জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

সুনান আত-তিরমিযী ও সুনান ইবনে মাজাহ (Sunan Tirmidhi wa Sunan Ibn Majah) – ২০২২০৬, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫৪ মিনিট পড়ার সময়
১৬ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

ফাজিল (স্নাতক) সম্মান ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২
বিভাগ: আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ
বিষয়: সুনান আত-তিরমিযী ও সুনান ইবনে মাজাহ (Sunan Tirmidhi wa Sunan Ibn Majah)
বিষয় কোড: ২০২২০৬
পূর্ণমান: ৮০ | সময়: ৪ ঘণ্টা

ক বিভাগ (القسم الأول) – সুনানুত তিরমিযী (Sunan at-Tirmidhi)

١. عن عائشة رضى الله عنها قالت: إن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلى الصبح فينصرف النساء، قال الأنصارى: فتمر النساء متلففات بمروطهن ما يعرفن من الغلس، وقال قتيبة متلفعات- (الف) اكتب نبذة من حياة عائشة رضى الله عنها- (ب) اذكر اختلاف الأئمة فى أفضل وقت صلاة الفجر بإيجاز-

[১. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামায আদায় করতেন, এরপর মহিলারা নিজেদের চাদরে সর্বাঙ্গ আবৃত করে ঘরে ফিরতেন, ভোরের অন্ধকারের (গালাস) কারণে তাঁদের চেনা যেত না। (ক) হযরত আয়েশা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। (খ) ফজর সালাতের সর্বোত্তম সময় নিয়ে ইমামগণের মতপার্থক্য সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]

(الف) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

  • পরিচয়: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কন্যা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি ছিলেন একমাত্র কুমারী স্ত্রী যাকে রাসুল (সা.) বিবাহ করেছিলেন।
  • জন্ম ও মর্যাদা: নবুওয়াতের ৪র্থ বা ৫ম বর্ষে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা স্বয়ং সুরা নূরে ১০টি আয়াত নাযিল করে মুনাফিকদের অপবাদের বিরুদ্ধে তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা দেন (হাদিসুল ইফক)।
  • ইলমি গভীরতা ও ফিকহী অবদান: তিনি ছিলেন একাধারে শীর্ষ মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকীহ, কবি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে পারদর্শী। সাহাবীগণের কোনো জটিল মাসআলা বাধলে তাঁরা আয়েশা (রা.)-এর নিকট সমাধান পেতেন। তিনি রাসুল (সা.) থেকে ২,২১০টি হাদিস বর্ণনা করে সর্বাধিক বর্ণনাকারীদের চতুর্থ স্থানে রয়েছেন।
  • ওফাত: ৫৮ হিজরির ১৭ই রমযান তিনি মদিনায় ইনতিকাল করেন এবং জান্নাতুল বাক্বীতে সমাহিত হন।

(ب) ফজর সালাতের সর্বোত্তম সময় নিয়ে ইমামগণের মতপার্থক্য

  1. ইমাম শাফেঈ, মালেক ও আহমদ (রহ.)-এর অভিমত (الغلَس أفضل): তাঁদের মতে অন্ধকারের মধ্যে প্রথম ওয়াক্তে (গালাস অবস্থায়) ফজরের সালাত শুরু ও শেষ করা সর্বোত্তম। দলিল: আলোচ্য হাদিস, যাতে বলা হয়েছে মহিলারা অন্ধকারের কারণে চেনা যেত না।
  2. ইমাম আবু হানিফা ও হানাফী মাযহাবের অভিমত (الإسفار أفضل): হানাফী ফকীহগণের মতে আলো ছড়িয়ে পড়ার পর (ইসফার অবস্থায়) ফজর আদায় করা মুস্তাহাব ও উত্তম। তবে সূর্য ওঠার পূর্বে যথেষ্ট সময় থাকতে সালাত শেষ করতে হবে। দলিল: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুস্পষ্ট সহীহ হাদিস— “أَسْفِرُوا بِالفَجْرِ، فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ” (তোমরা ফজরকে আলোকিত করে পড়, কেননা এতে সওয়াব অধিক – তিরমিযী)।

٢. عن أبى ذر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان فى سفر ومعه بلال فأراد أن يقيم، فقال أبرد ثم أراد أن يقيم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبرد فى الظهر قال حتى رأينا فى التلول ثم أقم فصلى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن شدة الحرّ من فيح جهنم فأبردوا بالصلوة- (الف) اكتب أهمية الصلاة فى إصلاح المجتمع- (ب) اشرح قوله عليه الصلوة والسلام ‘إن شدة الحر من فيح جهنّم’-

[২. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: হযরত আবু যর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সফরে ছিলেন এবং বিলাল (রা.) তাঁর সাথে ছিলেন। বিলাল ইক্বামত দিতে চাইলেন, নবীজী বললেন: ঠান্ডা হতে দাও। পুনরায় ইক্বামত দিতে চাইলে বললেন: যোহরকে ঠান্ডা হতে দাও, যতক্ষণ না আমরা টিলার ছায়া দেখলাম। এরপর নামায আদায় করে বললেন: নিশ্চয় তীব্র গরম জাহান্নামের উত্তাপের অংশ, সুতরাং তোমরা ঠান্ডা করে নামায পড়। (ক) সমাজ সংস্কারে নামাযের গুরুত্ব লেখ। (খ) রাসুল (সা.)-এর বাণী ‘তীব্র গরম জাহান্নামের উত্তাপ’-এর ব্যাখ্যা কর।]

(الف) সমাজ সংস্কারে সালাতের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব

  1. পাপ ও অশ্লীলতা থেকে সমাজকে সুরক্ষা দান: আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন: “إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ” (নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে – সুরা আনকাবুত: ৪৫)। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযী ব্যক্তি কখনো চুরি, ব্যভিচার ও দুর্নীতিতে লিপ্ত হতে পারে না।
  2. সামাজিক সাম্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠা: জামাতে ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়, যা সকল সামাজিক ভেদাভেদ চূর্ণ করে পরম সৌহার্দ্য সৃষ্টি করে।
  3. শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা শিক্ষা: দৈনিক পাঁচবার নির্দিষ্ট ওয়াক্তে জামাতে উপস্থিত হওয়া সমাজকে নিয়ম ও দায়িত্বশীলতায় উদ্বুদ্ধ করে।
  4. পারস্পরিক খোঁজখবর ও সহানুভূতি: মহল্লার বাসিন্দারা দিনে পাঁচবার সাক্ষাৎ করায় অসুস্থ ও অভাবী প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া সহজ হয়।

(ب) ‘شدة الحر من فيح جهنم’ বাণীর সারগর্ভ ব্যাখ্যা

মুহাদ্দিসগণ এই বাণীর দুটি অর্থ করেছেন:

  • হাক্বীক্বী বা বাস্তবিক অর্থ: সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিসে এসেছে, জাহান্নাম তার রবের নিকট অভিযোগ করেছিল যে, তার এক অংশ অপর অংশকে গ্রাস করছে। তখন আল্লাহ তাকে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন—একটি শীতে আর একটি গ্রীষ্মে। গ্রীষ্মে আমরা যে প্রচণ্ড তাপদাহ অনুভব করি তা জাহান্নামের সেই নিঃশ্বাসের প্রভাব।
  • মাজাযী বা রূপক অর্থ: প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের অসহনীয় আযাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যোহরের চরম তাপদাহে একাগ্রতা (খুশু) বিনষ্ট হয়। তাই মুসল্লিদের কষ্ট লাঘব ও খুশু অর্জনের সুবিধার্থে ইসলাম যোহরের নামায কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর আদায়ের হিকমতপূর্ণ বিধান দিয়েছে।

٣. حدثنا أبن أبى عمر و على بن حجر قالا نا سفيان عن الزهرى عن محمود بن الربيع عن عبادة بن الصامت عن النبى صلى الله عليه وسلم قال لا صلوة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب- (الف) بين مقدار فرض القرأة فى الصلوة- (ب) هات الدليل على أن البسملة ليست بجزء من الفاتحة-

[৩. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি সুরা ফাতেহা পাঠ করল না তার সালাত হলো না। (ক) সালাতে কিরাআত পাঠের ফরজের পরিমাণ বিশ্লেষণ কর। (খ) বিসমিল্লাহ সুরা ফাতেহার অংশ নয়—এর দলিল উপস্থাপন কর।]

(الف) সালাতে কিরাআত পাঠের ফরজের পরিমাণ

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অভিমত: সালাতে কিরাআত পাঠের আসল ফরজ হলো পবিত্র কুরআনের যেকোনো স্থান থেকে ন্যূনতম তিনটি ছোট আয়াত অথবা একটি দীর্ঘ আয়াত তিলাওয়াত করা। দলিল: আল্লাহ তাআলা কুরআনে সাধারণভাবে নির্দেশ দিয়েছেন— “فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ” (কুরআন থেকে যা সহজ তা তিলাওয়াত কর – সুরা মুযযাম্মিল: ২০)। আর সুরা ফাতেহা পড়া হানাফী মাযহাবে ‘ওয়াজিব’ (ফরজ নয়)। হাদিসের ‘লা সালাতা’ দ্বারা পূর্ণাঙ্গ সালাত না হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
  • ইমাম শাফেঈ, মালেক ও আহমদ (রহ.)-এর অভিমত: প্রত্যেক রাকাতের কিরাআতের ফরজ হলো সুরা ফাতেহা তিলাওয়াত করা। সুরা ফাতেহা ছাড়া কোনো সালাতই সহীহ হবে না। দলিল: আলোচ্য হাদিস— “لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب”।

(ب) তাসমিয়া (تسمية) সুরা ফাতেহার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়—এর দলিলসমূহ

  1. হযরত আনাস ও আয়েশা (রা.)-এর হাদিস: হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন: “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর ও উমর (রা.)-এর পিছনে নামায পড়েছি, তাঁরা সকলেই ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ দ্বারা কিরাআত শুরু করতেন, শুরুতে বা শেষে সরবে বিসমিল্লাহ পড়তেন না।” (সহীহ মুসলিম)।
  2. হাদিসে কুদসীর দলিল: সহীহ মুসলিমে বর্ণিত বিখ্যাত হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন: “আমি সালাতকে (সুরা ফাতেহাকে) আমার ও বান্দার মাঝে অর্ধেক ভাগ করেছি… বান্দা যখন বলে ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’…”। এখানে আল্লাহ তাআলা ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে শুরু করেননি; বরং ‘আলহামদু লিল্লাহ’ দিয়ে শুরু করেছেন, যা প্রমাণ করে বিসমিল্লাহ ফাতেহার অংশ নয়।
  3. ইমাম মালেক ও আবু হানিফা (রহ.)-এর সিদ্ধান্ত: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম হলো কুরআনের একটি স্বতন্ত্র আয়াত, যা দুটি সুরার মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে বরকতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু তা সুরা ফাতেহার নির্দিষ্ট কোনো আয়াত নয়।

٤. عن خارجة بن حذافة أنه قال خرج علينا رسول الله عليه وسلم فقال : إن الله أمركم بصلاة هى خير لكم من حمر النعم، الوتر جعله الله لكم فيما بين صلوة العشاء إلى أن يطلع الفجر- (الف) أداء صلوة الوتر فى أول الليل أفضل أم فى آخره؟ بيّن- (ب) تحدث عن فضيلة صلاة الوتر باختصار-

[৪. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: খারিজা ইবনে হুযাফা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট এসে বললেন: নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের এমন একটি নামাযের নির্দেশ দিয়েছেন যা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম, তা হলো বিতরের নামায; এশার সালাত থেকে ফজর উদয় পর্যন্ত এর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। (ক) বিতর নামায রাতের প্রথমাংশে নাকি শেষাংশে আদায় করা উত্তম? (খ) বিতরের ফজিলত সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

(الف) বিতর সালাত রাতের শুরুতে না শেষে পড়া উত্তম?

সহীহ হাদিসের আলোকে এ ব্যাপারে চমৎকার বিস্তারিত সমাধান রয়েছে:

  • শেষ রাতে পড়া সর্বোত্তম (যার তাহাজ্জুদের নিশ্চয়তা আছে): যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ পড়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তার জন্য বিতর সালাত রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদের পর পড়া সর্বোত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُم بِاللَّيْلِ وِتْرًا” (তোমরা রাতের শেষ সালাত বিতরকে কর – সহীহ বুখারী)। কারণ শেষ রাতের নামাযে রহমতের ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন।
  • রাতের শুরুতে বা ঘুমানোর পূর্বে পড়া উত্তম (যার জাগার নিশ্চয়তা নেই): যে ব্যক্তি শেষ রাতে ওঠার ব্যাপারে নিশ্চিত নয়, তার জন্য ঘুমানোর পূর্বে এশার সালাতের পরেই বিতর আদায় করে নেওয়া মুস্তাহাব ও সতর্কতামূলক। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন: “আমার প্রিয়তম হাবীব (সা.) আমাকে ওসীয়ত করেছেন যেন আমি ঘুমানোর পূর্বেই বিতর আদায় করে নিই।” (সহীহ বুখারী)।

(ب) বিতর সালাতের ফজিলত

  1. লাল উটের চেয়েও মূল্যবান: আরবের তৎকালীন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ছিল ‘লাল উট’ (হুমরুন না’আম)। রাসুল (সা.) ঘোষণা করেছেন, বিতরের দুই রাকাত দুনিয়ার সমস্ত পার্থিব সম্পদের চেয়েও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।
  2. আল্লাহ বিজোড়, তিনি বিজোড় ভালোবাসেন: নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন: “إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ” (নিশ্চয় আল্লাহ বিজোড়, তিনি বিজোড়কে ভালোবাসেন, অতএব হে আহলুল কুরআন, তোমরা বিতর আদায় কর – সুনানে তিরমিযী)।
  3. হানাফী মাযহাবে ওয়াজিবের মর্যাদা: সুদৃঢ় তাকীদের কারণে হানাফী মাযহাবে বিতর সালাত ওয়াজিব, যা ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে এবং কাযা আদায় করতে হবে।

٥. عن أبى محذورة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقعده وألقى عليه الأذان حرفا حرفا- قال إبراهيم مثل أذاننا قال بشر فقلت له أعد علىّ فوصف الأذان بالترجيع- (الف) ما الترجيع؟ وما رأى أهل العلم؟ بين بالإيجاز- (ب) اذكر اختلاف العلماء فى عدد كلمات الأذان والإقامة-

[৫. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: আবু মাহযূরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বসিয়ে হরফে হরফে আযান শিক্ষা দিলেন… এবং আযানে ‘তারজী’র বর্ণনা দিলেন। (ক) তারজী’ কী এবং এ বিষয়ে উলামায়ে কিরামের অভিমত কী? (খ) আযান ও ইক্বামতের কালিমার সংখ্যা নিয়ে ইমামগণের মতপার্থক্য উল্লেখ কর।]

(الف) তারজী’ (الترجيع)-এর পরিচয় ও উলামায়ে কিরামের অভিমত

সংজ্ঞা: আযান দেওয়ার সময় শাহাদাতাইনের কালিমা দুটি (আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) প্রথমে অনুচ্চ ও নীচু স্বরে পাঠ করা, অতঃপর পুনরায় উচ্চৈঃস্বরে আহবান করাকে ‘তারজী” বলে।

ইমামগণের অভিমত:

  • ইমাম শাফেঈ ও মালেক (রহ.): তাঁদের মতে আযানে তারজী’ করা সুন্নাত। দলিল: হযরত আবু মাহযূরাহ (রা.)-এর এই হাদিস।
  • ইমাম আবু হানিফা ও আহমদ (রহ.): তাঁদের মতে আযানে তারজী’ নেই; বরং শুরু থেকেই পূর্ণ উচ্চৈঃস্বরে আযান দিতে হবে। আবু মাহযূরাহ (রা.) ইসলাম গ্রহণে নতুন হওয়ায় রাসুল (সা.) প্রথমে তাঁকে আস্তে তালিম দিয়েছিলেন এবং পরে জোরে বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন; এটি আযানের স্থায়ী অংশ নয়। তাছাড়া হযরত বিলাল (রা.)-এর নিয়মিত আযানে কোনো তারজী’ ছিল না।

(ب) আযান ও ইক্বামতের কালিমার সংখ্যা নিয়ে ইমামগণের মতপার্থক্য

মাযহাব আযানের বাক্য সংখ্যা ইক্বামতের বাক্য সংখ্যা
হানাফী মাযহাব ১৫টি (তাকবীর ৪ বার, তারজী’ ছাড়া)। ১৭টি (আযানের মতোই সকল কালিমা জোড়া জোড়া এবং ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ দুইবার)।
শাফেঈ মাযহাব ১৯টি (তারজী’র ৪টি বাক্যসহ)। ১১টি (কালিমাগুলো একবার করে এবং ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ দুইবার)।
মালেকী মাযহাব ১৭টি (শুরুতে তাকবীর ২ বার ও তারজী’সহ)। ১০টি (সব বাক্য একবার করে, এমনকি ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ও একবার)।

٦. عن أبى هريرة (رض) قال قال رسول الله عليه وسلم: الإمام ضامن والمؤذن مؤتمن اللّهم أرشد الأئمة واغفر للمؤذنين- (الف) اذكر نبذة عن سيرة أبى هريرة (رض)- (ب) من هو أحقّ بالإمامة؟ بين موضحا-

[৬. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: ইমাম হলেন জামিনদার এবং মুয়াযযিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ! তুমি ইমামদের সঠিক পথ প্রদর্শন কর এবং মুয়াযযিনদের ক্ষমা করে দাও। (ক) আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। (খ) ইমামতির সর্বাধিক হকদার কে? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

(الف) হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাম ও পরিচয়: ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নাম ছিল আবদুশ শামস, রাসুল (সা.) তাঁর সুন্দর নাম রাখেন আব্দুর রহমান। বিড়ালের ছানা ভালোবাসতেন বলে রাসুল (সা.) তাঁকে আদর করে ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়ালছানার পিতা) উপনাম দেন। ৭ম হিজরিতে খাইবার বিজয়ের বছর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইলমি অবদান: তিনি আসহাবুস্ সুফফার অন্তর্ভুক্ত হয়ে সার্বক্ষণিক রাসুল (সা.)-এর পবিত্র দরবারে লেগে থাকতেন। রাসুল (সা.) তাঁর চাদরে বরকতের দোয়া করার পর তিনি যা শুনতেন তা আর কখনো ভুলতেন না। তিনি সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী (৫,৩৭৪টি হাদিস)। ৫৭ বা ৫৯ হিজরিতে মদিনায় তিনি ওফাত বরণ করেন।

(ب) সালাতে ইমামতির সর্বাধিক হকদার কে?

সহীহ হাদিসের নির্দেশনানুযায়ী ইমামতির অগ্রাধিকারের ক্রম নিম্নরূপ:

  1. সুন্নাহ ও ফিকহের অধিক জ্ঞানী (الأعلم بالسنة): হানাফী মাযহাব মতে যিনি সালাত ও তাহারাতের ফিকহী মাসআলা-মাসায়েল সবচেয়ে ভালো জানেন, তিনি ইমামতির সর্বাধিক হকদার।
  2. কুরআনের উত্তম কারী ও হাফিজ (الأقرأ لكتاب الله): ইমাম শাফেঈ ও আহমদ (রহ.)-এর মতে যিনি কুরআনের সর্বাধিক হাফিজ ও বিশুদ্ধ তিলাওয়াতকারী। হাদিস: “يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ”।
  3. অধিক মুত্তাকী ও পরহেযগার (الأورع والأتقى): যিনি হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় থেকে সর্বাধিক বেঁচে চলেন।
  4. বয়সে প্রবীণ (الأكبر سنا): উপরোক্ত গুণাবলি সমান হলে যিনি বয়সে বড় তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।
  5. সৎচরিত্রবান ও বংশমর্যাদাবান: যার চরিত্র সমাজের সবার কাছে প্রশংসিত।

খ বিভাগ (القسم الثاني) – সুনান ইবনে মাজাহ (Sunan Ibn Majah)

٧. عن عبد الله بن مسعود (رض) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ما من أحد لا يؤدى زكاة ماله إلا مُثّل له يوم القيامة شجاعا أقرع حتى يطوق عنقه ثم قرأ علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مصداقه من كتاب الله تعالى “ولا يحسبن الذين يبخلون بما أتاهم الله من فضله” الآية- (الف) اكتب نبذة من حياة عبد الله بن مسعود (رض)- (ب) عرف الزكاة لغة وشرعا- ومتى فرضت؟

[৭. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি মালের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার মালকে বিষাক্ত টেকো সাপে পরিণত করে তার গলায় বেড়ি পরিয়ে দেওয়া হবে। (ক) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর জীবনী লেখ। (খ) যাকাতের আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও এবং এটি কবে ফরজ হয়?]

(الف) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথমভাগের ষষ্ঠ ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তিনি রাসুল (সা.)-এর ব্যক্তিগত খাদেম হিসেবে মেসওয়াক, জুতো ও ওযুর পানির দায়িত্ব পালন করতেন। তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে কা’বা চত্বরে সুরা আর-রহমান তিলাওয়াত করে কুরাইশদের মার খেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ফিকহুল হাদিস ও তাফসীরের শীর্ষ ইমাম, তাঁর পাঠশালা থেকেই পরবর্তীকালে ‘কুফার ফিকহী মাযহাব’ ও ইমাম আবু হানিফার ফিকহের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ৩২ হিজরিতে মদিনায় তিনি ওফাত বরণ করেন।

(ب) যাকাতের সংজ্ঞা ও ফরজ হওয়ার সময়কাল

আভিধানিক অর্থ: পবিত্রতা (الطهارة), প্রবৃদ্ধি বা বৃদ্ধি পাওয়া (النماء) এবং বরকত। যাকাত দিলে ধনসম্পদ পাপমুক্ত ও পবিত্র হয় এবং বরকত বৃদ্ধি পায়।

পারিভাষিক অর্থ: “تمليك جزء من المال مخصوص شرعا لفقير مسلم غير هاشمي بنية التقرب إلى الله تعالى” অর্থাৎ, “আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নেসাব পরিমাণ মালের নির্দিষ্ট অংশ (৪০ ভাগের এক ভাগ বা ২.৫%) কোনো দরিদ্র মুসলিমের মালিকানায় সম্পূর্ণ অর্পণ করাকে যাকাত বলে।”

কবে ফরজ হয়: দ্বিতীয় হিজরি সনে (২য় হিজরির শাওয়াল মাসে, রমযানের রোজা ফরজ হওয়ার পর) মদিনায় যাকাত ফরজ হয়।


٨. عن ابن شهاب، عن سالم عن أبيه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فيما سقت السماء والأنهار والعيون أو كان بعلاً العُشر وفيما سقى بالسوانى او النضح نصف العُشر- (الف) ما هى شروط وجوب العُشر؟ هل يجب العُشر قبل حولان الحول؟ (ب) ما الفرق بين العشر والخراج؟ بين-

[৮. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: বৃষ্টির পানি, নদী বা ঝর্ণা দ্বারা অথবা প্রাকৃতিকভাবে সেচপ্রাপ্ত ফসলে এক-দশমাংশ (১০%) উশর এবং কৃত্রিম উপায়ে সেচযন্ত্রের সাহায্যে উৎপাদিত ফসলে অর্ধ-উশর (৫%) দিতে হবে। (ক) উশর ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি কী? বছর পূর্ণ হওয়া কি উশরের জন্য শর্ত? (খ) উশর ও খরাজের মধ্যে পার্থক্য লেখ।]

(الف) উশর ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলি ও বছর অতিক্রান্তের বিধান

  • শর্তাবলি: (১) জমির মালিককে মুসলিম হতে হবে, (২) জমি উশরী ভূমি হতে হবে, (৩) জমিতে ফসল বা ফল উৎপন্ন হতে হবে, (৪) ইমাম আবু হানিফার মতে জমি থেকে যা-ই উৎপন্ন হোক উশর ওয়াজিব, তবে অন্যান্য ইমামগণের মতে ৫ অসাক্ব (প্রায় ২৪ মণ) পরিমাণ হতে হবে।
  • বছর অতিক্রান্ত (হাওলানুল হাওল) কি শর্ত?: না, উশরের জন্য বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। বরং ফসল কাটার সাথে সাথেই উশর ওয়াজিব হয়। বছরে একাধিকবার ফসল উৎপন্ন হলে প্রতিবারই উশর দিতে হবে। দলিল: “وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ” (ফসল কাটার দিনই তার হক আদায় কর – সুরা আনআম: ১৪১)।

(খ) উশর (العشر) ও খরাজ (الخراج)-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্যসমূহ

  1. উৎসের পার্থক্য: উশর হলো খাঁটি আর্থিক ইবাদত ও যাকাতের অংশ; আর খরাজ হলো অমুসলিমদের ভূমির ওপর আরোপিত কর।
  2. প্রদানের পাত্র: উশরের টাকা যাকাতের নির্দিষ্ট আটটি খাতে ব্যয় করতে হয়; আর খরাজের অর্থ রাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক কাজে বায়তুল মালে জমা হয়।
  3. ফসল না হওয়ার ক্ষেত্রে: জমিতে ফসল না হলে উশর দিতে হয় না; কিন্তু খরাজী জমিতে চাষাবাদ না করলেও খরাজ মাফ হয় না।
  4. মালিকের ধর্মীয় পরিচয়: উশর কেবল মুসলিম কৃষকদের ওপর আরোপিত হয়; আর খরাজ মূলত অমুসলিম প্রজাদের জমির ওপর ধার্য করা হয়।

٩. عن رافع بن خديج قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول العامل على الصدقة بالحق كالفارى فى سبيل الله تعال حتى يرجع ألى بيته- (الف) من العامل وما فضله؟ (ب) اكتب نبذة من حياة رافع بن خديج-

[৯. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: রাফে’ ইবনে খাদীজ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সততা ও নিষ্ঠার সাথে যাকাত আদায়কারী কর্মচারী ঘরে ফেরা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য। (ক) আমেল কে এবং তার মর্যাদা কী? (খ) রাফে’ ইবনে খাদীজ (রা.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

(الف) আমেলের পরিচয় ও মর্যাদা

আমেল (العامل على الصدقة): ইসলামি রাষ্ট্রপ্রধান বা যাকাত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মানুষের নিকট থেকে যাকাত সংগ্রহ, হিসাবরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত সৎ কর্মকর্তাকে ‘আমেল’ বলা হয়। পবিত্র কুরআনে যাকাত ব্যয়ের আটটি খাতের একটি হলো “وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا”।
মর্যাদা: আমেল যদি ন্যায়পরায়ণতার সাথে কারো ওপর জুলুম না করে যাকাত সংগ্রহ করে, তবে সে ঘরে ফেরা পর্যন্ত ‘গাযী ফী সাবীলিল্লাহ’ তথা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য সওয়াব লাভ করে।

(ب) হযরত রাফে’ ইবনে খাদীজ (রা.)-এর জীবনী

তিনি মদিনার আনসার সাহাবী (আওস গোত্রীয়) ছিলেন। বদরের যুদ্ধে কমবয়সী হওয়ায় তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু উহুদের যুদ্ধে বীরত্বের সাথে তীরন্দাজ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং একটি তীর তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়েছিল। রাসুল (সা.) বলেছিলেন, কিয়ামতের দিন আমি তোমার এই তীরের সাক্ষ্য দেব। তিনি কৃষি ও বর্গা চাষ সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের প্রধান বর্ণনাকারী। ৭৩ বা ৭৪ হিজরিতে মদিনায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি ওফাত বরণ করেন।


١٠. عن زينب امراءة عبد الله قالت: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم أيجزى عنى من الصدقة النفقة على زوجى وأيتام فى حجرى؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لها أجران: أجر الصدقة وأجر القرابة- (الف) ما هى أقوال العلماء فى إنفاق مال الزوج بغير إذنه؟ (ب) أوضح قوله عليه السلام ‘لها أجران’-

[১০. হাদিসের সারসংক্ষেপ তরজমা: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের স্ত্রী যায়নব (রা.) নবীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার গরীব স্বামী ও লালিত এতিমদের ওপর যাকাত দিলে কি তা আদায় হবে? রাসুল (সা.) বললেন: তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে—যাকাত বা সদকার সওয়াব এবং আত্মীয়তার সওয়াব। (ক) স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর ব্যয়ের বিধান কী? (খ) ‘লাহা আজরান’ বাণীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।]

(الف) স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর ব্যয় করার বিধান

  1. স্বাভাবিক খাদ্য ও প্রচলিত সদকা: সাধারণ খাবার বা তুচ্ছ জিনিস যা দিলে স্বামী অসন্তুষ্ট হন না, তা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী দান করা স্ত্রীর জন্য জায়েয এবং উভয়েই সওয়াব পাবেন।
  2. স্বামীর কৃপণতার ক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার গ্রহণ: স্বামী যদি পরিবারে খাদ্য ও বস্ত্রের প্রয়োজনীয় খরচ না দেয়, তবে স্ত্রী তাঁর অনুমতি ছাড়াই নিজের ও সন্তানের প্রয়োজনমাফিক ন্যায়সঙ্গত পরিমাণ সম্পদ গ্রহণ করতে পারবে (যেমন হিন্দা বিনতে উতবাকে রাসুল সা. নির্দেশ দিয়েছিলেন)।
  3. বড় অঙ্কের সম্পদ দান: স্বামীর সম্মতি ছাড়া তাঁর মূল্যবান সম্পদ বা মূল অর্থ দান করা স্ত্রীর জন্য সম্পূর্ণ নাজায়েয ও আমানতের খেয়ানত।

(ب) ‘لها أجران’ বাণীর তাৎপর্য

রাসুলুল্লাহ (সা.) এখানে দরিদ্র স্বামী ও নিজের এতিম আত্মীয়দের দান করার দুটি বিশেষ প্রতিদানের কথা বলেছেন:

  • প্রথম সওয়াব (أجر الصدقة): আল্লাহর নির্দেশ মেনে গরীবদের অভাব দূর করার সদকা বা যাকাতের মূল সওয়াব।
  • দ্বিতীয় সওয়াব (أجر القرابة والصلة): রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় ও স্বামীর হক আদায় করে আত্মীয়তার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার (সিলাতুর রেহেম) অতিরিক্ত সওয়াব। ইসলাম সাধারণ গরীবের চেয়ে আত্মীয় গরীবকে অগ্রাধিকার দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

গ বিভাগ (القسم الثالث) – গ্রন্থ ও সংকলক পরিচিতি (উভয়টির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ)

١١. أكتب حياة الإمام الترمذى (رح)- ثم بين منزله سننه بين كتب السنن الأربع مع ذكر أهم شروحه بيانا واضحا-

[১১. ইমাম তিরমিযী (রহ) এর জীবনী লেখ। অতঃপর চার সুনান গ্রন্থের মাঝে তাঁর সুনানের মর্যাদা ও এর প্রধান ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]

১. ইমাম তিরমিযী (রহ.)-এর বিশদ জীবনী

  • নাম ও উপনাম: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মুসা আদ-দাহহাক আত-তিরমিযী। উপনাম আবু ঈসা।
  • জন্ম: ২০৯ হিজরিতে বর্তমান উজবেকিস্তানের আমু দরিয়া নদীর তীরে অবস্থিত ‘তিরমিয’ নামক প্রাচীন নগরে জন্মগ্রহণ করেন।
  • ইলমি সফর ও উস্তাদগণ: তিনি হাদিস অন্বেষণে খুরাসান, ইরাক ও হিজায সফর করেন। তিনি ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ এবং কুতাইবা ইবনে সাঈদের শীর্ষ ছাত্র ছিলেন। ইমাম বুখারী তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং স্বয়ং বুখারী তাঁর ছাত্র তিরমিযী থেকে দুটি হাদিস বর্ণনা করে বলেছিলেন: “আমি তোমার থেকে যতটা উপকৃত হয়েছি, তুমি আমার থেকে ততটা হতে পারনি।”
  • স্মৃতিশক্তি ও পরহেযগারি: তিনি অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। জীবনের শেষভাগে আল্লাহর ভয়ে অতিরিক্ত ক্রন্দনের কারণে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে অন্ধ হয়ে যান।
  • ওফাত: ২৭৯ হিজরির ১৩ই রজব তিরমিযের নিকটবর্তী বুগ নগরে তিনি ওফাত বরণ করেন।

২. সুনান চতুষ্টয়ের মাঝে জামে’ আত-তিরমিযীর সুউচ্চ মর্যাদা

সিহাহ সিত্তাহর অন্তর্ভুক্ত চার সুনান গ্রন্থের মধ্যে সুনানে তিরমিযীর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যে কারণে একে অনেক মুহাদ্দিস ‘আল-জামি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন:

  1. হাদিসের মান নির্ধারণ (الحكم على الحديث): ইমাম তিরমিযীই সর্বপ্রথম প্রতিটি হাদিস বর্ণনার পর তার মান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (যেমন: সহীহ, হাসান, গরীব, হাসান সহীহ)।
  2. আইম্মায়ে মুজতাহিদগণের মাযহাব ও ফিকহী মতভেদ উল্লেখ: হাদিসের পর তিনি সাহাবা, তাবেঈন এবং ইমাম আবু হানিফা, শাফেঈ, মালেক, সাওরী ও আহমদের ফিকহী মতামত উল্লেখ করেছেন, যা ফিকহুল হাদিসের শ্রেষ্ঠ কোষ।
  3. রাবীর দুর্বলতা ও সনদের ইল্লাত প্রকাশ: সনদের রাবী বিশ্বস্ত নাকি দুর্বল তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
  4. ইমাম ইবনুল আসীর ও শাহ ওয়ালিউল্লাহর মূল্যায়ন: শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী বলেন, ফকীহ ও মুহাদ্দিস উভয়ের উপকারের দিক দিয়ে তিরমিযীর মর্যাদা অসাধারণ। সমকালীন আলেমগণ বলেছিলেন: “যার ঘরে জামে’ তিরমিযী রয়েছে, তার ঘরে যেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) অবস্থান করে কথা বলছেন।”

৩. জামে’ তিরমিযীর প্রধান প্রধান শরাহ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ

  • আরিজাতুল আহওয়াযী বিশারহি সহীহিত তিরমিযী (عارضة الأحوذي): আল্লামা কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবী মালেকী (ওফাত: ৫৪৩ হি.) রচিত।
  • তুহফাতুল আহওয়াযী বিশারহি জামি’ইত তিরমিযী (تحفة الأحوذي): আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী রচিত সুবিখ্যাত শরাহ।
  • কূতুল মুগতাযী আলা জামি’ইত তিরমিযী (قوت المغتذي): আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) প্রণীত।
  • আল-উরফুশ শাযী আলা জামি’ইত তিরমিযী (العرف الشذي): আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (রহ.)-এর দরসী তাকরীর।
  • মাআরিফুস সুনান: আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী (রহ.) রচিত সুবিশাল ছয় খণ্ডের তাহকীকী শরাহ।

١٢. عرف بكتاب سنن ابن ماجه- ثم بين منزلته بين كتب السنن الأربع مع ذكر أشهر شروحه-

[১২. সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবের পরিচয় দাও। অতঃপর চার সুনানের মাঝে এর অবস্থান এবং এর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ উল্লেখ কর।]

১. সুনান ইবনে মাজাহ কিতাবের পরিচয় ও সংকলক

  • সংকলক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মাজাহ আল-কাযভীনি (২০৯–২৭৩ হি.)। তিনি ইরানের ‘কাযভীন’ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
  • কিতাবের বিন্যাস: সুনান ইবনে মাজাহ ৩২টি কিতাব (অধ্যায়), ১,৫০০টি পরিচ্ছেদ (বাব) এবং ৪,৩৪১টি হাদিস ধারণ করে। এতে তিনি এমন এক অনন্য ধারাবাহিকতায় ফিকহী অধ্যায় সাজিয়েছেন যা সকল সুনান গ্রন্থের চেয়ে অধিক চমৎকার ও সুবিন্যস্ত।

২. চার সুনানের মাঝে সুনান ইবনে মাজাহর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য

  1. কুতুবে সিত্তাহর ষষ্ঠ কিতাবের মর্যাদা: প্রাচীনকালে ইমাম মালেকের মুয়াত্তা বা সুনানুদ দারামীকে ষষ্ঠ কিতাব গণ্য করা হতো। কিন্তু ৫ম হিজরিতে হাফিজ আবুল ফজল ইবনে তাহের আল-মাকদিসী সুনান ইবনে মাজাহকে কুতুবে সিত্তাহর ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করেন।
  2. অনন্য যাওয়ায়েদ (زوائد ابن ماجه): কুতুবে সিত্তাহর অপর পাঁচটি কিতাবে যে সমস্ত হাদিস নেই, এমন প্রায় ১,৩২৯টি একক অতিরিক্ত হাদিস কেবল ইবনে মাজাহতে সংকলিত হয়েছে, যা হাদিস গবেষকদের জন্য এক অনন্য সম্পদ।
  3. চমৎকার তারতীব ও অধ্যায় বিন্যাস: এর অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ বিন্যাস এতই সুন্দর ও সুশৃঙ্খল যে ফিকহী মাসআলার হাদিস বের করা সবচেয়ে সহজ।
  4. দুর্বল হাদিসের উপস্থিতি ও সতর্কতা: সুনান চতুষ্টয়ের মধ্যে ইবনে মাজাহতেই যঈফ ও মুনকার হাদিসের সংখ্যা কিছুটা বেশি। আল্লামা বুসিরী তাঁর ‘মিসবাহুয যুযাজাহ’ গ্রন্থে ইবনে মাজাহর একক হাদিসগুলোর সনদ যাচাই করে সহীহ ও যঈফ আলাদা করেছেন।

৩. সুনান ইবনে মাজাহর প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شروح سنن ابن ماجه)

  • শারহু সুনানে ইবনে মাজাহ: হাফিজ আলাউদ্দীন মুগলতায় আল-হানাফী (ওফাত: ৭৬২ হি.) রচিত।
  • মিসবাহুয যুযাজাহ ফী যাওয়ায়েদি ইবনে মাজাহ (مصباح الزجاجة): হাফিজ শিহাবুদ্দীন আল-বুসিরী (ওফাত: ৮৪০ হি.) প্রণীত।
  • মিসবাহুয যুযাজাহ আলা সুনানে ইবনে মাজাহ: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) রচিত হাশিয়া।
  • ইঞ্জাহুল হাজাহ শারহু সুনানে ইবনে মাজাহ (إنجاح الحاجة): শায়খ আব্দুল গনী দেহলভী (রহ.) প্রণীত উপমহাদেশে সর্বাধিক পঠিত দরসি শরাহ।
  • হাশিয়ায়ে সিন্ধী আলা সুনানে ইবনে মাজাহ: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদী আস-সিন্ধী (রহ.) রচিত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ফজর সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের অগ্রাধিকার কোনটি?

হানাফী মাযহাবের মতে ফজর সালাত আলো ছড়িয়ে পড়ার পর (ইসফার অবস্থায়) আদায় করা মুস্তাহাব ও অধিক সওয়াবের কারণ।

২. সালাতে কিরাআতের ফরজের পরিমাণ কতটুকু?

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী যেকোনো স্থান থেকে ন্যূনতম ৩টি ছোট আয়াত বা ১টি বড় আয়াত তিলাওয়াত করা ফরজ, আর সুরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব।

৩. উশর ও খরাজের প্রধান পার্থক্য কী?

উশর হলো মুসলিম কৃষকদের উৎপন্ন ফসলের ওপর ধার্যকৃত যাকাত; আর খরাজ হলো অমুসলিমদের ভূমির ওপর আরোপিত সরকারি কর।

৪. গরিব স্বামীকে স্ত্রী যাকাত দিতে পারবে কি?

হ্যাঁ, স্বামী গরিব ও অভাবী হলে স্ত্রী তাকে যাকাত দিতে পারবে এবং এতে যাকাত ও আত্মীয়তার দুটি সওয়াব এক সাথে অর্জিত হবে।

৫. জামে’ আত-তিরমিযীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

জামে’ তিরমিযীতে প্রতিটি হাদিসের সনদগত মান (সহীহ, হাসান, যঈফ) নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আইম্মায়ে মুজতাহিদগণের ফিকহী মাযহাবের দলিল তুলে ধরা হয়েছে।

৬. সুনান ইবনে মাজাহকে কেন সিহাহ সিত্তাহর ষষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করা হয়?

কারণ অপর পাঁচটি কিতাবে নেই এমন ১,৩২৯টি অনন্য অতিরিক্ত হাদিস (যাওয়ায়েদ) সুনান ইবনে মাজাহতে সংকলিত হয়েছে এবং এর অধ্যায়বিন্যাস অত্যন্ত চমৎকার।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *