১৮তম NTRCA প্রভাষক (ফিক্হ) লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান (বিষয় কোড: ৪৫৫)
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) কর্তৃক অনুষ্ঠিত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষার মাদরাসা পর্যায়ের প্রভাষক (ফিক্হ) পদের মূল প্রশ্নপত্রের (সেট: দোয়েল-৩৭, কোড: ২৭১/৪৫৫) হুবহু পাঠ এবং ফিকহ, উসূলে ফিকহ, ফিকহের ইতিহাস, মুসলিম পারিবারিক আইন (মীরাস), কাওয়ায়েদে ফিকহিয়্যাহ, ইফতা ও ইসলামী অর্থনীতিসহ ১০টি রচনামূলক প্রশ্নের ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ, প্রামাণ্য ও প্রমিত সমাধান নিচে প্রকাশ করা হলো। ভবিষ্যতের পরীক্ষার্থী ও গবেষকদের সুবিধার্থে কুরআন, হাদিস ও ফিকহের মূল গ্রন্থের উদ্ধৃতি অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রাথমিক পরিচিতি ও মানবণ্টন কাঠামো
| বিবরণ ক্ষেত্র | অফিসিয়াল তথ্য |
|---|---|
| পরীক্ষার নাম | ১৮তম NTRCA শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষা (18th NTRCA Written Exam) |
| পদের নাম | প্রভাষক (ফিক্হ) / Lecturer (Fiqh) |
| বিষয় ও বিষয় কোড | ফিক্হ (Fiqh) — বিষয় কোড: ৪৫৫ |
| প্রশ্নপত্র সেট ও নম্বর | দোয়েল-৩৭ (২৭১) |
| সময় ও পূর্ণমান | সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০ নম্বর (১০ × ১০ = ১০০) |
| প্রশ্নপত্রের অধ্যায়সমূহ | আল-ফিকহ (২০), ফিকহের ইতিহাস (২০), ইসলামিক আইন/মীরাস (১০), উসূলে ফিকহ (১০), কাওয়ায়েদে ফিকহিয়্যাহ (১০), আল-ফাতওয়া (১০), ইসলামী অর্থনীতি (২০) |
مجموعة (الف) — আল-ফিকহ ও ফিকহের ইতিহাস
১। ما معنى الطهارة لغة وشرعًا؟ وكم قسما لها؟ ثم بين نواقض الوضوء وكم هي وما هي؟ (মান: ১০)
(ক) তাহারাত (পবিত্রতা)-এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
معنى الطهارة لغةً: النظافة والنزاهة والخلص من الأدناس الحسية (كالنجاسة) والمعنوية (كالعيوب والذنوب).
معنى الطهارة شرعاً: هي النظافة عن النجاسة الحكمية (كالحدث الأصغر والأكبر) والنجاسة الحقيقية (كالدم والبول والخمر) على الوجه المشروع بالماء الطهور أو التراب الطاهر.
বাংলা ব্যাখ্যা: তাহারাতের আভিধানিক অর্থ পরিচ্ছন্নতা, নির্মলতা ও অপবিত্রতা দূরীকরণ। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত শুদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে শরীর, পোশাক ও নামাজের স্থানকে হাকীকী ও হুকমী নাপাকি থেকে পবিত্র পানি বা মাটির মাধ্যমে শরিয়তসম্মত উপায়ে মুক্ত করাকে তাহারাত বলে।
(খ) তাহারাত বা পবিত্রতার প্রকারভেদ (أقسام الطهارة):
تنقسم الطهارة إلى قسمين رئيسيين :
١. طهارة عن الخبث (النجاسة الحقيقية): وهي تطهير البدن والثوب والمكان من النجاسات العينية الملموسة، وتنقسم إلى غليظة وخفيفة.
٢. طهارة عن الحدث (النجاسة الحكمية): وهي طهارة معنوية تخص البدن فقط، وتكون بالوضوء من الحدث الأصغر، وبالغسل من الحدث الأكبر، وبالتيمم عند العجز عن استعمال الماء.
(গ) ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ (نواقض الوضوء):
نواقض الوضوء عند السادة الحنفية ثمانية أمور، وهي :
- الخارج من السبيلين: كل ما خرج من القبل أو الدبر من بول أو غائط أو ريح أو مذي أو ودي أو مني أو دم.
- الدم والقيح والصديد: إذا سال عن موضع خروجه إلى مكان يلحقه حكم التطهير.
- القيء ملء الفم: إذا قاء طعاماً أو ماءً أو مراراً وكان ملء الفم (بأن يتعذر إمساكه إلا بتكلف).
- خروج الدم من الفم: إذا غلب الدم على البصاق أو ساواه في اللون.
- النوم على غير هيئة المتمكن: كالنوم مضطجعاً أو متكئاً أو مستنداً إلى شيء لو أزيل لسقط.
- زوال العقل: بالإغماء أو الجنون أو السكر.
- القهقهة: في كل صلاة ذات ركوع وسجود من شخص بالغ يقظان.
- مباشرة الفاحشة: التقاء الختانين مع الانتشار دون حائل عند بعض الحنفية.
বাংলা সারসংক্ষেপ: হানাফী মাজহাব মতে ওজু ভঙ্গের প্রধান কারণ মোট ৮টি: পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া, শরীর থেকে রক্ত-পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া, মুখভরে বমি হওয়া, থুতুর সাথে রক্তের পরিমাণ সমান বা বেশি হওয়া, হেলান বা কাত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া, অজ্ঞান বা মাতাল হওয়া, রুকু-সিজদাবিশিষ্ট নামাজে প্রাপ্তবয়স্কদের সশব্দে অট্টহাসি দেওয়া এবং লজ্জা স্থান স্পর্শে বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া।
২। ما معنى الحج لغة وشرعًا؟ ثم اكتب اقسامه وميقاته مع بيان شرائط وجوبه- (মান: ১০)
(ক) হজের শাব্দিক ও পারিভাষিক পরিচয়:
معنى الحج لغةً: القصد والزيارة للشيء المعظم.
معنى الحج شرعاً: قصد موضع مخصوص (الكعبة المشرفة وعرفة والمشاعر المقدسة) في وقت مخصوص (أشهر الحج) لأداء أفعال مخصوصة (الإحرام، الطواف، الوقوف، السعي) بشرائط مخصوصة تقرباً إلى الله تعالى.
(খ) হজের প্রকারভেদ (أقسام الحج):
হজ পালনের পদ্ধতিগত দিক থেকে হজ তিন প্রকার:
- حج الإفراد (হজে ইফরাদ): ওমরাহর সংমিশ্রণ ছাড়া শুধুমাত্র হজের ইহরাম বেঁধে হজ সম্পাদন করা। মক্কাবাসীদের জন্য এটি নির্ধারিত।
- حج القران (হজে কিরান): এক ইহরামে ওমরাহ ও হজের নিয়ত করে ওমরাহ শেষ করে ইহরাম না খুলে একই ইহরামে হজ সম্পন্ন করা। এটি সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ। এতে দমে শোকর (কোরবানি) ওয়াজিব।
- حج التمتع (হজে তামাত্তু): হজের মৌসুমে প্রথমে ওমরাহর ইহরাম বেঁধে ওমরাহ শেষ করে হালাল হওয়া এবং পরবর্তীতে ৮ই জিলহজ মক্কা থেকে পুনরায় নতুন ইহরাম বেঁধে হজ পালন করা। বাংলাদেশীদের জন্য এটি সর্বাধিক প্রচলিত। এতেও শোকরানা কোরবানি ওয়াজিব।
(গ) হজের মীকাত (مواقيت الحج):
মীকাত দুই প্রকার: ১. زماني (সময়গত মীকাত): শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজের প্রথম দশ দিন। ২. مکاني (স্থানগত মীকাত): যে সীমানা অতিক্রম করার পূর্বে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ৫টি প্রধান মীকাত নির্ধারণ করেছেন:
- ذو الحليفة (যুল হুলাইফা): মদিনাবাসী এবং সেই দিক থেকে আগমনকারীদের জন্য।
- الجحفة (জুহফা – রাবেগ): সিরিয়া, মিশর ও মরক্কোবাসীদের জন্য।
- يلملم (ইয়ালামলাম): ইয়েমেন, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে আগমনকারীদের মীকাত।
- قرن المنازل (ক্বারনুল মানাযিল): নজদ ও রিয়াদবাসীদের জন্য।
- ذات عرق (যাতু ইরক্ব): ইরাক ও প্রাচ্যবাসীদের মীকাত।
(ঘ) হজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি (شرائط وجوب الحج):
১. ইসলাম গ্রহণ করা (মুসলিম হওয়া), ২. বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, ৩. আকলবান বা সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া, ৪. স্বাধীন হওয়া, ৫. আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম (ইস্তিত্বা’আত) হওয়া অর্থাৎ যাতায়াত ও পরিবারের ভরণপোষণের উদ্বৃত্ত ব্যয় বহন করার সামর্থ্য থাকা, ৬. পথ নিরাপদ হওয়া এবং ৭. মহিলাদের ক্ষেত্রে মাহরাম পুরুষ সঙ্গী থাকা ও ইদ্দতমুক্ত হওয়া।
৩। ما معنى علم الفقه؟ ثم بين نشأته وتطوره مع ذكر ضرورريته في الحياة البشرية- (মান: ১০)
(ক) ইলমুল ফিকহের সংজ্ঞা (تعريف علم الفقه):
الفقه لغةً: الفهم المطلق، أو فهم الأشياء الدقيقة، كما قال تعالى: «قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِمَّا تَقُولُ».
الفقه اصطلاحاً: عرفه الإمام أبو حنيفة رحمه الله بقوله: “معرفة النفس ما لها وما عليها”. وعرف في اصطلاح المتأخرين بأنه: “العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية”.
বাংলা অর্থ: আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো কোনো বিষয়ের গভীর ও সূক্ষ্ম উপলব্ধি। পারিভাষিক অর্থে বিস্তারিত ও প্রামাণিক দলিল (কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস) থেকে আহরিত আমল সংক্রান্ত শরয়ী হুকুম-আহকামের জ্ঞানকে ইলমুল ফিকহ বলে।
(খ) ফিকহের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ঐতিহাসিক পর্যায় (نشأة الفقه وتطوره):
ফিকহ শাস্ত্রের বিকাশ প্রধানত পাঁচটি ঐতিহাসিক যুগে সম্পন্ন হয়েছে:
- عصر الرسالة (নবুওয়তের যুগ): ওহি ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনার যুগ। সমস্ত আহকামের উৎস ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।
- عصر الخلفاء الراشدين وكبار الصحابة (খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবা যুগ): ওহি সমাপ্তির পর কুরআন ও সুন্নাহর পাশাপাশি ইজমা ও সাহাবিগণের শূরার মাধ্যমে ইজতিহাদের সূচনা হয় (যেমন: উমর রা.-এর বিচার ও প্রশাসনিক ফতোয়া)।
- عصر صغار الصحابة والتابعين (তাবেয়ী যুগ): ইসলামী খেলাফত বিস্তৃতির সাথে সাথে ফিকহের দুটি ধারা তৈরি হয় — ১. মাদরাসাতুল হাদিস (হিজাযে, ইমাম সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবের নেতৃত্বে) এবং ২. মাদরাসাতুর রায় (ইরাকে, আলক্বামাহ ও ইব্রাহিম নাখয়ীর নেতৃত্বে)।
- عصر الأئمة المجتهدين وتدوين الفقه (আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও সংকলনের স্বর্ণযুগ): হিজরি ২য় ও ৩য় শতাব্দীতে চার প্রধান মাজহাবের ইমামগণের (ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল) মাধ্যমে ফিকহের মূলনীতি ও মাসায়েল নিয়মতান্ত্রিকভাবে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়।
- عصر الاستقرار والتقنين (স্থায়িত্ব ও আইন সংকলনের যুগ): উসমানীয় খেলাফতের সময়ে “মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ” সংকলন এবং আধুনিক ফিকহ একাডেমিসমূহের মাধ্যমে সমকালীন সমস্যার সমাধান প্রদান।
(গ) মানবজীবনে ফিকহের আবশ্যকতা (ضرورة الفقه في الحياة البشرية):
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক ইবাদত-বন্দেগি সহিহভাবে সম্পাদন, ২. ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক অধিকার ও মুয়ামালাত সুরক্ষা, ৩. হালাল ও হারামের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ এবং ৪. যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে নিত্যনতুন আধুনিক বাণিজ্যিক ও চিকিৎসা বিষয়ক মাসয়ালার শরয়ী সমাধান নিশ্চিতকরণ।
৪। اكتب نبذة من حياة الإمام الشافعى (رح) مع بيان مساهمته في الفقه- (মান: ১০)
(ক) ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর জীবনচরিত (ترجمة الإمام الشافعي):
هو الإمام أبو عبد الله محمد بن إدريس بن العباس بن عثمان بن شافع الهاشمي القرشي المطلبي، يلتقي نسبه مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في عبد مناف.
المولد والنشأة: ولد في غزة بفلسطين سنة ١٥٠ هـ (وهي السنة التي توفي فيها الإمام أبو حنيفة). نشأ يتيماً فقيراً في حجر أمه، ثم رحلت به إلى مكة المكرمة وهو ابن سنتين فحفظ القرآن الكريم وهو ابن سبع سنين، وحفظ موطأ الإمام مالك وهو ابن عشر سنين.
رحلته في طلب العلم وشيوخه: رحل إلى المدينة المنورة ولازم الإمام مالك بن أنس وتفقه عليه، ثم رحل إلى اليمن، ثم إلى بغداد والتقى بالإمام محمد بن الحسن الشيباني وتفقه على كتب أهل الرأي، فجمع بين فقه الحديث وفقه الرأي. ثم استقر به المقام أخيراً في مصر وتوفي بها سنة ٢٠٤ هـ وعمره أربع وخمسون سنة.
(খ) ফিকহ ও উসূলে ফিকহে তাঁর অনন্য অবদান (مساهمته في الفقه):
- مؤسس علم أصول الفقه (উসূলে ফিকহের জনক): তিনিই সর্বপ্রথম ইসলামী ফিকহের নিয়মনীতি ও উসূলকে একটি সুশৃঙ্খল শাস্ত্র হিসেবে গ্রন্থভুক্ত করেন। তাঁর বিশ্বখ্যাত গ্রন্থ “الرسالة” (আর-রিসালাহ) হলো উসূলে ফিকহের প্রথম মৌলিক আকর গ্রন্থ।
- الجمع بين مدرستي الحديث والرأي (হাদিস ও রায় এর সমন্বয়): তিনি হিজাজের হাদিসভিত্তিক ফিকহ এবং ইরাকের যুক্তিভিত্তিক ফিকহের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যার ফলে তাঁকে “নাসিরুস সুন্নাহ” (সুন্নাহর সাহায্যকারী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- المذهب القديم والمذهب الجديد (কাউলে কাদিম ও জাদিদ): তিনি ইরাকে অবস্থানকালে যে ফতোয়া দিয়েছিলেন তা তাঁর ‘কাউলে কাদিম’ (পুরাতন মত) এবং পরবর্তীতে মিশরে গিয়ে নতুন পরিবেশ ও আধুনিক হাদিস পর্যালোচনার পর যে ফতোয়া প্রণয়ন করেন তা ‘কাউলে জাদিদ’ (নতুন মত) হিসেবে খ্যাত, যা ফিকহের গতিশীলতার অনন্য প্রমাণ।
- مؤلفاته الخالدة (অনবদ্য গ্রন্থাবলি): তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ফিকহ গ্রন্থ হলো “كتاب الأم” (কিতাবুল উম্ম), যা তুলনামূলক ফিকহের এক কালজয়ী কোষগ্রন্থ। এছাড়া সুনানুল ইমাম আশ-শাফেয়ী এবং মুসনাদুশ শাফেয়ী তাঁর অমর সৃষ্টি।
৫। ما الحقوق المتعلقة بتركة الميت؟ بين اصحاب الفروض مع تعدادهم- (মান: ১০)
(ক) মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ (الحقوق المتعلقة بالتركة):
ইসলামী উত্তরাধিকার আইন (ইলমুল ফারায়েজ) অনুযায়ী কোনো মুসলিমের মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি (তারাকাহ) থেকে অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে ৪টি হক আদায় করতে হয়:
- তাজহীয ও তাকফীন (تجهيز الميت وتكفينه): কোনো ধরনের অপচয় বা কৃপণতা ছাড়া মৃত ব্যক্তির কাফন, দাফন ও জানাজার যাবতীয় খরচ মেটানো।
- দুনিয়াবী ঋণ পরিশোধ (قضاء ديونه): কাফন-দাফনের পর অবশিষ্ট সমুদয় সম্পদ থেকে মৃত ব্যক্তির সমস্ত দেনা বা ঋণ (বান্দার হক ও মোহরানা) পুরোপুরি পরিশোধ করা।
- অসিয়ত পূরণ (تنفيذ وصاياه): ঋণ পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তার সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) সম্পদ থেকে মৃত ব্যক্তির বৈধ অসিয়ত পূরণ করা। (ওয়ারিশদের জন্য অসিয়ত প্রযোজ্য নয়)।
- ওয়ারিশদের মাঝে মীরাস বণ্টন (قسمة الباقي بين الورثة): উপরোক্ত ৩টি হক আদায়ের পর অবশিষ্ট সমস্ত সম্পদ আল্লাহর নির্ধারিত হিস্যা অনুযায়ী ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করা।
(খ) আসহাবে ফুরুয (নির্ধারিত অংশের হকদারগণ) ও তাদের সংখ্যা:
أصحاب الفروض: هم الذين قُدرت لهم سهام معينة ومحددة في كتاب الله تعالى أو سنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
وعددهم اثنا عشر (١٢) شخصاً: أربعة من الذكور، وثمانية من الإناث.
| শ্রেণি | ওয়ারিশের তালিকা | মোট সংখ্যা |
|---|---|---|
| পুরুষ ওয়ারিশ (الذكور) | ১. পিতা (الأب), ২. দাদা / পরদাদা (الجد الصحيح), ৩. বৈপিত্রীয় ভাই (الأخ لأم), ৪. স্বামী (الزوج) | ৪ জন |
| নারী ওয়ারিশ (الإناث) | ১. স্ত্রী (الزوجة), ২. কন্যা (البنت الصلبية), ৩. পৌত্রী/নাতনি (بنت الابن), ৪. আপন সহোদরা বোন (الأخت الشقيقة), ৫. বৈমাত্রেয় বোন (الأخت لأب), ৬. বৈপিত্রীয় বোন (الأخت لأم), ৭. মাতা (الأم), ৮. দাদি/নানি (الجدة الصحيحة) | ৮ জন |
| সর্বমোট | কুরআনে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট অংশের (১/২, ১/৪, ১/৮, ২/৩, ১/৩, ১/৬) হকদার আসহাবে ফুরুয | ১২ জন |
مجموعة (ب) — উসূলে ফিকহ, কাওয়ায়েদ, ইফতা ও অর্থনীতি
৬। عرف الإجماع لغة وشرعًا- تحدث عن شروطه وحكمه ومراتبه- اثبت حجية الإجماع بالكتاب والسنة- (মান: ১০)
(ক) ইজমার শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:
الإجماع لغةً: يطلق على معنيين: الأول: العزم المصمم (كما في قوله تعالى: «فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ»)، والثاني: الاتفاق.
الإجماع شرعاً: هو اتفاق جميع المجتهدين من أمة محمد صلى الله عليه وسلم في عصر من العصور بعد وفاته على حكم شرعي عملي.
(খ) ইজমা সহিহ হওয়ার শর্তাবলি (شروط الإجماع):
১. ইজমা সম্পন্নকারীগণ মুজতাহিদ হতে হবে, ২. সমকালীন সমস্ত মুসলিম মুজতাহিদের ঐকমত্য হতে হবে (একজনের ভিন্নমত থাকলেও ইজমা হবে না), ৩. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পরবর্তী যুগে সংঘটিত হতে হবে, ৪. বিষয়টি শরয়ী আহকাম সম্পর্কিত হতে হবে এবং ৫. ইজমার পেছনে কোনো শরয়ী সনদ বা দলিল (কুরআন বা সুন্নাহ) বিদ্যমান থাকা।
(গ) ইজমার হুকুম ও স্তরবিন্যাস (حكمه ومراتبه):
• مراتب الإجماع (ইজমার স্তর): ১. ইজ মায়ে ক্বতয়ী (الإجماع الصريح): সমস্ত মুজতাহিদ স্পষ্টভাবে মৌখিক বা লিখিত সম্মতি দিয়েছেন। এটি অস্বীকারকারী কাফের। ২. ইজ মায়ে সুকূতী (الإجماع السكوتي): কোনো মুজতাহিদ ফতোয়া দেওয়ার পর অন্যরা অবগত হয়েও বিরোধিতা না করে নীরব থাকা। এটি হানাফীদের নিকট নির্ভরযোগ্য দলিল।
• ইজমার হুকুম: ইজমা প্রতিষ্ঠিত হলে তা মানা উম্মতের জন্য অকাট্য ওয়াজিব এবং এর বিপরীত আমল করা হারাম।
(ঘ) কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা ইজমার প্রামাণিকতা (حجية الإجماع):
من الكتاب: قال تعالى: «وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا» (النساء: ١١٥). فتوعد الله على اتباع غير سبيل المؤمنين دلالة على وجوب اتباع سبيلهم وإجماعهم.
من السنة: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أُمَّتِي لَا تَجْتَمِعُ عَلَى ضَلَالَةٍ» (رواه الترمذي وابن ماجه). وقال: «يَدُ اللَّهِ مَعَ الْجَمَاعَةِ».
৭। أوضح القاعدة “اليقين لا يزول بالشك” ثم بين القواعد المستخرجة منها- (মান: ১০)
(ক) মূল কাওয়ায়েদের ব্যাখ্যা:
نص القاعدة: «الْيَقِينُ لَا يَزُولُ بِالشَّكِّ»
المعنى: أن الأمر الثابت بيقين وبرهان قاطع لا يرتفع ولا يتغير حكمه بمجرد طروء الشك والتردد اللاحق؛ لأن اليقين أقوى من الشك، والأقوى لا يُسقطه الأضعف.
الأصل الشرعي: قول النبي صلى الله عليه وسلم فيمن شك في صلاته أحدث أم لا: «لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا» (متفق عليه).
বাংলা তাৎপর্য: কোনো বিষয় নিশ্চিত প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত থাকলে পরবর্তীতে নিছক সন্দেহ বা দ্বিধা দ্বারা সেই নিশ্চিত অবস্থা দূর হবে না। যেমন: নিশ্চিত ওজু থাকার পর ওজু ভেঙেছে কিনা সন্দেহ হলে ওজু বহাল থাকবে।
(খ) এই মূলনীতি থেকে নিঃসৃত শাখাগত নীতিসমূহ (القواعد المستخرجة منها):
- الأصل بقاء ما كان على ما كان: কোনো বস্তু অতীতে যে অবস্থায় ছিল, যতক্ষণ না তার বিপরীত প্রমাণ মেলে ততক্ষণ তা সেই পূর্বাবস্থাতেই বহাল থাকবে।
- الأصل براءة الذمة: মানুষের মূল অবস্থা হলো সে সমস্ত দায়, ঋণ ও অপরাধ থেকে মুক্ত; কারও বিরুদ্ধে ঋণের দাবি প্রমাণের দায়িত্ব দাবিদারের।
- الأصل في الأشياء الإباحة: ক্ষতিকর বা নিষিদ্ধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত দুনিয়ার সমস্ত বস্তু ও আহার্যের মূল বিধান হলো তা হালাল ও বৈধ।
- الأصل إضافة الحادث إلى أقرب أوقاته: নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলে তাকে সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করা হবে।
- لا عبرة للتوهم ولا للدلالة في مقابلة التصريح: নিছক অমূলক ধারণা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়, এবং সুস্পষ্ট বিবৃতির উপস্থিতিতে ইঙ্গিতের কোনো মূল্য থাকে না।
৮। من المفتى؟ ما الفرق بين المفتى والفقيه؟ وما الأمور التي يجب على المفتى مراعتها عند الافتاء؟ بين- (মান: ১০)
(ক) মুফতির পরিচয় (تعريف المفتي):
المفتي شرعاً: هو العالم المتمكن بالأحكام الشرعية وأدلتها، المخبر عن حكم الله تعالى في واقعة المسؤول عنها لمن يسأله من المستفتين، على سبيل الإلزام أو الإرشاد، وهو موقع عن رب العالمين في بيان حلاله وحرامه.
(খ) মুফতি ও ফকিহ এর মধ্যে পার্থক্য (الفرق بين المفتي والفقيه):
| তুলনার ক্ষেত্র | ফকীহ (الفقيه) | মুফতি (المفتي) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা ও পরিধি | যিনি তাত্ত্বিকভাবে বিস্তারিত দলিল থেকে শরয়ী বিধিবিধান বের করার পূর্ণ ইলম রাখেন। | ফকীহ হওয়ার পাশাপাশি যিনি মানুষের বাস্তব প্রশ্ন ও ঘটনার ওপর শরয়ী হুকুম প্রয়োগ করেন। |
| বাস্তবতা প্রয়োগ | ফকীহর মাসয়ালা সাধারণ তত্ত্বীয় হতে পারে, বাস্তব প্রশ্নকর্তার প্রয়োজন নাও হতে পারে। | মুফতি সুনির্দিষ্ট বাস্তব প্রেক্ষাপট, স্থান, কাল ও ব্যক্তির অবস্থা বিবেচনা করে ফতোয়া দেন। |
| সম্পর্ক | প্রত্যেক যোগ্য মুফতিই একজন ফকীহ। | কিন্তু প্রত্যেক ফকীহ সমকালীন প্রচলন ও মানুষের মনস্তত্ত্ব না জানায় মুফতি নাও হতে পারেন। |
(গ) ফতোয়া প্রদানের সময় মুফতির লক্ষণীয় বিষয়াবলি (آداب الإفتاء وشروطه):
১. কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও প্রামাণিক ফিকহী গ্রন্থের ওপর পূর্ণ নির্ভরতা রাখা, ২. প্রশ্নকর্তার অবস্থা, এলাকার স্থান-কাল-পাত্র ও সামাজিক প্রচলন (উরফ) সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা, ৩. চরম ক্রোধ, মানসিক অস্থিরতা, ক্ষুধা বা ক্লান্তির অবস্থায় ফতোয়া না দেওয়া, ৪. ব্যক্তিগত স্বার্থ, শাসকগোষ্ঠীর সন্তুষ্টি বা পার্থিব লোভের ঊর্ধ্বে উঠে নিখাদ তাকওয়ার সাথে উত্তর দেওয়া, এবং ৫. জটিল বিষয়ে অন্যান্য বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করা এবং না জানলে স্পষ্টভাবে “লা আদরি” (আমি জানি না) বলা।
৯। ما معنى الزكوة لغة وشرعًا؟ بين مصارفه ودوره في إزالة الفقر من المجتمع- (মান: ১০)
(ক) জাকাতের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ:
الزكاة لغةً: النماء والزيادة والبركة والطهارة والمدح.
الزكاة شرعاً: تمليك جزء من مال مخصوص حدده الشارع، لشخص مخصوص (المستحق) خالٍ عن العوض تقرباً إلى الله تعالى بشرائط مخصوصة (بلوغ النصاب وحولان الحول).
(খ) জাকাতের ৮টি খাত বা মাসারিফ (مصارف الزكاة):
حدد القرآن الكريم مصارف الزكاة في قوله تعالى: «إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ» (التوبة: ٦٠).
- الفقراء (ফকির): যাদের কিছু সম্পদ আছে কিন্তু তা নেসাব পরিমাণ নয়।
- المساكين (মিসকিন): যার কোনো সম্পদ নেই, সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
- العاملين عليها (জাকাত আদায়কারী): সরকার বা বাইতুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী।
- المؤلفة قلوبهم (চিত্তাকর্ষণে): ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য (প্রাথমিক যুগে প্রযোজ্য ছিল)।
- في الرقاب (দাসমুক্তি): ক্রীতদাসদের মুক্তির জন্য।
- الغارمين (ঋণগ্রস্ত): যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে অক্ষম।
- في سبيل الله (আল্লাহর রাস্তায়): আল্লাহর দ্বীন রক্ষা ও জিহাদে নিয়োজিত অসচ্ছল মুজাহিদ ও দ্বীনি শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে।
- ابن السبيل (মুসাফির): নিজ দেশে সম্পদশালী হলেও সফরে নিঃস্ব হয়ে পড়া মুসাফির।
(গ) সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের ভূমিকা (دوره في إزالة الفقر):
জাকাত ধনীদের সম্পদকে গরিবদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে। অলস ধনসম্পদকে পুঞ্জীভূত রাখার বদলে তা বাজারে বিনিয়োগ ও অসহায়ের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা) পূরণে ব্যবহার করে। এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ভিক্ষাবৃত্তি উচ্ছেদ করে সমাজকে স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ করে তোলে।
১০। بين الفرق بين التجارة الربوية والتجارة العامة- لم منعت التجارة الربوية في الاسلام؟ بين- (মান: ১০)
(ক) সুদভিত্তিক ব্যবসা ও সাধারণ হালাল ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য:
| তুলনার বিষয় | সাধারণ হালাল ব্যবসা (التجارة العامة) | সুদভিত্তিক কারবার (التجارة الربوية) |
|---|---|---|
| শরয়ী মর্যাদা | সম্পূর্ণ হালাল ও বরকতময়: «وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ» | চরম হারাম ও কবিরা গুনাহ: «وَحَرَّمَ الرِّبَا» |
| ঝুঁকি ও লাভ-লোকসান | ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই বাজারমূল্য ও পণ্যের ব্যবসায়িক ঝুঁকি (Risk) বহন করে। | ঋণদাতা কোনো ঝুঁকি ছাড়া নিশ্চিত মুনাফা লুটে নেয়, আর গ্রহীতা একা ক্ষতি বহন করে। |
| বিনিময় পণ্য | বাস্তব সেবা বা পণ্য দ্রব্যের বিনিময়ে লাভ অর্জিত হয়। | সমজাতীয় অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা হয়, যার বিপরীতে কোনো পণ্য থাকে না। |
| সামাজিক প্রভাব | পারস্পরিক সহযোগিতা, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। | শোষণ, বৈষম্য, ঋণগ্রস্ততা ও দরিদ্রদের নিঃস্বকরণ ঘটায়। |
(খ) ইসলামে সুদভিত্তিক লেনদেন নিষিদ্ধকরণের কারণ (علة تحريم الربا):
- জুলুম ও শোষণ প্রতিরোধ: সুদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো অসহায় মানুষের বিপদকে পুঁজি করে বিনা শ্রমে শোষণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন: «لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ» (তোমরা জুলুম করবে না, জুলুমের শিকারও হবে না)।
- নৈতিক অধঃপতন ও অলসতা রোধ: সুদের কারবারে মানুষ অলস বসে থেকে নিশ্চিত আয়ের লোভ পায়, ফলে বাস্তব উৎপাদনশীল শিল্প ও কৃষি উদ্যোগ ব্যাহত হয়।
- সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়া প্রতিহত করা: সুদ সমাজের সমস্ত সম্পদ দরিদ্রদের পকেট থেকে কয়েকজন পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত করে। কুরআনের ঘোষণা: «كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنْكُمْ» (যাতে সম্পদ ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না থাকে)।
- আল্লাহ ও রাসুলের সাথে যুদ্ধের শামিল: সুদের ভয়াবহতার কারণে কুরআনে একে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর বলা হয়েছে (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)।