জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

তারিখ ইলমুল হাদিস (Tarikh Ilm al-Hadith) – ২০২২০১, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৭৮ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: তারিখ ইলমুল হাদিস (Tarikh Ilm al-Hadith)
বিষয় কোড: ২০২২০১
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

ক বিভাগ (القسم الأول) – পূর্ণাঙ্গ প্রশ্ন সমাধান

١. اكتب مراحل تدوين الحديث فى العصر النبوى وعصر الصحابة-

[১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ ও সাহাবায়ে কিরামের যুগে হাদিস সংকলনের পর্যায়সমূহ বিস্তারিত লেখ।]

ভূমিকা

ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় মূল উৎস হলো পবিত্র হাদিস ও সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশা থেকেই সাহাবায়ে কিরাম তাঁর পবিত্র বাণী, কর্ম ও অনুমোদন অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে সংরক্ষণ করেছেন। প্রথম যুগে প্রধানত মুখস্থকরণ (হিফয) এবং সাহাবাদের ব্যক্তিগত সহীফা রচনার মাধ্যমে হাদিস লিপিবদ্ধকরণের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে সাহাবায়ে কিরামের যুগে তা আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বিস্তৃত রূপ লাভ করে।

১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে হাদিস সংরক্ষণের পর্যায়সমূহ

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে হাদিস সংরক্ষণ মূলত তিনটি মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল:

  1. হিফয বা মুখস্থকরণ (الحفظ في الصدور): আরবরা অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি কথা তাঁরা মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং হুবহু মুখস্থ করে নিতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কথা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যাতে উপস্থিত সাহাবীগণ তা সহজে আত্মস্থ করতে পারেন।
  2. আমল ও বাস্তব অনুশীলনের মাধ্যমে সংরক্ষণ (الممارسة العملية): রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাত, সাওম, হজ, বিচার ফয়সালা এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি আমল সাহাবীগণ প্রত্যক্ষভাবে দেখে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতেন। নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন: “صلوا كما رأيتموني أصلي” (তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখ, সেভাবে সালাত আদায় কর – সহীহ বুখারী)।
  3. কিতাবাত বা লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ (التدوين والكتابة): ইসলামের প্রারম্ভে কুরআনের আয়াতের সাথে হাদিস মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হাদিস লেখায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যখন সাহাবীগণ কুরআনের ভাষা ও শৈলীর সাথে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন এবং মিশ্রণের ভয় দূর হয়ে যায়, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিস লিপিবদ্ধ করার সাধারণ অনুমতি প্রদান করেন।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে উল্লেখযোগ্য লিখিত সহীফাসমূহ

  • আস-সহীফাতুস সাদীকা (الصحيفة الصادقة): হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে সরাসরি যা শুনতেন তা লিখে রাখতেন। তিনি নিজেই বর্ণনা করেন, কুরাইশরা আমাকে বারণ করেছিল এই বলে যে, আল্লাহর রাসুল একজন মানুষ, কখনো ক্রোধে বা খুশিতে কথা বলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মুখের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: “اكتب، فوالذي نفسي بيده ما يخرج منه إلا حق” (লেখ, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এ মুখ দিয়ে সত্য ছাড়া কিছুই বের হয় না – সুনানে আবু দাউদ)। এই সহীফায় প্রায় এক সহস্রাধিক হাদিস সংরক্ষিত ছিল।
  • হযরত আলী (রা.)-এর সহীফা: হযরত আলী (রা.)-এর নিকট একটি সহীফা ছিল যা তাঁর তলোয়ারের খাপে রাখা থাকত। এতে রক্তপণ (দিয়াত), বন্দিমুক্তি এবং মদিনা শরীফের হারাম এলাকার সীমানা সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম লিপিবদ্ধ ছিল।
  • রাসুলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক লিখিত রাষ্ট্রীয় পত্রাবলি ও চুক্তিপত্র: বাদশাহ হিরাক্লিয়াস, পারস্যের খসরু পারভেজ, মিসরের মুকাওকিস এবং নাজ্জাশীর নিকট প্রেরিত দাওয়াতী পত্রসমূহ। এছাড়া মদিনা সনদ ও হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্র অন্যতম।
  • যাকাত ও কর সংক্রান্ত ফরমান: হযরত আমর ইবনে হাযম (রা.)-কে ইয়েমেনের গভর্নর করে পাঠানোর সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) লিখিত সংবিধান প্রদান করেন যাতে ফারায়িয, সদকা ও দিয়াত সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ ছিল।

৩. সাহাবায়ে কিরামের যুগে (আসরুস সাহাবা) হাদিস সংকলনের পর্যায়সমূহ

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কিরাম অত্যন্ত সতর্কতার সাথে হাদিস সংরক্ষণ ও প্রচারের কাজ পরিচালনা করেন:

  1. হাদিস বর্ণনায় চরম সতর্কতা অবলম্বন (التثبت والتحري في الرواية): হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এবং হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হাদিস বর্ণনায় সাক্ষী তলব করতেন। হযরত উমর (রা.) মুগীরা ইবনে শু’বা (রা.)-এর বর্ণনার সমর্থনে মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা.)-এর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। হযরত আলী (রা.) কোনো কোনো বর্ণনাকারীর নিকট থেকে হলফ (কসম) নিতেন।
  2. ইলমি সফর ও হাদিস সন্ধান (الرحلة في طلب الحديث): দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া সাহাবীগণের কাছ থেকে সরাসরি হাদিস শোনার জন্য সাহাবীগণ দীর্ঘ পথ সফর করতেন। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) মাত্র একটি হাদিসের জন্য এক মাসের পথ অতিক্রম করে শাম দেশে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উনায়স (রা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়েছিলেন। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) মিসরে গমন করেছিলেন হযরত উকবা ইবনে আমির (রা.)-এর কাছে একটি হাদিস যাচাই করার জন্য।
  3. সাহাবায়ে কিরামের ব্যক্তিগত সংকলনসমূহ:
    • সহীফা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.): হজের নিয়মাবলি ও আহকাম সংক্রান্ত বিখ্যাত লিখিত সংকলন।
    • সহীফা সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.): সামুরা (রা.) তাঁর পুত্র সুলাইমানের জন্য একটি বড় সংকলন লিখে রেখে যান।
    • সহীফা আবু হুরায়রা ও হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ: হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিকট হতে তাঁর শীর্ষ ছাত্র হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ যে সংকলন লিপিবদ্ধ করেন তা ‘সহীফায়ে হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ’ নামে পরিচিত, যা আজও অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান।
    • সহীফা আনাস ইবনে মালিক (রা.): হযরত আনাস (রা.) হাদিস লিখে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখাতেন এবং সংশোধন করিয়ে নিতেন।
    • সহীফা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.): ইবনে আব্বাস (রা.) বিভিন্ন সাহাবীর দরজায় গিয়ে হাদিস সংগ্রহ করে খাতায় লিপিবদ্ধ করতেন। তাঁর লিখিত পাণ্ডুলিপির পরিমাণ ছিল এক উটের বোঝা সমপরিমাণ।

উপসংহার

সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, হাদিস সংকলন কোনো বিলম্বিত আবিষ্কার নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও সাহাবায়ে কিরামের অক্লান্ত সাধনার মাধ্যমেই সুন্নাহর এই অমূল্য ভাণ্ডার সংরক্ষিত হয়েছে এবং তা পরবর্তী তাবেঈনদের যুগে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধকরণের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে।


٢. عرف الحديث والمحدث والحافظ والحجة- ثم اذكر أوصاف المحدث-

[২. হাদিস, মুহাদ্দিস, হাফিজ ও হুজ্জাহ-এর পরিচয় দাও। অতঃপর একজন যোগ্য মুহাদ্দিসের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।]

ভূমিকা

উলুমুল হাদিস বা হাদিস বিজ্ঞানের পরিভাষাগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও অর্থবহ। হাদিস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ আলেমদের স্তরভেদ অনুযায়ী বিভিন্ন সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যেমন মুহাদ্দিস, হাফিজ ও হুজ্জাহ। নিম্নে পরিভাষাগুলোর বিস্তারিত পরিচয় এবং একজন মুহাদ্দিসের আবশ্যকীয় গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হলো।

১. পরিভাষাগুলোর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা

  1. হাদিস (الحديث):
    • আভিধানিক অর্থ: ‘হাদিস’ শব্দের অর্থ নতুন (الجديد), যা প্রাচীন বা পুরাতন (القديم)-এর বিপরীত। এছাড়া এর অর্থ কথা, বাণী বা সংবাদ (الخبر والكلام)। বহুবচনে ‘আহাদীস’ (أحاديث)।
    • পারিভাষিক অর্থ: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়— “ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خَلقية أو خُلقية” অর্থাৎ, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত সকল কথা, কাজ, অনুমোদন (মৌন সম্মতি) এবং তাঁর জন্মগত বা চরিত্রগত গুণাবলিকে হাদিস বলে।” কোনো কোনো আলেমের মতে সাহাবী ও তাবেঈগণের কথা ও কর্মকেও যথাক্রমে মাওকুফ ও মাকতু হাদিস হিসেবে হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
  2. মুহাদ্দিস (المحدث):
    • আভিধানিক অর্থ: حديث (সংবাদ/কথা) বর্ণনাকারী বা বক্তা।
    • পারিভাষিক অর্থ: যিনি ইলমে হাদিসের রেওয়ায়েত (সনদ ও মতন বর্ণনা) এবং দেরায়াত (অর্থ, বিধান ও সূক্ষ্ম তত্ত্ব) উভয় শাখায় গভীর ব্যুৎপত্তি রাখেন, বহু হাদিস ও তার সনদ সম্পর্কে জানেন, রাবীদের পরিচয় ও তাঁদের বিশ্বস্ততার অবস্থা (জারহ ও তা’দীল) সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকেন, তাকে মুহাদ্দিস বলা হয়। ইমাম তাজউদ্দিন আস-সুবকী (রহ.)-এর মতে, যিনি হাদিসের মতন ও সনদের গভীর জ্ঞান রাখেন, রাবীদের দোষত্রুটি ও গুণাগুণ জানেন এবং অধিকাংশ হাদিস স্মরণে রাখেন তিনিই মুহাদ্দিস।
  3. হাফিজ (الحافظ):
    • আভিধানিক অর্থ: সংরক্ষণকারী বা মুখস্থকারী।
    • পারিভাষিক অর্থ: হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় হাফিজ হলেন মুহাদ্দিসের চেয়েও উচ্চতর স্তরের ব্যক্তিত্ব। অধিকাংশ উসূলে হাদিস বিশারদগণের মতে, যিনি সনদসহ অন্তত এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন এবং সনদের প্রতিটি স্তরের রাবীদের ভালো-মন্দ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, তাকে ‘হাফিযে হাদিস’ বলা হয়। যেমন—ইমাম হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী, হাফিজ যাহাবী, হাফিজ ইরাকী প্রমুখ।
  4. হুজ্জাহ (الحجة):
    • আভিধানিক অর্থ: অকাট্য দলীল, প্রমাণ বা সাক্ষী।
    • পারিভাষিক অর্থ: হাফিজের চেয়েও উচ্চ স্তরের মুহাদ্দিসকে হুজ্জাহ বলা হয়। যিনি সনদ ও মতনসহ তিন লক্ষ হাদিস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মুখস্থ ও আত্মস্থ করেছেন এবং হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের রাবীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ যাঁর নখদর্পণে থাকে, তিনিই হলেন ‘হুজ্জাহ’। যেমন—ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের মতো মনীষীগণ। এরও উর্ধ্বে রয়েছেন ‘হাকিম’ (الحاكم) ও ‘আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস’ (أمير المؤمنين في الحديث)।

২. একজন যোগ্য মুহাদ্দিসের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য (أوصاف المحدث)

হাদিস শাস্ত্রে একজন মুহাদ্দিস হতে হলে শরীয়ত ও নৈতিকতার দিক থেকে কঠোর মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হয়। বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম মুহাদ্দিসের জন্য নিম্নোক্ত অপরিহার্য গুণাবলি নির্ধারণ করেছেন:

  • ১. ইখলাস বা নিষ্ঠা (الإخلاص لله تعالى): হাদিস চর্চা ও শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও সুন্নাহর হেফাজত। পার্থিব খ্যাতি, অর্থবিত্ত বা নেতৃত্বের মোহ বর্জন করতে হবে।
  • ২. তাকওয়া ও পরহেযগারী (التقوى والورع): মুহাদ্দিসকে অবশ্যই কবিরা গুনাহ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত এবং সগিরা গুনাহ পরিহারকারী হতে হবে। প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর ভয় বজায় রাখতে হবে।
  • ৩. মুরাওয়াত ও সামাজিক শালীনতা (المروءة): লোকলজ্জা পরিপন্থী কোনো কাজ, অশালীন আচরণ, লঘু স্বভাব বা মর্যাদাহানিকর কাজ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
  • ৪. আদালত বা বিশ্বস্ততা (العدالة): সত্যবাদী হওয়া মুহাদ্দিসের প্রধান শর্ত। জীবনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোনো প্রকার মিথ্যার আশ্রয় নেননি—এমন চরিত্রবান হতে হবে।
  • ৫. দ্বাবত বা নির্ভুল স্মৃতিশক্তি (الضبط والإتقان): হাদিস শ্রবণের পর থেকে তা অপরের নিকট বর্ণনা করা পর্যন্ত কোনো প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা ভুলভ্রান্তি ছাড়া হুবহু স্মরণে রাখার বা সহীফায় অবিকৃত রাখার দৃঢ় ক্ষমতা থাকতে হবে।
  • ৬. ইলমে জারহ ও তা’দীলে গভীর ব্যুৎপত্তি: বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা, সততা, দুর্বলতা ও বিচ্যুতির কারণসমূহ নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের যোগ্যতা থাকতে হবে।
  • ৭. ইলমুল ইলাল (علل الحديث)-এর জ্ঞান: হাদিসের সনদের আপাতদৃষ্টিতে গোপন ত্রুটি (ইল্লাত) চিহ্নিত করার সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি থাকা আবশ্যক।
  • ৮. আমল বিল হাদিস (العمل بالحديث): যা বর্ণনা করবেন, নিজের ব্যক্তিজীবনে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কারণ আমলহীন ইলম হাদিসের বরকত নষ্ট করে।

উপসংহার

মুহাদ্দিসগণ হলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর অতন্দ্র প্রহরী। উল্লেখিত অনুপম গুণাবলির কারণেই ইতিহাস জুড়ে মুহাদ্দিসগণ মুসলিম উম্মাহর সর্বাধিক শ্রদ্ধাভাজন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।


٣. ما هو الحديث الموضوع؟ وما هى أسباب الوضع؟ وما هى الأمارات التى يعرف بها الحديث الموضوع؟

[৩. মাউযু হাদিস কী? হাদিস জালকরণের কারণসমূহ কী কী? এবং যেসব আলামত বা চিহ্নের মাধ্যমে মাউযু হাদিস চেনা যায় তা বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র হাদিসের বিশুদ্ধতা বিনষ্ট করার জন্য দুষ্কৃতকারী, রাজনৈতিক দল ও বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে হাদিস জাল বা বানোয়াট করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু মুহাদ্দিসগণের কঠোর তাহকীক ও আসমাউর রিজাল শাস্ত্রের মাধ্যমে সকল জাল হাদিসকে চিহ্নিত ও আলাদা করে উম্মাহকে রক্ষা করা হয়েছে।

১. মাউযু হাদিসের পরিচয় (تعريف الحديث الموضوع)

  • আভিধানিক অর্থ: ‘মাউযু’ (الموضوع) শব্দটি اسم مفعول-এর রূপ, এর মূলধাতু وضع (ওয়াদ’উন)। এর শাব্দিক অর্থ বানোয়াট (المختلق), পতিত বা অবমূল্যায়িত (المحطوط), রচিত বা মনগড়া (المصنوع)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: উলুমুল হাদিসের পরিভাষায়— “هو الكذب المختلق المصنوع المنسوب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم زورا وبهتانا” অর্থাৎ, “যে মনগড়া ও বানোয়াট মিথ্যা কথা বা কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়, তাকে হাদিসে মাউযু বা জাল হাদিস বলে।”
  • হুকুম: মাউযু হাদিস প্রকৃতপক্ষে কোনো হাদিসই নয়। কোনো কথা জাল বা মাউযু জেনেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাম নিয়ে বর্ণনা করা কঠোরভাবে হারাম ও কবিরা গুনাহ; তবে এর জাল হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা জায়েয। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار” (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয় – সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।

২. হাদিস জালকরণের কারণসমূহ (أسباب وضع الحديث)

ইতিহাসে হাদিস জাল করার পেছনে বিভিন্ন অশুভ উদ্দেশ্য কাজ করেছিল:

  1. ইসলামের ক্ষতিসাধন ও জিন্দিকদের ষড়যন্ত্র (الكيد للإسلام): ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুরা ইসলামকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার জন্য বহু বিভ্রান্তিকর কথা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে বানিয়ে দেয়। আব্দুল করীম ইবনে আবিল আওজা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলার আগে স্বীকার করেছিল যে, সে একাই চার হাজার জাল হাদিস তৈরি করেছে যার মাধ্যমে হালালকে হারাম ও হারামকে হালাল বানানো হয়েছিল।
  2. মাযহাবী ও দলীয় অন্ধ পক্ষপাতিত্ব (التعصب المذهبي والسياسي): রাজনৈতিক বিভেদ (শিয়া, খারিজি ইত্যাদি) এবং কালামী ও ফিকহী মাযহাবী দ্বন্দ্বের কারণে অনেকে নিজেদের নেতার পক্ষে ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হাদিস বানায়। যেমন শিয়াদের একাংশ হযরত আলী (রা.)-এর খেলাফত সংক্রান্ত জাল বর্ণনা তৈরি করে।
  3. সওয়াবের আশায় অজ্ঞ ধর্মপরায়ণদের জালকরণ (الحسبة والتقرب إلى الله بزعمهم): একদল তথাকথিত আবেদ ও সূফী মানুষকে নেক আমলের প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং গুনাহ থেকে ভীতি প্রদর্শন করতে নিজ থেকেই ফযিলত সংক্রান্ত হাদিস বানাত। যেমন আবু ইসমাত নূহ ইবনে আবী মারিয়াম প্রত্যেক সূরার আলাদা আলাদা কাল্পনিক ফযিলত বানিয়েছিল। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে নির্লজ্জভাবে বলেছিল: “আমি মানুষকে কুরআনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে এই হাদিসগুলো বানিয়েছি!” এটি ছিল সবচেয়ে ক্ষতিকর জালকরণ।
  4. শাসক ও রাজন্যবর্গকে সন্তুষ্ট করার লোভ (التقرب إلى الحكام والسلاطين): দরবারী আলেম ও চাটুকাররা বাদশাহদের খুশি করে অর্থ ও পদমর্যাদা লাভের জন্য হাদিস বানাত। গিয়াস ইবনে ইব্রাহীম খলিফা মাহদীর কবুতর উড়ানোর শখ দেখে বিখ্যাত হাদিস “لا سبق إلا في خف أو حافر أو نصل”-এর সাথে “أو جناح” (অথবা ডানাওয়ালা পাখি) শব্দ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
  5. অর্থ উপার্জন ও কিসসা-কাহিনীর আসর জমানো (التكسب والابتغاء للرزق): পেশাদার গল্পকার বা ওয়ায়েজরা সাধারণ মানুষের ভিড় জমাতে এবং তাদের থেকে দান-দক্ষিণা আদায় করতে আজগুবি ও চিত্তাকর্ষক গল্প বানিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে প্রচার করত।

৩. মাউযু হাদিস চেনার আলামতসমূহ (أمارات ودلائل معرفة الحديث الموضوع)

মুহাদ্দিসগণ জাল হাদিস শনাক্ত করার জন্য দুটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আলামত ও মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন: (ক) সনদের আলামত, এবং (খ) মতনের আলামত।

(ক) সনদের মধ্যে প্রাপ্ত আলামত (الأمارات في السند):
  • জালকারীর নিজস্ব স্বীকারোক্তি (إقرار الواضع): বর্ণনাকারী নিজেই স্বীকার করে যে সে হাদিসটি বানিয়েছিল, যেমন আবু ইসমত ও ইবনে আবিল আওজার স্বীকারোক্তি।
  • ঐতিহাসিক অসঙ্গতি (ما يتنزل منزلة الإقرار): বর্ণনাকারী এমন এক শায়খ থেকে হাদিস শোনার দাবি করে যিনি তার জন্মের পূর্বেই মারা গেছেন অথবা এমন শহরে তার সাথে সাক্ষাতের দাবি করে যেখানে শায়খ কখনো যাননি বা বর্ণনাকারী কখনো সেখানে উপস্থিত হননি।
  • বর্ণনাকারীর মিথ্যাবাদী হিসেবে খ্যাতি: সনদের কোনো রাবী ইতিপূর্বে মিথ্যাবাদী বা হাদিস জালকারী হিসেবে প্রমাণিত হলে তার একক বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত ও জাল বলে গণ্য হয়।
(খ) মতনের (মূল বক্তব্যের) আলামত (الأمارات في المتن):
  • শব্দ ও রীতির কদর্যতা (ركاكة اللفظ والمعنى): রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বোত্তম বিশুদ্ধ ও অলংকারপূর্ণ আরবি ভাষার অধিকারী (أفصح العرب)। তাঁর বাণীর মাঝে গভীরতা ও মাধুর্য থাকত। কোনো হাদিসের ভাষা যদি ব্যাকরণগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ, অশালীন বা অত্যন্ত নিম্নমানের হয়, তবে তা জাল বলে প্রমাণিত হয়।
  • স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্যের পরিপন্থী হওয়া (مخالفة العقل والحس): এমন কথা যা সুস্থ মানববুদ্ধি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এবং যা কোনোভাবেই ব্যাখ্যাযোগ্য নয়।
  • কুরআনের দ্ব্যর্থহীন আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া (مناقضة صريح القرآن الكريم): যেমন এমন কোনো বক্তব্য যা কুরআনের অকাট্য বিধানের সরাসরি উল্টো এবং এর কোনো সমন্বয় সম্ভব নয়। যেমন জাল কথা: “ولد الزنا لا يدخل الجنة إلى سبعة أحقاب” (জারজ সন্তান সাত পুরুষ পর্যন্ত জান্নাতে যাবে না), যা কুরআনের আয়াত “ولا تزر وازرة وزر أخرى” (কেউ অপরের পাপের বোঝা বহন করবে না)-এর পরিপন্থী।
  • সুপ্রতিষ্ঠিত ও সহীহ মুতাওয়াতির সুন্নাহর বিরোধী হওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সর্বজনবিদিত সুন্নাহর পরিপন্থী হওয়া।
  • ক্ষুদ্র আমলে অবিশ্বাস্য পুরস্কার বা সামান্য ভুলে চরম শাস্তির ঘোষণা: যেমন: “যে ব্যক্তি অমুক নামায দুই রাকাত পড়বে সে সত্তর হাজার হুর পাবে” অথবা “অমুক কাজ করলে তার সমস্ত আমল বাতিল হয়ে যাবে”। এমন অতিরঞ্জন জাল হাদিসের সুস্পষ্ট লক্ষণ।
  • গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সত্য লুকিয়ে রাখার অসম্ভব দাবি: এমন কোনো ঘটনা যা শত শত মানুষের সামনে ঘটার কথা ছিল অথচ কেবল একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তা বর্ণনা করেনি।

উপসংহার

মুহাদ্দিসগণ জাল হাদিস প্রতিরোধের জন্য সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ইমাম ইবনুল জাওযীর ‘আল-মাউযু’আত’, মোল্লা আলী ক্বারীর ‘আল-মাসনূ’ ফী মা’রিফাতির রদ্দী ওয়াল মাওযূ” এবং জালালুদ্দীন সুয়ূতী রচিত ‘আল-লাআলী আল-মাসনূ’আ’ ইত্যাদি গ্রন্থ এ শাস্ত্রের অমর অবদান।


٤. بين جهود التابعين فى حفظ الحديث الشريف وتدوينه مع ذكر أسماء المكثرين منهم-

[৪. হাদিস সংরক্ষণ ও সংকলনে তাবেঈনদের অবদান বিস্তারিত বর্ণনা কর এবং তাঁদের মধ্যে অধিক হাদিস বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ কর।]

ভূমিকা

সাহাবায়ে কিরামের সোনালী যুগের পর তাবেঈনদের যুগ ছিল উলুমুল হাদিসের স্বর্ণযুগ। তাঁরা সাহাবীগণের নিকট থেকে প্রতিটি হাদিস অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আমানতদারিতার সাথে গ্রহণ করেন এবং ইসলামী বিশ্বের প্রান্তরে প্রান্তরে তা ছড়িয়ে দেন। বিশেষ করে খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর রাষ্ট্রীয় আদেশে এ যুগেই হাদিস গ্রন্থাকারে সংকলনের বৈপ্লবিক পদক্ষেপ সূচিত হয়।

১. হাদিস সংরক্ষণে তাবেঈনদের প্রধান অবদানসমূহ

  1. রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হাদিস সংকলনের সূচনা:

    প্রথম হিজরী শতকের শেষভাগে উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) (ওফাত: ১০১ হি.) হাদিস বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিস সংগ্রহের ফরমান জারি করেন। তিনি মদিনার গভর্নর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম এবং প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (রহ.)-কে নির্দেশ দেন: “انظروا حديث رسول الله فاجمعوه، فإني خفت دروس العلم وذهاب أهله” (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস অনুসন্ধান করে তা সংগ্রহ ও সংকলন কর; কেননা আমি ইলম বিলুপ্ত হওয়া এবং আলেমদের বিদায় নেওয়ার আশঙ্কা করছি – ফাতহুল বারী)। ইমাম যুহরী (রহ.) হলেন ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি যিনি রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে হাদিস বিধিবদ্ধভাবে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করেন।

  2. ইলমি সফর ও বিশ্বব্যাপী হাদিস কেন্দ্র স্থাপন:

    তাবেঈনগণ হাদিসের খোঁজে মদিনা, মক্কা, কুফা, বসরা, শাম, মিসর, ইয়েমেন ও খোরাসান চষে বেড়ান। বিভিন্ন অঞ্চলে তাবেঈগণের হাদিস কেন্দ্র গড়ে ওঠে। মদিনায় সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব ও উরওয়া ইবনুয যুবায়ের, মক্কায় আতা ইবনে আবী রাবাহ ও মুজাহিদ, বসরায় হাসান আল-বাসরী ও মুহাম্মদ ইবনে সীরীন, কুফায় ইবরাহীম নাখঈ ও আলকামা, এবং শামে মাকহুল—তাঁদের হাদিস পাঠাগার ও পাঠচক্র পরিচালনা করতেন।

  3. সনদ ব্যবস্থার প্রবর্তন ও কঠোর অনুশাসন:

    ফিতনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তাবেঈনগণ হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সনদের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেন। প্রখ্যাত তাবেঈ মুহাম্মদ ইবনে সীরীন (রহ.) (ওফাত: ১১০ হি.) তাঁর অমর উক্তিতে ঘোষণা করেন: “إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم” অর্থাৎ, “নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন; অতএব তোমরা লক্ষ্য কর যে কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ” (সহীহ মুসলিমের ভূমিকা)। তিনি আরও বলেন, প্রথম যুগে মানুষ সনদ নিয়ে প্রশ্ন করত না, কিন্তু ফিতনা সৃষ্টির পর তারা বলতে শুরু করে: “سموا لنا رجالكم” (তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম আমাদের কাছে প্রকাশ কর)।

  4. বিষয়ভিত্তিক প্রাথমিক হাদিস সংকলন:

    তাবেঈনদের যুগে হাদিস সংকলন ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে অগ্রসর হয়ে বিষয়ভিত্তিক পুস্তিকার রূপ লাভ করে। যেমন—হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহের সংকলন, কাতাদা ইবনে দি’আমাহ আস-সাদূসীর লিখিত কপি এবং বশীর ইবনে নাহীকের কিতাব।

২. তাবেঈনদের মধ্যে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (المكثرون من التابعين)

তাবেঈনদের মধ্যে যাঁরা সাহাবায়ে কিরামের সাহচর্যে থেকে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনা ও সংরক্ষণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় মনীষীগণ হলেন:

  • ১. সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব আল-কুরাশী (রহ.) (১৫-৯৪ হি.): তিনি ছিলেন মদিনার সাত ফকীহের (فقهاء المدينة السبعة) শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর জামাতা হওয়ায় তাঁর অধিকাংশ হাদিস তিনি সংরক্ষণ করেন। হযরত উমর (রা.)-এর বিচার ও ফয়সালা সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞানের কারণে তাঁকে ‘রাবিয়াতু উমর’ বলা হতো।
  • ২. উরওয়া ইবনুয যুবায়ের (রহ.) (২২-৯৪ হি.): হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.)-এর ভাগিনেয়। তিনি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ও ইলমুল মাগাযীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
  • ৩. মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (রহ.) (৫০-১২৪ হি.): হাদিস শাস্ত্রের প্রাণপুরুষ। তিনি অসংখ্য সাহাবী ও প্রবীণ তাবেঈর সাক্ষাৎ লাভ করেন। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন: “যুহরী না থাকলে মদিনার সুন্নাহ হারিয়ে যেত।” তিনি সহস্রাধিক হাদিস মুখস্থ ও লিপিবদ্ধ করেন।
  • ৪. হাসান আল-বাসরী (রহ.) (২১-১১০ হি.): বসরার সর্বজনশ্রদ্ধেয় ইমাম, যিনি বহু সাহাবীর নিকট থেকে সরাসরি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে মুহাদ্দিস, ফকীহ ও মহান আধ্যাত্মিক সাধক।
  • ৫. নাফে’ মাওলা ইবনে উমর (রহ.) (ওফাত: ১১৭ হি.): হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর সুযোগ্য ছাত্র ও খাদেম। ইমাম মালেক-নাফে’-ইবনে উমর—এই সনদটিকে মুহাদ্দিসগণ ‘সিলসিলাতুয যাহাব’ (স্বর্ণালী সনদধারা) আখ্যা দিয়েছেন।
  • ৬. আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহ.) (২৭-১১৪ হি.): মক্কার প্রখ্যাত মুফতী ও তাবেঈ। তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও হযরত আয়েশা (রা.) সহ দুই শতাধিক সাহাবীর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
  • ৭. ইকরিমা মাওলা ইবনে আব্বাস (রহ.) (ওফাত: ১০৫ হি.): তাফসীর ও হাদিসে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস ও তাফসীরের অন্যতম প্রধান ধারক।
  • ৮. আলকামা ইবনে কায়েস আন-নাখঈ (রহ.) (ওফাত: ৬২ হি.): কুফার অন্যতম প্রধান আলেম। তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও হযরত আলী (রা.)-এর ইলমের বিশ্বস্ত ধারক ও বাহক।

উপসংহার

তাবেঈনদের এই অভূতপূর্ব ত্যাগ ও বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষার মাধ্যমেই সাহাবাদের যুগের মৌখিক ও বিক্ষিপ্ত হাদিসগুলো পরবর্তী তাবে-তাবেঈদের যুগে মুয়াত্তা, মুসান্নাফ ও সিহাহ সিত্তাহর মতো বিশদ সংকলনে রূপান্তরিত হওয়ার পথ সুগম হয়।


٥. تحدث عن نشأة علم الجرح والتعديل وتطوره مع ذكر أهم الكتب المصنفة فيه-

[৫. ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীলের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর এবং এ শাস্ত্রে রচিত প্রধান প্রধান গ্রন্থসমূহের নাম উল্লেখ কর।]

ভূমিকা

হাদিস বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ততা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতার পুঙ্খানুপুঙ্খ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের বিজ্ঞানকে ‘ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল’ (علم الجرح والتعديل) বলা হয়। এটি ইসলামী সভ্যতার এক অনন্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, যার কোনো সমকক্ষ অন্য কোনো ধর্মে বা ইতিহাসে নেই।

১. জারহ ও তা’দীল-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ

  • জারহ (الجرح): আভিধানিক অর্থ আহত করা বা আঘাত করা। পরিভাষায়—বর্ণনাকারীর এমন কোনো দোষ, দুর্বলতা বা ত্রুটি প্রকাশ করা যার কারণে তাঁর বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত বা দুর্বল বলে গণ্য হয় (যেমন—মিথ্যাবাদী, অধিক ভুলকারী, বেদাতি ইত্যাদি)।
  • তা’দীল (التعديل): আভিধানিক অর্থ সোজা করা, ভারসাম্য আনা বা ন্যায়বান সাব্যস্ত করা। পরিভাষায়—বর্ণনাকারীর ধার্মিকতা, সততা ও নির্ভুলতার গুণাবলী বর্ণনা করে তাঁকে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলে রায় দেওয়া।
  • বৈধতার প্রমাণ: শরীয়তের স্বার্থে এটি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং আমানত রক্ষার আবশ্যিক দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا” (হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও – সূরা হুজুরাত: ৬)। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেছিলেন: “بئس أخو العشيرة” (সে তার গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট লোক – সহীহ বুখারী)।

২. ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীলের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের পর্যায়সমূহ

  1. প্রথম পর্যায়: সাহাবা ও তাবেঈনদের যুগ:

    সাহাবায়ে কিরামের যুগে প্রথম হাদিস যাচাইয়ের সূচনা হয়। হযরত আবু বকর, উমর ও আলী (রা.) সাক্ষ্য ও কসমের মাধ্যমে রাবীর সততা নিশ্চিত করতেন। পরবর্তীতে উমাইয়া যুগে যখন ফিতনা ও মাউযু হাদিসের বিস্তার ঘটে, তখন প্রবীণ তাবেঈগণ—যেমন মুহাম্মদ ইবনে সীরীন, সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব ও আমির আশ-শা’বী রাবীদের পরিচয় অনুসন্ধান শুরু করেন এবং দুর্বল ও বিশ্বস্তদের পৃথক করেন।

  2. দ্বিতীয় পর্যায়: তাবে-তাবেঈনদের যুগ (দ্বিতীয় হিজরী শতক):

    এ যুগে জারহ ও তা’দীল প্রাতিষ্ঠানিক শাস্ত্র হিসেবে রূপ লাভ করে। এই যুগের প্রধান ইমামগণ হলেন: ইমাম শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.) (যাঁকে বলা হতো আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস), সুফিয়ান সাওরী, মালেক ইবনে আনাস এবং বিশেষ করে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (ওফাত: ১৯৮ হি.) ও আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (ওফাত: ১৯৮ হি.)। তাঁরা রাবীদের দুর্বলতা খোলাখুলিভাবে উম্মাহর সামনে তুলে ধরেন।

  3. তৃতীয় পর্যায়: স্বর্ণযুগ (তৃতীয় হিজরী শতক):

    এ যুগে ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল পূর্ণাঙ্গতা লাভ করে এবং স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলি রচিত হতে থাকে। এ যুগের অগ্রগণ্য দিকপাল ছিলেন: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (জারহ-তা’দীলের প্রবাদপুরুষ), আলী ইবনুল মাদীনী, ইমাম আল-বুখারী, ইমাম মুসলিম, আবু যুর’আ আর-রাযী এবং আবু হাতিম আর-রাযী।

  4. চতুর্থ পর্যায়: সুবিন্যস্তকরণ ও পরিভাষা নির্ধারণ (চতুর্থ হিজরী ও তৎপরবর্তী):

    ইমাম ইবনে আবী হাতিম আর-রাযী, দারাকুতনী, ইবনে হিব্বান ও হাকিম নিশাপুরী এ শাস্ত্রের স্তরভেদ ও পরিভাষাগুলোকে চমৎকার শৃঙ্খলায় নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে হাফিজ যাহাবী এবং হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী এই শাস্ত্রকে চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন।

৩. ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীলের প্রধান গ্রন্থাবলি (أهم الكتب المصنفة)

মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কালজয়ী কিতাবসমূহ রচনা করেছেন:

  • ১. সাধারণ ও সামগ্রিক রিজাল গ্রন্থ (বিশ্বস্ত ও দুর্বল উভয় প্রকার অন্তর্ভুক্ত):
    • আত-তারিখুল কাবীর (التاريخ الكبير) – ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)।
    • আল-জারহু ওয়াত তা’দীল (الجرح والتعديل) – ইমাম ইবনে আবী হাতিম আর-রাযী (রহ.)। এটি এ শাস্ত্রের সবচেয়ে বিশদ ও মৌলিক বিশ্বকোষ।
    • তাহযীবুল কামাল ফী আসমাইর রিজাল (تهذيب الكمال) – ইমাম ইউসুফ আল-মিযযী (রহ.)।
    • তাহযীবুত তাহযীব (تهذيب التهذيب)তাকরীবুত তাহযীব (تقريب التهذيب) – হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.)।
  • ২. শুধুমাত্র দুর্বল ও বর্জনীয় রাবীদের ওপর রচিত গ্রন্থ (كتب الضعفاء والمتروكين):
    • কিতাবুয যু’আফা (الضعفاء) – ইমাম বুখারী ও ইমাম নাসাঈ।
    • কিতাবুল মাজরূহীন (المجروحين من المحدثين) – ইমাম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তী (রহ.)।
    • আল-কামিল ফিয যু’আফার রিজাল (الكامل في ضعفاء الرجال) – ইমাম ইবনে আদী আল-জুরজানী (রহ.)।
    • মীযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল (ميزان الاعتدال) – হাফিজ শামসুদ্দীন আয-যাহাবী (রহ.)।
    • লিসানুল মীযান (لسان الميزان) – হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী (রহ.)।
  • ৩. শুধুমাত্র বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য রাবীদের ওপর রচিত গ্রন্থ (كتب الثقات):
    • কিতাবুছ ছিকাত (الثقات) – ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ.)।
    • মা’রিফাতুছ ছিকাত (معرفة الثقات) – ইমাম আল-ইজলী (রহ.)।

উপসংহার

ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে অবিকৃত রাখার এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। এর মাধ্যমেই আজও প্রতিটি হাদিসের সত্যতা গাণিতিক নিখুঁততায় যাচাই করা সম্ভবপর হয়েছে।


٦. اكتب نبذة عن حياة الإمام البخارى رحمه الله مع بيان خصائص صحيحه ومنهجه فى تصنيفه بالتفصيل-

[৬. ইমাম বুখারী রহ.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং তাঁর সহিহ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য ও সংকলন পদ্ধতি বিস্তারিত ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

হাদিস জগতের অবিসংবাদিত সম্রাট, আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.)। কুরআনুল কারীমের পর মুসলিম উম্মাহর নিকট সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত ‘সহীহুল বুখারী’ রচনা করে তিনি ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

১. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • নাম ও বংশপরিচয়: নাম মুহাম্মদ, কুনিয়াত আবু আব্দুল্লাহ, লকব ‘আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস’। বংশপরিক্রমা: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহীম ইবনুল মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জু’ফী আল-বুখারী। তাঁর প্রপিতামহ মুগীরা বুখারার গভর্নর ইয়ামান আল-জু’ফীর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
  • জন্ম: তিনি ১৯৪ হিজরীর ১৩ শাওয়াল জুমাবার বর্তমান উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক বুখারা নগরীতে এক সম্ভ্রান্ত ও দীনদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি পিতৃহীন হন এবং মহীয়সী মাতার লালন-পালনে বড় হন। বাল্যকালে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে তাঁর মায়ের অশ্রুসজল দোয়ার বরকতে অলৌকিকভাবে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।
  • স্মৃতিশক্তি ও ইলম অন্বেষণ: বাল্যকালেই তিনি সম্পূর্ণ কুরআন হিফয করেন। মাত্র দশ বছর বয়সেই তিনি হাদিস মুখস্থ করতে শুরু করেন। ষোলো বছর বয়সে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক ও ওয়াকী ইবনুল জাররাহ-এর কিতাবাদি কণ্ঠস্থ করেন। তিনি ইলমে হাদিসের সন্ধানে মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, বাগদাদ, মিসর, শাম ও নিশাপুরে বহুবার সফর করেন। এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ ও গ্রহণ করেন। তাঁর মুখস্থ ছিল এক লক্ষ সহীহ হাদিস এবং দুই লক্ষ গাইরে সহীহ হাদিস।
  • ওফাত: জীবনের শেষভাগে নিশাপুরে ও বুখারার গভর্নরের রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে তিনি বুখারা ছেড়ে সমরকন্দের নিকটবর্তী ‘খারতাঙ্ক’ নামক গ্রামে চলে যান। সেখানে ২৫৬ হিজরীর ১লা শাওয়াল ঈদুল ফিতরের রাতে ৬২ বছর বয়সে এই মহান ইমাম ইন্তেকাল করেন।

২. সহীহ বুখারীর রচনার পটভূমি ও পূর্ণ নাম

  • গ্রন্থের পূর্ণ নাম: “الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه” (আল-জামি’ আল-মুসনাদ আস-সহীহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহী ওয়া আইয়ামিহ)।
  • রচনার কারণ: ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) একদিন তাঁর দরবারে আক্ষেপ করে বলেছিলেন: “তোমাদের কেউ যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহীহ হাদিসগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন তৈরি করত!” এই কথাটি ইমাম বুখারীর হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে। এছাড়া তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে পাখা নিয়ে বাতাস করছেন এবং মাছি তাড়াচ্ছেন। বিজ্ঞজনেরা এর ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস থেকে মিথ্যার আবর্জনা দূর করবেন।

৩. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সংকলন পদ্ধতি (منهجه في التصنيف)

  1. চরম সতর্কতা ও ইস্তিখারা: ইমাম বুখারী একটানা ১৬ বছর সাধনা করে ছয় লক্ষ হাদিসের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এই গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি পবিত্র কাবা শরীফ ও মসজিদে নববীর রওজাতুম মিন রিয়াযিল জান্নাতে বসে এর অধিকাংশ পরিচ্ছেদ বিন্যাস করেন। তিনি নিজেই বলেন: “ما وضعت في كتابي الصحيح حديثا إلا اغتسلت قبل ذلك وصليت ركعتين” (আমি গোসল করে দুই রাকাত নামায ও ইস্তিখারা না করে কোনো হাদিস আমার সহীহ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করিনি)।
  2. রাবী নির্বাচনের কঠোর শর্তাবলি (শর্তুল বুখারী): ইমাম বুখারীর শর্ত ছিল হাদিস শাস্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন ও আপসহীন।
    • সনদের ধারাবাহিকতা (ইত্তিসালুস সানাদ) সম্পূর্ণ অবিচ্ছিন্ন হতে হবে।
    • প্রতিটি রাবীকে সর্বোচ্চ স্তরের বিশ্বস্ত (আদিল) ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী (তাক্বীন ও জাবিত) হতে হবে।
    • সনদ ও মতন সকল প্রকার ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও শুযূয (অন্যান্য সহীহ বর্ণনার বৈপরীত্য) থেকে মুক্ত হতে হবে।
    • সাক্ষাতের নিশ্চয়তা (ছুবুতুল লিক্বা): ইমাম বুখারীর মতে, ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে কেবল সমসাময়িক হওয়া (মুআসারাত) যথেষ্ট নয়; বরং জীবনে অন্তত একবার সরাসরি সাক্ষাৎ ও হাদিস শ্রবণের ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকতে হবে (যা ইমাম মুসলিমের শর্তের চেয়ে অধিক সূক্ষ্ম)।
  3. তারাজুমুল আবওয়াব বা শিরোনাম বিন্যাস: সহীহ বুখারীর এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর পরিচ্ছেদের নামকরণ (تراجم الأبواب)। আলেমগণ বলেন: “فقه البخاري في تراجمه” (ইমাম বুখারীর অগাধ ফিকহী জ্ঞান নিহিত রয়েছে তাঁর অধ্যায়সমূহের শিরোনামের মধ্যে)। তিনি শিরোনামের মাধ্যমেই কোনো মাসআলার গভীর ফিকহী রায় ও দলীল তুলে ধরতেন।
  4. হাদিসের পুনরাবৃত্তি ও তাকতী’: বিভিন্ন ফিকহী অনুসিদ্ধান্ত প্রমাণের প্রয়োজনে তিনি একই হাদিসের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন সনদে উল্লেখ করেছেন।

৪. সহীহ বুখারীর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص صحيح البخاري)

  • ১. আসাহহুল কুতুব বা বিশুদ্ধতম গ্রন্থ: মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত ইজমা অনুযায়ী কুরআনের পর এটিই পৃথিবীর বিশুদ্ধতম গ্রন্থ (أصح كتاب بعد كتاب الله)।
  • ২. জামি’ বা সর্বাঙ্গীন গ্রন্থ: এটি একটি জামি’ গ্রন্থ; যাতে আকাইদ, আহকাম, সিরাত, তাফসীর, ফিতান, যুহদ ও শিষ্টাচারসহ দ্বীনের সকল মৌলিক আটটি বিষয়ের হাদিস বিদ্যমান।
  • ৩. উচ্চমানের সনদ (উলোভুস সানাদ): এতে ২২টি ‘সুলাসিয়াত’ (ثلاثيات) রয়েছে, যেখানে ইমাম বুখারী ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাঝে মাত্র তিনজন বর্ণনাকারী বিদ্যমান।
  • ৪. হাদিসের সংখ্যা: পুনরাবৃত্তিসহ মোট হাদিস সংখ্যা ৭,৫৬৩টি; এবং পুনরাবৃত্তি ছাড়া প্রায় ২,৬০২টি সহীহ হাদিস এতে স্থান পেয়েছে।

উপসংহার

সহীহ বুখারী হাদিস সংকলনের সর্বোচ্চ চূড়া। এটি সংকলনের মাধ্যমে ইমাম বুখারী উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর এমন এক চিরন্তন অনুগ্রহ রেখে গেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে।


٧. ما المراد بكتب الجوامع والسنن والمسانيد والمعاجم؟ اذكر مميزات كل منها مع ذكر أمثلتها-

[৭. কুতুবে জাওয়ামি’, সুনান, মাসানিদ ও মা’আজিম দ্বারা কী উদ্দেশ্য? এগুলোর প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য উদাহরণসহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা

হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ হাদিসসমূহকে বিভিন্ন বিন্যাসরীতি ও বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করে গ্রন্থ রচনা করেছেন। সংকলনরীতির এই বৈচিত্র্য হাদিসের গবেষণা, ফিকহী আহকাম আহরণ এবং রাবীদের যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে। নিম্নে জাওয়ামি’, সুনান, মাসানিদ ও মা’আজিম সম্পর্কে সবিস্তার আলোচনা করা হলো।

১. কুতুবুল জাওয়ামি’ (كتب الجوامع)

  • পরিচয়: ‘জামি” (الجامع) শব্দের অর্থ একত্রকারী বা সংগ্রাহক। পরিভাষায় যে সকল হাদিস গ্রন্থে দ্বীনের সকল মৌলিক বিষয়ের হাদিস একত্রিত করা হয়, তাকে ‘জামি” বলে। মুহাদ্দিসগণের মতে একটি পূর্ণাঙ্গ জামি’ গ্রন্থে নিম্নোক্ত ৮টি প্রধান অধ্যায় থাকতে হয়: (১) আকাইদ ও ঈমান, (২) ফিকহ ও আহকাম, (৩) সিরাত ও ইতিহাস, (৪) যুহদ ও আত্মশুদ্ধি, (৫) আদব ও শিষ্টাচার, (৬) তাফসীরুল কুরআন, (৭) ফিতান ও কিয়ামতের আলামত, এবং (৮) মানাকিব ও ফাযায়িল।
  • প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    • এটি ইসলামী জ্ঞানের বিশ্বকোষতুল্য।
    • এর বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক ও অধ্যায়ভিত্তিক (ব্যাব ও ফাসল অনুযায়ী)।
    • দ্বীনের কোনো মৌলিক দিকই এতে বাদ পড়ে না।
  • উদাহরণ:
    1. সহীহুল বুখারী – ইমাম বুখারী (রহ.)।
    2. সহীহ মুসলিম – ইমাম মুসলিম (রহ.) (যদিও এর প্রচলিত নাম সহীহ মুসলিম, কিন্তু মূল নাম জামি’র অন্তর্ভুক্ত)।
    3. জামি’ আত-তিরমিযী – ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী (রহ.)।
    4. আল-জামি’ লি মা’মার ইবনে রাশিদ (রহ.)।

২. কুতুবুস সুনান (كتب السنن)

  • পরিচয়: ‘সুনান’ (السنن) শব্দটি ‘সুন্নাহ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ রীতিনীতি বা তরীকা। হাদিসের পরিভাষায় যে সকল হাদিস গ্রন্থ কেবল ফিকহী ধারাক্রম (أبواب الفقه) অনুযায়ী সালাত, সাওম, যাকাত, হজ, ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ ইত্যাদি ব্যবহারিক জীবনের হুকুম-আহকাম সম্পর্কিত মারফু’ হাদিস নিয়ে সংকলিত হয়, তাকে ‘সুনান’ গ্রন্থ বলে।
  • প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    • এতে মূলত ফিকহী আহকাম বা হালাল-হারাম সম্পর্কিত হাদিস প্রাধান্য পায়।
    • আকাইদ, ইতিহাস, কিয়ামতের আলামত ইত্যাদি বিস্তারিত আলোচিত হয় না।
    • অধ্যায়গুলো ফিকহের কিতাবের বিন্যাসে সাজানো (যেমন—কিতাবুত তাহারাত, কিতাবুয যাকাত ইত্যাদি)।
    • অধিকাংশ ক্ষেত্রে মারফু’ (রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী) হাদিস বর্ণিত হয়, মাওকুফ ও মাকতু খুব কম থাকে।
  • উদাহরণ:
    1. সুনানে আবু দাউদ – ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (রহ.)।
    2. সুনানে নাসাঈ – ইমাম আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসাঈ (রহ.)।
    3. সুনানে ইবনে মাজাহ – ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ (রহ.)।
    4. সুনানে দারিমী – ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমী (রহ.)।
    5. সুনানে সাঈদ ইবনে মানসূর (রহ.)।

৩. কুতুবুল মাসানিদ (كتب المسانيد)

  • পরিচয়: ‘মাসানিদ’ (المسانيد) শব্দটি ‘মুসনাদ’ (المسند)-এর বহুবচন। হাদিস শাস্ত্রে যে সকল কিতাব বিষয়ভিত্তিক নয়; বরং বর্ণনাকারী সাহাবীদের নামের ক্রমানুসারে সংকলিত হয়, তাকে ‘মুসনাদ’ বলা হয়। অর্থাৎ একজন সাহাবী রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে যত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তা যে বিষয়েরই হোক না কেন—সব এক স্থানে একত্রিত করা হয়।
  • বিন্যাস পদ্ধতি ও বৈশিষ্ট্য:
    • বর্ণনাকারীর মর্যাদা অনুযায়ী সাজানো হয়: প্রথমে খোলাফায়ে রাশেদীন, অতঃপর আশারায়ে মুবাশশারা, এরপর বদরী সাহাবী, মুহাজির, আনসার এবং সর্বশেষে মহিলা সাহাবীগণের বর্ণিত হাদিস। অথবা সাহাবীদের নামের বর্ণানুক্রমিক (হিজায়ী) সাজানো হয়।
    • সাধারণ পাঠকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের হাদিস খুঁজে বের করা কঠিন, তবে একজন সাহাবীর মোট বর্ণিত হাদিস গবেষণার জন্য এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
    • এতে সহীহ, হাসান এবং কিছু যঈফ হাদিসও সংকলিত হতে পারে।
  • উদাহরণ:
    1. মুসনাদে আহমদ – ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) (এতে প্রায় ৩০,০০০ হাদিস রয়েছে, যা মাসানিদের মধ্যে সর্ববৃহৎ)।
    2. মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসী (রহ.) (সর্বপ্রথম সংকলিত মুসনাদ গ্রন্থ)।
    3. মুসনাদে আল-হুমাইদী – ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের আল-হুমাইদী (রহ.)।
    4. মুসনাদে বাযযার (আল-বাহরুয যাখখার) – ইমাম আবু বকর আল-বাযযার (রহ.)।

৪. কুতুবুল মা’আজিম (كتب المعاجم)

  • পরিচয়: ‘মা’আজিম’ (المعاجم) শব্দটি ‘মু’জাম’ (المعجم)-এর বহুবচন। পরিভাষায় যে সকল হাদিস গ্রন্থে হাদিসসমূহকে মুহাদ্দিসের নিজ শায়খ ও ওস্তাদগণের নামের বর্ণানুক্রমিক (معجم حروف الهجاء) অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়, তাকে ‘মু’জাম’ বলে।
  • প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
    • এখানে সাহাবীদের নাম নয়; বরং গ্রন্থকারের শিক্ষকদের (শায়খদের) নামের ক্রমানুসারে হাদিস সাজানো হয়।
    • একটি নির্দিষ্ট শায়খের কাছ থেকে লেখক যে যে হাদিস শুনেছেন তা তাঁর নামের অধীনে একত্রিত থাকে।
    • মুহাদ্দিসগণের সনদ ও শায়খদের রিজাল গবেষণায় মু’জাম গ্রন্থগুলো অপরিহার্য।
  • উদাহরণ:

    এ ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম হলেন ইমাম আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানী (রহ.) (ওফাত: ৩৬০ হি.)। তাঁর বিখ্যাত তিনটি মু’জাম গ্রন্থ হলো:

    1. আল-মু’জামুল কাবীর (المعجم الكبير) – সাহাবায়ে কিরামের নামের বর্ণানুক্রমে সাজানো (হযরত আবু হুরায়রা রা. ব্যতীত)।
    2. আল-মু’জামুল আওসাত (المعجم الأوسط) – তাবারানীর প্রায় এক হাজার শায়খের নামের বর্ণানুক্রমে সাজানো। এতে বিরল হাদিসসমূহ স্থান পেয়েছে।
    3. আল-মু’জামুস সাগীর (المعجم الصغير) – এতে ইমাম তাবারানী তাঁর প্রায় এক হাজার শায়খের প্রত্যেকের নিকট থেকে একটি করে হাদিস উল্লেখ করেছেন।

উপসংহার

জাওয়ামি’, সুনান, মাসানিদ ও মা’আজিম সংকলনধারার এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে, মুসলিম মুহাদ্দিসগণ কত নিপুণ ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস সংরক্ষণ করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত উম্মাহর গবেষণাকে সমৃদ্ধ রাখবে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. তারিখ ইলমুল হাদিস বিষয়ের প্রধান আলোচ্য বিষয় কী?

রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবাদের যুগ থেকে শুরু করে হাদিস সংরক্ষণ, সংকলন, কিতাব প্রণয়ন, ইলমে রিজাল ও বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থের ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ পর্যালোচনা করাই এ বিষয়ের মূল লক্ষ্য।

২. হাদিস লিখিত সংকলনের রাষ্ট্রীয় নির্দেশ প্রথম কে প্রদান করেন?

হিজরী প্রথম শতকের শেষভাগে ধার্মিক উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিস সংগ্রহের সরকারি ফরমান জারি করেন।

৩. আস-সহীফাতুস সাদীকা কার সংকলিত গ্রন্থ?

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তাঁর অনুমতি নিয়ে ‘আস-সহীফাতুস সাদীকা’ সংকলন করেন।

৪. সিহাহ সিত্তার কিতাবগুলোর মধ্যে ‘জামি” শ্রেণির গ্রন্থ কোনগুলো?

সহীহুল বুখারী ও জামি’ আত-তিরমিযী হলো বিশুদ্ধ জামি’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যেখানে দ্বীনের সকল মৌলিক আটটি বিষয়ের হাদিস বিদ্যমান রয়েছে।

৫. হাদিস শাস্ত্রে ‘হুজ্জাহ’ কার উপাধি?

যিনি সনদ ও মতনসহ কমপক্ষে তিন লক্ষ হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী ও স্তরভেদ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, তাঁকে হাদিসের পরিভাষায় ‘হুজ্জাহ’ বলা হয়।

৬. ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীলের প্রধান উদ্দেশ্য কী?

হাদিস বর্ণনাকারীদের সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও স্মৃতিশক্তির অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে সহীহ ও যঈফ হাদিসকে পৃথক করা এবং জাল হাদিস থেকে সুন্নাহকে রক্ষা করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *