জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

প্রাচীন আরবি গদ্য-১ (An-Nasrul Arabi al-Qadim – 1) – 204206, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৫১ মিনিট পড়ার সময়
৯ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৬৯
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
النثر القديم-١
[প্রাচীন আরবি গদ্য-১]
বিষয় কোড: ২০৪২০৬
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة
[দ্রষ্টব্য: মার্জিনে উল্লেখিত সংখ্যা পূর্ণমান নির্দেশ করে।]


١- تَرْجِمِ العِبَارَةَ الآتِيَةَ (ثَلاَثَةً فَقَطْ): (الدرجات: ٣ × ١٠ = ٣٠)

[১. নিম্নোক্ত যেকোনো তিনটি অনুচ্ছেদের সরল ও প্রাঞ্জল বাংলা অনুবাদ করো:]

(أ) قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: ثُمَّ مَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَجِّهِ، فَأَرَى النَّاسَ مَنَاسِكَهُمْ، وَأَعْلَمَهُمْ سُنَنَ حَجِّهِمْ، وَخَطَبَ النَّاسَ خُطْبَتَهُ الَّتِى بَيَّنَ فِيهَا مَا بَيَّنَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ : أَيُّهَا النَّاسُ! اسْمَعُوا قَوْلِى، فَإِنِّى لاَ أَدْرِى لَعَلِّى لاَ أَلْقَاكُمْ بَعْدَ عَامِى هَذَا بِهَذَا المَوْقِفِ أَبَدًا، أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ دِمَائِكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ إِلَى أَنْ تَلْقَوْا رَبَّكُمْ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، وَكَحُرْمَةِ شَهْرِكُمْ هَذَا، وَأَنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ، وَقَدْ بَلَّغْتُ-

[(ক) ইবনে ইসহাক বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হজ্জের কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেন। তিনি লোকদের হজের বিধিবিধান দেখিয়ে দিলেন এবং হজের সুন্নাতসমূহ শিক্ষা দিলেন। এরপর তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করলেন, যাতে তিনি আবশ্যকীয় বহু বিষয় স্পষ্টভাবে বর্ণনা করলেন। তিনি আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন, অতঃপর বললেন: “হে লোকসকল! আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। কারণ আমি জানি না, হয়তো এই বছরের পর এই স্থানে তোমাদের সাথে আমি আর কখনো মিলিত হতে পারব না। হে লোকসকল! নিশ্চয় তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের ধন-সম্পদ পরস্পরের ওপর তেমনি সম্মানিত ও পবিত্র, যেমন সম্মানিত তোমাদের এই দিন এবং যেমন সম্মানিত তোমাদের এই পবিত্র মাস, যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের পালনকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবে। আর নিশ্চয় তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রতিপালকের সমীপে উপস্থিত হবে এবং তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। জেনে রাখো, আমি তো পৌঁছে দিয়েছি!”]

(ب) أَيُّهَا النَّاسُ! اسْمَعُوا وَعُوا، مَنْ عَاشَ مَاتَ، وَمَنْ مَاتَ فَاتَ، وَكُلُّ مَا هُوَ آتٍ آتٍ ……… مَطَرٌ وَنَبَاتٌ وَأَرْزَاقٌ وَأَقْوَاتٌ وَآبَاءٌ وَأُمَّهَاتٌ وَأَحْيَاءٌ وَأَمْوَاتٌ جَمْعٌ وَأَشْتَاتٌ، لَيْلٌ دَاجٍ، وَنَهَارٌ سَاجٍ، وَسَمَاءٌ ذَاتُ أَبْرَاجٍ، أَرْضٌ ذَاتُ فِجَاجٍ وَبِحَارٌ ذَاتُ أَمْوَاجٍ، وَمِهَادٌ مَوْضُوعٌ، وَسَقْفٌ مَرْفُوعٌ وَنُجُومٌ تَمُورُ وَبِحَارٌ لاَ تَغُورُ وَنُجُومٌ تَزْهَرُ وَبِحَارٌ تَزْخَرُ ………….

[(খ) হে লোকসকল! শোনো এবং অন্তরে ধারণ করো! যে ব্যক্তি বেঁচে থাকে সে মৃত্যুবরণ করে; আর যে মৃত্যুবরণ করে সে তো অতীত হয়ে যায়। আর যা কিছু আসার তা অবশ্যম্ভাবী এসে পড়বে। বৃষ্টি, উদ্ভিদ, রিযিক, খাদ্যদ্রব্য, পিতা-মাতা, জীবিত ও মৃত— সবাই একত্র হয় আবার ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যায়। অন্ধকারাচ্ছন্ন রজনী, শান্ত-স্নিগ্ধ দিবস, নক্ষত্রপুঞ্জমণ্ডিত আকাশ, বিস্তৃত গিরিপথসমৃদ্ধ জমিন, উত্তাল তরঙ্গমালাবিশিষ্ট মহাসমুদ্র, বিছানো সমতল ভূমি এবং সুউচ্চ ছাদ! তারকারাজি পরিভ্রমণ করছে, সমুদ্র কখনো নিঃশেষ হয় না, নক্ষত্রগুলো দ্যুতি ছড়ায় এবং সাগর উদ্বেলিত হয়!]

(ج) وَاعْلَمُوا أَنِّى أَوَّلُ مُجِيبٍ إِلَى مَا دَعَوْتُكُمْ إِلَيْهِ وَأَنِّى عِنْدَ مُلْتَقَى الجَمْعَيْنِ حَامِلٌ بِنَفْسِى عَلَى طَاغِيَةِ القَوْمِ لُذَرِيقَ فَأُقَاتِلُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، فَاحْمِلُوا مَعِى فَإِنْ هَلَكْتُ بَعْدَهُ فَقَدْ كَفَيْتُكُمْ أَمْرَهُ وَلَمْ يُعْوِذْكُمْ بَطَلٌ عَاقِلٌ تَسْتَنِدُونَ أُمُورَكُمْ إِلَيْهِ وَإِنْ هَلَكْتُ قَبْلَ وُصُولِى فَاخْلُفْنِى فِى عَزِيمَتِى هَذِهِ، وَاحْمِلُوا بِأَنْفُسِكُمْ عَلَيْهِ وَاكْتَفُوا لَهُمْ فَتْحَ هَذِهِ الجَزِيرَةِ بِقَتْلِهِ، فَإِنَّهُمْ بَعْدَهُ يُخْذَلُونَ-

[(গ) জেনে রাখো! আমি তোমাদেরকে যে মহান লক্ষ্যের দিকে আহ্বান জানাচ্ছি, আমি নিজেই তার প্রথম সাড়া দানকারী। দুই সৈন্যদলের মুখোমুখি সংঘাতের মুহূর্তে আমি স্বয়ং শত্রু বাহিনীর পরাক্রমশালী অত্যাচারী রাজা রডারিক (লুযরীক)-এর ওপর তীব্র আক্রমণ চালাব এবং ইনশাআল্লাহ তাকে হত্যা করব। তোমরাও আমার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে। যদি আমি তাকে হত্যার পর শহীদ হই, তবে আমি তো তোমাদের জন্য তার বিপদ নির্মূল করে গেলাম; তোমাদের মাঝে এমন কোনো দূরদর্শী বিবেকবান বীরের অভাব হবে না যার ওপর তোমরা তোমাদের নেতৃত্ব অর্পণ করতে পারো। আর যদি আমি তার কাছে পৌঁছার পূর্বেই শাহাদাত বরণ করি, তবে তোমরা আমার এই দৃঢ় সংকল্প পূর্ণ করার দায়িত্ব নেবে, তোমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার ওপর চড়াও হবে এবং তাকে হত্যার মাধ্যমে এই ভূখণ্ড (আন্দালুস) বিজয়ের লক্ষ্য পূরণ করবে। কারণ সে নিহত হলে শত্রুবাহিনী সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়বে।]

(د) كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَاصِلَ الأَحْزَانِ دَائِمَ الفِكْرِ لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ، طَوِيلَ السَّكْتِ لاَ يَتَكَلَّمُ فِى غَيْرِ حَاجَةٍ، يَفْتَحُ الكَلاَمَ وَيَخْتِمُهُ بِأَشْدَاقِهِ، وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الكَلِمِ، كَلاَمُهُ فَصْلٌ لاَ فُضُولَ فِيهِ وَلاَ تَقْصِيرَ؛ لَيْسَ بِالجَافِى وَلاَ المَهِينِ، يُعَظِّمُ النِّعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ، وَلاَ يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا، غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَذُمُّ ذَوَاقًا وَلاَ يَمْدَحُهُ، وَلاَ تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا وَلاَ مَا كَانَ لَهَا، فَإِذَا تُعُدِّىَ الحَقُّ لَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْئٌ حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ، وَلاَ يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ وَلاَ يَنْتَصِرُ لَهَا-

[(ঘ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাহর হিদায়াত ও আখেরাতের সার্বক্ষণিক গভীর ভাবনায় নিরন্তর চিন্তিত থাকতেন, তাঁর কোনো পার্থিব আরাম-বিশ্রাম ছিল না। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করতেন, প্রয়োজন ব্যতীত অহেতুক কোনো কথা বলতেন না। তিনি মুখের দুই প্রান্ত খুলে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট উচ্চারণে কথা শুরু ও শেষ করতেন। তিনি স্বল্প বাক্যে ব্যাপক অর্থপূর্ণ বক্তব্য (জাওয়ামিউল কালিম) উপস্থাপন করতেন। তাঁর কথা ছিল দ্ব্যর্থহীন ফয়সালাকারী, যাতে কোনো অনর্থক বাহুল্য ছিল না এবং কোনো অস্পষ্টতা বা অপূর্ণতাও ছিল না। তিনি কর্কশ স্বভাবের ছিলেন না এবং কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্যও করতেন না। যেকোনো নিয়ামতকে তিনি অতি মর্যাদা দিতেন যদিও তা অতি ক্ষুদ্র হতো; নিয়ামতের কোনো কিছুরই তিনি নিন্দা করতেন না। তবে তিনি কোনো খাদ্যের স্বাদকে অপছন্দ করে তিরস্কারও করতেন না এবং অযথা প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোনো কারণে তিনি কখনোই ক্রোধান্বিত হতেন না; কিন্তু যখন সত্য ও ইনসাফ লঙ্ঘিত হতো, তখন সত্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো শক্তি তাঁর ক্রোধকে থামাতে পারত না। আর তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে কখনোই রাগ করতেন না এবং প্রতিশোধও নিতেন না।]

(هـ) حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ هِشَامٍ قَالَ : طَرَحَتْنِى النَّوَى مَطَارِحَهَا حَتَّى إِذَا وَطِئْتُ جُرْجَانَ الأَقْصَى، فَاسْتَظْهَرْتُ عَلَى الأَيَّامِ بِضِيَاعٍ أَجَلْتُ فِيهَا يَدَ العِمَارَةِ، وَأَمْوَالٍ وَقَفْتُهَا عَلَى التِّجَارَةِ، وَحَانُوتٍ جَعَلْتُهُ مَثَابَةً، وَرِفْقَةٍ اتَّخَذْتُهَا صَحَابَةً وَجَعَلْتُ لِلدَّارِ، حَاشِيَتَىِ النَّهَارِ- وَلِلْحَانُوتِ مَا بَيْنَهُمَا، فَجَلَسْنَا يَوْمًا نَتَذَاكَرُ القَرِيضَ وَأَهْلَهُ، وَتِلْقَاءَنَا شَابٌّ قَدْ جَلَسَ غَيْرَ بَعِيدٍ يَنْصِتُ وَكَأَنَّهُ يَفْهَمُ، وَيَسْكُتُ وَكَأَنَّهُ لاَ يَعْلَمُ-

[(ঙ) ঈসা ইবনে হিশাম আমাদের বর্ণনা করে বলেন: ভাগ্যের নির্মম আবর্তনে দেশান্তরী হয়ে আমি শেষ পর্যন্ত দূরবর্তী জুর্জান নগরীতে উপনীত হলাম। সেখানে কালের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নিজেকে সুরক্ষিত করার জন্য আমি কিছু কৃষিজমি গ্রহণ করলাম এবং সেখানে চাষাবাদ ও সংস্কার শুরু করলাম। কিছু অর্থ ব্যবসায়ের জন্য নিয়োজিত করলাম, একটি দোকানকে আমার মিলনস্থল বানালাম এবং একদল বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করলাম। আমি দিবসের প্রারম্ভ ও সমাপ্তি— দুই প্রান্ত নিজ গৃহের জন্য এবং মধ্যবর্তী সময়টি দোকানের জন্য নির্ধারণ করেছিলাম। একদিন আমরা বসে কবিতা ও কবিদের স্মৃতিচারণ করছিলাম। এমন সময় আমাদের সম্মুখেই সামান্য দূরে এক যুবক এসে বসল; সে গভীর মনোযোগের সাথে আমাদের কথা শুনছিল যেন সে সব বোঝে, আবার এমন নীরব ছিল যেন সে কিছুই জানে না।]


٢- اشْرَحِ اثْنَيْنِ مِمَّا يَلِى: (الدرجات: ٢ × ٥ = ١٠)

[২. নিম্নোক্ত বাণীসমূহ থেকে যেকোনো দুটির ভাবার্থ ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করো:]

(أ) أَيُّهَا النَّاسُ! إِنَّمَا المُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ-

[(ক) হে লোকসকল! নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।]

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য: এটি বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ঘোষিত ইসলামি সমাজব্যবস্থার মূল ঘোষণাপত্র। জাহিলী যুগে রক্ত, গোত্র ও জাত্যাভিমানের ভিত্তিতে মানুষ পরস্পরের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত থাকত। রাসূল (সা.) কুরআনের আয়াতের (إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ) আলোকে ঘোষণা করলেন যে, সমস্ত মুমিনদের মধ্যকার একমাত্র শাশ্বত বন্ধন হলো ঈমানের ভ্রাতৃত্ব। একজন কৃষ্ণাঙ্গ হাবশী ক্রীতদাস এবং সম্ভ্রান্ত কুরাইশ নেতার রক্তের মর্যাদা ইসলামের দৃষ্টিতে সমান। কোনো মুসলিম ভাইয়ের জান, মাল ও ইজ্জতের ক্ষতি করা অপর মুসলিমের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। এই বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধই মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মূল চাবিকাঠি।

(ب) لاَ تَكُونُوا لِعَدَاوَةِ أَحَدٍ مِنَ النَّاسِ أَحْذَرَ مِنْكُمْ لِذُنُوبِكُمْ-

[(খ) তোমরা মানুষের মধ্যকার কোনো প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে নিজেদের কৃত পাপরাশিকে বেশি ভয় করো।]

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য: বিশিষ্ট সাহাবি বা তাবেয়ীদের প্রজ্ঞাপূর্ণ এই বাণীতে মানবজীবনের এক গভীর আত্মিক দর্শন ব্যক্ত হয়েছে। মানুষ সাধারণত বাহ্যিক শত্রু, চক্রান্তকারী ও পরনিন্দাকারীকে বেশি ভয় পায় এবং তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে সতর্কতা অবলম্বন করে। অথচ মানুষের জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও মারাত্মক শত্রু হলো তার নিজের কৃত পাপ ও অবাধ্যতা। কারণ কোনো বাহ্যিক শত্রু বড়জোর মানুষের পার্থিব ক্ষতি বা শারীরিক মৃত্যু ঘটাতে পারে, কিন্তু মানুষের কৃত গুনাহ তার দুনিয়া ও পরকাল উভয়টি চিরতরে ধ্বংস করে দেয় এবং আল্লাহর রহমত থেকে তাকে বঞ্চিত করে। তাই মানুষের শত্রুতার চেয়ে নিজের পাপকে বেশি ভয় করাই প্রকৃত তাকওয়া।

(ج) إِنَّ لِلَّهِ عَبِيدًا …………… أَخَذُوا العُمْرَ خَلِيطًا-

[(গ) নিশ্চয় আল্লাহর এমন কিছু খাঁটি বান্দা রয়েছে যারা জীবনকে এক গভীর সমন্বয়ে গ্রহণ করেছে।]

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য: এই বাণীতে যুহদ ও আধ্যাত্মিকতায় সমৃদ্ধ আল্লাহর মুখলিস বান্দাদের জীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করে। একদিকে তারা দুনিয়ায় বৈধ উপায়ে জীবন নির্বাহ করে এবং পরিবারের হক আদায় করে; অপরদিকে সার্বক্ষণিক পরকালচিন্তা, তাহাজ্জুদ ও রবের ভয়ে তাঁদের চোখ অশ্রুসজল থাকে। তারা পার্থিব জীবনকে ক্ষণস্থায়ী মুসাফিরখানা মনে করে আখেরাতের অনন্ত জীবনের পাথেয় সংগ্রহে নিজেদের উৎসর্গ করে।

(د) أَرَى الأَيَّامَ لاَ تَبْقَى * عَلَى حَالٍ فَأَحْكِيهَا-

[(ঘ) আমি দেখি মহাকালের দিনগুলো কোনো এক অবস্থায় স্থির থাকে না, যার বর্ণনা আমি দিতে পারি।]

ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য: এটি কালের পরিবর্তনশীলতা ও নশ্বরতার চিরন্তন কাব্যিক চিত্রায়ন। পার্থিব জীবনের কোনো সুখ, ঐশ্বর্য বা দুঃখ চিরস্থায়ী নয়। আজকের রাজা কালকের নিঃস্ব ভিখারী এবং আজকের সংকট কালকের সফলতায় রূপান্তরিত হয়। সুখের পর দুঃখ এবং উত্তানের পর পতন— মহাকালের এই আবর্তনশীলতাকে কেউ বেঁধে রাখতে পারে না। তাই বুদ্ধিমান মানুষের উচিত পরিবর্তনশীল দুনিয়ার চাকচিক্যে বিভ্রান্ত না হয়ে আল্লাহর শাশ্বত বিধানের ওপর অবিচল থাকা।


٣- اشْرَحِ اثْنَيْنِ بِالعَرَبِيَّةِ: (الدرجات: ٢ × ٥ = ١٠)

[৩. নিম্নোক্ত বাক্যসমূহ থেকে যেকোনো দুটির ব্যাখ্যা আরবি ভাষায় উপস্থাপন করো:]

(أ) «إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ»-

[(ক) নিশ্চয় কাল বা জামান আজ তেমনি আবর্তিত হয়ে তার আদিম রূপে ফিরে এসেছে, যেমন রূপ ছিল যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন।]

الشرح بالعربية: يُشِيرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى هَذَا القَوْلِ الكَرِيمِ إِلَى إِبْطَالِ عَادَةِ “النَّسِيءِ” الَّتِى كَانَ أَهْلُ الجَاهِلِيَّةِ يَفْعَلُونَهَا، حَيْثُ كَانُوا يُؤَخِّرُونَ الأَشْهُرَ الحُرُمَ وَيَتَلَاعَبُونَ بِهَا وِفْقَ أَهْوَائِهِمْ لِأَجْلِ القِتَالِ. فَلَمَّا حَجَّ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَّةَ الوَدَاعِ فِى ذِى الحِجَّةِ، وَافَقَتْ حَجَّتُهُ الوَقْتَ الأَصْلِىَّ الصَّحِيحَ الَّذِى وَضَعَهُ اللَّهُ يَوْمَ خَلَقَ الكَوْنَ. فَأَعْلَنَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ التَّلَاعُبَ بِالأَزْمِنَةِ قَدِ انْتَهَى، وَعَادَ نِظَامُ الأَشْهُرِ إِلَى وَضْعِهِ الإِلَهِىِّ الخَالِصِ، مُؤَكِّدًا أَنَّ السَّنَةَ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ-

(ب) «لاَ تَسْتَنْصِرُوا عَلَى أَهْلِ أَرْضِ الحَرْبِ بِظُلْمِ أَهْلِ الذِّمَّةِ»-

[(খ) শত্রু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাহায্য পাওয়ার আশায় নিজ দেশের অমুসলিম জিম্মি নাগরিকদের ওপর কোনোপ্রকার জুলুম করো না।]

الشرح بالعربية: يُرَسِّخُ هَذَا المَبْدَأُ الإِسْلَامِىُّ العَظِيمُ قِيمَةَ العَدَالَةِ المُطْلَقَةِ وَالوَفَاءِ بِالعُهُودِ. فَإِنَّ “أَهْلَ الذِّمَّةِ” هُمُ المُوَاطِنُونَ غَيْرُ المُسْلِمِينَ الَّذِينَ يَعِيشُونَ فِى دَوْلَةِ الإِسْلَامِ تَحْتَ عَهْدِ الأَمَانِ وَالمِيثَاقِ. فَلَا يَجُوزُ لِلْمُسْلِمِينَ أَبَدًا أَنْ يَغْدِرُوا بِهِمْ، أَوْ يَأْخُذُوا أَمْوَالَهُمْ، أَوْ يَعْتَدُوا عَلَى حُقُوقِهِمْ بِحُجَّةِ مُحَارَبَةِ الأَعْدَاءِ فِى الخَارِجِ. فَالإِسْلَامُ يُحَرِّمُ الظُّلْمَ تَحْرِيمًا قَاطِعًا، وَيُوجِبُ احْتِرَامَ الحُقُوقِ المَدَنِيَّةِ لِكُلِّ مَنْ عَاهَدَهُمُ المُسْلِمُونَ-

(ج) «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ صَدْرًا وَأَصْدَقَ النَّاسِ لَهْجَةً»-

[(গ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক উদার হৃদয়ের অধিকারী এবং সর্বাধিক সত্যভাষী।]

الشرح بالعربية: يُوَضِّحُ هَذَا الوَصْفُ النَّبَوِىُّ كَمَالَ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَـ “أَجْوَدُ النَّاسِ صَدْرًا” تَعْنِى أَنَّهُ كَانَ أَوْسَعَهُمْ قَلْبًا، يَتَّسِعُ لِلنَّاسِ جَمِيعًا، لَا يَحْمِلُ حِقْدًا وَلَا غِلًّا، وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَى الجَاهِلِينَ وَيَعْفُو عِنْدَ المَقْدِرَةِ. وَأَمَّا “أَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً” فَهِىَ تَعْبِيرٌ عَنْ أَعْلَى دَرَجَاتِ الصِّدْقِ فِى الكَلَامِ، حَيْثُ كَانَ لِسَانُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُطَهَّرًا عَنِ الكَذِبِ وَالمَيْنِ، شَهِدَ لَهُ بِذَلِكَ أَعْدَاؤُهُ قَبْلَ أَوْلِيَائِهِ مُنْذُ شَبَابِهِ حَتَّى لُقِّبَ بِـ “الصَّادِقِ الأَمِينِ”-

(د) «وَقَالَ : سَلُونِى أُجِبْكُمْ، وَاسْمَعُوا أُعْجِبْكُمْ»-

[(ঘ) এবং তিনি বললেন: তোমরা আমাকে প্রশ্ন করো আমি জবাব দেব, আর মনোযোগ দিয়ে শোনো আমি তোমাদের মুগ্ধ করব।]

الشرح بالعربية: هَذِهِ عِبَارَةٌ أَدَبِيَّةٌ بَلِيغَةٌ تَدُلُّ عَلَى ثِقَةِ العَالِمِ المُتَمَكِّنِ وَالخَطِيبِ المُفَوَّهِ بِعِلْمِهِ وَبَيَانِهِ. فَهِيَ دَعْوَةٌ لِلْحَاضِرِينَ لِطَرْحِ مَا يَشْغَلُ عُقُولَهُمْ مِنَ المَسَائِلِ الصَّعْبَةِ، مَعَ الوَعْدِ بِالإِجَابَةِ الشَّافِيَةِ، وَالاسْتِمَاعِ إِلَى الكَلَامِ البَلِيغِ الَّذِى يَسْتَهْوِى القُلُوبَ وَيَأْخُذُ بِالأَلْبَابِ لِشِدَّةِ فَصَاحَتِهِ وَجَمَالِ أَسْلُوبِهِ-


٤- أَجِبْ عَنِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَسْئِلَةِ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٢ × ٥ = ١٠)

[৪. নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহ থেকে যেকোনো দুটির উত্তর দাও:]

(أ) مَا الدَّرْسُ المُسْتَفَادُ مِنْ قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “لاَ فَضْلَ لِعَرَبِىٍّ عَلَى أَعْجَمِىٍّ إِلاَّ بِالتَّقْوَى”؟

[(ক) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী: “তাকওয়া ব্যতীত কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই”— এর থেকে শিক্ষণীয় বিষয় কী?]

উত্তর ও শিক্ষণীয় দিকসমূহ:

  • বর্ণবাদ ও জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের চির অবসান: ইসলামে রক্তের বিশুদ্ধতা, চামড়ার রঙ, ভৌগোলিক অবস্থান বা ভাষার ভিত্তিতে কাউকে শ্রেষ্ঠ বা নিকৃষ্ট মনে করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি ইসলামি মানবাধিকারের সর্বজনীন সনদ।
  • শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড ‘তাকওয়া’: আল্লাহর দৃষ্টিতে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক মর্যাদাবান যিনি সর্বাধিক আল্লাহভীরু ও সৎকর্মপরায়ণ (সূরা হুজুরাত: ১৩)। একজন পরহেযগার কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসও আল্লাহর নিকট অহংকারী কুরাইশ সর্দারের চেয়ে কোটি গুণ উত্তম।
  • বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: এই শিক্ষার মাধ্যমে ইসলাম মানবজাতিকে এক পিতা হযরত আদম (আ.)-এর সন্তান হিসেবে একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবারে আবদ্ধ করেছে।

(ب) مَاذَا قَالَ قُسُّ بْنُ سَاعِدَةَ الإِيَادِىُّ عَنِ المَوْتِ وَالحَيَاةِ؟

[(খ) কুস ইবনে সা’ইদাহ আল-আইয়াদী জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কী বলেছিলেন?]

উত্তর: জাহিলী যুগের বিখ্যাত একেশ্বরবাদী (হানিফ) বাগ্মী কুস ইবনে সা’ইদাহ উকাজ মেলায় দাঁড়িয়ে তাঁর অমর ঐতিহাসিক ভাষণে জীবন ও মৃত্যুর শাশ্বত সত্য তুলে ধরে বলেছিলেন: «أَيُّهَا النَّاسُ! اسْمَعُوا وَعُوا، مَنْ عَاشَ مَاتَ، وَمَنْ مَاتَ فَاتَ، وَكُلُّ مَا هُوَ آتٍ آتٍ» অর্থাৎ, “হে লোকসকল! শোনো এবং উপলব্ধি করো! যে ব্যক্তি জন্ম নিয়েছে বা জীবিত আছে সে অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে; আর যে মৃত্যুবরণ করেছে সে অতীত হয়ে গেছে। আর যা কিছু আসার (কিয়ামত ও হিসাব) তা নিশ্চিতভাবেই আসবে।” তিনি আকাশের নক্ষত্র, বিস্তৃত জমিন ও সাগরের ঢেউয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানুষকে এক স্রষ্টার প্রতি ঈমান আনার এবং মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা স্মরণের উপদেশ দিয়েছিলেন।

(ج) مَاذَا قَصَدَ طَارِقُ بْنُ زِيَادٍ بِقَوْلِهِ: “البَحْرُ مِنْ وَرَائِكُمْ وَالعَدُوُّ أَمَامَكُمْ”؟

[(গ) তারিক বিন যিয়াদ তাঁর ঐতিহাসিক উক্তি: “পেছনে তোমাদের সমুদ্র এবং সামনে তোমাদের শত্রু”— দ্বারা কী উদ্দেশ্য করেছিলেন?]

উত্তর: স্পেনের (আন্দালুস) মাটিতে পদার্পণ করে তারিক বিন যিয়াদ তাঁর মুজাহিদ বাহিনীকে উদ্দেশ করে এই কালজয়ী বাণী উচ্চারণ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর বাহিনীর সামনে দুটি অকাট্য বাস্তবতা তুলে ধরেছিলেন:

  • পশ্চাদপসরণের কোনো পথ নেই: সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ফিরে যাওয়ার কোনো নৌযান অবশিষ্ট নেই, তাই পেছনে ফেরার চেষ্টা মানেই সলিল সমাধি।
  • বিজয়ের সংকল্প ছাড়া বিকল্প নেই: একমাত্র পথ হলো বীর বিক্রমে শত্রুকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে আনা অথবা আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করা। এটি মুজাহিদদের অন্তরে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের প্রেরণা সঞ্চার করেছিল।

(د) اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ أَخْلاَقِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ خَلِيفَةً-

[(ঘ) খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.)-এর অনন্য চারিত্রিক মাধুর্য সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।]

উত্তর: উমাইয়া খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) ছিলেন সততা ও ইনসাফের প্রতীক, যাঁকে ইতিহাসের অন্যতম মুজাদ্দিদ ও ‘পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ’ বলা হয়। তাঁর প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • চরম আল্লাহভীতি ও বিনয়: খিলাফতের দায়িত্ব লাভের পর তিনি রাজকীয় বিলাসিতা বর্জন করে নিজ সমস্ত সম্পদ ও স্ত্রীর গহনা বায়তুল মালে জমা দেন এবং সাধারণ প্রজার মতো জীবনযাপন করেন।
  • অতুলনীয় ইনসাফ: তিনি উমাইয়া রাজপরিবার কর্তৃক দখলকৃত সমস্ত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেন এবং সাম্রাজ্যে পূর্ণ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেন।
  • জনকল্যাণমুখী শাসন: তাঁর শাসনামলে যাকাত নেওয়ার মতো কোনো দরিদ্র মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।

٥- أَجِبْ عَنْ أَرْبَعَةٍ مِنَ الأَسْئِلَةِ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٤ × ٥ = ٢٠)

[৫. নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহ থেকে যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) تَحَدَّثْ عَنْ قِيمَةِ “السِّيرَةِ النَّبَوِيَّةِ” فِى تَرْبِيَةِ الأَجْيَالِ-

[(ক) ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে ‘সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’-এর মূল্য ও তাৎপর্য আলোচনা করো।]

উত্তর: নতুন প্রজন্মের চারিত্রিক ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনে সীরাতুন্নবী (সা.) হলো একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তব পথপ্রদর্শক। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম সততা, আমানতদারি, বিনয়, ধৈর্য, বীরত্ব এবং সর্বাবস্থায় সত্যের ওপর অবিচল থাকার জীবন্ত প্রেরণা লাভ করে। তিনি ছিলেন একাধারে স্নেহশীল পিতা, আদর্শ স্বামী, বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক এবং সফল সেনাপতি। তাই তরুণদের মানসিক হতাশা দূর করে মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান করতে সীরাতের বিকল্প নেই।

(ب) اكْتُبْ دَوْرَ الخُطْبَةِ فِى تَكْوِينِ المُجْتَمَعِ السَّلِيمِ-

[(খ) একটি সুস্থ ও শান্তিময় সমাজ গঠনে খুতবাহ বা ভাষণের ভূমিকা আলোচনা করো।]

উত্তর: আরবি গদ্য সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হলো ‘খুতবাহ’। একটি আদর্শ সমাজ গঠনে এর ভূমিকা অপরিসীম:

  • সচেতনতা ও সংস্কার: জুমার খুতবাহ ও সামাজিক বক্তৃতার মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি, মাদক ও জুলুমের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা হয়।
  • ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি: মানুষকে পারস্পরিক সহানুভূতি, প্রতিবেশীর হক ও সামাজিক শৃঙ্খলার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা।
  • সংকটকালে দিকনির্দেশনা: জাতীয় দুর্যোগ, যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের সময় খুতবাহ মানুষকে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকার মনোবল যোগায়।

(ج) تَحَدَّثْ عَنِ القِيمَةِ الأَدَبِيَّةِ لِلْمُخْتَارَاتِ مِنْ آدَابِ العَرَبِ لِأَبِى الحَسَنِ النَّدْوِىِّ-

[(গ) আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ গ্রন্থের সাহিত্যিক মূল্য মূল্যায়ন করো।]

উত্তর: বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) রচিত ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ আরবি সাহিত্য অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এক অনন্য কালজয়ী সংকলন:

  • বিশুদ্ধ রুচি ও ইসলামী মূল্যবোধ: জাহিলী ও ইসলামি যুগের সাহিত্য থেকে অশ্লীলতা মুক্ত করে কেবল ঈমানদীপ্ত, নৈতিক ও সাহিত্যগুণে সমৃদ্ধ গদ্য ও পদ্যের শ্রেষ্ঠ নমুনা এখানে সংকলিত হয়েছে।
  • শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি: প্রাঞ্জল ভাষা, আধুনিক টীকা এবং সহজবোধ্য শব্দচয়ন শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষায় প্রাঞ্জল রচনা ও বক্তব্যের দক্ষতা অর্জনে অপরিসীম ভূমিকা রাখে।

(د) كَيْفَ أَكَّدَ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى وَحْدَةِ الأُمَّةِ فِى خُطْبَتِهِ؟

[(ঘ) বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) কীভাবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছিলেন?]

উত্তর: বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মাহর ঐক্যকে সুদৃঢ় করতে ঘোষণা করেছিলেন: «إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، كُلُّكُمْ لِآدَمَ، وَآدَمُ مِنْ تُرَابٍ» (তোমাদের রব এক, তোমাদের পিতাও এক; তোমরা সবাই আদমের সন্তান, আর আদম মাটির তৈরি)। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, একজন মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। তিনি কুসংস্কার ও জাহিলী রক্তের দাবিকে পায়ের নিচে পিষ্ট করে ঘোষণা করেছিলেন যে, তাকওয়া ছাড়া শ্রেষ্ঠত্বের কোনো মানদণ্ড নেই এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণকারী কাফেরদের মতো হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

(هـ) اكْتُبْ خُلاَصَةَ “المَقَامَةِ الكُوفِيَّةِ”-

[(ঙ) ‘আল-মাকামাতুল কুফিয়্যাহ’-এর সারসংক্ষেপ সংক্ষেপে লেখো।]

উত্তর: প্রখ্যাত সাহিত্যিক আল-হারিরী রচিত মাকামাতের অন্যতম বিখ্যাত মাকামা হলো কুফার পটভূমিতে রচিত ‘মাকামাতুল কুফিয়্যাহ’:

  • বর্ণনাকারী আল-হারিস ইবনে হাম্মাম এক তীব্র শীতের রাতে কুফায় বন্ধুদের সাথে সাহিত্য মজলিসে বসে গল্প করছিলেন। গভীর রাতে দরজায় কড়া নেড়ে এক আগন্তুক ছন্দময় বাক্যে তার চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধার করুণ আর্তি জানায়।
  • উপস্থিত সকলে তার অপূর্ব বাকপটুতা ও অলংকারপূর্ণ গদ্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে প্রচুর খাবার ও অর্থ দান করে।
  • পরবর্তীতে আলো জ্বালিয়ে দেখা যায় যে এই ধূর্ত বাগ্মী ভিক্ষুকটি আর কেউ নয়; বরং সাহিত্যের চতুর চরিত্র আবু যায়েদ আস-সারূজী। ধরা পড়ার পর সে লজ্জিত না হয়ে কাব্যিক হাসির সাথে বিদায় নেয়। এটি গদ্য সাহিত্যের এক অসাধারণ রোমাঞ্চকর নিদর্শন।

(و) عَرِّفِ المَقَامَةَ لُغَةً وَاصْطِلاَحًا، ثُمَّ بَيِّنْ مَكَانَتَهَا فِى الأَدَبِ العَرَبِىِّ-

[(চ) মাকামার আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? আরবি সাহিত্যে এর স্থান ও মর্যাদা নিরূপণ করো।]

উত্তর:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘মাকামাহ’ (المقامة) শব্দের অর্থ মজলিস, আড্ডা বা কোনো সমবেত গোষ্ঠী।
  • পারিভাষিক অর্থ: আরবি সাহিত্যের এমন এক বিশেষ গল্প বা নাট্যধর্মী গদ্যধারা, যাতে একজন নির্দিষ্ট বর্ণনাকারী (রাবী) কোনো নির্দিষ্ট চতুর ও বাকপটু মূল চরিত্রের (বাতাল) রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ড অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের ছন্দোবদ্ধ অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যে (সাজ) উপস্থাপন করে। এর জনক হলেন বাদিউয যামান আল-হামাযানী।
  • সাহিত্যিক মর্যাদা: মাকামা সাহিত্য আরবি ভাষার বিরল শব্দকোষ, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং বাগধারার এক জীবন্ত বিশ্বকোষ। হারিরী ও হামাযানীর মাকামাত আরবি গদ্যের স্বর্ণশিখরে অবস্থান করে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. প্রাচীন আরবি গদ্য-১ বিষয়ের পরীক্ষায় অনুবাদের ক্ষেত্রে কোন দিকে নজর দিতে হয়?

প্রাচীন আরবি গদ্য-১ (কোড: ২০৪২০৬) পরীক্ষায় বিদায় হজের ভাষণ, কুস ইবনে সা’ইদাহর খুতবাহ এবং মাকামাত থেকে দেওয়া অনুচ্ছেদসমূহের ভাবার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত মার্জিত ও প্রমিত বাংলায় অনুবাদ করা আবশ্যক।

২. আরবি ভাষায় ব্যাখ্যা (الشرح بالعربية) লেখার সঠিক নিয়ম কী?

আরবি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রদত্ত বাক্যের ব্যাকরণিক ভুলমুক্ত সহজ-সরল আরবি ভাষায় ৩-৪ লাইনে মূল বক্তব্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে হয়।

৩. বিদায় হজের ভাষণের সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক মূল্য কী?

বিদায় হজের ভাষণ কেবল আরবি গদ্যের এক অনুপম অলঙ্কারসমৃদ্ধ শ্রেষ্ঠ নিদর্শনই নয়; বরং এটি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও সাম্যের প্রথম লিখিত বৈশ্বিক সনদ।

৪. মাকামা সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

মাকামা সাহিত্যের মূল লক্ষ্য ছিল জটিল ও দুর্লভ আরবি শব্দভাণ্ডার, সাজ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নিখুঁত রূপ প্রদর্শন এবং তৎকালীন সমাজের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের চিত্রায়ন।

৫. তারিক বিন যিয়াদের ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী?

স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে জাবালুত তারিক্ব (জিব্রাল্টার)-এ প্রদত্ত তারিক বিন যিয়াদের ভাষণ মুসলিম মুজাহিদদের অন্তরে শাহাদাত ও বিজয়ের যে অপ্রতিরোধ্য উদ্দীপনা সঞ্চার করেছিল, তা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

৬. ‘মুখতারাত মিন আদাবিল আরব’ গ্রন্থটি কেন পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত?

আরবি সাহিত্যের প্রাচীন ক্লাসিক্যাল গদ্যের সেরা অংশসমূহকে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিশীলিত রুচিতে শিক্ষার্থীদের ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় দক্ষ করে তোলার জন্যই এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

\n

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *