জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

কাওয়াইদুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ-২ (Qawaidul Lughatil Arabiyyah-2) – 204203, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৬৩ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৫৯
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٠م
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২০]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
قواعد اللغة العربية-٢ (الصرف والإملاء)
[আরবি ব্যাকরণ-২ (সরফ ও বানানরীতি)]
বিষয় কোড: ২০৪২০৩
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ١٥ = ٦٠)

(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)

١- عَرِّفِ الفِعْلَ الثُّلَاثِيَّ المَزِيدَ فِيهِ وَالرُّبَاعِيَّ المَزِيدَ فِيهِ، ثُمَّ اذْكُرْ أَوْزَانَهُمَا مُمَثَّلاً-

[১. সুলাসী মাযীদ ফীহ ও রুবায়ী মাযীদ ফীহ ক্রিয়ার সংজ্ঞা দাও। অতঃপর উদাহরণসহ এদের ওজনসমূহ উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: আরবি ব্যাকরণে ক্রিয়ামূলের অক্ষরের সংখ্যা ও প্রকৃতির ভিত্তিতে ফেলকে মুজাররাদ ও মাযীদ ফীহ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। যখন মূল অক্ষরের ওপর অতিরিক্ত কোনো বর্ণ যুক্ত হয়, তখন তা ক্রিয়ার অর্থে বিশেষ পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য এনে দেয়।

১. সুলাসী মাযীদ ফীহ (الثلاثي المزيد فيه):

  • সংজ্ঞা: যে ক্রিয়ার অতীতকালের প্রথম সীগাহয় (واحد مذكر غائب) মূল তিনটি অক্ষরের (فاء، عين، لام) সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত হরফ যুক্ত থাকে, তাকে সুলাসী মাযীদ ফীহ বলা হয়। যেমন: أَكْرَمَ (মূলবর্ণ: ك-ر-م, অতিরিক্ত: শুরুতে হামযাহ)।
  • প্রকার ও ওজনসমূহ: সুলাসী মাযীদ ফীহ প্রধানত তিন শ্রেণীতে বিভক্ত:
    1. এক অক্ষর বৃদ্ধি (بحرف واحد): এর ৩টি প্রসিদ্ধ বাব রয়েছে:

      ১) أَفْعَلَ يُفْعِلُ إِفْعَالاً (যেমন: أَكْرَمَ يُكْرِمُ إِكْرَامًا)।

      ২) فَعَّلَ يُفَعِّلُ تَفْعِيلاً (যেমন: عَلَّمَ يُعَلِّمُ تَعْلِيمًا)।

      ৩) فَاعَلَ يُفَاعِلُ مُفَاعَلَةً (যেমন: جَاهَدَ يُجَاهِدُ مُجَاهَدَةً)।
    2. দুই অক্ষর বৃদ্ধি (بحرفين): এর ৫টি বাব রয়েছে:

      ১) اِنْفَعَلَ يَنْفَعِلُ اِنْفِعَالاً (যেমন: اِنْكَسَرَ يَنْكَسِرُ اِنْكِسَارًا)।

      ২) اِفْتَعَلَ يَفْتَعِلُ اِفْتِعَالاً (যেমন: اِجْتَمَعَ يَجْتَمِعُ اِجْتِمَاعًا)।

      ৩) اِفْعَلَّ يَفْعَلُّ اِفْعِلاَلاً (যেমন: اِحْمَرَّ يَحْمَرُّ اِحْمِرَارًا)।

      ৪) تَفَعَّلَ يَتَفَعَّلُ تَفَعُّلاً (যেমন: تَعَلَّمَ يَتَعَلَّمُ تَعَلُّمًا)।

      ৫) تَفَاعَلَ يَتَفَاعَلُ تَفَاعُلاً (যেমন: تَبَاعَدَ يَتَبَاعَدُ تَبَاعُدًا)।
    3. তিন অক্ষর বৃদ্ধি (بثلاثة أحرف): এর প্রসিদ্ধ বাব:

      ১) اِسْتَفْعَلَ يَسْتَفْعِلُ اِسْتِفْعَالاً (যেমন: اِسْتَغْفَرَ يَسْتَغْفِرُ اِسْتِغْفَارًا)।

      ২) اِفْعَوْعَلَ يَفْعَوْعِلُ اِفْعِيعَالاً (যেমন: اِعْشَوْشَبَ يَعْشَوْشِبُ اِعْشِيشَابًا)।

      ৩) اِفْعَوَّلَ يَفْعَوِّلُ اِفْعِوَّالاً (যেমন: اِجْلَوَّذَ يَجْلَوِّذُ اِجْلِوَّاذًا)।

      ৪) اِفْعَالَّ يَفْعَالُّ اِفْعِيلاَلاً (যেমন: اِحْمَارَّ يَحْمَارُّ اِحْمِيرَارًا)।

২. রুবায়ী মাযীদ ফীহ (الرباعي المزيد فيه):

  • সংজ্ঞা: যে ক্রিয়ার অতীতকালের প্রথম সীগাহয় মূল চারটি অক্ষরের সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত হরফ যুক্ত থাকে, তাকে রুবায়ী মাযীদ ফীহ বলা হয়।
  • প্রকার ও ওজনসমূহ: রুবায়ী মাযীদ ফীহ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত:
    1. এক অক্ষর বৃদ্ধি (بحرف واحد): শুরুতে অতিরিক্ত ‘তা’ (ت) যুক্ত হয়। এর একটিমাত্র বাব:

      تَفَعْلَلَ يَتَفَعْلَلُ تَفَعْلُلاً (যেমন: تَدَحْرَجَ يَتَدَحْرَجُ تَدَحْرُجًا – গড়িয়ে পড়া)।
    2. দুই অক্ষর বৃদ্ধি (بحرفين): এর দুটি বাব রয়েছে:

      ১) اِفْعَنْلَلَ يَفْعَنْلِلُ اِفْعِنْلاَلاً (যেমন: اِحْرَنْجَمَ يَحْرَنْجِمُ اِحْرِنْجَامًا – ভিড় জমানো)।

      ২) اِفْعَلَلَّ يَفْعَلِلُّ اِفْعِلاَلاً (যেমন: اِقْشَعَرَّ يَقْشَعِرُّ اِقْشِعْرَارًا – লোম খাঁড়া হওয়া/শিউরে ওঠা)।

উপসংহার: আরবি ভাষায় মাযীদ ফীহ বাবসমূহের মাধ্যমে ক্রিয়ার অর্থগত বৈচিত্র্য যেমন— মুতা’আদ্দী করা, পারস্পরিক অংশগ্রহণ, চেষ্টা-সাধনা কিংবা অতিশয়তা প্রকাশ পায়, যা আরবি ভাষার অন্যতম প্রধান অলংকার।


٢- مَا المُرَادُ بِالأَسْمَاءِ المُشْتَقَّةِ؟ وَكَمْ نَوْعًا لَهَا؟ هَاتِ صِيَغَ اسْمِ التَّفْضِيلِ مِنْ مَصْدَرِ ‘العِلْمِ’-

[২. আসমায়ে মুশতাক্কাহ বলতে কী বোঝায়? এর প্রকার কয়টি? ‘আল-ইলম’ মাসদার থেকে ইসমে তাফযীলের রূপসমূহ উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: আরবি ব্যাকরণে বিশেষ্য পদ (ইসম) তার গঠনগত দিক থেকে জামিদ ও মুশতাক্ব—এই দুই ভাগে বিভক্ত। মুশতাক্ব বিশেষ্যসমূহ ক্রিয়ামূল থেকে গঠিত হয়ে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

১. আসমায়ে মুশতাক্কাহর পরিচয়:

  • সংজ্ঞা: হচ্ছে এমন সব বিশেষ্য পদ, যা মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে সুনির্দিষ্ট নিয়মে গঠিত হয় এবং কোনো কার্য সম্পাদনকারী, কাজের পাত্র, সময়, স্থান বা যন্ত্র নির্দেশ করে। ব্যাকরণবিদদের মতে, الاسم المشتق هو ما أُخِذَ من غيره ودلّ على ذاتٍ متصفةٍ بصفة (মুশতাক্ব হলো যা অন্য শব্দ থেকে গৃহীত হয়ে কোনো গুণের অধিকারী সত্তাকে নির্দেশ করে)।

২. আসমায়ে মুশতাক্কাহর প্রকারভেদ: ইলমুস সরফের সুপ্রসিদ্ধ মতানুসারে আসমায়ে মুশতাক্ব প্রধানত ৭ প্রকার:

  1. ইসমে ফায়িল (اسم الفاعل): কার্য সম্পাদনকারীকে নির্দেশ করে (যেমন: عَالِمٌ – জ্ঞানী)।
  2. ইসমে মাফ’উল (اسم المفعول): যার ওপর কাজ পতিত হয় (যেমন: مَعْلُومٌ – যা জানা গেছে)।
  3. সিফাতে মুসাব্বাহাহ (الصفة المشبهة): স্থায়ী গুণ প্রকাশ করে (যেমন: حَسَنٌ – সুন্দর, كَرِيمٌ – সম্মানিত)।
  4. ইসমে তাফযীল (اسم التفضيل): তুলনা বা আতিশয্য নির্দেশ করে (যেমন: أَعْلَمُ – অধিক জ্ঞানী)।
  5. ইসমে যরফ (اسم الظرف – زمان / مكان): কাজের স্থান বা কাল নির্দেশ করে (যেমন: مَجْلِسٌ – বসার স্থান, مَوْعِدٌ – প্রতিশ্রুত সময়)।
  6. ইসমে আলাহ (اسم الآلة): কাজের মাধ্যম বা যন্ত্র নির্দেশ করে (যেমন: مِفْتَاحٌ – চাবি, مِبْرَدٌ – রেতি)।
  7. ইসমে মুবালাগা (اسم المبالغة): কাজের আধিক্য নির্দেশ করে (যেমন: غَفَّارٌ – পরম ক্ষমাশীল, عَلَّامَةٌ – অগাধ পণ্ডিত)।

৩. ‘আল-ইলম’ (العِلْم) মাসদার থেকে ইসমে তাফযীলের সীগাহসমূহ:

ইসমে তাফযীল গঠন করা হয় পুরুষবাচকের জন্য أَفْعَلُ এবং স্ত্রীবাচকের জন্য فُعْلَى ওজনে। ‘আল-ইলম’ (জানা/জ্ঞান) থেকে এর সীগাহসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

বচন ও লিঙ্গ আরবি রূপ (الصيغة) ওজন (الوزن) অর্থ
واحد مذكر (পুংলিঙ্গ একবচন) أَعْلَمُ أَفْعَلُ অধিক জ্ঞানী (একজন পুরুষ)
تثنية مذكر (পুংলিঙ্গ দ্বিবচন) أَعْلَمَانِ / أَعْلَمَيْنِ أَفْعَلاَنِ অধিক জ্ঞানী (দুজন পুরুষ)
جمع مذكر سالم (পুংলিঙ্গ বহুবচন) أَعْلَمُونَ / أَعْلَمِينَ أَفْعَلُونَ অধিক জ্ঞানী (সকল পুরুষ)
جمع مذكر تكسير (পুংলিঙ্গ ভগ্ন বহুবচন) أَعَالِمُ أَفَاعِلُ অধিক জ্ঞানীগণ (পুরুষ)
واحد مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ একবচন) عُلْمَى فُعْلَى অধিক জ্ঞানবতী (একজন নারী)
تثنية مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন) عُلْمَيَانِ / عُلْمَيَيْنِ فُعْلَيَانِ অধিক জ্ঞানবতী (দুজন নারী)
جمع مؤنث سالم (স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন) عُلْمَيَاتٌ فُعْلَيَاتٌ অধিক জ্ঞানবতীগণ (নারী)
جمع مؤنث تكسير (স্ত্রীলিঙ্গ ভগ্ন বহুবচন) عُلَمُ فُعَلُ অধিক জ্ঞানবতীগণ (নারী)

উপসংহার: ইসমে তাফযীল বাক্যে মূলত তিনটি অবস্থায় ব্যবহৃত হয়: মিন (مِنْ) সহযোগে, আলিফ-লাম যুক্ত হয়ে, এবং মুযাফ হিসেবে।


٣- اُكْتُبْ خَصَائِصَ بَابِ الإِفْعَالِ وَالتَّفَعُّلِ وَالإِفْتِعَالِ-

[৩. বাবে ইফ’আল, তাফা’উল ও ইফতি’আলের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ করো।]

ভূমিকা: সুলাসী মাযীদ ফীহ বাবসমূহের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মূল ক্রিয়াপদের অর্থের রূপান্তর ও পরিবর্ধন (معاني أبواب الزيادة)। প্রতিটি বাবের নিজস্ব কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও অর্থগত বিশেষত্ব রয়েছে।

১. বাবে ইফ’আল (الإفعال – أَفْعَلَ يُفْعِلُ إِفْعَالاً)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • তা’দিয়াহ (التعدية – সকর্মক করা): লাযিম (অকর্মক) ক্রিয়াকে মুতা’আদ্দী (সকর্মক) করে তোলে। যেমন: خَرَجَ زَيْدٌ (যায়েদ বের হলো) থেকে أَخْرَجْتُ زَيْدًا (আমি যায়েদকে বের করলাম)।
  • সায়রূরাহ (السيرورة – কোনো অবস্থায় উপনীত হওয়া): কর্তার কোনো অবস্থার অধিকারী হওয়া। যেমন: أَفْلَسَ الرَّجُلُ (লোকটি নিঃস্ব হয়ে গেল)।
  • দাখূল ফিল ওয়াক্ত বা মাকান (الدخول في الوقت والمكان): কোনো সময় বা স্থানে প্রবেশ করা। যেমন: أَصْبَحَ (সকালে উপনীত হলো), أَمْسَى (সন্ধ্যায় উপনীত হলো), أَعْرَقَ (ইরাকে প্রবেশ করল)।
  • সালব ও ইযালাহ (السلب والإزالة – দূরীকরণ): মূল ক্রিয়ার অর্থ দূর করা। যেমন: أَعْجَمْتُ الكِتَابَ (আমি কিতাবের জটিলতা/দুর্বোধ্যতা দূর করলাম বা নুকতা দিলাম)।
  • বুয়ূদ বা ওয়াজদান (الوجدان – কোনো অবস্থায় পাওয়া): কর্মকে কোনো গুণে পাওয়া। যেমন: أَحْمَدْتُ زَيْدًا (আমি যায়েদকে প্রশংসনীয় পেলাম)।

২. বাবে তাফা’উল (التفعل – تَفَعَّلَ يَتَفَعَّلُ تَفَعُّلاً)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • মুতাতাওয়া’আত (المطاوعة – বাবে তাফঈলের প্রভাব গ্রহণ): বাবে তাফঈলের ক্রিয়ার ফলাফল গ্রহণ করা। যেমন: عَلَّمْتُهُ فَتَعَلَّمَ (আমি তাকে শিক্ষা দিলাম, অতঃপর সে শিক্ষা গ্রহণ করল)।
  • তাকাল্লুফ (التكلف – কষ্টসহকারে চেষ্টা করা): কোনো কাজ কষ্ট করে অর্জন করা। যেমন: تَصَبَّرَ (কষ্ট করে ধৈর্য ধারণ করল), تَشَجَّعَ (বীরত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করল)।
  • ইত্তিখায (الاتخاذ – গ্রহণ করা): কোনো কিছুকে গ্রহণ করা। যেমন: تَوَسَّدَ ذِرَاعَهُ (সে বাহুকে বালিশ বানাল)।
  • তাজান্নুব (التجنب – পরিহার করা): কোনো বিষয় থেকে বিরত থাকা। যেমন: تَحَرَّجَ (পাপ থেকে বাঁচল), تَهَجَّدَ (ঘুম পরিহার করে নামাজে দাঁড়াল)।
  • তাদরীজ (التدريج – ধীরে ধীরে ঘটা): ক্রমান্বয়ে কাজ সম্পাদিত হওয়া। যেমন: تَجَرَّعَ المَاءَ (সে ঢোক ঢোক করে পানি পান করল)।

৩. বাবে ইফতি’আল (الافتعال – اِفْتَعَلَ يَفْتَعِلُ اِفْتِعَالاً)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • মুতাতাওয়া’আত (المطاوعة): সুলাসী মুজাররাদ ক্রিয়ার প্রভাব গ্রহণ। যেমন: جَمَعْتُهُ فَاجْتَمَعَ (আমি তা একত্র করলাম, ফলে তা একত্রিত হলো)।
  • মুশারাকাত (المشاركة – পারস্পরিক অংশগ্রহণ): দুই বা ততোধিক সত্তার মাঝে ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হওয়া। যেমন: اِقْتَتَلَ زَيْدٌ وَعَمْرٌو (যায়েদ ও আমর পরস্পরে যুদ্ধ করল)।
  • ইত্তিহায (الاتخاذ – প্রস্তুত বা গ্রহণ করা): নিজের জন্য কোনো কিছু তৈরি করা বা গ্রহণ করা। যেমন: اِخْتَتَمَ (সে নিজের জন্য আংটি বানাল বা পরিধান করল)।
  • ইজতিহাদ ও মুবালাগাহ (الاجتهاد والمبالغة – পূর্ণ উদ্যমে চেষ্টা করা): কার্যে অতিরিক্ত পরিশ্রম ও আধিক্য। যেমন: اِكْتَسَبَ (কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করল)।
  • ইযহার (الإظهار – প্রকাশ করা): কোনো গুণ প্রকাশ করা। যেমন: اِعْتَذَرَ (সে ওজর প্রকাশ করল)।

উপসংহার: আরবি ভাষায় ক্রিয়ার বাব পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থ ও ব্যাকরণিক মেজাজে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন সূচিত হয়, যা ইলমুস সরফের অন্যতম বিস্ময়কর সৌন্দর্য।


٤- اُكْتُبْ أَبْوَابَ الثُّلَاثِيِّ المُجَرَّدِ مَعَ ذِكْرِ الصَّرْفِ الصَّغِيرِ مِنْ مَصْدَرِ ‘الكِتَابَة’-

[৪. সুলাসী মুজাররাদের বাবসমূহ উল্লেখ করো এবং ‘আল-কিতাবাহ’ মাসদার থেকে সারফে সাগীর প্রদর্শন করো।]

ভূমিকা: সুলাসী মুজাররাদ (الثلاثي المجرد) হলো সেই সব ক্রিয়া যার অতীতকালের প্রথম সীগাহয় তিনটি মূল হরফ ছাড়া কোনো অতিরিক্ত হরফ থাকে না। মাদী ও মুযারের আইন (ع) কালিমার হরকতের তারতম্যের ভিত্তিতে এর ৬টি বাব নির্ধারিত হয়েছে।

১. সুলাসী মুজাররাদের ৬টি বাব:

আরবি ব্যাকরণবিদগণ এই ছয়টি বাবকে সংক্ষেপে একটি ছন্দোবদ্ধ শ্লোকে একত্রিত করেছেন:

فَتْحُ ضَمٍّ، فَتْحُ كَسْرٍ، فَتْحَتَانِ * كَسْرُ فَتْحٍ، ضَمُّ ضَمٍّ، كَسْرَتَانِ

বাব নং মাদী ও মুযারের ওজন প্রসিদ্ধ নাম ও উদাহরণ আইন কালিমার হরকত
১ম বাব فَعَلَ يَفْعُلُ بَابُ نَصَرَ يَنْصُرُ (نَصْرًا) মাদীতে ফাতহাহ, মুযারেতে যম্মাহ (فتح ضم)
২য় বাব فَعَلَ يَفْعِلُ بَابُ ضَرَبَ يَضْرِبُ (ضَرْبًا) মাদীতে ফাতহাহ, মুযারেতে কাসরাহ (فتح كسر)
৩য় বাব فَعَلَ يَفْعَلُ بَابُ فَتَحَ يَفْتَحُ (فَتْحًا) উভয়টিতেই ফাতহাহ (فتحتان)
৪র্থ বাব فَعِلَ يَفْعَلُ بَابُ سَمِعَ يَسْمَعُ (سَمْعًا) মাদীতে কাসরাহ, মুযারেতে ফাতহাহ (كسر فتح)
৫ম বাব فَعُلَ يَفْعُلُ بَابُ كَرُمَ يَكْرُمُ (كَرَمًا) উভয়টিতেই যম্মাহ (ضم ضم)
৬ষ্ঠ বাব فَعِلَ يَفْعِلُ بَابُ حَسِبَ يَحْسِبُ (حُسْبَانًا) উভয়টিতেই কাসরাহ (كسرتان)

২. ‘আল-কিতাবাহ’ (الكِتَابَةُ) মাসদার থেকে সারফে সাগীর (الصرف الصغير):

এটি বাবে নাসারা ইয়ানসুরু (فَعَلَ يَفْعُلُ)-এর অন্তর্ভুক্ত। এর রূপান্তর নিচে পেশ করা হলো:

ক্রিয়া/পদের প্রকার আরবি রূপ (الصيغة) অর্থ
الفعل الماضي المعروف كَتَبَ সে লিখল
الفعل المضارع المعروف يَكْتُبُ সে লিখছে বা লিখবে
المصدر كِتَابَةً وَكَتْبًا লেখা / লিখন
اسم الفاعل فَهُوَ كَاتِبٌ অতএব সে লেখক
الفعل الماضي المجهول كُتِبَ তা লিখিত হলো
الفعل المضارع المجهول يُكْتَبُ তা লিখিত হচ্ছে বা হবে
اسم المفعول وَذَاكَ مَكْتُوبٌ এবং তা লিখিত বস্তু
الأمر الحاضر المعروف اُكْتُبْ তুমি লেখো
النهي الحاضر المعروف لَا تَكْتُبْ তুমি লিখো না
اسم الظرف مَكْتَبٌ (ج: مَكَاتِبُ) লেখার স্থান বা সময় (অফিস/ডেস্ক)
اسم الآلة مِكْتَبٌ، مِكْتَابٌ (ج: مَكَاتِيبُ) লেখার যন্ত্র (কলম ইত্যাদি)
اسم التفضيل أَكْتَبُ، كُتْبَى অধিক লেখার অধিকারী

উপসংহার: সারফে সাগীর আয়ত্ত করার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কোনো মাসদারের প্রধান প্রধান রূপান্তরসমূহ এক নজরে সহজে আত্মস্থ করতে পারে।


٥- مَا المُرَادُ بِأَحْكَامِ الإِمْلَاءِ؟ اُكْتُبْ قَوَاعِدَ كِتَابَةِ تَاءِ التَّأْنِيثِ وَاليَاءِ، مُوَضِّحًا-

[৫. আহকামুল ইমলা (বানানরীতি) বলতে কী বোঝায়? তা-য়ে তানিস ও ইয়া লেখার নিয়ম ব্যাখ্যাসহ লিপিবদ্ধ করো।]

ভূমিকা: আরবি লিখনপদ্ধতি ও সঠিক বানানরীতিকে ‘ইলমুল ইমলা’ (علم الإملاء) বলা হয়। শুদ্ধ উচ্চারণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শব্দের নির্ভুল রূপ লিপিবদ্ধ করার জন্য এই শাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।

১. আহকামুল ইমলার পরিচয়:

  • সংজ্ঞা: আহকামুল ইমলা হলো সেই সব ব্যাকরণিক ও লিপিকৌশলগত নিয়মাবলী, যার মাধ্যমে উচ্চারিত ধ্বনিকে নির্ভুল লিপিরূপে প্রকাশ করা যায় এবং হরফের সংযোজন, বিয়োজন বা রূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি থেকে কলমকে রক্ষা করা যায়। আরবিতে বলা হয়: قَوَاعِدُ يُعْرَفُ بِهَا صِحَّةُ كِتَابَةِ الكَلِمَاتِ وَمُطَابَقَةُ الخَطِّ لِلَّفْظِ।

২. তা-য়ে তানিস (تاء التأنيث) লেখার নিয়মাবলী:

আরবি ভাষায় স্ত্রীলিঙ্গ প্রকাশক ‘তা’ দুইভাবে লেখা হয়: গোল তা (التاء المربوطة – ة) এবং লম্বা তা (التاء المفتوحة / المبسوطة – ت)।

  • ক. তা-য়ে মারবূতাহ (التاء المربوطة – ة):
    1. নিয়ম: যা ওয়াকফ অবস্থায় ‘হা’ (هـ) রূপে উচ্চারিত হয় এবং মিলিয়ে পড়ার সময় ‘তা’ (ت) উচ্চারিত হয়, তাকে গোল তা বলা হয়। এর ওপর অবশ্যই দুটি নুকতা দিতে হয়।
    2. ক্ষেত্রসমূহ:

      ১) একবচন বিশেষ্য ও বিশেষণে: যেমন— فَاطِمَةُ, عَائِشَةُ, مَدْرَسَةٌ, كَرِيمَةٌ।

      ২) এমন বহুবচন (جمع تكسير) যার একবচনে ‘তা’ নেই: যেমন— قَاضٍ থেকে قُضَاةٌ, دَاعٍ থেকে دُعَاةٌ।

      ৩) স্থান প্রকাশক কিছু ক্রিয়াবিশেষণে: যেমন— ثَمَّةَ (সেখানে)।
  • খ. তা-য়ে মাফতূহাহ (التاء المفتوحة / المبسوطة – ت):
    1. নিয়ম: যা ওয়াকফ ও ওয়াসল উভয় অবস্থাতেই স্পষ্ট ‘তা’ (ت) রূপে উচ্চারিত হয়।
    2. ক্ষেত্রসমূহ:

      ১) ক্রিয়াপদের সাথে যুক্ত তা: ফেলের তা-য়ে তানিস সাকিনাহ (যেমন: كَتَبَتْ, قَالَتْ) এবং সর্বনামীয় তা (যেমন: كَتَبْتَ, كَتَبْتُ)।

      ২) জামা মুয়ান্নাস সালেমে: যেমন— مُسْلِمَاتٌ, طَالِبَاتٌ।

      ৩) শব্দের মূল অক্ষরের তা: যেমন— بَيْتٌ, مَوْتٌ, وَقْتٌ।

      ৪) তিন অক্ষরবিশিষ্ট সাকিনুল ওয়াসাত বিশেষ্যে: যেমন— بِنْتٌ, أُخْتٌ।

৩. ইয়া (الياء) লেখার নিয়মাবলী:

শব্দের শেষে ইয়া মূলত দুই রূপ ধারণ করে: সাধারণ ইয়া (الياء المنقوطة – ي) এবং আলিফে মাকসূরাহ (الألف المقصورة – ى)।

  • ক. সাধারণ ইয়া (الياء المنقوطة – ي):
    1. শব্দের শেষে যখন দীর্ঘ ‘ঈ’ (ي) ধ্বনি উচ্চারিত হয় এবং তার পূর্বে কাসরাহ থাকে, তখন নিচে দুটি নুকতাসহ ‘ي’ লেখা হয়।
    2. ক্ষেত্রসমূহ:

      ১) ইসম মানকূসে: যেমন— القَاضِي, المُحَامِي, الدَّاعِي।

      ২) মুতাকাল্লিমের ইয়া যুক্ত হলে: যেমন— كِتَابِي, قَلَمِي।

      ৩) মুয়ান্নাস মুখাতাবার ক্রিয়ায়: যেমন— تَكْتُبِينَ, اُكْتُبِي।
  • খ. আলিফে মাকসূরাহ (الألف المقصورة على صورة الياء – ى):
    1. শব্দের শেষে দীর্ঘ ‘আ’ উচ্চারিত হলে কিন্তু লিপিরূপ ইয়া-এর মতো হলে (নুকতাহীন ى):
    2. ক্ষেত্রসমূহ:

      ১) তিন অক্ষরের বেশি শব্দে যদি আলিফের পূর্বে ইয়া না থাকে: যেমন— مُسْتَشْفَى, مُصْطَفَى, سَلْوَى (কিন্তু আলিফের আগে ইয়া থাকলে লম্বা আলিফ লেখা হয়, যেমন: دُنْيَا, هَدَايَا)।

      ২) তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দে যার মূল অক্ষর ছিল ‘ইয়া’: যেমন— فَتَى (মূল: فتيان), هُدَى, رَمَى (মুযারে: يَرْمِي)।

      ৩) কয়েকটি নির্দিষ্ট অব্যয়ে (حروف): যেমন— إِلَى, عَلَى, حَتَّى, بَلَى।

উপসংহার: ইমলার এই নিয়মাবলী নিখুঁতভাবে অনুসরণ করলে আরবি লিখনশৈলীতে অর্থবিভ্রান্তি দূর হয় এবং লেখার মান প্রশংসনীয় হয়।


٦- عَرِّفِ المُعْتَلَّ، ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَهُ مُفَصَّلاً وَمُمَثَّلاً-

[৬. মু’তাল-এর পরিচয় দাও। উদাহরণসহ বিস্তারিতভাবে এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: মূল অক্ষরের প্রকৃতির দিক থেকে আরবি শব্দাবলিকে সাত প্রকার বা ‘হাফত আকসাম’ (هفت اقسام)-এ ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ইল্লাতবিশিষ্ট বর্ণযুক্ত শব্দসমূহকে ‘মু’তাল’ বলা হয়।

১. মু’তাল (المعتل)-এর পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘আল-মু’তাল’ শব্দের অর্থ রোগাক্রান্ত বা দুর্বল।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: যে শব্দের মূল অক্ষরসমূহের (حروف أصلية) কোনো একটি বা দুটি হরফে ইল্লাত (حروف العلة— و، ا، ي) হয়, তাকে পরিভাষায় ‘মু’তাল’ বলা হয়। যেমন: وَعَدَ, قَالَ, رَمَى।

২. মু’তালের প্রকারভেদ:

মূল অক্ষরে হরফে ইল্লাতের স্থান ও সংখ্যার ভিত্তিতে মু’তাল প্রধানত চার প্রকার (আর লফীফের দুটি প্রকারসহ সর্বমোট পাঁচটি):

  1. মিসাল (المثال – معتل الفاء):
    • সংজ্ঞা: যার ফা-কালিমায় (প্রথম মূল অক্ষরে) হরফে ইল্লাত থাকে।
    • প্রকার:

      ১) মিসালে ওয়াবী (واوي): ফা-কালিমায় ‘ওয়াও’ থাকলে। যেমন: وَعَدَ, وَهَبَ, وَجَدَ।

      ২) মিসালে ইয়ায়ী (يائي): ফা-কালিমায় ‘ইয়া’ থাকলে। যেমন: يَسَرَ, يَبِسَ।
  2. আজওয়াফ (الأجوف – معتل العين):
    • সংজ্ঞা: যার আইন-কালিমায় (দ্বিতীয় বা মধ্যম মূল অক্ষরে) হরফে ইল্লাত থাকে। এর পেট ফাঁকা বা রোগাক্রান্ত বলে একে আজওয়াফ বলা হয়।
    • প্রকার:

      ১) আজওয়াফে ওয়াবী (واوي): মূল বর্ণে ‘ওয়াও’ থাকলে। যেমন: قَالَ (মূল: قَوَلَ), صَامَ (মূল: صَوَمَ)।

      ২) আজওয়াফে ইয়ায়ী (يائي): মূল বর্ণে ‘ইয়া’ থাকলে। যেমন: بَاعَ (মূল: بَيَعَ), سَارَ (মূল: سَيَرَ)।
  3. নাক্বিস (الناقص – معتل اللام):
    • সংজ্ঞা: যার লাম-কালিমায় (শেষ মূল অক্ষরে) হরফে ইল্লাত থাকে।
    • প্রকার:

      ১) নাক্বিসে ওয়াবী (واوي): শেষ অক্ষরে ‘ওয়াও’ থাকলে। যেমন: دَعَا (মূল: دَعَوَ), غَزَا (মূল: غَزَوَ)।

      ২) নাক্বিসে ইয়ায়ী (يائي): শেষ অক্ষরে ‘ইয়া’ থাকলে। যেমন: رَمَى (মূল: رَمَيَ), هَدَى (মূল: هَدَيَ)।
  4. লফীফ (اللفيف – মূল অক্ষরে দুটি হরফে ইল্লাত থাকা):

    লফীফ আবার দুই প্রকার:

    • ক. লফীফে মাকরূন (اللفيف المقرون): যার আইন ও লাম কালিমায় পরপর দুটি হরফে ইল্লাত থাকে (পাশাপাশি যুক্ত থাকা)। যেমন: طَوَى (গুটানো), شَوَى (পোড়ানো), رَوَى (বর্ণনা করা)।
    • খ. লফীফে মাফরূক্ব (اللفيف المفروق): যার ফা ও লাম কালিমায় হরফে ইল্লাত থাকে এবং মধ্যবর্তী আইন কালিমাটি সহীহ হরফ দ্বারা পৃথক থাকে। যেমন: وَقَى (রক্ষা করা), وَفَى (পূর্ণ করা), وَلِيَ (বন্ধু হওয়া)।

উপসংহার: মু’তাল শব্দের রূপান্তর ও তালীল (إعلال) আরবি সরফ শাস্ত্রের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা কুরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ পাঠের জন্য অপরিহার্য।


مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ٥ = ٢٠)

(أجب عن أربعة من الأسئلة الآتية)

٧- اُكْتُبْ مَوَاضِعَ كِتَابَةِ هَمْزَةِ القَطْعِ-

[৭. হামযায়ে ক্বাত’ঈ লেখার স্থানসমূহ উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: আরবি লিপিতে শব্দের শুরুর হামযাহ দুই প্রকার: হামযাতুল ওয়াসল (همزة الوصل) এবং হামযাতুল ক্বাত’ (همزة القطع)। হামযায়ে ক্বাত’ঈ হলো যা উচ্চারণে এবং লেখায় সর্বাবস্থায় বজায় থাকে (أ বা إ রূপে)।

হামযায়ে ক্বাত’ঈ লেখার প্রধান স্থানসমূহ:

  1. আসমায় বা বিশেষ্য পদে (في الأسماء):

    হামযাতুল ওয়াসলের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ইসম (যেমন: اسم، ابن، ابنة، امرؤ، امرأة ইত্যাদি) ব্যতীত আরবি ভাষার সমস্ত ইসমের শুরুর হামযাহ হলো হামযায়ে ক্বাত’। যেমন: أَحْمَدُ, إِبْرَاهِيمُ, أُسْتَاذٌ, أَبٌ, أُمٌّ।

  2. আফ’আলে বা ক্রিয়াপদে (في الأفعال):
    • সুলাসী মুজাররাদের মাদী ও মাসদারে: যার শুরুতে হামযাহ থাকে। যেমন: أَخَذَ – أَخْذًا, أَكَلَ – أَكْلاً, أَمَرَ – أَمْرًا।
    • রুবায়ী ক্রিয়ায় (বাবে ইফ’আলের মাদী, আমর ও মাসদারে): যেমন— أَكْرَمَ (মাদী), أَكْرِمْ (আমর), إِكْرَامًا (মাসদার)।
    • সমস্ত মুযারের মুতাকাল্লিম সীগাহয়: যেকোনো বাবের মুযারের প্রথম পুরুষ একবচনে (أنا)। যেমন: أَكْتُبُ, أَسْتَغْفِرُ, أَنْطَلِقُ।
  3. হুরূফে বা অব্যয়ে (في الحروف):

    নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক ‘আলিফ-লাম’ (ال) ব্যতীত আরবি ভাষার সমস্ত হুরূফের শুরুর হামযাহ হলো হামযায়ে ক্বাত’। যেমন: إِنَّ, أَنَّ, إِلَى, إِذَا, إِذْ, أَوْ, أَمْ, إِلَّا।

  4. সর্বনামে (الضمائر المنفصلة):

    হামযাহ দিয়ে শুরু হওয়া সমস্ত জমির। যেমন: أَنَا, أَنْتَ, أَنْتِ, أَنْتُمْ, إِيَّاكَ ইত্যাদি।


٨- اُكْتُبْ صِيَغَ اسْمِ الفَاعِلِ وَاسْمِ المَفْعُولِ مِنْ مَصْدَرِ ‘الفَتْح’-

[৮. ‘আল-ফাতহ’ মাসদার থেকে ইসমে ফায়িল ও ইসমে মাফ’উলের সীগাহসমূহ লিপিবদ্ধ করো।]

ভূমিকা: ‘আল-ফাতহ’ (الفَتْحُ – বিজয় করা / উন্মুক্ত করা) মাসদারটি সুলাসী মুজাররাদের বাবে ফাতাহা ইয়াফতাহু (فَعَلَ يَفْعَلُ)-এর অন্তর্ভুক্ত। সুলাসী মুজাররাদ থেকে ইসমে ফায়িল فَاعِلٌ ওজনে এবং ইসমে মাফ’উল مَفْعُولٌ ওজনে গঠিত হয়।

১. ‘আল-ফাতহ’ থেকে ইসমে ফায়িলের সীগাহসমূহ (صيغ اسم الفاعل):

বচন ও লিঙ্গ আরবি রূপ (الصيغة) অর্থ
واحد مذكر (পুংলিঙ্গ একবচন) فَاتِحٌ বিজয়ী / উন্মুক্তকারী (একজন পুরুষ)
تثنية مذكر (পুংলিঙ্গ দ্বিবচন) فَاتِحَانِ / فَاتِحَيْنِ দুজন পুরুষ বিজয়ী
جمع مذكر سالم (পুংলিঙ্গ বহুবচন) فَاتِحُونَ / فَاتِحِينَ সকল পুরুষ বিজয়ী
واحد مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ একবচন) فَاتِحَةٌ বিজয়িনী / উন্মুক্তকারিণী (একজন নারী)
تثنية مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন) فَاتِحَتَانِ / فَاتِحَتَيْنِ দুজন নারী বিজয়িনী
جمع مؤنث سالم (স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন) فَاتِحَاتٌ সকল নারী বিজয়িনী

২. ‘আল-ফাতহ’ থেকে ইসমে মাফ’উলের সীগাহসমূহ (صيغ اسم المفعول):

বচন ও লিঙ্গ আরবি রূপ (الصيغة) অর্থ
واحد مذكر (পুংলিঙ্গ একবচন) مَفْتُوحٌ উন্মুক্ত / বিজিত বস্তু বা ব্যক্তি
تثنية مذكر (পুংলিঙ্গ দ্বিবচন) مَفْتُوحَانِ / مَفْتُوحَيْنِ উন্মুক্ত দুটি বস্তু
جمع مذكر سالم (পুংলিঙ্গ বহুবচন) مَفْتُوحُونَ / مَفْتُوحِينَ বিজিত বা উন্মুক্ত বহু বস্তু/ব্যক্তি
واحد مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ একবচন) مَفْتُوحَةٌ উন্মুক্ত একটি স্ত্রীলিঙ্গ বিষয়/বস্তু
تثنية مؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ দ্বিবচন) مَفْتُوحَتَانِ / مَفْتُوحَتَيْنِ উন্মুক্ত দুটি স্ত্রীলিঙ্গ বিষয়/বস্তু
جمع مؤنث سالم (স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন) مَفْتُوحَاتٌ উন্মুক্ত বহু স্ত্রীলিঙ্গ বিষয়/বস্তু

٩- اُكْتُبْ مَوَاضِعَ اسْتِخْدَامِ ‘عَلَامَةِ التَّنْصِيصِ’-

[৯. উদ্ধৃতি চিহ্ন (علامة التنصيص – quotation marks) ব্যবহারের ক্ষেত্রসমূহ উল্লেখ করো।]

ভূমিকা: আরবি বিরামচিহ্নকে ‘আলামাতুত তারক্বীম’ (علامات الترقيم) বলা হয়। এর মধ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি চিহ্ন হলো ‘উদ্ধৃতি চিহ্ন’ বা علامة التنصيص (যার প্রতীক: « » অথবা ” “)।

আলামাতুত তানসীস ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:

  1. হুবহু উদ্ধৃতি প্রদর্শনে (النقل المباشر بنصه):

    অন্য কোনো ব্যক্তি, গ্রন্থ বা বক্তার বক্তব্য নিজের লেখায় অবিকল উদ্ধৃত করতে এই চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন:

    قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ وَعَلَّمَهُ».

  2. কুরআনুল কারীমের আয়াত লিপিবদ্ধকরণে:

    পবিত্র কুরআনের আয়াত লেখার সময় সাধারণ বাক্য থেকে তাকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিতে তানসীস ব্যবহার করা হয় (কুরআনের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্র্যাকেট ﴿ ﴾ বা « » ব্যবহৃত হয়)। যেমন:

    قَالَ اللهُ تَعَالَى: «إِنَّمَا المُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ».

  3. গ্রন্থ, গবেষণাপত্র বা প্রবন্ধের নাম নির্দেশনায়:

    লেখার মাঝে কোনো কিতাব, ম্যাগাজিন বা পত্রিকার নাম স্বতন্ত্রভাবে ফুটিয়ে তুলতে। যেমন:

    قَرَأْتُ كِتَابَ «سِيرَةِ ابْنِ هِشَامٍ» فِي الإِجَازَةِ.

  4. শব্দের বিশেষ পারিভাষিক বা ব্যঙ্গার্থ প্রকাশে:

    কোনো শব্দের সাধারণ অর্থ না বুঝিয়ে পারিভাষিক অর্থ, নবউদ্ভাবিত পরিভাষা অথবা কোনো বিশেষ তাৎপর্য বোঝাতে তা তানসীসের মাঝে আবদ্ধ করা হয়। যেমন:

    يُطْلَقُ لَفْظُ «العَوْلَمَةِ» عَلَى التَّكَامُلِ الدَّوْلِيِّ.

  5. অপ্রচলিত বা বিদেশি শব্দের সুস্পষ্টীকরণে:

    আরবি পাঠের ভেতর বিদেশি কোনো শব্দ বা প্রতিশব্দ প্রথমবার উল্লেখকালে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।


١٠- عَرِّفِ الإِدْغَامَ وَالإِعْلَالَ مُمَثَّلاً-

[১০. উদাহরণসহ ইদগাম ও ই’লালের সংজ্ঞা দাও।]

ভূমিকা: আরবি ভাষায় উচ্চারণের স্বাচ্ছন্দ্য ও মাধুর্য সৃষ্টির জন্য শব্দে বিদ্যমান হরফের যে ব্যাকরণিক রূপান্তর ও সমন্বয় সাধিত হয়, তার মৌলিক দুটি প্রক্রিয়া হলো ‘ইদগাম’ ও ‘ই’লাল’।

১. ইদগাম (الإدغام)-এর পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: এক বস্তুকে অপর বস্তুর ভেতর প্রবেশ করানো বা মিলিয়ে দেওয়া (إدخال الشيء في الشيء)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: শব্দের ভেতর পরপর দুটি সমজাতীয় হরফ (حرفان متماثلان) একত্রিত হলে প্রথমটিকে সাকিন এবং দ্বিতীয়টিকে হরকতযুক্ত অবস্থায় উভয়কে মিলিয়ে তাসদীদযুক্ত একটি হরফে রূপান্তর করে উচ্চারণ করাকে ইদগাম বলা হয়।

    সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: هو إدخال حرف ساكن في حرف متحرك بحيث يصيران حرفًا واحدًا مشددًا।
  • উদাহরণ:

    ১) مَدَّ – এটি মূলত ছিল مَدَدَ (দুটি দাল একত্রিত হওয়ায় প্রথমটিকে সাকিন করে ইদগাম করা হয়েছে)।

    ২) فَرَّ – এটি মূলত ছিল فَرَرَ।

২. ই’লাল (الإعلال)-এর পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: রোগাক্রান্ত করা বা পরিবর্তন সাধন করা।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: কোনো শব্দের মূল অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত হরফে ইল্লাতকে (واو، ألف، ياء) উচ্চারণ সহজীকরণের লক্ষ্যে পরিবর্তন (قلب), বিলোপ (حذف) কিংবা সাকিন (إسكان) করার নিয়মকে ই’লাল বলা হয়।

    সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: هو تغيير حرف العلة بقلبه أو تسكينه أو حذفه للتخفيف।
  • ই’লালের তিন প্রকারের উদাহরণ:
    1. ই’লাল বিল ক্বালব (الإعلال بالقلب – পরিবর্তন): যেমন: قَالَ মূলত ছিল قَوَلَ; ওয়াও হরকতযুক্ত এবং পূর্বের হরফে ফাতহাহ থাকায় ওয়াওকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে।
    2. ই’লাল বিল ইসকান (الإعلال بالتسكين – সাকিন করা): যেমন: يَقُولُ মূলত ছিল يَقْوُلُ; ওয়াওয়ের যম্মাহ পূর্বে সহীহ সাকিন হরফ ‘ক্বাফ’-এ স্থানান্তরিত করে ওয়াওকে সাকিন করা হয়েছে।
    3. ই’লাল বিল হাযফ (الإعلال بالحذف – বিলোপ করা): যেমন: قُلْ মূলত ছিল اُقْوُلْ; ই’লাল ও দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে ওয়াও বিলুপ্ত হয়েছে।

١١- عَرِّفِ المَصْدَرَ ثُمَّ بَيِّنْ أَقْسَامَهُ مُمَثَّلاً-

[১১. মাসদারের পরিচয় দাও এবং উদাহরণসহ এর প্রকারভেদ বর্ণনা করো।]

ভূমিকা: আরবি ব্যাকরণে বিশেষ্য পদের মূল ভিত্তি হলো মাসদার (المصدر)। বসরা অঞ্চলের ব্যাকরণবিদদের মতে, সমস্ত ক্রিয়া ও মুশতাক্ব পদের মূল উৎস হলো মাসদার।

১. মাসদারের পরিচয়:

  • আভিধানিক অর্থ: নির্গমনস্থল বা উৎপত্তিস্থল (محل الصدور)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: যে বিশেষ্য পদ কোনো নির্দিষ্ট কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে শুধুমাত্র কোনো কাজের সংঘটন বা মূল ধারণাকে নির্দেশ করে, তাকে মাসদার বলা হয়।

    বলা হয়েছে: المصدر هو اسم يدل على الحدث مجردًا من الزمان। যেমন: كِتَابَةٌ (লেখা), عِلْمٌ (জ্ঞান), إِكْرَامٌ (সম্মান প্রদর্শন)।

২. মাসদারের প্রকারভেদ: গঠন ও অর্থের দিক থেকে মাসদার প্রধানত নিম্নোক্ত প্রকারসমূহে বিভক্ত:

  1. আস-সারীহ বা মূল মাসদার (المصدر الأصلي / الصريح):

    যে মাসদার সরাসরি কাজের মূল রূপ প্রকাশ করে। এটি দুই প্রকার:

    ১) সুলাসী মুজাররাদের মাসদার: যা মূলত সামা’ঈ বা শ্রবণনির্ভর। যেমন: فَهْمٌ, شُكْرٌ, طَلَبٌ।

    ২) গাইরে সুলাসী মাসদার: যা ক্বিয়াসি বা নিয়মভিত্তিক। যেমন: إِكْرَامٌ (বাবে ইফ’আল), تَعْلِيمٌ (বাবে তাফঈল), اِسْتِغْفَارٌ (বাবে ইসতিফ’আল)।

  2. আল-মাসদারুল মীমি (المصدر الميمي):

    যে মাসদারের শুরুতে অতিরিক্ত মীমে যায়েদাহ যুক্ত থাকে এবং সাধারণ মাসদারের অর্থ প্রদান করে।

    সুলাসী থেকে এর ওজন সাধারণত مَفْعَلٌ বা مَفْعِلٌ। যেমন: مَطْلَبٌ (অর্থ: طلب), مَوْعِدٌ (অর্থ: وعد), مَنْظَرٌ (অর্থ: نظر)।

  3. আল-মাসদারুল মুআওওয়াল (المصدر المؤول):

    যা সরাসরি একক শব্দ নয়, বরং আন (أَنْ), আন্না (أَنَّ) অথবা মা (مَا) এবং পরবর্তী ক্রিয়ার সমন্বয়ে মাসদারের অর্থে রূপান্তরিত হয়। যেমন: أَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ (অর্থাৎ: صِيَامُكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ – তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর)।

  4. আল-মাসদারুস সিনা’ঈ (المصدر الصناعي):

    কোনো বিশেষ্যের শেষে ইয়া-য়ে মুশাদ্দাদাহ ও তা যুক্ত করে (ـِيَّة) কৃত্রিমভাবে গঠিত ভাববাচক বিশেষ্য। যেমন: إِنْسَانِيَّةٌ (মানবতা), حُرِّيَّةٌ (স্বাধীনতা), إِسْلَامِيَّةٌ (ইসলামিয়াত)।

  5. মাসদারুল মাররাহ ও মাসদারুন নাও’ (مصدر المرة والنوع):
    • মাসদারুল মাররাহ (একবার সংঘটন): فَعْلَةٌ ওজনে। যেমন: ضَرْبَةٌ (একবার আঘাত করা)।
    • মাসদারুন নাও’ (ধরন বা অবস্থা): فِعْلَةٌ ওজনে। যেমন: جِلْسَةٌ (বসার বিশেষ ভঙ্গি)।

١٢- عَلِّلِ الكَلِمَاتِ التَّالِيَةَ: يَقُومُ، يَهَبُ، نَادَى-

[১২. নিচের শব্দগুলোর তালীলের নিয়ম বর্ণনা করো: يقوم, يَهَبُ, نَادَى]

ভূমিকা: আরবি শব্দে হরফে ইল্লাতের পরিবর্তন, বিলোপ বা হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে উচ্চারণে সহজতা আনার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে তালীল (التعليل / الإعلال) বলা হয়। নিম্নে প্রদত্ত তিনটি শব্দের বিস্তারিত তালীল পেশ করা হলো:

১. يَقُومُ (সে দণ্ডায়মান হচ্ছে/হবে):

  • শব্দটির মূল রূপ: এটি বাবে নাসারা ইয়ানসুরু (فَعَلَ يَفْعُلُ)-এর মুযারে মা’রূফ। এর মূল রূপ ছিল يَقْوُمُ (ধাতুমূল: ق-و-م)।
  • তালীলের নিয়ম:
    1. শব্দের মধ্যবর্তী হরফে ইল্লাত ‘واو’ (ওয়াও) হরকতযুক্ত (যম্মাহবিশিষ্ট) ছিল এবং তার পূর্ববর্তী হরফ ‘ق’ (ক্বাফ) একটি সহীহ হরফ যাতে সাকিন ছিল (حرف صحيح ساكن)।
    2. আরবি সরফের নিয়ম হলো— হরফে ইল্লাতের ওপর ভারী হরকত (যম্মাহ) উচ্চারণের কষ্ট দূর করতে তা পূর্ববর্তী সহীহ সাকিন বর্ণে স্থানান্তর করতে হয় (نقل الحركة)।
    3. অতএব, ওয়াওয়ের যম্মাহ ‘ক্বাফ’-এ প্রদান করা হলো এবং ওয়াও স্বীয় যম্মাহ হারিয়ে সাকিন হয়ে গেল। ফলে শব্দটি يَقُومُ-এ রূপান্তরিত হলো (ই’লাল বিন নকল ওয়াস-সুStage)।

২. يَهَبُ (সে দান করছে/করবে):

  • শব্দটির মূল রূপ: এটি বাবে ফাতাহা ইয়াফতাহু (فَعَلَ يَفْعَلُ)-এর মিসালে ওয়াবীর মুযারে মা’রূফ। এর মূল রূপ ছিল يَوْهَبُ (ধাতুমূল: و-هـ-ب, মাদী: وَهَبَ)।
  • তালীলের নিয়ম:
    1. মিসালে ওয়াবীর মুযারের সীগাহয় ফা-কালিমা ‘واو’ যখন মুযারের আলামতের ফাতহাহ এবং তৎপরবর্তী ফাতহাহ বা কাসরাহর মধ্যবর্তী স্থানে পতিত হয়, তখন উচ্চারণের লাঘবতার জন্য ওয়াও হরফটি বিলুপ্ত (حذف) হয়ে যায়।
    2. অতএব, ‘يَوْهَبُ’ শব্দ থেকে ফা-কালিমার ‘و’ বিলুপ্ত হয়ে শব্দটি يَهَبُ-তে পরিণত হলো (ই’লাল বিল হাযফ)।

৩. نَادَى (সে আহ্বান করল):

  • শব্দটির মূল রূপ: এটি বাবে মুফা’আলাহ (فَاعَلَ يُفَاعِلُ مُفَاعَلَةً)-এর নাক্বিসে ইয়ায়ী। এর মূল রূপ ছিল نَادَيَ (ধাতুমূল: ن-د-ي)।
  • তালীলের নিয়ম:
    1. শব্দের শেষ অক্ষর লাম-কালিমা ‘ي’ (ইয়া) হরকতযুক্ত (ফাতহাহবিশিষ্ট) এবং তার পূর্ববর্তী হরফ ‘د’ (দাল)-এর ওপর ফাতহাহ রয়েছে।
    2. সরফের সুপ্রসিদ্ধ মৌলিক কায়েদা হলো: إذا تحركت الياء أو الواو وانفتح ما قبلها قُلِبَت ألفًا (যদি ওয়াও বা ইয়া হরকতযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের হরফে ফাতহাহ থাকে, তবে সেই ওয়াও বা ইয়া আলিফে রূপান্তরিত হয়)।
    3. অতএব, শেষ অক্ষর ‘ي’-কে আলিফে মাকসূরাহতে রূপান্তরিত করা হলো এবং শব্দটি লিপিরূপে نَادَى-তে পরিণত হলো (ই’লাল বিল ক্বালব)।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সুলাসী মুজাররাদ ও সুলাসী মাযীদ ফীহের মধ্যে মূল পার্থক্য কী?

সুলাসী মুজাররাদের অতীতকালীন মূল রূপটি মাত্র তিনটি অক্ষর দ্বারা গঠিত হয় এবং তাতে কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে না (যেমন: كتب)। পক্ষান্তরে, সুলাসী মাযীদ ফীহে মূল তিনটি অক্ষরের সাথে এক, দুই বা তিনটি অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়ে অর্থগত বৈচিত্র্য এনে দেয় (যেমন: أخرج، تَعَلَّمَ، استغفر)।

২. আসমায়ে মুশতাক্কাহ বলতে কী বোঝায় এবং এগুলো কয়টি?

আসমায়ে মুশতাক্কাহ হলো সেসব বিশেষ্য যা নির্দিষ্ট নিয়মে ক্রিয়ামূল বা মাসদার থেকে গঠিত হয় এবং কোনো কাজের কর্তা, পাত্র, আধার বা গুণ নির্দেশ করে। প্রসিদ্ধ মতানুসারে এগুলো ৭টি: ইসমে ফায়িল, ইসমে মাফ’উল, সিফাতে মুসাব্বাহাহ, ইসমে তাফযীল, ইসমে যরফ, ইসমে আলাহ ও ইসমে মুবালাগা।

৩. বাবে ইফ’আলের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?

বাবে ইফ’আলের সর্বপ্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তা’দিয়াহ (التعدية) বা সকর্মকতা। অর্থাৎ এটি অকর্মক ক্রিয়াকে (লাযিম) সকর্মক ক্রিয়ায় (মুতা’আদ্দী) রূপান্তরিত করে; যেমন: خرج (সে বের হলো) থেকে أخرج (সে বের করল)।

৪. তা-য়ে মারবূতাহ ও তা-য়ে মাফতূহাহ চেনার উপায় কী?

তা-য়ে মারবূতাহ (ة) মিলিয়ে পড়ার সময় ‘তা’ এবং ওয়াকফ অবস্থায় ‘হা’ (হ) ধ্বনি উচ্চারণ করে (যেমন: مدرسة)। অন্যদিকে, তা-য়ে মাফতূহাহ (ت) মিলিয়ে পড়া ও থামার উভয় অবস্থাতেই সর্বদাই স্পষ্ট ‘তা’ উচ্চারিত হয় (যেমন: بيت، كتبت)।

৫. হামযায়ে ওয়াসল ও হামযায়ে ক্বাত’ঈর মধ্যকার তফাত কী?

হামযায়ে ক্বাত’ঈ (أ / إ) শব্দের শুরুতে পাঠ করার সময় এবং পূর্বে কোনো শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়ার সময় উভয় অবস্থাতেই সর্বদা উচ্চারিত ও লিখিত হয়। কিন্তু হামযায়ে ওয়াসল পৃথকভাবে পড়লে উচ্চারিত হলেও পূর্বে শব্দ মিলিয়ে পড়ার সময় উচ্চারণ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

৬. ই’লাল ও ইদগামের মূল লক্ষ্য কী?

ই’লাল ও ইদগামের প্রধান লক্ষ্য হলো উচ্চারণের কষ্ট ও জড়তা দূর করে আরবি শব্দ উচ্চারণে স্বাচ্ছন্দ্য, গতিশীলতা ও শ্রুতিমধুরতা সৃষ্টি করা।

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *