জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

তারিখ ইলমুল হাদিস (Tarikh Ilm al-Hadith) – ২০২২০১, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫৭ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: তারিখ ইলমুল হাদিস (Tarikh Ilm al-Hadith)
বিষয় কোড: ২০২২০১
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

ক বিভাগ (القسم الأول) – পূর্ণাঙ্গ প্রশ্ন সমাধান

١. عرف تاريخ علم الحديث- وكيف كان علم الحديث فى عهد النبى صلى الله عليه وسلم؟ بين مفصلا-

[১. তারিখ ইলমুল হাদিসের সংজ্ঞা দাও এবং নবী করীম (সা.)-এর যুগে ইলমে হাদিসের অবস্থা কেমন ছিল? বিস্তারিত ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় বুনিয়াদি উৎস হলো আল-হাদিস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মুখনিঃসৃত বাণী, জীবনাচার, সিদ্ধান্ত ও মৌন সম্মতিই হাদিস হিসেবে পরিগণিত। হাদিসশাস্ত্রের উৎপত্তি, বিকাশ, সংকলন এবং সংরক্ষণের সুদীর্ঘ ধারাবাহিক ইতিহাস অধ্যয়নের শাস্ত্রকে ‘তারিখ ইলমুল হাদিস’ বলা হয়।

১. তারিখ ইলমুল হাদিস (تاريخ علم الحديث)-এর সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থ: ‘তারিখ’ (تاريخ) শব্দের অর্থ কালনিরূপণ, ইতিবৃত্ত বা কোনো ঘটনার ঐতিহাসিক ক্রমবিকাশ। ‘ইলম’ (علم) অর্থ জ্ঞান বা বিজ্ঞান এবং ‘আল-হাদিস’ (الحديث) অর্থ নতুন বিষয় বা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ও কর্ম।

পারিভাষিক অর্থ: মুহাদ্দিসগণের দৃষ্টিতে— “هو العلم الذي يبحث فيه عن نشأة الحديث النبوي الشريف وتطوره وأطواره التاريخية منذ عصر النبوة وتدوينه وتصنيفه وجهود المحدثين في حفظه ونقله عبر القرون” অর্থাৎ, “যে শাস্ত্রের মাধ্যমে নবুওয়তের যুগ থেকে শুরু করে যুগ পরম্পরায় পবিত্র হাদিসের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্তর, লিপিবদ্ধকরণ, গ্রন্থ সংকলন এবং তা সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারে মুহাদ্দিসগণের অবদান বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়, তাকে তারিখ ইলমুল হাদিস বলে।”

২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ইলমে হাদিসের অবস্থা

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় ইলমে হাদিসের চর্চা ও সংরক্ষণের ধারাটি ছিল অত্যন্ত জীবন্ত ও গতিশীল। প্রধানত তিনটি মাধ্যমে এ যুগে হাদিস চর্চা পরিচালিত হতো:

  1. মুখস্থকরণ ও প্রখর স্মৃতিশক্তির ব্যবহার (الحفظ والإتقان): তৎকালীন আরবরা প্রবাদতুল্য স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। নবীজী (সা.) কোনো কথা বললে সাহাবীগণ তা অত্যন্ত মনোযোগসহকারে শুনতেন এবং অন্তরে ধারণ করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে কথা বলতেন যে, কোনো গণনাকারী গণনা করতে চাইলে তা করতে পারত (সহীহ বুখারী)।
  2. আমলি অনুশীলন ও দৈনন্দিন জীবনাচার (الممارسة والتطبيق العملي): সাহাবায়ে কিরাম রাসুল (সা.)-এর প্রতিটি আমল পর্যবেক্ষণ করতেন এবং নিজেদের জীবনে হুবহু অনুকরণ করতেন। যেমন নামাযের ব্যাপারে নবীজী (সা.) ইরশাদ করেছেন: “صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي” (তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখেছ সেভাবে নামায আদায় কর—সহীহ বুখারী)।
  3. পরস্পর মুযাকারা ও পুনরাবৃত্তি (المذاكرة والمراجعة): সাহাবীগণ একে অপরের সাথে রাসুল (সা.)-এর হাদিস নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতেন। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন: “আমরা নবীজী (সা.)-এর নিকট বসে হাদিস শুনতাম, অতঃপর বাইরে এসে তা পরস্পরের মাঝে আলোচনা ও পুনরাবৃত্তি করতাম, ফলে তা আমাদের অন্তরে গেঁথে যেত।”
  4. হাদিস লিপিবদ্ধকরণ (كتابة الحديث): প্রাথমিক পর্যায়ে কোরআন ও হাদিস মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হাদিস লেখায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং হাদিস লেখার অনুমতি ও নির্দেশ দেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) রাসুল (সা.)-এর প্রতিটি কথা লিখে রাখতেন এবং তাঁর এ সংকলনের নাম দেন ‘আস-সহীফাতুস সাদীকা’। মক্কা বিজয়ের দিন আবু শাহ নামক এক ব্যক্তির জন্য রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন: “اكْتُبُوا لأَبِي شَاهٍ” (তোমরা আবু শাহ-এর জন্য আমার খুতবাটি লিখে দাও—সহীহ বুখারী)।

উপসংহার

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেই হাদিসের বিশুদ্ধতা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার এমন এক মজবুত ভিত্তি রচিত হয়েছিল, যা পরবর্তী যুগে সাহাবা ও তাবেঈদের নিরলস প্রচেষ্টায় এক বিশাল ও সুসংহত ইলমি কাঠামোর রূপ পরিগ্রহ করে।


٢. ماذا تفهم بكتابة الحديث؟ اذكر جهود الصحابة رضوان الله عليهم فى كتابة الحديث وحفظه ونقله إلى الأمة مختصرا-

[২. কিতাবাতুল হাদিস বলতে কী বোঝ? হাদিস লিপিবদ্ধকরণ, হিফজ এবং উম্মাহর নিকট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরামের (রা.) অবদান সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]

ভূমিকা

কিতাবাতুল হাদিস বা হাদিস লিপিবদ্ধকরণ ইসলামী ইলমি ঐতিহ্যের এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) নবীজী (সা.)-এর অমূল্য বাণীসমূহ ভবিষ্যৎ উম্মতের জন্য সংরক্ষণ করতে নিজেদের সর্বস্ব নিয়োগ করেছিলেন।

১. কিতাবাতুল হাদিস (كتابة الحديث)-এর পরিচয়

হাদিস লিপিবদ্ধকরণ বলতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র বাণী, কর্ম, সম্মতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ কাগজে, চামড়ায়, ফলকে বা পাথরে অক্ষর বিন্যাসের মাধ্যমে লিখে রাখাকে বোঝায়। প্রাথমিক যুগে স্মৃতিশক্তির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে হাদিস লিখে রাখা হতো, যা পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তাদভীনের পথ সুগম করে।

২. হাদিস সংরক্ষণে সাহাবায়ে কিরামের (রা.) বহুমুখী প্রচেষ্টা

  1. স্মৃতিতে সংরক্ষণ (الحفظ في الصدور): সাহাবীগণ আল্লাহর রাসুলের হাদিসকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) পাঁচ সহস্রাধিক হাদিস মুখস্থ রেখেছিলেন। তিনি রাতের এক-তৃতীয়াংশ হাদিস পুনরাবৃত্তি ও ইয়াদ করায় অতিবাহিত করতেন।
  2. হাদিস লিপিবদ্ধকরণে উদ্যোগ (كتابة الأحاديث):
    • আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.): তিনি রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় ‘আস-সহীফাতুস সাদীকা’ সংকলন করেন যাতে প্রায় এক হাজার হাদিস ছিল।
    • হযরত আলী (রা.): তাঁর নিকট রক্তপণ, বন্দিমুক্তি ও মদিনার সীমানা সম্বলিত একটি বিশেষ সহীফা লিখিত ছিল।
    • হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.): তিনি হাদিস লিখে রাসুল (সা.)-কে দেখাতেন এবং অনুমোদন গ্রহণ করতেন।
    • হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.): তিনি সাহাবীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে হাদিস সংগ্রহ করতেন এবং নিজস্ব তখতি বা ফলকে তা লিখে রাখতেন।
    • হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.): তাঁর সহীফায় হজের যাবতীয় আহকাম ও বিধানাবলি লিপিবদ্ধ ছিল।
  3. উম্মতের কাছে হাদিস পৌঁছানোর গুরুত্ব (تبليغ الحديث): সাহাবায়ে কিরাম রাসুল (সা.)-এর সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে বাস্তবায়নে সদা তৎপর ছিলেন: “نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ” (আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও আনন্দিত রাখুন, যে আমার কথা শুনেছে, মুখস্থ করেছে এবং তা অপরের নিকট পৌঁছে দিয়েছে—তিরমিযী)।
  4. হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই: খোলাফায়ে রাশেদীন বিশেষত আবু বকর ও উমর (রা.) কোনো হাদিস গ্রহণ করার পূর্বে সাক্ষী তলব করতেন এবং অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন যেন একটি শব্দও এদিক-সেদিক না হয়।

উপসংহার

সাহাবায়ে কিরামের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও ত্যাগের ফলেই আজ মুসলিম উম্মাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে অবিকৃত ও সুরক্ষিত রূপে পেয়েছে।


٣. ما المراد بتدوين الحديث؟ متى وكيف بدأ تدوين الحديث؟ بين مراحل تدوين الحديث موضحا-

[৩. তাদভীনে হাদিস দ্বারা কী উদ্দেশ্য? কখন এবং কীভাবে হাদিস সংকলন শুরু হয়েছিল? হাদিস সংকলনের পর্যায়সমূহ সুস্পষ্টভাবে আলোচনা কর।]

ভূমিকা

হাদিস সংরক্ষণ ও সংকলনের ইতিহাস এক অনুপম ও বিস্ময়কর ইতিহাস। ব্যক্তিগত পাণ্ডুলিপি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হাদিস একত্রিত করার প্রক্রিয়াটি ‘তাদভীনে হাদিস’ নামে খ্যাত।

১. তাদভীনে হাদিস (تدوين الحديث)-এর অর্থ

‘তাদভীন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয় একত্রিত করে গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা। পরিভাষায়—রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহ বিভিন্ন সহীফা ও সাহাবীদের হৃদয় থেকে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংগ্রহ করে কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করাকে তাদভীনে হাদিস বলা হয়।

২. তাদভীনে হাদিসের সূচনা ও প্রেক্ষাপট

হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে ও দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রারম্ভে উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) (ওফাত: ১০১ হি.) সর্বপ্রথম সরকারিভাবে হাদিস সংকলনের ঐতিহাসিক ফরমান জারি করেন। যুদ্ধ-বিগ্রহে প্রবীণ সাহাবী ও তাবেঈগণের শাহাদাতবরণ এবং স্মৃতিশক্তির অবক্ষয়ের আশঙ্কায় তিনি মদিনার গভর্নর আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম এবং প্রখ্যাত তাবেঈ ইমাম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (রহ.)-কে হাদিস লিখে সংকলন করার নির্দেশ দেন।

৩. হাদিস সংকলনের ঐতিহাসিক পর্যায়সমূহ (مراحل تدوين الحديث)

  1. প্রথম পর্যায় (নবুওয়ত ও সাহাবা যুগ): এ যুগে সংকলন ছিল ব্যক্তিগত ও বিক্ষিপ্ত। সাহাবীগণ ব্যক্তিগত সহীফায় হাদিস লিপিবদ্ধ করতেন (যেমন সহীফায়ে সাদীকা, সহীফায়ে আলী রা.)।
  2. দ্বিতীয় পর্যায় (তাবেঈ যুগ – হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী): এ যুগে খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর নির্দেশে আনুষ্ঠানিক সংকলন শুরু হয়। ইমাম আয-যুহরী (রহ.) প্রথম ব্যাপক সংকলন প্রস্তুত করেন। এ যুগে হাদিসের সাথে সাহাবাদের ফতোয়া ও তাবেঈদের বক্তব্য সংমিশ্রিতভাবে অধ্যায়ভিত্তিক (ব্যাব অনুযায়ী) সাজানো হয়। প্রধান গ্রন্থ: ইমাম মালিকের ‘মুয়াত্তা’, মা’মার ইবনে রাশেদের ‘আল-জামে’।
  3. তৃতীয় পর্যায় (তাবে-তাবেঈ যুগ ও স্বর্ণযুগ – হিজরি তৃতীয় শতাব্দী): এ যুগ হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ। এ যুগে হাদিস থেকে সাহাবা ও তাবেঈদের উক্তি পৃথক করে কেবল মারফু হাদিসকে বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে সংকলন করা হয়। এ যুগে রচিত হয় ‘সিহাহ সিত্তা’ বা কুতুবে সিত্তা (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
  4. চতুর্থ পর্যায় (হিজরি চতুর্থ শতাব্দী ও পরবর্তী সময়): এ যুগে সংকলিত হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা, মুস্তাদরাক, মুসতাখরাজ, জাওয়ায়েদ, তালখীস এবং উলুমুল হাদিসের মৌলিক গ্রন্থাবলী রচিত হয় (যেমন দারা কুতনী, ত্বহাবী, বাইহাকী, হাকিম নিশাপুরী)।

উপসংহার

তাদভীনে হাদিসের এ স্তরভিত্তিক বিকাশ প্রমাণ করে যে, আল্লাহর রাসুলের বাণীসমূহ অলৌকিক সুরক্ষা ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত হয়েছে।


٤. اكتب نبذة عن حياة الإمام البخارى رحمه الله مع بيان منهجه فى كتابه الجامع الصحيح وسبب تأليفه مختصرا-

[৪. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ তাঁর ‘আল-জামে আস-সহীহ’ গ্রন্থে অনুসৃত মানহাজ (পদ্ধতি) এবং তা সংকলনের কারণ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

ভূমিকা

আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদিস ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী (রহ.) হাদিস শাস্ত্রের অবিসংবাদিত সম্রাট। তাঁর সংকলিত ‘সহীহুল বুখারী’ পবিত্র কোরআনের পর মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।

১. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • নাম ও বংশপরিচয়: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনুল মুগীরা আল-জু’ফী আল-বুখারী। উপনাম আবু আব্দুল্লাহ।
  • জন্ম: ১৯৪ হিজরির ১৩ শাওয়াল জুমাবার বর্তমান উজবেকিস্তানের বুখারা নগরীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই পিতৃহীন হয়ে তিনি মায়ের স্নেহচ্ছায়ায় প্রতিপালিত হন।
  • শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন: শৈশবেই তিনি কোরআন মুখস্থ করেন। মাত্র দশ বছর বয়সে হাদিস মুখস্থ করা শুরু করেন। তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, বাগদাদ, মিসর, শাম প্রভৃতি অঞ্চল পরিভ্রমণ করেন এবং এক হাজারেরও বেশি মুহাদ্দিস থেকে হাদিস গ্রহণ করেন।
  • স্মৃতিশক্তি ও ইলমি মর্যাদা: তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি ছিল এক মুজিযাস্বরূপ। তিনি লক্ষাধিক সহীহ এবং দুই লক্ষ গায়রে সহীহ হাদিস মুখস্থ রাখতেন।
  • ওফাত: ২৫৬ হিজরির ১ শাওয়াল ঈদুল ফিতরের রাতে সমরকন্দের নিকটবর্তী খারতাঙ্ক নামক স্থানে তিনি ইন্তেকাল করেন।

২. কিতাব রচনার কারণ (سبب التأليف)

  1. উস্তাদের অনুপ্রেরণা: তাঁর শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ (রহ.) মজলিসে আক্ষেপ করে বলেছিলেন: “তোমাদের কেউ যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহীহ হাদিসসমূহকে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে একত্রিত করত তবে কতই না উত্তম হতো!” এ কথাটি বুখারীর অন্তরে গভীরভাবে দাগ কাটে।
  2. রূহানি স্বপ্ন: ইমাম বুখারী স্বপ্নে দেখেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে দাঁড়িয়ে একটি পাখা দিয়ে তাঁর পবিত্র শরীর থেকে মাছি তাড়াচ্ছেন। বিজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ এর তা’বীর (ব্যাখ্যা) করেন যে, তিনি রাসুল (সা.)-এর হাদিস থেকে মিথ্যা ও বানোয়াট হাদিসকে অপসারিত করবেন।

৩. সহীহ বুখারীর মানহাজ ও শর্তাবলি (منهج الإمام البخاري)

  • কেবল সহীহ হাদিস গ্রহণ: তিনি তাঁর গ্রন্থে কোনো দুর্বল বা সন্দেহজনক হাদিস আনেননি। ৬ লক্ষ হাদিস থেকে যাচাই-বাছাই করে মাত্র ৭,২৭৫টি (পুনরাবৃত্তিসহ) হাদিস সংকলন করেন।
  • মু’আসারাত ও লিSourceName (সরাসরি সাক্ষাৎ): ইমাম বুখারীর মতে, রাবী ও শায়খের মাঝে শুধু সমসাময়িক (معاصرة) হওয়া যথেষ্ট নয়, বরং উভয়ের মাঝে সরাসরি সাক্ষাত (لقاء) ও দীর্ঘ সান্নিধ্য ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত হতে হবে।
  • রাবীর সর্বোচ্চ সততা ও স্মৃতিশক্তি: বর্ণনাকারীকে পূর্ণ ন্যায়পরায়ণ (عدالة) এবং সুদৃঢ় স্মৃতিশক্তির (ضبط تام) অধিকারী হতে হবে।
  • ইলমে ফিকহের প্রকাশ: ইমাম বুখারীর ফিকহি প্রজ্ঞা তাঁর অধ্যায় বিন্যাস বা তারাজুমুল আবওয়াব (تراجم الأبواب)-এ প্রকাশ পেয়েছে। মুহাদ্দিসগণ বলেন: “فقه البخاري في تراجمه”

উপসংহার

ইমাম বুখারীর সংকলন পদ্ধতি ও নিষ্ঠার কারণে ‘সহীহুল বুখারী’ আসমানের নিচে জমিনের ওপর আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে আছে।


٥. تحدث عن حياة الإمام أبى جعفر الطحاوى رحمه الله مع ذكر خصائص كتابه ‘شرح معانى الآثار’ واهتمام العلماء به-

[৫. ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী (রহ.)-এর জীবনচরিত এবং তাঁর অমর গ্রন্থ ‘শরহু মাআনিল আসার’-এর বৈশিষ্ট্য ও আলেম সমাজের এর প্রতি আগ্রহ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

ভূমিকা

হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফকীহ হলেন ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাহাবী (রহ.)। তিনি হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের সমন্বয়ে এমন সব অমর গ্রন্থ রচনা করেছেন যা যুগ যুগ ধরে মুসলিম মনীষীদের পথপ্রদর্শন করছে।

১. ইমাম তাহাবী (রহ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনচরিত

  • নাম ও জন্ম: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামা ইবনে আব্দুল মালিক আল-আজদী আল-মিস্ত্রী আত-তাহাবী। তিনি ২৩৯ হিজরিতে মিসরের তাহ্তা বা ত্বহা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  • শিক্ষা ও মাজহাব পরিবর্তন: তিনি প্রথমে তাঁর মামা প্রখ্যাত শাফেয়ী আলেম ইমাম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুযানী (রহ.)-এর নিকট শাফেয়ী ফিকহ অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে গভীর গবেষণা ও প্রমাণের আলোকে তিনি হানাফী মাজহাবের দিকে আকৃষ্ট হন এবং কাজী আহমদ ইবনে আবি ইমরান ও বাকার ইবনে কুতাইবার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
  • ওফাত: ৩২১ হিজরির জিলকদ মাসে কায়রোতে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই সমাধিস্থ হন।

২. ‘শরহু মাআনিল আসার’ (شرح معاني الآثار)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. মুতাعارিদ (আপাতবিরোধী) হাদিসের সমন্বয়: বাহ্যিকভাবে পরস্পরবিরোধী মনে হওয়া হাদিসসমূহের মধ্যে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্যের সাথে সমন্বয় (جمع وتوفيق) সাধন করেছেন অথবা নাসিখ-মানসূখ নির্ণয় করেছেন।
  2. হাদিস ও দলিলের ভিত্তিতে ফিকহ প্রতিষ্ঠা: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও হানাফী ফুকাহাগণের প্রতিটি ইজতিহাদ ও মাসআলার স্বপক্ষে তিনি নির্ভরযোগ্য সনদের মাধ্যমে মারফু হাদিস ও আসার উল্লেখ করে প্রমাণ করেছেন যে, হানাফী ফিকহ সম্পূর্ণ হাদিসভিত্তিক।
  3. দিকভ্রান্ত সমালোচনার খণ্ডন: যারা হানাফী মাজহাবকে ‘আসহাবুর রায়’ বা যুক্তিপন্থী আখ্যা দিয়ে হাদিসবিরোধী বলত, এ গ্রন্থের মাধ্যমে ইমাম তাহাবী তাদের সকল অভিযোগের অকাট্য দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন।
  4. সনদ ও মতন নিয়ে গভীর আলোচনা: প্রতিটি বর্ণনার সনদ, রাবীদের বিশ্বস্ততা এবং মতনের ভাষাগত ও ফিকহি তাৎপর্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।

৩. আলেম সমাজের আগ্রহ ও মূল্যায়ন (اهتمام العلماء به)

আলেম ও মুহাদ্দিস সমাজ এ গ্রন্থকে অত্যন্ত সমীহের চোখে দেখেছেন। বিশেষ করে ফিকহি মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহ.) এর বিশদ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নخب الأفكار’ রচনা করেন। আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহ.) ইমাম তাহাবীর পাণ্ডিত্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

উপসংহার

ইমাম তাহাবীর ‘শরহু মাআনিল আসার’ হাদিস দ্বারা ফিকহ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।


٦. لماذا سمى القرن الثالث الهجرى بالقرن الذهبى لتدوين الحديث؟ تحدث عن أشهر الكتب المؤلفة فى هذا القرن-

[৬. হিজরি তৃতীয় শতককে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ কেন বলা হয়? এ শতাব্দীতে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা

হাদিস সংকলন ও সংরক্ষণের সুদীর্ঘ ইতিহাসে হিজরি তৃতীয় শতাব্দী (২০১-৩০০ হিজরি) এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় বিপ্লবের যুগ। এ শতাব্দীতেই হাদিস শাস্ত্রের চূড়ান্ত পরিশুদ্ধি ঘটে এবং ইসলামের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য মৌলিক হাদিস গ্রন্থসমূহ রচিত হয়।

১. হিজরি তৃতীয় শতককে হাদিস সংকলনের স্বর্ণযুগ (العصر الذهبي) বলার কারণ

  1. হাদিসের বিশুদ্ধতা নিরূপণ ও ফিল্টারিং: এ শতাব্দীতে মুহাদ্দিসগণ সহীহ, হাসান ও জয়ীফ হাদিসকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেন। রসুল (সা.)-এর মারফু হাদিস থেকে সাহাবাদের আসার এবং ফতোয়া পৃথক করে সংকলন করা হয়।
  2. বিজ্ঞানসম্মত উসুলুল হাদিসের উন্মেষ: রিজাল শাস্ত্র (আসমাউর রিজাল), জারহ ও তাদীল (সমালোচনা ও সত্যায়ন), এবং ইলালুল হাদিস (সনদের সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয়)-এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা এ যুগেই বিকাশ লাভ করে।
  3. সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের আবির্ভাব: ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী, ইমাম নাসাঈ, ইমাম ইবনে মাজাহ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম দারিমী ও আবু ইয়ালার মতো দিগ্বিজয়ী মুহাদ্দিসগণ এ যুগেই হাদিস সংকলন করেন।
  4. কুতুবে সিত্তা সংকলন: হাদিস জগতের সর্বাধিক প্রামাণ্য ছয়টি গ্রন্থ বা সিহাহ সিত্তা এ শতাব্দীতেই সংকলিত ও সমাদৃত হয়।

২. এ শতাব্দীতে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলী

  • ১. সহীহ আল-বুখারী: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বুখারী (ওফাত: ২৫৬ হি.) কর্তৃক সংকলিত। বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ।
  • ২. সহীহ মুসলিম: ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরী (ওফাত: ২৬১ হি.) সংকলিত। সুবিন্যস্ত অধ্যায় ও নির্ভুল সনদ বিন্যাসের জন্য বিখ্যাত।
  • ৩. সুনানে আবি দাউদ: ইমাম আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশ’আস আস-সিজিস্তানী (ওফাত: ২৭৫ হি.) সংকলিত আহকাম বা ফিকহি হাদিসের অনন্য সংকলন।
  • ৪. জামে আত-তিরমিযী: ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ আত-তিরমিযী (ওফাত: ২৭৯ হি.) সংকলিত। হাদিসের মান নিরূপণ এবং ফুকাহাদের ইখতিলাফ বর্ণনার জন্য অনন্য।
  • ৫. সুনানে নাসাঈ: ইমাম আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসাঈ (ওফাত: ৩০৩ হি.) সংকলিত কঠোর যাচাই-বাছাইকৃত হাদিস গ্রন্থ।
  • ৬. সুনানে ইবনে মাজাহ: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মাজাহ আল-কাজবিনী (ওফাত: ২৭৩ হি.) সংকলিত উত্তম বিন্যাস সমৃদ্ধ কিতাব।
  • ৭. মুসনাদে আহমদ: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (ওফাত: ২৪১ হি.) সংকলিত প্রায় ত্রিশ সহস্রাধিক হাদিস সংবলিত সুবিশাল বিশ্বকোষ।

উপসংহার

হিজরি তৃতীয় শতকের মুহাদ্দিসগণের এই যুগান্তকারী অবদানের কারণেই ইসলাম আজ তার মূল রূপ নিয়ে টিকে রয়েছে।


٧. إلى أى موضوع توجه المحدثون فى تدوين الحديث فى القرن الرابع الهجرى؟ بين مع ذكر خمسة أسماء من الكتب المؤلفة فى هذا القرن-

[৭. হিজরি চতুর্থ শতকে মুহাদ্দিসগণ হাদিস সংকলনে কোন বিষয়ের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন? এ শতাব্দীতে সংকলিত পাঁচটি গ্রন্থের নামসহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা

হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে মৌলিক হাদিস সংকলন সমাপ্ত হওয়ার পর চতুর্থ শতাব্দীতে (৩০১-৪০০ হিজরি) মুহাদ্দিসগণের গবেষণার ধারা এক নতুন দিগন্তে মোড় নেয়। এ শতাব্দীতে সংকলকদের লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান গ্রন্থসমূহের পর্যালোচনা, পরিপূরক গ্রন্থ রচনা এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত শাস্ত্রের উন্নয়ন।

১. হিজরি চতুর্থ শতকে মুহাদ্দিসগণের সংকলনের অভিমুখ (توجهات المحدثين)

  1. মুস্তাদরাকাত (المستدركات) প্রণয়ন: পূর্ববর্তী ইমামগণ (যেমন বুখারী ও মুসলিম) যে সকল হাদিস নিজেদের প্রণীত শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি, সেগুলোকে তাঁদের শর্তানুসারে অনুসন্ধান করে সংকলন করা।
  2. মুসতাখরাজাত (المستخرجات) সংকলন: বুখারী বা মুসলিমের হাদিসসমূহকে নিজ সনদে নতুনভাবে বর্ণনা করা, যাতে মূল গ্রন্থের সনদ আরও মজবুত বা সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন আবু নুআইম আল-ইস্পাহানীর মুসতাখরাজ।
  3. সুনান ও আহকাম হাদিসের বিস্তার: ফিকহি আহকামের সমর্থনে বিস্তারিত দলিলের সংকলন করা, যেমন ইমাম দারাকুতনীর সুনান ও ইমাম তাহাবীর কিতাবসমূহ।
  4. মু’জামাত (المعاجم) রচনা: শায়খদের নামের বর্ণানুক্রমিক বা সাহাবীদের নামের ক্রমানুসারে হাদিস সংকলন করা, যেমন ইমাম তাবারানীর তিন মু’জাম।
  5. উলুমুল হাদিস ও পরিভাষা শাস্ত্রের উন্মেষ: হাদিসের মূলনীতি ও সংজ্ঞায়ন নিয়ে স্বতন্ত্র কিতাব প্রণয়ন, যেমন আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল।

২. এ শতাব্দীতে সংকলিত পাঁচটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ

  • ১. সহীহ ইবনে হিব্বান (صحيح ابن حبان): ইমাম আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তী (ওফাত: ৩৫৪ হি.) কর্তৃক রচিত সুবিখ্যাত সহীহ হাদিস গ্রন্থ।
  • ২. সুনানে দারাকুতনী (سنن الدارقطني): ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনী (ওফাত: ৩৮৫ হি.) সংকলিত আহকাম ও রিজাল পর্যালোচনার অসাধারণ গ্রন্থ।
  • ৩. মু’জামে কাবীর (المعجم الكبير): ইমাম আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ আত-তাবারানী (ওফাত: ৩৬০ হি.) সংকলিত সাহাবাভিত্তিক বিশাল হাদিস গ্রন্থ।
  • ৪. শরহু মাআনিল আসার (شرح معاني الآثار): ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী (ওফাত: ৩২১ হি.) সংকলিত ফিকহি হাদিস ও মতবিরোধ নিরসনের মাস্টারপিস।
  • ৫. সহীহ ইবনে খুযায়মাহ (صحيح ابن خزيمة): ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযায়মাহ (ওফাত: ৩১১ হি.) রচিত অতি উচ্চমানের সহীহ হাদিস গ্রন্থ।

উপসংহার

চতুর্থ শতাব্দীর মুহাদ্দিসগণের এই গবেষণাধর্মী উদ্যোগ হাদিস বিজ্ঞানের শাখা-প্রশাখাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেছিল।


٨. عرف الموضوع- تحدث عن أسباب الوضع فى الحديث مع ذكر خطورة الأحاديث الموضوعة وآثارها السيئة فى المجتمع الإسلامى-

[৮. মওদূ (জাল) হাদিসের পরিচয় দাও। হাদিস রচনার (জাল করার) কারণসমূহ আলোচনা কর এবং মুসলিম সমাজে জাল হাদিসের ভয়াবহতা ও কুফল উল্লেখ কর।]

ভূমিকা

ইসলামী শরীয়তের অন্যতম পবিত্র ও সুরক্ষিত উৎস হলো হাদিস। তবে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু কুচক্রী ও বিভ্রান্ত ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে মিথ্যা কথা তৈরি করেছে। হাদিস বিশারদগণ জীবন বাজি রেখে এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।

১. মওদূ (الموضوع)-এর পরিচয়

আভিধানিক অর্থ: ‘মওদূ’ শব্দটি বাবে নাসারা থেকে ইসমে মাফউলের রূপ, যার অর্থ মিথ্যা উদ্ভাবিত (المفترى والمختلق), অপসারিত বা বাতিলকৃত।

পারিভাষিক অর্থ: উসুলুল হাদিসের পরিভাষায়— “هو الحديث المكذوب المختلق المصنوع المنسوب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم كذبا وزورا” অর্থাৎ, “যে বক্তব্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নয়, বরং সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াটভাবে তাঁর পবিত্র নামের দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে, তাকে মওদূ বা জাল হাদিস বলে।” এটি দুর্বল হাদিসের নিকৃষ্টতম পর্যায়।

২. হাদিস জালকরণের কারণসমূহ (أسباب الوضع)

  1. রাজনৈতিক মতবিরোধ ও দলপ্রীতি: খিলাফত কেন্দ্রিক বিরোধের সময় শিয়া, খারেজী ও বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এবং নিজ নেতার প্রশংসায় হাদিস তৈরি করত।
  2. ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র (الزندقة): জিন্দিক ও মুনাফিকরা মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হাজার হাজার জাল হাদিস তৈরি করে ছড়িয়ে দিত। যেমন আব্দুল করীম ইবনে আবিল আওজা ফাঁসির পূর্বে চার হাজার জাল হাদিস বানানোর কথা স্বীকার করেছিল।
  3. বর্ণবাদ ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব জাহির: আরব বনাম আজম এবং বিভিন্ন গোত্রের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে অনেকে মিথ্যা হাদিস বানাত।
  4. অজ্ঞ জাহেলদের তথাকথিত নেক উদ্দেশ্য (الترغيب والترهيب): কিছু তথাকথিত সুফি ও আবেদ লোক মানুষকে ইবাদতের প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং গুনাহ থেকে সতর্ক করতে স্বহস্তে হাদিস বানিয়ে প্রচার করত (যেমন নুমান ইবনে আবি মারইয়াম বিভিন্ন সুরতের ফজিলত জাল করেছিল)।
  5. শাসকদের তোষামোদ করা: রাজদরবারের অনুগ্রহ ও পার্থিব সুযোগ-সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে কতিপয় সুবিধাবাদী লোক হাদিস জাল করত।
  6. ব্যবসায়িক ফায়দা ও লোকরঞ্জন: ওয়াজ মাহফিলে সাধারণ মানুষকে চমকপ্রদ ও আজগুবি গল্প শুনিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য কথক বা কাস্সাসগণ মিথ্যা হাদিস বানাত।

৩. মুসলিম সমাজে জাল হাদিসের ভয়াবহতা ও কুফল (خطورة الأحاديث الموضوعة)

  • আকিদায় বিভ্রান্তি: আল্লাহর সিফাত, তাকদীর ও আখিরাত সম্পর্কে ভ্রান্ত আকিদা ছড়িয়ে পড়ে।
  • শরীয়তের বিকৃতি: হালাল বিষয় হারাম এবং হারাম বিষয় হালাল করার মতো মারাত্মক পাপাচার সৃষ্টি হয়।
  • সুন্নাহর অবমূল্যায়ন ও বিদআতের প্রসার: সহীহ সুন্নাহ পরিত্যক্ত হয়ে সমাজে বিদআত ও কুসংস্কার জাঁকিয়ে বসে।
  • উম্মতের অনৈক্য ও বিভক্তি: বিভিন্ন ফিরকা ও দলবাজি উস্কে দিয়ে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ধ্বংস করে।

উপসংহার

নবীজী (সা.) ইরশাদ করেছেন: “مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ” (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার স্থান বানিয়ে নেয়—বুখারী ও মুসলিম)। মুহাদ্দিসগণের কঠোর যাচাই-বাছাই ও রিজাল শাস্ত্র রচনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সুন্নাহকে এই বিষবাষ্প থেকে মুক্ত রেখেছেন।


খ বিভাগ (القسم الثاني) – সংক্ষিপ্ত টীকা (৯ নং প্রশ্ন)

٩. اكتب ملحوظة علمية عن أربعة مما يلى:

[৯. নিম্নের যে কোনো চারটি বিষয়ে গবেষণামূলক সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ:]

(أ) الموطأ للإمام مالك رحمه الله (ইমাম মালিকের মুয়াত্তা)

ইমাম দারুল হিজরাহ মালিক ইবনে আনাস (রহ.) (৯৩-১৭৯ হি.) সংকলিত ‘আল-মুয়াত্তা’ হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের সর্বপ্রথম সুসংহত ও প্রামাণ্য গ্রন্থ। ‘মুয়াত্তা’ শব্দের অর্থ সুবিন্যস্ত বা সর্বজনগ্রাহ্য গ্রন্থ। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন: “ما على ظهر الأرض كتاب بعد كتاب الله أصح من موطأ مالك” (কোরআনের পর জমিনের ওপর ইমাম মালিকের মুয়াত্তার চেয়ে বিশুদ্ধ কোনো কিতাব নেই)। এতে প্রায় ১৭০০-এর অধিক মারফু হাদিস, আসার এবং ফতোয়া সংরক্ষিত রয়েছে।

(ب) السنن للإمام النسائى (ইমাম নাসাঈর সুনান)

ইমাম আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসাঈ (রহ.) (২১৫-৩০৩ হি.) সংকলিত ‘সুনানুল কুবরা’ এবং এর সংক্ষেপিত রূপ ‘সুনানুস সুগরা’ (যা ‘আল-মুজতাবা’ নামে পরিচিত) সিহাহ সিত্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। ইমাম নাসাঈ সনদ যাচাই এবং রাবীদের সমালোচনা ও দোষ-ত্রুটি নিরূপণে অত্যন্ত কঠোর (মুতাশাদ্দিদ) ছিলেন। বুখারী ও মুসলিমের পরই সুনানে নাসাঈকে সনদের বিশুদ্ধতায় স্থান দেওয়া হয়।

(ج) المتوسطون فى الرواية (মাঝারি সংখ্যক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ)

যে সকল সাহাবী রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে একশত থেকে এক হাজার পর্যন্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন, হাদিস পরিভাষায় তাঁদেরকে ‘মুতাওয়াসসিতূন ফির রিওয়ায়াহ’ বলা হয়। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) [৮৪৮টি হাদিস], হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) [৫৩৭টি হাদিস], হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) [৫৮৬টি হাদিস], এবং হযরত উম্মে সালামা (রা.) [৩৭৮টি হাদিস]।

(د) مسند الإمام الشافعى (ইমাম শাফেয়ীর মুসনাদ)

মুজাদ্দিদে দ্বীন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফেয়ী (রহ.) (১৫০-২০৪ হি.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহের ঐতিহাসিক সংকলন হলো ‘মুসনাদুশ শাফেয়ী’। এ গ্রন্থটি ইমাম শাফেয়ী নিজে সরাসরি সংকলন করেননি, বরং তাঁর প্রখ্যাত ছাত্র রবী ইবনে সুলায়মান আল-মুরাদী ইমাম শাফেয়ীর ‘কিতাবুল উম্ম’ ও ‘আর-রিসালাহ’ থেকে তাঁর বর্ণিত মারফু হাদিসসমূহ একত্রিত করে মুসনাদ আকারে বিন্যস্ত করেন।

(ه) المستدرك (আল-মুস্তাদরাক)

আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (রহ.) (৩২১-৪০৫ হি.)। তিনি এ গ্রন্থে এমন সব হাদিস একত্রিত করেছেন যা ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা নিজ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেননি। পরবর্তীতে ইমাম যাহাবী (রহ.) ‘আত-তালখীস’ গ্রন্থে এর হাদিসসমূহ পুনঃনিরীক্ষা করেন।

(و) صحيح ابن حبان (সহীহ ইবনে হিব্বান)

ইমাম আবু হাতিম মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান আল-বুস্তী (রহ.) (ওফাত: ৩৫৪ হি.) কর্তৃক সংকলিত উচ্চমানের সহীহ হাদিস গ্রন্থ। এর মূল নাম ‘আল-মুসনাদুস সহীহ আলাত তাকাসীম ওয়াল আনওয়া’। তিনি প্রচলিত অধ্যায় পদ্ধতির বাইরে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ৫০টি প্রকারের ওপর ভিত্তি করে গ্রন্থটি সাজিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমির আলাউদ্দীন আল-ফারিসী একে প্রচলিত ফিকহি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেন, যা ‘আল-ইহসান’ নামে পরিচিত।

(ز) عمر بن عبد العزيز رحمه الله (উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ.)

উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) (৬১-১০১ হি.) পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ ও প্রথম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হিসেবে খ্যাত। তিনিই প্রথম খলিফা যিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদিস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং মদিনার গভর্নর আবু বকর ইবনে হাযম ও ইমাম আয-যুহরীকে হাদিস সংকলনের সরকারি ফরমান জারি করে হাদিস সংরক্ষণের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

(ح) المكثرون فى الرواية (হাজারের অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীগণ)

যে সকল সাহাবায়ে কিরাম রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এক হাজারেরও বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁদেরকে ‘মুকসিরূন ফির রিওয়ায়াহ’ বলা হয়। তাঁরা সংখ্যায় সাতজন:
১. হযরত আবু হুরায়রা (রা.) [৫,৩৭৪টি হাদিস],
২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) [২,৬৩০টি হাদিস],
৩. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) [২,২৮৬টি হাদিস],
৪. উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) [২,২১০টি হাদিস],
৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) [১,৬৬০টি হাদিস],
৬. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) [১,৫৪০টি হাদিস],
৭. হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) [১,১৭০টি হাদিস] (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন)।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: তারিখ ইলমুল হাদিস বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: যে শাস্ত্রের মাধ্যমে নবুওয়তের যুগ থেকে শুরু করে যুগ পরম্পরায় পবিত্র হাদিসের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, পর্যায়ক্রমিক সংরক্ষণ, গ্রন্থাকারে সংকলন এবং মুহাদ্দিসগণের জীবন ও অবদান পর্যালোচনা করা হয়, তাকে তারিখ ইলমুল হাদিস বলে।

প্রশ্ন ২: হাদিস সংকলনে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.)-এর অবদান কী?

উত্তর: উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) হিজরি প্রথম শতকের শেষে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় ফরমান জারির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক হাদিস সংকলনের সূচনা করেন।

প্রশ্ন ৩: হিজরি তৃতীয় শতককে হাদিসের স্বর্ণযুগ বলা হয় কেন?

উত্তর: হিজরি তৃতীয় শতকে হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের বৈজ্ঞানিক মূলনীতি পূর্ণতা পায় এবং বুখারী, মুসলিমসহ বিশ্ববিখ্যাত কুতুবে সিত্তা বা সিহাহ সিত্তার ছয়টি গ্রন্থ সংকলিত হয়।

প্রশ্ন ৪: ইমাম বুখারী (রহ.)-এর হাদিস গ্রহণের প্রধান শর্ত কী ছিল?

উত্তর: ইমাম বুখারীর মতে বর্ণনাকারীর সর্বোচ্চ বিশ্বস্ততা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির পাশাপাশি শায়খ ও ছাত্রের মাঝে সরাসরি ঐতিহাসিক সাক্ষাত (লিক্বা) অকাট্যভাবে প্রমাণিত হতে হবে।

প্রশ্ন ৫: মুকসিরূন ফির রিওয়ায়াহ সাহাবী কারা?

উত্তর: যে সাতজন সাহাবী এক হাজারের বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁদের মুকসিরূন বলা হয়। তাঁরা হলেন—আবু হুরায়রা, ইবনে উমর, আনাস, আয়েশা, ইবনে আব্বাস, জাবির ও আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.)।

প্রশ্ন ৬: মওদূ বা জাল হাদিস চেনার উপায় কী?

উত্তর: বর্ণনাকারীর জীবনীতে মিথ্যার প্রমাণ, মতনের মধ্যে কোরআন ও সহীহ হাদিসবিরোধী স্পষ্ট বক্তব্য থাকা এবং অন্যায় ভাষা ও অযৌক্তিক আজগুবি বক্তব্য দেখে জাল হাদিস চিহ্নিত করা হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *