জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল হাদীস (Ulumul Hadith) – 204202, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৩৭ মিনিট পড়ার সময়
১২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৫৮
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
علوم الحديث
[উলূমুল হাদিস]
বিষয় কোড: ২০৪২০২
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (أ) অংশ থেকে ৪টি এবং (ب) অংশ থেকে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


١- عَرِّفِ الحَدِيثَ وَالخَبَرَ وَالأَثَرَ وَالسُّنَّةَ – ثُمَّ بَيِّنِ الفَرْقَ بَيْنَ الحَدِيثِ وَالسُّنَّةِ بِالتَّفْصِيلِ-

[১. হাদিস, খবর, আসার ও সুন্নাহর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যকার পার্থক্য বিস্তারিত আলোচনা করো।]

চারটি মৌলিক পরিভাষার সংজ্ঞা:

  • ১. হাদিস (الحديث): আভিধানিক অর্থ নতুন বা বাণী। পারিভাষিক অর্থে: যা কিছু মহানবী ﷺ-এর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি কিংবা তাঁর জন্মগত শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলির দিকে সম্পর্কিত করা হয়, তাকে হাদিস বলে।
  • ২. খবর (الخبر): আভিধানিক অর্থ সংবাদ। মুহাদ্দিসগণের মতে, খবর হাদিসের সমার্থক হতে পারে; আবার বৃহত্তর অর্থে যা কিছু অতীত ইতিহাস বা অন্য কোনো সত্তার পক্ষ থেকে বর্ণিত হয় তাকে খবর বলা হয়। সুতরাং প্রতিটি হাদিসই খবর, কিন্তু প্রতিটি খবর হাদিস নয়।
  • ৩. আসার (الأثر): আভিধানিক অর্থ পদচিহ্ন বা ধ্বংসাবশেষ। পারিভাষিক অর্থে: সাহাবায়ে কেরাম (মাওকূফ) এবং তাবেয়ীগণের (মাক্বতূ’) কথা, ফতোয়া ও কর্মকে আসার বলা হয়। কোনো কোনো মুহাদ্দিসের মতে এটি মারফূ’ হাদিসকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
  • ৪. সুন্নাহ (السنة): আভিধানিক অর্থ সুপ্রতিষ্ঠিত পথ, রীতি বা আদর্শ। শরীয়তের পরিভাষায়: মহানবী ﷺ দ্বীনের যে আদর্শিক পথ ও বিধান নিরবচ্ছিন্নভাবে চর্চা করেছেন এবং উম্মাহর জন্য ব্যবহারিক মডেল হিসেবে রেখে গেছেন, তাকে সুন্নাহ বলে।

হাদিস ও সুন্নাহর মধ্যকার সূক্ষ্ম ও বাস্তব পার্থক্য:

তুলনার ভিত্তি হাদিস (الحديث) সুন্নাহ (السنة)
প্রকৃতি ও স্বরূপ মূলত তথ্য ও বাণীর বিবরণ (Textual / Narrative Record)। ব্যবহারিক জীবনপদ্ধতি ও আদর্শিক আমল (Practical Living Model)।
শর্ত ও বিশুদ্ধতা হাদিস সহীহ, হাসান বা যঈফও হতে পারে। সুন্নাহ সর্বদা বিশুদ্ধ ও উম্মতের আমল দ্বারা প্রমাণিত।
বিধানের স্তর হাদিসের প্রতিটি বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাই সাধারণের জন্য শারঈ বিধান বা সুন্নাত নাও হতে পারে (যেমন রাসূল ﷺ-এর বিশেষ খাসায়েস)। সুন্নাহ হলো শরীয়তের এমন প্রতিষ্ঠিত বিধান যার অনুসরণ প্রতিটি মুমিনের জন্য প্রশংসনীয় বা আবশ্যক।

٢- مَا مَعْنَى الخَبَرِ الضَّعِيفِ لُغَةً وَاصْطِلاَحًا؟ ثُمَّ اكْتُبْ حُكْمَ رِوَايَتِهِ وَالعَمَلِ بِهِ مَعَ ذِكْرِ أَشْهَرِ المُصَنَّفَاتِ فِي الأَحَادِيثِ الضَّعِيفَةِ-

[২. যঈফ (দুর্বল) খবরের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? দুর্বল হাদিস বর্ণনা ও এর ওপর আমল করার শারঈ হুকুম এবং এ বিষয়ে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির বিবরণ দাও।]

যঈফ খবরের সংজ্ঞা:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘যঈফ’ (الضعيف) অর্থ দুর্বল, শক্তিহীন, ক্ষীণকায়; যা বলবান বা সহীহের বিপরীত।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: ইমাম ইবনুস সালাহ ও হাফিজ নববী (র.)-এর মতে:

    “هُوَ مَا لَمْ يَجْمَعْ صِفَاتِ الصَّحِيحِ وَلاَ صِفَاتِ الحَسَنِ”-

    অর্থাৎ: “যে হাদিসের মধ্যে সহীহ ও হাসান হাদিসের গুণাবলি ও শর্তসমূহ একত্রিত হয়নি, তাকে যঈফ বা দুর্বল হাদিস বলে।”

দুর্বল হাদিস বর্ণনা ও আমলের শারঈ হুকুম:

  • ১. আকাইদ ও হালাল-হারামের ক্ষেত্রে: আকাইদ (বিশ্বাসের মূল স্তম্ভ) এবং শরীয়তের হালাল-হারাম সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যঈফ হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা সর্বসম্মতভাবে নিষিদ্ধ।
  • ২. ফাযায়েল ও নেক আমলের ক্ষেত্রে (ইমামগণের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি): হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.)-এর মতে তিনটি শর্তে ফাযায়েলে আমল, উৎসাহ দান (তারগীব) ও ভীতি প্রদর্শনে (তারহীব) যঈফ হাদিসের ওপর আমল করা জায়েয:
    1. হাদিসটির দুর্বলতা যেন অতি মারাত্মক বা চরম পর্যায়ের না হয় (যেমন মিথ্যাবাদী বা অভিযুক্ত রাবী না থাকা)।
    2. হাদিসটি শরীয়তের কোনো প্রতিষ্ঠিত সাধারণ মূলনীতির (আসলুল আম্ম) অধীনে হতে হবে।
    3. আমল করার সময় একে নিশ্চিতভাবে রাসূল ﷺ-এর সাব্যস্ত সুন্নাত মনে না করে সতর্কতা ও সাওয়াবের আশায় আমল করা।

যঈফ ও মাওযূ হাদিস বিষয়ে রচিত বিখ্যাত গ্রন্থাবলি:

  1. ইমাম ইবনুল জাওযী (র.) প্রণীত ‘কিতাবুল মাওদূ’আত’।
  2. ইমাম বুখারী (র.) প্রণীত ‘আদ-দু’আফাউস সাগীর’।
  3. ইমাম নাসাঈ (র.) প্রণীত ‘কিতাবুদ দু’আফা ওয়াল মাতরূকীন’।
  4. আল্লামা আলবানী (র.) প্রণীত ‘সিলসিলাতুল আহাদিসিদ দ্বাঈফাহ ওয়াল মাওদূ’আহ’।

٣- عَرِّفِ الحَدِيثَ القُدْسِيَّ وَالمَرْفُوعَ وَالمَوْقُوفَ وَالمَقْطُوعَ ثُمَّ اكْتُبِ الفَرْقَ بَيْنَ الحَدِيثِ القُدْسِيِّ وَالقُرْآنِ الكَرِيمِ-

[৩. হাদিসে কুদসী, মারফূ’, মাওকূফ ও মাক্বতূ’-এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর হাদিসে কুদসী ও পবিত্র কুরআনের মধ্যকার পার্থক্য লিপিবদ্ধ করো।]

চারটি পরিভাষার সংজ্ঞা:

  • ১. হাদিসে কুদসী (الحديث القدسي): যে হাদিসের ভাব ও বক্তব্য আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে ইলহাম বা স্বপ্নের মাধ্যমে নাযিল হয়েছে, কিন্তু মহানবী ﷺ তা নিজের ভাষায় আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করে বর্ণনা করেছেন (যেমন: আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন…)।
  • ২. হাদিসে মারফূ’ (الحديث المرفوع): যে বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি বা গুণাবলি সরাসরি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর দিকে সম্পর্কিত করা হয়; চাই সনদ মুত্তাসিল হোক বা মুনক্বাতি হোক।
  • ৩. হাদিসে মাওকূফ (الحديث الموقوف): যে কথা, কাজ বা অনুমোদন কোনো সাহাবির দিকে সম্পর্কিত করা হয় এবং তা রাসূল ﷺ পর্যন্ত পৌঁছানো হয় না।
  • ৪. হাদিসে মাক্বতূ’ (الحديث المقطوع): যে বক্তব্য বা কর্ম কোনো তাবেয়ী বা তাঁর পরবর্তী স্তরের বুজুর্গের দিকে সম্পর্কিত হয়।

হাদিসে কুদসী ও কুরআনুল কারীমের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য:

তুলনার ক্ষেত্র পবিত্র কুরআনুল কারীম হাদিসে কুদসী
শব্দ ও অর্থ শব্দ ও অর্থ উভয়ই সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। অর্থ ও ভাব আল্লাহর পক্ষ থেকে, কিন্তু শব্দ ও ভাষা রাসূল ﷺ-এর নিজস্ব।
তেলাওয়াত ও ইবাদত নামাযের ভেতর এর তেলাওয়াত ফরজ এবং প্রতি হরফে দশটি করে নেকি লিখিত হয়। নামাযের ভেতর এটি তেলাওয়াত করা জায়েয নেই এবং সাধারণ তেলাওয়াতের মতো হরফভিত্তিক সাওয়াব নির্ধারিত নয়।
মু’জিযা ও চ্যালেঞ্জ সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রতি এর সমতুল্য একটি সূরা রচনার চিরন্তন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এর কোনো শাব্দিক চ্যালেঞ্জ নেই।
পবিত্রতা ও স্পর্শের শর্ত অজু ছাড়া পবিত্র কুরআনের মূল মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম। অজু ব্যতীত হাদিসে কুদসী সম্বলিত গ্রন্থ স্পর্শ করা জায়েয।

٤- كَمْ قِسْمًا لِلْخَبَرِ بِالنِّسْبَةِ لِوُصُولِهِ إِلَيْنَا؟ عَرِّفْ كُلَّ قِسْمٍ مَعَ بَيَانِ حُكْمِهِ-

[৪. আমাদের নিকট পৌঁছার সনদের সূত্রের বিচারে খবর কত প্রকার? প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞা ও হুকুম বর্ণনা করো।]

খবরের প্রকারভেদ ও হুকুম:

মুহাদ্দিস ও উসূলবিদগণের মতে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছার সনদের সংখ্যার বিচারে খবর প্রধানত দুই প্রকার:

১. খবরুল মুতাওয়াতির (خبر المتواتر):

  • সংজ্ঞা: সনদের প্রতিটি স্তরে এমন বিপুল সংখ্যক রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদিস, যাদের পক্ষে একত্রে মিথ্যা রচনা করা অসম্ভব এবং যার শেষ ভিত্তি চাক্ষুষ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
  • হুকুম: এটি নিশ্চিত ও অকাট্য জ্ঞান (العلم القطعي اليقيني) দান করে। এটি অস্বীকার করা কুফরি এবং এর ওপর আমল করা ফরয।

২. খবরুল ওয়াহিদ বা আহাদ (خبر الآحاد):

যে খবরে মুতাওয়াতিরের শর্তসমূহ পূর্ণ হয়নি। বর্ণনাকারীর সংখ্যার বিচারে এটি তিন প্রকার:

  1. মাশহুর (المشهور): সনদের প্রতিটি স্তরে ন্যূনতম তিনজন রাবী থাকলে তাকে মাশহুর বলে। হুকুম: এটি অন্তরে প্রশান্তিদায়ক প্রবল ধারণা (ইলমে তুমআনীনাত) সৃষ্টি করে।
  2. আযীয (العزيز): সনদের কোনো স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা দুজনের কম না হওয়া। হুকুম: সনদ সহীহ হলে আমল করা ওয়াজিব।
  3. গারীব (الغريب): সনদের যেকোনো একটি স্তরে মাত্র একজন রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদিস। হুকুম: সনদের মানদণ্ড অনুযায়ী সহীহ, হাসান বা যঈফ হতে পারে।

٥- مَا هِيَ الرِّوَايَةُ؟ أُذْكُرْ كَيْفِيَّةَ ضَبْطِ الرِّوَايَةِ وَطُرُقَ تَحَمُّلِهَا وَأَدَائِهَا-

[৫. রেওয়ায়েত কী? রেওয়ায়েতের নির্ভুলতা (যাব্ত) রক্ষার পদ্ধতি এবং হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনার নিয়মাবলি উল্লেখ করো।]

রেওয়ায়েতের পরিচয়:

‘রিওয়ায়াহ’ (الرواية) অর্থ বহন করা, স্থানান্তর করা বা বর্ণনা করা। শরীয়তের পরিভাষায়: মহানবী ﷺ বা সাহাবিদের কোনো কথা, কর্ম বা গুণাবলিকে নির্ভরযোগ্য সনদসহ পরবর্তী উম্মতের নিকট পৌঁছে দেওয়াকে রেওয়ায়েত বলা হয়।

রেওয়ায়েতের যাব্ত (ضبط الرواية) সুরক্ষার দুটি পদ্ধতি:

  • ১. যাবতুস সাদর (ضبط الصدر – মুখস্থ শক্তির নির্ভুলতা): উস্তাদের কাছ থেকে হাদিস শোনার পর থেকে নিয়ে অন্যের নিকট বর্ণনা করা পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্মৃতিতে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং যেকোনো মুহূর্তে হুবহু শুনিয়ে দিতে পারা।
  • ২. যাবতুল কিতাব (ضبط الكتاب – লিখিত পাণ্ডুলিপির নির্ভুলতা): উস্তাদের সামনে পাঠ মিলিয়ে লিখিত পাণ্ডুলিপি ত্রুটিহীন রাখা এবং কোনো প্রকার পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে তা সযত্নে পাহারা দেওয়া।

তাহাম্মুল (হাদিস গ্রহণ) ও আদা (বর্ণনা)-এর প্রধান ৮টি পদ্ধতি:

  1. আস-সামা’ (السماع): শাইখের সরাসরি পাঠ শুনে গ্রহণ করা (সিগাহ: حدثنا / سمعت)।
  2. আল-ক্বিরাআহ (القراءة): শাইখের সামনে ছাত্র পাঠ করে অনুমোদন নেওয়া (সিগাহ: أخبرنا)।
  3. আল-ইজাযাহ (الإجازة): শাইখ কর্তৃক বর্ণনার লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়া।
  4. আল-মুনাওয়ালাহ (المناولة): মূল কিতাব ছাত্রের হাতে সমর্পণ করে বর্ণনার অনুমতি দেওয়া।
  5. আল-মুকাতাবাহ (المكاتبة): শাইখ নিজের হাতে লিখে ছাত্রের নিকট পাঠানো।
  6. আল-ই’লাম (الإعلام): শাইখ কর্তৃক হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
  7. আল-ওয়াসিয়্যাহ (الوصية): কিতাবের ব্যাপারে ছাত্রের জন্য অসিয়ত করা।
  8. আল-বিজাদাহ (الوجادة): শাইখের হস্তলিখিত সহীহ পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাওয়া।

٦- عَرِّفِ المُتَابِعَ وَالشَّاهِدَ – مَا الفَرْقُ بَيْنَهُمَا؟ وَكَمْ قِسْمًا لِلْمُتَابِعِ؟ وَمَا مَعْنَى الاِعْتِبَارِ؟ مَتَى يُقَالُ مِثْلَهُ وَمَتَى يُقَالُ نَحْوَهُ؟

[৬. মুতাবি’ ও শাহিদ-এর সংজ্ঞা দাও। উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য কী? মুতাবি’ কত প্রকার? ইতিবার-এর অর্থ কী? কখন ‘মিছলাহু’ এবং কখন ‘নাহওয়াহু’ বলা হয়?]

মুতাবি’ ও শাহিদের সংজ্ঞা এবং পার্থক্য:

  • মুতাবি’ (المتابع): কোনো রাবী এককভাবে একটি হাদিস বর্ণনা করার পর যদি দেখা যায় অপর কোনো নির্ভরযোগ্য রাবী হুবহু একই সাহাবির সূত্র থেকে একই হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে সেই দ্বিতীয় বর্ণনাকে ‘মুতাবি’ বলা হয়।
  • শাহিদ (الشاهد): যদি অন্য কোনো সনদে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো সাহাবির সূত্রে একই বক্তব্য বা সমার্থক হাদিস পাওয়া যায়, তবে তাকে ‘শাহিদ’ বলা হয়।
  • পার্থক্য: মূল সাহাবি এক ও অভিন্ন হলে তা ‘মুতাবি’ বা মুতাবা’আত; আর সাহাবি ভিন্ন হলে তা ‘শাহিদ’ বলে গণ্য হয়।

মুতাবি’-এর প্রকারভেদ:

  1. মুতাবা’আতে তাম্মাহ (متابعة تامة – পূর্ণ মুতাবা’আত): যদি সনদের প্রথম স্তর অর্থাৎ মূল উস্তাদের স্তরেই সরাসরি অপর বর্ণনাকারী মিলে যায়।
  2. মুতাবা’আতে কাসিরাহ (متابعة قاصرة – অপূর্ণ মুতাবা’আত): যদি মূল উস্তাদের স্তরে নয়, বরং উস্তাদের উস্তাদ বা তার উপরের স্তরে গিয়ে সনদের ঐক্য ঘটে।

ইতিবার (الاعتبار)-এর অর্থ:

কোনো একক হাদিসের সমর্থনে অন্য কোনো সহায়ক সনদ বা সমার্থক বর্ণনা আছে কি না তা খুঁজে বের করার জন্য হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে যে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চালানো হয়, তাকে উলূমুল হাদিসের পরিভাষায় ‘ইতিবার’ বলা হয়।

‘মিছলাহু’ ও ‘নাহওয়াহু’-এর প্রয়োগপদ্ধতি:

  • মিছলাহু (مثله – এর হুবহু সদৃশ): যখন দুটি ভিন্ন সনদে বর্ণিত হাদিসের মতন বা শাব্দিক রূপ হুবহু এক ও অভিন্ন হয়, তখন মুহাদ্দিসগণ দ্বিতীয় সনদের পর বলেন— “بِمِثْلِهِ” (এর মতো হুবহু শব্দে)।
  • নাহওয়াহু (نحوه – এর সমার্থক ভাবার্থ): যখন দুটি বর্ণনার মূল ভাবার্থ বা শিক্ষা এক থাকে কিন্তু শব্দের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন বা রূপান্তর থাকে, তখন মুহাদ্দিসগণ বলেন— “بِنَحْوِهِ” (এর সমার্থক শব্দে)।

٧- عَرِّفْ عُلُومَ الحَدِيثِ وَمَنْ هُوَ المُؤَسِّسُ لِهَذَا العِلْمِ؟

[৭. উলূমুল হাদিসের পরিচয় দাও। এই শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রথম গ্রন্থকার কে?]

উলূমুল হাদিসের সংজ্ঞা:

উলূমুল হাদিস (علوم الحديث) হলো এমন কিছু মৌলিক নীতি ও শাস্ত্রের সমষ্টি যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী, কর্ম, মৌনসম্মতি, রাবীদের অবস্থা, সনদের সংযোগ-বিচ্ছিন্নতা এবং মতনের বিশুদ্ধতা ও ত্রুটি বিস্তারিতভাবে জানা যায়।

এই শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও অগ্রদূত:

তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দিক থেকে এই শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সাহাবায়ে কেরাম ও শীর্ষ তাবেয়ী মুহাদ্দিসগণ। তবে একটি স্বতন্ত্র লিখিত শাস্ত্র হিসেবে সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ প্রণয়ন করেন চতুর্থ শতকের মহান মুহাদ্দিস কাজী আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে আবদুর রহমান আর-রামাহুরমুযী (মৃ. ৩৬০ হি.)। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থের নাম ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাবী ওয়াল ওয়ায়ী’ (المحدث الفاصل بين الراوي والواعي)।


٨- مَنْ هُوَ المُحَدِّثُ وَالحَافِظُ؟

[৮. মুহাদ্দিস ও হাফিজ কাকে বলে?]

১. মুহাদ্দিস (المحدث):

মুহাদ্দিস হলেন সেই বিশিষ্ট আলিম যিনি ইলমে হাদিসের রিওয়ায়াত ও দিরায়াত উভয় দিক গভীরভাবে আয়ত্ত করেছেন, বিপুল সংখ্যক হাদিসের সনদ ও মতন জানেন, রাবীদের আদালত ও যাব্ত সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং বিভিন্ন কিতাবের হাদিস ও তাদের স্তর নির্ণয়ে পারদর্শী।

২. হাফিজ (الحافظ):

হাফিজ মুহাদ্দিসের চেয়েও উচ্চতর স্তরের মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব। মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় যিনি অন্তত এক লক্ষ হাদিস সনদ ও মতনসহ মুখস্থ রাখেন, হাদিসের রাবীদের জন্ম, মৃত্যু, বংশ ও নির্ভরযোগ্যতার বিস্তারিত ইতিহাস পুঙ্খানুপুঙ্খ অবগত থাকেন এবং যার অজানা হাদিসের চেয়ে জানা হাদিসের সংখ্যা অনেক বেশি, তাঁকে ‘আল-হাফিজ’ বলা হয়। যেমন: হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী, হাফিজ যাহাবী (র.)।


٩- اُذْكُرْ بَعْضَ أَسْبَابِ الطَّعْنِ الَّتِي تَتَعَلَّقُ بِالعَدَالَةِ-

[৯. রাবীর আদালত বা চরিত্রের সাথে সম্পৃক্ত আপত্তির কারণসমূহ উল্লেখ করো।]

আদালত সংশ্লিষ্ট আপত্তির ৫টি কারণ (أسباب الطعن المتعلقة بالعدالة):

  1. আল-কাযিব (الكذب – মিথ্যাবাদিতা): রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নামে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হাদিস তৈরি করা। এটি সবচেয়ে মারাত্মক ত্রুটি; এর ফলে হাদিস জাল (মাওযূ) হয়।
  2. আত-তুহমাতু বিল কাযিব (التهمة بالكذب – মিথ্যাচারের অভিযোগ): সাধারণ কথাবার্তায় মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিত হওয়া। এর হাদিসকে ‘মাতরূক’ বলা হয়।
  3. আল-ফিসক্ব (الفسق – ফাসেক্বী বা পাপাচার): প্রকাশ্যে শরীয়তের ফরজ বিধান লঙ্ঘন করা বা কবিরা গুনাহে লিপ্ত থাকা।
  4. আল-বিদ’আহ (البدعة – বিদ’আতে লিপ্ত হওয়া): দ্বীনের মৌলিক আকাইদবিরোধী নবউদ্ভাবিত ভ্রান্ত মতবাদ পোষণ করা।
  5. আল-জাহালাহ (الجهالة – অজ্ঞাতপরিচয় হওয়া): রাবীর ব্যক্তিগত নাম, পরিচয় বা দ্বীনদারির অবস্থা অজ্ঞাত থাকা (মাজহুল)।

١٠- مَا هُوَ الخَبَرُ المُعْضَلُ؟ وَمَا حُكْمُهُ؟

[১০. মু’দ্বাল হাদিস কাকে বলে? এর শারঈ হুকুম কী?]

মু’দ্বাল (المعضل) হাদিসের সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থ: ‘মু’দ্বাল’ অর্থ অক্ষম করা, জটিল করা বা দুর্বোধ্য কোনো সমস্যা।

পারিভাষিক সংজ্ঞা:

“مَا سَقَطَ مِنْ إِسْنَادِهِ اثْنَانِ فَصَاعِدًا عَلَى التَّوَالِي”-

অর্থাৎ: “যে হাদিসের সনদের যেকোনো স্থান হতে একাধারে ক্রমান্বয়ে দুজন বা ততোধিক রাবী বাদ পড়ে যায়, তাকে মু’দ্বাল হাদিস বলে।”

উদাহরণ: কোনো তাবে-তাবেয়ী যদি তাঁর উস্তাদ ও তার উপরের তাবেয়ী— উভয়কে বাদ দিয়ে সরাসরি সাহাবি বা রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন।

শারঈ হুকুম: মু’দ্বাল হাদিস অত্যন্ত দুর্বল (যঈফ জিদ্দান) এবং এটি মারদুদ (প্রত্যাখ্যাত)। এটি দ্বারা শরীয়তের কোনো বিধান সাব্যস্ত করা বৈধ নয়, কারণ সনদের একাধারে একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়ায় সনদের সংযোগ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়।


١١- عَرِّفِ الرَّاوِيَ – ثُمَّ اكْتُبْ شُرُوطَ قَبُولِهِ-

[১১. রাবীর পরিচয় দাও। অতঃপর রাবীর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তাবলি লিপিবদ্ধ করো।]

রাবীর পরিচয়:

‘রাবী’ (الراوي) শব্দটি رِوَايَة থেকে নির্গত ইসমে ফায়েল, যার অর্থ বর্ণনাকারী। পরিভাষায়: যিনি সনদসহ হাদিস শ্রবণ করে স্মৃতিতে বা কিতাবে সংরক্ষণ করেন এবং পরবর্তীকালে তা অপরের নিকট বর্ণনা করেন, তাঁকে রাবী বলা হয়।

রাবীর গ্রহণযোগ্যতার প্রধান ৫টি শর্ত:

  1. আল-ইসলাম (الإسلام): হাদিস বর্ণনার সময় রাবীকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। অমুসলিমের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
  2. আল-আক্বল (العقل): রাবীকে বিবেকবান ও সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে; অপ্রকৃতিস্থ বা পাগলের বর্ণনা বাতিল।
  3. আল-বুলূগ (البلوغ): বর্ণনার সময় বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া আবশ্যক (যদিও অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হাদিস শ্রবণ করা জায়েয)।
  4. আল-আদালাত (العدالة): তাকওয়াবান হওয়া, কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকা, সগিরা গুনাহের ওপর অবিচল না থাকা এবং সামাজিক সম্মানহানিকর নীচ আচরণ থেকে মুক্ত থাকা।
  5. আয-যাব্ত (الضبط): মুখস্থের মাধ্যমে বা নির্ভরযোগ্য কিতাবের মাধ্যমে হাদিস নির্ভুলভাবে ধারণ ও প্রকাশ করার পূর্ণ সক্ষমতা থাকা।

١٢- مَا هُوَ الجَرْحُ وَالتَّعْدِيلُ؟ اكْتُبْ خَمْسَةَ أَلْفَاظِ الجَرْحِ وَالتَّعْدِيلِ-

[১২. জারহ ও তা’দীল কী? জারহ ও তা’দীলের পাঁচটি করে শব্দ লিপিবদ্ধ করো।]

জারহ ও তা’দীলের পরিচয়:

  • জারহ (الجرح): রাবীর এমন কোনো দোষ বা ত্রুটি প্রকাশ করা যার কারণে তাঁর আদালত বা স্মৃতিশক্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং তাঁর হাদিস অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
  • তা’দীল (التعديل): রাবীর ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও নির্ভুল স্মৃতিশক্তির সাক্ষ্য দিয়ে তাঁর বর্ণিত হাদিসকে গ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করা।

তা’দীল (প্রশংসা)-এর ৫টি পারিভাষিক শব্দ:

  1. أَوْثَقُ النَّاسِ (সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি)।
  2. ثِقَةٌ ثَبْتٌ (সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত)।
  3. ثِقَةٌ (নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ)।
  4. صَدُوقٌ (সত্যবাদী)।
  5. لاَ بَأْسَ بِهِ (তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই)।

জারহ (সমালোচনা)-এর ৫টি পারিভাষিক শব্দ:

  1. دَجَّالٌ / كَذَّابٌ (মস্ত প্রতারক বা চরম মিথ্যাবাদী)।
  2. مَتْرُوكُ الحَدِيثِ (যার হাদিস বর্জনীয়/পরিত্যক্ত)।
  3. مُتَّهَمٌ بِالكَذِبِ (মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত)।
  4. ضَعِيفٌ جِدًّا (চরম দুর্বল)।
  5. فِيهِ مَقَالٌ / لَيِّنٌ (তার ব্যাপারে সামান্য আপত্তি আছে/শিথিল)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল হাদীস শাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্য কী?

হাদিসের সনদ ও মতনের শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সহীহ, হাসান, যঈফ ও মাওযূ হাদিসসমূহকে পৃথক করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খাঁটি সুন্নাহকে সুরক্ষিত রাখা।

২. হাদিসে কুদসী ও কুরআনের প্রধান পার্থক্য কী?

পবিত্র কুরআনের শব্দ ও অর্থ উভয়ই সরাসরি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং নামাযে এর তেলাওয়াত ফরজ; পক্ষান্তরে হাদিসে কুদসীর ভাব আল্লাহর কিন্তু শব্দ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এবং নামাযে তা পাঠ করা যায় না।

৩. দুর্বল (যঈফ) হাদিসের ওপর কি আমল করা যায়?

আকাইদ ও হালাল-হারামের বিধান ব্যতীত ফাযায়েলে আমল বা নেক কাজের ক্ষেত্রে তিনটি শর্তে (চরম দুর্বল না হওয়া, প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির অধীন হওয়া এবং সুন্নাতের নিশ্চয়তা না ভাবা) যঈফ হাদিসের ওপর আমল করা জায়েয।

৪. মু’দ্বাল হাদিস কেন অত্যন্ত দুর্বল গণ্য হয়?

কারণ মু’দ্বাল হাদিসের সনদের যেকোনো স্থান থেকে একাধারে ক্রমান্বয়ে দুজন বা ততোধিক রাবী বাদ পড়ে যায়, ফলে সনদের অবিচ্ছিন্নতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।

৫. হাদিস শাস্ত্রে ‘হাফিজ’ উপাধি কাদের দেওয়া হয়?

যিনি সনদ ও মতনসহ কমপক্ষে এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন এবং রাবীদের বিস্তারিত জীবনী ও গ্রহণযোগ্যতার ইতিবৃত্ত নির্ভুলভাবে অবগত থাকেন, তাঁকে ‘হাফিজ’ বলা হয়।

৬. জারহ ও তা’দীলের মূল উদ্দেশ্য কী?

হাদিস বর্ণনাকারীদের সততা ও স্মৃতিশক্তির চুলচেরা বিচার করে বিশুদ্ধ হাদিস গ্রহণ করা এবং মিথ্যা ও ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা থেকে দ্বীনকে মুক্ত রাখা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *