জরুরি নোটিশ 🔔 নতুন: ২০২৬ সালের সকল শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও গাইড বই প্রকাশিত হয়েছে!

উলূমুল কুরআন (Ulumul Quran) – 204204, আরবি ভাষা ও সাহিত্য – ফাজিল অনার্স ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৪

Abswer.com Abswer.com
21 September, 2026
৪৭ মিনিট পড়ার সময়
১০ বার পঠিত

সরাসরি Telegram-এ সকল বই ও সাজেশন পান!

আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হয়ে সবার আগে নতুন বই ও রুটিন ডাউনলোড করুন।

টেলিগ্রামে যুক্ত হোন 🚀

পরীক্ষা কোড: ২০২ | প্রশ্নপত্র কোড: ০৬৭
اختبار السنة الثانية للفاضل البكالوريوس (الشرف)، لعام ٢٠٢٤
[ফাজিল স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২৪]
اللغة العربية وآدابها
[আরবি ভাষা ও সাহিত্য]
علوم القرآن
[উলূমুল কুরআন]
বিষয় কোড: ২০৪২০৪
الزمن: ٤ ساعات | الدرجات الكاملة: ٨٠
[সময়: ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ৮০]
الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[দ্রষ্টব্য: ক-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি এবং খ-বিভাগ থেকে যেকোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]


مجموعة (أ) / ক-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ١٥ = ٦٠)

١- مَاذَا تَفْهَمُ بِعُلُومِ القُرْآنِ الكَرِيمِ؟ بَيِّنْ نَشْأَةَ عُلُومِ القُرْآنِ وَتَطَوُّرَهَا عَبْرَ العُصُورِ-

[১. উলূমুল কুরআনুল কারীম বলতে কী বোঝায়? যুগ পরম্পরায় উলূমুল কুরআনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিশদভাবে আলোচনা করো।]

ভূমিকা: মহাগ্রন্থ আল-কুরআন বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। এই অলৌকিক গ্রন্থের নাযিল, সংরক্ষণ, তিলাওয়াত, শব্দবিন্যাস, অর্থ ও তাফসীর সংক্রান্ত যাবতীয় শাস্ত্রীয় মূলনীতিকে সমষ্টিগতভাবে ‘উলূমুল কুরআন’ বলা হয়। এটি ইসলামি জ্ঞানজগতের অন্যতম প্রধান ভিত্তিস্তম্ভ।

১. উলূমুল কুরআনের সংজ্ঞা:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘উলূম’ (علوم) শব্দটি ‘ইলম’ (জ্ঞান)-এর বহুবচন এবং ‘আল-কুরআন’ হলো পঠিত মহাগ্রন্থ। সুতরাং উলূমুল কুরআন অর্থ কুরআন বিষয়ক বিবিধ শাস্ত্রীয় জ্ঞান।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশী ও ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.)-এর মতে— «هُوَ عِلْمٌ يَشْتَمِلُ عَلَى مَبَاحِثَ تَتَعَلَّقُ بِالقُرْآنِ الكَرِيمِ مِنْ حَيْثُ نُزُولُهُ، وَتَرْتِيبُهُ، وَجَمْعُهُ، وَكِتَابَتُهُ، وَقِرَاءَتُهُ، وَتَفْسِيرُهُ، وَإِعْجَازُهُ، وَنَاسِخُهُ وَمَنْسُوخُهُ، وَدَفْعُ الشُّبَهِ عَنْهُ» অর্থাৎ, এটি এমন এক ব্যাপক শাস্ত্র যা মহাগ্রন্থ কুরআনের নাযিল, বিন্যাস, সংকলন, লিখনরীতি, কিরাত, তাফসীর, অলৌকিকত্ব (ই’জায), নাসেখ-মানসূখ এবং এর ওপর আরোপিত যাবতীয় সংশয় নিরসন সংক্রান্ত গবেষণাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

২. উলূমুল কুরআনের ঐতিহাসিক উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ:

  1. নবী করীম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের যুগ:
    রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র যুগে কুরআনের সমস্ত জ্ঞান সাহাবিদের অন্তরে সরাসরি সংরক্ষিত ছিল। কোনো আয়াত নাযিল হলে সাহাবিগণ তার পটভূমি (শানে নুযূল) স্বচক্ষে দেখতেন এবং নাযিলের প্রেক্ষাপট ও অর্থ নবীজির কাছে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতেন। এ যুগে এ জ্ঞান কোনো গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল তাঁদের বক্ষ ও আমলের মধ্যে সুরক্ষিত। সাহাবিদের মধ্যে হযরত আলী, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও উবাই ইবনে কা’ব (রা.) কুরআন বিষয়ক জ্ঞানে শীর্ষস্থান অর্জন করেন।
  2. তাবেয়ীনদের যুগ (হিজরি ১ম শতাব্দী):
    ইসলামের দিগন্ত বিস্তৃত হলে মক্কা, মদিনা ও ইরাকে উলূমুল কুরআনের স্বতন্ত্র পাঠশালা প্রতিষ্ঠিত হয়। মক্কায় ইবনে আব্বাসের শিষ্য মুজাহিদ, আতা ইবনে আবি রাবাহ; মদিনায় উবাই ইবনে কা’বের শিষ্য যায়েদ ইবনে আসলাম; এবং কুফায় ইবনে মাসউদের শিষ্য আলক্বামাহ ও আসওয়াদ (রহ.) তাফসীর ও উলূমুল কুরআনের প্রামাণ্য ভিত্তি স্থাপন করেন।
  3. স্বতন্ত্র বিষয়ভিত্তিক সংকলনের সূচনা (হিজরি ২য় ও ৩য় শতাব্দী):
    এ যুগে মুহাদ্দিসীনগণ প্রথমে হাদিসের অধ্যায় হিসেবে এবং পরবর্তীতে স্বতন্ত্র বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থ রচনা শুরু করেন:

    • শানে নুযূল বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ লেখেন আলী ইবনুল মাদীনী (বুখারীর উস্তাদ)।
    • নাসেখ-মানসূখ বিষয়ে কিতাব লেখেন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম।
    • মুশকিলুল কুরআন বিষয়ে ইবনে কুতাইবাহ এবং মাজাঝুল কুরআন বিষয়ে আবু উবায়দাহ মা’মার ইবনুল মুছান্না গ্রন্থ প্রণয়ন করেন।
  4. সার্বিক উলূমুল কুরআনের বিশ্বকোষীয় যুগ (হিজরি ৭ম থেকে ১০ম শতাব্দী):
    • আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন: ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী (মৃ. ৭৯৪ হি.) সর্বপ্রথম উলূমুল কুরআনের সমস্ত বিচ্ছিন্ন শাখাকে একত্র করে ৪৭টি অধ্যায়ে এই অমর বিশ্বকোষ সংকলন করেন।
    • আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন: ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (মৃ. ৯১১ হি.) যারকাশীর গ্রন্থের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ৮০টি পৃথক বিষয়ের ওপর এই শাস্ত্রের চূড়ান্ত ও সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রামাণ্য কিতাব রচনা করেন।

٢- عَرِّفِ الوَحْىَ، ثُمَّ بَيِّنْ كَيْفِيَّةَ نُزُولِهِ وَحَاجَةَ الإِنْسَانِ إِلَيْهِ بِالتَّفْصِيلِ-

[২. ওহীর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর ওহী নাযিলের পদ্ধতি এবং ওহীর প্রতি মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা বিশদভাবে বর্ণনা করো।]

১. ওহীর সংজ্ঞা:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘ওহী’ (الوحي) শব্দের মূল অর্থ অতি গোপনে, দ্রুততার সাথে কোনো সংবাদ বা নির্দেশ অন্যের অন্তরে পৌঁছে দেওয়া (الإعلام الخفي السريع)।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত কোনো নবীর ওপর তাঁর পবিত্র কালাম বা শরয়ী হেদায়াত যে অলৌকিক, অতিন্দ্রীয় ও নিশ্চিত প্রক্রিয়ায় অবতীর্ণ করেন, তাকে পরিভাষায় ওহী বলা হয়।

২. ওহী নাযিলের বিভিন্ন পদ্ধতি (كيفية نزول الوحي):

সহীহ হাদিস ও কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট প্রধানত নিচের পদ্ধতিসমূহে ওহী আসত:

  1. ঘণ্টার ধ্বনির মতো (صَلْصَلَةُ الجَرَسِ): রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, এটি আমার কাছে ওহী নাযিলের সবচেয়ে কঠিন ও ভারী রূপ ছিল। ঘণ্টাধ্বনির মতো গম্ভীর আওয়াজের সাথে জিবরীল (আ.) ওহী নিয়ে আসতেন। তীব্র শীতেও নবীজির কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়ত।
  2. মানুষের আকৃতিতে ফেরেশতার আগমন: হযরত জিবরীল (আ.) কোনো মানুষের সুরত ধরে (বিশেষ করে সুদর্শন সাহাবি হযরত দিহইয়া কালবী রা.-এর সুরতে) এসে কথা বলতেন। এটি ছিল সবচেয়ে সহজ রূপ।
  3. স্বপ্নের মাধ্যমে (الرؤيا الصالحة): নবুওয়াতের সূচনাপর্বে নবীজি রাতে যা স্বপ্নে দেখতেন সকালে তা ভোরের আলোর ন্যায় হুবহু বাস্তবায়িত হতো। আম্বিয়ায়ে কেরামের স্বপ্ন ওহীর অন্তর্ভুক্ত।
  4. অন্তরে ফুঁকে দেওয়া (النفث في الروع): কোনো দৃশ্যমান রূপ ছাড়া জিবরীল (আ.) সরাসরি নবীজির পবিত্র হৃদয়ে আল্লাহর কালাম বা ভাবধারা ঢেলে দিতেন।
  5. পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি কথা বলা: যেমন মিরাজের রজনীতে আল্লাহ তাআলা মধ্যস্থতাকারী ফেরেশতা ছাড়া সরাসরি রাসূল (সা.)-এর সাথে কথা বলেছিলেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছিলেন।

৩. ওহীর প্রতি মানবজাতির প্রয়োজনীয়তা:

  • বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়ের সীমাবদ্ধতা: মানুষের পঞ্চেন্দ্রিয় ও মানুষের সীমিত বুদ্ধি বস্তুগত বিষয়ের বাইরে অদৃশ্য পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম ও স্রষ্টার পরিচয় অনুধাবনে সম্পূর্ণ অক্ষম। ওহী মানুষের বুদ্ধিকে পূর্ণতা দান করে।
  • সর্বজনীন ন্যায়বিচার ও আইন বিধান: মানুষের রচিত আইন সর্বদা স্বার্থপরতা, ভুলত্রুটি ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়। একমাত্র ঐশী ওহীর মাধ্যমেই বর্ণ, গোত্র ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে নিখুঁত ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব।
  • জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ: মানুষ কোথা থেকে এসেছে, কেন এসেছে এবং মৃত্যুর পর কোথায় যাবে— এই চিরন্তন প্রশ্নসমূহের সুনির্দিষ্ট জবাব কেবল ওহীই প্রদান করতে পারে।

٣- عَرِّفِ الآيَةَ وَالسُّورَةَ، وَكَمْ قِسْمًا لِلسُّورَةِ؟ تَحَدَّثْ عَنْ عَدَدِهَا مَعَ ذِكْرِ القَوْلِ الرَّاجِحِ بِالأَدِلَّةِ مُفَصَّلاً-

[৩. আয়াত ও সূরার সংজ্ঞা দাও। সূরা কত প্রকার? আয়াত সংখ্যার ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের মতপার্থক্য উল্লেখপূর্বক দলীলসহ রাজেহ মত বিশদভাবে আলোচনা করো।]

১. আয়াত ও সূরার সংজ্ঞা:

  • আল-আয়াত (الآية): আভিধানিক অর্থ নিদর্শন, প্রমাণ বা বিস্ময়কর বিষয়। পারিভাষিক অর্থে, কুরআনের সূরার অন্তর্গত সুনির্দিষ্ট শুরু ও সমাপ্তিযুক্ত বাক্যাংশ বা বাক্যকে আয়াত বলা হয়, যা আল্লাহর কুদরতের অলৌকিক নিদর্শন।
  • আস-সূরাহ (السورة): আভিধানিক অর্থ উচ্চমর্যাদা, প্রাচীর বা স্তর। পারিভাষিক অর্থে, কুরআনের এমন একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় যার একটি সুনির্দিষ্ট নাম রয়েছে, যাতে কমপক্ষে তিনটি আয়াত থাকে এবং এর শুরু ও শেষ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক সুনির্দিষ্ট। কুরআনে মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে।

২. দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে সূরার প্রকারভেদ (أقسام السور):

  1. আত্ব-তিওয়াল (الطوال – দীর্ঘ সূরাসমূহ): কুরআনের প্রথম দিকের ৭টি দীর্ঘ সূরা (বাকারা, আলে ইমরান, নিসা, মায়িদাহ, আন’আম, আ’রাফ এবং তওবা/আনফাল)।
  2. আল-মিউন (المئون): যে সূরাসমূহের আয়াত সংখ্যা প্রায় একশত বা তার কাছাকাছি।
  3. আল-মাছানী (المثاني): মিউনের পরবর্তী সূরাসমূহ, যা বারবার তিলাওয়াত করা হয়।
  4. আল-মুফাচ্ছাল (المفصل): সূরা হুজুরাত বা কাফ থেকে শেষ পর্যন্ত ছোট ছোট সূরাসমূহ, যাতে ঘন ঘন বিরতি ও সমাপ্তি রয়েছে।

৩. কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা ও রাজেহ মত:

কুরআনের সমস্ত শব্দ ও অক্ষর অবিকৃত থাকলেও ওয়াকফ (থামা) ও অবিচ্ছিন্ন পাঠের কারণে প্রাচীন কারী ও গণনা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আয়াত সংখ্যায় সামান্য মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়:

  • বিভিন্ন গণনাকেন্দ্রের অভিমত: মদিনার গণনা অনুযায়ী ৬,২১৪ বা ৬,২১৪টি; মক্কার গণনা অনুযায়ী ৬,২১২টি; বসরার গণনা অনুযায়ী ৬,২০৫টি; শাম বা দামেস্কের গণনা অনুযায়ী ৬,২২৬টি; এবং কুফার গণনা অনুযায়ী ৬,২৩৬টি।
  • সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও রাজেহ মত (القول الراجح):
    বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও প্রচলিত মত হলো কুফী গণনা অনুযায়ী কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা ৬,২৩৬টি

    • দলিল: এই গণনাটি এসেছে হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর বিশিষ্ট শিষ্য তাবেয়ী আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী (রহ.)-এর সূত্রে, যিনি আলী (রা.) থেকে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তিলাওয়াতের ওয়াকফসমূহ মুখস্থ করেছিলেন। বর্তমান পৃথিবীর অধিকাংশ মুদ্রিত মুসহাফ (যেমন হাফস আন আসেমের মুসহাফ) এই ৬,২৩৬ আয়াতের ভিত্তিতেই সংকলিত।
    • (উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের মুখে প্রচলিত ‘৬,৬৬৬টি আয়াত’-এর সংখ্যাটি মূলত আয়াত সংখ্যার গণনা নয়; বরং এটি ছিল বিষয়ভিত্তিক আয়াতের এক আনুমানিক সমষ্টি— যেমন ১০০০ আদেশ, ১০০০ নিষেধ ইত্যাদি)।

٤- تَحَدَّثْ عَنْ أَوَّلِ مَا نَزَلَ مِنَ القُرْآنِ الكَرِيمِ مَعَ التَّوْفِيقِ بَيْنَ الآرَاءِ المُخْتَلِفَةِ فِيهِ بِالإِيضَاحِ-

[৪. কুরআন মাজীদের সর্বপ্রথম নাযিলকৃত অংশ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধনপূর্বক সুস্পষ্ট আলোচনা করো।]

১. সর্বপ্রথম নাযিলকৃত অংশ নিয়ে প্রধান মতসমূহ:

  • প্রথম মত (জমহুর ও সর্বসম্মত মত): সহীহ বুখারী ও মুসলিমে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, হেরা গুহায় জিবরীল (আ.) এসে সর্বপ্রথম যে বাণী পাঠ করেছিলেন তা হলো সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াতاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ… عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
  • দ্বিতীয় মত: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে সূরা আল-মুদ্দাসসিরের প্রথমাংশيَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ ۝ قُمْ فَأَنذِرْ
  • তৃতীয় মত: কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, নবুওয়াতের পর নামাজ আদায়ের জন্য সর্বপ্রথম সূরা আল-ফাতিহা (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ…) নাযিল হয়েছিল।

২. মতসমূহের মাঝে চমৎকার সমন্বয়সাধন (التوفيق بين الآراء):

আল্লামা ইবনুস সালাহ, ইবনে হাজার আসকালানী ও ইমাম সুয়ূতী (রহ.) এই আপাত বিরোধ চমৎকারভাবে নিরসন করেছেন:

  1. সূরা আলাক্ব হলো পরমভাবে সর্বপ্রথম (الأولية المطلقة): কোনো শর্ত ছাড়াই সমগ্র কুরআনের মধ্যে সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত। এর মাধ্যমেই তিনি ‘নবী’ হিসেবে মনোনীত হন।
  2. সূরা মুদ্দাসসির হলো ওহী স্থগিতের পর প্রথম (الأولية بعد فترة الوحي): হেরা গুহার প্রথম ঘটনার পর কিছুদিন ওহী বন্ধ ছিল (ফাতরাতুল ওহী)। ওহী পুনরায় চালু হওয়ার পর রাসূল (সা.) যখন ভীত হয়ে চাদর মুড়ি দিলেন, তখন সতর্ককারী হিসেবে ‘রাসূল’ নিযুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম সূরা মুদ্দাসসির নাযিল হয়। সুতরাং এটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রথম।
  3. সূরা ফাতিহা হলো পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে প্রথম (أول سورة كاملة): ইতিপূর্বে সূরা আলাক ও মুদ্দাসসিরের মাত্র কয়েকটি প্রাথমিক আয়াত নাযিল হয়েছিল, সম্পূর্ণ সূরা নয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ একটি সূরা হিসেবে সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে সূরা আল-ফাতিহা।

٥- مَا التَّفْسِيرُ وَالتَّأْوِيلُ؟ بَيِّنِ الفَرْقَ بَيْنَ التَّفْسِيرِ وَالتَّأْوِيلِ مَعَ ذِكْرِ شُرُوطِ المُفَسِّرِ بِالإِيضَاحِ-

[৫. তাফসীর ও তাবীল বলতে কী বোঝায়? এদের মধ্যকার পার্থক্য বিশ্লেষণ করো এবং মুফাসসিরের আবশ্যকীয় শর্তাবলী বিশদভাবে উল্লেখ করো।]

১. তাফসীর ও তাবীলের পরিচয়:

  • আত-তাফসীর (التفسير): আভিধানিক অর্থ ব্যাখ্যা করা, উন্মোচন করা বা প্রকাশ করা। পারিভাষিক অর্থে, মানুষের সাধ্য অনুযায়ী মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের শব্দাবলী, ভাবার্থ ও বিধানাবলী সুস্পষ্টরূপে উপস্থাপন করার শাস্ত্রকে তাফসীর বলে।
  • আত-তাবীল (التأويل): আভিধানিক অর্থ মূল উৎসে ফিরিয়ে নেওয়া। পারিভাষিক অর্থে, কোনো শব্দের প্রকাশ্য অর্থকে বাদ দিয়ে দলিলের ভিত্তিতে এমন কোনো সম্ভাব্য সূক্ষ্ম অর্থে ফিরিয়ে নেওয়া যা কুরআন ও সুন্নাহর অন্যান্য মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২. তাফসীর ও তাবীলের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য:

পার্থক্যের ক্ষেত্র আত-তাফসীর (التفسير) আত-তাবীল (التأويل)
১. প্রমাণের ভিত্তি প্রধানত রিওয়ায়াত (কুরআন, হাদিস ও সাহাবিদের উক্তি)-এর ওপর নির্ভরশীল। দেরায়াত, প্রজ্ঞা ও ভাষাগত গভীর অনুধাবনের ওপর নির্ভরশীল।
২. অর্থের সুনির্দিষ্টতা শব্দের স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ বাহ্যিক অর্থের সাথে জড়িত থাকে। শব্দের গূঢ় ও সম্ভাব্য অন্তর্নিহিত ইঙ্গিতের সাথে জড়িত থাকে।
৩. নিশ্চয়তার মাত্রা তাফসীরকারী দৃঢ়ভাবে বলেন: আল্লাহর কালামের উদ্দেশ্য এটাই। তাবীলকারী বলেন: এটি এর সম্ভাব্য একটি ভাবার্থ হতে পারে।

৩. একজন যোগ্য মুফাসসিরের আবশ্যকীয় শর্তাবলী (شروط المفسر):

মনগড়া তাফসীর করা কবিরা গুনাহ। আল্লামা সুয়ূতীর মতে, কুরআনের তাফসীর করতে হলে মুফাসসিরকে অবশ্যই ১৫টি বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে:

  1. বিশুদ্ধ আক্বিদা: বিদআত ও কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত সহীহ সুন্নাহর অনুসারী হওয়া।
  2. ইলমুল লুগাত: আরবি শব্দের মৌলিক অর্থ ও ব্যবহারের পূর্ণ জ্ঞান।
  3. ইলমুন নাহু ও ইলমুস সরফ: আরবি ব্যাকরণ ও শব্দরূপের নিখুঁত দক্ষতা (কারণ এরাব ও সীগাহ পরিবর্তনের সাথে অর্থ বদলে যায়)।
  4. ইলমুল ইশতিক্বাক: শব্দের মূলধাতু ও রূপান্তরের জ্ঞান।
  5. ইলমুল বালাগাত (মা’আনী, বায়ান, বাদী): কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাগধারা অনুধাবনে সর্বোচ্চ ব্যুৎপত্তি।
  6. ইলমুল কিরাত: বিভিন্ন কিরাতের তারতম্য ও অর্থের প্রভাব জানা।
  7. ইলমু উসূলিদ দ্বীন: তাওহীদ, সিফাত ও কালামশাস্ত্রের গভীর জ্ঞান।
  8. ইলমু উসূলিল ফিকহ: আম-খাস, মুতলাক-মুক্বাইয়্যাদ, হাকীকত-মাজায বোঝার মূলনীতি।
  9. ইলমু শানে নুযূল: আয়াতের ঐতিহাসিক পটভূমি ও প্রেক্ষাপট জানা।
  10. ইলমুন নাসিখ ওয়াল মানসূখ: কোন বিধান কার্যকর এবং কোনটি রহিত তা নির্ণয়ের জ্ঞান।
  11. হাদিস ও আসারের গভীর জ্ঞান: রাসূল (সা.) ও সাহাবাদের বর্ণিত তাফসীর সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকা।
  12. ইলমে লাদুন্নী (আল্লাহভীতি ও আমল): তাকওয়ার কারণে মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টি।

٦- مَا هُوَ اللَّحْنُ؟ وَكَمْ قِسْمًا لَهُ؟ بَيِّنْ أَقْسَامَهُ وَحُكْمَهُ بِالأَمْثِلَةِ-

[৬. লাহনের (কুরআন তিলাওয়াতে ভুলের) পরিচয় দাও এবং এটি কত প্রকার? এর প্রকারভেদ ও হুকুম উদাহরণসহ বর্ণনা করো।]

১. লাহনের পরিচয়:

তাজবীদ শাস্ত্রের পরিভাষায়, কুরআন তিলাওয়াতের বিশুদ্ধ নিয়ম, এরাব বা মাখরাজ-সিফাতের ব্যতিক্রম করে পড়া বা ভুল উচ্চারণ করাকে লাহন (اللحن) বলা হয়।

২. লাহনের প্রকারভেদ ও হুকুম:

লাহন প্রধানত দুই প্রকার:

  • ক. লাহনুল জালী (اللحن الجلي – প্রকাশ্য ও মারাত্মক ভুল):
    • সংজ্ঞা: এমন সুস্পষ্ট ভুল যা তাজবীদের সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি আরবি ব্যাকরণ ও ভাষা রীতির নিয়ম ভঙ্গ করে এবং যার ফলে কখনো কখনো মূল অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যায়।
    • উদাহরণ:
      1. হরকত পরিবর্তন: সূরা ফাতিহায় أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ (আপনি অনুগ্রহ করেছেন)-এর জায়গায় তা অক্ষরে পেশ দিয়ে أَنْعَمْتُ (আমি অনুগ্রহ করেছি) পড়া (এর দ্বারা কুফরির অর্থ চলে আসে)।
      2. হরফ পরিবর্তন: عَسَى-কে عَصَى অথবা قُلْ-কে كُلْ পড়া।
      3. অক্ষর বৃদ্ধি বা হ্রাস: যেমন যবরের জায়গায় আলিফ টেনে বড় করে ফেলা।
    • শরিয়তের হুকুম: লাহনুল জালী করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম ও কবিরা গুনাহ। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের মধ্যে অর্থ বিকৃতকারী লাহনুল জালী পড়লে নামাজ ফাসেদ বা বাতিল হয়ে যায়।
  • খ. লাহনুল খাফী (اللحن الخفي – অপ্রকাশ্য ও সূক্ষ্ম ভুল):
    • সংজ্ঞা: এমন সূক্ষ্ম ভুল যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না, কেবল তাজবীদ বিশেষজ্ঞ কারীগণ ধরতে পারেন। এটি কোনো হরকত বা অর্থ পরিবর্তন করে না, কিন্তু তিলাওয়াতের সৌন্দর্য ও পূর্ণাঙ্গতা নষ্ট করে।
    • উদাহরণ: ওয়াজিব গুন্নাহ ছেড়ে দেওয়া, ইখফা বা ইদগাম অসম্পূর্ণ রাখা, মাদ্দের মাত্রায় কম-বেশি করা, তাফখীম (মোটা) ও তারক্বীক (পাতলা)-এর নিয়ম লঙ্ঘন করা।
    • শরিয়তের হুকুম: লাহনুল খাফী করা মাকরূহ (মাকরূহে তানযীহী)। তবে পেশাদার ক্বারী ও তিলাওয়াতকারীদের জন্য এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা মারাত্মক দোষণীয়।

مجموعة (ب) / খ-বিভাগ (الدرجة— ٤ × ٥ = ٢٠)

٧- مَا مَعْنَى القُرْآنِ لُغَةً وَاصْطِلاَحًا؟ وَلِمَ سُمِّىَ القُرْآنُ قُرْآنًا؟ بَيِّنْ-

[৭. কুরআনের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? কুরআনকে কেন ‘কুরআন’ নামকরণ করা হয়েছে?]

১. কুরআনের সংজ্ঞা:

  • আভিধানিক অর্থ: ‘আল-কুরআন’ (القرآن) শব্দটি ‘ক্বিরাআত’ (পড়া) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ; অথবা ‘ক্বারন’ (একত্রিত করা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের জ্ঞান একত্রিতকারী।
  • পারিভাষিক সংজ্ঞা: «هُوَ كَلاَمُ اللَّهِ المُعْجِزُ، المُنَزَّلُ عَلَى قَلْبِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، المَكْتُوبُ فِى المَصَاحِفِ، المَنْقُولُ إِلَيْنَا تَوَاتُرًا، المُتَعَبَّدُ بِتِلاَوَتِهِ» অর্থাৎ, এটি আল্লাহর অলৌকিক বাণী, যা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ, মুসহাফসমূহে লিখিত, আমাদের নিকট মুতাওয়াতির সনদে হস্তান্তরিত এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য।

২. ‘কুরআন’ নামকরণের কারণ:

পৃথিবীতে এই কিতাবটি দিনে-রাতে কোটি কোটি মুমিন কর্তৃক সর্বাধিক বার পঠিত হয় এবং এটি সমস্ত মানবজাতির পথপ্রদর্শক পূর্ববর্তী সমস্ত ঐশী শিক্ষা ও হিদায়াতকে নিজ বুকে ধারণ করে একত্র করেছে, তাই মহান আল্লাহ স্বয়ং এর নাম রেখেছেন ‘আল-কুরআন’।


٨- هَلْ تَرْتِيبُ السُّوَرِ فِى القُرْآنِ الكَرِيمِ تَوْقِيفِىٌّ أَمِ اجْتِهَادِىٌّ؟ بَيِّنْ-

[৮. কুরআন মাজীদের সূরার বিন্যাস কি তাওকীফী (আল্লাহর নির্দেশিত) নাকি ইজতিহাদী (সাহাবাদের গবেষণাপ্রসূত)? বিশ্লেষণ করো।]

কুরআনের ১১৪টি সূরার বর্তমান বিন্যাসধারা নিয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

  • জমহুর উলামায়ে কেরামের রাজেহ মত (তাওকীফী): ইমাম সুয়ূতী, আল্লামা কিরমানী ও অধিকাংশ আলেমের মতে সূরার বিন্যাস সম্পূর্ণ তাওকীফী (توقيفي) অর্থাৎ জিবরীল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশিত হয়ে রাসূল (সা.) ঠিক যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন হুবহু সেভাবেই সাজানো হয়েছে। দলিল: হযরত জিবরীল (আ.) প্রতি রমযানে রাসূল (সা.)-এর সাথে বর্তমান বিন্যাসেই কুরআন পুনরাবৃত্তি (দাওর) করতেন।
  • দ্বিতীয় মত (ইজতিহাদী): কোনো কোনো আলেমের মতে, হযরত উসমান (রা.)-এর খেলাফতকালে সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সূরার এ ক্রম চূড়ান্ত করা হয়। তবে আধুনিক ও প্রাচীন অধিকাংশ গবেষকের মতে সূরা ও আয়াতের বর্তমান তারতীব সম্পূর্ণ তাওকীফী ও ঐশী।

٩- كَمْ قِسْمًا لِلتَّفْسِيرِ؟ بَيِّنْ بِالإِيجَازِ-

[৯. তাফসীর কত প্রকার? সংক্ষেপে আলোচনা করো।]

উৎস ও পদ্ধতির বিচারে তাফসীর প্রধানত দুই প্রকার:

  • ১. আত-তাফসীর বিল মা’ছূর (التفسير بالمأثور – বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর): যে তাফসীর কুরআন দ্বারা কুরআনের ব্যাখ্যা, সহীহ হাদিস দ্বারা ব্যাখ্যা এবং সাহাবা ও প্রখ্যাত তাবেয়ীনদের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে করা হয়। এটি সর্বোত্তম ও বিশুদ্ধতম তাফসীর। যেমন: ইবনে জারীর তাবারীর ‘জামেউল বায়ান’ এবং ইবনে কাসীরের ‘তাফসীরুল কুরআনিল আযীম’
  • ২. আত-তাফসীর বির-রায় (التفسير بالرأي – যুক্তি ও ভাষাতাত্ত্বিক তাফসীর): যে তাফসীর শরিয়তের গ্রহণযোগ্য মূলনীতি, আরবি ভাষা, ব্যাকরণ ও যুক্তির ওপর ভিত্তি করে ইজতিহাদের মাধ্যমে করা হয়। এটি দুই প্রকার:
    • মাকবুল বা প্রশংসনীয়: যা কুরআন-সুন্নাহ ও আরবি সাহিত্যের বিশুদ্ধ নিয়মের অনুসারী (যেমন ইমাম রাযীর তাফসীরে কাবীর)।
    • মর্দূদ বা নিন্দনীয়: যা কুপ্রবৃত্তি বা বিভ্রান্ত আক্বিদার সমর্থনে মনগড়া করা হয়।

١٠- مَا هِىَ صِفَاتُ الحُرُوفِ؟ بَيِّنْ بِالاخْتِصَارِ-

[১০. সিফাতে হুরুফ (বর্ণের উচ্চারণগত গুণাবলী) কাকে বলে? সংক্ষেপে প্রকারভেদ আলোচনা করো।]

১. সংজ্ঞা: আরবি হরফসমূহ মাখরাজ থেকে উচ্চারণের সময় যে বিশেষ অবস্থা, ধ্বনিগত রূপ ও বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে, তাকে সিফাত (صفات الحروف) বলে।

২. প্রকারভেদ: সিফাত প্রধানত দুই প্রকার:

  • ক. সিফাতে লাযিমাহ (ذاتية / لازمة – স্থায়ী গুণাবলী): যা হরফের সত্তার সাথে সর্বদা অপরিহার্যভাবে লেগে থাকে। এর মধ্যে ১০টি সিফাত হলো পরস্পর বিপরীতমুখী ৫ জোড়া (যেমন: হামস বনাম জাহর, শিদ্দাত বনাম রাখাওয়াহ, ইসতি’লা বনাম ইসতিফাল, ইতবাক্ব বনাম ইনফিতাহ, ইযলাক্ব বনাম ইসমাত) এবং ৭টি সিফাত হলো বিপরীতহীন (সাফীর, কলকলাহ, লীন, ইনহিরাফ, তাকরার, তাফাশ্শী ও ইসতিতালাহ)।
  • খ. সিফাতে আয়েযাহ (عرضية – অস্থায়ী গুণাবলী): যা মাঝে মাঝে বিশেষ কারণে প্রকাশিত হয় এবং কারণ দূর হলে দূর হয়ে যায়। যেমন: গুন্নাহ, মাদ্দ, তাফখীম (মোটা করা) ও তারক্বীক (পাতলা করা)।

١١- تَحَدَّثْ عَنْ أَحْكَامِ النُّونِ السَّاكِنَةِ وَالتَّنْوِينِ بِالإِيجَازِ-

[১১. নুনে সাকিন ও তানভীনের হুকুমসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করো।]

নুনে সাকিন (نْ) এবং তানভীন (ـً ـٍ ـٌ)-এর পর আরবি বর্ণমালার হরফ আসার ভিত্তিতে এদের ৪টি মৌলিক হুকুম রয়েছে:

  1. আল-ইযহার (الإظهار – স্পষ্ট করা): হুরুফে হলক্বীর ৬টি হরফের (ء، هـ، ع، ح، غ، خ) যেকোনো একটি নুনে সাকিন বা তানভীনের পরে আসলে কোনো গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়। যেমন: مَنْ آمَنَ, عَلِيمٌ حَكِيمٌ
  2. আল-ইদগাম (الإدغام – মিলিয়ে পড়া): ‘ইয়ারমালূন’ (يَرْمَلُون)-এর ৬টি হরফ আসলে নুনে সাকিন বা তানভীনকে পরবর্তী হরফের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। এটি দুই প্রকার:
    • বা-গুন্নাহ (ي، ن، م، و) – যেমন: مَن يَقُولُ
    • বে-গুন্নাহ (ل، ر) – যেমন: مِن رَّبِّهِمْ
  3. আল-ইক্বলাব (الإقلاب – পরিবর্তন করা): নুনে সাকিন বা তানভীনের পর ‘বা’ (ب) হরফ আসলে নূনকে একটি ক্ষুদ্র ‘মীম’ (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়। যেমন: مِنۢ بَعْدِ
  4. আল-ইখফা (الإخفاء – গোপন করা): ওপরের হরফগুলো বাদে বাকি ১৫টি হরফের পূর্বে নুনে সাকিন বা তানভীন আসলে মাখরাজে জিহ্বা না লাগিয়ে নাকের বাঁশিতে ধ্বনি লুকিয়ে গুন্নাহসহ পড়তে হয়। যেমন: مِن قَبْلُ, أَنتُمْ

١٢- اكْتُبْ “سُورَةَ الضُّحَى” مِنْ حِفْظِكَ-

[১২. মুখস্থ থেকে পূর্ণাঙ্গ ‘সূরা আদ-দুহা’ নির্ভুলভাবে লেখো।]

وَالضُّحَىٰ ۝ وَاللَّيْلِ إِذَا سَجَىٰ ۝ مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ۝ وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰ ۝ وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ ۝ أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيمًا فَآوَىٰ ۝ وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ ۝ وَوَجَدَكَ عَائِلًا فَأَغْنَىٰ ۝ فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلَا تَقْهَرْ ۝ وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ ۝ وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ۝

[শপথ পূর্বাহ্নের রৌদ্রোজ্জ্বল আলোর! এবং শপথ রাতের যখন তা নিঝুম ও নিস্তব্ধ হয়ে যায়! আপনার পালনকর্তা আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি। আর নিশ্চয় আপনার জন্য পরবর্তী কাল পূর্ববর্তী কালের চেয়ে বহুগুণে উত্তম। আর অচিরেই আপনার পালনকর্তা আপনাকে এত বেশি দান করবেন যে আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন। তিনি কি আপনাকে এতিম অবস্থায় পাননি, অতঃপর আশ্রয় দেননি? এবং তিনি আপনাকে পথপানে ব্যাকুল পেয়ে সঠিক পথের সন্ধান দেননি? এবং তিনি আপনাকে নিঃস্ব অবস্থায় পেয়ে সমৃদ্ধশালী করেননি? অতএব আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না। আর সাহায্যপ্রার্থীকে তিরস্কার করবেন না। আর আপনার পালনকর্তার নিয়ামতের কথা প্রকাশ ও প্রচার করুন। — সূরা আদ-দুহা: ১-১১]


সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. উলূমুল কুরআন বিষয়ের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার কৌশল কী?

উলূমুল কুরআন (কোড: ২০৪২০৪) পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে শাস্ত্রীয় পরিভাষাগুলোর প্রামাণ্য আরবি সংজ্ঞা, আল-বুরহান ও আল-ইতক্বানের রেফারেন্স এবং তাজবীদের ব্যবহারিক উদাহরণ নির্ভুলভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

২. সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াত সংক্রান্ত মতভেদের সমাধান কীভাবে লিখতে হয়?

প্রথমে সূরা আলাক্ব, সূরা মুদ্দাসসির ও সূরা ফাতিহার স্বপক্ষে বর্ণিত হাদিসগুলো উল্লেখ করে সার্বিক প্রথম, ওহী বিরতির পর প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে প্রথম— এভাবে চমৎকার সমন্বয় উপস্থাপন করতে হয়।

৩. তাফসীর ও তাবীলের পার্থক্যে কোন বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য?

তাফসীর হলো শব্দের বাহ্যিক অর্থের প্রামাণ্য রিওয়ায়াতভিত্তিক ব্যাখ্যা; আর তাবীল হলো ভাষাগত ও যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে শব্দের সম্ভাব্য অন্তর্নিহিত মর্ম অনুধাবন করা।

৪. লাহনুল জালী ও লাহনুল খাফীর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?

লাহনুল জালী হলো হরকত বা হরফের মারাত্মক ভুল যা অর্থ পরিবর্তন করতে পারে এবং তা করা হারাম; আর লাহনুল খাফী হলো গুন্নাহ বা মাদ্দের সূক্ষ্ম ভুল যা তিলাওয়াতের সৌন্দর্য নষ্ট করে।

৫. নুনে সাকিন ও তানভীনের হুকুমের উদাহরণ কীভাবে দেওয়া উচিত?

ইযহার, ইদগাম, ইক্বলাব ও ইখফার প্রতিটি প্রকারের জন্য কুরআনের সুস্পষ্ট ও সুপরিচিত ছোট ছোট বাক্য উদাহরণ হিসেবে হরকতসহ উপস্থাপন করা উচিত।

৬. সূরা মুখস্থ লেখার ক্ষেত্রে কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?

সূরা মুখস্থ লেখার সময় প্রতিটি শব্দের বিশুদ্ধ বানান, হরকত এবং প্রতিটি আয়াতের শেষে ওয়াকফ বা আয়াত সমাপ্তিসূচক চিহ্ন (۝) যথাযথভাবে দেওয়া আবশ্যক।

\n

টেলিটক ছবি ও স্বাক্ষর রিসাইজার (৩০০×৩০০ ও ৩০০×৮০)
সরকারি চাকরি ও ভর্তির অনলাইন আবেদনের জন্য ছবি ও সইয়ের মাপ ঠিক রাখুন ১০০% নির্ভুলভাবে।
ছবি ও সই রিসাইজ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *