থ: “هو كلمة دلت على معنى في نفسها غير مقترنة بأحد الأزمنة الثلاثة وضعا” অর্থাৎ, “যে শব্দ নিজের অর্থ নিজে প্রকাশ করতে পারে এবং অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তিন কালের (অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) কোনো একটির সাথে যুক্ত থাকে না, তাকে ইসম বলে।” যেমন: كِتَابٌ (কিতাব), رَجُلٌ (পুরুষ)।

২. ইসমের আলামত বা বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম (ال) যুক্ত হওয়া। যেমন: الْكِتَابُ।
  2. শব্দের শেষে তানভীন (ً ٍ ٌ) হওয়া। যেমন: قَلَمٌ।
  3. শুরুর হরফে জার (حرف الجر) আসা। যেমন: فِي الْمَسْجِدِ।
  4. মুসনাদ ইলাইহ (উদ্দেশ্য/কর্তা) হওয়া। যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ (এখানে যায়েদ মুসনাদ ইলাইহ)।
  5. ইদাফত হওয়া বা মুদাফ হওয়া। যেমন: غُلَامُ زَيْدٍ।
  6. তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থক রূপ) হওয়া। যেমন: رُجَيْلٌ (ক্ষুদ্র পুরুষ)।
  7. মুনাসিব তানদীয়া বা হরফে নিদা গ্রহণ করা। যেমন: يَا رَسُولَ اللهِ।
  8. তাছনিয়া (দ্বিবচন) ও জামা (বহুবচন) হওয়া। যেমন: مُسْلِمَانِ، مُسْلِمُونَ।

৩. পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের বিচারে প্রকারভেদ (التذكير والتأنيث)

  • মুযাক্কার (المذكر – পুংলিঙ্গ): যে শব্দে স্ত্রীলিঙ্গের কোনো আলামত নেই। যেমন: رَجُلٌ (পুরুষ), كِتَابٌ (বই)।
  • মুয়ান্নাস (المؤنث – স্ত্রীলিঙ্গ): যে শব্দে স্ত্রীলিঙ্গের কোনো আলামত বিদ্যমান বা যা প্রকৃতিগতভাবে নারী জাতিকে নির্দেশ করে। যেমন: امْرَأَةٌ (মহিলা), فَاطِمَةُ। মুয়ান্নাসের প্রধান আলামত তিনটি:
    1. গোল ‘তা’ (التاء المربوطة)। যেমন: غُرْفَةٌ (কক্ষ)।
    2. আলিফে মাকসূরাহ (الألف المقصورة)। যেমন: حُبْلَى، بُشْرَى।
    3. আলিফে মামদূদাহ (الألف الممدودة)। যেমন: حَمْرَاءُ (লাল বর্ণ স্ত্রীলিঙ্গ), صَحْرَاءُ (মরুভূমি)।

৪. নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্টতার বিচারে প্রকারভেদ (التعريف والتنكير)

  • মারেফা (المعرفة – নির্দিষ্ট বিশেষ্য): যে শব্দ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানকে বোঝায়। মারেফা ৭ প্রকার:
    1. যমীর (الضمير – সর্বনাম): هُوَ، أَنْتَ، أَنَا।
    2. আলম (العلم – নামবাচক বিশেষ্য): مُحَمَّدٌ، مَكَّةُ।
    3. ইসমুল ইশারা (اسم الإشارة – নির্দেশক সর্বনাম): هَذَا، ذَلِكَ।
    4. ইসমুল মাওসূল (الاسم الموصول – সম্বন্ধবাচক সর্বনাম): الَّذِي، الَّتِي।
    5. মু’আররাফ বিল লাম (المعرف بـ أل – ‘আল’ যুক্ত শব্দ): الرَّجُلُ।
    6. মুদাফ ইলাল মারেফা (المضاف إلى معرفة – মারেফার দিকে সম্বন্ধযুক্ত): كِتَابُ زَيْدٍ।
    7. মুনাদা (المنادى المعين – নির্দিষ্ট সম্বোধিত পদ): يَا رَجُلُ।
  • নাকেরা (النكرة – অনির্দিষ্ট বিশেষ্য): যে শব্দ কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা জাতিকে বোঝায়। যেমন: رَجُلٌ (যেকোনো একজন পুরুষ), كِتَابٌ (যেকোনো একটি বই)।

١. (ب) عرف الجمع ثم بين إعراب جمع التكسير وجمع المذكر السالم وجمع المؤنث السالم موضحا-

[১. (খ) বহুবচনের (জামা) সংজ্ঞা দাও। অতঃপর জামা তাকসীর, জামা মুযাক্কার সালেম ও জামা মুয়ান্নাস সালেম-এর ইরাব উদাহরণসহ সুস্পষ্ট কর।]

১. জামা বা বহুবচনের পরিচয়

সংজ্ঞা: “ما دل على أكثر من اثنين أو اثنتين بتغيير في صيغة مفرده أو بزيادة في آخره” অর্থাৎ, “যে শব্দ একবচনের রূপ পরিবর্তন করে কিংবা শব্দের শেষে নির্দিষ্ট হরফ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুইয়ের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে জামা (الجمع) বলে।”

২. তিন প্রকার বহুবচনের পরিচয় ও তাদের ইরাব (إعراب الجموع)

  1. জামা তাকসীর (جمع التكسير – ভগ্ন বহুবচন):
    • পরিচয়: যে বহুবচনে একবচনের মূল গঠন অক্ষুণ্ণ থাকে না; বরং ভেঙে যায়। যেমন: رَجُلٌ (একবচন) থেকে رِجَالٌ (বহুবচন), كِتَابٌ থেকে كُتُبٌ।
    • ইরাব: একবচন ইসমের মতোই হরকত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা এর ইরাব হয়:
      • মারফু অবস্থায় পেশ (ضمة) হয়। যেমন: جَاءَ الرِّجَالُ।
      • মানসুব অবস্থায় যবর (فتحة) হয়। যেমন: رَأَيْتُ الرِّجَالَ।
      • মাজরুর অবস্থায় যের (كسرة) হয়। যেমন: مَرَرْتُ بِالرِّجَالِ।
  2. জামা মুযাক্কার সালেম (جمع المذكر السالم):
    • পরিচয়: যে বহুবচনে একবচনের মূল রূপ ঠিক রেখে শেষে ওয়াও-নূন (ـُونَ) বা ইয়া-নূন (ـِينَ) যোগ করা হয়। যেমন: مُسْلِمٌ থেকে مُسْلِمُونَ।
    • ইরাব: হরফ দ্বারা এর ইরাব নির্ধারিত হয়:
      • মারফু অবস্থায় ওয়াও (واو) দ্বারা হয়। যেমন: قَامَ الْمُسْلِمُونَ।
      • মানসুব অবস্থায় ইয়া (ياء) এবং পূর্বের অক্ষরে যবর দ্বারা হয়। যেমন: رَأَيْتُ الْمُسْلِمِينَ।
      • মাজরুর অবস্থায় ইয়া (ياء) দ্বারা হয়। যেমন: مَرَرْتُ بِالْمُسْلِمِينَ।
  3. জামা মুয়ান্নাস সালেম (جمع المؤنث السالم):
    • পরিচয়: যে বহুবচনে একবচনের শেষে আলিফ ও লম্বা ‘তা’ (ـَاتٌ) যোগ করা হয়। যেমন: مُسْلِمَةٌ থেকে مُسْلِمَاتٌ।
    • ইরাব:
      • মারফু অবস্থায় পেশ (ضمة) হয়। যেমন: جَاءَتِ الْمُسْلِمَاتُ।
      • মানসুব অবস্থায় যের (كسرة) হয় (এতে কখনো যবর হয় না)। যেমন: رَأَيْتُ الْمُسْلِمَاتِ।
      • মাজরুর অবস্থায় যের (كسرة) হয়। যেমন: مَرَرْتُ بِالْمُسْلِمَاتِ।

١. (ج) عرف الجملة الاسمية ثم اكتب مواضع تقديم الخبر على المبتداء وجوبا بالأمثلة-

[১. (গ) জুমলা ইসমিয়ার সংজ্ঞা দাও। অতঃপর মুবতাদার পূর্বে খবরকে আবশ্যকীয়ভাবে (ওয়াজিব হিসেবে) অগ্রবর্তী করার স্থানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]

১. জুমলা ইসমিয়াহ (الجملة الاسمية)-এর পরিচয়

সংজ্ঞা: “هي الجملة التي تبدأ باسم أصالة وتتكون من ركنين أساسيين: المبتدأ والخبر” অর্থাৎ, “যে বাক্য মূলত কোনো ইসম দ্বারা আরম্ভ হয় এবং যা মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) নিয়ে গঠিত হয়, তাকে জুমলা ইসমিয়াহ বলে।” যেমন: اللهُ رَبُّنَا (আল্লাহ আমাদের রব), الْعِلْمُ نُورٌ (জ্ঞান আলো)।

২. মুবতাদার ওপর খবরকে ওয়াজিবভাবে পূর্বে আনার (تقديم الخبر وجوبا) ক্ষেত্রসমূহ

সাধারণ নিয়ম হলো মুবতাদা পূর্বে আসবে এবং খবর পরে আসবে। কিন্তু নিম্নোক্ত চারটি স্থানে খবরকে পূর্বে আনা ওয়াজিব:

  1. খবর যদি এমন শব্দ হয় যা বাক্যের শুরুতে আসা আবশ্যক (صدارة الكلام): যেমন ইসমুল ইস্তিমহাম (প্রশ্নবোধক অব্যয়)। খবর প্রশ্নবোধক শব্দ হলে তা মুবতাদার আগে আসা ওয়াজিব।

    উদাহরণ: أَيْنَ الْكِتَابُ؟ (কিতাবটি কোথায়?) — এখানে أَيْنَ খবর মুকাদ্দাম এবং الْكِتَابُ মুবতাদা মুয়াখ্খার। كَيْفَ حَالُكَ؟ (তুমি কেমন আছ?)।
  2. মুবতাদার সাথে এমন যমীর যুক্ত থাকলে যা খবরের দিকে প্রত্যাবর্তন করে: কারণ আরবি ভাষায় কোনো সর্বনাম তার পরবর্তী শব্দের দিকে ফিরতে পারে না (لئلا يعود الضمير على متأخر لفظا ورتبة)।

    উদাহরণ: فِي الدَّارِ صَاحِبُهَا (ঘরে তার মালিক আছে) — এখানে ‘হা’ যমীরটি الدَّارِ (খবর)-এর দিকে ফিরছে। যদি বলা হতো صَاحِبُهَا فِي الدَّارِ তবে যমীর পূর্বে চলে যেত যা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
  3. মুবতাদা যদি নাকেরা মাকসুরাহ হয় এবং খবর যদি শিবহু জুমলাহ (জার-মাজরুর বা যরফ) হয়:

    উদাহরণ: عِنْدِي كِتَابٌ (আমার নিকট একটি বই আছে), فِي الْقَصْفِ رَجُلٌ (কক্ষে একজন লোক রয়েছে)। এখানে كِتَابٌ নাকেরা হওয়ায় খবর عِنْدِي আগে আনা ওয়াজিব।
  4. খবরের মধ্যে যদি অর্থকে সীমিত বা সীমাবদ্ধ (হাসর) করা হয় ‘ইন্নামা’ বা ‘ইল্লা’ দ্বারা:

    উদাহরণ: إِنَّمَا فِي الْمَسْجِدِ زَيْدٌ (মসজিদে কেবল যায়েদই রয়েছে), مَا شَاعِرٌ إِلَّا عَلِيٌّ।

١. (د) ما الأفعال الناقصة؟ وما الحروف المشبهة بالفعل؟ بين إعرابهما ممثلا وموضحا-

[১. (ঘ) আফ’আলে নাকিসাহ এবং হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল বলতে কী বোঝায়? এদের আমল ও ইরাব উদাহরণসহ বিশ্লেষণ কর।]

১. আফ’আলে নাকিসাহ (الأفعال الناقصة)

পরিচয়: যে সমস্ত ক্রিয়া কেবল ফায়েল (কর্তা) নিয়ে বাক্য পূর্ণ করতে পারে না; বরং বাক্যের অর্থ পূর্ণ করার জন্য একটি খবরের মুখাপেক্ষী হয় এবং যা জুমলা ইসমিয়ার শুরুতে এসে মুবতাদা ও খবরকে প্রভাবিত করে, তাকে আফ’আলে নাকিসাহ বলে।

প্রধান আফ’আলে নাকিসাহসমূহ: كَانَ (ছিল), صَارَ (হয়ে গেল), أَصْبَحَ (সকালে উপনীত হলো), أَمْسَى (সন্ধ্যায় উপনীত হলো), أَضْحَى (পূর্বাহ্ণে হলো), ظَلَّ (দিবসভর থাকল), بَاتَ (রাত্রিযাপন করল), لَيْسَ (নয়), مَا زَالَ، مَا دَامَ، مَا بَرِحَ، مَا فَتِئَ، مَا انْفَكَّ।

আমল ও ইরাব: আফ’আলে নাকিসাহ মুবতাদাকে পেশ (রফা) দেয়, যাকে ‘ইসমু কানা’ বলা হয় এবং খবরকে যবর (নসব) দেয়, যাকে ‘খবরু কানা’ বলা হয়।

উদাহরণ: كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا (যায়েদ দণ্ডায়মান ছিল)। এখানে زَيْدٌ হলো ইসমু কানা (মারফু) এবং قَائِمًا হলো খবরু কানা (মানসুব)।

২. হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল (الحروف المشبهة بالفعل)

পরিচয়: যে ছয়টি অব্যয় গঠন ও অর্থের দিক দিয়ে ফে’লের সাদৃশ্য রাখে এবং জুমলা ইসমিয়ার শুরুতে প্রবেশ করে, তাদেরকে হুরুফে মুশাব্বাহা বিল ফে’ল বলে।

ছয়টি হরফ: إِنَّ (নিশ্চয়), أَنَّ (যে/নিশ্চয়), كَأَنَّ (যেন/সাদৃশ্য), لَكِنَّ (কিন্তু/সংশোধন), لَيْتَ (হায় আফসোস/অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা), لَعَلَّ (হয়তো/সম্ভাবনা)।

আমল ও ইরাব: এরা আফ’আলে নাকিসাহর সম্পূর্ণ বিপরীত আমল করে। অর্থাৎ এরা মুবতাদাকে যবর (নসব) দেয়, যাকে ‘ইসমু ইন্না’ বলে এবং খবরকে পেশ (রফা) দেয়, যাকে ‘খবরু ইন্না’ বলে।

উদাহরণ: إِنَّ اللهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ (নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু)। এখানে اللهَ হলো ইসমু ইন্না (মানসুব) এবং غَفُورٌ হলো খবরু ইন্না (মারফু)।


١. (هـ) عرف الإضافة ثم بين إعرابها وأحكامها مفصلا-

[১. (ঙ) ইদাফতের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর ইরাব ও বিধি-বিধান বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. ইদাফত (الإضافة)-এর পরিচয়

সংজ্ঞা: “نسبة تقييدية بين اسمين توجب جر الثاني أبدا” অর্থাৎ, “একটি বিশেষ্যের সাথে অপর একটি বিশেষ্যের এমন সম্বন্ধ বা সংযুক্তি স্থাপন করা, যার ফলে দ্বিতীয় বিশেষ্যটি সর্বদা যেরযুক্ত (মাজরুর) হয়।” প্রথম পদটিকে ‘মুদাফ’ (المضاف) এবং দ্বিতীয় পদটিকে ‘মুদাফ ইলাইহ’ (المضاف إليه) বলা হয়। যেমন: كِتَابُ زَيْدٍ (যায়েদের বই)।

২. মুদাফ ও মুদাফ ইলাইহের ইরাব

  • মুদাফের ইরাব: মুদাফের কোনো নির্দিষ্ট ইরাব নেই; বাক্যে তার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সে মারফু, মানসুব বা মাজরুর যেকোনো অবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যেমন:
    • মারফু: جَاءَ غُلَامُ زَيْدٍ (যায়েদের গোলাম এসেছে)।
    • মানসুব: رَأَيْتُ غُلَامَ زَيْدٍ (আমি যায়েদের গোলামকে দেখেছি)।
    • মাজরুর: مَرَرْتُ بِغُلَامِ زَيْدٍ (আমি যায়েদের গোলামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)।
  • মুদাফ ইলাইহের ইরাব: মুদাফ ইলাইহ সর্বদা মাজরুর (যেরযুক্ত) হবে। যেমন: زَيْدٍ।

৩. ইদাফতের মৌলিক আহকাম বা নিয়মাবলি

  1. মুদাফের শুরুতে কখনো আলিফ-লাম (ال) প্রবেশ করতে পারে না (শব্দটি খাঁটি ইদাফত হলে)।
  2. মুদাফের শেষে কখনো তানভীন (ً ٍ ٌ) যুক্ত হতে পারে না। যেমন: كِتَابٌ থেকে كِتَابُ اللهِ।
  3. মুদাফ যদি তাছনিয়া (দ্বিবচন) বা জামা মুযাক্কার সালেম (পুংলিঙ্গ বহুবচন) হয়, তবে ইদাফতের কারণে তার শেষের নূন (ن) বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: غُلَامَانِ থেকে غُلَامَا زَيْدٍ, مُسْلِمُونَ থেকে مُسْلِمُو مِصْرَ।
  4. মুদাফ ও মুদাফ ইলাইহের মাঝে সাধারণত কোনো তৃতীয় শব্দ প্রবেশ করতে পারে না।

١. (و) عرف المنادى ثم اذكر أنواعه وإعرابه مفصلا-

[১. (চ) মুনাদার পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ ও ইরাব বিস্তারিত উল্লেখ কর।]

১. মুনাদা (المنادى)-এর সংজ্ঞা

সংজ্ঞা: “هو الاسم المطلوب إقباله بحرف من حروف النداء ملفوظ أو مقدر” অর্থাৎ, “যে বিশেষ্যকে হরফে নিদা (আহ্বানসূচক অব্যয়) দ্বারা দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডাকা হয়, তাকে মুনাদা বলে।” হরফে নিদা ৫টি: يَا، أَيَا، هَيَا، أَيْ، এবং হামযা (أَ)। যেমন: يَا عَبْدَ اللهِ।

২. মুনাদার প্রকারভেদ ও ইরাব

মুনাদা মূলত ৫ প্রকার এবং তাদের ইরাবের বিধান দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম বিধান: মাবনী আলার রফা (مبني على ما يرفع به): যে সমস্ত মুনাদা পেশযুক্ত অবস্থার ওপর মাবনী হয় (অর্থাৎ রূপগতভাবে পেশ থাকে কিন্তু মহলে নসব হয়):

  1. মুফরাদ আলম (المفرد العلم – একক নামবাচক বিশেষ্য): যদি মুনাদা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির একক নাম হয়। যেমন: يَا زَيْدُ، يَا مُحَمَّدُ (দ্বিবচনে: يَا زَيْدَانِ, বহুবচনে: يَا زَيْدُونَ)।
  2. নাকেরা মাকসূদাহ (النكرة المقصودة – নির্দিষ্ট অনির্দিষ্ট পদ): অনির্দিষ্ট শব্দ কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ডাকা হলে। যেমন কোনো অন্ধ ব্যক্তি যদি সামনে থাকা ব্যক্তিকে বলে: يَا رَجُلُ خُذْ بِيَدِي (হে পুরুষ, আমার হাত ধর)।

দ্বিতীয় বিধান: সরাসরি মানসুব হওয়া (معرب منصوب): নিম্নোক্ত তিন প্রকার মুনাদা সরাসরি যবরযুক্ত (মানসুব) হয়:

  1. মুদাফ (المضاف): মুনাদা যদি অন্য শব্দের সাথে ইদাফতযুক্ত হয়। যেমন: يَا عَبْدَ اللهِ، يَا رَسُولَ اللهِ।
  2. শিবহু মুদাফ (الشبيه بالمضاف – মুদাফের সদৃশ): যে মুনাদার পূর্ণ অর্থ প্রকাশের জন্য পরবর্তী শব্দের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকে। যেমন: يَا طَالِعًا جَبَلًا (হে পাহাড়ে আরোহণকারী)।
  3. নাকেরা গায়রে মাকসূদাহ (النكرة غير المقصودة – সাধারণ অনির্দিষ্ট পদ): নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য না করে সাধারণ সবাইকে ডাকা হলে। যেমন কোনো অন্ধ লোক সাধারণভাবে সবাইকে ডেকে বলল: يَا رَجُلًا خُذْ بِيَدِي (হে যেকোনো পুরুষ, আমার হাত ধর)।

২ নং প্রশ্ন (الصرف – সরফ অংশ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান

٢. (ألف) تحدث عن مبادئ علم الصرف مركزا على النقاط التالية: تعريف علم الصرف؛ واضع علم الصرف؛ ثمرة علم الصرف؛ المراد بالميزان الصرفي؛

[২. (ক) ইলমুস সরফের মৌলিক নীতিসমূহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে আলোচনা কর: ইলমুস সরফের সংজ্ঞা; এর প্রবর্তক; এর অর্জিত ফল; মীযানুস সরফী দ্বারা উদ্দেশ্য।]

১. ইলমুস সরফ (علم الصرف)-এর সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: পরিবর্তন করা, রূপান্তর করা বা ফেরানো (التحويل والتغيير)।

পারিভাষিক অর্থ: “علم بأصول تعرف بها أحوال أبنية الكلم التي ليست بإعراب ولا بناء” অর্থাৎ, “যে শাস্ত্রের নিয়মাবলি দ্বারা আরবি শব্দের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর, মূল হরফ, অতিরিক্ত হরফ এবং শব্দ গঠনের পদ্ধতি জানা যায় (যা ইরাব বা মাবনী সংক্রান্ত নয়), তাকে ইলমুস সরফ বলে।”

২. ইলমুস সরফের প্রবর্তক (واضع علم الصرف)

সর্বসম্মত মত অনুযায়ী ইলমুস সরফের মূল ভিত্তি স্থাপনকারী হলেন প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক মু’আজ ইবনে মুসলিম আল-হাররা আল-কুফী (রহ.) (ওফাত: ১৮৭ হি.)। অনেকে হযরত আলী (রা.) এবং আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (রহ.)-কেও নাহু ও সরফের সম্মিলিত প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করেন।

৩. ইলমুস সরফ পাঠের ফল ও উপকারিতা (ثمرة علم الصرف)

  1. শব্দ উচ্চারণে জিহ্বাকে ভুল উচ্চারণ ও বিকৃতি থেকে রক্ষা করা।
  2. একটি মূল ধাতু (মাসদার) থেকে শত শত অর্থপূর্ণ শব্দের রূপান্তর (ইশতিকাক) আয়ত্ত করা।
  3. পবিত্র কুরআন ও হাদিসের জটিল ও সূক্ষ্ম শব্দাবলির সঠিক ব্যুৎপত্তি ও অর্থ অনুধাবন করা।

৪. মীযানুস সরফী (الميزان الصرفي) দ্বারা উদ্দেশ্য

আরবি ভাষায় শব্দের মূল ও অতিরিক্ত হরফ পরিমাপ করার জন্য ব্যাকরণবিদগণ একটি মানদণ্ড বা বাটখারা নির্ধারণ করেছেন, যাকে ‘মীযানুস সরফী’ বলে। তাঁরা অধিকাংশ শব্দের তিন মূল হরফের ভিত্তিতে ف – ع – ل (ফা-আইন-লাম)-কে আদর্শ মানদণ্ড গ্রহণ করেছেন। প্রথম হরফকে ‘ফা-কালিমা’, দ্বিতীয় হরফকে ‘আইন-কালিমা’ এবং তৃতীয় হরফকে ‘লাম-কালিমা’ বলা হয়। যেমন: ضَرَبَ এর ওযন فَعَلَ, كَرُمَ এর ওযন فَعُلَ, আর অতিরিক্ত হরফ থাকলে তা ওযনে যুক্ত হয়, যেমন: أَكْرَمَ এর ওযন أَفْعَلَ।


٢. (ب) عرف الفعل ثم بين أقسامه من حيث التجرد والزيادة والجمود والاشتقاق مفصلا-

[২. (খ) ফে’ল বা ক্রিয়ার সংজ্ঞা দাও। অতঃপর মুজাররাদ-মাযীদ এবং জামিদ-মুশতাক্বের দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. ফে’ল (الفعل)-এর সংজ্ঞা

সংজ্ঞা: “هو كلمة دلت على حدث مقترن بأحد الأزمنة الثلاثة (الماضي أو الحال أو الاستقبال)” অর্থাৎ, “যে শব্দ কোনো কাজ বা ঘটনা প্রকাশ করে এবং যা তিন কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) কোনো একটি কালের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকে, তাকে ফে’ল বলে।” যেমন: نَصَرَ (সে সাহায্য করল), يَكْتُبُ (সে লিখছে)।

২. তাজাররুদ ও যিয়াদাহর বিচারে প্রকারভেদ (التجرد والزيادة)

  • মুজাররাদ (المجرد): যে ফে’লের মাকবুল বা মূল মাযীর সীগায় কেবল মূল হরফ থাকে, কোনো অতিরিক্ত হরফ থাকে না। এটি দুই প্রকার:
    1. সুলাসী মুজাররাদ (ثلاثي مجرد): যাতে তিনটি মূল হরফ থাকে। যেমন: كَتَبَ، عَلِمَ।
    2. রুবায়ী মুজাররাদ (رباعي مجرد): যাতে চারটি মূল হরফ থাকে। যেমন: دَحْرَجَ (সে গড়াল), زَلْزَلَ।
  • মাযীদ ফীহ (المزيد فيه): যে ফে’লের মূল হরফের সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত হরফ যুক্ত করা হয়। এটি দুই প্রকার:
    1. সুলাসী মাযীদ ফীহ (ثلاثي مزيد فيه): তিন হরফের সাথে অতিরিক্ত হরফ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। যেমন: أَكْرَمَ (বাবে ইফ’আল), عَلَّمَ (বাবে তাফঈল), جَاهَدَ (বাবে মুফা’আলাহ), اسْتَغْفَرَ (বাবে ইসতিফ’আল)।
    2. রুবায়ী মাযীদ ফীহ (رباعي مزيد فيه): চার হরফের সাথে অতিরিক্ত হরফ যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। যেমন: تَدَحْرَجَ।

৩. জমূদ ও ইশতিকাক্বের বিচারে প্রকারভেদ (الجمود والاشتقاق)

  • জামিদে ফে’ল (الجامد): যে ক্রিয়ার রূপান্তর ঘটে না; অর্থাৎ যা কেবল এক রূপেই সীমাবদ্ধ থাকে (সাধারণত কেবল মাযী বা কেবল আমর হিসেবে থাকে, মুযারে হয় না)। যেমন:
    • প্রশংসা ও নিন্দার ফে’ল: نِعْمَ (উত্তম), بِئْسَ (নিকৃষ্ট)।
    • না-বোধক ফে’ল: لَيْسَ (নয়)।
    • আকাঙ্ক্ষার ফে’ল: عَسَى (হয়তো)।
  • মুশতাক্ব ফে’ল (المشتق বা المتصرف): যে ফে’ল থেকে অন্যান্য রূপ তৈরি হয়; অর্থাৎ যার অতীত (মাযী), বর্তমান/ভবিষ্যৎ (মুযারে) এবং আদেশসূচক (আমর) সকল রূপ পাওয়া যায়। যেমন: ضَرَبَ – يَضْرِبُ – اضْرِبْ।

٢. (ج) عرف الإعلال ثم اذكر أقسامه مفصلا-

[২. (গ) ই’লালের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

১. ই’লাল (الإعلال)-এর সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: রোগাক্রান্ত করা বা পরিবর্তন সাধন করা।

পারিভাষিক অর্থ: “تغيير حروف العلة (الواو، الألف، الياء) بقلبها أو تسكينها أو حذفها تخفيفا على اللسان” অর্থাৎ, “উচ্চারণ সহজ করার উদ্দেশ্যে ইল্লতের হরফসমূহকে (ওয়াও, আলিফ, ইয়া) পরিবর্তন করা, সাকিন করা বা সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করার ব্যাকরণগত নিয়মকে ই’লাল বলে।”

২. ই’লালের প্রকারভেদ (أقسام الإعلال)

ই’লাল প্রধানত তিন প্রকার:

  1. ই’লাল বিল ক্বলব (الإعلال بالقلب – রূপান্তরকরণ): এক হরফে ইল্লতকে অপর হরফে ইল্লতে রূপান্তর করা।

    নিয়ম ও উদাহরণ: ওয়াও বা ইয়া হরকতযুক্ত হয়ে তার পূর্বের অক্ষর যবরযুক্ত হলে ওয়াও বা ইয়া আলিফে রূপান্তরিত হয়। যেমন: قَوَلَ থেকে قَالَ, এবং بَيَعَ থেকে بَاعَ। অনুরূপভাবে رِضْوٌ থেকে رِضًى।
  2. ই’লাল বিল ইসকান (الإعلال بالإسكان – শান্তকরণ/সাকিনকরণ): হরফে ইল্লতের হরকতকে বিলুপ্ত করে তাকে সাকিন করা অথবা তার হরকত পূর্ববর্তী সহীহ অক্ষরে স্থানান্তর করা।

    নিয়ম ও উদাহরণ: يَقْوُلُ-তে ওয়াও-এর পেশ পূর্ববর্তী কাফ-এ দিয়ে يَقُولُ করা হয়েছে। يَبْيِعُ থেকে يَبِيعُ করা হয়েছে।
  3. ই’লাল বিল হাযফ (الإعلال بالحذف – বিলোপসাধন): উচ্চারণের জটিলতা বা দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে হরফে ইল্লতকে সম্পূর্ণ ফেলে দেওয়া।

    নিয়ম ও উদাহরণ: قَوْلٌ থেকে আমরের সীগায় قُولْ হয়েছিল, দুই সাকিনের কারণে ওয়াও বিলুপ্ত হয়ে قُلْ হয়েছে। অনুরূপভাবে وَعَدَ থেকে মুযারেতে ওয়াও বিলুপ্ত হয়ে يَعِدُ হয়।

٢. (د) اكتب مواضع استخدام همزة القطع وهمزة الوصل ممثلا-

[২. (ঘ) হামযাতুল ক্বাত’ঈ এবং হামযাতুল অস্ল ব্যবহারের স্থানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]

১. হামযাতুল অস্ল (همزة الوصل)

পরিচয়: যে হামযা শব্দের শুরুতে পাঠ করার সময় উচ্চারিত হয়, কিন্তু পূর্বে কোনো শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়লে উচ্চারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

ব্যবহারের স্থানসমূহ:

  1. শব্দের শুরুতে যুক্ত ‘আলিফ-লাম’ (ال)-এর হামযা। যেমন: الْكِتَابُ (মিলিয়ে পড়লে: وَالْكِتَابُ)।
  2. সুলাসী মুজাররাদের আমরের হামযা। যেমন: اكْتُبْ، اضْرِبْ (মিলিয়ে পড়লে: وَاكْتُبْ)।
  3. পাঁচ ও ছয় অক্ষরের (খুমাসী ও সুদাসী) ফে’লের মাযী, আমর ও মাসদারের হামযা। যেমন: বাবে ইনক্বিলাব (انْطَلَقَ – انْطَلِقْ – انْطِلَاقٌ), বাবে ইসতিফ’আল (اسْتَغْفَرَ – اسْتَغْفِرْ – اسْتِغْفَارٌ)।
  4. নির্দিষ্ট ১০টি বিশেষ্য পদে: اسْمٌ (নাম), ابْنٌ (পুত্র), ابْنَةٌ (কন্যা), امْرُؤٌ (ব্যক্তি), امْرَأَةٌ (মহিলা), اثْنَانِ (দুই), اثْنَتَانِ (দুই স্ত্রীলিঙ্গ), ابْنُمٌ، اسْتٌ، এবং শপথের শব্দ ايْمُنُ اللهِ।

২. হামযাতুল ক্বাত’ঈ (همزة القطع)

পরিচয়: যে হামযা শব্দের শুরুতে এককভাবে কিংবা পূর্বে অন্য শব্দের সাথে মিলিয়ে সর্বাবস্থায় স্পষ্টরূপে উচ্চারিত হয় এবং যার ওপর বা নিচে হামযা চিহ্ন (ء) লেখা হয়।

ব্যবহারের স্থানসমূহ:

  1. হামযাতুল অস্লের উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত সমস্ত ইসমের হামযা। যেমন: أَحْمَدُ، أَبٌ، أُمٌّ، إِبْرَاهِيمُ।
  2. সমস্ত হরফের হামযা (আলিফ-লাম ব্যতীত)। যেমন: إِنَّ، أَنَّ، إِلَى، أَوْ، أَمْ।
  3. সুলাসী মুজাররাদের মাযীর মূল হামযা। যেমন: أَخَذَ، أَمَرَ।
  4. চার অক্ষরের (রুবায়ী মাযীদ) বাবে ইফ’আলের মাযী, আমর ও মাসদারের হামযা। যেমন: أَكْرَمَ (মাযী), أَكْرِمْ (আমর), إِكْرَامٌ (মাসদার)।
  5. মুযারের মুতাকাল্লিম সীগার শুরুতে আসা হামযা। যেমন: أَكْتُبُ (আমি লিখছি), أَسْتَغْفِرُ।

৩ নং প্রশ্ন (الترجمة – আরবিতে অনুবাদ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান

٣. ترجم النص الأتى إلى العربية الفصحى:

[৩. নিচের অনুচ্ছেদটি শুদ্ধ প্রাঞ্জল আরবিতে রূপান্তর কর:]

বাংলা মূল পাঠ:
“মসজিদে আকসা মুসলমানদের প্রথম কেবলা ও ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। এটি বর্তমানে ফিলিস্তিনে অবস্থিত। মুসলমানরা ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে হযরত ওমর (রা) এর শাসনামলে ফিলিস্তিন বিজয় করে। ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা ফিলিস্তিন দখল করে নেয়। ১১৮৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার করেন। ১৯৪৭ সালে ফিলিস্তিনের ভূমিতে অবৈধ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।”

الترجمة إلى العربية الفصحى:

“المَسْجِدُ الأَقْصَى هُوَ القِبْلَةُ الأُولَى لِلْمُسْلِمِينَ، وَثَالِثُ أَقْدَسِ مَسْجِدٍ فِي الإِسْلَامِ. وَهُوَ يَقَعُ حَالِيًّا فِي فِلَسْطِينَ. وَقَدْ فَتَحَ المُسْلِمُونَ فِلَسْطِينَ فِي عَامِ ٦٣٧ مِيلَادِيَّةً فِي عَهْدِ خِلَافَةِ سَيِّدِنَا عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ. ثُمَّ احْتَلَّ الصَّلِيبِيُّونَ فِلَسْطِينَ عَامَ ١٠٩٩ مِيلَادِيَّةً. وَفِي عَامِ ١١٨٩ مِيلَادِيَّةً، اسْتَعَادَ السُّلْطَانُ صَلَاحُ الدِّينِ الأَيُّوبِيُّ فِلَسْطِينَ وَحَرَّرَهَا. وَفِي عَامِ ١٩٤٧ مِيلَادِيَّةً، أُقِيمَتْ دَوْلَةُ إِسْرَائِيلَ غَيْرُ الشَّرْعِيَّةِ عَلَى أَرْضِ فِلَسْطِينَ.”


৪ নং প্রশ্ন (الإنشاء والرسالة – পত্র/দরখাস্ত) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান (উভয়টি দেওয়া হলো)

٤. اكتب رسالة تهنئة إلى صديق لك قد نجح فى الاختبار-

[৪. (বিকল্প ১) পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ায় বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি আরবি পত্র লেখ:]

التاريخ: ٢٥ أكتوبر ٢٠٢٢م
المكان: دكا، بنغلاديش

صديقي العزيز/ أحمد المحترم،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، أما بعد:

فإنه ليسرني ويثلج صدري أن أزف إليك أحر التهاني وأطيب التبريكات بمناسبة نجاحك الباهر وتفوقك الرائع في اختبار شهادة الفاضل (السنوية) بتقدير ممتاز.

لقد علمت بنتيجتك المشرقة من لوحة الإعلانات، فغمرتني الفرحة والسعادة، وعلمت أن هذا الفوز العظيم لم يكن وليد الصدفة، بل هو ثمرة جهدك المتواصل وسهرك الطويل في طلب العلم. إنك بحق نموذج للطالب المثالي والمجتهد.

أسأل الله العلي القدير أن يبارك لك في هذا النجاح، وأن يجعله خطوة مباركة نحو مستقبل حافل بالعطاء وخدمة الإسلام والمسلمين، وأن يوفقك في المراحل الدراسية القادمة إلى أعلى المراتب.

أبلغ سلامي وتحياتي الحارة إلى والديك الكريمين وجميع أفراد أسرتك المباركة.

صديقك المخلص:
عبد الله بن الرحمن
طالب قسم الحديث والدراسات الإسلامية

অথবা (বিকল্প ২)

أو: اكتب طلبا إلى مدير المدرسة تطلب منه المنحة الدراسية-

[৪. (বিকল্প ২) মাদরাসার অধ্যক্ষের নিকট শিক্ষা বৃত্তির (উপবৃত্তি/স্টাইপেন্ড) আবেদন জানিয়ে একটি দরখাস্ত লেখ:]

التاريخ: ٢٠ أكتوبر ٢٠٢٢م

إلى: فضيلة الشيخ مدير المدرسة / رئيس الجامعة المحترم
المدرسة العالية، دكا.

الموضوع: طلب الحصول على المنحة الدراسية (المساعدة المالية).

فضيلة المدير المحترم،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وبعد:

أتشرف بأن أرفع إلى فضيلتكم هذا الطلب راجيًا من كرمكم النظر فيه بعين العطف والرحمة. أنا الطالب (محمد رفيق الإسلام)، أدرس في قسم الحديث الشريف بالصف الثاني في هذه المؤسسة العريقة. ولقد كنت دومًا من الأوائل والمجتهدين في دراستي بحمد الله تعالى.

أحيط فضيلتكم علمًا بأن والدي شيخ كبير ومريض عاجز عن العمل، وأسرتنا تمر بظروف مالية قاسية جدًا، وليس لنا دخل ثابت يكفي لسداد النفقات الدراسية وشراء الكتب المقررة. وأخشى أن يؤدي هذا العجز المالي إلى انقطاعي عن مواصلة طلبي للعلم الشريف.

لذا، أرجو من فضيلتكم التكرم بالموافقة على منحي منحة دراسية شهرية من صندوق الرعاية الطلابية، لأتمكن من مواصلة دراستي بنجاح وتفوق.

وجزاكم الله خير الجزاء وأدامكم عونا للعلم وطلابه.

مقدم الطلب:
محمد رفيق الإسلام
طالب قسم الحديث – الصف الثاني
رقم الجلوس: ١٢٣٤٥


৫ নং প্রশ্ন (المقالة – আরবি প্রবন্ধ) – পূর্ণাঙ্গ সমাধান (তিনটি প্রবন্ধই দেওয়া হলো)

٥. (ألف) اكتب مقالة حول: اليوم العالمى للغة العربية

[৫. (ক) আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ আরবি প্রবন্ধ:]

اليوم العالمي للغة العربية

المقدمة: اللغة العربية هي لغة الضاد، وإحدى أعرق اللغات الإنسانية وأغناها بالمفردات والبيان. وقد شرفها الله عز وجل بأن جعلها لغة القرآن الكريم الخالد ولغة سيد المرسلين محمد صلى الله عليه وسلم. وتخليدًا لمكانتها، تحتفل منظمة الأمم المتحدة باليوم العالمي للغة العربية في الثامن عشر من شهر ديسمبر (١٨ ديسمبر) من كل عام.

سبب اختيار هذا اليوم: يعود الفضل في تحديد هذا اليوم إلى القرار التاريخي الذي اتخذته الجمعية العامة للأمم المتحدة في ١٨ ديسمبر عام ١٩٧٣م، والذي قضى بإدخال اللغة العربية ضمن اللغات الرسمية ولغات العمل المقررة في الأمم المتحدة وجميع لجانها الرئيسية.

مكانة اللغة العربية وخصائصها: تتميز اللغة العربية بخصائص فريدة قلما تجتمع في لغة أخرى؛ فهي تمتاز بدقة الإعراب وسعة الاشتقاق، وبلاغة التعبير وتنوع الأساليب والجمال الفني في خطوطها وآدابها. كما أنها الرابطة الدينية والثقافية العظمى التي تجمع أكثر من مليار ونصف مليار مسلم حول العالم، وبها تؤدى أعظم العبادات كالصلاة وتلاوة القرآن.

واجب المسلمين نحوها: إن الحفاظ على اللغة العربية وتعلمها وتعليمها فرض كفائي وواجب ديني وأخلاقي على كل مسلم، قال الخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضي الله عنه: “تعلموا العربية فإنها تثبت العقل وتزيد في المروءة”.

الخاتمة: إن الاحتفال باليوم العالمي للغة العربية ليس مجرد ذكرى عابرة، بل هو دعوة لتجديد الالتزام بالنهوض بها، ونشرها في المناهج والوسائل الحديثة لتبقى حية رائدة تواكب العصر وتحافظ على أصالتها.


٥. (ب) اكتب مقالة حول: فضل العلم أو العلماء

[৫. (খ) ইলম ও আলেমদের মর্যাদা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ আরবি প্রবন্ধ:]

فضل العلم والعلماء في الإسلام

المقدمة: رفع الإسلام شأن العلم وأعلى منزلة أهله، فكانت أول آية نزلت من السماء على قلب الحبيب المصطفى صلى الله عليه وسلم هي قوله تعالى: “اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ”. فالعلم هو النور الذي يبدد ظلمات الجهل والضلال، والعلماء هم مشاعل الهدى في الأرض.

فضل العلم في القرآن والسنة: امتدح الله سبحانه وتعالى العلماء وأبان تفوقهم على غيرهم فقال عز وجل: “قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ”، وقال جل وعلا: “يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ”. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: “مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ” (رواه مسلم).

مكانة العلماء في الأمة: إن العلماء هم ورثة الأنبياء، كما قال الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم: “إن العلماء ورثة الأنبياء، وإن الأنبياء لم يورثوا دينارًا ولا درهمًا، وإنما ورثوا العلم، فمن أخذه أخذ بحظ وافر”. فالعلماء يهدون الحائرين، ويعلمون الجاهلين، ويحرسون الدين من تحريف الغالين وانتحال المبطلين، وحتى الحيتان في قعر الماء والنملة في جحرها تستغفر لمعلم الناس الخير.

الخاتمة: لا حياة لأمة ولا عز لحضارة بغير العلم ورعاية العلماء. فعلينا بتوقيرهم والأخذ عنهم لنسعد في دنيانا ونفوز برضوان الله في أخرانا.


٥. (ج) اكتب مقالة حول: صفات الطالب المثالى

[৫. (গ) আদর্শ শিক্ষার্থীর গুণাবলি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ আরবি প্রবন্ধ:]

صفات الطالب المثالي

المقدمة: الطالب المثالي هو ذلك الشاب الطموح الذي يسعى دائمًا إلى الجمع بين التفوق العلمي والخلق الفاضل، ليكون عضوًا نافعًا لدينه ومجتمعه ووطنه، فهو زهرة الحاضر وأمل المستقبل المشرق.

أهم صفات الطالب المثالي:

  1. إخلاص النية لله تعالى: أن يقصد بطلبه للعلم ابتغاء مرضاة الله ورفع الجهل عن نفسه ونفع المسلمين، لا من أجل مباهاة أو جاه دنيوي.
  2. التمسك بالأخلاق والآداب: يتحلى بالصدق والأمانة والتواضع وبر الوالدين، واحترام الشيوخ والأساتذة وإكرام الزملاء، قال الإمام الشافعي: “حق المعلم فوق حق الوالد”.
  3. الجد والاجتهاد وتنظيم الوقت: يحرص على حضور الدروس، وأداء الواجبات، وتنظيم ساعاته بين الدراسة والعبادة والراحة، مبتعدًا عن التسويف وإضاعة الأوقات.
  4. الشغف بالقراءة والمطالعة: لا يقتصر على المقررات المدرسية فقط، بل يوسع مداركه بالقراءة الهادفة والمطالعة المستمرة في أمهات الكتب.
  5. المحافظة على العبادات والفرائض: يؤدي الصلاة في أوقاتها مع الجماعة، ويداوم على ذكر الله وتلاوة القرآن، فالطاعة تورث نور الفهم والحفظ.

الخاتمة: إن الأمم تنهض وتزدهر بجهود أبنائها المخلصين، والطالب المثالي هو اللبنة الأساسية في بناء الأمة المسلمة القوية والمتقدمة.

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. জুমলা ইসমিয়া কাকে বলে?

যে বাক্য কোনো ইসম বা বিশেষ্য দ্বারা আরম্ভ হয় এবং মুবতাদা ও খবর নিয়ে গঠিত হয়, তাকে জুমলা ইসমিয়া বলে। যেমন: الْعِلْمُ نُورٌ (জ্ঞান আলো)।

২. আফ’আলে নাকিসাহ এবং হুরুফে মুশাব্বাহার মধ্যে আমলগত পার্থক্য কী?

আফ’আলে নাকিসাহ মুবতাদাকে পেশ (রফা) ও খবরকে যবর (নসব) প্রদান করে; অপরদিকে হুরুফে মুশাব্বাহা মুবতাদাকে যবর (নসব) এবং খবরকে পেশ (রফা) প্রদান করে।

৩. জামা মুযাক্কার সালেমের ইরাব কী?

জামা মুযাক্কার সালেম মারফু অবস্থায় ‘ওয়াও’ (ـُونَ) দ্বারা এবং মানসুব ও মাজরুর উভয় অবস্থায় ‘ইয়া’ (ـِينَ) দ্বারা ইরাব গ্রহণ করে। যেমন: جَاءَ الْمُسْلِمُونَ এবং رَأَيْتُ الْمُسْلِمِينَ।

৪. ইলমুস সরফ কাকে বলে এবং এর মূল বাটখারা কী?

যে শাস্ত্র দ্বারা আরবি শব্দের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর ও মূল গঠন জানা যায় তাকে ইলমুস সরফ বলে। এর প্রধান মানদণ্ড বা বাটখারা হলো ‘ফা-আইন-লাম’ (فعل)।

৫. আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস কবে পালিত হয়?

প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস পালিত হয়, কারণ ১৯৭৩ সালের এই দিনে জাতিসংঘে আরবি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

৬. ই’লাল বিল ক্বলব বলতে কী বোঝায়?

উচ্চারণ সহজ করার উদ্দেশ্যে এক হরফে ইল্লতকে (যেমন ওয়াও বা ইয়া) অন্য হরফে ইল্লতে (যেমন আলিফে) রূপান্তর করাকে ই’লাল বিল ক্বলব বলে। যেমন: قَوَلَ থেকে قَالَ।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *