পরীক্ষা কোড: ২০২ | সেট কোড: ৬৩
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠١٩م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০১৯]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
الشعر القديم-٢
[প্রাচীন আরবি পদ্য-২]
বিষয় কোড: ২০৪২০৭
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجات الكاملة-
[দ্রষ্টব্য: বাম পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]
١- تَرْجِمْ ثَلاَثًا مِنَ القِطَعَاتِ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ١٠ × ٣ = ٣٠)
[১. নিম্নোক্ত যেকোনো ৩টি কাব্যাংশের বাংলা ভাবার্থ ও অর্থ লিপিবদ্ধ করো: (মান: ১০ × ৩ = ৩০)]
(الف) امْرُؤُ القَيْسِ (المُعَلَّقَةُ):
قِفَا نَبْكِ مِنْ ذِكْرَى حَبِيبٍ وَمَنْزِلِ * بِسِقْطِ اللِّوَى بَيْنَ الدَّخُولِ فَحَوْمَلِ
فَتَوْضِحَ فَالمِقْرَاةِ لَمْ يَعْفُ رَسْمُهَا * لِمَا نَسَجَتْهَا مِنْ جَنُوبٍ وَشَمْأَلِ
تَرَى بَعَرَ الآرَامِ فِي عَرَصَاتِهَا * وَقِيعَانِهَا كَأَنَّهَا حَبُّ فُلْفُلِ
كَأَنِّي غَدَاةَ البَيْنِ يَوْمَ تَحَمَّلُوا * لَدَى سَمُرَاتِ الحَيِّ نَاقِفُ حَنْظَلِ-
পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:
- “হে আমার দুই সঙ্গী! তোমরা থামো, এসো আমরা প্রিয়তমার স্মৃতি এবং তার পরিত্যক্ত বাসস্থানের বিরহে অশ্রু বিসর্জন করি; যা সিক্বতুল লিওয়া নামক বালুকাময় বাঁকে দাখূল ও হাওমালের মধ্যবর্তী প্রান্তে অবস্থিত।”
- “অতঃপর তাওযীহ ও মিক্বরাতের মধ্যবর্তী এই জনপদের চিহ্নাদি এখনো সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়নি; কেননা দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত বায়ু একে বালুকণা দ্বারা আবৃত করে সংরক্ষিত রেখেছে।”
- “আজ সেখানে হরিণের দল নির্ভয়ে চড়ে বেড়াচ্ছে এবং তাদের শুষ্ক বিষ্ঠাগুলো যেন উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ও সমতল ভূমিতে গোলমরিচের দানার মতো ছড়িয়ে রয়েছে।”
- “প্রিয়তমার বিদায়ের প্রভাতে, যেদিন তারা উটের পিঠে আরোহণ করে চিরবিদায় নিল, আমি গোত্রের বাবলা বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে এমনভাবে রোদন করছিলাম যেন কোনো ব্যক্তি হানযাল (মাকাল ফল) চিরে তার তীব্র ঝাঁঝে বিদীর্ণ হচ্ছে!”
(ب) قُرَيْطُ بْنُ أُنَيْفٍ (دِيوَانُ الحَمَاسَةِ):
لَوْ كُنْتُ مِنْ مَازِنٍ لَمْ تَسْتَبِحْ إِبِلِي * بَنُو اللَّقِيطَةِ مِنْ ذُهْلِ بْنِ شَيْبَانَا
إِذَنْ لَقَامَ بِنَصْرِي مَعْشَرٌ خُشُنٌ * عِنْدَ الحَفِيظَةِ إِنْ ذُو لَوْثَةٍ لاَنَا
قَوْمٌ إِذَا الشَّرُّ أَبْدَى نَاجِذَيْهِ لَهُمْ * طَارُوا إِلَيْهِ زَرَافَاتٍ وَوُحْدَانَا
لاَ يَسْأَلُونَ أَخَاهُمْ حِينَ يَنْدُبُهُمْ * فِي النَّائِبَاتِ عَلَى مَا قَالَ بُرْهَانَا-
পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:
- “হায়! আমি যদি বনু মাযিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হতাম, তবে যুহল ইবনে শায়বান গোত্রের এই জারজ সন্তানেরা কখনো আমার উটগুলো লুণ্ঠন করে নিতে সাহস পেত না!”
- “যদি আমি তাদের লোক হতাম, তবে আত্মমর্যাদার চরম মুহূর্তে এমন একদল কঠোর ও দুর্ধর্ষ যোদ্ধা আমার সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়ত, যখন দুর্বলচিত্ত ভীরুরা ভয়ে নরম হয়ে যায়।”
- “তারা এমন এক নির্ভীক জাতি— বিপদ যখন তার বিষদাঁত উন্মোচন করে হিংস্র রূপ ধারণ করে, তখন তারা দলবদ্ধভাবে কিংবা একাকী তার মোকাবিলায় ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে যায়।”
- “বিপদের দিনে তাদের কোনো ভাই যখন সাহায্যের জন্য ফরোয়ার্ড হয় বা আর্তনাদ করে, তখন তারা তার বক্তব্যের সত্যতার জন্য কোনো প্রমাণ বা যুক্তি দাবি করে না; বরং সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়ে।”
(ج) كَعْبُ بْنُ زُهَيْرٍ (بَانَتْ سُعَادُ – مَدْحُ النَّبِيِّ وَالمُهَاجِرِينَ):
إِنَّ الرَّسُولَ لَنُورٌ يُسْتَضَاءُ بِهِ * مُهَنَّدٌ مِنْ سُيُوفِ اللَّهِ مَسْلُولُ
فِي فِتْيَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ قَالَ قَائِلُهُمْ * بِبَطْنِ مَكَّةَ لَمَّا أَسْلَمُوا زُولُوا
زَالُوا فَمَا زَالَ أَنْكَاسٌ وَلاَ كُشُفٌ * عِنْدَ اللِّقَاءِ وَلاَ مِيلٌ مَعَازِيلُ
شُمُّ العَرَانِينِ أَبْطَالٌ لَبُوسُهُمْ * مِنْ نَسْجِ دَاوُدَ فِي الهَيْجَا سَرَابِيلُ-
পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:
- “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল হলেন এক চিরভাস্বর জ্যোতির্ময় আলোকবর্তিকা, যাঁর থেকে বিশ্ববাসী হেদায়েতের আলো লাভ করে; তিনি ভারতীয় ইস্পাতে তৈরি কোষমুক্ত আল্লাহর এক উজ্জ্বল তরবারি।”
- “তিনি কুরাইশদের এমন একদল বীর যুবকদের মধ্যে আবির্ভূত হয়েছেন, মক্কার উপত্যকায় যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল তখন কাফিরদের মুখপাত্র তাদের দেশত্যাগের নির্দেশ দিল।”
- “তারা দেশত্যাগ করলেন বটে, কিন্তু রণক্ষেত্রে তারা কখনো হীনবল, অস্ত্রহীন বা পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী কাপুরুষ ছিলেন না।”
- “উন্নত নাসিকা ও মর্যাদাসম্পন্ন এই বীরদের যুদ্ধের পোশাক ছিল হযরত দাউদ (আ.)-এর নির্মিত ইস্পাতকঠিন লৌহবর্ম।”
(د) جَرِيرٌ (نَقَائِضُ جَرِيرٍ وَالفَرَزْدَقِ):
حَلَفْتُ بِرَبِّ مَكَّةَ وَالمُصَلَّى * وَأَعْنَاقِ الهَدْيِ مُقَلَّدَاتِ
لَقَدْ قَلَّدْتُ جِلْفَ بَنِي كُلَيْبٍ * قَلاَئِدَ فِي السَّوَالِفِ بَاقِيَاتِ
تَلاَئِدَ لَيْسَ مِنْ ذَهَبٍ وَلَكِنْ * مَوَاسِمَ مِنْ جَهَنَّمَ مُنْضَجَاتِ
فَكَيْفَ تَرَى عَطِيَّةَ حِينَ يَلْقَى * عِظَامًا هَامُهُنَّ فَرَاسِيَاتِ-
পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:
- “আমি শপথ করছি মক্কার প্রতিপালকের, ইবরাহীমের নামাযের স্থানের এবং কোরবানির সেইসব উটের যাদের গলায় অলংকারস্বরূপ হার পরানো হয়েছে।”
- “আমি বনু কুলাইবের নির্বোধদের ঘাড়ে এমন ব্যঙ্গাত্মক অপবাদের স্থায়ী কণ্ঠহার পরিয়ে দিয়েছি, যা তাদের বংশের ঘাড়ে চিরকাল দৃশ্যমান থাকবে।”
- “সেই কণ্ঠহার কোনো খাঁটি সোনার অলংকার নয়; বরং তা জাহান্নামের আগুনে প্রজ্বলিত এমন এক উত্তপ্ত দাগ, যা কখনো মোছার নয়।”
- “আতিয়্যা (ফারাজদাক্ব) যখন এমন শক্তিশালী পূর্বপুরুষদের চূর্ণ-বিচূর্ণ খুলির মুখোমুখি হবে, তখন তার কী করুণ অবস্থা হবে তা ভেবে দেখো!”
(هـ) حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ (عَدِمْنَا خَيْلَنَا):
عَدِمْنَا خَيْلَنَا إِنْ لَمْ تَرَوْهَا * تُثِيرُ النَّقْعَ مَوْعِدُهَا كَدَاءُ
يُبَارِينَ الأَعِنَّةَ مُصْعِدَاتٍ * عَلَى أَكْتَافِهَا الأَسَلُ الظِّمَاءُ
تَظَلُّ جِيَادُنَا مُتَمَطِّرَاتٍ * تَلْطِمُهُنَّ بِالخُمُرِ النِّسَاءُ
فَإِمَّا تَعْرِضُوا عَنَّا اعْتَمَرْنَا * وَكَانَ الفَتْحُ وَانْكَشَفَ الغِطَاءُ-
পঙ্ক্তিগুলোর সরলার্থ ও কাব্যানুবাদ:
- “আমাদের অশ্ববাহিনী ধ্বংস হয়ে যাক যদি না তোমরা তাদের দেখো যে তারা কাদা নামক মক্কার পর্বতচূড়ায় ধূলিঝড় উড়িয়ে তীব্রবেগে ধাবিত হচ্ছে!”
- “ঘোড়াগুলো বল্গা ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম করে পাহাড়ের চূড়ায় উঠছে, আর তাদের আরোহীদের কাঁধে তৃষ্ণার্ত বর্শাগুলো শত্রুর রক্তের জন্য আকুল হয়ে কাঁপছে।”
- “আমাদের দ্রুতগামী অশ্বগুলো মেঘের মতো ছুটে যাবে, আর মক্কার কাফির নারীরা তাদের ওড়না দিয়ে ঘোড়াগুলোর মুখমণ্ডল প্রতিহত করার চেষ্টা করবে।”
- “অতএব তোমরা যদি আমাদের পথ ছেড়ে দাও, তবে আমরা নিরাপদে উমরা সম্পন্ন করব; অন্যথায় চূড়ান্ত বিজয় সমাগত হবে এবং সত্যের সকল গোপন আবরণ উন্মোচিত হবে।”
٢- اِشْرَحِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَبْيَاتِ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٢ = ١٠)
[২. নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলো হতে যেকোনো ২টি চরণের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করো: (মান: ৫ × ২ = ১০)]
(الف) السَّمَوْأَلُ بْنُ عَادِيَاءَ:
تُعَيِّرُنَا أَنَّا قَلِيلٌ عَدِيدُنَا * فَقُلْتُ لَهَا إِنَّ الكِرَامَ قَلِيلُ
সরলার্থ ও ব্যাখ্যা: “মহিলাটি আমাদের সংখ্যাস্বল্পতা নিয়ে উপহাস করে বলল যে আমাদের গোত্রের লোকসংখ্যা অতি সামান্য। জবাবে আমি তাকে বললাম— জেনে রাখো! জগতে মহৎ ও শ্রেষ্ঠ মানুষের সংখ্যা সর্বদা কমই হয়ে থাকে।” কবি সামাওয়াল এখানে সংখ্যার আধিক্য নয়, বরং চরিত্রের আভিজাত্য, বীরত্ব এবং নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বকে আসল শক্তির মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। পৃথিবীতে মুক্তা, হীরা বা খাঁটি মানুষের সংখ্যা নগণ্য হলেও তাদের ওজন কোটি সাধারণের চেয়ে বেশি।
(ب) امْرُؤُ القَيْسِ:
إِذَا قَامَتَا تَضَوَّعَ المِسْكُ مِنْهُمَا * نَسِيمَ الصَّبَا جَاءَتْ بِرَيَّا القَرَنْفُلِ
সরলার্থ ও ব্যাখ্যা: “তারা দুজন (উম্মুল হুওয়াইরিস ও উম্মুর রাবাব) যখন চলাফেরার জন্য উঠে দাঁড়াত, তখন তাদের দেহ থেকে কস্তুরীর সুবাস এমনভাবে সুবাতাস ছড়াত, যেন পূর্বদেশীয় মৃদুমন্দ বায়ু লবঙ্গের সুঘ্রাণ বয়ে নিয়ে আসছে।” ইমরুল কায়েস এই চরণে তাঁর প্রাক-ইসলামী জীবনের প্রেমিকা ও তার সখীর শারীরিক রূপ ও সুগন্ধির এক চমৎকার রূপক ও উপমাভিত্তিক বর্ণনা দিয়েছেন। প্রাক-ইসলামী কাসীদায় প্রেমিকাদের রূপলাবণ্য বর্ণনার এটি এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
(ج) السَّمَوْأَلُ:
لاَ يَقَعُ الطَّعْنُ إِلَّا فِي نُحُورِهِمْ * وَمَا لَهُمْ عَنْ حِيَاضِ المَوْتِ تَهْلِيلُ
সরলার্থ ও ব্যাখ্যা: “রণক্ষেত্রে শত্রুর বর্শার আঘাত আমাদের বীরদের বুকের উপরিভাগ (কণ্ঠনালী) ব্যতীত অন্য কোথাও লাগে না; এবং তারা কখনো মৃত্যুর জলাশয় থেকে ভয়ে পিছু হটে না।” এই চরণে গোত্রীয় বীরত্বের চরম রূপ ফুটে উঠেছে। কাপুরুষরা রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পিঠে আঘাত পায়, কিন্তু সামাওয়ালের গোত্রের বীররা বক্ষ পেতে শত্রুর মুখোমুখি লড়াই করে শাহাদাত বরণ করে; তাই তাদের আঘাত সর্বদা বুকেই লাগে।
٣- اِشْرَحْ بِالعَرَبِيَّةِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَبْيَاتِ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٢ = ١٠)
[৩. আরবিতে নিম্নোক্ত যেকোনো ২টি চরণের ব্যাখ্যা লেখো: (মান: ৫ × ২ = ১০)]
(الف) إِذَا المَرْءُ لَمْ يَدْنَسْ مِنَ اللُّؤْمِ عِرْضُهُ * فَكُلُّ رِدَاءٍ يَرْتَدِيهِ جَمِيلُ
الشَّرْحُ بِالعَرَبِيَّةِ: يُرِيدُ الشَّاعِرُ السَّمَوْأَلُ أَنَّ الإِنْسَانَ إِذَا كَانَ طَاهِرَ النَّفْسِ، نَقِيَّ السِّيرَةِ، بَعِيدًا عَنِ الدَّنَاءَةِ وَالخِسَّةِ، فَإِنَّ عِرْضَهُ وَشَرَفَهُ يَظَلاَّنِ سَلِيمَيْنِ مَصُونَينِ. وَحِينَئِذٍ لاَ يَعِيبُهُ فَقْرُهُ وَلاَ ثِيَابُهُ البَالِيَةُ، بَلْ إِنَّ كُلَّ لِبَاسٍ يَلْبَسُهُ يَكُونُ حَسَنًا جَمِيلاً؛ لِأَنَّ الجَمَالَ الحَقِيقِيَّ هُوَ جَمَالُ النَّفْسِ وَالأَخْلاَقِ وَالشَّرَفِ، وَلَيْسَ جَمَالَ الثِّيَابِ وَالمَظَاهِرِ الخَارِجِيَّةِ.
(ب) وَجِبْرِيلُ أَمِينُ اللَّهِ فِينَا * وَرُوحُ القُدْسِ لَيْسَ لَهُ كِفَاءُ
الشَّرْحُ بِالعَرَبِيَّةِ: يُعَبِّرُ الصَّحَابِيُّ الجَلِيلُ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ) عَنْ عِزَّةِ المُسْلِمِينَ وَتَأْيِيدِ السَّمَاءِ لَهُمْ. يَقُولُ: إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، أَمِينَ الوَحْيِ وَرُوحَ القُدُسِ، يَحْضُرُ بَيْنَنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ، يُؤَيِّدُنَا وَيَنْصُرُنَا بِأَمْرِ رَبِّهِ. وَجِبْرِيلُ مَلَكٌ عَظِيمٌ لاَ يُقَاسُ بِهِ أَحَدٌ وَلاَ يُكَافِئُهُ أَيُّ مَخْلُوقٍ فِي القُوَّةِ وَالمَكَانَةِ، فَكَيْفَ يَغْلِبُنَا المُشْرِكُونَ وَاللَّهُ مَعَنَا وَجِبْرِيلُ يَنْصُرُنَا؟!
(ج) فَقُلْتُ لَهَا سِيرِي وَأَرْخِي زِمَامَهُ * وَلاَ تُبْعِدِينِي مِنْ جَنَاكِ المُعَلَّلِ
الشَّرْحُ بِالعَرَبِيَّةِ: هَذَا البَيْتُ مِنْ مُعَلَّقَةِ امْرِئِ القَيْسِ، يَصِفُ فِيهِ حِوَارَهُ مَعَ حَبِيبَتِهِ عُنَيْزَةَ يَوْمَ دَارَةِ جُلْجُلٍ حِينَ رَكِبَ مَعَهَا فِي هَوْدَجِهَا. فَقَالَ لَهَا بِدَلاَلٍ: دَعِي النَّاقَةَ تَسِيرُ كَيْفَمَا شَاءَتْ وَأَرْخِي زِمَامَهَا كَيْ لاَ تَشْغَلَنَا، وَلاَ تَحْرِمِينِي مِنْ ثِمَارِ وِصَالِكِ العَذْبِ وَحَدِيثِكِ المُمْتِعِ الَّذِي يُعَلِّلُ النَّفْسَ وَيَشْفِي غَلِيلَ الشَّوْقِ.
٤- أَجِبْ بِالعَرَبِيَّةِ عَنِ اثْنَيْنِ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٢ = ١٠)
[৪. আরবিতে যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও: (মান: ৫ × ২ = ১০)]
(الف) اُكْتُبْ خُلاَصَةَ القَصِيدَةِ “صَاحِبُ أَهْلِ الصَّفْوِ” لِلشَّاعِرِ جَرِيرٍ-
الجَوَابُ بِالعَرَبِيَّةِ: قَصِيدَةُ “صَاحِبُ أَهْلِ الصَّفْوِ” هِيَ إِحْدَى رَوَائِعِ الشَّاعِرِ الأُمَوِيِّ جَرِيرٍ فِي نَقَائِضِهِ مَعَ الفَرَزْدَقِ. يَبْدَأُ جَرِيرٌ قَصِيدَتَهُ بِذِكْرِ الدِّيَارِ وَالأَطْلاَلِ، ثُمَّ يَنْتَقِلُ إِلَى الفَخْرِ بِنَفْسِهِ وَبِقَوْمِهِ بَنِي يَرْبُوعٍ وَتَمِيمٍ، مُبَيِّنًا كَرَمَهُمْ وَشَجَاعَتَهُمْ فِي الحَرْبِ وَالسِّلْمِ. ثُمَّ يُوَجِّهُ سِهَامَ هِجَائِهِ اللَّاذِعِ إِلَى الفَرَزْدَقِ وَقَوْمِهِ بَنِي مُجَاشِعٍ، فَيَصِفُهُمْ بِالجُبْنِ وَالبُخْلِ وَسُوءِ الخُلُقِ، مُؤَكِّدًا أَنَّهُ قَدْ أَفْحَمَ خَصْمَهُ وَغَلَبَهُ فِي مَيْدَانِ الشِّعْرِ وَالشَّرَفِ، وَأَنَّ صَفْوَ العَيْشِ وَالمَجْدِ هُوَ لِجَرِيرٍ وَأَهْلِهِ لاَ لِغَيْرِهِمْ.
(ب) عَرِّفِ المُعَلَّقَةَ – وَمَا سَبَبُ تَسْمِيَتِهَا؟ بَيِّنْ-
الجَوَابُ بِالعَرَبِيَّةِ:
تَعْرِيفُ المُعَلَّقَاتِ: المُعَلَّقَاتُ هِيَ قَصَائِدُ طِوَالٌ مِنْ عُيُونِ الشِّعْرِ الجَاهِلِيِّ، بَلَغَتِ الذِّرْوَةَ فِي البَلاَغَةِ، وَجَوْدَةِ السَّبْكِ، وَفَصَاحَةِ الأَلْفَاظِ، وَتَنَوُّعِ المَوْضُوعَاتِ، وَهِيَ سَبْعٌ أَوْ عَشْرٌ لِكِبَارِ شُعَرَاءِ الجَاهِلِيَّةِ مِثْلِ امْرِئِ القَيْسِ وَزُهَيْرٍ وَعَنْتَرَةَ.
سَبَبُ التَّسْمِيَةِ: هُنَاكَ عِدَّةُ آرَاءٍ عِنْدَ النُّقَّادِ فِي سَبَبِ تَسْمِيَتِهَا بِالمُعَلَّقَاتِ:
١- قِيلَ: لِأَنَّهَا كَانَتْ تُكْتَبُ بِمَاءِ الذَّهَبِ وَتُعَلَّقُ عَلَى أَسْتَارِ الكَعْبَةِ المُشَرَّفَةِ تَعْظِيمًا لَهَا.
٢- وَقِيلَ: لِأَنَّهَا لِجَوْدَتِهَا وَحُسْنِهَا تَعَلَّقَتْ فِي أَذْهَانِ النَّاسِ وَقُلُوبِهِمْ فَحَفِظُوهَا عَنْ ظَهْرِ قَلْبٍ.
٣- وَقِيلَ: تَشْبِيهًا لَهَا بِالعُقُودِ النَّفِيسَةِ مِنَ الجَوَاهِرِ الَّتِي تُعَلَّقُ فِي أَعْنَاقِ النِّسَاءِ (العُلاَقَاتِ).
(ج) تَحَدَّثْ عَنْ أَغْرَاضِ الشِّعْرِ الجَاهِلِيِّ بِالإِيجَازِ-
الجَوَابُ بِالعَرَبِيَّةِ: تَنَوَّعَتْ أَغْرَاضُ الشِّعْرِ الجَاهِلِيِّ لِتُعَبِّرَ عَنْ حَيَاةِ العَرَبِ وَبِيئَتِهِمْ، وَمِنْ أَهَمِّ هَذِهِ الأَغْرَاضِ:
١- الفَخْرُ وَالحَمَاسَةُ: الاِعْتِزَازُ بِالقَبِيلَةِ وَشَجَاعَةِ فُرْسَانِهَا وَكَرَمِهِمْ.
٢- المَدْحُ: الثَّنَاءُ عَلَى المُلُوكِ وَالأَشْرَافِ بِالشَّجَاعَةِ وَالجُودِ وَحِمَايَةِ الجَارِ.
٣- الغَزَلُ: التَّغَزُّلُ بِالمَرْأَةِ، وَمِنْهُ الغَزَلُ العَفِيفُ وَالغَزَلُ الصَّرِيحُ.
٤- الرِّثَاءُ: البُكَاءُ عَلَى الأَمْوَاتِ وَتَعْدَادُ مَنَاقِبِهِمْ النَّبِيلَةِ.
٥- الهِجَاءُ: ذَمُّ الأَعْدَاءِ وَالقَبَائِلِ المُعَادِيَةِ بِالجُبْنِ وَالبُخْلِ.
٦- الوَصْفُ: وَصْفُ مَشَاهِدِ الصَّحْرَاءِ، وَالخَيْلِ، وَالإِبِلِ، وَالصَّيْدِ، وَالأَطْلاَلِ.
٥- أَجِبْ عَنْ أَرْبَعَةٍ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدَّرَجَاتُ: ٥ × ٤ = ٢٠)
[৫. নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর মধ্য থেকে যেকোনো ৪টির উত্তর দাও: (মান: ৫ × ৪ = ২০)]
(الف) مَا مَوْضُوعُ مُعَلَّقَةِ امْرِئِ القَيْسِ؟
[ইমরুল কায়েসের মু’আল্লাকার বিষয়বস্তু কী?]
উত্তর: ইমরুল কায়েসের মু’আল্লাকা হলো প্রাচীন আরবি কবিতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। এর মূল বিষয়বস্তু কয়েকটি সুবিন্যস্ত স্তরে বিন্যস্ত:
- ১. নাসীব ও আতলাল (স্মৃতিচারণ): সিক্বতুল লিওয়ায় অবস্থিত প্রিয়া হাওমালের পরিত্যক্ত ভিটা দেখে দুই সঙ্গীকে নিয়ে ক্রন্দন ও বিরহ প্রকাশ।
- ২. প্রণয়োপাখ্যান ও প্রিয়তমার রূপবর্ণনা: দারাতে জুলজুল পুকুরে উম্মুল হুওয়াইরিস ও উনাইযার সাথে প্রণয়োদ্দীপক সাক্ষাৎ এবং প্রিয়তমার নয়নাভিরাম শারীরিক রূপসৌন্দর্যের চিত্রায়ন।
- ৩. মরুভূমির অন্ধকার রজনীর বিবরণ: একাকীত্ব ও উদ্বেগের দীর্ঘ অন্ধকার রাতকে এক বিশাল দৈত্যাকৃতির উটের সাথে রূপক তুলনা।
- ৪. শিকারী অশ্বের বর্ণনা: ক্ষিপ্রগতির তেজস্বী ঘোড়ার গঠন, বুনো হরিণ শিকার এবং শিকার পরবর্তী ভোজোৎসব।
- ৫. প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টির দৃশ্য: বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ভয়াল ঝড়-বৃষ্টি এবং বন্যায় ভাসমান বনভূমির এক অনবদ্য প্রাকৃতিক চিত্র।
(ب) تَحَدَّثْ عَنْ خَلْفِيَّةِ تَأْلِيفِ دِيوَانِ الحَمَاسَةِ-
[দিওয়ানুল হামাসা কাব্যগ্রন্থ সংকলনের প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।]
উত্তর: ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ হলো আব্বাসী যুগের শ্রেষ্ঠ কবি ও সংকলক আবু তাম্মাম হাবীব বিন আওস আত-তাঈ (মৃ. ২৩১ হি.) কর্তৃক সংকলিত এক অবিস্মরণীয় আরবি কবিতা সংকলন। এর সংকলনের পেছনে একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে:
- আবু তাম্মাম খোরাসানের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে তাহিরের দরবার ভ্রমণ শেষে বাগদাদে ফেরার পথে হামাদান নগরীতে উপস্থিত হন।
- সেখানে অবস্থানকালে প্রচণ্ড তুষারপাত ও ভয়াবহ শীতের কারণে পথঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে হামাদানের এক বিশিষ্ট সাহিত্যপ্রেমী আবু আল-ওয়াফা ইবনে সালামার আতিথ্য গ্রহণ করেন।
- আবু আল-ওয়াফার সমৃদ্ধ ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে প্রাচীন আরবি সাহিত্যের দুর্লভ পাণ্ডুলিপিসমূহ সংরক্ষিত ছিল। গৃহবন্দী এই দীর্ঘ শীতের অবকাশে আবু তাম্মাম আরব কবিদের বীরত্বগাথা, আত্মমর্যাদা ও প্রেমের সেরা কবিতাগুলো গভীর অভিনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করেন।
- তিনি সেই কবিতাগুলো থেকে বাছাইকৃত সেরা অংশগুলো দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করে সংকলন করেন। যার প্রথম ও সর্বপ্রধান অধ্যায়টি ছিল ‘বাবুল হামাসাহ’ (বীরত্ব অধ্যায়)। এই অধ্যায়ের নামানুসারেই সমগ্র গ্রন্থটি ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ নামে জগৎজোড়া খ্যাতি লাভ করে।
(ج) لِمَ أُمِرَ بِقَتْلِ كَعْبِ بْنِ زُهَيْرٍ؟ وَكَيْفَ جَاءَ إِلَى المَدِينَةِ؟
[কেন কা’ব বিন যুহাইরকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল? কীভাবে তিনি মদীনায় আসলেন?]
উত্তর:
- হত্যার আদেশের কারণ: কা’ব বিন যুহাইর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাঁর সহোদর বুজাইর বিন যুহাইরের ইসলাম গ্রহণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা রচনা করেন। তদুপরি তিনি মহানবী ﷺ এবং মুসলিম নারীদের শানে অত্যন্ত অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক হিজা বা ব্যঙ্গকবিতা লেখেন। মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর এই চরম ঔদ্ধত্যের কারণে তাঁর রক্তকে হালাল ঘোষণা করেন (অর্থাৎ তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে হত্যার নির্দেশ দেন)।
- মদীনায় আগমন ও ক্ষমা লাভ: কা’বের ভাই বুজাইর (রা.) তাঁকে চিঠি লিখে জানান যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তওবাকারী যেকোনো ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেন। কা’ব গভীর অনুশোচনায় গোপনে মদীনায় আগমন করেন এবং হযরত আবু বকর (রা.)-এর আশ্রয়ে ফজরের সালাতের পর দরবারে নববীতে উপস্থিত হন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে রাসূল ﷺ-এর পবিত্র হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহণ করেন এবং অতঃপর নিজের পরিচয় প্রকাশ করে তাঁর রচিত কালজয়ী কাসীদা ‘বানাত সু’আদ’ আবৃত্তি করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা দান করেন এবং নিজের গায়ের পবিত্র চাদর (বুরদাহ) উপহার দেন।
(د) اُكْتُبْ أَغْرَاضَ الشِّعْرِ فِي العَصْرِ الأُمَوِيِّ-
[উমাইয়া যুগের কবিতার উদ্দেশ্যাবলি লিপিবদ্ধ করো।]
উত্তর: উমাইয়া যুগে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় কোন্দল এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কারণে আরবি কবিতায় বেশ কিছু নতুন ও পরিবর্তিত উদ্দেশ্যের উদ্ভব ঘটে:
- আশ-শি’রুস সিয়াসী (الشعر السياسي – রাজনৈতিক কবিতা): বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন— উমাইয়া শাসকগোষ্ঠী, শিয়া, খারেজী ও যুবাইরী দলের সমর্থনে রচিত আদর্শিক কবিতা।
- আন-নাক্বাইজ (النقائض – প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কবিতা): একই ছন্দ ও অন্ত্যমিলে রচিত পাল্টাপাল্টি কাব্যযুদ্ধ; যার শীর্ষ রূপকার ছিলেন জারীর, ফারাজদাক্ব ও আল-আখতাল।
- আল-গাযাল (الغزل – প্রেমকাব্য): এ যুগে গযল দুটি ধারায় বিভক্ত হয়:
- (ক) গাযালে উযরী (العذري): মরুভূমির বেদুইনদের পবিত্র, একনিষ্ঠ ও বিচ্ছেদকাতর আত্মিক প্রেম। যেমন: মাজনূনের কবিতা।
- (খ) গাযালে সারীহ (الصريح): নগরজীবনের ভোগবাদী ও প্রকাশ্য প্রেম। যার প্রবক্তা ছিলেন উমর ইবনে আবি রাবিয়াহ।
- আল-ফখর ওয়াল মাদিহ (الفخر والمديح): উমাইয়া খলিফা ও গভর্নরদের প্রশংসা এবং নিজ নিজ বংশমর্যাদার গৌরব প্রকাশ।
(هـ) اُكْتُبْ مَا تَعْرِفُ عَنْ نَقَائِضِ جَرِيرٍ وَالفَرَزْدَقِ-
[কবি জারীর ও ফারাজদাক্বের নাক্বাইজ (পাল্টা কবিতা) সম্পর্কে যা জানো লেখো।]
উত্তর: উমাইয়া সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আলোচিত অধ্যায় হলো জারীর ও ফারাজদাক্বের কাব্যযুদ্ধ, যা সাহিত্যে ‘নাক্বাইয’ (النقائض) নামে পরিচিত।
- নাক্বাইযের সংজ্ঞা: এক কবি অন্য কবির আত্মগৌরব বা অপবাদমূলক কাসীদার বিপরীতে হুবহু একই ছন্দ (বাহর), একই অন্ত্যমিল (কাফিয়া) এবং একই হরকত বজায় রেখে পাল্টা কাসীদা রচনা করে প্রতিপক্ষের বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দেওয়াকে নাক্বাইয বলে।
- পটভূমি ও কালব্যাপ্তি: বসরার নিকটবর্তী ‘মিরবাদ’ নামক সাহিত্যমঞ্চে প্রায় চল্লিশ বছরব্যাপী জারীর (বনু তামীমের ইয়ারবু শাখার কবি) এবং ফারাজদাক্ব (মুজাসি শাখার কবি)-এর মধ্যে এই প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলেছিল।
- বিষয়বস্তু: উভয় কবি নিজ বংশের অতীত বীরত্ব, আভিজাত্য ও দানের ভূয়সী প্রশংসা করতেন এবং প্রতিপক্ষের বংশের দারিদ্র্য, কাপুরুষতা ও হীনতাকে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে আক্রমণ করতেন।
- সাহিত্যমূল্য: ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকলেও এই নাক্বাইজ আরবি ব্যাকরণ, শব্দভাণ্ডার, জাহিলী ইতিহাস ও উমাইয়া রাজনীতির এক অমূল্য প্রামাণ্য কোষ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
(و) بَيِّنْ بَعْضَ خَصَائِصِ شِعْرِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ كَشَاعِرٍ مُخَضْرَمٍ-
[মুখাযরাম কবি হিসেবে হাসসান বিন সাবিতের কবিতার কতিপয় বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।]
উত্তর: হযরত হাসসান বিন সাবিত (রা.) জাহিলী ও ইসলামী উভয় যুগ প্রত্যক্ষকারী শীর্ষস্থানীয় ‘মুখাযরাম’ কবি এবং ‘শায়েরুর রাসূল’ (রাসূলের কবি) ছিলেন। তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
- দ্বীনের প্রতিরক্ষা ও আদর্শিক হাতিয়ার: তাঁর কবিতা নিছক কল্পনা ছিল না; বরং তা ছিল ইসলামের বিরুদ্ধে কাফির ও মুশরিকদের কুৎসা রটনার সমুচিত জবাব। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন: “হাসসান! তুমি তাদের বিরুদ্ধে কবিতা বলো, জিবরীল তোমার সাথে আছেন।”
- কুরআনী ভাবধারা ও পরিভাষার আত্মীকরণ: ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর কবিতার শব্দাবলিতে তাওহীদ, তাকওয়া, জান্নাত, জাহান্নাম ও রাসূলের প্রতি পরম ভক্তির প্রকাশ ঘটে। জাহিলী অশ্লীলতা ও গোত্রীয় উগ্রতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়।
- ভাষাগত মাধুর্য ও প্রাঞ্জলতা: মদীনার আনসারদের স্বাভাবিক শালীনতা তাঁর কাব্যভাষায় এক কোমল, সুমিষ্ট ও প্রাঞ্জল গতির সঞ্চার করেছিল।
- ঐতিহাসিক সত্যনিষ্ঠতা: তাঁর কবিতায় বদর, উহুদ, খন্দক ও মক্কা বিজয়ের মতো ঐতিহাসিক যুদ্ধগুলোর নিখুঁত বিবরণ বাস্তবসম্মতভাবে চিত্রায়িত হয়েছে।
(ز) اُكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ أَبِي تَمَّامٍ-
[আবু তাম্মামের জীবনী সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করো।]
উত্তর:
- নাম ও জন্ম: পুরো নাম হাবীব ইবনে আওস আত-তাঈ, উপনাম আবু তাম্মাম। তিনি ১৮৮ হিজরিতে সিরিয়ার দামেস্কের নিকটবর্তী জাসিম নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চা: বাল্যকালে মিশরে এক মসজিদে পানি সরবরাহের কাজ করতেন। সেখানে উলামা ও ভাষাবিদদের মজলিস থেকে আরবি ভাষা ও কবিতার গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী আবু তাম্মাম প্রাচীন কবিদের চৌদ্দ হাজার দীর্ঘ কাসীদা মুখস্থ রেখেছিলেন।
- আব্বাসী দরবারে প্রতিষ্ঠা: তিনি বাগদাদে গমন করেন এবং আব্বাসী খলিফা আল-মুতাসিম বিল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠ কবির আসন লাভ করেন। রোমানদের বিরুদ্ধে আম্মুরিয়া বিজয়ের পর তাঁর রচিত কাসীদা ‘আস-সাইফু আসদাকু ইনবাআন মিনাল কুতুবি’ বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক কাসীদাগুলোর অন্যতম।
- সংকলন কর্ম: তিনি শুধু কবি ছিলেন না, বরং বিখ্যাত সংকলক ছিলেন। তাঁর সংকলিত ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’ আরবি সাহিত্যের চিরন্তন মাস্টারপিস।
- ওফাত: ২৩১ হিজরিতে মসুল নগরীতে এই মহান কবি ইন্তেকাল করেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. প্রাচীন আরবি কবিতার প্রধান যুগসমূহ কী কী?
প্রাচীন আরবি কবিতা মূলত তিনটি প্রধান যুগে বিভক্ত: ১. জাহিলী যুগ (প্রাক-ইসলামী কাল); ২. ইসলামের প্রাথমিক ও খেলাফতে রাশেদার যুগ (মুখাযরাম কবিগণ); এবং ৩. উমাইয়া যুগ (নাক্বাইজ ও রাজনৈতিক কবিতার বিকাশকাল)।
২. মু’আল্লাকা নামকরণের সর্বজনবিদিত কারণ কী?
মু’আল্লাকা অর্থ ঝুলন্ত বস্তু। উৎকৃষ্টতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই কবিতাগুলো খাঁটি সোনার হরফে লিখে পবিত্র কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো বলে এদের মু’আল্লাকা বলা হয়; পাশাপাশি এগুলো মানুষের অন্তরে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকত।
৩. কা’ব বিন যুহাইরের কাসীদাকে ‘বুরদাহ’ বলা হয় কেন?
ইসলাম গ্রহণের পর যখন কা’ব দরবারে নববীতে এসে ‘বানাত সু’আদ’ কাসীদা পাঠ করেন, তখন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ সন্তুষ্ট হয়ে নিজের গায়ের পবিত্র চাদর (বুরদাহ) কা’বকে উপহার দিয়েছিলেন।
৪. আবু তাম্মামের ‘দিওয়ানুল হামাসাহ’-এর মূল গুরুত্ব কী?
এটি প্রাক-ইসলামী ও ইসলামোত্তর যুগের আরব কবিদের বীরত্ব, আত্মমর্যাদা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলোর এক অবিস্মরণীয় সংকলন, যা আরবি সাহিত্যের চিরন্তন দলিল।
৫. উমাইয়া সাহিত্যের ‘নাক্বাইজ’ বলতে কী বোঝায়?
নাক্বাইজ হলো একই ছন্দ, তাল ও অন্ত্যমিলে রচিত কাব্যযুদ্ধ, যেখানে এক কবি অপর কবির আত্মগৌরব খণ্ডন করে তাৎক্ষণিক পাল্টা কাসীদা রচনা করতেন। জারীর ও ফারাজদাক্ব এই ধারার শ্রেষ্ঠ রূপকার ছিলেন।
৬. হাসসান বিন সাবিত (রা.)-কে কেন ‘শায়েরুর রাসূল’ বলা হয়?
কারণ তিনি তাঁর অসাধারণ কাব্যপ্রতিভাকে ইসলামের প্রতিরক্ষা, সত্যের প্রচার এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ও তাঁর সাহাবিদের প্রশংসায় আজীবন নিবেদিত রেখেছিলেন।