জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

প্রাচীন আরবি কবিতা-১ (Ash-Shirul Qadim – 1) – 204207, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪২ মিনিট পড়ার সময়
১২ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৭০
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
الشعر القديم-١
[প্রাচীন আরবি পদ্য-১]
বিষয় কোড: ২০৪২০৭
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة
[দ্রষ্টব্য: মার্জিনে উল্লেখিত সংখ্যা পূর্ণমান নির্দেশ করে।]


١- تَرْجِمْ ثَلاَثَ قِطْعَاتٍ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٣ × ١٠ = ٣٠)

[১. নিম্নোক্ত কাব্যংশসমূহ থেকে যেকোনো তিনটি অংশের সরল ও প্রাঞ্জল বাংলা অনুবাদ করো:]

(أ)
وُقُوفًا بِهَا صَحْبِى عَلَىَّ مَطِيَّهُمْ ۝ يَقُولُونَ لاَ تَهْلِكْ أَسًى وَتَجَمَّلِ
وَإِنَّ شِفَائِى عَبْرَةٌ مُهَرَاقَةٌ ۝ فَهَلْ عِنْدَ رَسْمٍ دَارِسٍ مِنْ مُعَوَّلِ
كَدَأْبِكَ مِنْ أُمِّ الحُوَيْرِثِ قَبْلَهَا ۝ وَجَارَتِهَا أُمِّ الرَّبَابِ بِمَأْسَلِ
فَفَاضَتْ دُمُوعُ العَيْنِ مِنِّى صَبَابَةً ۝ عَلَى النَّحْرِ حَتَّى بَلَّ دَمْعِى مَحْمَلِى-

[(ক) আমার সঙ্গী-সাথীগণ তাদের সওয়ারি উটগুলো আমার পাশে থামিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলতে লাগল: “অতিরিক্ত শোকে নিজেকে ধ্বংস করো না, বরং ধৈর্য ও গাম্ভীর্য বজায় রাখো।” অথচ আমার একমাত্র রোগমুক্তি ও মনের শান্তি ছিল কেবল অঝোর ধারায় অশ্রু বিসর্জনের মধ্যে; কিন্তু এই মুছে যাওয়া বিরান ভিটায় ক্রন্দন করে কি কোনো সান্ত্বনা মিলতে পারে? যেমন অবস্থা হয়েছিল ইতিপূর্বে উম্মুল হুয়াইরিছ এবং মা’সিল নামক উপত্যকায় তার প্রতিবেশী উম্মুর রাবাবের বিচ্ছেদে। ভালোবাসার তীব্র আবেগে আমার চোখ দিয়ে বক্ষদেশের ওপর অশ্রুর বন্যা বয়ে গেল, এমনকি আমার কান্নার জলে তরবারির ঝুলন্ত বেল্ট ভিজে গেল।]

(ب)
فَدَتْ نَفْسِى وَمَا مَلَكَتْ يَمِينِى ۝ فَوَارِسَ صَدَّقَتْ فِيهِمْ ظُنُونِى
فَوَارِسَ لاَ يَمَلُّونَ المَنَايَا ۝ إِذَا دَارَتْ رَحَى الحَرْبِ الزَّبُونِ
وَلاَ يَجْزُونَ مِنْ حَسَنٍ بِسَيِّئٍ ۝ وَلاَ يَجْزُونَ مِنْ غِلَظٍ بِلِينِ
وَلاَ تَبْلَى بَسَالَتُهُمْ وَإِنْ هُمْ ۝ صَلُوا بِالحَرْبِ حِينًا بَعْدَ حِينٍ-

[(খ) আমার প্রাণ এবং আমার ডান হাতের মালিকানাধীন সর্বস্ব উৎসর্গিত হোক সেই বীর অশ্বারোহীদের জন্য, যাদের সম্পর্কে আমার সুউচ্চ ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়েছে! তারা এমন এক নির্ভীক যোদ্ধা দল, যারা মৃত্যুর মুখোমুখি হতে কখনো ক্লান্তি বা ভয় বোধ করে না; যখন রক্তক্ষয়ী বিধ্বংসী যুদ্ধের যাঁতাকল ঘুরতে থাকে। তারা কখনো ভালো আচরণের বদলে মন্দ আচরণ করে না, আবার শত্রুর কঠোরতার জবাবে কখনো দুর্বলতা ও কোমলতা প্রকাশ করে না। তাদের বীরত্ব ও সাহসিকতা কখনো মলিন বা নিঃশেষ হয় না, যদিও তারা একের পর এক অবিরাম যুদ্ধের আগুনে দগ্ধ হতে থাকে।]

(ج)
أُنْبِئْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ أَوْعَدَنِى ۝ وَالعَفْوُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ مَأْمُولُ
مَهْلاً! هَدَاكَ الَّذِى أَعْطَاكَ نَافِلَةَ الـ ۝ ـقُرْآنِ فِيهَا مَوَاعِظٌ وَتَفْصِيلُ
لاَ تَأْخُذْنِى بِأَقْوَالِ الوُشَاةِ وَلَمْ ۝ أُذْنِبْ، وَلَوْ كَثُرَتْ عَنِّى الأَقَاوِيلُ
لَقَدْ أَقُومُ مَقَامًا لَوْ يَقُومُ بِهِ ۝ أَرَى وَأَسْمَعُ مَا لَمْ يَسْمَعِ النِّبْلُ-

[(গ) আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল আমাকে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দিয়েছেন; অথচ আল্লাহর রাসূলের পবিত্র সান্নিধ্যে ক্ষমা পাওয়াই সর্বাধিক প্রত্যাশিত! একটু সদয় হোন! সেই মহান সত্তা আপনাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন যিনি আপনাকে উপহার দিয়েছেন উপদেশ ও বিশদ বিবরণে পরিপূর্ণ পবিত্র কুরআন। চক্রান্তকারী পরনিন্দুকদের মিথ্যা কথায় আমাকে শাস্তি দেবেন না, আমি কোনো অপরাধ করিনি; যদিও আমার নামে আপনার দরবারে বহু মিথ্যা রটনা ছড়ানো হয়েছে। নিশ্চয় আমি এমন এক চরম ভীতিপ্রদ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে যদি হিংস্র হাতিও দাঁড়াত তবে ভয়ে তার পা থরথর করে কাঁপত।]

(د)
وَجِبْرِيلُ رَسُولُ اللَّهِ فِينَا ۝ وَرُوحُ القُدُسِ لَيْسَ لَهُ كِفَاءُ
وَقَالَ اللَّهُ قَدْ أَرْسَلْتُ عَبْدًا ۝ يَقُولُ الحَقَّ إِنْ نَفَعَ البَلاَءُ
شَهِدْتُ بِهِ فَقُومُوا صَدِّقُوهُ ۝ فَقُلْتُمْ لاَ نَقُومُ وَلاَ نَشَاءُ
وَقَالَ اللَّهُ قَدْ يَسَّرْتُ جُنْدًا ۝ هُمُ الأَنْصَارُ عُرْضَتُهَا اللِّقَاءُ-

[(ঘ) আল্লাহর বিশ্বস্ত বার্তাবাহক জিবরীল (আ.) আমাদের মাঝে সদাসর্বদা উপস্থিত থাকেন; সেই রুহুল কুদুসের সমকক্ষ কেউ হতে পারে না। মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: নিশ্চয় আমি এমন এক মনোনীত বান্দাকে প্রেরণ করেছি, যিনি সুস্পষ্ট সত্য প্রচার করেন যদি উপদেশ কোনো উপকারে আসে। আমি তাঁর নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিয়েছি, অতএব তোমরাও উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সত্যায়ন করো; অথচ তোমরা দাম্ভিকতায় বললে: আমরা দাঁড়াবও না এবং বিশ্বাস করতেও চাই না! তখন আল্লাহ ঘোষণা করলেন: নিশ্চয় আমি এক অপরাজেয় সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেছি— তারা হলো আনসার বাহিনী, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সাথে লড়াকু মোকাবেলা করাই যাদের একমাত্র ব্রত।]

(هـ)
وَأَبْصِرْ كَيْفَ تَنْبُو بِالأَعَادِى ۝ مَنَاكِبُهَا إِذَا قَرَعَتْ صَفَاتِى
وَإِنَّكَ وَاجِدٌ دُونِى صُعُودًا ۝ جَرَاثِيمَ الأَقَارِعِ وَالحَثَاتِ
وَلَسْتَ بِنَائِلٍ بَنِى كُلَيْبٍ ۝ أُرُومَتَنَا إِلَى يَوْمِ المَمَاتِ
وَجَدْتُ لِدَارِمَ قَوْمِى بُيُوتًا ۝ عَلَى بُنْيَانِ قَوْمِكَ قَاهِرَاتِ-

[(ঙ) চেয়ে দেখো! শত্রুরা যখন আমার সুদৃঢ় পাথুরে ভিত্তিকে আঘাত করতে আসে, তখন কীভাবে তাদের আঘাত প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে যায়! তুমি আমার আভিজাত্যের উচ্চতায় পৌঁছার পূর্বে কঠিন পাহাড় এবং কঙ্করময় দুর্লঙ্ঘ্য বাধার মুখোমুখি হবে। হে বনু কুলাইব গোত্রের বংশধর! মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তোমরা কখনোই আমাদের প্রাচীন সম্মানিত বংশমর্যাদার সমকক্ষ হতে পারবে না। আমি দেখেছি আমার বনু দারেম গোত্রের মর্যাদার সুরম্য অট্টালিকাসমূহ তোমাদের হীন গোত্রের মাটির কুঁড়েঘরের ওপর একচ্ছত্র বিজয়ী রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!]


٢- اشْرَحِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَبْيَاتِ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٢ × ٥ = ١٠)

[২. নিম্নোক্ত পঙক্তিমালা থেকে যেকোনো দুটির ব্যাখ্যা বাংলায় বিশদভাবে লেখো:]

(أ) قَوْمٌ إِذَا الشَّرُّ أَبْدَى نَاجِذَيْهِ لَهُمْ ۝ قَامُوا إِلَيْهِ زَرَافَاتٍ وَوُحْدَانَا-

[(ক) এরা এমন এক বীর জাতি, যখন বিপদ বা যুদ্ধ তার বিষাক্ত দাঁত বের করে তাদের সামনে দাঁড়ায়, তখন তারা একা কিংবা দলবদ্ধভাবে তার মোকাবিলায় গর্জে ওঠে।]

ব্যাখ্যা: দীওয়ানুল হামাসার এই বিখ্যাত চরণে প্রাক-ইসলামি আরব বীরদের অতুলনীয় সাহস ও আত্মমর্যাদাবোধের চিত্র ফুটে উঠেছে। আরবরা তাদের গোত্রের ওপর কোনো আক্রমণ বা বিপদ আসলে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করত না। কবি ‘শার’ বা যুদ্ধকে এক হিংস্র শিকারী পশুর সাথে তুলনা করেছেন যা শিকারের জন্য বিষদাঁত বের করে। এমন ভীতিকর মুহূর্তে সাধারণ মানুষ পলায়ন করলেও এই গোত্রের যোদ্ধারা একাকী কিংবা সম্মিলিত বাহিনীরূপে নির্ভীক চিত্তে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত।

(ب) وَجِبْرِيلُ أَمِينُ اللَّهِ فِينَا ۝ وَرُوحُ القُدُسِ لَيْسَ لَهُ كِفَاءُ-

[(খ) আর আল্লাহর বিশ্বস্ত বার্তাবাহক জিবরীল আমাদের মাঝে বিদ্যমান; সেই পবিত্র আত্মার সমকক্ষ কেউ হতে পারে না।]

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবি হযরত হাসসান ইবনে সাবিত (রা.) কাফেরদের ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জবাবে মুসলমানদের ঐশী শক্তি ও অপার্থিব সুরক্ষার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, পার্থিব অস্ত্র ও সৈন্যের চেয়েও মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরীল (আ.)-কে তাঁদের সাহায্যে নিয়োজিত রেখেছেন। কাফেরদের দল ও পৌত্তলিক অপশক্তি কখনোই আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ফেরেশতার শক্তির সামনে টিকে থাকতে পারবে না।

(ج) أُنْبِئْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ أَوْعَدَنِى ۝ وَالعَفْوُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ مَأْمُولُ-

[(গ) আমাকে জানানো হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল আমাকে শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন; অথচ আল্লাহর রাসূলের কাছে ক্ষমা ও উদারতাই সর্বাধিক কাম্য।]

ব্যাখ্যা: কা’ব ইবনে যুহাইর (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসূল (সা.)-এর পবিত্র দরবারে হাজির হন, তখন তিনি ভীতি ও আশার এক অসাধারণ দোলাচলে এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করেছিলেন। একদিকে তিনি জানতেন যে তাঁর অতীতের কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি অপরাধী, অপরদিকে তিনি জানতেন যে মুহাম্মদ (সা.) হলেন রাহমাতুল্লিল আলামীন— তাঁর মহানুভবতা ও ক্ষমার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত। এই কাব্যিক বিনয় ও ক্ষমা প্রার্থনায় মুগ্ধ হয়েই নবীজি তাঁকে ক্ষমা করেছিলেন।

(د) فَفَاضَتْ دُمُوعُ العَيْنِ مِنِّى صَبَابَةً ۝ عَلَى النَّحْرِ حَتَّى بَلَّ دَمْعِى مَحْمَلِى-

[(ঘ) ভালোবাসার তীব্রতায় আমার চোখ দিয়ে কান্নার প্লাবন বয়ে গেল, এমনকি আমার বক্ষদেশ বেয়ে চোখের জল তরবারির খাপ ও বেল্ট ভিজিয়ে দিল।]

ব্যাখ্যা: এটি ইমরুল কায়েসের মুআল্লাকার অন্যতম আবেগঘন চরণ। বিরান মরুভূমির বালুকাবেলায় প্রেমাস্পদের পদচিহ্ন ও ফেলে যাওয়া স্মৃতি দেখে কবির অন্তরে ভালোবাসার সুপ্ত যন্ত্রণা নতুন করে জেগে ওঠে। সঙ্গীদের শত সান্ত্বনাও তাঁর অশ্রুধারা থামাতে পারেনি। বক্ষদেশ বেয়ে নেমে আসা চোখের জল তরবারির বেল্টকে ভিজিয়ে দেওয়ার উপমাটি কবির চরম প্রেমাসক্তি ও বেদনার গভীরতাকে মূর্ত করে তুলেছে।


٣- اشْرَحْ بِالعَرَبِيَّةِ اثْنَيْنِ مِنَ الأَبْيَاتِ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٢ × ٥ = ١٠)

[৩. নিম্নোক্ত পঙক্তিমালা থেকে যেকোনো দুটির ভাবার্থ আরবি ভাষায় ব্যাখ্যা করো:]

(أ)
لاَ تَأْخُذْنِى بِأَقْوَالِ الوُشَاةِ وَلَمْ ۝ أُذْنِبْ، وَلَوْ كَثُرَتْ عَنِّى الأَقَاوِيلُ-

[(ক) চক্রান্তকারীদের মিথ্যা কথায় আমাকে শাস্তি দেবেন না, আমি কোনো অপরাধ করিনি; যদিও আমার ব্যাপারে বহু মিথ্যা রটানো হয়েছে।]

الشرح بالعربية: يَسْتَعْطِفُ الشَّاعِرُ كَعْبُ بْنُ زُهَيْرٍ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، رَاجِيًا أَلَّا يُعَاقِبَهُ اسْتِنَادًا إِلَى أَقْوَالِ المُنَافِقِينَ وَالوُشَاةِ الَّذِينَ يَسْعَوْنَ بِالنَّمِيمَةِ وَالفِتْنَةِ. فَيُؤَكِّدُ كَعْبٌ أَنَّهُ بَرِيءٌ مِنَ التُّهَمِ الَّتِى أُلْصِقَتْ بِهِ، وَإِنْ كَثُرَتِ الشَّائِعَاتُ الكَاذِبَةُ حَوْلَهُ، فَإِنَّ عَدَالَةَ الرَّسُولِ تَأْبَى الحُكْمَ بِالظَّنِّ، بَلْ هُوَ يَلْتَمِسُ العَفْوَ النَّبَوِىَّ الكَرِيمَ-

(ب)
أَلاَ أَيُّهَا اللَّيْلُ الطَّوِيلُ أَلاَ انْجَلِ ۝ بِصُبْحٍ، وَمَا الإِصْبَاحُ مِنْكَ بِأَمْثَلِ-

[(খ) ওহে দীর্ঘ অন্ধকার রাত! তুমি এবার ভোরের আলোয় অপসারিত হও; যদিও প্রভাত তোমার চেয়ে কোনো অংশে বেশি শান্তিদায়ক নয়!]

الشرح بالعربية: يُخَاطِبُ امْرُؤُ القَيْسِ اللَّيْلَ المُظْلِمَ الَّذِى طَالَ عَلَيْهِ بِهُمُومِهِ وَأَحْزَانِهِ، فَيَتَمَنَّى أَنْ يَنْقَشِعَ ظَلَامُهُ وَيَطْلُعَ الصَّبَاحُ. غَيْرَ أَنَّ الشَّاعِرَ يَسْتَدْرِكُ بِيَأْسٍ أَنَّ طُلُوعَ النَّهَارِ لَنْ يُزِيلَ آلاَمَهُ وَأَحْزَانَهُ، لِأَنَّ هُمُومَ فَقْدِ المُلْكِ وَمَقْتَلِ أَبِيهِ مُلَازِمَةٌ لَهُ لَيْلًا وَنَهَارًا، فَكِلَاهُمَا سَوَاءٌ فِى الشَّقَاءِ-

(ج)
فَدَتْ نَفْسِى وَمَا مَلَكَتْ يَمِينِى ۝ فَوَارِسَ صَدَّقَتْ فِيهِمْ ظُنُونِى-

[(গ) আমার প্রাণ এবং আমার সর্বস্ব উৎসর্গিত হোক সেই বীর অশ্বারোহীদের জন্য, যাদের ব্যাপারে আমার সুউচ্চ ধারণা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।]

الشرح بالعربية: يُعَبِّرُ الشَّاعِرُ عَنْ أَعْلَى دَرَجَاتِ الفَخْرِ وَالاعْتِزَازِ بِفُرْسَانِ قَوْمِهِ الشُّجْعَانِ. فَيُعْلِنُ اسْتِعْدَادَهُ لِلتَّضْحِيَةِ بِنَفْسِهِ وَكُلِّ أَمْوَالِهِ فِدَاءً لَهُمْ، لِأَنَّهُمْ أَثْبَتُوا فِى سَاحَةِ المَعْرَكَةِ كُلَّ مَا كَانَ يَتَوَقَّعُهُ فِيهِمْ مِنَ الإِقْدَامِ وَالبَسَالَةِ وَالنَّجْدَةِ، فَلَمْ يَخْذُلُوهُ أَبَدًا عِنْدَ اللِّقَاءِ-

(د)
عَدِمْنَا خَيْلَنَا إِنْ لَمْ تَرَوْهَا ۝ تُثِيرُ النَّقْعَ مَوْعِدُهَا كَدَاءُ-

[(ঘ) আমাদের অশ্ববাহিনী ধ্বংস হয়ে যাক যদি তোমরা দেখতে না পাও যে তা কাদা উপত্যকা দিয়ে ধূলিঝড় উড়িয়ে মক্কার দিকে ধেয়ে আসছে!]

الشرح بالعربية: هَذَا بَيْتٌ حَمَاسِىٌّ خَالِدٌ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ، يُهَدِّدُ فِيهِ مُشْرِكِى قُرَيْشٍ قُبَيْلَ فَتْحِ مَكَّةَ. حَيْثُ يَدْعُو عَلَى خَيْلِ المُسْلِمِينَ بِالهَلَاكِ إِنْ لَمْ تَغْزُ مَكَّةَ وَتُثِرْ غُبَارَ المَعْرَكَةِ فِى مَدَاخِلِهَا عِنْدَ جَبَلِ “كَدَاءَ”. وَهُوَ قَسَمٌ مُؤَكَّدٌ بِأَنَّ نَصْرَ الإِسْلَامِ وَفَتْحَ مَكَّةَ قَادِمٌ لَا مَحَالَةَ-


٤- أَجِبْ بِاللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ عَنِ اثْنَيْنِ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٢ × ٥ = ١٠)

[৪. আরবি ভাষায় নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহ থেকে যেকোনো দুটির উত্তর দাও:]

(أ) اكْتُبْ خَلْفِيَّةَ قَصِيدَةِ “بَانَتْ سُعَادُ” لِكَعْبِ بْنِ زُهَيْرٍ-

[(ক) কা’ব ইবনে যুহাইরের ‘বানাত সু’আদ’ কাসীদার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আরবিতে লেখো।]

الإجابة: كَانَ كَعْبُ بْنُ زُهَيْرٍ قَدْ هَجَا النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالإِسْلَامَ، فَهَدَرَ النَّبِىُّ دَمَهُ. وَلَمَّا فُتِحَتْ مَكَّةُ، حَذَّرَهُ أَخُوهُ بُجَيْرٌ (وَكَانَ قَدْ أَسْلَمَ) وَنَصَحَهُ بِالتَّوْبَةِ، مُؤَكِّدًا أَنَّ الرَّسُولَ لَا يَقْتُلُ تَائِبًا. فَجَاءَ كَعْبٌ إِلَى المَدِينَةِ سِرًّا مُتَنَكِّرًا، وَدَخَلَ المَسْجِدَ النَّبَوِىَّ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ، وَوَضَعَ يَدَهُ فِى يَدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَعْلَنَ إِسْلَامَهُ، وَأَنْشَدَ قَصِيدَتَهُ اللَّامِيَّةَ المَشْهُورَةَ “بَانَتْ سُعَادُ”. فَعَفَا عَنْهُ النَّبِىُّ وَأَلْقَى عَلَيْهِ بُرْدَتَهُ الشَّرِيفَةَ تَكْرِيمًا لَهُ-

(ب) عَرِّفِ الدِّيوَانَ، ثُمَّ اذْكُرِ الأَبْوَابَ الَّتِى يَحْتَوِى عَلَيْهَا “دِيوَانُ الحَمَاسَةِ” بِإِيجَازٍ-

[(খ) দীওয়ানের সংজ্ঞা দাও এবং সংক্ষেপে ‘দীওয়ানুল হামাসাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত অধ্যায়সমূহ উল্লেখ করো।]

الإجابة: الدِّيوَانُ فِى الأَدَبِ هُوَ الكِتَابُ الَّذِى يُجْمَعُ فِيهِ شِعْرُ شَاعِرٍ وَاحِدٍ أَوْ مَجْمُوعَةٍ مِنَ الشُّعَرَاءِ. وَأَمَّا “دِيوَانُ الحَمَاسَةِ” لِأَبِى تَمَّامٍ فَيَحْتَوِى عَلَى عَشَرَةِ أَبْوَابٍ أَدَبِيَّةٍ رَئِيسَةٍ هِىَ:
١. بَابُ الحَمَاسَةِ (الشَّجَاعَةِ)، ٢. بَابُ المَرَاثِى، ٣. بَابُ الأَدَبِ، ٤. بَابُ النَّسِيبِ (الغَزَلِ)، ٥. بَابُ الهِجَاءِ، ٦. بَابُ الضِّيفَانِ وَالمَدِيحِ، ٧. بَابُ الصِّفَاتِ، ٨. بَابُ السَّيْرِ وَالنُّعَاسِ، ٩. بَابُ المُلَحِ، ١٠. بَابُ مَذَمَّةِ النِّسَاءِ-

(ج) عَرِّفِ المُعَلَّقَةَ، ثُمَّ بَيِّنْ وَجْهَ تَسْمِيَتِهَا-

[(গ) মুআল্লাকার সংজ্ঞা দাও এবং এর নামকরণের কারণ আরবি ভাষায় আলোচনা করো।]

الإجابة: المُعَلَّقَاتُ هِىَ قَصَائِدُ طِوَالٌ مِنْ عُيُونِ الشِّعْرِ الجَاهِلِىِّ، بَلَغَتِ الذِّرْوَةَ فِى الفَصَاحَةِ وَالبَلَاغَةِ وَالتَّصْوِيرِ. وَسُمِّيَتْ “مُعَلَّقَاتٍ” لِعِدَّةِ أَسْبَابٍ، أَشْهَرُهَا: أَنَّهَا كَانَتْ تُكْتَبُ بِمَاءِ الذَّهَبِ وَتُعَلَّقُ عَلَى أَسْتَارِ الكَعْبَةِ المُشَرَّفَةِ تَعْظِيمًا لَهَا؛ أَوْ لِأَنَّهَا كَانَتْ سَرِيعَةَ الحِفْظِ تَعْلَقُ بِأَذْهَانِ النَّاسِ وَقُلُوبِهِمْ لِشِدَّةِ حُسْنِهَا، أَوْ تَشْبِيهًا لَهَا بِالعُقُودِ النَّفِيسَةِ الَّتِى تُعَلَّقُ فِى أَعْنَاقِ النِّسَاءِ-

(د) اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاةِ الشَّاعِرِ الفَرَزْدَقِ-

[(ঘ) কবি ফারাজদাকের জীবনবৃত্তান্ত আরবি ভাষায় সংক্ষেপে লেখো।]

الإجابة: هُوَ هَمَّامُ بْنُ غَالِبِ بْنِ صَعْصَعَةَ الدَّارِمِىُّ التَّمِيمِىُّ، لُقِّبَ بِـ “الفَرَزْدَقِ” لِغِلَظِ وَجْهِهِ وَشَبَهِهِ بِخُبْزِ الفَرَزْدَقِ. وُلِدَ بِالبَصْرَةِ فِى العَصْرِ الأُمَوِىِّ، وَكَانَ شَاعِرًا فَحْلاً عَظِيمَ الفَخْرِ بِآبَائِهِ، مَشْهُورًا بِجَزَالَةِ أَلْفَاظِهِ وَفَصَاحَتِهِ، حَتَّى قِيلَ: “لَوْلَا شِعْرُ الفَرَزْدَقِ لَذَهَبَ ثُلُثُ لُغَةِ العَرَبِ”. خَاضَ مَعَ جَرِيرٍ مَعْرَكَةَ “النَّقَائِضِ” الشِّعْرِيَّةَ لِعُقُودٍ طَوِيلَةٍ، وَكَانَ مُوَالِيًا لِأَهْلِ البَيْتِ، وَتُوُفِّىَ بِالبَصْرَةِ نَحْوَ سَنَةِ ١١٤ هِجْرِيَّةٍ-


٥- أَجِبْ عَنْ أَرْبَعَةٍ مِنَ التَّالِيَةِ: (الدرجات: ٤ × ৫ = ٢٠)

[৫. নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহ থেকে যেকোনো চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও:]

(أ) تَحَدَّثْ عَنْ أَغْرَاضِ الشِّعْرِ الجَاهِلِىِّ بِالإِيجَازِ-

[(ক) জাহিলী কবিতার প্রধান প্রধান বিষয়বস্তু বা উদ্দেশ্যসমূহ সংক্ষেপে লেখো।]

উত্তর: জাহিলী কবিতায় তৎকালীন সমাজ ও মানবজীবনের প্রতিটি ভাব ব্যক্ত হয়েছে। এর প্রধান শাখাগুলো হলো:

  • ১. আল-হামাসাহ ওয়াল ফখর (الهمامسة والفخر): নিজের ও গোত্রের বীরত্ব, যুদ্ধজয় ও দানশীলতার গৌরব প্রকাশ।
  • ২. আল-গাযাল (الغزل): নারী সৌন্দর্য ও প্রেমাস্পদের বিচ্ছেদের আবেগঘন রোমান্টিক রূপায়ন।
  • ৩. আল-মাদহ (المديح): রাজন্যবর্গ, গোত্রপতি ও উদার ব্যক্তিদের সম্মানজনক স্তুতিগাথা।
  • ৪. আল-মারছিয়া (الرثاء): মৃত বীরযোদ্ধা বা প্রিয়জনদের বিয়োগে শোকগাথা রচনা (যেমন আল-খানসার কবিতা)।
  • ৫. আল-হেজা (الهجاء): শত্রু গোত্রের নিন্দা ও দুর্বলতা প্রকাশ করে ব্যঙ্গ কবিতা রচনা।
  • ৬. আল-ওয়াসফ (الوصف): মরুভূমির উন্মুক্ত প্রকৃতি, ঘোড়া, উট, বন্যপশু ও প্রাকৃতিক ঝড়ের নিখুঁত চিত্রায়ন।

(খ) مَنْ هُوَ شَاعِرُ الرَّسُولِ؟ اكْتُبْ نُبْذَةً عَنْ حَيَاتِهِ-

[(খ) ‘শা’ইরুর রাসূল’ কে ছিলেন? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরো।]

উত্তর: ‘শা’ইরুর রাসূল’ (রাসূলের কবি) ছিলেন হযরত হাসসান ইবনে সাবিত আল-আনসারী (রা.)।

  • তিনি মদিনার বনু খাযরাজ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি গাসসানী রাজদরবারের সম্মানিত কবি ছিলেন।
  • ৬০ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আরও ৬০ বছর ইসলামি যুগের কবি হিসেবে বেঁচে থেকে মোট ১২০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
  • তিনি কুরাইশ কাফেরদের অপপ্রচারের জবাবে মিম্বারে দাঁড়িয়ে কবিতা পাঠ করতেন এবং রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করতেন: «اللَّهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ القُدُسِ» (হে আল্লাহ! জিবরীলের মাধ্যমে তাকে শক্তি দিন)।

(গ) بَيِّنْ خَلْفِيَّةَ تَأْلِيفِ “دِيوَانِ الحَمَاسَةِ”-

[(গ) ‘দীওয়ানুল হামাসাহ’ সংকলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।]

উত্তর: বিখ্যাত আব্বাসী কবি আবু তাম্মাম হাবীব ইবনে আওস আত-তাঈ একবার খোরাসানের গভর্নর আব্দুল্লাহ ইবনে তাহিরের সাথে সাক্ষাৎ করে ইরাকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে হামাদান নগরীতে পৌঁছালে তীব্র তুষারপাতে পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যপ্রেমী আবু ওয়াফা ইবনে সালমার মেহমান হন। বরফ পড়ার কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস গৃহবন্দী থাকাকালে তিনি স্বাগতিকের ব্যক্তিগত সমৃদ্ধ লাইব্রেরির শত শত পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন করেন এবং প্রাচীন বীরত্ব ও যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো বাছাই করে ১০টি অধ্যায়ে বিখ্যাত ‘দীওয়ানুল হামাসাহ’ সংকলন করেন।

(ঘ) اكْتُبْ خَصَائِصَ شِعْرِ العَصْرِ الأُمَوِىِّ-

[(ঘ) উমাইয়া যুগের কবিতার প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।]

উত্তর: উমাইয়া যুগে রাজনৈতিক বিভাজন ও সামাজিক রূপান্তরের কারণে কবিতায় নতুন বৈচিত্র্য আসে:

  • রাজনৈতিক কবিতার বিস্তার: উমাইয়া, শিয়া ও খারিজি দলের কবিদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের তীব্র লড়াই।
  • নাকাইদ কাব্যধারার উদ্ভব: একই ছন্দ ও কাফিয়ায় ব্যঙ্গ ও আত্মগৌরবের জোড়া কবিতা (যেমন জারীর ও ফারাজদাক)।
  • গাযালে উযরীর বিকাশ: নিষ্কলুষ, আধ্যাত্মিক ও অকৃত্রিম একনিষ্ঠ প্রেম কাব্যের উদ্ভব (যেমন মজনুন লায়লা ও জামীল বুছায়না)।
  • শব্দশৈলীর প্রাচুর্য: জাহিলী যুগের প্রাচীন মরু শব্দকোষের সাথে ইসলামি মার্জিত ভাবধারার অপূর্ব সংমিশ্রণ।

(ঙ) مَنْ هُمُ الشُّعَرَاءُ المُخَضْرَمُونَ؟ اكْتُبْ مِيزَاتِهِمُ الشِّعْرِيَّةَ-

[(ঙ) মুখাদরাম কবি কাদের বলা হয়? তাঁদের প্রধান কাব্যিক বৈশিষ্ট্যসমূহ কী?]

উত্তর:

  • পরিচয়: যে সকল কবি জাহিলী যুগের অন্ধকার এবং ইসলামের আলোকিত যুগ উভয় যুগ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং উভয় যুগে কাব্যচর্চা করেছেন, তাঁদের ‘শু’আরায়ে মুখাদরামীন’ বলা হয়। যেমন: হাসসান ইবনে সাবিত, কা’ব ইবনে যুহাইর, লাবীদ ইবনে রাবীআ, আল-খানসা।
  • কাব্যিক বৈশিষ্ট্য:
    1. জাহিলী যুগের শব্দশৈলী ও অলঙ্কারের সাথে কুরআনি ভাবাদর্শের অপূর্ব সমন্বয়।
    2. অশ্লীলতা ও অর্থহীন অন্ধ গোত্রপ্রীতি বর্জন করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কবিতা রচনা।
    3. ইসলামের প্রতিরক্ষা, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নাত ও পরকালচেতনার প্রতিফলন।

(و) تَحَدَّثْ عَنْ نَقَائِضِ جَرِيرٍ وَالفَرَزْدَقِ-

[(চ) জারীর ও ফারাজদাকের ঐতিহাসিক নাকাইদ কাব্যযুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনা করো।]

উত্তর: উমাইয়া যুগের বসরার প্রকাশ্য সাহিত্য মজলিস ‘মিরবাদ’ (المربد)-এ কবি জারীর ও ফারাজদাকের মধ্যে প্রায় ৪০ বছর ধরে যে আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণমূলক ব্যঙ্গ কবিতা রচিত হয়েছিল, তাই নাকাইদ নামে খ্যাত। ফারাজদাক তাঁর অভিজাত বনু দারেম গোত্রের দানশীলতা ও তলোয়ারের অহংকার প্রকাশ করতেন; আর জারীর তাঁর অসাধারণ ভাষা দক্ষতা ও বিদ্রূপাত্মক বাণে ফারাজদাকের গৌরবকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতেন। ব্যক্তিদ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে এই কবিতাগুলো প্রাচীন আরবি ভাষা ও সমাজতত্ত্বের এক মহামূল্যবান ঐতিহাসিক দলিল।


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. প্রাচীন আরবি কবিতা-১ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কাঠামো কেমন?

প্রাচীন আরবি কবিতা-১ (কোড: ২০৪২০৭) পরীক্ষায় মুআল্লাকা, কাসীদায়ে বুরদাহ ও দীওয়ানুল হামাসাহ থেকে কবিতাংশ অনুবাদ (৩০ নম্বর), বাংলা ও আরবিতে কবিতাংশ ব্যাখ্যা (২০ নম্বর) এবং সাহিত্যিক ইতিহাসমূলক প্রশ্নোত্তর (৩০ নম্বর) থাকে।

২. কবিতায় সর্বোচ্চ নম্বর পেতে অনুবাদের ক্ষেত্রে কী সতর্কতা দরকার?

কবিতার প্রতিটি চরণের রূপক ও উপমাগুলোর ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত মার্জিত প্রমিত বাংলায় অনুবাদ করা উচিত এবং কঠিন শব্দার্থের টীকা সংক্ষেপে উল্লেখ করা শ্রেয়।

৩. আরবি ভাষায় কবিতা ব্যাখ্যা (الشرح بالعربية) লেখার নিয়ম কী?

প্রথমে কবির মূল উদ্দেশ্য সহজ আরবিতে ব্যক্ত করতে হবে এবং চরণটিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপমা ও অলঙ্কারসমূহ ৩-৪ লাইনে সুন্দর ও ব্যাকরণিক ভুলমুক্ত আরবিতে লিখতে হবে।

৪. ‘কাসীদায়ে বুরদাহ’ নামকরণের কারণ কী?

কা’ব ইবনে যুহাইর (রা.) যখন রাসূল (সা.)-এর শানে ‘বানাত সু’আদ’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন, তখন নবীজি সন্তুষ্ট হয়ে নিজের গায়ের চাদর (বুরদাহ) তাঁকে উপহার দেন; তাই এই কাসীদাকে কাসীদায়ে বুরদাহ বলা হয়।

৫. আসহাবুল মুআল্লাকাতদের কাব্যবৈশিষ্ট্য কেন অনন্য?

জাহিলী যুগের শ্রেষ্ঠ সাত কবি মরুভূমির বিরান ভিটা, উটের গতিবেগ, প্রেম ও যুদ্ধের চরম বাস্তবতা যে অনুপম ছন্দ ও চিত্রকল্পে ফুটিয়ে তুলেছেন তা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

৬. দীওয়ানুল হামাসার গুরুত্ব কী?

আবু তাম্মাম সংকলিত দীওয়ানুল হামাসাহ আরবি কবিতার বীরত্ব, ত্যাগ ও নৈতিকতার শ্রেষ্ঠ সংকলন যা শিক্ষার্থীদের উচ্চাঙ্গের আরবি ভাষা ও কাব্যরীতি শিক্ষায় আদর্শ হিসেবে সমাদৃত।

\n

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন ➜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *