ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: কম্পিউটার লিটারেসি (Computer Literacy)
বিষয় কোড: ২০২২০৭
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা
ক বিভাগ – পূর্ণাঙ্গ রচনামূলক প্রশ্ন সমাধান
১. কম্পিউটারের প্রজন্ম কয়টি ও কী কী? কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রজন্মের বর্ণনা দাও।
[How many computer generations are there? Describe the different generations of computer]
ভূমিকা
কম্পিউটারের আধুনিক রূপ একদিনে সৃষ্টি হয়নি। ১৯৪০-এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক সার্কিট ও প্রসেসিং প্রযুক্তির যুগান্তকারী পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটারের ক্রমবিকাশকে বিভিন্ন ধাপে ভাগ করা হয়েছে। এই ধাপগুলোকে কম্পিউটারের প্রজন্ম (Computer Generations) বলা হয়।
কম্পিউটার প্রজন্মের সংখ্যা ও তালিকা
কম্পিউটারের সামগ্রিক বিকাশধারাকে মূলত ৫টি প্রজন্মে বিভক্ত করা হয়েছে:
- প্রথম প্রজন্ম (First Generation): ১৯৪০ – ১৯৫৬ খ্রি. (ভ্যাকুয়াম টিউব প্রযুক্তি)
- দ্বিতীয় প্রজন্ম (Second Generation): ১৯৫৬ – ১৯৬৩ খ্রি. (ট্রানজিস্টর প্রযুক্তি)
- তৃতীয় প্রজন্ম (Third Generation): ১৯৬৪ – ১৯৭১ খ্রি. (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট বা আইসি প্রযুক্তি)
- চতুর্থ প্রজন্ম (Fourth Generation): ১৯৭১ – বর্তমান (মাইক্রোপ্রসেসর ও VLSI প্রযুক্তি)
- পঞ্চম প্রজন্ম (Fifth Generation): বর্তমান ও ভবিষ্যৎ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence)
বিভিন্ন প্রজন্মের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য ও বিবরণ
| প্রজন্ম | মূল প্রযুক্তি ও উপাদান | মেমোরি ও স্টোরেজ | ব্যবহৃত ভাষা | প্রধান বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধতা | উদাহরণ |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ম প্রজন্ম (1940-1956) | ভ্যাকুয়াম টিউব (Vacuum Tube) | ম্যাগনেটিক ড্রাম ও ম্যাগনেটিক টেপ | মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ (Machine Code) ও বাইনারি ০ এবং ১ | বিশাল আকৃতি (ঘর সমান), প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ ও অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন; গতি মিলি-সেকেন্ডে। | ENIAC, EDVAC, UNIVAC-1, IBM-701 |
| ২য় প্রজন্ম (1956-1963) | ট্রানজিস্টর (Transistor) | ম্যাগনেটিক কোর মেমোরি | অ্যাসেম্বলি ভাষা ও প্রাথমিক উচ্চস্তরের ভাষা (FORTRAN, COBOL) | আকার তুলনামূলক ছোট, দ্রুতগতি সম্পন্ন (মাইক্রো-সেকেন্ড), বিদ্যুৎ খরচ ও তাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। | IBM 1401, IBM 1620, CDC 1604 |
| ৩য় প্রজন্ম (1964-1971) | আইসি (Integrated Circuit – SSI & MSI) | সেমিকন্ডাক্টর মেমোরি ও আধুনিক ম্যাগনেটিক ডিস্ক | উচ্চস্তরের ভাষা (C, BASIC, Pascal) ও অপারেটিং সিস্টেমের উদ্ভব | মনিটর ও কি-বোর্ডের ব্যবহার শুরু, মাল্টিপ্রোগ্রামিং সুবিধা, গতি ন্যানো-সেকেন্ডে পরিমাপযোগ্য। | IBM 360, PDP-8, HP 2100 |
| ৪র্থ প্রজন্ম (1971-বর্তমান) | মাইক্রোপ্রসেসর (VLSI & ULSI চিপ) | উচ্চগতির RAM, ROM, হার্ডডিস্ক ও এসএসডি | সি++, জাভা, পাইথন, ভিজ্যুয়াল বেসিক, এসকিউএল ইত্যাদি | ব্যক্তিগত কম্পিউটার (PC), ল্যাপটপের ব্যাপক প্রসার; নেটওয়ার্কিং, ইন্টারনেট ও অত্যন্ত কম মূল্যে সহজলভ্য। | Intel Core i3/i5/i7/i9, IBM PC, Apple Macintosh |
| ৫ম প্রজন্ম (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ন্যানো টেকনোলজি ও কোয়ান্টাম চিপ | অপটিক্যাল ও ক্লাউড স্টোরেজ, ডিএনএ মেমোরি গবেষণা | প্রাকৃতিক ভাষা (Natural Language Processing – NLP), পাইথন, প্রোলগ | মানুষের ভাষা বোঝার ক্ষমতা, যুক্তি প্রয়োগ ও স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রোবোটিক্স ও প্যারালাল প্রসেসিং। | সুপারকম্পিউটার (Fugaku, Frontier), হিউম্যানয়েড রোবট (সোফিয়া), চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি ইঞ্জিন |
উপসংহার
ভ্যাকুয়াম টিউব থেকে শুরু করে আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত কম্পিউটারের প্রজন্মগত রূপান্তর মানবসভ্যতার জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চাকে অসীম গতি দান করেছে। ইসলামি গবেষণায় প্রাচীন পাণ্ডুলিপি স্ক্যানিং ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রজন্মের শক্তিশালী কম্পিউটার অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে।
২. কী-বোর্ড কী? কী-বোর্ডের বিভিন্ন কী এর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা কর।
[What is keyboard? Describe elaborately the various keys used on the keyboard.]
ভূমিকা
কম্পিউটারে টেক্সট ডেটা ও কমান্ড ইনপুট দেওয়ার জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইস হলো কী-বোর্ড (Keyboard)। টাইপরাইটারের আধুনিক রূপান্তর হিসেবে কী-বোর্ড কম্পিউটারের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
কী-বোর্ডের সংজ্ঞা
কী-বোর্ড হলো বোতামভিত্তিক (Keys) একটি ইলেকট্রো-মেকানিকাল স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট ডিভাইস, যার মাধ্যমে বর্ণ, সংখ্যা, যতিচিহ্ন ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ সংকেত কম্পিউটারের মেমোরিতে সরাসরি প্রবেশ করানো যায়। একটি আদর্শ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড কী-বোর্ডে সাধারণত ১০১ থেকে ১০৫টি কী থাকে (উইন্ডোজ মাল্টিমিডিয়া কী-বোর্ডে এর চেয়ে বেশি থাকতে পারে)। কীগুলোর বিন্যাসকে বিশ্বজনীনভাবে QWERTY লেআউট বলা হয়।
কী-বোর্ডের বিভিন্ন কী-এর কার্যভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যবহার
কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে একটি স্ট্যান্ডার্ড কী-বোর্ডের বোতামগুলোকে প্রধানত ৬টি ভাগে ভাগ করা যায়:
- ফাংশন কী (Function Keys – F1 থেকে F12):
কী-বোর্ডের সর্ব-উপরের সারিতে বাম থেকে ডানে F1 থেকে F12 পর্যন্ত মোট ১২টি ফাংশন কী থাকে। বিভিন্ন সফটওয়্যারে নির্দিষ্ট শর্টকাট কাজের জন্য এগুলো ব্যবহৃত হয়:
- F1: যে কোনো সফটওয়্যারের হেল্প (Help) মেনু চালু করা।
- F2: ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন (Rename) করা।
- F3: সক্রিয় উইন্ডোতে সার্চ (Search) কমান্ড সক্রিয় করা।
- F5: ওয়েব ব্রাউজার বা ডেস্কটপ রিফ্রেশ (Refresh) করা এবং পাওয়ার পয়েন্টে স্লাইডশো শুরু করা।
- F7: মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বানান ও ব্যাকরণ (Spelling & Grammar) যাচাই করা।
- F12: এমএস ওয়ার্ডে ‘Save As’ ডায়ালগ বক্স চালু করা।
- টাইপিং বা আলফা-নিউমেরিক কী (Typing / Alphanumeric Keys):
কী-বোর্ডের মূল অংশে অবস্থিত বর্ণমালা (A-Z), সংখ্যা (0-9) এবং বিশেষ বিরামচিহ্ন সংবলিত কীগুলোকে আলফা-নিউমেরিক কী বলা হয়। বাংলা বা আরবি কি-বোর্ড লেআউটে এসব বোতামের সাহায্যেই হরফ ও যুক্তবর্ণ লেখা হয়।
- নিউমেরিক কি-প্যাড (Numeric Keypad):
কী-বোর্ডের একেবারে ডান পাশে ক্যালকুলেটরের মতো সাজানো ০ থেকে ৯ পর্যন্ত সংখ্যা এবং যোগ (+), বিয়োগ (-), গুণ (*), ভাগ (/), ডট (.) সংবলিত মোট ১৭টি কী-এর ক্লাস্টারকে নিউমেরিক প্যাড বলে। Num Lock কী চাপলে এটি সক্রিয় হয় এবং দ্রুত গাণিতিক হিসাব ও হিসাবরক্ষণের ডেটা এন্ট্রিতে ব্যবহৃত হয়।
- কার্সর মুভমেন্ট বা নেভিগেশন কী (Navigation / Cursor Control Keys):
ডকুমেন্টে কার্সর দ্রুত নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার জন্য এই কীগুলো ব্যবহৃত হয়:
- তীরচিহ্নযুক্ত অ্যারো কী (Arrow Keys): উপরে (Up), নিচে (Down), ডানে (Right) ও বামে (Left) এক অক্ষর বা এক লাইন করে কার্সর সরানো।
- Home: কার্সরকে লাইনের একেবারে শুরুতে নেওয়া।
- End: কার্সরকে লাইনের একেবারে শেষে নেওয়া।
- Page Up: স্ক্রিন বা ডকুমেন্টের এক পৃষ্ঠা উপরে ওঠা।
- Page Down: ডকুমেন্টের এক পৃষ্ঠা নিচে নামা।
- কন্ট্রোল বা মডিফায়ার কী (Modifier / Control Keys):
এই কীগুলো সাধারণত এককভাবে কাজ করে না; বরং অন্যান্য কী-এর সঙ্গে সমন্বিত হয়ে বিশেষ শর্টকাট নির্দেশ কার্যকর করে:
- Ctrl (Control): বহুল ব্যবহৃত কমান্ড শর্টকাট (যেমন—Ctrl+C দিয়ে কপি, Ctrl+V দিয়ে পেস্ট, Ctrl+S দিয়ে সংরক্ষণ)।
- Alt (Alternate): মেনু সক্রিয় করা এবং অন্যান্য কম্বিনেশনে কাজ করা (যেমন—Alt+F4 দিয়ে প্রোগ্রাম বন্ধ করা)।
- Shift: অক্ষরের বড় হাতের রূপ (Capital Letter) লেখা বা কী-এর উপরিভাগের বিশেষ চিহ্ন টাইপ করা।
- Windows Key: উইন্ডোজ স্টার্ট মেনু ওপেন করা।
- বিশেষ কাজের কী (Special Purpose Keys):
- Enter: কোনো কমান্ড কার্যকর করা বা নতুন প্যারাগ্রাফ শুরু করা।
- Spacebar: শব্দের মাঝে এক অক্ষরের খালি ফাঁকা স্থান তৈরি করা (এটি কী-বোর্ডের দীর্ঘতম বোতাম)।
- Backspace: কার্সরের বাম পাশের অক্ষর মুছে ফেলা।
- Delete: কার্সরের ডান পাশের অক্ষর বা নির্বাচিত অবজেক্ট মুছে ফেলা।
- Caps Lock: সক্রিয় থাকলে একটানা বড় হাতের ইংরেজি হরফ লেখা হয়।
- Tab: কার্সরকে নির্দিষ্ট দূরত্বে (সাধারণত আধা ইঞ্চি) ডানে সরানো বা ফরমের এক ঘর থেকে পরবর্তী ঘরে যাওয়া।
- Esc (Escape): চলমান কোনো ডায়ালগ বক্স বা কমান্ড বাতিল করা।
৩. সফটওয়্যার বলতে কী বুঝ? Microsoft office এর MS-Word ও MS-Power point এর ব্যবহার কৌশল বিস্তারিত বর্ণনা কর।
[What do you know about software? Describe the technique of Microsoft Office’s MS-Word and MS-Power point elaborately.]
ভূমিকা
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার হলো দেহ আর সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ। হার্ডওয়্যারকে কর্মক্ষম করতে এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে সফটওয়্যার আবশ্যকীয় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
সফটওয়্যারের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ
সফটওয়্যার (Software) হলো কতগুলো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী (Instructions), প্রোগ্রাম ও ডেটার সমষ্টি, যা কম্পিউটার হার্ডওয়্যারকে বলে দেয় কী কাজ করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে।
সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার:
- ১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software): যা কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও সমন্বয় করে এবং অ্যাপ্লিকেশন চালানোর উপযোগী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে (যেমন—অপারেটিং সিস্টেম Windows, Linux, Android)।
- ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software): যা ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট ব্যবহারিক কাজ (যেমন—লেখালেখি, হিসাব-নিকাশ, উপস্থাপন) সম্পাদনের জন্য তৈরি করা হয়। মাইক্রোসফট অফিস (Microsoft Office) প্যাকেজ এর শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (MS-Word)-এর ব্যবহার কৌশল
এমএস ওয়ার্ড হলো বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ওয়ার্ড প্রসেসিং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। এর প্রধান ব্যবহার কৌশলগুলো নিম্নরূপ:
- ডকুমেন্ট তৈরি ও সংরক্ষণ (Create & Save): ফাইল মেনু বা Ctrl+N চেপে নতুন ব্ল্যাংক ডকুমেন্ট খোলা হয়। টাইপিং শেষে Ctrl+S চেপে ফাইলটি ডকএক্স (.docx) ফরম্যাটে সেভ করা হয়।
- টেক্সট ফরম্যাটিং (Formatting): হোম রিবন থেকে ফন্ট পরিবর্তন (SutonnyMJ, Kalpurush, Traditional Arabic ইত্যাদি), ফন্ট সাইজ নির্ধারণ, টেক্সট বোল্ড (Ctrl+B), ইটালিক (Ctrl+I), আন্ডারলাইন (Ctrl+U) এবং ফন্ট কালার প্রয়োগ করা যায়।
- প্যারাগ্রাফ ও অ্যালাইনমেন্ট: প্যারাগ্রাফকে বামে (Ctrl+L), ডানে (Ctrl+R), মাঝে (Ctrl+E) বা জাস্টিফাই (Ctrl+J) করা এবং বুলেট ও নাম্বারিং যুক্ত করা যায়।
- টেবিল ও ছবি ইনসার্ট (Table & Images): ‘Insert’ মেনু থেকে প্রয়োজনমতো রো এবং কলাম বিশিষ্ট টেবিল তৈরি করা যায়, যা ফলাফল ও গবেষণার ডেটা সাজাতে অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া ছবি, শেইপ ও চার্ট যুক্ত করা যায়।
- পৃষ্ঠা সেটআপ ও প্রিন্ট (Page Setup & Print): পেজ লেআউট মেনু থেকে মার্জিন (Normal, Narrow), কাগজের আকার (A4, Letter) ও ওরিয়েন্টেশন (Portrait/Landscape) নির্ধারণ করে Ctrl+P চেপে হার্ডকপি প্রিন্ট করা যায়।
মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট (MS-PowerPoint)-এর ব্যবহার কৌশল
এমএস পাওয়ার পয়েন্ট হলো দৃশ্যমান ডিজিটাল উপস্থাপনা (Slide Presentation) তৈরির জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। এর কার্যপদ্ধতি নিম্নরূপ:
- স্লাইড তৈরি ও লেআউট নির্ধারণ: Home → New Slide অথবা Ctrl+M শর্টকাট দিয়ে নতুন স্লাইড যুক্ত করা যায়। স্লাইডের লেআউটে শিরোনাম, বুলেট পয়েন্ট বা দুটি কলামের তুলনা নির্ধারণ করা যায়।
- ডিজাইন ও থিম নির্বাচন: ‘Design’ ট্যাব থেকে আকর্ষণীয় রেডিমেড থিম ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাইল যুক্ত করে পুরো প্রেজেন্টেশনকে পেশাদার রূপ দেওয়া যায়।
- মাল্টিমিডিয়া উপাদান সংযোজন: ‘Insert’ মেনুর মাধ্যমে স্লাইডে প্রাসঙ্গিক টেক্সট বক্স, রঙিন চিত্র, অডিও ক্লিপ, ভিডিও লেকচার ও স্মার্টআর্ট ডায়াগ্রাম যোগ করা যায়।
- ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন (Transitions & Animations):
- ট্রানজিশন: এক স্লাইড থেকে পরবর্তী স্লাইডে যাওয়ার রূপান্তর ইফেক্ট (যেমন—Fade, Push, Wipe)।
- অ্যানিমেশন: স্লাইডের ভেতরের বিভিন্ন টেক্সট বা ছবি ধারাবাহিকভাবে পর্দায় ভেসে ওঠার গতিশীল প্রভাব (যেমন—Fly In, Zoom)।
- স্লাইডশো প্রদর্শন (Slide Show): কি-বোর্ডের F5 কী চেপে পুরো স্ক্রিন জুড়ে প্রথম স্লাইড থেকে শো শুরু করা যায় এবং Shift+F5 দিয়ে বর্তমান স্লাইড থেকে শো দেখানো যায়। প্রজেক্টরের মাধ্যমে ইসলামি সেমিনার ও একাডেমিক লেকচারে এটি বহুল ব্যবহৃত।
৪. স্টোরেজ কাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কী কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।
[What is storage? How many kinds of storage are there and what are they? Describe elaborately.]
ভূমিকা
কম্পিউটারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হলে তথ্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ এবং তা দীর্ঘমেয়াদে ধারণ করার ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। এই ধারণক্ষমতার হার্ডওয়্যার মাধ্যমকেই স্টোরেজ বা মেমোরি বলা হয়।
স্টোরেজের সংজ্ঞা
কম্পিউটারে তথ্য, উপাত্ত, নির্দেশনা এবং প্রক্রিয়াজাত ফলাফলকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ধারণ করে রাখার ইলেকট্রনিক বা ম্যাগনেটিক যন্ত্রাংশকে স্টোরেজ ডিভাইস বা মেমোরি (Storage Device / Computer Memory) বলে। এর পরিমাপের একক হলো বাইট (Byte), কিলোবাইট (KB), মেগাবাইট (MB), গিগাবাইট (GB), টেরাবাইট (TB) ইত্যাদি।
স্টোরেজের প্রকারভেদ
কম্পিউটার স্টোরেজকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- প্রাথমিক বা প্রধান মেমোরি (Primary / Main Storage)
- মাধ্যমিক বা সহায়ক স্টোরেজ (Secondary / Auxiliary Storage)
১. প্রাথমিক বা প্রধান মেমোরি (Primary Storage)
যে মেমোরি সরাসরি সিপিইউ (CPU)-এর সাথে বাসের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে এবং কম্পিউটার চালু থাকা অবস্থায় প্রোগ্রাম ও ডেটা দ্রুত সরবরাহ করে, তাকে প্রাইমারি মেমোরি বলে। এটি প্রধানত দুই প্রকার:
- ক. র্যাম (RAM – Random Access Memory): এটি একটি অস্থায়ী বা ভোলাটাইল (Volatile) মেমোরি। কম্পিউটার চলাকালীন চলমান সফটওয়্যার ও ফাইলের ডেটা এখানে জমা থাকে। বিদ্যুৎ চলে গেলে এর ভেতরের সকল তথ্য মুছে যায়। এর গতি অত্যন্ত দ্রুত।
- খ. রম (ROM – Read Only Memory): এটি একটি স্থায়ী বা নন-ভোলাটাইল (Non-Volatile) মেমোরি। কম্পিউটারের প্রস্তুতকারক কোম্পানি এতে বুট-আপ প্রোগ্রাম বা BIOS (Basic Input/Output System) স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেয়। বিদ্যুৎ বন্ধ হলেও এর তথ্য মুছে যায় না।
- গ. ক্যাশ মেমোরি (Cache Memory): সিপিইউ এবং র্যামের মধ্যবর্তী অত্যন্ত উচ্চগতির মেমোরি, যা ঘন ঘন ব্যবহৃত নির্দেশনাবলি ধারণ করে প্রসেসরের গতি বাড়ায়।
২. মাধ্যমিক বা সহায়ক স্টোরেজ (Secondary Storage)
যেসব স্টোরেজ ডিভাইসে বিপুল পরিমাণ তথ্য, ফাইল ও অপারেটিং সিস্টেম স্থায়ীভাবে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করা যায় এবং বিদ্যুৎ চলে গেলেও ডেটা মুছে যায় না, সেগুলোকে সেকেন্ডারি স্টোরেজ ডিভাইস বলে। প্রযুক্তির ভিত্তিতে এগুলোকে নিম্নরূপে ভাগ করা যায়:
- চৌম্বকীয় মাধ্যম (Magnetic Storage):
- হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD): কম্পিউটারের প্রধান দীর্ঘমেয়াদী স্টোরেজ ডিভাইস। এতে ধাতব চৌম্বকীয় প্লাটারের সাহায্যে শত শত গিগাবাইট থেকে টেরাবাইট পর্যন্ত ডেটা সংরক্ষণ করা যায়।
- ম্যাগনেটিক টেপ: পুরানো আমলের ফিতা বিশিষ্ট দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপ ডিভাইস।
- সলিড স্টেট ড্রাইভ (Solid State Storage – SSD ও ফ্ল্যাশ মেমোরি):
- এসএসডি (SSD): আধুনিক কম্পিউটারের অত্যন্ত জনপ্রিয় স্টোরেজ মাধ্যম। এতে কোনো চলমান যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ নেই; বরং ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ দিয়ে তৈরি। এটি সনাতন হার্ডডিস্কের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন, টেকসই ও নীরব।
- পেনড্রাইভ / ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ: সহজে বহনযোগ্য ক্ষুদ্র স্টোরেজ ডিভাইস, যা ডেটা আদান-প্রদানে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়।
- মেমোরি কার্ড (SD Card): স্মার্টফোন ও ক্যামেরায় ব্যবহৃত চিপভিত্তিক স্টোরেজ।
- অপটিক্যাল ডিস্ক (Optical Storage):
লেজার রশ্মির সাহায্যে রিড ও রাইট সম্পন্ন হওয়া গোলাকার প্লাস্টিক ডিস্ক:
- সিডি (CD – Compact Disc): ধারণক্ষমতা প্রায় ৭০০ মেগাবাইট (MB)।
- ডিভিডি (DVD – Digital Versatile Disc): ধারণক্ষমতা ৪.৭ গিগাবাইট থেকে ৮.৫ গিগাবাইট।
- ব্লু-রে ডিস্ক (Blu-ray Disc): হাই-ডেফিনিশন ভিডিও সংরক্ষণের জন্য ২৫ থেকে ৫০ গিগাবাইট ধারণক্ষমতাসম্পন্ন।
- ক্লাউড স্টোরেজ (Cloud Storage):
ইন্টারনেটভিত্তিক ভার্চুয়াল রিমোট সার্ভার স্টোরেজ, যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো স্থান থেকে ডেটা সংরক্ষণ ও অ্যাক্সেস করা যায়। যেমন—Google Drive, Microsoft OneDrive, Dropbox ইত্যাদি।
৫. অপারেটিং সিস্টেম কী? মাইক্রো কম্পিউটারের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমসমূহের বিস্তারিত বিবরণ দাও।
[What is operating system? Give a detailed description of the popular operating systems of micro-computer (mc.)]
ভূমিকা
একটি কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কেবল জড় ধাতব খণ্ডের সমষ্টি। এই হার্ডওয়্যারকে জীবন দান করে এবং ব্যবহারকারীর আদেশ কার্যকর করার সমন্বিত পরিবেশ সৃষ্টি করে অপারেটিং সিস্টেম।
অপারেটিং সিস্টেমের সংজ্ঞা ও ভূমিকা
অপারেটিং সিস্টেম (Operating System – OS) হলো একগুচ্ছ সমন্বিত সিস্টেম সফটওয়্যার, যা কম্পিউটারের সমস্ত হার্ডওয়্যার উপাদান (সিপিইউ, মেমোরি, আই/ও ডিভাইস) পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন (Interface) রচনা করে। একে কম্পিউটারের ‘মাস্টার কন্ট্রোল প্রোগ্রাম’ বা প্রাণ বলা হয়।
মাইক্রো কম্পিউটারের জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমসমূহের বিবরণ
ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা মাইক্রো কম্পিউটারের ইতিহাসে এবং বর্তমান বাজারে সর্বাধিক জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেমগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
- মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (Microsoft Windows):
বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কর্পোরেশন কর্তৃক উদ্ভাবিত উইন্ডোজ হলো ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জগতে বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম (বিশ্বের প্রায় ৭০% এর বেশি ডেস্কটপ/ল্যাপটপে এটি চলে)।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: আকর্ষণীয় গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI), আইকন, মেনু ও উইন্ডোভিত্তিক সহজ পরিচালনা ব্যবস্থা, প্লাগ অ্যান্ড প্লে (Plug and Play) সুবিধা, চমৎকার মাল্টিটাস্কিং এবং অগণিত অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সহজ সমর্থন।
- বিবর্তন ও সংস্করণ: Windows 95, Windows 98, Windows XP, Windows 7, Windows 10 এবং আধুনিকতম Windows 11।
- লিনাক্স (Linux):
১৯৯১ সালে লিনাস টরভাল্ডস (Linus Torvalds) কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি মুক্ত-উৎসের (Open Source) ও বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য অপারেটিং সিস্টেম। এর সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় সারা বিশ্বের হাজার হাজার প্রোগ্রামার এর উন্নয়নে অবদান রাখেন।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা (ভাইরাস আক্রমণ প্রায় শূন্য), চমৎকার স্থিতিশীলতা ও ক্র্যাশ-মুক্ত কার্যক্ষমতা, কম কনফিগারেশনের কম্পিউটারেও অনায়াসে সচল থাকা। এটি সার্ভার এবং প্রোগ্রামারদের প্রধান পছন্দ।
- জনপ্রিয় ডিস্ট্রিবিউশন (Distros): Ubuntu, Linux Mint, Fedora, Debian, Kali Linux (সাইবার নিরাপত্তার কাজে)।
- ম্যাক ওএস (macOS):
অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড (Apple Inc.) কর্তৃক তাদের নিজস্ব ম্যাকিনটোশ (Macintosh / MacBook / iMac) কম্পিউটারের জন্য বিশেষভাবে উদ্ভাবিত প্রোপাইটরি অপারেটিং সিস্টেম। এটি ইউনিক্স (UNIX) ভিত্তিক স্থাপত্যে নির্মিত।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: দৃষ্টিনন্দন ইউজার ইন্টারফেস, অসাধারণ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সমন্বয়, উচ্চমানের ডেটা সুরক্ষা ও গোপনীয়তা, প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন, অডিও-ভিডিও এডিটিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে তুলনাহীন গতি।
- সংস্করণসমূহ: macOS Monterey, macOS Ventura, macOS Sonoma ইত্যাদি।
- এমএস-ডস (MS-DOS – Microsoft Disk Operating System):
আশির দশকে আইবিএম পিসির জন্য উদ্ভাবিত প্রথম দিকের একক ব্যবহারকারী কমান্ড-লাইন ইন্টারফেস (CLI) ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম। এতে কোনো গ্রাফিক্স ছিল না; প্রতিটি কাজের জন্য কি-বোর্ডে সুনির্দিষ্ট কমান্ড (যেমন—DIR, COPY, DEL, FORMAT) টাইপ করতে হতো। আধুনিক উইন্ডোজের ‘Command Prompt’-এ এখনও এর ভিত্তি রয়েছে।
- ক্রোম ওএস (Chrome OS):
গুগল (Google) কর্তৃক স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ বা ক্রোমবুকের (Chromebook) জন্য তৈরি হালকা অপারেটিং সিস্টেম। এটি মূলত ক্লাউড ও গুগল ক্রোম ব্রাউজার কেন্দ্রিক কাজ এবং অনলাইন ক্লাসের জন্য দারুণভাবে জনপ্রিয়।
৬. ফন্ট কী? ফন্টের গঠন ও প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা কর।
[What is font? Describe the size and types of fonts in details.]
ভূমিকা
কম্পিউটারে যেকোনো ভাষায় লেখালেখি, মুদ্রণ ও তথ্য উপস্থাপনের দৃশ্যমান সৌন্দর্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে অক্ষরের নকশা ও কাঠামোর ওপর। টাইপোগ্রাফির জগতে এই অক্ষরের নির্দিষ্ট নকশাকে ফন্ট বলা হয়।
ফন্টের সংজ্ঞা
কম্পিউটার টাইপোগ্রাফিতে ফন্ট (Font) হলো একটি নির্দিষ্ট আকার (Size), ওজন (Weight) ও সুসংগত শৈল্পিক নকশায় (Design/Style) তৈরি বর্ণমালা, সংখ্যা ও বিরামচিহ্নের ডিজিটাল রূপ। অর্থাৎ, কোনো ভাষায় ব্যবহৃত প্রতিটি অক্ষরের নির্দিষ্ট চেহারা বা টাইপোগ্রাফিক রূপরেখাই হলো ফন্ট। ফন্টের পরিমাপ সাধারণত ‘পয়েন্ট’ (pt) এককে করা হয় (যেমন—12 pt, 14 pt)।
ফন্টের অভ্যন্তরীণ গঠন উপাদান (Font Anatomy)
একটি ফন্টের প্রতিটি অক্ষরের নিখুঁত গঠনে কতগুলো নির্দিষ্ট ভিত্তি ও রেখাংশ থাকে:
- বেসলাইন (Baseline): যে অদৃশ্য কাল্পনিক অনুভূমিক রেখার ওপর সব অক্ষর বসে থাকে।
- এক্স-হাইট (x-Height): ছোট হাতের ‘x’ অক্ষরের উচ্চতা, যা ফন্টের সাধারণ বডি সাইজ নির্ধারণ করে।
- অ্যাসেন্ডার (Ascender): অক্ষরের যে অংশ এক্স-হাইটের উপর উঠে যায় (যেমন—b, d, h, l-এর ঊর্ধ্বাংশ)।
- ডিসেন্ডার (Descender): অক্ষরের যে অংশ বেসলাইনের নিচে নেমে যায় (যেমন—p, q, y, g-এর নিম্নাংশ)।
- সেরিফ (Serif): অক্ষরের রেখাংশের প্রান্তভাগে থাকা ক্ষুদ্র বাড়তি আলঙ্কারিক দাগ বা পা।
ফন্টের প্রধান প্রকারভেদ (Types of Fonts)
সাধারণ আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস এবং বাংলা-আরবি ভাষার বিশেষ প্রেক্ষাপটে ফন্টকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়:
১. নকশা ও শৈলীর ভিত্তিতে সাধারণ প্রকারভেদ:
- সেরিফ ফন্ট (Serif):
যেসব ফন্টের অক্ষরের কোণায় বা প্রান্তভাগে সূক্ষ্ম আলঙ্কারিক দাগ থাকে। বই-পুস্তক, পত্রিকা ও দীর্ঘ পাঠ্যমুদ্রণে চোখের আরামের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Times New Roman, Georgia, Garamond।
- স্যান্স-সেরিফ ফন্ট (Sans-Serif):
ফরাসি শব্দ ‘Sans’ অর্থ ছাড়া বা ব্যতীত। যেসব ফন্টের অক্ষরে কোনো বাড়তি সেরিফ দাগ বা পা থাকে না; অক্ষরগুলো সোজা ও আধুনিক দেখায়। কম্পিউটার ও মোবাইল স্ক্রিনে পড়ার জন্য এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। উদাহরণ: Arial, Calibri, Helvetica, Roboto।
- স্ক্রিপ্ট বা কার্সিভ ফন্ট (Script / Handwriting):
হাতে লেখা বা টানা টানা বাঁকানো অক্ষরের মতো আলঙ্কারিক ফন্ট। দাওয়াতপত্র ও সনদে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Monotype Corsiva, Brush Script।
- মনোস্পেসড ফন্ট (Monospaced):
যে ফন্টের প্রতিটি অক্ষর সমপরিমাণ অনুভূমিক জায়গা দখল করে। প্রোগ্রামিং কোড লেখার কাজে এটি অপরিহার্য। উদাহরণ: Courier New, Consolas।
২. বাংলা ফন্টের প্রকারভেদ (Bangla Font Classification):
- অ্যান্সি বা নন-ইউনিকোড ফন্ট (ANSI / Non-Unicode Fonts): পূর্বে বিজয় কি-বোর্ড লেআউটের জন্য তৈরি ফন্ট, যা ইন্টারনেট ব্রাউজারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পড়া যেত না। উদাহরণ: SutonnyMJ।
- ইউনিকোড ফন্ট (Unicode Fonts): আন্তর্জাতিকভাবে প্রমিত বাংলা ফন্ট, যা ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সব ডিভাইসে অবিকল প্রদর্শিত হয়। উদাহরণ: কালপুরুষ (Kalpurush), সোলাইমান লিপি (SolaimanLipi), সিয়াম রূপালী (Siyam Rupali)।
৩. আরবি ও ইসলামি গবেষণায় ব্যবহৃত ফন্ট:
কুরআন তিলাওয়াত, হাদিস সংকলন ও ইসলামি কিতাব মুদ্রণে বিশেষায়িত আরবি ফন্ট ব্যবহৃত হয়। যেমন—Traditional Arabic, Simplified Arabic, Amiri এবং উসমানী লিপিভিত্তিক KFGQPC Uthman Taha Naskh ফন্ট।
৭. কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং বলতে কী বুঝ? এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।
[What do you know about computer networking? Describe its classification in details.]
ভূমিকা
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মূল ভিত্তি হলো তথ্য ও রিসোর্স শেয়ারিং। একাধিক স্বতন্ত্র কম্পিউটারকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদান ও সম্পদ ভাগাভাগির সার্বিক ব্যবস্থাই হলো নেটওয়ার্কিং।
কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের সংজ্ঞা
যখন দুই বা ততোধিক কম্পিউটার এবং সংশ্লিষ্ট পেরিফেরাল ডিভাইস (যেমন—প্রিন্টার, স্ক্যানার, স্টোরেজ) পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, ফাইল আদান-প্রদান এবং হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার সম্পদ শেয়ার করার উদ্দেশ্যে কেবল (Cable) বা ওয়্যারলেস (Wireless) তরঙ্গের মাধ্যমে আন্তঃসংযুক্ত হয়, তখন সেই সমগ্র ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং (Computer Networking) বলে।
ভৌগোলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ
ভৌগোলিক সীমানা ও বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়:
- প্যান (PAN – Personal Area Network):
একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিধিতে (সাধারণত ১০ মিটার বা ৩০ ফুটের মধ্যে) গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র নেটওয়ার্ক। ব্লুটুথ, হটস্পট বা ওয়াই-ফাই ডিরেক্টের মাধ্যমে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও তারবিহীন হেডফোনের মধ্যকার সংযোগ এর উদাহরণ।
- ল্যান (LAN – Local Area Network):
একটি নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র ভৌগোলিক এলাকায়—যেমন একটি কামরা, একটি অফিস ভবন, স্কুল-মাদরাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত কম্পিউটারগুলোর মধ্যকার নেটওয়ার্ককে ল্যান বলে। এতে ইথারনেট ক্যাবল, সুইচ ও ওয়াই-ফাই রাউটার ব্যবহৃত হয়। এর ডেটা স্থানান্তর গতি অত্যন্ত বেশি (100 Mbps থেকে 10 Gbps পর্যন্ত)।
- ম্যান (MAN – Metropolitan Area Network):
একটি সম্পূর্ণ শহর বা মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত একাধিক ল্যান (LAN)-কে উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের সাহায্যে যুক্ত করে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তাকে ম্যান বলে। যেমন—একটি পুরো শহরের কেবল টিভি নেটওয়ার্ক বা কোনো ব্যাংকের একটি শহরের সকল শাখার মধ্যকার নেটওয়ার্ক। এর আওতা সাধারণত ১০ থেকে ১০০ কিলোমিটার হয়ে থাকে।
- ওয়ান (WAN – Wide Area Network):
সমগ্র দেশ, একাধিক দেশ, একটি মহাদেশ বা বিশ্বব্যাপী ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত সুবিশাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে ওয়ান বলে। এটি স্যাটেলাইট, আন্ডারসি ফাইবার অপটিক ক্যাবল ও মাইক্রোওয়েভ লিঙ্কের সাহায্যে যুক্ত থাকে। বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ইন্টারনেট (Internet) হলো ওয়ান-এর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজনীন উদাহরণ।
টপোলজি বা সংযোগ কাঠামোর ভিত্তিতে নেটওয়ার্কের শ্রেণিবিভাগ
নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলো শারীরিকভাবে কীভাবে সংযুক্ত রয়েছে তার জ্যামিতিক নকশাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে:
- বাস টপোলজি (Bus Topology): একটি মূল ব্যাকবোন কেবলের সাথে সব কম্পিউটার সারিবদ্ধভাবে যুক্ত থাকে। একটি নষ্ট হলেও পুরো নেটওয়ার্ক চালু থাকে, তবে ব্যাকবোন ক্যাবল কেটে গেলে নেটওয়ার্ক অচল হয়।
- স্টার টপোলজি (Star Topology): একটি কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচের সাথে প্রতিটি কম্পিউটার পৃথক তারের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। এটি বর্তমান অফিস-আদালতে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও সহজে সম্প্রসারণযোগ্য।
- রিং টপোলজি (Ring Topology): প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে বৃত্তাকারে যুক্ত হয়ে লুপ তৈরি করে। ডেটা একমুখী প্রবাহিত হয়।
- মেশ টপোলজি (Mesh Topology): প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অন্যান্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এতে সর্বোচ্চ ডেটা নিরাপত্তা ও বিকল্প পথ থাকে, তবে ক্যাবল খরচ অত্যন্ত বেশি।
- ট্রি টপোলজি (Tree Topology): স্টার টপোলজিগুলোর সমন্বয়ে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখার মতো বহুস্তরবিশিষ্ট নেটওয়ার্ক।
- হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology): একাধিক ভিন্ন ভিন্ন টপোলজির (যেমন বাস ও স্টার) সংমিশ্রণে গঠিত জটিল নেটওয়ার্ক।
৮. আল-মাকতাবাতুশ শামেলা কী? এর বিভিন্ন সংস্করণ ও অংশসমূহের বর্ণনা দাও।
[What is ‘Al-Maktabatus Shamela’? Describe its several edition and sections.]
ভূমিকা
ঐতিহ্যবাহী ইসলামি গবেষণার ধারাকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বিত করতে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও যুগান্তকারী ডিজিটাল উদ্ভাবন হলো ‘আল-মাকতাবাতুশ শামেলা’ (المكتبة الشاملة)। ইসলামি শরীয়াহ, হাদিস শাস্ত্র ও আরবি সাহিত্যের শিক্ষক, ছাত্র ও গবেষকদের জন্য এটি একটি অবিকল্প ভার্চুয়াল লাইব্রেরি।
আল-মাকতাবাতুশ শামেলা-এর সংজ্ঞা ও পরিচয়
আল-মাকতাবাতুশ শামেলা হলো একটি বিশ্ববিখ্যাত, প্রামাণ্য ও উন্মুক্ত ইসলামি ডিজিটাল লাইব্রেরি ও সার্চ ইঞ্জিন সফটওয়্যার। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডারের মৌলিক আরবি পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত গ্রন্থসমূহকে গবেষকদের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া এবং মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো হাদিস, রাবী বা ফিকহি মাসআলা নির্ভুলভাবে অনুসন্ধান (Search) করার সুযোগ সৃষ্টি করা। এটি সৌদি আরবের গবেষক দল কর্তৃক তৈরি ও নিয়মিত পরিমার্জিত হয়।
আল-মাকতাবাতুশ শামেলার প্রধান সংস্করণসমূহ (Editions)
- প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণ (প্রাথমিক ভার্সন): ২০০০-এর দশকের শুরুতে এর সূচনা হয়। প্রাথমিক সংস্করণগুলোতে কয়েকশ মৌলিক তাফসীর ও হাদিস গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- তৃতীয় সংস্করণ (Shamela Version 3.x): সর্বাধিক জনপ্রিয় ও ক্লাসিক সংস্করণ। এতে প্রায় ৬ থেকে ৮ হাজার কিতাব যুক্ত করা হয়। উইন্ডোজ এক্সপি ও উইন্ডোজ সেভেনে এটি অত্যন্ত স্থিতিশীলভাবে চলত। এর ফাইল সাইজ ছিল প্রায় ২০ থেকে ৪০ গিগাবাইট।
- চতুর্থ সংস্করণ (Shamela Version 4.x – আধুনিক সংস্করণ): এটি আধুনিকতম ও সম্পূর্ণ নতুন ইঞ্জিনে নির্মিত সংস্করণ। এতে চমৎকার আধুনিক ইউজার ইন্টারফেস, দ্রুততর সার্চ অ্যালগরিদম এবং অনলাইনে সরাসরি বই ডাউনলোড ও স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড আপডেটের সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। এতে গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।
- মোবাইল ও ওয়েব সংস্করণ (Android, iOS & Web): বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের জন্য শামেলার অফিসিয়াল অ্যাপ চালু রয়েছে এবং shamela.ws ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল না করেই অনলাইনে সরাসরি বই পড়া ও অনুসন্ধান করা যায়।
- স্বর্ণালী সংস্করণ (النسخة الذهبية – Shamela Gold): বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকদের দ্বারা অতিরিক্ত সহস্রাধিক বিরল পাণ্ডুলিপি ও আধুনিক গবেষণামূলক বই সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত বিশেষ বৃহৎ সংস্করণ।
আল-মাকতাবাতুশ শামেলার প্রধান অংশ ও উপাদানসমূহ (Components & Sections)
সফটওয়্যারটির ইউজার ইন্টারফেসে প্রধানত নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও অংশগুলো রয়েছে:
- শ্রেণিবদ্ধ কিতাব তালিকা (Book Categories / التصنيفات):
শামেলায় সমস্ত কিতাবকে বিষয়ের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। যেমন—
- العقيدة (আকিদা ও কালাম শাস্ত্র)
- التفاسير وعلوم القرآن (তাফসীর ও উলুমুল কুরআন)
- متون الحديث (হাদিসের মূল গ্রন্থ—বুখারী, মুসলিম, সুনান গ্রন্থসমূহ ইত্যাদি)
- شروح الحديث (হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যেমন ফাতহুল বারী, শরহুন নববী)
- كتب التخريج والزوائد ও الجرح والتعديل (রিজাল ও বর্ণনাকারী শাস্ত্র)
- الفقه المقارن وأصول الفقه (ফিকহ ও উসূলে ফিকহ)
- السيرة النبوية والتاريخ (সীরাত ও ইসলামি ইতিহাস)
- اللغة العربية والمعاجم (আরবি ভাষা, ব্যাকরণ ও অভিধান)
- উন্নত অনুসন্ধান ব্যবস্থা (Search Engine / محرك البحث):
এটি শামেলার সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী অংশ। এর মাধ্যমে—
- যেকোনো শব্দের মূল ধাতু (Root) বা আংশিক টেক্সট দিয়ে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট কিতাবে অনুসন্ধান করা যায়।
- যেকোনো হাদিসের অংশবিশেষ লিখে এক সেকেন্ডের মধ্যে তা কোন কিতাবের কোন খণ্ডের কোন পৃষ্ঠায় ও কত নম্বর হাদিসে রয়েছে তা হুবহু বের করা যায়।
- ‘রাবী’ অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে হাদিসের বর্ণনাকারীর জীবনী ও তার বিশ্বস্ততা মুহূর্তেই জানা যায়।
- মুদ্রিত কিতাবের হুবহু পৃষ্ঠা নম্বর প্রদর্শন (موافقة للمطبوع):
শামেলার অধিকাংশ কিতাব মক্কার বা বৈরুতের বিখ্যাত প্রকাশনীর মুদ্রিত কিতাবের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরের সাথে ১০০% হুবহু মেলানো (Muwafiq lil-Matbu), যার ফলে গবেষক সরাসরি এখান থেকেই পিএইচডি বা থিসিস পেপারের ফুটনোট রেফারেন্স উদ্ধৃত করতে পারেন।
- ব্যক্তিগত নোট ও বুকমার্কিং সুবিধা (Glosses & Bookmarks):
গবেষক অধ্যয়নকালে যেকোনো পৃষ্ঠায় নিজের গবেষণামূলক টিকা বা ফুটনোট যুক্ত করে রাখতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠা বুকমার্ক করতে পারেন।
- রপ্তানি ও মুদ্রণ ব্যবস্থা (Export & Print):
যেকোনো পৃষ্ঠা বা সার্চ রেজাল্ট এক ক্লিকেই মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (MS Word) বা টেক্সট ফাইলে ফুটনোট রেফারেন্সসহ কপি-পেস্ট করা যায়।
খ বিভাগ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন সমাধান
৯. (ক) সিস্ক (Cisc) ও রিস্ক (Risc) প্রসেসরের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[Write the differences between Cisc and Risc processor.]
উত্তর:
কম্পিউটার প্রসেসরের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা সেট স্থাপত্যের (Instruction Set Architecture – ISA) ওপর ভিত্তি করে প্রসেসরকে মূলত CISC এবং RISC—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এদের তুলনামূলক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| তুলনার বিষয় | সিস্ক (CISC) প্রসেসর | রিস্ক (RISC) প্রসেসর |
|---|---|---|
| পূর্ণরূপ | Complex Instruction Set Computer | Reduced Instruction Set Computer |
| ইন্সট্রাকশন সংখ্যা ও জটিলতা | এতে শত শত জটিল ও পরিবর্তনশীল দৈর্ঘ্যের ইন্সট্রাকশন থাকে। একটি নির্দেশেই একাধিক কাজ হয়। | এতে স্বল্প সংখ্যক (সাধারণত ১০০-এর কম) সরল ও নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের ইন্সট্রাকশন থাকে। |
| এক্সিকিউশন সময় | একটি জটিল নির্দেশ সম্পন্ন করতে একাধিক ক্লক সাইকেল (Clock Cycles) প্রয়োজন হয়। | প্রতিটি সরল নির্দেশ সাধারণত একটি মাত্র ক্লক সাইকেলে সম্পন্ন হয়। |
| রেজিস্টারের ব্যবহার | তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক সাধারণ উদ্দেশ্যের রেজিস্টার থাকে। | প্রচুর সংখ্যক ইন্টারনাল রেজিস্টার থাকে, ফলে মেমোরি অ্যাক্সেস কম করতে হয়। |
| পাইপলাইনিং | নির্দেশনার দৈর্ঘ্য পরিবর্তনশীল হওয়ায় পাইপলাইনিং বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জটিল। | সহজ ও অত্যন্ত দক্ষ পাইপলাইনিং আর্কিটেকচার বিদ্যমান। |
| বিদ্যুৎ খরচ ও তাপ | সার্কিট অত্যন্ত জটিল হওয়ায় বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং তাপ বেশি উৎপন্ন হয়। | সার্কিট নকশা সরল হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত কম ও শীতল থাকে। |
| ব্যবহার ক্ষেত্র | প্রথাগত পার্সোনাল কম্পিউটার ও ল্যাপটপ (যেমন—Intel x86, AMD প্রসেসর)। | স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও আধুনিক অ্যাপল সিলিকন চিপ (যেমন—ARM প্রসেসর, Apple M1/M2/M3, RISC-V)। |
৯. (খ) ইঙ্কজেট প্রিন্টার ও লেজার প্রিন্টারের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
[What are the differences between Ink-Jet Printer and Laser Printer.]
উত্তর:
কাগজে ডিজিটাল তথ্য মুদ্রণের প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে ইঙ্কজেট ও লেজার প্রিন্টারের মধ্যে নিম্নোক্ত মৌলিক পার্থক্যগুলো বিদ্যমান:
| বৈশিষ্ট্য | ইঙ্কজেট প্রিন্টার (Inkjet Printer) | লেজার প্রিন্টার (Laser Printer) |
|---|---|---|
| মুদ্রণ প্রযুক্তি | তরল কালির (Liquid Ink) সূক্ষ্ম ফোঁটা নোজলের মাধ্যমে স্প্রে করে কাগজে অক্ষর তৈরি করা হয়। | লেজার রশ্মি, স্থির বিদ্যুৎ এবং উত্তপ্ত রোলার দ্বারা শুকনো গুঁড়া কালি (Toner) গলিয়ে কাগজে বসানো হয়। |
| কালির উপাদান | তরল কালির কার্ট্রিজ (Ink Cartridge) বা কালির বোতল (Ink Tank)। | শুকনো গুঁড়ো কার্বন পাউডারযুক্ত টোনার কার্ট্রিজ (Toner Cartridge)। |
| মুদ্রণের গতি | গতি তুলনামূলক কম (প্রতি মিনিটে ৫ থেকে ২০ পৃষ্ঠা – PPM)। | গতি অত্যন্ত দ্রুত (প্রতি মিনিটে ২০ থেকে ৭০ পৃষ্ঠা বা ততোধিক)। |
| মুদ্রণ খরচ | প্রিন্টারের ক্রয়মূল্য কম হলেও প্রতি পৃষ্ঠায় কালির মুদ্রণ খরচ তুলনামূলক বেশি। | প্রিন্টারের প্রাথমিক দাম বেশি হলেও প্রতি পৃষ্ঠার টেক্সট মুদ্রণ খরচ অত্যন্ত সাশ্রয়ী। |
| উৎকর্ষ ও ব্যবহার | রঙিন আলোকচিত্র (Photo Print) ও আর্ট পেপারে ছবি প্রিন্টের জন্য শ্রেষ্ঠ। বাসাবাড়িতে উপযোগী। | অফিস-আদালত ও প্রকাশনায় প্রচুর পরিমাণ টেক্সট ডকুমেন্ট দ্রুত ও ধারালোভাবে মুদ্রণে সেরা। |
| কালি শুকানোর সমস্যা | অনেকদিন ব্যবহার না করলে প্রিন্টহেডের তরল কালি শুকিয়ে নোজল জ্যাম হতে পারে। | কালি শুকনো পাউডার হওয়ায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলেও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। |
৯. (গ) স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম কী? এর বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।
[What is spreadsheet program? What are the characteristics of Spreadsheet program.]
উত্তর:
স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের সংজ্ঞা:
স্প্রেডশিট (Spreadsheet) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ছড়ানো বড় পাতা। কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম হলো এমন একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, যা সারি (Row) এবং কলামের (Column) সমন্বয়ে গঠিত টেবিল বা গ্রিডে বিপুল পরিমাণ গাণিতিক ও আর্থিক ডেটা সুবিন্যস্তভাবে সাজিয়ে স্বয়ংক্রিয় হিসাব-নিকাশ, বিশ্লেষণ ও চার্ট প্রদর্শনে ব্যবহৃত হয়। বিশ্বখ্যাত Microsoft Excel হলো স্প্রেডশিটের উজ্জ্বলতম উদাহরণ।
স্প্রেডশিট প্রোগ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- গ্রিডভিত্তিক সেল কাঠামো: এতে অনুভূমিক সারি (সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত, যেমন ১, ২, ৩) এবং উল্লম্ব কলাম (অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত, যেমন A, B, C) থাকে। সারি ও কলামের ছেদবিন্দুকে Cell বলে (যেমন—A1, B5)।
- স্বয়ংক্রিয় সূত্র ও ফাংশন প্রয়োগ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মতো সাধারণ হিসাব ছাড়াও জটিল পরিসংখ্যান ও আর্থিক সূত্র প্রয়োগের জন্য এতে শত শত বিল্ট-ইন ফাংশন রয়েছে (যেমন—SUM, AVERAGE, COUNT, IF, VLOOKUP)।
- স্বয়ংক্রিয় পুনঃহিসাব (Auto Recalculation): কোনো সেলের সংখ্যা পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট সকল ফর্মুলা তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ফলাফল দেখায়।
- গ্রাফ ও চার্ট তৈরি: সংখ্যামূলক ডেটাকে সহজেই বার চার্ট, পাই চার্ট, লাইন গ্রাফ ইত্যাদিতে রূপান্তর করে দৃশ্যমান উপস্থাপন করা যায়।
- ডেটা সর্টিং ও ফিল্টারিং: বিপুল পরিমাণ উপাত্তকে বর্ণানুক্রমিক বা সংখ্যা অনুসারে ছোট থেকে বড় (A to Z) সাজানো যায় এবং নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী ডেটা ফিল্টার করা যায়।
- শর্তসাপেক্ষ ফরম্যাটিং (Conditional Formatting): নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সেলের রঙ স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তন হয়ে হাইলাইট হয় (যেমন—ফলাফলে ফেল নম্বর লাল রঙে প্রদর্শন)।
৯. (ঘ) মেমোরি কী? র্যাম এবং রম এর মধ্যে পার্থক্য কী?
[What is memory? What are the difference between RAM and ROM?]
উত্তর:
মেমোরির সংজ্ঞা:
কম্পিউটার মেমোরি হলো এমন একটি শারীরিক বা ইলেকট্রনিক স্টোরেজ মাধ্যম, যেখানে প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা, প্রোগ্রাম কোড এবং ফলাফল সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ধারণ করা হয়। এটি ছাড়া প্রসেসর কোনো নির্দেশ কার্যকর করতে পারে না।
র্যাম (RAM) এবং রম (ROM)-এর মধ্যকার পার্থক্য:
| পার্থক্যসূচক বিষয় | র্যাম (RAM) | রম (ROM) |
|---|---|---|
| পূর্ণরূপ | Random Access Memory | Read Only Memory |
| স্থায়িত্বের প্রকৃতি | অস্থায়ী বা পরিবর্তনশীল (Volatile)। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সমস্ত ডেটা মুছে যায়। | স্থায়ী বা অপরিবর্তনশীল (Non-Volatile)। বিদ্যুৎ বন্ধ হলেও সংরক্ষিত তথ্য আজীবন অপরিবর্তিত থাকে। |
| পঠন ও লিখন | এতে একই সাথে ডেটা পড়া (Read) এবং নতুন ডেটা লেখা (Write) যায়। | এখান থেকে ডেটা কেবল পড়া যায় (Read Only); সাধারণ ব্যবহারকারী এতে নতুন কিছু লিখতে পারে না। |
| সংরক্ষিত তথ্যের ধরন | কম্পিউটার চালু থাকাকালে চলমান অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবহারকারীর চলতি কাজের ডেটা জমা থাকে। | কম্পিউটার চালু করার প্রাথমিক নির্দেশিকা (BIOS / UEFI বুটস্ট্র্যাপ প্রোগ্রাম) স্থায়ীভাবে জমা থাকে। |
| গতি | অত্যন্ত উচ্চগতির মেমোরি, যা সরাসরি প্রসেসরের সাথে দ্রুত ডেটা বিনিময় করে। | র্যামের চেয়ে তুলনামূলক ধীরগতির মেমোরি। |
| ধারণক্ষমতা | সাধারণত ৪ জিবি, ৮ জিবি, ১৬ জিবি বা ৩২ জিবি হয়ে থাকে। | সাধারণত খুবই কম ধারণক্ষমতার (যেমন—৪ মেগাবাইট থেকে ১৬ মেগাবাইট) একটি ক্ষুদ্র চিপ। |
৯. (ঙ) (1110.101)₂ এবং (1011.11)₂ যোগ কর বাইনারি পদ্ধতি ব্যবহার করে।
[Determine the results of addition (1110.101)₂ and (1011.11)₂ using binary method.]
উত্তর:
বাইনারি যোগের মৌলিক নিয়মাবলি:
• 0 + 0 = 0 (হাতে ০)
• 0 + 1 = 1 (হাতে ০)
• 1 + 0 = 1 (হাতে ০)
• 1 + 1 = 0 (হাতে ক্যারি ১)
• 1 + 1 + 1 = 1 (হাতে ক্যারি ১)
প্রদত্ত বাইনারি সংখ্যা দুটি হলো: (1110.101)₂ এবং (1011.11)₂।
যোগের সুবিধার্থে ভগ্নাংশের ঘর সমান করতে দ্বিতীয় সংখ্যার ডানে একটি শূন্য (0) বসিয়ে লিখি: (1011.110)₂।
ক্যারি (Carry): ১ ১ ১ ১ ১ ১
১ ১ ১ ০ . ১ ০ ১
+ ১ ০ ১ ১ . ১ ১ ০
---------------------
যোগফল (Sum): ১ ১ ০ ১ ০ . ০ ১ ১
ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা:
- ভগ্নাংশ অংশ (ডান থেকে বামে):
- সর্বডানের বিট: ১ + ০ = ১ (ক্যারি ০)
- দ্বিতীয় বিট: ০ + ১ = ১ (ক্যারি ০)
- তৃতীয় বিট: ১ + ১ = ০ (হাতে ক্যারি ১ থাকে, যা দশমিক বিন্দুর বামের পূর্ণসংখ্যার ঘরে চলে যায়)
- ভগ্নাংশের যোগফল দাঁড়াল: .০১১
- পূর্ণসংখ্যা অংশ (ডান থেকে বামে):
- একক ঘর: ০ + ১ + ক্যারি ১ = ০ (হাতে ক্যারি ১)
- দশক ঘর: ১ + ১ + ক্যারি ১ = ১ (হাতে ক্যারি ১)
- শতক ঘর: ১ + ০ + ক্যারি ১ = ০ (হাতে ক্যারি ১)
- হাজার ঘর: ১ + ১ + ক্যারি ১ = ১ (হাতে ক্যারি ১)
- সর্ববাম থেকে আসা ক্যারি ১ বসে গেল: ১
- পূর্ণসংখ্যার যোগফল দাঁড়াল: ১১০১০
দশমিক মানে রূপান্তর করে শুদ্ধি পরীক্ষা:
- (1110.101)₂ = (1×2³ + 1×2² + 1×2¹ + 0×2⁰) + (1×2⁻¹ + 0×2⁻² + 1×2⁻³) = (8 + 4 + 2 + 0) + (0.5 + 0 + 0.125) = 14.625
- (1011.11)₂ = (1×2³ + 0×2² + 1×2¹ + 1×2⁰) + (1×2⁻¹ + 1×2⁻²) = (8 + 0 + 2 + 1) + (0.5 + 0.25) = 11.75
- দশমিক যোগফল = 14.625 + 11.75 = 26.375
- প্রাপ্ত বাইনারি যোগফল (11010.011)₂ এর দশমিক রূপ = 16 + 8 + 0 + 2 + 0 + 0 + 0.25 + 0.125 = 26.375 (সম্পূর্ণ সঠিক)।
নির্ণেয় যোগফল: (11010.011)₂
৯. (চ) কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের পার্থক্য লেখ।
[Write the differences between computer hardware and software.]
উত্তর:
কম্পিউটার সিস্টেমের দুটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। এদের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| পার্থক্যসূচক বিষয় | কম্পিউটার হার্ডওয়্যার (Hardware) | কম্পিউটার সফটওয়্যার (Software) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | কম্পিউটারের সমস্ত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ স্পর্শযোগ্য ভৌত যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার বলে। | হার্ডওয়্যারকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্দেশনাবলী, কোড ও প্রোগ্রামের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। |
| ভৌত অস্তিত্ব | এর দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য জড় ভৌত কাঠামো রয়েছে। একে স্পর্শ করা যায়। | এর কোনো শারীরিক বা ভৌত স্পর্শযোগ্য অস্তিত্ব নেই। এটি কেবল যৌক্তিক অনুভূতি ও পর্দায় দৃশ্যমান। |
| নির্ভরশীলতা | সফটওয়্যারের নির্দেশনা ছাড়া হার্ডওয়্যার সম্পূর্ণ অচল ও কর্মহীন। | হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ছাড়া সফটওয়্যার রান বা এক্সিকিউট করা অসম্ভব। |
| উৎপাদন ও নির্মাণ | ইলেকট্রনিক উপাদান, সিলিকন, প্লাস্টিক ও ধাতু দিয়ে কারখানায় ম্যানুফ্যাকচার করা হয়। | প্রোগ্রামারগণ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষায় কোডিং ও অ্যালগরিদম লিখে তৈরি করেন। |
| ক্ষতি ও মেরামত | বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি ক্ষয়ে যায় বা নষ্ট হয়; নষ্ট হলে মেরামত বা পরিবর্তন করতে হয়। | এটি শারীরিকভাবে ক্ষয়ে যায় না; তবে সফটওয়্যারে বাগ (Bug) বা ভাইরাস সমস্যা দেখা দিলে আপডেট বা পুনরায় ইনস্টল করতে হয়। |
| উদাহরণ | মনিটর, সিপিইউ, মাদারবোর্ড, র্যাম, হার্ডডিস্ক, কি-বোর্ড, মাউস ইত্যাদি। | উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, এমএস অফিস, গুগল ক্রোম, অ্যান্টিভাইরাস ইত্যাদি। |
৯. (ছ) সিনক্রোনাস ও অ্যাসিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশনের সুবিধা ও অসুবিধা লেখ।
[Write the advantage and disadvantage between Synchronous and Asynchronous data transmission.]
উত্তর:
ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিট সিনক্রোনাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে ডেটা স্থানান্তরকে সিনক্রোনাস ও অ্যাসিনক্রোনাস পদ্ধতিতে ভাগ করা হয়। নিচে এদের সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করা হলো:
১. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন (Asynchronous Transmission)
যে পদ্ধতিতে প্রেরক থেকে গ্রাহকে ডেটা ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার (এক অক্ষর করে ৮ বিট) পাঠানো হয় এবং প্রতিটি অক্ষরের শুরুতে একটি স্টার্ট বিট (Start Bit) ও শেষে এক বা দুটি স্টপ বিট (Stop Bit) যুক্ত থাকে, তাকে অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।
- সুবিধাসমূহ:
- প্রেরক যেকোনো সময় ডেটা পাঠাতে পারে এবং গ্রাহক তা গ্রহণ করতে পারে (প্রেরক ও গ্রাহকের ঘড়ির গতির মধ্যে পূর্ব-সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই)।
- ইনস্টলেশন ব্যয় অত্যন্ত কম এবং বাস্তবায়নের সার্কিট নকশা তুলনামূলক সহজ।
- যেখানে অল্প পরিমাণে বা বিরতি দিয়ে দিয়ে ডেটা পাঠানো হয় (যেমন কি-বোর্ড থেকে কম্পিউটারে টাইপিং) সেখানে এটি অত্যন্ত উপযোগী।
- অসুবিধাসমূহ:
- প্রতি ৮ বিট ডেটার সাথে অতিরিক্ত ২-৩টি স্টার্ট/স্টপ বিট পাঠানো হয়, ফলে ব্যান্ডউইথ অপচয় হয় এবং কার্যদক্ষতা কম।
- ডেটা স্থানান্তরের গতি তুলনামূলকভাবে বেশ ধীর।
২. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন (Synchronous Transmission)
যে পদ্ধতিতে প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সাধারণ ঘড়ি সংকেত (Clock Pulse) বজায় রেখে ডেটাকে ক্যারেক্টার বাই ক্যারেক্টার না পাঠিয়ে এক সাথে বড় বড় ব্লক বা প্যাকেট আকারে (প্রতি ব্লকে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১৩২ বা ততোধিক ক্যারেক্টার) পাঠানো হয়, তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।
- সুবিধাসমূহ:
- ডেটা স্থানান্তরের গতি অত্যন্ত দ্রুত এবং উচ্চগতির যোগাযোগের জন্য শ্রেষ্ঠ।
- প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে আলাদা স্টার্ট ও স্টপ বিট লাগে না, কেবল ব্লকের শুরুতে হেডার ও শেষে ট্রেলার থাকে; ফলে ট্রান্সমিশন দক্ষতা অনেক বেশি (প্রায় ৯৯%)।
- অবিরত বিপুল পরিমাণ ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সময় অপচয় হয় না।
- অসুবিধাসমূহ:
- প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ঘড়ির গতি সমন্বয় (Clock Synchronization) নিশ্চিত করার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা জটিল।
- প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও মডেমের মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশ ব্যয়বহুল।
৯. (জ) WWW, WI-MAX, VIRUS, HUB এবং Switch বলতে কী বুঝায়?
[What do you mean by WWW, WI-MAX, VIRUS, HUB and Switch?]
উত্তর:
প্রদত্ত প্রযুক্তিগত প্রত্যয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে প্রদান করা হলো:
- WWW (World Wide Web):
ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ বা ওয়েব হলো বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত কোটি কোটি হাইপারটেক্সট ডকুমেন্ট, ওয়েবপেজ ও মাল্টিমিডিয়া ফাইলের একটি সুবিশাল বৈশ্বিক ভাণ্ডার। ১৯৮৯ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি এটি উদ্ভাবন করেন। এটি মূলত HTTP প্রোটোকল এবং HTML ভাষার সাহায্যে ক্লায়েন্ট ব্রাউজারে তথ্য প্রদর্শন করে। ইন্টারনেট হলো সংযোগ পরিকাঠামো আর ওয়েব হলো তার ভেতরের কনটেন্ট পড়ার ব্যবস্থা।
- WI-MAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access):
ওয়াইম্যাক্স হলো একটি দূরপাল্লার উচ্চগতির ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যোগাযোগ প্রযুক্তি, যার আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড হলো IEEE 802.16। এটি সাধারণ ওয়াই-ফাইয়ের (যা মাত্র ১০০ মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ) বিকল্প হিসেবে প্রায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তারবিহীন উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও পাহাড়ি এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে এটি কার্যকর।
- VIRUS (Vital Information Resources Under Siege):
কম্পিউটার ভাইরাস হলো ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া কম্পিউটারে প্রবেশ করে আত্ম-প্রজনন (Replication) করতে সক্ষম একটি ক্ষতিকর বা ধ্বংসাত্মক প্রোগ্রাম (Malicious Software / Malware)। এটি কম্পিউটারের মেমোরি দখল করে, সিস্টেমের ফাইল নষ্ট বা ডিলিট করে দেয়, কম্পিউটারের গতি শ্লথ করে এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে। ফ্রেড কোহেন (Fred Cohen) সর্বপ্রথম ‘ভাইরাস’ নামকরণ করেন। যেমন—CIH, Trojan Horse, Ransomware ইত্যাদি।
- HUB (হাব):
হাব হলো একটি সাধারণ ও অপ্রজ্ঞাময় (Non-intelligent) কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে (LAN) একাধিক কম্পিউটারকে তারের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত করে। হাব তার কোনো পোর্টে আসা ডেটা প্যাকেটকে ফিল্টার বা সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠাতে পারে না; বরং সংযুক্ত সব কম্পিউটারে গণহারে পাঠিয়ে দেয় (Broadcast করে)। ফলে নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক ও সংঘর্ষ (Collision) বৃদ্ধি পায় এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
- Switch (সুইচ):
সুইচ হলো একটি বুদ্ধিমান বা প্রজ্ঞাময় (Intelligent) নেটওয়ার্ক ডিভাইস, যা ওএসআই (OSI) মডেলের ডেটা লিঙ্ক লেয়ারে কাজ করে। এটি প্রতিটি কম্পিউটারের নির্দিষ্ট ফিজিক্যাল বা ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) সংরক্ষণ করে রাখে। ফলে যখন কোনো কম্পিউটার থেকে ডেটা পাঠানো হয়, সুইচ তা সব কম্পিউটারে ব্রডকাস্ট না করে কেবলমাত্র সুনির্দিষ্ট প্রাপক কম্পিউটারের পোর্টে প্রেরণ করে (Unicast করে)। এতে নেটওয়ার্ক দ্রুতগতির হয়, ট্রাফিক কম থাকে এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. কম্পিউটারের চতুর্থ প্রজন্মের প্রধান প্রযুক্তিগত উপাদান কোনটি?
চতুর্থ প্রজন্মের প্রধান উপাদান হলো ভিএলএসআই (VLSI) প্রযুক্তিনির্ভর মাইক্রোপ্রসেসর, যার ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও ল্যাপটপের বিপ্লব সাধিত হয়েছে।
২. র্যামকে কেন ভোলাটাইল বা ক্ষণস্থায়ী মেমোরি বলা হয়?
র্যামে ডেটা সংরক্ষণ বিদ্যুৎ প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল; বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে এর ভেতরে থাকা সকল অস্থায়ী তথ্য তৎক্ষণাৎ মুছে যায় বলে একে ভোলাটাইল মেমোরি বলে।
৩. হাব এবং সুইচের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
হাব আসা ডেটাকে না চিনে নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটারে গণহারে ব্রডকাস্ট করে, অন্যদিকে সুইচ ম্যাক অ্যাড্রেস চিনে নির্দিষ্ট গন্তব্য কম্পিউটারে নির্ভুলভাবে ডেটা পাঠায়।
৪. ইসলামি গবেষণায় ‘আল-মাকতাবাতুশ শামেলা’ সফটওয়্যারের মূল সুবিধা কী?
এর মাধ্যমে তাফসীর, হাদিস ও ফিকহের হাজার হাজার বিরল ও প্রামাণ্য আরবি কিতাবের যেকোনো মূল শব্দ বা রাবী মুহূর্তের মধ্যে রেফারেন্সসহ নিখুঁতভাবে অনুসন্ধান করা যায়।
৫. স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের প্রধান কাজ কী?
গাণিতিক সূত্র ও ফাংশন প্রয়োগ করে বড় বড় হিসাব-নিকাশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং ফলাফলকে গ্রাফ বা চার্টে উপস্থাপন করা স্প্রেডশিটের প্রধান কাজ।
৬. বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির মূল ভিত্তি কী?
বাইনারি পদ্ধতির ভিত্তি হলো ২, কারণ এতে সমস্ত হিসাব ও ইলেকট্রনিক সংকেত প্রকাশের জন্য কেবলমাত্র দুটি মৌলিক অঙ্ক ০ (শূন্য) এবং ১ (এক) ব্যবহার করা হয়।