জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা (Islam and Other Religions) – 201308, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৪৮ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

اختبار السنة الثالثة للفاضل البكالوريوس (الشرف) ، لعام ۲۰۲۳ م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الإسلام والأديان الأخرى
[আল ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা (ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম)]
বিষয় কোড: ২০১৩০৮ | পরীক্ষা কোড: ২০৩
সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০

المُلاَحَظَةُ: أَجِبْ عَنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ مَجْمُوعَةِ (أ) وَعَنْ أَرْبَعَةٍ مِنْ مَجْمُوعَةِ (ب) –
[দ্রষ্টব্য: (ক) অংশ থেকে চারটি এবং (খ) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) – ক-বিভাগ (রচনামূলক প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ١٥ × ٤ = ٦٠
[যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও]

١- عَرِّفِ الدِّيْنَ ثُمَّ بَيِّنْ ضَرُوْرَتَهُ فِي حَيَاةِ الْإِنْسَانِ مُفَصَّلًا –

[১. দ্বীনের পরিচয় দাও। মানবজীবনে দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

দ্বীন বা ধর্ম মানুষের আত্মিক, নৈতিক ও ব্যবহারিক জীবনের ভিত্তি। মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই ধর্ম মানুষের সহজাত অনুভূতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো যুগ বা সমাজে ধর্মের প্রভাব ছাড়া মানুষ বসবাস করতে পারেনি।

দ্বীনের পরিচয় ও সংজ্ঞা

  • শাব্দিক অর্থ: ‘দ্বীন’ (الدين) একটি সমৃদ্ধ আরবি শব্দ। এর অর্থ আনুগত্য (الطاعة), প্রতিদান ও কর্মফল (الجزاء والحساب), বিধান বা আইন (الشريعة والقانون), এবং রীতিনীতি বা স্বভাব (العادة)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা জুরজানী (রহ.) বলেন: “দ্বীন হলো এমন এক ঐশী বিধান, যা বিবেকবান মানুষকে তাদের মুক্ত পছন্দের মাধ্যমে দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের চিরন্তন মুক্তির পথে পরিচালিত করে।”
  • ইসলামি দৃষ্টিকোণ: মহান আল্লাহর মনোনীত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দ্বীন হলো ইসলাম: إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ — “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম।” (সূরা আলে ইমরান: ১৯)।

মানবজীবনে দ্বীনের প্রয়োজনীয়তা

  1. সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও আত্মিক প্রশান্তি: মানুষ শুধু রক্ত-মাংসের দেহ নয়; আত্মার খোরাক মেটানোই মানুষের মূল সাধনা। দ্বীন মানুষকে জানায় সে কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় ফিরে যাবে। আল্লাহ বলেন: أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ — “জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই কেবল হৃদয় প্রশান্ত হয়।” (সূরা আর-রাদ: ২৮)।
  2. নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সুরক্ষা: রাষ্ট্রীয় আইন মানুষের বাহ্যিক অপরাধ দমন করতে পারে, কিন্তু গোপনে পাপ করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। দ্বীন মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) জাগ্রত করে চরিত্রকে নিষ্কলুষ রাখে।
  3. সামাজিক সুবিচার ও ভ্রাতৃত্ববোধ: দ্বীন শিক্ষা দেয় সমস্ত মানুষ এক আদমের সন্তান। এটি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও অধিকার আদায়ের বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
  4. বিপদ-আপদে পরম আশ্রয় ও ধৈর্য: পার্থিব জীবনে রোগ-শোক ও সংকটে ধর্ম মানুষকে চরম হতাশা ও আত্মহত্যার পথ থেকে রক্ষা করে পরম রবের প্রতি তাওয়াক্কুল শেখায়।
  5. জবাবদিহিতার চেতনা ও পরলৌকিক মুক্তি: পরকালে হাশরের ময়দানে প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে—এই বিশ্বাসই সমাজে অপরাধ ও দুর্নীতি রোধের প্রধান শক্তি।

٢- اُكْتُبْ خَصَائِصَ الْإِسْلَامِ وَمَحَاسِنَهُ الْاِجْتِمَاعِيَّةَ وَالْاِقْتِصَادِيَّةَ –

[২. ইসলামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

ভূমিকা

ইসলাম কেবল কতগুলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শাশ্বত জীবনব্যবস্থা। এর অনন্য সামাজিক সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সমগ্র মানবজাতিকে এক কল্যাণকর পথ প্রদর্শন করেছে।

ইসলামের সামাজিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. সার্বজনীন মানবিক সাম্য: ইসলামে জাতিভেদ বা বর্ণবৈষম্য নেই। কুরআন ঘোষণা করে: “হে মানবজাতি! আমি তোমাদের এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্মানিত যে সর্বাধিক মুত্তাকী।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)।
  2. পারিবারিক পবিত্রতা ও নারীর মর্যাদা: ইসলাম পরিবারকে সমাজের ভিত্তি ঘোষণা করেছে। নারীকে মা, কন্যা ও স্ত্রী হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মান, উত্তরাধিকার এবং মোহরের অধিকার প্রদান করেছে।
  3. প্রতিবেশীর অধিকার ও অমুসলিমদের নিরাপত্তা: নবীজী (স.) প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এত বেশি তাগিদ দিতেন যে সাহাবীগণ মনে করেছিলেন প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হবে। অমুসলিমদের জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

ইসলামের অর্থনৈতিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. সুদমুক্ত অর্থনীতি: সুদের মাধ্যমে গরিবের রক্ত চুষে ধনীরা আরও ধনী হয়। ইসলাম সুদকে কঠোরভাবে হারাম করেছে (وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا) এবং ব্যবসাকে উৎসাহিত করেছে।
  2. যাকাতভিত্তিক সম্পদ বণ্টন: পুঁজিপতিদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে বাধ্যতামূলক যাকাত ও সদকা আদায়ের মাধ্যমে সমাজে সম্পদের সুষম প্রবাহ নিশ্চিত করা।
  3. শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা: রাসূল (স.) নির্দেশ দিয়েছেন: “শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক পরিশোধ কর।” (ইবনে মাজাহ)।
  4. অন্যায় উপার্জন ও অপচয় নিষিদ্ধ: ঘুষ, জুয়া, কালোবাজারি, ফটকাবাজি ও মজুতদারি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

٣- بَيِّنْ طُرُقَ تَطْبِيقِ الشَّرِيعَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ فِي الْمُجْتَمَعَاتِ الْمُتَعَدِّدَةِ الْأَدْيَانِ وَالثَّقَافَاتِ –

[৩. বহুধর্ম ও সংস্কৃতির সমাজে ইসলামি শরিয়াহ বাস্তবায়নের পদ্ধতি বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

বর্তমান বিশ্ব বহুমুখী সংস্কৃতি ও বহু ধর্মের সংমিশ্রণে গঠিত। ইসলাম কোনো সংকীর্ণ বা পরমতঅসহিষ্ণু ধর্ম নয়; বরং বহুধর্মীয় সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সুবিচার নিশ্চিত করার অনুপম দৃষ্টান্ত ইসলামই স্থাপন করেছে।

বহুধর্মীয় সমাজে শরিয়াহ বাস্তবায়নের কর্মপন্থা

  1. মদিনা সনদের নীতি অনুসরণ: মদিনায় হিজরতের পর রাসূল (স.) ইহুদি, পৌত্তলিক ও মুসলমানদের নিয়ে মদিনা সনদ স্বাক্ষর করেন, যেখানে সকল সম্প্রদায়কে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান নাগরিক অধিকার দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক বহুধর্মীয় সমাজে এই নীতিই পথপ্রদর্শক।
  2. ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা: অমুসলিমদের তাদের নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস, উপাসনা ও পারিবারিক বিষয়ে তাদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার স্বাধীনতা দেওয়া ইসলামি শরিয়তের মূল নীতি।
  3. মাক্বাসিদুশ শরিয়াহর (শরিয়তের মূল উদ্দেশ্যের) বাস্তবায়ন: শরিয়তের মূল পাঁচটি উদ্দেশ্য—১. দ্বীন রক্ষা, ২. জীবন রক্ষা, ৩. বুদ্ধি বা মস্তিষ্ক রক্ষা, ৪. বংশমর্যাদা রক্ষা, এবং ৫. সম্পদ রক্ষা—সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
  4. প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াত ও উত্তম বিতর্ক: শরিয়াহ বাস্তবায়নের জন্য বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন: ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ — “তুমি তোমার রবের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান কর।” (সূরা আন-নাহল: ১২৫)।
  5. নাগরিক সমতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: রাষ্ট্রীয় চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে মুসলমানদের মতোই অমুসলিমদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা।

٤- مَا هِيَ طُرُقُ تَحْقِيقِ التَّوَازُنِ بَيْنَ الثَّوَابِتِ الدِّينِيَّةِ وَمُتَطَلَّبَاتِ التَّحْدِيثِ فِي الْمُجْتَمَعَاتِ الْإِسْلَامِيَّةِ؟ بَيِّنْ مُوَضَّحًا –

[৪. ইসলামি সমাজে অপরিবর্তনীয় ধর্মীয় নীতিমালা ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার উপায়গুলো কী? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইসলাম এক চিরন্তন ও সর্বকালীন জীবনবিধান। এতে যেমন অপরিবর্তনীয় অটল স্তম্ভ রয়েছে, তেমনি যুগের চাহিদা পূরণের জন্য রয়েছে গতিশীলতা। এই দুটির চমৎকার সমন্বয়ই হলো ইসলামের অমরত্বের রহস্য।

সাওয়াবিত (অপরিবর্তনীয় মৌলিক বিষয়সমূহ)

যেসব বিষয় দ্বীনের অকাট্য দলীল (কাত’য়ী) দ্বারা প্রমাণিত, যেমন: তাওহিদ, রিসালাত, আখেরাত, নামাজের ওয়াক্ত ও পদ্ধতি, রোজার বাধ্যবাধকতা, হালাল ও হারামের অকাট্য সীমানা (মদ, জুয়া, ব্যভিচার, সুদ হারাম হওয়া)। এগুলো কিয়ামত পর্যন্ত অপরিবর্তনীয়।

মুতাগায়্যিরাত (পরিবর্তনশীল ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্র)

প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসা-বাণিজ্যের আধুনিক মাধ্যম, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যেসব সামাজিক বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই, সেগুলোর উন্নয়ন ও উপযোগ গ্রহণ করা ইসলামের কাম্য।

ভারসাম্য রক্ষার উপায়সমূহ

  1. ইজতিহাদের দ্বার উন্মুক্ত রাখা: সমকালীন নতুন সমস্যাবলির (যেমন: ডিজিটাল কারেন্সি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা) সমাধানে কুরআন-সুন্নাহর মূলনীতির আলোকে যোগ্য আলেমদের যৌথ ইজতিহাদ প্রয়োগ করা।
  2. মাসলাহাতুল মুরসালাহ (জনকল্যাণ) গ্রহণ: যেসব আধুনিক উদ্ভাবন শরিয়তের কোনো মূলনীতির সাথে বিরোধপূর্ণ নয় এবং জনগণের জন্য কল্যাণকর, তা গ্রহণ করা।
  3. জ্ঞানের ইসলামীকরণ: আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুবিধাগুলো গ্রহণ করে তাকে অনৈতিক অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখা।
  4. অন্ধ অনুকরণ ও চরমপন্থা বর্জন: পাশ্চাত্যের অন্ধ বস্তুবাদী অনুকরণ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি আধুনিক কল্যাণকর উদ্ভাবনকে অহেতুক অস্বীকার করাও দ্বীনের পরিপন্থী।

٥- عَرِّفِ الْيَهُودِيَّةَ ثُمَّ بَيِّنْ عَقَائِدَهَا الْأَسَاسِيَّةَ مُفَصَّلًا –

[৫. ইহুদি ধর্মের পরিচয় দাও। এর মৌলিক আকিদাগুলো বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

ইহুদি ধর্ম (Judaism) বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সেমেটিক ধর্ম। হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর অপর নাম ছিল ‘ইসরাঈল’। তাঁর বংশধরদের বনি ইসরাঈল বলা হয় এবং পরবর্তীতে তারা ইহুদি নামে পরিচিত হয়।

ইহুদি ধর্মের পরিচয় ও নামকরণ

  • ‘ইহুদি’ শব্দটি হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর চতুর্থ পুত্র ‘ইয়াহুদা’ (Judah)-এর নাম থেকে উদ্ভূত।
  • তাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো ‘তাওরাত’ (Torah) এবং ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থ হলো ‘তালমুদ’ (Talmud)। তাদের প্রধান নবী ছিলেন হযরত মূসা (আ.)।

ইহুদি ধর্মের মৌলিক আকিদাসমূহ

  1. আল্লাহ সংক্রান্ত বিশ্বাস (ইয়াহওয়েহ): তারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী হলেও তাদের ঈশ্বর ধারণা বিকৃত। তারা ঈশ্বরকে ‘ইয়াহওয়েহ’ (Yahweh) বলে এবং দাবি করে ঈশ্বর কেবল তাদের জন্যই মনোনীত। অনেক ইহুদি হযরত উযায়ের (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করেছিল (وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ)।
  2. ঈশ্বরের মনোনীত জাতি (Chosen People): তারা বিশ্বাস করে বনি ইসরাঈল হলো ঈশ্বরের একমাত্র নির্বাচিত ও প্রিয় জাতি, আর পৃথিবীর অন্য সকল জাতি তাদের সেবক হিসেবে সৃষ্ট। এই অন্ধ বর্ণবাদী বিশ্বাসের কারণে তাদের ধর্মে অন্যদের ধর্মান্তরিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
  3. তাওরাতের মর্যাদা ও ১০টি অনুশাসন (Ten Commandments): সিনাই পাহাড়ে হযরত মূসা (আ.)-কে প্রদত্ত ১০টি আদেশ তাদের প্রধান ধর্মীয় বিধান।
  4. পরকাল সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস: ইহুদিদের বড় একটি অংশ মনে করে জাহান্নামের আগুন তাদের মাত্র কয়েকদিন স্পর্শ করবে: وَقَالُوا لَن تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَّعْدُودَةً (সূরা বাকারা: ৮০)।
  5. মসীহের আগমন প্রতীক্ষা: তারা হযরত ঈসা (আ.)-কে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনো তাদের একজন পার্থিব বাদশাহরূপী মসীহের আগমনের অপেক্ষায় আছে।

٦- بَيِّنْ أَبْرَزَ الْمُؤَامَرَاتِ الَّتِي خَطَّطَ لَهَا الْيَهُودُ ضِدَّ الْمُسْلِمِينَ فِي الْمَدِينَةِ –

[৬. মদিনায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি দ্বারা পরিকল্পিত প্রধান ষড়যন্ত্রসমূহ বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

মদিনায় হিজরতের পর রাসূল (স.) ইহুদিদের সাথে মদিনা সনদের মাধ্যমে শান্তির চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু ইহুদিরা ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারণে ধারাবাহিকভাবে চুক্তি ভঙ্গ ও মারাত্মক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

প্রধান ইহুদি ষড়যন্ত্রসমূহ

  1. আউস ও খাযরাজের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্ব উসকে দেওয়া: ইসলামের কারণে মদিনার আউস ও খাযরাজ গোত্রের শতবর্ষের যুদ্ধ বন্ধ হয়ে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইহুদি কবি শাশ ইবনে কায়স তাদের মধ্যে পুরনো বু’আসের যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে সংঘর্ষ বাঁধানোর অপচেষ্টা চালায়।
  2. বনু ক্বাইনুকা গোত্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি: বদর যুদ্ধের পর বনু ক্বাইনুকার এক ইহুদি বাজারে এক মুসলিম নারীর হিজাব পেরেক দিয়ে আটকে বিবস্ত্র করার অপচেষ্টা করে এবং প্রতিবাদী মুসলিমকে হত্যা করে মদিনা সনদ লঙ্ঘন করে।
  3. বনু নাযীর গোত্রের রাসূল (স.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র: রাসূল (স.) যখন রক্তপণের বিষয়ে আলোচনার জন্য তাদের এলাকায় যান, তখন তারা ছাদ থেকে ভারী পাথর ফেলে নবীজী (স.)-কে শহীদ করার চক্রান্ত করেছিল। জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে তা ফাঁস হয়ে যায়।
  4. খন্দকের যুদ্ধে বনু কুরাইযার চরম গাদ্দারি: যখন দশ হাজার কাফের সেনাবহর মদিনা অবরোধ করে, তখন নগরীর অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা বনু কুরাইযা চুক্তি ভঙ্গ করে মদিনার নারী ও শিশুদের ওপর পেছন দিক থেকে আক্রমণের চক্রান্ত করে।
  5. খায়বারে রাসূল (স.)-কে বিষপ্রয়োগ: খায়বার বিজয়ের পর যায়নাব বিনতে আল-হারিস নামক এক ইহুদি নারী রোস্ট করা ছাগলের মাংসে মারাত্মক বিষ মিশিয়ে রাসূল (স.)-কে হত্যার চেষ্টা করে।

٧- مَا هِيَ الطَّوَائِفُ الْمَسِيحِيَّةُ؟ بَيِّنْ تَارِيخَ نَشْأَتِهَا وَخَصَائِصَهَا مُفَصَّلًا –

[৭. খ্রিস্টান সম্প্রদায়গুলো কী? এই সম্প্রদায়গুলোর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

ভূমিকা

হযরত ঈসা (আ.)-এর ওফাতের পর সেন্ট পল (পৌল)-এর বিকৃত ব্যাখ্যার কারণে একত্ববাদী দ্বীন ত্রিত্ববাদে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে খ্রিস্টধর্ম প্রধান তিনটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

খ্রিস্টধর্মের প্রধান তিনটি সম্প্রদায়

  1. রোমান ক্যাথলিক (Roman Catholic):
    • ইতিহাস: এটি খ্রিস্টধর্মের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম শাখা। রোমের ভ্যাটিকান হলো এর মূল কেন্দ্র এবং পোপ হলেন তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
    • বৈশিষ্ট্য: পোপের ত্রুটিহীনতা (Papal Infallibility)-তে বিশ্বাস, সাধু-সন্ত ও মেরিমাতার মূর্তিপূজা, পাদ্রীদের চিরকুমার থাকার বাধ্যবাধকতা এবং পাপমোচন পত্র (Indulgence) বিক্রি করার ইতিহাস।
  2. ইস্টার্ন অর্থোডক্স (Eastern Orthodox):
    • ইতিহাস: ১০৫৪ খ্রিস্টাব্দে ‘মহা বিভাজন’ (Great Schism)-এর মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপলকে (বর্তমান ইস্তাম্বুল) কেন্দ্র করে রোমান চার্চ থেকে আলাদা হয়ে এই শাখার জন্ম হয়।
    • বৈশিষ্ট্য: তারা পোপের আধিপত্য মানে না; তাদের প্রধান হলেন প্যাট্রিয়ার্ক (Patriarch)। চার্চে ত্রিমাত্রিক মূর্তি নিষিদ্ধ, তবে দ্বিমাত্রিক প্রতিকৃতি (Icon) ব্যবহার করে। পাদ্রীরা বিবাহের অনুমতি পান।
  3. প্রোটেস্ট্যান্ট (Protestant):
    • ইতিহাস: ষোড়শ শতাব্দীতে (১৫১৭ খ্রি.) জার্মান পাদ্রী মার্টিন লুথার ক্যাথলিক চার্চের দুর্নীতি ও পোপের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ (Protest) জানিয়ে এই সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন।
    • বৈশিষ্ট্য: তারা পোপের নেতৃত্ব ও সাধুদের মধ্যস্থতা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। কেবল বাইবেলই তাদের চূড়ান্ত প্রামাণ্য গ্রন্থ। তারা পাদ্রীদের চিরকুমার প্রথা বাতিল করেছে।

٨- عَرِّفِ السَّيْخِيَّةَ ثُمَّ بَيِّنْ مَبَادِئَهَا وَكُتُبَهَا مَعَ مُحْتَوَاهَا مُوَضَّحًا –

[৮. শিখ ধর্মের পরিচয় দাও। এর মূলনীতি ও এর গ্রন্থসমূহ আলোচ্য বিষয়সহ বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

শিখ ধর্মের পরিচয়

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চলে গুরু নানক (১৪৬৯–১৫৩৯ খ্রি.) কর্তৃক শিখ ধর্মের প্রবর্তন হয়। ‘শিখ’ শব্দটি সংস্কৃত ‘শিষ্য’ শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অনুসারী বা শিক্ষার্থী। এটি মূলত হিন্দু ধর্মের ভক্তি আন্দোলন এবং ইসলামি সুফিতত্ত্বের একটি সংমিশ্রিত রূপ।

শিখ ধর্মের প্রধান মূলনীতিসমূহ

  1. এক ঈশ্বরবাদ (ইক ওঙ্কার): তারা বিশ্বাস করে ঈশ্বর এক, নিরাকার, জন্মহীন ও চিরন্তন।
  2. দশ গুরুর ঐতিহ্য: গুরু নানক থেকে শুরু করে দশম গুরু গোবিন্দ সিংহ পর্যন্ত দশজন গুরুকে তারা ঈশ্বরের বাণী প্রচারক হিসেবে ভক্তি করে।
  3. পাঁচটি ‘ক’ (Panj Kakar): খালসা শিখদের জন্য ৫টি প্রতীক ধারণ বাধ্যতামূলক: কেশ (Uncut hair), কঙ্গা (Comb), কৃপাণ (Dagger), কারা (Steel bracelet), এবং কাছেরা (Cotton undergarment)।
  4. বর্ণপ্রথার বিরোধিতা ও লঙ্গর ব্যবস্থা: হিন্দু বর্ণপ্রথা অস্বীকার করে সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিনামূল্যের খাদ্য বিতরণ (লঙ্গর) চালু করা।

শিখ ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ

গুরু গ্রন্থ সাহিব (Guru Granth Sahib / আদি গ্রন্থ):

  • এটি শিখদের সর্বোচ্চ এবং বর্তমান জীবন্ত গুরু হিসেবে বিবেচিত। পঞ্চম গুরু অর্জন দেব এটি সংকলন করেন।
  • বিষয়বস্তু: এতে শিখ গুরুদের রচিত স্তোত্র ছাড়াও বাবা ফরিদ, কবীর, নামদেব প্রমুখ মুসলিম সুফি ও হিন্দু সাধকদের ভক্তিমূলক কবিতা ও একত্ববাদের বাণী সংকলিত রয়েছে।

مجموعة (ب) – খ-বিভাগ (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি)

الدرجات: ٥ × ٤ = ٢٠
[যে-কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও]

٩- بَيِّنْ أَهَمِّيَّةَ دِرَاسَةِ مُقَارَنَةِ الْأَدْيَانِ –

[৯. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের গুরুত্ব বর্ণনা কর।]

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (Comparative Religion) অধ্যয়নের প্রধান গুরুত্বসমূহ হলো:

  1. ইসলামের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি: অন্যান্য ধর্মের মানবসৃষ্ট অসঙ্গতি ও বিকৃতি পর্যালোচনার মাধ্যমে ইসলামের নিখুঁত ঐশী সৌন্দর্য গভীরভাবে হৃদয়ঙ্গম করা যায়।
  2. কার্যকর দাওয়াত প্রদান: অমুসলিমদের কাছে তাদের নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসলামি তাওহিদের দাওয়াত পৌঁছানো সম্ভব হয় (যেমন: ড. জাকির নায়েকের কর্মপদ্ধতি)।
  3. ধর্মীয় চরমপন্থা ও কুসংস্কার দূরীকরণ: অন্য ধর্মের বিশ্বাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে অজ্ঞতাপ্রসূত ঘৃণা ও ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়।
  4. মুসলিম পণ্ডিতদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ: আল-বিরুনী, ইবনে হাযম ও শাহরাস্তানীর মতো মুসলিম গবেষকগণ তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের জনক হিসেবে বিশ্বখ্যাত।

١٠- أَوْضِحْ مَفْهُوْمَ كَلِمَةِ الدِّيْنِ وَالْمِلَلِ وَالنِّحَلِ –

[১০. দ্বীন, আল-মিলাল ও আন-নিহাল শব্দগুলোর মর্ম স্পষ্টভাবে বর্ণনা কর।]

  • আদ-দ্বীন (الدين): আনুগত্য ও প্রতিদান। পরিভাষায় এমন ঐশী বিশ্বাস ও জীবনবিধান যা স্রষ্টার পক্ষ থেকে মানুষের সার্বিক পরিচালনার জন্য নাযিল হয়েছে (বিশেষত ইসলাম)।
  • আল-মিলাল (الملل): এটি ‘মিল্লাত’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ সম্প্রদায় বা ধর্মাদর্শ। বিশেষত আসমানী কিতাবধারী বা সুনির্দিষ্ট নবীর অনুসারী ধর্মীয় জাতিকে মিল্লাত বলা হয় (যেমন: মিল্লাতে ইব্রাহীম)।
  • আন-নিহাল (النحل): এটি ‘নিহলাহ’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ বাতিল মতবাদ, উপদল, দর্শন বা মানুষের মনগড়া দার্শনিক মতাদর্শ (যেমন: মু’তাজিলা, খারেজী বা প্রাচীন পৌত্তলিক সম্প্রদায়সমূহ)।

١١- مَا الْكُونْفُوشِيُوسِيَّةُ؟ بَيِّنْ –

[১১. কনফুসিয়ানিজম কী? বর্ণনা কর।]

কনফুসীয়বাদ (Confucianism) হলো খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে চীনের বিখ্যাত দার্শনিক কনফুসিয়াস কর্তৃক প্রবর্তিত একটি নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শন। এটি সনাতন অর্থে কোনো ঈশ্বরবাদী ধর্ম নয়, বরং এটি পারিবারিক আনুগত্য, বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা (Filial Piety), সামাজিক শৃঙ্খলা এবং নীতিবান শাসক তৈরির এক ব্যবহারিক নীতিমালা। এতে মানুষের চরিত্র সংশোধন ও রাষ্ট্রের সুশাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


١٢- مَا هِيَ عَقِيدَةُ الْمُسْلِمِينَ فِي عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ؟ بَيِّنْ مُدَلَّلًا –

[১২. ঈসা (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস কী? প্রমাণসহ বর্ণনা কর।]

হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের আকিদা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট:

  1. আল্লাহর বান্দা ও সম্মানিত রাসূল: তিনি কোনো ঈশ্বর বা ঈশ্বরের পুত্র নন, বরং আল্লাহর নির্বাচিত রাসুল: إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ (সূরা আন-নিসা: ১৭১)।
  2. পিতা ছাড়া অলৌকিক জন্ম: মহান আল্লাহ তাঁকে মা মরিয়মের গর্ভে অলৌকিকভাবে পিতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন: إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِندَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ ۖ خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ (সূরা আলে ইমরান: ৫৯)।
  3. ক্রুশবিদ্ধ হননি: ইহুদিরা তাঁকে হত্যা বা ক্রুশবিদ্ধ করতে পারেনি; আল্লাহ তাঁকে সশরীরে আকাশে তুলে নিয়েছেন: وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَٰكِن شُبِّهَ لَهُمْ (সূরা আন-নিসা: ১৫৭)।
  4. কিয়ামতের পূর্বে পুনরাগমন: কিয়ামতের পূর্বে তিনি দাজ্জালকে বধ করতে এবং মুহাম্মদী শরিয়তের অনুসারী শাসক হিসেবে পৃথিবীতে অবতরণ করবেন।

١٣- بَيِّنْ طُقُوسَ الْيَهُودِ وَعِبَادَاتِهَا –

[১৩. ইহুদিদের আচার-অনুষ্ঠান ও ইবাদতের বিবরণ দাও।]

ইহুদিদের প্রধান ইবাদত ও ধর্মীয় রীতিনীতি নিম্নরূপ:

  • শাব্বাত (Sabbath): শুক্রবার সূর্যাস্ত থেকে শনিবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে তারা পবিত্র দিন হিসেবে পালন করে এবং এ সময় যে-কোনো প্রকার পার্থিব কাজ নিষিদ্ধ থাকে।
  • উপাসনা (Prayer in Synagogue): তারা দিনে তিনবার তাদের উপাসনালয় ‘সিনাগগ’ বা নিজ গৃহে পূর্ব দিকে মুখ করে প্রার্থনা করে। মাথায় ‘কিপ্পা’ নামক টুপি পরিধান করে।
  • প্রধান ধর্মীয় উৎসব: পাসওভার (মিশর থেকে মুক্তির স্মৃতি), ইওম কিপপুর (পাপমোচনের দিন বা প্রায়শ্চিত্তের দিন), এবং রোশ হাশানাহ (নতুন বর্ষবরণ)।
  • খাদ্যাভ্যাস (Kosher): শূকর ও রক্ত সম্পূর্ণ বর্জনীয় এবং কেবল তাদের নিয়ম অনুযায়ী জবাইকৃত হালাল খাবার (কোশার) ভক্ষণ করে।

١٤- تَحَدَّثْ عَنِ الطَّبَقَاتِ الِاجْتِمَاعِيَّةِ فِي الدِّيَانَةِ الْهِنْدُوسِيَّةِ –

[১৪. হিন্দু ধর্মের সামাজিক শ্রেণিভেদ বা বর্ণপ্রথা সম্পর্কে আলোচনা কর।]

হিন্দু ধর্মে বর্ণপ্রথা (Caste System) একটি অত্যন্ত কঠোর সামাজিক বিধান, যা ঋগ্বেদের পুরুষসূক্তের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। সমাজকে চারটি বর্ণে বিভক্ত করা হয়েছে:

  1. ব্রাহ্মণ: ব্রহ্মার মুখ থেকে সৃষ্ট বলে কথিত; এরা পূজা-অর্চনা, বেদ পাঠ ও পৌরহিত্যের দায়িত্বে নিয়োজিত সর্বোচ্চ মর্যাদাপ্রাপ্ত শ্রেণি।
  2. ক্ষত্রিয়: ব্রহ্মার বাহু থেকে সৃষ্ট; এরা যুদ্ধ ও দেশ শাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত।
  3. বৈশ্য: ব্রহ্মার উরু থেকে সৃষ্ট; এরা কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পশুপালনের দায়িত্বে নিয়োজিত।
  4. শূদ্র: ব্রহ্মার পদযুগল থেকে সৃষ্ট; এদের একমাত্র দায়িত্ব হলো ওপরের তিন উচ্চ বর্ণের সেবা করা। এদের মন্দিরে প্রবেশ ও বেদ পাঠের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হতো। এর বাইরে ‘অস্পৃশ্য’ বা দলিত শ্রেণি বিদ্যমান ছিল।

١٥- مَا هِيَ خَصَائِصُ الدِّيَانَةِ الْبُوذِيَّةِ؟

[১৫. বৌদ্ধ ধর্মের বৈশিষ্ট্য কী কী?]

গৌতম বুদ্ধ কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে প্রবর্তিত বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

  • স্রষ্টাহীন বা নিরীশ্বরবাদী ধর্ম: এতে কোনো পরম স্রষ্টা বা ঈশ্বরের ধারণা নেই; বরং মানুষের নিজের আত্মিক উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।
  • চারটি আর্য সত্য (Four Noble Truths): ১. দুঃখ আছে, ২. দুঃখের কারণ হলো তৃষ্ণা বা কামনা, ৩. দুঃখের বিনাশ সম্ভব, ৪. দুঃখ মুক্তির উপায় আছে।
  • অষ্টাঙ্গিক মার্গ: সৎ দৃষ্টি, সৎ সংকল্প, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি ও সৎ সমাধি।
  • নির্বাণ লাভ: জন্ম-মৃত্যুর পুনর্জন্ম চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি লাভ করে শূন্যতায় বিলীন হওয়াকে ‘নির্বাণ’ বলে।
  • অহিংসা পরম ধর্ম: জীব হত্যা মহাপাপ এবং সকল প্রাণীর প্রতি অহিংস আচরণ করা।

١٦- مَنْ كُونْفُوشِيُوس؟ بَيِّنْ تَعَالِيْمَهُ الْأَسَاسِيَّةَ –

[১৬. কনফুসিয়াস কে? তার মৌলিক শিক্ষার বর্ণনা দাও।]

কনফুসিয়াস: কনফুসিয়াস (৫৫১–৪৭৯ খ্রি.পূ.) ছিলেন প্রাচীন চীনের এক প্রখ্যাত দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত চীনে নৈতিক শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে এক আদর্শিক দর্শনের ভিত্তি স্থাপন করেন।

তাঁর মৌলিক শিক্ষাসমূহ:

  1. রেন (Ren – পরোপকার ও মানবপ্রেম): অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং নিজের জন্য যা পছন্দ করি অন্যের জন্যও তা পছন্দ করা।
  2. লি (Li – শিষ্টাচার ও নিয়ম): সমাজের প্রতিটি স্তরে আচার-আচরণ ও প্রথা যথাযথভাবে মেনে চলা।
  3. পিতা-মাতার প্রতি পরম আনুগত্য (Xiao): পরিবারের প্রধান ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি নিঃশর্ত ভক্তি প্রদর্শন।
  4. আদর্শ শাসক (Junzi): শাসককে অবশ্যই প্রজ্ঞাবান ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে, যিনি বলপ্রয়োগ না করে আদর্শ আচরণের মাধ্যমে শাসন করবেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. আল ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা পত্রটির বিষয় কোড ও মূল বিষয়বস্তু কী?

এ পত্রের বিষয় কোড হলো ২০১৩০৮। এতে ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্যের পাশাপাশি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের আলোকে ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও চীনা ধর্মসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা রয়েছে।

২. ইহুদিদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম কী?

ইহুদিদের প্রধান আসমানী কিতাব হলো তাওরাত (Torah বা ওল্ড টেস্টামেন্ট) এবং তাদের মৌখিক ব্যাখ্যা ও আইনের সংকলন হলো তালমুদ (Talmud)।

৩. খ্রিস্টধর্মের প্রধান তিনটি শাখা কী কী?

খ্রিস্টধর্মের প্রধান তিনটি সম্প্রদায় হলো: ১. রোমান ক্যাথলিক (ভ্যাটিকান কেন্দ্রিক), ২. ইস্টার্ন অর্থোডক্স (পূর্ব ইউরোপ ও গ্রিস কেন্দ্রিক), এবং ৩. প্রোটেস্ট্যান্ট (সংস্কারবাদী চার্চ)।

৪. শিখ ধর্মের প্রবর্তক কে এবং তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম কী?

শিখ ধর্মের প্রবর্তক হলেন গুরু নানক এবং তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের নাম হলো ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’ (আদি গ্রন্থ)।

৫. ইসলামে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা কেমন?

ইসলামে ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই। ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকগণ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ উপাসনালয়ে ইবাদত ও ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পূর্ণ আইনি নিরাপত্তা ভোগ করেন।

৬. তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন একজন দা’য়ীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অন্যান্য ধর্মের বিশ্বাস, শাস্ত্রীয় অসঙ্গতি ও দুর্বলতা জানার মাধ্যমে অমুসলিমদের কাছে প্রজ্ঞা ও যুক্তিপূর্ণভাবে ইসলামের তাওহিদের দাওয়াত উপস্থাপন করা অত্যন্ত সহজ হয়।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *