জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

আল-ইসলাম ওয়াল আদয়ানুল উখরা (Al-Islam wal Adyanul Ukhra) – 203304, দাওয়াহ্ ও ইসলামিক স্টাডিজ – ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২

Abswer.com Abswer.com
20 September, 2026
৫৮ মিনিট পড়ার সময়
৮ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: 203 | প্রশ্নপত্র কোড: 090
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢٢
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الإسلام والأديان الأخرى
[আল-ইসলাম ওয়াল আদয়ানুল উখরা]
বিষয় কোড: 203304
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (الف) [বিভাগ ‘ক’ – রচনামূলক প্রশ্নাবলী]

মান: ১৫ × ৪ = ৬০

١- ما الدين؟ وبيّن حاجة الناس إليه رغم وجود القوانين الوضعية-

[১. ধর্ম কাকে বলে? মানব রচিত আইন থাকা সত্ত্বেও মানবজাতির ধর্মের প্রতি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

মানবজাতির সৃষ্টির সূচনা থেকেই ধর্ম মানব সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান বস্তুবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক যুগে অনেকে দাবি করে যে মানুষের তৈরি সংবিধান, আইন ও পুলিশ-প্রশাসন থাকায় ধর্মের আর কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা চরম বিভ্রান্তিকর। মানব রচিত কোনো আইনই মানুষের মনের পশুত্ব দূর করতে এবং পূর্ণ শান্তি নিশ্চিত করতে পারে না; এজন্য আসমানি ধর্মের ভূমিকা চিরন্তন ও অপরিহার্য।

ধর্মের সংজ্ঞা ও হাকীকত (ما الدين)

শাব্দিক অর্থ: ‘দ্বীন’ (الدين) একটি আরবি শব্দ, এর অর্থ আনুগত্য, পথ, জীবনব্যবস্থা, প্রতিদান বা বিচার।

পারিভাষিক অর্থ: আল্লামা জুরজানী (রহ.) বলেন: ধর্ম হলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এমন এক ঐশী ব্যবস্থা যা বুদ্ধিমান মানুষকে তাদের নিজস্ব স্বতঃস্ফূর্ত পছন্দের ভিত্তিতে ইহকালের সার্বিক কল্যাণ এবং পরকালের চিরমুক্তির পথে পরিচালিত করে।

মানব রচিত আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্মের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা

  1. অন্তরের পুলিশ ও নৈতিক বিবেক গঠন:
    মানব রচিত আইন মানুষ কেবল তখনই মানে যখন সামনে পুলিশ বা সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে। নির্জন ও গোপনে অপরাধ করার সুযোগ পেলে মানুষ পার্থিব আইন অনায়াসে ভঙ্গ করে। কিন্তু ধর্ম মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) স্থাপন করে। একজন মুমিন বিশ্বাস করে: “আমি যেখানেই থাকি না কেন, আল্লাহ আমাকে দেখছেন।” এই অদৃশ্য পাহারা ছাড়া দুর্নীতি ও অপরাধ দমন অসম্ভব।
  2. আইন প্রণয়নে মানবীয় সীমাবদ্ধতা ও স্বার্থপরতা:
    মানুষের তৈরি আইন কখনোই নিরপেক্ষ হয় না; শাসক দল বা পুঁজিপতিরা নিজেদের ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষার উপযোগী আইন তৈরি করে। কিন্তু আসমানি আইন পরম স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসে, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্ব বা ত্রুটি থাকে না।
  3. জীবনের সার্বিক উদ্দেশ্য ও মানসিক প্রশান্তি দান:
    মানব রচিত কোনো সংবিধান উত্তর দিতে পারে না: ‘আমি কে? কেন সৃষ্টি হয়েছি? মৃত্যুর পর কী হবে?’ এই অস্তিত্ববাদী প্রশ্নের একমাত্র তৃপ্তিদায়ক জবাব দেয় ধর্ম। হতাশা, একাকীত্ব ও আত্মহত্যার মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ধর্মই একমাত্র আশ্রয়স্থল।
  4. আখিরাতের জবাবদিহিতা ও চরম ন্যায়বিচার:
    দুনিয়ায় বহু জালিম, খুনি ও দুর্নীতিবাজ টাকা ও ক্ষমতার জোরে পার্থিব আদালত থেকে খালাস পেয়ে যায় এবং বহু মজলুম বিচার না পেয়ে মারা যায়। ধর্ম এই বিশ্বাস দেয় যে কিয়ামতের দিন মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর আদালতে সরিষার দানা পরিমাণ জুলুমেরও চূড়ান্ত বিচার হবে। এই বিশ্বাস মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে।

উপসংহার

ধর্ম কোনো আফিম নয়; ধর্ম হলো মানব আত্মার অক্সিজেন। পার্থিব আইনের ব্যর্থতার যুগে ধর্মই মানবতার ভারসাম্যপূর্ণ শান্তি ও সুশাসনের একমাত্র নিশ্চয়তা।


٢- اشرح محاسن الإسلام الاجتماعية في ضوء القرآن والسنة-

[২. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামের সামাজিক সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বিস্তারিত ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

ইসলাম কোনো মঠবাসী সন্ন্যাসীদের ধর্ম নয়; বরং এটি এক ভারসাম্যপূর্ণ ও সুবিচারময় সমাজ গঠনের ঐশী দর্শন। সামাজিক সংহতি, পারস্পরিক ভালোবাসা এবং অসহায়ের অধিকার সুরক্ষায় ইসলাম যে সমাজব্যবস্থা উপহার দিয়েছে, তা মানব সভ্যতার সবচেয়ে উজ্জ্বল ও কল্যাণময় অধ্যায়।

কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সামাজিক সৌন্দর্যের রূপরেখা

  1. বর্ণবাদহীন বৈশ্বিক মানবভ্রাতৃত্ব:
    রক্ত, ভাষা, গোত্র ও গায়ের রঙের বিভেদ ভেঙে দিয়ে ইসলাম ঘোষণা করেছে সকল মানুষ সমান। রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেন:

    لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى أَعْجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ إِلَّا بِالتَّقْوَى

    “কোনো আরবের ওপর অনারবের এবং কোনো অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই; সাদার ওপর কালোর কিংবা কালোর ওপর সাদার কোনো প্রাধান্য নেই, তাকওয়া ছাড়া।” (মুসনাদে আহমাদ)

  2. পিতা-মাতা ও প্রবীণদের সর্বোচ্চ সম্মান:
    বৃদ্ধাশ্রমের অমানবিক সংস্কৃতির বিপরীতে ইসলাম বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অহ বা উফ শব্দটিও করতে নিষেধ করেছে এবং তাদের সেবাকে জান্নাত লাভের চাবিকাঠি বানিয়েছে।
  3. প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ও অধিকার:
    প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে জিবরিল (আ.) এত বেশি তাগিদ দিয়েছিলেন যে নবীজি ভেবেছিলেন প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হবে। ক্ষুধার্ত প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে তৃপ্তিসহ খাওয়াকে ইসলামে ঈমানের পরিপন্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
  4. যাকাত ও সদকার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সাম্য:
    ধনীদের সম্পদে দরিদ্রের অধিকার নির্ধারণ করে সমাজে পুঁজিবাদী বৈষম্য ও শ্রেণিসংগ্রাম দূর করা হয়েছে। বায়তুল মালের মাধ্যমে রাষ্ট্র সামাজিক সুরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
  5. এতিম ও মজলুমের সুরক্ষা:
    এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করাকে পেটে আগুন ভরার সমতুল্য কবিরা গুনাহ বলা হয়েছে এবং বিধবা ও অসহায়দের সাহায্যকারীকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার

ইসলামের এই সামাজিক সৌন্দর্য যখন সমাজে বাস্তবায়িত হয়, তখন সমাজ থেকে অপরাধ, হিংসা ও হাহাকার দূর হয়ে পৃথিবীতে এক পরম শান্তির স্বর্গ নেমে আসে।


٣- ناقش خصائص الإسلام في ضوء الآية: (الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ)-

[৩. ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম’—পবিত্র আয়াতটির আলোকে ইসলামের কালজয়ী বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।]

ভূমিকা

দশম হিজরিতে ঐতিহাসিক বিদায় হজের আরাফাতের ময়দানে জুমার দিনে নাযিল হওয়া সূরা আল-মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতটি ইসলামি শরীয়তের পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের এক চিরন্তন ঐশী ঘোষণাপত্র:

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়েদা: ৩)

আয়াতটির আলোকে ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. শরীয়তের পূর্ণাঙ্গতা (كمال التشريع):
    ইসলাম কোনো অসম্পূর্ণ ধর্ম নয় যাতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো নবী বা নতুন কোনো বিধান সংযোজনের প্রয়োজন হবে। এতে মানবজীবনের প্রয়োজনীয় যাবতীয় মৌলিক বিধান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নিখুঁতভাবে সন্নিবেশিত করেছেন।
  2. সার্বজনীন নেয়ামত ও স্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা:
    ইসলাম পূর্ববর্তী শরীয়তের মতো কোনো নির্দিষ্ট গোত্র বা শতাব্দীতে আবদ্ধ নয়; এটি কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য আল্লাহর একমাত্র গ্রহণযোগ্য মনোনীত ধর্ম (ورضيت لكم الإسلام دينا)। অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদ আল্লাহর দরবারে গৃহীত হবে না।
  3. রদবদল ও বিকৃতি থেকে মুক্ত:
    পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে এতে কোনো প্রকার বিদআত, কাটছাঁট বা সংযোজন-বিয়োজনের অধিকার কারও নেই। রাসূল (সা.) বলেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।” (সহিহ বুখারি)
  4. মানবজীবনের সামগ্রিক পরিধি (الشمولية):
    দ্বীনের পূর্ণতার অর্থ হলো এটি শুধু মসজিদ ও তাসবিহ-তাহলিলে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তি, সমাজ, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, আদালত ও রাষ্ট্র পরিচালনার সার্বিক গাইডলাইন এতে বিদ্যমান।
  5. ভারসাম্য ও মধ্যমপন্থা (الوسطية):
    চরম বৈরাগ্যবাদ এবং ভোগবাদী বস্তুবাদের বিপরীতে ইসলাম আত্মিক ও শারীরিক চাহিদার মাঝে এক অপূর্ব সুষম ভারসাম্য তৈরি করেছে।

উপসংহার

এই আয়াত মুসলিম উম্মাহর জন্য সর্বোচ্চ গৌরবের প্রতীক। ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ঐশী ব্যবস্থা, যার কাছে আত্মসমর্পণ করলেই মানবজাতির সার্বিক মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে।


٤- بيّن تعاليم الإسلام لحماية حقوق الإنسان مقارنة بالإعلان العالمي-

[৪. জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার সনদের তুলনায় মানবাধিকার সুরক্ষায় ইসলামের সুমহান শিক্ষা বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

মানবাধিকারের ধারণা কোনো আধুনিক পাশ্চাত্য আবিষ্কার নয়। বর্তমান জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালে যে মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR) তৈরি করেছে, তার প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে ইসলামি শরীয়ত এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে বিশ্ববাসীকে মানবাধিকারের সবচেয়ে শক্তিশালী, অলঙ্ঘনীয় ও স্থায়ী সনদ উপহার দিয়েছিলেন।

মানবাধিকার সুরক্ষায় ইসলামের মৌলিক অবদান

  1. জীবনের পবিত্রতা ও বেঁচে থাকার অধিকার:
    ইসলাম নিরপরাধ একজন মানুষকে হত্যা করাকে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমতুল্য ঘোষণা করেছে:

    مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا

    “যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করল—নরহত্যা বা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির কারণ ছাড়া—সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।” (সূরা আল-মায়েদা: ৩২)

  2. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও বাসস্থানের নিরাপত্তা:
    কারও বাড়িতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা এবং মানুষের গোপন দোষ অনুসন্ধান (গুপ্তচরবৃত্তি) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  3. সম্পত্তির নিরাপত্তা:
    অন্যায়ভাবে কারও সম্পদ আত্মসাৎ করা হারাম এবং নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত ব্যক্তিকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
  4. নারীর আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক অধিকার:
    কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জাহিলি প্রথা বন্ধ করে ইসলাম নারীকে সম্পত্তির পূর্ণ স্বাধীন মালিকানা ও সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে।
  5. ধর্মীয় স্বাধীনতা:
    কাউকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা নিষিদ্ধ এবং ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের (জিম্মি) জান-মাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা প্রদান রাষ্ট্রের জন্য ফরজ।

জাতিসংঘের সনদের সাথে ইসলামের তুলনামূলক পার্থক্য

তুলনার ক্ষেত্র ইসলামি মানবাধিকার জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ (১৯৪৮)
উৎস মহান আল্লাহর ওহী নির্দেশিত শাশ্বত ঐশী বিধান। মানুষের তৈরি চুক্তি ও রাজনৈতিক সমঝোতা।
বাধ্যবাধকতা ঈমানি তাগিদ ও পরকালীন জবাবদিহিতার কারণে মানুষ স্বেচ্ছায় পালন করে। কেবল আন্তর্জাতিক পুলিশি বা রাজনৈতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল।
বাস্তবায়নের ব্যর্থতা খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছিল। বর্তমান ফিলিস্তিন, কাশ্মীর ও কাশ্মীরে পরাশক্তিগুলোর স্বার্থে চরম ব্যর্থ ও পক্ষপাতদুষ্ট।

উপসংহার

পশ্চিমা মানবাধিকার সনদ যখন স্বার্থপরতা ও ভেটো ক্ষমতার ফাঁদে বন্দি, তখন ইসলামি মানবাধিকার জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্য এক নিঃশর্ত ও চিরন্তন রক্ষাকবচ।


٥- من هم اليهود؟ وما الفرق بينهم وبين المسلمين في العقيدة؟

[৫. ইহুদি কারা? এবং আকিদা ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে মুসলমানদের সাথে তাদের মৌলিক পার্থক্যসমূহ কী কী?]

ভূমিকা

বিশ্বের প্রাচীনতম আসমানি জাতিগুলোর একটি হলো ইহুদি বা বনি ইসরাইল। তারা হযরত মূসা (আ.)-এর অনুসারী হওয়ার দাবি করলেও ইতিহাসজুড়ে তারা আল্লাহর কিতাব বিকৃত করেছে এবং নবীদের হত্যা করেছে। তাওহিদ ও নবুওয়াতের আকিদার ক্ষেত্রে ইসলামের সাথে ইহুদিবাদের আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

ইহুদিদের পরিচয়

হযরত ইয়াকূব (আ.)-এর চতুর্থ পুত্র ইয়াহুদার বংশধরদের এবং পরবর্তীতে তালমুদ ও বিকৃত তোরাহ বিশ্বাসী জাতিকে ‘ইহুদি’ বলা হয়। তারা নিজেদের খোদার মনোনীত শ্রেষ্ঠ জাতি (God’s Chosen People) মনে করে এবং চরম জাতিবাদী অহমিকায় ভোগে।

আকিদাগত ক্ষেত্রে মুসলিম ও ইহুদিদের মৌলিক পার্থক্যসমূহ

  1. আল্লাহ সম্পর্কে আকিদা:
    • মুসলিম: আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো সন্তান বা শরিক নেই; তিনি সর্বপ্রকার দুর্বলতা, ক্লান্তি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মুক্ত।
    • ইহুদি: তারা হযরত উযায়ের (আ.)-কে আল্লাহর পুত্র দাবি করে (সূরা আত-তাওবাহ: ৩০)। তাওরাতে দাবি করা হয়েছে যে আল্লাহ সৃষ্টিজগত বানিয়ে ক্লান্ত হয়ে সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন (নাউজুবিল্লাহ) এবং তিনি ইয়াকূব (আ.)-এর সাথে কুস্তি লড়েছিলেন।
  2. আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের নিষ্পাপতা:
    • মুসলিম: সকল নবী সর্বপ্রকার গুনাহ ও অশ্লীলতা থেকে আল্লাহ কর্তৃক সংরক্ষিত ও নিষ্পাপ।
    • ইহুদি: তাদের বিকৃত কিতাবে নবীদের চরিত্রহনন করা হয়েছে। মূসাকে অহংকারী, হারূনকে বাছুর পূজার প্ররোচনাকারী, লূতকে মদ্যপায়ী ও কন্যাদের সাথে ব্যভিচারী এবং দাউদকে পরকীয়া প্রেমিক হিসেবে জঘন্য অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
  3. হযরত ঈসা ও মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত:
    • মুসলিম: ঈসা (আ.) এবং মুহাম্মদ (সা.) উভয়কে আল্লাহর সত্য ও সম্মানিত রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত।
    • ইহুদি: তারা ঈসা (আ.)-কে একজন ভণ্ড ও জারজ সন্তান মনে করে এবং শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে চরম হিংসাবশত অস্বীকার করে।
  4. মানবজাতি ও বর্ণবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি:
    • মুসলিম: সমগ্র মানবজাতি এক পিতা-মাতার সন্তান; তাকওয়া ছাড়া কারও কোনো আভিজাত্য নেই।
    • ইহুদি: তাদের কিতাব তালমুদ অনুযায়ী কেবল ইহুদিরাই প্রকৃত মানুষ; অন্য সকল জাতি হলো ‘গোয়িম’ (Goyim) বা পশুসমতুল্য, যাদের জান-মাল ধ্বংস করা ইহুদিদের জন্য বৈধ।

উপসংহার

ইহুদিরা আসমানি ওহী থেকে বিচ্যুত হয়ে এক চরম বিকৃত ও মানবতাবিদ্বেষী জাতিবাদী ধর্মে পর্যবসিত হয়েছে, যা ইসলামের সর্বজনীন ইনসাফের সম্পূর্ণ বিপরীত।


٦- كيف قاوم المسلمون مؤامرات اليهود في عهد الرسول ﷺ؟

[৬. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুসলিমগণ কীভাবে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন?]

ভূমিকা

মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইহুদিদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জান-মালের নিরাপত্তা দিয়ে ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু ইহুদিরা তাদের জন্মগত বিশ্বাসঘাতকতার কারণে একের পর এক চক্রান্ত শুরু করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) অসাধারণ প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সাথে তাদের ষড়যন্ত্র দমন করেছিলেন।

ইহুদিদের প্রধান ষড়যন্ত্র ও মুসলিমদের প্রতিরোধ

  1. বনু কাইনুকার বিদ্রোহ দমন (২য় হিজরি):
    বদর যুদ্ধের পর বনু কাইনুকার ইহুদিরা মদিনার বাজারে এক মুসলিম নারীর শ্লীলতাহানি করে এবং প্রতিবাদকারী মুসলিমকে হত্যা করে মদিনা সনদ লঙ্ঘন করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের দুর্গ ১৫ দিন অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তাদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে মদিনা থেকে বহিষ্কার করেন।
  2. বনু নাযীরের হত্যা চক্রান্ত নস্যাৎ (৪র্থ হিজরি):
    বনু নাযীর গোত্র রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের দুর্গে গেলে ছাদ থেকে বিশাল পাথরের চাঁই ফেলে তাঁকে হত্যার গোপন চক্রান্ত করে। জিবরিল (আ.) ওহীর মাধ্যমে নবীজিকে জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে মুসলিম সেনাবাহিনী তাদের দুর্গ অবরোধ করে এবং তাদের মদিনা থেকে নির্বাসিত করে খায়বারে তাড়িয়ে দেয়।
  3. বনু কুরাইযার চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিচার (৫ম হিজরি):
    খন্দকের যুদ্ধের ভয়াবহতম মুহূর্তে যখন মদিনা দশ হাজার কাফির বাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ, তখন মদিনার অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষায় থাকা বনু কুরাইযা চুক্তি ভঙ্গ করে বহিঃশত্রুর সাথে যোগসাজশ করে মুসলিম নারী ও শিশুদের ওপর পেছন থেকে আক্রমণের ষড়যন্ত্র করে। যুদ্ধ শেষে রাসূল (সা.) তাদের দুর্গ অবরোধ করেন। তাদেরই নির্বাচিত মিত্র হযরত সাদ ইবনে মুআজ (রা.) তাওরাতের বিধান অনুযায়ী রায় দেন যে সকল পুরুষ বিশ্বাসঘাতককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মদিনা চিরতরে নিরাপদ হয়।
  4. খায়বার বিজয় ও সামরিক শক্তির পতন (৭ম হিজরি):
    খায়বার ছিল ইহুদিদের সামরিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের প্রধান দুর্গ। সপ্তম হিজরিতে রাসূল (সা.) ও হযরত আলী (রা.)-এর নেতৃত্বে খায়বারের অপরাজেয় দুর্গগুলো একের পর এক জয় করা হয় এবং তাদের বিষদাঁত চিরতরে ভেঙে দেওয়া হয়।

উপসংহার

রাসূলুল্লাহ (সা.) কূটনৈতিক উদারতার পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা নবগঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।


٧- تحدث عن كتب النصرانية وما اعتراها من تحريف عبر التاريخ-

[৭. খ্রিস্টধর্মের ধর্মগ্রন্থসমূহ এবং ইতিহাসজুড়ে তাতে সংঘটিত বিকৃতি বিস্তারিত আলোচনা কর।]

ভূমিকা

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর অবতীর্ণ মূল আসমানি ইনজিল কিতাবটি বর্তমানে খ্রিস্টানদের কাছে বিদ্যমান নেই। খ্রিস্টানরা যাকে ‘বাইবেল’ বলে, তা মূলত শত শত বছর ধরে রচিত বহু মানুষের স্মৃতিগাথা ও পরস্পরবিরোধী বর্ণনার এক বিশাল সংকলন, যা চরম বিকৃতির শিকার হয়েছে।

খ্রিস্টীয় বাইবেলের পরিচয় ও গঠন

খ্রিস্টানদের বাইবেল দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:

  • ওল্ড টেস্টামেন্ট (পুরাতন নিয়ম): এতে ৩৯টি (ক্যাথলিকদের মতে ৪৬টি) পুস্তক রয়েছে, যা মূলত ইহুদিদের তাওরাত, জবুর ও নবীদের ইতিহাস।
  • নিউ টেস্টামেন্ট (নতুন নিয়ম): এতে ২৭টি পুস্তক রয়েছে, যার প্রধান অংশ হলো চারটি গসপেল বা সুসমাচার: মথি, মার্ক, লূক ও যোহন। এছাড়া রয়েছে সেন্ট পলের পত্রাবলী ও প্রেরিতদের কার্যবিবরণী।

ইতিহাসজুড়ে ইঞ্জিল বিকৃতির অকাট্য প্রমাণসমূহ

  1. মূল ভাষার বিলুপ্তি: ঈসা (আ.) কথা বলতেন আরামাইক ভাষায়। কিন্তু তাঁর কোনো আরামাইক কিতাব সংরক্ষিত থাকেনি। কয়েক দশক পর গ্রিক ভাষায় বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ নিজ স্মৃতি থেকে বই লেখেন, যাদের অধিকাংশের সাথেই ঈসা (আ.)-এর সরাসরি কোনো পরিচয় ছিল না।
  2. পরস্পরবিরোধী অগণিত বক্তব্য:
    মথি ও লূকের মধ্যে যিশুর বংশতালিকায় সম্পূর্ণ স্ববিরোধিতা বিদ্যমান। যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় ও শেষ বাক্য নিয়ে চার ইঞ্জিলে চার রকমের পরস্পরবিরোধী বর্ণনা রয়েছে।
  3. সেন্ট পলের পৌত্তলিক দর্শনের অনুপ্রবেশ:
    সেন্ট পল ঈসা (আ.)-এর একেশ্বরবাদী ধর্মকে ধ্বংস করে গ্রিক পৌত্তলিক দর্শনের আদলে ‘ত্রিত্ববাদ’ (Trinity), ‘যিশুর ঈশ্বরত্ব’ এবং ‘আদি পাপ ও প্রায়শ্চিত্তবাদের’ মতো সম্পূর্ণ মনগড়া কুফরি আকিদা ইঞ্জিলে প্রবেশ করান।
  4. কাউন্সিল অব নিসিয়া (৩২৫ খ্রি.):
    রোমান পৌত্তলিক সম্রাট কনস্টানটাইনের সভাপতিত্বে ৩২৫ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে শত শত প্রচলিত ইঞ্জিল পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং কেবল এই চারটি ইঞ্জিলকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়। একক ঈশ্বরের প্রচারক বিশপ আরিয়াস ও তাঁর অনুসারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
  5. কুরআনের অকাট্য সাক্ষ্য: আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে তাদের বিকৃতির কথা উন্মোচন করেছেন:

    فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَذَا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا

    “ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে এবং সামান্য পার্থিব স্বার্থের জন্য বলে: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে।” (সূরা আল-বাকারা: ৭৯)

উপসংহার

বর্তমান বাইবেল মানুষের ইচ্ছাকৃত হস্তক্ষেপ ও অনুবাদের বিকৃতিতে পরিপূর্ণ। একমাত্র পবিত্র কুরআনই হলো মানব ইতিহাসের শতভাগ অবিকৃত আসমানি কিতাব।


٨- من هو غوتم بوذا؟ واشرح مبادئ البوذية وعقائدها-

[৮. গৌতম বুদ্ধ কে? এবং বৌদ্ধধর্মের প্রধান মূলনীতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসসমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা কর।]

ভূমিকা

প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী কঠোর বর্ণপ্রথা, বৈদিক পশুবলি ও সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে এক নতুন নীতিবাদী দর্শনের উদ্ভব ঘটে, যা ‘বৌদ্ধধর্ম’ নামে পরিচিত। এর প্রবর্তক ছিলেন গৌতম বুদ্ধ।

গৌতম বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত জীবনী

গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত নাম ছিল সিদ্ধার্থ। তিনি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে নেপালের তরাই অঞ্চলের কপিলাবস্তুর শাক্য রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল রাজা শুদ্ধোধন এবং মাতা মায়াদেবী। রাজপ্রাসাদের অপরিসীম ভোগবিলাসে বড় হলেও তিনি মানবজীবনের দুঃখ-কষ্ট দেখে ব্যথিত হন।

একদিন নগর পরিভ্রমণে বেরিয়ে তিনি একজন জরাজীর্ণ বৃদ্ধ, একজন দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্ত রোগী, একটি মৃতদেহ এবং একজন প্রশান্ত সন্ন্যাসী দেখতে পান। এই ‘চারটি দৃশ্য’ তাঁর অন্তরে গভীর বৈরাগ্য সৃষ্টি করে। ২৯ বছর বয়সে তিনি স্ত্রী গোপা (যশোধরা) ও নবজাতক পুত্র রাহুলকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে সত্যের সন্ধানে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর তপস্যার পর ভারতের গয়ার একটি বোধিবৃক্ষের (অশ্বত্থ গাছ) নিচে তিনি ‘বোধি’ (দিব্যজ্ঞান) লাভ করে ‘বুদ্ধ’ (জ্ঞানী) নামে খ্যাত হন।

বৌদ্ধধর্মের প্রধান বিশ্বাস ও দর্শন

  1. চারটি আর্য সত্য (Four Noble Truths):
    • সর্বং দুঃখম (The world is full of suffering): মানবজীবন রোগ, শোক, বার্ধক্য ও মৃত্যুজনিত দুঃখে পরিপূর্ণ।
    • দুঃখ সমুদয় (Origin of suffering): কামনা, বাসনা ও জাগতিক তৃষ্ণাই সকল দুঃখের মূল।
    • দুঃখ নিরোধ (Cessation of suffering): সকল কামনা-বাসনা ও আসক্তি ত্যাগের মাধ্যমেই দুঃখ থেকে মুক্তি সম্ভব।
    • দুঃখ নিরোধ মার্গ: দুঃখ মুক্তির সুনির্দিষ্ট পথ হলো অষ্টাঙ্গিক মার্গ।
  2. অষ্টাঙ্গিক মার্গ (Eightfold Path):
    সৎ দৃষ্টি, সৎ সংকল্প, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম, সৎ জীবিকা, সৎ প্রচেষ্টা, সৎ স্মৃতি ও সৎ সমাধি।
  3. নির্বাণ (Nirvana):
    বৌদ্ধদের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। পুনর্জন্মের চক্র ও সকল জাগতিক তৃষ্ণা থেকে প্রদীপের শিখা নিভে যাওয়ার মতো চিরতরে বিলুপ্ত বা মুক্ত হওয়া।
  4. অহিংসা পরম ধর্ম:
    কোনো প্রাণীকে হত্যা না করা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন করা।
  5. স্রষ্টা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি:
    বৌদ্ধধর্মে কোনো একক সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না। এটি মূলত কর্মফল (Karma) ও জন্মান্তরবাদ নির্ভর একটি নিরীশ্বরবাদী নৈতিক দর্শন।

উপসংহার

বৌদ্ধধর্ম অহিংসা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বললেও এটি আল্লাহর দাসত্ব ও পরকালীন জবাবদিহিতা বিবর্জিত একটি অসম্পূর্ণ পার্থিব দর্শন।


مجموعة (ب) [বিভাগ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী]

মান: ৫ × ৪ = ২০

٩- ما الفرق بين الدين والملل والنحل؟

[৯. দ্বীন, মিল্লাত এবং নিহাল (নাহল)-এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

উত্তর

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে এই তিনটি পারিভাষিক শব্দের সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে:

  • আদ-দ্বীন (الدين): মহান আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা ও মূল বিশ্বাস। সকল নবীর দ্বীন ছিল এক—তাওহিদ ও ইসলাম।
  • আল-মিলাত (الملل): কোনো নির্দিষ্ট নবীর ঐতিহ্যের অনুসারী সম্প্রদায় বা জাতিসত্তা (যেমন: মিল্লাতে ইবরাহিম, মিল্লাতে মূসা)। দ্বীন যখন একটি ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সম্প্রদায়ের রূপ নেয় তখন তাকে মিল্লাত বলে।
  • আন-নিহাল (النحل): ‘নাহল’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো মানুষের উদ্ভাবিত মনগড়া উপদল, দার্শনিক ফেরকা, মতবাদ বা ধর্মের ভেতর সৃষ্ট বিচ্ছিন্ন উপদল (যেমন: শিয়া, মুতাযিলা, কাদিয়ানিয়াত ইত্যাদি)। আল্লামা শাহরাস্তানী রচিত বিখ্যাত তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’।

١٠- ما هي عقيدة اليهود في عزير عليه السلام؟

[১০. হযরত উযায়ের আলাইহিস সালাম সম্পর্কে ইহুদিদের আকিদা কী?]

উত্তর

হযরত উযায়ের (আ.) বনি ইসরাইলের একজন প্রখ্যাত নবী ছিলেন। ব্যাবিলনের রাজা বখতেনাসার যখন জেরুজালেম ধ্বংস করে তাওরাতের সকল পাণ্ডুলিপি জ্বালিয়ে দেয়, তখন উযায়ের (আ.) অলৌকিকভাবে শত বছর মৃত থাকার পর জীবিত হয়ে নিজের স্মৃতি থেকে অবিকল তাওরাত নতুন করে সংকলন করে দেন।

এই অলৌকিক ঘটনার কারণে ইহুদিরা সীমালঙ্ঘন করে তাঁকে সাধারণ মানুষ না ভেবে আল্লাহর অংশ মনে করে এবং ঘোষণা করে: “উযায়ের হলেন আল্লাহর পুত্র।” পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাদের এই শিরকি আকিদা উন্মোচিত করেছেন:

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ

“আর ইহুদিরা বলে: উযায়ের আল্লাহর পুত্র।” (সূরা আত-তাওবাহ: ৩০)


١١- ما الفرق بين اليهود وبني إسرائيل؟ واذكر عشرة من أنبيائهم-

[১১. ইহুদি এবং বনি ইসরাইলের মধ্যে পার্থক্য কী? এবং তাঁদের দশজন নবীর নাম উল্লেখ কর।]

উত্তর

পার্থক্য:

  • বনি ইসরাইল (بنو إسرائيل): হযরত ইয়াকূব (আ.)-এর অপর নাম ছিল ‘ইসরাইল’ (আল্লাহর বান্দা)। তাঁর বংশোদ্ভূত সকল ১২টি রক্তীয় গোত্রকে জাতিগতভাবে ‘বনি ইসরাইল’ বলা হয়। এটি একটি বংশ বা জাতিবাচক নাম।
  • ইহুদি (اليهود): এটি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক রূপ। ইয়াকূব (আ.)-এর পুত্র ইয়াহুদার অনুসারী এবং পরবর্তীতে যারা মূসা (আ.)-এর কিতাব বিকৃত করে তালমুদীয় ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে তাদের ইহুদি বলা হয়। সকল ইহুদি বংশগতভাবে বনি ইসরাইল নাও হতে পারে (যেমন ধর্মান্তরিত আশকেনাজি ইহুদি)।

বনি ইসরাইলের দশজন নবীর নাম:
১. হযরত ইউসুফ (আ.), ২. হযরত মূসা (আ.), ৩. হযরত হারূন (আ.), ৪. হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ.), ৫. হযরত শামউইল (আ.), ৬. হযরত দাউদ (আ.), ৭. হযরত সুলাইমান (আ.), ৮. হযরত ইউনুস (আ.), ৯. হযরত যাকারিয়া (আ.) এবং ১০. হযরত ইয়াহইয়া (আ.)।


١٢- اكتب نبذة عن نشأة النصرانية وتطورها-

[১২. খ্রিস্টধর্মের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস লেখ।]

উত্তর

সূচনা: হযরত ঈসা (আ.) ফিলিস্তিনের নাসেরা (Nazareth) অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করে তাওহিদের দাওয়াত দেন। তাঁর অনুসারীদের নাসারা বা খ্রিস্টান বলা হয়। প্রাথমিক যুগে তাঁরা একেশ্বরবাদী ছিলেন এবং রোমানদের তীব্র নির্যাতনের শিকার হন।

সেন্ট পলের অনুপ্রবেশ: সেন্ট পল ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান সেজে ঈসা (আ.)-এর ধর্মকে গ্রিক পৌত্তলিক দর্শনের সাথে মিশিয়ে ত্রিত্ববাদ ও প্রায়শ্চিত্তবাদের উদ্ভাবন করেন।

রাষ্ট্রীয়করণ ও বিভক্তি: ৩১৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং এটিকে রোম সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রধর্মে রূপান্তর করেন। পরবর্তীতে ১০৫৪ সালে এটি ক্যাথলিক ও অর্থোডক্স এবং ১৬ শতকে মার্টিন লুথারের সংস্কারের মাধ্যমে প্রোটেস্ট্যান্ট—এই প্রধান তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে।


١٣- ما هي الكتب المقدسة لليهودية؟

[১৩. ইহুদি ধর্মের প্রধান পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ কী কী?]

উত্তর

ইহুদিদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ দুটি:

  1. তানাক বা হিব্রু বাইবেল (Tanakh): এটি তিনটি অংশের সমষ্টি:
    • তোরাহ (Torah): মূসা (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ শশরীয়ত (আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক ইত্যাদি ৫টি খণ্ড)।
    • নবীঈম (Nevi’im): পরবর্তী পয়গম্বরদের ঐতিহাসিক পুস্তক।
    • কেতুভীম (Ketuvim): ভক্তিমূলক সাহিত্য ও গান।
  2. তালমুদ (Talmud): ইহুদি পণ্ডিত ও রাব্বিদের মৌখিক আইন ও ব্যাখ্যার সংকলন। এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ১. মিশনাহ (মূল আইন) এবং ২. গেমারা (বিশদ ব্যাখ্যা)। ইহুদিদের দৈনন্দিন জীবনে তালমুদের প্রভাব তাওরাতের চেয়েও বেশি।

١٤- ما هي عقيدة النصارى في عيسى عليه السلام؟ وفندها بالأدلة-

[১৪. হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে খ্রিস্টানদের আকিদা কী? দলিলের সাহায্যে তা খণ্ডন কর।]

উত্তর

খ্রিস্টানদের আকিদা: খ্রিস্টানরা বিশ্বাস করে যিশু কেবল একজন মানুষ নন; বরং তিনি স্বয়ং ঈশ্বরের পুত্র (Son of God) এবং ত্রিত্ববাদের দ্বিতীয় ব্যক্তি (ঈশ্বরের রক্ত-মাংসের অবতার), যিনি মানবজাতির পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে জীবন দিয়েছেন।

কুরআনি দলিলের সাহায্যে খণ্ডন:

  • আল্লাহর সন্তান হওয়া অসম্ভব: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।” (সূরা আল-ইখলাস: ৩-৪)
  • ঈসা (আ.)-এর জন্ম আল্লাহর কুদরত: পিতা ছাড়া জন্ম হওয়া খোদা হওয়ার প্রমাণ নয়। আল্লাহ বলেন:

    إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ

    “নিশ্চয় আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের মতো; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন, অতঃপর বলেছিলেন ‘হও’, ফলে তা হয়ে গেল।” (সূরা আলে ইমরান: ৫৯) আদম (আ.) পিতা ও মাতা উভয় ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছিলেন, তবে তিনি খোদা নন।

  • ঈসা (আ.) খাবার খেতেন: কুরআনে বলা হয়েছে ঈসা ও তাঁর মা মারইয়াম উভয়েই আহার গ্রহণ করতেন। যে ব্যক্তি খাবার ও মলত্যাগের মুখাপেক্ষী, সে কখনো বিশ্বজগতের স্রষ্টা ঈশ্বর হতে পারে না।

١٥- اذكر العقائد الأساسية للهندوسية-

[১৫. হিন্দুধর্মের মৌলিক আকিদা ও বিশ্বাসসমূহ উল্লেখ কর।]

উত্তর

হিন্দুধর্মের প্রধান মৌলিক বিশ্বাসসমূহ নিম্নরূপ:

  1. ব্রহ্মা ও দেব-দেবী পূজা: পরমাত্মা ব্রহ্মা এক হলেও তিনি অসংখ্য রূপ ধারণ করেন। ফলে ৩৩ কোটি দেব-দেবী ও প্রতিমার পূজা করা তাদের ধর্মে স্বীকৃত।
  2. জন্মান্তরবাদ ও সংসার চক্র: মানুষ মৃত্যুর পর বারবার বিভিন্ন রূপ নিয়ে পৃথিবীতে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে (মানুষ বা পশু-পাখি হিসেবে)।
  3. কর্মফলবাদ (Karma): মানুষ তার পূর্বজন্মে যে ভালো বা মন্দ কাজ করে, পরবর্তী জন্মে সে অনুযায়ী ভালো বা নিকৃষ্ট স্তরে জন্মগ্রহণ করে।
  4. মোক্ষ বা মুক্তি (Moksha): আত্মার পুনর্জন্মের অনন্ত চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে পরমাত্মা ব্রহ্মার সাথে চিরতরে লীন হয়ে যাওয়া।
  5. কঠোর বর্ণাশ্রম প্রথা: সমাজকে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র—এই চার জন্মগত বর্ণে বিভক্ত রাখা।

١٦- تحدث عن نشأة السيخية ومن هو مؤسسها؟

[১৬. শিখ ধর্মের উৎপত্তি আলোচনা কর এবং এর প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?]

উত্তর

প্রতিষ্ঠাতা: শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হলেন গুরু নানক (১৪৬৯-১৫৩৯ খ্রি.)। তিনি অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাবের তালওয়ান্দি (বর্তমান পাকিস্তানের নানকানা সাহেব) গ্রামে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎপত্তি ও ইতিহাস: পঞ্চদশ শতকে মুসলিম সুফিবাদের তাওহিদ ও প্রেম এবং হিন্দুধর্মের ভক্তি আন্দোলনের সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি একটি সমন্বয়বাদী ধর্মীয় ধারা প্রবর্তন করেন। ‘শিখ’ শব্দের অর্থ শিষ্য বা ছাত্র।

প্রধান বিশ্বাসসমূহ:

  • এক নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা (ওয়াহে গুরু)।
  • দশজন ঐতিহাসিক শিখ গুরু (গুরু নানক থেকে গুরু গোবিন্দ সিংহ)।
  • পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’-কে জীবন্ত গুরুর মর্যাদা প্রদান।
  • দশম গুরু গোবিন্দ সিংহ শিখদের জন্য পাঁচটি ‘ক’ (Kesh/চুল, Kanga/চিরুনি, Kara/লোহার বালা, Kachera/বিশেষ জাঙ্গিয়া, Kirpan/তলোয়ার) বাধ্যতামূলক করেন এবং পাঞ্জাবের অমৃতসরে স্বর্ণমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ধর্মের প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা কেন চিরন্তন?

কারণ পার্থিব কোনো মানব রচিত আইন মানুষের অন্তরে স্থায়ী খোদাভীতি ও নৈতিক বিবেক তৈরি করতে পারে না; একমাত্র ধর্মই মানুষকে পরকালের জবাবদিহিতা ও আত্মিক শান্তি দান করে।

২. জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদের চেয়ে ইসলামি মানবাধিকার কেন শ্রেষ্ঠ?

ইসলামের মানবাধিকার পরম স্রষ্টা আল্লাহর ওহী নির্দেশিত স্থায়ী বিধান, যা কোনো মানুষের পক্ষপাতিত্বমুক্ত এবং মানুষ ঈমানি তাগিদে ঘরে-বাইরে সর্বাবস্থায় তা মেনে চলতে বাধ্য থাকে।

৩. ইহুদিদের কাছে ‘তালমুদ’ গ্রন্থের মর্যাদা কী?

তালমুদ হলো প্রাচীন ইহুদি রাব্বিদের মৌখিক আইন ও ব্যাখ্যার সংকলন। বর্তমান ইহুদি সমাজে মূল তাওরাতের চেয়েও তালমুদের বর্ণবাদী নীতিসমূহ অধিক অনুসরণ করা হয়।

৪. খ্রিস্টানদের ‘ত্রিত্ববাদ’ (Trinity) আকিদাটি কীভাবে এল?

মূল ইঞ্জিলে ত্রিত্ববাদ ছিল না; সেন্ট পল পরবর্তীতে ঈসা (আ.)-এর নির্ভেজাল তাওহিদকে পরিবর্তন করে গ্রিক ও রোমান পৌত্তলিক দর্শনের সাথে মিশিয়ে ত্রিত্ববাদের মনগড়া আকিদা তৈরি করেন।

৫. বৌদ্ধধর্মে ‘নির্বাণ’ বলতে কী বুঝায়?

নির্বাণ হলো সকল প্রকার জাগতিক তৃষ্ণা, মোহ ও পুনর্জন্মের অনন্ত চক্র থেকে প্রদীপের শিখা নিভে যাওয়ার মতো চিরতরে মুক্তি লাভ করা।

৬. শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা কে এবং তাঁদের মূল ধর্মগ্রন্থ কোনটি?

শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হলেন গুরু নানক এবং তাঁদের একমাত্র স্বীকৃত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হলো ‘গুরু গ্রন্থ সাহিব’।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *