পরীক্ষা কোড: 203 | প্রশ্নপত্র কোড: 092
اختبار السنة الثالثة للفاضل (البكالوريوس) الشرف، لعام ٢٠٢٢
[ফাজিল (স্নাতক) সম্মান তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২]
الدعوة والدراسات الإسلامية
[দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
الاستشراق والتنصير
[আল-ইসতিশরাক ওয়াত তানসির]
বিষয় কোড: 203306
الوقت — ٤ ساعات [সময় — ৪ ঘণ্টা] | الدرجات الكاملة — ٨٠ [পূর্ণমান — ৮০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (الف) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: (الف) অংশ থেকে চারটি এবং (ب) অংশ থেকে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (الف) [বিভাগ ‘ক’ – রচনামূলক প্রশ্নাবলী]
মান: ১৫ × ৪ = ৬০
١- تحدث عن تاريخ الاستشراق وأهدافه في العالم الإسلامي-
[১. প্রাচ্যতত্ত্বের (ইসতিশরাক) ইতিহাস এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রধান প্রধান লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইউরোপীয় অমুসলিম পণ্ডিতগণ কর্তৃক প্রাচ্যের ভাষা, ধর্ম, সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ে পরিচালিত সুসংগঠিত একাডেমিক গবেষণাকে ‘ইসতিশরাক’ বা Orientalism বলা হয়। মধ্যযুগের ক্রুসেড যুদ্ধোত্তর কাল থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত প্রাচ্যতত্ত্ব মুসলিম বিশ্বের চিন্তাচেতনাকে প্রভাবিত করার সবচেয়ে আগ্রাসী বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রাচ্যতত্ত্বের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
- ধর্মীয় সূচনাকাল (১২শ-১৪শ শতক): ক্রুসেডে সামরিক পরাজয়ের পর চার্চ বুঝতে পারে যে মুসলিমদের ঈমান ধ্বংস করতে তাদের ভাষা ও কিতাব বুঝতে হবে। ১১৪৩ সালে পিটার দ্য ভেনারেবল লাতিন ভাষায় প্রথম কুরআনের অনুবাদ করান। ১৩১২ সালে ভিয়েনা কাউন্সিলে ইউরোপের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা চেয়ার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাণিজ্যিক ও রেনেসাঁ যুগ (১৬শ-১৭শ শতক): ইউরোপের বাণিজ্য বিস্তার ও অটোমান সাম্রাজ্যের ভয়ে তারা তুর্কি ও আরবি ভাষা গবেষণার জন্য বিভিন্ন অ্যাকাডেমি খোলে।
- ঔপনিবেশিক যুগ ও স্বর্ণযুগ (১৮শ-১৯শ শতক): ব্রিটিশ, ফরাসি ও ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রাচ্যতত্ত্ব রাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ও বেসামরিক নীতিনির্ধারক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। ভারতে উইলিয়াম জোন্স এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য (২০শ শতক ও বর্তমান): সরাসরি উপনিবেশ শেষ হলেও বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, পশ্চিমা থিংকট্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজ বিভাগের মাধ্যমে আজও ইসলামি চিন্তায় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
মুসলিম বিশ্বে প্রাচ্যতত্ত্বের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ
- কুরআন ও হাদিসের প্রতি মুসলিমদের আস্থা নষ্ট করা: হাদিস ও তাফসির নিয়ে কৃত্রিম সংশয় তৈরি করা যেন শিক্ষিত মুসলিম তরুণরা নিজ ধর্ম থেকে দূরে সরে যায়।
- খ্রিস্টধর্মের আধিপত্য ও তানসিরের ক্ষেত্র তৈরি: খ্রিস্টধর্মকে প্রগতিশীল ও ইসলামকে পশ্চাৎপদ হিসেবে চিত্রিত করা।
- ঔপনিবেশিক শোষণ দীর্ঘস্থায়ী করা: মুসলিম দেশগুলোর জাতিগত ও ধর্মীয় বিভেদ উস্কে দিয়ে পশ্চিমা রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
- পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ প্রতিষ্ঠা: মুসলিম সমাজে উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও লিবারেলিজম চাপিয়ে দেওয়া।
উপসংহার
প্রাচ্যতত্ত্বের এই বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে এর অকাট্য জবাব দেওয়াই হলো সমকালীন মুসলিম চিন্তাবিদদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
٢- ما هي شبهات المستشرقين حول الحياة الأسرية للرسول ﷺ وردّ عليها-
[২. বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পারিবারিক জীবন ও বহুবিবাহ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের আনীত সংশয়সমূহ কী কী? দলিলের সাহায্যে এর উপযুক্ত জবাব দাও।]
ভূমিকা
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষ্পাপ চরিত্রকে কলঙ্কিত করার লক্ষ্যে প্রাচ্যবিদরা তাঁর পারিবারিক জীবন ও একাধিক বিবাহকে সবচেয়ে বেশি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা তাঁকে ভোগবাদী ও নারীবাদী হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ও ওহীর প্রজ্ঞার সামনে তাদের এ অপপ্রচার এক নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
প্রাচ্যবিদদের প্রধান সংশয়সমূহ
- সংশয়-১: “মুহাম্মদ (সা.) নারীদের প্রতি অতি আসক্ত ছিলেন, এজন্য তিনি এতগুলো বিবাহ করেছিলেন।”
- সংশয়-২: “হযরত আয়েশা (রা.)-এর সাথে তাঁর বাল্যবিয়ে কোনো নৈতিক মানদণ্ডে পড়ে না।”
ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক অকাট্য জবাব
১. যৌবনের ২৫ বছর একাকী একজন বয়স্ক বিধবার সাথে অতিবাহিত:
যদি তিনি নারীলোভী হতেন, তবে আরবের উষ্ণ জলবায়ুর যৌবনের শ্রেষ্ঠতম সময় (২৫ থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত) তিনি নিজের চেয়ে ১৫ বছরের বড় দুই সন্তানের জননী বিধবা হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে একনিষ্ঠভাবে জীবন কাটাতেন না। খাদিজা (রা.) জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি দ্বিতীয় কোনো বিবাহ করেননি। কোনো ভোগবাদী মানুষের পক্ষে এমন পবিত্র জীবনযাপন কল্পনাও করা যায় না।
২. বহুবিবাহের রাজনৈতিক, সামাজিক ও দাওয়াতি হিকমত (৫০ বছর বয়সের পর):
হযরত খাদিজার ওফাতের পর মদিনা জীবনে ইসলামের অস্তিত্ব সুরক্ষায় তিনি যে বিবাহগুলো করেছিলেন, তার প্রত্যেকটির পেছনে মহান উদ্দেশ্য ছিল:
- সামাজিক ও মানবিক পুনর্বাসন: সাওদা, হাফসা, উম্মে সালমা ও জয়নব বিনতে খুজাইমা (রা.) ছিলেন বয়োবৃদ্ধা যুদ্ধবিধবা ও এতিম সন্তানদের মা। তাঁদের সম্মানজনক আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে নবীজি বিয়ে করেন।
- ইসলামি আইনের কুসংস্কার দূরীকরণ (পালক পুত্রের স্ত্রীর সাথে বিয়ে): তৎকালীন সমাজে পালক পুত্রকে নিজের জন্মদাতা পুত্রের মতো ভাবা হতো এবং তার স্ত্রীকে বিবাহ হারাম মনে করা হতো। আল্লাহ ওহীর মাধ্যমে এই জাহিলি প্রথা ভাঙতে জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-এর সাথে নবীজির বিয়ে দেন (সূরা আল-আহযাব: ৩৭)।
- গোত্রীয় শত্রুতা দূর ও রাজনৈতিক মৈত্রী: জুয়াইরিয়া (রা.)-কে বিয়ের পর তাঁর পুরো গোত্র স্বাধীন হয় এবং সবাই ইসলাম গ্রহণ করে। উম্মে হাবিবা (রা.)-কে বিয়ের মাধ্যমে মক্কার কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ানের সাথে শত্রুতা হ্রাস পায়। সাফিয়া (রা.) ছিলেন ইহুদি নেতার কন্যা, যা ইহুদিদের শত্রুতা কমাতে ভূমিকা রাখে।
- নারী সমাজের শরীয়তের শিক্ষাদান: মুসলিম নারীদের গোপন ও ব্যক্তিগত মাসআলা শেখাতে নবীজির ঘরে এমন বুদ্ধিমতী স্ত্রীদের প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে হযরত আয়েশা (রা.)-এর মাধ্যমে উম্মাহ দুই সহস্রাধিক বিশুদ্ধ হাদিস লাভ করেছে।
৩. হযরত আয়েশা (রা.)-এর বিবাহ প্রসঙ্গে:
সপ্তম শতাব্দীর আরবে মেয়েদের শারীরিক পরিণতি দ্রুত ঘটত এবং অল্প বয়সে বিবাহ ছিল আরবের স্বাভাবিক সাধারণ রীতি। এমনকি কুরাইশ মুশরিকরা নবীজির সকল কিছুর বিরোধিতা করলেও আয়েশা (রা.)-এর বিবাহ নিয়ে কখনোই কোনো আপত্তি তোলেনি; কারণ এটি তখনকার সংস্কৃতিতে শতভাগ স্বাভাবিক ছিল। আধুনিক পশ্চিমা মানদণ্ড দিয়ে দেড় হাজার বছর আগের ঘটনা বিচার করা চরম মূর্খতা।
উপসংহার
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র পারিবারিক জীবন ছিল মানবজাতির জন্য খোদাভীতি, ন্যায়বিচার ও সর্বোচ্চ মানবিক মর্যাদার এক অনন্য মহাকাব্য।
٣- ما المراد بالتنصير؟ وتحدث عن نشاطاته في بنغلاديش-
[৩. তানসির (খ্রিষ্টান মিশনারি তৎপরতা) বলতে কী বুঝায়? এবং বাংলাদেশে এর ক্ষতিকর তৎপরতা বিস্তারিত আলোচনা কর।]
ভূমিকা
‘তানসির’ (Christianization) হলো মুসলিম ও অমুসলিম বিশ্বকে পরিকল্পিতভাবে অর্থ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ত্রাণের ফাঁদে ফেলে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার এক সুসংগঠিত বৈশ্বিক আন্দোলন। প্রায় নব্বই শতাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী চক্র ও শত শত এনজিওর মাধ্যমে ব্যাপক তানসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে তানসিরের প্রধান কর্মক্ষেত্র ও কৌশলসমূহ
- পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উপজাতীয় অঞ্চল দখল:
রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠী (মুরং, ত্রিপুরা, বম, চাকমা)-দের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মিশনারিরা স্কুল, গির্জা ও হাসপাতালের জাল তৈরি করেছে। বহু উপজাতিকে ইতোমধ্যে শতভাগ ধর্মান্তরিত করে ফেলা হয়েছে। - উত্তরবঙ্গের চরাঞ্চল ও আদিবাসী পল্লী:
দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের গারো, সাঁওতাল ও দরিদ্র মুসলিম কৃষকদের ক্ষুদ্রঋণ ও উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। - মানবিক এনজিও ও চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান:
বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার সময় বিদেশি মিশনারি এনজিওগুলো (যেমন: ওয়ার্ল্ড ভিশন, কারিতাস, এডভেন্টিস্ট ইত্যাদি) ত্রাণের প্যাকেট ও গৃহনির্মাণ ঋণের শর্ত হিসেবে যিশুর প্রার্থনা ও বাপ্তিস্ম নিতে বাধ্য করে। - অভিজাত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজ:
রাজধানী ঢাকা সহ বিভাগীয় শহরগুলোতে নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস, সেন্ট জোসেফ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চবিত্ত মুসলিম সন্তানদের মানসিকতা থেকে পর্দা ও ইসলামি মূল্যবোধ দূর করে তাদের ওপর পশ্চিমা সংস্কৃতির আধিপত্য তৈরি করা হয়। - ‘ঈসায়ী জামাত’ নাম দিয়ে প্রতারণা:
তারা সরাসরি চার্চ না বানিয়ে তাকে ‘মসজিদ’ বা ‘দরবার’ বলে, কুরআন পাঠের মতো সুর করে বিকৃত ইঞ্জিল পড়ে এবং যিশুকে ‘হযরত ঈসা রুহুল্লাহ’ ডেকে সাধারণ সরলমনা মুসলমানদের ঈমান হরণ করছে।
জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি
পাহাড়ে তথাকথিত ‘স্বায়ত্তশাসন’ ও খ্রিস্টান বাফার স্টেট তৈরির গোপন আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ ও সরকারকে তানসিরের এই বহুমুখী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নজরদারি জোরদার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিকল্প ইসলামি সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
٤- ناقش نشاطات البعثات التبشيرية في إندونيسيا وجنوب شرق آسيا-
[৪. ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় খ্রিষ্টান মিশনারি দলগুলোর আগ্রাসী তৎপরতা আলোচনা কর।]
ভূমিকা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম রাষ্ট্র। শতকরা নব্বই ভাগ মুসলিমের এই বিশাল দ্বীপপুঞ্জকে খ্রিস্টান আধিপত্যে নিয়ে আসার জন্য পশ্চিমা চার্চগুলো বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে আগ্রাসন চালাচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ায় তানসিরের প্রধান কৌশল ও প্রভাব
- ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার: ৩৫০ বছরের ডাচ শাসনের সময় তারা আইন করে মুসলিম মাদ্রাসাগুলোর তহবিল বন্ধ করে দেয় এবং চার্চ ও মিশনারি স্কুলগুলোকে রাষ্ট্রীয় বাজেটে সমৃদ্ধ করে।
- ‘রাইস ক্রিশ্চিয়ানিটি’ (Rice Christianity): ঘন ঘন সুনামি ও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চাল, খাদ্য ও আশ্রয়ের বিনিময়ে গণহারে ধর্মান্তরিত করার কৌশল।
- কনটেক্সচুয়ালাইজেশন (সংস্কৃতির রূপান্তর): মুসলিমদের ধোঁকা দিতে তারা চার্চের ওপর গম্বুজ তৈরি করে, আরবি হরফে গান লেখে এবং যিশুকে ‘নবী’ ডেকে সাধারণ অশিক্ষিত মানুষকে বিভ্রান্ত করে।
- মালুকু ও পূর্ব তিমুর সংকট: মিশনারিদের আগ্রাসনে পূর্ব তিমুরকে ইন্দোনেশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানো হয় এবং মালুকু (আম্বন) দ্বীপে মুসলিম-খ্রিস্টান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ বাধানো হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে তৎপরতা
- মালয়েশিয়া: ‘আল্লাহ’ শব্দের অপব্যবহার করে খ্রিস্টান প্রকাশনা বিতরণ ও আইনি ষড়যন্ত্র তৈরি করা।
- ফিলিপাইন: দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাওয়ের মরো মুসলমানদের ওপর শত বছর ধরে নির্যাতন ও তাদের জমি দখল করে খ্রিস্টান পুনর্বাসন করা।
উপসংহার
ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ সংগঠন ‘দেওয়ান দাওয়াহ’ ও ‘মুহাম্মাদিয়া’র মতো সচেতন প্রতিরোধ ব্যতীত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মুসলিম পরিচয় রক্ষা করা কঠিন হতো।
٥- بيّن العلاقة الوثيقة بين التنصير والاستشراق-
[৫. খ্রিষ্টান মিশনারি তৎপরতা (তানসির) এবং প্রাচ্যতত্ত্বের (ইসতিশরাক) মধ্যকার গভীর ও অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
ভূমিকা
ইসতিশরাক (Orientalism) এবং তানসির (Christianization) কোনো দুটি ভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক আন্দোলন নয়; বরং এরা একই সাম্রাজ্যবাদী দেহের দুটি অবিচ্ছেদ্য হাত। একটি বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণা চালায় আর অপরটি সেই গবেষণার আলোকে সরাসরি ধর্মান্তরিতকরণের ফাঁদ তৈরি করে।
উভয়ের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের স্বরূপ
- তত্ত্ব ও বাস্তবায়নের মেলবন্ধন (Research and Execution):
মুস্তাশরিকীনরা (প্রাচ্যবিদ) হলেন ল্যাবরেটরির গবেষক। তাঁরা কুরআন, হাদিস, মুসলিম সমাজ ও আরবি ভাষা নিয়ে চুলচেরা গবেষণা করে ইসলামি সমাজের দুর্বল দিক, অর্থনৈতিক সংকট ও ভৌগোলিক রন্ধ্রগুলো চিহ্নিত করেন। আর মুনাসসিরীনরা (মিশনারি) সেই গবেষণার ডাটাবেজ ব্যবহার করে মাঠে নেমে নির্দিষ্ট অঞ্চলে গিয়ে ধর্মান্তরিতকরণের ফাঁদ তৈরি করেন। - একই ব্যক্তিস্বার্থ ও পরিচয়:
ইতিহাসের বহু শীর্ষ প্রাচ্যবিদ একই সাথে চার্চের পাদ্রি বা মিশনারি ছিলেন। যেমন: স্যামুয়েল জোয়েমার, আর্নেস্ট রেনান ও লুই মাসিনন। জোয়েমার নিজেই মিশনারি ছিলেন এবং প্রাচ্যতত্ত্বের জ্ঞান দিয়ে মুসলিম যুবকদের মনোজগৎ ধ্বংস করার ম্যানুয়াল লিখেছিলেন। - অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
উভয়েরই মূল লক্ষ্য হলো ইসলামের বিশ্বজনীন উত্থান ঠেকানো, মুসলমানদের নিজেদের ধর্মের প্রতি হীনম্মন্যতায় ভোগানো এবং পশ্চিমা ও খ্রিস্টীয় সভ্যতার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। - পাশ্চাত্য রাষ্ট্রসমূহের আর্থিক ও রাজনৈতিক মদদ:
ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো তাদের পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্র এবং মিশনারি সংস্থা উভয়কেই সরকারি তহবিল থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়ে থাকে।
উপসংহার
প্রাচ্যতত্ত্ব হলো তলোয়ারের ধার আর তানসির হলো তলোয়ারের আঘাত। এই যৌথ বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে মুসলিম উম্মাহর সমন্বিত মেধা ও দাওয়াতি শক্তির উত্থান আবশ্যক।
٦- تحدث عن البعثات التبشيرية في شبه الجزيرة العربية-
[৬. আরব উপদ্বীপে পরিচালিত খ্রিষ্টান মিশনারি দলগুলোর তৎপরতা আলোচনা কর।]
ভূমিকা
ইসলামের পবিত্র জন্মভূমি আরব উপদ্বীপ (শাবহুল জাযীরাতুল আরাবিয়্যাহ)-কে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা পশ্চিমা চার্চের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। হাদিস শরীফে আরব ভূখণ্ড থেকে শিরক ও কুফর মুক্ত রাখার কঠোর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মিশনারিরা চিকিৎসা ও শিক্ষার ছদ্মবেশে আরবের বিভিন্ন সীমান্তে ঘাঁটি গেড়েছিল।
আরব উপদ্বীপে তানসিরের ঐতিহাসিক অনুপ্রবেশ
- আমেরিকান অ্যারাবিয়ান মিশন (১৮৮৯ খ্রি.):
স্যামুয়েল জোয়েমার এবং জেমস ক্যান্টিন ১৮৮৯ সালে ‘Arabian Mission’ গঠন করেন। তারা ইরাকের বসরা, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানে অফিস খোলে। - চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতালের ছদ্মবেশ:
তৎকালীন আরবে আধুনিক চিকিৎসার অভাব ছিল। মিশনারিরা কুয়েত ও বাহরাইনে ‘আমেরিকান মিশন হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করে। চিকিৎসা সেবার আড়ালে তারা রোগীদের বাইবেল বিতরণ ও খ্রিস্টধর্মের প্রশংসা করত। - শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানা:
আরব বেদুইন ও দরিদ্র শিশুদের আশ্রয়ের নামে এতিমখানা খুলে তাদের মনোজগৎ পরিবর্তনের চেষ্টা চালানো হয়। - তেল আবিষ্কার ও আধুনিক কর্পোরেট আগ্রাসন:
বিংশ শতাব্দীতে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল আবিষ্কারের পর পশ্চিমা হাজার হাজার প্রকৌশলী ও কোম্পানির সাথে চার্চের গোপন নেটওয়ার্ক আরবে প্রবেশ করে এবং বিদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের মাধ্যমে গোপন চার্চ কার্যক্রম শুরু হয়।
ব্যর্থতা ও মুসলিম প্রতিরোধ
আরবের জনগণের রক্তে মিশে থাকা সুদৃঢ় তাওহিদ ও ওলামায়ে কেরামের কঠোর সতর্কতার কারণে সেখানে সরাসরি মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করতে মিশনারিরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়। জোয়েমার আক্ষেপ করে বলেছিলেন: “আরব মরুভূমি মিশনারিদের জন্য এক অনুর্বর পাথুরে জমি।”
٧- ما هي أنشطة الكنائس الكاثوليكية في مجال التنصير؟
[৭. তানসিরের ক্ষেত্রে রোমান ক্যাথলিক চার্চের ভূমিকা ও বৈশ্বিক তৎপরতা ব্যাখ্যা কর।]
ভূমিকা
বিশ্ব খ্রিস্টধর্মের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ শাখা হলো রোমান ক্যাথলিক চার্চ, যার সদর দফতর ভ্যাটিকান সিটিতে অবস্থিত। পোপের নেতৃত্বে ক্যাথলিক চার্চ বিশ্বজুড়ে তানসির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
ক্যাথলিক চার্চের প্রধান প্রধান তৎপরতা
- জেসুইট অর্ডার (Jesuits): ষোড়শ শতকে ইগনাতিয়াস লয়োলা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘সোসাইটি অব জেসাস’ ছিল তানসিরের এলিট ফোর্স। তারা ছদ্মবেশে এশিয়া ও আমেরিকায় প্রবেশ করে উন্নত স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে অভিজাতদের ধর্মান্তরিত করত।
- ‘প্রোপাগান্ডা ফিদে’ (Propaganda Fide): ১৬২২ সালে ভ্যাটিকানে প্রতিষ্ঠিত ‘ধর্ম বিশ্বাসের প্রচার কাউন্সিল’। এটি বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক মিশনারিদের অর্থায়ন ও নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়।
- দাতব্য সংস্থা ‘কারিতাস’ (Caritas): ক্যাথলিক চার্চের বৈশ্বিক এনজিও নেটওয়ার্ক। ক্ষুধা, গৃহযুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপীড়িত দরিদ্র দেশে কোটি কোটি ডলার সাহায্য নিয়ে হাজির হয়ে পরোক্ষভাবে চার্চের প্রভাব বিস্তার করে।
- মাদার তেরেসা ও সেবাকেন্দ্র: ভারতের কলকাতা সহ বিভিন্ন দেশে সেবার আড়ালে মৃতপ্রায় রোগীদের গোপনে বাপ্তিস্ম দেওয়ার বিতর্কিত কৌশল প্রয়োগ করা হয়।
٨- اشرح دور الإغاثة الإنسانية والخدمات الاجتماعية كوسيلة للتنصير-
[৮. তানসিরের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে মানবিক ত্রাণ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা আলোচনা কর।]
ভূমিকা
মানুষ যখন চরম ক্ষুধা, রোগ-ব্যাধি বা গৃহযুদ্ধে অসহায় হয়ে পড়ে, তখন তার মানসিক প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে দুর্বল থাকে। এই মানবিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টান মিশনারিরা ত্রাণ ও সমাজসেবাকে তাদের প্রধান ধর্মপ্রচারের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে।
ত্রাণ ও সেবামূলক কার্যক্রমের অপব্যবহার
- খাদ্যের বিনিময়ে ঈমান হরণ (Food for Faith): সোমালিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া বা বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের সময় রুটি ও দুধের প্যাকেট দিয়ে তাদের চার্চে যেতে বাধ্য করা হয়।
- বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সার্জারি: অন্ধের চোখের ছানি অপারেশন বা কুষ্ঠরোগীদের আজীবন চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তাদের মন জয় করে ধর্মান্তরিত করা।
- ক্ষুদ্রঋণ ও স্বাবলম্বী প্রকল্পের ফাঁদ: দরিদ্র নারীদের সেলাই মেশিন বা ঋণ দিয়ে ধীরে ধীরে ইসলামি পর্দা ও পারিবারিক বন্ধন থেকে বের করে আনা।
- এতিমখানা পরিচালনা: যুদ্ধপীড়িত মুসলিম শিশুদের এনে খ্রিস্টীয় পরিবেশে বড় করে খ্রিস্টান বানানো (যেমন ইন্দোনেশিয়ার সুনামির পর হাজার হাজার শিশুকে দত্তক নেওয়ার চেষ্টা)।
উপসংহার
সেবা হওয়া উচিত নিঃস্বার্থ মানবিক কারণে; কিন্তু মিশনারিরা সেবাকে ধর্মান্তরিতকরণের পণ্য বানিয়ে আর্তমানবতার সাথে জঘন্য প্রতারণা করছে।
مجموعة (ب) [বিভাগ ‘খ’ – সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী]
মান: ৫ × ৪ = ২০
٩- اكتب نبذة عن المؤتمرات التنصيرية العالمية وأهدافها-
[৯. বিশ্ব খ্রিষ্টান মিশনারি সম্মেলনসমূহ এবং তাদের প্রধান প্রধান লক্ষ্য সংক্ষেপে লেখ।]
উত্তর
মুসলিম বিশ্বকে খ্রিস্টান বানানোর জন্য চার্চের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে:
- কায়রো সম্মেলন (১৯০৬ খ্রি.): স্যামুয়েল জোয়েমারের উদ্যোগে মিশরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুগুলোকে টার্গেট করে মিশনারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়।
- এডিনবরা সম্মেলন (১৯১০ খ্রি.): স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মিশনারি সম্মেলনে সমগ্র বিশ্বকে বিভিন্ন ভৌগোলিক জোনে ভাগ করে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চগুলোর মাঝে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
- কলোরাডো সম্মেলন (১৯৭৮ খ্রি.): উত্তর আমেরিকায় ৪০টি দেশের ১৫০ জন শীর্ষ মিশনারি মুসলিম বিশ্বে তানসিরের জন্য ১০০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেট বরাদ্দ করে।
١٠- ما الفرق بين الكنائس الكاثوليكية والبروتستانتية في أساليب التنصير؟
[১০. তানসিরের কর্মপদ্ধতিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের মধ্যকার পার্থক্য কী?]
উত্তর
| পার্থক্যের ক্ষেত্র | ক্যাথলিক চার্চ | প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ |
|---|---|---|
| কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব | ভ্যাটিকানের পোপের একক কঠোর নির্দেশনায় পরিচালিত। | স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত অসংখ্য সম্প্রদায় ও মিশন। |
| পদ্ধতি | প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, হাসপাতাল, কনভেন্ট স্কুল ও জেসুইট শৃঙ্খলা। | গণমাধ্যম, রেডিও-টিভি, বাইবেল অনুবাদ ও আক্রমণাত্মক প্রচার। |
| স্থানীয়করণ | স্থানীয় দেব-দেবী ও আচারের সাথে খ্রিস্টধর্মের সমন্বয় করে (Syncretism)। | ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সরাসরি ধর্মান্তরকরণে বেশি গুরুত্ব দেয়। |
١١- وضح الأنشطة التنصيرية في المناطق الجبلية ببنغلاديش-
[১১. বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।]
উত্তর
বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি উপজাতিদের লক্ষ্য করে মিশনারিরা নানামুখী কাজ করছে:
- শিক্ষা ও বোর্ডিং হোস্টেল: দুর্গম পাহাড়ে ফ্রি হোস্টেল খুলে দরিদ্র উপজাতীয় শিশুদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব শিক্ষা দেওয়া।
- অর্থ ও চাকরির প্রলোভন: ধর্মান্তরিত হলে ভালো চাকরি, উন্নত বসতবাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া।
- স্বায়ত্তশাসনের উস্কানি: স্থানীয়দের মাঝে বাঙালি ও মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে একটি স্বাধীন খ্রিস্টান ভূখণ্ড তৈরির আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করা।
١٢- بيّن كيف تُستغل الخدمات العلاجية والطبية كوسيلة للتنصير؟
[১২. চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবাকে কীভাবে তানসিরের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়?]
উত্তর
অসহায় অসুস্থ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে মিশনারিরা চিকিৎসা সেবাকে কাজে লাগায়:
- হাসপাতালের বেডে থাকা রোগীর বালিশের পাশে স্থানীয় ভাষায় বাইবেল ও লিফলেট রেখে দেওয়া।
- অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারের মাধ্যমে যিশুর নামে সুস্থতার জন্য দীর্ঘ প্রার্থনা করানো।
- বিনামূল্যে জটিল রোগের ওষুধ ও সার্জারি দিয়ে রোগীর অন্তরে যিশু ও চার্চের প্রতি গভীর ভক্তি তৈরি করা।
- সুস্থ হওয়ার পর তাকে চার্চের প্রার্থনাসভায় নিয়ে গিয়ে সবার সামনে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যে ‘যিশুই তাকে অলৌকিকভাবে সুস্থ করেছেন’।
١٣- ما هي أضرار الشيوعية والاشتراكية على الفكر الإسلامي؟
[১৩. ইসলামি চিন্তাচেতনায় সাম্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের ক্ষতিকর প্রভাব আলোচনা কর।]
উত্তর
কার্ল মার্ক্সের কমিউনিজম ও সমাজতন্ত্র নাস্তিক্যবাদী দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত:
- ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতা: মার্ক্স ধর্মকে ‘জনগণের আফিম’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। ফলে সমাজতন্ত্র মুসলিম তরুণদের মন থেকে আল্লাহ ও পরকালের বিশ্বাস নষ্ট করে।
- ব্যক্তিগত মালিকানার অবলুপ্তি: ইসলামে হালাল উপার্জনের ব্যক্তিগত মালিকানা ও ব্যবসা স্বীকৃত; সমাজতন্ত্র তা কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রীয় দাসত্ব কায়েম করে।
- মধ্য এশিয়ার মুসলিমদের গণহত্যা: সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে হাজার হাজার মসজিদ বন্ধ করে, ওলামায়ে কেরামকে সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে দিয়ে কুরআন পোড়ানো হয়েছিল।
١٤- اذكر أسماء بعض الجمعيات التنصيرية العالمية العاملة في العالم الإسلامي-
[১৪. মুসলিম বিশ্বে কর্মরত কয়েকটি আন্তর্জাতিক খ্রিষ্টান মিশনারি সংস্থার নাম উল্লেখ কর।]
উত্তর
মুসলিম বিশ্বে সক্রিয় কয়েকটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক মিশনারি সংস্থা:
- ওয়ার্ল্ড ভিশন (World Vision International)
- কারিতাস ইন্টারন্যাশনালিস (Caritas Internationalis)
- এডভেন্টিস্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিলিফ এজেন্সি (ADRA)
- ক্যাম্পাস ক্রুসেড ফর ক্রাইস্ট (Cru)
- সামারিটানস পার্স (Samaritan’s Purse)
- দ্য গাইডিয়নস ইন্টারন্যাশনাল (The Gideons International)
١٥- ما هي أهداف الصهيونية العالمية وعلاقتها بالتنصير؟
[১৫. আন্তর্জাতিক জায়নবাদের লক্ষ্য এবং তানসিরের সাথে এর গোপন আঁতাত সংক্ষেপে লেখ।]
উত্তর
জায়নবাদের লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক জায়নবাদের মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক ভূমিতে একক বর্ণবাদী ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, বায়তুল মুকাদ্দাস (মসজিদুল আকসা) ধ্বংস করে হায়কালে সুলাইমানি পুনর্নির্মাণ করা এবং নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ (Greater Israel) কায়েম করা।
তানসিরের সাথে সম্পর্ক: বর্তমান আমেরিকার কয়েক কোটি কট্টরপন্থী প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ বিশ্বাস করে যে যিশুর দ্বিতীয় আগমনের পূর্বে ইহুদিদের ফিলিস্তিনে সমবেত হওয়া এবং তৃতীয় মন্দির নির্মাণ করা ঈশ্বরের অলঙ্ঘনীয় ইচ্ছা। একে বলা হয় ‘খ্রিস্টান জায়নবাদ’ (Christian Zionism)। এই অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে পশ্চিমা খ্রিস্টান শক্তিগুলো অন্ধভাবে ইসরাইলের সকল গণহত্যা ও জুলুমকে বিলিয়ন ডলার দিয়ে সমর্থন দিয়ে আসছে।
١٦- اذكر بعض المنظمات غير الحكومية (NGOs) التنصيرية العاملة في بنغلاديش-
[১৬. বাংলাদেশে কর্মরত কয়েকটি খ্রিষ্টান মিশনারি এনজিওর নাম উল্লেখ কর।]
উত্তর
বাংলাদেশে সমাজসেবার আড়ালে সক্রিয় কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মিশনারি এনজিও:
- ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ (World Vision Bangladesh)
- কারিতাস বাংলাদেশ (Caritas Bangladesh)
- হিড বাংলাদেশ (HEED Bangladesh)
- লেপ্রসি মিশন বাংলাদেশ (The Leprosy Mission)
- সিসিপি (Christian Commission for Development in Bangladesh – CCDB)
- আর্মি অব স্যালভেশন (The Salvation Army)
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ‘ইসতিশরাক’ ও ‘তানসির’-এর মধ্যে মূল যোগসূত্র কী?
প্রাচ্যবিদরা (মুস্তাশরিকীন) ইসলামি সাহিত্যের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও দুর্বল দিক খুঁজে বের করে তত্ত্ব তৈরি করে, আর মিশনারিরা সেই তথ্য ব্যবহার করে মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করার কৌশল বানায়।
২. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বহুবিবাহের প্রধান কারণ কী ছিল?
যুদ্ধবিধবাদের মানবিক আশ্রয় দেওয়া, বিভিন্ন গোত্রের সাথে রাজনৈতিক মৈত্রী স্থাপন করে ইসলামি রাষ্ট্রের সুরক্ষা এবং মুসলিম নারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শরীয়তের বিধান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শিক্ষা দেওয়া।
৩. বাংলাদেশে মিশনারিদের প্রধান টার্গেট অঞ্চল কোনগুলো?
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা (বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি), উত্তরবঙ্গের দরিদ্র চরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন প্রান্তিক আদিবাসী পল্লী।
৪. ‘খ্রিস্টান জায়নবাদ’ (Christian Zionism) বলতে কী বুঝায়?
আমেরিকার কট্টরপন্থী খ্রিস্টানদের একটি অন্ধ বিশ্বাস যে যিশু খ্রিস্টের পুনরাগমনের পথ সুগম করতে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অবৈধ দখলদারিত্ব ও মসজিদুল আকসা ধ্বংস করে তৃতীয় মন্দির নির্মাণ করা অপরিহার্য।
৫. মিশনারিদের ‘রাইস ক্রিশ্চিয়ানিটি’ কৌশল কী?
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চরম দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে চাল, খাদ্য ও আশ্রয়ের লোভ দেখিয়ে নিঃস্ব মানুষকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার অনৈতিক কৌশলকে রাইস ক্রিশ্চিয়ানিটি বলা হয়।
৬. তানসির আগ্রাসন প্রতিরোধে মুসলিম বিশ্বের করণীয় কী?
এনজিওগুলোর গোপন ধর্মীয় তৎপরতার ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারি জোরদার করা, দারিদ্র্য দূরীকরণে স্থায়ী যাকাত ফান্ড গঠন করা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত ফ্রি হাসপাতাল ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।