اختبار السنة الرابعة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۲
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الفرق الإسلامية وعقائدها
[আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আক্বাইদুহা]
বিষয় কোড: ২০৩৮০৮ | পরীক্ষা কোড: ২০৪ | প্রশ্নপত্র কোড: ১৩৬
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০
مجموعة (الف) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)
١- عرف العقيدة لغة واصطلاحًا ثم بين أركان الإيمان عند أهل السنة مفصلا مدللا-
[১. العقيدة এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। আহলুস সুন্নাহর মতানুসারে ঈমানের রুকনগুলো দলিলসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী জীবনব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো আকিদা বা ধর্মবিশ্বাস। সঠিক আকিদা ছাড়া কোনো নেক আমল আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা কুরআন ও সুন্নাহর দ্ব্যর্থহীন দলীলের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
العقيدة (আকিদা)-এর সংজ্ঞা
শাব্দিক অর্থ: ‘আকদ’ (العقد) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দৃঢ়ভাবে বাঁধা, গ্রন্থিবদ্ধ করা, অটল হওয়া ও মজবুত সংকল্প।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: কোনো প্রকার সংশয় বা সন্দেহের অবকাশ না রেখে অন্তর দিয়ে যেসব মৌলিক সত্য ও অদৃশ্য বিষয়ে দ্বিধাহীন ও সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক, তাকে ‘আকিদা’ বলে।
আহলুস সুন্নাহর মতে ঈমানের রুকনসমূহ (أركان الإيمان عند أهل السنة)
হাদিসে জিবরীলের আলোকে ঈমানের মৌলিক রুকন বা স্তম্ভ ছয়টি:
- আল্লাহর প্রতি ঈমান (الإيمان بالله): আল্লাহকে তাঁর রুবূবিয়্যাত (প্রভুত্ব), উলূহিয়্যাত (উপাসনা) এবং আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলিতে) এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা। (সূরা আল-ইখলাস: ১-৪)।
- ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান (الإيمان بالملائكة): ফেরেশতারা নূরের তৈরি আল্লাহর অনুগত বান্দা, যারা কখনো তাঁর আদেশ অমান্য করেন না। (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৮৫)।
- আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান (الإيمان بالكتب): আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আসমানী কিতাব নাজিল করেছেন এবং সর্বশেষ ও অবিকৃত কিতাব হলো আল-কুরআন। (সূরা আল-মায়েদাহ: ৪৮)।
- রাসূলগণের প্রতি ঈমান (الإيمان بالرسل): হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবীর প্রতি কোনো পার্থক্য না করে বিশ্বাস করা। (সূরা আন-নিসা: ১৩৬)।
- আখিরাতের প্রতি ঈমান (الإيمان باليوم الآخر): কিয়ামত, কবর, পুনরুত্থান, হাশর, মিজান, পুলসিরাত এবং জান্নাত-জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
- তাকদীরের প্রতি ঈমান (الإيمان بالقدر): ভালো-মন্দ সকল কিছুর ভালো-খারাপ পরিণতি একমাত্র আল্লাহর পূর্বনির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণাধীন—এ বিশ্বাস রাখা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “তুমি তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখবে।” (সহিহ মুসলিম)।
٢- من الخوارج؟ وما خلفية ظهورها؟ بين عقائدها مفصلا-
[২. খারেজি কারা? এদের আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট কী? এদের আকিদা বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম পথভ্রষ্ট ও রাজনৈতিক-ধর্মীয় চরমপন্থী দলটি হলো ‘আল-খাওয়ারিজ’ (الخوارج)। তাদের চরমপন্থা ও উগ্র দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে প্রথম রক্তক্ষয়ী ফিতনার সূচনা করে।
الخوارج (খারেজি)-দের পরিচয় ও পটভূমি (خلفية ظهورهم)
শাব্দিক অর্থ: ‘খুরুজ’ (الخروج) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ বের হয়ে যাওয়া, বিদ্রোহ করা। উম্মাহর বৈধ নেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার কারণে তাদের খারেজি বলা হয়।
আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট: ৩৭ হিজরিতে হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুআবিয়া (রা.)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘সিফফিনের যুদ্ধ’-এর শেষপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তপাত বন্ধে সালিশি বা মীমাংসা (তাহকীম) ব্যবস্থা মেনে নেওয়া হয়। তখন হযরত আলী (রা.)-এর দলভুক্ত প্রায় ১২ হাজার লোক “لا حكم إلا لله” (আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেওয়ার অধিকার নেই) স্লোগান দিয়ে দলত্যাগ করে কুফার নিকটে ‘হারূরা’ নামক স্থানে একত্রিত হয়। এরা হযরত আলী ও মুআবিয়া (রা.) উভয়কেই সালিশ মানার কারণে কাফের ফতোয়া দেয় এবং পরবর্তীতে হযরত আলী (রা.)-কে শহীদ করে।
খারেজিদের প্রধান ভ্রান্ত আকিদাসমূহ (عقائد الخوارج)
- কবিরা গুনাহে কাফের গণ্য করা: তাদের মতে যে ব্যক্তি যেকোনো একটি কবিরা গুনাহ (যেমন চুরি বা ব্যভিচার) করবে, সে চিরতরে ঈমান থেকে খারিজ হয়ে কাফের হয়ে যাবে এবং চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
- মুসলিমদের রক্ত ও সম্পদ হালাল মনে করা: তাদের সাথে দ্বিমত পোষণকারী যেকোনো মুসলমানকে কাফের এবং তাদের দেশ ‘দারুল হারব’ বলে ঘোষণা করত এবং নির্বিচারে হত্যা বৈধ ভাবত।
- ইমামত সংক্রান্ত আকিদা: খলিফা হওয়ার জন্য কুরাইশ হওয়া জরুরি নয়; যেকোনো সাধারণ দাসও যদি যোগ্য হয় তাকে খলিফা মানা যাবে। আবার ইমাম যদি সামান্যতম ভুল করে তবে তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করা ওয়াজিব।
- হযরত আলী ও উসমান (রা.)-কে তাকফীর: তারা হযরত উসমান (রা.)-এর খিলাফতের শেষভাগ এবং হযরত আলী (রা.)-কে সালিশি গ্রহণের অপরাধে কাফের বিবেচনা করত।
٣- متى ظهرت المعتزلة؟ تحدث فرقها وخصائصها مفصلا-
[৩. মু’তাযিলা সম্প্রদায় কখন আত্মপ্রকাশ করে? এই সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দল ও তাদের বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী ধর্মতত্ত্বে যুক্তি ও দর্শনকে অন্ধভাবে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সালাফদের আকিদা থেকে বিচ্যুত হওয়া অন্যতম প্রধান বুদ্ধিবৃত্তিক দল হলো ‘আল-মুতাজিলা’ (المعتزلة)।
মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশ (نشأتهم)
দ্বিতীয় হিজরি শতকের শুরুতে (প্রায় ১১০ হিজরিতে) বসরার মসজিদে মহান তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী (রহ.)-এর দরসে কবিরা গুনাহকারীর হুকুম নিয়ে আলোচনা চলছিল। তখন তাঁর ছাত্র ওয়াসিল ইবনে আতা উস্তাদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলে—”কবিরা গুনাহকারী মুমিনও নয়, কাফেরও নয়; বরং সে উভয় স্তরের মাঝামাঝি এক অবস্থানে রয়েছে (আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন)।” এ কথা বলে সে উস্তাদের মজলিস ছেড়ে মসজিদের অন্য স্তম্ভের পাশে গিয়ে নিজস্ব দল গঠন করে। তখন হাসান বসরী (রহ.) বলেন: “اعتزل عنا واصل” (ওয়াসিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে)। সেখান থেকেই এদের নাম হয় ‘মু’তাযিলা’।
মু’তাযিলাদের মৌলিক পঞ্চনীতি (الأصول الخمسة للمعتزلة)
- আত-তাওহিদ (التوحيد): আল্লাহর জাত ও সত্তার অতিরিক্ত সিফাত (গুণাবলি) অস্বীকার করা এবং কুরআনকে ‘মাখলুক’ বা সৃষ্টি বলে দাবি করা।
- আল-আদল (العدل): তাকদীর অস্বীকার করা; তাদের মতে মানুষ নিজ কাজের শতভাগ স্বাধীন স্রষ্টা এবং আল্লাহ কোনো মন্দ সৃষ্টি করতে পারেন না।
- আল-ওয়াদ ওয়াল ওয়ায়ীদ (الوعد والوعيد): আল্লাহ নেককারদের প্রতিদান দিতে এবং কবিরা গুনাহকারীদের শাস্তি দিতে বাধ্য। তাঁর কোনো ক্ষমাশীলতার অধিকার নেই।
- আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন: কবিরা গুনাহকারী দুনিয়াতে মুমিনও নয় কাফেরও নয়, তবে তাওবা ছাড়া মারা গেলে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
- আল-আমরু বিল মারুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার: শাসকদের ভুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সশস্ত্র বিদ্রোহ করা ওয়াজিব।
মু’তাযিলাদের প্রধান উপদলসমূহ (فرق المعتزلة)
ওয়াসিলিয়্যাহ (ওয়াসিল বিন আতা), হুযাইলিয়্যাহ (আবু হুজাইল আল-আল্লাফ), নাজ্জামিয়্যাহ (ইব্রাহিম আন-নাজ্জাম), জুব্বাইয়্যাহ (আবু আলী আল-জুব্বায়ী) ইত্যাদি প্রায় ২০টি উপদলে এরা বিভক্ত ছিল।
٤- عرف المرجئة لغة واصطلاحا ثم بين فروعها وعقائدها مفصلا-
[৪. المرجئة এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। মুরজিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শাখা দল ও তাদের আকিদা বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
খারেজি ও মু’তাযিলাদের চরমপন্থার বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে ঈমানের ক্ষেত্রে আমলের গুরুত্বকে সম্পূর্ণ অস্বীকারকারী যে শৈথিল্যবাদী দলের জন্ম হয়, তাদের ‘আল-মুরজিয়া’ (المرجئة) বলা হয়।
المرجئة (মুরজিয়া)-এর সংজ্ঞা
শাব্দিক অর্থ: ‘ইরজা’ (الإرجاء) অর্থ বিলম্বিত করা, পিছিয়ে দেওয়া অথবা আশা দেওয়া। তারা আমলকে ঈমানের চেয়ে পিছিয়ে দিয়েছে এবং কবিরা গুনাহকারীদের বিচার আল্লাহর ওপর স্থগিত রেখেছে বিধায় এদের মুরজিয়া বলা হয়।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: যে দল বিশ্বাস করে যে, ঈমানের জন্য কেবল অন্তরের বিশ্বাস বা মৌখিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট; আমল ঈমানের কোনো অংশ নয় এবং ঈমান থাকলে কোনো গুনাহই মানুষের ক্ষতি করতে পারে না—তাদের মুরজিয়া বলে।
মুরজিয়াদের মৌলিক আকিদাসমূহ (عقائد المرجئة)
- ঈমানের সাথে গুনাহের ক্ষতি নেই: কুফরির সাথে যেমন কোনো নেক আমল উপকারে আসে না, তেমনই খাঁটি ঈমান থাকলে কবিরা গুনাহ এমনকি কুফরি আচরণ করলেও ঈমানের কোনো ক্ষতি হয় না (“لا يضر مع الإيمان معصية”)।
- ঈমান হ্রাস-বৃদ্ধি পায় না: সকল ঈমানদারের ঈমান সমান। সাধারণ পাপীর ঈমান এবং জিবরীল (আ.) বা নবীদের ঈমানের মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই।
- আমল ঈমানের অঙ্গ নয়: সালাত, সাওম, জিহাদ এগুলো কেবল ঐচ্ছিক আনুগত্য, ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়।
মুরজিয়াদের প্রধান শাখাদলসমূহ (فروع المرجئة)
- ইউনুসিয়্যাহ: ইউনুস সামারীর অনুসারী।
- গাসসানিয়্যাহ: গাসসান আল-কুফীর অনুসারী, যারা বলত ঈমান হলো কেবল আল্লাহর ভালোবাসা।
- তুমানিয়্যাহ: আবু মুয়াজ তুমানীর দল।
- মারিসিয়্যাহ: বিশর আল-মারিসীর অনুসারী।
٥- عرف الأشعرية ثم بين عقيدتها في الأسماء والصفات مفصلا مدللا-
[৫. الأشعرية এর পরিচয় দাও। আল্লাহ তা’আলার নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাদের আকিদা দলিলসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
মু’তাযিলাদের চরম যুক্তিবাদ এবং জাহেরিয়া-মুশাব্বিহাদের গোঁড়ামির মধ্যবর্তী অবস্থান গ্রহণ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যে মধ্যপন্থী সুন্নী ধারাটি উম্মাহর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, তা হলো ‘আশআরী সম্প্রদায়’।
الأشعرية (আশআরী)-দের পরিচয়
প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে ইসমাইল আল-আশআরী (২৬০-৩২৪ হিজরি)। তিনি প্রথম জীবনে ৪০ বছর মু’তাযিলাদের শীর্ষ নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে মু’তাযিলাদের যুক্তিবাদের অসারতা বুঝতে পেরে জুমার দিনে বসরার মসজিদে মিম্বরে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মু’তাযিলা মতবাদ বর্জন করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা গ্রহণ করেন।
মূল নীতি: ওহীর আনুগত্যের সাথে যুক্তির চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করে আকিদার ব্যাখ্যা প্রদান।
আসমা ও সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলি)-এ আশআরীদের আকিদা
- সাতটি মৌলিক সিফাত সাব্যস্তকরণ: আশআরীগণ আল্লাহর সাতটি জাতী সিফাতকে অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক ও নকলী দলীল দ্বারা সাব্যস্ত করেন। যথা—১. হায়াত (জীবন), ২. ইলম (জ্ঞান), ৩. কুদরত (ক্ষমতা), ৪. ইরাদাহ (ইচ্ছা), ৫. সামা (শ্রবণ), ৬. বাসার (দর্শন), এবং ৭. কালাম (কথা)।
- তাশবীহ ও তা’তীল মুক্ত থাকা: তারা আল্লাহর সিফাতকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য (তাশবীহ) দেন না, আবার মু’তাযিলাদের মতো সিফাত অস্বীকারও (তা’তীল) করেন না। কুরআনের নীতি: “لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ” (তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা)। (সূরা আশ-শূরা: ১১)।
- সিফাতে খবরিয়্যার ব্যাখ্যা (তাফউইয ও তাবীল): আল্লাহর হস্ত (ইয়াদ), চেহারা (ওয়াজহ) ইত্যাদি রূপক শব্দাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসরণে তারা অর্থ আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করেন (তাফউইয) অথবা ভাষার অলংকার হিসেবে রূপক অর্থ গ্রহণ করেন (যেমন: ইয়াদুন অর্থ কুদরত বা ক্ষমতা)।
٦- عرف بالجبرية والجهمية ثم بين العقائد التي تتفق وتختلف فيها الفرقتان مفصلا-
[৬. الجبرية ও الجهمية এর পরিচয় দাও। উভয় সম্প্রদায়ের অভিন্ন ও ভিন্ন ভিন্ন আকিদাসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামী ইতিহাসের দুটি প্রাচীন পথভ্রষ্ট সম্প্রদায় হলো জাবরিয়া ও জাহমিয়া। মানবীয় স্বাধীনতা অস্বীকার এবং আল্লাহর গুণাবলি ধ্বংসের ক্ষেত্রে এদের অপতৎপরতা ইতিহাসে কুখ্যাত।
الجبرية (জাবরিয়া)-এর পরিচয়
সংজ্ঞা: যারা বিশ্বাস করে যে, মানুষের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা, শক্তি বা কর্মক্ষমতা নেই; মানুষ বাতাসের মুখে উড়ে চলা শুকনো পাতার মতো সম্পূর্ণ নিরুপায় ও বাধ্য (মাজবুর)। ভালো-মন্দ সবকিছুই আল্লাহর চাপিয়ে দেওয়া। প্রতিষ্ঠাতা: জা’দ ইবনে দিরহাম।
الجهمية (জাহমিয়া)-এর পরিচয়
সংজ্ঞা: জাহম ইবনে সাফওয়ান (ওফাত ১২৮ হি.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দল, যারা আল্লাহর সমস্ত নাম ও সিফাত অস্বীকার করত এবং চরম জাবরিয়াবাদ ও ইরজাবাদী আকিদা পোষণ করত।
উভয় সম্প্রদায়ের অভিন্ন আকিদাসমূহ (العقائد المتفق عليها)
- উভয় দলই বিশ্বাস করত মানুষ নিজ কর্মে সম্পূর্ণ অক্ষম ও বাধ্য (জবর)।
- উভয়েই তাকদীরের চরমপন্থী ব্যাখ্যা দিয়ে পাপ কাজের দায় আল্লাহর ওপর চাপিয়ে দিত।
- উভয় দলই মনে করত ঈমান হলো কেবল মনে মনে জানা, কোনো প্রকাশ্য আমল বা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই।
উভয় দলের ভিন্ন ভিন্ন আকিদা (العقائد المختلف فيها)
- আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত): জাহমিয়া সম্প্রদায় আল্লাহর সমস্ত গুণাবলি ও নাম অস্বীকার করত এবং কুরআনকে মাখলুক বলত; বিপরীতে সাধারণ জাবরিয়াদের অনেকেই সরাসরি সকল নাম অস্বীকার করেনি।
- জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়িত্ব: জাহমিয়াদের মতে জান্নাত ও জাহান্নাম একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং সেখানে কোনো মাখলুক অবশিষ্ট থাকবে না; যা অন্যান্য জাবরিয়ারা বিশ্বাস করত না।
٧- عرف بالفرقة الناجية ثم بين خصائصها ومعيارها مفصلا-
[৭. الفرقة الناجية এর পরিচয় দাও। এদের বৈশিষ্ট্য ও মানদণ্ড বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহ ৭৩ দলে বিভক্ত হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবং এর মধ্যে কেবল একটি দলকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল বা ‘আল-ফিরক্বাতুন নাজিয়াহ’ (الفرقة الناجية) হিসেবে সুসংবাদ দান করেছেন।
الفرقة الناجية (মুক্তিপ্রাপ্ত দল)-এর পরিচয়
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: “আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তাদের মধ্যে একটি দল ছাড়া বাকি সকলেই জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেই দলটি কারা? তিনি বললেন: ‘مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي’ (আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে)।” (তিরমিযী: ২৬৪১)। আর তারাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত।
ফিরক্বায়ে নাজিয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائصها)
- কুরআন ও সুন্নাহর দৃঢ় অনুসরণ: দ্বীনের সকল বিষয়ে ওহীকে মানবীয় যুক্তি ও দর্শনের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া।
- সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ: কুরআন-সুন্নাহর ব্যাখ্যায় সালাফে সালেহীন ও সাহাবীদের বুঝকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা।
- বিদয়াত ও কুসংস্কার বর্জন: ইবাদত ও আকিদায় নব-উদ্ভাবিত সকল পথভ্রষ্টতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা।
- উগ্রতা ও শৈথিল্যহীন মধ্যপন্থা (আল-ওয়াসাতিয়্যাহ): খারেজিদের উগ্রতা এবং মুরজিয়াদের শৈথিল্য—উভয় চরমপন্থা পরিহার করে ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করা।
- উম্মাহর জামাত ও ঐক্য সংরক্ষণ: কোনো গৌণ মাসআলায় উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি না করে বৃহত্তর মুসলিম সমাজ ও জামাতের সাথে যুক্ত থাকা।
ফিরক্বায়ে নাজিয়ার মানদণ্ড (معيارها)
যে দল ও মতবাদের আকিদা, এবাদত ও জীবনপদ্ধতি রাসূলুল্লাহ (সা.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের জীবনাদর্শের হুবহু অনুরূপ হবে, তারাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল।
٨- عرف بالقاديانية ثم فند عقائدها الباطلة بالنصوص القاطعة من القرآن والسنة-
[৮. القاديانية এর পরিচয় দাও। এই সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকিদা কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য দলিল দ্বারা খণ্ডন কর।]
ভূমিকা
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে একটি মারাত্মক ধর্মত্যাগী ও বিভ্রান্ত গোষ্ঠীর জন্ম হয়, যা ‘কাদিয়ানী’ বা ‘আহমদীয়া জামাত’ নামে পরিচিত। মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত ফতোয়ায় এরা কাফের ও অমুসলিম।
القاديانية (কাদিয়ানী)-দের পরিচয়
প্রতিষ্ঠাতা: ভারতের পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলার কাদিয়ান নামক গ্রামের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (১৮৩৯-১৯০৮ খ্রি.)।
দাবি ও বিবর্তন: সে প্রথমে নিজেকে মুজাদ্দিদ, এরপর প্রতিশ্রুত মাসীহ ও মাহদী এবং ১৯০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে পূর্ণাঙ্গ নবী ও রাসূল বলে ঘোষণা করে। সে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জিহাদকে চিরতরে হারাম ফতোয়া দিয়েছিল।
কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকিদা খণ্ডন (تفنيد عقائدهم)
- খতমে নবুওয়াত অস্বীকার ও তার খণ্ডন: কাদিয়ানীদের দাবি হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পরেও নবুওয়াত জারি আছে।
- কুরআনের দলিল: আল্লাহ তা’আলা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন: “مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ” (মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী)। (সূরা আল-আহযাব: ৪০)।
- হাদিসের দলিল: রাসূলুল্লাহ (সা.) অসংখ্য হাদিসে ইরশাদ করেছেন: “لَا نَبِيَّ بَعْدِي” (আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না)। (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)। তিনি আরও বলেন: “আমি হলাম শেষ নবী এবং আমার মসজিদ হলো শেষ নবীর মসজিদ।”
- ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু ও দ্বিতীয় আগমনের দাবি খণ্ডন: কাদিয়ানীদের দাবি হলো ঈসা (আ.) কাশ্মীরের শ্রীনগরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং মির্জা কাদিয়ানীই রূপক ঈসা।
- কুরআনের দলিল: আল্লাহ বলেন: “তারা তাঁকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি… বরং আল্লাহ তাঁকে নিজের কাছে সশরীরে তুলে নিয়েছেন।” (সূরা আন-নিসা: ১৫৭-১৫৮)। কিয়ামতের পূর্বে আসমান থেকে তিনি সশরীরে অবতরণ করবেন (সহিহ মুসলিম)।
- ব্রিটিশদের জন্য জিহাদ হারাম করার খণ্ডন: জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে বলে হাদীসে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে এটি রহিত করার দাবি ইসলামের মৌলিক স্তম্ভের সাথে কুফরি।
مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)
٩- اكتب أسماء فرق الخوارج-
[৯. খারেজি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দলের নামগুলো লেখ।]
উত্তর: খারেজিরা সময়ের সাথে সাথে বহু উগ্র উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের প্রধান দলগুলো হলো:
- মুহাক্কিমা: যারা সর্বপ্রথম হারূরায় একত্রিত হয়ে সালিশির বিরোধিতা করেছিল।
- আযারেকা: নাফে ইবনে আল-আযরাকের অনুসারী (সবচেয়ে রক্তপিপাসু ও উগ্র দল)।
- নাজদাত: নাজদা ইবনে আমিরের দল।
- সুফরিয়্যাহ: যিয়াদ ইবনে আল-আসফারের অনুসারী।
- ইবাদিয়্যাহ: আব্দুল্লাহ ইবনে ইবাদের অনুসারী (বর্তমানে ওমানে এদের মধ্যপন্থী কিছু অনুসারী বিদ্যমান)।
١٠- عرف بالإثنى عشرية الشيعية-
[১০. শিয়াদের ইসনা আশারিয়্যাহ সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও।]
উত্তর: ‘ইসনায়ী আশারিয়্যাহ’ (الإثنا عشرية) হলো শিয়া সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ও মূল ধারা (যারা জা’ফরিয়া নামেও পরিচিত)। বর্তমানে ইরান, ইরাক ও লেবাননের অধিকাংশ শিয়া এই মতাবলম্বী।
মূল বিশ্বাস: তারা হযরত আলী (রা.) থেকে শুরু করে ইমাম মাহদী পর্যন্ত ক্রমানুসারে ১২ জন ইমামের নিষ্পাপত্ব ও ঐশী মনোনয়নে বিশ্বাস করে। তাদের মতে ১২তম ইমাম ‘মুহাম্মদ আল-মাহদী’ ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সামারার এক গোপন সুড়ঙ্গে আত্মগোপন (গায়েবাত) করেছেন এবং কিয়ামতের পূর্বে পুনরায় ফিরে আসবেন।
١١- اكتب أسماء خمسة من مشاهير المشبهة-
[১১. মুশাব্বিহা সম্প্রদায়ের পাঁচজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তির নাম লেখ।]
উত্তর: মুশাব্বিহা হলো সেই সম্প্রদায় যারা আল্লাহর গুণাবলিকে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে হুবহু সাদৃশ্যযুক্ত মনে করত। এদের প্রসিদ্ধ পাঁচজন নেতা হলো:
- হিশাম ইবনে আল-হাকাম।
- হিশাম ইবনে সালিম আল-জাওয়ালীক্বী।
- বায়ান ইবনে সামআন।
- মুগিরা ইবনে সাঈদ।
- মুকাতেল ইবনে সুলাইমান (তাফসিরবিদ হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও সিফাতের ক্ষেত্রে মুশাব্বিহাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন)।
١٢- اكتب أسماء خمسة كتب للمعتزلة-
[১২. মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখ।]
উত্তর: মু’তাযিলাদের রচিত পাঁচটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো:
- আল-মুগনী ফী আবওয়াবিত তাওহীদ ওয়াল আদল – কাযী আব্দুল জব্বার (১৬ খণ্ডে)।
- শারহু উসূলিল খামসাহ – কাযী আব্দুল জব্বার।
- আল-কাশশাফ – আবুল কাসিম আল-জামাখশারী (মু’তাযিলা দৃষ্টিভঙ্গির বিখ্যাত তাফসির)।
- আল-ইনতিসার – আবুল হাসান আল-খাইয়্যাত।
- কিতাবুল হাইওয়ান – আল-জাহিজ।
١٣- اكتب أسماء خمسة كتب في العقيدة لأهل السنة والجماعة-
[১৩. আকিদা সংক্রান্ত আহলুসসুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের পাঁচটি গ্রন্থের নাম লেখ।]
উত্তর: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ৫টি সুবিখ্যাত আকিদা গ্রন্থ হলো:
- আল-আকীদাতুত তাহাবিয়্যাহ – ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবী (রহ.)।
- আল-ফিকহুল আকবার – ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.)।
- আল-ইবানা আন উসূলিদ দিয়ানা – ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরী (রহ.)।
- আল-আকীদাতুল ওয়াসেতিয়্যাহ – শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)।
- কিতাবুত তাওহীদ – ইমাম আবু মানসুর আল-মাতুরিদী (রহ.)।
١٤- عرف بالماتريدية-
[১৪. মাতুরিদিয়্যাহ সম্প্রদায়ের পরিচয় দাও।]
উত্তর: ‘মাতুরিদিয়্যাহ’ হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্যতম প্রধান দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক শাখার একটি (অন্যটি আশআরী ধারা)।
প্রতিষ্ঠাতা: ইমাম আবু মানসুর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাতুরিদী (ওফাত ৩৩৩ হিজরি), যিনি সমরকন্দের মাতুরিদ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর আকিদাগত উসূলকে দর্শন ও যুক্তিবাদের সমন্বয়ে সুসংহত করেন। হানাফী মাযহাবের অধিকাংশ অনুসারীই আকিদায় মাতুরিদী মতাবলম্বী।
١٥- عرف بالحشوية موجزا-
[১৫. الحشوية এর পরিচয় সংক্ষেপে তুলে ধর।]
উত্তর: ‘হাশভিয়্যাহ’ (الحشوية) শব্দটি এসেছে ‘হাশভ’ (অনর্থক অতিরিক্ত বস্তু) থেকে। এটি এমন এক গোঁড়া সম্প্রদায়কে বোঝায় যারা কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ও ব্যাকরণগত বিচার বিবেচনা ছাড়া সকল দুর্বল ও জাল হাদিসকে অন্ধভাবে আকিদার দলীল হিসেবে গ্রহণ করত। তারা কুরআনের মুতাশাবিহাত আয়াতগুলোর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করে আল্লাহর জন্য হাত, পা ও দৈহিক আকার সাব্যস্ত করে চরম মুশাব্বিহায় পরিণত হয়েছিল।
١٦- ما هي ألقاب الباطنية؟
[১৬. বাতেনিয়্যাহ সম্প্রদায়ের উপাধিগুলো কী?]
উত্তর: ‘বাতেনিয়্যাহ’ হলো শিয়া ইসমাইলিয়াদের একটি গোপনীয় চরমপন্থী দল, যারা দাবি করত শরীয়তের জাহেরি বিধানের অন্তরালে গোপন বাতেনি অর্থ রয়েছে যা কেবল তাদের ইমামই জানেন। বিভিন্ন দেশে তাদের বিভিন্ন উপাধিতে ডাকা হতো:
- কারামিতা (القرامطة): ইরাক ও বাহরাইনে হামদান কারমাতের অনুসারী হিসেবে।
- ইসমাইলিয়া (الإسماعيلية): ইমাম ইসমাইল ইবনে জাফরের সমর্থক হিসেবে।
- খুররামিয়্যাহ ও বাবাকিয়্যাহ: আজারবাইজান ও পারস্যে।
- সাবয়িয়্যাহ (السَّبْعِيَّة): সাতজন ইমামের তত্ত্বে বিশ্বাসী হওয়ায়।
- মাজদাকিয়্যাহ: প্রাচীন পারস্যের সাম্যবাদী মাজদাকের নীতি অনুসরণের কারণে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত’ কাদের বলা হয়?
যারা বিশ্বাস, আমল ও চরিত্র গঠনে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত সুন্নাহর ওপর পরিপূর্ণ অটল থাকে, তাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত বা নাজাতপ্রাপ্ত দল বলা হয়।
২. ইসলামের ইতিহাসে প্রথম পথভ্রষ্ট ফিরকা কোনটি?
সিফফিনের যুদ্ধের পর হযরত আলী (রা.)-এর দল ত্যাগ করে খেলাফতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহকারী ‘খাওয়ারিজ’ সম্প্রদায়ই ইসলামের প্রথম পথভ্রষ্ট ফিরকা।
৩. মু’তাযিলাদের মূল ভ্রান্তি কী ছিল?
মু’তাযিলাগণ ওহী ও সুন্নাহর ওপরে মানুষের সীমিত যুক্তিবাদ ও দর্শনকে প্রাধান্য দিয়ে আল্লাহর সিফাত অস্বীকার করেছিল এবং কুরআনকে সৃষ্টি (মাখলুক) দাবি করেছিল।
৪. কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার মূল কারণ কী?
মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবী (খাতামুন্নাবিয়্যীন) না মেনে মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নতুন নবী দাবি করার কারণেই তারা কাফের ও অমুসলিম।
৫. ঈমানের মৌলিক রুকন কয়টি?
হাদিসে জিবরীল অনুযায়ী ঈমানের মৌলিক রুকন ৬টি: আল্লাহর প্রতি, ফেরেশতাগণের প্রতি, কিতাবসমূহের প্রতি, রাসূলগণের প্রতি, আখেরাতের প্রতি এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস।
৬. ইমাম মাতুরিদী ও আশআরীর মধ্যে সম্পর্ক কী?
উভয়েই সমকালীন যুগের শীর্ষ দুই আলেম ছিলেন, যাঁরা মু’তাযিলা ও বিদয়াতীদের বিভ্রান্তি রুখে দিয়ে আহলুস সুন্নাহর আকিদাকে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন।